বাংন। গতিহাগিক নাটক সযান্োচন ১৭০৭ থেকে ১৮৮৫ শ্রীষ্ঠাবের ঘটনাবলী নিয়ে যে নাটকগুলি রচিত হয়েছে ফ্ার এতিহাসিকতা৷ বিচার । শ্রীসোমেজ্দ্রচজ্জর নল্দী, এম-এ, পি-এইচ-ডি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিস্তালয়ের স্নাতকোত্তর নাটক বিভাগের ভৃতপূর্ব অধ্যাপক প্রকাশক £ মনমাধব গুগ্ু বঙ্গীয় নাট্য সংসদ প্রকাশনী ৩০২০ক্মাচার্য প্রফুল্রচক্র ক্বোডভ» কলিকাতা-৯ প্রথম প্রকাশ 2 ১লা €বশাখ, ১৩৮৮/১৪ ই এক্প্রিল» ১৯৮১ সুদ্রক £ অশোককুমার ঘোছ জি, জি» প্রিন্টিং ওয়ার্কস ২৩১/৪ এ এ» পি» সি ক্বোড, কল্সিকাতা-৪ প্রচ্ছদশিলীী £ শ্রীবিভূতি ০সনগুগ্ত প্রাঞ্চিস্থাঁন £ দে বুক স্টোর ১৩, বক্ষিষ চঠাটাঙ্জি ফ্রী, কন্িকাতা1-১২ কথা ১ও কাহিনী ৯২৩০5 বন্িষ চ্যাটাজে হী, ক্পিকাতা-১২ পুজজনীক্ম পিতৃদেব , কাশিমবাজাবেক্স পরল্পোকগ্পত অকাাজা শুশচজ্ নন্দীক পুপটস্যত্িতে এই গ্রস্থ উৎসর্গ করলাম । শ্রীমতী রত্বা! নন্দী ৩০২১ আচার্য প্রফুল্লচন্ত্র রোড, কপিকাতা-৯ অন্বাঁদ বা বেতার বা ছায়াচিত্র (ফিল্স) বা দুরদর্শন (টেলিভিনন) মাধ্যমে প্রচার অথবা লিখিত কোন বন্ত ব্যবহার করার জন্ক কপিরাইট অধিকারীকে রয়ালটি দিতে হইবে এবং অনুমতি লইতে হুইবে। পূর্ণাঙ্গ নাটক একাস্ক সঙ্গলন পূর্ণাঙ্গ নাটক সন্কলন £ ইতিহাস শ্রীসোমেক্দ্রচন্্র নন্দীর ছায়াবিহীন সমাস্তরাল ছারপোকা পতল বিচিত্র রাগিনী পিপাসা ছাড়িয়ে জনক গও্ডার সকাল সন্ধ্যার নাটক টাদের হাট সপ্তডিঙ্গা একাঙ্ক পঞ্চদশী উদাস আত্মনেপদী ছারপোকা বসন্ত-সোহিনী পেণ্ট,ভটাস অলিজনুন্দর সামুদ্রিক চতুষ্পদী বন্দর কাশিমবাজার বাংলা এতিহাসিক নাটক রচনার জগতে নৈরাক্য অনেকদিনের পুরাতন কথা । ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কচ্যুত উতিহাসিক নাটক বাংল! সাহিত্যে স্থায়ী আসন নিয়েছে । আমার এই ষোড়শতম বাংল! পুস্তকের মাধ্যমে এই সব এঁতিহাপিক নাটকের দ্রিকে সকলের দৃষ্টি ফেরাবার প্রচেষ্টা হয়েছে। বাংলা নাটকে পৌরাণিক কাল যেমন প্রকাশিত হয়েছে, এ্তিহাসিক ও আধুনিক কালের ঘটন। বা গরও তেমনি বলা হয়েছে। নাট্যকারগণ পৌরাণিক কালকে যেমন ভাবে ব্যবহার করেছেন, প্রতিহ্থাসিক কালকেও প্রায় সেই রকমভাবেই ব্যবহার করেছেন। ব্যাপারটা কি রকম চলছে তাই বিচার করে দেখার প্রয়োজন হল । বিচারের জন্ত যে সময়ের ঘটনা বাছ! হয়েছে তার পরিব্যাপ্তি সম্রাট ওুবংজীব বাদশাহর মৃত্যুর পর থেকে সিপাহী বিদ্রোন্ পর্যস্ত অর্থাৎ ১৭০৭ থেকে ১৮৫৮ খ্রীতাব্ষ । এই সময় নিয়ে যে সবনাটক লেখ হয়েছে সেগুলির খ্রতিহাসিকতা বিচার এই বই-এর মুখ্য উদ্দেশ্য সবশুদ্ধ দশটি প্রবন্ধে এই দেড়শো। বছরের কথ| বলা হয়েছে । ছুইভাগে বইটা বিভক্ত। প্রথম থগ্ডের ছয়টী প্রবন্ধ পলাশীর যুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনায় সীমাবদ্ধ অর্থাৎ প্রথম ভাগের ব্যাপ্তি মাত্র ৫০ বছরের ভারত ইতিহাসে । এই ভাগের প্রবন্ধ গুলি হল যথাক্রমে জাহান্দার শাহ, নাদির শাহ, বাজীরাও, তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ, সীতারাম এবং আলিবদী খা ও সিরাজদৌল্ল! | দ্বিতীয় খণ্ডের পরিধি একশত বছর । এই ভাগের প্রবন্ধগুলির নাম মীরকাশিম, মারা নন্বকুমার, রাণী ভবানী ও অধোধ্যার বেগম এবং মারাঠা, শিখ ও মহিশূর তারপর সিপাহী বিদ্রোছ। আমার পরলোকগত বন্ধু ডঃ সাধনকুমার ভট্টাচার্ষের সঙ্গে একদিন এই গ্রসঙ্গ উল্লেখ করায় তিনি আমাকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেন এবং রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্ভালয়ে এই বিষয়টি গবেষণার জন্ত আমার নাম নথিতৃক্ত করেন। নিয়ম অনুসারে প্রথমে ইংরেজীতে বিষয়টি লিখতে হয় তারই বাংলা, গবেষণার শিরোনাম হয় । তদন্ুযায়ী আমার গবেষণার বিষয় হল £ “বাংলা নাটকের এতিহাসিকত1 বিচার, ১৭০৭-১৮৫৮ সম্পফিত। সময় ছিল ১৯** খ্রী্াব্ম । হঃখের বিষয় অধ্যাপক ভট্টাচার্য অকালে পরলোক গমন করলেন। আযার গবেষণ! তখন একান্তই স্বনির্ভর হয়ে পড়ল। আমার সৌভাগ্াক্রমে অধ্যাপক ডঃ অক্রিতকুমার ঘোষ নির্দেশকের শুন্ত পদটি অলংকৃত করে আমায়'কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করলেন। তীর কাছ থেকে বিভিক্ন বিষয়ে নানা উপদেশ আমার রচনার সহায়ক হয়েছে। একাধিকবার ডঃ ঘোষের সণ্ট লেকের বাড়ীতে বসে প্রবন্ধগুলি আলোচনার ম্যোগ পেয়েছি । বর্তমানে আমার গবেষণার সাফল্যে তার অবদান কম নয়। তিনি সর্বদাই প্রকত বন্ধুর যত আলোচন। করে আমার নান! ক্রটি সংশোধন করেছেন । আমার গবেষপার সাফল্যের জন্ত তাকে এবং অধ্যাপক বিমপাগ্রপারদ মুথোপাধযায় ও অধ্যাপক ড: আশুতোষ ভট্টাচার্যকেও আমার আস্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই । আমি যে আমার মাতৃভাষায় গবেষণা করে ফললাভ করলাম এট! আমার পক্ষে কম গ্লাঘার বস্তু নয়। ভবিষ্যতে অন্ত ভাষার মাধ্যমে যখন গবেধণা করব এই প্রথম সার্থকতা আমার পথ প্রদর্শক হবে এবং আমার বিশ্বাস ও কর্স- ক্ষমতাকে দৃঢ়ত। দেবে। চিন্তায় স্থিরত। এবং জ্ঞানে প্রসারতা আনবে । বিদপ্ধজনসান্লিধ্কে বরণীয় করবে, এক নূতন জগতে আমার বিচরণ সম্প্রসারিত হবে। আমার বইএ বারে বারে একট! কথা পাওয়। যাবে সেটা হল যে মাত্র দুইশত বছর আগেকার ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের কি প্রচণ্ড অনীহা । জাতির ইতিহাস জানার কি অনাগ্রহ এবং কপকথাকে বিশ্বাস করবার কি প্রচণ্ড আকর্ষণ। আমার বই শেষ করার সময়ও আমি লিখেছি ষে কল্পনায় কল্পনার প্রসার হয় এবং সত্যের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক থাকেনা । এই ১৯৮১-র নাট্য জগৎ আমার কথার যাথার্থ প্রমাণ করছে । বলগাহীন কল্পনাল্লোত ্রতিহাসিক ঘটনাকে ক্লেদাক্ত করছে । হয়তো কোনদিন কেউ এ বিষয়ে অবহিত হবেন এবং জাতীয় ইতিহাসের অবমাননাকে নিন্দনীয় ঘোষণ! করবেন। যতদিন তা না হবে ইতিহাস বিশ্বতি আমাদের জাতীয় চরিত্র হয়ে উঠবে বলে আশঙ্ক! করি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করবার সুযোগ আমার গবেষণায় প্রসারত! এনেছে । সেক্সস্ত যে সব সংস্থার নাম লেখা হবে তাদের কর্মকর্তা ও কর্মীদের অকুণ সাহায্যের জন্ত ধন্সবাদ জানাই | নিয়লিখিত সংস্থাগুলিতে কাজ করবার স্থযোগ পেয়েছি £ বঙ্গীয় সাহিতা, পরিষদ, পশ্চিমবঙ্গ আরকাইভস্, গ্াশানাল লাইব্রেরী, ভিন্টোরিয়! মেমোরিয়াল হুল, কলিকাত৷ হাইকোর্টের পুরাতন নথিবিভাগ যেখানে প্রাচীন সুগ্রীঘ কোর্টের কাগজপত্র রক্ষিত আছে, কাশিমবজার রাজপরিবারের মহাফেজথানা, নূতন দিল্লীর স্তাশানাল আর- কাইভন্‌। লগ্নে বৃটিশ মিউজিয়াম ও লাইব্রেরী এবং ইত্ডিয়া অফিস লাইব্রেনী ও রেকর্ডস্‌। বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে করতে এই কথাই বারবার মনে হয়েছে যে অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দী সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা কি গভীর । ইংরেজ রাজত্বের ছত্রছায়ায় যে মনোভাব আমাদের তৈরী, আজ ইংরেজ বিদায়ের ৩৪ বছর পরও তাই আমাদের জীবন ধারণের যষ্টি, কেবল পুরাতন হবার জন্য কীটদষ্ট, ভগ্ন এবং মলিন। তবু সেটি ছেড়ে দেবার মনোভাব দেখা ধায় না, কারণ আমাদের আত্মপরিচয় সম্পর্কে আমর] অজ্জ। আজকের যা কিছু আমাদের নিত্য প্রয়োজনের সবই যে ইংরেজদের দান একথা যতদিন না আমরা শ্বীকার করব, যতদ্দিন ভুলের শ্বর্গে বাদ করে বিশ্বাস করতে চাইব চিরকালই বুঝি এই রকম ছিল, এই কলকাত। সহর, এই স্কুল কলেজ, ইংরেজী, সংস্কৃত, ফারসী ও বাঙলা শিক্ষা এই খেলাধূলা, এই বিংশ শতাব্দীয় মনোবৃত্তি এ সবই বুঝি আমাদের স্থষ্টি, ততদ্দিন আত্মপরিচয় হবে না! । কোন এক মুর্খ রাজনৈতিক সাহেবদের মুতি সরিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিল বুঝি এই কলকাতা সহরটায় তাদের প্রতাব নাই.। এই হাস্যকর প্রচেষ্টা পথে পথে বিফলিত। প্যাণ্ট আর সার্ট আক্গ আমাদের জাতীয় পরিধান । কলেজের ছেলেদের জন্য কিছুদিনের মধ্যে ধুতি পরতে শেখার ক্লাস খুলতে হতে পারে। তবে? এসব সংস্কৃতি হজম করেই এই বিরাট ভারতসভ্যতা । তালে সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে বাঙ্গালীর লজ্জ! পাবার কারণ কোথায়? তারঙ্ন্ সাহেবদের চমৎকার মুত্তিগুলি কেন সরাতে হবে আর তার জায়গায় জাতীয় নেতার ভীষণ আর কুস্তীরাকার মুতি বস'লেই কি মোক্ষ আসবে? দি নিজেদের স্বার্থপরতাঁকে রাজনশীতি আধ্য। দেওয়া হয় তাহলে সেটা স্বার্থন*তি হয় মাত্র । আমাদের গত দুইশত বছরের ইতিহাসে দেখ। যাবে যে প্রায় সকলেই রাজনীতিতে অজ্ঞ ও স্বার্থনীতিতে পটু । যাঁর ফলে র'জ- নীতির কাছে তারা বারে বারে পরাজিত । দেশের ও দশের চিন্তা না করে বারাই নিজেদের কথা ভেবেছেন তারাই পতিত হয়েছেন । সন্দেহ হয় এই কড়া এ্রতিহা আজও পুরোদস্তর জীবিত ও কর্মক্ষম । দীর্ঘদিনের এই গবেষণার কাজে ধাদের উৎসাহ পেরেছি তার! হলেন অধ্যাপক ভঃ প্রতৃলচন্ত্র গুপ্ত, ওঃ অরুণ কুমার দাশগুধু, অধ্যাপক নিশীথ রঞ্জন রায় এবং ববীন্দ্রভারভীগ বিশ্ববিদ্ভালয়ের উপাচার্য, আমার "শিক্ষক, অধ্যাপক ডঃ দেবীপন্ধ ভট্টাচার্য । এঁদের সকলকে আন্তরিক ধন্তবাদ জানাই । অধুনালুগ্ত 'ইতিহাস” পত্রিকার বিভিজ্ন সংখ্যার নানা প্রবন্ধে আমার মতামত প্রকাশের স্থযোগ পেয়েছি। ব্রেমাসিক “এতিহাসিক' পত্রিকায় কয়েকটী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। চতুরজ পৰ্রিকায় মোহনলাল সম্পকীয় প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। অনেক ছাপার তল নানা কারণে থেকে গেছে। তার মধ্যে কিছু খুবই গুরুতর । তাই একটি শুদ্ধিপত্র ৬২৪ পাতায় যোগ কর! হয়েছে। প্রয়োজনে সেটি ব্যবহার করবার জন্ত সকলকে অন্ররোধ করছি । বইটি ছেপে গ্রকাশ করতে নানা সহযোগিতা পেয়েছি । তাদের মধ্যে উল্লেখ্য শ্রীধীরেন্দ্রনাথ রায় গুদ্ধিপত্র রচনায়, শ্রীগোরচন্ত্র ঘোষ প্রেস সংক্রান্ত কাজকর্মে এবং শমতী মি মণ্ডল প্রেসের জন্য প্রবন্ধগুলি কপি করায় এবং পরে নির্দেশিকা ঝচনায়। এঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই । ভারত ফটোটাইপের অজিতবাবু সেই ১৯৫৭ গ্রী্াব্ষ থেকে আমার প্রত্যেক বই-এর প্রচ্ছদ ছেপেছেন। এবারেরটা নিয়ে তিনথানা বই-এর প্রচ্ছদ পরিকল্পনা! করলেন। তাঁকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্তবাদ জানাচ্ছি। ইতি। শুভ প্রথম বৈশাখ, ১৩৮৮ । ১৪ই এপ্রিল, ১৯৮১ ॥ কাশিমবাজার রাজবাটি ৩০২১ আচার্ধ প্রফুল্পচন্ত্র রোড, কলকাতা-৯ ॥ সোমেক্রচন্দ্র নন্দী ১। ২। ৩। ৪। ৫। ৬। ৮ । | ১০ | সূচীপত্র প্রথম খণ্ড প্রস্তাবনা জাহান্দার শাহ নাদির শাহ বাজীরাও তৃতীয় পাশিপথের যুদ্ধ সীতারাম আলিবদী খ! ও সিরাজ-উদ-দৌল্ল। দ্বিতীয় খণ্ড মীরকাশিম মহারাজ! ননাকুমার রাণী ভবানী ও অযোধ্যার বেগম মারাঠ! শিখ ও মহিশুর তারপর সিপাহী বিদ্রোহ উপসংহার পরি শিষ্ট শুদ্ধিপত্র নির্দেশিকা ৩৩ ৬৭ ৯৬ ১৪৭ ১৭৩ ৪৮৭ €৭৩ € ৯৮ ৬১৬ ৬২৪ ৬২৪ ৬৩৫ প্রথম খণ্ড গ্রন্থ বনা। এই বইটিতে বাংল! ধনিহাসিক নাটক সম্পর্কে কতক গুলি প্রবন্ধ নিবেদিত হযেছে । এতিহাসিক নাটকে কতটুকু ইতিহাস থাকে তা নিযে প্রাযই নানা আলোচনা হযে থাকে । নিবেদিত প্রবন্ধগুলি মাবধৎ (সই বিষয অ।লোক- পাতেব চেষ্টা হযেছে এবং অপোচিত ন|টকগুলিব এ্রতিহীসিকত। বিচাব করা হযেছে । নাট্যকাবগণ ইচ্চারুতভাবে যেখানে ইতিহাস থেকে সবে গিষেছেন সেখানে তাদেব “সই কর্মেব কাৰণ বোঝবাব ০1 কব হযেছে । এই সমালোচনায় তাই ইতিহাস 'আগতক্তি প্রধান গবেষণাব বিষ এবং স্ষেচ্ছাকৃত অনৈতিভাসিকত'ব ক'বণ অন্রসন্ধান তথ! নাটাকাখেব ওপব সমসামযিক কালেব প্রভাব প্রকাশ কবা তাঁব অবশ্যান্তাবী ফলশ্রুতি | এই ন টক সন'লেোচনায দেডশত খছবেব এক কালে সীম। টানা হযেছে । 'অর্থ।ৎ সমাট কবঙ্গ জীবের মৃত্যু থেকে াসপাহী বিদ্রোহ পধন্ধ ভাবতবর্ষের ঘটনাবশী এই আম্্চেনাব বিষয । এই স*্য নিখে যে নাটকগুলি লেখা ভযেছে কেখলমাত্র সেই নাটক ণ্লিহ আঅ।লোচিত হযেছে । কালেব হসাব ধবে বলতে হবে ১৭০৭ শ্রী্গান্দ থেকে ১৮৫৭ খ্রীষ্টাব্দ পণন্থ ভারতী ঘটনাবশী যে নাটকেব প্রতিপাদ্য বিষষ কেবল (সগুলিহ আলোচত হযেছে । সমষের এই গণ্ডীব বহিভূতি কোন নাটকের আপোচনা কবা হয নি। আলোচনার স্্রবিধাব জন্ত এই সমযের গণ্ডীকে দুই ভাগে ভাগ করা হযেছে । প্রথম ভাগে ১৯৭৬৭ থেকে ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত ঘটনা নিষে লেখা নাটকগুলি আলোচিত হযেছে । অথাৎ বাদশাহ উরঙ্গজীবেব মৃত্যুর পর থেকে পলাশির যুদ্ধেব শেষ পর্যন্ত নাটকগুলি প্রথম খণ্ডে আলোচনা করা হযেছে। পরবর্তী এক শত বছর অর্থাৎ পলাশির যুদ্ধের পর থেকে সিপাহী বিদ্রোহ পথন্ত ঘটনাবঙ্গী যে নাটকগুলির বিষয়বস্ত্ সেগুলি দ্বিতীয থণ্ডে আলোচিত হযেছে । তাই প্রথমভাগের প্রবন্ধগুলির নাম জাহান্দার শত, নাদির শাহ, বাজীরাও, তৃতীয় পাঁণিপথের যুদ্ধ, সীতার।ম এবং আলিবর। খা ও সিরাজ-উদ-দোলা । দ্বিতীষ ভাগের প্রবন্ধগুলির নাম মীরকাশিম, নন্দকুমার, রাণী ভবানী ও অযোধ্যার বেগম এবং মাবাঠা, শিখ, মহিশূর তারপর সিপাহী বিদ্রোহ কালান্টক্রমিকভাবে দল্লীর ঘটনার নাটক দিয়ে আলোচনা! সুরু হযেছে এবং বাঁংলাব ঘ্টনাকেন্দ্রিক নাটকে প্রথম খণ্ড সমাপ্ত । দ্বিতীষ খণ্ডে বাংলা পেকে ক্রমে আবাব দ্রিলী অভিমুধে গতি সঞ্চারিত হযেছে। প্রত্যেক প্রবন্ধে কোন্‌ ,কান্‌ নাটক আলোচনা করা হয়েছে স্পঈভাঁবে জানান হয়েছে । জাহান্দার শাহ জাহান্দার শা দিলীব মসনদের প্রথম অকর্মঞ্জ বাদশাহ । পরবর্তীযুগে বাদশাহী যে কথার কথা হযে দ্াডিযেছিল এবং বাদশাহ ঘে ওমবাহগণের হাতে খেলার পুতৃলে বপান্তবিত হযেছিলেন, তাব উৎসমুখ জাভান্দার শাহ। তার মতো! অক্ষম, বিলাসী এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিহীন শাসক খুবহ কম দেখা গেছে। বাবরশাহী বংশের তথা মোগল সামাজ্যের পতনে তাই জাহান্দার শাহের দশমাস পঁচিশ দিনের রাক্ুত্ব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ । বাদশাহীর অধঃপতনের প্রথম ধাপেই জাহান্নার শাহর অবস্থিতি। ১৭*৭ শ্ীষ্টাব্দে দাক্ষিণাত্যে বাদশাহ ওরক্ষঙ্গীব আলমগীরের মৃত্যু হলে কে বাদশার তথতে বসবেন তাই নিষে ওরঙ্গজীবের জীবিত তিনপুত্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধে ।১ জজৌএর রণক্ষেত্রে বাঁহাতুর শাহ তাঁর ভাইদের হারিযে ছিলেন। একে একে আজম শাহ তার বনুপুত্র সমেত এবং কামবকৃস যুদ্ধে নিহত হলেন। '“বাহাছর শাহ শাহআলম' নাম নিষে তিনি দিল্লীর বাদশাহ হয়ে বসলেন ১৭০৭ ্ীষটান্দে । এ্রতিহাসিক ছুঃখ করে বলেছেন যে বাহাছুর শাহর রাজত্ব প্রাপ্তিতেই মোগল সামাজ্যে পতনের সুচনা | কারণ জজৌ রণক্ষেত্রে নিহত আজম শাহর মধো যে দৃঢ় চরিত্র দেখা গেছে তাতে তারই শ্রেয়তর বাদশ! হবার সম্ভাবনা ছিল। তার পুত্রগণের মধ্যেও পিতার এই সদগুণের প্র তফলন দেখা গিয়েছিল । বাহাছর শাহের চরিত্রের বিলাসপ্রিষতা তার জ্যেষ্ঠ পুত্র মৈজুদ্দিন জাহান্দার শাহের মধ্যে অতি প্রকটভাবে দেখা গেল। এই বিলাসের প্রবাহ দিল্লীর অসনদের ভেতর দিষে বংশপরম্পরায় প্রবাহিত হযে বার্দশাহীকে তামাসায় রূপান্তরিত করল । অন্যদিকে কর্মের প্রবাহের বাহক আজমণাহ সপ্তপুত্রসহ নিহত হলেন। কর্মের যজ্ছে আহ্থতি দিতে কেউ থাকল নাঁ। ওরহগজীব বাদশাহ এইভাবে নিজের কাছে নিজে পরাজিত হলেন । সার চরিত্রের গোপন বিলাসের দিক তার অপূর্ব কর্ম্মতৎপরতার স্পষ্ট নিদর্শনকে পরাজিত করল । সকলের অগোচরে যে বিলাসী খরঙ্গজীব গোপনে কামন! চরিতার্থ করতেন তারই হল জয় আর রাজত্ব পরিচালনায়, দক্ষ যে ওরক্ষজ্রীব, সেই কীতিমান ২ বাংলা ঈতিষ্ঠাসিক নাটক সমালোচনা দীর্থতীবী বাদশার কর্ম্পারা সম্পূর্ণভাবে মুছে গেল পৃথিবীব বুক থেকে । পৈত্রিক প্রবণতার এমন চখংকার নিদর্শন বিজ্ঞানেব বইযে পাঁওষ| যাম কিনা সন্দেহ । (719 09721010 116709 0111681601191% ৪8৬০1010101 ). বাদশ[ত শীতআঁলম বাহার এাছের ১৭১২ শ্রীণান্দে দেভান্ত হওয। মাত্র তার চাঁর জীবিত পুর্রেব মধো মসনদ নিযে লড়াই শুরু হসে গেল । এবাবেও পিতাৰ দ্বিতীষ পুত্র মহমদ আজম, আজিম-উস-সাঁন সব থেকে ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিপন্ন হলেন। ইনিহাসের চকে 'এবীবেও বাংলা বিহার উভিস্থাব শাসনে যে প্রভূত অর্থ তিনি অর্জন করেছিলেন সৈন্ত সংগ্রহের কাজে তাতে বিশেষ সাহায্য হল। যদ্ধের দামামা বেছে ওঠাঁব সঙ্গে সঙ্গে মামিবরা বিভিন্ন পক্ষ অবলম্বন করতে লাগলেন। বাঙ্াছুর শাহের জোষ্ঠপুত্র মৈজুদ্দিন জাহান্দার শাহ মূলতানের শ[সনকর্তা ছিলেন । মূলত।ন শাসনে এবং যদ্ধক্ষেবে তাঁর দক্ষত। ছিল ফেমন, সর্জনমান্য তেঘনি বিল+সে নর্গীৎ আগ্রপানে এবং রমণীরমণে তাব প্রত লিগ্ষা। ছিপ সুবিদিত। জাহান্দাব শর সব থেকে বছ ছর্নলতা তিনি যথেষ্ 'অর্গ সংগ্রহ করতে পাবেন নি তাই হার সৈহাদলও অতান্থ ক্ষীণ। স্বিখাত ৮ আসাদ খাব চে পুন জুলফিকণ খা গাহান্দার শাহর সহ।য না তিনি কখনই দিক্পীব মসনদে বসতে পাবতেন না। জলফিকর খঁ(ব ৪ [কে সহঞ্জেই বুঝিযে দিল থে জাহান্দার শাহকে বাদশা করে তিনি যদি তার উজীর বা প্রপান অমাত্যেব পদ ম্মাধকার করতে পারেন তাহলে তিনিই হবেন সত্যিকারেব শসনকর্ত। | মোগল সাআ)জ্যকে তিনিই চালনা করবেন । জুলফিকর খা জাহান্দার শাহব সঙ্গে বাহাদুর শাহের অন্য দুইপুত্র রফি-উল-কাঁদেব রফি-উস-সান এবং খুভিস্তা আখতার জাহান শাহকে যুক্ত করলেন। তদন্ছপারে স্থির হল বে অ[জিম-উস-সানকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর রফি-উস-সান পাবেন কাবুল, কশ্রীর, মূলতান, টাটহ! আর ভাক্ষর* আর জাহান শাহ পাবেন নর্মদা নদী থেকে সমশ্ত দশ্সিণ ভারত | জাহান্নার শাহ ভারত সম্রাট ম্বীকুত হবেন এবং হিন্দুস্থানের বাকী অঞ্চল তার থাকবে। এই সন্ধিপত্রের নব থেকে উল্লেখযোগ্য ধার! হল জুলদিকর থা দিল্লীর উদ্জির ৰা *কর|চির কাছে বর্তমান নাম টাট্ আর ডেরাইসমাইল খানের কাছে বর্তমানের ভাক্কর । উভয়স্থানই বর্তমানে পাকিস্থানে । জাহান্দার শাহ ৩ প্রধান মন্ত্রী নিষুক্ত হবেন এবং অন্ত ছুই রাজ্যে অর্থাৎ রফি-উস-সান পরিচালিত পশ্চিষে বা জাহান খা পরিচালিত দক্ষিণে উক্তির জুলফিকর খার মনোনীত প্রার্থীদের উজির করতে হবে ।২ তিন ভাই সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করলেন। ত।দেব সম্মিলিত বাহিনী হল ৫৩০০০ ঘোঁডসোযার ও ৬৮০০০ পদাতিক । তাদের বিরুদ্ধাচরণ করবার ভন আঁক্তিম উস-সানানযে এলেন ৩০০০০ ঘোড়- সোমার আর ৩০০০০ পদ|তিক সৈশ্ত 1৩ ঘুদ্ধে আক্তি*উস-সানের ভার হল। তার জ্যেঈপুত্র মুল্মন করিম যদ্ধক্ষেত্রে নিহত হলেন। ১৭ই মাঠের (১৭১২ শ্রীঃ) যদ্ধে পরাঁচিত আজিম-উস-সাঁন হাতি চেপে পালাবার সময় সৰান রাঁভী নদীর চোরাবালিতে ডুবে শোচনীয মৃত্যুবরণ করে নিলেন ।9 তিন ভাই এর সন্ষিপত্র আকাশে উডে গেল। ভুলফিকর খার মন্তনায় জাহান্দার শাহ জাহান খার বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করলেন। ২৭ শে মার্চের (১৭১২প্রীঃ) যুদ্ধে জাহান খা “জাঠপুত্র ফাঁরকুল! আখতার সহ নিহত হলেন ।€ পরের দিন ২৮শে মাচ (১৭১২ খ্রীঃ) রফি-উস-সান নিহত হলেন ।৬ তিন দ্রিন সম্নাট জাহান্দার শাহ তার ভাই এবং ভ্রাত্রম্পুতরদের দেহ রাভী নগির পারে বালিব ওপর উন্মুন্ত অবস্থ!য ফেলে রাখলেন তারপর পিতা বাঠর শাহের শরাধারের সঙ্গে তার ভাইদের ও ভাইপোদের শবাধার কবরস্থ করার জন্ত দিল্লীতে পাঠান হল। পরদিন ২৯শে মাঠ (১৭১২ খীঃ) জাহান্দার এাহ নিজেকে দিল্লীর বাদশাহ ঘোষণা করলেন । প্রেমাঞ্ুর আতমমী তার তপৎ-এ-তাউন নাটকে এই জাহান্দর শাহের বাদশাহী কালকে রূপায়িত করেছেন । ২৯শে মা (১৭১২ শাঃ) বাঁদশাহ হলেও জাহান্দার শাহ ছুলাই মাসের আগে দিল্লীতে মাসেননি। সুতরাং এই নাটকে জুলাই ১৭১২ থেকে জাহান্নার শাহের মৃত্যুর দিন অর্থাৎ ১১ই ফেব্রুয়ারী ১৭১৩ খ্রীষ্টাব্দে ঘটনাবলী বিবৃত হয়েছে । নাটক রচনার উপ্পদান থে উইলিয়াম ইরভিন সাহেবের 18191 1/891915 থেকে সংগৃহীত তা সহজেই অন্রমান করা যায়। তখং-এ-তাউস নাটক মাসিক বস্থমতীতে ১৩৫৮ সালের ২য় খণ্ডে ও ১৩৫৯ সালের ১ম থণ্ডে প্রকাশিত হয়। বর্তমান আলে[চনায় মালিক বন্ুমর্তীতে প্রকাশিত নাটকই ব্যবহার করা হয়েছে। ৪ বাংলা এতিহাঁসিক নাটক সমালোচনা তখৎ-এ-ত|উস নাটক চার অঙ্কে বিভক্ত ।+% প্রগম অঙ্কে তিনটি দৃশ্ব ছিতীয় অঙ্কে ৪টি দৃশ্য ও চতুর্থ অঙ্কে চারটি দৃশ্য ৷ নাটবের প্রধান চবিক্র বাদশাহ জাহান্দার শাহ ও তার উপপত্বী লাপকুয়ার যাকে বাদশাহ হবার পর ভাহান্দাব শাহ ইমনিযাভ মভল নামকরণ করেন এবং প্রধান মহিষীব সম্মানে ভূষিত করেন। নাটকে প্রতিটি চরিত্র এঁতিভাসিক | ভুলফিকর খাঁ, বাভা সভাটাদ, আলিমুরাদ কোকলতস খা, গ্িন্নতটন্সিসা বেগম, ফারুকসিযর শ্বং সৈষদ ভ্রাতদ্বয় সকলেই নাটকে আছেন। ইতিহ[সিক ঘটনাঁবীকে এমন ভাবে খুব কম নাট্যকাঁরই ব্যবহার করেছেন। সে দিক এই নাটকথানি বিশের সম্মানের যোগ্য । প্রশ্ন হে পারে যে নাট্যকার ভাহান্দার শাহর মতো বৈশিষ্ট্যহীন একব্যক্তিকে নাটকের প্রধান চরিত্র করে তার সাতমাসের রাজত্বকে নাটকের বিষধবন্তে কেন রূপাঁনরিত করলেন । এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়। সহজ নয়। বিশেষ মাসিক পত্রিকাষ প্রকাশিত নাটক পাওয়ায় ন,ট্যকারের ভূমিকা বা বক্তব্যের কোন অ|ভাস পাওয়া বায় না। অনুমান করা যাঁয যে নাট্য [চার্ষ্য, শিশিরকুমার ভাছুড়ীর অন্তরেধে এই নাটক রচিত হযেছে । শিশির ভাদুড়ী মহ]শয় ১৩৫৭ সালে বা ১৯৫০-৫১ শ্রীগাব্ধ নাটকখানি তাঁর শ্রীরঙ্গম মঞ্চে অভিনয় করেন। নাটকাকারে প্রক1ণ হয় ১৯৫২ খ্রীষ্টাব্দে নিজে জাহান্দার শাহের ভূমিকায় নাট্যাঁচার্ধ্য যে অপূর্ব কৃতিত্ব দেখাতেন তা ন্ট্যামোদী মাত্রেরই চিরম্মরণীয়। অভিনযের এই সৌকর্ষ ছিল দর্শক আকধণের প্রধান, সহায় । শিশিরকুষার অন্ডিনীত “পাগল ছাহান্নার শাহ”র চরিত্রই হযে দাডিয়েছে এই অপূর্ব এতিহাসিক নাটকের শ্রে্ট কলঙ্ক, সব থেকে বিরাট অটনতিহাসি- কত]। নাটকে নায়ক হবার কোন গুণই জাহান্দার শাহের ছিল না। তার চরিত্র ও কর্মে সঙ্গতি আনার জন্য জাহান্নার শাহকে খামখেযালী, প্রেমিক ও “মন্দ তাগ্য নায়ক” হিসাবে নাটকে উপস্থিত করা হযেছে । সেই সঙ্গে লালকুয়ারের চরিত্রের ধারাকে স্ুসং্ঘত কর! হয়েছে । এই প্রধান ছুটি চরিত্র খতিহাস ৯০০ শপ * তথৎ-এ-তাউস-রচন! প্রেমান্ধুর আতর্থী। মাসিক বন্থমতী চৈত্র ১৩৫৮ পাতা ৮৩৩-৮৩৬) বৈশাখ ১৩৫৯ পাতা ৪৪-৪৯, জ্যৈষ্ঠ পাতা ২১৪-২১৯৯ আষাঢ় পাত ৩৭৫-৩৭৯ ও শ্রাবণ পাতা ৫৩৬-৫৪১। . জাহান্দার শাহ € বিঝোধী। বন্তত লালকুষারের চরিত্র এত অসাধরণ যে বাঙালী দর্শক ব৷ নাট্যকারের কল্পনার অতীত । . শ্রীবঙ্গমে যখন এই নাটকটির অভিনয় হয় তখন শিশির ভাছুড়ী মহাশয়ের বিশেষ দুরবস্থা । দৃশ্ঠ পক্ষ! ছিপ অত্যন্থ মলিন। কেবলই অভিনয় কৌশলই নাটকের একমাত্র আকর্ষণ হযে দাঁড়াঘ। লালকুঁঘার চরিত্রে অভিনয করেন সম্ভবতঃ রাজলক্ষী ( ছোট ), জিন্নতউন্নিসা__রেব। দেবী, জুলফিকর খ__মুরারি তাহুডী, কোকলতস খ-_কালী সরকার | সম্ভবত), নিয়ামত খ--মণি শ্লীমানী আর ফাককসিয়র-_বাণীব্রত। সমগ্রদল ভাল অভিনয করেন । একটা লাল রঙেব দাড়ি ও চুল পৰে ভাছুড়ী মহাশয জাহান্দার শাহ হতেন । নাটকের পূর্ণ বিবরণ দেবার আগে এঁতিহাসিক জাহান্দার শাহর জীবনী আলোচনা করা ঘাক। ১৭১২ খ্রীষ্টাব্দে জাহান্নার শাহর বয়স ৪১ বৎসধ় (জগ্ম ১০ই মে ১৬৬১ শী) | আজিম-উস-সানের বয়স *৮ বংলব (জয় ১৩৬3 শ্রীঃ) রফি-উস-সানের বয়স ৩২ বৎসর ( জন্ম ১৬৭১ শ্রী) ও জাহান খার বয়স ২৯ বৎসর (জন্ম ১৬৭৩ খ্রীঃ )। জাহান্দার শাহর প্রথম বিবাহ ১৬৭৬ ত্রীট্টান্সে। এই স্বী সম্পর্কে বিশেষ কিছুই ঙগানা যায ন!। সম্ভবতঃ বিবাহের পর এর মৃত্য হয়। দ্বিতীয় বিবাহ হয় সৈয়দউন্নিস! বেগমের সঙ্গে ১৬৮৪ হ্বীানধে। এই বিবাহের সঙ্গান বাদশাজাদা আজুপ্িন ও ইজুদ্দিন। আজুদিনকে ফারুকলিয়র অন্ধ কবে দেন ২১শে জানুয়ারী ১৭১৪ শ্রীষ্টান্ে। ইজুদ্দিন বন্দী অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন ২৫শে জুলাই ১৭৩৬ খ্রীষ্াব্ধে। ছুইভাই সম্ভবত যথাক্রমে ১৬৮৬ ও ১৬৮৮ বা ১৬৯০ খ্রীঃ জন্মগ্রহণ করেন। জাহান্দার শাহের তৃতীয় বিবাহ হিন্দু রমনী অন্ুপবাইঈী। এর পুত্র আজজিউদ্দিনের জন্ম হয় ১৬৮৭ খ্রীষ্টাবে। ইনি পরে দ্বিতীয় আলমগীর নামে দ্রিলীর সিংহ'সনে আরোহণ করেন ১৭৫৪ খীষ্টান্দে এবং উজির ইমাদউলমুলুক কর্তৃক নিহত হন ১৭৫৯ শ্রীষ্টাবধে ।৮ লালকুয়াক্স যিনি ইমতিয়াজ মহল নামে প্রধানা মহিষীর সন্পানে ভৃবি্ত হলেন, দেখ! যাচ্ছে তাঁকে জাহান্ার শাহ আদৌ বিবাহ করেন নাই। অঞ্চ এই রমনীর প্রভাবে তার সমস্ত জীবন অসংযতভাবে চালিত হয়ে সম্পুর্ণ লক্ষ্যতর হয়ে গেছে । সম্ভবত ১৭১০ থেকে ১৭১২ থুাবের মধ্যে কোন সময় *্জাহ্হান্মার শাহ লালকুঁয়ারকে সংগ্রহ করেন। তার সঙ্গে সঙ্গে লালকুয়াবের ভাইর! এরং ৬ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা সাঙ্গপাঙ্গর! জাহান্দার শাহের স্বন্ধেভর করণেন। জাহান্দার শাহের কাছে আসবাব আগে লালকুষার একজন সাধারণ বাঙঈজশী ও দেহবিলাসিনী ছিলেন । ঘে শ্রেণী থেকে তিনি এলেন তাদের “লা হয় “কপলাবন্দ'। নাচ ও গান এদের পেশ! | এই “শরণীতে পুরুষরা বাজন। বাঙ়্ায এবং স্ত্রীলোকের নেচে গেষে আননাদ'ন কবে।৯ ভাহান্দব শাহ ভাইদের সঙ্গে যুদ্ধ করার সময় শিবিরে লালর্য়াবকে বেখেছিশেন। ব্লকম্যান সাহ্কেব পাপকুষাবকে হানসেনের উত্তরপুকষ খাস্ম্ষাঁত খার কন্যা বলে বর্ণনা করেছেন । লালকৃষাব অপূর্বনপপ[বন্বতী রমনী ছিলেন। তার বপনিষে অনেক কবিতা বচিত হযেছে । তার ছ' একটি এখনও পাওযা! যায় !৯০ বাদশা হবার পর জাঞান্দার শাহ লাপকুঁষারকে ইমতিযাঁজমহল উপাধি দিলেন এবং পবিপূর্ণভাবে তাৰ বশীভূত হযে গেলেন এবং লালকুঁয়ারের ভাই বন্ধুদের নানা উপাধিতে ভূষিত করলেন। এক ভাইষের উপাধি হল নিষামত খা, একে বাদশা মূলতানের শাসনকর্তা নিযুক্ত কবেছিলেন। নৌকাতে লোক পারাপার হচ্ছে দেখে ইমতিযাজ মহলেব নৌকা জলমগ্ন হলে ধাত্রীরা কি করে জলে ডুবে মরে দেখতে ইচ্ছা হল। বাদশা তৎক্ষণাৎ যাত্রীপূর্ণ নৌকাকে জলে ভোবাঁবার হুকুম দিলেন । প্খের বিষধ মলতানের শাসনকর্তা বাঁ যাত্রীদের জলে ডোবান জুলফিকর খাঁর আদেশে শেষ পর্যস্ত কার্যকারী হয নাই ।১৯ লালকুঁয়ার নিজেকে নবজাহান বেগমের সমতুল্য মনে করতেন। তিনি তাই নিজেই বাদণাভের মতো বিচরণ করতেন, মাথার ওপরে খাকত বাদশাহী ছত্র এবং অশ্বের ওপর কাচানাকাড়া বাজতে বাজতে তার সঙ্গে বেত। তাৰ নামে নাকি টাকা ছ'পান হষেছিল অবশ্য সেই মুদ্রার নিদর্শন আজ পর্ষন্ত হস্তগত হয়নি । তারই আদেশে দিল্লীর সব উচু গাছ কেটে ফেলা হয়। জহর! নামে দিল্লীর এক তরকারীওয়ালী ছিল বেগমের বন্ধু। ইমতিষাজ মহলের আদেশে বাদশা তাকে জাষগীর ও খেতাব দিয়েছিলেন । এই স্ত্রীলোকটির এতই অহঙ্কার হয়ে গল যে সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ ওমরাহ চিনকিলিচ খ|। আসফঝা নিদ্রাম-উল- মুলুককে সে অপমান করতে দ্বিধা করেনি । লালকুঁয়ারের আভযোগে বাদশা কিন্ত চিনকিলিচ খাঁকেই শান্তির যোগ্য বিবেচনা করলেন | আবার জ্বুলফিকর খার মধ্যস্থতায় ব্যাপারটি চাপা! পড়ে গেল। জিন্মতউদ্সিসা। বেগম, ওুরজজীর জাহান্দার শাহ ৭ বাদণাহের কন্তা, জাহান্দার শাহের পিতৃস্বসা ! লালঝুয়ারের প্রভাবে জাহান্দার শাহ তাকে সর্বদা এডিয়ে চলতেন। লালকুযার অত্যন্থ খোলাখুলি ভাবেই উবঙ্গজীব-কন্তাঁকে কুৎসিত গালিগালাজ করতেন । জাহান্দার শাহের ছোট ছুটি ছেপে ইজুদ্দিন ও আজিজউদ্দিন লালকুঁষারের চক্ষুশূল হল। তার ইচ্ছান্্সারে বাদশাহ তাদের কারাগারে নিক্ষেপ করলেন। ক[পড ও গহনার খরচ বাদে ইমতিয়াঁজ মহলের হাতখরচ ছিপ বাধিক ঢই €কাঁটী টাকা । তা অভরোধে বাদশাহ বয়েল গাডীতে চেপে দিল্লীর 1বতিনন দোকানে 'দাকানে ঘুরে বেড়াতেন। লাপকুঁষারের বন্ধু এক মছাবাবসায়ার দোকানে গিষে বাদশা, বেগম সাঁঙগপাজসহ মদ খেয়ে মাতলামী করতেন। এই মগ্যব্যবস!য়ী লালকুঁয়াৰের কৃপায় প্রচুর অর্থ ও একথার্ন গ্রামের রাজন্বলাত করে। বিভিন্ন বাগানে বাগানে বাদশা ও বেগমের নঙ্সীল কীতি লোকের মুখে মুখে ফিরত | ভাহান্দারশাহ পরিপূর্ণভাবে এই রমণীতে মগ্ন হয়ে দেশবাসীর সমন্ত অদ্ধা হারিয়ে ফেললেন ।৯২ এমনকি প্রতিরাত্রে ইমতিয়াণ্ছে সাঙ্গপাঙ্গর! দিল্লীর কেল্লার ভেতরে গান- বাজনা কবতেন তারপর মদ খেষে হৈহুল্লোড় শুরু হত । ইমতিয়াজের মাতাল সঙ্গীর! বাদশাহকে নাচতে বাধ্য করতেন এবং নান! অছিলায় বাদশাহকে প্রহার করতেন। এই ঘটনাতেই ছিল লালকুঁয়ারের চরম আনন্দ তিনি খুসীতে বিহ্বল হয়ে যেতেন । জাহান্দার শাহ লালকুয়ারকে খুশী করার জন্য মাতাল হয়ে এই অপমান, নিধ্যাতন ও অসল্পান হাসিমুখে সহা করতেন। এইথানেই কীত্র শেষ নয়। চিরাগ-ই-দিলতে ললান করলে পুত্র হয প্রবাদ ছিল। লালকুয়ারের ইচ্ছা তার পুত্র বাদশহ হবে! তাই গ্রতি রবিবার লালকুয়ার এবং বাদশাহ সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে এই দিধীতে ন্লান করতেন । ছোট ছেলের! মহ্ণ-পাথবে পিছলে গড়ে খেল! করছে বা নড়বডে পাথরে দোল খাচ্ছে দেখলেই ইমতিয়াজ মহল বেগম বাদশাহকে দিয়ে তাই করাতেন। ইমতিয়াজ মহল বাদশাহ জাহান্বার শাহকে ঠিক বাদ্রের মত নাচাতেন আর বাদশাহ নাচতেন ।৯৩ বাদশাহের রাজকার্ধে মন ছিপনা । জুলফিকর খা তাই নিজের ইচ্ছামত শাসন করতেন। তিনিও বিশেষ পরিশ্রম করতে প্রস্তুত ছিলেন না তাই তার কর্মচারী এক ক্ষেত্রীকে রাজা সভার্টাদ নামে আমীর করা হল। রাজ! সভাটাদই ৮ বাংল! এতিহাঁসিক নাটক সমালোচনা শেষে পথ্যগ্ত বাজ্যশাসনের দাষিত্ব পালন করতেন। ভাহান্দার শাহ খেলার রাদশাঁত হলেন। একদিকে প্রিষ সহচরী লাপরঁয়ার ওরফে ইমতিয়াজ মহন অন্যদিকে জলফিকিব খ উদ্জরের হাতে নিজেকে সমর্পণ করে এক জ বস্তুতে বপান্থপ্ষিত হযে গেলেন । তার না ছিল নিজস্ব কোন চিন্ধাশক্তি, না কোন অন্ভূতি । পিতা বাদশাহ "ীলমগীব ও পিতা শীহআমের কাছে শি সাহসী যোদ্ধার এ এক অদ্ভুত বপান্থর, ভাবপ্রবণতা! ও পবিণতি | ১৯৫২ ত বাংলার নাট্যগুগতে এক জড় বস্তকে নাষক করে নাটক লেখাব প্রচলন ছিলনা । তাই তথৎএ-তাউস নাটকে জাহান্নার শাহকে পাগল? কব। হল। লালকুঁযারের খেলার পুতুল হিনাবে তাকে না দেখিষে সব অপকর্মে দাষিত্ব জাহান্দাব শাহের খামখেযালী বুদ্ধির ওপর চাপান হল। অপকী,ত্তর প্রধান হোতা কব| হন বাদশাহকে--লালঝকুষারকে নয। তাই এই নাটক যা হওয়া উচিত ছিপ তা হযনি । অর্ধাৎ “লালকুঁষার? হওয়া উচিত ছিল মুখ্যচ বিত্র তা ন। হওযাতেই ইতিহ।সের বিভ্রম কষ্ট হয়েছে । ১ €২ শ্বীহ্টান্দে ইতিহ!স অন্ঘায়ী জাহান্দার শাহের চরিত্র বণিত হলে বাংলা নাটা সাহিত্যে এক ধুগাঞ্ স্ষ্টি হত সন্দেহ নাই। কিন্তু তা হয নাহ । তাইতথৎ এ-তাউস নাট্যাচায্য শিশির কুমার ভাদুডীর চোখ ঝলসান অভিনযেব বাহন ছাড়া অন্য কোনরূপে চিহ্নিত হয়ে থাকবে না। নাটক হিসাবে তখৎএ-তাউস অতি সাধারণ। ঘটন! ব! চরিত্র বৈচিত্রে “কান বিশেষত্ব নাই। এমন কি মূলচরত্র জাহান্নার শাহও মৌলিক নয | শিশিরকুনার অভিনীত ভলধর চট্টোপাধ্যাধের রী। তমতো নাটকের প্রফেসর দিগন্বরের ছাযা পড়েছে জাহান্দার শাহের ওপর। জাহান্দার খাহ প্রফেসর দিগম্বের উতিহাসিক সংস্করণ। দিগন্থরের পাগল|মি নাটকে প্রাতিষ্ঠিত। ভাহান্দার শাহের পাগলামি পঞ্চভূতে সমাচ্ছর্র ৷ দিগম্থর রক্তমাংসের মানুষ । স্থখঠ£খ ন্নাশা আনন্দ তাকে উদ্বেলিত করে । জাহান্দর শাহ একটি সীমাহীন ভাড। হতিহাসে তথ! বাস্তবে যেমন অসম্ভব, নাটকেও তেমনি তাৎপর্যহীন কষ্টকল্পনা । একথবললে অন্ঠায় হবেনা যে জাহান্নার শাহ ছাড়া তখং-এ-তাউস নাটকে আর কিছু নাই। প্রধান চরিত্রের অইনতিহাসিকতা নাটকের মূল্যকে বিনষ্ট করেছে। জাহান্নার শু টি বিশ্ষে ইমতিয়াক্ত মহল, দেই অবিনশ্বর লালকুঁযার বাকে ক্বচ্বন্দে বলাসিনীদের নূরজাহান বলে বর্ণনা কবা ঘাষ, এই নাকে সম্পূর্ অবহেলিত তার ব্বব সর্বদ। বাদশাহকে অনুসরণ কবে, কখন্হ তাঁচক ভুবুমু কবেনা। শাট্যক!?র হাতে ইমতিযাঁজ মহলকে বাকাসোকা ভাল মাহ সাঁণতে হযেছে। বাদশাহের প্রতি প্রেম তার শ্রেষ্ট ৬৭, বিনা দিধায় বাদধাহকে সনত্র অন্গসরণ তার মল চবিত্র। বলাবাহুল্য এ চরিত্র সম্পূর্ণ অনৈতিহীসক । জাহান্দার শাহ পিতা ও পিতামহের কাছে ভন্মাবধি ঘে শিক্ষা পেষেছেন তাতে কতকগুলি বাণাধর! নিধম তিনি লঙ্ঘন করতে পারতেন না। কিন্ত বাদশাহর সঙ্গে সম্পর্ক রহিত এবং বাদশাহী রীতিনীতি সম্পর্কে অজ্ঞ লালকুযারের পক্ষে সর্বপ্রকার নিয়ম লঙ্ঘন সম্ভব ছিল কারণ কোন শৃঙ্খলাবোধ ব| নিষমান্থবতিতা তাকে কখন শিখতে হয় নাই । জাহান্দার শাহ নিজের সব ব্যক্তিত্ব হারিষে নিজেকে লালকুয়রের আদেএবহতে রূপান্তরিত করোছিলেন কলেই বাদশাহ ময্যাদা এত তাডাতাড়ি নট হল। লালকুয়ার কখনই দেহোপজীবিনীর মানসিকতা কাটাতে পারেনি তাই তার প্রভাব জ,হান্নার শাহকে তথা মোগল সাআ্াঞ্যকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে । স্পা এইবার তখং-এ-তাউস নাটকটি দেখা যক। প্রথম অঙ্কে তিনটি দৃষ ৷ প্রথম দৃশ্য দিল্লীর একটি পথ | পথের ধারে গাছের নীচে এক দরগা । দরগাব কাছে জনকয়েক লোক দাড়িয়ে কথা বলছে । এদের প্রথম সংলাপ হল যে বাদশাহ একেবারে উন্মত্ত হয়ে গেছে । দল্লীর গাছ কেটে ফেলার কখা বলা হয়েছে মারো বলা হয়েছে যে লালকুঁয়ার ফুসমনরে যুদ্ধে তাকে জয়ী করেছে। চিরাগ-ই-দিলের তলাও এ উলঙ্গ হয়ে শ্নীন করতে যাবার খবর শোনান হযেছে । একটি চমত্কার সংলাপ 3 “এ ডাইনির পেটে, এ পাগলটার বে ছেলে গন্মাবে সে ব্যাটা তথতে বসলে কি ব্যাপার্ট] হবে একব.র ভবে দেখেছিস? । দ্বিতীয দৃশ্য দিলীর দেওয়ানী খাস ! ছুপাশে ছু* সারি প্রহরী । তাছাড়া আলিমুরাদ কোকলতস খা, ইকলাস খাঁ, রাঁজা সভার্চাদ, সাছুল্লা খা গ্ভৃতি। সম্রাট সভায় উপস্থিত নাই দেখে সকলে বিস্ময় প্রকাশ করছেন এবং ফারুকনিযব পাটনায় নিণেকে সম্রাট ঘোষণা করেছেন তাই আলোচনা করছেন»। এমন সময় পাগড়ীহীন হাতে চাবুক সম্রাটের প্রবেশ । সভাসদগণ ফারুকসিয়রেন ১৯ বংলা ধতিহাসিক নাটক সমাঁলোচন। খবর এবং সৈযদ আ।বছুল্লী খা ও পৈয়দ ঘদেন আলি খা থে ভীকে সমর্ধন করেছেন একথ। নম[টিকে ভাঁনালেন । সমাট রাজনীতিজ্ঞানহীন পাগলের মতে বলছেন» “,+|কলতহস গ.» তুমি এধুনি এই মুহুর্তে পাটনা যাও । শযতাঁন ফার্কাসিরকে বন গিয়ে সেখদি সহাম্নমে যেতে না চায় ত।হলে যেন এই মতলব পরিতা॥ করে। আর সেখান থেকে আসবার সময পাটনার শেষ্ঠ গাষিকা আর পঠজন স্ুন্দরীকে নিয়ে আসবে । সভায় উ্তির ভুলফিকর অনলি খা নাই দেখে তাঁকে ডাকতে পাঠান হল। কিন্তু তখনই উজির প্রবেশ করাষ সম!ট পরে নিলেন ঘেতিনি কোন স্থন্দরীর কাঁছে ছিলেন এতক্ষণ। 5১২ চাবুক ঘুরিয়ে “নিকালো? ণনিকালো” বলে সভা'সদদের তাড়িয়ে দিয়ে সমাট জ্বলফিকর খাকে নিষে 'অন্রালে যাবার চেষ্টা করছেন এমন সময় লালকুযাব ওরফে ইমতিযাঁজ মহল রাঁজসভাষ প্রবেশ করে জানালেন যে সমাটের পিপী গিম্নতউন্িসা বেগম পত্র লিখে তাকে আহারে নিমন্ত্রণ করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে এও লিখে জানিষেছেন যে, “তুমি যে বাজারের স্বীলৌকটিকে লইয| দিনরাত্রি উন্মন্ত হইযা আছ তাভাঁকে সঙ্ষে আনিও না ।, ইমতিয়াজ মহল সমাট আলমগীরের কন্তাঁকে বাদী বলে সম্বোধন করে এই পত্রের ভন্গ উদ্মা প্রকাশ করলেন এবং সমাটকে নিমন্ত্রণ রক্ষা না করতে অন্রোধ করলেন। সছগাট তার প্রিধতমাকে এই অপমান করার জন্য জুলফিকর থাকে জাদেশ দিলেন যে বাডী ঘেরাও করে জিন্তউন্নিসা বেগমকে জ্যান্ত পুঁতে মেলতে | তারপর বললেন যে, আত্মীয়দের রক্ত শোতে ধরণীতে তিনিও 'লমগীব বাদশাহর মতে বস্তা বইষে দেবেন। আরও জানালেন যে, সিংহাসনেব মেয়াদ কমে ঘাবার সম্তাবনাতেও তিন তার প্রেমের অমর্যাদা করতে পারবেন না। অবশেষে জুলধিকর থা! ফিকির বাতলালেন। ইমতিয়াজ মঙলকে বললেন যে সমাটের অমঙ্গল সম্ভ।বনা আছে বলেই তিনি জিন্নংউন্লিসা বেগমকে ক্ষমা করার জন্ত অনুরোধ করছেন। ইমতিয়াজ মহল সেই অন্রোধ র'*ুল সবাই খুব খুসী হয়ে উঠলেন। সম্রাট ইমতিয়াজ মহলের মহান্থভবতায় অ(নন্দিত হয়ে গাঁইয়ে বাজিয়েদের ডাকাতে বললেন তারা এলে সবাইকে সরাব খধাঁওয়ালেন। তারপর বাদশাহ স্বয়ং নাচতে লাগলেন । হঠাৎ তিন- চারজনকে ধাকা দিয়ে ফেলে দিলেন। তিনঙ্গনকে ঘু'সি মারলেন গান বাজনা ভাহান্দার শাহ টু থেমে গেল। ইমতিয়ীজ তথত থেকে উঠে এসে সমাটের হাতে চাবুক দিযে বললেন-_“এই নাও চাবুক | তুমি বড় রসভঙ্গ কর।, আবে কিছুক্ষণ গ'ন- বাজন! চলার পর স্মাট সাছ্লা খাকে নিষে রসিকতা সুরু কবলেন। নাচতে জানেনা এবং প্রধান বন্সী হযেও পাঁজকোব অপ শুন্য শুনে তাকে কর্মচ্যত করলেন। তারপরেই তার মনে পডে গেল মানুষ জলে কেমন করে ডোবে ইমতিয়াজ তাই দেখতে চেয়েছিশেন | তাই সঙ্গে সঙ্গে হুকুম দিযে দিলেশ যে তিন নৌকা বোঝাই লোক যমুনাতে ডোবান হোক। প্রথম নৌকাব পুরোভাগে থাকবেন সাদুলা! খা, দ্বিতীয নৌকার পুরে।ভাগে ব্রাজা এভচাদ, আর তৃতীয নৌকাধ সম্রাট স্বয়ং। ইমতিযাঁজ মহল সঙ্গে সঙ্গে 'সম।ট কাছে না থাকলে আমাব আনন্দের অনেকথানি কমে যাবে? সলে সমটকে নিযে প্রস্তান করছেন । তৃতীষ দৃশ্া জি্ত্উন্নিসা বেগমের প্রাস।দ | ভিন্নত্উন্নিসা বেগম সভ[সদদের সঙ্গে বডধন্ত্র করছেন । উপস্থিত আছেন “কাঁকলতস খা, সভাচাদ ও সাহল্ল। খা। জিন্নৎউন্নিস। ল'্লকুয়ারের বারী সন্কোধনে অত্যগ্গ অপমানিত এবং সই অন্থই যেন জাহান্দার শাহের সিংহাসনষ্রাত চাইছেন। তার অনহবানে জুলফিকর খ। আসেন এবং জানান যে আল্মগীব বাদশাহও খাগারেব নন্তকীকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি আরও জানালেন যে ইমাতয়াজ মহল 7ভন্নতউন্লি- সার ইদত্য ক্ষমা! করেছেন এট তার মহানুভবতারই পরিচয়। ভ্রলফিকর | ষড়বন্পে যোগ দিতে রাজী হলেন ন| | গ্রিন্নতউন্লিস! জানাঁপেন যে তাদের পরিকল্পনা আজুদ্দিন সিংহাসনে বসবে । ইতিমধ্যে জমিদারেরা বে খাভনা দেওয়া বন্ধ করেছে তা জাহান্দার শাহর বিরূদ্ধে বিদ্রোহের নামান্র মাত্র। জুলফিকর খা চলে যাবার পর সভা্ঠাদ মৈজ্ছুল্লাকে সিংহাসন দবার কথা চিন্থা করতে বললেন । পট পরিবর্তনে দেখা গেল দিল্লীর দেওয়ান-ই-থ|স রাত্রির শেষ গ্রহর, দূরে তখৎ-এ-হাউস দেখা যাচ্ছ। সম্রাটের চুল উক্কোধুস্কে পাগলের মতো, হাতে চাবুক | দীর্ঘ বন্তৃতা। বিষয়--এই তক্তে যে বসবে তার চোখে আর ঘুম থাকবে না । তারপর তখতের চার পাশে তিনি তার পূর্বপুরুষদের অশরীরী আত্মাদের দেখতে পেলেন। আলমণীর উরঙ্গজীব, দারান্থকে1, সুজা, মুরাদ, টি বাংলা প্রতিহ্াসিক নাটক সমালোচনা তলত।ন মহম্মদ, ভাহান শা, সবাই তখৎ-এ-তাউসের চারপাণে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্বপ্ন দেখলেন তার গ্যেইপুত্র আভৃদ্দিন তাঁকে বধ করতে আসছে। তার চিৎকারে ল'পকুধার ছুটে এপেন। সান্বন দিয়ে বাদশাহর মিথ্যা ভয়কে প্রশমিত করে তিনি বললেন _ণল সমাট আমরা এই রাজত্বের অভিনয় ছেড়ে দিয়ে দূরের কোন পাহাড়ে পল্লীতে গিয়ে ন্ভিতে শাতিতে বাঁস করি।” সম্রাটের উত্তর “বাবরশাহের বংশধরদের মধো আঞ পথ্যন্ত কেউ রাজত্ব করতে করতে সিংহাসন ছেড়ে প।লিযে গেছে বলে শুনিনি ।' অবশেষে জুলফিকর খ| আসেন এবং সমাটের বিরুদ্ধে ভিন্নংতউন্নিসা ও ওমরাহদের ষুযন্থের কথা আলোচনা হয়। অবশেষে আজুদ্দিনকে বেন্ত্র করে এই বিদ্রোহ দান! বাধতে পারে চিন্তা করে আজ্দ্দিনকে ডেকে পাঠান হশ। কারাগারই সিংহাসনে ওঠার প্রথম ধাপ ঘোষণা করে ব।দশাহ আজুদ্দনকে কারাগারে নিক্ষেপ করলেন। এইথানেই প্রধম অন্কের সমাপ্তি। প্রণম অঙ্গের প্রথম দৃশ্ঠটি খুবই এতিহাসিক সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই । জনসাখারনের জাভান্দার শাহ এবং ইমতিয়াজ মহ'লর সন্তান সম্পর্কে যা ভাবন। চিন্তা তাও খুব শ্বাভাবিক । নান। ঘটনাকে স্ন্দরভাবেই এই দৃশ্টে বাবহার করা হয়েছে । দ্বিতীষ দৃশ্য থেকে নাটক চলেছে ইতিহাসের ছায়া এড়িকে নাট্যকারের নির্দেশে । তাই জাহান্দার শাহ এক অর্ধে'ন্মাদ আর ইমতিয়াজ মহল অতি ভাল মানুষ। পাগড়ীহীন বা উচ্বীষহীন রাজদরবারে চাবুক হাতে প্রবেশ করিয়ে নাট্যকার জহান্নার শাহের যে চরিত্রের আভাষ দিয়াছেন তা স্ব থেকেই তুল পথে নাটককে নিয়ে গেছে । এইখানে বলে রাখা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, মোগল দরবারের সমাজ ছিল অত্যন্ত রঙ্গননীল, নিয়মতান্ত্রিক এবং অন্তষ্টান মান্তকারী। ছত্রপতি শিবার্গী বুনো” আখ্য। পেয়েছিলেন তার অনিগ্মিত ব্যবহারে । অনুষ্ঠানের ঘুণিতে বাদশা গুরঙ্গজীব তাকে দব থেকে বেশ অপমানিত করেছিলেন। স্থুতরাং জাহান্দার শাহর পক্ষে উদ্মীষহীন ও চাবুক হাতে দৌড়ে বেড়াবার অবকাঁশ কোথায়? দেওয়ান-ই-আমে বাদশার আসনে স্বাসবার পথ ও প্রকোষ্ট ভিন্ন। তেমনি দেওয়ান-ই-খাসেও মাক উচ্চপর্ধ]ায়ের কর্মচারী বা ওমরাহ বাদশার কাছাকাছি যেতে পারতেন। প্রকাশ্য দরব!রে প্রধান। বেগমের প্রবেশ আর এক অসম্ভব ঘটনা। বাংলাদেশের ভাতান্দার শাহ ১৩ ব্রাহ্ম হুপাএণ বিংখখতাব্ধীর প্রথম পাদে মাত পর্দার বিলোপ কবেন। ঢুটি মহাযুদ্ধ প্রয়োভন হয রক্ষণশীল হিন্দু মহিলাদেব পর্দাকে অস্বীকাব করতে । দববাবে বেগমের প্রবেশ একটি খাঁটি হংরাভীাশশলিত ব্যক্তির বালা থিয়েটাৰা চিছা। চিন্নতউন্িস] “বগমের বে ঘটনা নাট্যকার ব্যক্ত কবেছেন, ইতিহাসে তাঁব উল্লেখ নই এধং ত1 একান্ধ অস্বাভীবিক | লালকু যাবেব এঁতিহাসিক চরিত্রের যে পারচয আমরা পেষেছি তাতে এমন ঘটনা ঘটলে তিনি ডিনতউন্লিসাকে শান্তি দিতে দিধা করতেন না এবং জাহান্দার শ'ত লালঞুঁষ'বেব হুকুম বিনা দ্বিধা মেনে চলতেন | মনে বাঁথখতে হবে যে, এই সমধ জিন্নতউন্নিস। বেগমের বয়ম ৬৯ বছর ( জন্ম ১৬৪৩ খ্বী:)। রাজনীতির পঙ্কের মধ্যে না গিষে এই সমষ অবসর জীবনযাপন করাই তাব পক্ষে স্বভাবিক। তিনি তাই করেছিলেন বলেই ইতিহাসে, তার কোন বাজনীতিতে অংশ গ্রহণের উল্লেখ নাই । আরো নষ বছর তিনি বেচেছিলেন (মৃত্যু ১৭২১ খ্রীঃ) যাব মধ্যে দিল্লীব রাজনীতি অনেকবার উলটপালট হযেছে কিন্ত জিন্নতউন্লিসা বেগমের কোন সংবাদই ইতিহাঁসিক হয়ে ওঠেনি । জিন্নতউন্লিসার ইমাতযাজমহল বেগষকে প্রকাশ্রে অপমান করা যেমন অস্বানাবিক তেমনি অসম্ভব লালকুযাবের তাকে ক্ষম' কর।। জাহান্দার শাহর রক্তবন্া কবার ইচ্ছা নাটাকার শুনিযেছেন দেখে সন্দেহ হয ফেজাহান্গাব শাহর ভয়ঙ্কর ভ্রাতনাশা যুদ্ধ সঙ্বন্ধে বোধ্হয নাট্যকার অবহিত নন। জঙ্জেএর যুদ্ধে জী হবার পর ভাই ও ভাইপোদের ছিন্ন মু খন বাহাদুর পাহের সামনে রাখা হল তিনি কেদে ফেলেছিলেন। কঠিন ভত্সনা করেছিলেন সেনানায়কদের । বলেছিলেন যুদ্ধে শত্রু হলেও এর! তার ভাই ও ভাইপো তাদেব ছিন্ন শির দেখে তার আনন্দিত হবার কোঁন কার নাই। মুগুগুলি দেহের সঙ্গে জুড়ে কবরস্থ কর'র ব্যবস্থা হয়েছিল অবিলঙ্দে। আর সেই পিতার জ্যোষ্টপুত্র জাহান্নারশাহ যুদ্ধে নিহত তার ভাই ও ভাইপোদের দেহ রাভীনদীর বালির উপর তিনদিন উলঙ্গ অবস্থায ফেলে রেখেছিলেন। নাট্যকারের জাহান্দার শাহর চিত্রের পরিকল্পনা খে কত ভূল খত এখানেও প্রমাণিত হচ্ছে। বাদশাহ গাইয়ে বাজিয়েদের ডেকে মিজে নাচতে আরম্ভ করলেন এবং ১৪ বাংল। এরতিহাসিক নাটক সমালোচন। কছুক্ষণ পর নিজেই তাদের মারধর করলেন। তখন ইমতিয়াজ বললেন 'তুঙ্গি বড রসভঙ্গ কর” । প্রকৃত ঘটনা যে বিপরীত তা আমরা আগেই বর্ণনা করেছি । বারশাহই ইমতিযাঁজ্রে উন্মত্ত সঙ্শীদের হাতে উতৎ্পীডিত হতেন এবং ইমতিযাভের ভযষে সব শাঞ্চনা সহ করতেন। অবশেষে বাত্রীপূর্ণ নৌকাকে জপে (ডাবাবার ঘটনাকেও প্রক্ষিপ্ত করা ইইযাছে। ইমতিযাজ ইতিহাসে বারবাব বাদশাহেৰ উপর তার পরিপূর্ণ কতৃত্বেব প্রমান রেখেছেন । নাটকে বাদশাহ ইমতিয়াজের আনন্দের জন্য নিজের খামখেযাপীপন| চধিতার্থ করেছেন । তৃতীয দৃশ্যে জিন্নতউনিসা বেগমের বাড়ীতে ষডবপ্ব আদে। অসম্ভব নয। কিন্ত আগেই বলা হযেছে ঘে আলমগীর কন্থা তার দীর্ঘ অবসর জীবনের কখন রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করেছেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায না। ইচ্ছা করলে ছিন্নতউন্সিস। দিল্লীর ইতিসাসে প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তার করতে পারতেন । মারাঠা ছঞ্পতি শাহু তাকে জননীব মত সন্মান ও শ্র্7া করতেন। তার আদেশে মারা? নায়কগণ দিলীভষে অগ্রসর হতে পারজেন এবং তাতে ভবিস্তৎকালের হিন্দুপত বাদশাহ স্থাপনের পরিকল্পনা আরো! ভজোরদ।ব হত | কিন্ত উত্তিভাসের অমোখ নিষধমে ত। হয । জিন্নতউশ্নলিলা বেগম নিশ্চিন্ত মনে অবসর জীবন যাপন করেছেন। বাদশাহীর ভাগ্য বিপর্যয তার মনে কি তরঙ্গ তুলেছিল না বোঝবার কোন উপাষ নাই। জাহান্দার শাহের বিরুদ্ধে এই হীন পড়ন্ত জিন্নতউনিসা বেগমের মহান চরিত্রে কলঙ্ক লেপন কর! হয়েছে_-এটা ইতিহাস অজ্ঞানতার ফল। এই অগ্ভুত বডবস্ত্ে জাহান্দার শাহের জ্ে্টপুত্র আজুদ্দিনকে সমাট করার.পরিকল্পনা আরো! অচন্তর কারণ ভাইদের মধ্যে একমাত্র তিনিই ছিলেন তার পিতার পক্ষে । অন্য ঢইজগন অর্থাৎ ইজদ্দিন ও আজিজুদদনি, ( অন্যনাম মৈজুদুল্ল ) তখন কাবাগ|রে | পট পরিবর্তনে দেওযান-ই-খাসের দশ্বে বাদশাহের মধ্যরাতে তখত-এ- তাউসের চারপাশে বিচরণ করে পূর্বস্থরীদের অশরীরী আত্মা! দেখা ক্গীরোদ- প্রসাদ বিছ্য/(বিনোদের আলমগীর নাটকের ্বপ্রদৃশ্যের অনুগামী | স্বাজুদ্দিনকে কারাগারে নিক্ষেপও অটনতিহাসিক। কারণ--একমাত্র তাকেই লাপকুঁয়ার পছন্দ করতেন এবং আজ্ঞুদ্দিন তার পিতার জীবদীশায় সর্বদা, জাতান্দার শাহ ১৫ সুক্ত ছিলেন । এই দৃশ্যের সব থেকে অসম্ভব কথ! লালকুঁয়ারের সিংহাসন ছেড়ে পাহাড়ে পল্লীতে বাস করার ইচ্ছ| ৷ পূর্বে আলোচিত লালকুষার প্রসঙ্গ পাঠ করলেই বোঝা ধাবে এই সংলাপ কত অসম্ভব । বাদশাহ ও বাদশাহীকে নিজের ইচ্ছামত বাবহার করাই ছিল লালকুয়ারের জীবনের একমাত্র উদ্দেশা । কেন তিনি এট] করলেন কা কবতেন তার কারণের অনুসন্ধান ও বাখান চমৎকার নাটক হতে পারত । ক উদ্দেশ্যে লালকুঁয়ার বাদশাহ ও বাদশাহীকে এত হীন করে দিলেন, এত অসন্মানিত করলেন, নাটকের মুল বক্তবা হতে পারত। বেগম ন্ররজাহান হবার জল্ঞ লুব্ধ ইমতিযাজ মলের “মুখে” তাই দিলী ছেডে পালিষে যাবার সংলাপ অসম্ভব এবং ইতিহাঞ্জ বিরোধী । জুলাই থেকে নভেম্বর ১৭১২ খ্রীষ্টাব্দ এক ছেপ্রহ্ীন বিলাসিতাঁর ক্রেদাক্ত কদমকশ্সোতে। পঞ্চমাস জড়ে ত'র প্রাপান । অবশেগে ডিসেম্বরের স্ুরুতে যুদ্ধের দামামা নিরধোষে স্বপ্নভঙ্গ । এর মধ্যে পার্পিয়ে যাবার সংলাপের যেমন অবকাশ নাই তেমনি বাদশাহের পাঁলিষে বাবার ইচ্ছার কোন মানে নাই | নাট্যকার যে ইংরাজ আমলের লোক তাঁর প্রমাণ রেখেছেন জমিদারীর রাজস্ব আদাফের ওপর বাদশাহীকে নির্ভর করিয়ে । বলেছেন জমিদাররা যে রাজন্ব দিচ্ছেনা এটাও একপ্রকার বিদ্রোহ । বলাবাহুল্য এটা সম্পূর্ণ ভূল ধারণা । মোঘল সামাজ্ের রাজম্ব আদায় পদ্ধতি জমিদারের উপর নির্ভর করত না-তার জন্য বিশদ ব্যবস্থা ছিল। এ বিষষে আলোচন যথাসময়ে করা হবে। দ্বিতীয় অঙ্কে দুটি দৃশ্য । দ্বিতীয দৃশ্য দিল্লীর “দণ্যান-ই-খাস । ইমনতিযান্ মহলের ভ্রাত। নৃতন আমীর নিযাঁমত খঁ' কলাবন্ত মাতাল অবস্থায় প্রবেশ করলেন। ইমতিয়াজ মহল অত্যন্ত চিন্তিত কারণ সম্াটকে কোণাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা । সভাসদগণ খোঁজাখুঁজি করতে লাগলেন। অবশেষে সমাট নিজেই উপস্থিত হলেন । জানা গেল গতরাব্রের মগ্ঘপান অভিযানের পর সকলে এত উপ্মত্ হয়েছিলেন যে বাদশাহ বে রথের ওপর নিজ্রিত অবস্থাতেই আছেন ত1 ন! দেখে তাকে শুদ্ধ রথশালায় রথ ( গোশকট ) রেখে চালক চলে ধায়। এই দৃশ্যে নাটকীয়তা স্থষ্টি করে সম্রাট বলেছেন তিনি বয়েল ; বলদ ) দের মাঝে সারারাত্রি নিদ্রিত ছিলেন। জ্ুলফিকর খা, জিল্রতউন্লিসা বেখমের ফড়বয়ের খবর আলে বাদশতৈ তা বিশ্বাস করতে বাজী হচ্ছেন না। (অথচ ১৬ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালে!চনা আজ্তদ্দিনকে গত দৃশ্যেই কারাগারে পাঠিয়েছেন )। অবশেষে সমস্ত বিষয়ে অবগত হযে যড়যন্তের প্রধান নায়ক কোকলতাস খাঁকে ডেকে পাঠাচ্ছেন। কোকলতাস খ বা আবুমুরাদ সম্£টের দুধ-ভাই এবং ছোটবেল।র সঙ্গী । তাকে উজির করতে প্রতিশ্র'তিবন্ধ বাদশাহ কথার খেলাপ করাষ কো1কলতাস খাঁ বাদশাহ এবং তার উজ্ভিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হযেছেন। এই দৃষ্টে সমাট কোকলত।স খায়ের হাতে ছুরি দিয়ে নিজের বক্ষ উন্মোচন করে তাকে হত্যা করতে বলছেন। অন্শোচনায় যখন কোকলতাসের মন পূর্ণ হল তখন তার ওপর সৈনাপত্য দিয়ে তাকে ফারুকসিয়রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠাচ্ছেন। মধ্যমপুত্র ইজুদ্দিনও ষডযন্বকারী এবং পিতৃহত্যায ইচ্ছুক জেনে তাকেও যুদ্ধে পাঠাচ্ছেন কেরকলতাস খায়ের সঙ্গে । সৈন্তদ্ের বেতন দেবার ভন্ত উজিরকে আদেশ করছেন রাঁজকোষে ঘখন অর্থ নাই, তখন ঘত সোনা রূপার পাত্র আছে কেটে কেটে সৈন্যদের মধো ভাগ করে দাও। সম্রাট আদেশ করলেন জুলফিকর খ। এবং কোকলতাস খ| যেন ফারুকসিয়রকে শৃঙ্লাবদ্ধ অবস্থায় বন্দী করে নিয়ে আসেন, তিনি তথন এই তখত-এ বসে তার শাস্তি বিধান করবেন। কারণ সিংহাঁসনই তার রক্ষাঁকবচ সেখানে তাকে বসে থাকতে দেখে শক্রুপক্ষ প্রহ্থত কুকুরের মত পালিয়ে যাবে ।” কিন্তু তা হল না, উজির ও সেনাপতির উপদেশে সমাটকে যৃদ্ধযাত্রা করতে হল। যাবার সময উভয়কে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করলেন সম্রাট। যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক তাঁকে যেন কেউ পরিত্যাগ করে না পালান। তাদের প্রতিজ্ঞায় নিরুদ্দিগ্ন হযে সম্নাট জয়লাভ সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হয়ে যুদ্ধধাঁত্রা করলেন । এই অঙ্কের প্রথম দৃশ্য আবার জিন্নতউন্নিসার গৃহ ! জিন্নতউন্লিসা বেগম কোকলতাস খ। ও ইজ্ুদ্দিনকে সমাটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে উদ্ধদ্ধ করছেন এবং তারা চলে যাবার পর দূত মারফত ফারুকসিয়রের সঙ্গেও যোগাসোগ রাখছেন। এইথানে সকলেই জানত পারছেন যে বিজয়ী ফারুকসিয়র সৈয়দ ভ্রা$ঘয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় সৈন্য সংগ্রহ করে সদলে যাত্রা করেছেন। দ্বিতীয় অঞ্চের প্রথম দৃপ্য সম্পূর্ণ ইতিহাস বিরোধী । জিন্নতউন্লিস! বেগমের ষ়যস্ত্রের গল্প যে অঙ্গীক তা আগেই আলোচনা কর! হয়েছে। ইজুদ্দিন কারাগারে স্থতরাং তার সঙ্গে সংলাপের অবকাশ ছিল না। দ্বিতীয় দৃষ্ঠে জাহান্দার শাহ ১৭ সঞ্জাটের হারিয়ে যাবার ঘটন! তথা তাঁর এবং তার বেগমের কাগুজ্ানহীনতা ্রতিহাসিক সত্য। কোকলতাস খানের যড়যন্ত্রের কোন নিদর্শন ইতিহাসে নাই। তাঁকে নিবুদ্ধি কিন্ত জাহান্দারের প্রতি অন্গগত বীর যোদ্ধা বলেই বর্ণনা করা হযেছে। আগ্রা দুদ্ধে ইজুদ্দিন বায়নি কারণ সে তখন কারাগারে বন্দী। বাদশাহের যুদ্ধে না যাবার ইচ্ছার কোন নজির নাই । তখনকার যুদ্ধে সর্বদা প্রধান ব্যক্তিদের উপস্থিতি প্রয়োজন হত । আলমগীর বাদশাহের বিভিন্ন যুদ্ধে, জজ এর রণক্ষেত্রে, এমন কি জাহান্দার শাহের ভ্রাতবিরোধী যুদ্ধে সবদ। প্রধান বিরোধীদের দেখা গেছে । কাজেই ফুদ্ধক্ষেত্রে জাহান্নার শাহের উপস্থিতি তৎকালিন যুদ্ধননয়মের ব্যতিক্রম নয়। দেখা যাচ্ছে জুলাই থেকে নভেম্বর এই পাঁচমাঁসের ঘটনা প্রথম অঙ্কের প্রতিপাদ্য ৷ দ্বিতীয় অঙ্ক ডিসেম্বর ম[সের ঘটনা! । তৃতীয় অঙ্কে ছুটি দৃশ্ঠ। প্রথম দৃশ্য আগ্রার কাছে যুদ্ধক্ষেত্র, সম্রাটের শিবিরে নিয়ামত খা কলাবন্ত মূলতানের শাসনকর্তার পদের জন্য সম্াটকে খে'সামোদ করছেন। যুদ্ধের খবর দিচ্ছেন যে, আবুমূ্রাদ কোকলতাস খ প্রচণ্ড যুদ্ধে সৈয়দ ভ্রাতৃদ্ধয়কে বারবার হারিষে দিয়েছেন। নিয়ামৎ খার মুখেই নাট্যকার জানাচ্ছেন যে, উজির জুলফিকর খঁ। যুদ্ধ না করে চুপ করে দাড়িয়ে আছেন। এক জ্জ্যাতিষী সমাটকে জানাচ্ছেন যে এ যুদ্ধে তারই জয় হবে। সমআাট মহানন্দে নাচগান করার আদেশ দিচ্ছেন এমন সময় কোকলতাস খায়ের প্রচণ্ড আহত হবার সংবাদ এল। একটু পরেই জুলফিকর খা কোকলতাসের মৃত্যু সংবাদ বহন করে নিয়ে এলেন। তার অন্রোধ সম্রাট যুদ্ধক্ষেত্রে স্বয়ং উপস্থিত হন। কোকলতাস খায়ের মৃত্যুতে সম্রাট স্বাভাবিকভাবেই খুব উদ্বেলিত। কিন্তু বহু যুদ্ধের অভিজ্ঞ যোছ। সম্রাট জাহান্নার শাহ যুদ্ধে গেলেন না। ইমতিয়াজ মহল উপদেশ দিলেন পালিয়ে যেতে । সম্রাট তাতেও রাজী হলেন ন! বটে কিন্ত ইমতিয়াজ মহলকে তীর্থ দর্শন করাবার এইটাই সর্বাপেক্ষা সুসময় বিবেচনা করে ইমতিয়াজ মহলের 'পরুদ। ঘের! হাওদার হাতিতে চেপে দিল্লী অভিমুখে যাত্রা করলেন। জুলফিকর খা বাদশাহকে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যেতে এসে সমাটের এই পলায়ন সংবাঞ্চে স্তম্ভিত হত্বে গেলেন। তিনিও দ্র্নী অভিমুখে সদলে পলায়নের সংকল্প ঘোষণ। ১৮ বাংলা গ্রাতিহাসিক নাটক সমালোচনা করলেন। দ্বিতীয় দৃশ্যে জিন্নতউদ্লিসা জাহান্দার শাহের পরাক্ষষের খবরে উল্লসিত হয়েছেন এবং আরও খুপী হয়েছেন কারণ দৃতমুখে ফারুকসিষর, লালকুয়ার ও জাহান্দার শহকে বন্দী করে তার পদপ্রান্জে নিক্ষেপ করার প্রতিশ্রতি দিয়েছেন। জিন্নতউন্নিসার অর্থ সাহায্যের জন্যেও ফারুকসিধব তাকে ধন্যবাদ জানিযেছেন। একট পরেই জুলফিকর খার পিতা বুদ্ধ রাশ- নৈতিক আসাদ খা জিন্নতউন্নিসার সঙ্গে দখা করতে এলেন, উদ্দেশ্ট পুত্রের প্রাণভিক্ষা চাওয়া, তিনি বললেন যে জাহান্দার শাহ লালকুঁযার সহ দাক্ষিণাত্যে পলায়ন করেছেন । গ্িন্নতউগ্লিসা জানালেন ঘে এ খবর ভূল কাবণ বাদশাহ ও লালকুঁয়ার দিল্লীরই আশেপাশে লুকিষে আছেন । আসাদ খা যদি লালকযারকে তার পাযষের কাছে এনে ফেলতে পারেন তবেই তিনি জলফিকর খায়ের চন্য প্রাণ ভিক্ষা চাইবার প্রতিশ্রতি দিতে পাবেন । দ্বিতীয় দৃশ্যটি সম্পূর্ণ অনৈতিহাসিক এবং এক মহান মোৌগল মহিলাকে বিনা! কারণে হীন করা হযেছে । নাটকেও এই বিসদৃশতা স্পট | ভিন্নতউন্লিসা বেগম এই যডযন্ত্রে অংশীদার হলে আসাদ খ! সহজেই বন্দী লালকু্য!রকে তার পায়ের কাছে ফেলে দিষে পুত্রের জীবন ভিঙ্গী নিতে পারতেন, তা তিনি করেননি । জিন্নতউন্লিসা বেগমের ফারুকসিধরকে অর্থ সাহাব্য করা বা পৃতন বাদশাহের তাকে কোন প্রতিশ্রতি দান অলীক এবং অন্যায় কল্পনামাত্র ৷ বরঞ্চ এই অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের ঘটনা ইতিহাস অন্রঘায়ী। ৩০শে ডিসেম্বর ১৭১২ শ্রী: আগ্রার কাছে সাগগড়ে জাহান্দার শাহ ছাউনি ফেলেন । এইখানেই তার পিতামহ আলমগীর দারাস্থকোকে পরাজিত করেছিলেন ১৬৫৮ শ্রীগাবে। জাহান্দার শাহের বা সৈ্তবল ছিল তাতে তার জয় সম্পর্কে কার মনে সন্দেহ জাগেনি। কিন্তু সর্বদা বাজারের ক্লীলোক লালকুয়ার দ্বারা প্রভাবিত এবং তার সাঙ্গপাঙগ কর্তৃক পরিবৃত থেকে সম্রাটের কাণুজ্ঞানও লুপ্ত হয়েছিল । সম্রাটের অশ্পপস্থিতিতে যুদ্ধের ব্যহ রচন প্রণালী বা আক্রমণধারা সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত গৃহ হল না। উজির জুলফিকর খ| এবং সেনাপতি কোকলতাস খানের মধ্যে: কার পুরাতন বিরোধ কেবল আরো স্পট আকার ধারণ করল।৯? ১০ই জাগুয়ারী ১৭১৩ শ্রী বুদ্ধ সুরু হল। জুলফিকর খা যে চুপ করে দীড়িয়ে ছিলেন তা ঠিক নয় তবে সর্বজনগ্রাহ্থ কোন পরিকল্পনা নী থাকায় বিভিন্নভাবে যুদ্টে দ্াহান্দার শাহ ১৯ লিপ্ত হয়েছেন । ঘনঘটায় যখন যুদ্ধ চলেছে তথন চূড়ামন জাঠ নামে ফারুকসিক্বর 'পক্ষীয় এক পেশাদার লুনকারী পেছন দিক থেকে সম্রাটের শিবির আক্রমণ করে লুগ্ঠন সুরু করে। জাহান্দারশাহ তাই দেখে হাতিতে চড়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্থত হন। ঝাকে ঝশাকে তীর তার হাতিকে আহত করে ক্ষিপ্ত করে দিয়েছিল । জাহান্দার শাহ তখন হাতি থেকে নেমে ঘোড়া চডলেন এবং জুলফিকর খাঁকে সাহাঁধ্য করার জন্য একদল সৈন্যবাহিনী নিষে আগিষে যাবার জন্ত প্রস্তত হলেন। বাবর বংশধর এই আলমগীর পৌত্রের বাদশাহী পাবার পর এইটাই প্রথম ও শেষ বীবত্ব। তখনি লালকুঁযার উপস্থিত হয়ে তার পর্দা ঢাকা হাঁওদায সমাঁটকে তুলে নিষে দিল্লী অভিমুখে পলায়ন করলেন। নিজের ইচ্জাধ পালিষে যাঁবার দাঁয়িত্বের অধিকাবী হবার স্থযোগও জাভান্দার শাহ পেলেন নী 1৯৫ অবশেষে হাতি ছেড়ে এক সাধারণ বয়েল গাঙীতে চেপে নাড়িগোফ টেছে ফেলে দিযে সমাট আর লালকুষার মথুরার পথে ১৫ই জান্যাকী দিল্লী পৌছলেন। লালকুঁযাব দিল্লীতে তার নিজের বাড়ীতে চলে গেলেন আর সমট জাহান্দার শাহ সোজ| জুলফিকব খার পিতা আসাদ খাঁর বাড়ীতে উপস্থিত হলেন ।৯৬ তখৎ-এ-তাঁউস নাটকের চতুর্থ অঙ্ক চাঁবটি দৃশ্যে বিভক্ত, প্রথম দৃশ্য তাল- পাতের বাই | মাথা ন্যাড়া, দাড়ি গোঁফ কামান সামান্য বেশে জাহান্দার শাভ ও বৃর্ধায সর্বাঙ্গ দাকা লালকুঁযার | ক্ষুধার জালা পোড়া রুটি ভাগ করে থাচ্ছেন দেখান হয়েছে । যুদ্ধে হেরে যাবার চম্ত কোন অনশোঁচনা দেখা গেল না, শুধু দেখা গেল লালবুঁয়ারের প্রতি তাঁর অনির্বচনীয প্রেম আর ঈশ্বরের প্রতি একান্ত আশ্গত্য। দ্বিতীষ দৃষ্ঠ আসাদ খাঁর বাড়ী। আসাদ খা ও তার পুত্র জুলফিকর খা আলোচনা করছেন। জুলফিকর খা জানাচ্ছেন যে, দিল্লীতে ফিরলে তাঁর বিপদ হবে জেনেও তিনি একমাত্র বুদ্ধ পিতার কথা চিন্তা করেই এখাঁনে এসেছেন । আসাদ খা জ্ঞানালেন যে জাহান্দার শাহ দিল্লী এলে সো'জ! তার প্রাসাদেই আসবেন। একথ|! আলোচনা করতে করতেই জাহান্দার শাহ “হাস্ত মুখে প্রবেশ করে বললেন গৌফদাড়ি তিনি স্বেচ্ছা ত্যাগ করেছেন কিন্তু রাজ্যটা এখনও ত্যাগ করেন নি। জাহাচ্দার শাহ স্কুলফিকর খাঁকে যুদ্ধ না করে গড়িয়ে থাকার অভিযোগ করলেন। এই ২০ বাংল! এতিহাদিক নাটক সমালোচনা অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে জুলফিকর খা জানালেন যে কোকলতাস খানের: সঙ্গে একত্রে যুদ্ধ কর! তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। (এঁতিহাসিক ঘটন| যে অন্তরূপ তা আমর! পূর্ব পৃষ্ঠাম আলোচনা করেছি |) তারপর বাদশাহ স্বেচ্ছায়. কেল্লা অভিমুখে চললেন সেট। পক্রপক্ষের দখলে আছে জেনেও । বললেন 'ইমতিযাজ আগেই সেখানে গেছে । সে হযতে| আমার জন্য উতৎ্কগ্ঠিত হচ্ছে ।' জ্বলফিকর বললেন- উন্মাদ । তার পিতা বললেন ফারুকসিযরের হাতে যদি আমর 'ওকে আর লালক্ষারকে সমর্পণ করতে পারতাম তাহলে হয়তো! তোমার উচ্িরি ও আমার প্রাণ অক্ষু্ন থাকত । ততীয দৃশ্য পুরাতন দিলীর ময়দানে শিবির | ফারুকসিযর রাজকোষ শৃন্ত দেখে চিন্িত। তাব সেনাপতি ভসেন খ| জমিদারদের বুঝিষে দিতে বলছেন যে বাদশাহ বদল হযেছে তাহলেই রাজকোষ পূর্ণ হয়ে উঠবে । জ্লফিকর খাও আসাদ খাকে সরিয়ে দেব যড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জাহান্দার শাহেব খোজ হলে জানা গেল যে্িনি দওয়ানই-খাসে বসে সম্রাটের ভূমিকা অভিনয করছেন। 'আবদাল্লী খ! উপদেশ দিলেন যে “অর বেশিদিন তাকে অভিনয় করতে দেওযা সম্ভব হবে না। পাঞ্জাবে শিখ, আর আগ্রায় জাঠ ও সমস্ত হিন্দুস্থান জুড়ে ম|রাঠা প্রবল হয়ে উঠেছে । তাদের দমনের ব্যবস্থা করতে হবে । জাহান্দার শাহ জীবিত থাকলে ভবিষ্বতে আরো! গোল বাঁধবার সম্ভাবনা ।” অবশেষে আসাদ খা ও জুলফিকর থা এলে ফাঁরুকসিধর তাদের সসম্মানে অভ্যর্থন। করলেন এবং জুলফিকর ভাইকে পরে পাঠিয়ে দ্বেবার আশ্বাস দেবার পর আসাদ খাঁকে আবার সসম্মানে বিদায় দিলেন। জুলফিকর খ| এলে তাকে প্রথমে প্রশ্রবাণে জর্জরিত করা হল তারপর এক আলাদা তাবুতে নিয়ে গিয়ে আটদশজন' কালমাক ক্রীতদাস জুলফিকর খাঁকে বধ করল । ফারুকসিয়র হুকুম করলেন _-এখুনি গিয়ে আসাদ খার বাড়ী আক্রমণ করে তার সমস্ত ধনরত্ব প্রাসাদে নিয়ে আসবে আর সেই শয়তান বুদ্ধকে দূর করে রাস্তায় বার করে দেবে। চতুর্থ ও শ্ষে দৃশ্য দিল্লীর দেওয়ান-ই-খাঁস। প্রথমেই আসাদ খাঁর বাভী- লুঠের খবর দেওয়া হয়েছে । কুড়িথানা বয়েল গাড়ী ভতি মোহর ও অলঙ্কার তার বাড়ীতে পাওয়া গেছে গুনে জাহান্দার শাহ অবাক হচ্ছেন। পরিপূর্ণ উদ্মাদের মতে|। সমাট জাহান্দার শাহ জুলফিকর খার খোজ. করছেন», জাহান্নার শাহ ২১ কো'কলতাস খাঁনকে উজিবী দেবাব কথা আলোচন! করছেন। ইযাব খা এসে বলেন আপনি সম্রীজ্জীকে নিষে এখুনি পাঁলান। লালকুঁযাব প্রতিধ্বনি তোলে তাই চলুন সম্রাট । সঙ্গে সঙ্গে গাহান্নীব শাহ মক্কায় গিষে জীবনের শেম দিনগুলো কাটাবাঁব সংকল্প ঘোষণা কবেন। কিন্তু যাঁওযা হল ন|। জাহান্দাব শাহ খলেন “আমাকে সিংহাসনে বসে থাকতে দেখলে তাব! প্রহৃত কুকুবেব মত মাটিতে লূটিযে পড়বে ॥ লালকুষাবও সমাটকে ছেডে পাশিষে যেতে চাইলেন না। ইতিমধ্যে ফাককসিষব সইসন্া প্রবেশ কবলেন। সঙ্গে আনলেন জলফিকব খাব মৃতদেহ । সআট উন্মাদেব মতো ব্যবহাব কবতে লাগশেন, একবাব বললেন, তিনিতে| জুলি কব খাব প্রাণদণ্ড দেননি । তাবপব আবুমুবাদ কোকপত।স খাকে ডাকলেন জুলফিকব খাঁব হত্যাকাবীকে শাস্ভি দিতে । তাঁকে ধবতে এশে দৌড়ে গিষে তখৎ-এ-তাউসএ চেপে বসশেন। প্রহবীবা টেনে নিষে গেল । জাঙান্দাব শাহ তখন চাবুক চালিযে আত্মবঙ্গা্ চেই কবতে লাগলেন । তখন ধন্তীধস্তিব মধ্য গলা টিপে তাকে হত্যা কৰ। হল। মৃতদেহ দেখে ভীত ফাককমিযবকে আবদাল্লা খা জানাচ্ছেন-_আপনাব পুর্বপুকষ প্রায সকশেই মুতদেহেব পাহাঁড অতিক্রম কবেই তখতে বসেছিলেন। তাবপব সৈধদ ভ্রাতাদেব হাত ধবে ফারুকসিষব সিংহাসনে আবোহন কবপলেন। চ)টবিদিকে ধ্বনি উঠল “জয সমাট ফাককসিযবেব জয |, এই ধবনিব মধ্যেই অবশেষে নাটক শেষ হশ। তথৎএ-তাউসেব পবিসমাপ্ডতি ঘটশ। ঘামাম সুদ । প্রথম দৃশ্যটি ছাড। নয তিন দৃশ্যকে কোনক্রমেই এতিহাসিক বশ! ষায়না। ১০ই জান্যাবী সামুগডে জাহান্দার শাহ পবাঁজিত হলেন ও ১৫ই জান্যাবী ১৭১৩ খ্ীষ্টাব্ধে দিল্লীতে পৌছলেন, ক্ষুধাব জন্য পোড়া রুটি খাওযাব ঘটনা অসম্ভব নয়। ১৪ই জান্্যাবী জুলফিকব খা সসৈগ্ঠে দিল্লী ফিবলেন। দিললীতেও তাব অধীনে যথেষ্ট সৈন্য ছিল। দিল্লীর কেল্লাব ভিত্ব থেকে ফারুকসিয়রের সঙ্গে আর একবাব যুদ্ধ কববার সংকল্প নিয়েই জুলফিকব খা দিল্লী ফিরেছিলেন নাটকে কথিতমত তার বৃদ্ধ পিতাকে দেখবার জন্য আসেন নি। দিল্লীতে ফারুকসিয়বকে বাধা দিতে যে তিনি সক্ষম হবেন সে বিষযে ভার মনে দ্বিধা ছিল না এবং সম্ভবত তিনি তা করতেন। একটু পরেই একজন ২৯ বাঁংলা ইতিহাসিক নাটক সমালোচনা মাত্র দেহরক্ষী সঙ্ধে করে বাদশাহ জাহান্মার শাহের আসাদ খাঁর গৃহে উপস্থিতি পিতাপুত্রের মাঝে তুমুল তর্ক স্থষ্টি করল। বুদ্ধিমান জুলফিকর স্পষ্ট বুঝেছিলেন ষেনৃতন বাদশাহ ফ[রুকসিয়র তাকে জাহান্দার শাহের থেকেও বেশী ত্বণা করেন। ফা/রুকসিধরের পিতা আজিম-উস-সান ও জ্যৈষ্ঠ ভ্রাতার মৃত্যু এবং তাদের মৃতদেহের অগ্মানের জন্য জবলফিকব খা দাধী। কাজেই নূতন বাদশাহ আ!র যাকে ক্ষমা করুন জুলফিকর খাকে করবেন নাঁ। তাই জুলফিকর খাঁর পরিকল্পন1 হল জাহান্দার শাহকে নিষে প্রথমে মূলতান ও পরে কাবুল পলায়ন । তার সঙ্গে যা সৈন্সাঁমন্ত বা অশ্ব ছিল তাতে এই কাজ সহজেই সাধিত হবে। পবে সুসময় দেখে গৃতন সৈন্দল সংগ্রহ করে দিল্লী আক্রমণ করে আবার জাহান্দার শাহকে বাদশাহ বানিষে তিনি অ"বার দেশের সর্বময় কর্তা হয়ে রাজ্য শাসন করবেন | কিন্ত বৃদ্ধ আসাদ খা এই প্রস্তাবে রাজী হলেন না। তিনি প্রস্তাব করলেন বিশ্বাসঘাতকতা! করে হাহান্দার শ|হকে ধরিষে দিযে এই কাছ্ধে মলা হিসাবে নিষ্বে প্রাণভিক্ষী চেষে নিতে । ১৫ই জান্চয়ারী জাহান্দার শাহ এসেছিলেন আসাদ খাব বাডী। পাঁচদিন পর ২০শে জান্যারী ১৭১৩ শী; জাহান্দার শাহকে পায়ে শেকল পরিষে সামান্য 'অপর,ধীর মত রাস্পা দিষে নিযে বাওযা ভল। তাকে রাখা হল ত্রিপোশীযা বুরুচের ওপরতলাষ খানে সাধারণ চোর ডাঁকাতদেব কষেদ করা হত। কেবল তার শ্ষে সনির্বন্ধ অনুরোধে লালকুয়ারকে তার সঙ্গে একই বন্দীশাশায় থাকার অন্মতি দেওয়। হল। ফাঁরুকপিযর ১৯শে ভানযারী (১৭১৩ শ্বীঃ) বাদশাহ ঘোবিত হলেন। মসজিদে মসজিদে পাঠ করা হল তার দীর্ঘজীবনের জন্ত খুতবা । শুক্রবারের বিশেষ উপাসনাষ উচ্চারিত নাম হল বাদশাহ ফারুকসিয়র ।১৭ তখৎ-এ তাউস নাটকের চতুর্থ অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যে বাদশাহ জাহান্দার শাহ স্বে্টায় লাল কেল্লায় গেলেন। আসাদ খার বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি ধরা পড়লন এমন কথা কোথাও নাই । আরো বল! হয়েছে যে ইমতিয়াক্ত মহশ লাপকেল্স।য় জাহান্দার শাহের জন্ত অপেক্ষা করছিলেন । এই ঘটনাগুলি সবই কাল্পনিক। ইতিহাসের বিবরণ অন্তরূপ ত। আগেই বলা হয়েছে। তৃতীয় দবশ্যও কল্পনার দ্বারা প্রভাবিত । জাহান্দার শাহ ও ২০শে জানুয়ারী ১৭১৩ খ্রীঃ যেদিন জাহান্দার শাহ ও লালকু'য়ার বন্দী হলেন, আসাদ খা! একপত্র লিখলেন নৃতন উাঁজর সৈয়দ আবদাল্লা খার কাছে। এই চিঠিতে তিনি তার নিজের এবং তার পুত্রের আশ্গত্যের আশ্বাস দিলেন। ২২শে জান্ুযারী সৈষদ আব্দাল্প। খা দিল্লী প্রবেশ করলেন। প্রথমেই নূতন উজির পুরাতন উজির আর তার বৃদ্ধ পিতাকে সাভাধ্য করার আশ্বাস দ্রিলেন। নৃতন বাদশাহ স্বং ১০ই ফেব্রুয়ারী দিল্লী প্রবেশ করলেন। পরদিন ১১ই ফেব্রুয়ারী বাদশাহের সঙ্গে সাক্ষাতের হুকুম পাঁওয়া গেল। আসাদ খা হার পুত্রের ছুইহাত বেঁদে বাদশাহের কাছে নিযে গেলেন। বাদশাহ আসাদ খাকে “ভাই” বলে আলিঙ্গন করে পাযের তলা থেকে তুলে মিষ্ট কথায আপ্যাধিত করলেন। ভুলফিকর খাকেও “ভাই” বলে হাতের বাধন খুলে দিলেন, আসাদ খাকে বিদায় দেবাৰ পর | জুলফিকর খাঁকে বিচারাঁশালার তাবুতে নিষে বাওয়া হল। সেখানে তিনি লৌকবামাত্র ঢুইশত সশন্ম যোদ্ধা তাঁকে সম্পূর্ণ ঘিরে দীডাল। তারপর কালমাক দাসগন তাঁকে ভত্যা করল। ঢাল বাধার “ডি তার গলায লাগিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে তত্যা করা হল তাবপর সকলে তার বুকের ওপর চিপে তার ধরাশাধী দেহ থেকে দেয় নিঃশ্ব।সট্ুকু বার করে তাঁতেও সন্ত না হযে একটা! ছোরার আঘাতে তাঁর দেহকে সম তবিক্ষত তারপর পায়ে দডি বেঁধে তার দেহটাকে টেনে নিসে মমাট ফারুক- পতাপুত উষ্যেরই বাডী ও সম্পন্তি দিল। করা হল। সিয়রের তাখুর পামনে রাখা হল। বাছ্য়োপ্ত কর হল ।৯৮ তখত-এ-তাঁউসের তৃতীয দৃশ্যে নাটকীয় ঘটনা সব বাদ পছেছে। ভুলফিকর খার আশা ও হতাশার মাঝে) ২০শে জাম্য়ারী থেকে ৯১ই ফেব্রুয়ারীব ছীবন নাটকে দেখাবার যে শ্তযোগ ছিল তা নাট্যকার সম্পূর্ণ অবহেলা করেছেন। এমনকি বিচার দৃশ্যের সম্ভাবনাকে তিনি কাজে লাগাতে পারেন নি। বিশেষ জাহান্নার শাহের মৃত্যু বেখাঁনে বিশেষস্থ বজিত সেখানে জুলফিকর খার হত্যা দৃশ্য নাটকের উচ্চতম উত্তেজনা (0111188) হৃষ্টিতে সহায়ক হত। পরবর্তী দৃশ্যে স্কাহান্দার শাহর মৃত্যু নাটফের যোগ্য যবনিকা৷ হতে পারত । কিন্তু নাট্যকার এই দৃশ্যকে অতি সাধারণভাবে বর্ণনা করে তৎকালীন জিঘাংস! পরিতণ্থির এক চমৎকার উদাহরণ দে খাতে অক্ষম হয়েছেন । ২৪ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন। নাটকের চতুর্থ ও শেষ দৃশ্য যে সম্পূর্ণ কাল্পনিক একথা বলাই বাহুল্য । জুণফিকর খার হত্যার দিন রাত্রে ১৯ই ফেব্রুয়ারী ১৭১৩ খ্রীঃ ফারুকসিয়র জাহ।ন্দার শাহকে হত্যার হুকুম নিজের হাতে লিখে পাঠালেন । ঘাতকদের কষেদবরে ঢুকতে দেখেই লালকুঁষার চীৎকার করে উঠে জাহান্দার শাহকে জডিযে ধরলেন । লালকষারকে টেনে যখন সিঁড়ি দিষে নামান হচ্ছে তখন জাহান্নার শাহর গলা টিপে ধবা হল। বলিষ্ঠ এই ওরঙ্জজীব পৌত্র তাতে মরছে না দেখে ভারী জতো। পাষে মোগল সৈন্রা তার দেহের বিশেষ স্তানে ( অগ্ডকো -ব) লাথির পব লাথি মেরে ভাকে হত্য। করল | বাদশাহের এই বাভৎস মৃত্যুর বুঝি আব তুলশ। ভয় ন।। কিছুদিন পর এই একই ঘরে বাদশাহ ফারকসিষরকেও ভা! কর। হয। “২৮শে এপ্রিল, ১৭১৯ খ্রীঃ) হত্যার পর জল্লাদকে ডা হল । (সে আসতে অস্বীকার করলে হত্যাকারীরাই জাহান্দার শাহর মুণ্ডটা কেটে “ফেলল । তারপর কবন্ধ আর মুণ্ড| নিযে গিষে জুলফিকর খার দেহেব পাশে রাখ! হল । লাপকুঁঘারকে স্ভাগপুরার বেওমাখানাষ পাঠিয়ে দেওয| হল। মৃত বাদশাহের পরিবারদের জন্ক এই বিধবাঁভবনই ছিল থাকবার, একমাত স্থান । ১২ই করুযারী এক মিছিল বেরুল দিল্লীতে । প্রথম হাতির ওপর বর্ধাফলকে জাহান্দার শাহের কাট! মাথা দ্বিতীয হাতিতে তার কবন্ধ' ভতীয হাতিতে ভুলফিকর থার দেহ নীচের দিকে মাথ| করে হাতির লেগ্গে বাধা । চতুর্থ হাতিতে নুতন বাদশাহ ফারুকসিয়র । তিন দিন যমুনার বালির ওপর জাহান্নীর শাহ আর তার উদ্চিরের মৃতদেহ পড়ে থাকল। ১3ই ফেব্রুয়ারী দেওয়া হল কববস্থ করার আদেশ | ইতিমধ্যে আসাদ খার সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তাকে রাস্তায় বার করে দেওয। হযেছে ।*৯ তাই নিশ্চিন্ত মনে বলা চলে চতুর্থ দৃশ্য সম্পূর্ণ প্রক্ষিণ্তড ও কাল্ননিক। জাহান্নার শাহ কখনই জুলফিকর খাঁর মৃত্যু সংবাদ, আসাদ খাঁর ছূর্ভাগ্য ইত্যাদির কোন খবরই জানতে পারেননি । লালকু'য়ারকে তিনি জীবনের শেষ কয় বছর সমর্পণ করেছিলেন--কয়েদথানাতেও তার ব্যতিক্রম হয় নি। লালকুঁয়ার সরে যাবার পরই তার জীবনান্ত হোল । লালকুঁয়ারের অদ্ভূত চরিত্রের ও কোন নিদর্শন নাটকে নাই। বাদশাহীকে নিচের বশে পাওয়া, বিবাহ না কর! জাহান্দার শাহ ২৫ প্রধানা বেগম নিঃসন্দেহে এক নাটকীয় চরিত্র | এই নাটকে তাঁর কোন নিদশন নাই । জুলফিকর খা কয়েক বছরে অসামান্য বুদ্ধির বলে ক্ষমতা লাভ করলেন আবার বুদ্ধির দোষেই তাঁর পতন হোল । বিশ্বাসঘাতকতা করে তার জীবনে উন্নতি তরু হযেছিল, জাহান্দাব শাহকে ধরিয়ে দিযে "সাবার বিশ্বাসঘাত- কতাতেই তার পতন হোল । এই চরিত্রেরও কোন আভাষ নাটকে নাই । নাটকে জিন্নতউন্নিসা বেগমের প্রতি অত্যন্ত অন্যয কর! হযেছে । লালকু যাবে জন্যই তিনি জাভ!ন্দার শাহকে অপছন্দ করতেন । ভাহান্দার শাহ লালঝুযাবের প্ররোচনাতেই তার পিতৃম্বসার নিমন্্ণ উপেক্ষা করেন এবং তার খোভ খবব নেওয়া বন্ধ করেন। লালকুয়ার প্রকাশ্েই এই সন্মানিতা বুদ্ধার প্রতি অপমান- জনক ব্যবহার করতেন। তৃতীয় দৃশ্তে তৎকালীন ভারতবর্ষ সম্পর্কে বলা হযেছে (১) পাঞ্জাবে শিখ, আগ্রায় জাঠ ও সমস্ত হিন্দুস্থান জুড়ে মারাঠারা প্রবল হযে উঠেছে । এবং (২) “জমিদারদের বুবিয়ে দেব ঘে হিন্দুস্থানের সিংহাসনে জাহান্দার শার বদলে ফারুকসিয়র বসেছেন । রাজকোঁয ছুদ্রিনেই অর্থে পরিপূর্ণ হযে যাবে ॥ এই দুইটি উক্তিতে নাটাকার ভারত ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতার প্রকৃষ্ট প্রমাণ রেখেছেন। পাঞ্জাবে শিখ নবগঠিত শক্তিতে প্রবল হয়ে ওঠে ১৭৬১ খ্রীষ্টাব্দে পানি- পথের তৃতীয় যুদ্ধের পরে । তার অ।গে শিখশক্তির রাজনৈতিক প্রাতিষ্টা মুছে গিয়েছিল । বান্দ! বাহাদুরের মৃত্যুর পর শিখশক্তি বহুধা বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল । জাঠ রাজা স্থরজমল ও তার পুত্র জবাহির সিং ভরতপুরকে কেন্দ্র করে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করেন । ১৭৫৪ খ্রীষ্টাব্দ থেকেই স্বুরজমল বিখ্যাত যোদ্ধ। কিন্তু তৃতীয় পাশিপথের যুদ্ধের আগে আগ্রা এবং সমগ্র গাঙ্গেয দোয়াবে স্থরজগমলের ক্ষমত! অপ্রতিহত হয়নি । মারাঠা শক্তির উন্নতি স্বর ১৭২০ খ্রীষ্টাব্ৰ থেকে অর্থাৎ বাজীধাও পেশোয়া হবার পর থেকে । কিন্তু বাঁজীরাও এর জীবিতকাঁলে মারাঠা| শক্তি দাক্ষিণাত্যে বা বমুনার দক্ষিণ পারে সীমাবদ্ধ ছিল। বাজীরাও এর মৃত্যুর পর অর্থাৎ ১৭৪০ শ্রীষ্টাব্ধের পরে উত্তর, পূব ও পশ্চিম ভারতে মারাঠ। শক্তির প্রাহুর্ভাব ঘটে । সুতরাং ভারতের রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে উপরের উক্তি সম্পূর্ণভাবে ভূল । ১৭১৩ খ্ী: দিল্লীর প্রতুত্ব তখনও বজায় ছিল। বাংলা স্থবায় মুশিদকুলি খ| দিল্লীর বাদশাহকে মেনে চলতেন। নিজাম-উল-মুলুক ২৬ বাংল! এঁতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ তখনও শক্তিমান হযে দাক্ষিণাত্যে স্বাধীনতা ঘোষণা! করেন নি। পাঞ্জাব ও মুলতান তখনও সম্রাটের অধীন | একবছর আগেও জাহান্দার শাহ লঙ্কাভাগের মতো! অন্ত ছুই ভাইকে নিষে ভারতভাগের কল্পনা করেছেন। মারাঠা ছত্রপতি সাহু সবেমাত্র পেশোয়াব পদে বালাজী বিশ্বনাথকে নিযুক্ত করে মারাঠা শাসন- যন্ত্রকে এক অপূর্ব উৎসাহে উদ্ধদ্ধ করেছেন। আল্লাহবাদের নবাব সফদরজঙ্গ তখনও শিশু | নাদির শাহ ব। আহমদ শাহ আবদালীর মত দিপ্থিজয়ী যোদ্ধ। তখনও ভাবতবর্ষকে আক্রমণ করে লুগ্ঠন করেন নি। বাংলাষ ও স্্রাটে ইংরেজরা তখনও বংখবদ ভাল ছেলের মতো! ব্যবসা করছেন । এইবারে নাট্যকারের দ্িতীয উক্তি আলোচনা করা যাক। নাট্যকার থে মোগল রাষ্্রশীসন ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন এই উক্তিতে তারই প্রমাণ প1ওযাযাচ্ছে। মোগল শাসন প্রণালীতে সমগ্র দেশ কতকগুলি স্থবায় বিভক্ত ছিশ এবং প্রত্যেক স্থবাঁয় বাদশাহ নিধুক্ত একজন শাননকর্তা থাকতেন |ধেমন গবা বাংলার শ!সনকর্তা ছিলেন মুশিদকুলি খা । বাংল। বিহার ও উড়িস্তা নিয়ে এই সুব। গঠিত ছিল । অনেক সময সম্রাটপুত্র বা পৌত্ররা এই সব স্থবায শাসনকন্ত নিযুক্ত হতেন। বাদশাহ আলমগীরের রাজত্বের শেষদিকে তার তৃতীয় পুর আজমশাহ বাংলা সবার শাসনকর্তা হন। বাহার শাহ যখন বন্দশাহ হ"লন তথন তার ছ্োইপুর জাহান্দার শাহ মূলতান জুবায় শাসনকর্তা নিঘুক্ত হলেন এবং দিতীয় পুত্র আগ্রিম-উন-সান ( আসলে তৃতীয়পুত্র কারণ দ্বিতীয় শৈশবেই মারা ঘায ) বাংল| স্থবায় শাসনকর্তা নিধুক্ত হন। এই শাসন- কাদের উপর রাজন্ব আদায়ের ভার ছিল। তারা বিভিন্ন ভাবে রাজস্ব আপাষ করে সম্রাটের প্রাপ্য নিয়মিত সমাটের কাছে পাঠিয়ে দিতেন । ১৭২৭ খ্রীঃ খরচ। বাদ সমাট পেতেন বা'ধক একশত সাড়ে বিয়াল্লিশ লক্ষ সিক্কা টাক1। স্রতরাং জমিদারের কাছ থেকে বাঁজস্ব আদায়ের কথায় নাট্যকার বাংলা দেশের চিরস্থাষী বন্দোবস্তের কথাই চিন্তা করছেন সে বিষয়ে আর কোন সন্দেহ বাই । এখানেও তার রচনায় ইতিহাস অজ্ঞতার আর এক প্ররুই উদাহরণ পাঁওয়। যাচ্ছে। নাটকের প্রধান ছুই চরিত্র ক্তাহান্দার শাহ ও লালকুয়ারের মধ্যে যেমন এই “ইতিহাস বিরোধিতা স্পট তেমনি স্পষ্ট জিমতউন্সিসা বেগম ও বাদশাহ- জাদাদের চরিত্রে । জুলফিকর খ। চরিত্র স্ক্টতেও উন্নতির অবকাশ ছিল। জাহান্দার শাহ ২৭ তখৎ-এ-তাঁউস নাটক তাই বাংলাদেশের অনৈতিহাসিক নাটক সংখ্যা সংযোজন মাত্র । ইতিহাস অগ্নসরণে যে অপূর্ব নাটক এবং নৃতন ধরণের চরি- স্ষ্টি হতে পারত তা সম্পূর্ণ অবহেলিত | সামান নাটকের মতো কল্পনার জল- তরঙ্গ ক্ষণিকের এক ফামুষ তৈরী করেছে। পরিপূর্ণ ভীবাবেগ কল্পনাকে নিযক্ত্রিত করেছে । তাঁই তখৎ-এ-তাউস এক পাগল বাদশাহর গভীর প্রেমের উপন্তাস হযে থাকল তত্কালীন ভারতীষ রাজনীতিকে সামান্ততম প্রতিফলিত করল না । দেখা গেল রাজনৈতিক বা! এ্রতিভাসিক নাটক রচনার জন্য যে পরিশ্রম গ্রযোজন নাট্যকার ত| করতে পারেন নাই । সহজ করে ফেলেছেন এ&তিহাসিক ঘটনা । তাই নাটক হযেছে যেমন তরল তেমনি প্রযোজনহন । ফৃগচেতনার সন্ধিক্ষণের ঘটনা উপলক্ষ করে যে নাটক রচিত হযেছে তাঁতে নাট্যকারের অজ্ঞতাই প্রকাশ হযেছে। জাহান্দার শাহর রাল্ত্ব মোগল সাম্াজ্যের পতনের প্রাবস্ত । কযেক বছরের মধ্যে এই বিরাট সামাচ্য ডেঙ্গে ট্রকবো ট্রকরে! হযে যাবে । নাট্যকাব তার স্ষ্টির সম্ভাবনা কতো সুদূর গ্রসারী উপলদ্ধি করতে পারেন নাই, ভাই কোন বকমে কল্পনার ভিত্তিতে এক নাটক থাড! কবেছেন। তার এই ব্যর্থতা তাই বেদনাদাষক | এতিহাঁসিক নাটক লেখার জন্য আসরে নেমে এই অপারগতা অমার্জনীয় । জাহান্দার শাহ সম্পর্কে দ্বিতীয় নাটক প্রকাশিত হল তখৎএতাউস নাটকের তের বছর পরে । এই মাঁটক শিশির ভাডুড়ীর জাহান্নার শহ চরিত্রের অভিনয় দ্বারা অনুপ্রাণিত তা বুঝতে একটুও কছ হয না। শ্রীঅমল সরক'র ৩১শে জুলাই ১৯৬৪ খ্রীষ্টাব্দে তার মসনদে মোবল নাটক প্রকাশিত করেন। প্রথম অভিন্য রজনীব তারিখ দেওয়! হয়েছে ২২শে নভেম্বর ১৯৬৩ । রউমহল থিয়েটারে এক অপেশাদারী দল নাট্যকারের পরিচালনার এই নাটকের একমাত্র অভিনয় করেন । নাট্যকারের কৈফিযতে শ্রীঅমমল সরকার জানিয়েছেন যে ১লা জানুয়ারী থেকে ১লা মার্চ ১৯৬৩ দেওঘর ও কলকাতায় এই নাটকরচনা করেন। নাট্যকার জানিয়েছেন যে, মোঘল ইতিহাস পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন যে, মোঘল বংশে অনেকে কবি ছিলেন তাই কাব্যের দিক ও প্রেমের দিকেই বেনী দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে । ' এই যাঁজ্রাধ্মী নাটকটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট শ্রেণীর |, সাহিত্য ব| ইতিহাস কোন" ২৮ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা গুণই নাটককে অলঙ্কত করতে পারেনি । তাই বাংলা নাটকের ইতিহাসে কেধলমাত্র জাহান্দর শাহ সম্পর্কে ছিতীয় নাটক বলে উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে । তবে আচাধ শিশিরকুমারের অভিনয় এক কল্পনাপ্রবণ বাঙ্গালীর মনে কি ভাবে জাল বুনেছে তার উদাহরণ স্ববপ এই নাটক সম্পর্কে কয়েকটি কথ। বলতে হবে | মসনদে মোঘল নাটকের গল্লাংশ যেমন অসম্ভব তেমনি আজগুবি । জাতান্দার শাহ নামে এক নবীন বুবক দিল্লীর বাদশা হয়েছেন এবং লালকুমারী নামে এক "হন্দু নর্কীর প্রেমে পড়েছেন । এই কারণ দেখিয়ে নাট্যকার মুসলমান আমীরদের বাদশাহর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ হৃষ্টি করেছেন। এই বিদ্বেষ- বশেই তারা পাটন। থেকে জাহান্নার খাতের ভাইপো ফাঁরুকসিয়রকে ডেকে আনলেন এবং প্রথম অঙ্গের শেষে ফাঁরুকসিয়র হাৎ দিল্লী এসে জাহান্দার শাহকে বদ করপেন। এই ঘটনার প্রতিশোধ নেবার জন্য লালকুমারী নাটকের শেষ দৃশ্টে ফারুকসিষরকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেললেন। দ্বিতীয় ও তৃতীষ অঙ্কে এক স্ত্রী থাকা সন্বেও সামাজ্য পরিচালনার প্রয়োজনে এক হিশ রাজ- কুমারীকে ফারুকসিষরের সঙ্গে বিষে দেওয়া হয়েছে । ছুই স্ত্রীর মাঝখানে দৌছুল্যমান ফাকুকনিষরের মুত যে কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তির হান্তোদ্রেক করবে । নাটকের শেষ দূঠ্যে লালকেল্লার “কারাগারে? বন্দী ফারুকসিয়রের কথাবার্তা বুদ্ধি্ীনতার আর এক চিহ্ৃ। পুনরায় কারাগারের মধে) পানপাত্র হাতে লালকুষারীর প্রবেশ এবং বিষদানে ফারুকসিয়রকে হত্যা নাটককে চর অসম্ভাব্যতা দিয়েছে । উপরোক্ত ঘটনাগুলি নাটকের একমাত্র উপজীব্য নয়, তার মধ্যে মুশিদকুলি খাঁকে আনা হয়েছে, তার যোগ্য সেনাপতির অভাব থাকায় তার কন্তা জ্িন্নৎ- উন্নিসা “বাংলার সৈন্দল' দিয়ে ফারুকসিয়রের বিরাট বাহিনীকে হারিয়ে দ্িলেন। তারপর তিনিও ছুই প্রেমিকের মাঝে দোছুল্যমান হলেন। এই এজমের বহু অসম্ভব কল্পনায় নাটক কণ্টকিত। "মসনদে মোঘল" ক্র্টক তিন অঙ্কে সমাপ্ত | সমগ্র নাটকের পাতা দংখ্যা ১২১4-১০-১৩১৯। নাটক এ্তিহাঁসিক কাল নিয়ে লেখ! হলেও কয়েকটা এ্রতিহাসিক নাম ছাড়া আর সব বকমেই নাটক ইতিহাসের সম্পর্ক এড়িয়ে জাহ!ন্দার শাহ ২৯ চলেছে। জাহান্দার শাহ যখন দিল্লীর বাদশা! হলেন তখন তিনি শ্রমিক যুবক ছিলেন না। আর লালকুয়ার যাকে তিনি বিবাহ না করে প্রশ্বানা বেগমের সম্মানে ভূষিত করেছিলেন নাম দিয়েছিলেন ইমতিয়াজ মল তিনিও এক অবল! নারী ছিলেন ন|। এই প্রবন্ধের প্রথমে তখৎ-এ-তাঁউস ন:টকটির সমালোচনা করবার সময তাদের সম্পর্কে বথেই বলা হয়েছে । স্তরাং তার পুনরুল্লেখ নিশ্রযোজন। ফারুকসিয়র লালকু'যারকে কোন অসম্মান করেন নি। বরঞ্চ তাকে মৃত বাদশাহদের বেগমরা যে বাড়িতে থাকতেন সেখানেই জাহান্দার শাহকে হত্যার পর উপধূক্ত সম্মানে পাঠিয়ে দিষেছেন । এই স্থানটি ছিল স্থহাগপুরে নাম ছিল বেওয়াখান! । সেখান থেকে লালকুয়ার কখনও বাইরে এসেছেন বলে জানা ধায় না। কারণ বাদশাহের বিধবাদের এই গৃহ কষেদথানারই নামান্তর ছিল মাত্র । ফারুকসিষরের মৃত্যু হয় সম্পূর্ণভাবে সৈযাদ ভ্রাতৃদষের চক্রান্তে । ১১ই ফেব্রুয়ারী, ১৭১৩ জাহান্দার শাহের মৃত্যু হষ বন্দীশালার বে ঘরে সেই ঘরেই ২৮শে এপ্রিল, ১৭১৯ ফাঁরুকনসিযরকে হত্যা করা হয়। একদিক থেকে জাহান্দার শাহের থেকেও চরম ঢুরবস্থা ফারুক" [সযরকে ভোগ করতে হয় ! বাদশাহী থেকে চ্যুত করে সৈয়দ ভ্রাতঘ্য় তাঁকে অন্ধ করে দেন এবং অন্ধ অবস্থাষ দীর্ঘ বন্দীজীবন যাপন করার পর ফারুক- সিয়রকে হত্যা করা হয। এঁদের দ্জনের হত্যাকাগ্ডই অত্যন্থ বিভৎসভাবে সংঘটিত হয়। নাটাকারের এই সব কথা জানবার অবকাশ হয নি। আগামী দিনের দিল্লীর উজীর আল্লাহবাদের নবাব সফর্দারজঙ্গ তখন বালক হলেও নাট্যকার তাকে এক তোঁত্ল। সভাসদ সাঁজয়ে তাকে দিয়ে ভড়ামো। করিয়েছেন | চিন- কিলিচ খ|। তখনও হায়দ্রাবাদে নিজামীর পত্তন করেন নাই । নাট্যকার ইতিহাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ হয়ে তাকে হায়দ্রাবাদের নিজাম বানিয়েছেন । জুলফিকর খা হয়েছেন জাহান্দীর শাহর অতি বৃদ্ধ উজীর। ডাক্তার হামিলটন পাচ্ছেন বাংলায় ও মা্রাঞ্জে বিনা শুক্ষে বাণিজ্য করার অধিকার । মীরভূমলা তখনও বেচে রয়েছেন। মুশিদকুলি খাঁ সম্পর্কে নাট্যকার বে ইতিহাস জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন তা স্কুলের ছানত্রকেও বিব্রত করবৈ। শিখ মারাঠা জাঠ রাজপুত সম্পর্কে নাট্যকার যে তুল করেছেন তার রন্টে ৩০ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা প্রেমাঙ্কুর আতথীর তখৎ-এ-তাউস নাটক কিয়দংশে দায়ী । জাহান্দার শাহ থেকে ফারুকদিযর অর্থাৎ ১৭১২ থেকে ১৭২০ সমযের মধ্যে এই তিন শক্তি কি রকম ছিল তা 'আগের নাটকের সঙ্গে আলোচনা! কৰা হযেছে । তখৎএ-তাউসে জিন্নতউন্নিসলা বাদশাহ গুরঙ্গজীবের কন্তা এই নাটকে গ্িিন্নতউন্নিসা নাম ব্যবহার করে তাকে করা হযেছে মুশিদকুলি খার কন্তা। সব থেকে ঢঃখের কথা এই যে, নাট্যকাব কেবল ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ নন থে মুসলমান সমাজ সম্পর্কে তিনি নাটক লিখতে বসেছেন সে সম্পকে তার মূর্খতা অমার্জনীয় । আরও অনেক হিনু নাট্যকার- দেব মতো হিন্দু চরিত্রে মুনলমান নাম বসিষে নাটক রচনার লোভ নাট্যকার বর্জন করতে পাবেন নি। সবে মালষে বল! চলে ঘে নাট্যকার তখৎ-এ- তাউসের অভিনযে মুগ্ধ হযে নিজের কপোল কল্পনায় এই নাটক রচন৷ করেছেন । বন্ধুবান্ধবদের দিযে এই নাটক অঙিনয করিষে জনসাধারণের সামনে প্রচাব কবেছেন। অথচ জামাহ্টিতম ইতিহাস পাঠ করবার পবিশ্রম তিনি করেছেন এমন প্রমাণ কোথাও নাই । তা সত্বেও এই আজপগুবী এবং দুর্বল রচনাকে ইতিহাসিক নাটক 'াখ্যা দিয়ে মিখ্যাচার করতে দিধা কবেন নি। মিথ্যাচারেব আরও নিদর্শন আছে । নাট্যকার কৈফিয়তে বলেছেন । প্তখৎ-এ-তাউস নাটক দেখবা বা পড়বার সৌভাগা আমাব হয় নি।” অথচ তার প্রতিটি ভুল তখৎ-এ-তাউসের অন্তগামী । তিনি যে মোঘল সভাসদগণ্বে নাম ব্যবহার করেছেন সেখানেও একই ভূল দেখে তার কীতি সম্পর্কে কোন সন্দেহেব অবকাশ থাকে না। নাট্যকার যদি মনে রাখতেন থে, লালঝুঁয়ারকে লালকুমারী লিখলেই সকলে তার রচনাকে মৌলিক বলে মনে করতে সুরু করবে তাহলে এই কথাই তাকে শুনতে হবে থে, প্রতারকদের ধরে ফেলা সানিত্য ক্ষেত্রে কিছু কঠিন কাজ নয । বিশেষ সেই প্রতারক যদ্দি "তার পর্বত- প্রমাণ অজ্ঞত,কে চালাকী বলে মনে করে নিজে তুবু দ্ধিকে মুর্খতার ভালে সীমাঁব্ধ করেন তাহলে তাকে ধরে ফেলতে কোঁন কষ্টই করতে হয় না । অমল সরকারের “মসনদে মোঘল” নাটক কোন রকম উল্লেখের দাবী রাখেনা এ কথা আগেই বল! হয়েছে । কিছু বাঙাল্গী নাটযকারদের মধ্যে মাঝে মাঝে নানা রকমের অসৎকী/ত দেখ| যাঁয়। বিদেশী নাটক থেকে জাহান্দার শাহ ৩৯ অন্থবাদ করে অর্বীকার করা যেমন তাঁর একদিন অন্ঠের নাটকের প্রভাবে বচনা করে সেটিকে সম্পূর্ণ অন্বীকার করা আব এক দিক । “মসনদে মোঘল নাটক এই দ্বিতীষ শ্রেণীর অপকীতির একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ । প্রতিহাসিক নাটক হিসেবে মসনদে মৌঘলেব কোন দীবী নাই। কত রকমের পরিবেশে ধতিহাসিক নামধেষ নাটকের জন্ম হয় তাই দেখাবার জন্য এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা! করা হল। সূত্রনির্দেশ ১1191 11179, 18191 1/001915, ৬০1 1, 90. . 1. 58181 ঢ ঢ চ 7 ৭। আতশুতৌষ ভট্টাচার্য্য : বাংল! নাট্য পাতা ৬৩৭ । ৮। 11179 : 18191 1৬101011815 ৬০ | 10, ২ 1010 ৩ 1010 ৪1 1010 ৫1 1010 ৬। 11010 ৯। 1010 ১০। 1010 ১১। 1010 [). 0. 0, 0০. ০-6 158-161 161. 175. 179-183 € 146 183-155,. সাহিত্যের ভূমিকা ; পরিশিষ্ট 240-243 193 181 192-193 ১২। 11179 : 1901 111017815 ০11 2. 195 ১৩। 17109 7 1861 18081705 ৬০110. 192-197 ২৩৭) ১৪। ১৫। ১৬। ১৭। ১৮] ১৯। 111759 : 1-9151 181917915৬০ 11১. 0. 11010 11019 1010 11010 1010 নাতি বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। 223-225 229-236 236-238 236-240 244-253 254-258 নাদির শাহ নাদির শাহ ভারত আক্রমণ করেন ১৭৩৯ শ্রীষ্টাব্বে। দাবানলের মতো পারশ্ত নরপাতি আফগানিস্থান থেকে দিল্লী পর্যান্ত অধিকার বিস্তার করে শ্বয়ং মোগল সম্রাট মহম্মদ শাহকে বন্দী করেন। ভারতবাসী সবিশ্ময়ে এই ছুবস্ত দিগ্বিজধীর কীতিকলাপ অনুসরণ করতে লাগল । প্রচণ্ড বিক্রমে মোগল সম্বাটের বিরাট বাহিনীব পরাজয়, দিল্লীতে শাহনশাহ নাদির শাহের সিংহাসনে আরোহন এবং দিল্লী ও তাঁর চতুপার্খস্থ জনসাধাবণকে অমানুষিক অত্যাচারে হত্য! কবে তাদের এশ্বর্ধ্য লুন, ভারতীয় জনগণ স্তস্তিত হযে দেখেছে । ভারত সম্রাট শাহানশাহ নাদির শাহের আদেশে আফগানিস্থান থেকে সুবা বাংলা পর্য্যন্ত সর্বত্র তার নামে মুদ্রা অঙ্কিত হযেছে । অবশেষে ভারত ত্যাগের সময় তিনি মহম্মদ শাহকে ভারতের সমাট নিযুক্ত করেন। তীকে পারশ্ব রাজের করদ ও মিত্র রাঁজী বলেই গণ্য করা হযেছিল। মোগল মহিমা অন্তমিত হয়ে মোগল ভাবত পারশ্ঠ প্রস্থনের পদানভ হযেছিল। প্রীষ বিনা প্রতিবন্ধকতায় নাদিবশাহেব ভারত জ্ষ ?নঃসন্দেহে জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। নাদিবশাহেব নিদারুণ নৃশংসতার কাহিনী সমস্ত কল্পনাকে কণ্টকিত করে রাখে। দিল্লীর এই পরাজষ একাধারে নাটকীষ এবং করুণপ। বাংল! সাহিত্যের নাট্যরচনার উপাদান হিসাবে নাদির শাহের ভারত বিজষেব ঘটন। অত্যন্ত সম্তাবনাপূর্ণ। নাদির শাহের জীবন অন্সরণে দুইটি নাটক এ পর্যস্ত বাংলা নাট্যসাহিত্যে পাওয়া গেছে । ১৯২২ শ্রীষ্টাব্বে (১০ই পৌষ ১৩২৮) বরদাপ্রসন্গ দাসগুধ প্রণীত 'নাদির শাহ বা শয়তানের স্বপ্ন প্রকাশিত হয় ও ১৯২৮ শ্ীষ্টাবের ডিসেম্বর মাসে (২৮শে অগ্রহায়ণ ১৩৭৫ ) যোগেশ চক্র চৌধুরী রচিত “দিখ্বিজধী” নাটক প্রকাশিত হয়। নাট্যকারের নিবেদন থেকে আমরা জানতে পারি যে উদ্ধয় নাটকই পেশাদার মঞ্চে অভিনীত হয়েছে। 'নাদির শাহ মিনার্ভা নাটমঞ্চে অভিনীত হয়েছে এবং “বহুল অর্থ ব্যায় ও পরিশ্রম ত্বীকার করিয়া” মিনার্তী থিয়েটারের সত্বাধিকারী উপেন্্র কুমার মিত্র শ্রবং নাট্যকারের বন্ধু সতীশ চক্র দিত্র কৃতজতা ভাঁজন হয়েছেল। অভিনয়ে নাদির ৩৪ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমাঁলোচন। শাহের ভূমিকায় ঠাছু বাবু বেগম-ম্থণীলা ও আকবরী-চারুশীল! উল্লিখিত হয়েছেন।৯ অভিনয়ের কাল ১৯২১ শ্রীষ্টাব্ব। ভূপেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেলোর কীত্তির পরে এবং রাধিকানন্দ মুখোপাধ্যায় ও নরেশ চন্দ্র মিত্র অভিনীত চন্দ্রগুপ্ত ও সাজাহান নাটকছয়ের অব্যবহিত পূর্বে নাদির শাহের অভিনয় হয়।২ ১৯২২ শ্রীষ্টাব্ের ১৮ই অক্টোবর মিনার্ভা থিয়েটার আগ্তনে পুড়ে ভন্দ্ীভূত হয়ে যায় ।৩ “দিশ্বিজয়ী' নাট্যমন্দিরে প্রথম অভিনীত হয় ১৪ই ভিসেম্বর ১৯২৮।৪ উৎসর্গ পত্রে নাট্যকার নাটকের পরিচালক ও প্রধান অভিনেতা শিশিরকুমার ভাদুড়ীকে লিখেছেন, “এ নাটক আপনিই লিখতে বলেছিলেন নামকরণেও আপনার ইঙ্গিত ছিল।......আপনি স্বেচ্ছায় এর পোষণ ও পালনের ভার নিয়ে একে স্বাস্থ্যবান, সতেজ ও জীবন রস মণ্ডিত করে তুলেছেন। সুতরাং নাটকথানার উপর আপনার অধিকার আমার চেয়ে একটুও কম নয়।, অভিনয়ে নাদির শাহের ভূমিকায় শিশির কুমার ভাছুড়ী ছাড়া নাট্যকার স্বয়ং, শৈলেন চৌধুরী, জীবন গাঙ্গুলী, অমলেন্দু লাহিড়ী, বিশ্বনাথ ভাছুড়ী, রবি রায়, হরিহুন্দরী, চারুশীলা, কষ্ণভামিনী প্রভৃতি তৎকালীন শিশির সম্প্রদায়ের সব অভিনেতা ও অভিনেত্রী অংশ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ১৫ই ডিসেম্বর ১৯২৮ ্বষ্টাব্ মনোমোহন থিয়েটারে নিশিকাস্ত বস্ুরায় রচিত পথের শেষে নাটকের উদ্বোধন হয়। এই নাটকের ভূমিকালিপিতে দানী বাবু (স্থরেন্্র নাথ ঘোষ ) স্বয়ং সঙ্গে নূতন ষুগের অভিনেতৃকৃল নির্মলেন্দু লাহিষ্ঠী, সরযূবালা। প্রভৃতি অপূর্ব অভিনয় করায় দিখ্বিজয়ীর অভিনয় প্লান হয়ে যায়।৫ সম্ভবত সামাজিক নাটক পথের শেষে, বাঙ্গালী দর্শক মনে বিদেশী পরশ্বাপহারী নাদির শাহের থেকে বেশী প্রভাব বিস্তার করে । ভাবালুতায় আবেগণীল নাট্যামোদিগণ বাঙ্গালী বৃদ্ধ পিতার ছুঃখে সমব্যাথী হয়েছেন। দিগ্থিজয়ীর চমক তাঁদের মনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি। দিপ্বিজয়ী হয়েও নাদিরশাহ তাই পরাজিত হলেন খক রুক্দ কঠোর বৃদ্ধ বাঙালী পিতার কাছে। বস্তত বাংলা ধরতিহাসিক হাছু বাবু _খ্যাতনাম! অভিনেতা মন্সথ নাথ পাল মৃত্যু ৯ই যার ১৯৪৪ নিজেরে হারায়ে খুঁজি, অধীন চৌধুরী, '্সমৃত ২১শে আগষ্ট ১৯৭০। নাদির শাহ ৩৫ নাটকের ক্ষেত্রে বারবার এই কাহিনীর পুর্নরুল্লেখ দেখতে পাব। প্রতি পদক্ষেপে শোনাতে হবে ভাবালুতার কাছে বুদ্ধি বা সত্যের হেরে যাবার সংবাদ। হৃদযাবেগ বাংলা থিয়েটারে এমন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়েছে যে যুক্তি তর্ক বা চিশ্বা দীর্ঘদিন বাংল! নাট্যসাহিত্যের কাছাকাছি আসতে পারেনি এবং যার ফলে সাহিত্য সমালো5কগণ সেদিন পর্যযন্থ বাংলা নাটককে সাহিত্যের পূর্ণ মর্যাদা দিতে রাজী হন নি। আলোচ্য নাটক ছুটির মুখপত্রে উভষ নাট্যকার ইতিহাসকে নাটকের মুখ্য বস্ত হিসাবে ব্যবহারের কথ! জানিয়েছেন । বরদাপ্রসন্ন দাসগুপ্ত লিখেছেন “আমি গ্রাস পাইযাছি আমার যতদূর সাধ্য ইতিহাসকে অক্ষুন্ন রাখিয়া সেই চরিত্র (অর্থাৎ নাদির শাহের) অঙ্কিত করিতে |” “ইতিহাসকে অক্ষুন্ন রাখিয়া” কথাগুলির তলায় কাঁল দাগ দিয়ে ছাপা বইতেও তার ইতিহাস প্রীতির কথা বুঝিয়েছেন । নাটাকার প্রথমেই জানিষেছেন, “ইতিহাস প্রসিদ্ধ “নাদির শাহের” চরিত্র একটি প্রহেলিক1।” একটু পরে লিখেছেন, আমি মনোবিজ্ঞানে পণ্ডিত নই । এরূপ একটা! দুরূহ কার্যযময় জীবন__যাহ! এককালে এশিষার ইতিহাসে যুগান্তর উপস্থিত করিয়াছিল, যাহ! পারশ্ঠের জাতীয় জীবনে নবধুগের প্রবর্তন করিযাছিল আবার যাহার রক্তাক্ত স্বতি বহুকাল পর্যন্ত এশিয়ার দক্ষিনার্দে একটা বিভীষিকায় পারণত হইযাছিল-_তাহাঁকে পরিশ্ফুট করিতে যাইযা আমাকে শষতানের অবতারনা করিতে হইযাঁছে।” এই বক্তব্যের সমালোচনার আগে নাট্যক[রের উদ্দেশ্ট দেখা কর্তব্য । বরদাপ্রসন্ন বলেছেন, “নাদিরশাহ” খ্রতিহাসিক নাটক-_অর্থাৎ ইতিহাসের ভিত্তির উপর ইহার পল্পাংশ গর্ধিত। “ইতিহাস ইহার ভিত্তি,_অবলম্বন সার্বজনীন ধর্ম, একমাত্র যাহাকে আশ্রয় করিয়া সকল জাতি সকল সমাজ দীড়াইতে সমর্থ হয়: ূরবপক্ষ সেই বিরাট সমস্তা যাহা যুগে যুগে মানবের চিন্তাশক্তিকে আলোড়িত করিয়াছে-_“ঈশ্বরোহন্তি ন বা,” উত্তরপক্ষ সেই চরাচরের একমাত্র ঞ্রবসত্য |, ক্ুতরাঁং তিনটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়েছে--( এক ) নাটক এতিহালিক, (ছই) নাদির শাহ চরিত্র প্রহেলিকা ও (তিন) ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে »পরশ্ন তুলে তিনিই যে একমাত্র ঞ্বসত্য প্রমাণ করা' এবং সেই অঁন্েই শয়তান ভরিতের অবতারনা এবং নাটকের, ছিতীয় নাম “শয়তানের স্বর | ৩৬ বাংল! এরতিহামিক নাটক সমালোচন। নাটক সম্পর্কে বিশদ আপোচনাব সময দেখা যাবে যে বস্তুত এই তৃতীয় উদ্দেশ্যই নাটকের মূল বক্তব্য এবং শষতানেব স্বপ্নই নাটকেব সার্থক নামকবণ। নাদির শাহর চরিত্রকে নাট্যকার কেন 'প্রহেলিকা* বলে বর্ণনা কবেছেন তা বোঝা দুষ্চব। এশিষাব ইতিহাসে কোন ধুগান্তকাবী কাঁজেব জন্য নাদিব- শাহেব সাধুবাদ প্রাপ্য তাও নাটকেব কোথাও উল্লেখ কৰা হযনি। প"রশ্ঠেব জাতীয জীবনে কেমন করে নাদিবশাহ নবযুগেব প্রবর্তন করেছিলেন তাঁৰ কোন আভাষ নাটকে দেখা যাষ না। এশিযাব দক্ষিণার্ধে তীব নাম যে বিভীষিকাষ পরিণত হযেছিল একথা তুল । উত্তৰ ভাবত ও মধ্য এশিযা মাত্র তাব অত্যাচাব অন্তভব কবেছে।৬ দিল্লী ছাডা আব কোথাও ব্যাপক হত্যাকা হযেছে বলে জানা যায না, নাটকেব মধ্যেও স বকমেব কোন আভাষ নাই। নাদিবশাহ সুন্নী সম্প্রদাষ ভুক্ত মুসলমান ছিলেন। তিনি কখন স্বধর্ম ত্যাগ করেননি হ্ুতবাং নাট্যকাব কেন ত'কে ঈশ্ববের অন্তিত্বে অবিশ্বাসী বলাব চেষ্টা করেছেন তা বেবী বায না । ববঞ্চ ভাবত ত্যাগের অব্যবহিত পূর্বে নিজ কনিষ্ঠ পুত্রেব সঙ্গে একজন বাদশাহী মোগল বংশের বাজকুষাবীব বিবাহ চিবাচরিত বক্ষণণীল মুসলমান মতেই অত হয |? দেখা যাচ্ছে যে নিবেদনে নাট্যকার যা বলেছেন নাটকেব মধ্যে তা বলতে পাবেননি। সুতরাং এবাব “ন'দ্িবশাহ ব! শয়তাঁনের স্বপ্ন নাটকটিকে বিশদ ভাবে পৰীক্ষা! কর। প্রয়োজন । নাটক পাঁচ অঙ্কে বিভক্ত । নাটকের স্ুুরুতে প্রস্তাবনা! দৃশ্য শযতানেব দরবার । শয়তান তার চরদের পৃথিবীতে পাঠাচ্ছেন উদ্দেশ্ত--শয়তানেব ভাঁষায “ঈশ্বরকে তার উচ্চ আসন হতে যেমন করে পার টেনে নাবিয়ে দেবে প্রথম অঙ্কে পাঁচটি দৃশ্ব, দ্বিতীয় অন্কে আটটি দৃশ্য, তৃতীয় অঙ্কে সাতটি দৃশ্ঠ, চতুর্থ অঙ্কে নয়টি দৃশ্য এবং পঞ্চম অঙ্কে সাতটি দৃশ্য । প্রথম হতে চতুর্থ অঙ্কের প্রথম দৃশ্ঠ পর্য্যন্ত পারস্তের ঘটনাবলী, চতুর্থ অঙ্ক দ্বিতীয় দৃশ্য থেকে নবম দৃষ্ঠ পণ্যন্ত (মাঝে সপ্ুম দৃশ্য আবার পাবস্ত ) ভারতবর্ষে সীমাবদ্ধ, পঞ্চম মক আবার পারস্তে। নাট্যকার ইরান ও পারস্য উভয নাম ব্যবহার করায় এঁতিহাসিক কাল নির্ণয় করার অন্ুবিধা হয়। নাদিরশাহের সময় পারস্ত নায়েই দেশের পরিচিতি ছিল। নাদির শাহ ৩৭ সংক্ষেপে নাটকের সারাংশ হল--তাহামাস কাজভীনের সুলতান, অত্যন্ত দুর্বল চরিত্র, ইন্দ্রিয়াশক্ত, কুক্রিয়ামগ্ন এবং কুকর্মী' পরিবৃত। তার বৃদ্ধ পিত। শাহ হুসেন আফগান দেশে বন্দী এবং তার বৃদ্ধ মাতা বাদীর ছদ্মবেশে বৃদ্ধ স্বামীর নিকটই থাকেন। পিতামাতাকে উদ্ধারের চেষ্টা না কবে স্থলতান ক্রীলোৌক উপভোগে মগ্ন এবং এই কাঁজে তাব প্রধান সহায় সেনাপতি সৈফুদ্দিন। নাদির শাহর পিতাব নামকরণ হযেছে জুলফিকর খা এবং ভগিনী নৃব কাঁজভীনেব শ্রেষ্ট স্ন্দরী । স্তবাং স্থলতানের আদেশে নূর অপহৃতা ও জুলফিকব বন্দী হলেন। তাবপব সতীত্ব রক্ষাব জন্য জুলফিকর কন্তাকে গুলি কবলেন এবং সৈফুদ্দিনকে অভিশাপ দ্িষে নিজেও আত্মহত্যা করলেন । প্রথম অঙ্ক অবসিত হল। নাদ্িরকে নান। পবোপকাবে রত দেখা যায়। তারপর শষতান উপস্থিত হলেন ও সব কাজে নাদ্দিরকে সাহাষ্য করতে প্রতিশ্রুত হলেন । ফলে সগ্য মুত স্বামীর বক্ষ থেকে রূপসী আঁকবরী অপহ্বতা হয়ে নাদ্দিবের অন্কশাযিনী হলেন । আহম্মদ শাহ আবদালী এক দুপ্ধর্য যোদ্ধা। শষতানী ক্ষমতা সম্পন্ন নার্দিরের কাছে পবাজিত হযে আর দাসত্ব স্বীকার করলেন। তাহা মাস সুলতান নাদ্িবকে প্রধান সেনাপতি পদে বরণ করলেন। এই হল দ্বিতীষ অঙ্ক। তৃতীয় অঙ্কে হঠাৎ স্থলতানের পিতামাতার জন্তে অনুশোচনা! জেগে উঠল ফলে নাদির আফগান দেশে অভিযান করলেন। অবশেষে বিজ্যী স্থলতাঁন বন্দীশালাষ 'এসে দেখলেন পরাজিত শক্র পিতাকে হত্যা করেছে এবং সে খবর দেবার পরই মাতাও দেহ রক্ষা করলেন। স্থলতাঁন অত্যন্ত ব্যাকুল হলেন এবং নাদিরের মৃত্যুপথযাত্রী পিতার (প্রথম অঙ্ক) অভিশাপ স্মরণ করে তিনি ফকিরি নিলেন এবং নাদির সুলতান হতে অস্বীকূত হলেও তাহামাসের শিশুপুত্রের নামে সাম্রাজ্য শাসন করতে রাজী হলেন। কিন্ত ছুই দৃশ্য পরেই শিশু স্থবলতান আব্বাসের মৃত্যু সংবাদ ও নাদিরের পারশ্য সুলতান হবার খবর দেওয়। হয়েছে । অস্কের শেষে নাদদিরের মুখে সংলাপ, ধোদা? কে থোদ?- কোথায় খোদা? খোদা নাই। আজ হতে আমিই খোদা-_এই পৃথিবীতে আমিই সর্বশক্ষিষান অগদিশ্বর -আমি-_-আমি-আঘদি--শাহান-শা-বাদশ! নাদিরশ।।” চতুর্থ অঙ্কের প্রথম ও সগ্ুম দৃশ্ঠ পারহ্থে, অগ্রগুলি ভারত অভিযান বিষয়ক । ভারতবর্ষের সাতটি দৃশ্ত বিশেষ অন্ধাবমের দাবী রাখে। ঘিতীয় দৃশ্য দিল্লীর উপকণ্ঠ ৩৮ বাংলা এঁতিহাঁসিক নাটক সমালোচনা রাজপথ । মূল বক্তব্য শয়তানের বিরুদ্ধে ঈশ্বরের দূত মোল্লাবাসীর সাবধান- বানী এবং মোগল সৈনিক ইব্রাহিম ও দিল্লীর বাদশ] মহম্মদ শাহকে পালিষে যাবার নির্দেশ দেওয়া । গৌণ উদ্দেশ্য নাদিরশাহ দিল্লীর পথে যাত্রা সুর করেছেন এবং সেই খবর পেয়ে সাধারণের পলাষন সংবাদ দর্শককে জানান । তৃতীয় দৃশ্য-_দিল্লীর রাজকক্ষ__চিন্তাকৃল বাদশাহ মহম্মদ শাহ। চিন্তায় কার্যে অক্ষম বুদ্ধ মহম্মদ শাহ বলছেন-__-'আমি এই নির্জন অন্ধকারময় দিল্লীর রংমহলে হতভাগিনী কন্ঠাকে নিয়ে দিপ্থিজষী শয়তান নাদির শাহের আগমন প্রতিক্ষা করি। মনে হয় নাদির শাহের বিজয অভিযানের খবর পেষে দিল্লীর বাদশাত জডবস্ততে রূপান্তরিত হয়েছেন এবং লালকেল্লার সব আলো নিভিযে দিয়ে অন্ধকারে প্রাণভয়ে ভীত জানোয়ারের মতো বিচবণ করছেন । চতুর্থ দৃশ্য, কর্নাল__নাদিরেব শিবির । প্রথমেই অসহ্থ গোলামী সম্পর্কে আহম্মদ আবদালীর স্বগোতক্তি। তারপর নাঁদিরের আম্ফালন। যৃপকান্টে নীত মেষ শাবকের মতো! দিল্লীর বাদশাহর প্রবেশ ও নাদিরের আন্তিগত্য গ্রহণ । কোহিনূর হীরক দেখে নাদির শাহের লোভ এবং মহম্মদ শাহর বিশ্রামের ব্যবস্থা করে, আঁবদালীর কাছে মযুর সিংহাসনের লোভও ব্যক্ত করা। এই দৃশ্যেই নাদির সৈন্যদের বথেচ্ছ লুনের আদেশ ভারি করছেন। পঞ্চম দৃশ্য অতি সংঘাতপূর্ণ দরবার কক্ষ । নাদির শাহকে মহম্মদ শাহ মযূর সিংহাসন দেখান মাত্র তিনি সেটা কেড়ে নিলেন। তারপর মহন্মদ শাহকে কন্তা পরিবান্তর সঙ্গে আহম্মদ আবদালশীর বিবাহের প্রস্তাব করলেন। মহম্মদ বিনীত ভাবে নাদিরের “পালিত পুত্র” শাহজাদা রেঙ্গাকুলি খাঁর সঙ্গে বাদশা কন্যার বিবাহ প্রস্তাব করামাত্র তা অনহমোদিত হল। অদ্িখিবৎসল মহম্মদ শাহর কোন আপত্তি ধখন নাদির শাহ বিবেচনা করলেন না তখন পরিবান্ নাদিরের সামনে আত্মহত্যা করলেন। চতুর্থ দৃশ্টের কোন নাম নেই-_ সম্ভবত দিলীর রাজপথ | এটি তরল দৃশ্ঠ । হকিম, দর্জি, আতরওয়ালা, জহুরী প্রভৃতি এই দৃশ্যের কুশীলব। নাদির শাহের মৃত্যু হওয়ার গুজব কেমন করে চা:। হুল সেটা বলাই নাট্যকারের মূল উদ্দেশ্য । নাদিরের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে দিল্লীর নাগরিকগণ পারস্য সৈশ্যদের হত্যা করতে লাগল । অষ্টম দৃশ্ঠ-_দিল্লীর প্রসাদকক্ষ । নাদিরের বিজয় লালসার আঁভাষ দেওয়া হয়েছে। নাদির বলছেন-“আন্দোলী, দাষাস্কাস, বোগাদ, ইহুদির দেশ, আর্মানীর ভূমি, নাদির শাহ ৩৯ রূপসীর বাজার__-এ আমার চাই । তুকীর হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে হবে। এই আরবস্থান, প্রাচীন থলিফাদের রাজ্য, বালুকাময় মরুভূমি বেছুইন দস্থ্যর আবাস. : - এও আমার চাই। ইরাণ, তুর্কীস্থান, আফগানিস্থান, হিন্দুস্থান এতো! আমারই-আমারই মুঠোর মধ্যে । বাকী শুধু চীন এবং রুযিযার বিশাল সামাজ্য যেদিন ইচ্ছা করব সেদিনই আমার হবে। সাইবেরিয়ার বরফ ক্ষেত্রে আমার বিজ পতাঁকা| উডভীন হবে, পিকীনের রাজপ্রাসাদ আমার পদধূলিতে গোরবান্িত হবে, কাঞ্চনভজ্বার শিখরদেশে আমার গ্রীগ্নাবাস গ্রস্ত হবে ।» কিন্ত নাদিরেব এই স্বপ্রবাতুলতায় বাধা পডল। আবদালী দিল্লীর পথে “ইরাণী” সৈন্য নিহত হবার সংবাদ দিলে ক্ষিপু নাদির দলীবাসীর মৃত্যুদণ্ডাজ্ঞা ঘোষণা করলেন। নবম দৃশ্য দিল্লী, মর্মরপ্রাসাদের দ্বিতল বারান্দা শিল্নে রাজপথ | এই বারান্দায় দাড়িযে নাদির দির্পীবাসীর হত্যাকাণ্ড দেখলেন। বাদশাত মহম্মদ শাহ বহু অন্নয বিনয করেও নাদির শাহকে নিরস্ত করতে পারলেন ন1। শেষে ঈশ্বর বিশ্বামী মোল্লাবাসীর দীর্ঘ বতুতা এই দৃহ্য ও নাদিরের ভারত অভিবান সম্পূর্ণ হল। োল্লাবাসী নাদিরকে জানালেন বে মর্থ জানেনা বাহুধলে পৃথিবীজয় করা যায় না| । অতঃপর শেষ অঙ্ক । প্রথম দৃশ্নেই আবদালী মোলীবাসীর অন্তগামী হলেন। নাদির পত্ধী আকবরীর স্বামীর বিরুদ্ধে যডযন্ত্র এবং নিজের কনিষ্ঠ ভ্রাতার বাগদত্তার প্রতি নাধিরের লোলুপতা এই দৃশ্যের মূল কথা । এখানেই শেষ নয়, আকবরীও নাদ্িরের ভাইএর বপ মুগ্ধ হযে নাদ্িরের মাথা লক্ষ করে পিস্তল ছুঁড়পেন বটে কিন্ তার প্রেমাম্পদ অর্থাৎ হানিফ আহত হলেন । সমগ্র পঞ্চম অঙ্কই ইম্পাহান সম্পকীয সে জনা ২য দৃশ্যে সেই দেশের ক্ষুধার্ত ও পীড়িত নরনারীর হাহাকার দেখান হয়েছে । অবশেষে মোল্লাবাসীকে দেখে সবাই নিশ্চিন্ত হযেছেন। তৃতীয় দৃশ্টে নৃত্যগীত মছ্যাপাঁন এবং জুলফিকরের অভিশাপের ফল স্বরূপ সেনাপতি সৈফুদ্দিন নিজ কন্তা বুলবুলকে নাদিরের লীলসাবহ্কিতে নিক্ষেপ করতে নিয়ে আসবার ঘটনা । কিন্ত ঈশ্বরবিশ্বাী কন্চা নাদির শাহকে শুনিয়ে দিল--তিনি যাকে রাখেন সেই থাকে। তিনি যাকে মারেন সেই মরে। তুমি কে? কেউ নও।” এই বালিক্যর কথা গুনে নাদিরের আত্মবিশ্বাস টলে গেল এবং সেনাপতিকে আদেশ করলেন যে রাত্রি ছিগ্রহরের পূর্বে এই কন্ঠাকে তার শয়নকক্ষে নিয়ে উপস্থিত ৪০ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন। করতে হবে। চতুর্থ দৃশ্ত হানিফের প্রতি আকবরীর প্রেম নিবেদন ও হানিফের খোদার প্রতি বিশ্বাসের জন্য আত্মসম্বরণ। হানিফ আকবরীব পূর্বস্তি জাগবিত কবে তাকে লক্জা দিষেছেন। পঞ্চম দৃশ্য-_সৈফুদ্দিনের আত্মগ্রানি। জুলফিকবেব ছাযামূতি অভিশাপের কথা মনে করার । ষই দৃশ্ঠ _-গাঁন। সপ্তম ও শেষ দৃশ্যে বুলবুল, সৈফুদ্দিনের কন্তা ও নাদির শাহ। ঈশ্বরভক্তি ও শষতান বিক্রম । নমাজ কবে বুলবুল নিদ্রামগ্ন হলে নাদির সে চিরনিদ্রা ভাঙাতে পারলেন না। ইতিমধ্যে তার পালিত পুত্র রূপে- বধিত বেঙ্গাকুলি তাঁকে গুলি কবল এবং স্রী আকববী তাঁকে বিষ পান করিষে পিতা ও পুৰ স্বামীব পক্ষে প্রতিহিংসা নিপ। শযতান পরাঁজয ্বীকার করল--খোদাব অস্তিত্ব স্বীকার করে খোদার নম মুখে নাদিবেব মৃত্যু হল। াাবপর 'মাকবরী ও সৈফুদ্দিনের আত্মগ্রানি ও ভগবৎ বিশ্বাস । অবশেষে মোল্লাবাী শযতানেব সামাজ্য কখন স্তাপিত হবে না ইত্যাদি ন*তিদীর্ঘ ভাষণে নাটকের সমাপ্তি হল ! নাট্যকার একাধিকবার ভানিষেছেন যে “ইতিহাস ভিত্তি করিষা” এই নটক রচিত। তলাষ দাগ দিষে লিখেছেন যে ইতিহাস অক্ষ পাথিযা” তিনি নাদির শাহর চরিত্র অঙ্কিত কবেছেন ৷ দুঃখের বিষষ নাটক পাঠে এই সব কথা মূল্যহীন বলেই মনে হষয। প্রথম থেকেই গোলমাল । পাত্রপাতী পরিচয়ে নাদিরের পিতা একভন দরিদ্র অধ্যাপক অথচ ৪র্থ অঙ্ক «ম দৃশ্য নাদিব শাহ বলছেন_-ভেডীওযাল[র পুত্র নাদির কুলির কাছে দযার প্রত্যাশা কর !? দেখাঘাচ্ছে নাদিরের পিতৃ পবিচষ সম্পর্কে নাট্যকার মনস্থির করতে, পাবেন নি। নাদির কি করে পারস্য সামাভ্যর প্রধান সেনাপতির পদ পেলেন না জানার জন্য "শযতানের” ওপর নির্ভর কবতে হয়েছে । তেমনি আহম্মদ আবদালীকে বণাসৃত করতে শমতান ছাডা কোন গতি থাকেনি । নাদির শাহের দিল্লী অভিযান সম্পর্কে নাট্যকারের অজ্ঞানত! অত্যান্ত স্পষ্ট । মনে চ* বিনাধৃদ্ধে মহম্মদ শাহ আত্মসমর্পণ করলেন, মনে হয তার কোন সৈম্য-সামন্ত অমাত্য বন্ধ কেউ ছিল না । নাদিরের ভারত জয় সম্পর্কে কোন এঁতিহাসিক তথ্য মা ্ঞানার জন্তেই নাদিরের চরিত্র মদ্য অর্থ নারীলোলুপ এক পিশাচ রূপান্তরিত হয়েছে । নাদিরের পারস্তে ফিরে যাওয়! থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঈশ্বরের নাদির শাহ ৪৯ বিশ্বাস কি ভাবে শষতানের প্রভাবকে পরাভূত করল দেথান হয়েছে হাঁতহাস কোথাও স্তান পায় নাই । সমগ্র নাটকে নাদিরশাহ, মহম্মণ শাহ, আহম্মদ আবদাপী ও রেজাকুলি খ' প্রভৃতির নাম ভিন্ন রতিহাসিক ঘটনা বা চরিত্র দেখা ঘা না । নাদির শাহব চরিত্র “প্রহেলিকা মনে করব একমাত্র কারণ ইতিহাস অজ্ঞত। এবং সম্ভবত কি আষাঢে গল্পকে ইতিহাস বলে বিশ্বাস করার বাতুলতা । নাদদিরের ইতি'ন বলার আগে এই নাটকে কি কি তথ্য পাওযা বায় এটা বিচাধ্য । প্রথমেই নাট্যকাব বলেছেন তিন বৎসর আগে বখন নাটক “না দির- শা" লিখিতে বস্যাছিলাম+ অর্থাৎ নাট্যবচনার কাল ১৩২৫ অর্থাৎ ১৯১৮-১৯১৯। এটা জালিযানওযালাবাগ ও খিলাঁফৎ আন্দোলনের বছর । দুই ঘটনার প্রভাব নাটকে পডেছে বলে মনে হয। জলিষানওযালাবাগের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নাদ্িরশ"ছেব দিল্লীবাসীদের নৃশংস হত্য!কে সহচ্ছে সংযুক্ত করা ঘায। খিলাফৎ আন্দোলনের বছৰ বলেই “এই পুস্তক মুসলমান ভ্রাত- গণের উদ্দেস্তে' উৎসগিত এবং মুসলমান ধর্ম সন্ন্ধে থিযেটারদেখা হিন্দু দর্শককে অবহিত করাব চেষ্টা হযেছে । আর এক বিষষে নাট্যকার সম্ভবত নিজেব অজান্ে আমাদের অবনত করেছেন । সেটা হল ইংরেজ সরকারকে জনসাধারণের ভয। কোন ব্যক্তিকে ইংরেক্ত গর্ভনমেণ্ট অপছন্দ করলে তার অবস্থ! কুষ্টরোগর থেকেও শোচনীয় হত। 'দল্লীর বাদশা মহল্সদ শাহের নিদারুণ নিঃসঙ্গতা ইংরেজ অপাঙতেয মানী লোকেব শোচনীয একাকীত্বের কথাই ম্মবণ করায। মনে বাথ! প্রযৌভ্ন যে কংগ্রেস তখনও শক্তিশাণী প্রতিষ্ঠান নয । ১৯১৯ খ্রীষ্টাব্ধের ২৭শে ডিসেম্বর অমৃতসরে কংগ্রেসের অধিবেশন হয়। মাত্র তিন দিন পরে ৩০শে ডিসেম্বর ১৯১৭ শ্রীষ্টাব্ব কলিকাতার মডারেটগণ অধিবেশনে মিলিত হন ।৮ ইতিমধ্যে বিশ্বযুদ্ধ আরম্ত হয়ে গেছে । তারই সুযোগে তুরস্কের অধীনন্থ সাআাজ্য ইংরেজ ও ফরাসী-শক্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ-বীটোয়ারা করে নিষেছে। সুতরাং অমিত বিক্রমশক্তির আধার নাদিরশাহ, এই প্রবল পরাক্রান্ত শয়তান সেবিত ইংরেজশক্তির প্রতিভূ হয়ে দেখা দেবেন এটা বিচিত্র নয়। হয়তো ইংরেজের সঙ্গে নাঁদিরের মিল আর বেদী দেখান সম্ভব ছিল কিন্তু নাট্যকার ৪২ বাংল! এঁতিহাসিক নাটক সমালোচনা 'সে স্থযোগ গ্রহণ করেন নি। সম্ভবত ১৯০৬ থেকে ১৯০৮ শ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত গিরিশচত্্র ঘোষ ও শ্গীরোদপ্রসাঁদ বিদ্ভাবিনৌদের বিভিন্ন নাটক রাজরোষে বাজ্য়োপ্ত হবার স্বৃতি তখনও ম্লান হয়ে যায় নি। বরদাপ্রসন্ন নাদিরশাহ লিখেও স্বস্তি পান নাই তাই তার পরবর্তী নাটক “রকমারি” *শ্রীছুরগা” এবং “স্থভদ্রী” 18 নাট্য প্রধোজনার ইতিহাসে কিন্তু নাধিরশাহ” মূল্যবান । নাট্য আঙ্গিক ও দৃশ্য সঙ্জা এই সময়ে (১৯২১ খ্রীষ্টাব্দে ) প্রভৃত উন্নতি করে বার ফলে বন্যার জলপুর্ণ নদীতে সম্তুরণ ( ১মঃ অস্ক তৃতীয় দৃশ্য ), গভীর বনের আঁকাবাকা! পথে পলায়ন ও পর্বত আরোহণ (২য় অঙ্ক ৭ম দৃশ্য ), প্রভৃতি চক্ষুমুগ্ধকর বহু দৃশ্য দেখান সম্ভত হযেছে । সমসাময়িক নাটকের অন্থান্ত লক্ষণ এই নাটকেও পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত-_যেমন ধর্মের জয় অধর্মের পরাজষ, সতীত্বের অলংঘ্য তেজ, অভিশাপ, অপকীত্তির পর অন্শোচনা ইত্যাদি । বস্তত চরিত্র ও দৃশ্ঠের নাম বদলিয়ে দিলে অন্ত নাটকের বক্তব্য বা গতিপ্রকৃতির সঙ্গে নাদিরশাহের পার্থক্য থাকবে না। স্তরাং নিঃসন্দেহে বলা ঘায় যে নাটক হিসাবেও নাদিরশাহ অতি সাধারণ পর্যায়ের | এবার এঁতিহাসিক নাদিরশাহ সম্পর্কে কয়েকটি কণা! বলা প্রয়োজন । নাদির কুলি বা নদর কুলি বেগ ১৬৮৮ খ্রীষ্টাব্দে খোরাসানের এক দরিদ্র পরিবারে জস্ম গ্রহণ করেন । তার পিতার নাম ইমাম কুলি। এরা জ্তাতে তুকা এবং আফসার গোষ্টির লোক । নাদিরের পিত| ছাগল ও ভেড়ার চামড়ার পোষাক ও টুপি তৈরী করে জীবিকা] নির্বাহ করতেন। বলাবাহুল্য প্রথম ভীরনে নাদ্দিরকে অত্যন্ত ছুঃখকষ্ট ভোগ করতে হয় । উজবেক দস্থ্যরা একবার তাকে অপহরণ করে তাতার দেশে নিয়ে যায় সেখানে চার বছর বন্দী জীবন যাপন করতে হয়। বহুকষ্টে পারশ্তটে ফিরে এসে তিনি ডাকাতের নল গঠন করেন এবং ডাকাতি করেই কিছুকাল জীবন ধারণ করেন। মুদ্ধের পাঠ এইভাবে নাদিরের জীবনে সুরু হয়। বলবান ও পরিশ্রমী লোক পেলেই তিনি তাঁদের নিজের দলভুক্ত করতেন।' কিছু দিনের মধ্যেই তার দলে বন্ছ শক্তিমান লোক যোগ দিল। পারশ্ট্রের সাফাভি বংশের দুর্বলতার সুযোগে 'আফগানগণ পারশ্ সাআজ্য আক্রমণ করল। এই বৈদেশিক আক্রমণের নাদির শাহ ৪৩ স্থযৌগে নাঁদির আথিক উন্নতির স্থষোগ পেলেন। ১৭২২ গ্রীষ্টাব্ধে পারশ্ঠ আফগানদের পদানত হল। নাদির খোরাঁসান প্রদেশ আক্রমণ করে কালাট দুর্গ অধিকার করলেন। তারপরই আফগাঁনদের আক্রমণ করে তাদের হাত থেকে নইসাবুর প্রদেশ আবার পারশ্ঠ রাজ্যে অধীন করলেন। কতজ্ঞচিত্তে স্থলতান তাহমাস নাদিরকে ১৭১৭ খ্রীষ্টাব্দে তাঁর অন্যতম সেনাপতি নিষুক্ত করলেন। পারশ্কে সম্পূর্ভাবে আফগান প্রভাব মুক্ত করতে আরো ছৃশ্বছর লাগল । ১৭২৯ খ্রীষ্টাব্দে নাদির পারশ্ের প্রধান সেনাপতি পদ পেলেন । নাদিরের আহ্বানে সামাজ্যের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধারা তার পতাকাতলে সন্মিপিত হলেন। নাদ্দির যেমন একাপারে বীর ও নৃশংস যোদ্ধা অন্যদিকে তেমনি বিচক্ষণ সেনাপতি ও কুশলী নাক ছিলেন। তার অধীনস্থ সৈম্তাধ্যক্ষ ও সৈম্তগণ অন্ধের মতো তার আদেশ মেনে চলতেন। পারশ্ঠেব ত্রাণ কর্তা! নাদিরকে জনসাধারণ ভক্তি করত এবং ভালবাসত | নাদির যখন পূর্ব-সীমান্তে যুদ্ধে ব্যস্ত তখন পশ্চিম সীমান্তে একেরপর এক যুদ্ধে হেবে সলতান তাহমাস এক লঙ্জাকব সন্ধি করে ছুটি পাবশ্ঠ এদেশ তুকীদেব দিতে রাজী হলেন । দেশের মধো অসন্তোষেব বন্যা বযে গেল । অবশেশে ২৬শে আগ? ১৭৩২ খীষ্টান্ধে সুলতান তাহমাস রাজ্যত্যাগ করলেন । সমবেত সেনাপতি ও যোদ্ধাগণ না্দিরকে সুলতানের পদ গ্রহণ করতে অন্থরোৌধ করল কিন্ত নাদির রাভী হলেন না। তিনি তাহমাসেব আটমাস বধস্ক শিশুপুত্র আব্বাসের নামে পারশ্া শাসন সুরু কবলেন । চার বছর পর এই শিশুস্থলতানের মৃত্যু হওযাঁয শাহানশাহ নাদিরশাভ পারশ্টরাজ হলেন ২৬শে ফেব্রুয়ারী ১৭৩৬ ত্রীন্দে ১০ কেৰলমাত্র এশিয| নয ইওবৌপ ভূখণ্ডে নাদিবশাহকে অক্ত্র ধরতে হয়েছে। ইওরোপের রাজনীতিই নাঁদ্িরের উন্নতির পথে প্রধান সহায। পোলাগ্ডের সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে তখন বিভিন্ন ইওবোপীয় রাষ্ট্রের মধ্যে রাজ- নীতির খেলা চলছে । রুশ ও অস্টিযাব স্বার্থ তুরস্ককে অন্তত্র ব্যস্ত রাখা। পারশ্টের সঙ্গে যদি তুরস্ক যুদ্ধে লিপু হয় তাহলে তার দৃষ্টি সর্বদা দক্ষিণ সীমান্তে আটক থাকবে উত্তর ও পূর্ব সীমান্তে পৃতন যুদ্ধে লিপ্ত হবার জন্যে সে ব্যাগ্র হবে না। তাহামাস তুরস্কের সঙ্গে লঙ্জাকর সন্ধি করায় রুশ শক্তিকে অত্যন্ত চিন্তিত দেখা ঘায়। তাহমাসের বিরুদ্ধে জনসাধারণের বিদ্রোহে ফে ৪৪ বাংলা এ্রতিহামিক নাটক সমালোচনা রুশ হস্তক্ষেপ একেবারে ছিলনা! তা মনে করা কঠিন। তাই তাহমাসের বাজাচ্যুতির প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রুশদেশ থেকে প্রতিনিধিদল পারস্ঠে আসেন নাদির শাহকে অভিনন্দন জানাবাঁর জন্য । এই দৌত্যের ফলে রুশ ও পারশ্য বন্ধুত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হয়। রুশ দেশ থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রার জন্য অস্ত্বণন্ত্রাদি লাভের প্রতিএ্তিও পাওয়া যায়। তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করে নাদির শাহ প্রথমে হীরাট প্রদেশ (মহারাজ চন্দ্গুপ্তর সময ভারতের অন্তর্গত ছিল) ও পরে আজারবাইজান ও টাব্রিজ অধিকার করলেন। ভষের আনন্দে অধীর নাদির শাহ ১*৩৩ শ্রীষ্টাব্দের বসন্তকালে বাগদাদ অবরোধ করলেন। এই অতিপ্রসারণের ফল অচিরে দেখা গেল। তুরস্কের প্রবীন বোদ্ধা বীর টোপাল ওসমান প্রথমে স্বমেরাতে ১৯শে জুলাই এবং কষেক মাস পরে লাইতানে পারশ্য শক্তিকে সম্পূর্ণ পবাঁজিত করলেন। কিন্তু পরাজষের পর সেই সব এলাকাকে পুনরাক্রমণের বিরুদ্ধে সংগঠিত করার কোন চেই্া তুরদ্ক সম্রাট করলেন না । পরাজয়ে যুদ্ধ বিদ্যা নূতন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে নাদিরশীহ আবার আক্রমণ করলেন | মেনদেলির যুদ্ধে ১৭৩৪ খীষ্টাব্ধে তুরস্ববাহিনী সম্পূর্ণ পরাজিত হল। বীর যোদ্ধা টোপাপ ওসমান নিহত হলেন। এই স্থযোগে রুশ বাণী আযান ১৭২৪ শ্রী্টাব্ধের সন্ধির সর্ত অমান্য করে জজিয়া প্রদেশ পারশ্ঠকে দিয়ে দিলেন। সন্ধির সর্ত ছিল পারশ্ রাজ্যের কযেকটি প্রদেশ তুরস্ক ও রুশদের অধীনে থাকবে । জঙ্গিয়া থেকে তুকীদের তাড়িয়ে দ্িতে নাদিরের বেণী সময় লাগল না। তুরস্কের সঙ্গে এরজেরামে নাদিরশাহ নৃতন সন্ধিপত্র স্বাক্ষর করলেন ১৭৩৫ খ্রীষ্টাব্দে । তদন্ুযায়ী ছুটি বিরাট প্রদেশ অজয়! ও আজারবাইজান পুনরায় পারশ্ঠ সাম্রাজ্যের অন্ততুক্তি হল। বর্তমানে এই ছুপট প্রদেশই রুশ অধিকৃত । নামে লক্ষণীয় হল রুশ চরিত্র । ১৭৩৬ খ্রীষ্টীব্ে এই সন্ধি পত্র পাকাপাকি ভাবে লিখিত হল। ১৭৩৭ প্রীহাবে রুশ রাজনীতি সফল হল। তাদের ঘনোনীত চতুর্গ চার্শপস পোল্যাণ্ডের শাসক হলেন। নাদ্দির শাহের বন্ধুত্বে যে এটা সম্ভব হয়েছে একথা! বল। বাহুল্য মাত্র ।৯৯ “পশ্চিম সীমান্তকে হরক্ষিত করে নাদির শাহ আশি হাজার সৈন্ত নিয়ে কান্ছাহারের বিরুদ্ধে অভিযান করলেন, উজধেস্ট এবার পূর্ব সীমান্তের সুরক্ষা । নাদির শাহ ৪৫ এক বছর ধরে যুদ্ধ চলল অবশেষে ১২ই মার্চ ১৭৩৮ খ্রীষ্টাব্দ কান্দাহার সহর ও দুর্গের পতন হল। বিজয়ীর আদেশে দুর্গকে সমভূমি করে এক নূতন সহর গড়ে তোল। হল তার নাম হল নাদিরাবাদ। কিন্ত কালের গতি এমনই হাস্যকর যে এই সহরই এখন নয়৷ কান্দাহার নামে প্রসিদ্ধ হয়েছে। আফগানদের সঙ্গে নাদির অত্যন্ত ভদ্র ব্যবহার করেন। ঘিলজাই ও আবদালী গোষ্ঠী তার আনুগত্য স্বীকার করে এবং তাঁর অধীনে চাকুরী ও সৈনাপত্য গ্রহণ করে। দয়াপু শক্র এবং মহান নেতা হিসাবে নাদিরের শুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে 1১২ দেখা যাচ্ছে রক্তলোলুপ পিশাচ বলে নাদিরের যে ছবি সআ্বাকা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা । তার সৈশ্দলও লুনপ্রিয় একদল বর্বর ছিলনা । যুদ্ধ অভিজ্ঞ নাদিরশাহ একাধারে কীর ও বাজনৈতিক ছিলেন। দিখ্থিজযের কোন আকাঙ্খাই তার ছিল না। তার ভারত আক্রমণের পেছনে ছিল অর্থলাভের স্থযুক্তি। এ বিষয়ে বিশদ আলোচনার আগে অন্ত নাটকটি পরীক্ষা করা যাক। দিখ্বিজ়ীর নাট্যকার যোগেশচন্র চৌধুরী প্রথমাবধা স্বর করে ফেলেছেন যে নাদ্িরশাহ দিপ্বিজয় করতেই ভারতে আসেন। নিবেদন” লিখতে গিয়ে তিনি এটাকে এঁতিহাঁপিক নাটক আখ্য। দ্িয়েছেন_-'নাটকখানি এতিহাসিক হইলেও ইহার মুল ভাবটি চিরন্তন 1 “নাষক ইতিহাস বিশ্রুত শক্তিমান পুক্রষ এবং এ&ঁতিহাসিক গবেষণার দিক দিয়া না হইলেও, নাটক লিখিবা'র €দিক) দ্রিযা তাহার ও সমসাময়িক ঘটনাবলীর ইতিহাস দুশ্াপ্য নয়।; অতি উত্তম কথ! এবং অত্যন্ত সত্যি কথা । এবার নাট্যকার কি ভাবে এতিহাসিক ঘটনাবলী সংগ্রহ করেছেন দেখা যাক। এতিহাসিক শ্যার- মর্টিমার ডুর্যাণড ইতিহাস ও কিংবদন্তি মিশাইয়া নাদিরশাচের একথানি হ্থথপাঠ্য জীবনী লিখিয়াছেন, নাটকের গল্পাংশ গঠনে আমি দু* একটি স্থলে সেই পুস্তকের সাহায্য লইয়াছি।, প্রথম কথা এই যে মর্টিমার ডুরযাও ধীতিহাসিক নন--তিনি লিখেছেন নাদিরের জীবনী নয়-_নাদির শাহকে নায়ক করে গল্প। কিন্তু স্তার মর্টিমার নাদির শাহর ইতিহাস পাঠ করেছেন গল্পে এমন নিদর্শন আছে। নাটাকার যোগেশ চৌধুরী সে গল্পও সম্পুণ ৪৬ বাঁংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা গ্রহণ করেন নাই ফলে নাদিরের চরিত্রের প্রধান গুণ তার খরদীপ্ত বুদ্ধি ও নেতৃত্ব করার সহজাত ক্ষমত! অপ্রকাশ্ঠ থেকে গেছে । নাদির শাহের সঙ্গে যারা নেপোলিযনের তুলনা করেন তারা যেন চন্দ্রগু্তর সঙ্গে মেবারেব রাণ! প্রতাপ সিংহের তুলনা করেন। একজনার উদ্দেশ ছিল ছিম্নবিছি্ন ভারত সামাজ্যকে একতা হত্রে গেঁথে তোলা । উপায় যুদ্ধ এবং সহজ জয লাভে এই কাধ্যের হাতিয়ার, বুদ্ধি, বুহৎ অর্থে বাজনীতি । অন্যজনার উদ্দেশ্য নিজের দেশ ও জাতির উন্নতি । বহিঃশক্রর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষ। করতে পারলে শান্তি বিরাজিত হবে-তবেই দেশের আভ্যন্তরীণ উন্নতি সম্ভব। উভয়েই বীর কিন্ত এদের বীরত্ব প্রকাশের ধরন ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন । নেপোলিষনের উদ্দেশ্য ছিল সমগ্র ইওরোপ ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলকে জুড়ে তার ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা । নাদির শাহের উদ্দেস্ঠ আরামে পারশ্ঠ শাসন এবং অর্থক্ দূর করবার জন্তে মাঝে মাঝে অন্য রাজ্য লুষ্ঠন। বন্তৃত ভোগবিল'স ও স্ত্রীলৌকাসক্তি নাদিরের পতনের অন্যতম কারণ শরীরে জরার আক্রমণের বৃদ্ধির সঙ্গে তার ভোগ লালসা আকাশচুম্ছি হয়ে উঠল। নাট্যকার আরো বলছেন “কোন স্থলেই আমি ইচ্ছা করিযা ইতিহাসের মর্ধ্যাদ|! ক্ষুপ্ন করি নাই এবং নাটকের বাহিরের খ্রতিহাসিক বপটিকে অবহেল৷ করি নাই, তবে স্বাধীন কল্পনায় নাট্যকার এবং পন্যাসিকের যে চিরন্তন অধিকার আছে, তাহা আমি অসঙ্কষোচে গ্রহণ করিয়াছি সহজ সরল ভাষায় এই কথাগুলোর অর্থ কি? এুক্তি কোন যুক্তিই নয় কেবল যুক্তির নামে বিত্রম সৃষ্টিকারী । এই কথাগুলিকে সামনে থেকে পেছনে পাঠ করা যায়; পেছন থেকেও সামনে পাঠ করা যায় কিন্তু কোন মানে পাওয়। যায় ন।। দিগ্বিজয়ী নাটক যে নাদির শাহ নাটক অনুসরণ করে লেখা হয়েছে তার প্রমাণও নাটকে রয়েছে। নার্দির শাহকে অতি মানব হিসাবে দেখাবার চেষ্টা এবং ধর্ম সম্পর্কে তার অবিশ্বাস দুই নাটকেরই প্রতিপাদ্য । কয়েকটি চরিত্র যেমন মোল্লাবাসী, প্রতিহিংসাপরায়না প্রথম নাদিব মহিষী এখানে নাম, সুলতানা বেগম এবং বাদশাহ মহম্মদ শাহ এক ছাচে কষ ॥ নাদিরের ছেলেদের নাছে একই ভুল। প্রথম ভূলই দ্বিতীয় ভুলের জনক নাদিরশাহ ৪৭ প্রথা নি:সন্দেহে বলা চলে । উভয় নাট্যকারই মহম্মদ শাহকে তীরু বৃদ্ধ ও অসহায় ব্যক্তি রূপে চিত্রিত করেছেন। কাপুরুষ প্রতিপক্ষ হওয়ায় নাদিরের দ্ধকুশলতা! বা বুদ্ধির প্রাথধ্য দেখাবার প্রযোভন হয় নাই। বরদাপ্রসন্ নাদিরশাহকে শয়তানের প্রতিনিধি করেছেন। যোগেশচক্জ একধাপ এগিষে এসেছেন। নাদিরের মুখে সংলাপ দিয়েছেন_-“আমি ঈশ্বরের প্রতিনিধি জগতের শাস্তিদাতা | বিষধকে আরে। স্পষ্ট করার জন্য বলা হযেছে_“যে ঈশ্বর রাত্রিদিন ঘর্ঘভূতে দযা করে-_ক্রেন্তান সাধুর, স্থৃফি কাবর, হিন্দু বৈষ্চবের সে ঈশ্বর নয়--এক প্রতিবিধিৎ্ম্থ ঈশ্বরের । যে মান্নষের সামান্য ক্রুটাও ক্ষমা করে না, জাতির ক্রটী ক্ষমা করে না সেই ক্ষমাভীন, দয়াহীন, বিচারক ঈশ্বর, আমাঘ পৃথিবীতে প্লাঠিষেছে_-পাপীর দণ্ু-বিধান কবতে |, নাদিরশাহকে হত্যা করার সময় তার ভূতপূর্ব বন্ধ সালেহ বেগের মুখে একই ধর্মের আভা পাই । সালেহ বেগ নাদিরকে মাবাত করার সময বপছেন_-“তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করখো না। প্রতিবিধিৎস ঈশ্বর আমায় পাঠিষেছে_ তোমার মহুষ্তত্ব আবরনকারী গর্বা পশুকে হত্য। করে ইরাণকে তোমার ভাত থেকে মুক্ত করতে ।' নাট্যকারের সম্ভবত জানা ছিল না যে প্রতিবিধিত্ু ঈশ্বর, জিহোবার ধর্ম। এই জিহোবার ধর্ম পালনে রত. ইহুদিদের এই সম্প্রনায় (81918 এর 01 71991811910 এ যাঁরা বিশ্বাসী ) মুসলমানদের জ্ঞাতি শত্র ও জাতির শঞ্রু। গোঁডা মুস্পমান নাদিরশাহকে সহসা জিছবাপন্থী বলা কেবলমাত্র অনৈতিহাসক নয় অনৈতিক ও অন্যায় । তৈমুরলং নিজেকে বলতেন ভগবানের চাবুক | সম্ভবত সেই বাক্যের সঙ্গে নাদিরশাহকে যুক্ত করার ফলে এই অপকীতি সংঘটিত হয়েছে । পূর্বে বলা হয়েছে যে ধমের ব্যাপারে নাদিরশীহ চিরকালই রক্ষণণীল। সিয়া সম্প্রদীয় ভুক্ত স্থুলত ন তাহমাসকে রাজ্যচ্যুত করে সুমী সম্প্রদায়ের নাদ্রিশাহ পারশ্ত সমআাট চওয়ায় তার রক্ষণনীল হওয়া ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। সেই জন্য সুমী সম্প্রদায় ভুক্ত জনৈক মোগল রাজকুমারীর (মহম্মদ শাহের কণ্ঠা৷ নয় ) সঙ্গে নিচের কনিষ্ঠ পুত্রের বিবাহ দিতে নাদ্দির উত্ম্নক হয়েছিলেন। *এই রাজনৈতিক বিবাহের ফলে নাদ্দিরশাহের ক্ষমত্ প্রতিপত্তি ও সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছিল। ৪৮ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। এরতিহাসিক নাটকের নাট্যকারর! প্রায়ই নিজেদের বিশ্বাস ও চিন্তা অন্গসারে সংলাপ চরিত্রের মুখে যোগ করেন কিন্তু একবার ভেবে দেখেন নাযঘে ইতিহাসের আবহাওয়াতে সেই চরিত্রের মুখে সেই সংলাপ উপযুক্ত কিনা। এই নাটকে এই ধরনের ঘটনার প্রাচুধ্য আছে। স্ফীকবি, ক্রেন্তান সাধু ও হিন্দু বৈষ্ণব সম্পর্কে নাদিরশাহর সংলাপ অত্যন্ত বিসদৃশ | নাদির প্রায় নিরক্ষর ছিলেন। পাগ্ডিত্যের প্রশংসা তিনি কথন পাননন এবং পাবার প্রযৌজনও 'অন্ভব করেননি । দিশ্রিজয়ী নাটক পাচ অঙ্কে বিভক্ত প্রতি অঙ্কে একটি করে দ্ৃষ্ কেবল মাত্র পঞ্চম অঙ্কে দুইটি দৃশ্ত। প্রথম অঙ্কের দৃষ্ট--কর্ণালে নাদিরশীহের শিবির । কর্ণাল যুদ্ধের পর দ্িবস-_রাত্রিকাল। দ্বিতীষ অঙ্কে দিল্লীর রাজপ্রাসাদ, বেগম মহল । তৃতীয় অঙ্কে দিল্লীর চাদনী চকে রুকন্কুদ্দৌল্লা মসজিদের অভ্যন্তরস্ত প্রাঙ্গন । চতুর্থ অঙ্ক-_মেশেদ রাজপ্রসাদ, হারেমের কক্ষ ও পঞ্চম অঙ্কের প্রথম ও দ্বিতীয় দৃশ্টে বথা ক্রমে-_ থোরাসানের পল্লীস্ত প্রান্তর ও খোরাসনের গ্রাম্য প্রান্তরে সমাটের শিবিরাভ্যন্তর । স্বতরাং এই নাটককে নাদিরের শুীবনের শেযাংশের ঘটনাবলীর নাটক বা ১৭৩৭ খ্রীষ্টাব্দ ও তার পরবর্তী কালের নাটক বল যেতে পারে । ভারতে অবস্থিতি প্রথম তিন অঙ্কের গ্রতিপাগ্য অর্থাৎ ১৭৩৯ খ্রীষ্টাব্ষের এবং শেব ছুই অঙ্ক তার মূত্র অবাবহিত পর্ণকালের অর্থাৎ *৭৪৭ খ্রীষ্টাব্দের ঘটনা । ভারতবর্ষে নাদিরশাহের অবস্থান সম্পর্কে ব্থ বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে। এই সব বিবরণ সমসাময়িক হিন্দু ও মুসলমানদের লেখা । এই সকল তথ্য মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শীর রচনাও বয়েছে। তাছাড়া নাদির পক্ষীয় পারশ্থের যোদ্ধাদের বিবরণের এ্রতিহ্াসিক শৃল্য কম নয়। নাদ্িরশাহের ভারত আক্রমণ তাই ছুই দিক থেকেই দেখ! সম্ভব। আচার্য যুনাথ সরকার হেনরী আরভিন অন্রমরণে এইসব প্রামান্ত তথ্যের সহযোগে 181 11911915 বই এর দ্বিতীয় খণ্ডের দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ অধ্যায়ে নাদিরের অভিযান বিশদ ভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। ভুঃখের বিষয় নাদিরশাহ সম্পর্কিত আলোচ্য নাটক ছুটির কোনটাই নাদিরশাহ ৪৯ নাদিরশাহের ভারত বিজয় দেখান হয় নাই। ভারত বিজয়ের পরবন্তী ঘটন| অর্থাৎ করনাল যুদ্ধের পরবন্তি ঘটনাই দেখান হয়েছে। নাদ্দিরশাহের চরিত্র বুঝতে হলে, হয তুরক্ষ যুদ্ধ নয় ভারত যুদ্ধ অনুধাবন করা কর্তব্য । ছুটি নাটকই সযত্বে এই পরিশ্রমকে এডিয়ে গেছে। নাটকে যুদ্ধ বা যুদ্ধের প্রস্ততি ও ফলাফল কি ভাবে দেখান সম্ভব এ প্রশ্ন জিজ্ঞাস্য হলে দ্বিজেন্দলাল রায়ের একাধিক নাটকের উল্লেখ করা যায় যেমন চন্দ্রগুপ্ত নাটকে নন্দর সঙ্গে বুদ্ধের পর্বক্ষণে চাণক্য যুরাকে দিয়ে চন্দগুপ্তকে উদ্ধ,দ্ধ করেছেন, যুদ্ধের ব্যহ রচনা করেছেন। সাজ'হান নাটকে গরঙগজীবের যুদ্ধ প্রস্ততি, মেবারপতনে যদ্ধের ফলাফল । নাদিরের মতো বিচক্ষণ যোদ্ধার স্থনামের একমাত্র কারণ বিভিন্ন রণকৌশল সম্পর্কে তার গভীর বোধ, অবর্ণনীষ সাহস, প্রচণ্ড অবিশৃদ্তকারিতা এবং সার্ধিক সফপতা । সহজাত নেতৃত্বের থে কবচকুগুল নাদিরশাহের অঙ্গীভরণ ছিল ত। বারবার তার গলে জযলঙ্ষ্রীর বরমাল্য পরিয়ে দিয়েছে । কাবুল যুদ্ধ থেকে করনাল যুদ্ধ পথ্যন্ত অন্রধাবন করলে দেখা যায় যে অদ্ভুত সাহস ও বীরত্বের অধিকারী হযেও নাদির শাহ কখনই সোজান্থুজি সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হন নাই । কুরুক্ষেত্রের কাছে করনাল রণাঙ্গনে দেখা যাবে যে জয়লাভই নাদিরের মুখ্য লক্ষ্য এবং সেজন্য নানা উপায়ে পক্রপক্ষকে ছুর্বল করে হঠাৎ তর্ধার বেগে শত্রর সামনে এসে ঝটিকাগতিতে তাদের খিত্রান্ত করে চলে যেতেন। পরমুহূর্তে নাদিরের জার এক বাহিনী সম্পূর্ণ ভিন্ন দিক থেকে হতচকিত শত্রুকে বিনাশ করত । মোগল রাজত্বের রণকৌশল যা তখনও ভারতবর্ষে চলে এসেছে তা৷ নাদিরশাহের এই যুদ্ধ পদ্ধতিতে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। হলদিধাটের যুদ্ধ (মেবারের রাণা প্রতাপের সঙ্গে আকবর বাদশাহর ), সামুগড়ের যুদ্ধ (দারাশিকোহর সঙ্গে উরঙজীব ও মৃরাদের সম্মিলিত বাহিনীর ) বা জজৌ এর যুদ্ধ ( রঙগজীবের ' পুত্রগণের মধ্যে) রীতিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন। করনালের যুদ্ধের সঙ্গে প্রকাতিগত বা নিয়মগত কোন মিল নাই। ১৪ই মে ১৭৩৮ এ্র্টান্দে পারশ্তসমাট শাহানশাহ নাদিরশাহ উদ্বর 'আফগানিস্থান অভিযান করলেন। এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ, ছিল ৫৩ বাংলা ধরতিহাসিক নাটক সমালোচনা আফগান দস্থ্যদের শান্তি দেওয়া । এই দস্যুরা প্রতি বছর পারশ্য সীমাজেং নাগরিক ধনপ্রাণ লুণ্ঠন করত। “মুখর+ নামে একটি ঝর্ণা তখন ভারতবধ 'ও আফগানিস্থানের সীমান্ত বলে গন্য হোত । স্থতরাং তর্কের খাতিরে যদিও বলা যায় যে এই ঝর্ণা অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গেই ভারত অভিঘান সুরু কিন্ত প্রকৃত পক্ষে নাদিরশাহের তখনও ভারত আক্রমণের কোন কল্পনা ছিল না। সীমান্ত অতিক্রম করে নাদির কারাবাগ সহরে ঘাঁটি স্থাপনা করলেন ও কনিষ্ঠপুত্র নাসিরল্লা ব| নাসর-উল্লার অধীনে একদল সৈন্থকে উত্তর পশ্চিম কাবুলের আফগানদের শায়েন্তা করতে পাঠালেন । ৩১ মে ১৭৩৮ খ্রীষ্টাব্দে গজনী নাদিরের বশ্ঠতা স্বীকার করল। গজনীর গন্চমান্য ব্যক্তিদের বন সম্মানে ভূষিত করে তিনি তার বাহিনীর পশ্চাৎ্ভাগ ও পাশ্ব স্বরক্ষিত করে কাবুল অভিধান স্তুরু করলেন ১০ই জুন |” ইতিমধ্যে নাদির পুত্র উত্তর দিক থেকে কাবুল আক্রমণ করেছেন । সাতদিনের কঠোর নিষ্করুণ বুদ্ধের পর ১৯ শে জুন কীবুলের পতন হোল । কাবুল যুদ্ধই ভারত আক্রমনের স্বত্রপাত। কাবুলে নাদিরশাহ চল্লিশাদ্বন অবস্থান করেন। এখান থেকেই ভারতসমাট মহন্মদশাহকে তিনবার পত্র লেখেন যে পলায়ন পর ঘে সব আফগানরা ভারতে আশ্রধ গ্রহণ করছে তিনি যেন তাদের ধরে নাদিরশাহের কাছে পাঠিয়ে দেন। মহম্মদ শাহের সঙ্গে পারশ্যের বন্ধুত্ব সচক চুক্তি স্মরণ করিয়ে নাদ্দির পারশ্য রাজদূতকে বৎসরাধিককাল দিল্লীতে নানা ছুূতাষ আটকিয়ে রাখার অভিযোগ করেন । তিনি আরো লেখেন থে আফগানব! পারশ্য দেশের থেকেও ভারতবর্ষে অত্যাচার বেণী করছে। আফগানদের বিরুদ্ধে অভিযান করে তিনি ভারতের প্রকৃত বন্ধুর কাঁঞই করছেন, সে জন্য ভারতসমরাটের উচিত তাঁকে পরিপূর্ণ ভাবে সাহায্য করা । কিন্তু স্াট মহম্মদ শাহের কাছে পৌছবার আগেই জালালাবাদে নাদিরশাহের এই পত্র বাহকদের ফিরিয়ে দেওয়। হয়। তা সত্বেও যান্া বাদশা মহম্কন শাহর কাছে ধাবার চেষ্টা করে তাদের হত্যা কর! হয়। দূতের বধের খবর পেয়ে নাদির ক্ষীপ্ত হয়ে উঠলেন। ইতিমধ্যে (১লা জুলাই ১৭৬ গ্রীঠা্দ) কনিঠ পুত্র নাপিরুর়া! উত্তর কাবুল জব করে পিতার সঙ্গে 'শর্মিলিত হলেন । .এই সঙ্গিলিত বাহিনীর জ্াজাপ 'ঝোঁধ করা য়ে কোন শক্তি পক্ষেই কঠিন। অতি সচজেই জালালাবাদ নাদিরের হম্তগত হল, নাদ্িরশাহ ৫১ এই সেপ্টেথর ৭৩০ স্ত্রী; । জালাল্লবাদ জয় করা মানেই মোগল শক্তির *নঙ্গে সাক্ষাৎ, সংঘর্ষে লিপ্ত ভওয়া একথা বুঝতে নাদিরশ!হর দেরী হয়নি । ভারত ঘুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে চলবে এবং বহু লোকক্ষয় হবে এমন কি তার নিজের জীবনও বিপন্ন হতে পাবে এ আশঙ্কা নাদির করেছিলেন তাই দেখা যায় দীর্ঘদিন ধরে সমর প্রস্ততি । ১৭৩৮ খ্ীষ্টাব্বের ৩রা নভেম্বর ভ্যোষ্ঠ পুত্র মির্জ রেজাকুলিকে পারশ্যে ফেরৎ পাঠালেন তার প্রতিনিধি হযে সাআজ্য শাসন করবার ভন্ত। তার ভারতে মৃত্যু হলে যাতে মির্জ রেজাকুলি সহজেই দেশের রাজা হতে পারেন তাই তার নামকরণ হল সহকাবী স্থুলতান বা রাজপ্রতিনিধি। ভারতবর্ষের সঙ্গে দীর্ঘযুদ্ধে লিপ্ত হবার আগে নাদিরশাহের এই কীতিগুলিতে তার জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেচনা ও শাসকের কর্তব্য সম্পর্কে বিচক্ষণতার পরিচয় পাওয়া যায়। নাদিরশাহ মাত্র ১২৯০ অশ্বারোহী এবং ৬০০০ পদাতিত সৈশ্ত নিয়ে পেশোযারের পথে যাত্রা করলেন ১৭৩৮ খ্রীষ্টাব্দের ৬ই নভেম্বর ৷ পেশোয়ারের মোগল রাজ্যপাল নাসির খা ২০০০০ সৈন্য নিয়ে তার গতিরোধের জন্ত প্রস্তত হলেন । খাইবার গিরিবর্ত এক ছুর্তেছ্ভ প্রণালী । মুষ্টিমেয় সৈম্ত দেখানে বিরাট বাহিনীর গতিরৌধ করতে পারে। নাসির খা খাইবারে নাদিরশাহের গতিরোধ সম্পর্কে পরম নিশ্চিন্ত ছিলেন। নাদিরশাহের রণকৌশল সম্পর্কে অজ্ঞতাই নাসির খার পরাজয়ের কারণ (১৫ই নভেম্বর ১৭৩৮ প্রী;:)। নার্দিবশাহ প্রচলিত পথে না এসে দুর্গম ও ছুষ্তর গিরিপথ ধরলেন। তারপর অতিকষ্টে ঘোড়ানুদ্ধ পাহাড়ের ওপর আরোহন করে ভীববেগে পাহাড় থেকে নেমে পাশ থেকে মোগল বাহিনীকে আক্রমণ করলেন। একদিনে পঞ্চাশ মাইল অতিক্রম করে সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ করাই কঠিন কিন্তু দুর্গম বিপদসন্কুল পাহাড়ে পথ অতিক্রম করে পথহীন গিরিশিখরে উঠে ঝড়ের মতো নেমে আসা যে কতো অসম্ভব ব্যবস্থা তা বোঝাবার প্রয়োজন রাখে না। নাদিরশাহ বারবার এই অসম্ভকেই সম্ভব করে তার শ্রেইত্ব প্রমাণ করেছেন । নাসির খাঁর বাহিনী যে পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে বিশ্রাম করছিল সৈথান দিয়েই নাদিরশাহের ,আক্রমণে বিভ্রান্তি ও বিক্ষি্ত হয়ে গেল। পেশোয়ার নাদিরশাহের করতলগত হল। ৫২ বাংলা এঁতিহাসিক নাটক সমালোচন। পেশোয়ারের পর লাহোর ৷ এযাটকে সেতু বানিয়ে নাদির লিন্ধু নদ পার হলেন । ১২ই জানুয়ারী ১৭৩৯ খ্রীষ্টাব্দ লাহোরের পতন সুরু হল। লাছোরের বীর রাজ্যপাল জাকারিযা খান পরাজিত হলেও নাদিরের কাছে ভাল ব্যবহারই পেয়েছেন । লাহোরে নাদিরশাহ যোলদিন ছিলেন এবং মহম্মাদ শাহের যুদ্ধ প্রস্থতির সঠিক খবর এখানে বসেই সংগ্রহ করেন। যার ফলে উনি ঘোষণা করেন যে তিন দিনের মধ্য কুড়ি লক্ষ টাকা না পেলে তিনি সমস্ত নগরবাসীকে হত্যার আদেশ দেবেন । শেষ পধ্যন্ত জীকারিষা খান সরকারি তহবিল থেকে এবং লাহোরের অর্থবান নাগরিকদের কাছ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করে লাহোর রক্ষা করেন। নাদিরশাহ এবার বাদশীহ মহন্মদ্রশীহকে চমৎকার এক পত্র দিলেন। তিনি লিখলেন যে তিনি বন্ধুভাবেই ভারতে এসেছেন। কেন যে মহম্মদশাহ তাকে বার বার আক্রমণ ও,আঘাত করছেন তা তার অনধিগম্য। ভার একমাত্র উদ্দেশ্ত পলাতক আফগানদের বন্দী করা এবং সে কাজ সম্পন্ন হলেই তিনি পারশ্টে ফিরে যাবেন। মহন্মপশীহ তার বিরুদ্ধে ফুদ্ধার্থে প্রস্তুত হচ্ছেন এ খবর পেয়ে তিনি খুবই মর্মাহত হযেছেন। তিনি ও মহম্মদশাহ উভয়েই শ্ুষ্নী মতাবলম্বী, তৃকীজাতি ও তৈমুরের বংশধর সুতরাং নাদির সর্বদাই মহল্মদশাহর বন্ধৃত্বই কামন| করেন। তবুও যদি মহন্মদশাহ যুদ্ধ চাঁন, নাদিরশাহ তাকে শিক্ষ] দিতে গ্রস্ত । তবে এই যুদ্ধেব ফলে তার রাজত্ব ছারখার ভয়ে যাবে। বাদশাহ মহম্মদশাহ এই পত্রের জবাব দিলেন না। নাদিরশাহ অবশ্ঠ পত্রের জবাব পাবার ক্ুন্তে বসে ছিলেন না । তার অভিযান চলল পাঞ্জাবের ভেতর দিয়ে । ওয়াজিরাবাদ, যামিনাবাদ, গুজারাট ও জলন্ধর সহরগুলি একে একে নাদিরের অত্যাচারে নিশ্চিহ্ন হছল। নূতন আর এক বিপদ দেখা দিল। নাদদিরবাহিনী চলেযাবামাত্র অরক্ষিত সহর ও গ্রামবাসীদের ডাকাতের দল আঁক্রষণ করে লুষঠন করতে লাগল। €ই ফেব্রুয়ারী সারহিন্দের পতন হুন। ৮ই ফেব্রুয়ারী স্বয়ং বাদশাহ মহম্মদ শাহের নেতৃত্বে বিরাট মোগল বাহিনী করনাচ্চে সবেত হতে আরম্ভ করার আগেই নাদিরশাহের নেতৃত্বে "ই ফেব্রুয়ারী আহ্বালার পতন হল. পিছনের লব বাধ! দূরিভ্ুত করে ন্যদিরশাহ করনালে উপস্থিত হলেন । নাদিরশাহ €৩ কুরুক্ষেত্রের বাইশ মাইল দক্ষিণে করনালের অবস্থান। করনালের কুড়ি- মাইল দক্ষিণে পানিপথের অবস্থিতি । বাদশাহ স্বয়ং রাজ্যের প্রধান আমিবগণ- সহ করনালে সমবেত হলেন । তত্কালীন নিয়মান্গসারে বেগমবীদশ শিবিব ও শকট সবই তাদের অন্থুগমন করল। ফলে দেখা গেল বাদশাহর এই যুদ্ধ শিবিরের জনসংখ্যা বার লক্ষ। এই সংখ্যার মধ্যে এক লক্ষ সৈন্য । সমগ্র শিবিরের পবিধি হল বার মাইল স্কোয়ার (অর্থাৎ ১২৮%১২)। মাটির দেওয়াল দিয়ে শিবিরের চারিদিক স্থবক্ষিত করার চেঈস হয। কিন্ত অল্প সমযে বাব মাইল প্রাচীরবন্ধ কবা সহজ নয কাজ্ছইে বহু জায়গা উন্ুক্ত থেকে গিয়েছিল। মহম্মদশাহ নাদিবের বিরুদ্ধে ঘুদ্ধ ঘাত্রায কোন কার্পণ্য করেন নি। কেবল যুদ্ধের প্রস্ততিতেই এককোটি টাকা বাযিত হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে বাদশাহের প্রধান উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন উজিব বা মহামন্ত্রী ইতম1ৎ-উদ- দৌল্লা কামারুদ্দিন খান, ভকিল বা প্রতিনিধি নিজ্াম-উল-মুলুক আসফ ঝা এবং আমির-উল-উমরাও বক্সী বা প্রধান সেনাপতি খান ছুরান। অধোধ্যাব নবাব সাদৎখান ১২ই ফেব্রুয়ারী মধ্যরাত্রে এসে পৌছলেন। অন্তপক্ষে নাদিরশাহের শিবিরের জনসংখ্যা একলক্ষ ষাট ভাঙ্গার তাব মধ্যে পুরুষেব পোষাকে সঙ্জিত ছয হাজার অশ্বারোহী স্ত্রীলোক ও পঞ্চান্ হাঞ্জার সৈন্য । এই ৫৫০০০ সৈন্তের অধিকাংশ অশ্বীরোহী বা উন্ট্রারোহী | উটের পিট থেকে দুই পাশ দিযে ঝুলিষে দেওয়া তাক্কা কামান করনাল যুদ্ধেব চমক দেওয়া পাশুপৎ অন্ত্র। নবাব সাদৎ খান যখন বাদশাহর সঙ্গে যোশ দিতে এলেন তখন নাদিবশাহী বাহিনী যে প্রঃয় পানিপথ থেকেই তার সঙ্গে সঙ্গে এসেছে তা তার অজ্ঞাত ছিল। সৈন্তবাহিনী সঙ্ক সাদৎ খান নবাব শিবিরে প্রবেশ কবলে, তার রসদ্বাহী পাচশত উট আটক করে নাসিকুল্প| পারশ্য শিবিরে নিয়ে গিষে তুত্বলেন। রসদের অভাব বাদশাহের বিরাট শিবিরকে পন্থু করে দেবে বুঝতে নাদিরের একটুও দেরী হয় নি। তাই খুব ছোট ছোট অশ্বারোহী দলে বিভক্ক হয়ে দিল্লীর বাদশাহের শিবির থেকে মকাই বা অন্ত থাছ্য সামগ্রী, ঘাস ও জালানী প্রভৃতি নিয়মিত অপহরণ কর! শুরু হয়। মোগলবাহিনীর সব থেকে বড় ছূর্বলতা প্রকাশিত হুল মন্ত্রণীসভায়, দেখা গেল বারজন প্রধান সভাসদের ৪৪ বাংলা ধ্রতিহাসিক নাটক সমা'লোচন। কেউ কাউকে সহা করতে পারেন না । এবং সকলেই সকলের প্রতি ঈর্ধবতৃর। সবাই ভেবেছেন যে তিনি একা নাদিরশাহকে বন্দী করে এনে সম্রাটের প্রিয়পাত্র হবেন। নাদিরশাহের শিবিরের ধনরত্ব লাভের লোভও কম ছিল না। মঙ্গলবার ১৩ই ফেব্রুযারী ১৯৩৭ খ্রীষ্টাব্দে আলো! ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পারস্য বাহিনীকে অদূরে দেখা গেল। সবার নিষেধ অমান্য করে সাদৎখান তাঁর কুডি হাজার নৈম্ত নিষে নাদিরশাহকে বন্দী করার লোভে আক্রমণ স্থরু করলেন। নাদ্দিরশাহ এমন স্থযোৌগের প্রতীক্ষায় অপেক্ষা করছিলেন । বাদশার শিবির আক্রমণ করতে হলে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও অবরোধের আশ্রয় নিতে হত কিন্তু বাদশার বাহিনী আক্রমণ করায় যুদ্ধ সহজ হয়ে গেল। সাদৎ- থানের আক্রমণ পারশ্য বাহিনী প্রতিহত করল না বরঞ্চ হেরে যাবার অভিনয় করে সবাহিনী সাদতখানকে তিনচার মাইল দূরে একটি টিলার কাছে সরিয়ে নিয়ে গেল। টিলার কাছাকাছি আসামাত্র পারশ্ঠ অশ্বারোহী বাহিনী অনৃশ্ঠ হয়ে গেল আর টিলার ওপর ভেগে উঠল হান্ক! কামানবাহী উটের বাহিনী । গোলাবর্ষনে দলে দলে সৈন্টবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেল । বীরের মতো যুদ্ধ করে সন্ধ্যা নাগাদ সাদৎখান বন্দী হলেন। এদিকে সাদৎখানের অভিযানের খবর পেয়ে অপ্রস্তত সৈন্যদল নিষে খান ছুরানকেও যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে হল। কিন্ত সাদৎখানের বাহিনীর সঙ্গে তিনি মিলিত হতে পারলেন না। মাত্র ৫০০ অশ্বারোহর এক একটি পারশ্য সৈম্থদল ঝটিকাবেগে তার সৈশ্টবাহিনী বিনঈ করে চলে যেতে লাগল । ফলে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে চলে গেলেন। অবশেষে নাদিরশাহ স্বয়ং মাত্র একহাঙ্গার অশ্বীরোহী সৈন্ নিয়ে প্রচণ্ড গতিতে খানছুরানের সৈম্তবাহিনীর মাঝে আক্রমণ করলেন। সৈম্বাহির্নী ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। খান €ুরান সাংঘাতিক ভাবে আহত হলেন । তাকে বহুকণ্ঠে শিবিরে নিয়ে শাসা হন্স। ছু*দিন পর ১৫ই ফেব্রুয়ারী তার মৃত্যু হল। বহু সেনাপতি সহ মোগল পক্ষের মৃত্যু সংখ্যা দাড়াল প্রায় কুড়িহাজার। পারশ্দের মৃতের সংখ্যা মাত্র ২৫০০। সন্ধি করা ছাড় মুহম্মদ শাহের গত্যন্তর গাকলনা। থাদ্য ও রসদের অভাবে এবং আহত সৈশ্ভদের চীৎকারে মোগল শিবির নরকের রূপ নিয়েছিল। বন্দী নাদিরশাহ ৫৫ সাদাৎখানের অন্থরোধে নিজাম-উল-মুলুক আসফ ঝা সন্ধির শর্ত আলোচন। করার জন্য ১৪ই ফেব্রুয়ারী নখদ্িরশাহের শিবিরে উপস্থিত হলেন। নগদ পঞ্চাশ লক্ষ টাকা এবং সিম্ধুনদ পধ্যন্ত স্মন্ত ভূভাগ পাবার সর্তে রাজী হয়ে নাদ্দির আসফ ঝা মারফত বাদশাহ মহন্মদশাহকে থাবার নিমন্বণ করলেন । বিজয়ী পারশ্যরাজের এ নিমন্ত্রণ উপেক্ষা করার ক্ষমতা বাদশাহ মহম্মদশাহের ছিপ না। ১৫ই ফেব্রুয়ারী ছুই সমাট মিলিত হয়ে একত্রে পান ভোজন করলেন। নাদিরশাহর সৌঙন্পূর্ণ ব্যবহারে মহম্মদ শাহ মুগ্ধ হলেন। ১৫ই ফেব্রুয়ারী খানদুরানের মৃত্যু হলে বাদশাহ আসফ ঝার ছেলে ফিরুজ জঙ্গকে প্রধান সেনাপতি নিষুক্ত করলেন । সঙ্গে সঙ্গে সেনাপতিদের অসঙ্গোষ প্রকাশিত হল। আসফ ঝাঁর নবীন পুত্র প্রধান সেনাপতি হওষায অন্তান্য প্রধান সেনাপতিগণ অসন্তষ্ট হলেন । সাঁৎথানের প্ররোচনাষ নাদিরশাহ কুড়িকোটি টাকা দাবী করলেন এবং নিজাম-উল- মূলক আসফ ঝাকে এই টাকা সংগ্রহের জামিনদার করলেন এ ছাড়া নাদিরশাহের নিজম্ব প্রয়োজনে কুডি হাজার সৈন্য চাওয়া হল। বাদশাহ ও আসফ ঝ| হঠাৎ আলোচনাপ্রবাহ পরিবর্তনে , ঘটনার বৈচিত্রে এবং নাদিরের দাবীতে কস্তিত হযে গেলেন । বাদশাহর শিবির অবরুদ্ধ হল এবং সকলে অবর্ণণীয কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করলেন। অবশেষে নিজামকে সঙ্গে করে ভরত সমাট মহম্মদ শাহ ২৪শে ফেব্রুয়ারী ১৭৩৯ খ্রীষ্টাব্ৰ আত্মসমর্পন করলেন। ২৫শে ফেব্রুয়ারী বাদশাহর বেগম, সন্তান, পরিচারক মায় তাবু ও জিনিষ পত্র পর্যন্ত পারশ্য শিবিরে নিয়ে যাওয়া হল। খোগল দরবারে মারাঠা প্রতিনিধি বাবুরাও মলহর মোগল বাহিনীর সঙ্গেই করনাঁলে এসেছিলেন । ২৫ শে ফেব্রুয়ারী তিনি তাত দলবল নিয়ে পলায়ন করেন। তাঁর বিবরণেও করনাল যুদ্ধের স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি পাওয়৷ যায। সাদৎখান পারশ্য সম্রাটের প্রতিনিধি ভয়ে দিল্লী অধিকার করলেন ২৭শে ফেব্রুয়ারী | ৯ই মার্চ ১৭৩৯ শ্রীষ্টাব্খ বন্দী মহম্মদশাহকে নিয়ে নাদিরশাহ দিল্লী গ্রবেশ করলেন । মহম্মদ শাহের অবস্থিতি হল দেউরির কাছে আসাদ বুরুজে। সেইদিন রাত্রেই যথেষ্ট অথ সংগ্রহ করতে না ৫৬ বাংল! এতিহানিক নাটক সমালোচনা পারার জন্য সাদংখান প্রচণ্ভাবে তিরস্কত হলেন। পরদিন শনিবার ১০ই মার্চ ১৭৩৯ ইদ-উদ-জোহা ছিল। জুন্ম/* মলঞ্জিদে নমা €সরে সেখানে ঈাড়িযেই নাদিরশাহ ঘোষণা করলেন যে ভারতের সম্রাট মহম্মদ্রখাহই থাকবেন। তিনি চিরকাল তার বন্ধুত্ব কামন। করেন। এ ছাড়া চোদ্দই ফেব্রযারীব শর্ত অনুসারে তিনি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা মাত্র গ্রহণ করতে রাজী আছেন। বাদশাহ মহন্মদ শাহ অত্যন্ত দীনভাবে নাদিরকে অভিবাদন জাঁনিষে তার কুতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন এবং রাজকোষের বহু "অমূল্য রত্ব নাদ্দিরকে গ্রহণ করতে বারবার অন্ররোধ করলেন । সেইদিনই সন্ধ্যা নাদিরশাহের নৃত্য সংবাদ বটন। এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যেখানে .সথানে পারশ্ত সৈন্তদের হত্যা কবা শুক হল। ছোট ছোট দলে অপ্রস্তত প'রশ্য সৈন্াদের আক্রমণ করে নিছুরত্তাবে তাদের বধ করা হল। রাত্রি 'তনটা পর্যন্ধ এই হত্যালীলা চলল । কিছুক্ষণের বিশ্রামের পর পরদিন সক'প থেকে আবার হত্যাকাণ্ড শুরু হল। সেদিন ছিল ১৩ই ফাল্গুন হাল উৎসবের দিন । দিল্লীবাস পারশ্য সৈন্যদের রক্তে সারাদিন ধরে হে তালি থেলল ইতিহাসে বুঝি আর নজির নাই । কমপক্মে তিনহাজার “কান কোন মতে সাত হাজার পারশ্য সৈন্য কযেক ঘণ্টার মধ্যে বিনট ভল। সংবাদ নেবার ভন্ক নাদিরশাহ বাদের পাঠালেন তারা কেউ ফিবে গল না। অবশেষে পূর্ণবর্মাচ্ছাদিত হযে ন'দিরশাহ নিছে তার সৈন্যবাহনীকে সংহত করলেন তারপর চাদনীচকের রোকন-উদ-দৌল্লার ন্বর্ণমসাজদে নিক্ে উপস্থিত হয়ে খোঁজ নিলেন কারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দাষী। সব থেকে আশ্চর্য্য বিষয়, নাদিরের হুকুম ন। পাঁওযা! পর্যন্ত একজন পাঁরশ্য সৈন্তও পল্লীব।সীদের আঘাত করেনি । নাদ্দিরশাহ ভা তধ্ম বয়স নারীপুরুষ শিশুবুদ্ধ নির্বিশেষে দিল্লীবাসীদের বধ করতে হুকুম দিলেন । ১১ই মার্চ আদেশ ঘোষিত হল। কয়েকদিনের মধ্যে তিনশত "অভিজাত বংণায় শুদ্ধ কুডি হাজার দিল্লীবাসী নিহত হল। বহুলোক “বশেষ করে স্ত্রীলোকগণ আত্মহত্য। করে সন্মান রক্ষা করলেন। পারস্য সৈতগণ দিল্লীর চাব্পাশে প্রায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ মাইল পর্য্যন্ত হত্য। ও লুনেন্্ বিভীষিকা কৃষ্টি করল। একদল সৈম্ত থানেশ্বর শহর নুঠু করে, ফিরে এল। প্রিয় সৈম্ভদলের হত্যা যেন লাদ্িরশাহকে ক্ষিপ্ত করের নাদির শাহ নী দিয়েছিল। দিল্লী অবস্থানের পরবর্তী ছুই মাস কেবল অর্থসংগ্রহ হষে দাড়াল নাদিরের একমাত্র কাজ। এর মধ্যে ২৬শে মার্চ মির্জা নাসিরুল্লার সঙ্গে বাদশা বংশীয় দাবারবক্সের কন্যার বিবাহ মহীধূমধাম করে সাঙগ হল। বাদশা ওরজজীবের কন্ঠার সঙ্গে তাঁর ভ্রাতা শাহজাদা মুরাদের পুত্রের বিয়ে হয। দাঁবারবন্স এই বিবাছের সন্তান। মুরাদ হলেন তার ঠাকুর্দীদা আর উরঙ্গজীর দাদামশায। সম্ভবত এই বিবাহের পবেই নাদিরের ক্রোধ কিছু প্রশমিত হয় । দীর্ঘদিন ধরে বিবাহের উৎসৰ চলে । দিওযান-ই-খাস আলোকমালাষ সজ্জিত হল। নানা জ্ীবজন্তব লডাই প্রতিদিনের উৎসবকে বিশিষ্ঠতা মণ্ডিত করত । আমোদআহলাদের বন্া ডেকে গেল। এই বিবাহের উৎসব উপলক্ষ্যে নৃত্যগীত পটিয়সী নূর বাঈকে নাদিরের ভাল লাগে এবং তাকে কিনে নিয়ে যাবার স্তন চার হাজার টাক দাম দিতেও নাদিরশাহ রাজী ছিলেন। বুদ্ধিমতী নৃূরবাষ্ী শেষ পর্যন্ত নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন এটাই আনন্দে কথা। পারশ্ঠে ফিরে নাদিরশাহ যে অত্যন্ত বিলাসী হযে পড়েছিলেন তারই হৃচনা দেখা যায় দিল্লীতে । মোট সাতান্ন দিন নাদিরশাহ দিল্লীতে অবস্থান কৰেন এবং প্রায় সত্তর কোটি টাকা মূল্যের অর্থ ও সামগ্রী নিষে পারশ্থে ফিরে যাঁন। বলা বাহুল্য বিভিন্ন ব্যক্তির ভিসাবে তফীত রযেছে। নাদিরের একান্ত সচিবের হিসাব অন্সারে__ বর্ণ রৌপ্য ও অর্থ নিন ৩০ কোটি টাকা ধনরত্ব মায় কোহিনূর হীরক ও মযূর সিংহাসন ইত্যাদি ভা ৩৩০১৯ যুদ্ধসজ্জা, কামান ও রসদ - ৪ % ££ খত কোটি এছাড়া ৩০০ হাতি, ১০০০০ ঘোড়া ও উটও নাদিরশাহ সঙ্গে করে নিয়ে যান। দিল্লী থাকা কালে আঁজমীরে মৈচুদিন চিন্তির সমাধিতে তীর্থ যাত্রা করার ইচ্ছা নাদিরশাহ প্রকাশ করেছিলেন। সম্ভবত রাজপুত রাজ্যাগুলি লু্ন করার ৫৮ বাংল! এতিহামিক নাটক সমালোচন। ইচ্ছা তাঁর ছিল। উদনয়পুরের সওয়াই জয়সিংত সংবাদ পাবামাত্র তার -পরিবারবর্গকে সরিষে দিয়ে বুঙ্ধসাজে প্রস্তত হলেন । পেশশোয়া 'বাজীরাও চশ্থপে নাদিরশাহের পারশ্য বাহিনীর সম্মুখীন হবার জন্য প্রস্তুত হলেন। সম্ভবত, এদের প্রস্ততির খবর পেয়েই নাদ্দিরশাহ তী্থযাত্র। বন্ধ করলেন। ১ল: মে মঙ্গলবার ওমরাহ নান| রকম খেলাত ও উপহার পেলেন। ইতি- মধ্য সাদংখনের অযোধ্যা মৃত্যু হযেছে। মহন্মদশাহ সিন্ধু নদের পশ্চিম পাব কাশ্নীর ও সিন্ধুসহ নারিরশাহকে উপটৌকন দিলেন। এই দরবারেই নাদিরশ'্ভ ঘোষনা করলেন যে মহম্মদরশাহ তার বন্ধু, সকলে বিশেষ মারাঠ। ও বাজপুত “ঘন তাকে মান্তা করে তা না হলে তাদের নাদিরের রোষবহ্নিতে দগ্ধ হতে হবে। আরে জানালেন যে খুতবা ও মুদ্রায় মহম্মদ শাহের নামই মআাব'র প্রচলিত হবে! অবশেষে ৫ই মে ১+৩৯ নাদিরশাহ দিল্লী ত্যাগ করলেন, বাবার সময সঙ্গে নিয়ে চললেন ১৩০ জন হিসাবরক্ষক যাঁরা মোগল শাসন ব্যবস্থ। সম্পর্কে বেশ ওয়াকেবহাল। তাদের সঙ্ষে যুক্ত হল ৬০০ রাজনিস্বী, ২০০ ছুতোর আর ১০০ পাথর খোদাইকর । উদ্দেশ্য পারশ্ঠে দিল্লীব মতে। এক স্তন্দর নগরী গড়ে তুলবেন। লাহোর পৌছবার আগেই অপিকাংশ পাকই ন'ন| ছুতোয় পালিয়ে যেতে লাগল । নাদিরের ফেরার পথ শ্রম ছিল ন।। সোনা ও খাগছ্যের লোভে শিখ ও জাঠরা ক্রমাগত নাদিরের বাহিনীর পশ্চাৎ ভাগ আক্রমণ করেছে। লাহোরে পৌছে বীর রাজাপাল জাকারিয়া খানের অন্গরোধে তিনি সমস্ত ভারতীয় বন্দীদের মুক্তি দিলেন এবং £ুচ্ছায ধার। ত।র সঙ্গে যেতে চাইল তাদের পোষাক, ঘোড়া ও মোট! বেতন দিমে পারশ্ট যাত্রা করলেন। ভারত ত্যাগের পূর্বমূহূর্তে নাদিরশাহেব এই মহ'ভভবতা সত্যই অননকরণীয় | নাদিরশাহের এই সুদীর্ঘ জীবনী বর্ণনা করার উদ্দেশ্ট প্রমাণ কর! যে “দিপ্বিজয়ী নাটকে, চরিত্রে বা থটনায় ইতিহাস অনুস্থত হয় নি। নাদিরশাহ “দৃশ্বিজয়ী নন কখন দিপ্বিজয় করতে যাননি । ভারতের এশ্বর্যের খ্যাতি তাকে লুন্ধ করে থাকতে পারে কিন্ত দে অভিষান দিখ্বিজয় নয়। বহিঃশক্রর আক্রমণ ভারতে বার বার হয়েছে। নাদিরকে দিখ্বিজয়ী বললে সেই গজনীর মামুদ «থেকে সবাইকেই দিগ্বিজয়ী আখ্যা দিতে হয়। লুন্বু.হিংসা কোনটাই নাদির শাহ ৫৯৯ নািরের চরিত্রের প্রধান উপকরণ নয়। সাদৎ খান প্রভৃতি সেনাপতিগণ আপসফ ঝাকে অপদস্থ করার জন্ত নাদিবশাহকে লুন্ধ না করলে তিনি দিল্লী” অভিযান করতেন কিন! সন্দেহ ৷ দিল্লীর নাগরিকগণ নাদিরের সৈন্যদের হত্া। না করলে পারস্ত। রাজ্র প্রতিহিংসা স্পৃহা! জেগে উঠত কিনা সন্দেহ । হত্যাকাণ্ডের পরেও ছুইমাস নাদির দিল্লীতে ছিলেন এবং নিচের কনিষ্ঠ পুত্রের সঙ্গে মুরাদের নাতির কন্ার বিবাত দিলেন | রক্ষণশীল মুসপণম'ন হিলাবে তিনি নিযমিত মসছিদে গিয়েছেন ও সকল ধর্মানষ্ঠান পালন করেছেন । নিজেকে ঈশ্বর বা প্রতিবিধিত্গু ঈশ্বরের প্রতিনিধি গণ্য কবেছেন এমন স'মান্- তম দৃষ্টান্ত পাওয়া ঘায় না। কেবল নাদির চরিত্রে নয অন্যান্য চরিত্রেও ইতিহাস জ্ঞানের নভাবই লক্ষিত হয়েছে । প্রথম অঙ্কে সাদৎ খানকে বিশ্বাসধাতক করা হয়েছে । এট। ঠিক নয়। করনাল দ্ধের পর দিবস অর্থাৎ ১৪ই ফেব্ুযাবী তো নষই। আসফ ঝার কাছে এক অসম্ভব অর্থদণ্ড চাইবাব হেত ঘদি সাদৎ খানকে মনে করা হয় তাহলে ৯ই মার্চ জুম্মা মসজিদে নাদিরশাহর প্রশমদিনেব সর্তাবলীতে ফিবে যাবার ইচ্ছার কোন কারণ পাও যায ন|। সম্ভবত নাদিরশাহকে পিল্লী সম্পর্কে ভূল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছিল। তিনি নিজে এসে তাই যখন দেখলেন যে মহম্মদ শীহ যা বলেছেন তাই সত্যি তখন প্রথমদিনেব সর্তেই ফিবে “বতে নিজে থেকে রাজী হলেন। পবশ্য "সন্য হত্যা না হলে না'দরের লুগন প্রবৃত্তি জেগে ও)ব'র *বকাশ পেত ন|। দিশ্বিজয়ীর নাট্যকার নাদিরের ছেলে ছুটির নাম ভুল করে লিখেছেন রেজা কুলিথা ও নসর কুলিখা। এতুলের কারণও আলোচনা করা হয়েছে। প্রথম অঙ্গের শেষের দিকে ঘে ভারতীয় বাদীকে নাদিরের বিবাহ করবার গল্প দেওয়া আছে তা শুধু ইতিহাসের পরিপন্থী নয় অসম্ভব । সাখারণ অবস্থা থেকে অভিজ্গাত শ্রেীতে যারা উন্নীত হয়েছেন তারা বিবাহাদি ব্যাপারে সর্বদাই উপর দিকেই দৃষ্টি রাখেন দেখা যায়। পুত্রের সজে মোগল রাজকুমারীর বিবাহই তাঁর প্রমাণ । আসফ ঝার সঙ্গে নার্িরের আলাপের নিদর্শনও অন্ভুত। নাদির তর্জন-গর্জন করে আসফ ঝাকে ফিরিয়ে দিলেন * অচ ইত্তিহাস স্পষ্টাক্গরে বলেছে আসফ বীর সঙ্গে ১৪ই ফেব্রুয়ারী সন্ধির সর্ভ- ৬০ বাংলা এরতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ স্থির করা হয়। মহম্মদ শাহের সঙ্গে যে ব্যবহার প্রেখান হয়েছে তাতে নাট্যকাঁরের নাদির চরিত্র সম্পর্কে, সমসাময়িক ইতিন্লুস সম্পর্কে ব দেশের শাসনকর্তাদের ব্যবহারিক জীবন সম্পর্কে সামান্যতম ধারণা আছে বলে মনে হয না। মহম্মদশাহের প্রতি নাদিরশাহছের ব্যবহার সর্বদা অত্যন্ত সৌভন্যমূলক | মহচ্মদশাহ সর্বদা নাদিরশাহকে মহামান্য অতিথির মর্যাদা দিয়েছেন । দিল্লীর হত্যাকা মহম্মদ শাহের চেইাতেই বন্ধ হয়। নাট্যকার অজ্ঞানতার পরাকাষ্ঠ! দেখিয়ে নাঁদরের মুখে সংলাপ দিয়েছেন-“যদি আপনি রাঙ্শশসনে ঘোগ্য হন উত্তম, ঘদি অযোগ্য হন, ভারতে মোগল শাসন পুবাতন ও অনাবশ্বক বলে পারত্যক্ত হবে । নাদিব শাহ দিল্লী ছেড়ে স্বদেশে ফিরে গেলেন । তাহলে কি ধরে নেওয়া হবে যে তিনি মহম্মদশাহকে রাজ্য- শাসনেব যোগা বিবেচনা করেছেন । নাদিরশাহকে নির্বোধ ভাবলে নাদির চরিত্রকে অবমাননাই করা হবে । দ্বিতীষ অঞ্ক প্রায় সম্পূর্ণ অনৈতিহাসিক | এই অঙ্কে নাদিরের মৃত্যু সংবাদ রটনার ঘটনা শুনে অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রায় নিরক্ষর নাদিরশাহ বিংশ শতাব্দীর ইওরোপীয় দর্শনে প্রাজ্ঞ এক পণ্ডিতের মতো উক্তি করেন--“জাতির জীবনী শক্তির পরীক্ষা হয় তার যুদ্ধেচ্ছার পরিমাণের দ্বারা 1” অর্থাৎ দিল্লীর নাগরিকগণ পারশ্য সৈন্যদের বধ করে “জাতির যুদ্ধেচ্ছার” প্রমাণ দিয়েছে । সব থেকে হাস্যকর পরিবেশন “শাহজাদা রেজাকুলী খাঁ_আহমেদ আবদালীর সঙ্গে তার গোপন ষড়যন্ত্র ।” অর্থাৎ নাদিরের পুত্র পিতৃহত্যার জন্য আহমেদ আবদালীর সঙ্গে ষডযন্ত্রে লিগ ন'দ্িরশাভ এই সন্দেহ করেছেন । এ্রতিহীসিক মতে প্রথম জন তথন পারশ্তে ও দ্বিতীয় জন আফগানিস্থানে । বরদাপ্রসঙ্গ লিখিত নাটকের অনুসরণেই আহমেদ আবদালী নাদ্রিশাহের একজন সেনাপতি ও প্রধান সহকর্মী। ইতিহাস আহমেদ আবদালীর সঙ্গে নাদিরশাহর এই সময় যে যোগ- সুত্রের সংবাদ দেয় তাতে আহমেদ আব্দালী নিকুষ্ট ভূত্যমাত্র ।৯৬ মক্তাটা শেষ ক্রাবাক। নাদিরণাহ দিখ্বিঞয়ী নাটকে বলছেন--রেক্বাকুলি মার আহমেদ আবদালী আমার দক্ষিণ হন্ত ও বাম হস্ত । সুতরাং দেখা যাচ্ছে দিখিন্তয়ী নাদ্বির শাহ হত্তহীন খঞ। এই তল নাট্যকারের কীতি ! ততীয় অঙ্কে দিল্লীর নাগরিকদের হত্যা করার আদেশ দিচ্ছেবলাদিকললাহ। নাদিব শাহ ৬১ মহম্মদশাহ যখন দয়া ভিক্ষা কবছেন তথন বল] হচ্ছে-“যদি করনালে আপনাব বাহিনীকে চর্ণ ও বিদলিত করে আপনাকে বন্দী করে আপনার রাজধানীতে প্রবেশ কবতাম তা হলে আমার বশ্ঠতা স্বীকার করাষ আপনার প্রঞ্জাদের কোন বাধা থাকত না|, এই ইতিহাস জ্ঞানবিহীন উক্তি সম্পর্কে টিকা নিশ্রযেজন। আবাব অসৌজন্তের প্রকাশ_ “কে আপনি মোৌগল-_তখতের কাপুরুষ উত্তবাঁধিকাবী” আবার “আপনি কৃতজ্ঞ না হলেও আমার কোন ক্ষতি হবে না|” দার্শনিক চিচ্ধায নাদিবশাহ বাঙ্গালী--ছুর্বল মানবের ঈশ্বঘের প্রতি ভক্তিও বোধ হয় কাপুরুখত ব নামান্তর । আবার কোন আলোচন। অপ্রয়োজন। এবার ন'ট্যকাব নাদ্দিবের 'জীবনের তত্বকথাকে স্পষ্ট বপ দেবাব জন্তেই দেখাচ্ছেন বে এই হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই নাদির পুত্রের সঙ্গে মহম্মদ শ|হের কন্তাব বিবাহ হচ্ছে । কয লাইন মুখরোচক সংলাপেব লোভ নাট্যকাব বা পরিচালক আটকাতে পারলেন না। নাদিব বলছেন_-“আমারই ইচ্ছায় জনগণ পরিপূর্ণ এই বাজপথ আজ শ্বশান। আব।)ব আমাবই ইচ্ছায় শ্বশান মুহুর্তে উৎসব সভাষ পরিণত হবে । আমি নীববতাকে মুখর করবো, তাষ্ণী নিশিকে সহম্র দীপমালিনী কবব। হ্য। আম বেচে আছ। আবার টিক। সম্পূর্ণ নিশ্রযোজন। বরঞ্চ অঙ্কেব শেষে দিল্লীর এক পতিপুত্রহীনা রমনীব নাদিরেব সামনে এসে ছুরি বুকে মেরে আত্মহত্য! করা অত্যন্ত নাটুকে হলেও অন্য ঘটনাগুলির তুলনা অনেক বেশী সম্ভাবা। এ ছাড়া আব যা আছে তা নাটকেব কথ! ইতিহাসের নয় । ভারত অভিযানের আট বছর পব অর্থাৎ ১৭৪৭ খ্রীষ্টাব্দে ৫৯ বছর বয়সে এক আততায়ীর হত্তে নাদিরশীহ নিহত হন। এই শেষ আট বত্সর তান বিলাসী সন্দিগ্কচিত্ত ও খামথেয়ালী হয়ে পড়েন। ইতিহাল এই শেষ আট বৎসর সম্পর্কে নীরব । কোন উল্লেখ যোগ্য ঘটনায় এই সময় আলোকিত নয়। ম্তরাং নাটকের শেষ ছুই অঙ্ক সম্পর্কে বলাব কিছু নাই। মহানন্দে নাট্যকার নাছ্িরের বেগমদের ঘধ্যে কলহ দেখিয়েছেন । নাদির তার কনিষ্টা বেগম ও জোপুত্রকে রন্বেহের চোখে দেখুছেন এবং বীভৎস ভাবেই তাদের মধ্যে প্রেমের আন্তার পাছেন। ফলে-পুর ঝঙ্ধ, স্ত্রী বিতাড়িত | নাটাকারের হাতে ধখন কলম তখন রব জ্যানববই সন । ব্যাবার বরছাপ্রসম্ধের সচুকরণ স্পই। ৬২ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা মির্জা রেজাকুলি পিতৃহত্যায় উদ্যত তাও দেখা গেল। নাদিরের বক্তবা» «পুরে বিষাক্ত হবে হারেম বিষক্ত হবে--পারিবারিক জীবন বিষাক্ত হবে । ঈশ্বর, ঈশ্বর, সম্ভবত তুমি নাই-যদি থাক তুমি শুধু জগতের শান্তিদাতা ।' পঞ্চম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে একদা পারশ্ঠ সম্রাট মহিষী খোরাসানের পথে প্রান্তরে গানগেয়ে বেড়াচ্ছেন । ইনি সেই ক্রীতদাসী যাকে নাদির প্রথম অঙ্গে বিবাহ করলেন । ইনি লাকি আবার হিন্দু বেগম--স্থতরাং নাদিরের ভূতপৃৰ বন্ধু ও যুদ্ধ সাচব এবং তাঁর দার্শনিক ছাত্র এ বিষয়ে আলোচনা করলেন । নাদিরের অধঃপতনে ভঃখ প্রকাঁশ করলেন। “হিন্দু বেগম? ধরা না! দিযে পালিয়ে গেলেন। অবশেষে শেষ দৃশ্য । নাট্যকার প্রথম থেকে যে গল্প শোনাতে চেয়েছেন তা হল পারশ্টের অভিজাতগণের নাদিবের বিরুদ্ধে ষডযন্ত্র। দিল্লীতে ন'ট্যকার নাধির শাহের যে বর্বর আচরণ দেখিযেছেন তার কারণ এই ষড়যন্ত্র এবং এই ষড়যগ্ের প্রধান নাঁদিরের প্রথম মহিশি ও তার ভাই যিনি নাদিবের পরামর্শদাতা। হিসাবে সর্বদ। তার সঙ্গী । বলাবাহুল্য এ প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ ইতিহাস বিরোধী । নাটকের নিয়মেই শেষ দৃশ্ে হিসাবনিকাশ ওষাশীল করা হয়েছে । বেগম ও পুত্রের জন্য নাদিরের ব্যথা প্রকাশ পেষেছে। কুচক্রীদের সব ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে গেছে। নাঁদির শাহ তার প্রিয় সেনাপতি আহমেদ আবদালীকে পারশ্য সাআাজ্যেব উত্তরাধিকারী ঘোষণা করলেন। অবশেষে নাদির শ।হ ও তার হিন্দু বেগমের একসঙ্গে মৃত্যু । আতভাষ" নাদ্িরের প্রিয় বন্ধু প্রতিবিধিতস্থ ঈশ্বরের আর এক প্রতির্নিধি । শেষ 'মম্গ ঢটিতে যে ইতিহাসের স্থান নাই একা আব।র বলার প্রয়োজন দেখি না। নাটকীয়তা ও হিন্দু বেগমের “সতীত্ব অতীব উজ্জ্বল রঙে আকা হয়েছে। নাদ্িরকে রক্ষা করতে গিয়ে “হিন্দু বেগমের” মৃত্যু ও শেষে নাদিরশাহেব হতা| দেখিয়ে নাটক শেষ হয়েছে ।৯৭ ১৯২৮ খ্রীষ্টান্দে পৃথিবী শান্ত | রুচিনীল পণ্ডিত শিশিরকুমার ভাছুড়ী বঙ্গ র্গমঞ্চের নবতম জ্যোতিষ্ষ। নাটকের ষধ্যে ইওরোপার দর্শন সম্ভবত এই কারণেই এত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে । ভাবতেন রাজনীতিতে তথনও মধ্যপন্থীদের প্রাবল্য। লাল! লাজপত রায়, বিপিন চল্জ গাল, মতিলাল নেহেক্ক ও আযানি বেসাস্ত তখনও সর্বজনঘান্ত নেতৃবৃদ । যব দপ মিলে কলিব্গতায় মিলিত নাদির শাহ | ৬৩ হয়েছেন ২রা ভিসেম্বর। ২৯ থেকে ৩১ শে ডিসেম্বর কলিকাতার কংগ্রেস অধিবেশনে মতিল/ল নেহেরু কমিটির সংবিধান গ্রহণ কর। হল। গান্ধিজী এক বছরের মধ্যে পূর্ণ স্বরাজের এতিশ্রতি দ্রিলেন।১৮ সামাজিক জীবনে ইওরোপীয় দর্শন ও চিন্তাধারা নৃতন ভাবে আসতে স্থরু করেছে একদিকে বেস্থাম ও এডামস্মিথ অন্য দ্রিকে মাক্স ও এন্ষেলস শিক্ষিত বাঙ্গালীর মনকে আলোড়িত করেছেন । নানা জায়গার “ঈশ্বরবাদ' ও “নান্তিকতা আলোচনার বস্ত হযেছে । এই সব চিগ্ভাধারার প্রতিফলনের ফলেই শাঁদগ্রিজয়ী” নাটকের উৎপত্তি। আভনষের চমতকারিত্ব সত্বেও নাটক হিসাবে নাদির শাহ পুব উচু সান পানি তার কারণ রচনার মপ্যে কোন উঁচু ভাব বা আদর্শ নাই। প্রচলিত নাট্যধারার থেকে পৃথক হলেও সেই চিরাচরিত নাট্যরীতি ষড়যন্ত্র বিশ্বাসঘাতকতার মধ্যে বদ্ধ থেকে গিয়েছে । নাদিরের মুথে যে প্রতিবিধিৎস্থু ঈশ্বরের রূপ দেওয়া! হযেছে শ্রীতচতন্তের দেশের দর্শক তা কোন সময়ে মনে প্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি । ইতিহ)সের বিচারে নাটকের বন্তব্য বা নাদিরের চবিত্র “কানটারই সঠিক বপাযণ হয'ন। একট। প্র থেকে ধায় (ব দ্রুটি নাটকেই নাদিরশীহকে কেন দিখ্বি- জ্ষীর বে” পর!ংণ হযেছে । “না'দরশাহ" নাটকে চীন, রুশিয়া, বাগদাদ, দামাঙ্কাস, হহুদির “দশ, আরবদের দেশ থেকে কাঞ্চনজজ্ঘা অর্থাৎ ভারছের উত্তরপূৃব সীমান্ত পর্যন্থ জয় করার ইচ্ছা! দেখংন হযেছে । “দরঘ্রজষী? নাটকের প্রথমেই বলা হয়েছে তুমি কি মনে কর পৃথিবী ভয়ে আম জপক্ড? ( প্রথম অঙ্ক পাতা-৭ ) কিছু পরে বলা হয়েছে “পারশ্ত বলতো শুধু তিহারাণ আর ইম্পাহানের চতুর্দিকের ক্ষুদ্র ভূ-ভাগকে” ( প্রথম অঙ্ক পাঁতা-১৭) তারপর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিতে বিভক্ত হয়ে যারা পরস্পরের সঙ্গে প্রতি নয়ত বুদ্ধ বিগ্রহ ব্যাপৃত ছিল--আঙ্জ তার! এক জাতি, এক ধর্মাবলম্বী ।” (প্রথম অন্ক পাতা-১৮)। প্রিয়বন্থ সালেহবেগের মুখে নাদিরের উদ্দেশ্টে বলা হয়েছে--“তুমি চাও প্রতৃত্ব, তুমি চাও পুজা, তুমি চাও মানবের রক্তে শান করতে--আমি চাই মানব জাতির মুক্তি! তুমি ভারত জয় কর, চীন জয় কর জগৎ জয় কর কিন্তু সালেহবেগকে আর দেখতে পাবে না (তৃতীয় অন্ধ পাতা-৬৯)। একমাত্র উত্তর এই যে, কোন নাট্যকারেরই নাঁদিরের ৬৪ বাংল খ্রাতিহাসিক নাটক সমালোচনা ইতিহাস জাঁনা ছিল না ফলে নানা গল্পে উপন্তাসে মে দানব চবিত্র দেখা গেছে তাকেই নাদধশাহ বলে দেখাতে ইচ্ছা হযেছে । কিন্ত নাট্যকারদয়ের সেট।ও ক্ষমতাষ কলাঁষ নাই । জন্তবত এক প্রচণ্ড অত্যাচারী চরিত্র দেখিষে বাঙ্গাণী দর্শকদের ইংরাজ এক্তির বিরুদ্ধে দ্বদ্দধ করাব জন্যেই ছু+টি নাটকেরই জন্ম । সেখানেও মনের ভয় বাধা স্ুষ্টি করেছে । “নাদিরশাহ” ও “দিপ্রিজফী” ুটি নাটকই সমসামধিক বিদেশী শাসনের বিরুদ্ধে ছুটি ছোট্ট প্রতিবাদ ছাডা আব কিছু নষ। নাদিরের র্লী অধিকারের ফলে ভারতের রাঁডখনাতক ছীবধনে আলোড়ন লক্ষ্য করা যাষধ। বাংল! স্থবার শাসনকর্তা নবাব সরকরা্ খা ( নবাব মুশিদকুলি খার দৌণ্চত্র ) নাদিরের নামে মুদ্রা গ্রচপিত করলেন। সম্ভবত £েবল নামমাত্র আর্কত হলে বাদশাহ মহম্মদশাহ ক্রদ্ধ হতেন না কিন্ত “্দলীর বাদণাহ নাদিরশাভ' লিখিত হওষাধ নাদিরশাহের ভারত ত্যাগের পর বাদশাহ মহম্মদশহ প্রতিশোধ নিতে দ্বিধা করেননি । ধন গিরিষার রণক্ষেত্রে ৯৯ এপ্রল ১৭৪০্খ্রীই্টান্দে বিদ্রোহী মভাসদ ও সেনাবতিনীর নেতৃত্ব নিয়ে বিহারের শাপনকর্তা আ।লবর্দি খা নবাব বাহিনীর বিরুদ্ধে দাডালেন তখন সরফবাজ খাকে ধ্বংস করার বাদশাহী ইচ্ছাও আরলবর্দি খাকে ভানান হয়েছে । মোগল দরবারে মারাঠা দূত বাবুরাও মলহর নাদিরশাহর যুদ্ধপদ্ধতি সম্পর্কে মহারাষ্্ নায়কদের অবহিত করায় মারাঠাগণ যুদ্ধের জন্ত প্রস্তত হন। রাজপুত রাজাদের মধ্যেও নাদিরের সঙ্গে বোঝাপড়ার প্রস্তাতি দেখা গেছে। নাদিরশাহের অভিযান সম্পর্কে যে সব বিবরণ আছে তা পেকে সাধারণ লোকেদের মনোভাব বোঝা যায়। আনব্বরাম, হরচরণ দাস, আব্দ,ল করিম, আলি হাজিম প্রভৃতির বিশদ বিবরণ আছে। দিল্লীর উপকণ্ঠে অবস্থিত ওয়াকিলপুরাতে অবস্থিত আনন্দরামের মহল্লাও আক্রান্ত হয়েছিল। 'এই সব বিবরণ বা ঘটনার কান খবরই নাট্যকারদের বিব্রত করে নাই বা তাদের কল্পনা! বাজ্যে বিচরণকে ব্যাহত করে নাই। কুতরাং "দেখা যাচ্ছে ষে নাদিরশাছের সম্পর্কে নাটক রচনা করার সময় ইতিহাস নয় কল্পনাই ছিল নাট্যকারদের মূল উপজীব্য । ডুরাণড নাদির শাহ ৩ সাহেবের গল্পে কিছু পরিমানে ইতিহাসের কথা থাকায় যোগেশ চন্ত্র চৌধুরীর নাটকে সামান্ত এতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায় কিন্ত বরদা প্রসর দাসগুপ্ুর নাটকে এ্রতিগাসিক তথ্য কিছুই নাই। নাদিরশাহকে নাটকের উপজীব্য করার তাই কোন স্পট কারণ অথবা সার্থকতা দ্রেখা যাষ না। নাট্যকারের খেয়ালে তার উদ্ভব ও বিপুপ্তি। নাট্য ইতিহাসে ঢইটি বুদধদ্র। ৯। ০৯ । ১১। ১২। সৃত্রনিদেশ 11917917018 [91011 0859 010109,7119 1170181) 51899, ৬/০।. 1৬ 0. 99. 11010. 0. 99-100. 11010. 0. 190, 1101৫. 0. 292. 1010. 0. 293. 18001118101 981181, [911 0 019 11091181 27710119, ৬০।. | 0. 199-111. 11010. 7911651 011811018 11910101091, 1115101 0 01971690017 ৬০611917৬০1. 111 0. 307-325 আগুতোষ ভট্টাচার্য্য, বাংল! নাট্য সাহিত্যের ইতিহ|স, দ্বিতীয় খণ্ড পরিশিষ্ঠ ৬৩১-৬৩৩ পাত! (দ্বিতীয় সংস্করণ ) 11917111৬19, 1311 [00917915, ৬০1. 11, 260. 90011191017 591121 0. 317-319. ভারতকোষ, চতুর্থ থণ্ড । ১৯৬-১৯৭ পাতা /১010111189581, 1119 89181106 01 2০0৬/6।1. 0). 9৪8-1209. 11911 11019, 18991 00010915, ৬০. ||, 60. 4/9001181 58181. 2. 319-329. ১৩। ৯৪ | ১৫ ১৬। ১৪. ১৮ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা যোগেশচন্ত্র চৌধুরী, দিগ্রিজযী, পঞ্চম অঙ্ক, ১৫৫ পাতা তদেব তদেব ১৫৭ পাতা 11811 11118, 000 011. 0. 111-112 দিপ্বিঞয়ী নাটক সম্পর্কে বিশদ সমালোচনার জন্য অগ্িত কুমার ঘোষের বাংলা নাটকেব ইতিহাস (দ্বিতীয় সংস্কবণ ) দ্রষ্টব্য, ৩০২-৩০৮ পাতা 9917691 01101018100 101171091, 00 01. 0. 397-325 বাজীরাও অষ্টাদশ শতাব্ধীর ভারত-ইতিহাসে বাজীরাওতুল্য কীতিমান সত্যই পাঁওষা সহজ নয়। মহারাজ শিবজী-প্রতিষ্ঠিত মারাঠা-রাজত্বকে বাজীরাঁও অর্থভারতব্যাঁপী বিস্তার করেন এবং মোগল বাদশাহকে দিল্লীতে এবং বাদশা- হের প্রধান ওমরাহ ও সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শক্তিমান নেতা নিজাম্-উল-মুলুক্‌ আসফ ঝাঁকে তার বাভ্ত্ব হায়দ্রাবাদে দ্বন্বে আহ্বান করেন। শ্বয়ং নাদিরশাহ বাজীরাও-এর বলবীর্যেব বিষযে অবহিত ছিলেন; সেজন্ত মারাঠা সাআঙ্টের অঙ্গম্পর্শ করেননি । বাজীরাও কিন্ত নাদ্িরশাহের সঙ্গে যুদ্ধের জন্ত প্রস্তুত হযেছেন। এই যুদ্ধ সংঘটিত হলে ছুই যুদ্ধপ্রাজ্ঞ সেনাপতির মধ্যে শ্রেষতর কে জান! যেত, কিন্ত সে সংঘর্ষ শেষ পর্যন্ত হয়নি। মহাবীর শিব্জী-প্রতিষ্টিত রাজত্বকে বাজীরাও সুদূরপ্রসারী করে সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘস্থাধী করলেন । অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাজীরাঁও- এর মতো পুরুষসিংহ আর হযনি। টিপুস্থলতান, নানা ফাড়নীশ, ও রঞ্জিত সিংহের কথা মনে রেখে এবং তাদের কর্মের সঙ্গে তুলনা করলে বাজীরাঁও- এর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সন্দেহ থাকে নাঁ। মনে রাখতে হবে যে তখন পূর্ব- ভাবতে ইংরেজণক্তি ক্রমবর্ধমান। তা সত্বেও পশ্চিম-ভারতে বাজীরাও স্বরাট ও বোশ্বাই-এর ইংরাজ ঘাঁটিকে এতটুকু প্রশ্রয় দেননি । সেদিন পূর্ব-ভারতে বাজীরাও তুল্য নেতা থাকলে ইংরেজ ব| অন্ত কোন বিদেশী শক্তি শাসনক্ষমত1 হরণ করতে পারত কিন! সন্দেহ । যমুনা! পর্যন্ত এলেও বাজীরাও পূর্ব-ভারতে গঙ্গানদীর সীমা অতিক্রম করেননি । মারাঠীশক্তি বাজীরাও-পুত্র বালাঁজী বাঁজীরাও-এর সময়ে বাংলাক্ুবা আক্রমণ করে। নবাব আলিবর্দি উড়িয্ত। প্রদেশ ও বাধিক ১২ লক্ষ টাক! চৌথ দিতে রাজী হন, ফলে আরব সাগর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যস্ত ও উত্তরে যমুন! থেকে দক্ষিণে কৃষ্ণা নদী পর্যন্ত মারাঠ প্রতৃদ্বের ব্যাপ্তি ঘটে। বাজীরাঁও বাংলাদেশে এলে ভারতের ইতিহাস যে সম্পূর্ণ অন্ত পথে যেত, সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। ১৭৪০ খ্রীষ্ঠান্ষেব মাত্র ৪০ বছর বয়সে অকন্মাৎ বাজীরাও-এর মৃত্যু হয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মারাঠীছত্রপতি সাহু তাঁকে পেশোয়া বা প্রধান ঘসীত্যের পদ্ধে ববগ করেন। -০ বছরের অব্রীস্ত চেষ্টায় ও যৃদ্ধবিগ্রহে ৬৮ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা বিশাল মারাঠা সাআজ্যের স্থায়ী ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হল। তাই এই ক্ষণজন্মা বীর মারাঠা কবিদের অন্প্রাণিত করেছেন। বহু কাব্য, গাঁথা, বিজয়গীতি ও প্রশস্তি তাকে নিয়ে রচিত হযেছে । চারণ কবিরা তীর জীবন নিয়ে বহু গাঁন রচনা করেছেন । পরবতী যুগেও ব:ছীবাঁও বহ রচনার বিষয়বন্ত | ভারতের শ্বাধীনতা-সংগ্রামের সময়ে নানা এতিহের সঙ্গে বাজগাবাঁও-এর কীতিও অবশ্য পঠনীয়। বাংলা ন/টকে বাঁজীরাওকে (দেখে অব!ক হবার কারণ নাই । বরঞ্চ বাঞীরও সম্পর্কে একাধিক নাটক রাচিত হয়নি দেখে আশ্চয হতে হয়। ব)ভীরাও মোগল ও নিজামী শক্তির বিরুদ্ধে তার নিজের জাতির ও রাষ্ট্রের ্বাধীনভাঁকে প্রতিষিত করেছেন। সেদিক থেকে তার কীতি ও বীবহব শিব, প্রতাপ সিংভ বা এরুগোোবনের তুলনায় কম নয। এইসব প্রাতঃস্মরণীয বীরগণ যেখানে সাফল্যলাভ করতে গাঁরেননি সেখানে বাঙ্ীরাও-এর সফলতা শোর্ধের ইত্তিগাসে এক অতুলনীয় সম্পদ বাজীরাও-এর জীবন সাফল্যের এক অভূতপূর্ব কাহিনী । ভারতীয় নায়ফ- দের মধ্যে বাজীরাও অবিনশ্বর । বাংলাদেশে বাজীরাও সম্পর্কে একমাত্র নাটক রচনা করেন মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ৯৯ জুলাই ১৯৯১ মহাসমারোহে এই নাটকের প্রথমা- ভিনয় রজনী উদযাপিত হয়। “বাজীরাও খোলার দ্রিন ফুটবল মাঠে ( আই-এফ-এ ) গীল্ড- ফাইনালে মোহনবাগান বনাম ঈ্ ইয়র্কদ্‌ খেলা ছিল। রাত্রি ৮|০টার সময় অভিনয় আরম্ভ কিন্ত ৭॥০টা বাজিয়া গেল; অনরেন্দ্রনাথ (দণ্ড ) স্বয়ং টিকিট-ঘরে বসিয়া আছেন, মাত্র মুষ্টিমেয় দর্শক দর্শনে তিনি চঞ্চল হইয়া উঠিলেন। কিন্তু বাঁকি এক ঘণ্টার মধ্যে যে কি বিপুল দর্শক সমাগন হইল, তাহা গণিয়া! শেষ করা যায় না। সকলের মুখে এক কথা মোহনবাগান শীল্ড জিতিয়াছে ৷ তাঁই অমরেন্দ্রনাথ পরের শনিবার বিজ্ঞাপনে লিখিয়াছেন_-101111 88981) 10983 ৬/০1) 06 911610, 3811 1780 185 891760 116 ৬/০101%. বন্ততঃ “বাজীরাঁও অভিনয় দর্শকসমাঁজে যেরূপ আন্দোলন সৃ্টি করিয়াছিল, বহুদিন সেরপ দেখা যায় নাই। বাজীরাও-এর তৃমিক! অমরেন্্রনাথ জালাইপ্! দিয়াছিলেন।”৯ বাজীরাও ৬৯ গ্রেট হ্তাশানাল থিষেটাবে এই অভিনয হয । নাটক ও অভিনযে নৃতনেত্বব আভাষ পেষে দর্শককুলে ও সমালোচকমহলে সাডা পরে গিয়েছিল । /511118 18281 2801118 ১৯-৮-১৯১১ শ্রীস্টাব্দে লিখলেন £ ”0998% ৬11 108 518990 018 178৬4 01017121381 380) ৬৬111011959 8116890 77908 ৬3159811017 117 [176 011৮.” ২ পবে স্টাব থিষেটাঁবেও নাটকটি আভনীত ভষ।৩ পুস্তকাকারে বাঁছশবাও-এব প্রকাশ ওই বছুবেই অর্থাৎ ১৯১১ শ্রীান্ষে।৪ ৮ বছবে, অর্থাৎ ১৯৯ খ্বীগাব্দে ওরশ সংক্ষবণ প্রকাশিত হয । সবধিক থকেই “বাজীবাও? নাটকেব জনপ্রিঘত, প্রনাণিত হযেছে। শতবাঁং এখন ন|টক সম্পর্কে অলেচনা কর্তবা। “খ'শবাও” ৫ অঙ্কে বিভক্ত এবং প্রাঙটি জঅ" গভীঙ্কে রক্ত! গভাঙ্কেব সংখ্য। প্রথম অঙ্কে ৫টি, দ্বিতীয অঙ্কে 'টি, তৃতীষ অঙ্কে ৭টি, চতুর্থ অঙ্কে ৮টি, ও পঞ্চম অস্কে ৫টি । মুখপত্রে “বাজীবাও এ&তিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক” লিপিবদ্ধ আছে। নাটক শুরু হখেছে মন্তানী নামে এক অপুব স্ন্দবী মুসলমান রমনীকে নিযে । ভাষজাবাদেব নিজামের ভযষে তিনি দেশ ছেডে পলায়ন করছেন। নি9া* বোষন। কবেছেন, মস্তানীকে ঘে আশ্রষ দেবে তিনি হবেন তার চিরশন্র । স্থতবাং অভিভাবক তোরাব খাঁকে সঙ্গে করে মন্তানী বিপদ- গ্রন্তঃ পশায়িত, সবদা নগামেব সৈন্সেবক ভযে শশঙ্কিত। এমন সমষে মলহর রাও হোলকারেব স্ত্রী গৌতমা তাদেব আশ্রষ দিলেন। মলহর রাও-এর প্চযে বলা হযেছে 'হপপুরের আম্দার”। এদিকে মালববাজ গিরধরের কমচাবী মন্তানাকে ধরে নিজামের কাছে পাঠাতে ইচ্ছুক । মলহর রাও মন্তানীকে আশ্রষ দেওষায় মালবগৈন হোপকারের প্রাসাদ আক্রমণ করল । প্রচণ্ড বীবত্ব দেখিযে অবশেষে তিনি মালবরাজের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। মন্তানীকে নিজের আশ্রয়চ্যুত করতে বা মালব- রাজের হাতে সমর্পন করতে মলহর রাও অস্বীকার করলেন । মালবরাজ গিরিধর তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করতে বলায় তাঁর সেনাপতি ব্লণ্জী (রণোঁজী) সিদ্ধিয়া বিদ্রোহ করলেন এবং মলহর রাওকে মুক্ত করে ৭৬ বাংল! এঁতিহাসিক নাটক সমালোচনা দুক্ত7নে পালিষে গেলেন। মলহর রাঁও-এর বাড়িতে পৌছান মাত্র মালব- সৈল্ত তাদের মাক্রমণ করল । সেই আক্রমণে যখন নায়কদল বিধ্বস্ত, তখন রণজ্ীর মুখে ভাষণ দেওষা! হযেছে £ “ভাইসব ! আমি তোমাদের সেই রণজী সিপ্দিষা ধার আদেশ একদিন অবনতমস্তকে পালন করেছ-যাঁর অঙ্কুলী হেলনে -” ইত্যাদি । শেষে “কিন্ত আজ আমি তোমাদের সামনে প্রভৃরূপে, তোমাদের আদেশদাতাকপে দীডিযে নেই” ইত্যাদি । অবশেষে --এই আমি তোমাদেখ সামনে বুক পেতে দিষে দডালেম। তোমাদের য! অভিকচি তাই কব।” (বাজীবাও--১ম অঙ্ক, চতুর্থ গভাঙ্ক, পাতা-_ ২৬-২৭ ) সৈন্যগণ তরোধাল তুলে দাডিযে রইল এবং বিন! বাধাষ নাষধকগণ গৌতমা ও মস্তরানীকে নিষে পলায়ন কবলেন। বণজী সিন্ধিযার এই ভাষণ দীর্ঘকাল পরে শচীন সেনগুপ্তেব “ঁসরাজদৌল্লাব” শেষদৃশ্তে সিরাজের শেষ ভাষণে প্রতিফলিত হযেছে । প্রমাণ করেছে যে, ১৯১১ থেকে -৯৩৮ শ্বা্টাবের মধ্যে বাংলা নাটকের ববর্তন কত শ্লথগতি। প্রথম অঞ্ক শেষ হচ্ছে মহারাজ সাহুর দরবারে । বাজীরাওকে পেশোষ! নির্বাচিত কবাধ চন্দ্রসেন ক্ষোভ প্রকীশ কবছেন এবং ওই পদ তারই প্রাপ্য বোঝাবার চেষ্টা করছেন । ইংরেজী ডেমোক্রেসির ছাযাষ বসে নাট্যকার চন্দ্রসেনের মুখে ভাষণ দিয়েছেন £ “আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে মহারাজ কাবো মত না নিয়ে এত শীন্র তাকে পেশোযাঁর পদে অভিষিক্ত করবেন।” আবার “বাজীরাও-এর বিরুদ্ধে ত প্রকাশ করাতে মহারাজ যদি রাজদ্রোহ মনে করেন তাহলে আমি নাচার ।” একটু পরেই বাজীরাঁও প্রবেশ করে একপৃষ্টাব্যাপী বক্তৃতা করে শেষে বলেছেন; “পতি প্রাণী হিন্দুললনাগণ অত্যাচারী দশ্থ্যদের কবলিত হয়ে ভীষণ নির্যাতন ভোগ কবছে। "-সীমান্ত অঞ্চলে আজ শোচনীয় অবস্থা সেই সব উৎসাদিত পল্লী হতে অনশনক্লিস্ট দবিদ্র প্রজার জীর্ণাবান ভেদ করে মর্মভেদী হাহাকার হাওয়ায় হাওয়াষ ছুটে এসে যেন আমার কর্ণপটহে আঘাত করছে ।” নাট্যকার সকলকে জানালেন যে, বাজীরাও প্রজার স্থথসমূদ্ধি চান এবং সেজন্ত তিনি পেশোয়াপদ ত্যাগ করতেও গ্রস্ত | কিন্তু বাংলা নাটকের নায়কের মতো শেষ পর্যন্ত তিনি পেশোয়াপদ ছাড়লেন না । অবশেষে গৌতম লমভিব্যাহারে মন্তানীসহ নায়কঘয়ের প্রবেশ। কিন্তু আশা বিফল হল। বাজীরাও ৭১ অহাবাজ সানু নিষ্াম ও মালবরালের সঙ্গে যুদ্ধের ভয়ে কিছুতেই তাদের আশ্রয় দিতে বালী হলেন নাঁ। তথন বাঁজীবাও বললেনঃ “আমি তোমাদেব আশ্রয দ্রেব--কোন ভয় নাই তোমাদেব |” গৌতম! শুনে বললেন “আপনি তাপে মান্ষ নন শাপত্রঈ দেবত1”। বস্তুত নাটকে বাজীবাওকে দেবতাবপে প্রমাণ কবাব চেষ্টাই হযেছে । আঁবাব একপাতাব সংল1পশেষে বাভীবাও আশ্বাস দিলেন “যেমন কবে হোক শবণাগতকে বক্ষা কবর । ভযষ নেই মস্তানী, আজ থেকে তু ম আমাব আশ্রিতাআমি আশ্রযদাতা ।৮ ৃ এইটাহ ঈ।ডালো নাটকেব মূশ প্রতিপাদ্য থে আশ্রিত এক মুসলমান স্বন্দবীব জন্য বাজীরাঁও নিঙ্গাম, মালব ও শেষ পঘগ্ত মোগলশক্তির সঙ্গেও ঘোব প্রতিদন্দ্িতা কবছেন। ইতিহাস-অক্ঞরত। য বীবপুজাঁব বাধাই হয, সহায হয় না, তাব প্রমাণ “বাভ্ীবাঁও, নাটকেব প্রতিছত্রে বযেছে। দ্বিতীয অক্ক শুক ভচ্ছে চ'সেনেব বিশ্বাসঘা *কতাব পবিকল্পন। দিষে। একাধাবে মস্থানীব প্রতি আসক্তি ও বাঁজীরাও-এব প্রতি ভিংসা চন্দসেনেব মালববাজেব সঙ্গে যোগদানেব হন্ধন হযেছে । মস্তানীব প্রতি প্রম নিবেদন কবে উপেক্ষিত হচ্ছেন চন্সেন। মালব-কর্মচারী খলদেব গৌতমাকে লাভ করাব জন্তে পুরুষবেশী গে।তমাব সঙ্গে পবামর্শ কবছে ও শেষ পর্যন্থ লাঞ্চিত হচ্ছে, দেখান হশ। পরবতী দৃশ্যে ব্রহ্েন্্রম্বামীকে বাজী বাও-এব গুরুদেবরূপে দেখান হযেছে । বাঞগীবাও মাঁলবরাজ্য আক্রমণ কবতে গেছেন এবং চন্জ্রসেন কাব পেছনে পেছনে গেছেন জানতে পেবে স্বয়ং মন্মানী সাহায্যের জন্য উপস্থিত । গুরুদেবের দলবল নিয়ে মস্তানী বাজীবাওকে সাহায্য করতে ছুটে গেলেন। এদিকে বাজীরাঁও মালবরাঁজকে বন্ধন করে, বন্দিত্বকামী মলহর রাওকে মুক্ত করছেন। পিপাসার্ত মালবরাজ ও তার কর্মচারী বলদেবকে ভুল দিলেন গৌতমা। অন্যদিকে চন্রুসেনের অকস্মাৎ আক্রমণে বিপর্যস্ত বাজীবাওকে বক্ষা করলেন গুরুদেবেব শি্তদের নিয়ে মন্তানী। এই যুদ্ধে মন্তানীব অভিভাবক তোরাব খাব মৃত্যু । এইখানে রাজনৈতিক সংলাপ বিশেষভাবে ডরষ্টব্য। বাজীরাঁও বলছেন, “গুরুদেব, অনন্ত আশায়-- অনন্ত উৎসাহে জীবনপাত পরিশ্রমে যে অজেয় সৈন্দল প্রস্তুত কবেছি, যানের সঙ্গে নিয়ে বীরদর্পে বিজয়উল্লাসে মাতৃঃ শ্রীভবানীর নামে মেদিনী কাপিয়ে আগ্রা- ৭২ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা ছুর্গের উপর সাতারার বিজয় পতাকা উড়িয়ে দেবার প্রতীক্ষা করছি,_আজ সেই সৈন্তদল নিয়ে আগ্রা না গিয়ে- মালবেশ্বরের বিরুদ্ধে অভিঘাঁন করতে হবে ?” ব্রহ্েন্দ উত্তর দিচ্ছেন “বাজীর1ও ! রান্জ। গিরিধরকে তুচ্ছ জ্ঞান কর না। শ্ল্পীশ্ববের প্রন পটপোদক এই গিরিধর ' ওকে দমন কর বাজীরাও ! দুশ্মাতি মাঁপবগতিকে আম্বও করে-বলদীপ্ত নিং।মকে উপধুক্ত শিক্ষা দিযে ঈশ্বাত্ত আবেগে আগ্রাথ ধবিত 5ও। আগ্রা ও দিলীর বিশালকাঁয় (ব্রার মোগল-তরুর উচ্ছেদ সাধন কর।”৫ বাশীরাও ছত্রে ছত্রে প্রতিজ্ঞারক্ষার ংকল্প নিযে একপাতা ভাষ+ দেবার পর এই অঙ্ক সমাপ্ত । দবিতীঘ অক্কে মন্তানী ন্যায়কা ও বাজীরাঁও নায়কবপে প্রতি*ত | মালৰ নিভীম, ও আগ্রা (দিল্লী নয?) বি্সের সংকল্প নিয়ে তিন দাত্রা স্থরু করেছেন বটে, কিন্ত তার কোনো কারণ কোথাও বলা হয় নাই | মারাঠারাষ্ট বা মারাঠী জ/তীযতা সম্পর্কে কৌনো কথা না দেখে আশ্চর্স হতে হয়। হিন্দুরাস্ত্র প্রতিষ্টার থে সংকল্প ছত্রপতি শিবগ্গীকে অন্রপ্রাণিত করেছে এবং মহারাষ্ট্র সাম্রাজ্য স্কাপন করে তাকে রূপ দিয়েছে তাঁরই পূর্ণ বিকাঁশ এতি- হাঁসিক বাজীরাও-এর চরিত্রের প্রধান উপকরণ । শিবজীবংশ্রে কারে মনে অখিল ভারতীয় হিন্দুপং-পাদশাহীর চিন্তা আসেনি , এসেছে ছত্রপতির ব্রাঙ্ণ কর্মচারীপ্রধান বাশীরাও-এর মনে | বজনঘাজন পঠনপাঠন ছেড়ে তিনি সামাজ্যাবস্তারে মনোনিবেশ করলেন এবং রাপুতানার রাজাদের সঙ্গে সখ্যতা স্থাপন করে হিন্দুপৎ-পাদশাহীর পরিকল্পন।কে দৃঢ় ভিত্তির উপর স্থাপন করলেন। বাভীরাও ঘে কত বড রাজনৈতিক ছিলেন, তার প্রমাণ পাই বখন দেখা যায় তিনি মেব|বের মহারাণাকে প্রথম হিন্দু গাদশাহ হবার অন্তরোধ জানান। মহাপরাক্রান্থ বাারাও উভাবেই র।জপুতদের দিল্লীর ৮তাকাতল থেকে সরিয়ে নিলেন । বাজীরাও নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কে এই বিষয়ে আলোচনা করার যথেষ্ট স্থযোগ ছিল। নাট্যকার সে সুযোগ গ্রহণ না করায় সন্দেহ হয় যে, বাজীরাও সম্পকে উ্রতিহাসিক জ্ঞানের অভাব এই ক্রটির প্রধান কারণ । _. বাঙ্মীরাও মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন ধার্মিক সন্নাপীকে ভক্তিশ্রদ্ধা জানাতেন; কোনে! একজন ব্যক্তি তার গুরু ছিলেন, এমন প্রমাঁণ পাওয়া যায় ন!। হিন্দু বাজীরাও ৭৩ রাজত্বে গোত্রাঙ্গণ» বিশেষ সন্্যাসীদের বে বিশেষ সম্মানের আসন থাকবে, এটাই বাজীরাও দেখাতে চেয়েছেন । সামাভিক ও বাঁজনৈতিক দিক থেকেও এই শ্রদ্ধা-ভক্তি জানানর প্রয়োগন ছিল এবং তাতে শ্ুফল ফলেছিল | নাটকে তাই ব্রন্দেগ্রস্বামীকে বাঁভশবাও-পুরু খলে দেখান যেমন ভুল হয়েছে, তেমনি ভূল ভযেছে এই সন্তযাপীকে সামরিক শিক্ষক হিসাবে কল্পনা করা। বলা হয়েছে যে রথে « ত্বামীর শিল্কবা (মন ধর্মাচরণে তেমনি সুাবগ্ভাষ পারদশা | বাগবাও বা মক্তানী বশ্জেদ্দের এই যোদ্ধা-"সুদের সাহায্য গ্রহণ করেছেন। এই বক্তব্য বা৷ ঘটনা সম্পূর্ন অনৈ।তষা(সক। ত্রন্েত ধশান আচার-্ঞষ্ঠ।ন ভি তার শিল্কপন্্রদাঘকে কোনো ববম সাববিকশিমা দেননি । বর রদ শ্রের ধর্্ন্ান বিন গলে বাজীরাও ঘুল্গযীত্র। কবেছেশ। ব্রদ্দেকে “আনন্দমস্ণের সন্যাসীদের মতো লেখক কণ্পনা করেছেন এবং যুদ্রপারঙ্গম সন্যাসীসৈন্যের সৃষ্টি হযেছে কেবলমাত্র সেই কারণেই | মনে রাখ! কর্তব্য যে, আশন্দমঠেব সন্যাসীরা এতিহাসিক ব্যক্তি নন ( বন্িমচন্দ্ চট্টোপাধ্যায রচিত “আনন্দমঠে্র এতিহাসিক ভূমিকা : বছুনাথ সবকার ) বঙ্গীয-সাহিত্য-পরিষৎ সংস্করণ )। শ্তরাং তাদের প্রতিবিঙ্গে বে মারাঠা সন্ধ্যাসীসৈন্য স্ষ্টি হল, তাও সম্পূর্ণ ভুল। তাই আমর! অবাক হযে দেখলাম যে, প্রথম অঙ্কের পরিপূর্ণ কাল্পনিক নাট্যারভ্তের পর দ্বিতীয় অঙ্কে ইতিহাস- কাশ ও এতিহসিক ব্যক্তিদের ছাষা পড়েছে বটে, কিন্তু অগ্তগামী সর্ব যেমন উদ্দেশ্বাহীন রিরাট প্রলদ্থিত ছাযাঁর কৃষ্টি করে তেমনি ব্যক্তি ও কালের ছাযা কাষা হবার কোনো সুযোগ পাষ নাহ । ক্ষণেকের চনত দথ। দিষেই অন্ধান্‌ করেছে। ইতিহাস হয়ে গেছে কল্পন।, যা ধাপে ধাপে বপ নিষেছে কষ্ঠকল্পনার এবং সমন্ত নাটক জুড়ে দেখা যায় কষ্টকল্পনা দানবেব অশা* দাপাদ।পি। এবার তৃতীয় অঙ্ক থেকে নাট্যকার কি বলতে চেয়েছেন, দেখা বাক। তৃতীয অঙ্কে চন্্রসেন তরবারি হস্তে প্রবেশ করে প্রতিহিংসা, সাথসিদ্ধি, শক্রর নিপাত প্রভৃতি ভাষণে তাঁর মনের ভাব ব্যক্ত করেছেন। তার সঙ্গ মালব রাঁজকর্মচারী ( বয়স্য বলাই যুক্তিসঙ্গত ছিল, এমনই ভাড়ের মতো চালচলন ) বলদেব। ইতিমধ্যে তার! রণজীকে একলা পেয়ে বধ করতে উদ্ভুত, এমন সময়ে রণরঙ্গিণী বেশে গৌতমার প্রবেশ এবং তার কথায় উদ্ধ হয়ে মালব- ৭৪ বাংলা এতিহাসিক ন!টক সমালোচনা সৈম্কদের বপজীর সৈন্সদলে বোগদান। বণজী মালবরাজ গিরিধরকে পবাজিত ও বন্দী করলেন। কিন্তু যখন বাজা গিবিধব আত্মহত্যাষ উদ্যত এবং তাঁব স্ত্রীগণ ৬াকে অন্তগমন কবতে প্রস্তত, তখন রণজী “চোখেব উপর ব্রঙ্গহত্যা- স্ত্রীহত্যা দেখতে পাবব না” বলে তাদেব সকলকে মুক্ত কবে দ্রিলেন। বাঁজীবাও এই খবর পেষে বিচলিত হলেন, কিন্তু রণজীব উদ্দাৰ মনেব পবিচন়্ পেয়ে তার ওপব অত্যন্ত তু্ট হযে বললেন “আবও অধিক তুষ্ট হযেছি বন্ধু তোমাব সত্যশিষ্ভায |” ( ৩য অঙ্ক ৩য গতাষ্চ, পৃ ৭৯) এই অক্কেব শেষেব দিকে কয়েকটি বিশেষ সংলাপ বাজীবাও-এব মুখে দেওয়া! হযেছে । প্রথম-_প্রণজী । পেশো- যাব সিংহাসনে আবশ্তক নাই, পেশোষা বাজ্যকামী নব”। দ্বিতীষ-_«এই মুহুর্তে আমাদেব কর্ণাটে অভিনান কবতে হবে ।” এই ছুইটি বক্তব্য সম্পর্কেই বিশদ আপোচনাব প্রযোজন আছে এবং ঘথা সমযে তা কবা হবে। চতুর্থ গর্তাঙ্গে নিজাম বাহাদ্তব প্রবেশ কবে দেডপাঁতা ভাষণ দিচ্ছেন। নেক এতিহাসিক কথা ব্ভাবতই ভাব মুখে বসান হযেছে। যেমন-_“দি্লীশ্বব মহম্মদ শাহ-ব মন্ত্রিত্ব উপ্ঙ্গা কবে দক্ষিণাত্যে স্বাধীন স্বতন্ত্র মুসলমান রাজ্য প্রতিষ্ঠাব যে বিদ্রোহ ঘোষণা কবেছিলাম তাঁতে আমাবই বিজয় হল। আগ্রা আক আমার পবাক্তান্থ প্রতিদবন্বী সৈযদ শভ্রাতৃযুগল নেই, দি্নীশ্বরেৰ সে বিশ্বব্যাপী বিক্রম এখন স্তিমিতপ্রায়, নিজামই এখন হিন্দুস্থানেব অদ্ধিতীয় শক্তি। এখন আমার একমাত্র প্রতিদ্বন্বী পেশোযা বাজীরাও | আশা ছিল, আমার রাজ্য হতে পলাধিতা মশ্তানীকে উদ্ধার করার অছিলাষ আমি সাতারা অভিযান কবব। মহাবাষ্ট্র রাজধানী অধিকার করে মুসলমান গৌরব পুনঃ- প্রতিষ্ঠা করব ।” কিন্তু তা হল না । গৌতম মুসলমান বালক সেজে নিভামকে ভুল খবব দিলেন, ফলে নিজামের ত্রিশ হাজার সৈম্ বুরহানপুর অভিমুখে ত্ববং নিজামের নেতৃত্বে যাত্রা করল। মলহর রাও হোলকার পত্বীর বুদ্ধিবলে অবশিষ্ট নিজামীসৈন্তকে পরাজিত করলেন । ষষ্ঠ গর্ভাঙ্কে মন্তানী রণবঙ্গনী বেশে বাজীরাও-এর পশ্চান্ধাবিনী। নিজাম ও তব সৈ্দল যথন নৃত্যগীতে ব্যস্ত, তখন বাজীরাও-এর আক্রমণে ছত্রভঙ্গ , হয়ে গেল। নিজামপক্ষে দেখান হয়েছে নিজাম, গিরিধর, চন্দ্রসেন, শল্তজী, “বলদেব ইত্যাদি । স্থান গোদাবরীতভীর-_পশ্চাতে সেতুবন্ধের দৃশ্ত ৷ (গোদাবরী- বাজরাও ৭৫ তীরে এ কোন সেতুবন্ধ ? ) যুদ্ধে জযী হযে বাজীরাও তব প্রতিপক্ষদেব বন্দী না কবে মুক্তি দিযে তাব ওদার্য প্রদর্শন কবলেন। জযেব চবম মুহুর্তে খবৰ এল যে, বুন্দেশাগপ প্রযাগেব হখেদাৰ মহম্মদ খা বঙ্গল দ্বাবা আক্রান্থ। বুন্দেল।বাজ ছত্রশাঁল বাজীবাও-এর স হাঘ্যপ্রার্থ। এখানেই জনা গেল যে, মণ্তানীব গম্স্থান খুন্দেলা। স্তবাং মন্জানীব সনির্বন্ধ অনভবেধে বন্দেলখণ্ড যাত্রাব প্রাক্কালে জানা গেল যস্তানী মভাবাজ ছত্রশীলের কনা । (র্থীৎ হিন্দু ও ব্রাহ্মণ--পেশে।য"ব সঙ্গে বিবাহেব উপ্যুক্ত পাঁএী ) | স্বৃতবাঁং বণভী ও মলহব বাও-এব উপব আগ্রা5যেব ভাব অর্পন কবে বাঁভীবাও মস্তাঁনী স্মভি- ব্যাহাবে বুন্দেশখণ্ড বাত্রী কবশেন। এইখানে তৃতীয অঙ্কেব পাবসমাপ্তি। প্রথম তিন অঙ্ক জুডে দেখা গেশ, মালবেব সঙ্গে যুদ্ধ এবং তৃতীষ অঙ্কে নিজাম মাপব উএসেন ও ৭ভ্তাজীব মিলিত শক্তিব সঙ্গে যুদ্ধে ভষল ভ এবং বুন্দেলথণ্ডে যুদ্ধযাত্রা। এবই মাঝে পেশোয়াকে সিংহ।সনে বসাবাব কথা একবাব আলোচিত ইযেছে এবং মন্তান*্ব পরিচযে বশা হযেছে, তিন মুসল- মান নন, ববং ব্রাহ্মণ মহাবাজ ছব্রশালের কন্তা | চতুর্থ অঙ্ক অবশ্যন্তাবীভাবে বাজীবাও-এব জয ও মস্তানীকে বিবাহ কবাৰ পৰ শপ হযেছে। বাতীবাও খুসনমান বিবাহ কবেছেন শুশে সৈম্তবা ভগ্মে ৎ- সাহ। বগীবাও মন্দানীব প্রেমে ক্লীবে পবিণত হযেছেন, সমস্থ যুদ্ধোগ্ম হাঁবিয়ে আগ্রাভযেব প্রতিজ্ঞা ভুলে বসে আছেন। (কি আশ্চর্য। এতাদন বস্তানীকে সদাসঙ্গিনী পেষে কোনো বিভ্রম “দথখ! দেষনি , বিব।হেব পবেই এই অধঃপতন । ) কিছুতেই বিশ্রামাকাজ্বী পেশোযাকে কর্মে উদ্,দ্ধ কর! গেল না। তিনি মন্তানীকে নিষে অবকাশঘাঁপন করতে লাগলেন। স্বয়ং মন্তানী তাব নিদ্রা ভাঙাতে পারল না। সংলাপ-_-বাজীরাও বলছেন, “চাবিদিকে আগুন জলে উঠৃক জ্বলতে দাও-_তারপর যখন আমার কুস্তকর্ণের নিদ্রা ভাঙবে-__ বিশ্রাম-বাসন! টুটবে তখন আবার আমি পেশোযা হযে দীড়াব।” কিন্ত তিন মাস পরেও পেশোয়ার নি্রাভঙ্গ হল না। প্রমোঁদকুঞ্জের রক্ষীকে হত্যা করে রণজী পেশোয়া-সকাশে উপনীত হলেন। তত্র ভৎসনাতেও বাজীরাও অটল। মন্তানীর কথার উত্তরে রবীন্দ্রনাথের রাজরানী নাটকের রাজার মুখের সংলাপ এসে যায়। বাজীরাও বলেন, “তুমিই সেই মজ্জমান জীবনতরণীর ৭৬ বাংল। এতিহাসিক নাটক সমালোচন। মঙ্গল কিরণবষ | ক্রবনক্ষত্র । তোমার ওই গভীর অপ্রমেয় অনন্ত প্রেমই আমার অবলম্বন ।' ( চঠুর্ধ অঙ্ক $তীষ গর্ভীঙ্ক, পৃৎ ১১৮ । ) অগত্যা পেশোয়াকে শস- ্মানে প্রতিিত কবতে মস্তানী আম্সহত্যা কবে পথ মুক্ত করলেন। পবেব দৃশ্যে বাজীরাও মহার'্ট্রশিবিরে উপস্থিত হযে শুনতে পেলেন, তার নিষ্বান্য সাতাবা শক্রথার! আক্রান্ধ। “মোহের ছলনায় যে সর্বনাশ” হযেছে তাব প্র!ষশ্চিন্ করতে ধাজীরাঁও সাতারা চললেন । দেখান হযেছে, বাশীরাও পুত্র বলজগী আক্রান্দ এবং ভসিনীশণ্ত শঙ্কর দঙ্্যব হাতে হত। গৌওমার বীবন্থ ও বাজীবাও-এব বিশ্বপ্ত 'অনুচব রাথবের চন্রেসেনেব হাতে মৃত্যু । এই মৃত্যুপুবীতে বাজীবাও-এব সদপে প্রবেশ ও শোক । প্রস্তাব করলেন, “শঙ্কর বাঁও-এব হত্যাকাৰী এ বিশ্বাসঘাতক ব্র্যন্বকরাও-_-আমি ব্র্যন্কের মুতদেহ চাই | দ্দিতীষ প্রশ্তাব-পপর্ত,গীজশন্ ধ্বংস কর। মআঁমাব সমস্থ রণপোত নিষে-_.নীসেনাপতি আংগ্রের সাহ।য্যে ' বন্দরে অভিযাঁন কর |” চতুর্ণ অঙ্গে মপ্তানীব মৃত্্যুব সঙ্গে সাতাঁবাব আক্রমণ ও বাঁজীরাও-পক্গীয- দের মুগ্াকে বৃক্ত কব। হযেছে । মনে হয, পতু গাজদেব বিরুদ্ধে অভিযান বাঞীব”ও-এব “কাঁধের এক কারুণহ্থীন প্রকাশ । বাজীবাও-এর পুত্রকে এই অগ্জে দখতে পাহ । পঞ্চন অঙ্গের শুরু ববোদাব ডভই প্রান্তর । প্রতিপক্ষ চণসেন, পিলাজী ও ত্রযম্বকরাও | দৃগ্তশেষে পতুগীজবন্দর অধিকার ও পত্ুগীন্গশক্তি বিধবন্ত »বার সংবাদ ও ত্র্যন্বকরাও-এর মৃত্যু | প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বাজীরাও-এর বিরুদ্ধে বিরাট রাষ্ট্রসংগঠনের অভিযান । : প্রতিপক্ষ দিল্লী, অযোধ্যা, জয়পুর, যোধপুর, ঘশল্পীর, নিজাম, মালব, রোহিলা । ভূপাল রণস্থল। তিনলক্ষ সৈন্তের বিরুদ্ধে এক] বাঙ্গীরাও | এই বুদ্ধদৃশ্য চমৎকাব। সমস্থ নাটকের মধ্যে এই একটি শ্য সত্যই স্থরচিত। অবশেষে বাীরাও-এর জ্য। ংলাপ--“আমি দিল্লী- বরের প্রার্থনা গ্রহ কবলেম। বাদশাহ মহম্মদ সাহকে সিংহাসনচাত করে শামি মুসলমান সমাজের হাদযে আঘাত হানতে অনিচ্ছুক । জগন্মান্ট দিল্লী- ধরের বিপন্ন বংশধরকে নিরাশ্রয় না করে পুত্তলিকাবৎ সিংহাসনে বসিয়ে বাণাই আমি সঙ্গত মনে করি। হিন্দুস্থানে শান্তিস্থাপন আমার অভিপ্রায়-_ ুসপমানদের সর্বনাশ আমার ইচ্ছা নয় ।” মারাঠা রাজ্য স্থাপন বা তার পরিধি ৰাঞরাও ৭৭ বিস্বাতি বা চৌথ আাদাষ সম্পর্কে কোনো আলোচনা নেই । তখনকার দিনে হিপ্রন্থন বলছে নর্সদা নদীর উত্ভবভাগের ভারতবর্ষকে 'বাঝাত। কখনে। কখনো গোদাবরীর উত্তরকে বলা হাঠ হিন্ুস্থাম ও দাক্ষণভাগকে ব.1 োত থালি দক্ষিণ_যা থেকে 0০০81 কথাটির উদ্ছন হযেছে । নাট্যকার সব- ভাব অর্থে হিন্দুস্তান কথা? খাবভাব করেছেন । নাট্যকার এইবার মহারাষ্টর- পতি সার বাঞীরাও-এব পবাক্রমে ভীত হবার দৃশ্ঠ দেখিষেছেন। চন্দসেন সাহুকে বলছেন, “আমি সেহ চ"সেন-যার অসিবলে আপনার সিংহাসন সাঙারায় স্থপ্রতিগিত হযেছিণ 1” ( হতে পারে এই মিথ্যা গব নাট্যকারের ইচ্ছে করে দেওয়া, উদ্দেশ্য চক্দ্রসেনের হীন চরিত্র প্রমাণ করা ।) সাহু শেষ পর্যন্ধ ব! শরাওকে গুপ্তহত্যা করতে অস্বীকার করে চক্ফসেনকে বিতাড়িত করলেন । অবশেষে মলহর রাও হোলকার এসে সাহুর ভষ অপনোদন করে বাঞরাও-এর রাহভক্তির নিপ্শনগ্ল “মহারাজেব হন্তে অর্পণ করছেন |” সাহু তথন বশছেন “উদাব কর্তব্য।নষ্ঠ বীব-__আমাষ মার্জনা কর ।” নাটক শেষ হযে আসছে । সুতবাং রাঁঘবের পত্বীব ছুবিকাঁঘাঁতে চন্দসেনের মৃত্যু হোল (৫1৫১৫ -১৬৯)। বাভীবাও তাব গুরু রন্দেন্জকে হানালেন ধে, তার জীবন সম্পূর্ণ-আগুক্কাল পূর্ণ । তিনি গুকদেবকে প্রণাম করে পুত্র বালাজীকে নানা সছুপদেশ দিয়ে তাকে মারাঠ। দরবারে তার বিপক্ষ- দলীয়দের হাতে সমর্পন করলেন । সকলে মুগ্ধ ৷ বাঁজীরাও-এর পতাকাতলে সমস্ত মারাঠা নায়কগণ একতাবদ্ধ। এই শুভ সন্ধিক্ষণে রাজীরাও-এর মৃত্যু | পিলাজীর সংলাপ, “মহাপ্রাণ নরদেবতা ! নরকের অন্ধকার থেকে পৃণ্যের আলোকময় পথে আমাদের পৌছে দিয়ে চলে গেলে তুমি !” বাঙীরাও নাটককে বিশদভাবে আলোচনা কর| হোল, কারণ প্রচুর এরতিহাসিক ঘটনা নিয়ে অনৈতিহাসিক নাটক লেখাঁৰ এমন উদাহরণ বিরল । এরতিহাসিক ঘটনাবপীর তুল প্রয়োগ ও তুল ব্যাখ্য। নাটকটার নামাবলী। অথচ এই ভুলের মধ্যে যোগস্থত্র এবং কীতি ও কর্মের গঠন আছে। সুতরাং বলা চলতে পারে যে, কালের গণ্ডী ও এরতিহাসিক প্রয়োজন উপেক্ষা করে নাট্যকার তার ইচ্ছামতো এক মমোরম গল্প রচনা করেছেন। এইজন্চেই মন্তানীকে নিয়ে নাটক শুরু হয়েছে এবং তার মৃত্যুর কিছু পরেই নাটক শেষ ৭৮ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন। হয়েছে । নাট্যকার মণ্তানীকে বাঙাবাঁও এব জীবনেব সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত কবেছেন ঘে মনে হওষা স্বাভাবিক খে» মস্তানীকে বক্গাব জন্তই বাজীরার-এব সমন্তজ ভীবনেব বত যুদ্ধবিকম ও সখবসক্ষা । এই চিন সম্পূর্ণই কবিকল্পন। | মন্টানীব ইতিহাস বদিও উপন্ত।সেব .খকে ও মখুব, কিন্তু বাভীবাও নাটকে তাব কোনে আভাৰ নাই । ক্ুতবাং সকলেব জ্ঞাতার্থে মন্তানীব ইতিভাঁস বলাবাক। ভরত-ইতিহাসে ছত্রপত শিবজীব সখ থেকে বডদান কেবল মাবাণ! সাআজ্য স্থাপন নয, এগলশাসন ও অত্যাচাবেব বিকদ্ধে ছোট ছোট বাষ্ট্রেব বিদ্রোহ কববাব সাহস ₹ গান । শিব শব মুঙ্যব পৰ থেকেই এই ব্যবহাৰ স্পষ্ট । শিবভজীব মৃত্াব দীবদিন পবে ১৭২৮ খ্ী্াব্দে ছোট্ট ছত্রশাল বাজত্ব মোগলশসনেব বিকদ্ধো বদোভ কব।। পান্না ছিল ছত্রশালেব বাজধাঁনী । এই বিদ্রোহেব “মাঝাবিল' কখতে এতেন বিখ্যাত মোগল সৈঙ্গাধ্যক্ষ পাঠান শেতা মুহম্মদ থ বস । হস ব যশ তখন ৭৭ সব ( জম্ম ১৬৫০) 1৬ ১৭২৮ শ্বীাব্দেবোডমেম্বব শনে *ভম্মদ খা খঙ্গসেব অঞিথ।ন শুরু হল। কিছুতেই -ন।শালশ ও নত 5. পূব ৩৭ এ যাবাঠা প্রহ্থত্ব স্বীকাব কবে সাহায্যপ্র খী ভঙেনব গীবাও «এ (০৮. বাজীবাও তখন মলবজগে ব্যস্ত । ১২ শাচ ১৭২৯ খা ভেখ। শাব। পঁ ১» হব শেম্ত আরাবশ্বাসী সহকাবী- গণ যেষনাপশাভাী যব, শ।খে। কব, টরকোত্ী পাওখাব এবং দীভিলজী সোমবংশী সহ বঙ্দসকে আঞ্খখ কবলেন । ম।বাঠা যুদ্ধের প্রধান রীতি স্ুখসমরে অবতীর্ণ না হও। ছ।ট ছোট দলে বিভক্ত অশ্বারোহী সৈম্ ক্রমান্বয়ে তাত্র আক্রমণে শক্রপক্ষকে বিপযস্ত করল । পঞ্চাশ হাজার সৈম্ত নিয়ে মুহম্মদ খ বর্গস মাবাঠাদেব ক্রমাগত আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত হযে উঠলেন, অবশেষে সম্পূর্ণ পবাজিত হয়ে পশধষিন করলেন। তিন হাজার ঘোড়া ও ১৬টি হাতি মারাঠা করতলগত হুল । চার মাস আগে মোগলসআ্াটকে মালব- রাজ্য হারাতে হয়েছে , এবার গেশ বুন্দেলখণ্ড। ক্রোধে অধীর বাদশা পরাশ্িত মুহম্মদ খঁ। বঙ্গদকে পদচ্যুত কবে সরবুলন্দ খাকে এলাহাবাদের স্বাদ্দার নিযুক্ত করলেন। রাজা ছন্রশান্স এই অপূর্ব জয়ের প্রতিদানে বাজী- ক্লাওকে মন্তানী নামে এক.অপদ্ধপ এন্দরী মুসলমান নর্তকী উপহার দিলেন ।? ৮৭২৯ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসের ঘটন1 1৭ বাজীরাও বে বল! বাহুল্য, তৎকালীন ভারতবর্ষে এইরকম উপঢৌকন দেবাৰ রীতি গ্রচলিত ছিল। মোগল হারেমে হিন্দু ও মুসলমান রমণীর অভাব কখনই হয় নাই । এদের মধ্যে কেউ কেউ বাদশাহের বেগম হবার সম্মান লাভ করেছেন। হুগলিতে পতু গীজদের হাবিয়ে ১৬৩২ শ্বীষ্ঠাবে কাশিম খা সাতজ্ঞন পতু গীজ ধমণী সআাট সাজাহানকে উপৌকন দেন। দারার কাশ্মীরী বেগম নর্তকী স্িলেন এবং সম্ভবত ধর্মে খ্রীষ্টান ছিলেন। দারার হত্যাকাণ্ডের পর ওরঙজীব ভ্রাতৃবধূর রূপে মোহিত হযে তাঁকে বিবাহ কবেন ; নাম দেন উদ্দিপুবী বেগম । এ'রই গর্তজাত পুত্র কামবক্স মোগল সিংহাসন পাবার চেষ্টা করেছেন এবং তার উত্তরাধিকাবী মোগল মসনদে উপবেশন করেছেন। হিন্দু রাজাদের মুসলমান উপপত্ধী থাকত। তাদের পুত্রকন্থাগণ প্রাযই নানা রাষ্ত্‌ স্থাপন করেছেন বা সাম্রাঙ্গ-স্থাপযিতার অর্ধাঙ্গিনী ব! অস্কশায়িনী হয়েছেন । বাজী- রাও এবং মস্তানীর পুত্র পামসের বাহাছুর বান্দা রাজত্বে নবাবি স্থাপনা করেন। তাব বাঁষক আয ছিল ৩৩ লক্ষ ট।কা। বলার কথ! এই বে, স্ন্মরী স্ীলোক গ্রহণ ব' দান প্রাক-ইংবেগ ভারতীয় সমাজের প্রচলিত ব্যবস্থাবলীব অন্যতম ছিল। মন্তণ্ীব বংশপবিচয পাওয়! যায না। প্রচলিত কথিকা "ব, হিন্দু “গত ও নুসলমান নর্তকী মাতা মস্তানীর জনকজননী । উপন্তাসেব প্রয়ো জনে ছত্র- শালক্ে পিতৃত্ব আরোপ করলেও তার কোনো! এঁতিহাসিক প্রমাণ নাই। এতিহা সিক কাগজপত্রে মস্তানীর নাম পাওয়া যায় ১১ জাঙ্ছয়ারী ১৭৩০ খ্রীঠান্ে বাশীরাও-এর প্রথম পুত্রের বিবাহ উপলক্ষে। মন্তালীর প্রতি ভালধাত। ৰাগীরাওকে তার আত্মীয়ত্বজনমহলে কলক্ষিত করেছে । পুত্রের বিবাহের সময়ে যুদ্ধের অছিলায় তাকে বাইরে থাকতে হয় । ওই বছরে পুনার ।শানিগার প্রসাদ তৈরী করালেন বাজীরাও 'স্তানীর জন্ক | ১৭৩৪ ইীইাখে তাঁদের পু সামসের বাহাছুরের জম হোল। মারাঠাগণ মগ্য ও মাংস বর্জন করে চঈগতেন, কিন্ত রাজপুতগণ ঘরগুলি গ্রহণ করতেন। উত্তর ভারতের বিলাসব্যসন দেখেই 'ার্জীবাঁও মগ্য ও মাংসে লক হয়ে পডেন। তার এই "আস্জির অন্ত সকলে ঈত্তান্সীকেই দোষী লাবাপ্য করেন । মস্তানী হিন্দু আীর মতা পৌধাক পরিধান ধর্বতেন ও আতাধব্যবছাযে হিন্দুর দিয়মকাছিন দেনেচল- ৮০ বাংল! প্রাতহামিক নাটক সষালোচনা তেন,, গ্রহনকি বামক গণপতি পৃজাতে লাড়ঘ্ববে অংশগ্রহণ করতেন । জব- বিষয়ে ।তনি বাঞ্সীন/ও-এর বিব|হিতা স্ত্রীর মতোই ব্যবহার করতেন । মস্তানীর প্রতি ভালবাসার ফলে সামাঞ্জিক ব্যাপারে বাঙ্গীরাওকে তার আত্মীয় ও পবিজনগণ প্রায় পুবাপুরি বর্জম করেছিলেন। পন্তবত এই ঘটনার সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে বাগ্ীবাও-এর অসমসাহস এবং প্রচণ্ড ষুদ্ধপ্রজ্ঞার যোগাযোগ আছে । বাজীরাও তাম্রকুট সেবনের অত্যাস করেন এবং প্রাচীন চিত্রে এ মারাঠা ব্রাঞ্থণকে ফরদি থেনে খেতে মলহর রাও ভোলকারের সঙ্গে আলাপ করতে দেখা যায় । মন্তানী বাজীরাও-এর সঙ্গে নিয়মিত যুদ্ধে যেতেন । তখন মারাঠা রমনী- দেবের যুদ্ধ করা প্রচলিত ছিল না। শিবঙ্গী-মাতা ভিজবাঈ বা শিবাভী- পুত্রবধূ তারাবাহ্ী রাজনীতি বা শাসনকার্ধয পরিচালনায় অংশগ্রহণ কবলেও কখনও যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা ননন। গতরাং বাজীরাও নাটকে .গীতমা বা রক্গিনীর চরিত্র সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রক্ষিপ্ত । মস্থানী নিরমিত যুদ্ধে যতেন, বাজীর[ও-এর পাশাপাশি দোন্ডাঁষ চেপে চলে লাজলজ্জাকে উপেক্ষা করেছেন । এক্সন্য তাকে লোকাপবাদ ও গু্ব-গুপ্জনের বস্ত্র হতে হয়েছে । ১৭৩৯ খ্রীটাপ্বের- শেবের দ্বিকে বাজীরাও এর ্ঞাষ্ট পুত্র নানাপাছেব ও ভ্রাত! চিমনগ্রী আঞ্জ। মন্তাণীকে বন্দী করে পুনায় আবদ্ধ করে রাখেন। বাজীরাও তখন অন্তন্্ যুদ্ধে লিপ্ত । এই খবর পাবার পর ত্বিনি অত্যন্ত মনঃকষ্ট পান। বন্বযুদ্ধে বিজয়ী বীর তাঁর প্রেমাম্পদাকে রক্ষা করতে পুনা ঘেতে পারছেন না, এটাই সব থেকে মর্মান্তিক ঘটনা । অন্তের রাভ্তত্ব ষিনি হেলায় অধিকার করেন, তিনি নিজ রাজত্বের সর্বশক্তিমান ব্যক্তি হয়েও তার প্রিয় সহচরী মত্তানীকে রক্ষার জন্ত কিছুই করার ক্ষমতার অধিকারী নন-_ এর থেকে বিয়োগবিধুর আর কি ব্যথা হতে পারে? তবে কি পুত্র আর ভ্রাতার বিরুদ্ধে ঘুদ্ধযার! করবেন? নানাসাহেব ও চিমনভী বনুদিন ভেবে তারপর মস্তানীকে বন্দী করাৰ কুল গ্রহণ করেন । এই সংকল্প গ্রহণের প্রথম ও প্রধান কারণ বানীরাও-এর ঠা্সি পরিবারের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছি করা । ভাই চিমনজীই বার্দীরাও- ঘর সমস্ত কর্তব্য সমাধা করতেন, । ধদনকি পিতার সুযোগ্য উত্ধরাধিকারী ালাজী বাজীরাও সম্পূভাবে ভয় খুরভাতের উপদেশ ও আদুরে . বর্ধিত বাজীরাও ৮১ হুন্সেছেন । পিত। বাঁজীরাও-এর কোনো! প্রত্যক্ষ গ্রভাব তীর উপর পড়েনি জ্োষ্ঠ পুত্র নানাসাহেব বিবাহের সময় থেকে পিতার মস্তানী গ্রীতিতে কুষ্ঠ । ১৭৩৯ ্রীষ্টাব্বের ডিসেম্বর মাসের গোলমাল প্রকট আঁকাব ধারণ করল যখন চিমনজীর কনিষ্ঠ পুত্র রঘুনাথ রাও-এর উপনয়ন এবং গ্টেষ্ঠ পুত্র সদাঁশিব রাও-এর বিবাহ উপলক্ষে কোনো ব্রাহ্মণ পুরোহিত আসতে রাজী হলেন না । তাদের বক্তব্য, মুসলমানের সে বসবাস করে বাজীবাও জাতিচ্যুত হয়েছেন, এবং তাকে জাতিচ্যুত না কবায় তাব পবিবারও জাতিচ্যুত হয়েছেন । সুতরাং গাদের বাড়ির কোনো! ধার্মিক ক্রিযা-কর্মে তার! অংশগ্রহণ করবেন না। ক্রোধের বশে নানাসাহেব হয়তো মস্তানীকে হত্যা করতেন । কিন্তু মহারাজ সাহু খবর পেয়ে তাকে বাধা দ্রিলেন। সাহু জানালেন, মস্তানীর প্রতি অবিচার তিনি কেবল বাজীরাও-এর নয তার নিজের অসম্মান বলেই গণ্য করবেন। মন্তানীকে তার নিজের প্রাসাদে নজরবন্দী করে রাখা হোল। ৪ ও ৭ ফেব্রুয়ারী ১৭৪০ খ্রীষ্টাব্দে চিমনজীর পুত্রদ্বয়ের উপনয়ন ও বিবাহ নিবিত্বে পুনায় সমাধা হল। বাজীর]ও এই অনুষ্ঠানের কোনটাতেই যোগদান করলেন না। তিনি নিজামপুত্র নাসির জঙের সঙ্গে তথন যুদ্ধে ব্যস্ত । এটাই তাঁর জীবনের শ্রেষ যুদ্ধ। ১২ মাচ ১৭৪০ শ্রীাব্ধে ওরাঙাঁবাদে যুদ্ধজয়ী বাজীরাও বিজিত নাসির জঙের সঙ্গে সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করলেন। এখানেই ভাই চিমনজী আগ্নার সঙ্গে তার শেষ সাক্ষাৎ হয়। পুনায় ফেরার পথে বাজীরাও নর্মদার দক্ষিণতখরে অবস্থিত রাভারে পৌছে অন্ুস্থ হয়ে পড়লেন শুক্রবাত্থ ২৫ এপ্রিল। এটাই ত্বার জীবনের প্রথম ও শেষ অনু্থতা । সংবাদ পেয়ে কাশীবাঈ কনিষ্ঠ পুত্র জনার্দনকে নিয়ে এসে পৌছাবার পরই দিখিজসী বাঁজীরাও ১৮ এপ্রিল ১৭৪০ খ্রীাৰে শেষনিংস্বীস ত্যাগ করুলেন। বাজীরাও-য়ের মৃত্যুসংবাদ পুনায় পৌছানমান্র মত্তানী প্রাণত্যাগ করেন । আত্মহত্যা কিংবা! বিরহবেদনা, ত। আঞ্জও জান! ষায়নি। পুন! থেকে কুছি ইল দুরে পাল নামে এক জারগায় তাঁকে কবরস্থ করা হয়। প্রায় বব মত ঘহুসায়েই মন্তানী সেযুগের এক অপূর্য মৃহিলা ।৯ মন্তানীর রূপের খ্যাঁতিও দবিগক্রবিস্তারিত। তীকে বর্ণনা কর] হয়েছে কাঞ্চনী ও কাঞ্চনব্রাকপে । হুতাগীতপটিয়নী। অখান্বোহণে পটু, এমনকি হুবিস্াপাররশিনী এই রমসীকে তোয়ায় ও বর্শার মাবহারে থে. কাত বীরের সমবঙ্গ বলা হয়েছে।১০ ৮২ বাংলা গ্রতিহাসিক নাটক সমালোঁদন' বাঙ্গীরাও-মস্তানীব কাহিণী মন্ভুত ঘটনাবহুল “রামান্স। প্র4 ও দুঃখের মধ্যে দিয়ে তারা পবস্পবকে কাছে পেষেছেন। পরিণামে এসেছে শুধু কলঙ্ক আর হতাশা । নাটক শেখাব উপকবণ বটে । কিন্তু এট বিবাট প্রণংকাহিনী রচনা! কববার জন্য "যজ্ঞান ও কলমেব প্রযোজন, যে হদয ও চিচ্তাবৃত্তির প্রয়োজন, তা মণিলাল বন্দ্যোপাধা।যের বাজীবাও নাটকে শন্তপস্থি 5 | তাই সৃষ্ট হযেছে এক অতি সাধারণ নাটক-চিন্ধায ক্ষণ ও পবিপূর্ণভাৰে অনৈতিহাসিক | মস্তানীর প্রতি গ্রম বাজীবাঁও চ“বত্রেব মাত্র একদিক । "াৰ বিরাট ব্যক্তিত্বের প্রধান গুণ অপৃধ দশাত্মবোধ এবং তাব জন্ প্রাণ তুচ্চ করে বুদ্ধ কব! । যৃদ্ধে জযলাঁভ বাজীবাও-এর চিত্রে আব একদিক । কগনও তাকে তাই অপ্রষোগনে ঝুঁকি নিতে দেখা বায না। যুদ্ধে ভযলাভেব এই পটুতা তাকে 'অগ্দশ শতাব্দীব অন্ত তম শ্রেষ্ঠ বাজনৈতিকের সম্মানে ভূষিত বেছে, তাকে যাবা শিবজীব “য'গ্য উত্তবসাধক কবেছে। মারাঠা-স্বরাজ্েব পবিকল্পনা মহারাক্ত শিবজীব অবিনশ্বব কীত। মোগপ- সাআাজ্যেব অন্বর্গত "দশগুলি “থকে চাথ ব জমিব উৎপাদনের “ক চতুর্থাংশ এবং সবদেশমুখী অর্থাৎ বাকস্বেব এক-দশমাংশ মাবাঠা সমণ্ট দাবি কবন্নে, বিনিময়ে মারাঠাশক্তি এই 'দশগুলিকে রক্ষার দাখিত্ব গ্রহণ করবে । এমনকি মোগলের রাজন্ব দেওয। বন্ধ করলেও মারাঠাশক্তির চৌথ বা সরদেশনুখী গিতে হবে। এই উপাযে মোগল প্রভাব খর্ব হবে এবং অন্যান্য রাজ্যগুলি মারাঠা প্রভাবে এসে যাবে । এই সাংঘাতিক রাজনৈতিক বুদ্ধির উদ্ভাবনকারী 'মহীরাদছ শিবজজীকে বাদশা ওউরঙগজীব ডাকতেন “শয়তান শিবা” বলে। এই মারাঠা বুদ্ধিকে ঠেকাবার জন্য জীবনের শেষ বৎসবগুলি দাক্ষিপাত্যে যুদ্ধ করে ফেটে গেছে বাদশাভ উরঙভীবের । শিবজী জীবিত না থাকলেও ভার বুদ্ধির কাছে গুরঙ্গজীব পর্বাক্িত হয়েছেন। শিব্ীর পুত্র শগ্তাজীকে নৃশংসর্ভাঘে হত্যা করেও বাদশাহ উরঙ্জজীব মারাঠা। সংগঠন রোধ করছ, পারেনছি। ভার-মৃড়ার মাত ১৩ বছর পরেই যাজীরাও-এয বিজয়যান্া গুরু 1 ১৭১০ খ্রীষ্ঠাকের ১৮ আগস্ট বাজীরাও-্এর জগ্ম। পিতা খালাজী নখের মৃত্যুর স্গৈ স্গৈই পিতার পেশোধাপদ মহারাজ সাহ বা্খীরাঁওকে বাজীরাও | ৮ দ্বিলেন, ১০ এপ্রিল ১৭২০ গ্রিষ্টা্ৰ। চিৎপাবন ব্রাঙ্ষণগোষ্ঠির এই তর্ণ, পেশোয়াপদ পাওয়ামাত্র ভারতীয় রাজনীতি ' ভালভাবে অনুধাবন করলেন। দিল্লীতে তখনও সৈয়দ ভ্রাতৃঘয়ের প্রচণ্ড প্রতৃত্ব। আক্ত বাদশাহ বানিয়ে কাল াকে বাদ দিয়ে নয়। বাদশাহ বানান তাদের দৈনন্দিন খেলা । দিল্লীর বাদশাহর গলায় নিজেদের পা “থকে গহনা খুলে পরান বা বাদশাহর বেগমকে ধরে এনে তাকে সামান্য বারাঙ্গনার মতো সপার্রযদ উপভোগ করা সৈয়দ হাতৃ্য়ের নান! কী।তর অন্যতম । নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির ভন্য তার! যা ইচ্ছু! তাই করেছেন । ১৭১৯ খ্রীষ্টাব্দে বাদশাহর আত্মীয় রোশন অ'খতারকে মহম্মদ শাহ নাম দিয়ে তার! দিল্লীর সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করলেন। নিজাম-উল-মুলুক 'আসফ ঝাঁ সৈয়দ ভ্রাতদয়ের বিরুদ্ধপক্ষ। স্ৃতরাং হায়দ্রাবাদের শাসনকর্তা- রূপে তিনি দাক্ষিণাতো প্রেরিত হলেন। এখানেই দিল্লীর দৃষ্টির বাইরে তিনি পরাক্রম সংগ্রহ করেছেন। উদ্দেশ্য সৈয়দ-ভ্রাতৃদ্য়ের বিক্ুদ্ধাচরণ করা 1 এবিষয়ে মহম্মদ শাহের গোপন সম্মতি ছিল !১৯ স্থতরাং বাজীরাও নাটকে যে স্বাধীন স্বতন্ত্র মুসলমান রাভা প্রাতষ্ঠ। করেছেন বলে নিগামের মুখে সংলাপ দেওয়া হয়েছে, তা অংশত সত্য ; কারণ এই সামাজা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাজীরাও-এর মৃত্যুর পরবর্তীকালে । ১৭২০ শ্রীষ্টাবধে নিজামকে শক্ষা দেবার জন্য সৈয়দরা বিরাট এক সৈন্সদল দাক্ষিণতো পাঠালেন। মারাঠারাজ সাহুকে এই নিজামধবংস-য্ডে, সাহায্য করত্তে বলা হল । নিভামও জার সাহায্য চাইলেন । বুদ্ধিমান সানুর পৰামশে বাজীরাঁও পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে গেলেন, কিন্তু কোনোপক্ষে ঘোঁগদান করলেন না। ফলে নিঞ্জীমের হাতে বাদশাহী ফৌজের প্রচণ্ড পবাজয় হল। বাদশাহ মহম্মদ শাহ অত্যন্ত আনন্দিত হলেন । বাদশাহী ষড়যগ্ধে - সৈয়দ প্রাতৃদ্বপ্ন যথাক্রমে ১৭২০ ও ১৭২২-এর অক্টোবর মাসে নিহত হলেন। নিজাম হলেন বাদশাভর প্রধান সহায় । উজীর আমিন থানের ১৭২১ শ্রী্টাবে মৃত্যু হলে নিজাম ১৭২২ শ্রীাবে বাদশাহের উজীর বা! প্রধান অমাত্য নিযুক্ত হপেন। ১৭২৩ এ্রীটাকের মধ্যে নিজামের প্রভাব মালব, গুজরাট আর দাক্ষিণাত্য এই তিন প্রদেশে প্রসারিত হল। এই ক্ষমতাবৃদ্ধিতে বাদশাহ ভীত হয়ে নিক্জামক্ষে অযোধ্যায় শাসনকর্তা নিধুক্ত করলেন। নিজাম মনঃক্ষু্, হয়ে দাক্ষিণ[ত্যে ফিরে এসে উতজীবীতে' ইস্তফা দিলেন। নিজামের সঙ্গে বাতীরাও-এর তিনবার আলোচনা বসে । তৃতীয় ৮৪ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা আলোচনাসভ|। সাঙ্গ হল ১৮ মে ১৭২৪ খ্রী্টাব্ষে। নিজাম ও বাজীরাও সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করলেন। তদছুযাধী বাদশাহ কর্তৃক স্বীকৃত মারাঠা দাৰি অনুযায়ী স্বরাজ্য, চৌথ ও সবদেশমুখী নিজাম মেনে নিতে বাজী হলেন। মালব ও গুজরাটের চৌথ ও সরদেশমুখী মারাঠীদের আদায় কবার অধিকার ক্বীকার করা হল। কিছুদিনের মধ্যেই বাজীরাও বাদশাহের প্রতিনিধির কাছ থেকেও এই শ্বিধাগুলি আদীয় কবে সন্ধিপত্র স্বাক্ষর করলেন । উপরস্ধ বন্ধ ভূখণ্ড মারাঠা অধিকারে ছেডে দেওয়া হপ। নিজামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মারাঠাগণ বাদশাহকে সাভাণ্য করতে বাজী হলেন । বাজনীতির চেহারা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে--একদিকে মোগল, অন্যদিকে নিজাম , মাঝখানে মারাঠা নানা শর্তসদ্ধিমূলে নিজেদের প্রতিষ্টা বাডিযে চলেছেন। নিজামের হাত থেকে মালব রক্ষা করার ন্য গিরধর বাহাছুরকে বাদশাহ মালবের শাসনকর্তা ও সরবুলন্দ খাকে গুজরাটের শাসনকর্তা নিধুক্ত কবলেন। নিঙ্গামকে বিদ্রোহী ঘোষণ! করা হল। ১৭২৪-২৫ খ্রীষ্টাব্দে মোগল ও নিজামে যুদ্ধ। নিজামের সঙ্গে বাজীরাও-এর চতুর্থ সাক্ষাৎকার ও থেলাৎ্-বিনিময়। অবশেষে বাদশাহর নিজামকে দাক্ষি- ণাত্যের শাসনকরতাপদে পুননিয়োগ । সুতরাং দেখা যাচ্ছে, প্রথম চার বৎসর কেবল কূটনৈতিক চালেটু বাজীব্রাও মারাঠা সাম্রাজ্য ও তার অধিকার বিস্তার করেছেন। ছু:থের বিষয়, বাজীরাও নাটকে এই চার বৎসরের ঘটনার কোনো! উল্লেখ নাই। ১৭২৫-২৬ গ্রী্টান্দে বাজীরাও কর্ণাটকে দুইবার অভিযান করেন। এই কর্ণাটক অভিযানের ফলে নিজামের সঙ্গে যুদ্ধ বাধল। নিজাম কর্ণাটক রাজ্যকে তার অধিকারভূক্ত বলে মনে করতেন। স্থতরাং নিজামকেও কর্ণাটক অভিযান করতে হল। কিছুদিন যুদ্ধবিগ্রচ্চের পর ২৭ আগস্ট ১৭২৭ কর্ণাটকের প্রধান নেতার! বাজীরাও-এর প্রতৃত্ব মেনে নিলেন । ক্রুদ্ধ নিজাম সন্ধির শর্ত উপেক্ষা করে সাহুর রাজ্য আক্রমণ করলেন। সাহর আত্মীয় শল্তাভ্ভীকে নিজাম ছত্রপতি ঘোষণা করলেন । ইতিমধ্যে নিজামের প্ররোচনায় মারাঠা"অধীন অনেক নেতা জানালেন যে, শস্তাজীও যখন চৌথ ও সরদেশমুখীর হ্বাবিদীর, তখন এইগুলি কার প্রাপ্য স্থির না হলে তার! কাউকেই অর্থ দেবেন নঃ। বলা বাছুল্য, সাহু এতে আরো বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। নিজামের। বাজীরাও ৮৫ সঙ্গে বোঝাপড়া অথব! নিজামের ক্ষমতান্রাস একাম্ত প্রয়োজন হয়ে পড়ল। বাজীরাও সেই মুহূর্তেই নিজামকে আক্রমণের উপদেশ দিলেন । বহু অমাত্যের বিজোধিতা শ্বত্বেও ১৭২৭ খ্রীষ্টান্বের ১৩ অক্টোবর জানু নিজামের বিরুদ্ধে বুন্ধ বোষণা করলেন । মারাঠা যুদ্ধবিগ্ঠায় প্রাজ্ঞ বাজীরাও এবারও প্রচলিত মারাঠা বুদ্ধরীতিতেই আক্রমণ রচনা! করলেন। ছোট ছোট দলে বিভক্ত মারাঠা অশ্বারোহী সৈন্যগণ বিভিন্ন জায়গায় নিজামের সেনাপত্তিদের আক্রমণ করলেন । বাজীরাঁও-এর স্থযোগ্য সহকারীগণ মলহররাও হোলকান ও রণোজ্জী সিন্কিয়। যথাক্রমে তুর্ক-তাজ খা ও আইভাজ খাকে আক্রমণ করলেন। টুকোজী পাওয়ার পুণার দিকে আইভাজ খাঁর অগ্রগতি প্রতিহত করলেন। ফতে সিং ও রঘুঙ্জী ভোলে শত্তাীর মন্ুগত চন্্রসেন ঘাদবকে সম্পূর্ণভাবে পরাভূত করলেন। বাদ্দীরাও উত্তর খান্দেশ জয় করে বুরহানপুরের কাছে ভপনীত হলেন। বাজীরাও 'উরঙ্গাবাদ আক্রমণ করতে পারেন বিবেচনা করে নিজাম পুনাযাত্র স্থগিত রেখে রাজধানী রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। অবশেষে গরঙ্গাবাদ থেকে ২০ মাইল দূরে পালখেদের রণাঙ্গনে বাজীরাওকে শিক্ষা দিতে গিয়ে নিজাম আবিষ্কার করলেন, তিনি মারাঠাবাহিনীর বেড়া- জালে আবদ্ধ। জলকষ্টে নিগাম সসৈন্তে আত্মসমর্পন করলেন। তাদের মুর্শীসেব গ্রামে হল ও খাছ্য দেওয়! হল। এখানেহ নিজাম সন্ধিপত্র স্বাক্ষর করতে বাধ্য হলেন। তারিখ ৬ মাচ ১৭২৮ শ্রীষ্টা । বাজীরাও ও নিজামের পঞ্চম সাক্ষাৎকারে উভয়ে উভয়কে বহু উপশেকন ও সম্মানে ভূষিত করলেন। নিজাম আবার সাহু মহারাজের অধিকার স্বরাজ আর চৌথ ও সরদেশমুখীর দাবী স্বীকার করে নিলেন। পালখেঙ্ের বুদ্ধ নিজামবিজয়ী বাজীরাওকে মাত্র ২৮ বছর বয়সে শ্রেষ্ঠ যৃদ্ধজ্ঞানী রাজনৈতিকরূপে প্রতিষ্ঠিত করল। এতদিন এই সম্মানে নিজাম-উল-মুলুক আসফ ঝা স্বয়ং প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। নিজামের বয়স তখন ৫৮ বৎসর । নিজামের সঙ্গে সন্ধি মালবঙ্জয়ে বাজীরাওকে উদ্ধদ্ধ করল। ' বর্ষ।র ঘন- ঘটার মধ্যে বাজীরাও ভ্রাতা চিমনভী আপ্লার সঙ্গে বসে মালবজয়ের খসড়া পরিকল্পনা তৈরী করে ফেললেন। বাজীরাও নাটক পড়ে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, যুদ্ধ করাট। 'একটা হঠাৎ-মনে-আসা গৌয়ারতূমি । “চল, অমুক দেশ ৮৬ বাংলা উতিহাসিক নটক সমালোচনা আক্রমণ করা য(কৃ” বা! “চল, অনুককে শিক্ষা দিয়ে আসি”__ একমাত্র নাট্য- কারের কাওজ্ঞানহীনতাতেই হওয়| সম্ভব। প্ররুত প্রস্তাবে বহু্গিক চিছ] করে এবং সম্পূর্ণ যুদ্ধনীতি ও পরিকল্পনা স্থির করেই যুদ্ধ হয়। বাঙ্গীরাও এর ক্বীবনে এহ ঘটনা বার বার দে" ঘ বে, আর দেখ যাবে এই রিকল্লন। রচনাষ ভ্রাগা চিমনজী আপার পাগুভ্য । বস্তবত স্বাস্থ্যবান বাহীরাও তত এই হীনশ্বাস্থা ভাই-এর উপর যৃদ্ধপারকল্পনা বিষয়ে খুব 'নর্ভর করতেন। উভয় ভ্রাতায় মিলে যে সব অ'ভঘান কবেছেন, অত্য 2 বিপ্দসঙ্কুল হলেও ত র প্রত্যেকটি সাক্শ্যমণ্ডিত হয়েছে । এবারেও তার বাতিক্ম হল না । ছু ভাই একই দিনে ছুই বিভিন্ন পথে মালব্ছযে অগ্রসর হলেন। চিমনজী পশ্চিম।দক থেকে বাগ্ল'ন ও থান্দেখের ভেতর দিয়ে এগিষে চললেন । বাভ্যর প্র্ণান বাঠিনী নিষে বাঞ্জীরাও পুবদিক দিয়ে অর্থাৎ আহমেদনগর, বের'র, চন্দা ও দেবগডের ভিতর দিয়ে অগ্রসর হনেন। ছুই ভাই পথে নিয়মত সংলাদ আদ্দানপ্রদানের ও যোগাযোগ রক্ষা করার ব্যবস্থ। করেছিলেন । চিমনজীর সঙ্গে সহক'রী বাজী ভিবরাও রেতরেকার, গণপত্রাও মেছেনদাল্ে নারো শঙ্কর, অণজ্জী মানকেশ্বর ও গোবিন্দ পন্থ খেরপরে বুন্দালে প্রভৃতি মাবা,| বীরুগণ। বাধীরাও-এর সঙ্গে মলহররাঁও হালকার, বণোজী সিন্ধিযা মার উদাতী যাদব! কিছু পেছনে বাণীরাও-এর পশ্চান্তাগ রঙ্গ করবার নত চললেন শিলাজ্জী বাদব ও দ|ভলদ্রী সামবংণী। মোগল-বেতনভূক গিরধর বাহা'ছুর ও ভ্রাতা দয বাহাদ্বর এই গাঁডাশি আক্রমণে ব্যতিব্যম্ম হয়ে ২৯ অক্টোবর ১৭২৮ খ্রীগ্ান্বে চিমনভীর বাহিনীকে আক্রমণ করলেন। আমঝেরার যুদ্ধে মোগলপক্ষের নিদারুণ পরাও্য় হল। গিরধর বাহাছুর ও দয়া বাহাদ্র উভয়েই এই যুদ্ধে নিহত হলেন। অনেক সৈন্ঠ, বড বড় কামান ও "ছাট আগ্নেয়াস্ত্র থাক! সত্বেও মোগলবা।হনীর এই পরাজয় বিন্ময় সৃষ্টি করে। মারাঠারা কোনে! কামান ছাড়াই এং যুদ্ধে জয়লাভ করলেন। মালবে মারাঠা-প্রতৃত্ব স্থাপিত হন। এরপরই ছত্রশালের ঘটনা । মন্তানীর ইতিহাস লেখার সময়ে সাবস্তারে সব ঘট্টনা জানানো হয়েছে, নুভরীং তার পুনরুল্লেখ নিক্পয়োজন । বাজীরাও যথন ছত্রশালকে সাহাব্য করছেল, তখন চিমনর্জী উজ্জয়িনী দখল করতে ব্যস্ত । ( ডিসেম্বর ১৭২৮ বাজীরাঁও ৮৭ খরীষ্টা্্ )। মালবজষ প্রসঙ্গে তাই স্মরণ রাখা কর্তৃবা যে, গিরধর বাহাছর মালবের রাজা নন বা দিলীশ্বরের প্রধান পৃ্পোৌষকও নন, তাৰ বেতনভূক কর্মচারী মাত্র । গিরধর প্রসঙ্গে নাটকের কোনো অংশই ইতিহাস আশ্রয় করোন। মাঁলবজয মোগলশক্তির বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত বিদ্রোহ ; স্থতরাং মালবজয়ে যেতে বাজীরাও যে উৎসাহের অভাব দেখিষেছেন, তা বাজীরাও-এর চরিত্র ও এ্রতিহাঘিক ঘটনার পরিপন্থি ও সম্পূর্ণভাবে কল্পনাশ্রয়ী । মালব ও বুন্দেলথগ্তের প্র গুষ্ওবাটজয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হল। গমাবার বাজীরাও ও চিমনভী একসঙ্গে বসলেন । যুদ্ধের এক খসড়। প্রস্তুত করা! হল। সৈম্তবাহিনীর সংখ্যা গোপন রাখার ভন্য মারাঠার! ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন সমষে গুজরাট অভিমুখে চললেন । ১৭৩০ খ্রীষ্টাব্দ আরম্ত হবার সঙ্গে সঙ্গে চিমনঞ্ী গুজরাটে অনুপ্রবেশ করলেন । গুজরাটের শাসনকতা সরবুলন্দ খা ভীত হয়ে সন্ধির প্রস্তাব করলেন। সন্ধির শর্তের মধ্যে অন্যান্য প্রদেশের মতো গুজরাটের চোথ ও সরদেশমুখী মার[ঠাদের দিতে রাজী হলেন সরবুলন্দ খ। । এই খবর পেষে বাদশাহ মহম্মদ শাহ অত্যন্ত কু্ধ হযে মারাবার- রাজ অভযসিংহকে গুভরাটের শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন । যুদ্ধের পথে না গিযে অভয়সিংহ বন্ধুত্বের পথে অগ্রসর হলেন। তার অন্গরোধ উপেক্ষ। করতে না পেরে বাজীরাও স্বয়ং আহমেদাবাদে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। সন্ধিপত্র স্বাক্ষর হল। অভষ-সংহ চৌথের বদলে বাৎসরিক ১৩ লক্ষ টাকা বাজীরাওকে দিতে রাজী হলেন এবং তাঁর মধ্যে ৬ লক্ষ টাকা তখনই দেওয়া হল। মালব-শাসনকর্তার পদে চুহম্মদ্র খা! বঙ্গস নিযুক্ত হয়েছেন। বাদশাহ তার উপর ছুইটি গোপন ও কঠিন কাজের ভার দিয়েছেন। প্রথমটি. হল, নিজামের সঙ্গে মিলে প্রথমে মারাঠাশক্তিকে ধ্বংস কর! এবং দ্বিতীয়, নিঞ্জামকে ধ্বংস কর] । নিজাম ইতিমধ্যে বাজীরাও-এর অপসারণের জন্ত মারাঠা দরবারে বহু ার। থরচ করে ষড়যন্ত্রকারীদের সাহায্য করতে আরম্ভ করেছেন। বিতিন্ন ভাবে সাহকে বোঝান হচ্ছে যে বাজীরাওকে পদচ্যুত করলেই তিনি শান্তিতে ্লীধনযাপন করতে পারবেন । কিন্তু সাহু মহারাজের রাজনৈতিক শ্ক্ষাদাতা যেখননে স্বয়ং বাদশাহ গুরঙ্গজীব ও তীর কন্া গ্ল্নিতউন্নেসা বেগম১২ সেখানে ৯৮ বাংল! গ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা অন্টের সাধ্য কি তাকে বিভ্রান্ত করে। ফড়যন্ত্রে বিফল হয়ে নিজাম সৈম্ঠ সাজাতে গুরু করলেন । চিমনজী নর্দাপারে নিজামের প্রতি গতিবিধি নজর রাখতে লাগলেন । বাঙীরাও হতিগধ্যে বরোদা আক্রমণ করে জাভজী দাভাদে ও পিলাী গাইকোয়াডের বিরুদ্ধে পূর্বশক্রতার শোধ তুলেছেন । মারাঠা- পতনের ইতিহাসও তাই বাজীরাও-এর সময় থেকেই শুরু । বিভিন্ন মারাঠা নেতাদের মধ্যে ঈর্ধা, অস্থয়। ও হিংসা মারাঠাশক্তির পতনের এক প্রধান কারণ । বাদীরাও কর্তৃক বরোদা আক্রমণে এই গৃহযুদ্ধের হুত্রপাত দেখতে পাই । এরদদকে মারাবার আক্রান্ত হচ্ছে দেখে অভয়সিংহ মারাবার যাত্রা করলেন। বাজীরাও গুঞ্জরাটে অবস্থান করতে লাগলেন । মালবে মারাঠা-প্রভৃত্ব যাতে কমে না যায়, তাই ১৭৩২ খ্রীষ্টাব্দে ২৯ জুলাই সিন্ধিয়া, হোলকার ও পাওয়ারকে মালব রাজত্ব ভাগ করে দেওয়া হল। প্রত্যেক নেতা তার নিজের অধীন মংশ রক্ষা করতে লাগলেন । (পরধতীকালে এইগুলি তাদের রাজ্যে রূপান্তরিত হয় । এদের বংশধররাই এহ সব উপাধির অধিকারী রাজন্যবর্গ )।' ১৭৩২ থেকে ১৭৭০ খ্রীগ্টাব্ধ ক্ষমতারক্ষার জন্য ও বাৎসরিক অর্থসংগ্রহের জন্ত বাজীরাওকে যুদ্ধ করে যেতে হয়েছে । একদিকে নিজাম অন্যদিকে মোগলের সঙ্গে কখনও যুদ্ধ কখনও সন্ধি হয়েছে বটে, কিন্তু বাঙশরাও-এর গলাতেই বিজয়লক্ষ্রী বার বার চ্য়মাল্য পরিয়ে দিয়েছেন । এরই মাঝে ১৭৩৪ শ্রীগ্াব্ধের নভেম্বর মাসে বাজীরাও-এর স্থখোগ্য পুত্র বালা গী বাজীরাও-এর যুদ্ধশিক্ষা শুরু | শিক্ষাদাতা চিমনজী ও 1পলান্ডী ঘার্দব। ১৭৩২-এ নিঞ্াম ও বাজীরাও-এর সাক্ষাৎকার ও সন্থি। ১৭৩৩-এ চিমনজী ও হোলকারের বুন্দেলথণ্ড মধিকার । পিলাভশ যাদব ১৭৩৪-এ বুন্দ অধিকার করলেন। ১৭৩৫-এ মোগল সেনাপতি থানছুরান ও কামাকুদ্দিন থানের মারাঠাদ্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধসঙ্জা। সিন্ধিয়া ও হোলকারের হাতে রামাপুরাক়্ মোগলবাহিনীর পরাজয় । এইসবের মধ্যে পেশোয়ামাতা রাধাবাঈ চলেছেন ভীর্থযাত্রায়। সময় ১৭৩৫ খ্রীষ্টাব্দ । মোগল, রাজপুত, নিজাম সবাই সসশ্রষে পেশোয়ামাতার তীর্ঘন্রষণকে নিধিত্র করছে। রাধাবাঈ প্রথমে গেলেন উদয়পুর, সেখান থেকে জয়পুর, তারপর মধুর], বৃন্দাবন, কুরুক্ষেত্র এবং প্রয়াগ। বেনারস পৌছালেন বাঁজীরাও মাতা ১৭ অক্টোবর ১৭৩৫ গ্রীষ্টান্ধ। ফিরে এলেন পুনাক়, বাজীবরাও "জী ১ জুন ১৭৩৬ শ্রীষ্টান্ষ । মোগল-মারাঠা যুদ্ধের মধ্যে তার এই নিবিদ্রে ভ্রমণ এক অভাবনীয় ঘটনা । ইতিমধ্যে বাদশাহ নিঞ্জামকে ম্মরণ করেছেন দিল্লীতে, নিভাম তার সামনে গেলে প্কাকে সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ ওমরাহ বলে থাতির করেছেন । উদ্দেশ্ট নিজামের সাহায্যে মারাঠাসাআ্াজ্য ধ্বংস করা। বাধশাহের ভয় পাবার কারণ দিল্লীর দরজায় বাজীরাও-এর আগমন। বাদ্পীরাও-এর অভিযান গোপন ছিল না, কিন্ত তিনি যে দিল্লীতে উপনীত হবেন, এটাও কেউ ভাবেনি । তাই ক্ষিপ্রগাত বাজীরাও যখন ২৮ মাচ ১৭৩৭ শ্রীঠাৰ দিল্লীর বাইরে ছাউনি স্থাপন করলেন তখন দিল্লী সহরে দারুণ আতঙ্ক উপস্থিষ্ক হল। ২৯ মার্চ রামনবমীর দিন বাজীরাও তার ভাই চিমনজীকে লিখেছেন £ «এইদিন আমরা অল্পস্বল্প লুন করতেই দারুণ ভীত হয়ে পডলেন বাদশাহ ।” সন্ধির প্রস্তাব এল ৩০ মা্। বাভীরাও শঙ্কিত দিলীবাসীদের কথা ভেৰে ছাউনি তুললেন, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বাদশার ৮০০০ সৈম্ত তাদের আক্রমণ করল । সিন্ধিয়া, হোলকার ও পাওয়ার বাদশাহী সৈন্তদের পরাজিত করলেন। বাহিনীর অধিনায়ক মীর হাসান কোকা হত হলেন। দ্বিললী-অভিযান বাজীরাওকে অভূতপূর্ব সম্মানে ভূষিত করল। এমনকি রাজপুত নরপতিগণ জয়পুররাজের নেতৃত্বে মোগলণক্তির বিরুদ্ধে একত্রে যুদ্ধযাত্রা করবেন কিন। আলোচনা করতে লাগলেন। হিন্দু-পাদশাহীর চিন্তা ও যোগল-নিজামের বিরুদ্ধে মারাগ-রাজপুতের অভ্যুত্থান এই সময়কার রাজনীতির সব থেকে বল়্ গ্রশ্ন। মোগল-মারাঠা বুদ্ধ ১৭৩৬ খ্রীষ্ঠাব্ের শুরু থেকেই আরম্ভ হয়েছে। ত্তর ভারতের যুদ্ধে বাজীরাও নেতৃত্ব করেছেন আর দক্ষিণ ভারতের যুদ্ধ চিমনজীর তত্বাবধানে ছিল। প্রায় সব মারাঠা নেতারা এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। অবশেষে ১৭৩৮ খ্রীষ্টাব্দে বাজীরাও ও নিজাম আবার মুখোমুথ হলেন। ভূপালের রণক্ষেত্র আবার শক্তিপরীক্ষা1! হল। নয় বছর পর নিজাঙ্ক আবার বাজীরাও-এর উন্নত রণনৈপুণ্যের কাছে পরাজিত হলেন ১৪ ডিসেম্বর ১৭৩৭ শ্রীষ্টাব্ষ । বাজীরাও সসম্মানে নিজামকে মুক্ত করে দিয়ে অভূতপূর্ব কীতি স্থাপন করলেন । কি রাজনৈতিক চিন্তাঁধারায়, কি হৃদয়ের ব্যাপ্তিতে, কি যুদ্ধনৈপুণ্যে বাজীরাও নিজামকে পরাতৃত ও অভিভূত করলেন। জানুয়ারি সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হল দোাহীসরাইতে । ত্দহ্যায়ী মোগল সরুকার সমগ্র মালব রাঙ্জত্ব মারাঠা-অধিকারে ছেড়ে দিতে রাজী হলেন। নর্মদা ও ৯০ বাংলা তহাসিক ন।টক সমালোচনা যমুনার মধ্যবত। সমস্ত অঞ্চল মারাঠা-ব জন্বেৰ মধ্যে এল এবং ৫০ লক্ষ টাকা ক্াতিপরণ দেওয়া ভশ মাবানাদেব। এইসব অঞ্চলে অধিকর্তাদেব নিজাম পেশোয়াব কাছে পাঠিযে দিলেন। তাব! পেশোয়াব কাছে আন্মগত্যের শপথ গ্রহণ কবলেন। ছত্রপতিব-সাঁমাজ্য বমৃনা নাদি পর্ধন্স বিস্তাবিত হল। বাজীরাও-এব চীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মানসাভ ও কতি এই ভূপালেব যদ্ধ। কোটা বাচা "য় কবেদশ পলক্ষটাকা না বিজ্ষী বাজীবাঁও পুন'য ফিবে এলেন ১০৮ শীশব্দেব জ্রশাই মাসে । এই সাফলোব জনক প্রা সমানভাবে সম্মানীয় বালীবাও ভ্রাতা গিমনন্শী 'আপ্লা। সপগ্ডিত ছত্রপতি সাহু মাঁবাজ এই ঢই বীবকে প্রত সম্মানে ভতষিত কবন্ন। ১৭-৯ ্বীষ্ান্দে নাদদিব শা লাবন আঁকমণ কবলেন ৷ দিল্লীব মারা গ্রাতিনিপি প্রতিদিন বাজীবাৎ-এব কাছে নাঁদিব শাহ ও দিলীব সংবাদ পাগাতেন | তদন্রণাধী /পশোষা নাদব শাহেব সম্ভাবা মআাকমণেব বিরুদ্ধে মাবাঠাসাশীঙ্গা বঙ্গাব বাবস্কা কবলেন। সাহু মভাবাজেব নাঁদিব শাছের শক্সিপবীল্গাব উচ্চ! কমদ্িশ ন | নাঁদিব শাহকে পবাঁজিত কবতে পাঁবলে বাদশ'ত ঈবঙ্গজীন্কে '্ওয ভাব প্রতিশ্রতি পালন কবা হবে ণবং মাগল বাদশাহ চিবকালেব মনো মাবা91-শক্তিব উপব নির্ভবশীল হবেন | বাঁজীবাও এক বিবন্ট বাচিনী নিপে বুবানপূব “খা খবব "পলেন নাদিব শাহ দিল্লী তাঁগ কবে চনে গছেন | (১৭, গ্বী্টাব্দের ণম মান | এই বচাবেই শষ ঘাসে নিজ'মপুন নাসির ₹ং গ।দান্বী নদীব পাবে মাঁবাগাঙাম্াজা আক্রমণ কবতে না কবতেই দই ভাই বাজীবাও ও চিমনজী তাঁকে পবাজিত করলেন (১৭৪০ খ্রীগাব্ জাঙ্টযাবি )। এইটাঠ বাজীরাঁও-এব জীবনে শেষ যদ্ধ । ওই বছবেই ২৮ এপ্রল বাহীীবাঁও-এব মৃত্যু হল। এইবার এই প্রবন্ধে বাঁজীবাও নাটকের যে সংক্ষিপূসাব দওয়া হযেছে সেটা আর একবার পছলেই “বাঝ| ঘাঁণে ঘে, মহৎ চরিত্রের এক প্রাতঃ'শরণীয় বীরের জীবনী-নাটক লিখতে গিষে ইতিহাস নয, কল্পনাই নাট্যকাবেব ভরসা- গল। ভারত-জাডা সেই বিরাট রাজনৈতিক বিপ্লবের কোনো চিহই বাঁজীপ্নাও নাটকে উপস্থিত নাই । স্বচ্ছন্দ নারকের নাম বাজীরাও না দিয়ে পীতাবাম ঘ! চম্পত্রাও দেওয়া ধেত | বাজীরাও-জীবনের শ্রেষ্ঠ ঘটনা তার বাজীবাও ১ দিল্লীর দ্বাবে উপস্থিতি নাটকে নাই । ভৃপালের যুদ্ধ এক অদ্ভুত কপে প্রকাশিত হযেছে । ইতিহাস-অজ্ঞানতাই এই "অপ্রাধের জন্ঠ দাষী | প্রবন্ধ শেষ করার আগে সাহু মহাঁবাভ সম্পর্কে কয়েকটা কথা বলা দবকাব। তা না হলে এই প্রবন্ধে জাগাবত প্রশ্নের সমাধান হবে না। বলা হফেছে যে, বাদশাহ ইরঙজগজ"্ব সাহু মতাঁবাজেখ বাজনৈতিক গুরু । কথাটার বিপ্লেষণ প্রয়োজন | ছত্রপত শিবজীর পুত্র শস্তাীকে ১৬৮৯ থ্রীষ্টাব্ধেব ১১ই মাচ বাদশাহ উরঙ্গভীবের আদেশে নৃশংসভাবে হত্যা করা হল। তারপর রাযগড দুর্গ জয় করে শল্তাজীর ভ্ত্রী এযস্গুবাঈ ও পুত্র সান্কে বন্দী করা হয় মাত্র কযেক মাসের মধ্যে (৩ নভেম্বর ।| তদবধি সান মাতাসহ বাদশাহ ইরঙ্গজীবের সঙ্গে দাক্ষিণাত্যের নানা অঞ্চলে বন্দীভীবন যাঁপন করেছেন। সাহুর ভাল নাম শিবন্ভী। উরঙ্গভীব বাদশাহ ছত্রপতি শিবজীকে বলতেন--“শিবা শযতান” ) ছোট্ট শিবঘীপোত্রকে আদর কবে বণতেন--“শ্বা সাহু” অর্থাৎ সাধু । সান নামটা রষে গেল । বাদশাহ ওরঙ্গভীবের সাহুর প্রতি স্নেহ দেখলে অবাক হতে হয়। যে লোক নিজের ছেলেমেষে বা নাতিকে সামান্য সন্দেহে অবরুদ্ধ বা হত্যা করেছেন, পবম শক্রব পোত্রের প্রতি তার এই বাৎসল্য মানব চরিত্রের এক অপূর্ব উদঘাটন। ওুরঙ্গভীব ছোট্ট সাহুব সঙ্গে খেলা করেছেন, তার সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায সময় অতিবাহিত করেছেন। কন্তা জিন্নতউন্নেসার উপর ছিল সাহু ও তাঁর মাতার রক্ষণাবেক্ষণের ভার । জিন্নতউন্লেসা মাতার নেহে, ভগ্মীব প্রণষে সাহু আব তাঁর মাতার নিত্যকার দ্রেখাশোন| করেছেন। সাহুকে মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত কবাব বাদশাহী ইচ্ছা জিন্নতউন্নেসার জন্তই ফলবনী হতে পাবেন । হিন্দুবিদ্ধেষী সর্বশক্তিমান মোগল বাঁদশাহের হায়েষে সাহু এবং তার মাতা পরিপূর্ণ হিন্দুমতে থেকেছেন, এর থেকে বৈচিত্র্যঘয় আর কি ভতে পারে ! এদিকে শল্তাভীশর মৃত্যুর পয় শিবজীর এক পুত্র রাজারাম ছত্রপতি হলেন। তার মৃত্ার পর তার বালকপুত্রকে দ্বিতীয় শিবজী নাম দিয়ে মাতা তারাবাঈ রাজ্যশাসন করতে লাগলেন । শ্রীলোকের শাসনে মারাঠা সর্ধার- গণ অসন্তঃ হয়ে পড়লেন। ১৭০" প্রীটান্ধে উরঙ্গজীবের আদেশে মহা ৯২ বাংলা তিহাসিক নাটক সমালোচনা ধুমধাম কবে সাহুর বিবাভ সংঘটিত হল। সাহুর বয়স তখন ২১ বছর (জঙ্গ সম্ভবত ১৬৮২ ) | মৃত্যুব এক বছর আগে ১৭০৬ খ্রীষ্টাব্দে উরঙ্গজীব সান্থকে মুত্তি 'দপেন। যাবার সমষে শুধু এক অন্টবোধ করলেন যে, দি তার বংশ- ধরবা কখনও বহিঃশক্রব আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত হয, সাহু যেন তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করেন। এই কারণেই নাণ্দব শাহের বিরুদ্ধে সাহু বাজীরাওকে সজ্জিত করে দল্লী অভিমুখে পাঠিযেছিলেন। সাহুকে পেষে মাবাঠা সর্দাবব। তাঁকেই ছত্রপতিব আসন দ্বিলেন। সান্ অত্যন্ম বুদ্ধিমানের মতো “পশোযাপদ স্থ্টি কবে তাকে প্রধান অমাত্যে ষযাদা দিলেন এবং সেই পদে শ্রেঈ ম।বাঠা নেতা বালাজী বিশ্বনাথকে নিয়োগ করলেন। তিনিহ হলেন মাবাঠা সাম্রাজ্যের প্রথম পেশোয়া । সাহু খুৰ ভাল করেই জানতেন যে, সাত বছর থেকে চব্বিশ বছর ( ১৭০৬) পর্যন্ত মোগলসান্িধো থেকে তার চাপচলন দৃষ্টিভঙ্গিতে মোগল ছাপ পড়েছে। সেজন্ত মাবাঠা গাহীয়তাব পূর্ণাঙ্গ উন্মেষ করতে হলে একজন রক্ষণণীল মারাঠী নায়কের প্রষোজন। তার ভাতে বাজ্কার্য দ্িষে তিনি উপদেষ্টার ভূমিকা স্বেচ্ছায় বেছে নিষেছিলেন। একই পরিবারে পর পর তিনজন স্থযোগ্য পেশোয়। তার চিন্তাধারার সাফল্যে সাহ'য্য কবেছেন। বালাজী বিশ্বনাথের পর ভার সুযোগ্য পুত্র বাজীরাও এবং বাঙীররও-এর আকম্মিক মৃত্যুর পর তান অষ্টাদশবর্ষায় বালকপুত্র বালাজী বাজীরাও পেশোয়াপদের স্থযোগ্য অধিকারী হন। তাই বল! হয়েছে, ১৭ বছর গুরঙ্গজীব সান্িধ্যে কাটিয়ে সাহু মহারাজ, বাদশাহর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা শিক্ষা করেছেন, কিন্তু অবিশ্বাস প্রত্ৃতি কুচিন্তা- খুলি অনুকরণ করেননি । সাহু সত্যই সাধু। বাজীরাও নাটক যে সম্পূর্ণ অনৈতিহাসিক, তা বল! হয়েছে। প্রথষ থেকেই মস্তানীর ঘটন! যে সম্পূর্ণ কাল্পনিক, তাও প্রমাণ করা হয়েছে। গিরধৰ্‌ ষালবরাজ ছিলেন না। চন্দ্রসেন যাদব কোনদিনই সাহু বা গারধরের অমাত্য শিলেন না। বরঞ্চ বল! যায়, তিনি নিজামের সাহায্যপুষ্ট একজন মারা নায়ক যাকে নিজাম নিজের স্বার্থে বাবহার করতেন । মলহররাও হোলকার হোলপুরের জমিদার নন। বস্তত হোলপুর বলে কোন রাজ্য ছিল না। রণোজী সিন্িয়া চিরকাল বাজীরাও-এর একান্ত অগ্নগত ও বিশ্বাসী সহচর; কদাচ বাজীরাও ৯৩ 'ধালবেশ্বর বা গিরধরের 'বেতনভোগী নন; বরঞ্চ পরবতীকালে এই মালৰ প্রদেশের অংশে সন্দিয়ারাজ্য স্থাপন! করেন। নাটকে অবিচার করা হযেছে চিমনজীর উপর ।. বাজীরাওয়ের সাফলো চিমনজীর দান অতুল এবং ছুই বিভিন্নচরিত্র ভাই-এর মধ্যেক'র ভালবাসা অনন্গসাধারণ। অবিচার করা হয়েছে বাজীরাও-এর বিশ্বস্ত সহকারী পিলাজী যাদবের উপর। তাকে বিশ্বাসবাতকরূপে "দখান হযেছে । সম্ভবত বরোদীধুদ্ধের পিলাজী গাইকোয়া- ডের সঙ্গে তাকে গোলমাল কর হযেছে । বরোদাবুদ্ধে গাইকোয়াড ছিলেন বাজীরাও-এর শত্রু । তিনিও বিশ্বাসঘাতক নন। সব থেকে বড় অবিচার করা হযেছে নিজাম ও সাহু মারাজের উপর | সেই ষূগের এই দুই মহান নেতাকে মনে হয় বুদ্ধিবৃত্তিহীন ছুটি জানোয়ার-__একের সঙ্গে অন্যের কোনে তফাৎ নাই। মস্তানীর মতো এক অপরূপ নারীচরিত্রকে নাটাক।র ছাচে-ঢাল। পুতুলের মতে। দেখিয়েছেন । অন্যান্ত স্ত্রীচরিত্রগুলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক । শম্তাজী নামে যে চরিত্র 'দথান হয়েছে, তিনি রাজারামের দ্বিতীয় পুত্র এবং দ্বিতীয় শিবজীর কনিষ্ঠ ভ্রাতা । নিজাম তীাকে মারাঠ। ছত্রপতি বলে স্বীকার করে সানকে বিপদগ্রস্ত ' করতে চে করেন। এই ঘটনাটিও নাটকে স্পষ্ট করে বলা হয় নাই; তাই সন্দেহ হয় যে, ভারতবব্যাপী এই যে চমৎক।র নাটকাণয় যুগসন্ধি, নাট্যকার সম্ভবত তা! উপলব্ধি করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ছোট ছোট ক্রটি উপেক্ষ। করেও নিঘিধায় বলা যায় যে এঁতিহাঁসিক বাজীবাও- এর জীবনের কোনো অংশই নাট্যকার চিত্রিত করতে পারেন নাই । কল্পনা- শরয়ী বাজীরাও নাটক ইতিহাসের সীমানার বাইরেই বিচরণ করেছে, ইতি- হাসের বিচারে অপাংক্তেয় হয়েছে-_-এটাই নাট্যকারের সব থেকে বড় বিফলতা । | সমকালীন রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রকাশেও বাজীরাও নাটক অক্ষমতা প্রকশ করেছে । নাটক প্রকাশি ও অভিনয় কাল ১৯১১ খ্রীট়াব | . বঙ্গডস্ব প্রস্তাবের পরেই সন্ত্রাসবাদ্দীগণের ইংরেজ নিধন পরিকল্পনা । ১৯০৮ গ্ঠান্ের ৯ নভেম্বর বাংলার লাটসাহেব আাগু.ফ্রেসারকে হত্যা করার জন্ত গুলি ছোড়া হয়। অল্পের জন্ঠে স্যার আ্যাগ্_রক্ষা পান। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের লোক ও পুলিশকে লাহায্যকারীদের এই সময় নিয়মিত বধ করা গুরু হয়। ৯৯ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। ১৯৮ থেকে ১৯১৬ শ্রীগ্াব্দ পর্য* সন্ত্রাসবাদীদের হাতে বহু সরকারী এবং সরকারকে সাহাধ্যকারী ব্যক্তি হত বা আহত হত | স্বদেশী ডাকাতি ১৯০৮ সাপ থেকেই প্রকট হযে ওঠে । ১৯১৭ শ্বীতা্ পর্যন্ত বহু দেশী ডাকাতি সমস্থ বংলা জে সংঘটিত হয় এবং লক্ষ লক্ষ টাকা ও গহন। লুঠ কৰা হয।১৩ বাজীরাও নাটক এই স্বদেশী হাওয়াকে প্রতিফলিত কবতে পারত । ্বদেশের স্বাধীনতার জন্য বাঁজীরাও এবং ভার নহকারীগণ জীবনপণ যুদ্ধ করেছেন। ভত্যা ও লুঠন দুই বিবয়েই বাঞ্জীবাও বে সফলত' অর্জন করেছেন, তা! সত্যই টল্লেখনীয়। গেরিলা বুদ্ধ বা ছোট ছোট অশ্বারোহী? দপে বিভন্ত হযে নানাদিক থেকে স্থপরিকল্পিতভাবে হঠাৎ আক্রমণকর!কে বাঙীরাও তার বুদ্ধপদ্ধতিতে প্রধীন আসন দিষেছিলেন। তরঙ্জের পর হরক্গ যেমন খলাভূমির উপর আছডে পড়ে, তেমনি একের পর এক অশ্বারোহী দল "দিয়ে তরঙ্গায়িত আক্রমণ খার বার বাজীরাওকে সাফল্য এনে দযেছে। ১৯১১ গ্রাগন্দে এ্রতিহ্থাসিক ঘটনা নিয়ে বাপীরাও নাটক লিখলে তা৷ নাটাগরগতে আলোডন *ষ্টি করতে পারত । জনসাধারণ এই সময় ইংরেজ শাসকদের কি পরিমাণ ঘ্বণার চোখে দেখেছে, তাৰ প্রমাণ পাওয়া খাঁয় এক হংরেজ সৈন্তদলের বরুদ্ধে খেলে, তাদের হারিয়ে মোহনবাগান ক্লাবের ভাহ. এফ. এ শীল্ডবিজয়ে। মোহনবাগান ক্লাব তখন সম্পূর্ণ বাঙ্গালী “থলোয়াড় নিয়ে গঠিত হত , তারা খেলতেন খালিপায়ে ; শাদ। চামড়ার গোর! সৈম্তদল খেলত বুট পরে। ঘোহনবাগানের এই বিগ শাসক ইংরেজদের হারিয়ে সাধারণ বাঙ্গালীর হয়যাত্রা ঘোষণা । সেদিন মোহনবাগান ক্লাবের জয় এক জাতীয় জয়ের দিন হিসাবে চিহ্িত হয়ে আছে। সেইদিন বাজীরাও নাটক শুরু হওয়ায় সেই বিজয়ের গন্ধ বাজীরাও নাটকের গায়ে ছড়িয়ে পড়েছে । বাঁজীরাও নাটক যে অন্যতম জাতীয়তাবাদী নাটক হিসাবে চিহ্নিত হল না, রাজরোষে পড়ে বাজেয়াপ্ত হল নী, বাঁজীরা ও-রচয়িতার.. পক্ষে এটাই সব থেকে লক্ষাকর ঘটনা । নাট্যকারের অসাফল্যে বাজীরাও- নাটক বিশ্বতির অতলতলে সমাহিত | ১। নখ । ৩ ॥ ৪ | | ৭ ॥ চপ ॥ ৯) ১০ । ১১ | ১২ ১৩ । বাজীরাও ূ ৯৫ যুত্রনির্দেশ রমাপতি দত্ত, রঙ্গালয়ে অমরেন্দ্রনাথ, পৃ. ৪৬৩-৪৬৪ । তদেব। মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, বাজীরাও ৷ আশুতোষ ভটাচার্য্য, বাংল! নাট্য-সাহিত্যের ই তিহাস) “পরিশিষ্ট! | মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, বাজীরাও, ৪র্থ সংস্করণ, ২য় অন্ধ ৫ম গর্তান্ক, পৃ ৬৫-৩৬। 53. 5. 98109591, [9৬4 11151017% 01 0106 14978101839, ৬০1. 11, 700. 106-1098. স্দেৰ। তদেব। তদ্দেব, 00. 178-181. ভারিখ-ই-মুহম্মদশাহী । ৬৬. 11৬119, 10191 1৬101010915, ৬০1. 1, 60. ১). বি. 587881. এবিষয়ে বিশদ বিবরণ পরে দ্রষ্টব্য । নী. 0. 10920170081, 1115101% 01 019 716600ছা) 710৬6719111 ৬০1], |1, 00. 264-327. তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ তৃতীয় পাঁপিপথের যুদ্ধ সম্বন্ধে বাংলা সাহিত্যে মাত্র একথানি নাটক আছে। নাটকের নাম 'যুগবিপ্নব”, রচয়িতা অমর কথা সাহিত্যিক তারা- শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় । নাটকথানি এখন পাওয়া যায় না। নাট্যকারের নিশ্ব গ্রন্থাগারের কপি পাঠ করার সুযোগ নেওয়! হয়েছে । সেজন্য নাট্যকার কতজ্ঞত[ভ। ভন । ধঘুগবিপ্রব পড়ে অনেক প্রশ্ন মনে আসে নাটকে যাঁর উত্তর দেওয়া হয় নাই। প্রথমেই মনে হয় এই যুদ্ধ (কন হোল তা কোথাও স্পষ্ট ভাবে লিপিবদ্ধ নাই। তবে কি আহম্দেশাহ আবদালীর বাঁজ্যলিগ্া এই যুদ্ধের কারণ? দিল্লী জয কবে তাব বাদশাহ হয়ে ভারতবর্ষকে শাসন করার ইচ্ছাই যদি আফগান বাদশার ছিল তাহলে তিনি বারবার তার স্বদেশে ফিরে বাচ্ছিলেন কেন? মাবাঠাবা এই সময়কার এক প্রচণ্ড শক্তি। তারা দিল্লীতে হিন্দু রাঙ্গত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তাই কি বিরোধ? বালাজী-বাজীরাও- এর মনে কি শাহনশাহ বা ভারতের সমাট হবার বাসন! ছিল? গোকুলের যুদ্ধে তার বে বীরত্ব ন'ট্যকার দেখিয়েছেন তারপর পাশিপথে তাঁকে না দেখে আশ্চর্য হতে হয় বৈকি। সব থেকে অবাক হতে হয় পেশোয়! প্রাসাদে সুলমান শাহজাদীকে দেখে । অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণপরিবার মুসণমান গৃহে উপস্থিত থাকলে রন্ধনকার্য করেন না। বিশেষ বাজীরাও-মন্তানীর কলঙ্কিত উপাখ্যান এবং তাঁর স্বজন ও পরিবারবর্গের বাজীরাওকে ত্যাগ করার ঘটনার পর বাজীরাও পুত্রের গৃহে মুসলমান মহিলার গল্প কাল্পনিক হওয়াই স্বাভাবিক । তাহলে এই এঁতিহাসিক নাটক ইতিহাসকে কতথানি মর্ধ্যাদা দিয়েছে? পাণিপথের তৃতীয় যুদ্ধের মতো এক রাজনৈতিক যুগসন্ধি- ক্ষণকে স্পষ্ট না বুঝলে নাটকের পরিপূর্ণ বিচার করা যাবেন! । প্রথমে নাট্যকারের মুখেশোনা ( ২৩ ডিসেম্বর ১৯৭০ ) নাটক রচনার ইতিহ'সংক লিপিবদ্ধ করা যাক। তারাশঙ্করবাবু বলেন যে ১৯২৩-২৪ ্রীষ্টাবে, তীকে একবার কাণপুর যেতে হয়। তিনি গ্রাণ্ ভাফের (01811. তৃত্তীয় পাণিপথের যুদ্ধ | ৯ 086) মারাঠা ইতিহাসকে তার সঙ্গী করেন। কানপুরেই পাঁণিপথের তৃতীয় যুদ্ধ নিয়ে নাটক লেখার ইচ্ছা তার মনে জাগে এবং তার ফলে যে নাটক রচিত হয় তার নাম “মারাঠা তর্পন” । কানপুরে ও বাংলায় এই নাটক লেখা হয়। ১৯২৮ শ্রীষ্টাবে নিষ্গ্রাম লাভপুরে নাটকটি সাফল্যের সঙ্গে অভিনীত হয়। নাট্যকার জানান যে এই নাটকে ইতিহাসের থেকে কল্পনাই প্রধান ছিল। নাটরচনার ধারায় ক্ষীবোদপ্রপাদ বিদ্ভাবিনোদের প্রভাবও ছিল অত্যন্ত স্পট । “বাজীরাও+ চরিত্র নাট্যকারকে মুগ্ধ করে তাই তিনি পিতার চরিত্র পুত্রে আরোপ করেছেন অর্থাৎ বাজীরাও চবিত্র অন্ুযাঁয়ী বালাজী বাজীরাওকে অক্ষিত করেছেন। এই নাটকখানি ষ্টার থিষেটারে পাঠান হয় কিন্তু অপরেশচন্দ্র নাটকটি বাতিল করে দেন। অত্যন্ত মন:কষ্টে নাট্যকার সেই পাণ্ডুলিপিটি অগ্নিতে অর্পন করেন। দাঘদিন পরে ১৯৫৯১ খ্রাাবে মন্দিরা পত্রিকাতে এই নাটক সম্পর্কে পড়ে শ্রাযুক্ত অহীন্দ্র চোপুরী ন।টকটি সম্পর্কে ওতস্ুক্য প্রকাশ করুলে নাটাকার “মারা2া তর্পণ'কে নূতন করে লেখার প্রযোজন উপলব্ধি করেন। তখন তিনি আচার্য যছ্ুনাথেব মোগল সামাজ্য পতনের ইতিহাস পাঠ করেন এবং মারাঠা তর্পণের অন্ক একটি পাগুলিপির সাহাযো এই ঘ্বুগ বিপ্লব নাটক রচনা করে অহীন্দ চৌধুরী মহাশয়েদ কাছে পাঠিয়ে দেন। ছু:খের বিষয় এবারও নাটক অভিনয় হবার উপযুক্ত বিবেচিত হলনা । নাটকের ভূমিকায়: তারাশঙ্করধাবু তাই লিখেছেন_-নিন্দা প্রত্যাখান ব্যর্থতা জীবনের সাধনার সোপান ।১৯ | “ধুগবিপ্নব* নাটকটি পাঠ করলে এই প্রত্যাখ্যানের কারণ বুঝতে দেরী হয়ন|। নাটক হিসাবে এটি তারাশঙ্করবাবুর সর্বাপেক্ষা দুর্বল নাটক । ইতিহাঁস ও কল্পনা, তেল ও জলের মতো! সর্বদা আলাদা হয়ে আছে। প্রধান চরিত্র- গুলির মধ্যে এই বিভিন্নতা নিদারিণ ভাবে ফুটে উঠেছে। বাজীরাও এর প্রভায় তার পুত্রকে স্থ্টি করায় অস্থবিধা চরম হয়েছে কারণ বালাজী বাজীরাও এর চরিত্র ছিল তার পিতার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং পাণিপথের পরাজয়ের এক. বড় কারণ হল এই মারাঠা নায়কের চরিত্র। পেঝদার থিয়েটারের জন্যে লিখিত হওয়ায় আহমেদশাহ আবদাপীর চরিত্রে অনেক ৯৮ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোঁচন! থিয়েটারি চঙ আব্লোপিত হয়েছে ফলে আবদালী এক নরপগুতে রূপাস্তরি্ভ যুদ্ধ অভিজ্ঞ রাজনৈতিক আব্দালীকে সমসাময়িক ঘটনা! বিবর্তন যে সুযোগ করে দ্িয়েছে-তার ইতিহাস অম্থপস্থিত থাকায় আবদালীর কীতিকলাপ কাল্পনিক হয়ে গিয়েছে । সব থেকে বিপদ ঘটেছে প্রেম নিয়ে। তৃতীয় পাণিপথ যুদ্ধে নায়ক নায়িকার প্রেমের স্যৌগ নাই । অথচ প্রেমছাড়া! ১৯৫৪ খ্রঠান্দে পেশাদার নাট্যশালায় নাটক অভিনয় কেউ কল্পনা! করতে পারতেন না। তাই গন্না বেগম * ও জবাহিরের মধ্যে দিয়ে কল্পন। ব্যাপ্তি লা করেছে। সব থেকে সাংঘাতিক হয়েছে পেশোয়াপুত্র বিশ্বাসরাও ও বাদশা জাদী নসীবনের মধ্যে প্রেমের আভাষ। হিন্দু-মুসলমানের মিলনের ৰহ ছাল ভাল কথা গলাধ:করণ করলেও বাঙ্গালী থিয়েটার দর্শক হিন্দুমুসলমানের মঞ্ধে: বিবাহের সম্ভাবন! ১৯৫১ খ্রীষ্টাব্দে সহ করতেন না। ১৯৪৬ গ্রাষ্টান্দের ক্ষদ্ধ তখনও সম্পূর্ণ আরোগ্য হয় নাই । তার ওপর এই নাটকে বক্তৃতা, গলাবাজী প্রভৃতি চটকদার কিছু নাই । হ্থতরাং পেশাদার নাট্যশালার পক্ষে এ নাটক, প্রত্যাখ্যান করাই স্বাভাবিক হয়েছে। ভূমিকায় নাট্যকার তারাশঙ্করবাবু প্রথমেই লিখেছেন “যুগবিপ্নব নাটক- খানি তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধের ঘটনা অবল্নে এতিহাসিক নাটক | এই বিবৃতি বিশেষ প্রাণিধান যোগ্য । সাক্ষাৎকারের সময় তিনি খুব স্পঞ্জ ভাষাতেই জানিয়েছেন ঘে তিনি এই নাটকের মধ্যে দিয়ে তার নিজের, সমসাময়িক কালকে প্রতিফলিত করতে চান নি। তার মৃথ্য উদ্দে্ত ছিঙ্গ ভূতীয় পাণিপথের ঘটনা এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নাটকের, মাধ্যমে প্রকাশ কর1।২ তারাশঙ্করবাবুর মতো অভিজ্ঞ সাহিত্যিক ও নাট্যকারকে এতিহাসিক নাটক রচনায় বিফল হতে দেখে অবাক হতে হয়। বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক যদি ্রতিহাসিক নাটক রচনা করতে গিয়ে, সফলতা অর্জন না করতে পারেন তাহলে কি ধ্রতিহাসিক নাটক বচন! সোনার- পাঁথরবাটির মতোই অসম্ভব! অথচ তারাশঙ্কর বাবুর সঙ্গে আলোচন। করে ৯ বলাবাহুল্য গন্নাবেগম এই মোগলমহিলার ডাক নাম। গল্প! মাছে ইক্ষু বাআথ। তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ জি 'থেবা যায় ধে তিনি অত্যন্ত সচেতন মন নিয়ে এই এঁতিহাসিক নাটক বচনার প্রয়াস করেন। যুগবিপ্রব নাটক বিচার করার আগে বারবার ভারত ইতিহাসের এই অধ্যায় তাই দেখতে হয়েছে । বিশেষ আচার্য যছুনাথের মোগল সাআজ্োর পতনের ইতিহাস ও নান! সরদেশাই রচিত মারাঠা ইতিহাস পড়ে মনে হয়েছে ঘে সমসাময়িক অর্থাৎ তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধের সময়কার সেই অষ্টাদশ শতান্ধীর ভারতের সামাজিক পরিবেশ তারাশঙ্করবাবু নাটকে ধরতে পারেন নাই বলেই রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অস্পইট রয়েছে। ইংরেজ শাসন ও শিক্ষার ঘনঘট! তার চিস্কাধারাঁকে আচ্ছন্ন করেছে বলেই ইংরেজ যুগের আগে, মোগলশাসনের দুর্বলতম যুগে যে প্রচণ্ড অরাজকতা স্ষ্টি হয়েছিল, দেশব্যাপী যে সাংঘাতিক অনাচার চলেছিল তা তিনি কল্পনাও করতে পারেন নাই। পণ্ুশক্তির দলবদ্ধ বিচরণভূঘিতে নৃশংসতার চিহ্ন দেখা যায় বটে কিন্ত সাহিত্যে, বিশেষ নাটকে তাকে ১৯৫১-র যুগে প্রকাশ করা সহজ ছিল না। এই কঠিন ও অসম্ভব কাজে প্রয়াী হয়েছেন বলেই তকে ধন্বাদ জানাতে “বে, তর এই কীত্তিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিচার করতে হবে । অষ্টাদশ শতাব্দীর ভারতবর্ষে বাদশাহ গু্রঙ্গজীবের মৃত্যুব্ব সময় থেকে (১৭০৭ শ্রীষ্টাব্ব) সিপাহী বিদ্রোহের (১৮৫৮ শ্রীঃ) কাল পধ্যন্ত কমবেশী অরাজকতা! বিরাজ করেছে । এই সময়ের মধ্যেই মারাঠা শক্তির পরিপুণ 'অত্যুর্থান ও পতন। তার মধ্যে ১৭৩৯ খ্রীঃ: থেকে অর্থাৎ নাদির শাহের স্ভাঁরত আক্রমণের সময় থেকে ১৭৬৪ খ্রীঃ অর্থাৎ ইংরেজের সঙ্গে মীরকাশিম ও অযোধ্যার নবাব স্ুজাউদৌল্লার বক্সারের যুদ্ধ পর্যন্ত ভারতের নৈরাজ্যের ইতিহাস অবর্ণনীয় । দিল্লীতে বাদশাহ ক্ষমতাচ্যুত কাষ্টপুভ্ভলিকামাত্র । উজির বা প্রধানমন্ত্রী একমায়কের ক্ষমতায় সমাসীন। একজন একনায়কের পতনের পর্ব আর একজনার অভ্যুথান | ফাঁরুকনিয়র বাদশাহ হলে সৈয়দদের প্রতিপত্ি, 'ৰাদশাহ মহম্মদশাহের সময় সৈয়দ ত্রাতৃদ্বয়ের পতন» তারপর কখন নিজাম-উল- মুলুক আসফ ঝ| কিংব। তার বংশধরগণ কথন অযোধ্যার নবাব সফদরজঙ্গ ও ন্তার পুত্র সুজা-উদ-দৌল্লা কখন স্ুবিখ্যাত নাজিব খান বা অন্ত কেউ, প্রধান বক্রীর পন্ব-অধিকার করে স্বয়ং বাদশাহকে বধ বা বন্দী করে নিজের পছন্বমত ১০০ বাংল! এতিহাসিক নাউ্ুক সমালোচনা কোন বাদশাহ বংশধরকে সিংহাসনে বসিয়ে শাসনকাধ্য চালিয়েছেন । ক্রমে: ক্ষমতাসম্পন্ন ওমরাহ * বা নিজস্ব সৈম্তদল সম্পন্ন প্রধান মন্ত্রীদের দলবেধে সরিয়ে দিয়ে দুর্বল ওমরাহ রাজনৈতিক বুদ্ধির পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন । এরা বিন! দিধায় প্রয়োজন অনুসারে মারাঠা জাঠ বা আফগানদের সাহায্য নিয়ে নিজেদের ক্গষত। বজাম রেখেছেন | অর্থের বিনিময়ে রা'জকোষ শুন্ট করে অন্যের সৈম্দল পুষেছেন। প্রয়োজন হলে আফগানিস্থানের বাদশাহকে সাদরে আহ্বান করে এনেছেন। দিল্লীর দরবারের এই বিচত্রবপ কল্পনা করা ছুক্ষর | দিল্লীর বাদশাহের শেচনীয় অবস্থা বুঝতে পারা ধায় যখন দেখি বাদশাহ ঘর বদল করণেন কিন্ত তাঁর ভাঞ্চা পুরাতন ঘর সারান হল না কিংবা বাদশাহের বেগমরা ক্ষুধায় অধীর হয়ে জেনানার সব মর্যাদা ভুলে গিয়ে রন্ধন শালার দরজায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেন কিংব| যুদ্ধক্ষেত্রে বাদশাহর বেগমদের ত্যাগ করে ফেলে সবাই পালিয়ে গেলেন । তারা মারাঠ। শক্রর হাতে বন্দী হয়ে উপক্রত হলেন অথব] লাঞ্ছিত হলেন। এমনি শত শত ঘটনা । হিংস! ও স্বণার রংবাহারে দিল্লীর বাদশাহী রউমহলও সেদিন হারমেনেছিল। কতো! রকমের বিরোধ, কতো! বর্ণের কতো! ঢঙের। হত্যা মৃত্যু লু্ন কামচরিতার্থতা যুক্ত ন| থাকলে দিল্লীর এই সং নৃতন এক হাসির খেলা হত কিন্তু স্বার্থপরতার জিথাংসায় এর রূপ হল অতি ভয়াল। পুতুলের সপ্গে পুতুল নাচিয়ের বিরোধের মতোই বাদশাহর সঙ্গে তার প্রধান মন্ত্রীর বিরোধ ষড়বস্্রের বিষবা্পে ফুলে ফেঁপে বিরাট অজগরের আকার ধারণ করল । ক্রমাঘ্য়ে চলতে লাগল ইরাঁনীর সঙ্গে তুরানীর বিরোধ, সিয়ার সঙ্গে সুন্ীর, অন্থপ্দিকে মোগল আর তুর্কিতে বিরোধ। ভারতীয় আমীর আফগানি আমীরকে সহ্‌ করতে পারেন না। তারপর এল হিন্দুরা আর শিখরা। এদের সঙ্গে মুসলমানদের বিরোধ ধর্মযুদ্জের. রূপ নেয়। হিন্দুরা নিজেদের মধ্যেও ছন্নছাঁড়1। জাঠ, মারাঠা». রাজপুত আর শিখ সর্বদা পরস্পর বিবদমান। বাদশাহের বা তার প্রধান মন্ত্রীকে একদল 'যখন সাহায্য করেছে অন্তদ্বল থেকেছে দূরে । হিন্দুপৎ পার্দশাহীর চিন্তা অর্থাৎ. দিলীতে হিন্দু বাদশাহ বপাবার স্বপ্ন প্রথম আসে বাজীরাওএর চোখে।, তখনই তিনি ঘোষণা! করেন দিল্লীর সিংহাসনে বসার একমাত্র অধিরারী: (৬ আমীর শঝের বহবতদ ওমঙাহ! তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ ১০১ মেবারের রাঁন। মহোদয় । একমাত্র তাঁর বংশ কথনও মোগলের কাছে মাথা নীচু করেনি, মোগলের ঘরে এই বংশের কেউ কথনও কন্ঠা সম্প্রদান করেন নাই। বাজীরাও তাঁর নিজের গ্রতু ছত্রপতি সাহুকে বাদ দিয়ে মেবারের রানাকে হিন্দুপৎ বাদশাহ করতে চাওয়ার পেছনে কেবল রাজনৈতিক নয় সামাজিক দুরদৃষ্টির পরিচয় পাওয়া যায় । বাগীরাও দিল্লীর তোরণ পর্য্যন্ত মারাঠা বিজয়বাহিনী নিয়ে গিয়েও দিল্লী প্রবেশের স্থযোগ পেলেন না। মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে তার জীবন প্রদীপের সঙ্গেই হিন্দু পাদশাই"র বাস্তব চিন্তাও সমাহিত হল। তারপর হিন্দু পাদশাহীর কথা! বলা হয়েছে বটে কিন্ত তাব মধ্যে প্রাণ ছিল না, কোন রাজনৈতিক পরিকল্পন| ছিল না। হিন্দু পাদশাহী কেবলমাত্র লোক ঠকান, সৈন্য থেপাঁন বুলিতে পর্যবসিত হয়েছিল। বালাজী বাজীরাও-এর সময় মারা! টন দীর্ঘদিন দলীর ভেতর বসবাস করেছে। বিভিন্ন প্রধান মন্ত্রী ও ওমরাহের ষড়যন্ত্রে যোগদান করেছে । উজির ইমাদ- উল-মুলুক মারাঠা সৈশ্ঠদের কাছে উজিরী রক্ষার জন্য সাহায্যপ্রার্থ তয়েছেন বারবার, কিন্ত হিন্দু পাদশাহীর চিন্তা মারাঠা নায়কদের মন থেকে তথন বন্ছ দূরে সরে গেছে । উঞ্জিরের নির্দেশে মারাঠ৷ অন্তজীকে্ছয় হাজারী মনসবদার নিযুক্ত করেছেন বাদশাহ । খ্যাতনাম! মারাঠানায়ক মলহররাও হোলকারের যুদ্ধবিদ পুত্র খাণ্ডেরাও (বিখ্যাত অহল্যাবাঈ-এর স্বামী ) যখন বাদশাহের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন তখন বাদশাহ তাকে মনসবদারী দিতে চাইলেন। ছুবিনীত থাগ্ডেরাও উত্তরে বললেন 'আমাদের ভৃত্যকে (অর্থাৎ অস্তজীকে ) আপনি মনসবদারী দিয়েছেন আমাকে তার থেকে অনেক বেশী সম্মান দেখাতে হবে। আমাকে ২২০০০ স্বর্ুদ্রা উপচৌকন দিতে হবে। কারণ আমি আপনার ভৃত্য নই, রক্ষক ।”৩ এই হল ১৭৫৩ খ্ীষ্টাব্বের ঘটনা । ওই বছরের ২৬শে ডিসেম্বর বাদশার সঙ্গে থাণ্ডেরাওএর সাক্ষাৎকার হয়। এই সাক্ষাৎকারে খাণ্ডেরাঁও যে ওুদ্ধত্য ও অভদ্রত] প্রকাশ করেন তাতে বাদশাহের দরবারের অসহায়ত। ও ক্ষমতাহীনতাই প্রকাশ পায়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে যায় ছত্রপতি শিবজীর প্রতি বাদশাহ উরজজীবের দু্বব্যহারের কাহিনী শাহানশাহ দ্বিতীয় আলমগীর মারাঠা ছত্রপতির প্রধান কর্মচারী পেশোয়ার অনুগামী হোলকার পুত্রকে দরধার ত্যাগের অচমতি দিলে থাণ্ডেরা*্ জবাব ৯৪২ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা দেন, “আমার এখন আপনার মচাঁন পদযুগলের কাছে দাড়িয়ে থাকতে ইচ্ছ! হচ্ছে ।& মোগল বাদশাহের আদেশের অবমাননায় দেওয়ান-ই-আম কেপে উঠল না একজন আমীরও বাদশাহের সন্মানে আসি নিষ্কাসন করে খাপ্ডেরাওকে ঘন্দ যুদ্ধে আহ্বান করলেন না । বার বার বাদশাহ তাকে বিদায় দিলেও থাণ্ডেরাওকে অন্ত্র নিয়ে যাওয়া অবশেষে সম্ভব হল স্বরার লোভ দেখিয়ে। বস্তত দিল্লী অবস্থানের বাকি সময় খাণ্ডেরাও দিবারাত্র মদ থেয়ে বেশ হয়ে পাকতেন। বাদশাহ গুরঙ্গজীব আলমগীর শিবজী ছত্রপতির সঙ্গে থে দুর্ব্যবহার করেছিলেন তারই প্রায়শ্চিত্ত করলেন তারই নামধারী এক প্রপৌত্র । ইতিহাসের বিধান অমোঘ। ূ্‌ দিল্লী দরবারের অবস্থা বোঝবার জন্টেই সবিস্তারে খা্্রোওএর কুকীত্তিকে বিবৃত করা হল। ১৭৫৩ খ্রীষ্টাব্দে মারাঠাদের ক্ষমতা! ও শক্তির অবধি ছিল ন৷ কিন্তু হিন্দু পাদশাহীর চিন্তা তাদের রাজনীতিকে ভারাক্রান্ত করেনি । খাঁণ্ডেরাও হোলকারের দিল্লীর বাদখাহকে অপমান করার ঘটন৷ দেশব্যাপী কুষ্ঠরোগের একটি বুদ্ধের প্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়। হিন্দু ৰা মুসলমান কারু চিন্থাই স্ুস্থপথ ধরে চলেনি। লোভ আর স্বার্ধপব্বতার বেদীমূলে দেশের উ্নীতি এবং জাতির ভবিস্তখকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে । দলবদ্ধ লুঠন অনাচার অত্যাচারে মারাঠাঁ, আফগান, জাঠ, রোহেলা, মোগল ও পাঠানদের মধ্যে কোন গ্রভেদ ছিল না। বাংল! দেশে ১৭৪২ খ্রীষ্টান্ব থেকে ১৭৫১ শ্রী্টাব্ষ পর্য্যন্ত মারাঠা অত্যাচারের বিবরণ পড়লে শিহরিত হতে হয় ।« বার তাক্গামা নামে খ্যাত এই মারাঠা অভিযানের একমাত্র উদ্দেম্ত ছিল বু ও ভীতির সঞ্চার করে নিয়মিত চৌথের নাম করে অর্থ আদায়। রাজ্য- বিস্তার করে স্থায়ী শাসন ক্ষমতা স্থাপনের কোন চেষ্টাই মারাঠি শক্তি করে নাই। ১৭৫১ শ্রীষ্টাবে উড়িয্কা মারাঠা অধিকারে যাওয়া সত্বেও কোন শাসন ব্যবস্থা সেখানে প্রসারিত হতে দেখা যায় না। ইংরেজ বাহিনী তাই যখন উড়িস্ক। ঘখল করে নিল তখন শান্তিতে জীবনধারনের আশায় সাধারণ নরনারী স্বত্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। বীর দস্থ্যতার স্থতি মারাঠা কীতির একমানজ অবদান হয়ে গেল, হিন্টু পাদশাহী পরিকল্পনার এত বড় বার্থতা আর কোথাও এমন স্পষ্টরূপে চিত্রিত হয় নাই। তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ ১৬৩ সৈন্গবাহিনীর কাছে অর্থ ত্বর্ণ স্ত্রীলোক ও মূল্যবান দ্রব্য সম্ভার চিরকালই কাষা। কিন্তু এই যুগের মতো! সৈশ্তবাহিনীর পশুত্ব আর কখনও দেখা যায় নাই। দ্লপতিরা ইচ্ছা করেই সৈন্তবাহিনীর মধ্যে লোভের প্রশ্রয় দিতেন লুষঠনের আশ্বাস দ্রিতেন। যুদ্ধ করতে যাবাঁর এটাই ছিল সব থেকে বড় আকর্ষণ। মুসলমানবাহিনী, জাঠবাহিনী৭ বা মারাঠাবাহিনীরচ স্ত্রীলোকের প্রতি অত্যাচারের বে ইতিহাস লিপিবদ্ধ হযেছে তা পডলে লজ্জায় শির নত হয়ে যায়। লুণ্ঠন বা অতাচারের সময় কোন জাতিভেদ মানা হত না, শিশু বুদ্ধ যুবার মধ্যে তফাৎ করা হতনা, ধর্মস্থান বা পৃণ্যস্থান স্বীকার কর! হতনা, সন্যাসী বা দরবেশকে নিষ্কৃতি দেওয়। হতনা! আর স্ত্রীলোক পাওয়ামাত্র তাকে উপভোগ করা হত। হিন্দু বা মুসলম্নান সৈন্তে কোন প্রভেদ ছিল না। এইসব ঘটনা জানা না থাকায় নাদিরশাহকে অত্য।চারী বলার স্পর্ধা করেন অনেকেই। এই শৃঙ্খলাহীনতার যুগের চিত্র যে নাদিরশাহের তুলনায় কতো কলুষিত, কতো বেণী অশালীন ত৷ স্বীকার করতে পরাম্ুখ হওয়া সত্যের অপলাপ মাত্র । বিশৃঙ্খলার স্পছ৯ ছাঁব পেতে হলে আচার্ধ যছুনাথের মোগল সামাজোর পতনের ইতিহাস ভাল করে পড়া দরকার । ক্লীব বাদশাহ হয় ওমরাহের মধ্যে বিরোধ ঘটাচ্ছেন নয় হচ্ছেন তাঁদের মধ্যে যুদ্ধের নিশ্চল সাক্ষী ॥। তারই মাঝে সুযোগ পেলে এক উজিরের পতন ঘটিয়ে অন্য এক ক্ষমতাবাঁনকে উজিরপদে নিযুক্ত করে নিজের ক্গমতাবুদ্ধির চেষ্টা করেছেন । নিজের স্বার্থ ক্রমান্বয়ে জোটের চরিত্র বদল করেছে । কয়েকটা উদাহরণ দিলেই রূপটা বোঝা যাবে। ১৭৫৪ খ্রীষ্ঠাব্খে উজির ইমাদ-উল-মুলুক অসহায় শিশুর মতো মারাঠাদের শুন আকড়ে পড়েছিলেন, বলেছেন আচার্য যছুনাথ 1৯ ১৭৫৭ খীষ্টান্দে ছক বদলে গেল। উজ্রি ইমাদের বিরোধিতায় নামলেন অযোধ্যার সুজা-উদ-দৌল্লা, স্থরজমলজাঠ ও ম'রাঠী। কয়েকমাস যেতে না যেতেই উজির ইমাদ মারাঠা সহযোগিতায় নাজিবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামলেন।৯০ ১৭৫৮-৫৯ খ্রীষ্টাব্দে বাদশাহ ও উিরের বিরুদ্ধে শাহাজাদা শাহ জালমের যুদ্ধে সারাঠা ও রোহেলা আফগানরা শাহাজাদার পক্ষে দিল্লীশ্বর জগদীশ্বরেরই আরেক নাম-_মোগলশাসন তা প্রমাণ করেছে। ১০৪ বাংল! এঁতিহাসিক নাটক সমালোচনা কোন ক্ষমতাই তখন অবশিষ্ট ছিলনা । মোগল সমাট আহমদ শাহকে বন্দী করলেন উজির ইমাদ-উল-সুলুক তারপর বাদশাহী পোস্মদের চিড়িয়াখানা থেকে নিয়ে এসে বাদশাহ করলেন নৃতন এক বাদশাহী পৌত্রকে । নৃতন বাদশাহ নাম নিলেন দ্বিতীষ আলমগার। কৌতুকের আর কিছু বাকী থাকলনা। তখন বাংলা ও বিহ্বারে নবাঁৰ আলিবদ্দির একচ্ছত্র প্রভুত্ব। স্থজা-উদ-দদোল্ল|র অধীন এলাহাবাদ ও অযোধ্যা । দক্ষিণে নিগজামের রাজত্ দিল্লীর অধিকার ন্বীকার করেনা । মারাঠা প্রতুত্ব নিজামের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করে সমগ্র দাক্ষিণাত্যে ব্যাপ্ত । সেখানে মোগলের কোন অধিকার নাই। উত্তরে যমুনা পয্যন্থ মারা অধিকারে । গুজরাট ও মালবে মারাঠা- নায়কগণ স্থিতিবান। বস্তরত এই মারাঠানায়কগণই স্বাধীন রাজত্বের যে হুচনা সেদিন করেণ ত। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল ছিল । মলহররাও হোলকা'র রণোজী সিন্ধিয়া, পিলাজী গাইকোয়াড, টুরকোষ্জী পাবার প্রভৃতির বংশধর- রাই পরে হয়েছিলেন রাজক্তবর্গ নামে খ্যাত । মাবাঠ। প্রভাব ১৭৫৭ শ্রষ্টাব্দে ত্বর্ণশিথর ছুঁয়েছে। পূর্বে উদ্রিগ্থা থেকে পশ্চিমে গুজরাট পর্য্যন্থ অর্থাৎ বঙ্গো- সাগর থেকে আরবসাগর পধ্যন্ত মারাঠ! প্রতৃত্বের প্রপার, উত্তরে যমুনা আর দক্ষিণে ভারতমহাসাগর বা কুমারিকা অন্তরীপ পধ্যন্ত তাদের ব্যাপ্চি। সেখানেই শেষ নয়। রাজপুত রাজারা দিল্লীর প্রভাব থেকে সরে দাড়ালেন । এখন মারাঠাশক্তি তাদের অভিন্নহদয বন্ধু। দন্্যত! ও ব্যক্তিগত ক্ষমতাযৃদ্ধে বিভিন্ন মারাঠা নায়কগণ যুক্ত হয়ে না পড়লে রাঁজপুতানাধ তাদের প্রভাব বৃদ্ধি হত। দীর্ঘ যোগ্ত্রের ফলে কোন কোন রাজপুত রাগা যেমন জয়পুর, দিল্লীর নির্দেশ মানলেও নিজেদের স্বার্থের সংঘর্ধে তার! হতেন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী । সমন্ত দেশজুড়ে মারাঠার। চৌথ আদায়ের নামে অর্থ সংগ্রহ ও লুষ্ঠন করে বেড়াত। তাদের সামান্যতম বিরাগভাজন হলে গ্রাম নগর পুড়ে শেষ হরে ধেত। তারা নবাব আলিবর্দি কিংবা জয়পুরের মহারাজা কাউকেই চৌথ থেকে রেক্জই দিত না এবং নির্মম নিয়মানবন্তিতায় সেই অর্থ আদায় করত । কেবল অন্তে কেন স্বয়ং দিল্লীর বাদশাহকে চৌথ দিতে বাধ্য করল মারাঠার! | ১৭৫৪ খ্রীষ্টাব্দে পেশোয়া ভ্রাতা রঘুনাথরাও বিনাবাধায় দিলী প্রবেশ করে সাড়ে বিরাণী লক্ষ টাকা চৌথ দাবী করলেন।৯১ অবশেষে ৪০লক্ষ টাকাক়্ রূফা হল। উজির নিজে ক্ষমতাসীন থাকার জন্য ২৫লক্ষ টাঁকা পর্য্যস্ত দিতে, তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ ১৪০৫ গ্রস্তীত ছিলেন, কিন্তু মারাঠাদের প্রচণ্ড লোভ তাকে বাচিয়ে দ্িল। মাত্র ঈলক্ষ টাকা মারাঠানেতা মলহররাও হোলকারকে দেওয়া হল আর ১৭২ লক্ষ টাকার হাতচিটা মহাজনদের সহিযুক্ত করে দেওয়া হল। দিল্লীর রাজ- সভার মারাঠা প্রতিনিধি ১৭৫৪ খ্রীগ্টাব্দের অক্টোবর মাসে পুনায় পেশোয়াকে চিঠিতে জানালেন--“বাদশাহের কোষাগার শূণ্য ৷ উজিবের কাছে একটা পয়সা নাই। প্রতিদিন ছুরিতে শাণ দেওয়া হচ্ছে কিন্তু ধনরত্র বা 'অলঙ্কাবের চিহনও দেখা যাচ্ছে ন। নিরুপায় উজিব দিল্লীর চারপ?শের বাদশাহী জমি বার প্রস্তাব করেছেন।” দিলীর জমি অবশ্য পাওয়। যায় নাই বাদশাহ শেষ পর্য্যন্ত ২৫শে অক্টোবর ১৭৫৪ শ্রীষ্টাব্দে বাংল], বেরিলি, বৈরাট, সম্ভর, কোর! প্রভৃতি মহালের ৪২২ লক্ষ টাকার রাজন্ব দিষে দ্িলেন। কিন্তু এটাকাও যখন সম্পূর্ণ আদায় হলনা তখন গাঙ্গেয় দৌয়াব অঞ্চল মারাঠাদের ছেড়ে দেওয়া হল। অবশেষে ১৭৫৫ খ্রীটাব্দের ফেব্রুয়ারী মাঁসে মারাঠারা দিল্লীর ভেতর ও চতুর্পাশ থেকে সরে গেল। উজির ইমাদ-উল-মুলুক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ।৯২ সবিষ্তারে ১৭৫৪ শ্রীগ্াব্ষের ইতিহাস লেখার অর্থ তৎকালীন ভারতবর্ষের অবস্থা বোঝা এবং তারই পরিপ্রেক্ষিতে পরবন্তি ঘটনার বিচাঁ্ কর! । নাটকের মাধ্যমে, বিশেষ একটি নাটকে দেশের এই যুগবিপ্লবকে প্রকাশ করা অসম্ভব । অথচ ১৭৫৪ সম্পর্কে স্পই ধারণ না থাকলে তিনবছর পর ১৭৫৭ তে আহমেদ- শাহ আবদালীর দিল্লী অধিকার বোঝা সহজ নয়। দিল্লী অধিকার করাটা যে কিছুই ছিলনা এটা বুঝলে দিল্লী অরশ্শিকারকে কেউ উচ্চ সম্মানে ভূষিত করবেন না। নিরুপাঁয় অবলা স্ত্রীলোকের মতে বিজয়ীর কাছে দিল্লী বারবার আত্মসমর্পণ করেছে । বিজয়ী সৈম্তরা যথেচ্ছ লুটপাট করেছে অত্যাচার করেছে। জাতি বয়স ধর্ম বা জ্রীবিক1 লুঠেরাদের নিবৃত্ত করতে পারেনি। স্থান কাল পত্র বিবেচনা না৷ করেই তারা অত্যাচার করেছে। ১৭৫৪ তে মারাঠা অত্যচারের কথা যেমন সবিস্তারে লিপিবদ্ধ আছে তেমনি সবিস্তারে ১৭৫৭র আফগানী অত্যাচার লিপিবদ্ধ হয়েছে। ১৭৫৭ থেকে ১৭৬১ খ্রীষ্টীন্বের জানুয়ারীমাস তিনবছর একমাস। ১৬১ ধরা পাণিপথের যুদ্বৈর বছর। তারাশক্করবাধুর নাটক এই একমাস ও. ১০৬ বাংলা তিহাসিক নাটক সমালোচনা ভিনবছরের ঘটনাবলি অন্গুসরণ করে রচিত হয়েছে । স্থতরাঁং এই চারবছরে 'আহমদশাছ আবদালী ও মারাঁঠারা কে কোথায় ছিলেন বোঝা দরকার । জময়াছ্ছগ তালিক! করে এই বিচিত্র প্রতিদ্বন্বিতার শ্বরূপ বোঝাবার চেষ্টা করা হবে। খবষ্টাব্দ ১৭৫৬ অক্টোবর_আব্দালী কাবুল থেকে ও রঘুনাথরাঁও পুনা থেকে যাত্রা করলেন । উভয়ের গন্তব্য দিল্লী । ২০শে ডিসেম্বর-_-আবদালী লাহোর অধিকার করলেন । জন্দু তার অধিকার স্বীকার করল। পাঞ্জাব আবদালীর অধিকারভূক্ত । শষ্টাব্ষ ১৭৫৭ ১০ই জাচ্ুয়ারী_-আবদালীর সারহিন্দ জয় । ১২ই জান্য়ারী-_পাঁণিপথে ঘাটি স্থাপন ও দোয়াব দখল । ২৮শে জাচয়ারী-_ আবদালীর দিল্লী গ্রবেশ। হোলির সময়__-অফগানহত্যার প্রতিশৌধে বনু দিল্লীবাসী হত্যা । (২৮শে ফেব্রুয়ারী থেকে ৬ই মার্চ) ১লা ফেব্রুয়ারী-_আবদালীর সঙ্গে অন্তজী মানকেশ্বরের যুদ্ধে দিল্লী | বাদশাহের মনসবদাঁর অন্তজী প্রচণ্ডভাবে পরাজিত হয়ে মথুরায় পালালেন । (4, 0. 110-114 ) ২৬-২৭ ফেব্রুয়ারী-_আবদালীর সঙ্গে ভরতপুরের সৃরজমল জাঠের যুদ্ধ ও পরাজয় । (0. 114-18) ১লা মার্মখুরা অধিকার ও লুষ্ঠন। যমুনা রক্তে লাল। (0,118-209) ১৫ই মার্চআবদালীর গোকুল অধিকারের যুদ্ধ ও নাগা সন্লাসীদের বিক্রম । (19. 120-22) ২১শে মার্চ আবদাঁলীর প্রধান সেনাপতি জাহানখার আগ্রা দখল ও লুগঠন। (7১. 122-23) ৩০শে মার আবদালীর ফরিদাবাদে উপনীত । (10, 126-27 ) ওরা এপ্রিল__ইমাদ-উল-মুলুক আবদালীর আদেশে বাশাহ- তৃতীয় পাণিপথের বুদ্ধ ১৪৭ কর্তৃক আবার উজির নিযুক্ত। নাজিব খান আফগানের ক্ষমতা হাস । (10. 1309) শ্ী্টান্ব ১৭৫৭ এপ্রিল-_আবদালীর সদলবলে ভারতত্যাগ সঙ্গে হজরত বেগস্ব বধূ ও মহম্মদশাহের বিধবাগণ । (19. 129-30) _ মে__রঘুনাথরাও আগ্রায় উপস্থিত। নাজিবখানের বশ্ঠতা স্বীকার । (1৬. 210. 392) অগাষ্ট রঘুনাথরাঁও-এর দিল্লীতে উপস্থিতি । সঙ্গে মলন্বর-. রাও হোলকার । দিলীতে নাজিবথান পরাজিত । সেপ্টেম্বর-_পোয়াৰব আবার মারাঠা অধিকারে । নাজিত- থানের দিল্লী ত্যাগ । অক্টোবর__রধুনাথরাও-এর পাঞ্জাব অভিমুখে অভিযান ( দশের! ) ধ্টাব ১৭৫৮ জাহ্য়ারী-_কুঞ্জপুরা দখল । মার্৪_সারহিন্দ দখল। লাহোর দখল। আবদালী পুন্ধ তৈমুরশাহ ও প্রধান সেনাপতি জাহানখ! মারাঠা- কর্তৃক লাহোর থেকে বিতাড়িত । ১১ই এপ্রিল-_রঘুনাথরাও-এর লাহোরে অবস্থিতি। মে রঘুনাথরাও লাহোর থেকে পুন। থাত্রা করলেন ।১৯৬ উপরের ঘটনাক্রম থেকে যুদ্ধরীতি স্পষ্টরূপ নিচ্ছে। দিল্লীর বাদশাহ ক্ষমতাহীন তাই অর্থ বা রাজত্বের বিনিময়ে মারাঠা সাহায্য প্রয়োজন হয়। মারাঠার! আবদালীর প্রত্যাবর্তনের জন্ত অপেক্ষা করেন। কারণ আবদ্ালী বা তার সৈম্তগণ ভারতীয় গ্রীষ্ম সহ করতে পারতেন না। গ্রীষ্মকাল এলেই তারা ্বদেশে ফিতে যেতেন। তথন মারাঠারা এসে আফগান সৈন্ত ও শাসক সরিয়ে নিজেদের বা দিল্লীর বাদশাহের শাসন কায়েম করতেন। ঘটনা তরঙ্গ অনুসরণ করা যাক ॥ খষটাব্ ১৭৫৮ জুলাই-_টুকোঁজী হোলকার ও সবাজী সিদ্ধিয়া সমগ্র পাঞ্জাব অধিকার করে আটক ছুর্গে মারাঠা পতাকা! ছড্ভীন করলেন। ৮ বাংলা এঁতিষহ্াসিক নাটক সমালোচনা আগছ্ট-_-রঘুনাথ রাও, দত্তাজী সিন্ধিয়া (রণোজর দ্বিতীয় পুত্র ) ও জানকোজী সিন্ধিয়া (রণোঁজীর পৌত্র। জোষ্পুত্র জষাপ্পার পুত্র )-র ওপর পাঞ্জাব রক্ষার ভার দেন। --বাধষিক তের লক্ষ টাকার বিনিময়ে মারাঠারা দিল্লীতে বাদশাহকে বক্গাঁর ভন ৫০০০ অশ্বীরোহী রাখতে রাঁজী হল ।৯৪ একবছর মারাঠার! রাজপুতানায় অর্থ সংগ্রহে সময় কাটাল। শ্বয়ং পেশোয়! তার ভাই রঘুনাথ রাওকে “লখে পাঠালেন প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করতে । এমন কি উদদয়পুরের মহারাণাও বাদ পড়লেন না । পেশোয়া লিখিত আদেশ পাঠালেন, “মভারাণ। যদ্দি সহজে অথ না [দূন তাহলে তার সম্মানের খাতিরেও যেন আদায়ের চাপ কমান না হয়।,৯৫ পেশোযা বাঁজীরাঁও-এর রাজনৈতিক দুরদৃষ্টির সমাধি এই ভাবেই ঘটল তার পুত্র বালাজশী বাঁজীরাও-এর হাতে । জয়- পুরের রাজ'র কাছ থেকে ১৭৫৮র জন্য ১২ লক্ষ ও ১৭৫৯-এর ভন্য ৯ লক্ষ টাকা আদায় করা হল। অন্তান্ত বাঁজ্পুত রাগারা ক্রুমান্থযে অর্থ দিয়ে মারাঠা রক্ষা কবচ কিনতে কিনতে বিরক্ত হয়ে পডলেন | এই সব কারণেই মারাঠা- দের বিপদের সময় একথান] রাজপুত অসিও উত্তোলিত হল না। যেমন বাংলায় বর্গারা তেমনি রাজপুতানাধ মারাঠার। দণ্চ্যুর নামান্র হযেছিল। তাঁদের পতনেব সম্ভাবনা সাধারণ বাঙ্গালী হিন্দুর মতো, হিন্দু রাজপুতরা আনন্দিত হযেছিল। ১৭৫৯ খ্রাষ্টাব্ে শীতকাল আসার সঙ্গে সঙ্গে আহমেদশাহ.আবদালী আবার ভারত অভিযানে বেরিয়ে পড়লেন । পাঞ্জাবের উর্বরভূমির শস্তশ্তামলতা তার মনে ভারতের এই প্রদেশটিকে নিজের অধিকারে রাখার ইচ্ছা! জাগিয়ে ছিল। ্রীষ্টাব্ব ৯৭৫৯ অক্টোবর--আবদালী লাহোর জয় করে নিলেন। নভেম্বর-_সবাজী নিদ্ধিয়। সৌকরাতালে দরত্তাজী সিন্ধিয়ার সঙ্গে যুক্ত হলেন। , ৩০শে নভেম্বর__উজির ইমাদ বাদশাহ দ্বিতীয় আলমগীরকে হত্যা! করে আর এক বাদশীহ পৌত্রকে শাহজাহান সানী নামে বাদশাহ ঘোষণা করলেন । পিতার হত্যা! তৃতীর পাণিপথের যুদ্ধ . ১০৯ সংবাদ পেয়ে বাদশাজাদা আলি গৌহর (পরে দ্বিতীয় শাহ আলম) বিহারে নিজেকে বাদশা ঘোবণ] করলেন । ২৪শে ডিসেম্বর থানেশ্বরে আবদালীর সঙ্গে দত্তাভীর প্রচণ্ড যুদ্ধ। ৩১শে ভিসেম্বর_বরারীঘাটে আবদালীর সঙ্গে দত্তাভীর যুদ্ধ সুরু । ্বীষ্টাব্দ ১৭৬০ ১০ই জানুয!রী-_বরারীঘাঁটের যুদ্ধে দত্তাজীর মৃত্যু । জানকোজী আহত । আবদালীর দিশ্নী অধিকার। নাজিব থা আবদালীর পক্ষে । ৫ই ফেব্রুয়ারী-_-মলহররাঁও হোলকার সিন্ধিগ্না বাহিনীর সঙ্গে ফুক্ত। ফেরুযারী-মাচ-__মারাঠা ও আবদালীর মধ্যে ক্রমান্বয়ে লড়াই। মা দর্তাজীর মৃত্যু সংবাদ পেশোয়া পেলেন ও মারাঠ৷ প্রধান সেনাপতি এবং তার খুড়তুতো ভাই ( বিখ্যাত চিমনজী আপ্লার ভ্যেষ্টপুত্র ) হবিখ্যাত বোদ্ধা সদাশিবরাঁও ভাউকে আবদালীর সঙ্গে মোকাবেল। করতে পাঠালেন। সঙ্গে কামান বিশ্যেজ্ঞ ইব্রাহিম খা ও 'অনেকগুলির ভারি কামান। পতদূর থেকে ওই মাসেই ভাঁউসাহেব যাত্রা করলেন । এপ্রিল মাসে নর্মদা পার হযে মে মাসে গোয়ালিয়রে উপস্থিত হলেন। জুন-_আগ্রার নিকটে উত্তরের মারাঠ। স্দীররা ভাউ- সাহেবের সঙ্গে মিলিত হলেন। স্থরজমল জাঠও এলেন। আবদালী আলিগরে সৈন্য সন্গিবেশ করলেন। জুলাই-_-ভাউসাহেব সদ্লবলে মথুরায় উপনীত হলেন । স্থজাউদৌল্ল! আবদালীর পক্ষে যোগ দিল্নে। ২রা আগষ্ট__মারাঠারা আবদালীর হাত থেকে দিল্লী কেড়ে নিল। আবদালী যমুনার অপরপারে দিল্লীর সামনাসামনি ছাউনি ফেললেন। ১১৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন। গ্রীাবঝ ১৭৬০ আগষ্ট-সেপ্টেম্বর--মারাঠার! গ্রচণ্ড রসদ ও থাছের অভাব ভোগ্ করল । দিল্লীতে হল দুর্ভিক্ষ । আবদালীব্ সঙ্গে সন্ধির আলোচনা স্বরু হল। ণই অক্টোবর-_ভাউসাহেব সসৈন্তে দিলী ত্যাগ করে কুঞ্রপুরায় চলে গেলেন। ১০ই অক্টোবর__শাহ আলমকে দিল্লীর বাদশাহ ঘোষণা করা হল । ১৭ই অক্টোবর-__মারাঠাদের কুগ্তপুরা অধিকার । দত্তাজীর হত্যা- কারী কুতুবশাহকে বধ। | ২৫শে অক্টোবর-_আবদালীর পাঞ্জাব অভিমুখে যাত্রা । ২৮শে অক্টোবর-_-সোনেপথে আবদালী। ৩.শে অক্টোবর-__ভাউসাহেব পাণিপথে এলেন। ৪ঠা নভেম্বর_-পাণিপথে আবদালী ও ভাউসাহেৰ মুখোমুখী । ১৯শে নভতেম্বর-_বুজ্ধ সরু | ১৭ই ডিসেম্বর--গোবিন্দপন্থ বুন্দেলীর আফগান হস্তে মৃত্যু । ইঞ্ষি ছিলেন পাণিপথের মারাঠ৷ সৈম্তদের রসদ ও খাল সরবরাহক । ৩১শে ডিসেম্বর-_পেশোয়াঁর উত্তর ভারতের দিকে বিরাট বাহিনী নিয়ে যাত্রা সুরু। এ্ীটাব্ ১৭৬১ ১২ জানুয়ারী-_মারাঠাদের শেষ আক্রমণ পরিকল্পনা । ১৪ই জানুয়ারশ-_-শেষ প্রচণ্ড যুদ্ধ ও হত্যা । পাণিপথে মারাঠা পরাজয় । মৃত সদাশিবরাও ভাউ, পেশোয়ার জোষ্টপুত্র বিশ্বাসরাও»ঃ জানকোজী সিদ্ধিয়া» সামসের বাহাদুর এবং আরো অনেক অনেক বীর ।১৯৬ ১৭৫৬ গ্রীষ্টান্বের শেষে অর্থাৎ নাটক স্থৃক্ষ হবার সময় দেখা যাচ্ছে একমান্্র “দিল্লী ও তার চতুম্পার্থ মাত্র মৌগল বাদশার অধিকারে । বাদশাহ স্বয়ং উ্ভির, ইমাদ-উল-মুলুকের হাতে ভ্রীডনক | ইমাদ মারাঠাদের পছন্দ করেন না বটে কিন্ত বিপদে পড়লেই সাহায্যের আবেদিন করেন এবং কেবল অর্থলোজে, তৃতীয় পাপিপথের ঘুদ্ধ ১১১ যারাঠীগণ মোগল প্রদেশ রক্ষণাবেক্ষণ করেন, তার জন্ত মূল্য আদায় করেন, চৌথ আদায় করেন, সাধারণ নাগরিকগণ অবাধে লুষ্টিত হন। ১৭৫৬ নব অক্টোবরে আহমেদশাহ আবদালী চতুর্থবার ভারতে আসেন এবং ১৭৫৭ শরষ্টান্দের এপ্রিলে ভাবত ত্যাগ করেন। ১৭৫৯ খ্রীষ্টান্বের অক্টোবরে পঞ্চ ভারত অভিযানে আবদালী আবার পাঞ্জাবে উপনীত হন এবং ১৭৬১ র জানুয়ারী মাসে তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধের পর ২৭শৈ মার্চ আশ্বাল! হয়ে দেশে ফিরে যান। স্থতরাং যুগবিপ্রব নাটকের প্রতিপাদ্য হওয়। উচিত ছিল আবদালীর ছুটি অভিযান এবং তার মধ্যবর্তী ও পরবর্তী অবস্থা । নাটকের প্রথম ও প্রধান ছর্বলত! ঘে এই রাজনৈতিক যুগসন্ধিক্ষণের অনিশ্চয়ত। প্রকাশিত হয় নাই, মারাঠাদের সঙ্গে বাদশাহ ও তার উদ্জিরের সম্পর্ক এবং মারাঠাদের রাজনৈতিক প্রয়োজন কোথাও স্পট বোঝ! যায় না, এমনকি আহমেদশা আবদালীর ছু”টি সম্পূর্ণ আলাদা অভিযাঁন একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় সেটিকে একটি সফল দ্রিখ্বিজয় বলেই ভ্রম হয়। মনে হয় ভারতজয়ই বুঝি আবদাঁলীদ্ব উদ্দেশ্ট এবং সেই অভিবান যেন সার্থক হয়েছে । মোগল পরাজয়ে যেন মারাঠার। ্বেচ্ছায় ভারতরক্ষার ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নিল ও মহান্থতবতার অলন্ত দৃষ্টান্তস্বরূপ মৃত্যু বরণ করল । -সতা যে এই চিন্তার বিপরীত রূপেই প্রকাশিত তা আমরা আগে আলোচনা করেছি। পাণিপথের এই বুদ্ধকে হিন্দুশক্তির পতন হিসাবে দেখান হয়েছে এবং হিন্দুপৎ পাদশাহীর নান! মুখরোচক সংলাপ শোনান হয়েছে । বালাজী বাজীরাও ঘে শ্বযোগ পেয়েছিলেন তাতে হিন্দু পাদশাহী সহজেই স্থাপিত হতে পারত কিন্তু অতীব ছঃখের ৰিষয় যে সে চিন্তাকে পেশোয়া কখনই মনে বিশেষ ঠাই দেন নাই। পাঁণিপথে মারাঠা শক্তির পতন হল একথা মনে করাঁও ইতিহাস বিরোধী কারণ আবদালী পাণিপথে জয়ী হয়েও নিজেই সন্ধির প্রত্যাণী হন এবং পেশোয়াকে তার পুত্র ওত্রাতার মৃত্খাতে সমবেদনা! জানিয়ে এবং ক্ষম। চেয়ে যে চমৎকার চিঠি দেন তা৷ সত্যই তার মহাহ্ছভবতার পরিচায়ক । ভুলে গেলে চলবে না যে আবদালীকে এশিয়ার নেপোলিয়ন বল! হয়। কয়েক বছর পর মহাদাঁজী সিন্ধিয়া, ( জয়াপ্লাও দত্তাজীর কনিষ্ঠ ভাই ) দিল্লী অধিকার করে প্রমাণ ঞকরেন যে মারাঠা শক্তি তখনও ভারতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ | বালাজী বাজীরাও নিজে ঘেমন তীক্ষ বুদ্ধি সম্পর শীলক ছিলেন তেমনি ৮ ১১২ বাংল! প্রতিহালিক নাটক সমালোচনা পেয়েছিলেন তার চার পাঁশে বহু নিভীক ও বুদ্ধিমান নেতা । কিন্তু এই স্বযোগের ফল ঘটল বিপরীত । বাইরে প্রচণ্ড শক্তি থাকলেও নিজেদের মধ্যে অন্তবিরোধ মারাঠা শাসনের মেরুদগ্ডকে হীন করেছে । ভারতের একছুত্র অধিপতি হওয়া ধাদের পক্ষে একান্ত স্বাভাবিক ছিল তারা! হয়ে উঠলেন ভারতের এক নম্বর লুঠনকারী, ভারতের অেষ্ঠ দ্য এবং অর্থের বিনিময়ে শক্র নাস করার সামরিক শিক্ষাপ্রাপ্ত এক ভীষণ যন্ত্র । এই অবস্থা থেকে মারঠি জাতিকে উদ্ধার করার ক্ষমতা একমাত্র বালাজী বাজীরাও-এর ছিল। কিন্তু ছত্রপতি সাহু মৃত্যুর পর নূতন ছত্রপতি ব্রাজারামকে কেন্দ্র করে যে গৃহবিবাদ মারাঠা শক্তির হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করল তাকে রক্ষা করতেই বালাজী নিজের সব শক্তি নিয়োগ করলেন। তাতে রাজারাম ও তার পিতামহী তার্রাবাঈ- এব বিবাদ নিষ্পত্তি হল বটে কিন্তহিন্দু পাদশাহী বা মারাঠা কতৃত্বের সব শ্বপ্পু ভেদে গেল। বস্তত বালাজী উত্তর ভারতে নিজে ১৭৫২ শ্রীষ্টাব্দের পরবতি কোন সময় আসতে পারলে সমগ্র উত্তর ভারতের রাজনীতির ধার! পালটে ষেত। তাই ব! কেন, হয়ত ভারত ইতিহাসের গতিপথ বালাজী বাজীরাওএর স্পর্শ পেলে ভিন্ন প্রবাহে বাহিত হত । বালাজী না আসতেই যে প্রভাব বিস্তারিত হয়েছে তাতেই বাদশাহ আহমদশাহ ১৭৫৩ শ্রীষ্টাকে তার সভাসদ মারাঠা প্রতিনিধি বাপুরাও হিঙ্গানেকে বার বার জানিয়েছেন যে তিনি বালাঙ্সীব্ব লোক এবং বালাজীর কথামত চলতে প্রস্তুত ।১৭ বলাবাহুল্য ষে বালাজীবাও দিল্লী আসতে পারলে বাদশাহর ওপর প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তার করতে পারুতেন। সম্ভবত বাদশাহকে চালনা করতেও পারতেন । পাণিপথের যুদ্ধ শেষ হবার আগে বালাজীরাও যমুন! পার হয়ে হিনুস্থানে পদার্পণ করলেন না এটাই নিয়তির পরিহাস । বালাজী যমুনার উদ্ধর পারে এলেন পাণিপথের যুদ্ধে তবিষ্যতের সব আশা সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যাবার পর। প্রিয়তম পুত্র ও তবজন ভাঁরিয়ে তার মনের এমন অবস্থা ষে কোন বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্ত করা তার পক্ষে একান্ত কঠিন। বালাজীরাও-এর পর সদাশিবরাও ভাউ ছিলেন শ্রেষ্ঠ মাবাঠা নায়ক । ইনি বাজীরাও এর বিখ্যাত ভ্রাতা চিমনজীর জোম্ঠপুত্ত অর্থাৎ বালাজীর খুলতাত পুত্র । বালাজী যেমন খু্লতাভের স্থিরবুদ্ধির সঙ্গে পিতার তীক্ষ রাজনীতি জ্ঞানের অধিকারী হয়েও যুদ্ধপ্রাজ্ঞতা ব! যুদ্ধবিদ্যায় কুশলী ছিলেন না তেমনি এই অভাব পূরণ করে দেবার জন্তে ছিলেন সদাশিব- তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ ১ উঠত বাও। তিনি ছিলেন খুল্পতাত বাজীরাও-এর যুদ্ধপ্রাজ্ঞতার উত্তরাধিকারী । সম্ভবত এই কারণেই বালাজী সদাশিবরাঁওকে ভয় করতেন এবং এই গোপন অবিশ্বাস মারাঠাশক্তির ধ্বংসের কাঁরণ হল। ১৭৫২ খ্রীষ্টান্বের পরবত্তিকাঁলে এমনকি সদাশিবরাও উত্তরভারতে থাকলেও মারাঠীশাসন ও প্রভাব সুশৃঙ্খল হত। কিন্ত সদাশিবরাঁও যখন উত্তর ভারতের ভার পেলেন তখন তার সামনে পাণিপথের যুদ্ধ অল্প কোনদিকে দৃকপাতের অবকাশ নাই। পাণি- পথের যুদ্ধের জন্য সদাশিবরাও-এর সঙ্গে নিজের প্রিয়তম জোষ্টপুত্রকে পাঠান সত্বেও পাণিপথের নিয়মিত থবর সংগ্রহ ও রসদ ও অর্থ সরবরাহে অবহেলা বালাজীর জীবনের চরম কলঙ্করূপে বিরাঁজ করবে । ১৭৫২ তে বালাজী উত্তর ভারতের ভার দিয়েছিলেন নিজ ভ্রাতা বুনাথরাও-এর উপর । উত্তর ভারতের রাজনীতি রঘুনাথরাও-এর পূর্ণ অসাফল্যের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছে । ১৭৫৭ খ্রীঃ ফেব্রুয়ারী মাসে ইন্দোরে উপস্থিত থাকা সত্বেও রঘুনাথরাও আবদালীর দিল্লী অধিকারে কোন বাধ! দেবার চেষ্টা করেন নাই ।১৮ ক্ষমতা না থাকার অজুহাত অচল কারণ রাজপুতানায় তখন ভিটল শিবদেব, মলহররাঁও হোলকার, নারোশঙ্কর এবং সামসের বাহাদূরের মতো বিখ্যাত মারাঠা দলপতির! অবস্থান করছেন।১৯৯ মার্চ মাসে যখন মধুর! ও গোকুলের ওপর আবদালী সৈন্যদের বড় বয়ে গেল, লুগন হত্যা অনাচারের বান ডেকে গেল একটি মারাঠা আস্গুল প্রতিবাদে উত্তোলিত হয়নি। রঘুনাথরাওকে এই কাপুরুষতার জন্তেও দায়ী করা যেতে পারে । আচার্য যছুনাথ সক্ষোভে লিখেছেন হিন্দুধর্মী ও হিন্দুধর্মের রক্ষাকর্তা ক্ষমতাশালী যারাঠাশক্তি হিন্দুদের অন্ততম শ্রেষ্ঠ ধ্মস্থান মথুরা ও গোকুল রক্ষার জন্ত একবিন্দু রক্তও বিসর্জন করেনি । আসমুদ্রহিমাচল হিন্দুসাম্রাজ্য স্থাপনের চিন্তা যে জাতির কল্পনায় ছিল তার! মথুর! রক্ষার জন্ত কোন চেষ্টা করলেন না এটা শুনতে যেমন বিকট লাগে তার থেকে শতগুণে কলঙ্কিত কীতিতে। বৈষ্বদের এই প্রিয় ধ্মস্থানগুলিকে অক্লেশে আফগানরা ধবংস করল, পরাক্রাস্ত মারাঠারা রাজপুতানায় দাড়িয়ে দেখলেন। একজন মারাঠারও রক্তপা্ হুল না। আব্দালীর সৈন্তরা গোকুলে অকথ্য অত্যাচার করে বহু সাধু- বিনাশ করলেন।২০ বঘুনাথরাও তখন চিঠি লিখছেন। একবার লিখছেন, শীঙ্জ দৃ্তাজী লিঙ্ধিয়াকে পাঠাও আমাদের শক্তি আবদালীর সমর্থ হবার ১১৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা পক্ষে যথেষ্ট লয়। আবার লিখছেন-এবার দেওয়ান সথারামবাপুর মাধ্যমে এই ফান্ন মাসে আমার "আর মলহরের সৈন্তদ্রল মিলিত হবে । আবদাঁলী খুব পরাক্রান্ত শত্রু ।২৯ নাটকের মধ্যে নানারকমের ভূল ঠাই পেয়েছে । রাজনৈতিক অবস্থা বুঝতে তুল হয়েছে, ভূল হয়েছে থটনা সনিবেশে । বালাজীবাঁওকে ১৭৫৭ খ্রীঃ দিল্লীর উপকণ্ঠে দেখান হয়েছে, আবদালীর আক্রমণের সময় মথুবায় দেখান হয়েছে । নাট্যকার বালা বাজীবাও-এর প্রচ সম্মান অনুধাবন করতে পারেননি । ওহ ভাবে এক একা নিঃসঙ্গ পথিকের মতে! বালাগীরাঁও এমনকি পাণিপথের পরাজয়ের পরেও বে ঘুরে বেড়াতে পারেন না এটা নাট্যকার ভাবতে পারেননি । বালাজী ছিলেন স্বয়ং দিল্লীশ্বরের রক্ষীকর্তা__ তার নামমুখে দিল্লীর বাদশাহ নিজেকে রক্ষা কর্নতেন সুতরাং অষ্টাদশ শতাব্দীর ভারতে তার প্রচণ্ড সম্মান সহজেই অনুমেয়। সমসাময়িক একট! উদাহরণ যথেষ্ট হবে। বালাজী বাজীরাঁও-এর অধীনস্থ একদলপতি নাগপুরের রঘুজশ ভোসলে। তাঁর অধীনস্ত সেনাপতি ভাঙ্কররাম, যার সঙ্গে স্থুবে বাংলার শাসনকর্তা নবাব আলিবদি মিলিত হয়েছিলেন । মানকড়ের সেই আলোচন। সভায় ভাঙ্কররামের সর্দে আলোচনার জন্য স্পবিষদ নবাব আলিবদিকে উপস্থিত থাকতে হয়েছিল! যেমন রাজনীতির ক্ষেত্রে তেমনি ধর্মের ক্ষেত্রেও যুগবিপ্রব নাটক সম্পূর্ণ ভুল ভিভ্ভির-উপর প্রতিঠিত। নাট্যকার ধর্মের ছন্দ দেখাবার জন্যে ঢুইটি সমান্তরাল চব্রিত্রের অবতারনা করেছেন একভন মুসলমান ফকির সাহফান। এবং অন্থজন নরিন্দরপিরি গোস্বামী । বলাবাহুল্য উভয়েই ইতিহাসের চরিত্র কিন্তু যে ভাবে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অনৈতিহাসিক । ফকির শাহফান। সম্পর্কে বল! হয়েছে যে এই মুসলমান ফকিরকে আবদালী অত্যন্ত সম্মান করতেন । ১৭৫৬ শ্রীষ্টান্ধে যখন আবদালী পাঞ্জাব জয় করে দিল্লী অভিমুখে ধাবিত তখন শান্তি ও সন্ধির প্রস্তাব দিয়ে দিল্লীর বাদশাহ পাঠালেন ইয়াকুব আঁলিখানকে (ইনি আবদালীর উজির শাওয়ালীখানের সম্পর্কে ভাই এবং রাতারাতি তাকে ছয়হাজারী মনসবদার করে দেওয়া হল সগ্ছি প্রস্তাবের বাহক হবার জন্য ) সঙ্গে গেলেন ফকির শাহফানা। ধর্ম কখনই, তৃতীয় পাণিপপ্রর বুধ ১১৫ বৃহৎ রাজনীতিম্ব অঙগস্পর্শ করতে পারে ন! বরঞ্চ রাজনীতির সাহায্যে ধর্মকে চিরকাল গপিকার মতো ব্যবস্থার করা হয়েছে । এবারও তার ব্যাতিক্রষ হলনা । শাহফানার উপাস্থৃতি আবদালীর দিল্লী জয়ে বাধা সৃষ্টি করল না। ইতিহাসে শাহফানার আর কোন সংবাদ নাই ।২২ নাট্যকার তাকে মোগল শাহাঁজাদার গুরু করেছেন, তার রাজনৈতিক ভূমিকা দিয়েছেন, তাকে দিয়ে নরিন্দর গিরির একটি চক্ষুকে অন্ধ করেছেন এবং তাঁকে দিয়ে আবদালীর প্রতি তর্জনগর্জন ও অভিশাপ বর্ণ করেছেন, অবশেষে আবদালীর আদেশে তার মৃত্যু হয়েছে । শাহফান! চরিত্রের এই সবদিকগুলি ইতিহাসের পরিপন্থী । তাকে আবদালী শিবিরে আবদালীর মন্ত্রণাদাতা হিসাবে দেখালে অন্তত কিছু যুক্ত থাকত । ন[রন্দরগিরি গোস্বামীর অনৈতিহাঁসিকতা আরো প্রচণ্ড! এইনামে কোন এ্রতিহাসিক চরিত্র নাই। যিনি আছেন তার নাম রাজেন্দ্র গিরি । মথুরা আক্রমণের সময় রাজেন্দ্র গিরি গোস্বামী জীবিত ছিলেন না । ১৭৫৩ ্ীষটান্দে উজির সফদর্জং (স্থজাউদ্বোল্লার পিতা ) যখন বাদশাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণ| করে দিল্লী আক্রমণ করলেন তখন প্রচণ্ড বিক্রমে যুদ্ধ করে দিল্লী অধিকারের মুহুর্তে রাজেন্্র গিরি নিহত হন। মথুরার নাগ! সন্গ্যাসী সম্প্রদায় বা গিরি গোম্বামী সম্প্রদায়ের সঙ্গে রাজেন্দ্র গিরি গোস্বামীর কোন সম্পর্ক ছিল এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না। রাজেন্দ্র গিরি গোস্বামী ছিলেন প্রয়াগের গিরি সম্প্রদায়ের নেতা । ইনি সফদ্রজঙের অধীনে চৌধুরীর কর্ম গ্রহণ করেন অর্থাৎ প্রয়াগের রাজন্ব আদায়কারী হন। ক্রমে তার বীরত্ব ও সাহস তাকে সামরিক নেতায় রূপান্তরিত করল । তিনি সর্বদা গ্রভৃর পক্ষে অর্থাৎ সফদরজঙের পক্ষেই যুদ্ধ করেছেন । এবং তার জন্য হিন্দু মারাঠা বা মুসলমান বাদশাহ ব! তাৰ সভাসদদের বিপক্ষাচরণ করতে কুষাবৌধ করেননি । সফদরজং তাকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং গোস্বামী নিজন্ব পতাকা ওড়াবার ও ঘোড়ার ওপর কাড়ানাকাঁড়! বাজাবার অন্নমতি পেয়েছিলেন (এটা সাআ্াজ্যের শ্রেষ্ঠ ওমরাহদের অধিকার )। রাজেন্দ্র গিরি কখন সফদরজংকে অভিবাদন করতেন ন! সর্বদা আমীবাদ করতেন। এই ছুদ্র্য যোদ্ধা! এবং তার শিক্প- গণের নিজন্ব কামান ও বন্দুক ছিল এবং তারা যুদ্ধের প্রচলিত কোন নিয়মই ১১৩৬ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা ষানতেন না।২৩ রাজেন্র গিরির মৃত্যুর পর অন্থপগিরি এই সম্প্রদায়ের প্রধান হন ও নুজাউদ্দোলার কর্মচারী ও অন্যতম সেনাপতির কর্মে নিযুক্ত থাকেন।২৪ আবদালীর সঙ্গে যুদ্ধে ইনি বা এর সম্প্রদায় কোন ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা যায় না। তবে পাণিপথের যুদ্ধে স্জাউদ্দৌলা আব- দালীব্র পক্ষে সসৈন্যে যোগদান করেন সুতরাং অন্ুপগিরিকে আবদালীর পক্ষে মারাঠাদের বিপক্ষে যুদ্ধরত দেখালে সম্ভাব্য ঘটনার গণ্ডী 'অতিক্রম কর! হোতনা। এই রাষ্ট্রবিগ্রবে ধর্ম ছিল সম্পূর্ণ উপেক্ষিত স্বার্থ ছিল বলবান। মারাঠা- দের মধুরা ও গোঁকুল রক্ষা করার উদাসীনত1 বা বিভিন্নদেশে বিশেষ সুবা বাংলায় মারাঠা দস্থ্যতা ধর্মস্থান বা ধার্মিকব্যক্তির প্রতি কোন সন্মান দেখায় নাই। বগির হাত থেকে বাচবার জন্ত বহু স্ত্রীলোক মন্দির বা মঠে আত্ম- গোপনের চেষ্টা করেছেন। তাদের সেখান থেকে টেনে এনে বা বহু ক্ষেত্রে সেখানেই ধর্ষণ করা হয়েছে । বগির হাত থেকে রক্ষা পাবার স্ত্রীলোকদের একমাত্র উপায় ছিল আত্মহত্যা করা ।২৫ স্থতরাং বুগ্নবিপ্রবের নাট্যকার ধর্মকে নাটকের এক প্রধান ভূমিকা দেওয়ায় এবং শাহফানা ও নরেন গিরিকে ছুটি প্রধান চরিত্র করায় ইতিহাসকে সম্পূর্ণ উপেক্ষিত করা হয়েছে এবং নাটকের বক্তব্য ইতিহাসের পরিপন্থী হয়েছে । দেখা যাচ্ছে এ্তিহাসিক ঘটনা বিন্যাস, রাজনৈতিক প্রবাহ বা ধর্সের প্রভাব কোনটিতেই নাট্যকার ইতিহাসকে বজায় রাখতে পারেননি কিন্তু সামাজিক চিত্রের বিরাট অসঙ্গতি আর সবদোষের উপর উঠে গেছে। ইংরেজ শাসনে ও স্বাধীন ভারতে জীবন অতিবাহিত করে নাট্যকার সমসাময়িক সামাজিকরূপকে ভারতের শাশ্বতরূপ বলে তুল করেছেন বলে মনে হয়। সামাজিক সংগঠনে প্রাকইংরেজ ভারতের সঙ্গে পরবর্তী যুগের যেকোন মিল নাই এটা সহজে বিশ্বাস কর! যায় না। প্রাকইংরেজ ভারতে স্ত্রীলোক ভোগের সামগ্রী ছাড়া আর কিছু নয়_ হিন্দুমুসলমানের মধ্যে এবিষয়ে কোন মতভেদ ছিলনা । মোগলহারেমের গল্প ও বাদশাহ এবং তার ওম- রাহদের বহু নারীপ্রিয়তার সংবাদ সবিষ্তারে লিখিত হয়েছে । কিন্ত শ্বয়ং ছত্রপতি শিবজীর আটজনন্ত্রী এবং ছুইজন উপপত্বী ছিল. এ খবর, সকলের জান, তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ ১১৭ না থাকতে পারে ।২৬ অষ্টাদশ শতাব্ধীর সামাজিক জীবনে শ্রীলোক একাধারে উপেক্ষিত এবং সযদ্ধে রক্ষিত । বাজীরাও ও মস্তানীর বিবরণ, বাজীরাও প্রবন্ধে সবিস্তারে জানান হয়েছে । এইজন্তে নারীচরিত্র স্থি করার সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন কর! প্রয়োজন । দুঃখের বিষয় আলোচ্য নাটকে তা হয় নাই। তাই প্রথম দৃশ্ঠেই রাস্তার পাশের কুয়াতে গন্নাবেগমের আত্মহত্যার চেষ্টা এবং জবাহিব্র জাঠের তাকে রক্ষ। করার খবর দেওয়া হয়েছে । গন্নাবেগম যুগবিপ্রব নাটকের অন্যতম নায়িকা এবং একে ঘিরে বনু ঘটনার সমাবেশ করা হয়েছে । তারাশঙ্করবাবুর এই চরিত্রটি বিশেষ ভাল লেগেছে তাই গন্নাবেগম নামে এক উপন্যাস স্থষ্টি করে তিনি এই চরিত্রটিকে মধ্যাদীয় ভূষিত করেছেন। নাট্যকারের কল্পনায় গন্নাবেগমের এই আত্মহত্যার চেষ্টা এবং উদ্ধার সম্পূর্ণ ইতিহাস বিরোধী । গন্নাবেগমের পরিচয় দিলে এই কল্পনা যে কতো অসম্ভব তা বোঝা যাবে। গন্নাবেগম ছিলেন দিল্লীর বাদশাহর উজির ইমাদ-উল-মুলুকের স্ত্রী । এই সর্বশক্তিমান উজিরের স্ত্রীর পক্ষে পথিপার্স্থ কুপে আত্মহত্যার চেষ্টার সছুতরে নাট্যকার গন্নাবাঈ এর মুখে সংলাপ বসিয়েছেন-_-“আমার বাবা মাকে ধর্মমতে সাদী করেন নি। আমি রইস সমাজে অচল ।২৭ এই উদ্ভি সম্পূর্ণ অনৈতিহাসিক | গন্নাবেগমের পিতা আলিকুলিখান পারশ্যের রাজ- বংশের সম্ভান। [তিনি একাধারে ছিলেন কবি ও সাহিত্যিক । তার রচিত কাব্যগ্রন্থ “মসনাভি-ই-ওয়ালা স্থলতান' আজও পারশ্টে সুবিখ্যাত। কাব্য- রচনার সময় তিনি “ওয়ালা” ছগ্রনাম গ্রহণ করতেন । আলিকুলি প্রধানত নাদিরশাহের অত্যাচারের ভয়ে ১৭৩৪ খ্রী্টাব্ধে দিল্লীতে আসেন ( জন্ম ইসাফানে ১৭১২ শ্রীষ্টাব্বে ) এবং প্রথমে জাফর-জঙ্গ ও পরে থান-ই-জামান উপাধি প্রাপ্ত হয়ে দ্বিতীয় আলমগীরের একজন ওমরাহ ও সাতহাজারী মনসবদার পদ পান। তিনি কবি ও নৃত্যগ্ীত পটিয়সি এক বাঈজীকে বিবাহ করেন। এদের সন্তান গন্নাবেগম । গন্নাবেগমও কবি ছিলেন কিন্তু তার রূপের খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল এবং অযোধ্যার নবাব স্থজাউদ্দৌলার় সঙ্গে তার বিবাহ স্থির হয়। তার পিতার মৃত্যুর পর এই বিবাহের জন্য গল্মাবেগম দিল্লী থেকে অযোধ্যা যাব করেন। পথিমধ্যে জবাহির সিং জাঠ দলবল নিয়ে তার গতিরোধ করে- _উদ্দেস্ত অপুর্ব রূপলাবপ্টব্তী গল্াবেগমকে ১৮৬ বাংলা গ্রতিহাসিক নাটফ সমালোচনা নিজের অন্বশাক্সিনী করা। নিজের বুদ্ধিবঙ্গে এই ডাকাতদ্লের হাত থেকে গরভিয়ে পথ্থাৰেগম ফরাক্াবাঁদে তার পিতৃবদ্ধু নবাব আহমেদ খাঁ বঙ্জসের আশ্রয় গ্রথণ করেন। আহমেদ খার উপদেশেই গন্লাবেগমের মাতা উজির ইমাঁদ-উল-মুলুককে কন্তার পাণিগ্রহণে অনুরোধ করেন। ইমাদ এদিকে সুবিখ্যাত মুঘলানিবেগমের কন্তা উমদা বেগমের সঙ্গে বাগদত্ত | গন্নাবেগমের রূপ ইমাদের বাক্যচ্যুতি ঘটাল । ইমাদ গন্নাবেগমকে বিবাহ করে প্রধান মহিষীর সম্মান দিলেন । মুঘলানিবেগম এই অপমানে ইমাদের শক্রতে রূপাত্ত- র্িত হলেন। অবশেষে দীর্ঘদিন পর আবদালীর হুকুমে ইমাঁদ মুঘলানিবেগ- প্নের কন্যা উমদাবেগমকে বিবাহ করে প্রধানামহিষীর সম্মান দিতে বাধ্য হন। ( ২১ ফেব্রুয়ারী ১৭৫৭ ) বেচারা গন্নাবেগম উজিরের অপ্রধান বেগম হয়েই জীবন অতিবাহিত করেন এবং ১৭৭৫ খ্রীষ্টাব্দে তার মৃত্যু হয়।২৮ স্বতরাং গন্নাবেগমের মাতাকে তার পিতা বিবাহ করেননি এটা যেমন অসিদ্ধ তেমনি অসিদ্ধ তার 'রইসমহলে অচল” হবার সংবাদ । স্থজাউদ্দৌলার বাগদত্ত বধূ স্বয়ং বাদশাহী সমাজে সচল । নাটকের শেষে জবাহির জাঠের সঙ্গে গন্নার প্রেমও তাই অনৈতিহাসিক ও স্বাভাবিক ইতিহাসতরঙ্গের পরিপন্থী । আলিকুলির সাষান্ত বাঈজী বিবাহকে করা তৎকালীন সামাজিক নিয়মের প্রচলিত অঙ্গ ছিল। দিল্লীর প্রবণ পরাক্রান্ত বাদশাহ এবং তার পুত্র পোত্রগণ এ বিষয়ে বিশেষ অগ্রনী ছিলেন ॥ বাদশাহ লাহজাহানের জ্য্টপুত্র স্থুপ্র সিদ্ধ দ্বারা শিকোহ এক কাশ্িরী নর্ভকীকে বিবাহ করেছিলেন । দারার মৃত্যুর পর গুরঙ্গজীব বাদশাহ বিধব| ভ্রাতৃবধূকে বিবাহ করে নাম দেন উদ্দিপুরী বেগ্রম। এই বিবাহের ফলে সাহাজাদ| কামবক্সের জল্ম হয়। কামবক্সের বংশধরগণ দিল্লীর মসনদে বসেছেন। বাদশাহ ওুরজজীবের পর তার দ্বিতীয় পুত্র শাহআলম বাদশাহ হন এবং তার মৃত্যুর পর তার জোষ্টপুত্র জাহান্দার শাহ বাদশাহ ভন। জ্াহান্ার শাহ দিলীর এক নর্তকী লালকুয়ারকে কখন বিবাহ না করেই প্রধান বেগমের সম্মান দেন। (জাহান্দার শাহ প্রবন্ধের ক্ষিশদ আলোচন! আ্টব্য) বাদশাহ মহম্মদ শাহের মহিষী উধ্ষবাঈ একজন বাঁা়রর সাধারণ নর্তকী ছিলেন। বছুনাঁখ লিখেছেন বাদশাহর মহিষ্ষী ও তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ ১১৯ মাতা হয়েও তার চরিত্রে এতটুকু পরিবর্তন আসেনি । ভীবনের শেষদিন পর্য্যন্ত তার ছুশ্চরিত্র বাদশাহদের লজ্জার কারণ হয়েছে ।২৯ বাঈজী বিবাহকে তাই কখনই সামাজিক নিয়মের ব্যতিক্রম বলা চলে না। গম্নাবেগমের সামাজিক প্রতিষ্ঠা কম ছিল এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরঞ্চ ভউজিরের পত্বী হিসাবে তার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানটাই অসম্ভব ব্যবস্থা । একা কেবল জবাহির জাঠকে সঙ্গী করে মথুরা বা পাণিপথে উপস্থিতিও সম্পূর্ণ কাল্পনিক বিশেষ ইমাদ-উল-খুলুক তার প্রিয়তম! মাহষীকে কখনও ত্যাগ করেছেন এ সংবাদ যখন নাহ । উজিরের পত্বী হিসাবেও গন্নীবেগমকে লাঞ্ছনা ভোগ করতে হয়েছে। ১৭৫৭ খ্রীঃ আগষ্ট মাসে বর্বর রোহেলাগণ যখন উজিরের গৃহ আক্রমণ করে লুঠতরাজ চালায় এবং স্ত্রীলোকদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করে তাদের খোলা রাস্তায় সাধারণের চক্ষুর সন্মুথে উন্মুক্ত করে রেখে যায় তখন উজিরের হারেমের অন্ত সকলের সঙ্গে গন্নাবেগমও পথে দাড়িয়ে অপমান ভোগ করেন ।৩০ এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে নাট্যকার গন্নাবেগমের চরিত্র যে ভাবে অঙ্কিত করেছেন তা ইতিহাসের কাছ দিয়েও বায় না। মহম্মদ শাহের কন্তা হ্রৎ বেগমের চবিত্র হৃষ্টিতেও নাট্যকার তৎকালীন সামাডিক ব্যবস্থা না বোঝার প্রমাণ রেখেছেন। হজরত বেগম রূপের জন্টে বিখ্যাত ছিলেন। ১৭৫৪ খ্রীষ্টাব্দে আহমদশাহকে অন্ধ 'ও বন্দী করে উজির ইমাদ-উল-মুলুক দ্বিতীয় আলমগীরকে বাদশাহ করলেন। ১৭৫৬ খ্রীষ্টাব্দে হজরৎ বেগম ১৬ বছর বয়সে উপনীত হওয়া মাত্র ৫৭ বছর বয়স্ক বাদশাহ তাকে বিবাহ করার জন্য ক্ষেপে উঠলেন। শেষে পাত্রী যখন আত্মহত্যার ভয় দেখালেন তখন বরের উত্তেজন! প্রশমিত হল। পাছে আর কাউকে হজরৎ বেগম বিবা করেন তাই একাঁকিনী নিঃসঙ্গ বন্দীত্ব তাঁকে বাদশাহর আদেশে ভোগ করতে হয়।৩১ ১৭৫৭ খ্রীষ্টান্ধের ৫€ই এপ্রিল সব প্রতিবাদ উপেক্ষা করে আহমেদ শাহ আবদালী হজ্রৎ বেগমকে বিবাহ করেন । আবদালী তার নব পরিনীতা বধূ নিয়ে পারশ্টে ফিরে যাঁন, সঙ্গে নিয়ে যান মৃত বাদশাহ আহমদ শাহের ছুই বিধবা পত্বীকে মালিকা-ই-জামানি এবং সাহ্বা যহলকে । আরো! নিয়ে যান মৃত বাদশাহ আহমদ শাহের কন্তা। মুতারাম-উল-নিসা আর ১৬ জন ১২৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা সুন্দরী হারেমবাসিনীকে । আবদালী পুত্র তৈমুর শাহের ভ্ত্রী দ্বিতীয় আঁলমগীর বাদশাহর কন্তা গৌহর-উন-নিসা এবং আবদালীর উপপত্বী মৃত নাদিরশাহের পুত্র নাসকুল্পার স্ত্রী ও বাদশাহ রঙ্গজীবের নাতি কন্যা আইফৎ-উন-নিসাঁও তার সঙ্গে পারশ্ঠ ঘাত্র। করেন। এ ছাড়া আরো চারশত মহিলাকে ধরে নিয়ে যাওয়! হয় ।৩২ আব্দালীর স্ত্রীলোক প্রীতি আর কোন আলোচনার অপেক্ষা রাখে না। হজরৎ বেগম সম্পর্কে নাট্যকার যে কল্পনার জাল বুনেছেন তা গ্রতিহাসিক ঘটনাতরঙ্গ অন্ধবীকার করে। দ্বিতীয় আলমগীর বাদশাহর অবরোধ থেকে তার পক্ষে বাইরে আসাই কঠিন। তর্কের খাতিরে যদি সে অসম্ভবকে সম্ভব বলে মনে করা যায় তাহলে দেখা যাবে হজরৎ বেগমের এই পলায়নের চেষ্টার পেছনে কোন উদ্দেশ নাই । তার মথুরায় অবস্থিতি একেবারেই অবাস্তব । মথুরায় আবদালী সৈম্রা হিন্দু-মূসলঘান নিবিশেষে স্ত্রীলোকদের ওপর যে অত্যাচার করেছে তা পড়লে শিউরে উঠতে হয়। যমুনার বুকে চিরবিশ্রাম লাভ করে ষথুরার বহু রমনী নিজেদের সম্মান রক্ষ! করতে সক্ষম হয়েছিলেন । হয় মৃত্যু নয় আবদাঙ্গীর সৈন্যের হাতে আত্মসমর্পণ করে মর্য্যাদা বিলোপ এই ছিল মখুরার মহিলার সামনে একমাত্র বিকল্প। হজরৎ বেগমের সৌন্দর্য্য কেবল মথুরায় নয় ভারতের পথে পথেও কেবল বিপদের আহ্বান। কেবল মথুরায় অবস্থিতি নয পেশোয়ার প্রাসাদে হজরৎ বেগমের উপস্থিতিও জার এক অসম্ভব ঘটনা । যে বালাজী তাঁর পিতার মুদলমান উপপত্বী মন্তানীকে তার সর্বশক্তিমান পিতার জীবিতকালে বন্দী করে রাখার স্পর্ধা ও সাহস দেখিয়েছেন তার প্রাসাদে মুসলমানের অবস্থিতি সবরকমের সাধারণ চিন্তাধারার ব্যতিক্রম । নাট্যকার ধর্ম নিয়ে বিপদে পড়েছেন। সমাজ জীবনে ধর্প ছিল না। তিনি সেথানে ধর্মের প্রভাব দেখিয়েছেন আর ব্যক্তিগত জীবনে যেখানে ধর্মের প্রভাব ছিল সর্বাধিক সেখানেই তিনি বিংশ শতাব্দীর সংস্কারমুক্তপন্থী মনের পরিচয় দিয়েছেন। মথুরায় গোকুলনাথের বিগ্রহের পাশে হজরত বেগমের অবস্থান এমনি আর এক অসম্ভব পরিকল্পনা । শুধু সেদিন নয় আজও । হজরৎ বেগম ও পেশোয়াপুত্র বিশ্বালরাও এর মধ্যে প্রেমের আভাষ আবার তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ ১২১ আর একটি অসম্ভব কল্পনা । বাজীরাও মন্তানীকে বিবাহ করতে পারেন নি। মোগল বাদশাহর! হিন্দ্বাঈদের বিবাহ করেছেন মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত করে। ১৭৫৬ এর ভারতে এই প্রেম যেমন অদ্ভুত তেমনি অসম্ভব। হজরৎ বেগম ও বিশ্বাসরাও একই বয়সী সুতরাং পেশোয়ার পক্ষে বাদশাহ কন্তা ও তার নিজ পুত্রকে একসঙ্গে রাখা অসম্ভব । দ্বিতীয়ত মুসলমানী গৃহে থাকলে হিন্ুরা রন্ধন করতেন না এই সামাজিক নিয়মও বাদশাজাদীর অবস্থানের অসম্ভাব্যত স্থ্টি করেছে । তৃতীয় পালকী যেখানে মহিলাদের যাতায়াতের একমাত্র যান (মাঝে মাঝে নৌক। ) সেখানে মহারাষ্ট্রে যাওয়া তা সে পুনাই হোক আর সাতারাই হোক এবং সেখান থেকে আবার স্বচ্ছন্দে দিল্লী ফিরে আসা নাট্যকল্পনাতেই সম্ভব । আবদালীর সঙ্গে বিবাহ দেখান হয়েছে পাঁণিপথের পর অর্থাৎ ১৭৬১ খ্ী্টাব্বের পর । আসল বিবাহের দিন কিন্ধ চার বছর আগের ঘটনা । বিবাহের অব্যবহিত পূর্বে হজরৎ বেগমের আত্মহত্যা সম্বন্ধে নাট্যকার জবান- বন্দী করেছেন যে নাটকের অন্ুরোধই তিনি ইতিহাসের এই ব্যাতিক্রম করেছেন সুতরাং এ বিষয়ে টিকা নিশ্রয়োজন। এইবার «ষুগবিপ্রব নাটকের বিশদ বিবরণ দেওয়া যাক । ১৯৫১ খ্ীষ্টাবে প্রকাশিত এই নাটক তিন অঙ্কে বিভক্ত। প্রথম অঙ্কে ৬টি দৃশ্ঠ, দ্বিতীয় অঙ্কে ৪টী দৃশ্ত ও তৃতীয় অঙ্কে ৬্টী দৃশ্য আছে। প্রথম অক্কে ১ থেকে ৪৫ পাতা, দ্বিতীয় অঙ্কে ৪৬ থেকে ৯৪ পাতা ও তৃতীয় অক্কে ৯৫ থেকে ১৪৪ পাতা! ।' মোট পাতার সংখ্যা ১৪৪ আর মুখপত্রঃ উৎসর্গপত্র ভূমিকা ও চবিত্রলিপি ৬ পাতা মোট ১৫০ পাতার বইখানি শ্ীযুক্ত বীরেন্দ্রকুষ্জ ভদ্রকে উৎসর্গ করা? হয়েছে । প্রথম অঙ্ক স্থরু হয়েছে ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে জানুয়ারী মাসের শীতার্ত প্রথম প্রহর রাত্রে। প্রথমেই দেখা যাচ্ছে যে দিল্লীবাসীরা পালিয়ে যাচ্ছে। আর্তের মরণার্ত চিৎকার ও নারীর ক্রন্দনধবনী নাটকের প্রথম আওয়াজ । জবাহিক" 'জাঠ এক উচুমনের চাষী তার সঙ্গে আলোচনারত শাহাজাদা মিল্লাত ধিনি পরে দ্বিতীয় াজাহান ( মতান্তরে তৃতীয় সাজাহান৩৩ ) নামে দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। কুয়া হতে গন্পা বেগমকে জাঠ জবাহির উদ্ধার করেছে: ১২২ বাংলা! এতিহাসিক নাটক সমালোচন! এখন তার রক্ষন! বেক্ষণের জন্য ভদ্রলোকের আশ্রয় চাইছে। তারপর ইয়া- কুবের সঙ্গে আসছেন তৎকালীন ভারতের শাসনকর্তা উজির ইমাদ-উল- 'ষুলুক গাজিউদ্দিন নাটকে তাকে আমিছুল মুক্ধ নামে লেখা হয়েছে। এই আমিদ, আবদালীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎকার বর্ণনা করছেন এবং কথাপ্রসঙ্গে জানাচ্ছেন যে আবদালী তার কাছে ছুই কোটি টাকা দাবী করেছে যেটা! তার দেবার ক্ষমতা নাই। এই হত্রেই মুঘলানী বেগমের কীতি-কলাপও শোনাচ্ছেন । মুঘলানী বেগমই আবদালীকে জানিষেছেন যে মহম্মদ্বশাহের কন্তা হজরৎ বেগম ও ফকিরিণী বেগম হিন্ুস্কানের শ্রেষ্ঠ স্বন্দপাী। তাই আব্দালী তাদের পাবার জন্তে পাগল হয়ে গেছেন। আমিদ আরো! বলছেন যে তিনি মুঘলানী বেগমের কন্যা উমধাবেগমকে বিবাহ করতে রাজী কারণ “তয়ফাওয়ালীর নেশা আমার মিটে গেছে । আমি তার খবর রাখি না। শুনেছি তার] দিল্লী ছেড়ে পালিয়েছে।, (প্রথম অঙ্ক প্রথম দৃশ্য পাতা ৭, সামান্য নাশাকচি এসে উজির সাহেবকে তিনতাড়া দিয়ে বলছে--“চলে যাঁও ওয়াজির স:হেব'" "জলদি যাও।” (১/১ পাতা ৯) তারপর মিল্লাত গন্নাবেগমসহ প্রবেশ করে তাকে নিজের আশ্রয় দ্রিচ্ছেন। গন্নাবেগম নিজের নসীবকে ধীক্কার দিয়ে বলছেন “বাদশাহের বাদকশাহী দিপাহী। আবদালী আসছে, লড়াইয়ের ভয়ে তারা কেল্লা থেকে পালাচ্ছে। পথে শহর লুউছে, জেনানীয় ইচ্জত ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে।"-*.-*... আমার মা আর আমি দিল্লী ছেড়ে চলে যাচ্ছিলাম, পথে তারা আমাদের উপর লাফিয়ে পড়ল। মাকে খুন করলে। লুঠে নিলে আমাদের বয়েলগাীর সবকিছু জিনিষ। আমি ছুটে গিয়ে কুইয়৷ দেখে তাতেই পড়লাম ঝাপদিয়ে। (১/১ পাতা ১১) মিল্লাত নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ও গন্নাবেগর পরিচয় নিচ্ছেন । গন্ন। বেগম বলছেন “আমি তয়ফাওয়ালী যমনাবাইঈ-এর বেটি গন্া বেগম-বট্টাবাঈ” | মিল্লাত শুনে বলছেন, “তুমি গল্প! বেগম? কবি গন্নাবেগম ? কবি কুইলিখাঁর বেটি?” (১/১ পাতা! ১৩) গন্নাবেগমের উত্তর_ঠহাঁ। আবদালী আসছে, আমাকে বাদী করে পাঠাবে কান্দাহারে | তার ঝাড়,দ্রারকে দেবে বথশিস।, (১/১ পাতা! ১৩) মিল্লাত গন্নাবেগমকে নিয়ে স্থানান্তরে গমন করলেন। দ্বিতীয় দৃশ্য দিল্লীর লালকেল্লার অভ্যন্তর। প্রথমেই খৌষণা আবদালী দিল্লীর বাদশাহ হয়েছেন। ছ্গেনানা! মহলে হতাশার চিত্র । বাদশাহ মহম্মদ শাহের অন্ধ বেগম উধমবাই এবং কন্তা। নসীবন বা! হজরৎ তৃতীয় পাঁণিপথের যুদ্ধ | ১২৩. বেগম আলোচনা করছেন বাদশাহ আজিজুদ্দিন আলমগীরের কা'পুগ্ষতা এবং আব্দালীর ভারত জয়। তারপরই বেগম উধমবাঈ এর গুরু রূপে ফকির শাহফানার প্রবেশ। শাহফানা জানাচ্ছেন যে মুঘলানী বেগমই আবদালীর লালসাবহ্িকে লেলিহান করে তুলছে । নঃশবন জানায় যে তার এক পোষ! গোক্ষুরা সর্প আছে স্ৃতরাং প্রয়োজন হলে তিনি মৃত্যু বরণ করতে দ্বিধা করবেন না । মিল্লাত এসে সাপ দেখে আতঙ্কিত হলেন । ফকির গণনা করে বলে দ্রিল যে এখন নীবনের মৃত্যু নাই-_বরঞ্চ স্থানচ্যুত হবার আভাষ রয়েছে, (১/২ পাতা ২৩)। ঠিক তখনই পাথরের ঘায়ে সাঁপের মৃত্যু হল। উৎসাহিত শাহফানা বোষণা করলেন “মুসলমানী বাদশাহী রাখতে হবে|” “জন্মলগ্সে আছে বাদশাহী যোগ, তোমার চরিত্রে আছে শয়তানকে হারমান|বার গ্রহ- সমাবেশের শুভডৃষ্টি | (১/২ পাতা ২৩) কাজেই নসীবনকে দিল্লী ছেড়ে থেতে হবে। শাহফান! মিল্লাতকে বলছেন_-€তামার নসীবে আছে তুমি বসবে তক্তে। এ সতরঞ্চি খেলায় তুমিও আমার ঘুটি। (১/২ পাতা ২৫) মিল্লাতের সঙ্গে নসীবনকে দিল্লী ছেড়ে পালিয়ে যাবার নির্দেশ দিয়ে শাহফানা উধমবাঈকে বললেন “উচু জায়গা থেকে পড়ে তুমি মরবে। সম্ভবত আবদালী নসীবনকে না পেয়ে তোমাকে কেল্প। থেকে নীচে ফেলে দেবে । “আফশোষ কোর না উমধা। কিসের আফশোষ। শোন! দিলী কাদছে শোন।, (১/২ পাতা ২৬)। তৃতীয় দৃশ্য মথুরা হতে কয়েক মাইল উত্তরে যমুনা তীরবতী বনপথ। রোহিলাদের সঙ্গে জাঠদের সংঘর্ষ । নেপথ্যে মিল্লাত ও নসীবনের পলায়ন চতুর্থ দৃশ্ত মথুরার নিকটস্থ মহাবন গোকুলতীর্থ। গিরি সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীদেনর আশ্রমে বালাজী বাজীরাও প্রবেশ করে নরিন্র গিরি গোস্বামীর সঙ্গে আলোচনায় রত হলেন। বালাজী জানাচ্ছেন যে তিনি তীর্থ ভ্রমণ করে বেড়াতে বেড়াতে তার আশ্রমে উপন্নীত হয়েছেন । (১/৪ পাতা ৩০ ) বালাজ্ী জানালেন যে আবদ্দালী “তৃতীয়বার হিন্দুস্থানে প্রবেশ করেছে ।” (১/৪ পাতা ৩০) “হিপুপাদ পাদ্শাহ” সম্পর্কে আলোচন! হচ্ছে । বালাজী জানাচ্ছেন ৰে মংন্দ শাহের কম্ত| হজরত বেগম বিচিত্র ভাবে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। অবৈদালী তাকে খুজতে_সমন্ত দেশ তোলপাড় করছেন। (পাতা! ৩২ ) এইখানে কয়েকটি- ১২৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন! অস্ভুত সংলাপ রাজনৈতিক চিন্তুর আভাষ দেয়। নরিন'র জিজ্ঞাসা করছেন__ এইবারেই কি তোমরা আবদালীকে বাধা দিয়ে তার (অর্থাৎ হিন্দুপৎ পাদশাহী স্থাপনার ) শুভারস্ত করবে পণ্ডিত? উত্তরে বালাভী বলছেন-_-“না গোস্বামীজীণী, এবার নয় । এখনও সময় হয়নি গিরি মহারাজ । এখন আমরা বাধা দিতে গেলেই আফগান মুঘল এক হয়ে যাবে ।” (১/৪ পাতা ৩২-৩৩) নরিন্দর মারাঠাদদের অত্যাচারের নীতির বিরোধীতা করায় বালাজীর মুখে ভাষণ, “মারাঠার অবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে তার রাষ্ট্রনীতিরও পরিবর্তন হবে? ( পাতা ৩৪ ) একটু পরেই সবিশ্বয়ে বালাভীর ভাষণ-ধর্ম ছাড়া শান্তি হয় না? সংসারে তো ধর্মের সংখ্য! নাই মহারাজ ।” (পাতা ৩৪) অবশেষে মন্দিরের দরজায় বালাজীকে রক্ষক রেখে নরিন্দর গিরি যুদ্ধ সাজে সাজলেন ( পাতা ৩৬-৩৭)। খবর এল জাহান খা আর নজিব খা মথুরার দিকে ছুটে আসছে । পঞ্চম দৃহা জাঠগ্রাম চৌমুহ। ৷ বৃদ্ধ জাঠ সর্দার যুদ্ধ সাজে সজ্জিত হয়েছেন সঙ্গে তার পুর জবাহির। মথরানাথকে রক্ষার জন্ত চাষী জাঠরা ছুরাণী আফগানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল এটাই নাট্যকারের বক্তব্য। নসীবনের রূপ গ্েখে জবাহির তাকে 'রাধারাণী? নামে অভিহিত করছে । দশ হাঁজার চাষা জাঠ আব্দালীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হল আর রঘুর স্ত্রী ঘন জঙ্গল গোকুল মহাবনে নসীবনকে লুকিয়ে রাখার প্রতিশ্রতি দিল। (পাতা ৪১) এইথানে রাজেন্দ্র গিরি গোস্বামীর সঙ্গে নরেন্্র গিরির যোগাযোগ সাধিত হচ্ছে। সংলাপ “হিন্ৃস্থানের রুদ্র দেওয়ের সিদ্ধভক্ত__সিংহের মতো সাহসী -ব্রাজেন্্র গিরি গোস্বামী । তারই দল। নরেন্্ গিরি গোস্বামী মোহস্ত এখন |” (১1৫ পাতা ৪২) আগের দৃশ্তেও এই যোগাযোগের নিদর্শন আছে। বালাজী লোভ দেখাচ্ছেন নরিন্দর গোম্বামীকে । তার প্রতিদবন্দ্ী অস্থপপ্সিরিকে অধীন 'হতে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বালাজী। (১/৪ পাতা ৩৩) বষ্ট দৃশ্ঠ গৌকুলতীর্থ । নেপথ্যে আবদালীর সঙ্গে সন্গ্যাসীদের যুদ্ধ চলছে । ওপারে মধ, পুড়ছে । “একা বালাজীরাও গাড়াইয়া আছেন বন্দুক হাতে (১/৬ পাতা, ৪৩) জান! গেল দশ হাজার জাঠ প্রাণ দিয়ে আবদালীকে আটকাতে পারেনি কিন্ত আট হাজার সন্ন্যাসী আবদালীর আক্রমণ বারবার প্রতিহত তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ ১২৫ করলেন । আত্মঘাতী হতে উদ্যোগী হজরৎ বেগমের হাত থেকে পেশোয়া ছুরি কেড়ে নিলেন। জানা গেল আবদালী ফিরে ঘাচ্ছে। যমুনার জল গলিত শবের বিষে পচে উঠেছে । বাংলার উকিল যুগোল কিশোর এসেছেন । শাহ আবদালী তৃষ্ণার্ত । এক লোটা জলের কাঙাল । গোকুলের গিরি সন্যা্সীরা আবদালীকে প্রতিহত করে ফিরিয়ে দিলেন। পেশোয়া বাজীরাও নিলেন হজরৎ বেগমের রক্ষার ভার। (১/৬ পাতা -€)। প্রথম অঙ্ক থেকেই ইতিহাস লঙ্ঘন কর! হয়েছে । ১৭৫৭ খ্রষ্টাঝের আহমেদশাহ আবদালীর ভারত অভিযান “চতুর্থ ভারত আক্রমণ” নামে খ্যাত। অর্থাৎ এটি আবদালীর কোন নৃতন কীতি নয় এবং এর আগে তিনবার তার আক্রমণে ভারতবাসী জর্জরিত হয়েছে । এই ১৭৫৭ শ্রীষ্টাব্বের দিল্লী আক্রমণ সম্পর্কে অনেক প্রামাণ্য বিবরণ আছে। পারশ্ঠ ভাষায় লেখা অমূল্য দিঙ্লীর ইতিহাস আচার্য ফুনাথের সম্পাদনায় ১৯২১ খ্রীষ্টাব্দে 1170187 1115101108| 9০010 00111155101 এর বিবরনীতে প্রকাশিত হশ্রেছে। তাছাড়। তারিখ-ই-আলমগীর সানী আর একখানি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সমসাময়িক রচনা। শেখ গোলাম হোসেন সামিনের বিবরণের ইরভিন সাহেবের করা অন্থবাদ ১৯০৭ খ্রীষ্টাবের 1170101) /১700491%তে প্রকাশিত হয়েছে । তাছাড। 'মারাঠা চিঠিপত্র ও দিল্লীর মারাঠা প্রতিনিধির বিবরণ একালের এ্রতিহাসিক- দের হস্তগত হয়েছে। সুতরাং ১৭৫৭ র দিল্লী সম্পর্কে বহু সংবাদ সহজেই লভ্য। আবদাঁলীর দিল্লী আসার সংবাদে দিললীবাসীর পলায়ন এবং আবদালী- কে সন্ধির প্রস্তাবে রাজী করবার জন্য ইয়াকুবআলি খা ও শাহফানা ফকিরকে প্রেরণ নাটকে আলোচিত হয়নি । আবদালী দিল্লী দখলের পর সৈন্রা যথারীতি লুটপাট করেছে বটে কিন্ত সম্পত্তি লুঠের স্ুসংবন্ধ সরকারী পরিকল্পনার কাছে সেটা কিছুই নয়। প্রত্যেক অর্থবান লোকের বাড়ীতে গিয়ে তার বাড়ীর সমত্ত মুল্যবান সম্পত্তি মায় জড়ি ও আসবাব পর্যযস্ত লুঠ করা হয়। স্বর্ণ অর্থ না পাওয়া পর্য্যন্ত অকথ্য অত্যাচার চালান হয়-__গৃহস্বামী বা গৃহভৃত্য কেউ নিস্তার পায়নি । দিল্লীতে সোনার দাম হয়ে যায় ৮ থেকে ১০ টাকা তোল|, রূপ ২ টাকা ১২৬ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা তোলা অন্যদিকে ভক্ষ্যদ্রব্যের দাম আগুন হয়ে উঠে টাকায় মাত্র তিনসের আটা পাওয়া যেতে লাগল । লুণনে সর্বস্ব হারিয়ে দিল্লীর বহলোক আত্মহত্যা করলেন। পাঞ্জাবের মৃত শাসনকর্তার স্ত্রী মুঘলানি বেগম প্রতিশোধ বসে আবদালীর প্রধান সংবাদ সরবরাহকারীর কাজ করেন। তার নাম অত্যন্ত দ্বণায় উচ্চারিত হত। আবদালীর ভয়েই এর কন্তাকে বিবাহ, উাভর ইমাদ-উল-মুলুককে করতে হয়েছে । গন্নাবেগ্মকে বিদায় দেবার কোন কথাই ইতিহাসে নাই | গন্নাবেগম প্রসঙ্গে আলোচনার সময় সে কথা বলা হয়েছে । প্রথম দৃশ্তে ইমাদের পক্ষে যেমন রাস্তায় ঘুরে বেড়ান অসম্ভব, কারণ তিনি তথন আবদালীর বন্দী, তেমনি অসম্ভব বাদশাজাদার দিল্লীর পথে ভ্রমণ । বাদশাহ বংশীয়দের বন্দীত্বের কথাও বহু আলোচিত । এই সময় গন্নাবেগম ও মিল্লাতের সংলাপ ও সংলাপের বক্তব্য ছুই অনৈতিহাসিক। দিল্লীর মূলত একনায়ক ইমাদ-উল-মুলুক যতই ছরাবস্থায় পড়ুন নান! উপায়ে বারবার নিজের আসনকে স্থপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং আব্দালীর সঙ্গে একটা বোঝাপড়া হয়েছে। তার প্রিয়তম! স্ত্রীর পক্ষে রান্থার কুয়াতে ঝশাপ দিয়ে মৃত্যু চেষ্ট! পরিপূর্ণ কবিকর্পনা | দ্বিতীয় দৃষ্ত প.রপূর্ণ কাল্পনিক। তৃতীয় দৃশ্যে জাঠ ও বোহিলাদের মধ্যে সংঘর্ষ দেখান হয়েছে । স্মরণে রাখ! কর্তব্য যে রোহি- লাগণ ব। রোহিলাসদ্দার নাজিবর্খা আব্দালীর কর্মচারী নন। নাজিবর্থ। দিল্লীর এক আমীর । ইমাদর-উল-মুপুকের ঘোর প্রতিদন্দী। তাই নিজের স্বার্থ অন্থনারে তিনি কখনও কখনও আবদালীর পক্ষভৃত। এই দৃশ্যে হজরৎ বেগম ও মিল্লাতের মথুরা অভিমূথে পলায়ন সম্পূর্ণ কাল্পনিক ঘটনা । চতুর্থ দৃশ্যটি অত্যন্ত গুরুত্পপূর্ণ। ইতিহাস ও কল্পনা এমনভাবে মিশ্রিত যে ধীরে ধীরে অন্রপ্রবেশ প্রয়োজন হবে। প্রথমে বলা হয়েছে গিরিসম্প্র- দায়ের আশ্রম । তারপর বলা হয়েছে নরিন্দর গিরি হ্ববিখ্যাত রাজেন্র গিরির প্রধান শিশ্ব । নরেন গিরি সম্পর্কে কিছু আলোচনা করেছি । তার আশ্রম ছিল প্রয়াগে এবং সেখান থেকেই তিনি অযোধ্যার নবাবকে সাহায্য করেছেন। নরেন গিরির মৃত্যুর পর তার প্রধান শিষ্য অন্গুপগিরি এই সম্প্র- দায়ের প্রধান হন। তিনি একজন এঁতিহাসিক ব্যক্তি । মথুরার নরিন্দর গিরি কাল্পনিক এবং গিরি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বর্জিত । তর্কের খাতিরে, তৃতীয় পাণিপখের বুদ্ধ ১২৭ নরেন্ছ গিবিন অন্তিত্ব স্বীকার কমে নিলেও আবদালীয় বিরুদ্ধে যুদ্ধোস্যষ প্রক্ষি্ত হয়ে যাচ্ছে। কারণ অযোধ্যার স্ুপাউদৌল্লা আব্দালীয় বন্ধুদের অন্ততম ; ১৭৫৭তে অস্পঃভাঘে এবং ১৭৬১তে পাণিপথে মারাঠা নিখম যজ্ঞে স্পষ্টভাবে । স্ৃতরাং তার অন্থগত গিরি সম্প্রদায়ের সঙ্গে মধুযায় বা অন্ত কোথাও সংঘর্ষ হবার সম্ভাবনা ছিল না। ১লা মার্চ ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে আবদালীর সৈন্ঠরা মথুরায় ঢুকে পডে। যুদ্ধের কোন প্রশ্নই নাই কারণ মথুরায় কোন সৈশ্তদল ছিল না। চারঘণ্টা ধরে মথুরার হিন্দু জনসাধারণের ওপর নারীপুরুষ নির্বিশেষে অকথ্য অত্যাচার ও হত্যালীলা চালান হয় । এমন কি সন্্যাসীরাও বাদ যায়নি । বহু মুসলমান বাসিন্দীও ভুলক্রমে নিহত হন। গোকুল মহাবন আক্রমণে স্বয়ং আবদালী নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এইথানে চারহাজ।র নাগ! সন্ন্যাসী সর্বাঙ্গ ছাইলিপ্ত করে উলঙ্গ দেহে উলঙ্গ অসি নিয়ে আবদালীর সৈন্দের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। তাদের প্রচণ্ড আক্রমণে ও মরণপণ যুদ্ধে আবদালী হতচকিত । সন্গ্যাসীর! যুদ্ধ জয় করতে চাননি চেয়ে- ছিলেন ধর্মের সেবায় আত্মোৎসগ করতে | তাই চারহাজার সন্গ্যানী তাদের সমসংখ্যার থেকে কিছু বেশ সৈম্ত নিয়ে মহাপ্রয়াণ করপেন। বাংলার ন্বাদার সিরাজউদ্দৌল্লার কর্মচারী ফুগোলকিশোর তীর্থঘাত্র। করে গোকুলে এসেছিলেন। তিনি আবদালীকে নিরন্ত্র করেন এবং বোঝান যে সন্গ্যাসীদের কাছে কোন অর্থ ব সম্পত্তি পাবার আশ! নাই । একজন মারাঠ! সৈন্য অথবা জাঠ চাষী অথবা কোন হিন্দু যোদ্ধা মথুরা বা গোকুল রক্ষা করতে আগিয়ে আসেনি । মথুরায় বালাজী বাজীরাও-এর অবস্থিতি বা একাকী তীর্ঘযাত্র৷ সম্পুণ কাল্পনিক ও অসম্ভব ঘটনা । বালাজী বাঙ্গীরাও ১৭৫৭ শরীষটাব্দে হিন্দুস্থানে বা উত্তর ভারতে উপস্থিত থাকলে ভারত ইতিহাস সম্পূর্ণ ভিন্নপথে প্রবাহিত হত। পঞ্চম ও যষ্ঠ দৃশ্ঠও অসম্পূর্ণ কাল্পনিক । মুসলমান বাদশাজাদীর হিন্দুমন্দিরে অবস্থিতি যে কত অসম্ভব ত1 আগেই আলোচনা করা হয়েছে। বাণাজীরাও-এর নসীবনকে আত্মহত্যা কর থেকে রক্ষ! কর! এবং তাকে আশ্রয় দেওয়! পরিপূর্ণভাবে কাল্পনিক ও ইতিহাস বিরোধী ঘটনা। মিল্লাতের যে চরিত্র প্রথম অঙ্কে দেখান হয়েছে প্রর্থম, দ্বিতীয় ও পঞ্চম দৃশ্তে তা নাটকের আলোচনার শেষে, মিল্লাতের এঁতিহাসিক চরিত্র আলোচনার সময় উল্লিখিত হবে। টি ১২৮ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন। দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্ঠ 'আবদালীর আক্রমণ বিধবস্ত উত্তর ভারতের গ্রামাঞ্চল। দেখা গেল গন্নাবেগম মেয়ে দল নিয়ে গান গেয়ে বেড়াচ্ছেন। যুদ্ধে 'আহত জবাহির জাঠ বকৃত মস্তিষ্ক ভয়ে গেছে--ত।র সেবায় গন্নীবেগম তৎপর । নরিন্দর শিরি এসে গানাচ্ছেন যে ছাঠ জ্বাহিরকে পেশোয়া পুরদ্ধত করবেন । গন্মাকে দেথে তিনি চমত্কুত, বলছেন- বষ্ট|দেবী, তৃমি বেটি আশ্চর্য! গন্নাকে একেবারে মুছে দিয়ে রট্র। হয়ে উঠেছ। বসরার গুল/ব--বাফুল হযে গেল” এই দৃশ্যে আবার হিন্দুপৎ পাঁদশাহীর আশা শোনান হচ্ছে | নরিন্দর খ্ববি রট্রাদেকীকে প্রণাম করে চলে গেলেন । 1২1১) দ্বিতীয় দৃশ্য পেশোয়ার প্রাসাদ (কোথায় তা বলা হয নাই) সময় বল! হয়েছে দ্বেওষালীর দিন । প্রথঘ হ্জ্রৎ বেগম বা নপীবন উন্মিসার পেশোয়।পুত্র বিশ্বাসরাও এর-প্রতি আকর্ষণ দেখান হয়েছে তারপর পেশোষা বালাশীরাও স্বয়ং এমে ঘোষণা করছেন ষে আজ তারা উত্তর ভারত অভিঘান স্বর করবেন। তিনি নসীবনকে স্পছ ভাষাতেই তার পরিকল্পনা! শোনাচ্ছেন। নঙীবনকে ভারত সাআজ্জীর আসনে বসিয়ে পেশোয়া হিন্দুপৎ পাদশাহীর হচনা] করতে চান। দৃশ্যের শেষে আবার দেখানে। হয়েছে নসীবনের বিশ্বীনরাও-এর প্রতি উৎ্স্ক কামনা । তিনি একবার বিশ্বাসরাওকে কুমার বলে সম্বোধন করছেন। (২/২) তৃতীয় দৃশ্ত পেশোয়ার দরবার । নির্দেশ দেওয়া হল বাহিনীর যাত্র। শুরু হবে দ্বিতীয় প্রহরের প্রথম পাদে মহাঁকালীর পুছধারস্ত হওয়া মাত্র । (৬৭ পাতা) জ।না গেল নসীবন শাহ- জাদির নামে দিলী দখল করা যাবে না কারণ তাতে শাহজার্দীর আপত্তি রুয়েছে। গোস্বামী সৈন্যদের আর জাঠ সৈন্যদের সাহায্য পাওয়া যাবে একথাও বালাজী জানালেন। সমরসজ্জায় সবাই প্রস্তত--এবার চৌথ আদায়ের অভিযান নয় দিল্লীজয়ের অভিযান | (৬৭-৬৮(পাতা )। নরিন্দর গিরি এলেন এবং জানালেন যে সর্যাসীদের সাহায্য পাওয়। যাবে নাঁ। মারাঠা প্রধান সেনাপতি নিজামজয়ী সদাশিবরাও ভাউকে একজন বদমেজাজী কর্মচারী- রূপে দেখান হয়েছে। জাঠ জোয়ান জবাহির সিংহকে পুরক্ষার দেওয়া হল তরবারি আর মুদ্রাপূর্ণ থলি। শোনান হল “হিন্পাদ পাদশাহী”র কথা। তারপরই লদাশিবরাওএর জাঠ জোয়ানদের প্রতি অসৌজগ্ততামূলক ব্যব- তৃতীয় পাঁণিপথের যুদ্ধ ১২৯ হারের প্রতিবাদ করলেন নরিন্দর গোস্বামী । নসীবনের হাত থেকে ধাতৃপাত্র এবং মুদ্রাপূর্ণ থলি সশব্দে পতিত হল। জবাহির নসীবনকে জানাল যে তার রাধারানীর তীবন র্গার জন্ত কোন পুরঙ্গার গ্রহণ করতে সে অন্ধীকার করে, তারপর ন'টকীয ভাবে দৌডে পালাল । মদাশিব, মলহররাও ও বিশ্বাসরাও বাহিলর সর্ধে বাঁজ। করতেন । নরিন্দর গিরি গোস্বামী নসীবন শাহভাদীকে দিল্লী পৌছানোর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। (১/৩) চতুর্থ দৃশ পুরান দিল্লীর একটি প্রাচীন পররন্যক্ত দরগা। মিল্লাত দিল্লী ফিরে এসে শাহফান!র সঙ্গে দেখা করছেন। নসীবন হারিয়ে গেছে শুনে ফকির উম্মাদ প্রায়। গণনা করেছেন ঘে নসীবন দিল্লীর তথতের ভাবি উত্তরাধিকারী | নরিনর গিরি গোখামীর হাতে শাহজাদী পড়েছেন শুনে ফকির সাহেব ক্ষিপ্তপ্রায়। উপস্থিত হন উজির ইমাঁদ-উল-মুলুক। জানান যে শাহজাদা মিল্লাতকে দিল্লীর তখৎ-এ বসতে হবে। সংলাপ একখণ্ড সত্যি চমৎকার । «আপনি বাদশাহির ছক নিয়ে সতরঞ্চ। খেলছেন 1-....ওই একই ছকে আমিও খেলছি আবদালীর সঙ্গে-মারাঠার সঙ্গে, বাদশাহীর খেল।” (পাতা ৮৩) । কাঁরণ_“চারিদিকে দুশমন আমার । আবদালী, মারাঠা, বাদশাহ, নাগ্িব খা, ইন্তেজাম, স্থরজমল জাঠ, স্ুজাউদ্দৌল্লা নবাব, সব সব সব। এদের সঙ্গে লড়াই দিয়ে বাচতে হবে আমাকে | (পাতা ৮৫) তাই “আবদালীর স্তাবক আলমগীরকে সরীতেই হবে আমাকে । (পাতা ৮৪) এল নাজিব খা জানাল পঙ্জপালের মতো! মারাঠা ফকিররা উড়েছে। আসছে চৌথ আদায় করতে । ইতিমধ্যে বাদশাহ হতে রাজী হযে বোরথ। পরে ভাবি-বাদশাহের পলায়ন। তোপের আওয়াজে মারাঠা আক্রমণের হচনা। নাজিব খেঁঁজ নিতে যাবার অবকাশে উজিরের পলায়ণ। অবশেষে নরিন্বর গিরি ও শাহানা হিন্দু মুসলমান ছুই ফকির মুখোমুখি । হিন্দুপৎ পাদশাহীর ভয়ে বিহ্বল শাহফানার হঠাৎ আক্রমণে নবিন্দর গির্রির একটি চক্ষু নষ্ট। তারপর নরিন্দর গিরি নসীবনকে দিল্লী কেল্লায় সসম্মানে পৌছে দিলেন। (২/৪) প্রায় সমগ্র দ্বিতীয় অঙ্ক প্রক্ষিত। ১৭৫৭ গ্রীষ্টাব্ষের এপ্রিল মানে 'আবদালী নসীবন বা হুজরৎ বেগমকে বিবাহ করে ভারত ত্যাগ করে চলে ৯৩০ বাংলা প্রাতিহাসিক নাটক সমালোচনা গেছেন একথা কোথাও জানান হয় নাই। নাটক পড়ে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে আবদালী তখনও দিল্লীতে বসে আছেন এবং তার বিরুদ্ধেই মারাঠাদে় যুদ্ধসঙ্জা এবং দিল্লী জযের সংকল্প । পেশোয়া প্রাসাদের অর্থাৎ প্রথষ ও দ্বিতীয় দৃশ্যের ঘটনা তাই সম্পূর্ণ অনৈতিহাসিক। দীপাবলীর দিন মারাঠা- দের উত্তর ভারত অভিধান শুরু গল বলায় মনে হয় ঘে নভেম্বর ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে এই অভিযান সুরু । আসলে বিশ্বাসরাওকে সেনাপতি সাকিয়ে সদা শিবরাঁও ভাউকে তার রক্ষক, মন্ত্রণাদাতা এবং অভিভাবক করে অভিঘান সুরু হয় মার্চ মাসে ১৭৬০ শ্রী্ান্ধে (এ্রতিহাসিক ঘটনাবলীর ছক ভ্রষ্টব্য )। জুন মাসে মলহবরাও হোলকার এবং উত্তর ভারতে অবস্থিত অন্ত মারাঠা সর্দারর! বিশ্বাসরাও ও সদীশিবরাঁও পরিচালিত বিরাট বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হন। চতুর্থ দৃশ্যের ঘটন| অর্থাৎ মারা১দের দিল্লী অধিকার ঘটে ১৭৬০ খ্রীষটাব্দের ২রা অগাষ্ট । তথন যুদ্ধের আবহাওয়া । আবদালী পঞ্চমবার ভারত অভিযান বেরিয়ে লাহোর জয় করেছেন ১৭৫৯ খ্রী্াব্দের অক্টোবর মাসে। বত্তত ১৭৬০ শ্রীঠ্টান্দের জানুয়ারী মাসে আবদালীর সঙ্গে যুদ্ধ করে দত্তাজী সিন্ধিয়া দিল্লীর অদুরে বরারীঘণ্টের যুদ্ধে ১*ই ভান্যয়ারী নিহত হলেন। দত্তাজীর মৃত্যুর থবর পাবার পরই পেশোষা বিশ্বাসরাও ও সদাশিবরাও ভাউ এর অধীনে এই বিরাটবাহিনী প্রেরণ করেন। নাটকে তাই ইত্তিহাসকে উল্টে” পাণ্টে স্ববিধামত ব্যবহারের ঘে 'চটা হয়েছে ত! কল্পনা অনুসারী সম্পূর্ণ ভাবে। চতুর্থ দৃশ্টে ইমাদ, শিল্লাতকে বাদশাহ হতে রাজী করালেন, মারাঠা- দের দিল্লী আক্রমণ ও অশ্িকারের সময় যাঁদ এই ঘটন। ঘটত তাহলে সময় হত ১৭৬০ শ্তী্টাব্বের জুলযই-অগাইঈ মাস। কিন্তু উজির ইমাদ-উল-মুলুক দ্বিতীয় আলমগীর ব।দশাহকে হত্যা করে মিল্লাতকে শাহজাহান সংনী নামে বাদশাহ করেন ১৭৫৯ খ্রাগাব্দবের ৩০শে নভেম্বর । এখানে একবছর পেছনের ঘটনাকে আগিয়ে আনা হযেছে । বাদশাহ আলমশীরের হত্যার খবর পেয়েই আবদ।লী দিল্লী অভিমুখে অভিঘান করেন। স্থতরাং এখানেও ইতিহাস লজ্ঘিত হয়েছে । হিন্দুমুসলমান ছুই ফকিরের গল্প একেবারেই কল্পনা প্রকৃত । মরিন্দর গিরিও কাল্পনিক চরিত্র এক অসম্ভব পরিস্থিতেতে বিন্বাজিষ্ক | বাদশাজাদী হভরৎ্ বেগমের উপস্থিতঘ্বিও সবত্র অন্স্তব কারণ তিনি ১৯৫৯ এীটাবের এপ্রিল মাসেই পারশ্ঠ চলে গেছেন । তৃতীয় পাপিপথের যুদ্ধ ১৩১ এই অঙ্কে হিন্দুপৎ পাদ্বশাহী সম্পর্কে অনেক আলোচনা আছে । আগেই বল! হয়েছে হিন্দু পাঁদশাহীর চিন্তা বাজীরাও এর সঙ্গেই মৃত। বালাজীরাও ্নেচিস্তাকে মনে স্থান দেন নাই। তার জীবনের লক্ষ্য হয় অর্থ আর চৌথ আদায় তাই রাজপুত বা জাঠ কেউ তাঁকে কোন সাহাব্য করেনি । সন্ন্যাসী- দের সাহায্যের কথাও অচিস্তনীয় কারণ নরিন্দর গিরি কাল্পনিক চরিত্র । সন্ন্যাসী সম্প্রদায়ের সৈন্য বলে মথুরা বা গোকুলে কোন কিছুই কখন ছিল ন|। নমীবনের নামে দিল্লী অবিকারের গল্পও বানানো । তাছাড়া দি মারাঠার্দের ক্ষার নাম ব্যবহার করে কিছু করার প্রয়োজন থাকত তাহলে তারা তা করতেন। সে জন্য সেই ব্যক্তির অন্রমাত প্রার্থনা প্রভৃতি সুক্ষ বাপারগুলে। রাজনীতির উচু পর্ধ্যায়ে কখনই ঠাই পায় না, আজও নয়। বেচারা নসীবনের বিশ্বাসরাওকে কামনা দেখিয়ে নাট্যকার বাধশাজাদীর প্রতি চরম অন্তার করেছেন। ব্রিপোলীয়া দুর্গের বন্দিশাল!য় যারা জীবন যৌবন নষ্ট করে অন্ধ হয়ে গেছে, বিজয়ীর কাছে যারা সামান্য পণ্যরপে গণ্য হয়ে বাদশাহ কন্তার ফোন সম্মীনই পাঁননি এমন কি সাধান্ত নারী হিসাবেও যারা অবহেলিত, তাদেরই প্রতিভূ হলেন নসীবনউদ্জিশা। আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে তিনি বৃদ্ধ খ্বিতীয় আলমগীরের কামনাকে বাধ! দ্রিতে পেরেছিলেন কিন্তু আবদ্ালী তাঁকে স্বণ্সূল্যে ও বাহুবলে কিনে নিয়ে চলে গেলেন। মোগল হারেমের রমনীর অসম্মান অগ্নাদশ শতাব্দীর ইতিহাসের এক বিরাট কলঙ্ককালিমা। ছুইটি উদাহরণ দিলে বক্তব্য স্পট হবে। প্রথম মুরাদের পৌত্রের (ইনি আবার বাদশ! গুরঙ্গজীবের দৌহিত্র* ) কন্যার সঙ্গে শাহানশাহ নাদিরশাহের কনিষ্ঠ পুত্রের বিবাহ হয়, ২৬শে মার্চ ১৭৩৯ প্রীষ্টান্ে দিল্লীতে । নাদ্িরশাহের মৃত্যু অব্যবহিত পরে তার পুত্র নসরুল্লীর স্ত্রী পাদশাবংশীয়। আইফৎ-উন-নিসাঁকে উপপত্বী রূপে দখল করে নেন আহ্মদশাহ আবদালী। চতুর্থ বার ভারত অভিযানের সময় অর্থাৎ ১৭৫৭ গ্রীষ্টাব্ষে এই উপপত্বী তার সঙ্গে দিল্লী আসেন ও ফিন্সেযান। দ্বিতীয় উদাহরণ । ১৭৫৬ গ্রীষ্টাব্ষে উজির ইমাদের অকীতিতে স্বয়ং বাদশাহর হারেমে খাছ অভাব এমন প্রচণ্ড আকার ধারণ করল যে এক মুঠো সবজি বা জলের জন্ত হাহাকার পড়ে গেল ।৩৪ একেবারে কোন *« নাঁদরিশাহ প্রবন্ধ দ্রষ্টব্য । ১৩২ বাংলা এতিহাসিক নাটক দমালোচনা খাছ না পেয়ে বাদশাজাদীরা অবশেষে রন্ধনশালার দরজায় গিয়ে ধর্ম। দিয়ে- ছিলেন। দ্বিতীয় অঙ্কের ঘটনাবলি তাই সম্পূর্ণ ভাবে অনৈতিহাসিক প্রমাণিত হল। সব থেকে অসংলগ্ন হয়েছে ষে প্রথম অঙ্ক ও দ্বিতীয় অঙ্কের মাঝে যে তিন বছর কেটে গেছে, অর্থাৎ মথুরার অত্যাচার ও গোকুলের বুদ্ধর ( ৯লা ও ১৫ই মার্চ ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দ) পর পেশোয়ার উত্তর ভারত অভিযানে বাহিনী পাঠানর (মার্চ ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্ধ ) মাঝে আবদাঁলশ ভারত ত্যাগ করে গেছেন ও আবার ভারতবর্ষ আক্রমণ করেছেন একথা কোথাও বলা হয় নি। আবদালীর চতুর্থ ও পঞ্চম অভিযানকে একটি অভিনীন হিসাবে যেন দেখান হয়েছে । ফলে দুই অভিযানের মধ্যবত্তি ঘটনাবলি প্রক[শ না করায় কাধ্যকারণ সম্পর্কে ঘাটতি স্ষ্টি হয়েছে । বিশেষ দভাজী সিন্ধিয়ার মৃত্যু উত্তর ভারতে বিরাট মারাঠা বাহিনী পাঠাবার অন্যতম প্রধান কারণ । সে ঘটনার কোন উল্লেখ ন। থাকায় ষুগবিপ্নব নাটক দ্বিতীয় অক্কে গালগল্পে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। অবশেষে নাটকের তৃতীয় অস্ক। প্রথম দৃশ্য পাঞ্জাবের পশ্চিম প্রান্ত সীমায় আহমদ শাহ আবদালীর ছাউনি শিবির অভ্যন্তর । এইখানেই আবদালীকে প্রথম দেখা গেল। নর্তকীদের নৃত্যগীতের পর তরুণী মানবাল এর সঙ্গে শিখ জাঠ লুঠেরাদের সম্পর্কে আর পাতিয়ালায় আল। সিং সম্পর্কে আলোচনা । আবদালী বলছেন 'আলা সিং তো জমিদার ধনী সপ্দার |, নাজিব জানাতে এসেছে আলমগীর বাদশাহের হত্যার সংবাদ এবং নয়া বাদশাহ শাহজাহানের তখৎ পাবার খবর । কিন্ত দেখা গেল আবদালী সবই জানেন। দেখা থাচ্ছে আবদালী যুদ্ধের জন্ত প্রস্তত হচ্ছেন এবং মারাঠ1 সৈন্য বাহিনীর খবর নিচ্ছেন। আবদালী গোঁকুল মহাবনে যোদ্ধা সন্যসী আর বাজপাথী চোখ বালাজীরাও এর প্রশংসা করছেন। শিখ আর জাঠর। ক্রমাগত আবদালীর ঘোড়া আর বন্দুক লুঠ করে চলেছে । আব্দাঁলী তাদের নাম দিয়েছেন "নেকড়া” । নেপথ্যে গান শুনে আবদালীর প্রশ্নের উত্তরে জানা গেল যে ব্রা গান গেয়ে পাঁঞ্জাবের চাষীদের জাগাচ্ছে। একটু পরেই গরীব মানবাঈ এর প্রতি আবদালীর সহানুভূতি আর হুকুম না মানা সৈন্তর প্রতি আবদালীর হৃদয়হীন পৈশাচিক ব্যবহার দেখান ইয়েছে। তারপর নাজিবকে দিকে, পেশোয়াকে পত্রলেখা হল । আবদালীর ছুই অনুরোধ হজ্রৎ বেগমকে তার, তৃতীয় পাপিপথের যুদ্ধ ১৩১. চাই আর পাঞ্জাব তাকে ছেড়ে দিতে হবে। তারপর বন্দী শাহফানার চোখ অন্ধ করে দেওয়া হল। শাহফান! হুশিয়ার করে দিল যে হজরৎ বেগমের সঙ্গে বিশ্বাসরাও এর বিবাহ হলে হিন্দু পাদশাহী স্থপ্রতিষ্ঠিত হবে কেউ রুখতে পারবে না। আবদালী যেন এই মুহুর্তে দিল্লী বাত্র! করেন। আবদাপী গীত গাহানেওয়ালীকে আগুণ জবালানেবালী বলে তার জন্তে যেন বেশ চিস্তাঘ্িত হয়ে পড়েন। (৩1১) দ্বিতীয় দৃশ্তে গন্গীবেগম নিজের কবর নিজেই রচনা করছেন। নিজের জন্যে নিজেই অশ্রুপাত করছেন । এখানেও কিন্তু গন্না বেগম যে স্বয়ং স্বজাউদৌল্লার বাগদত্ত। ছিলেন একথা নাট্যকার জানাচ্ছেন না। জবাহির আবার খুঁজে পাচ্ছে তার আ্াধিয়ারার গুলাবকে (পাতা ১১৩) তারপর জব/হির বলছে 'রষ্ট।, মেরে রাধা |” গন্না বলছে “মেরে সর্দার ! মেরে রুস্তম 1, (৩।২ ১১৫ পাতা) তৃতীয় দৃশ্ঠে দিল্লীর হারেমে মিল্লাত ও হজরতের সংলাপ। দিল্লীর সিংহাসনে পেশোয়াপুত্র বিশ্বাসরাও বসবে তার জন্যে নুতন বাদশাহ আনন্দিত। তিনি বাদশাহী ছেড়ে দেবার আনন্দে আহলাদিত। ধর্মে কর্মেই তার মত ও মতি। হজরৎ বেগম চাইছেন জপের মাল! কিন্তু বাদশাহ দিতে চান মুক্তার মাল। ও গোলাপ ফুল। বিশ্বীসরাওএর প্রতি হজরৎ বেগমের প্রণয় তার অজানিত নয় এবং তিনি তার পোষকতাও করেন। হজরৎ বেগম বলছেন “ইহকাল পরকাল কুলমান সম্পদ-_সমন্ত কিছু দরিয়াতে ভাসিয়ে দিয়েও তাকে (বিশ্বাসরাঁওকে ) আমার চাই" (পাতা ১১৯)। বাদশাহ শাহজাহান বলছেন “হিন্দু মুসলমান ওসব ছেদ! কথা । তুমি মাল৷ গেঁথে রাখ। বিজয়ী বিশ্বাসরাও এলে তাকে পরিয়ে দিও? (এ থেকে কি মনে করা যায় যে বাদশাহ হজরৎ বেগমের সঙ্গে বিশ্বাসরাও এর বিবাহের সংকল্প করছেন ?)।1। অবশেষে জান৷ গেল যে ফুল ব| মুক্তার মাল! ছাড়া আর এক মালাও তার কাছে গ্গাছে__“সাপের মণির মালা । আমার মণির কঠহার |, (পাতা ১২১) অর্থাৎ সাপের বিষ শাহজাদী আত্মরক্ষার জন্ত সর্বনা কাছে রাখেন। (৩1৩) চতুর্থ দৃশ্ত পেশোয়! বালাজীরাও এর প্রাসাদ । উত্তর ভারত থেকে আহা পত্রাদি পাঠ করা হচ্ছে। নরিন্দর গোস্বামী এলেন জাঠ জবাহির সিং ও রঘুনাথ রঃ বাংল! উতিহা/সক নাক পমাতলোচপা দর্দিরদের প্রাণদণ্ডাজ্ঞ। যুব করতে । মারাঠা সেনাপতি তাদের প্রাণদণ্ডে গাদেশ দিয়েছিলেন। জাঠদের প্রতি মারাঠাদের নির্যাতনের অভিযোগ ফরলেন। মে সব শোনার সময় নাই কারণ বালাজীরাওএর সামনে পাঁণিপথের দ্ধ | নরিন্দর গোস্বামী তাকে আত্মপ্রবঞ্চনার অভিযোগ করলেন । অবশেষে বালজী আবদালীর পত্রের জবাব দ্রিলেন। অস্বীকার করলেন পাঞ্জাব অথব| হজরৎ বেগমকে আবদলীর হাতে তুলে দিতে । নরিন্দর বালাজীরাও এর আকাশম্পর্শী দস্তকে ধীকার দিয়ে সদাশিবরাও এর অপঠিত পত্র পড়তে বললেন। বালাজী পত্র পড়লেন-__অর্থ ভাণ্ডার শৃন্ত, মাত্র সাত সপ্তাহের রসদ বর্ধমান। রসদ সরবরাহকারী গোবিন্দ বল্লাল বুন্দেলী নিহত। হিসাব কৰে দেখলেন পত্রলিখিত সাত সপ্তাহের মধ্যে চার সপ্তাহ চলে গেছে। চিৎকার করে উঠলেন “বিশ্বাসরাও! সদাশিব! মারাঠা! পাঁণিপথ ! আমি ঘাব।” (৩৪) পঞ্চম দৃষ্ঠ পাপিপথ সঙ্গিহিত গ্রাম্য প্রান্তরের জঙ্গল। জবাহির দিং ও গঙ্গাবেগমের আলোচনায় পাঁণিপথের ভয়াবহ যুদ্ধ বণিত হয়েছে । গননা বলেন সবই মাঙ্গষের কর্মফল তাই বিশ্বাসরাও আর সদাঁশিবরাঁও ভাউ পাণিপথে খতম হয়ে গেল। নরিন্বর গিরি এলেন । তাকে জবাহির বিশ্বসরাও আর সদাশিবরাওএর মৃত্যুর দৃষ্ঠ বর্ণনা করল । আবদালীকে সর্বদা আচমকা 'মাক্র- মপের প্রাতিশ্রতি দিয়ে জবাহিব আর তার বরা বিদায় নিল। বিকৃত মস্তিক বালাঁজীরাওকে দেখা গেল তিনি তার মারাঠাকে ভাকছেন। ডাকছেন বিশ্বাসরাওকে, সদাশিবরাওকে । (৩৫) শেষ দৃশ্য আহমদশা আবদালীর শিবির | হজরৎ বেগমকে বিবাহ করতে হবে । হজরত বেগম সাপের কঙ্কালের মালা আবদালী পরাতে চাইলেন । আবদালী সভয়ে পিছিয়ে গেলেন। তারপর হজরত বেগম আব্দালীকে অধাধিক বলে খুব গালি দ্িলেন। আবদালী উত্তরে বললেন_তুই কাফিরের মহুষ্বতির দেওয়ানা। (পাতা ১৩৯)। হরৎ বেগম অভিষোপ্ধ করলেন__বিশবাসরাও এর মাথা! কেটে বর্শায় গেঁথে আফুগানরা উল্লাস করছে। অবশেষে কিছু নাটুকে সংলাপের পর হ্রৎ মেগা বিষ মান কাট! নিবের গলায় বসিয়ে দিয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হুলেন। কার্যালী ডিৎকার করতে লাগলেন “আদি ছেরে গেলাম' (পাতা ১৪২) তৃতীয় পাপিপথের যুদ্ধ ১৩৫ ইতিমধ্যে জাঠরা! আক্রমণ করল । আবদালী নাজিৰকে হুকুম করলেন_“জলদি ছাউনি তোল। জলদ্ি। কবরস্থান পাণিপথ | কবরস্থান” (পাতা ১৪৪)। নেপথ্যে বালাজীর চিৎকাঁর ভেসে এল 'মারাঠা, মারাঠা |” নাটক শেষে নাট্যকার লিখেছেন-_দূরে পাহাড়ের আড়ালে নীলাভ আলোয় দেখ! যাইতেছে - গন্না, মধ্যস্থলে নরিন্দর কণ্ঠে তার সঙ্গীত পতন অভ্যুদয় বন্ধুর পন্থা থেকে একেবারে ভারত ভাগ্যবিধাত। পর্যহ্ছ। অবশেষে নাটকের সমাধি । নাটকের শেষে শিখ বিদ্রোহের সঞ্চেত রাখা হয়েছে এবং এই ঘটনার স্ত্রধরে তারাশঙ্কর তার গন্মাধেগম নামে উপন্যাস রচনা! করে নাট্য ঘটনার উপসংহার রচন। করে- ছেন। যুগবিপ্রব নাটক আব্দালীর শিবিরে হজরৎ বেগমের মৃত্যু দিয়েই শেষ হয়েছে । (৩৬) তৃতীয় অঙ্ক প্রথম ঢুই অস্কের তুলনায় সামান্য বেশী ইতিহ!সপন্থী। কারণ পাণিপথের যুদ্ধের যে বিবরণ জবাহির সিং ও গন্নাবেগমের মুখে দেওয়া হয়েছে তা ইতিহাস অনুসরণ করে। কিন্তু গন্নাবেগম বা রষ্টরাবাঈ শেষ পর্য্যন্ত কাল্পনিক চরিত্রের রূপ গ্রহণ করছে। একমাত্র নাম ছাড়া গন্নাবেগমের জীবনের কিছুই ইতিহাস অনুসারী নয়। গন্নাবেগমের মৃত্যু হয় ১৭৭৫ খ্রীষ্টাব্ডে “৭৬১ তে নিজের কবর রচনার দৃশ্যটি তাই কাল্লানিক। এই অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে আবদালীর চরিত্র সৃষ্টি হয়েছে । তৎকালীন এশিয়ার প্রাজ্জতম যুন্ধবিদ্যা বিশারদকে নাটকে দেখা যায় না। এ আবদালী এক অর্ধোন্সাদ অত্যাচারী । পাতিয়ালার আল] সিংকে আবদালী “মভারাঁজা উপাধি দেন। এখানেও বছরের ভুল। বাদশাহ বদলের দিন ৩০শে নভেম্বর ১৭৫৯। আবদালীর শিবিরের ঘটনা ১৭৬০ এর জুলাই মাসের আগে নয়। তৃতীয় দৃশ্য সম্পূর্ণ কাল্পনিক মারাঠাদের দিল্লী ভয় ২রা ৩রা আগষ্ট ১৭৬* এর ঘটনা । অর্থের অভাবে সদাশিবরাও দওয়ান-ই-খাস থেকে রূপ! খুলে নয় লক্ষ মুদ্রা ছাপান। বূনদের অভাবে বিরাট মানাঠা বাহিনী এমন নির্জীব হয়ে পড়ে ষেবাধা হয়ে দিল্লীর বাইরে ছাউনি ফেল! হয়। অনেক চেষ্টা করেও বাদশাহী ধনরদ্ধ সদাশিব হত্তগত করতে পারেন নি। বাদশাজাদাঁদের সঙ্গে গোপন আলোচনা ফলবতী হয় নী। নাটকে উল্লিখিত মতো বাদশাহ শাহজাহান* মারাঠ| পন্ষীয় হলে মারাঠাদের বহ সমস্থার সমাধান হয়ে যেত । ফারাঠাদের প্রই ১৩৬ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ বিশাল সৈ্যবাহিনীর জন্য মাসে কেবল থাছি খরচ বাবদ ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা! লাগত ।৬৫ অর্থ সংগ্রহ মারাঠা যুদ্ধের প্রধান অন্তর হয়ে দাড়াল আর সেই অন্ত সংগ্রহের স্থব্যবস্থা না থাকায় সদ'শিবরাও বিফল হলেন । চতুর্থ দৃশ্যও প্রক্ষি্ত। বালাজীরাও সৈশ্ঠবাহিনী পাঠিয়ে পরম নিশ্চিন্ত ছিলেন। উত্তর ভারতের রাজনীতি বা আবদালীর সাফল্য সম্পর্কে তার কাছে খবর আসত অনেক পরে। পাণিপথের যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবার বেশ কিছুদিন পরে তার কাছে এই মর্মািক খবর অ।সে এবং তখন তানি উত্তর ভারত অভিমুখে ঘাত্র। করেন। নরিন্দর গোস্বামীও প্রক্ষিপ্ত চরিত্র একথা বার বার বলা হযেছে। মারাঠ।দের অর্থলোলুপত্তা, রাজপুত বা মুসলমান কাউকেই বাদ দেয়নি। তাই ভরতপুরের রাজা স্থরজমল জাঠ ণেষ মুহূর্তে সরে দীড়ালেন। রাজপুতরা মহানন্দে মারাঠা শক্তিক্ষয় দেখলেন । শিখদের সঙ্গে যোগাযোগের কোন চেষ্টাই করা হল না। “মহ'রাজা” উপাধি ভূষিত পাতিয়ালার শিখ সর্দার আলানসিং আবদালীর বিরোধিতা করলেন ন|। অন্যদিকে উজির ইমাদ-উল-মুলুক অর্থাদি সম্পদ নিয়ে পলাতক হলেন। আহম্মদ খা বঙ্গন ফরাক্কাবাদের ভেতর দিয়ে মারাঠাদের অবাধগতির অগ্রমতি দিলেও নিরপেক্ষ ছিলেন না। অযোধ্যার নবাব স্তজাউদোল্লা আবদ!লীর পক্ষে বোগদিয়ে তার শক্তি বুদ্ধি করলেন। নাজিব খ! তার বিরাট রোহল| বাহিনী নিয়ে আর মুঘলানী বেগমের পাঞ্জাবী সৈন্যরা আবদালীর পক্ষে যুদ্ধ করেছে । সবাই জানত যে আবদালী কেবল লুঠ করতে ভারতে আসেন। ভারতে বসবাস করে ভারতশাসন তার উদ্দেশ্য নয়। কিন্ত মারাঠাদের শক্তি আরে! বৃদ্ধি হলে সমূহ বিপদের সম্ভাবনা | এ আশঙ্কা অমূলক ছিলনা । সদ্াশিবরাঁওকে হুকুম দেওয়! হয়েছিল যে আবদালীকে শায়েস্তা করে বা তার সঙ্গে সন্ধি করে বাংল! শ্থব। আক্রমণ করে এককোটি টাকা আনবে । ফেরার পথে কাশী ও এলাহবাদ জেলাছুটি অযোধ্যার নবাবের কাছ থেকে কেড়ে নেবে। আবদালী মারাঠাদের সঙ্গে সন্ধি করে, ঘরে ফিরে যেতে ইচ্ছুক ছিলেন, প্রধানত নাজিবখানের জন্যই তিনি যুদ্ধ করতে রাজী হন। বিশেষ স্থজাউদৌল্লা তার পক্ষে যোগদানের পর তিনি আশ্বস্ত হন। পাণিপথে মারাঠা পরাজয়ে বাংলাম্ববা মারাঠ তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ ১৩৭ অত্যাচার থেকে রক্ষা পেয়ে গেল। বালাজীরাও-এর আকাশচুম্বি অহঙ্কার মারাঠাদের পতনের কারণ হল। সবার ওপর ছিল অনিয়মান্ুবতিতা, স্বপ্রাধান্ত ও প্রচণ্ড লুঠের আকুলতা। আব্দালীর দু্ধ আফগান যোদ্ধারা তুলনায় শতগুণ আজ্ঞাবাহী ও যুদ্ধের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন । পাঞ্জাব বা হজরৎ বেগম আবদাঁলীকে দেওয়া বা না দেওয় সম্পর্কে পেশোয়ার কোনও বক্তব্য থাকতে পারেনা । কারণ তিনি বা তার প্রভু রাজারাম কোনটির মালিক নন। তাছাড়া হজরত বেগম তথন বিবাহিত | পঞ্চম দৃশ্তে পাণিপথের যুদ্ধের বিবরণ ইতিহাস অনুযায়ী । শেষ ও ষষ্ট দৃশ্যে আবদালীর বিবাহদৃশ্ত অনৈতিহাসিক কেন তা আগেই বলা হয়েছে। হজরৎ বেগমের আবদালীকে সাপের কক্কালের মালা পরাতে বাওযা সত্যই হাস্যকর, একি হিন্দুবিবাহ যে মালাবদল হবে। বিজিতনেতার মুড কেটে বর্ষার ফলকে বিধে সকলকে দেখান যদিও ছিল প্রচলিত যুদ্ধরীতি কিন্তু আবদালীর হুকুমে বিশ্বীসরাও-এর মুতদেহকে কবন্ধ করা হয় নাই। এমনকি সদাশিবরাও-এর মাথ]| কেটে নিযে বাওয়া হলেও কোন কোন মত অনুসারে স্থজাউদৌল্লার অনুরোধে আবদালী সেটা আবার মৃত কবন্ধে সেলাই করে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন। উভয় মুতদ্রেছকেই যথাযোগ্য সম্মানে তিনদিন পর সৎকার করা হয়। পরবর্তীকালে একপত্রে এই ছুই বীরের মৃত্যুর জন্য আবদাপী দুঃখ ও ক্ষম1 প্রার্থনা করে পেশোয়া বালাগীর কাছে পত্র লেখেন ও সন্ধি ভিক্ষা করেন । আঁব্দালীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার এর থেকে বন উদাহরণ আর নাই। মারাঠাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রচুর । বিশ্বাসরাও আর সদাশিবরাও এর সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দিলেন যশোবন্তরাও পাবার, পিলাজী যাদবের একপুত্র, ট্রকোজী সিন্ধিয়া এবং শাস্তজী বাঘ। জানকোজী সিন্ধিয! সাংঘা- তিক আহত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করেন কিন্ত নাজিবের আদেশে গুপ্তধাতক তাকে হত্য। করে। অন্তজী মানকেশ্বর ফারুকনগরে ণু- ঘাতকের হাতে নিহত হন। ইব্রাহিম খ| গারদী বন্দী হন, তাকেও হত্যা কর! হয়। হিন্দুদলে তিনিই ছিলেন এক প্রধান মুসলমান অধিনায়ক । বাজীরাও মন্তানীর পুত্র সামসের বাহাছুর প্রচণ্ড আহত অবস্থাতেও কুস্তেরে সুরজমল: ১৩৮ বাংলা! এতিহথাসিক ন/টক সধালোচনা জাঠের আশ্রয়ে পৌছান। বহুচেষ্টা করেও তার প্রাণ বাঁচান গেল ন|। একমাত্র মলহররাও হোলকার পলায়ন করতে সক্ষম হন। মগাদাজী সিন্ধিয়। এই যুদ্ধেই আহত হয়ে খগ্ হয়ে যান। নানা ফাড়নিশও আহত হন। পেশোয়া বাল!জীরাও এর মন্তিষ্ষ বিকৃতির খবর উ্রতিহামিক | পাণিপথের আঘাত তিনি সহ করতে পারেন নি, পুণায় ২৩শে জুন ১৭৬১ খ্রীষ্টাব্দে তার মৃত্যু হয়। মাত্র একবছর 'আঁগে ২1শে জুন ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্দে পৈথানে তিনি পুনরায় বিবাহ করেন ।৩৬ প[ণিপথের বুদ্ধের বিখ্যাত দিন ১৪ই জানুয়ারী ৯৭৬১। যে পাঁণিপথের ঘুদ্ধ বর্ণনা নাটক লেখার উদ্দেশ্য সেই পাঁণিপথের যুদ্ধকে নাটকে দেখান হয় নাই। যুদ্ধের আগে দাক্ষিণাত্যের এক দৃশ্য এবং যুদ্ধের পর তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবর্ণন]! করে দাষ সারা হয়েছে এইট] নাটকের আরেক মূল দোষ । দ্ধ হবার কারণগুলি যেনন অন্তধাবন কর। হয় নাই যুদ্ধের প্রধান পত্র-পাত্রী- গণকেও তেমনি অবহেলা! কর হয়েছে । সদাশিবরাও ভাউ হয়েছেন অতি সাধারণ এক পাশ্চচরিত্র। তার ভ্ত্রী পার্বতীব|ঈ যুদ্ধক্ষেত্রে তার সঙ্গেই ছিলেন এবং পূর্ণ অত্ন্বত্বী অবস্থায় অশেষ ছুংখভোগ করে পাণিপথ থেকে পলায়ন করতে সক্ষম হন। তার কোন উল্লেখ নাই। প্রধান সৈন্যাধাক্ষগণ জান্‌কোজী সিন্ধিয়া বা! রণোজী সিন্ধিয়ার দুই বীর পুত্র টুকোজী আর মহাদীজী, বাজীরাও পুত্র সামসের বাহাছুর, কামান অভিজ্ঞ ফরাসীপ্রণায় যুদ্ধবিশারদ ইব্রাহীমর্থা গারদী, অন্থজী মানকেশ্বর যার বিবরণীতে দিলী- দরবারের বহুখবর জান যায়__পাঁণিপথ যুদ্ধের বিবরণ তার কাছ থেকে ন৷ পাওয়া এতিহাসিকের দৃষ্টিতে সবথেকে বড় ক্ষতি, নান! ফাড়নিশ প্রভৃতি এঁতিহাসিক চরিত্র নাটকে স্থান পায়নি । হ্বরজ্মল জাঠ যিনি পলায়িত সমস্ত মারাঠাদের স্থান দেন এবং যার উপদেশ ছিল যে তাঁর রাজত্ব ভরতপুরে বাটি স্থাপন করে পাণিপথে জয় ও পরাজয়ের গন্য গ্রস্তত থাকা এই নাটকে স্থান পান নাই। বস্তত স্বরজমলের কথ শুনলে সদীশিবরাওকে এই বিরাট ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হত না। পাণিপথে হারলেও আবার যুদ্ধের জন্তে “প্রস্তুত হতে পারতেন । পরাজয় এমন বিধ্বংশীরূপ নিতে পারত না । গোবিন্দ সাল বুন্বেলা যিনি ছিলেন প্রধান রসদ সরবরাহকারী এবং যার নিহত হবার ভাতীয় পাণিপথের যুদ্ধ ১৩৯ সঙ্গে সঙ্গে পাঁণিপথের ভাগ্যনির্ণয় হয়ে গেল, নাটকে নাই । মাত্র ছয়হাজার সৈম্ত নিয়ে নারোশঙ্কর দিল্লী রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনিও নাটকে নাই। নাই বলবন্তরাও মেহেন্দেলে, সদাশিবরাঁও এর প্রধান সহকারী ও মন্তণাদাতা। পাণিপথ শিবিরে ৭ই ডিসেম্বর ১৭৬০ এ তার মৃত্যুর পর সদাশিবরাওকে বুদ্ধি দেবার কোন অন্তরঙ্গ থাকল না। অন্যপক্ষেও তাই । মারাঠাদের সঙ্গে সম্মুখ সমরে অনিচ্ছুক আবদালীর কোন চিহ্ন নাই। যুদ্ধক্ষেত্রে ধাড়িয়ে এক নিমেষে তিনি মারাঠ! পরিকল্পন। বুঝে যে প্রচণ্ড ব্যুহ রচনা! করলেন তার চিহ্ৃও বিরল। নিজের অর্ধেক সৈম্ককে যুদ্ধের অর্ধেক সময় পূর্ণবিশ্রামে রেখে শেষ মুহুর্থে ক্লান্ত মারাঠা সৈন্দের ওপর তাদের ছেড়ে দেওয়।র যে প্রচণ্ড যুদ্ধ গ্রাজ্ঞতা তাঁও নাটকের কোথাও বলা হয় নাই। পাণিপথের যুদ্ধের প্রধান কারণ নাজিবউদৌল্লার ধূর্ততা । পাণপথে আবদালীর জয়ের ফলে যিনি পরবন্তি নয়বছর (১৭৬১ থেকে ১৭৭০) দিল্লীর শুধু মীর বক্সী এবং ফৌজদার নয হর্তাকর্তা বিধাতা হয়ে বসেন। কোথায় সেই কপট কঠিন রোহিলা চাণক্য। পার্্চরিত্রে যা সৃষ্ট হয়েছে তার নাম হোসেন খাঁ বা বকরুল্লা দ্রিলেও কোন ক্ষতি ছিলনা এ চরিত্র এত অনৈতিহাসিক। শ্জাউদৌল্লা, অযোধ্যার নবাবের কোন উল্লেখ নাই_-অথচ তিনি সাহায্যে না এলে, আবদালী মারাগঠাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতেন কি না. সন্দেহ। উল্লেখ নাই আব্দালী সেনাপতিদের- জাহানখী!, শাহ পসন্স শাহ ওয়ালি খা বরখহুরদার, আমির বেগ, ডুণ্ডি বা হাফিজ রহমতের | খোড়া আহমদ খা বর্ধন যে শেষ পধ্যন্ত সসৈম্তে আব্দালীর পাশে দাড়িয়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই ধর্মযুদ্ধে স্বীয় ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তার কোন উল্লেখ নাই। কি চমতকার চরিত্র হতে পারতেন কাশীরাজ শিবরাও পণ্ডিত স্থজাউদৌল্লার পুরুষানুক্রম কর্মচারী । এই দক্ষিণী ব্রাহ্মণ আবদালী শিবিরে বসে মারাঠা পতন দেখেছেন ,আ'র কেঁদেছেন। মুলত তার বচন! থেকেই পাণিপথের এই যুদ্ধের বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়। তার আম্গগত্য মুসলমান গরুর প্রতি কখনও শ্লান হয় নাই অথচ মারাঠা বীরত্ব তার হৃদয়কে উদ্বেলিত করেছে ।৩৭ পাঁণিথথের, যুধেছ। সময়. যেমন তেমনি ১৭৫৭-র ঘটনাগুলিতে। প্রধান ১৪০ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা চরিত্র দত্তগী সিন্ধিয়ার কোন চিহ্ন নাই। রঘুনাথরাঁও বালাজী ভ্রাতা বা বিশ্য়ী মলহররাঁও বা তার পুত্র খাণ্ডেরাও কোথায়? কোথায় মেবারের মহারাণা ব| ভযপুরের রাজা? মারাঠার আকাশচুন্ব লোভ যাঁদের মারাঠা বিদেষী কবে উণপ। কোথায় সেই বিজয়ী বুদ্ধিমান চতুর অংবদালী, মোগল হারেমের মস্ত স্ন্দরীকে ঘান পারশ্তে নিষে গেলেন বয়সের কৌঁন বাছবিচার নাঁকরে% কোথায় খেহ বিশাত মুবলানীবেশম যার আহ্বানে আবদাশী ভারতে আভিবান পরলেন? মুবপানীবেগম এক অপুর চরিত্র । স্বয়ং আবদালী তাকে “পুত্র বলে মন্বোধন করতেন উপাধি দিয়েছিলেন “ুলভান শিরড] 1৩৮ কোথায় দিল্লীর একনাযক স্থবিখ্যাত নিভামবংশধর ইমাদ-উল-মুলুক যান একের পর এক বাধশাহকে হত্যা করে নৃতন বাদশাহ করেছেন! কোথায় মোগল দরবারে মারাঠা সাংবাদিক অন্তশ্ী মানকেশ্বর পরে যিনি কলম ছেড়ে অসি ধরে বিখ্যাত সৈম্তাধাক্ষ হলেন! কোথায় মোগল দরবাবে ম!র!ঠ। প্রতিনিধি বাঁপুঙী হিঙ্গান-পাণিপথে বিশ্ব'সরাও এর মৃত দেহ রঙ্গ! করা হযেছিল যাঁর জীবনের শেঘ সামরিক কর্তব্য !৩* ছোট চত্রিত্রের মধ্যে সিরাজউদোৌলার কর্মচারী যুগোল কিশোর গোকুলের সন্যাপীদের রক্ষা করার কিছু কৃতিত নিতে পারেন। নাটকে তিনিও নাই। ১৭৫৭ থেকে ১৭৬১ শ্রীষ্টাব্ের জানুয়ারী মাঁস পর্যন্ত চার বছরের ঘটন।! নাটকের প্রতিপাগ্। কিন্ত কি চবিত্র স্ষ্টির দিক থেকে, কি ঘটনার দিক থেকে, নাটকে ইতিহাসের মর্ধ্যাদা রক্ষিত হয় নাই, একথা বিনা দিধায় রলা চলে। উত্তরভারতে বালাজীরাওএর কিছুই করনীয় ছিল না। সদাশ্িবরাঁও এর অধীনে বিরাট মারাঠা বাহিনী পাঠান ছাড়া পাণিপথের যুদ্ধের আর কোন দায়িত্ব পেশোয়া, পালন করেননি । মিল্লাতের মধ্যে এক অদ্ভুত ধামিক দিল্লীর বাদশাহ সৃষ্টি করায় নাটকের কোন ক্ষতি বৃদ্ধি হয় নাই। ২৯শে নভেম্বর ১৭৫৯ থেকে ১০ই অক্টোবর ১৭৬০ গ্রীষ্ঠাব্ৰ পর্য্যন্ত দ্বিতীয় শাহজাহানের বাদশাহী । তিনি ধামিক ছিলেন না, মারাঠা বন্ধুও ছিলেন না। কারণ ' দিল্লীজয়ের পর সদ্রাশিবরাও ভাউ তাকে বিতাড়িত করে দ্বিতীয় আলমগীরের পুত্র আলি গৌহুরকে দ্বিতীয় শাহ আলম নামে দিল্লীর বাদশাহ বলে ঘোষণা -করেন। কাজেই মুহি-উল-মিল্লাতের যে চরিঞ নাট্যকার দেখিয়েছেন তা তৃতীয় পাণিপথের যুদ্ধ ১৪১ প্রক্ষিপ্ত। তেমন প্রান্মগ্ হজরত বেগম ও গন্গাবেগমের চরিত্র । নরিন্দর গিরি গোশ্ামী শার শাহফানা নামে ছুটি কাল্পনিক চরিত্রকে নাটকে এত প্রাধন্য দেবার করণ পাওয়া ষায়ন | জবাহির সিং নমে ক্রজমল 'শঠের এক ছেলে 1ছল। সেই সম্ভব “এবাহিব ডু নামেও প্রসিদ লাভ করে। তাঁর ভাত দেকে গলিষে গত, ইশদ উত্ঘুতুককে বব করেন । তাকে হঠাৎ নায়কের ভূ'একা দিখে চননাগক করবার কারণ (বাকা দায় না। গজ বেগমের গান চগষে তকে উদ্দ করার গল্পও পুরাপুবি কবি কল্পনা- ইতিহাসে হার “কান সমথন নাহ | হরর বেগম বা নসীবনের দিল্লী থেকে মথুরা যাওযা, ফেখ।ন থেকে পুণা চলে ধাওয়া এবং তারপর গিল্লীতে ফিরে চলে আসা অনৈতিহ!|সক তো বটেই কিন্তু হাস্তকরও। নাট্যকার ট্রেণ ভ্রমণের যুগে বাস করে ১৮ শতাব্দীর যানবাহনের কথা সম্পূর্ণ ভূলে বসে আছেন। সন্গাপীদের ভূমিকাতেও স্পই আনন্দমমঠের ছাপ পডেছে। রাঁগছনৈতিক, সামাছিক বা এতিহাসিক কোন দিক দিয়েই এই নাটকের রচনা ১৭৫৯ থেকে ১৭৬১-র কালকে প্রকাশ করতে পারে নি। নাটকের চবিত্র 1চত্রনে বারখার বিংশ শতান্দীর সামাহিক ও রাজনৈতিক জীবন ফুটে উঠেছে । অথচ নাট্যকার স্পষ্ট ভাবে বলেছেন যে তৃতীঘ পাণিপথের যুদ্ধ ও মারাঠা বিক্রমের ধ্বংস দেখান ছাড়া ন/টক রচনার অন্ত কোন উদ্দেশ্য ছিল না এবং নাট্যকারের এ কণা ঘে পরিপূর্ণ ভাবে সত্য তা সন্দেহ করার কোন অবকাশ নাই। তাহলে কেন এই ভ্রম? ব্যক্তিগত সামাদ্ডিক চিন্তা ভাবনা থেকে বার্ধাপী মুক্ু নয । আগও নয় ১৯৫১ শ্রীষ্টাব্দেও নয়। সুতরাং নিজের অজীন্তে যে সব ভাবনা মনের মধ্যে বাস! বেধেছে তার প্রকাশ সম্ভব। এক্ষেত্রে সেই রকম ঘটন1 ঘটেছে বলে সন্দেহ করা! ঘাঁচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শ্ত্র নরিন্দর গিরির পেশোয়া বালাজী বাজীরাঁওকে “পণ্ডিত? বলে সম্বোধন কর।। একাধিকবার এই সম্বোধন নাটকে আছে। দ্বিতীয় হ্ত্র অনৈতিহাসিক চরিত্র দুটি, যুদ্ধমান হিন্দু সন্গ্যাসীও হিন্ুদ্েষী মুসলমান ফকির | তৃতীয় স্থত্র বাদশাজার্ী নসীবনের সঙ্গে পেশোয়! পুত্র বিশ্বীসরাও এর প্রেম। এই মিলন সংবটিত হলে দেশের চরম মঙ্গল সাধিত হবে এবং হিন্দুপৎ পাদশাহী প্রতিঠিত হবে বলা হয়েছে । নায়ক ও ১৪২ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা নায়িকার বিভিন্ন ভাবে মৃত্যুতে এই পরিকল্পনার ব্যর্থতা বিঘোষিত হচ্ছে ॥ চতুর্থ সুত্র জাঠচাষী ভবাহির ও হিন্দু নামধারী মুসলমানের জ্্রী কবি রষ্রাবাজ বা গন্নাবেগম । এই স্বরগুলির কোনটির সঙ্গেই ইতিহাসের সম্পর্ক নাই বলেই এইগুলি নাট্যকারের উদ্দেশ্য বোঝার স্থাত্র হয়েছে । খ্যাতনামা উপন্তাসিক ও সাহিত্যিক ১৯৫১ শ্রীঙ্গাবষে কলকাতায় বসে ষে পাঁণিপথের যুদ্ধকে নাটকে রূপাষিত করেছেন তার তারিখ ১৫ই আগষ্ট ১৯৪৭, ১৪ই জানুয়ারী ১৭৬১ খ্রীষ্টাব্ৰ নয়। ভারত বিভাগে নাট্যকার মনের মগ্যে যে দ্বারুণ ব্যথা তন্ুভব করেছেন নাটকে হয়েছে তারই প্রকাশ। বালাজীরাও তাই পণ্ডিত জহরলাল নেহেরুর প্রতিভূ হয়েছেন। বালাগ্গীকে অনৈতিহাসিক পণ্ডিত সম্বোধনে ডেকে নিজের অজান্তে নাট্যকার আমাদের মবহিত করেছেন। জনহরলাল নেহেরু প্রধান মন্ত্রী হযে হিন্দু ধর্মের ধ্বজ! বহন করতে অন্বীকার করলেন। নরিন্দর গিরিকে যেমন বালাজী ফিরিয়ে দিলেন, বললেন, আমি ব্রাঙ্গণ আম রাষ্ট্রনীতি পরিচালক |..." স্নেহ মমত। এ সবের তৃষ্ণা আমার নাই | (১২৬-১২৭ পাতা) বালাজীও ধর্মকে রাষ্ট্রনীতির উদ্ধে স্থান দিতে চানন1 এমনকি মন্ুষ্তপর্মকেও নয়। নরিন্দর গোস্বামীর মুখ দিয়ে নাট্যকার বাঁলয়েছেন, “বিশ্বগ্রাী কামনা, অ।কাশস্পশী দন্ত নিয়ে দৃষ্টির সন্ুথে দ্রীচিকা রচন। করে তুলেছ তুমি। মাথার উপরে তোমার নেমে আসছে উদ্যত বজ তোমার ভ্রক্ষেপ নাই | পাধের তলায় মাটির মানুষে বুকে জড়িয়ে ধরে তোমাকে রঙ্গ করতে চাইলে, কাদলে, তুমি শুনলে না। এ ইতিহাস ১৯৪৭এর ভারত বিভাগের সময়কার ইতিহাস, পাণিপথের যুদ্ধের ইতিহাস নয়। জনসাধারণের ভারত বিভাগ না করার আকুতিকে উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাচারী নেতৃবৃন্দের কই প্রতিফলিত হচ্ছে। শত শত হিন্ুর দুঃখ দুর্দশা উপেক্ষা করে এই রাজনৈতিক কর্মকেই নাট্যকার সমালোচন! করেছেন। ধর্মকে কোন স্থান দেওয়। হল না এই ধর্মানরপেক্ষ দেশে। মরী চিকা হট সেখানে অটুট থাকল। হিন্দু সন্াদী ও হিন্দু্েষী মুসলমান ফকিরের মধ্যে দিয়ে ভরত ও পাকিস্থানের ধর্মীয় নেতাদের চরিত্র বণত হয়েছে। শ্বভাবতই মুসলমান ফকির স্বার্থপর ও হিংশ্ররূপে আঙ্কত। স্পষ্ট না হলেও সম্ভবত এই হাঙ্গত পাওয়। যায় যে হিন্দু সন্ধ্যাসীর কথা! গুনে. তৃতীয় পাঁণিপথের যুদ্ধ ১৪৩ জনসাধারণকে ধর্মের ডাকে উদ্দ্ধ করলে পাণিপখে পরাজয় ঘটত না অর্থাৎ ভারত বিভাগ হত না । আমাদের যুগের অন্ঠতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকের রচনায় দে তার যুগের চিন্তা! প্রতিবিষ্িত হচ্ছে সেবিষষ কোন সন্দেহ নাই। জাতীয় নেতৃবৃন্দের ক্ষমতা লাভের ভন্ত এই আপোষ ভারতবাসশ সহজ্ঞ মনে কখনও গ্রহণ করতে পারেনি । জাতির অন্ঠতম সাহিত্যিকের রচনায় তার প্রতিফলন তাই একান্ত স্বাভাবিক । তৃতীয় সত্রটিও চমৎকার । বাদশাজাদী নসীবন ও পেশোয়। পুত্র বিশ্বাসরাও এর মধ্যে প্রেমের আভাষে উচ্চ পর্যায়ে হিন্দু. মুসলমানের মধ্যে মিলন সংকল্প ঘোষিত হচ্ছে। গান্ধী জিন্নাঃ নেহেরু লিয়াকত আলি, এমন কি প্যাটেল আজাদ প্রভৃতির মিলনের চেষ্টা বার বার নান। কারণে ব্যর্থ হয়ে গেছে। নাট্যকার সত্যই পাদশাহীর যে গৌরবময় স্বপ্ন দেখেছেন তা হিন্দুমুসলমান দলপতি ও নেতৃবৃন্দের চেষ্টায় সফল হতে পারত । কিন্তু হুঃখের বিষয় যে নানা পারিপাশ্থিক কারণে তা সংঘটিত হল না । এমন কি গান্ধীজী শেষ পধ্যন্ত এই ব্র্থতার জন্তই আততায়ীর হাতে নিহত হলেন। কিন্ত উচ্চ পর্যায়ে মিলন সম্ভব না হলেও নিম্পপর্ধযায়ে তা সম্ভব হল। তাই আসছে চতুর্থ স্ত্র-_ জবাহির ও গন্নাবেগষের প্রেম । নাট্যকার স্পটই বলেছেন যে কবি গায়ক চারণদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমান মিলনের সেতু গা সম্ভব হয়েছে । হয়ত সে সেতু খুব ছোট ব! হালক বা সামান্য কিন্ত কবি সাহিত্যিকর! মিলনের প্রথম . রাখী বেধে যোগাযোগের হ্ত্র রচনা করেছেন । নাট্যকার স্বভাবতই কবি গন্নাবেগমের সঙ্গে নিজেকে একিভূত করেছেন তাই গন্নাবেগম হয়েছেন না্্যকারের প্রতিভূ। তারই মাধ্যমে নাট্যকার নিজের বক্তব্য জনসাধারণকে শুনিয়েছেন। নিজের প্রতিহাসিক চরিত্র ছাড়িয়ে চলে গেছেন তাই গন্সা- বেগম--পোষাক পাল্টে হয়েছেন রষ্টাবাঈ, অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে জনসাধারণকে গান গেয়ে উদ্ব্ধ করাই যার জীবনের একমাত্র লক্ষ । গন্না- বেগমের শেষরূপ বিংশ শতাব্দীর চারণ কবি বা! স্বদেশ প্রেমিক সাহিত্যিকের সঙ্গে মিশে গেছে। এইথানে নাট্যকার একটু অস্থবিধায় পড়েছেন। একদিকে নাটকের বাধাধরা পরিপি, চরিত্র আর চিত্রণের গণ্ডী অন্যদিকে ইতিহাসের শাসর্ন এই ১০ ১৪৪ বাংল! এঁতিহাসিক নাটক সমালোচনা দুই এর মাঝে পড়ে নাট্যকার না পেরেছেন কল্পনার ডানা মেলতে, না পেরেছেন এঁতিহাঙ্গিক ঘটনা ও তারিখের পেছনে মাথা হুইয়ে চলতে | বিরাট এক ময়ুর তৈরীর পঞ্জিকল্পনায় স্ষ্টি হল উটপাখী। জানোয়ারও নয় পাখীও নয় কিন্ত ছুইই | নাম উট, চরিত্র পরিচয় পাথী। “যুগবিপ্রব এমনই এক স্থষ্টি। নাটক হিসাবে সাধারণ, এ্রতিহাঁসিক নাটক হিসাবে অনুলেখ্য, কিন্তু সমসাময়িক কালের অর্থাৎ স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবত্তিধুগের ভারতবর্ষের প্রতীক চিত্র হিসাবে সুন্দর এবং তৎকালীন লেখক সাহিত্যিকের মনোভাবের প্রকাশ হিসেবে অনন্ত । এই কারণেই নাটকের পরবতি ঘটন! নিয়ে কষ্ট হয়েছে উপন্যাস গন্নাবেগম | মাধ্যাকর্ষণের ভয় নাই পাখী নিভয়ে ডান! €মেলেছে। এতিহাসিক নাটক হিসাবে যুগবিপ্রব হারিয়ে বাবে কালের তরঙ্গে | কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তি যুগের সামাজিক ইতিহাসের প্রাতিফলন নিয়ে যারা গবেষণ। করবেন তাদের কাছে এ নাটক অমূল্য । এই নাটক থেকে জান। যাবে বাংলার এক খ্যাতনামা সাহত্যিক ও চিন্তাবিদ ভারত বিভাগে যে ব্যাথা অনুভব করেছিলেন তা তার এ্রতিহাসিক নাটক রচনার সমস্ত প্রয়াসকে বিফল করে দিয়ে কি ভাবে প্রকাঁশ হয়ে পড়েছে । এই নাটকের মাধ্যমে তিনি যেন মাতৃ অঙ্গচ্ছেদের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন। মারাঠা রক্তে মাততর্পণ করেছেন । উপসংহারে তাই স্বচ্ছন্দে বল যায় যে তারাঁশঙ্করের চিন্তাধারায় স্বাদেশি- কতার প্রকাশ যুগবিপ্রব নাটককে মূল্য দিয়েছে । ১৯৫১র এতিহাসিক কাল ও তার সমসাময়িক শিল্পী সাহিত্যিকদের মনোভাব এই নাটকে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। মুখ্যত পাণিপথের যুদ্ধের নাটক লেখা হয়েছে বলেই এমন খাটি চিত্রটি উঠে এসেছে । ভারত বিভাগ এক বাঙালী সাহিত্যিকের মনে যে ব্যথার কি তরঙ্গ তুলেছিল, যুগবিপ্রব নাটক তার চিরকালের সাক্ষী হয়ে থাকল। নাটক শেষ হয়েছে জনগণমন অধিনায়ক গানের কয়টি ছত্রে-_ “দ্াক্ষণ বিপ্লব মাঝেঃ তব শঙ্খধবনী বাজে, সংকট-ছুঃথ ভ্রাতা, হে ভারত ভাগ্য বিধাতা 1! এটাও ১৯৫১ ত্রীষ্টাবের প্রার্থন। | ১ | | ৮ ১৪। ১৫ | ১৬। ১৭ | ১৮ ১৯। ২১ | ২২। ২৩. সূত্রনির্দেশ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, যুগবিপ্রব, ভূমিকা, ও এই বইএর পরিশিষ্টে “সাক্ষাৎকার, দ্র্টব্য। সাক্ষাৎকার, তারাশঙ্কর, পরিশিষ্ট । ০৪৫4180। 581191, 7811 01 016 1031191 6711016 ৬০1] 1, 0. 289-290 1101, 0. 290-291 1010, 0. 42-100 1010, 0. 220-226 11010, 0. 26-271 1010, 0. 3092 1010, ৬০ ||, 0. ৪-26 1010, ৬০| ||, 00. 9-11 11010, ৬০1 ||, 0. 209-22 11010, ৬০ ||, 00. 20-31 11010, ৬/০| ||, 0. 1109-113 810 0. 9. 58109581, 136৬/ 1115001% 0 06 1918095, ৬০1 |, 0. 257 ১৪০118101 5891191, 010, ০1. ৬০1 11, 0. 159 11010, ৬০1 ||, 0. 193-198 5. 5. 9891085981, 00. 01. ৬০11, 0. 193 ৪1811) 5811681. 000. 011. ৬০।, 1 0. 265 5.9. 98109581, 000. 011. ৬০1 11, 0. 393 ২80017801) 9811081. 00. 01. ৬০। 11, 0. 199 1010, ৬০1 ||, 0.116-122 11010, ৬০| 11, 0. 193 1010, ৬০। 1, 0. 87 1010, ৬০11, 0. 226, 269-277 ১৪৩৬ ২৪ | ২৫ | ২৬। ২৭ | ২৮ | খন ৩০ । ৩১ । ৩২। ৩৩ । ৩৪। ৩৫। ৩৬ । ৭ | ৩৮ । ৩৯ | বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন! ৪0017811) 5211691, 00. 01. ৬০। ||, 0. 133 1010, ৬০1 |, 0. 73-109 0. 5. 981095981,010. 011. ৬০1 |, 0. 257 তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়,যুগবিপ্রব, পাতা ১৪ 08010018111 581191, 00. 01, ৬০111, 0. 1098-109. 1010, ৬০ |, 0. 187-189 1010, ৬০111, 0. 7-11 8170 147 1010, ৬০।| 11, 0. 475 |010.৬/০1 11, 0. 127-139 91001700178100114, 3900110৬/0101, /08170680 1115001 0011019. 996 ; 006.017811 01 016 ৬1101191 61101091015 117 0116:/10109101১. 800190"5811591,- 010. 010 ৬০। 11, 0. 30 1010, ৬০1 11,50.261-267 1010, ৬০। 1, 0. 359 1010, ৬০1 ||, 0. 333-372 1010, ৬০1 11, 0. 09 1010, ৬০। 11, 0. 373-424 সীতারাম বাদশাহ উরঙ্গজীব সপ্তদশ ও অষ্টাশ শতাব্দীর বাংলাকে বলতেন তার সামাঞ্যের ননানকানন। তার কারণ তখন এদেশে কোন কিছুর অভাব ছিল না। রাজন্ব অ'দায়ের দিক থেকেও বাংলার প্রচুর সম্পদ মোগল রাজভাগ্ার পূর্ণ রাখত। দেশের আতভ্যন্তরিণ শান্তি ব্যবসা বানিজ্যের সহায়ক ছিল। বাংলা সুবা তাই অষ্টাদশ শতাব্দীতে সাআজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ট সুবা বলে গণ্য হত। বাদশাহ 'ইউরঙ্গজীব ১৭০৭ শ্বীষ্টাকে পরলোক গমন করেন। মৃত্যুর অব্যবহিত কয়েক বছর আগে তিনি দেওয়ান করতলব খাকে দাক্ষিণাত্যে ডেকে পাঠিয়ে মুশি্দকুলি খ। উপাধি এবং সেই সঙ্গে খেলাত, পতাকা ও কাড়ানীকাড়া উপটৌকন দিলেন। বাদশাহের অনুমতি নিয়ে করতলবর্থা নিজের উপাঁধি অগ্ভসাঁরে মকল্গদাবাদের নামকরণ করলেন মুশিদাবাদ এবং ১৭০৪ খীষ্টাবে বাংলা শুবার রাজধানী ঢাকা থেকে সেখানেই স্কানান্তরিত হল। এক সরকারি টাঁকশাল স্তাপিত হল। মুশিদকুলি খ। হলেন বাংল|'ও উড়িস্তার দেওয়ান এবং সুশিদীবাদের ফৌজদার।৯ ঢাকা থেকে আসার সময তাঁর সঙ্গে এলেন ভাঁর অস্ত্ররঙ্গ বন্ধু ব্যবসায়ী শেঠ মানিকচাদ | বাচস্থানের নাগর শহরের অধিবাসী হীরানন্দ শাহ ১৬৫২ শ্রীষ্টাবে বাবসা শ্বত্রে আসেন পাটনায়। তারই উত্তরপুরুষ শেঠ মানিকটাদ। ইনিই জগৎশেঠ বংশের প্রতিষ্ঠাতা । মানিকাদ নবাব নিবাসের ছুই মাইল দূরে মহিমাপুরে বাসস্থান স্থাপন করলেন ।২ বাদশাহ ওরঙ্গ জীবের মৃত্যুর পর তার পুত্রগণ জজৌ এর রণক্ষেত্রে শক্তি পরীক্ষা করলেন । অন্ত ভাইদের যুদ্ধে নিহত করে মুয়াজ্জিম “প্রথম বাহাছুর শাহ নামে সিংহাসনে আরোহন করলেন। (জাহান্দার শাহ প্রবন্ধ ভ্রষ্টব্য ) মুশিদকুলি খাকে বাংল! স্থুবা থেকে সরিয়ে দেওয়া হল ১৮ই অক্টোবর ১৭০৭ শ্ীটাবে। দিয়। আল্লা খ! হলেন বাংলার দেওয়ান এবং মুশিনাবাদের ফৌজদার এবং সামসির খা হলেন বিচারের দেওয়ান । কয়েকমাস পরে সরবুলদ্দ খা বদ্ধমান ও আকবর নগরের (রাজমহল ) ফৌজদার নিযুক্ত হলেন । বাংলা বিছাত্ব উড়িম্থা বাহাছুরশাছের দ্বিতীয় ও প্রিয়তম পুজ বাদশাভাফা মছত্মদ ১৪৮ বাংলা প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা! আজম আজিম-উস-সাঁনের স্থবাদারীর অন্তভূক্ত করা হল। মুশিদকুলি খার পদোন্নতি হল তিনি ১৭০৮ খ্রী্টাব্ষের ২৬শে জাহ্ুয়ারী দাক্ষিণাত্যের দেওয়ান নিষুক্ত হলেন। কিন্ত বাংলা শাসন করা বড সহজ ব্যাপার হল না। স্থবাদারের সর্দে মনোমালিন্য হওয়ায় সরবুলন্দ খ। দিল্লী ফিরে গেলেন। মুখিদাবাদের একাশ্য পথে ১৭১০ খ্রীষ্টাব্ধে জানুয়ারী মাসে দিয়৷ আল্লা খা নিহত হলেন। কাজেই সেই বছরই মুশিদকুলি খাকে বাংলায় ফিরিয়ে আনা হল। ১৭১০ থেকে আমৃত্যু ১৭২৭ শ্রীগ্াব্দ পর্যন্ত (৩০শে জুন ) একটানা সতের বছর মুশিদকুলি খাঁ বাংলা স্বায় নবাবী করেন এবং দিল্লীর নিত্য বাদশাহ বদলের স্থযোগে স্বাধীন ভাবেই বাংলা শাসন করেছেন । জাহান্দার শাহের সঙ্গে যুদ্ধে আজিম-উস-সানের মৃত্যুর পর মুশিদকুলি খা বাংল! বিহার উড়িষ্তার স্ববাদার নিযুক্ত হন । মুশিদকুলি খ। একাধারে বাদশাহের বিশ্বস্ত কর্মচারী এবং বিচক্ষণশাসক ছিলেন । দিল্লীতে বাংলার নিয়মিত রাজস্ব ছিল এক পরম আশ্বাসের বস্ত। মুশিদকুলি খা বাঁংল। দেশের শাসন ব্যবস্থায় বহুল পরিবর্তন করেন যার ফলে বাদশাহী রাজন্ব এক কোটি তিন লক্ষ টাক থেকে বৃদ্ধি হয়ে হল বাধিক ১১৪০১৭২৯৭২৫ সিকা টাকা । ১৭২২ ্ীষ্টাব্দে নূতন বায়তওয়ারী বন্দোবস্ত প্রচলিত হয়ে নূতন এক শ্রেণীর জমিদার বা জামিনদার সৃষ্টি করল। সরকারী রাজস্ব আদায়ের ভার থাকল এই জাঁমিনদারদের ওপর । এই ভাবে খরচ না বাড়িয়ে রাজন্ব আদায়ের স্ববন্দোবস্ডের প্রচলন করলেন মুশিদকুলি খা ।৩ মুর্শিদকুলি খাঁ একদিকে যেমন সুপরিকল্পিত রাজন্ব আদায়ের ব্যবস্থা করলেন অন্যদিকে তেমনি দেশের মধ্যে স্থশাসন প্রবর্তন করলেন। অপরাধী- দের এমন ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা হল যে দেশের লোক শান্তির ভয়ে অপরাধ থেকে বিরত হুল। ছোট বড় কারু নিষ্কৃতি ছিল না । জামিনদারদের জন্ত ্থষ্টি হল বৈকুঠঠ, চোরেব শান্তি হল হস্তকর্তন এবং নারী নিগ্রহের শান্তি মৃত্যু কথিত আছে যে এক হিন্দু নারীর উপর অত্যাচার করার জন্ মুর্শিদকুলি খা নিজের একমাত্র পুত্রকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পিতৃন্সেহ তাঁকে কর্তব্যচ্যুত করতে পারেনি। কিন্তু কর্তব্য তাকে পুত্রহীন করেছে । ম্বভাঁবতই সবাই তাকে 'জেন্দাপীর” আখ্যা দিয়েছিল এবং তার সময় সুশৃঙ্খল শাসন ব্যবস্থায় দেশের উন্নতি হয়েছে । দেশে শান্তি থাকার জন্ত প্রচুর অর্থ ব্যবসায় লঙ্মি হয়েছে) সীতারাম ১৪৯ জনসাধারণ নির্ভয়ে একস্থান থেকে অন্ত স্থানে যাতায়াত করতে পারতেন এমনকি রাত্রে অগল বন্ধ না করে নিশ্চিন্ত হয়ে নিদ্রা যেতে পারতেন 18 মুশিদকুলি খার রাজত্বকালেই রাচা সীতারামের বিচরন। বস্কিমচন্দের সীতারাম উপন্যাসের এতিহাসিক ভূমিকায় আচার্য যনাথ সরকার সীতারাম রায়ের সেই সময়ের কীীত্তকলাপ নির্দেশ করেছেন । দেখা যায যে মুখিদকুলি খা ও সীতারাম রাষ সমসময়িক ব্যক্তি । এদের উভয়ের জীবন নানাস্থত্রে পরস্পরের সঙ্গে বাধা । উভয়ের উত্থান পতনে যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ । প্রথমে তাই আচার্য যছুনাথ অনুসরণে ইতিহাসের সীতারামের জীবনী আলোচন! করা যাক। সীতারাম রায় ১৬৫৮-৬০ এর মধ্যবতী কোন সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। ১৬৬১ খ্রীষ্টাব্দে তার জন্ম অসম্ভব নাও হতে পারে। জন্মস্থান সম্ভবত ঢাকা কারণ সীতারামের পিতা উদয়নারায়ণ রায় যখন মধুমতী নদীর অপরপারে হরিহরনগরে নিজের বাসস্থান নির্মাণ করেন তখন সীতারামের বয়স ১০-১২ বতসর। সেটা ছিল ১৬৭০ খ্রীষ্টাব্ব। উদগ্ননারায়ণ ভূষনার মুসলমান ফৌজদারের অর্থাৎ একাধারে জেল! শাসক ও স্থানীয় সৈন্াধ্যচ্ষের সঙগোয়াল” অর্থাৎ প্রধান তহশিলদার ও কার্যাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। এই সময় তিনি মহম্মদপুরের পাশ্ববর্তী শ্যামনগরে একটি জোত বন্দোবস্ত করে নেন। সীতারামের পিতৃবংশ মুসলমান শাসকগণের দীর্ঘদিনের বেতনভোগী । উদয়নারায়ণের পিতামহ শ্রীরামদাস বাংলার স্কুবাদার রাজা মানসিংহের অধীনে রাজন্ব পেরেস্তায় চাকরি করে থাস-বিশ্বাস উপাধি লাভ করেন ।৫ সীতরাম যুবাকাল থেকেই অশ্বীরোহণে এবং অন্ত্রচালনায় দক্ষ । রাজস্ব বিভাগের কায়স্থ আমলার উপবোগী ফারসী ভাষা এবং বৈব্বের প্রিয় সংস্কৃত ভাষাও তিনি অভ্যাস করেন। পিতৃপিতামহের মতোই সীতারাম প্রথমত নবাবের অধীনে রাজন্ধ আদায়ের ও হিসাবনিকাশের কাজে নিষুক্ত হন। এই কর্মের সময় মফঃম্বলে দলবদ্ধ ডাঁকাত ও বিদ্রোহী পাঠান জমিদারদের দমন করে পুরস্কার স্বরূপ বিশাল নলদী পরগণ! বাংলার স্ুবাদারের কাছ থেকে নিজ নামে বন্দোবস্ত করে নেন। আচার্য যছুনাথ লিখেছেন-_. “আমলার পুত্র এইরূপ তালুকদার হইলেন, ক্রমে জমিদার হইবেন, রাজা হইবেন, অবশেষে বিদ্রোহী সামন্ত হইবেন, তাহার আয়াজন আরম্ভ হইল ।”৬ উত্তর-রাঢ়ীয় কায়স্থ সীতারাঘ নলর্দী পরগণা পেয়ে অর্থ ও লোকবলে ১৫৯ বাংলা এতিহাদসিক নাটক সমালোচনা বলীয়ান হয়ে উঠলেন । নবাব সরকার থেকে আরে! অনেক তালুক বন্দোবন্ত করে নিয়ে নিছের শক্তিবৃদ্ধি করলেন ! খাজনা আদায় ও বিদ্রোহ দমনের নাম করে বহু ছোট ছোট জমিদারদের পদানত অথবা তাদের জমিদারী লুঠ করতে লাগলেন। ফলে তার ক্ষমতা ক্রমেই বাড়তে লাগল । তৎকালীন বাংলার স্থবাদার গ্রস্থকীট শান্তিপ্রিয় বৃদ্ধ নবাব ইব্রাহীম খ। অরাজক অঞ্চলে শান্তি স্থাপিত হয়েছে খবর পেয়ে আর কিছু খাজন। পেয়ে সন্ত থাকতেন । এবই মাঝে (১৬৮৯ থেকে ১৬৯৭ খ্রীগ্টান্জের মধ্যে কোন সময় ) সীতারাম স্ববাদাব্রকে সন্ত করে এবং তার হ্পাৰিশে দিল্লীর বাদশাহের কাছ থেকে “রাজা” উপাধি ও জমিদারী ফার্মান লাভ করেছেন। বাদশাহ 'ইউরঙ্গজীব তখন দাক্ষিণাত্যে--সীতারাম স্বয়ং দিল্লী গিয়ে সেখানে রাজমন্ত্রীদ্দের উৎ্কোচে বশীভূত করে উপাধি ও ফারমান লাভ করেন। এবার এই নূতন পদমর্ধ্যদার উপধুক্ত রাঁদধানী স্থাপনের প্রয়োজন। তার পৈতৃক পুরাতন কাছারী স্যাকুণ্ড গ্রাম এবং পেতৃক বাসস্থান হরিহরনগর এই দুইটির মাঝে বাগজানি গ্রামে নৃতন সহর গড়ে উঠল নাম হল মহম্মদপুর | নান!রকমের লোক এল তাঁর পতাকাতিলে। প্রথম দুইজন বড় বন্ধু, “ঘুরাম (মতান্তরে রামরূপ) ঘোষ, দক্ষিণ রাটীয় কায়স্থ, বীর পালোঁয়ান। সম্ভবত বিশাল চেহারার জন্ত মেনাহাতি নামে পরিচিত হলেন। দ্বিতীয় ভন মুনিরাম রাঁয় বঙ্গ কায়স্থ উকিল ও মন্ত্রণাদাতা ছিলেন । এই ছুইজনেহ যথাক্রমে সীতারাম রায়ের সেনাপতি ও মন্ত্রী ছিলেন বলা চলতে পারে । তাছাড়া রাজন্ব বিভাগের দেখা-শোন] করার জন্য ছিলেন দেওয়ান যছুনাথ গান্কুলী উপাধি মজুমদার । সেনা বিভাগের কর্তা হলেন ভূতপূর্ব ডাকাত সর্দার বখতীওর খাঁঃ তার অধীনে ছিলেন আমল বেগ মুঘল» রূপঠাদ ঢালী, ফকরে মাছকাট1 অর্থাৎ নমঃশুদ্র নিকারী। এছাড়া মোচড়া সিংহ, গাবুরভলন প্রভৃতি নামও পাওয়া যায় ।৮ ১৬৯০ শ্্রী্টাব্ব পর্য্যন্ত রাজ। সীতারাম রায় যে পরম নিবিদ্ধে রাজ্য শাসন করেছেন সে বিষয়ে সন্দেছ নাই। পূর্ণ যৌবনে এই নিশ্চিন্ততাই সীতারামকে বিলাসের মোহপন্কে নিমজ্জিত করে। (এই সময় সীতারাম্বের বয়স ২৯ থেকে ৩২ বৎসরের মধ্যে |) ১৬৯১ থেফে ১৭০২ খ্রী্াব পর্য্যন্ত বাংলায় প্রচণ্ড অবাজকভ। বিরাজ করে। শোসতা সিং ও রহিম খাঁর বিজ্রোহ জাগ্রত সীতারাম ১৫১ বিভীষিকার মতো! বাংলাকে পক্ষু করে দিয়েছিল। অবশেষে মহম্মদ হাদি, স্থবাদার শাহজাদা মহম্মদ আজম, আজিম-উস-সানের দেওয়ান নিবুক্ত হলেন ১৭০০ খ্রীষ্টাবে | মহম্মদ হাদির উপাধি হল করতলব খা ( পরে মুশিদকুলিখখ )। অপূর্ব দৃঢ়তাষ বিদ্রোহ দমন হল | রহিম খাঁ! যুদ্ধে নিহত হলেন, অপঘাতে মৃত্যু হল শোভা সিং এর । শোভাসিং এর দলের নেতৃত্ব এল মহাসিং-এর ওপর । ১৭০২ শ্রীষ্টান্বের শেষ হবার আগেই বাংলার বুক থেকে বিদ্রোহীর ছুঃক্বপর মুছে গেল।৯ বাংলাদেশের অরাজকতার সময় সীতারাম রায়ের রাজত্বে স্বশাসন ছিল মনে হয় কারণ বিদ্রোহীরা অর্থের লোভেও রাজা সীতারামের এলাকায় ঢোকেনি। এই রাজ্যের পরিধি তখন বেশ বৃহৎ। উত্তর-সীম! পাবনা, দক্ষিণ-সীমা ভৈরব নদ, পূর্বে মধুমতীর ওপারে তিলিহাটি পরগণা ও পশ্চিমে মামুদশাহী পরগণ! পর্যন্ত । সবল রাজ্য না হলে শোভাসিংএর হাত থেকে বাচা মুস্কিল কারণ ঢাকা, মকস্তুদাবাদ ও রাজমহল সর্বত্র শোভামিংএর পদচিহ্ন পড়েছে । এই সময়ের তিনটি মন্দির ফলক বা ফলকের লিপির নকল পাওয়া গেছে তাবিথ ১৬৯৯ ১৭০৩ ও ১৭০৪ খ্রীষ্টাব্দ । সবগুলিতেই বাজা সীতা- বামের নাম লেখা । অনুমান কর! অন্যায় হবেনা যে মোগলবাংলাব অবা- জকতা সীতারামের রাজ্য স্পর্শ করে নাই । এই রাষ্্রবিপ্রবের সময় পীতারাঁষ অবাধে রাজ্যবিস্তার করে নিষ্ণণ্টক রাজ্যস্থুথ ভোগ করেন। শাস্তির আশায় তার রাঁজত্বে দলে দলে লোক বসবাস করতে এল | স্থতরাং ১৭০৪ গ্রীষ্টা পর্যযন্গ সীতবরামের জীবন (বয়স তখন ৪৩ থেকে ৪৬ বৎসরের মধ্যে ) স্থথে কেটেছে ধরে নেওয়া যেতে পারে। মোগল সাআ্াজ্যে অশান্তি ও অত্যা- চারের স্থযোগে সীতারামের উত্থান ও ক্ষমতালাভ অত্যন্ত সহজেই হতে পেরেছে । ১৭০৪ খ্রীষ্টাব্দের পর থেকে গোলমাল স্থুর হল। ১৭০৪ স্ত্ীগ্লান্দে রাজধানী স্থানান্তরিত হুল মকন্্দাবাদে নৃতন নামকরণ হল মুশিদাবাদ। স্থাপিত হল টশাকশাল তার দারোগা নিষুক্ত হলেন মুশিদ- কুলি খার বিশ্বস্ত অচুচর রামজীবন আমলা । ভূষণার কাছাকাছি মবাবের অবস্থিতি শ্বভাবতই সীতারামকে সাবধান করল । মাটির প্রাচীর দিয়ে ষহদ্মদপুরকে দুর্গে রূপান্তর এই সময় অথবা খোভাসিংএর আক্রমণের প্রস্ততি হিসাবেই হওয়া সম্ভব । মুপিমকুলি খ1 সীতারাম সম্পর্কে অবহিত হলেন এবং ১৫২ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন। তার ক্ষমতাবৃদ্ধিতে 'আশঙ্কিত হলেন। ইতিমধ্যে দাক্ষিণাত্যে বাদশাহ উরঙ্গ- ীবের মৃত্যু হল (১৭৭)। জজৌ রণক্ষেত্রে বিজয়ী হয়ে বাহাদুর শাহ হলেন বাদশাহ | মুশিদকুলি খা বদলি হলেন দাক্ষিণাত্যে। তিন-চার বছরে বাংলার অরাজকতা চরমে উঠল । ১৭১০ খ্রীষ্টাব্দে মৃরিদকুলি খ! আবার বাংলার দেওষান নযুক্ত হলেন ।১০ এই অরাভকতার মাঝেই সীতারাম রায় বিনাবাধায় রাজ্যবিস্তারের হ্বযোগ পেলেন । ১৬৯৯ থেকে ১৭১০ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যেই তার সমধিক শ্রীবৃদ্ধি হয়েছিল । এই উন্নতির ফলেই অনেক সঙ্গী সহায় এসে গেল । নানারকমের লোক নব প্রতিষ্ঠিত রাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করল। রাজা সীতারাষ রায়ের বিলাসিতা চরমে উঠল ।৯১ যতদিন বাহাছুর শাহ বাদশাহ ছিলেন মুশিদকুলি খা কর্তব্যকর্মের বেশী কিছু করলেন না। ১৭১২ খ্রীষ্টাব্দে বাহাছর শাহের মৃত্যু হলে তারচার জীবিতপুত্র সিংহাসনের জন্ক যুদ্ধে মেতে উঠল । অবশেষে বাহাদুর শাহের জ্যত্তপুত্র জাহান্দার শাহ জয়ী হয়ে বাদশাহ হলেন । ভূষণার ফৌজদার আবুতুরাৰ সীতারামের আদেশে নিহত হলেন ১৭১৩ খ্রীষ্টাব্দে । অতি নৃশংস এই হত্যা । জীবন্ত অবস্থায় তার দেহের চামড়া খুলে নেওয়া হয়েছিল। এই খবর পেয়ে মুশিদকুলি খাঁ সীতারামকে দমন করার অন্ত ব্যন্ত হয়ে উঠলেন। নিজ আত্মীয় বকখস আলি খাকে ভূষণার নূতন ফৌজদার করা হল। এই পদে অভিষিন্ হওয়া মাত্র তিনি সীতারাম দমনে সসৈন্তে উপস্থিত হলেন। পার্খবর্তী সব জমিদারদের সীতারামের বিরুদ্ধে এই অভিযানে সাহায্য করবার হুকুম জারি করা হল। হুকুমের বিশেষ প্রয়োজন ছিল না। চারপাশের জমিদারর। সীতারামের ভয়ে এতই ভীত হয়েছিন্রোন যে সানন্দে সীতারামেপ বিরুদ্ধে সাহায্য করতে আ'গিয়ে, এলেন। সীতারামের তখন দুবদৃষ্ট_-তিনি বিলাসে মগ্ন, সেনাপতি মেনাহাতি অতফিতভাবে ন্নানের সময় নিহত হলেন। অরক্ষিত হুর্গ, ছত্রভঙ্গ রাজধানী, প্রয ধিনাযুদ্ধে মহম্মঘপুরের পতন হল। সীতারামের পরিবারের অনেকেই পালিয়ে প্রাণ বাচালেন। সীতারামের এই পরাজয়ে প্রধান হোতা রামজীবন আমলা (নাটোর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা) বারেন্ত্র ব্রাহ্মণ সীতারামকে বন্দী করে তার কর্মচারী দয়ারাম রায়ের (দিঘাপতিয়! রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা! ) সীতারাম ১৫৩ হেফাজতে মুশিদাবাদে পাঠিয়ে দ্রিলেন। মুগিদাবাদ ও ভূষণার চৌরাস্তার মোড়ে সীতারামের নৃশংস প্রাণদণ্ডের বিবরণ সালিমুল্লার তারিখ-ই-_ বাংলাতে এবং পরে ইয়াটের ইতিহাসে লেখা হয়েছে ।৯২ সছামূত গরুর চামড়ায় মুভিযে সীতারামকে শুলে দেওয়া হয় তারপর সেই বীভৎস মৃতদেহ গাছে টাঙ্গিয়ে রাখ। হয়। কধষেকদিন পর কঙ্কালে রূপান্তরিত হলেন একদ পরাক্রান্ত রাজা সীতারাম।১৩ যছুনাথ লিখেছেন 'তাহ।র পরাজয়ের তারিখ ফেব্রুয়ারী ১৭১৪ এবং মৃত্যু ওই বছরের অক্টোবর মাস।” সীতারামের পরিবার হুগলিতে ধরা পড়েন ৫ মার্চ ১৭১৪ খ্রীষ্টাব্দে । ফৌজদার কয়েদ করেন সীতাব্রামের ছুইপুত্র (নাতিও হতে পাঁরে ) এক কন্তা (নাতনি হতে পারে) পরিবারুস্থ ছয়জন মহিল! এবং চারজন ভৃত্য । পরবর্তীকালে এদের আর কোন খবর পাওয়া যায় না।১৪ মৃত্যুকালে রাজা সীতারাম রায়ের বয়স ৫৩ থেকে ৫৬ বছরের মধ্যে । ছুইটি ঘটন! মুশিদকুলি খাকে সাহাধ্য করেছে । প্রথম দিল্লীর অরাজকতা এবং দ্বিতীয় ফারুকশিয়রের সিংহাসন লাভ। মুশিদকুলি খা ক্রমে মুশিদা- বাদকে কেন্দ্রকরে বাংলাস্থবায় সার্বতৌম ক্ষমতার অধিকারী হলেন। সীতারামের সম্পত্তি ভাগকরে নিলেন রামজীবন আমলা, দয়ারাম রায় প্রভৃতি । সুষ্ঠ হল নৃতন জমিদার__নাঁটো'র, দিঘাপতিয়, নলডাঙ্গ!» নড়াইল ইত্যাদি ।৯৫ সীতারামের সুশাসন বা বিলাসব্যসনের কোন চিহ্ৃই অবশিষ্ট থাকল না। অনেক সময় আবুতোর!বের নিহত হবাঁর ঘটনাকে হালকা করে দেখাবার প্রবণতা পাওয়া গেছে এবং সীতারামের নৃশংস হত্যা লঘু পাপে গুরুদণ্ডের নিদর্শন হিসাবে দেখান হয়েছে । এটা ঠিক নয়। সত্য সম্পূর্ণ বিপরীত । আবুতোরাবের মৃত্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কতটা গুরুত্বপূর্ণ অনুমান কর। যাবে যদি মনে রাখা যায় যে তৎকালীন বাংল! দেশ (বাংলা ও উড়িস্যা এবং বিহারের কিছু অংশ) তেরটি চাকলায় বিভক্ত ছিল। চাকলাগুলির নাম বন্দর বালাসোর, হিজলী, মুর্শিদাবাদ (বীরভূম ও বিষুপুরের অংশ শুদ্ধ এই চাকলার অন্তত ), বর্ধমান (বীরভূম ও বিষুপুরের অংশ এই চাঁকলার অন্তর্গত ), হুগলী বা সাত্গাও, ভূষণা, যশোর, আকবরনগর (রাজমহল 7, ঘোড়াঘাট, কুড়িবাড়ী (রংপুর ?), জাহাঙ্গীর নগর (টাকা ), শ্রীহট ও ইসলামাবাদ (টট্টগ্রাম) ॥ প্রত্যেক চাকলায় একজন ফৌজদার থাফিতেন। স্থুতরাং ফৌজদার পদ- ১৫৪ বাংলা এঁতিহাসিক নাটক সমালোচন। মর্যাদায় দেওয়ানের পরেই বলা চলে। ফৌজদারকে হত্যা করে সীতারাম বিদ্রোহী বলেই গণ্য হলেন তাই তার মৃত্যু অমন ভয়াবহ । মুর্শিদকুলি খা সীতারামের নৃশংস প্রাণদণ্ডের মধ্যে দিয়ে বেন দেশবাসীকে বাদশাহী কর্মচারী 'হত্যানুষ্ঠান আর শ্খেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে সাবধান করে দিলেন। সীতাঁরামের প্রাণদণ্ডের পর বাংলা স্ুবা শাসনে মুর্শিদকুলি খাঁর আর কোন অসুবিধা হয় নি। “দশে শান্তি ও শৃঙ্খল প্রতিঠিত হল, ব্যবসা! ও বাণিজ্যের প্রসার হল বাংলা স্থবা ক্রমে এক সার্বভৌম রাষ্ট্রের রূপ নিল। মুর্শিদকুলি খাকে স্থবাদার নিযুক্ত করার স্থপারিশ নিয়ে স্বয়ং শেঠ মানিকচাদ দিল্লী যাতায়াত করেন। তারই প্রতিদান স্বরূপ ১৭১৭ খ্রীষ্টাব্দে সরকারী টণাকশাল তুলে দিয়ে শেঠ মানিকটাদের বংশধর শেঠ ফতেচাদের ওপর দেওয়া! হল টাকা! ছাপাঁবার একচ্ছত্র অধিকার । ১৭১৪ গ্রীষ্টান্ে শেঠ মানিকচাদের মৃত্যু হলে তার ভ্রাতুপ্পুত্র ও পালিত পুত্র শেঠ ফতেচাদ পিতার আরন্ধ কাজ শেষ করেন | শেঠ ফতেটাদই দিল্লীর ব'দশাহের কাছ থেকে “জগৎ শেঠ” উপাধি পান ১৭২২ শ্রীষ্টাব্দে। তদবধি এই বংশের বড় ছেলেরা এই উপাধি গ্রহণ করতেন । এ বছরেই মুর্শিদকুপি খা রায়তওয়ারী বন্দোবস্ত চালু করে বাংলা দেশের জমি বন্দোবন্তের আমুল সংস্কার করেন। এই সময় থেকে প্রচলিত জমিদারী বা জামিনদারী ব্যবস্থা সুসংস্কত হয়েছে বল! চলতে পারে । আগে স্ব! বাংলায় ১৩৫০টি পরগণা ছিল, মুর্শিদকুলি খাঁ তাকে ১৬৬৯ পরগণায় বিভক্ত করেন। তার সময়ে চাকলার বিভাগ ও প্রতি চাকলার স্থনিদিই জমা ও বাষক হস্তবুদ জমা কামেল তুমারী নামে অভিহিত হয়। বাংলার জ্াষগীর সমেত মোট জমার পরিষাঁণ ছিল ১১৪২,৮৮১১৮৬ টাক।। নিঃসন্দেহে বলা চলে যে দক্ষতায় আর কোন শাসনকর্তা মুর্শিদকুলি খাঁর কাছাঁকাছিও আসতে পারেন না। সত্যি তিনি ছিলেন “জেন্দাপীর; ৰা মহাপুরুষ । তার মৃত্যুতে হিন্দুমুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই অনাথ হয়েছে ।৯৬ বঙ্কিমচন্দ্র তার “সীতারাম? উপন্তাসে এ্রতিহাসিক সীতারাম সম্পর্কে সব 'আলে!চনা এক কথাতেই শেষ করেন। বিজ্ঞাপনে তিনি লিখেছেন “সীতারাম ্রতিহাসিক ব্যক্তি । এই গ্রন্থে সীতারামের এতিহাসিকতা কিছুই রঙ্গ করা যায় নাই। গ্রন্থের উদ্দেশ্ত বরতিহাসিকতা নছে। ধাহার।. সীতারাঁমের প্রকৃত ইতিহাস জানিতে ইচ্ছা করেন তাঁহারা /95019/)0 সাহেব কৃত সীতাব্বাম ১৫৫. যশোহরের বন্তাত্ত এবং 519/৪1 সাহেব কৃত বাঙ্গালার ইতিহাস পাঠ করিবেন। নিজে বঙ্কিমচন্দ্র যে কাল্পনিক উপন্তাস রচনা! করেছেন, এই ভূমিকাতে তাই স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে। কিন্তু তা সত্বেও বঙ্কিমের সীতারাম থেকে নাট্যক্ুত রূপকে এতিহাসিক নাটক হিসাবে চাপিয়ে দেবার চেষ্টা হয়েছে । বঙ্কিমচন্দ্র ্রতিহাসিক সীতার্রাম সৃষ্টির চেষ্টা না করলেও সীতারামের জ্গীবনের মুল ঘটনাগুলি বিরুত করেন নাই। সীতারামের উত্থান, রাজ্যস্থাপন, উপাধি, ফার্সান ও ক্ষমতালাভ, বিলাসিতায় অধঃপতব, আবুতোরাবের হত্যা ও পতন মোটামুটি ভাবে ইতিহাসের কাঠামো! অন্থযায়ী হয়েছে । বঙ্ষিমচন্ত্র সীতারামের মধ্যে এক মহান দেশপ্রেমী গ্রজারঞ্জক নৃপতি হুষ্টি করেছেন বলেই তার বিলাস ও অধঃপতনের কারণ দেবার চেষ্টা করেছেন। তখনই এসেছে শ্রী নন্দা ও রমার কাহিনী । গঙ্গারামের বিশ্বাসঘাতকতার ভিতর দিক্সে তিনি বাঙ্গালী চরিত্রের এক দুর্বল দিকই সকলের সমক্ষে তুলে ধরেছেন। তার রচনায় যছুনাথ গাঙ্গুলী হয়েছেন চক্জচুর, রঘুরাম ঘোষ হয়েছেন মুন্ময়। সব মিলে সীতারামের চরিত্র ও কীর্তি ইতিহাদের যর্ধ্যাদা লজ্ঘন করে নাই । নাটকের সীতারাম কিন্ত যথেচ্ছ বিচরণ করেছে। অধিকাংশ নাটক বঞ্চিমচন্ত্রের সীতারামের নাট্যর্ুত হলেও নাট্যকারগণ নিজন্ব জ্ঞানবুদ্ধি ও বিবেচনা! অনুসারে তাদের নাটকে নানা চরিত্র ও ঘটনার সমাবেশ করেছেন এবং নিজ নিজ মতে তাদের সীতারামকে চালনা! করেছেন। ফলে এই নাটকগুলি না হয়েছে বঙ্কিমের সীতারামের সার্থক নাটরূপ না হয়েছে এতিহাসিক সীতারামের প্রাতচ্ছবি । অথচ অনেকগুলি সীতারাম নাউটককে এতিহাপিক নাটক আঘ্য। দেওয়৷ হয়েছে । সীতারামের প্রথম নাট্যরূপদ্দাতা কোন কোন মতে বিহারীলাল চট্টোপাধ্যায় । এই নাটকটি বেঙ্গল থিয়েটারে ১৮৯৫ সালের নতেগর মাসে অভিনীত হয়। কিন্তু এই নাটকটি লুপ্ত। বঙ্গীয় নাট্যশালার ইতিহাসে সীতারামের নাটাবপ গিরিশচন্র ঘোষের রচনার তালিকার সব শেষে স্থান পেয়েছে ।৯৭ ১৯৩৯ শ্ীষ্টাব্ে ২৭ অক্টোবর বন্থমতী কার্যালয় সীতারামেন্র এই নাট্যরপ প্রকাশিত করেন । আখ্যাপত্রে "অতুলকৃষ্ণ মিত্র কর্তৃক নাটাঁকারে গ্রথিত' কথাটি মুদ্রিত আছে। ব্রজেন্ত্রনাখ বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবারের চিঠিতে, ১৫৬ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা (আশ্বিন ১৩৫২) প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে এইট|ই গিরিশচন্দ্রের সীতারাম “অতুলকষ্ণ মিত্র' নাম ভুলক্রমে লেখা হয়েছে ।১৮ সীতারাম নাটক কিন্তু গিরিশ গ্রন্থাবপীতে অন্তর্গত হয় নাই। বরঞ্চ সীতারাম নাটকের গিরিশচন্দ্র কত গ:নগুলিমাত্র অন্তভূক্তি হয়েছে এবং ১৩২১ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত বন্মতী সাহিত্য যন্দিরের ১০ম খণ্ডে “সীতারাষ গীতিকা” নামে অলংকৃত হয়েছে । সর্ব- সমেত ১৫খানি গান আছে। এই গানগুলি থেকে মোটামুটিভাবে নাটকের চরিত্র সম্পর্কে একটা আবছ! ধারণা করা! ষায়। প্রথম গান মিশর ঠাকুরের (বাঙ্গালি__কারফা) “মেরে রামা হো ! বিভীষণ ! চিত বাধ রহো | রাক খাসা তু, না হো কুলিন্মে, কপি হীনমতি বনমে ঘুমে, রাম কহে! ভাই রাম কহো ইত্যাদি । দ্বিতীয় গান শ্রী ও চন্দ্রচুড় কর্তৃক গীত (সিন্ধু মিশ্র-_ এক তালা) ভীমা রণরঙ্গনী মা। মুক্তকেশী ষোড়শী উমা, হর-রঙ্গিনী শ্যামা |” ইত্যাদি । তৃতীয় গান শ্রীর (সিন্ধু ভৈরবী-_একতালা) “তারে ছেড়ে এসেছি । হৃখসাধে কেন সাধে জলাঞ্জলি দিয়েছি 1” চতুর্থ গান গাইছেন চাদশাহ ফকির (পিলু বারোয়া__ ঠুংরী)। পঞ্চম গান জযস্তীর (ভৈরবী-_তেওরা) উদার অঙ্বর, শৃশ্ঠ সাগর, শৃন্টে মিলাও প্রাণ ।” ইতিমধ্যে নাটক সম্ভবত খুব গন্তীররূপ ধারণ করেছে তাই দর্শক মনোরঞ্জন করতে ষষ্ঠ গান গাইছেন উড়েনীগণ (ঝিবিট 'মশ্র-_খেমটা)। সপ্তম গান জয়ন্তীর (স্থরাট-মিশ্র--পটতাল )--"বনরাঃজী নীল স্বনীল অম্থর, নীল নীলাচল নীল জলধর, নীল কলেবর ভগন্নাথ।” অষ্টম গান গাইছেন গঙ্গাধর স্বামী (যোগিয়া মিশ্র-ত্রিতালী )। নবম ও দশম গান আবার শ্রীর। “আমি সন্াসিনী, বাছরাণী নহি আমি, শুন্ধমনা উন্মাদিনী+ (মূলতান মিশ্র_ ত্রিতালী ) ও “বিহগ-বিহগী অনুরাগী মাধুরী মোহিত তুলিছে তান” (বেহাগ মিশ্র-ঠুংরী )। একাদশ গন গাইছেন জয়ন্তী (ইমন কল্যাণ --তালফেরতা )। ছাদশ গান নাগর্িকাগণের “আমোদ তুফান চলে কানে কান। ডোবে ওঠে চলে হেলেছুলে ভেসে প্রাণ ।” (খাম্বাজ মিশ্র- £ংরী )। ত্রয়োদশ গান গাইছেন নাগরিকগণ--“নয়ন ভরি হেরি রাজা-রাণী (ঝি'ঝিট মিশ- খেমট| ) মাঝে রয়েছে “জয় সীতারাম, বল অভিরাম, হিন্দুস্থান পাবে প্রাণ (খাদ্থাজ্ত মিশ্র- £ুংরী )। চতুর্শ ও পঞ্চদশ গান শা ও জয়স্তীর তৈত সঙ্গীত। “বীর চল সমরে” (মল্লার-_ত্রিতালী ) ও “ত্রিপুরাস্তকারী, ভৈরব শুল- “ধারী,ভূবন সংহার কারণ হে” (পঞ্চমবাহার_-ত্রিতালী )। সীতারাম লক্মী- সীতারাম [১৫৭ নারায়ণ শিলা সেবী ছিলেন স্থতরাং বাংল! দেশের তৎকালীন আবহাওয়া! অন্ুধায়ী তার বৈষ্ণব হওয়াই স্বাভাবিক । অন্তত শৈব বা কাঁলীসাধনা তিনি কথন করেছেন এমন কোন প্রমাণ পাওয়! যায় না । গান রচনার সময় সম্ভবত এই তথ্য গুলি গিরিশ চন্দ বোষের অগোচরে ছিল। ১৯০০ খ্রী্াব্দে গারশ চন্দ্র অভিনীত সীতারাম সরু হয়। "গরিশচন্্র বা অতুল কৃষ্ণ ঘানই নাট্যরূ্প দিয়ে থাকুন এইটাই সম্ভবত প্রথম স্থপরিচিত নাটক “পীতারাষ” | এই নাটকের বিষয়ে বিশেষ বিবরণ পাঁওরা যায় না ।১৯ তবে “সীতারাম” নাটক নিষে গিরিশচন্দ্র ও অমরেন্্ দত্তের বিরোধ নাট্য ইতিহাসে স্বায়ী আসন নিয়েছে । ঘটনার সুর হল, বখন, “থিয়েটার আগমন- কালে বিডনস্্রাটে এক বাড়ীর দেওয়ালে একটি গ্র্যাকার্ড অমরেন্দ নাথের নজরে পড়িল_ামনার্ভায় সীতারাম। থিয়েটারে আসিয়াই তিনি সীতারান উপন্তাস আনাইয়া, সেই রাত্রির মধ্যেই তাহাকে নাটকাকারে পরিবর্তন করিয়া ফেলিলেন ও মাত্র এক সপ্তাহব্যাপী মহলার পর ৩০শে জুন তারিখে সীতারামের প্রথম অভিনয় হইল | সে রজনীর পাত্রপাত্রীগণ £-- সীতারাম_অমরেন্্র নাথ দত্ত, গঙ্গারাম-মহেন্দ্লাল বস্থঃ চন্ত্রচুড়-_ হরিভূষণ ভষ্টাচাধ্য, টাদশা-নটবর চৌধুরী, ফকির- জীবন কৃষ্ণ সেন, মৃন্ময় 'অতীক্রনাথ ভট্টাচাধ্য, গঙ্গাধর স্বামী-_পান্নালাল সরকার, নবীন ভাগ্ডারী ও শ্ামচাদ-__অক্ষয় কুমার চক্রবতা, রামঠাদ-_-অহীন্ত্রনাথ দে, শ্রী-_কুক্ুমকুমারী, নন্দা__রানীক্বন্দরী, রমা_হরিস্ুন্দরী, (ব্ল্যাকী) জয়স্তী-_ভূষণ কুমারী, মুরলা_ হবিদাসী ( গুলফধ )। ইহার পূর্ব সপ্তাহে গিরিশচন্দ্র স্বয়ং নামভূমিকায় অবতীর্ণ হইয়! মিরার্ভায় সীতারাম খুলিয়াছেন। অমরেন্্র নাথ সদর্পে ঘোষণা করিলেন- ক্লাসিকের সীতারাম দৃপ্ত যুবা, স্থবির নহে। ছুই নটের মধ্যে হ্যাণ্ডবিল মাধ্যমে তুমুল 'বিতও সরু হয়ে গেল। কবিতা লেখা হল-_ অশ্বপৃষ্ঠে সীতারাম-_কি অপূর্ব শোভা! ! ছুটে যেন রোধিবারে-_ গিরিশ প্রতিভা ! নটগুকু সনে রণ! দত্তে করে আশ্ষালন ক্লাসিকের সীতারাম বলদৃপ্ত যুবা ।২০ সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে গিরিশের পরবর্তী সীতারামের নাটারপদাতা ১৫৮ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা হলেন অমরেন্র নাথ দত্ত । কিন্তু বঙ্গীয় নাট্যশালার ইতিহাসে অমরেন্্র নাথের পুস্তক তালিকায় “সীতারাম” নাট্যরূপের উল্লেখ নাই ।২৯ বিভিন্ন থিয়েটারে অভিনয়ের তালিকা ১৮৭৬ খ্রীষ্টাব্দ পধ্যন্ত দেওয়। হয়েছে কিন্ত সেখান থেকে এই নাটক বিষয়ে কোন খবর জানা বায় না । “মিনাভাষ গিরিশচন্দ্র বন্ধিকচন্দ্রের সীতারাঘের নৃতন রূপ দিয়া এবং অনেক নূতন নৃতন ভাব অবতারনা কক্রিয়া নিজে সীতারামের ভুমিকা গ্রহণ করেন। (২৩শে জুন ১৯০০) দানী বাবু গঙ্গারামের এবং তিনকড়ি শ্রার ভূমিকা গ্রহণ করেন ।১--.-- একোকিলবষ্ঠী স্থপ্রসিদ্ধা অভিনেত্রী স্থশীলাসন্দরী সন্গ্যাসিনী জয়নগর ভূমিকায়” প্রথম প্রতিষ্ঠালাভ করেন |” মিনাতায় দানীবাবু ও ক্লাসিকে মহেন্দ্রবাবুর গঙ্গারামের ভূমিকায় অপূর্ব অভিনয়ের কণা লিপিবদ্ধ আছে। ক্লাসিকে সীতারামরূপী অমরেন্্নাথ বোড়ায় চড়ে স্টেজে ঢুকতেন। তার অশ্বারোহী সীতারামের আলোকচিত্র প্রচারপত্রে বিলি করা হত।২২ ক্লাসিকে সীতারাম উপর্যপবি সাত শনিবার অভিনীত হয়। মিনাভায় ততোধিক বা সামান্য কয়েকরাত্রি বেশী অভিনীত হয় । প্রথম তিন রাত্রির পর চুনিলাল দেব গিরিশচন্দ্রের সীতারামের ভূমিকা অভিনয় করেন ।২৩ ১৯শে জুলাই ১৯০০ শ্রীষ্টান্দে ইপ্ডিয়ান মিরর পত্রিকা অমরেন্ত্র নাথের সীতারামের এক বৃহৎ সমালোচন! প্রকাশ করে? । 106 01191191, 90001- 119170/ 00995 101 1910 1591 10 0116 10001009595 01 078 51809+ 810 |108105951719468 07161810179 00881 181681) ৬11) 8 ৬16৬/ [01617091079 011809১1701 071 91999 ৬/০11/, 1001 81509 00191091110 1176 01939110089 09519, 801018708 ৬০10. €১108119101 01 01819081915 )5 078 0 019 111795 0101, 1 15 17808955981, ১/161) [1078 011- 0178115 ৪ 51701090001 51099506100, 716 01818919179 ০01 91019 8170 0191019 01018 118৬6 0781016 9911180 10 ৪)৫)917- 91017 10800 01680101) 15 81700161 5101%. 1109 01181901915 01 ১।10817 91180709011 1015 ৬/0107১ 50090598110] 115 00/ 5011 95 11101000094 8 50816 581 81091 01 791) 85 2150 01058 ০ 38170118114 810 51811011810 919 ৪9৬19111/ 178811 10 19107165917 00110. সীতারাম ১৫৯ 16116, 1019 ৬/91| 10818170680 89010181708 ০৬৬৪ 06 01818101561 7701011 118115. ইপ্ডিয়ান মিরর স্পঈই লিখেছেন নাট্যবপদ্দাতা অমরেন্দ্রনাথ দত্ত স্বয়ং । এ পত্রিকার বিবরণী থেকে জানা যা যে নাটকের শেষে অমরেন্দ্রনাথ বঙ্কিম প্রদশিত পথে নাটক শেষ করেননি । অমরেন্দ্রনাথের সীতারাম দুই স্ত্রীর সঙ্গে তুর্গপ্রাকার হতে নদীতে লাফিযে পড়ে আম্মহত্যা করতেন | সীতারাম চরিত্র সম্পর্কে পত্রিকা লিখেছেন '51109181), 15 17 016 1781105 01 078 01817911581, ৬৬110 18179095 ০0৬61 018 ৬৬170189917 01 9911105 ৬101 9১০8100101781 91111, গিরিশ-অমরেন্দ বিরোধ চলতে থাকে । কবিতা, গান, কাটুন, গালাগাল ব্যঙ্গচিত্র এমনকি নাটকও রচিত হয় । পরবৎসর ১৯০১ শ্রীষ্টাবে গিরিশচন্দ্র সপুত্র অমরেন্ত্রনাথের সঙ্গে যোগদান করলে এই বিরোধ মিটে যায়। সীতারামের এই ছুই নাট্যরূপ যে ইতিহাস কষ্ট করেছে তার বিবরণ দেওয়! হল কিন্তু এই নাটক ছুইটির কোনটি পণ্ঠ করার স্থযোগ না পাওয়ায় নাটকের উতিহাসিকতা বিচার সম্ভব হল নাঁ। ইগ্ডিয়ান মিরর পত্রিকার বিবরণ থেকে মনে হয় অমরেন্দনাথ নিজ ইচ্ছ মত নাট্যবপ দযেছেন। এই ছুটি নাটকের কোনটি ইতিহাস আশ্রয় করে রচিত হয়েছে একথা মনে করার কোন কারণ নাই । পরবর্তী যুগে সীতারামকে নায়ক করে তিনটি নাটক পাওয়া গেছে। প্রথনাথ রায়চৌধুরীর “ভাগ্যচক্র” নাটক মিনাভা থিয়েটারে অভিনীত হয়েছিল। নাটকের প্রকাশকাল ১৯১৩ খ্রীষ্টাব্দ (১৩১৯-২০) বলে অভিহিত হয়েছে ।২৪ রচনা কাল ১৩১৬ খ্রীষ্টাব্দ । নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে নাট্যকার জানাচ্ছেন যে ছুর্গেশনন্দিনী ও রাজসিংহ উপন্তাস ছুইটি তিনি নাটকে রূপান্তরিত করেন। সীতারাম উপন্াস তাক মোটেই পছন্দ ভয় নাই। ভূমিকায় (পরিচয় ) তাই তিনি অভিযোগ করেছেন--?সীতারাম রায়ের সম্বন্ধে অনেক কপোল কল্পন! বঙ্গ সাহিত্যে স্থান পাইয়াছে। রূপকথার কাঙ্গালী বাঙ্গালী পাঠক তাহ৷ সত্য বলিয়া পরিতৃপ্তির সহিত পরিপাক করিতে পারে, কিন্তু সেইসব কলঙ্ককাহিনী সীতারামের প্রেতাত্মার গ্রীতি-তর্পণের কার্য করে নাই......অতীত গেৌরবকে এমন করিয়া ভিখারী সাজাইবার, ১৯ ১৬০ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা অধিকার কোন দশের কোন ভাষা ব্যবসায়ীর নাই ।” কাজেই জাতীয়তা- বাদে উদ্ধদ্ধ হয়ে তিনি এক “এরতিহানিক পঞ্চাঙ্ক নাটক” সৃষ্টি করলেন । “পরিচয়ে” লিখেছেন “কিঞ্থিধিক ছুইশত বৎসর পূর্বের একটি এঁতিহাসিক ঘটনা অবলম্বন করিয়া এই নাটকথানি রচনা করি । ঘটনাঁটি এই__হরিহর- পুরে সীতাবাম রায় নামে একজন ভৃম্বামী বাস করিতেন। সীতারাম রায় পরে হরিহবপুর হইতে মহন্মদপুর বা! ভূষণায় বাসস্থান উঠাইয়া লন । হরিহরপুর ও ভূষণার ভৌগলিক অবস্থান এবং সীতারাম রায় সম্পক্কীয় বিস্তৃত বিবরণ ষাহারা অবগত নন, তাহার ইতিহাস হইতে তাহা সংগ্রহ করিবেন 1 অতি সাধু প্রস্তাব । কিন্ত না্যকাঁব নিজেও যদি সেটি একটু পাঠ করতেন তাহলে ভূষণাকে মহম্মদ্পুর বলতেন নাঁ। নাট্যকারের ভূমিক1 অগ্ঠসরণ করা যাক। গআমি নাটকের অন্ঠান্ত ভাগের সহিত পাঠকের একটা মোটামুটি পরিচয় করাইতে যাইতেছি মাত্র । সীতারাম রাষের সমসাময়িক ভৃষণার ফৌহদার__ আবু তোরাপ এবং বাঙলার সুবাদার মুশিদকুলি খা । এই সময় নরহত্যা পরস্বাপহরণ প্রভৃতির বডই বাড়াবাড়ি হয়। ভূষণা ও পার্শ্ববর্তী স্থানগুলি অবিচারে ও অত্যাচারে প্রপীড়িত হহপ্লা উঠে ।” “সীতারাম ইহার প্রাতি- কারের জন্ত ব্যাকুল হইক্সা উঠিলেন। তিনি আওরঙ্গজেব বাদশাহের নিকট হইতে ভূষণার আবার্দী সনন্দ ও রাজা ফারমান আনিয়। তৃষণায় আপনাকে দৃঢগ্রতিষ্ঠিত করিলেন, এবং শতশত নিরীহকে নিত্যনূতন লাঞ্ছনা! হইতে রক্ষা করিতে প্রবৃত্ত হছইলেন। সীতারামের কাধ্যকলাপ আবু তোরাপের পছন্দ হইল না।” :“সীতারামের সহিত আবু তোরাপের বিবাদ বাধিল। সেই সুত্রে কুলির্খার সহিত মনোমালিন্য ঘনাইয়া উঠিল। একদিন সীতারামের সহিত মুশিদকুলির প্রকাশ্ঠ সংঘর্ষ হয়। তাহার ফলে, সীতারামের ভাগ্যচক্রের বিবর্তন।, এই ভূমিকা পড়লে এবং চরিত্রগুলির নাম লক্ষ্য করলে স্পষ্টই বোঝা যায় যে প্রমথ রায়চৌধুরী সীতারামের ইতিহাসে চোখ বুলিয়েছেন। কিন্ত সে ইতিহাস গ্রহণ করতে তিনি অনিচ্ছুক হলেন। তাই নিজের জ্ঞান ও বুদ্ধিমতো তিপি তার কল্পলোকে আর এক নূতন নায়ক সৃষ্টি করলেন ধিনি ইতিহালেরও নন, বহ্কিমেরও নন কেবলমাত্র এই নাটকের নাট্যকায়ের | ইতিহাস অন্থসরণ করে তিনি য় মঞজুম্দারকে দেওয়ান ও মুনিরামকে উকিল আখ্যা দিয়েছেন। কিন্ত বছু মভুমদার হয়েছেন এক প্রয়োজনহীন ক্ষুদ্র চত্ষিত্র সীতারাম ১৬১ আর মুনিরামকে কর! হয়েছে বিশ্বীসঘাতক | লীতারাম উপন্তাসের গঙ্গারাম চরিত্রের নানাদিক এই মুনিবাম চরিত্রে দেখ! যায়। মেনাহাতীর নিজন্ব নাম পছন্দ না হওয়ায় তাঁর ক্ষেত্রে বঙ্ধিমী নাম- মুন্সয় ব্যবহার করা হয়েছে। বখতাওর খাঁ-বক্তাব খা নামে এই নাটকে জায়গ। পেয়েছেন । সীতারামের মায়ে নাম হয়েছে দযাময়ী, স্ত্রী ও কন্ঠার নাম যথাক্রমে কমল! ও অরুণ! । এক পতুগীজ বণিক বার্ণাডোকে বলা হযেছে সীতারামের সেনাপতি । সীতাবামেব দক্ষিণহস্ত স্বরূপ হযেছেন লক্ষমীনারায়ণ নামে সীতারামের লঙ্গ্ষণ ভাই। আবু তোরাপেব সব অপকর্ম তার আশ্রিত অনাথ বালক বানচাল করে দেয়। মুশ্িদকুন্ি খা বাঈজী নিয়ে স্কৃত্তির বাণ ডাকান। বক্স আলি ভূষণ জয় করেন। পাচ অঙ্কের বিরাট নাটক । পাতা সংখ্যা ১৯৬। প্রথম অঙ্কে স+তটি দৃশ্ত। দ্বিতীয় অঙ্কে সাতটি দৃশ্য, তৃতীষ অঙ্কে পাঁচটি দৃশ্ঠ, চতুর্থ অঙ্কে নয়টি দৃশ্ত ও পঞ্চম অঙ্কে আটটি দৃশ্ত। নাটক হিসাবে যেমন নিয়শ্রেণীর। এুতি- হাসিক নাটক হিসাবেও তেমনি আজগুবি ঘটনার সমাবেশে পূর্ণ। লেখক ধবে নিয়েছেন সীতাপাম বাংলার রাজা এবং তাৰ উদ্দেশ্য মুশিদকুলিখার হাত থেকে বাংলা উদ্ধার করা। মুনিরাম ঈর্ধাপরবশ হয়ে সীতারামের বিরোধিত। করছেন এবং এই কাজে ইন্ধন হয়েছেন তার কন্ঠা । এই বিধবা সীতারামের প্রতি আকর্ষণকে উপেক্ষা করতে না পেরে সীতারামের কাছে যান এবং মিষ্ট বাক্যে লীতারাম যখন তার অন্তায় আচরণ বুঝিয়ে দিলেন তখন প্রচণ্ড ক্ষোভে তিনি সকলকে জানালেন যে সীতারাম তাকে ধর্ষণ করেছেন। মীতারামের লাম্পট্যের দুর্নামের অভিযোগ খণ্ডন করার জন্তেই নাট্যকারের এই প্রচেষ্টা । উপসংহারে বল! যায় যে, বস্কিমের সীতারামের স্ুুম্পষ্ট ছায়ায় এই নাটক রচিত । বঙ্কিমের কাহিনী বাদ দিতে গিয়ে ষে গল্প গীভিয়েছে তা হাস্যকর শুধু নয় সমালোচনার অযোগ্য । এ্রতিহাসিক নাটক আখ্য! দিলেও ইতি- হাসের চিহ্ৃমাত্ও নাটকের কোথাও নাই। এই নাটক আবার প্রমাণ করল যে অজ্ঞতা ও অসারতা নিয়ে স্থতিতর্পণ করা যায় না। অতীতের গৌরব প্রমান করতে জ্ঞানের আলোক প্রয়োজন । কল্পনা বিকাশে গৌরব নাই, তাতে মনের ভিথারীত্বই প্রকট হয়ে ওঠে যেমন হয়েছে এই ভাগ্যচক্র * নাটকে । ১৬২ বাংলা প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ পরবর্তী উরতিহাসিক নাটকের নাম “মহারাজ! সীতারাম | প্রকাশকাল ১৩৩২ সাল (মাঘ ) বা ১৯২৬ গ্রষ্টাব্ব, রচয়িত! স্থরেশচন্দ্র মজুমদার | ভূমিকার শেষে নাম লিখেছেন স্ুরেশচন্দ্র দেবশর্মণঃ | এউতিহাসিক নাটক হিসাবে সর্বত্র পরিচয় দিলেও লেখক গগ্রন্থকারের নিবেদনে” সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলেছেন । “এই গ্রন্থের কিয়দংশ বঙ্গের অমরকবি সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের সীতারাম উপন্তাস অবলম্বনে লিখিত এবং কতিপয় চরিত্রের নামকরণও উক্ত গ্রন্থান্থসারে করা হইয়াছে । এজন আমি সেই ন্বর্গীয় মহাত্মার নিকট অশেষ খণপাশে আবদ্ধ, এবং এই খণের কথা আমি মুক্তকণে স্বীকার করিতে বাধ্য। কেন আমি ইতিহাস পরিত্যাগ করিয়া বস্কিমচন্ত্রের উপন্যাস অবলম্বনে গ্রস্থরচনায় প্রবৃত্ত হইলাম তাহার একটু কৈফিয়ৎ দান এস্থলে অপ্রাসঙ্গিক হইবে না।".' ৬উমেশচন্ত্র মৈত্রেয় মহাশয় একদ্দিন আমার নিকট আক্ষেপ করিয়া বলেন যে, আমাদের মাতৃভাষায় সীতারামের মতো! বীরের সম্বন্ধে একখানিও নাটক নাই এবং তিনি স্বগীয় ঘিজেন্দ্রলালকে এ বিষয়ে অন্রোধ করিয়া! কৃতকার্য্য হন নাই। তাহার এই আগ্রহাতিশয্য দর্শনে আমিই এই কাধ্যের ভার গ্রহণ করি এবং নাটক রচনার জন্ত উপকরণ সংগ্রহে প্রবৃত্ত হই। ইহার অল্প কিছুদিন পরেই সীতারাম সম্বন্ধীয় একখানি এইতিহাসিক নাটক বাঙ্শরে বাহির হয়, কিন্তু ইহা পাঠ করিয়া মৈত্রেয় মহাশয় নিরাশ হন ।? উপরোক্ত নাটক বে “ভাগ্যচক্র সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই । বঙ্ষিমের উপন্যাসের সঙ্গে ভাগ্যচক্র নাটকের নানা বিষয় ও চরিত্র সংমিশ্রিত হয়ে যে অদ্ভুত নৃতন নাটকের কৃষ্টি হয়েছে তা অতি হাস্যকর । নাট্যকার যে এই নাটক রচনায় কোন এ্তিহাসিক ঘটনার বা বিষয়বস্ত্র উপর নির্ভর করেননি তা স্পষ্টই বোঝা যায়। নিবেদনের শেষে তাই লিখেছেন “ষাহারা সীতা রামের যথার্থ এ্রতিহাসিক তথ্য জানিতে চাহেন, তাহার! স্ট,য়ার্ট প্রণীত বাংলার ইতিহাস এবং জেমস ওয়েষ্টল্যাণ্ড প্রণীত “যশোরের ইতিহাস? পাঠ করিবেন ।” বঙ্কিম চন্দ্রের ভূমিকা অবলম্বনেই এই বই ছুটির নাম দেওয়। হয়েছে মনে হয়। এর কোনটি নাট্যকার নিজে পাঠ করেছেন এমন কোন প্রমাণ নাটকের মধ্যে নাই। তিনি কল্পনা! আশ্রয় করেই তার মহারাজা সীতারাম রচনা করেছেন । «উপকরণ এসেছে বস্কিমের সীতারাম ও গ্রমথ রায়চৌধুরীর ভাগ্যচক্র থেকে । সীতারামের স্ত্রীদের নামকরণে এই জগাখিচুড়ী অত্যন্ত স্পষ্ট আকার ধারণ সীতারাম ১৬৩ করেছে। বঙ্কিম অন্থসরণে সীতারামের তিন স্ত্রী কিন্তু ভাগ্যচক্র অন্রসরণে প্রথম স্ত্রীর নাম কমলা । দ্বিতীয় বাঁ আসলে তৃতীয় স্ত্রীর নাম বঙ্গিম অন্ু- সরণে বমা দিতে নাট্যকার কুষ্ঠিত হয়েছেন, তিনি নাম দিয়েছেন মনোরম] । তৃতীয় স্ত্রী যিনি বস্তৃতঃ প্রথম স্ত্রী স্ুরেশচন্ত্রের নাটকে যোগেশ্বরী নাম ধরেছেন । পরিচয় ক্ষেত্রে নাট্যকার অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে ইনি অন্ত কেউ নন, ছন্বেশিনী শ্রীনায়ী সীতারামের পরিত্যক্ত স্ত্রী । ভাগ্যচক্রের মতো এখানে সীতারামের মায়ের নাম দয়াময়ী। গঙ্গারাম এই নাটকে রমার প্রতি নয সীতারাম কন্তা বীনাকে লাভ করার জন্য উদগ্রীব | শ্রীর ভাই বলেই এ নাটকেও গঙ্জারামের পরিচয় দেওয়! হয়েছে তাই এই আকর্ষণ অত্যন্ত বিস্দূণ লাগে। শ্রী ও জযন্টী চরিত্র ছুটি একত্রে মিলেই যোগেশ্বরী চরিত্র হযেছে । পুরুষ চধ্িত্র গুলিতে বঙ্কিমী প্রভাব স্পষ্ট যদিও সীতারাম বায় “ভাগ্যচক্র” অন্কসরণে এখানেও “ভূষণার ভ্মিদার-_-পরে স্বাধীন রাজা? | চন্দ্রুড়, মুন্গয়, গঙ্গারাম, আবু তোরাব, মুশিদকুলি খা প্রভৃতি চরিত্রগুলি আছে। এছাড়া রঘুনন্দন” তাকে মুশিদকুলিখখার দেওয়ান বল! হয়েছে । বেচারা দ্যারাম রায় মোগল সেনাপতিতে রূপান্তরিত হয়েছেন। সীতারামকে যুদ্ধে হারিয়ে দেবার কৃতিত্ব তারই প্রাপ্য হয়েছে । এই যুদ্ধে শ্রী আলুলায়িত কুস্তলা হয়ে কামান চালনা! করেন। বস্তত অগ্রস্তত সীতারামের রাজ্য রক্ষার প্রথম কৃতিত্ব তাঁরই পাওন! হয়। তারপর গুগ্তহত্যার বস্তায় নাটক শেষ হয়েছে । মদন নামে সীতারামের এক সৈন্তাধ্যক্ষ দয়ারামকে যুদ্ধে বখন কা'বুকৰে ফেলেছে তখন গঙ্গারাম তাকে অতর্কিত বধ করলেন, চঞ্চুড় বধ করলেন গঙ্গারামকে তারপর বধ্য হলেন সিংহরামের | শেষ দৃশ্তে যুদ্ধে আহত সীতারাম যোগেশ্বরীর কোলে মাথা রেখে জানতে পারলেন তিনিই তাৰ প্রথম! পত্বী শ্রা। গুরু যোগানন্দ মাথায় পা রাখলেন-_“গুরুদেব-যাই-মা দশভূজে-বাকগল।-মহুম্মদপুর” বলে সীতারাম অন্তিম নিঃশ্বাস ছাড়লেন নাটকও শেষ হল। সীতারাম বৈষ্ণব এ থবর এই নাট্যকারেরও অজান! ছিল । বল! বাহুল্য যে বন্কিমের সীতারামের কোন মানসিক উদ্বেগ বা ছূর্বলতা এই সীতারামের নাই। তার মুখে সংলাপ দেওয়। হয়েছে- “এইবার হয় পরাজয়__নয় হিন্ুস্থান+ (৫1৩) | শেষ পর্যন্ত হিন্দুস্থান মানে গীড়াচ্ছে মহম্মদপুর। মুশিদকুলিখার ১৬৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা সরাব পিপাসা ওক্ত্রীলোকের তৃষ্ণা কিছুতে মেটেন! (&/১)। তিনি নবদা নাচগান নিয়েই যেন মশগুল । আবুতোরাবের সীতারামের বিরুদ্ধা- চারণ করার কারণ--প্রকাশ্টে রাজদ্রোহ? যত পলাতক খুনী আসামীকে আশ্রয় দেওয়া, তারপর রাজকর দিতে অস্বীকার , আমার উদ্দেশ্তে আনিত স্্রীলোক কেড়ে নেওয়া” (২/২)। আবার আবুতোরাবের মুথের আর এক সংলাপ--আশ্চর্য্য জীব এই গঙ্গারাম দ্াস। অমন প্রজারঞ্জক বাজ! সীতারাম তারই ধ্বংসসাধনে এ ব্যক্তি কৃত সঙ্কল্প। আমার ইচ্ছা আমার স্বকার্ধ্য সাধন হবার পর এর ব্যক্তির সর্বশরীরে তপ্ত লৌহশলাক। বিদ্ধ করে নিম যন্ত্রণা দিতে দিতে এর জীবননাশ করি? (২/৫)। নাট্যকার সম্রাট আওরঙগজেবকে নাটকে এনে তার হাত দিষেই সীতারামকে থেতাঁব দেওয়া করিয়েছেন । বাংলাদেশ সম্পর্কে সীতাক্ৰামের বক্তব্য শুনে সম্রাট বলছেন-_ শোন সীতারাম তোমার স্পষ্ট কথায় আজ আমি বড সন্তুষ্ট হয়েছি। অন্য কেহ আমার সম্মুথে এমনভাবে যদি স্পর্ধা প্রকাশ করত তবে আমি তার মাথা কেটে ফেলবার হুকুম দিতাম । কিন্তু তুমি বীরপুরুষ. €(২/৪ )। সব থেকে সাংঘাতিক সংলাপ বাদশার মুখে_তোমার বীরত্বের পুরকষার-স্বব্প 'আমি তোমাকে নিম়বঙ্গের আধিপত্য দান করলেম” (২/৪ )। গোট! নাটক জুড়ে এইরকমেয় সংলাপ । অনৈতিহাসিক, অসংলগ্ন এবং অদ্ভুত । মছারাঙ্ঞা সীতারাম 'নাটকে পৃষ্ঠা সংখ্যা ১২৭, পাচ অঙ্কের নাটক। প্রথম অন্কে ছয়টি দৃশ্য, দ্বিতীয় অঙ্কে ছয়টি দৃশ্ট, তৃতীয় অন্কে ছয়টি দৃশ্য, চতুর্থ অন্কে সাতটি ও পঞ্চম অঙ্কে আটটি দৃশ্য । এছাড়৷ ক্রোড়াঙ্ক নামক শেষ দৃশ্টে সীতারামের মৃত্যু দেখানো হয়েছে। নাটক লেখার পূর্বে কোন রকমের নাট্যপরিকল্পনা হয়েছে বলে মনে হয়না । কল্পনার তরী বেয়েই নাটকের বিস্তার ও সমাপ্তি । নাটক হিসাবে বা সীতারামের নাট্যরূপ হিসাবে মান অতি নিকৃষ্ট । এবার বঙ্কিমের সীতারামের নাট্যরূপছুটি আলোচিন৷ কর! যাক। এই ছুইটি নাটকেই বঙ্কিম অনুসরণে সোজান্জি নাট্যরূপ দেওয়া হয়েছে । অতুলকুষণ মিত্র [১৮৫৭-১৯১২ ] নাটক “দীতারাম” বহ্থমতী সাহিত্য মন্দির হতে প্রকাশিত। প্রকাশকাল দেওয়া নাই বটে তবে ১৯৬৬ থেকে ১৯৪২ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত আধুনিক সংস্করণ। এই নাটক গিরিশচন্্র হারা অভিনীত সীতারাম ১৬৫ হওয়া সম্তব। গিরিশচন্দ্র রচিত পনের থানি গানের মধ্যে ছয়টি নাটকের মধ্যে ছাপা হয়েছে। এই নাট্যরূপ অতুলকঞ্জর দেওয়া নয় একথা মনে করার অনেক সঙ্গত হেতু আছে। অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে উপন্ঞাসের পূর্ণ মর্ধ্যাদা বজায় রাখা হয়েছে । মনে রাখতে হবে যে গিরিশচন্দের মতে। একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা ও নাট্যকার সীতারামের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ও নাট্যশিক্ষা দিয়েছেন । এই নাট্যরূপের মাঝে মাঝে তাই গৈরিশী ধরনের সংলাপ স্বাভাবিক ভাবেই এসে গিয়েছে ৷ বিশেষ সীতারামের একাধিক বক্তৃতা যে গিরিশ রচি এবং অভিনয়ের সময় নাটকের অঙ্জীভৃত হয়েছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। এমনকি গঙ্গারামকে হত্যার পর শেষ দৃশ্যটি সম্পূর্ণ গিরিশরচিত মনে হয়। এই দৃশ্টে বঙ্কিম অন্গসরণে ভয়স্তী সীতারামকে ছেড়ে অন্তর্ধান করলেন । সীতারাম শ্রীকে নিয়ে মহাপ্রস্থ।নের পথে যাত্র। করলেন। নাটকের শেষে দীতারামের মুখে গৈরিশী সংল[প--( সীতারাম শ্রীকে বলছেন ) “করবো, করবো--গ্রহণ করবো--নদীর জলে গ্রহণ করবো কি কোথাষ করবো? দেখ অদ্রালিকায় গেলে তোমার সঙ্গে আমার কথা৷ হবেনা । সেথা রমা মরেছে-_-আ মায় ভালবেসে মরেছে । নদীর জলে তোমায় গ্রহণ কর! হবেনা_যবন সৈম্ত মরেছে । প্রান্তরে অনেক প্রাণ নাশ হয়েছে । নগরে তোমায় গ্রহণ কর! হবে না _কুটীর শূন্য করে কুটীরবাসী পালিষেছে। করবে। গ্রহণ করবে৷ । চল স্থান খুজিগে চল। করবো-_ করবে গ্রহণ করবো ! আমার এখনও মমতা যায়নি । করবৌ১__-করবো-_ তোমায় গ্রছণ করবো । চল চল স্থান খুজিগে চল। তবে এসো» স্থান থুজিগে চল ।” তাই বিন! দ্বিধায় বলা চলে যে অতুলকু্ণ মিত্রের নামে প্রচলিত নাটকে গিরিশচন্ত্রের প্রভাব অতি প্রকট। গিরিশচন্দ্রকে নাট্যরপদ্দাতা বলতে কেবল ব্যাকরণই বাধা দিতে পারে ।২৫ পাচ অঙ্কের এই নাটকটি ১৪১ পৃষ্ঠা সংখ্যা । প্রথম অঙ্কে ছয়টি দৃশ্ঠ, দ্বিতীয় অঙ্কে নয়টি দৃশ্য, তৃতীয় অঙ্কে সাতটি দৃশ্য, চতুর্থ অন্কে আটটি দৃশ্য ও পঞ্চম অঙ্কে সাতটি দৃশ্ত । চরিত্র ও পরিচয় পরিপূর্ণভাবে সীতারাম উপ- ম্তাসের অনুগামী । স্থান ও কাল সেইরকম। উপন্তাসের অনুসরণ করতে গিয়েই বহু দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে । এীতিহীসিকতা বিচারে তই পূর্ব উল্লিখিত কথাগুলিই বলতে হবে। এই সীতারামের নাটারূপে কোনরকম ১৬৬ বাংলা ট্রতিহাসক নাটক সমালোচন্ন প্রতিহাসিকতা নাই বা তা দবাব কোন চেষ্টা নাট্যবপদাতা করেন নাই । এই দিক থেকে “ভাগ্যচক্র বা মহাবাঁজ সীতারামএর সঙ্গে এই নাটকের প্রকৃতিগত প্রভেদ। ওই ছুই নাটকেই ইতিহাসেব নামে নিজেদেব খঞ্জ কল্পনাকে ব্যবহার করাব মিথ্যাচাব দেখা গেছে । বীরেন্রকু্ ভদ্র এখন পর্যান্ত মীতাবামেব শেষ নাট্যবপদাতা। বঙ্কিম- চন্দ্রের উপন্তাসেব এই নাট্যকপ মিনাঁত। থিষেটারে অভিনীত হয। প্রথম অভিনয় বঙ্গনীব তারিখ ২৩ে .ফক্রয়ারী ১৯৪৬ গ্রীষ্টার্খ। নাট্যকপদাতা নিবেদনে জাঁনিযেছেন ঘূর্ণয়ম'ন বঙ্গমঞ্জের জনা সীতাবাম রচিত হয। স্রহীন্ চৌধুব ও শরৎ চট্রোপপ্প্যায় রঙ্তমহল মঞ্চে এই নাটক অভিনয়ের ব্যবস্থা কবেন। “তারপব কি হানি কি অজ্ঞাত কারণে “রউমহন” সহসা সীতারাম নাটক 'অভিনয়ের সংকল্প পবিত্যা'গ কবেন।” নাট্যকাব *চীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের আগ্রহে শিন[র্ভামঞ্চে এই নাটকের অভিনষের ব্যবস্থা হয। সীতা- রামের ভূমিকাষ কমল মণ, গঙ্গাবাম_ভ্হর গা্গুলী, চক্দচুডলববি বায়, শ্রী-_-সরযৃবালা ও জয়ন্তরীব ভূমিকায় মুকুলজ্যোতি অভিনয় করেন। রামচাদ ও শ্যামচাদ চরিত্র ছটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয এবং সন্তোষ সিংহ ও জীবেন বোস এই ছুটি চরিত্রে অভিন কবেন। নাটকেব এইটাই সধ থেকে বড কলম্ক হয়ে দাডাল। বামচাদ শ্যা'মাদ নাটক নিযে পালিয়ে গল আর বীর রাজা সীতারাম দশকেব ফভান্তুভৃতিটুকুও পেলেন না। নাট্যবপদানের ক্রটি এই অসাফল্যের প্রথম এবং অভিনয়ে দুর্বলতা দ্বিতীয় অন্যতম কারণ । এই নাটকের অভিনষ দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। যথেষ্ট অর্থ ব্যষে প্রযোক্তিত হলেও নাটক সাফপ্যলাভ করে নাই । রামচাদ শ্যামর্ঠাদ মুখ্য ছুটি চরিত্রে রূপাঙ্গরিত ও সুঅভিনীত হওয়ায় নাটকের অন্ত চরিত্র হাঙ্ছ হয়ে বায় । অন্ঠান্ত চরিব্রগুলিও সুঅভিনীত হয়না] ' শ্রী ছাঁড। অন্ত ভ্ত্রী চরিত্রগুলি বিশেষ জয়ন্তী চবিক্রটির অভিনয় অত্যন্ত ন্ভিমিত হয়। শ্রী চিত্র জুঅভি- নীত হলেও বুক্ষারূঢা শক্রুসংহারিণী বঙ্কিমচন্দের শ্রীর যে করনা দর্শকমনকে পূর্ণ করে আছে তা অভিনীত শ্রী চর্রত্রের থেকে অনেক মহান। পুরুষ ভূমিকা- গুলির, মধ্যে একমাত্র চন্দ্রচুভ সুঅভিনীত হয় । সীতারাম অস্ত্াস্ত নীরনসভাবে অভিনীত হওয়ায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। মৃন্ময় হাস্যরসের স্থষ্টি করে। সমগ্র সীতারাম ১৬৭ নাটকটি একাধারে বস্কিমের উপন্যাসের বার্থ সংস্করণ এবং ক্কাতীয় উদ্দীপনা- হীনকপেই প্রতিভাত হয় । পাচ অঙ্কেব এই নাটকের পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪৩, সংষো্িত দৃশ্য পৃষ্ঠা ধরলে সংখ্যা ১৫৪ প্রথম অঙ্কে ৪টি দৃশ্য, ২৯ পাতায় শ্রীর অন্র্ণান পর্যযজ ঘটনার বিবরণ ওযা হয়েছে । বঙ্ষিমচন্ত্রের উপন্তাঁসের উত্তেজনা এই প্রথম অঙ্কে একেবারেই প্রতিফলিত হয় নাই এবং সেজন্যই প্রধানত নাটক ব্যর্থ হয়েছে বলা চলতে পারে । দ্িতীষ অঙ্কে ৪টি দৃশ্য, ৩০ থেকে ৫৪ পাতায় সীভা- রামের মহম্মদপুরে রাজধানী স্থাপন পর্যন্ত দেখান হয়েছে । নাটক অভিনয়ের কাল ১৯৪৬ তাই অবশ্তম্তাবীভাবেই নট্যরূপদাতা হিন্দু-মুসলমান প্রীতির বিষয সীতারামের মুখে কিছু বক্তৃতা আরোপ করেছেন । বঞ্ষিম অনুসরণে এট ব অত্যন্ প্রক্ষিপ্ত তা বপাই বাহুল্য। তৃতীয় অঙ্ধে ৬টি দৃশ্ত, ৫৫ থেকে ৯ পাতার মধ্যে আবু তোরাবের সঙ্গে বিরোধ, গঙ্গীরাম-রমা বৃত্তান্ত এবং বিশ্বাসঘাতকতার অন্য গঙ্গারামকে বন্দী করা পর্যান্ত বর্ণনা করা হয়েছে। শাট্যবপদাতা যখনই উপন্যাসের অতিরিক্ত এতিহাঁসিক সংলাপ রচনার প্রযাসী হয়েছেন তখনই চরম অজ্ঞতার পরিচয় দিযেছেন। আনু তোরাপ বলছেন-_“আমি সীতারামকে বিদ্রোহী প্রমাণ করবই। তথ্ন বাদশাহ বুঝবেন কাকে তান মহারাগধিরাজ সনদ দিয়াছিপেন।, (৩/৫)। বস্তত আবুতোরাপের হত্যার আগে সীতারামকে দমনের সরকারী প্রয়োজন হয় নাই । ঝষ্ঠ দৃশ্যে সীতারামের মহম্মদপুরের প্রাসাদের মধ্যে আবুতোরাপের কামানের গে"লায় মৃত্যু এবং “ওঃ থোদা” সংলংপে ঈশ্বরপ্রাপ্ধি একাধারে প্রক্ষিপ্ত ও হান্তকর। নাট্যরূপদীতা জয়স্তীকে দিয়েও কামান চালিয়েছেন, উপন্তাসে এমন কোন নিদর্শন নাই। চতুর্থ অঙ্কে পাচটি তৃশ্ঠ, ৯৫ থেকে ১২১ পাতার মধ্যে গঙ্গারামের বিচার, বন্দীত্বঃ ও মুক্তি দেখান হয়েছে। শ্রী ও সীতারামের মধ্যে চিত্তবিশ্রামের সেই বিখ্যাত দৃশ্ঠটিও এই অঙ্কের অঙ্গীভূত কিন্তু নাট্যরপদীতার অপটুতায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। শ্রীর প্রতি কামনাই যে সীতারামকে অস্থির করেছিল এবং শ্রীর অভাব পৃরণের জন্যই যে সীতারাম বছুরমণীসেবী হয়ে বিলাসিতার পক্বপন্রলে নিমজ্জিত হলেন নাট্যরূপদাত! তা প্রকাশ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এই ঘটনাই সীতারামের জীবনের শ্রেঠতম মুহর্ভ--নাটকের যৌগ্য 011018% সেজস্ত এই অঙ্কের শেষে এই ১৬৮ বাংলা প্রাতহাসিক নাটক সমালোচনা দৃশ্যের অবস্থান স্বাভাবিক হত। কিন্তু নাট্যরূপদাত। তাৰ নিজের ব্যর্থত। সম্পর্কে অবহিত ছিলেন বলেই অঙ্কের মধ্যে গোলে হরিবোলে” কর্তব্য সম্পাদনা করেছেন মাত্র । বমার মৃত্যুতে অঙ্কের শেষ করলেও সীতারামের বিলাসিতার কোন পরিচয় দিতে বা উল্লেখ করতে নাট্যবপদাতা কুঠিত হযেছেন। এখানেই চরম ছূর্বলতার সৃষ্টি । বস্কিমেব সীতারাম যেমন বীর তেমনি তার পতণ তাঁর নিচ্ে বিলাসিতার ফল ৷ খোদার ওপর খোদকারি করেছেন নাট্যবপদাতাঁ» বহ্কিমের সীতারামের কোন কলঙ্কের উল্লেখ করেন নাই। ফলে বঙ্কিমের সীতারামের অঙ্গহানি হযে চরিত্র অসম্পূর্ণ থেকে গেল। বস্তত এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বাংল! সাহিত্যের এঁতিহাসিক চরিত্র চিত্রণের এক স্থায়ী কলঙ্ক। নাষকের গুণাবলী প্রাযই বহুগুণ বর্ধিত ভয কিন্তু তার সামান্যতম ক্রটিকে অগ্রকাশ রাখাই প্রথ! হয়ে দাছিয়েছে । পঞ্চম অঙ্কে ৪টি দৃষ্ত, ১১২ থেকে ১৪৩ পাতার মধ্যে শ্রীর পলাযন, জ্যস্তীর নি গ্রহ॥ সীতারামের শেষ যুদ্ধ ও মৃত্যু বণিত হযেছে । মনে হয নাট্যবপদাঁতা হঠাৎ নাটক শেষ করার তাগিদ পেয়েছেন যার ফলে সীতারামের চরিত্রের জটিল- তম দিক প্রকাশ করার তিনি কোন চেষ্টাই করলেন না--চরিত্র অসম্পূর্ণ রেখে তিনি নাটক শেম করলেন। নাটক পাঠ করলে বুঝতে দেরী হয়ন! যে সীতারাঘের চরিত্রের বিভিন্ন দিক নাট্যবূপদাতাঁর অবোধ্য রয়ে গেছে। চরিত্রের মধ্যে যখনই দ্বন্দ এসেছে তখনই নাট্যরূপের চরম ব্যর্থতা স্পষ্ট হযে পড়েছে এবং এখানেই এই নাটকের অসাফল্যের কারণ নিহিত রয়েছে । নাট- রূপদাতার কৃতিত্বের কথাও বল! দরকার । তিনি রামচাদ ও শ্তাম্টাদের মধ্যে দ্বিয়ে সার্ক একজোড| ভাঁড়ের হৃষ্টি করেছেন । এই চরিত্রদুটি এত জীশবস্ত ও এত সজীব যে তুলনায় সীতারাম এবং তার সালগপাঙ্গকে প্রায় জডবস্তব বলেই মনে হয়। আধুনিক কালের ধারা অনুসরণ করে নাট্যরূপদাত! যদি রাষাদ ও শ্ঠামাদের দৃষ্টিতে সীতারাম নাটক রচনা করতেন ত'ছলেও উপভোগ্য হত কিন্তু ভাডামীর মেজাজ নিয়ে বঙ্কিমের সীতারামকে নাটকে কপাস্তরিত করতে গিয়ে তিনি পরিপূর্ণ ব্যর্থতাই বরণ করে নিয়েছেন। ব্যর্থ হয়েছে নাটযরূপদান, ব্যর্থ হযেছে নাটক রচনার চেষ্টা । উপসংহার । উপসংহারে বলা চলে যেঃ এ পর্যন্ত সীতারামকে অবলম্বন করে সম্ভবত ছয় বাঁ সাতটি নাটক রচিত্ব ছয়েছে। অতুপরুষ্ণ মিত্র বাংলা! প্রতিহাসিক নাটক সগ্বালৌচনা ১৬৪ নাট্যরূপ ছাডা গিরিশচন্দ্র যদি অন্ত কোন নাটাবপ দিয়ে থাকেন তাহলে সংখ্যা হবে সাত নইলে ছয়। মনে হয় গিরিশচন্্র অতুলকষ্ণর নাট্যবূপেই নিজ, সঙ্গীত ও নিজ সংলাপ আরোপ করেছেন। সুতরাং অতুলরুষ্ণর নামীষ নাট্যবপকেই প্রথম সার্থক কিন্তু দ্বিতীষ নাট্যরূপ বল! যায়। প্রথম সীতারাম নাটকের প্রথম অভিনয় সম্ভবত হয় বেঙ্গল থিয়েটারে একথ। প্রথমেই উল্লেখ কর! হয়েছে । নাট্যরূপদাতা৷ সম্ভবত বিহারীলাল চট্র্যোপাধ্যায় অথবা জনৈক প্রফুল্ল মুখোপাধ্যায় । এই নাট্যরূপে মৃষ্ময়ের সঙ্গে জয়ন্তীর বিবাহ দেওয়া হয়েছিল এবং সীতারাঁম মুসলমানদের পরাজিত করে শ্রীকে ফিরে পেয়ে তিন স্ত্রী নিয়ে তুথে শান্তিতে রাজ্যপালন করতে থাকেন ।২৬ এই হাস্তকর প্রযোজনার পর গিরিশচন্দ্র প্রযোজিত সীতারাম অভিনীত হয়। তারপর অমরেন্ধনাথ দত্ত প্রযোজিত এবং রচিত সীতারাম অভিনয় হল। তারপর ভাগ্যচক্র অভিনীত হয়। মহারাজ সীতারাম কথনও অভিনয় হয় নাই বলে মনে হয়। কাজেই দীর্ঘদিন পরে ১৯৪৬ খ্রীষ্টাব্দে সীতারামের অভিনয় স্বাধীনতার পূর্বমুহ্র্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটন]। প্রত্যেক নাটক নান! কারনে ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানত: দুটি দুর্বলতা নজরে পড়ে । প্রথম নাট্যকার অপট্র, দ্বিতীয় উপন্তাসের নাট্যরূপ সর্বদাই কঠিন। বিশেষ বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্তাসের নাট্যরূপ বিশেষ দুরহ। গিরিশচন্দ্র স্বয়ং নাট্যরূপ দিলে সার্থক নাটক আশা কর! যেত । আচাধ্য যছুনাথ আলোচনা প্রসঙ্গে লিখেছেন যে, বঙ্কিমের প্রতিভা সীতারামের তুচ্ছ ভোগবিলাসকে এক অন্থগূঢ কারণে মণ্ডিত করে সীতারাষ চক্বিত্রকে অসাধারণ পর্যায়ে উন্নীত করেছে । “নায়কের এই চরিব্র পরি- বন্তনই সীতারাম উপন্তাসকে শেক্ষপীয়রের ম্যাকবেথের মতো শ্রেষ্ঠ বিয়োগাস্ত নাটক করিয়া তুলিয়াছে। এই ছুটি কাব্যেই আমরা দেখি কেষন করিয়া ধীরে ধীরে, প্রায় অদৃশ্য গতিতে বাহ ঘটনার আঘাতে অর্থাৎ স্বাভাবিক কারণে, একজন দেবচগ্লিত্র বীর অবশেষে দানব হইয়া উঠেন ।২৭ সীতা- রামের চরিত্রের এই নাট্যসম্ভতাবন! কোন নাটক রচয়িতার চিস্তাপথে আসে নাই। এই জঅজ্তাবনার সুযোগ নিলে সীঘারাম এক স্থবিখ্যাত নাট্যচরিজ্রে রূপাস্তরিত হতে পারত। সেক্সগীয়র রচিত এ্যাপ্টনী চরিত্রের সঙ্গেও আচার্য্য যছুনাথ সীতারাম চরিক্রের মিল পেয়েছেন। উভয়েই বীর দক্ষ ও কর্মকুশলযোদ্ধা ১৭০ বাংলা এভিহাসিক নাটক সমালোচনা কিন্তু উভয়েরই মৃত্যু অত্যন্ট হীন কাপুরোধিত ইন্দিয়পরায়ণ কামিনীর দাস হয়ে জীবন যাপনের পর | নিঃসন্দেহে সীতারাম এক নাটকীয় চরিত্র । বঙ্কিম অন্সরণে এই নাটকীয়ত! ব্যাহত হয়না বরঞ্চ বরধধিত হয়। সীতারামের নাট্যরপের ব্যর্থতা বঙ্গ সাহিত্যে সফল নাট্যরূপদ্দাতার দৈন্তা ঘোষণা! করে। সীতারামকে নাক করে আছ বাংল। সাহিত্যে যে চমৎকার “কোন নাটক নাই এর থেকে বড কলক্ষের কথা ভাবতে সারা বয় ন।। বাংলায় শতাব্ধী- ব্যাপী সার্থক নাট্যকারের অভাবই এতে গ্রমাণিত হচ্ছে মাত্র। সীতারাম উপন্তাসের নাট্যবপ দিতে গিয়ে নাট্যকারদের আরেক তুর্বলতা নজরে পডে। উপন্তাসের বক্তব্য না প্রকাশ করে নিজস্ব চিন্তায় ও কল্পনায় নাট্যরূপকে প্রায়ই ব্যাহত কবা হয। সীতারাম উপন্তাসের নাট্যবপ ছুইটিও এই নিয়মের ব্যতিক্রম নয। বঙ্থিমচঞ্জ যে শক্তিমান পুরুষ সিংহের চিত্র অঙ্কন করেছেন, যার বীরত্ব মহাঁন বলেই পতন অত ছুঃখজনক--তাকে এই নাট্যরূপ ঢটিতে কোথাও খুঁকে পাওয়া য,য় না। বঙ্কিম অনুসরণে খড মাটি দিয়ে ষে বিরাট বীর ও স্বদেশপ্রেমিক কষ্টি করার চেষ্টা হয়েছে তা প্রাণহীন। মনে হয় বঙ্কিমের রচন! ধৈর্য ধরে পাঠ করে তাকে নাট্যরূপে অনুসরণ করার ইচ্ছা নাট্যরূপদাতাদের ছিল নাঁ। সীতারাম চরিত্র বোঝার ইচ্ছা বা বঙ্কিমের রচনার বিশিষ্ঠতা হ্বদয়ঙ্গম করার ক্ষমতাও বোধহয় তাদের ছিল না। তাই নাট্যরূপের সীতারাম আর থিয়েটারি সীতারামের প্রত্যেকটি, নাটক হিসাৰে বিফল হয়েছে । এতিহাসিক নাটক হিসাবেও তাদের কোন মূল্য নাই। এই প্রবন্ধের শেষে দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন যে অন্ঠান্ত প্রবন্ধের মতো! প্রতি নাটকের বিশদআলোচনা করা হয় নাই। তার কারণ প্রতি নাটক বঙ্কিমচন্দ্রের সীতারাম উপন্যাসে এত বেশী নির্ভর করেছে যে নাটকের প্ররতিপাদ্ সম্পর্কে বলতে গেলে পুনকুক্তির দোষে দোষী হতে হত। ১। | ৬। ৮ । ৯ | ১১ | ১২ | ১৩। ১৪ । ১৫। ১৬। ১৭ | ১৮। ১৯। সুজনির্দেশ 2 596: 091 £. 1691111, 10151100811 10817 8170 115 11195 (1080০08 1963) 589 : ১). 11. 11000957189 11090198 ০01 ৪9৭ 59117. (০8100019196 7 ) [01 /১. লী, 01. 021. 0113 16. 1018, 60017011710 1115101/ 0 887981, ৬০1. 1, 09 52 810 নিথিল নাথ রাষ মুশিদাবাদের ইতিহাস, ২৫৪ পাতা । বহ্কিমচন্রর চট্টোপাধ্যায়, সীতাবাম। বঙ্গীষ সাহিত্য পরিষৎ সংস্করণ। এতিহাসিক ভূমিকা, ষঠনাথ সবকার ৬-৭ পাতা । তদেব তদেব তদেব ৭-৮পাতা। ৩দেব ৮-১২ পাতা । ও 98৬০1 01 910018 3110, 13020117256 472 1276501% ৬০। 89,1৭০ 167, 0 58-73 911 /8001780) 581101, 80, 1115101৬010 8970971, ৬০1 || যছুনাথ সরকাব, সীনারামের এঁতিহাসিক ভূমিকা দ্রষ্টব্য তদেব [01 /১.169211177, 01 021. 11010. যছুনাথ সরকার, সীতাবামের এ্রতিহাসিক ভূমিকা । নিথিলনাথ রাধ, মুশিদাবাদের ইতিহাস, ৪১৭-৪৫৮ পাতা । ব্রজেন্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্গীয় নাট্যশালাব ইতিহাস, ২০৩ পাতা । বঞ্ধিমচন্ত্র চট্টোপাধ্যায়, সীতারাম, ভূমিকা, ২২-২৩ পাতা ( বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ সংস্করপ ) অবিনাশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, গিরিশচন্দ্র, (১৬৩৪), ৪৪৯-৪৫৬ পাতা । ১৭৭ ২১৯ । সখ | ২৩। ২৪ ॥ ২৬। সুত্রনির্দেশ রমাপতি দত্ত, রঙ্গালয়ে অমরেন্্রনাথ ( ১৩৪৮), ২৬৫-২৮৬ পাতা | ব্রজেক্দনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্গীয় নাট্যশালার ইতিহাস, ১৯৫-৯৯৬ পাতা । ডঃ; হেমেন্দ্রনাথ দাসগুপ্ত, বঙ্গ রঙ্গধ্চ ও দানীবাবু ( ১৩৪৪), ৪৮-৪৯ পাতা | রমপতি দু, রঙ্গালয়ে অমরেন্দনাথ, ২৬৮-২৬৯ পাতা। ডঃ; আশুতোষ ভট্টাচার্যা, বাংল! নাট্য সাহিত্যের ইতিহাস, ৬৯০ পাতা । অমৃতলাপ বস, রঙ্গালযে ত্রিশ বৎসর (আধুনিক সংস্করণ ), ১১২ পাতা । অবিনাশচন্ু বন্দ্যোপাধ্যায, গিরিশচন্দঃ ৪৫৬ পাতা ও রঙ্গালযের রঙ্গকথা ২৫ পাতা! বন্ধনাথ সবকার, সীতারামের এতিহাসিক ভূমিকা, ৯৫ পাতা । আলিবদা খু! ও সিরাজ-উদ-দোল্ল। ১৭০ থেকে ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্ষেব বাংল প্রস্তীবন। বাংলার হাতহাসে ১৭১০ থেকে ১৭৫৭ শ্রীষ্টাব্ষ অত্যন্থ গুরুত্বপূর্ণ। এই সতের বছরের মধ্যে একাধিক ররাষ্ট্রবিপ্রব ঘটেছে এবং দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহালে আশুল পরিবর্তন এসেছে । আচার্য ঘছুনাথের কথাব প্রতিধ্বনি তুলে বলতে দ্বিধা নাই যে ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে অন্ধকাব বুগের অবসান ঘটিয়ে নূতন এক আলোকবর্ষ বাংলার আকাশে উজ্লিত হল। শিক্ষায় সংস্কৃতিতে দৈননিন কর্মপদ্ধতিতে বাঙ্গালীর ভীবন নবীনযুগের প্রভায় মালোকিত হয়ে উঠল। সমস্ত পৃথিবী বাঙালীর আযত্তে এল। ১৭৪০ থেকে ১৭৫৭ এই সতের বছরে মোগল যুগের শ্বাসকষ্ট ক্রমে স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়েছে । মারাঠা প্রতিভা ক্ষমতার শিখরে আরোহণ করে সমস্ত ভারতে তাদের পদচিন্ধ অঙ্কিত করেছে। ইংরেজ বণিক বাণিজ্যের উন্নতির সাথে সাথে পন্ম ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচয অর্জন করেছে। অন্যান্ত বিদেশীয়দের যথা ফরাসী, ওলন্দাজ, দিনেমার পতু গীজ ও আর্মানীয়দের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর শক্তি হিসাবে গ্রাতিভাত করেছে । সতের বছর প্রচণ্ড গুরুত নিয়ে বাঙালীর চোখের সামনে দিয়ে চলে গিয়েছে । এই সতের বছরে তিনজন নবাব বাংলা শাসন করেছেন । সরফরাজ খা, মুশিদকুলি খা আদরের দৌহিত্র ১৭৪০ খ্রীষ্টাৰে গিরিযার বৃদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারালেন। বিদ্রোহী আলিবদী খা হলেন নবাব। দীধ শাসন ও দীর্ঘ জীবনের অবসান হোল ১৭৫৬ খ্রীষ্টাকে। এবার শাসন ক্ষমতায় অধিষিত হলেন তার প্রিয়তম দৌহিত্র সিরাঁজ-উদ-দৌল্লা* (আমরা এখন থেকে তাকে সিরাজদৌল্লা বলব)। ভাগ্যচক্র ঘুণিত হল। চৌদ্দ মাস রাদত্ব করার পর সিরাজ রাজত্ব এবং প্রাণ হায়ালেন (নই এগ্রল ১৭৫৬ থেকে ২র] ভুলাই ১৭৫৭ এ্রীঃ)। সরফরাজ খাঁর সঙ্গে সিরাজদৌল্লার চরিত্রগত মিল দেখলেও অবাক হতে হয়। উভয়েই বয়সে ছিলেন তরুণ, উভয়ের জীবদই * পিরাজ-্প্রদীপ, সিরাজ-উদ-দৌল্পা-সাজাজ্যের গ্রদ্দীপ ১৭৪ বাংল! এঁতিহাসিক নাটক সমালোচনা কুরুচিপূর্ণ» উভয়েই সভাসদদের অপমান করেন এবং তাদের ষড়যন্ত্রে প্রাণ হারান। সরফরাজ খা রাচ্ত্ব করেন মাত্র তেরমাস। (১৩ই মার্চ ১৭৩৭৯ থেকে অই এপ্রিল ১৭৪০ শ্ীঃ)। এত যোগ আছে এই দুই হতভাগ্য নবাবের মধ্যে যে মনে হয় যেন একে অন্তেব প্রতিবিহ্ব। মাঝের দীর্ঘ সময়ের যোগস্ত্র রক্ষা করেছেন নবাব আলিবদী খা মহাবত ভঙ্গ । নই এপ্রিল *৭৪০ এর সঙ্গে ৯ই এপ্রিল ১৭৫৬ কে মিলিষে দিয়েছেন । এই সময়ের মধ্যে বাংলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে বগীদের চরম অত্যাচার, মারাঠ! ক্ষমতার সর্বাপেক্ষা কুশ্রী নিদর্শন। স্বর্ণপ্রস্থ বাংলা দ্বর্ণশিকাবীদের বিচরণভূমি হয়েছে । এই সময়কার ইতিহাস নিয়ে নাটক রচন! অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা | যুগ- বিপ্লবের এমন ইতিহাস পাওয়া সহজ নয়। কেবল ঘটনা অনুসরণ করে গেলেই ইতিহাস নাটকীয় হয়ে ওঠে । এই সতের বছরের এরতিহ।সিক ঘটন! নিয়ে দশথানি নাটক পাওয়! গেছে । নবীনচন্দ সেনের পলাশীর যুদ্ধকেও এই দশখানি নাটকের অন্তভুক্ত কর। হয়েছে । তার মধ্যে সরফরাড খাঁআলিবদী খাকে নিষে একখানা নাটক, আলিবদী খা-সিরাভদৌল্লাকে নিয়ে ছুইথানি ন টক, কেবল সিবাজদোল্লাকে নিয়ে ছয়খানি নাটক এবং রামপ্রসাদ-লিরাজ- দৌলীকে নিষে একখানি ন,টক এই প্রবন্ধে আলোচনা করা হবে। উপক্রমনিক। ॥ অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলা। প্রথমে এঁতিহাসিক উপক্রমানিকা কর! যাক | নবাব মুশিদকুলি খা সুবা বাংলায় স্থশাসন প্রতিষ্ঠিত করেন। রাজন্ব আদায়ের সুবিধার জন্ত ১৭২২ ্রীষ্টাব্দবে এক নূতন রায়তওয়ারী বন্দোবস্ত প্রচলিত করেন। বেতনভোগা সরকারী কর্মচারীদের বাতিল করে রাজস্ব আদায় ও সেটা রাজ্য সরকারে জম! দেবার ভার অবৈতনিক জমিন্দার বা জামিন্দারদের ওপর ন্তস্ত করেন। এই জমিন্দার বা জামিন্দাররাই পরবর্তী যুগে জমিদার রূপে পরিচিত হন। মুশদকৃলি খা! ত্ষ্ট সব থেকে বড় জামিন্দার হলেন নবাবের টশাকশালের দারোগ। রঘুনন্দনের ভাই রামজীবন।১ প্রথমে বাৎসরিক ৫২ লক্ষ টাকা এবং পরে ৬০ লক্ষ টাকা আয় হয়েছিল রামজীবন রায়ের নাটোর জমিদারীর ।২ ১৭২২ খষ্টাব্দেই জগৎশে১ ফতের্ঠাদের ওপর টখাকশাল ও টাক! ছাপাবার ভার দিলেন আলিবঙ্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌলল। ১৭৫ নবাব। বধুনন্দন রায় রায়ানের পদে উন্নীত হলেন। রাজন্ব আদায়ের স্বব্যবস্থা হল। সেই রাজস্বের মধ্যে দিল্লীর বাদশাহর পাওনা অংশ নবাব মর্শিদকুলি খা নিয়মিত পাঠিয়ে দিয়েছেন । এই টাকা ঠিক সময়ে পাঠাবার জন্য কঠোর ব্যবস্থা ছিল। বাংলা স্থববাঁয় কেউ রাজস্ব সময়মত না দ্িলে উচ্চ নীচ ভেদাভেদ না করে প্রচণ্ড শান্তি দেওয়। হত । দে অর্থ যার যত বেশী তাঁকে ততো! কঠিন সাজা পেতে হত। সাধারণ নিত্যনৈমিত্যিক অপরাধের শাস্তিও সহক্গ ছিল নাঁ। অন্যের অর্থাদ্দি অপভরণে হাতের বিভিন্ন অংশ কাটা যেত। জ্ীলোৌকের ওপর অত্যাচারের শান্তি ছিল মুত্যু । কথিত আছে নবাব মুর্শিদকুলি খা এই অপবাধে নিজের একমাত্র পুত্রকে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করেন । মুশিদকুলিরখীর রীজ্ত্বে লোকে দ্বার অর্গলবদ্ধ না করে ঘুমৃতে বা স্পীলোকেরা মধ্যরাত্রে একস্থান হতে অন্তস্থানে যেতে দ্বিধ! করতেন না। এই স্থশঙ্খল ব্যবস্থায় একটিমাত্র ছিদ্র ছিল ত1 হুল বুদ্ধ মাতামহেরে স্সেহ । নবাবের একান্ত ইচ্ছ। তার মৃত্যুর পর তার প্রিয়তম পৌত্র সরফরাজ খা নবাবী পদ পান। ৩০শে জুন ১৭২৭ শ্রীষ্টাব্দে মুশিদকুলি খা পরলোক গমন করলেন | কাশিম- বাজারের ইংরেজ কুঠিয়ালের কাছ থেকে ওরা জুলাই কলকাতায় খবর পৌভাল আর সেই সঙ্গে জানা গেল সরফরাক্ত খা নবাব ঘোষিত হয়েছেন । এবাব কিন্ধ সরফরাজের নবাব হওয়া হলনা | শ্বশুরের মুত্যু খবর পেষে উডভিস্বার শাসনকর্তা স্ুজাউদ্দিন বিরাট এক সেনাবাহিনী নিয়ে মুগ্রিদাবাদে প্রবেশ করলেন। পিতার আগমনে ভীত সরফরা নবাবীর গদি তাকে ছেড়ে দিতে একমুহুর্তও দেরী করলেন না। স্থজাউদ্দিন মহল্মদ খা স্বুবা বাংলার নবাব হলেন। বাংলা বিভার ও উড়িষ্যা বাংলা সবার অস্থর্গত ছিল । বাংলার পরিধিও ছিল বুহৎ। বর্তমান পূর্ববঙ্গ বা পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশ, মণিপুর ও শ্রীহট্র ছিল পূর্ব সীমানা, পশ্চিম সীমানায় মানভূম, সীওতাল পরগণা এবং উড়িষ্তার কিছু অংশ, উত্তরে হিমালয় ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর 1৩ এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসন সঙ্জ ছিল না। নবাব মুশিদকুলিখ্খাকেও উড়িস্যার নায়েব দেওয়ানী ও নায়েব নাজিযীতে সুজাউদ্দিনকে নিষুক্ত করতে হয়। ন্থৃজ্বাউদ্দিন তার দুইজন সহকারীর সাহায্যে উড়িষ্তায় সুশাসন প্রবর্তন করেন। নবাব মুশিদকুলির মৃত্যুর পর বিবাট বাহিনীর পুরোধায় যখন নবাব স্থজাউদ্দিন মুশিদাবাদে প্রবেশ করলেন ৯৭ ১৭৬ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন। তখন এই দুজন সুযোগ্য সহকারীও নবাবের সঙ্গে রাজধানীতে এসে উপাশ্থত হন। এই দুই বিচক্ষণ ভ্রাতার নাম হল হাজি আহমদ এবং মির্জা মহম্মদ আলি। এঁরা একজন ও উভয়ের বংশধর এই প্রবন্ধের প্রধান চরিত্র, সুতরাং ভ্রাতৃদ্বয়ের একটু বংশপরিচয় নেওয়া যাক । এঁরা জাতিতে আরব । এদের পিতামহ দিল্লীতে এক তুকী রমনীকে বিবাহ করেন এবং বাদশাহী ফরমানে ছোটথাটে। মনসবদারে পরিণত হন। পিতা মির্জা মহম্ম্ণ বাদশাহ উরঙ্গজীবেব তৃতীয় এবং প্রিয়পুত্র আজমশাহের দরবারে চাকুরী করতেন । সেইখানেত এই ছুইভাই প্রথম বেতনভোগ করেন। মির্জা আহমদের ওপর বাদশাহ পুত্রের রন্ধনশালার তদারকির ভার ছিল। মির্জ| মহম্মদ আর্ল দেখতেন পিলখানা (হাতিশালা) ও জারদোর্জথানা 'অর্থাৎ ভররীর কাজের দজিশাপা । স্থযোদ্ধা ও সাহঙ্ী বলে 2ই ভাষের খ্যাতি ছিল। বাদশাহ উরক্গজশবেৰ মৃত্যুর পর জঙ্ৌ বণক্ষেএে তার পুত্রদের মধ্যে বে সাংঘাতিক বুদ্ধ ভয তাতে ঢই ভাই আজমশাহের পক্ষে যুদ্ধ করেন। আজমশাহের পরাজয ও মৃত্যুর প্র এবর। নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে সচেষ্ট হন। মির্জা আহমদ সপরিবাবে মক্কায় পলায়ন কবেন। মির্জা মহম্মম আলি সপরিবারে দাক্ষিণাত্যের পথে কটকে আসেন এবং নবাব স্থজাউদ্দিনের অধীনে ৯৭২৭ খ্রীষ্টাব্দে চাকুরী গ্রহণ করেন । মির্জা মহম্মদের বীরত্ব ও প্রভৃভক্তি নবাব স্ুজীউদ্দিনকে সন্তুষ্ট করায় তিনি তাকে আলীবদী খা উপাধিতে ভূষিত করেন। ইতিমধ্যে মককী কবত মির্জা আহমদ-হাজি আহমদ নাম নিয়ে কটকে এসে নথ।ব স্রআাডাদ্দনের চাকুরী গ্রহণ করেন। এমনকি তার তিনপুত্র মহম্মদ্র রেজা, আগা মহম্মদ সৈয়দ এবং মির্জা মহম্মদ হাসিম যথাক্রমে ৩০ টাঁক1, ২০ টাক ও ১০ টাকা মাসিক মাহিনীয নবাব সরকারে চাকুরী স্বর করলেন। হাজি আহমদের বেতন নির্দিষ্ট হল ৫০ টাঁক11৪ নবাব স্ুজাউদ্দিন স্থযোগ্য শাসনকর্তা ছিলেন বটে কিন্তু নারী লালসা তার চরিত্রের প্রধান দোষ ছিল। কথিত আছে হাজি আহমদ নবাবের লালসায় ইন্ধন জুগিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নবাব দরবারে নিজেদের কাঁয়েমী আসন করে নিলেন। ইংরেজ এ্রতি- হাঁসিকগণের মতে ছুই ভাইযের ক্ষমতার লোভ এত প্রবল আকার ধারণ করল যে নবাবের কাছে নিজেদের স্ত্রী কন্তার্দের আগিয়ে দিতে তাঁরা কার্পণ্য আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল। ১৭৭ করেন নাই । ইংরেজ লেখকদের তথ্য খাঁটি কি মিথ্যা সেই জটিল সমস্যায় উপনীত হবার কোন কারণ নাই । নবাব স্ুজাউদ্দিন ভাই দুটিকে ভালবাস- তেন এবং তাদের ওপর নির্ভর কগতেন একথা সত্য । স্থবা বাংলার নূতন নবাব সুজাউদ্দিনের সঙ্গে হাজি আহমদ ও আলিবদদী খ' মুশিদাবাদে এলেন । ইতিমধ্যে স্বঘবের অভাবে এক ভাইএর তিন পুত্রের সঙ্গে অন্য ভাইয়ের তিনকন্তার বিবাহ সমাধা হল। হাজি আহমদের তিনপুত্র আলিবর্দী খাব তিন জামাই হলেন । জাঁতিকুলমান সমাজ সংস্কার সবই বাচল বটে কিন্ত 139178005+ এর অমোঘ নিয়মে বংশের অসদগুণ দ্বিগুণ বর্ধিত হয়ে পরবর্তী বংশধবদের মধ্যে দেখা গেল। নবাব স্ুুজাউদ্দিন খা এক মন্ত্রণ' পবিষদ গঠন করলেন তাতে নবাব মুশিদকুলিখার প্রধান মন্ত্রণাদাত1 জগৎশেঠ ফতেচাদ ও দেওয়ান বা রাজস্বমন্ত্রী আলমচাদ ' এই পদটি চিরকাল হিন্দুরা পেষেছেন রাজ গুরুদাস পর্য্যন্ত), এঁদেব সঙ্গে যুক্ত হলেন হাজী আহমদ । ১৭২৮ খ্রীষ্টাব্দে আলবন্দী খাকে চকল! আকবর নগরের (রাজমহল ) ফোভ্দার কবে পাঠান হল। হাজি মাহমদের পুত্রগণ ভালভাল পদ পেলেন । মহম্মদ রে্গার নাম হল নওয়াভেস মহম্মদ খা, তিনি হলেন বক্সী। সৈম্ঠবাহিনীকে বেতন দ্রেবাৰ ভার থাকল তার ওপর । আগা মহম্মদ সৈয়দেব নাম হল সৈয়দ আহমেদ খা, তিনি ফককর কোগ্ডির (রংপুর ) ফোজদার নিষুক্ত হলেন । সর্বকনিষ্ঠ পুত্রের নাম হল জৈম্গন্দিন আহমদ খা। এই বিরাট সাম্রাজ্য স্থশা- সনের স্থবিধার জন্য নবাব তার পুত্র সরফরাজ খাকে পাটনায় নায়েব দেওষানীর ও নজামীব প্দ দিতে চাইলেন বটে কিন্ত স্ত্রী জিন্নতউন্নেস! ) ও পুত্র সমস্বব্রে আপত্তি করলে তিনি ১৭৩০ খ্রীষ্টাব্দে (মতাগুরে ১৭৩৩) আিবদীর্খাকে পাঁটনায় নাষেব দেওযানী ও নিজামীর পদ দিলেন । প্রচলিত নিযম অন্গুসারে তখন থেকে নবাব আলিবদী খা নামটি চলন হয়। বাজমহলের ফৌভদারীর শৃন্তপদে জৈচ্দ্দিন আহমদ খা নিষুক্ত হলেন। মুশিদকুলিখা প্রবর্তিত স্থশানন দেশে শান্তি স্থাপন করেছিল । সুজণ'্উদ্দিন তাই প্রথমেই সাম্রাজ্যের প্রধান অর্থকরী পদগুলি নিজের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে ব্টন করলেন। জো্টপুত্র সরফরাজ খা বাংলার নামমাত্র দেওয়ান নিযুক্ত হলেন । দ্বিতীয় পুত্র মহম্মদ তকী খা উড়িস্তার শাসনকর্তা নিযুক্ত হলেন, জামাত! দ্বিতীয় মুশিদকুলি থা ঢাকার শাসনকর্তা হলেন । এই সময় থেকেই ১৭৮ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা রাজবল্লভের উন্নতি 'স্থরু হয়। নৌবিভাগের করণিকের পদ থেকে বৈছ্া রাজ- বল্লভ, মুরাদ আলিখার অন্ুগ্রন্তে তার পেশকার নিযুক্ত হলেন। মুরাদ আলি সরফরাজখাঁর কন্ঠাকে বিবাহ করে, ঢাকার শাসনকর্তা নিধুক্ত হন এবং দ্বিতীষ মুশিদকুলিখা উপাধি গ্রহণ করেন। রাঁজবল্লভ বৈদ্ভ তখন তার সঙ্গে ঢাকায় চলে যান। স্ুজাউদ্দিনের সময় বাংলার শাসনব্যবস্থার উন্নতি হয়। তিনি বাধিক এক কোটি টাকার উদ্ধ রাজস্ব দিল্লীতে পাঠাতেন | ১১ বছর ৮ মাস ও ১৩ দ্িনের রাজত্বে তার দিল্লীতে রাজন্ব পাঠাবার মোট পরিমাণ ১৪১৬২১৭৮, ৫২৮ নিকা টাকা ।৫ ১ সিক্কা টাক! সমান ১০৮ আরকট টাকা । চলতি টাকার বিনিময় মূল্য ১০৮ থেকে ১১২ পর্ধ্যন্ত হতে পারত | কারণ তখন নানারকম টাকার প্রচলন ছিল। মুশিদকুলি খা নিজে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করতেন, কিন্তু স্থজাউদ্দিন তার কুশলী সভাসদ্দগনের ওপব নির্ভর করতেন। স্বভাবতই তাদের ক্ষমতা ক্রমে বৃদ্ধি পেতে লাগল | বিশেষ মন্ত্রণা পরিষদের সদ্য তিনজনের ক্ষমতা এবং বিহার ও উভিষ্ার শাসনকরাদের ক্ষমতা আকাশচুন্বী হয়ে উঠল। অন্যদিকে বিলাসে মগ্র নবাব স্্ীদেত সম্ভোগ লালসার পরিত্ৃপ্তিতে সামাজ্য সম্পর্কে সব রকম ভাবনা চিন্তা মন থেকে বিসর্জন দিলেন । স্থজাউদ্দিনের মৃত্যু পর্য্যস্ত কিছু ঘটল না। ১৭৩২ খ্রীষ্টাব্দে তার মৃত্যুর পর সরফক্বাজ খা নবাব হওয! মাত্র বুঝতে পারা গেল হাড়ি আহমদ ও আলিবদী খা কি প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী হয়েছেন । মূর্থ সরফরাজ- খা কোন খবরই রাখতেন না। তাই বিলাসেব শ্রোতে ভেসে যেতে তিনি ঘিধা করেন নি। সম্ভবত ধারণ! ছিল যে, পিতার মতো তিনিও বাসনা- সাগরে নিমজ্জিত হয়ে জীবন অতিবাহিত করবেন। কতকগুলি ঘটনা! তাঁর এই ইচ্ছার তরঙ্গে বাধ! সৃষ্টি করল । ১৭৩৯ খ্রীষ্টাব্দে নাদ্দিরশাহ দিল্লী আক্রমণ করে বিজয়ী হলেন। সকলে তাকে ভারতের বাদশা বলে অভিনন্দন জানালেন । ভার আক+শে ইনি নৃতন হৃর্ধ ভেবে সরফরাঁজখ| নাদ্দিরশাহের কাছে উপঢৌকন পাঠালেন এবং পঙ্গে সঙ্গে নাদিরশাহের নামে মুদ্রা প্রচলন করলেন । সরফরাজ খাঁর প্রথম মুদ্রা নাদিরশাহের নাম বুকে ধারণ করে ছাপা হল। কিন্তু প্রচলিত হবার সঙ্জে সঙ্গে এই মুদ্রার দাম কমে গেল। বাংলার জনসাধারণ নাদিরশাহের নামাহ্কিত মুদ্রা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। বিপদে পড়লেন জগৎশেঠ, আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ১৭৯ নৃতন মুদ্রা তার টণাকশালে বৃদ্ধি পেতে লাঁগল। ইংরেজ কোম্পানী জগৎ- শেঠের কাছে টাকা ধার করতে গিয়ে জানলেন যে নাদ্িরের নামান্কিত টাঁকা ছাড়া অন্ত কোন টাকায় ধার দেওয়! হবে না। ইংরেজ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী খুব ভাবনায় পডলেন। অর্থ তাদেব প্রয়োজন অথচ নাদিরশাহ নামান্কিত অথ নওয়া মানে পূর্ণ মুণ্যে থে টাকা তাঁরা নেবেন বাজারে তার বিনিময হাব কম পাবেন-স্থতরাং অবশ্ঠস্তাবী লোকসান। ইংরেজ কোম্পানী ভারত ইতিহাসে তাদের পদচিহ ফেলে যাবার কারণ এই ছোট্ট ঘটনা থেকেই বুঝতে পারা যায়। দারুণ অর্থকষ্ট সত্বেও তাবা নাদিরশাহ নামান্কিত টাক! নিতে অস্বীকার কবলেন। ইতিমধ্যে নবাব সরফরাজ খা! আরো কীত্তি কবেছেন। নাদিরশাহ তাঁর শক্রদেব বিনাশ করবেন এই আনন্দে তিনি পদস্থ কর্মচাবীদেৰ অপমান করলেন । হাঁজি আহমদকে প্রকাশ্ঠট দরবারে “ স্ত্রীলোক ,জাগানদার” খলে আধখ্যাত করলেন। সাহস এত বৃদ্ধি হল যে জগৎশেঠের পৌত্রবধূকে কামনা করলেন । ১৭৩৯ শ্রীষ্টাব্দের মে মাসে নাদিরশাহ দিল্লী ত্যাগ করে গেলে জোয়ারের জল নাম! সুরু হল। জগৎশেঠ নবাবেব হুকুমের অপেক্ষা না করে বাদশাহ মহম্মদ শাহর নামে মুদ্রা ছাপলেন। বাদশাহের কাছে খবর গেল সরফরাজ খাব নাদির শ্রীতির। বাদশাহর কাছ থেকে এমন হাবভাব এল যাতে মনে হয £ঘ সফররাজের নবাবী গেলে তিনি খুশী হবেন। ষডযন্ত্রজাল খুব তাডাতাড়ি রচনা গল। জগৎশেঠের ভষ, শাসন ব্যবস্থা নবাবী অনীহাতে যে রকম ভেঙ্গে পডতে স্ুক্ক করেছে তাতে তার ব্যবসার দারুণ ক্ষতি হচ্ছে, অবিলম্বে ব্যবস্থা না হলে লোকসান চরম হবে । হাক্তি মহম্মদ তার আত্মীয় ্বজনকে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতাসীন করেছেন। অর্থ ক্ষমতা ছুই তার করতলগত । অন্তদ্দিকে অপটু নবাব বিলাসব্যসনে শাসন ব্যবস্থা রলাতলে নিক্ষেপ করছেন। নবাবের অকীত্িতে বিশৃঙ্খল কাজ্য। সামরিক শক্তিতে ক্ষষতা সম্পন্ন আলিবদী খা বিহার থেকে সামরিক বাহিনী নিয়ে গিরিয়ায় উপনীত হলেন। ১৫০০ কামিনীর হারেম থেকে বেরিয়ে এলেন নবাব আলা- উদ-দৌল্পা হায়দার জঙ্গ সরফরাজ খাঁ । নবাবী করা যার হল না যে গিরিয়ার রণক্ষেত্রে নবাবের মতো অসিহস্থে প্রাণ দিল । ১৮০ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা বাংলার মসনদ £ শ্ষীরোদপ্রসাদ ১৩১৭ ॥ এই এ্রতিহাসিক ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষীরোদপ্রসাদ বিগ্াবিনোদ রচিত বাংলার মসনদ (প্রকাশক গুরুদীস চট্টোপাধ্যায়, ১৩১৭ ) আলোচনা করা যাক। নাটকের মূল বক্তব্য আলিবদীর সঙ্গে যুদ্ধে গিরিয়াতে নবাব সরফরাজ খাঁর মৃত্যু । দেখান হয়েছে সিংহাসনের প্রবল লোভে আলিবদী খ। তার কন্তা ঘসেটি বেগম এবং হাজি আহমদ ষড়যন্ত্র করছেন। সরফরাজ খাঁকে একজন চমৎকার ভদ্রলোক রূপে দেখান হয়েছে । তিনি একাধারে সত্যনিষ্ঠ ও চরিত্রবান । ফড়যন্ত্রকাকীীগণ প্রথমে তাকে স্ত্রীলোকের মোহে আকৃষ্ট করবার চেষ্টা করলেন এবং সুন্দরী স্ত্রীলোক অপহরণ করে নবাবের ভোগে দেওয়া হল। ওদিকে আলিবদরণী কন্তা ঘসেটি বেগম রূপের জালে তরুণ নবাবকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করলেন । নাটকে জগৎংশেঠ ফতোদ, একজন হিন্দু ওমরাহ ও কুশীদজীবি-_-তিনি মুশিদকুলি খাঁর গচ্ছিত অর্থ অপহরণের লোভে সরফরাজ খাঁর বিরোধিতা করলেন। অবশেষে অপ্রস্তত নবাব যুদ্ধ- বাত্রা করলেন । গিক্িয়ার যুদ্ধে অপূর্ব বীরত্ব প্রদর্শন করে নবাব বাহাছর হন্ত হলেন। বিশ্বীসঘাতক আলিবর্দী খী যুদ্ধে জিতলেন বটে কিন্তু মনের শাস্তি হারালেন। সেজন্ঠ প্রকৃতপক্ষে সরফরাক্ত খাই জয়ী হলেন । সমালো- চকের মতে এ নাটকে সরফরাজ খা নায়ক হাজি আহমদ প্রবল খল-চবিত্র ব! ভিলেন ও আলিবর্গী খা তাঁর হাতের ক্রীড়নক এবং সহকারী । বাংলার মসনদ লাভ নাটকের প্রধান কথা। বাংলার যসনদ নাটক পাঁচ অঙ্কে সমাপ্ত এবং প্রথম সংস্করণের পাতা সংখ্যা ১৫২। প্রথম অঙ্ক ছয়টি গর্তাক্কে বিভক্ত (১-৩৮ পাতা), দ্বিতীয় অঙ্কে ছয়টি গর্তাঙ্ক (৩৯-৭১ পাতা ), তৃতীয় অঙ্কে চারটি গর্ভাঙ্ক (প্রথম তিনটিকে গর্ভাঙ্ক বলে শেষের দিকে হঠাৎ চতুর্থ দৃশ্ঠ বল! হয়েছে । ৭২-৯৯ প'তা ), চতুর্থ অন্কে পাঁচটি গর্ভাঙ্ক (১০-১৩২ পাতা) এবং পঞ্চম অঙ্কে চারটি গর্ভাঙ্ক ( ১৩৩-১৫২ পাতা )। এই নাটক মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত হয়েছে বলে ছাপা হয়েছে কিন্তু কোন তারিথ বা প্রথম রজনীর পাত্রপাত্রীর নাম উল্লিখিত নাই। এই নাটকে ২১টি পুরুষ এবং ৬টি স্ত্রী চরিত্র ছাড়! খুচরা কিছু স্ত্রী পুরুষ চক্ষিত্র আছে । ভূমিকায় নাট্যকার লিথেছেন-_মদীয় নুহ শ্রীবুক্ত নিখিলনাথ রায় ও আলিবদী খা ও দিরাজ-উদ্-দৌল্লা ১৮১ কালীপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায় মতোদয়দয় প্রণীত ইতিহাস হইতে এই নাটক রচনার সাহায্য লইয়াছি। (বিজ্ঞাপন, বাংলার মসনদ )। ছুঃথের বিষয় কালীগ্রসম্প বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত “নবাবী যুগে বাংলা” ও নিখিলনাথ রায় রচিত “মুশিদাবাদ কাহিনী” ও “মুশিদাঁবাদের ইতিহাসে” লিখিত ঘটনার সম্পূর্ণ বিপরীত রূপই নাটকে দেখান হয়েছে। গ্রন্থকার কেবল ইতিহাসের ভূল ব্যাধ্যা করেন নাই। জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে বিকৃত করেছেন। এই দিক থেকে বাংলার মসনদ নাটকের রচয়িতা অত্যন্ত গহিত অপরাধে অপরাধী । নিখিলনাথ রায় স্পষ্ট পিথেছেন--“সরফরাঁজ খা! অত্যন্ত বিলাসী ও ইন্দ্রিয়পরায়ণ ছিলেন এবং তাহার সেই ভয়ানক দোষ দিনদিন বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়ায় ও শাসনকার্য্ে তার অমনোযোগ দর্শনে রায় রায়ান আলমচাদ নবাবকে সতর্ক করার অনেক প্রকার চেষ্টা করিয়াছিলেন । আলমচাদ্দ নবাব স্থুঙ্জাউদ্দিনকে সর্বদা সৎ পরামর্শ প্রদান করিতেন বলিয়া স্থুডা বিলাসপরায়ণ ও মুক্তহস্ত হুইয়াও রাজকোব শুন্য করেন নাহ । আলমচাদ সরফরাজকে সেইরূপ ভাবে উপদেশ দেওয়ার চেষ্ট। করিলে, সরফরাজ তার উপদেশ শ্রবণ কর! দূরে থাকুক, বরঞ্চ আলমচাদকে যৎপরোনাস্তি অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেন। তদবধি আলমচাদ তাহার উপর অত্যন্ত অসন্তষ্ট হইয়! নবাবের মঞ্জলের জন্ঠ কোনরূপ চেষ্টা করিতেন ন। অধিকত্ত তাহার বিপক্ষবর্গের সহিত যোগদান করিয়| সরফক্বাজকে রাজ্যচ্যুত করার জন্ত চেষ্টা করেন ১৬ জগৎশেঠের সঙ্গে বিবাদের বিষয় লিখিত হয়েছে-_“নবাব শিবিক। পাঠাইয়। জগতশেঠের গৃহলক্ষ্ীকে নিজ ভবনে আনয়ন করেন এবং প্রাণভরিয়া সেই পুণ্যের অখণ্ড ফলের ন্যায় তাহার রূপস্ুধা পান করিয়া তাহাকে গৃহে যাইতে অন্থমতি দেন।+? সরফরাজ খার ইন্জ্রিয়পরায়ণতার কথা বারবার মুশিদাবাদের ইতিহাসে উল্লেখ কর! হয়েছে, “তিনি বিলাসের ক্রীতদাস ছিলেন? (৫৭১)১ “তাহার উপর বিলাসপরায়ণ হইয়! প্রতিনিয়ত রাজকার্ষ্যে অবহেল৷ করিতেন” (৫৭৬); “ফলত: অত্যন্ত ইন্দরি়পরায়ণ হওয়ায়” (৫৭১), “তাহার অস্ত:পুর প্রায় অর্ধ সহম্র রমনীতে পরিপূর্ণ ছিল, রমনীগণের তৃপ্থিসাধনকে প্রজাপালন অপেক্ষা গুরুত্ব প্রদান করতেন।” 'মুতাক্ষরীনকার বলিয়াছেন তাহার সামান্য কোন প্রকার শাসনজ্ঞান এমনকি সামান্ত কার্যাদক্ষতা ছিল না। তাহার মতে যদি আর কিছুদিন সরফরাজ খা! রাজত্ব করিতেন তাহইলে তার রাজ্যমধ্যে যেরূপ বিশৃঙ্খল! উপস্থিত হইয়াছিল তাহাতেই হয়ত একেবারে সমস্ত ১৮২ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা বাংলা প্রদেশ ধ্বংস হইয়া বাইত।৮ আরে! লিখেছেন-'ররমনীর রূপস্ুধ। পানের ভন্য সর্বদাই তার চিত্ত ধাবিত হইত । এই ভীষণ প্রবৃত্তির বলবতী হইয়া তিনি জগৎশেঠের গৃহলক্ষ্ীকে যেরূপ স্বীয়ভবনে আনয়ন করিয়াছিলেন তাহা পূর্বেই উক্ত হইয়াছে । ফলত: তাহার ন্যায় বিলাসী ও অকর্মন্য নবাব যে বাংলা, বিহার, উড়িগ্তা প্রদেশত্রয়ের শাসনভার পরিচালনে সম্পূর্ণ অক্ষম তাহাতে সন্দেহ নাই ।৯ নাট্যকার বিজ্ঞীপনে লিখেছেন ব তিনি নিথিলনাথ ব্য রচিত ইতিহাস পাঠ করে নাটক রচনা করেছেন। তার রচিত সরফরাজ চরিত্র দেবতা বিশেষ । নিখিলনাথের সরফরাঁজ এক ঘ্বণিত পশু । সন্দেহ হয ক্ষরোদপ্রসার্দ নিখিলনাথ রায় রচিত মুশিদাবাদের ইতিহাস আদৌ পাঠ করে- ছিলেন কিনা? পাঠ করে গাকলে তিনি স্বেচ্ছায় মিথ্যাচার করেছেন । সরফরাজ চরিত্রকে বিকৃত করে তৎকালীন বাংলাদেশের ত্রাতা আলিবর্দী খাকে অহেতুক এবং অনর্থক কলা্কত করেছেন । বিজ্ঞাপন পাঠে মনে হওয়| একান্ত স্বাভাবিক যে তার রচিত বাংলার মসনদ নিখিলনাথের ইতিহাস অশ্তগামী এতিহাসিক নাটক | এদিক থেকে ক্ষীরোদপ্রসাদ অন্থান্ঠি ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ নাট্যকারদের তুলনা অনেক বেশী অপরাধী । ক্ষীরোদপ্রসাদ স্বীকার করতে লঙ্জা পেয়েছেন ঘে তিনি গিরিশচন্দ্রের অন্থুগমন করেছেন । সম্ভবত তার মনে হয়েছে ১৩১২ শ্রীষ্টান্দে অভিনীত ও প্রকাশিত নাটকে গিৰিশচন্দ যদি সিরাজদৌল্লার কলঙ্কভপ্তন করে থাকেন তাহলে তিনি সব্রফরাজর্থাকে নিয়ে ১৩১৭ শ্রীষ্টান্বে আর এক গিরিশচন্দ্র হতে পারবেন না কেন? সমসাময্িককাঁল, ঈর্ষা! ও অজ্ঞতার শাস্তি কি ভাবে দিয়ে থাকে ক্ষীরোদপ্রসাদ্দের এই কীতিই 'তার উদ্দাহরণ। এক মুহুর্তের জন্তও তাঁর মনে হধনি যে এই কীতি মুষিকের পর্বতের সঙ্গে প্রতিযোগিতার নামান্তর মাত্র । গিব্িশগ্রতিভা নাট্য সিরাজদৌল্লার চরিত্রের অনৈতিহাসিকতা সত্বেও প্রতিষিত | শ্ষীরোদপ্রসাদের বাংলার মসনদ এক বিস্বতপ্রায় অপ- কীতি। শ্বকপোলকল্পনাকে ইতিহাস বলে চালাবার মতলব মাত্র নয়, তাকে এতিহানিক নিথিলনাথ রায়ের নামের সঙ্গে যুক্ত করে প্রামান্ বলে বর্ণনা করার অপচেষ্টা । | সমস্ত নাটকটি মিথ্যা ঘটনার এক অপরূপ পঞ্জিকা । প্রথমে বলা হয়েছে যে হাজি আহমদ ও আলিবদী খ। নবাব শুজাউদ্দিনেয় বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে- আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ১৮৩ ছিলেন কিন্তু নবাবের মৃত্যু হল (১/১ পাতা ১)। বলা বাহুল্য একথা একেবারেই যিথ্যা । নবাবের বিলাসব্যসন স্থৃঙ্াউদ্দিনের সময়ে শাসনকাধ্যকে অনিযমিত করেনি। সরফরাজের সময় করেছে বলেই নবাবকে সরিয়ে দেবার প্রযোজন হযেছে । সেটি বেগমকে ষডযন্ত্রকারিনী বল! হয়েছে (১/২ পাছা ৫-১০ 1 বলা হযেছে তনি বৃদ্ধ নবাব সুজাউদ্বিীনের কামন। জাগিযে তাকে মৃত্যুপথে ঠেলে দ্রিষেছেন। বর্তমানে সরফরাজ খাঁকে প্রলুব্দ করতে চান। গিবিশচক্রের ঘসেটি বেগমের জনপরিচয় ব্যবহার করাঁর ছুবভিসন্ধি এতে প্রকাশ প'চ্ছে। সরফরাজ খার সমঘ ঘসেটি বেগম এবং তার স্বামী নওযাঁজেস মহম্মদ (১/২”পাতা ৫-১১) ঢাকায় অবস্থান করতেন । নবাব স্জাউদ্দিনের কাঁছে স্বা্থ-রক্ষাব জন্য ঘসেটি বেগমকে পাঠান সত্য হতে পারে। কিন্ত বৃদ্ধ নবাবকে ক'মনা সাগরে ভাসিয়ে তার মৃত্যু ঘটান অলীক কল্পনা । টাকাঁষ এই সময়ে ঘসেটি বেগমের উপস্থিতি আর এক নাটকীয় পরিবেশ তৈরী করেছে। সেই নাটকের প্রধান চবিত্ররা হলেন নওয়াজেস মহম্মদ, রাঁজবল্লভ ও হোসেন কুলি খা । সরফরাজ খাকে বাংলার মসনদের নাট্যকার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ (১/৩ প।তা ১১-১৮)১ অত্যন্ত চরিত্রবান (২/৬, ৬৭-৭২ পাতা), বাংল! স্থবার উন্নতির চিন্তায় বিভোব ( ১/৬, ৩২-৩৮পাতা৷ ) এবং পত্বীগত প্রাণ (৩/৪ পাতা ৮৮-৯৭) দেখিয়েছেন | বল! বাহুল্য এগুলি সবই ইতিহাস পরিপন্থী নাট্যকারের কল্পনা । ভ্গৎশেঠ সম্পর্কেও নাট্যকারের ধারণা স্পষ্ট নয়। তাই নানা বকম অদ্ভুত ঘটনার অবতারণা হয়েছে (৩/৩)। জগৎশেঠ বা আলমর্চাদের গৃভে নবাব মহিষীব আবির্ভাব প্রা পাগলামির পধ্যায় পডে। নাট্যকারের বাতুলতা অবশ্তই_-নবাব মহিষীর নয়। মুশিদকুলির্খার অর্থ জগৎশেঠের গদীতে থাক এই রকমের 'আর এক অসম্ভব কাছিনী। প্রতিহাসিক নিখিল নাথ রায় বালক জালিমসিংহের এক স্থন্দর কাহিনী রচনা করেছেন । ( একটি ক্ষুদ্র কাহিনী । মুশিদাবাদের কাহিনী- নিথখিলনাথ রায় পাতা ১২১-১২৯ ২য় সং) এই কাহিনী অনুযায়ী সরফরাজ খার এক রাজপুত সেনানায়ক বিজয়সিংহ গিরিয়ার যুদ্ধে নিহত হলে তার নবমবর্ধীয় বালকপুত্র জালিমসিংহ* অসীম সাহসে পিতার মৃতদ্গেহ রক্ষা করে। আলিবদী থা এই বীর বালকের সাহসে মুগ্ধ হয়ে তাকে পুরুস্কত করেন এবং তার পিতার দেহ যথাযোগ্য সম্মানে ১৮৪ বাংল! এঁতিহাসিক নাটক সমালোচন৷। সৎকারের আদেশ দেন। এই ঘটনা মুতাক্ষরীন ও "বয়াজুস শালাতিনের লেখকদ্বযও সম্সেহে বর্ণনা করেছেন । ক্ষীরোদপ্রসাদ জালিম সিংহকে নাটকের চরিত্র করে তাকে দিযে নানা অসম্ভব ঘটনা করেছেন। এমনকি নবাব প্রাসাদে যুবক জালিযসিংহকে রক্ষী হিসাবে দেখিয়ে অন্তঃপুরে তাকে অবাধ গতি দিয়েছেন (৪/১)। এই আলোচনায় ছেদ টেনে বলা অনুচিত হবেন! ঘে “বাংলার মসনদ” নাটক অত্যন্ত নিম়্পর্যযাষের ব্চনা । ইতিহাসের সঙ্গে তার কোন সন্বম্ধ নাই। নাট্যকার বাংলার তখনকার ইতিভাস পর্যালোচনা করে যে নাটক রচনা করেছেন তাতে ১৭৩৯-৪০ খ্রীষ্টাব্ধের বাংল৷ সম্পর্কে তার কোন ধারণাই নাই এটাই বোঝা যাষ। সরফরাজ খাঁদকে কেন্গ করে ভাল নাটক লেখার স্রযোগ আছে । শাসন- কর্তার বিলসে দেশ যখন অধোগামী তখন সভাসদর। যুদ্ধ করে নবাবকে সরিয়ে দেবার চেষ্টা করে সফল হয়েছেন এমন দৃষ্টান্ত এদেশে বেশী নাই । উদাহরণ স্বণপ বলা যায যে ইংল্যাণ্ডের রাজা প্রথম চাঁলসের বিরুদ্ধে ক্রমওয়েলের বিদ্রোহ ও যুদ্ধের সঙ্গে ১৭৪০ শ্রীষ্টাব্ের ঘটনার মিল আছে। কিন্ত বাংলার মসনদ কোন উঠটুভাব নিয়ে রচিত হয নাই । নেহাৎ দর্শক তুষ্টির কল্পনাশ্রয়ী নাটক সমসামধিক কালের (১৯০৫ স্রীষ্টাব্ধ পরবর্তীকাল ) ফ্যাসান অনুযায়ী রচিত | ইতিহাস্রে নামাবলী কেবল দর্শকদেব ফাকি দেবার মতলবেই এই নাটকের গায়ে জড়ান হয়েছে । প্রবর্তীকালের ইতিহাস দেখলে সন্দেহ থাকেন! যে গিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে আলিবদীর জয়ে বাংলার কতো উপকার হয়েছে । নবাব আলিবদীখ! মহবৎ জঙ্গ নামধারণ করে মসনদে আরোহণ করলেন । শিথিল শাসন ব্যবস্থাকে শক্ত হাতে টেনে ধরলেন। নওয়াজেস মহম্মদ ( বড় জামাই) ঢাকার শাসনকর্তা থাকলেন তাকে সেথানকাব নায়েব দেওয়ানী ও নিজামীর পদ দেওয়! হল। তার ওপর নবাবদের নিজস্ব জায়গীরগুলিও দেখাশোনার ভার পড়ল। হোসেন কুলিখ! তার সহকারী নিযুক্ত হলেন। সৈয়দ আহমদর্থাকে ( মেজ জামাই ) পৃণিয়ার শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হল। প্রিয়তম! কন্ঠা আমিনার স্বামী জৈম্নদ্দিন *আহমদর্খ! হৈবংজঙজকে (ছোট জামাই) পাটনার শাসনকর্তা ও নায়েব দেওয়ানী ৪ নিজামীর পদ দেওয়া হল। দেওয়ান আলমষ্ঠাদ্দের এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তাই জানকীরাম (ইনি আলিবদীর ব্যক্তিগত সম্পত্তির দেওয়ান ছিলেন) আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্ল' ১৮৫ দেওয়ান নিযুক্ত হলেন। সবার প্রতি দাক্ষিণ্য দেখিয়ে আলিব্দী খা অতি অল্লপসময়ের মধ্যে সরফরাজর্খার পন্ষীযদের বশীভূত করলেন। রাকতকোষে অর্থাভাব দূর করার জন্য আদায়ে দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওযা হল। রাজস্ব ঘাটতি সুদৃঢভাবে দমন কর! হল। বাংলার বৃহত্তম জামিনদার ৬০ লক্ষ টাক! আয়ের নাটোর রাজবংশ দীর্ঘদিনের রাজস্ব বাকী ফেলেছিলেন। একাধিক তাগিদ দিযে কোন ফল না পেষে নবাব আলিবদীর্খ! ১৭৪১ প্ী্সান্দে রাজা রামকান্তের (রাণী ভবানীর স্বামী) জামিনদার পদ খারিজ করে দিষে ওই বংশের বিঞুরামের পুত্র দেবীপ্রসাদ রায়কে নাটোরের রাজবংশের অধিকর্ত। ও রাজস্বের জামিনদার ঘোষণা! করলেন। নবাব আদেশে সৈম্তদল গিয়ে দেবীপ্রসাদকে বহাল করে এল । রাক্তা র্ামকান্ত আর রাণী ভবানী ছুটে এলেন মুশিদাবাদে। ডেকে আনলেন তাদের বুদ্ধ দেওয়ান দযারাম রায়কে । তারপর বহু আবেদন নিবেদন করে রাজশ্বের পরিমাণ বাড়িযে দেবার প্রতিশ্রতি দিয়ে এবং জগৎশেঠের আনকুল্যে আবার স্বপদ ফিরে পেলেন দীর্ঘ চার মাস পর | দয়ারামের মধ্যস্থতায় দেবীপ্রসাদ কিছু সম্পত্তি পেলেন ।৯০ বিস্তারিতভাবে এই ঘটনা বলার উদেশ্ট তৎকালীন শাসন ব্যবস্থার প্রতিরপ স্পট করে দেখান। এই ঘটনায় বোঝ] যায় যে মুশিদকুলি স্্ট ১৭২২ খ্রীষ্টাব্বের নয়া রায়তওয়ারী বন্দোবস্তের ফলে রাজস্ব আদায়ের জামিনদার পদ তৃষ্টি হয় জমিদার পদ নয় । নবাবের ইচ্ছাতেই তাই এই শ্রেঈীর স্থায়িত্ব ও পদমর্য্যাদ। নির্ভর করত । এই শ্রেণীর কমির ওপর কোন অধিকার ছিলনা । রাজস্ব আদায় করে নবাব সরকারে প্রেরণ কর! এবং আদায়ী কর ও সরকারী রাজস্বের ব্যবধান ভোগ করাই ছিল তাদের একমাত্র অধিকার । কেবল শাসনব্যবস্থা নয় নবাবী ফৌজকেও আলিবদ্দী খা! ঢেলে সাজালেন। এ কাজে তার থেকে যোগ্য ব্যক্তি সমস্ত মোগল সাআ্রাজ্যে ছিল কি না সন্দেচ। এই কাঁজে তার সুযোগ্য সহকারী হলেন মীর মহম্মদ জাফর আলি খা যিনি মীরজ্ঞাফর নামে বাংলার ইতিহাসে বিখ্যাত হয়েছেন। ইনি বকসী নিষুক্ত হলেন। সৈম্তবাহিনীকে বেতন দেওয়! হল এর অন্ততম প্রধান দায়িত্ব। মীরজ্াক্ষর তাঁর প্রভুর মতই ভাগ্যাস্তেধী। কপর্দক শূন্য এই কঠোর বুদ্ধ ব্যবসায়ীকে আলিবদ্বী খা কেবলমাত্র নিজের মনের মতো করে গড়ে তুললেন না তাকে আপনার বৈমাত্রেয় ভরিনী শাখান্থষের সঙ্গে বিবাহ দিয়ে অত্যন্ত, ১৮৬ বাংল! এতিহাসিক নাটক সষালোচনা বিশ্বীসেব আসনে স্থাপনা করলেন । কালে মীরজাফর আলিবদী খাঁর প্রধান সৈন্াধ্যক্ষ হয়ে এই বিশ্বাসকে নিজের শক্তি ও বুদ্ধিতে অটুট রাখেন। আঁলবর্দী যখন পাটনার শাসনকর্তা তখন তার দৌহিত্র মির্জা মহম্মদ সিরাজদৌল্লার জন্ম হখ ১৭৩৩ খ্রীষ্টাব্দে (মনান্তরে ১৭৩২ খ্রীষ্টাব্দে )। তার মাতা আমিন| বেগম নবণব আলবর্দীর কনিষ্ঠ কন্যা এবং পিতা ভৈন্ুদ্দিন আহমদ খা আলিবদ।র ভ্যষ্ট্রাতা হাতি, আহমদ খাঁর কনিষ্ঠ পুশ । জন্মীবধি সিরাজ মাতামচের নয়নের মণি। তার জন্মের সঙ্গে আলিবদীর শ্রী» এ্রশর্ধা, ক্ষমত' ও প্রণ্িপন্ডির বৃদ্ধি ঘটায়, তিনি সিরাজকেই তার সৌভাগ্যস্থ্য বিবেচনা করতেন । বিশেষ তার পুত্র না থাকায় সিরা পুত্রাধিক শ্নেহে লালিত হলেন। সিরাজেন্ব ছুটি ভাই ছিল মির্জী কাঁভিম ও মির্জা মেহেদী । মির্জা কাভিমকে নিঃসন্তান নওয়াজেস আহমদ খা ও ঘসেটি বেগম দত্তক গ্রহণ করেন। তথন তার নাম হল এক্রামাদৌল্লা! । ১৭৫২ শ্রীষ্টান্ে এক্রামাদৌল্লার মৃত্যু হলে নওয়াভেস মহম্মদ "শাকে অধীর হয়ে ১৭৫৬ খ্রীষ্টাব্দে প্রাণত্যাগ করেন। এক্রামাদৌল্লার শিশুপুত্রকে মুরাদদৌল্ল! নামে বিধবা ঘসেটি বেগম বধিত করেন। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী পলাশীর যুদ্ধের পর মুরাদদৌল্লার মীরনের প্ররোচনায় গুঞ& ঘাতকের হাতে মৃত্যু হয়। কিন্তু এ ইতিহাস তুল। পলাশীর যুদ্ধের পঞ্চাশ বছর পরেও মুরাদদৌল্লার বেঁচে থাকার প্রমাণ আছে। যথাসময়ে তা বিবৃত হবে। দিরাজকে হত্যা করাবার পর মীরজাফর পুত্র মীরণ (সিরাজের মামা মীরণ শোনায় ভাল ) নৃশংস ভাবে সিরাজের কনিষ্ঠ ভাঙা মির্জা মেহেদীকে হত্যা করান। ছুই খণ্ড কাঠের তক্তার মাঝে তাকে চেপে মার! হয়েছিল বলে প্রবাদ আছে। এই কারণে এতিহাসিকগণ মনে করেছেন যে আলিবদী বংশের সব জীবিত পুরুষরাই মীরণের বলি হয়েছে । ১৭৩৩ খ্রীষ্টাব্দে পাটনায় জন্ম হলেও ১৭৪০ খ্রীষ্টাব্বের পর হতে দিরাজদৌল্লা মাতামহের কাছে মুশিদাবাদে বসবাস করতেন । মাঁতামহের আদরের দুলাল, পিতা মাতা অথবা ভ্রাতা ভগিনীর সম্পর্কচ্যুত হয়ে এক বিলাস-ব্যসনের মধ্যে বর্ধিত 'হলেন। অত্যন্ত বালক অবস্থা থেকেই তিনি নিজেকে এই ব্যবস্থার অধ্যে ক্ষুদে নবাব ভাবতে অভ্যস্ত হলেন। তার সমস্ত ইচ্ছা পূরণ করা হত। 'ৃতরাং বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে তার কুপ্রবৃত্তিগুলি শতগুণে বৃদ্ধি পেল। মাতামহর আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্লা ১৮৭ স্নেহ সিরাজদৌল্লার জীবনে প্রচণ্ড অভিশাপ হয়ে তার জীবনকে বিপথগামী করে দিল। ১৭৪২ খ্রীষ্টান্ধ আসার সঙ্গে সঙ্গে মারাঠ। আক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিল। ওই বছর ২০শে এপ্রিল ইংরেজ কোম্পানী কলকাতা থেকে লগ্ডনের কোট অফ ডিরেকটরদের লিখেছেন £--“আমরা কাশিমবাজারের স্যার ফ্রান্সিস ব্রাসেলের কাছ থেকে গত ১৭৪২ গ্রীষ্টাব্দের ১৬ই এপ্রিল খবর পেয়েছি ষে কাশিমবাজারে মারাঠা আক্রমণ হতে পারে। বধমান বাধানগর ও অন্তান্ত জায়গা থেকে আমাদের ব্যবসাষীরা এই খবরই এনেছে । কলকাতা থেকে কুঠি রক্ষার জন্ত একটি বড় শক্তিশালী সৈশ্গদল অনতিবিলম্বে কাঁশমবাজারে পাঠান হল।১১ মারাঠাদের সঙ্গে বোঝাপড়ার জন্য কুঠির চারিদিকে উচু পরার ও মাঝে কামান বসাবার ভন্ত গন্থজ তৈরী কবা হল। লগুনে চিঠি লেখা হল কুঠি এখন ছুর্ভেগ্য | তবে ভাবনা গেল না। ভষ হল নবাবী নজরাণার পরিমাণ ভালই হবে। প্রতি গম্থুজেব চন্য আলাদা নজর দিতে হবে। ১৭৪৫ ্রীষ্টাব্ পর্যন্ত নবাবী সমন না পেষে ইংরে” অবাক তল। লগ্নে লিখে পাঠাল যে বৃদ্ধের সময প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নবাব সম্ভবত অন্তরমোদন করেছেন । নজবাঁশার দাবী দেশে শান্তি প্রতিঙ্গিত না তগযা পর্য্যন্ত কব! হবে না আশা কব যায ।৯২ ১৭৪২ থেকে ১৭৫১ খ্রীষ্টাব্দ পধ্যন্ত প্রতি বৎসর মারাঠী দক্থ্যরা বাংলায আসতে স্তর করল । নবাব স্বয়ং ব্গী দমনের ভার নিলেন। বার বার যুদ্ধে হেরে গিয়েও মারাঠা দস্থ্য দমিত হল না। সাময়িক শান্তির পর আবার গ্রামনগর আক্রমণ করে লুগন, ধর্ষণ, অত্যাচার, অপহরণ সুরু করত । বর্গীর হার্গামা বাংল! বিহারের জাগ্রত বিভীষিকা । নবাব কখনও তাদের অর্থ দিয়ে শীস্ত করতেন কখনও যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হতেন। শেষে ১৭৪৪ শ্রীষ্টান্ছে মারাঠা নায়ক ভাস্কর পণ্ডিতের গুপ্ত হতা। নবাবের প্ররোচনায় সংঘটিত হল। কিন্তু পর বৎসর আবার বগীঁরা এল দক্্যুতা ও অগ্িপংযোগে গ্রাম বাংলাকে ছারখার করতে লাগল । ১৭৪২-এর মার্চ মাসে বগাদ্ের আগমন সংবাদ দাবাগ্রির মতো! কাশিখ- বাজারে এসে পৌছল। বীরভূম ধ্বংস করে ৮০০০ অশ্বারোহী সুশিদাবাদ অভিমুখে ছুটে চলেছে নিমেষ মধ্যে রাষ্ট্র হয়ে গেল। আরো রাষ্রী হলযে ১৮৮ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা মারাঠ দক্থ্য কেবল লুখন ও অত্যাচার করেনা স্থযোগ পেলে সন্তান্ত ব্যক্তিদের আটক রেখে অর্থ আদায় করে । ক্ীলোৌকমাত্র উপভোগের সামগ্রী । জাতি কুল মান নিবিশেষে তাদের ওপর অত্যাচার কর! হয় দলবদ্ধ ভাবে । দেবালয়ে আশ্রয় নিলেও বগীদের হাত থেকে বক্ষ পাওয়া যায় না। একমাসের মধ্যে পলাযন সম্পূর্ণ হয়ে গেল। প্রভাবশালী একটি ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীকে মুর্শিবাবাদে বা কাশিমবাজারে দেখা যেত না। অন্য মানুষের পক্ষে লুকিয়ে থাক বা পালিয়ে যাওয়া সম্ভব কিন্ত জগৎশেঠের মহিমাপুরের বাড়ী বা টাঁকশাল শুধু প্ররুতিতে নয় আরুতিতেও বিরাট | সেখানে নবাবের সতর্ক দুষ্টি এডিয়ে মারাঠা দস্্যরা জগৎশেঠের গদী লুঠ করে ছুই কোটি ( মতান্তরে তিন লক্ষ) টাকা নিয়ে চলে গেল। তার সঙ্গে নিয়ে গেল নান! রকমের মূল্যবান খুচরা জিনিষ ।১৯৩ কাশিমবাজার থেকে কলকাতায় চিঠি দিলেন ইংরেজ কোম্পানী ৭ই জুন ১৭৪২ খ্রীষ্টাব্দ "ব বগাঁথ হাঙ্জামার পর কাশিম- বাজার ও পার্খববর্তী অঞ্চলে এমন কি রাজপানী মুশিদাবাদেও নিষম শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে । কুঠির নিকটবতী এক্াধক চুর ডাকাতির প্রতি নবাবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হযেছে। মুহূর্ত বিলম্ব না করে নবাব আলিবদী বগীদের পেছনে ধাঁওয়! করে তাদের কাটোয়া পধ্যন্ত তাড়িয়ে দিলেন। সলিমুল্লা লিখেছেন দেশের সব সম্তান্ত ব্যক্তিগণ তাদের স্তীলোৌক ও সম্পত্তি রক্ষার জন্ত গঙ্গার পূর্বপারে দলে দলে সরে গেলেন। বস্তত পশ্চিমবঙ্গে অর্থাৎ গঙ্গার পশ্চিমপারে মারাঠাদের সঙ্গে মৌকাঁবিল! করতে নবাব প্রস্তুত হলেন । ১৭৪৩ খ্রীষ্টাব্দে বগাঁর হাঙ্গামা আবার গুরু হল। জগৎশেঠ এবার আগে থেকেই সাবধান হয়েছেন। টাকাকড়ি, সম্পদ, বাড়ীর মেয়েদের এমন কি ছোট ছেলে মেয়েদের পধ্যন্ত ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছেন । ম্বয়ং নবাব আলিবদী ও নবাব ভ্রাত। হাজি আহমদও অর্থ ও সম্পদ ঢাকায় পাঠিয়ে দিলেন। তারপর বগীদের একটা! দলকে অর্থ দিয়ে সন্তষ্ট করে অন্য দলকে নবাব যুদে' পরাজিত করলেন । গঙ্গারামের বিবরণী থেকে বগীর অত্যাচারের প্রত্যক্ষদর্শা ভয়াবহতা! জানতে পারা যাঁয়। বাঁ কথার উৎপত্তি মারাঠ| “বাগীঁর+ শব্দ থেকে । সব ণেকে নিয়তম মানের সৈম্তদের এই নামে ভাকা হত। ফেব্রুয়ারী মাস থেকে বরগীর হাজ্ামা সুরু হল । নবাব যুদ্ধ সাঁজে প্রস্তুত হলেন। কলকাতায় ইংরেজ বণিকরা সহরের তিন ধারে পরিথা খনন করে তার নাম দিল মারাঠা ডিচ। আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ১০৯ এই বছরেই ৩০শে মার্চ চৌবিয়াগাছিতে (বহবমপুর থেকে ১০ মাইল বর্তমানে নাম সাবিগাছি। ভাগিরখীর পশ্চিষপারে নবাবের সঙ্গে মারাঠা নায়ক ,পশোয়! বালাভী রাওএর সাক্ষাৎ হয । নবাব বাধষিক ২২ লক্ষ টাকা চৌথ তিসাবে দিতে বাজী হলেন । পেশোষা নিজে রথুজী ভোসলাকে সামলাবার দাখিত্ব নিয়ে কথা দিলেন যে তার দলবল আর বাংল স্বায় অত্যাচার করবে না। এৰপবই কাটোষা থেকে বীরভূম যাত্রী রথুজী ভৌসলাব দণকে আক্রমণ কবলেন নবাব ও পেশে"যাব যৌথ বাহিনী । ১৭৪৩ খ্রীষ্টাদের জুন মাস থেকে ১৭৪৪ শ্রী: ফেবরুষাবী পর্যযন্থ, নয মাসের ক্ষণস্ভাষী শান্দি বাংলায় অন্কভৃত তল ।৯৪ পরবত্সব কিন্তু মাবাঠারা আবাব এল । একদল নষ, ছুইদলই তাদেব অত্যাচাবী বাহিনী দ্িষে বাংলাকে তছনচ কবে দিল। ইতিমধ্যে পেশোয়া 9 ভোসন'্ব মধ্যে বোঝাপড| হয়েছে কাঁজেই নবাবেব সঙ্গে সন্ধির সর্ত ভাওযাঁষ উডে গেল । নবাব বুঝলেন যে বাইশলক্ষ টাকাব বিনিমষে তিন একটিব ভাষগায দ্রঈটি লুব্ধ মাবাগাবাহনীর সাঘনে লুগ্ঠনের ও ধর্ষণের পথ উন্মুক্ত কবেছেন' দ্দিলপী থেকে কোন সাহাধ্য পাওয়া যাবেনা বুঝে নবাব নিজের বুদ্ধির ওপর এবং তাব মন্ত্রণা পরিষদের ওপব নির্ভব কবতে প্রস্তত তলেন। রাড] জানকীরাম এক চমৎকার বুদ্ধি দিলেন । ৩০শে মার্চ ১৭৪৪ শ্ীটাব্ষ, মারাঠা সেনাপতি ভাঙ্কররাম কোলহাতকার যিনি ভাক্কর পণ্ডিত নামেই সমপ্লিক পরিচিত, বাইশজন সৈন্াধ্যক্ষকে সঙ্গে করে নবাব আলিবদদীর সঙ্গে মিলিত হলেন মুশিদাবাদের মানকড় পরগণায়। ভাস্কর পণ্ডিত আশা কবেছিলেন গতবছবে পেশোষাকে যেভাবে নবাব সন্ত করেছেন ২২ লক্ষ টাক দিযে এবারও তাই করবেন । অর্থের ব্যাপারে মারাঠা নাধকগণ কেউ কাউকে বিশ্বান করতেন না। পাছে স্থযোগ পেয়ে ভাঙ্কর পণ্ডিত নিজের ভাগে বেশী টাকা রাখেন তাই বাইশজন সৈগ্ঠাধ্যক্ষ নবাবের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ কারে উপস্থিত ছিলেন। চৈত্র মাস রাজস্ব আদায় সবে সাঙ্গ হয়েছে নবাবের রাজকোষ পরিপূর্ণ । তাছাড়া গতবছর এইদিনেই তো পেশোয়ারেব সঙ্গে নবাবের বোঝাপড়া হয় নগদ বাইশলক্ষ টাকা দেবার প্রত্তিশ্রতি দিয়ে। অর্থলোভ ছাড়া তেইশজন মারাঠা নাকের নবাবের সঙ্গে দেখ! করতে আসার কোন সঙ্গত কারণ পাওয়া যায় না। ষানকড়ের নবাবী শিবিরের বর্ণনা ও ১৯০ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা ইতিহাস মুসলমানী এবং মারাঠা। ইতিহাসে অপূর্ব নাটকীয় রচনা । এই সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে স্বন্দর নাটক সৃষ্টি হতে পারে । বিয়োগান্ত নাটক । আলোচনা চলাকালীন ভাস্কর পণ্ডিত ও তার বাইশজন সহাধ্যক্ষকে নবাবের আদেশে হত্যা করা হয়।৯৫ এই হত্যালীলার নায়ক মীরক্গাফর এবং সহ- কর্মীদের মধ্যে ছিলেন রাজ্যের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধারা আর মীরকাশিম নামে এক সাহসী তরুণ যুবক । এই হত্যাকাণ্ডে তিনি যে বীরত্ব দেখালেন তাতে মীরজ।যর খা তাঁকে তার জামাতা করে ফেললেন । বগীব হাঞঙ্জগামা নিয় অনেক আলোচনা হয়েছে । কিন্তু কেন বার তাঙ্গীম। হল সেটাও বোঝা দরকার | মারাঠারা দস্থা ছিল না। বাংলা বিহারের অত্যাচার করবার তদের ছিল আইনসঙ্গত বাদশাহী অধিকার সেটাই এবার বিবৃত হবে । নিঃসন্দেহে বল! চলে যে বাদশাহী অন্থমোদনই বর্গীর হাঙ্গামার কারণ। ১৭৪৩ খ্রীষ্টাব্দে মার্চ মাসে নাগপুরের রাজ! রথুজী ভোসল! নবাব আলিবরদীর সঙ্গে মিলিত হন। সঙ্গে ছিলেন ভাস্কর পণ্ডিত | এই সময়ে নবাব জানতে পারেন যে দিল্লীর বাদশাহ, মারাঠ। ছত্রপতি সাহুকে বাংপা-বিহার-উড়িয্তার বাধষিক ৩৫ লক্ষ টাকা চৌথ দান করেছেন । একমাত্র সর্ত যে বাঁজা সাহুকে এ চৌণ বাহুবলে আগা করতে হবে । ব্রাজ। সাহু এই চোথ রঘুজী ভৌোসলাকে দান করলেন । দিল্লীর বাদশাহ 1কল্ত ইতিমধ্যে পেশোয়! বালাজীরাওকে এই খবর জানিয়ে দিয়েছেন । পেশোয়। বালীজীর।ও রঘুজী ভোসলার দীর্ঘদিনের শত্রু । কাঁজেই বাদশাহী আদেশে চৌথ আদায় করা এবং রঘুজীকে নিরস্ত্র করবার জন্ঠ বালাজীরাও সসৈন্তে বাংলা বায় প্রবেশ করলেন । রঘুজী ইতিমধ্যে উড়িগ্যায় ঘণটি স্থাপনা করেছেন। স্ৃতরাং বাদশাহী আদেশের ফলম্বপ্ূপ ছুইদল মারাঠাবাহিনী বাংলায় এল এবং অত্যাচারে অনাচীরে বাংলার শ্পীবন দুর্বিসহ করে তুলল। অবশেষে ১৭৫১ গরীষ্টান্দের চুক্তি অন্যায়ী স্ুবর্ণরেখা নদীর ওপারে মারাঠাদের সে যেতে হল এবং তৎকালীন উত্তর উড়িস্বার কিছু অংশ মেদিনীপুর জেলার সঙ্গে যুক্ত হল। শেষ পধ্যন্ত সমগ্র উড়িস্ঠা প্রদেশ ও বার্ধিক ১২ লক্ষ টাক দিতে নবাব স্বীরুত হলে বর্গার উপত্রব সম্পূর্ণভাবে নিরসিত হল ।৯৬ বঙ্গেবগী : নিশিকান্ত বস্থরায় ॥ নিশিকাস্ত বস্ুরায় “বঙ্গে বর্গী” নাটকে নবাব আলিব্দী থার রাজত্বের আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্লা ১৯১ প্রথম চার বছরের ইতিহাস অবলম্বন করেছেন এবং ভাস্কর পণ্ডিতের মৃত্যুতে নাটকের সমান্তি ঘটিয়েছেন। এই নাটকের এঁতিহাসিক কাল ১৭৪০ স্রীষ্টাব্দ থেকে ১৭৪৪ গ্রী্রাব্ব ॥ বঙ্গে বগা ১৩২৮ সালে (1922 89) প্রকাশিত হয় (প্রকাশক গুকদাস চট্টোপাধ্যায এগু সন্স )। একবছরের মধ্যে ১৩২৯ সালে তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হঘ। স্রতরাং নাটক হিশাবে এটি যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল সে বিষয়ে সন্দেহ নাই । নাটকে প্রথম অভিনয় রজনীব তারিখ লেখা আছে, মনোমোহন থিয়েটার শনিবার ২৮শে মাঘ ১৩২৮ সাল । ভাস্কর পণ্ডিতের ভূমিকা খ্যাতনামা অভিনেতা! স্্রেন্্নাথ ঘোষ (দানীবাবু) অপূর্ব অভিনয় করায জনসাধারণের মধ্যে নাটক অত্যন্ত আদৃত হয়েছিল। গল্লাংশে বল! হয়েছে যে ভাস্কর পণ্ডিত নবাব আলিবদীর কাছে এককোটী মুদ্রা ও নবাবের সঙ্গে যে সমস্ত রণহস্তি আছে সেগুলো দাবী করেছেন । দাবীর কারণ স্ব্ধপ ভাঙ্কব পগ্ডিতেব সংলাপ, “বাহুবলে মহম্মদ সাহকে পরাস্ত করে রাজকরের এক চতুর্থাংশ চোখ আদাঁষের ফার্মীন পেষেছি। বাংলায় পদার্পণ করে আমি মা একলক্ষ মুদ্রা চৌথ চেষেছিলাম । তখন আমার সে প্রস্তাব ভিক্ষুকের কাকুতি মনে করে আপনারা গ্রাহ করেনন। আজ আমার চাইবার 'মধিকার হযেছে-_তবু মাত্র এককোটি মুদ্রা চয়েছি। (পাতা ৯॥ ১/২ ) স্তরাং ভাঙ্কর প্িতের বাংলায় আসার কারণ শান্তভাবে তার প্রাপ্য চোথ আদয করা এবং নবাব আলিবরদী খা এই অর্থ দিতে অস্বীকার করায় বিরোধ ঘনীভূত হচ্ছে। প্রথম দৃশ্টেই দেখান হয়েছে বর্ধমানে নবাব অবরুদ্ধ, নবাব দৌহিত্র যুবক সিরাজ পিপাসায় মৃতপ্রায় । অবশেষে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে জানকীরাম জল এনে তৃষ্ণার্থ সিরাজদৌল্লাকে বাচালেন এবং নবাব সঙ্গে সঙ্গে তাকে “রাজা” উপাধিতে ভূষিত করলেন। সিরাজদৌল্লা এই নাটকের এক প্রধান চরিত্র । তাকে উপনায়ক বা প্রতিনায়ক বলা চলে। মোহনলাল এই নাটকে নায়কের মধ্যাদা পেয়েছেন। তিনি বাঙ্গালী বার এবং তাঁর ভগ্নীর নাম মাধুরী । ছইজোড়া গল্প একসঙ্গে চালান হয়েছে। প্রথম গল্প গ্রামস্থ বৃদ্ধ প্রতিপত্বিশালীদের ইচ্ছ! মোহনলালের ভগ্নীর সঙ্গে এক বৃক্ধের বিবাহ হয়। মোহনলাল তাতে আপত্তি করায় তারা রুষ্ট হলেন) তারপর মাধুরীকে বর্গীর। অপহরণ করলে তারা তাকে সেচ্ছায় কুলভ্যারগিনীর কলঙ্ক দিয়ে মোহনলালের ভিটেমারটি উচ্ছন্ন করলেন। ভাঙ্কর পণ্ডিতের ১২৩ ১৯, বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা আম্কুল্যে নিষ্পাপ মাধুরী স্বগ্রামে এসে শুনলেন তাঁদের সর্বস্থ মায় গৃহথানও ভূমিসাৎ হয়েছে। রুষ্ট তিক্ত মাধুরী যখন বগাদের এই গ্রামস্থ হিন্দুদের বধ করার আদেশ দিয়েছেন তথন ভাঙ্কর পণ্ডিত বাধা দিচ্ছেন। ভাস্কর পণ্ডিতের মহত্বে মাধুরী স্থির হলেন বটে কিন্তু বখন ভাস্কর পণ্ডিতের নিজ কন্যা গৌরী আপহাতা হয়ে সিরাজকুঞ্জে নীত হলেন তথন মারাঠা শায়ক আর স্থির থাকতে পারলেন না। সেকথা বলার আগে দ্বিতীয় গল্প । সিরাজ ফৈজীকে ভালবাসেন। কিন্তু ফৈজীকে ব্যাভিচারিণী দেখে তাকে হত্যা করার হুকুম দিলেন। নারীজাতিবু প্রতি ঘোর বিভৃষ্তায় সিরাজ আদেশ দিলেন গ্রাতি রাত্রে তার নিত্যনৃতন সঙ্গিনী চাই এবং প্রতিদিন সকালে তাদের নিয়মিত বধ করা হবে। স্থতরাং নাটকের প্রয়োজনে ভাস্কর পণ্ডতের কন্তা অপহাতা৷ হয়ে সিরাজের ভোগের জন্ত এজেন। এবার নানারকমের মহত্ব শুরু হল। মাধুরী এলেন মারাঠা পক্ষে গৌরীবাঈকে উদ্ধার করতে । নবাব পক্ষে মোহনলাল বাঁধ! দ্রিলেন। সিরাজ গৌরীবাজঈকে ভগ্নী স্বোধনে যথাযোগ্য সম্মানে ফেরৎ পাঠালেন । লুৎফউন্নিসা নামে এক বাদী এই ব্যাপারে প্রচুর মহত্ব প্রকাশ করায় নবাব আলিবর্দী সিরাজদোল্লার সঙ্গে তার বিবাহ দিয়েছিলেন । নাটকের মীরজাফররা চিরকীলই কুচক্রী, কাজেই সিরাজ তাকে হীরাঝিলের গোপণকধধায় ফেলে বিভ্রান্ত করলেন। বুদ্ধ নবাব আলিবর্দী সিরাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন । ওদিকে কন্তাকে হারিয়ে ভ্বান্কর পণ্ডিত উন্মাদপ্রায় .ধবংসলীল৷ সুরু করেছেন । চমৎকার সংলাপের ভাষ-আজও বাংলাকে শকুনী গৃধিণী শ্গালের বিলাস-কাননে পরিণত করতে পারশি_ এখনও রক্তের সমুদ্র, কঙ্কালের প্রাহাড় তৈরী হয়নি__-আঁজও অভিশপ্ত দেশটাকে ভেজেচুরে পিষে সাগরে বিলীন করতে পারনি-কি করেছ! কি করেছ মূর্খ অকর্মন্ত অপদার্থের দর ।” উত্তরে তার প্রধান সহকারী তানোজী বলেহেন--যা করেছি, শয়তানও বোধহয় তা করতে আতঙ্কে শিউরে ওঠে । মায়ের বুক থেকে ছেলে ছিনিয়ে এনে মায়ের সন্মুথে তাকে হত্যা করেছি.*'শোকসন্তপ্তা জননীর হাহাকারে ভরা বুকথানি পদ্দাঘাতে চূর্ণ করে হাসতে হাসতে চলে এসেছি। শিশুর থেকে অসহায় বুদ্ধ, যম যাকে স্পর্শ করতে দ্বণায় মুখ ফিব্রিয়ে নেয় তারও--তারও বক্ষে অল্লান-বদনে শেল বিধিয়ে দিয়েছি ।..'যজ্ঞোপবীত আলিব্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ১৯৩ দেখে ভরাইনি, ব্রহ্মহত্যায় কু্ঠিত হইনি, মাতৃজাতির ধর্ম নিয়ে__পণ্ডিতজী-_ পণ্ডিতজী-আর আমি সেই পাপ চিত্রের কথা স্মরণ করতে পারছিনা |, (১৪৫-১৪৬ পাতা ৪/৬) ইত্যাদি। ইতিমধ্যে গৌরীবাঈ পিতার কাছে ফিরে যাচ্ছেন। ভাস্কর পণ্ডিত যুদ্ধ উন্মাদ, কন্তাকে তোপের মুখে উড়িয়ে দিলেন। তাই শেষ ধূশ্ে ভাস্কর পণ্ডিত নবাবের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন তাকে গুপ্তহত্যা করার খবর পেয়েও । কন্ঠ! হত্যার প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ তিনি ধেন বিশ্বাসঘাতক নবাবের অস্ত্রের তলায় আত্মবলী দ্রিলেন। তাই তার মরণ বাঞ্ছিত, কন্ঠার সঙ্গে মিলনের স্বপ্নে বিভোর । হত্যাকাণ্ড ঘটে যাবার পর মহৎ চরিত্ররা বথ৷ সিরাজ, মোহনলাল ও মাধুরীর প্রবেশ, সংলাপ “বড় দেরী হয়ে গেল । বঙ্গে বগী নাটক পাঁচ অক্কে সমাপ্ত। পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৭৬। প্রথম অস্কে নয়টি দৃশ্য (১ থেকে ৪১ পাতা ), দ্বিতীয় অঙ্কে নয়টি দৃশ্ত (৪২ থেকে *২ পাতা ), তৃতীয় অস্কে ছয়টি দৃশ্য (৯৩ থেকে ১২৪ পাতা ), চতুর্থ অস্কে সাতটি দ্ৃশ্ত (১২৫ থেকে ১৫১ পাতা ) ও পঞ্চম অঙ্কে পাঁচটি দৃশ্ত (১৫২ থেকে ১৭৫ পাত1)। ভূমিকায় নাট্যকার, অগ্রজতুল্য শ্রীস্থরেন্্রনাথ ঘোষ (দানীবাবু) এবং স্থসাহত্যিক অবিনাশচন্দ্র গজোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একথা আর একবার নিঃসন্দেহে স্বীকার করা চলে ষে কেবল নাটক হিসাবে বঙ্গে বগী উচু দরের নাটক। প্রত্যেক ঘটনার কার্য্য- কারণ দেওয়। হয়েছে । বগাঁর অমানুষিক অত্যাচার এবং সিরাজদৌল্লার সম্ভোগ পিপাসার পেছনে ব্যক্তিগত ঘটনার কারণ দেখিয়ে সীমাবদ্ধ কর! হয়েছে। আত্মদানের মহত্বে ভাস্কর পণ্ডিতের মৃত্যু এক অতি মহৎ কীতি হয়ে দাড়িয়েছে । নাটকের সমালোচনা করার আগে তাই নাট্যক?রকে সাধুবাদ জানাই । প্রতিহাসিক ঘটনার ভিত্বিতে তিনি সুন্দর এক নাটক বাংল! সাহিত্যকে দিয়েছেন অথচ অন্ত অনেকের মতে! তাকে এতিহাসিক নাটক আখ্যা দিয়ে মিথ্যাচার করেননি । সাধুতার দ্রিক থেকে নিশিকাত্ত বন্রায় মহাশয় আমাদের নমস্ত | বঙ্গে বগা নাটকের ইতিহাস ষে সম্পূর্ণভাবে প্রক্ষিগ্ত সে কথা বলাই বাহুল্য। ভাস্কর পণ্ডিত কোন বাদশাহকে কখন পরাজিত করেননি বা চৌথ আদাঁয়ের কোন অধিকার তার ছিল না। তিনি নাগপুরের মারাঠা অধিকর্তা ১৯৪ বাংল! ধতিহাসিক নাটক সমালোচনা রঘুজী ভৌসলের কর্মচারী হিসাবেই বাংলায় আসেন এবং লুঠনে অত্যাচারে দেশকে জর্জরিত করেন। তার মৃত্যুতে বাঙ্গালী স্বস্তি পেয়েছিল। ভাস্কর পণ্ডিতের মৃত্যুর পরও কিন্তু মারাঠা আক্রমণ বা বগীর অত্যাচার থামেনি । প্রতি বছর অর্থাৎ ১৭৪৫১ ১৭৪৬১ ১৭৭৭১ ১৭৪৮১ ১৭৪৯১ ১৭৫০ ও ১৭৫১ শরীষ্টাব্দেও বাংলায় নিয়মিত মারাঠা আক্রমণ হয়েছে এবং নবাব তাদের দমন করতে সৈন্যবাহিনীর পুরৌধায় ছুটে বেরিয়েছেন। ৬৪ বছর বয়স থেকে ৭৩ বছর বয়স পর্যযস্ত নবাব আলিবর্দী অশ্বীরোহণে নিজে বারবার সৈম্যবাহিনীকে পরিচালনা করেছেন। বৃদ্ধ নবাবের এই কর্মঠতা খুবই প্রশংসাযোগ্য। বঙ্গে বর্গীতে যে স্থবির নবাব আকা হযেছে যিনি সহজে কোনকাজেই মনস্থির করতে পারেন না, ্রতিহাসিক নবাব চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত | স্থতরাং দেখা যাচ্ছে নাট্যকার প্রধান দুই প্রতিপক্ষ অর্থাৎ ভাস্কর পণ্ডিত ও নবাব আলিবদীীকে যেভাবে দেখিয়েছেন এবং বিরোধের যে কারণ বলেছেন তা সবই ইতিহাস বিরোধী এবং কাল্লনীক ।১৭ অন্য চরিত্রগুলির মধ্যে সিরাঁজদৌল্লা, মোহনলাল ভগিনী, লুৎফউ ন্নিসা বাদী ও ফৈজী এ্তিহাসিক চরিত্র এবং সিরাজদৌল্লার জীবনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ১৭৪৪ খ্রীগান্ধে অর্থাৎ ভাস্কর প্ডিতের গুপ্ত হত্যার সময় সিরাজের বয়স মাত্র ১১ বৎসর (জন্ম ১৭৩৩ শ্রীঃ)। স্থতরাং সিরাভকে কেন্দ করে সমস্ত ঘটনাই কাল্পনিক ও অনৈণ্তহাসিক। সিরাজদোল্লা সম্পর্কে আলোচনার সময় এই বিষয়গুলি আবার উল্লেখিত হবে। মিরজাফর চরিত্র এই নাটকে অন্যতম উল্লেখযোগ্য চরিত্র । তাকে তার পরবতী পরিচয় অনুযাক্সী থল নায়কের ভূমিকা দেওয়া হয়েছে । এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে নবাব আলিবর্দা নিজ হাতে রাজ্যশাসন করতেন, তাঁকে বাজে কথায় তুল বোঝান কঠিন ছিল । কঠোর চেষ্টায় নবাব আলিবর্দী বাংলায় শাতিস্থাপন! করেন। ১৭৫১ খ্রীষ্টান্বের পর থেকে নবাব আলিবদীর মৃত্যু পধ্যন্ত বাংলার অর্থনৈতিক উন্নতি একান্তভাবে লক্ষণীয় এবং অত্যন্ত প্রশংসাযোগ্য । উপ- স্ধহারে একথা নিশ্িম্তভাবেই বলা চলে যে বঙ্গে বর্গী নাটক পরিপূর্ণভাবে কাল্পনিক গল্প । 'মোহনলাঁল এই নাটকের এক মুখ্য চরিত্র । বলা হয়েছে তিনি বাঙ্গালী, মহান ও ভায়পরায়প। তাস্কর পণ্ডিতের প্ত হত্যা বন্ধ করতে ভিনি চেষ্টা আলিবদী থা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ১৯৫ রেছেন নাটকে দেখান হয়েছে । বলা বাহুল্য এগুলি সবই তুল তথ্য। মোহনলাল কাশ্মীর নিবাপী এক যুদ্ধ ব্যবসায়ী । তার সঙ্গে নবাব দৌহিত্র সিরাজদৌল্লার সখ্য ১৭৪৭ গ্রীষ্টাবন্বের আগে হয়েছে এমন কোন প্রমাণ নাই। উপরস্ত ১৭৪৮ স্ত্রীষ্ঠাব্ষে হয়েছে এটাই প্রমাণ সাপেক্ষ । ১৭৪৮ ্ীষ্টাব্দে মোহনলাল তার ভগ্রিকে সিরাজের কাছে বিক্রম করেন। এই স্থন্দরী মহিল| সিরাজের প্রিয় সহচরী হয়ে লুৎ্ফউক্সিসা নামে জনসমাজে পরিচিত হলেন। ১৭৪৮ খ্রীষ্টাব্দে গোশকটে পাটন। যাত্রার সময় সিরাজদৌল্লার সঙে লুৎফউন্নিসার উল্লেখ দেখা বায়। লুৎফউন্ধিস! প্রসঙ্গে বিশদ বিবরণ পরে দেওয়। হবে। এই নাটকে উল্লিখিত ফৈজীর ঘটন! সত্য ।৯৮ মুতাক্ষরীণ অনুযায়ী ফৈজী ছিলেন দিল্লীর এক নর্তকী (বাঈভী বল। চলে )।. তাকে এক পক্ষ টাকাষ সিরাজদৌল্ল! ক্রয় করেন। ফৈজীর রূপলাবন্কের বিবরণ, নিরাজের ভগ্নিপতি সৈয়দ মহম্মদ খার (গোলাম হোসেন নয় ) সঙ্গে তার অবৈধ প্রণয় এবং অবশেষে প্রতিহিংসা পরায়ণ সিরাজের ক্রোধে ফেজীর নৃশংস হত্যা মুতাক্ষরীণ অনুসরণে নিখিলনাথ রায় বিবৃত করেছেন ।১৯৯ এই ঘটনার সময় সম্ভবত ১৭৪৭-৪৮ খ্রীষ্টাব্দ অন্তত তার আগে নয় অর্থাৎ সিরাজের বয়স তথন চোদ্দ পনের । অপরিণত নবাব দৌহিত্রকে ফেলে তার পরিণত ভগ্মিপতির প্রতি আকর্ষণ তাই স্বাভাবিক কারণেই হতে পারে ।' অন্থমান কর! যাচ্ছে ফৈজীকে হত্য! করার পর লুৎ্ফউন্সিসাকে পিরাজ ক্রয় করেন (জারিয়া )। এবিষয়ে সঠিক কিছু বলা কঠিন॥ ফৈজীর ঘটন] পরবর্তীকালে ঘটাও অসম্ভব নয় তবে কোন ক্রমেই ১৭৪৭-৪৮ খ্রীহান্বের আগে নয়। বাঙ্গালী বীর মোহনলাল এবং তার ভগিনী মাধুরী সম্পূর্ণভাবে ইতিহাসের সম্পর্কহীন কাল্পনিক চরিত্র একথা বলার অপেক্ষা রাখেন]। সিরাজদৌল্ল। ॥ এবার এঁতিহাসিক সিরাজদৌল্লার সম্পর্কে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা যাক। সিরাঁজদৌল্লার পুরো! নাষ মির্জা মহন্মদ্র সিরাজদৌল্লা। ইনি আঙিবদ্দী খাঁর কনিষ্ঠা কন্তা আমিনা বেগম ও হাজি আহমদের কনিষ্ঠ পুত্র জৈন্ুদ্দিন আমেদ খা হৈবতজঙজএব প্রথম পুত্র। তার ছুইভাই যথাক্রমে মির্জ! কাজিম ও খির্লা মেছেদী নামে পরিচিত। এদের কথা কিছু আগেই বল! হয়েছে । সিরাজ ১৯৯৬ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা জন্মের পর থেকেই মাতামহের কাছে মানুষ । অত্যধিক আদরে, বিলাস- ব্যসনে ও স্থরাপানে তরুণ সিরাজ অল্প বয়সেই উচ্ছন্মে যাবার সব গুণের অধিকারী হলেন। ইতিহাসে তার প্রথম উল্লেখ পাওয়! যায় ১৭৪৬ খ্রীষ্টাব্দে অর্থাৎ মাত্র ১৩ বছর বয়সে । মির্জা ইরাজ খার কন্তা ওমদাঁতউন্লিসার সঙ্গে সিরাজের বিবাহ অত্যন্ত জাকজমকপূণ ঘটনা । নবাব আলিবদী প্রিয়তম দৌহিত্রের বিয়েতে প্রচণ্ড স্ফৃতির বস্তা ডাকিয়েছিলেন।২০ ১৭৪৬ থেকে ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্ের মধ্যে এটাই সিরাজদৌন্লার প্রথম এবং একমাত্র বিবাহ । অন্য কোন বিবাহের সংবাদ কোথাও পাওয়া যায় না। নিঃসন্দেহে বলা চলে ওমদাতউন্লিসপা সিরাজের একমাত্র মহিষী। স্বামী ভ্রীর মধ্যে কোন সম্প্রীতি ছিলনা । এই বিবাহের কোন সন্তান নাই । নবাব মহিষীর দীর্থজীবনের অবসান হয় ১০ই নভেম্বর ১৭৯৩ মুখ্রিদাবাদ সরে ।২৯ মো'গল সাম্রাজ্যের অবসান বেগম ওমদ্বাৎউন্লিসা বা উম্দাতউন্লিসা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করলেন। বসে বসে দেখলেন বাংল স্থবার অবলুণ্তি। সিরাঁজদৌল্ল! সম্পর্কে ইতিহাপচর্চার পরিপূর্ণ স্ুবোগ রয়েছে । বিভিন্ন ব্যক্তির লিখিত নানা রচনা এই সময়ের ওপর আলোকপাত করে । ভারতীয় সমসাময়িক এউতিহাসিকদের লেখা অনেক বই আছে। সৈয়দ গোলাম হোসেনের লেখা “সিয়ার-উল-মুতাক্ষরীণ এই সময়কার ইতিহাসের এক মূল্যবান আকর গ্রন্থ । সৈয়দ গোলাম হোসেন পাটনায় জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেন এবং এ্তিহাসিক হিসাবে খ্যাতিলাভ করেন। তার গ্রন্থে ১৭০৭ গ্রীষ্টাব্ষ থেকে ১৭৮০ শ্রীষ্টান্বের ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ আছে। সৈয়দ গ্রোলাম হোসেন কিছুদ্দিন পৃণিয়াতে বসবাস করেন । নবাব আলিবর্দীর মৃত্যুর পর ইনি পাটনায় চলে যান। আর একটি বইএর নাম “মুজাফ ফরনামা লেখক করম আলি। এই বইথাঁনিতে ১৭২২ থেকে ১৭৭২ শ্রীপাব্দ পর্য্যস্ত স্থবে বাংলার ইতিহাস লিখিত আছে। ইনি ঘোড়াঘাটের ফৌজদার ছিলেন। নবাব 'মালিবর্দীর মৃত্যুর পর ইনিও প্রথম পূরিয়াছে ও পরে পাটনায় পলায়ন করেন । ইংরেজদের কাশিমবাজার কুঠির রোজনামচ1 বা ফ্যাকটরি রেকর্ড ইতিহাসের মূল্যবান স্ত্র। এছাড়া কলকাতার কাউন্সিলের দৈনন্দিন কর্মের বিবরণী, লগুনের ও কাশিমবাজারের দঙে কলকাতা অফিসের চিঠির আদানপ্রদান অত্যন্ত শুল্যবান। অনেক কাগজপত্র কলকাতা আলবা্গ খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ১৯৭ জয়ের সময় নষ্ট হলেও যা পাওয়া যায় তাতে সিরাজদৌল্লার জীবনী সুন্দর- ভাবেই লেখা যায়। ইংরেজীতে লিখিত দরকারী কাগজপত্রের মধ্যে ক্লাইভ, ওয়াটসন, স্রাফটন, ওয়াটন্‌, কুট প্রভৃতির চিঠিপত্র পাওয়া যায়। কুট আর ওয়াটসনের রোজনামচার বই আছে। এছাড়া ১৭৫৭ খ্রী্টাবে ওয়াটস্‌ পালিয়ে এলে সে বিষয়ে কলকাতায় তাকে লিখিত প্রশ্রের উত্তর দিতে হয় । পরে ওয়াটসেব সহকাঁরী কোলেটকে প্রশ্ন করে ওয়াটসের কথার সত্যতা যাচাই করা হয়। উল্লেখসোগ্য যে মীরজাফর খাঁর সঙ্গে ৫ই জুন ১৭৫৭ খ্রষ্টান্দের সেই বিখ্যাত চুক্তিব পরও ওয়াটসকে জবাবদিহি করতে হয় । এই সময় থেকে একবছর আগে অর্থাৎ ২রা জুন ১৭৫৩৬ খ্রীঃ সিরাজদৌল্লাকে বিনাধুদ্ধে কাশিমবাঁজার কুঠির দখল দেবার জন্যও ওয়াটস্‌ সাহেবকে জবাঁবদ্দিভি করতে হয় । এই সমস্ত কাগজপত্র দেখা কঠিন নয়। চন্দননগরে ও পলাশীতে সৈন্য হতাহতের জন্য কর্নেল ক্লাইভকে পলাশীর যুদ্ধ সম্পর্কে সাক্ষী দিতে হয়। এগুলি প্রচুর সংবাদের উৎস। সিরাঁজদৌল্লা সম্পর্কে সব থেকে মূল্যবান সংবাদ উৎস জালার স্থ্বতিকথা । জালা ছিলেন কাশিনবাজারে ফরাসী কুঠির প্রধান । নবাবের ইনি গুভাম্ু- ধ্যায়ী ছিলেন এবং নবাব সিরাজদৌল্ল[র সঙ্গে প্রীতিপূর্ণ ব্যবহার করতেন। নিজের জীবন বিপন্ন করে জীঁ লা সাহেব সিরাজকে উদ্ধারের জন্য ছুটে আস- ছিলেন। সিরাজ তাঁকে ফেলে যখন একাই পলাশীতে বুদ্ধ করতে গেলেন তখন জঁ। লা তার অনুচর সীফ্রকে পাঠালেন । কোনক্রমেই ঈ্াফ্র যেন নবাবকে ত্যাগ না করে এই ছিল নির্দেশ । এই সীফ্র যাকে কেউ কেউ সিনফ্রে লেখেন পলাণীতে সর্বাধিক ইংরেজ সৈন্য বিনষ্ট করেন। নিজের বিমুঢ়তায় সিরাজ যখন ভগবানগোলায় বন্দী হলেন জালা সাহেব তখন মাত্র ত্রিশ মাইল দুরে, সৈন্ত সামন্ত নিয়ে অপেক্ষমান । ল! সাহেব সিরাজের রাজ অভিষেক থেকে অর্থাৎ ১৫ই এপ্রিল ১৭৫৬ থেকে “তিনি নিজে কাশিমবাজার ত্যাগ করা পর্যন্ত অর্থাৎ ১৬ই এপ্রিল ১*৫৭ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত বহু ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন । ঈীফ্রর সঙ্গে তার পত্রের আদানপ্রদানও নবাব চরিত্রের বহু বিচিত্র দিককে স্পষ্ট করেছে। আর একটি সুত্র আছে খুবই বৈচিত্রপূর্ণ। কলকাতার সমাজে পরবর্তাকালে ধিনি বেগম জনসন নামে খ্যাতি ও অখ্যাতির শীর্ষে আরোহন করেন তিনি প্রথম যৌবনে ওয়াটন্‌ সাহেবের স্ত্রীক্পপে কাঁশিম- ১৯৮ বাংল! এতিহাঁসিক নাটক সমালোচনা বাভারে অবস্থান করতেন। ১৭৫৬ শ্রী কাশিমবাজার কৃঠি অভিযানে নবাব নাকি তার প্রতি আকুষ্ট হন। বেগম জনসনের সিরাজদৌল্লার সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার পরিচয়ের সংবাদ খুবই উত্তেজনাপূর্ণ কিন্তু সত্য কিনা সন্দেহ আছে। সিরাজদৌল্লা সম্পর্কে দীর্থ আলোচনার মধ্যে না গিয়ে তার সম্পর্কে জানিত ঘটনাগুলি কালুহ্ক্রমিকভাবে সাজালে বহু প্রশ্নের সমাধান হবে যাবে । প্রথমে ১৭৩৩ থেকে ১৭৫৬ গ্রীষ্টাব্ের ঘটনা দেখা যাক । ১৭৩৩ খ্রীষ্টান -_ জন্ম পাটনা । ১৭৪৬ ১. -_ মুশিদ্রাবাদে বিবাহ । ১৭৪৭ ১» -_ ফৈজীকে ক্রয় ও হত্যা । ১৭৪৭-৪৮ ১, -_ যোহনলালের ভগিনীকে ক্রয় (জারিয়া ১৭৪৮ ৮» __ লুৎফউন্নিসার সহিত গোঁশকটে পাটনা যাত্রা । -__ পাটনার ঘটনাবলী ও মুশিদদাবাদে প্রত্যাবর্তন 1 ১৭৫৩ » -_ ইংরেজ কোম্পানী সিক্কের সম্ভার ও অন্যান্য উপটৌকন দেয় । ১৭৫৪ » -_ হুসেন কুলি থাকে হত্যা । (কাশিমবাজার ফ্যান্টরির ১৭ই ফেব্রুয়ারী ১৭৫৫ এর পত্রে এ খবর জানান হয়েছে ) ১৭৫৬ ১১ -- নবাব হওয়া । সিরাজদৌল্লার চরিত্র বুঝতে হলে নবাব হবার আগেকার ঘটনা অন্ু- ধাবন করা দরকার । ১৭৪৬ শ্রীষ্টাব্ে বিবাহের পর কয়েকট! মাত্র উল্লেখ আছে সিরাজের নবাব হবার আগে। প্রথম উল্লেখ ১৭৪৮ খ্রীষ্টাব্ধ | নবাব আঁলিবর্দীর পক্ষে অত্যন্ত দুর্ধসর | বিহারের শাসনকর্তার পদে সিবাজ- পিতা জৈন্গদ্দিন আহমদ খাঁকে নিষুক্ত করেন নবাব আলিবর্দী খা। তখন থেকেই তিনি সপর্িধারে পাটনায় থাকতেন। বুদ্ধ নবাব ভ্রাতা হাজি আহ্মদও রাজকার্য থেকে অবসর গ্রহণ-করে পাটনায় ছেলে বৌএর সঙ্গে থাকতেন। বিহারের রাজধানী পাটন|, শুকনো আবহাওয়ায়, বৃদ্ধের শরীর, মুর্শিদাবাদের জোলো! হাওয়া থেকে ভালই থাকত। কিন্ত সুখ সহ হলনা । চরম আবিমুশ্বকারিতায় জৈম্র্দিন আহমেদ ৩০০০ পাঠান অস্বা- রোহীকে স্থায়ী চাকরীতে বহাল করেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই জৈহ্দিনের ব্যবহারে ক্ষুধ হয়ে পাঠান সৈনিকরা বিজ করল। জৈহদ্দিন আলিবদদী খ। ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ১৯৯ তাদের হাতে নিহত হলেন। রাজকোষের খবর পাবার জন্ত পাঠানরা! বৃদ্ধ হাজি আহমদের ওপর এমন অত্যাচার করল যে কারাগারেই তার মৃত্যু হল। আলিবদীকন্তা আমিনা বেগম হলেন বিদ্রোহীদের হাতে বন্দী। বগাঁদের সঙ্গে যুদ্ধ করা স্থগিত রেখে বৃদ্ধ নবাব তখনই পাটনা বাত্র! করলেন । পাঠানদের বুদ্ধে ছত্রভঙ্গ করে নবাব আলিবর্দী সহর দখল করে কন্ঠাকে মুক্ত করলেন।২২ সিরাজকে এবাব্র পাটনায় আসার জন্য খবর পাঠান হল। সিরাজ তার অতি প্রিয় একজৌডা বলীবর্দচালিত শকটে সগ্ব্রশতা দাসী লুৎফউন্নিসাকে সঙ্গে করে পাটনা যাত্রা! করলেন। এই বলীব্দ দুইটি সম্পর্কেও পুর্ণ বিবর্ণ বর্তমান। এদের রং ছিল তুষারশ্বেত, জাতি ছিল গুজরাটি, এবং উচ্চতায় এত প্রকাণ্ড ছিল যে মাটিতে দীড়িয়ে তাদের ককুধ স্পর্শ করা কঠিন ছিল। অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির বলীবর্দদ্বয় বারশত টাকায় ক্রীত হয়। পরবতীকালে মীরজাফর খ! নবাব হলে তিনি এই দুইটি ওয়াটদ্‌ সাহেবকে দান করেন।২৩ মুতাক্ষরীণে স্পষ্টই লিখিত আছে “সিরাজদোল্লা তাহার সহচরী লুৎফউন্নিসাকে সঙ্গে করিয়। গোশকটে আরোহন করি প্রস্থান করেন।” পিতা ও পিতামহের মৃত্যু ও মাতার বন্দীত্বের খবর পেয়ে জিরাঁজদৌল্লা গোশকটের থেকে দ্রুতগামী কোন যান ব্যবহার করলেন না। সঙ্গিনী একমাত্র তার জারিয়া বা! 80170-177810 ব! ক্রীতদাসী । পাটনায় নবাব আলিবর্দী ইতিমধ্যে শাস্তি স্থাপন করেছেন। মৃত জামাতার জায়গায় নবাব আলিবদ্দী দৌহিত্র সিরাজদৌল্লাকেই নামমাত্র শাসন- কর্তা নিযুক্ত করে তার বিশ্বস্ত দেওয়ান রাজা জানকীরামের হাতে বিহারের শাসনভার অর্পণ করেন। পাটনা বিদ্রোহের তারিথ ১৭৪৮ সালের জানুয়ারী মাস। মুশিদাবাদে ফেরা মাত্র পাটনায় খবর চাঞ্চল্য সৃষ্টি করল। পঞ্চদশ- বর্ধীয় সিরাজ শাসনকার্ধ্য ব৷ বুদ্ধবিষ্যায় পটুত্ব লাভ না করলেও অপকষ্ে বেশ পারদশী হয়েছিলেন। চাটুকার ও বিলাসসঙ্গীদের কুপরামে তিনি প্রবীণ রাজা জানকীরামকে পদচ্যুত করে স্সেহময় মাতামহ স্বরং নবাবের বিক্ষদ্ধে ফড়মন্ত্র স্বর করেন । এইসব খবর পেয়ে নবাব আলিবর্দী সিরাজকে মুশিদাবাদে নিকের কাছে তাড়াতাড়ি নিয়ে এলেন। জানকীরামই বিহারের শাসনকর্তার পদে পরিপূর্ণভাবে নিধুক্ত হলেন ।২৪ বস্তত বিলাস পরায়ণতা, সুরাপান ও কামিনী সম্ভোগ তখনকার নবাবী ২০০ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা রীতিনীতির অন্তর্গত ছিল। ব্যতিক্রম কেবল মুশিদকুলি খা ও আলিবর্দী খা। এক্রামৌদৌল্লা, সওকতজঙ্গ বা সিরাজদৌল্লা একই পদ্ধতিতে জশীবন- যাপন করতেন। তবে সিরাজ ছিলেন সব থেকে আদরের নীতি, দ্াছুর সাআাজ্যের উত্তরাধিকারী তাই সব বিষয়েই তার প্রতাপ কিছু বেশী ছিল। সমাজের উচ্চত্তরের জ্রীবনযাত্রার এই ছিল রূপ। নবাবের দৌহিত্র! যে বিলাসপরায়ণ হবেন এটাই শ্বাভাবিক । এই বিলাসপরায়ণত। নবাবী মহিলাদের মধ্যেও প্রচলিত ছিল । নবাব কন্ঠাদের প্রমোদের কাহিনী যেমন কদর্য তেমনি কুৎসিত । হোসেনকুলি খাকে নিজের আয়তে রাখার জন্ত ঘসেটি বেগম ও আ মনা বেগম যে জঘন্ত প্রতিযোগিতার অবতারণা করেছিপেন তা কামনা ও দেহলিগ্সার সব মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়ে আসঙ্গ পিপাসার এক নূতন নরকের পরিচয় দেয়। নবাব কন্ঠাদের এই কীতির কুশ্রীত। সিরাজদোল্লাকেও বিচলিত করেছে । তাই রাস্তার মাঝথানে দিনের আলোয় সবার সামনে সিরাজের অন্ুচরেরা হোসেনকুলি খাকে যখন থণ্ড বিথণ্ড কবে কেটে ফেলল কেউ এটাকে অস্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করেনি । আচাধ্য যছুনাথ সরকার এই ঘটনার সময় নির্দেশ করেছেন ১৭৫৪ গ্রীষ্টাব্দের এপ্রিল মাস। মাবাঠাদের সঙ্গে সন্ধি স্থাপিত হয়েছে ১৭৫১ খ্রীষ্টাব্দে। দ্রেশে তখন শান্তি বিরাজ করছে। কাশিমবাজার কুঠি থেকে হংরেজ কর্মচারী হোসেনকুলি খা ও তার ভ্রাতার ভত্যাকাহিনী কলকাতার অফিসকে জানাচ্ছেন ১৭ই ফেব্রুয়ারী ১৭৫৫ ।২৫ নবাব আলিবদীর জীবনের শেষ কয় বৎসর ১৭৫১ থেকে ১৭৫৩ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার বাবসায়িক প্রসার লক্ষনীয়। বাঙ্গালী ব্যবসায়ীরা রেশমের কারবারে প্রচুর লাভ করেন । ছোট ছোট ব্যবসায়ী ও দাদনীদার বছরে কুড়ি থেকে ত্রিশ হাজার টাকার লেনদেন করেছেন। শুধুমাত্র ইংরেজ ইঠ্ট ইণ্ডিযা কোম্পানী ১৭৫১-৫২ শ্রীষ্টাব্ধে তেত্রিশ লক্ষ ছেষটি হাজার পঞ্চাশ সিক্কা টাক! বাংলার ব্যবসায়ে লগ্নী করেন। সুতরাং দিদ্ধান্ত করা যায় যে একটি বিদেশী কোম্পানী যখন ৩৩,৬৬১০৫* সিকা টাকা লম্নী করেছেন তথন দেশে নিয়ম-শৃঙ্খল! ও শাস্তি বিরাজিত ছিল। এই সময় শিল্প ও বাপিজ্যের প্রসার হয়। বাংলার রেশম এই সময় থেকে পৃথিবীর বিপনীতে স্থনামঅর্জন কর সুরু করে এবং ক্রমে তার চাহিদা বাড়তে থাকে ।২৬ আলিবর্দী খ| ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২০১ পলাশীর যুদ্ধে বাংলার তথা ভারতের পরাধীনতার সুরু হয়েছে বলে প্রচলিত বিশ্বাস । পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজদৌল্লা পরাজিত হন। পলায়নরত অবস্থায় তাকে বন্দী করা হয় এবং ২রা জুলাই ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে কারাগারে গুপগ্তধাতক তাকে হত্যা করে। বিংশ শতাব্বীর সঙ্গে সঙ্গে ভারতবধে রাজনৈতিক চেতনার পরিপূর্ণ বিকাশ। এই নবজাগরণের প্রকাশ হয়েছে কাবো-সাহিত্যে । পরাধীনতার কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাবার জন্য দেশের নেতার! জনসাধারণকে উদ্ব,দ্ধ করলেন । সাহিত্যিকর| তুলে ধরলেন অতীত গৌরবের চিত্র। প্রতাঁপসিংহ, রাজসিংহ, শিবজী প্রভৃতি দেশনায়কগণ স্বাধীনতাকামী ভারতবাশীর প্রতিভু হয়ে দ্রাড়ালেন। ব্রাণ প্রতাপের প্রভায় বাংলার প্রতাপাদিত্য ও বারভূইঞ্গণ সমাদৃত হলেন। পলাশীর পরাজয় ও সিরাজের নৃশংস হত্যা তার জীবনের বিফলতাঁকে উপন্যাসের উপজীব্য করে তুলল । ইতিহাস উপেক্ষা করে নবাব সিরাজদোল্লা সাহিতাক নাট্য- কারদের দয়ায় দেশভক্ত বীর রূপে আখ্যাত হুলেন। তাদের প্রায় শতাব্দীকালের চেঙ্গায় সিরাজদোল্ল! বাঙালীর নয়নের মণি, ভারতের অস্ধান্ত বীর যোদ্ধা ও দেশপ্রেমীর প্রতিফলনে তিনিও এক মহান জননায়কে রূপান্তরিত । তিনি এবং তাঁর বন্ধবগ সকলেই দেশহিতৈষীব্ূপে চিত্রিত এবং তাদের মৃত্যু সর্বদাই দেশের পক্ষে এক দুর্ঘটনা । ইতিহাস সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে। বলে সিরাজদৌল্লা, মোহনলাল বা ফরাসী সিনফ্রে বা সীফ্র কেউ উৎসর্গীকৃত প্রাণ শহীদ ছিলেন না । সাহিতোর ক্রমবিকাশ ও সিরাজ চরিত্রের পরিবর্তন এবং যথার্থ &তিহাসিক ঘটনা এবার বিবৃত হবে । সিরাজদৌল্লাকে নিয়ে যে আটথানি নাটক রচিত হয়েছে সেগুলি নীচে কালাঙ্চক্রমিকভাবে সাজান হল। নবীনচন্দ্র সেনের “পলাশীর যুদ্ধ” কাব্য, নাটক নয় কিন্তু এটিও নাট্যকৃত হয়ে অভিনীত হয়েছে এবং “দেশপ্রেমী সিরাজদৌল্লাঠ বিষয়ে এটাই প্রথম রচনা তাই “পলাশীর যুদ্ধকে এই আলোচনার অন্তভূক্ত করা হল। বস্তত পলাশীর যুদ্ধ রচিত না হলে সিরাজদোৌল্লা কখন কাব্য ও সাহিত্যের, বিশেষ নাটকের বিষয়বস্ত হতে পারতেন কিনা সনেহ । ১। পলাশীর যুদ্ধ -- নবীনচন্ত্র সেন ১৮৭৫ প্রকাশ ২। নবাব সেরাজুদৌল্লা _ লঙ্গীনারায়ণ চক্রবর্তী ১৮৭৬ ১১ ২০২ ৩। ৪ । €& | ৬। প্‌ । ৮ | এবং বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন! সিরাজদৌল্ল। _ গিরিশচন্দ্র ঘোষ ১৯০৫ ১ সিরাজদোল্লা _ শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ১৯৩৮ ৯ সিরাজের ত্বপ্বা _- বঙ্কিমচন্দ্র দাসগুপ্ু ১৯৪২ ০৯ পলাশী _. হীরেন্দ্রনারায়ণ মুখোপাধ্যায় ১৯৪৫ ৯ রামপ্রসাদ _. তারক মুখেপাধ্যায় ১৯৪৬ ১১ মোহনলাল _- শীতাংশু মৈত্র ১৯৫৩ ১, এই নাটকগুলির মধ্যে দিয়ে তৎকালীন বাংলার বিশেষ পলাশীর যুদ্ধের সমসাময়িক ঘটনার রূপ সম্পূর্ণ বিকৃতভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে। ভুলের উপধ্যপরিতার ও চরিব্র-চিত্রণের একমুখী ইতিহাস বিমুখতার এমন নিদর্শন সচরাচর বিরল । প্রথমে তাই সিরাজদৌল্লার শাসনকালকে কালাহ্- ক্রমিকভাষে সাজান যাক । ১৭৫৬ ॥ সির!জের বয়স ২৩। ১০ই এপ্রিল_ নবাব আলিবদদ।র মৃত্যু । ১৫ই এপ্রিল--সিরাজের রাজ্যাভিষেক | ১৫ই মে__-ঘসেটি বেগমের সম্পত্তি অপরহণ | রাজা রাজবল্লভ কারাক্ুদ্ধ। মীরজাফর ও রায় ছুলভরামের পদচ্যুতি । কাশ্বিরী যুদ্ধ ব্যবসায়ী মোহনলাল মন্ত্রী ও মীরমদ্ন সেনাপতি নিযুক্ত ৷ জগৎশেঠ ভ্রাড়দ্য় অপমানিত । ২রা--৩র! জুন_কাশিমবাজার কুঠি অবরোধ । কুঠির অধ্যক্ষ ওয়াটস ও সহাধ্যক্ষ কোলেট বন্দী। ওয়াস গৃহিণী (বেগম জনসন )বু কেচ্ছাকাহিনী । ৯ই জুন-_ ওয়ারেন হেষ্টিংস কারারুদ্ধ। কাঁশিমবাজারের ওলন্দাজ কুঠির অধ্যক্ষ ভ্েরনেট সাহেব ৩০০০ টাকা জামিনে হেষ্িংসের মক্তি ক্রয় করেন । ১৬ই জুন-_কলকাতা আক্রমণ । ২০শে জুন__কলকাতা জয়। ফোর্ট উইলিয়াষে ডুলি চেপে সিরাজদৌল্লা । -২১শে জুন-_অন্ধকৃপ হত্যার দিন বলে অস্কিত। জুলাই__ওয়াটস ও কোলেটের মুক্কি। আগই-_-সওকত জঙ্গের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্ততি । আলিবদর্শ খা ও নিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৪৩ ২৪শে সেপ্টেম্বর-_স'ওকত জঙ্গের সঙ্গে যুদ্ধ। পুণিয়! আক্রমণ । ১৬ই অক্টোবর-__মণিহারির যুদ্ধে সওকত জঙ্গের মৃত্যু । সিরাজদৌল্লার পক্ষে রাজা মোহনলালের যুদ্ধ জয়। নভেম্বর--রাজা মোহনলালের মহারাজ উপাধি ও বাহারবন্দ পরগণা জায়গীর লাভ। তিনি পৃিয়ার শাঁসনকর্তাও হলেন । সিরাজদৌল্লার দিল্লীর ফারমান লাভ । ১৫ই ভিসেম্বর__ক্লাইভের ফলতায় ইংরেজ পক্ষের সৈনাপত্য গ্রহণ। ২৭শে ভিসেম্বর-_কলকাতা পুনরাধিকারে ইংরেজ উদ্াম স্থরু | ৩০শে ডিসেম্বর_-ইংরেজ বজবজ দুর্গ অধিকার করল । ভিসেম্বর__মহারাঁজ। মোহন্লালের মুশিদাবাদে মরণাপন্ন অসুস্থতা । ১৮৫৭ ॥ সিরাজের বয়স ২৪ । ২র! জানুয়ারী-_নবাব হুগলীতে সসৈন্যে উপনীত । ২৮শে জানুয়ারী--আহমেদশাহ আবদালীর দিল্লী প্রবেশ | ওর! ফেব্রুয়ারী--নবাবের কলকাতার উপকণে উমি্টাদের বাগানবাট়ীতে ঘটি স্থাপন । ৫ই ফেকয়ারী-_ক্লাইভের নবাবী ঘাটি আক্রমণ ৬ই ফেব্রুয়ারী--পান্ষিতে চেপে নবাবের পলায়ন । ৯ই ফেব্রুয়ারী--আলিনগরের সন্ধি সাক্ষরিত ! নবাবের বিশেষ ফারমান সন্ধিপত্র অনুযায়ী কলকাতায় ইংরেজদের অধিকার ও ছুর্গ স্থাপনের ক্ষমতা নবাব স্বীক্ষার করলেন। বিভিন্ন কুঠিতে ইংরেজদের অধিকার স্বীকার করা হল। ইংরেজদের প্রায় দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দ্রিতে এবং নিজস্ব সক্কা টাকা বানাতে দিতে সিরাজ সম্মত হলেন । ১৫ই ফেব্রুয়ারী--এই সন্ধিপত্রে নবাব দস্তথত করলেন । ১৩ই মার্চ ক্লাইভের ফরাসী চন্দননগর আক্রমণ। হ্থগলীর ফৌজদার রাজা নন্দকুমারের বিশ্বীসঘাতকতা | ২৩শে মার্চ ক্লাইভের চন্বননগর জয়। ফরাসীদের কাশিমবাজারেব্র ফরাসী কুঠিতে পলায়ন । মার্_-জণালা সাহেবের দরবার বর্ণন! | ২০৪ বাংলা প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা ৩০শে মার্চআহমেদ শাহ আবদালী গোকুল ও মথুরা ধ্বংস করে ফরিদ!- বাদে উপনীত । সিরাজ আবদাঁলীর আব্রমণ ভয়ে আশঙ্কিত | ১৬ই এপ্রিল_কাশিমবাজারের ফরাসী কুঠির অধ্যক্ষ ভালা সাহেব নবাঁব আদেশে ফরাসী কুঠি খুলে 1দয়ে পাটনা চলে গেলেন সদলবলে । তাকে বন্ধু েনেও ভশত নবাব ইংরেজদের ভয়ে সাহাধ্য করলেন ন1। জলা সাহেবও নবাবকে ইংরেজদের বিরুদ্ধে অন্ত্রধারণে উদ্ব,দ্ধ করতে পারলেন না। অস্ত্স্থ মোহনলালের সঙ্গে জলার সাক্ষাত- কার। নবাবকে বিপদের সময় সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাল! সাহেব কাশিমবাজার ত্যাগ করলেন । পাটন! যাবার পথেও জালা নবাবের অস্থির মনের পরিচয় পেয়েছেন । এক চিঠিতে তাকে ফিরে আসতে অন্থরোধ করে পরবর্তী চিঠিতেই তাকে চলে যাঁবার আদেশ করেছেন । এপ্রিল-- আহমেদ শাহ আবদালীর ভারত ত্যাগ । মে-_জগৎশেঠরা গ্রকাশ্ ভাবে ষড়যন্ত্রে যোগ দিলেন । ৫ই জুন-_ওয়াটস মীরভাফর চুক্তি সাক্ষর । ষড়যন্ত্র পাকা হল। ১২ই জুন-_ওয়াটস, সাইকস, কোলেট, হেষ্টিংদ ও মারিয়টের কাঁশিম- বাজার হতে পালিয়ে অগ্রদ্ধীপে (নদীয়া ) ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে যোগদান ও কলকাতা অভিমুখে যাত্রা । ১৯শে জুন_ ইংরেজদের কাটোয়। ছুর্দ জয়। পলাশীর প্রস্ততি । জাল। সাহেব ৫০ জন গোশন্দ'জ সহ গাফ্রকে পাঠালেন নবাবের কাছে। একান্ত অন্থরোধ তিনি সসৈন্তে পৌছানর আগে নবাব যেন যুদ্ধবাত্রা না করেন। নবাব জালাকে খবর পাঠালেন সব ঠিক আছে ভাবিত হবার কোন কারণ নাই । ২০শে জুন_-নবাব যুদ্ধে চললেন। নবাবকে রক্ষার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সাঙ্র তার ছোট্ট বাহিনী নিয়ে নবাবের সাথী । বিরাট আয়োজন । সকলেই চললেন মীরজাফর, রায়ছুলভ, ইয়ারলতিফ খা |, আক্রমণ বিভাগে কেবল মীরমদন ও মোহনলাল । ' ২৩শে জুন- পলাশীর যুদ্ধ। বিকাল ৪টায় নবাব প্রথম পলাতক । হাতিতে চেপে মতান্তরে উটে চেপে তিনি যুদ্ধ পূর্ণগ্োমে চলাকালিন আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্লা ২০৫ পলায়ন করেন। মীরমদন হত। নবাবকে রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে- ছিলেন সীফ্র। তাকে ইংরেজদের আক্রমণ করতে পাঠান হল। তিনি জানতে পাবলেন না যে নবাব পলায়নেপ সংকল্প করেছেন। নবাব মুশ্দাবাদে নিজের পরাজয় সংবাদ বহন করলেন। তার একাকী পলায়ন ত্রাসের সঞ্চার করল । ২৪শে জুন- প্রথমে গোশকটে ও পরে নোকাযোগে নবাবের পলায়ণ। ২৯শে জুন-__ক্লাইভের মুশিদাবাদে প্রবেশ ও মীরজাফরের নবাবী পাভ। ৩০শে জুন_-ভগবানগোলাষ সিরাজ ধৃত ও বন্দী হয়ে মীরকাশিম সকাশে এলেন। ২ব্র] জুলাই__মীরজাফর পুত্র মীরণের প্ররোচনায় গুপ্রবাতকের হাতে সিরাজদৌন্লার মৃত্যু । ওরা জুলাই-_হন্তিপৃষ্ঠে মৃতদেহের নগর ভ্রমণ ও সমাধি। নব।ব সিরাজদৌল্লার হইাতহাস আমরা সাধারণ ভাবে পর্যযালোচন৷ করলাম । দেখা যাচ্ছে প্রত্যেক নাট্যকার কতকগুলি ইতিহাস বিরোধী সিদ্ধাল বিশ্বাস করে নাটক রচনা করেছেন। প্রথমেই দিরাজদৌল্লাকে এক দ্বশপ্রেমিক নৃপতি রূপে কল্পনা করা হয়েছে। লুৎফউন্নিসাকে তার একমাত্র বিবাহিত পত্ধী রূপে চিত্রিত করা হয়েছে । মোহনলালকে বাঙালী বীর এবং তার ভগ্রীর নাম মাধুরী বলা হয়েছে। পলাশীর পরাজয়ের কারণ দেখান হয়েছে মীরজাফর প্রমুখদের বিশ্বাসঘাতকতা । সিরাজদৌল্লার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্ে একমাত্র কারণ দেখান হয়েছে সিংহাসনের প্রতি মীরজাফরের লোভ । জগৎ ; শঠ ত্রাতৃদ্ঘয় ও রায় ছুরলভরামের ভূমিক! সম্ভবতঃ নাট্যকাররা সবাই হিদুহবার দন্ত তুলনায় মীরজাফরের মতো অত জঘন্ত নয়। যডযন্ত্রকারীদের নিয়ে নাট্যকাররা বিশেষ বিপদে পড়েছেন। এ বিষয়ে তাঁদের মতভেদ্দের কারণ যথাসময়ে আলোচনা করা হবে। ইংরেঙ্দের নিয়েও এই গোলমাল বিচিত্র আমোদের হাৃষ্টি করে সময়ে সময়ে । ঘসেটি বেগমকে নিয়েও নাট্যকারগণ অনুরূপ বিভ্রম সৃষ্টি করেছেন। পলাশীর বুদ্ধ ভারতের পরাধীনতার প্রথম পদক্ষেপ এবং এক নিদারুণ ছুঃখেয় ঘটনা একথাই নাট্যকাররা একবাক্যে স্বীকার করেছেন। পলাশীর উল্লেখমাত্র বাঙালী সাহিতিযকের লেখনী উচ্ছসিত ২০৬ বাংল! ধ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা ও দৃষ্টি বাণ্পাকুল হয়ে ওঠে। এই ভাবালুতার কোন সঙ্গত কারণ আছে কিংবা এটা কল্পনা! প্রবণ জাতির নিছক ভাববিলাস এবার আলোচনা করা হবে। নবীন চন্দ্র সেন: পলাশীর যুদ্ধ ১৮৭৫ ॥ নাটকীয় ভাযায় বলা যায় যে, "পলাশীর যুদ্ধ' সিরাজদৌল্লার অভিযান স্থরু করে। ১৮৭৫ শ্রীষ্টাব্বের ১৫ই এপ্রিল ( ১ল! বৈশাখ ১২৮২) কবি নবীনচন্ত্র সেনের পলাশীর বুদ্ধ প্রকাশিত হয়। বস্তত এটি নাটক নয় কাব্য। মোট পাতা সংখা। ১২৮ এবং পাঁচটি সর্গে বিভক্ত । ( বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ সংস্করণ )। প্রথম সর্গ, মুরশিদাবাদ__-জগৎশেঠের মন্ত্রণাভবন, ৪ পাতা থেকে ৩০ পাতা । দ্বিতীয় সর্গ, কাটোয়াবুটিশ শিবির, ৩১ পাতা থেকে ৫৪ পাতা । তৃতীয় সর্গ, পলাশীর ক্ষেত্র, ৫৫ পাতা থেকে ৮০ পাতা । চতুর্থ সর্গ, যুদ্ধ, ৮১৯ পাতা থেকে ১০৬ পাতা । পঞ্চম সর্গ, শেষ আশা, ১০৭ পাতা থেকে ১২৭ পাতা । গল্পাংশ অতান্ত স্সামঞ্জস্পূর্ণ। নবীনচন্ত্র কাব্য রচনার আগে যে নবাব সিরাঁজদৌল্লার ইতিহাস ভালভাবেই পাঠ করেছেন সেটা বুঝতে কিছু কষ্ট হয় না । প্রথম সর্গের স্থুরুতে দেখা যায় যে জগৎশেঠের মন্ত্রণাকক্ষে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে । এটি নবাব সিরাজদৌলার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বড়ঘন্ত্র। প্রথম ষড়যন্ত্র হয়েছিল সিরাজদৌল্লাকে সরিয়ে দিয়ে পৃঁণস,র শাসনকর্তা সিরাজের মাসতুতো ভাই (আলিবদাী খার দ্বিতীয় বা মধ্যম কন্যা! ও হাভি আহমদের দ্বিতীয় পুত্রের সত্বান) নবাব সওকত জঙ্গকে নবাব করার উদ্দেশে । কিন্ত সিরাজদৌল্লার সঙ্গে যুদ্ধে সে ষড়যন্ত্র বার্থ হয়েছে তাই এই দ্বিতীয় যডযস্ত্রে সুচনা । (১/৪৩ পাতা ২০) ষড়যন্ত্রের সময়, ফরাসী চন্দননগরের পতনের পর অর্থাৎ ২৩শে মার্চের পরবর্তী সময়ে ১৭৫৭ গ্রীষ্টাব্ষে। কবি বলেছেন-_ মোগল-গৌরব-রবি, আরঙ্গজিব সনে অস্তমিত ) নহে দূর দিল্লীর পতন। শুনিয়াছি দাক্ষিণাত্যে ফরাসি বিক্রম হতবল, মভাবল ক্লাইভের করে। বঙ্গদেশে এই দশা-_বৃটিশ কেতন উড়িছে ফরাসী হুর্গে হালিয়া অন্বরে ! €১/৫২, পাতা ২৪ ) আলিবদর্ খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২০৭ নবীনচন্দ্র সেন সমসাময়িক ইতিহাস সম্পর্কে যে জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন ১ খধর্তী নাট্যকারদের মধ্যে তার একান্ত অভাব দেখে বিশ্মিত বোধ করতে হয়। দাক্ষিণাত্যে, যেইরূপ মহারাষ্ই পতি হতেছে বিক্রমশালী, কিছুদিন আর মহাাষ্ট্র-পতি হবে ভারত-ভূপতি । অচিরে হইবে পুনঃ ভারত উদ্ধার । সাদ্ধ পঞ্চশত দীর্ঘ বখসরের পরে আসিবে ভারত নিজ সন্তানের করে। (১/৫৫ পাতা ২৫) উপরের দুইটি উক্তিই রাণী ভবানীর মুখে দেওয়া হয়েছে । যড়যন্ত্রকারী” রূপে দেখা যাচ্ছে জগৎশেঠ, মীরজাফর, মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র, পাজা রাজবল্পভ ও রাণী ভবানীকে । পরে উমিচাদদেরও উল্লেখ কর! হয়েছে । একমাত্র রাণী ভবানী সিরাজের উচ্ছেদ চাইলেও ইংরেজ সাহায্যে সেটা চাননি এটাই কবি বলতে চান। যড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্তড মীরদ্াফর খাকে নবাব করা কারণ তাহলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা আছে। নবীনচন্ত্র সিরাজদৌ)্লা সম্পর্কে বলেছেন__ ধরিয়! বঙ্গের গলা কাল নিশীথিনী নীরবে নবাব-ভয়ে কৰিছে রোদন ; নীরবে কাদিছে আহা! বঙ্গ বিষাদিলী নীহার নয়ন জলে তিতিছে বসন নীরব ঝিল্লীর রব; স্তদ্ধ সমীরণ ; মাতৃবুকে শিশুগণ, দম্পতি শয্যায় পতি প্রাণ ভয়ে, সতী সতীত্ব কারণ, ভাবিছে অনন্তমনে কি ভবে উপায়। বিরাম দায়িনী নিদ্রা ছাড়ি বঙ্গালয় কোথায় গিয়াছে, ডরি নবাব নিদয়। (১/৫ পাতা 8-৫) আরো বলেছেন" একেতে। অদুরদশাঁ নৃশংস যুবক আজন্ম বধিত পাপে। হিংসা অহঙ্কার ১৪ ২০৮ বাংলা এরতিহাসিক নাটক সমালোচন। অলঙ্কার তার । তাহে পথপ্রদর্শক হয়েছে ইতরমন]1 যত কুলাঙ্গার নীচাশয়। ইহাদের পরামর্শে হাষ ধ্লিছে বঙ্গের ভাগ্যে যে বিষম ফল বলিতে বিদরে বুক । যথা তথাষ হাহাকার ধ্বনি রাঁঞ্যে উঠিছে কেবল । (১/৩৭ পাতা ১৭-১০) বগীর খাঙ্গামী আব নবাব আলিবদীব কি চমত্কার "ত্র এঁকেছেন নবীনচন্দ্র মুগ্ধ হতে হব। ইতিহাস যে কল্পনীব বাধা না হযে সাহিত্য কমে সহায হয শবীনচন্* বাবার প্রম'ণ কক্ছেন_ সেইদিন অভা বাষ্ট্র-বিপবে বিদ্ষে এ “দশ উপঘ্ন্পবি হযেছে 1 । যথা এই দস্য্যদল কবেছে প্রবেশ ভীমরোষে দাবানল কপে আচন্ষিতে অগ্নিতে, অসিত, অপহরণে সে দেশ হইযাছে মরুহ্মি । সন্ত্রাসে কৃষক বিষাদে ।বজন বনে করেছে প্রবেশ না ডবি শাছ্চলে পিংভে : বুরঙ্গ শাঁবক 'অণরে শুনিষা ব্যাধ বন নিপীভন, সভয়ে যেমতি পশে নিবিড কানন । ইহাদের দুববস্থা করিতে মোচন, কি যত্তু না করিষাছে স্বর্গীয় নবাব বীরশ্রেষ্ঠ আলিবর্দী, মরে শমন শিবিবে অপক্ষপাতশ অমাযিক ভাব ' জীবনের অবসান, তথাপি উজ্জল ছিল শম্ম আচ্ছার্দিত বির মতন ; প্রভায় সমঘ্ত বঙ্গ ছিল সমুজ্জল ; ছিল ঘেই সিংহাসনে, ইন্দ্র মতন পরাক্রমে পরম্প এতাদৃশ শুর, এথন বসেছে এক ত্বণিত কুকুর ৷ (১/৩৮, ৩৯ পাতা ১৮-১৯) আনিবর্দা খ|। ও সিরাজ-উদ-দৌন্স। ২০৯ দেখা যাচ্ছে যে সিরাজর্দোল্লাকে বিতাড়ন করার জন্ত সবাই ইংরেজদের সাহায্য নিতে মনস্থ করেছেন। এইথানেই রাণী ভবানীর প্রবল আপত্ি। তিনি বলছেন-_“ইপ্রিয় লালসামত্ত সিরাঁজদৌল্লায় রাজ্যচ্যুত করা নহে আমার অমত ।৮ € ১/৬৪ পাতা ২৮) কিন্তু তার জন্ত ইংরেজদের সাহাব্যের কি প্রয়োজন? “অসহ্য দাসত্ব বদিঃ নিকফ্কোসিয়। অসি, সাজিয়া সমর সাজে নৃপতি সমাঁজ প্রবেশ সন্ুখ রণে।” (১৬৫ পাতা ২৯) দ্বিতীয় সর্গ কাটোয়ার বুটিশ শিবির_ কাটোয়া ছুগ চযের অব্যবহিত পরে। তাবিথ নিঃসন্দেহে ১৯/২০ জুন ১৭৫৭ খ্রষ্টাব্ব। ক্ল/ইভের চবিত্রের 'অপূর্ব চিত্রণ এ দৃশ্ঠের মহান বশাত। ক্লাইভ রণনীতি চিন্তা করছেন। মীরজাফর উমিটাঁদ জোটকে খিশ্বাস করা যাঁয় কি না সন্দেহ কবছেন। ভাগিরথীর অপরূপ কপ তার মনে স্বদেশের চিন্তা জাগিয়েছে_-তাঁর কর্তব্য [নদ্ধাবণ কঠিন হয়ে পড়েছে । এই বিপদে ইংল্যাণ্ডের রাজলক্্ী বুটাননিযা আবিভূ ত হযে ক্লাইভকে মন্ত্র! ধিলেন এবং অভয় দান করলেন। দৈব তেজে বলীয়ান হয়ে ক্লাইভ পলাশী অভিমুখে সৈন্ত চালনা করলেন। নবীনচনের ইতিহাস জ্ঞান এ সর্গেও স্পষ্ট । ক্লাইভের চরিব্র চিত্রিত কবার সময সেক্সগীয়র পড়া ইংরেজের কপ ফোটাতে তার সধত্ব প্রযাঁদ ফুটে উঠে অনির্বচনীয় কাব্যস্থষম! হষ্টি করেছে। ধন্য আশা কুহকিনী” পদে পদে ম্যাকবেথ স্মবণ করায়। বিশেষ “পেযে তব বল যুঃঝছে জীবন যুদ্ধ হায়! অনিবার | নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাত্ীকরে, নাচাঁও তেমতি তুমি অর্বাচীন পরে । (২/১১, ১২ পাতা ৩৫) মনে পড়ে 15109151001 28 ৬/৭111170 51800৮. /£5100017 01891 1181 505 2110 79151115100 10001 018 50999 19109 19810 10 77018. 17118 ৪ 1819 1010 0৬ লা 10101, 11 01 50817089170 01 51011011175 17001119. ক্লাইভের জীবন বলতে গিয়েও কবি ইতিহাস লঙ্ঘন করেন 'ন। হুবস্ত যুবক ছিল দুপ্রবৃণ্তি রত নির্ভয় হুদয় সদা, পিত1 মাত যার পাঠাল ভারতবর্ষে লৌভাগ্যের তরে অথবা মরিতে দূরে মান্রাজের জরে | (২/২১ পাতা ৩৯) তৃতীয় সর্গ 'পলাশি ক্ষেত্র» তারিখ ২২শে জুন ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্ব। কৰি ২১০ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা যুদ্ধ ক্ষেত্রেও নবাবের বিলাসী রূপ এঁকেছেন। “পলাশি প্রান্তরে নৈশ গগন ব্যাপিয়া, উথলিছে শত শ্বোীতে আমোদ লহরী ; এমন ইন্দ্রিয়-হৃথ-সাগরে ডুবিয়া কেন চিস্তাকুল আজি নবাবের মন।” (৩/৬ পাতা ৫৭) কবি কল্পনা করেছেন যে যুদ্ধক্ষেত্রে উপনীত হয়েও নবাৰ বিলাসে ও নৃত্যে গীতে মোহিত । বিবসন৷ ক্কন্দরী ও স্বরাপানে নবাৰ বিভোর । অন্যদিকে ষড়মন্ত্রীগণ ক্রমাদ্বয়ে চক্রান্ত- জাল রচনা করছেন । মৃত্যুভয়ে অধীর নবাব দুঃস্বপ্ন দেখে চিৎকার করে উঠলে নবাব মহিষী তাকে সাত্বন! দিচ্ছেন । এইখানে সেক্সপীয়রের তৃতীয় রিচার্ডের স্পষ্ট প্রভাব বোঝ! নায়। সিরাঁজদোল্লার আজ্ঞায় যাদের হত্যা করা হয়েছে তাঁর! স্বপ্পে এদে সিরাজের আগামী যুদ্ধে পরাজয়ের ভবিষ্ততবানী করেছে । তৃতীয় শ্বপ্ন *_ আমারে ডুবায়ে জলে বধিলি জীবনে» ডুবিবে জীবন-তরী কালি তোর রণে। (পাতা ৭২) পঞ্চম স্বপ্ন :__পুরাইতে পাপ আশা» বালিকা বয়সে বলেতে আমারে পাপি ! করিলি হরণ বধিলি জীবন মম কলঙ্ক পরশে, হারাবি সে পাপ রাজ্য, হারাবি জীবন ॥ একমাত্র স্ত্রীর মহিমময় প্রেম কাপুরুষ সিরাজকে আচ্ছাদিত করে রেখেছে । নবাব চিন্তা করছেন মীরজাফর খার কাছে আত্মসমর্পণ করবেন । অন্তদিকে ক্লাইভও অনিদ্রা উপভোগ করছেন। তার চিন্তা অন্ত রূপ £- আমর] বীরের পুত্র যুদ্ধ ব্যবসায়ী ; আমাদের স্বাধীনত] বীরত্ব জীবন, রণক্ষেত্রে এই দেহ হলে ধরাশায়ী, তথাপি ত্যজিব প্রাণ বীরের মতন । (৩/৫৪ পাতা ৭৬) চতুর্থ সর্গ “যুদ্ধ' তারিখ ২৩শে জুন ১৭৫৭ শ্রীষ্টাব্ঘ। বীর বাঙ্গানী মোহন লালের নেতৃত্বে আত্রবন লক্ষ্য করে নবাব সৈন্ত আক্রমণ করল। তারপর যুদ্ধের চমৎকার বর্ণনা আছে। ইংরেনুরা আত্মরক্ষায় সচেষ্ট। তারপরই দেখা যাচ্ছে সেনাপতি মীরজাফর স্থসঙ্জিত হয়ে কাঠের পুতুলের মতো দাড়িয়ে আছেন। তথাপি মোহনলাল একাই সৈন্ঠদের উৎসাহিত করে যুদ্ধ করতে লাগলেন । এমন সময় তুর্যধ্বনি হন। ক্ষান্ত হও যোদ্ধাগণ। কর অন্তর আলিবর্দী খা ও সিবাজ-উদ-দৌন্স। ২১১ স্বরণ ! নবাবের অন্থমতি কালি হবে রণ! (৪1৫৯ পাতা ৯৩) নবাব সৈম্ত যুদ্ধ হতে বিরত হল এবং সেই স্থযোগে ইংরেজ সৈম্ত আক্রমণ করল । *মুচ্ছান্তে মোহনলাল মেলিয়! নম্নন দেখিলা সমরক্ষেত্র মুহূর্তে তুলিয়! ানমুখ 1, (যৃদ্ধাত্ত ৪/১ পাতা ৯৪) ইংরেজ জয়ী হল। গভীর শোকে বাঙ্গালী কবির বুক ফাটা শ্লোক__ এই নহে ভারতের রোঁদনের শেষ; পলাশি-যুদ্ধের নছে এই পরিণাম । যেই শক্তি শ্রোতত্বতী, ভেদ্দি বঙ্গদেশ নির্গত হইল আজি, ভ্রমি অবিশ্রাম হিমাচল হতে বেগে করিবে গমন কুমারীতে, লঙ্কাদ্বীপে লঙ্বি পারাপার । প্রতিদিন ইহার বাড়িবে আয়তন, হইবে তাহাতে ভীম ঝঁটিক সঞ্চার | যবে পূর্ণ বলে ক্রমে হবে বলবতী কার সাধ্য নিবারিবে এই শ্রোতস্বতী ? (9/১২ পাতা ৯৯) দেশের জন্য দুঃখিত হলেও কবি কিন্তু একবারও পলাণীর পরাজয়ের ফল সম্পর্কে দ্বিধাগ্রস্ত হন নাই। নবাবের রাজত্বের অবসান বাংলার অন্ধকার যুগের সমাপ্ডি ঘোষণা করেছে। দেশে জনসাধারণের পক্ষে এই যুদ্ধ যে নবষুগের স্থচনা কৰ্বেছে সে কথ! বলতে কবি দ্বিরুক্তি করেন নাই । ভারতের নহে আজি অস্থণের দিন আজি হতে যবনের! হল হতবল; কিবা ধনী, মধ্যবিত্ত কিবা দীন হীন আজি হতে নিদ্রা যাবে নির্ভয়ে সকল । (৪/১৬ পাতা ১০০) মিলটনের অনুকরণ গুনে অবাক হবার কারণ নাই। পরাধীন ভারতের ছুঃখময় জীবনের ছবি কৰি তুলে ধরেছেন। ভারতের নহে আজি অসুখের দিন। পশিয়া পিঞজরাস্তরে, বনবিহ্গীর ২১২ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা কিবা স্থথ, কি অস্থথ? সমান অধীন । পরাধীন ত্বর্গবাঁস হতে গরীয়সী স্বাধীন নরকবাস, অথবা নির্ভীক স্বাধীন ভিক্ষুক ওই তরুতলে বসি, অধীন ভূপতি হতে স্থী সমধিক । (৪/১৫ পাতা ১০০) পঞ্চম সর্গ, “শেষ আশা” । সময় নিঃসন্দেহে ২রা জুলাই ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দ । মুশিদাবাঁদের কারাগাবে বিভিন্ন কক্ষে নবাঁব ও নবাব মহিষী বন্দী । মীরজাফরের অভিষেকেব পর কামিনীকুল মত্ত। মীরণ সুরা আর রমনী নিয়ে আবিষ্ট । জনসাধারণ পলাশীর যুদ্ধ নিয়ে আলোঁচনারত। কেউ কেউ ক্লাইভের বীরত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ । মীরণ নবাব মহিষীকে লান্তের জন্য দূত প্রেরণ করলেন । দূত দেখল ঘারে মস্তক আঘাত করে নবাবের ক্ত্রী, “রক্তশআ্োতে শোকক্রোতে হয়ে অচেতন, মৃত্যুর অশোক অঙ্কে করিল শয়ন। € ৫/৩৩ পাতা ১২১) সিরাজদৌল্লার প্রতি কবি অত্যন্ত কঠোর। এই কি সিরাজদৌল্লা ? এই সে নবাব ঘার নামে বঙ্গবাসী কাপে থর থর? যার এই বঙ্গে ছিল প্রচণ্ড প্রভাব সেই কি পতিত আল ধরার উপর ? কোথায় সিরাজ তব মহিষী মগুল ; কোথায় সে রাজদণ্ড? খচিত ভূষণ; কেন আজি অশ্রুপূর্ণ নয়ন যুগল ? এযে মহম্মদি বেগ তব অনুচর তুমি কেন পড়ে তার চরণ উপর ? ছুই দিন আগে এই দুর্দীস্ত সিরাজ চাক্তি না মুখ তুলি যেই অন্থচরে আজি.সে নবাব-আহা ! বিধির কি কাজ! কাদিছে চরণে তার জীবনের তরে । (৫1৪১, ৪২ পাতা ১২৪) অবশেষে “সিরাজের ছিন্গমু্ড চুদ্িল ভূতল” “ভারতের শেষ আশা হইল স্বপন।” (৫/৪৭ পাতা ১২৭ ) এইভাবে সিরাজ-মহ্ষীর কারাগারে মৃত্যু এবং আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্ল। ২১৩ মহম্মদশী বেগের হাতে নবাবের গুপ্ত হত্যা দেখিয়ে কাব্য শেষ হয়েছে। পলাশীর যুদ্ধ কাব্যকাল তাই মার্চ থেকে জুলাই ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে সীমাবদ্ধ । ষড়যন্ত্রে শুরু আর নবাবের মৃত্যুতে শেষ । নবীনচন্ত্র সেনের পলাশীর যুদ্ধ এক সার্থক কাব্য । নবীনচন্্র পলাশীর যুদ্ধ লেখার সময যে ভাল করেই ইতিহাস পড়েছিলেন ত। আমরা কাব্য পাঠে বুঝতে পারি। প্রচলিত কথিকাও তাকে প্রভাবিত করেছে। তিনি নবাবের যে ছবি এঁকেছেন তা বিলাসী সিরাজ যি'ন যুদ্ধ ক্ষেত্রেও একাধিক নর্তকী ও স্থরায় মন্ত। প্রথম সর থেকেই নবাবের অত্যাচারের ও অপকীতির যে ছবি দেখান হয়েছে তা কতথানি সত্য, সিরাজ- চরিত্র বিশ্লেষণের সময় দেখ। যাবে । প্রধান ষতযন্ত্রকারী হিসাবে দেখিয়েছেন জগৎশেঠ, মীরজাফর, মহারাজ কৃষ্চচন্ত্র, রাজা রাঁজবল্লভ ও রাণী ভবানীকে। ষড়যন্ত্রের সময় তার মতে চন্দননগর পতনের পর । এইথানে কিছু বিভ্রম সুষ্টি হয়েছে । রাজত্ব প্রাপ্তির একমাসের মধ্যে সিরাজদৌল্লা, মীরলাফর ও রায় ছুর্লভকে পদচ্যুত করার পর থেকে ষড্যস্ত্রের সরু । জগৎ্শেঠ ভাইদের অপমান করার পর ষড়যন্ত্র ভালভাবে গড়ে উঠল । কে নবাব হবেন এই ননয়ে বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হল। জগৎশেঠেদের ইচ্ছা ছিল যে ইয়ার লতিফ খার মতে শাসনপ্রাজ্ঞ ব্যক্তি নবাব হবেন কিন্তু মীরজাফর খা] তাকে নবাব না করলে ষড়ঘন্ত্র থেকে সরে দ্াড়াবেন হুমকী দিলে বাধ্য হয়েই জগৎ শেঠ ও তার ভাই মহারাজ স্বরপটাদ মীরজাফর খাকে নবাব করতে রাজী হলেন। জগৎশেঠের মূল লক্ষ ছিল তার ব্যবসার প্রসার সেজস্ত দেশে শাস্তি থাকার প্রয়োজন ছিল । জগৎশেঠের তখন বিরাট ব্যবসা । পেশোয়ার থেকে কামরূপ এমন কি পূর্ব দ্বীপপুঞ্জে অর্থাৎ স্ুমাত্র। জাভা! প্রতৃতি জায়গাতেও জগৎশেঠের নামাঙ্কিত হাতচিটার টাঁক1 লেনদেন হত। বাংলাদেশে পায়ে সোনার গহন! পরবার অধিকার নবাব সিরাজদৌল্লা ছাঁড়া একমাত্র জগৎশেঠ বংশীয়দের ছিল। তার স্থান সবদ! নির্দিষ্ট ছিল নবাবের বামে । এই ব্যবস্থ! ১৮৬৩ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত অটুট ছিল।২৭ বাংলায় স্থশাসন প্রবর্তনের উদ্বেগ প্রকাশ করে জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ়্ কোন অনধিকার চর্চা করেননি । বস্ত্তঃ শাসনতন্ত্রের ছোট অংশীদীররূপেই তীরা। মুশিদকুলি খাঁর সময় থেকে রাজ- কার্য্যে সাহায্য করেছেন। নবাব আলিবর্দী খা প্রায়ই জগৎশেঠের কাছে ২১৪ বাংল! শ্রতিহালিক নাটক সমালোচনা টাকা ধার নিতেন। তাতে শেঠদের মর্য্যাদা ও প্রতিপত্তি অনেক বৃদ্ধি পেল। নবাব সিরাজদৌল্লার চালচলনে শেঠর! চিন্তিত হলেন। ইংরেজদের দিয়ে নৰাবকে সরিয়ে দেবার বুদ্ধিও শেঠদের কাছ থেকেই এল। খোলাখুলি- ভাঁবেই ষড়যন্ত্র করলেন জগৎশেঠ আর তার পেছনে এসে দীড়ালেন রাজ্যের সমস্ত সম্্রান্ত ব্যক্তিরা এবং ইতর ভদ্র সকলেই । ফরাসী লা সাহেব তার আত্মজীবনীতে স্পষ্টই লিখেছেন যে বড়যন্ত্রের মূলে ছিল শেঠভ্রাতৃদ্বয়, তাঁদের কাছে জোর না পেলে ইংরেজরা ষড়ঘন্ত্রে আদৌ যোগ দিত কিন! সন্দেহ। জগৎশেঠের বংশের বধূুকে সিরাজদৌল্লা হরণ করেছেন বলে নবীনচন্দ্র যে অভিষোগ করেছেন তার কোন এতিহাসিক ভিত্তি নাই। সরফরাজ খাব গল্পকে সিরাজদৌল্লার ওপর চাপিয়ে জগৎশেঠের মনোছুঃখের কারণ ঘটাবার চেষ্টা হয়েছে । মীরজাফর এবং রায় দুলভ অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী । কবি রায়- ছুলভের জায়গায় রাজা রাজবল্লভকে এনেছেন । এই বৈদ্য ভদ্রলোৰ ঘসেটি বেগমের মন্ত্রী ছিলেন। ঘসেটি বেগমের সম্পত্তি অপহরণের সময় তিনি কারারুদ্ধ হন। তিনি তার পুত্র কষ্দাসকে বহুধনরত্ব সহ কলকাতায় ইংরেজ আশ্রয়ে পাঠিয়ে দেন। শ্রীক্ষেত্র দর্শনের নাম করে রাজবল্লভ পুত্র সপরিবারে কলকাতায় চলে আসেন । নবাব সিরাজদৌল্লা সন্দেহ করতেন যে ঘসেটি বেগমের বনু ধনরত্ব রাবল্লভ পুত্রের সঙ্গে কলকাতায় পাঠিয়েছেন সেক্ন্য রুষ্ণদাসের মুশিদাবাদে ফিরে আসার আজ্ঞা ঘেষণা করেন। ষড়যন্ত্রের সময় রাজ] রাজবল্লভ আদেৌ কারাগারের বাইরে ছিলেন কিনা সন্দেহ। থাকলেও নবাবের বিরুদ্ধে কিছু করার সাহস তার হবেনা বলেই মনে হয়। পঙ্গাশীর যুদ্ধে বা তার অব্যবহিত পরবর্তীকালে রাজা রাজবল্লভের কোন ভূমিকা নাই। তাকে এরপর দেখ! যাবে মীরণের দেওয়ান রূপে। স্থতরাং ষড়যন্ত্রে তিনি অংশগ্রহণ করে থাকলেও কোন মুখ্য ভূমিকা তার ছিলনা । পরবর্তীকালের কায়স্থ রাজা রাজবল্লভের সঙ্গে একে প্রায়ই গোল- মাল করা হয়। রাজা রাজবল্লভ (কায়স্থ) ছিলেন রাজা ছুলভরামের পুত্র এবং উত্তরাধিকারী । আলিবদীর স্বিখ্যাত দেওয়ান রাজ। জানকীরাম এব পিতামহ । নবীনচন্ত্র সেন রাজ৷ রাজবল্লভকে যে ভূমিক! দিয়েছেন এবং শচীন্ত্রনাথ সেনগুপ্ত ঘষে ভূলের পুনরুক্তি করেছেন তাঁর সিরাজদৌল্প! নাটকে তাতে জাতীয় চরিত্রের কোন দিক প্রকাশিত হয়েছে কিনা তা সামাজিক আলিব্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২১৫ ইতিহাসের গবেধকরা বিচার করবেন । বর্তমান পরীক্ষায় নিঃসন্দেহে এই সিদ্ধান্ত করা চলে যে, জগৎশেঠ, মীরজাফর ও রায়ছুর্লভের নেতৃত্বে ও ইংরেজদের সহযোগিতায় নবাব নিরাজদৌল্লার বিরুদ্ধে চক্রান্ত পূর্ণ হয । মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র ও রাণী ভবানী মনে মনে বিভিন্ন কারণে নবাবের পতন চাইলেও প্রত্যক্ষভাবে নবাবের বিরুদ্ধে ষডযন্ত্র কবা কঠিন ছিল। কারণ তখন ভূমিব্টনের নিম ছিল ভিন্ন । বড বড় ভূম্বামীষা রাজম্বের জামিনদার ছিলেন। সমস্ত জমির মালিক ছিলেন দিল্লীর বাদশাহ তথা বাংলার সুবেদার বা নবাব। নবাবের একটি পরোয়ানায় ভূম্যধীকারীদের অধিকার- চ্যুতির সম্ভাবনা ছিল। নবাব আলিব্ীর আদেশে ছুইবার বাণী ভবানীকে রাজত্ব হারাতে হয়েছে । রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে বন্দী করে রাখার যে গল্প পঞ্চম সর্গে বধিত হয়েছে সেটিও এক প্রচলিত কথিকা মাত্র । বস্তত কষ্ণন্রের বন্দীত্বের সময় আলিবর্ীর রাজত্বকালে । দ্বিতীয় সর্গে কাটোয়া ছুর্গজযষের ঘটনা বর্ণনা করে নবীনচন্্র তাঁর ইতিহাস জ্ঞানেরই পরিচয় দিয়েছেন। মুশিদাবাদে যুদ্ধ করা'র চাবি ছিল কাটোয়া দ্র্গ। রাজমহল পধ্যন্ত আর কোন ছৃর্গ না থাকায় নবদ্ধীপ থেকে কলকাতা পর্যাস্ত সমস্ত ভূখণ্ড ইংরেজ অধিকারে এসে গেল কাটোয়! হুরগজয়ের পরে। রণনীতিতে ক্লাইভ €ে কেমন পারদর্শী ছিলেন কাটোয়! দুর্গ জয় তার গ্রকুষ্ট প্রমাণ। মেজর আয়ারকুটের ভায়ারী ( রোজনামচা ) থেকে আমরা জানতে পারি যে ক্লাইভ নিজে এবং সমর-পরিষদের অধিকাংশ সদস্য অবিলম্বে পলাশী যাত্র! করতে রাজী হলেন না। মেজর আয়ারকুট বারবার বলেছেন যে সসৈন্ত লাসাহেবের নবাবের বিরাট বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ যেমন করেই হোক বন্ধ করতে হুবে। জালা সাহেব এবং তার ফরাসী সৈন্তা- ধ্যক্ষরা নবাব বাহিনীর পরিচালনার ভার নিলে মীরক্গাফরের বুদ্ধ না করার চুক্তি বাতাসে ভেসে যাবে । কেবল সৈম্ত সংখ্যার গরিষ্ঠতায় নবাব ইংরেজদ্রের বিপদে ফেলবেন । এইসব যুক্তি সত্বেও ক্লাইভ সৈন্তবাহিনীকে গঙ্গা পার হবার নির্দেশ দেননি কিন্ত হটাৎ মধ্যরাত্রে ক্লাইভ সৈন্তদের নদী পার হবার এবং পলাশীতে সমবেত হবার নির্দেশ জারী করলেন। নবীনুচন্্ এইথানে ইংল্যাণ্ডের বিজয়লক্্ী ব্রিটানিয়াকে আবিভূ্তি করেছেন । তৃতীয় সর্গ কবির কল্পনা । নর্তকী ও বেগম নিয়ে সিরাজ যুদ্ধ করতে ২১৬ বাংল! এতিহাসিক নাটৰক সমালোচনা গিয়েছিলেন কিনা বল! সহজ নয় কারণ কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ নাই । ইংরেজ এ্রতিহ।সিকরা বলেছেন বটে এবং নবাবের চরিত্র ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এমন ঘটনা অসম্ভব নয়। তবে নর্তকী ও মহ্ষী ঢুই থাকা অসম্ভব । সিদ্ধান্ত কর! যেতে পাবে ঘে নর্তকী নিয়ে যেতে পারেন রণক্ষেত্রে নবাব কিন্ত যে শ্রীর সঙ্গে জীবনে কোন সম্পর্ক রাখেননি তাকে নিয়ে লডাই করতে নিশ্চয়ই যাঁনান। পলায়নের সময় সঙ্গে ছিলেন প্রিষ সহচরী লৃৎ- ফউন্নিসা_-তিনি সিরাঁজদৌল্লা মহিষী নন চিরসহচরী মাত্র ।২৮ চতুর্থ সর্গ পলাশীর যুদ্ধ। এইখানেই মোহনলালকে বাঙ্গালী বীরবপে গ্রথম প্রতিষ্ঠা করা হয়। আগেই বল! হয়েছে মোহনলাঁল বীর বটে কিন্ত বাঙ্গালী নন। পলাণায় যুদ্ধক্ষেত্রে মোহনলাল বীরত্ব দেখাবার সুযোগ পাননি । মাত্র কিছুদিন আগে তিনি মরণাপন্ন ব্যাধি থেকে আরোগ্যলাভ করেন। সেজন্য বিশেষ পরিশ্রমে তিনি অপারগ হন। তারপর মধ্যাহ্নের পরে তিনি ইংরেজ গোলায় সাংঘাতিক আহত হন তাই নবাবের পলায়নের সময় তাকে বিরত করতে বা সঙ্গদান করতে সক্ষম হননি । ইংরেজপক্ষের শতকরা আশি ভাগ ক্ষতি হয় ফরাসী সাফ্র আর তার গোপন্দাজের চেষ্টায় । মীরমদন ইংরেজবাহিনীর ক্ষয়ের আর এক কারণ। কবি মোহনলালের বীরত্বের বে ছবি এঁকেছেন তাতে সফর আর মীরমদনের উল্লেথ না থাকায় এতিহাসিক সত্য লঙ্ঘন কর! হয়েছে । মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার চিত্রটি কবি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। পলাশীর যুদ্ধের চিত্রগুলিও খুবই চমত্কার | পঞ্চম সর্গে সিরাঁজদৌল্লার গুপ্তহত্যা ইতিহাস সঙ্গত। মহম্মদ্রী বেগ ঘাতক। মন্তক দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করাও সত্য । পরদিন এই থণ্ডিত মন্তক বর্শার মাথায় গাঁথা হয় এবং কবন্ধ হাতির ওপর চাপিয়ে নগর ভ্রমণ করা হয়। মীরণের লুৎফউন্গিসার প্রতি লালসাও সত্য ঘটনা । অবশ্ঠ লুৎফউন্নিসা নবাবের পত্বী নন এবং নবাব পত্বীর কারাগারে মৃত্যু হয়নি । লুখফউন্লিসা ১৭৯০ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন ।২৯ সিরাজদৌল্লার পত্বী ওমদাৎউদ্দিসা ১০ নভেম্বর ১৭৯৩ খ্রী্টাবধে মুশিদাবাদে পরলৌকগমন করেন ।৩০ নবাব ম্কিষীর মৃত্যু দৃশ্য অলীক কল্পনা মাত্র । কবি যে বিলাসী ও কাপুরুষ নবাব সষ্টি করেছেন তা ইতিহাস বিরোধী নয় । তাই নবীনচন্দ্রের কাব্য প্রতিভার আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌললা ২১৭ বিকাশে বিশ্মিত হতে হয়। তিনি মিরাজের অপকীণপ্তিকে নিন্দা করেছেন কিন্ত সিরাজের পতনে, তার অপবাত মৃত্যুতে সমবেদনায় মূর্ত হয়ে উঠেছেন, পাঠকের মনকে উদ্বেলিত করেছেন। অত্যন্ত কঠিন পথে সিরাজ চরিত্রের ব্যাথ্যা করেছেন নবীনচন্্র। তার সাফল্য ইতিহাস-সাহিত্যের আসরে এক বিরাট কীন্তি। পলাশীর যুদ্ধ তাই মহাকাব্যের সংজ্ঞা পাবার দাবী রাখে। নবীনচন্দ্র সেন সর্বপ্রথম পলাশীর যুদ্ধ ও নবাব সিবাজদোল্ল'কে সাহিত্যের মধ্যে নিয়ে আসেন, তার দায়িত্ব তাই কম ছিল না। কাব্য পাঠ কৰে তাই একথা বলা চলে যে ইতিহাসেব দিক থেকে নবীনচন্দ্র সে দায়ীত্ব অনেক- খানি পালন করেছেন। ১৮৭৫ শ্রীষ্টাব্দে “পলাশীর বুদ্ধ প্রকাশিত হয়। তখন বাঙালী শিক্ষিত সমাজ ইংরেজী শিক্ষা শিক্ষিত হয়ে সবেমাত্র দেশ ও জাতির কথা ভাবতে শিথেছেন । পরাধীনতার কলঙ্কে তাদের মন হয়েছে সচেতন । ইংরেজ শাসন ও শাসনকর্তাদের উন্মাসিকতা বাঙালী শিক্ষিত সমাজকে নিজেদের অসহায় অবস্থা 'বুঝতে শিখিয়েছে । পনের বছর আগে ১৮৬০ খ্রীষ্টাব্দে দীনবন্ধু মিত্রের “নীলদর্পনম নাটকম্” প্রকাশিত হয়ে শাসক- সমাজে যে প্রচণ্ড আলোড়ন সষ্টি করেছিল তার ০উ তখনও স্তিমিত হয় নাই । দেশের এই অবস্থার মধ্যে 'পলাণীর যুদ্ধ” রচিত। স্বভাবতই কবি ভাল করে ইতিহাস পড়ে তবেই কল্পনার খেয়া খুলেছেন। দেশের তখনকার আবহাওষ1 বুঝতে হলে মনে রাখতে তবে যে বহ্কিমচন্দ্রের 'আনন্দমমঠ' তথা বন্দেমোতরম (প্রকাশ কাল ১৮৮২ গ্রীষ্টা ) তখনও প্রকাশিত হয় নাই। নবীনচন্্র পলাশীর যুদ্ধে কোন রাজনৈতিক নায়ক স্থ্টি করেন নাই | সিরাঁজ- দৌন্লা! স্পষ্টতই কুপখগামী নবাব। ইংবেজের বিরুদ্ধে কোন স্পষ্ট বিদ্রোহ তাই পলাশীর যুদ্ধে পাওয়া না গেলেও দেশল্ুক্তির অপূর্ব তরঙ্গ মনকে আচ্ছন্ন করে। তৎকালীন সমসাময়িকদের মনোভাব লক্ষণীয় । রমেশচত্্র দত্ত তার লিটা- রেচর অফ বেঙগলে নবীনচন্দ্রকে বিষয় নির্বাচনে সাধুবাদ জানিয়ে লিখলেন__ +4119 985 5100101 9 91111 0691061 01010 11) 078 10981 ০0 115 00807111181.” হিন্দু পেট্রিয়ট ও নব্য-ভারত এই কাব্যের ভূয়সী প্রশংস! করলেন। কিন্তু ব্রজেন্দ্রনাথ শীল, বন্ধিমচন্দ্র, কালীগ্রসন্ম ঘোষ প্রমুখ মনষী- গণ পলাশীর যুদ্ধের বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে কেবল নবীনচন্দ্রের রচনা- শৈলী আলোচনা করে কমবেশী সাধুবাদ দিলেন । রেভারেগড লালবিহারী ২১৮ বাংলা তিহাসিক নাটক সমালোচনা দে বেঙ্গল ম্যাগাজিনে সমালোচন প্রসঙ্গে বিষয় নির্বাচন সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা করলেন। তিনি বললেন, পলাশীর যুদ্ধ এক কলঙ্ক কাহিনী । বাঙ্গালীর কোন গৌরব যেমন সৃষ্টি হয় নাই, তাদের বীরত্বও তেমনি প্রতিষ্ঠিত হয় নাই । নবীনচন্দ্রের দক্ষতার অপব্যবহার হয়েছে এই বিষয়বস্তুর জন্য | অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় অভিযোগ করলেন থে নবীনচন্্র সিরাজ চরিত্রে কলঙ্ক লেপন করেছেন। ১০৭৫ শ্রীষ্টাব্দের কলকাতার বিদ্ধ সমাজে “পলাণীর যুদ্ধ যে আলোড়ন এনেছিল সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। বঙ্কিমচন্দ্র বঙ্গদর্শনে লিখলেন__-“ঘে বাঙালি হইয়া বাঙালীর আস্তরিক রোদন না পড়িল, তাহার বাঙ্গালি জন্ম বৃথা ।” “পলাশির যুদ্ধ যে বাঙ্গালীর সাহিত্য ভাগারে একটি বহুমূল্য রত্ব তদ্দিষয়ে সন্দেহ নাই |, ( বিবিধ প্রবন্ধ। পলাশির যুদ্ধ। বসাপ সংস্করণ পাতা ৩৫২)। ১৮৭৫ খ্রীষ্টাব্দে ২৫শে সেপ্টেম্বর শনিবার বেঙ্গল থিয়েটার রঙ্গমঞ্চে “দি নিউ একিয়ান (লেট স্কাশানাল) থিয়েটার কর্তৃক প্রথম অভিনীত হয়। ক্লাইভের ভূমিকায় স্বয়ং গিরিশচন্দ্র ও ব্রিট।নিয়ার ভূমিকায় বিনোদিনীকে নিয়ে যে অভিনয় হয় তা সম্ভবত ১৮৭৮ সালের জানুয়ারী মাসে ন্যাশনাল থিয়েটারে হয়েছিল। নবীনচন্দ্র আত্মজীবনীশতে স্বয়ং লিখেছেন-__“বঙ্গ সাহিত্য জগতে হুল- ঘুল পড়িয়৷ গেল পলাশির বুদ্ধ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ।” ইংরেজ আমলের প্রারস্ত নিয়ে নাটক অথবা কাব্য রচন| করতে তখন কেউ সাহসী হয় নাই । ইংরেজ শাসনের জালা জাতির বুকে প্রচণ্ড দাহের স্ষ্টি করেছে, পরাধীনতার কলঙ্কে বাঙ্গালী মূক। তখনই বাঙ্গালীর মনীষা বিদ্রোহ করেছে । সেই বিদ্রোহের স্পষ্ট ছবি গবেষণাগারের ছকের মতো সাহিত্যে ধরা পড়েছে । প্রথম বিক্ষোভ ১৮৬০ শ্রীষ্টাব্দে, নীলদর্পণে। অত্যাচারী নীল কুঠিয্ল়াল সাহেবদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, ইংরেজ সরকারের শাসনক্ষমতাকে কটাক্ষ, বুঝতে কারু ভুল হয় নাই। তাই দেখি নীলদর্পণ রাজরোষে পতিত । ১৮৭৫ শ্রষ্টান্দে পলাশির যুদ্ধ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে আর এক সরব প্রতিবাদ । উদাহরণ স্বরূপ উদ্ধৃত করা যায় হে বিধাতঃ ! কোন্‌ পাপ করিল সে জাতি? কেন তাহাদের হল এত অবনতি ? *"সংখ্যাতীত নরপতি-প্রণামে যাহার আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২১৯ চরণে হইয়াছিল মুকুট অস্কিত কুরুক্ষেত্র জয়ী বীর। দয়ার আধার, ধর্মপুত্র যুধিষ্টির ছিল বিরাজিত, বসিল- লজ্জার কথ! বলিব কেমনে? যবনের ক্রীতদাস সেই সিংহাসনে ! (যুদ্ধান্ত &/২৬ পাতা ১০৪) দ্বেশমাতার জন্তে নবীনচন্দ্রের বেদনা স্পষ্টই ব্যক্ত হযেছে-_ পাণিপথে সেই রবি গেল অস্তাচলে, ভারতে উদয় নাহি হইল আবার । (যুদ্ধান্ত ৪/২৬ পাতা ১০৪) নিজে সরকারী কর্মচারী ছিলেন বলে উপরওয়ালার চাপে নবীনচন্দ্রকে প্রথম সংস্করণের অনেক পাঠ বদলাতে হয়। রাজদ্রোহিতার অপরাধে কতরকমের দলাদলি ও ঈর্ষাপ্রস্থত নির্ধ্যাতন নবীনচন্দ্রকে ভোগ করতে হয়েছিল তার আত্মজীবনী «আমার জীবনের শেষ চারভাগে বণিত হয়েছে । নবীনচন্দ্রের সাধন! ব্যর্থ হয় নাই। পলাশির যুদ্ধ কাব্যে যে দেশপ্রেম প্রতিফলিত হযেছে তার সমসাময়িককাল তাতে পরিপূর্ণভাবে আপ্লুত হযেছে। মুখে মুখে ফিরেছে _-অধীনত| অপমান সহি অনিবার কেমনে রাখিবে প্র।ণ, নাহি পাবে পরিত্রাণ আবলিবে অপিবে বুক হইবে অঙ্গার । (৪1৩৫ পাতা ৮৮) ভুবনবিখ্যাত সেই যশের কারণ, বণিতাঃ ছুহিতা তরে, লও অনি লও করে ভারতের লাগি সবে কর তবে রণ! (৪/৪২ পাতা ৯০) এই দেশতক্তির তরঙ্গে দোলায়িত হয়ে পলাশীর যুদ্ধ কাব্য প্রকাশের সাতবছর পর যে মানিক্য প্রকাশিত হল তা রূপে বর্ণে এক অতুযুজল বিস্বয় । বঙ্কিমচন্দ্র আনন্দমঠ ১৮৮২ শ্রীগন্ধে প্রকাশিত হুল আর সেই সঙ্গে মুক্তি পেল এক পরাধীন জাতির জাগরণের বীজমন্ত্র বন্দেমাতরম্‌ সঙ্গীত । লক্মীনারায়ণ চক্রবর্তী : নবাব সেরাজুদৌল্লা ১৮৭৬ নবাব সিরাজদৌল্লাকে নিয়ে প্রথম নাটক প্রকাশিত হল “পলাপীর যুদ্ধ” প্রকাশের একবছর পরে ১৮৭৬ খ্রীষ্টান্বের ২৫শে জুন, নাট্যকার লক্ষমীনারায়ণ- চক্রবর্তী । পলাশীর বুদ্ধ প্রকাশের ফলেই “নবাব সেরাজুদৌল্লা+ রচিত হয়েছে: ২১০ বাংলা ঞ্তিহাসিক নাটক সমালোচনা মনে করবাব্র কারণ আছে। যদ্দিও বিষয়বস্তু উপস্থাপনে লক্্মীনারায়ণ চক্রবতী, নবীনচন্দ্র সেনের দ্বারা কোনভাবেই প্রভাবিত হন নাই কিন্তু পলাশীর প্রচণ্ড বুদ্ধ ও মোহনলালের বীরত্ব এই ছুই রচনার মধ্যেই দেখা গেছে। উভয়ে সযতনে বাঙালীর বীরপণা ও প্রভৃভক্তি, মোহনলাঁল চরিত্র মারফৎ দেখি- যেছেন। মোহনলালের গ্রভুভক্তি স্বদেশগ্রীতি বলে কথিত হয়নি একবাবও । এ নাটকটি অত্যন্ত বিরল ও ছুষ্পাপ্য তাই বিশদভাবে আলোচন! করা হবে। এই নাটকের প্রথম পাতা এইবপ ছাপা হযেছে “নবাব সেবাজ্দে'গা। ( ইতিহ।সিক নাটক ) শ্লীশীনাবায়ণ ১ ণবতা প্রণীত 47895 44910 11910101১ 110550111103 ॥ (0 50198115, ৬/11919 ৬4910117091 07917951779 705৬ (17210990915 10815, /স03911 0150109509 ৬/০ 009017১9195 0 ৬/15০, [09905 01 108 ৬/9111109 121 09 00108111159“ কলিকাতা । ১০৭ নং গ্ামবাজাব ভ্রীট। কর-প্রেসে শ্রীছুনাথ মণ্ডল দ্বারা মুদ্রিত । সন ১২৮৩ সাল ||” শাটক ছয অঙ্কে ১৩৩ পাতাষ শেষ হযেছে । প্রথম অঙ্ক ১-২৩ পাতা, দ্বিতীঘ অঙ্ক ২৪-৪৯ পাতা, ততীয অঙ্ক ৫০-৭৬ পাতা, চতুর্থ অঙ্ক ৭৭-৯৫ পাতা, পঞ্চম অঙ্ক ৯৩-১০৭ পাতা ও ষই অঙ্ক ১০৮-১৩৬ পাতা । নাটকে নবাব আলিবদীর মুড্াব অব্যবহিত পূর্ব থেকে সিরাজের মৃত্যু পর্য্যন্ত ঘটনা- বলী দেখান হযেছে অর্থাৎ বলা চলে ১৭৫৬ এবং ১৭৫৭ খ্ীষ্টাব্দের ঘটন' এই নাটকের বিষষবস্ত। আমাদের সমসাময়িক নাট্যকারদের তুলনায় লক্ষ্মী- নারায়ণ চক্রবতী বিষষবস্তর উপস্থাপনায় বেশ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন । নাটকের গল্পকে যে শক্ত বীধুনী “ওয়া হয়েছে তা পরবর্তী নাট্যকারগণের, বিশেষ গিরিশচন্দের পরবর্তী নাট্যকারগণের তুলনায় অনেক বেশী জে'ব্দার। ইতিহাসকে মোটামুটিভাবে মেনে চলাষ প্রক্ষিপ্ত ঘটনাগুলিকে বলতে হয় “।ট্যকারের দৃষ্টিভঙ্গীতে ঘটনার ব্যাখ্যা । নাটক গুরু হচ্ছে, রানী ভবানীব কন্তা তারাম্তন্দরীর আর্ত চীৎকারে। সিরাজদৌল্লার আদেশে মহম্মদ বেগ তারা-হরণ করছে। বাণী ভবানীর সাহায্যের আহ্বানে ছুটে এলেন রাজা রাজবল্লভের ছেপে, এই নাটকে তাকে আলিবর্দী খা ও সিরাক-উদ-দোল্লা ২২১ কুমার কৃষ্দদাস বলা হয়েছে, আর গৌসাইদীস নামে রাণী ভবানীর আশ্রিত এক ব্রাহ্গণ যুবক। এদের টেষ্টায় তারাম্থন্বরী রক্ষা পেলেন বটে কিন্ত তাদের পালাতে হল। কষ্ণদাস কলকাতায় পলায়ন করলেন। গভীর ক্ষোভে “সিরাঁজদৌল্ল।” গৌসাইদাঁসের স্বন্দরী তরুণী ভাধ্য। সত্যবতীকে অপহরণ করে নিযে হারেমে পুরে ফেললেন । মহল্লী খাজে সেরা নাঁমে একটা চরিত্র করা ভয়েছে যাঁর পরিচয়-প্রধান কুঞ্চকী । তিনি নিভমুখে আত্মপরিচয় দিযে বলেছেন যে সিরাজকে তিনিই কোলে-পিঠে করে মাঁভষ করেছেন । সিরাজের অপকর্ম দেখে তনি ভত্সনা করছেন-“মামুদ আমি দিব্যচক্ষে দেখতে পাচ্ছি তোশাঁব গার নিস্তার নাই । এই সকল অত্যাচার, এ প্রকার প্রজা-পীছন, অবিরাম ই্ছিয় সেবন অবিলম্বেই তোমার সর্বনাশ করবে ।, (প্রথম অঙ্ক ১্য দৃশ্য ১০ পাতা) একশত বছর আগে হলেও নাট্যকার খেজ খবর নিয়ে লিখেছেন । সিরাজদৌল্ার নাম যে মীর্জা মহম্মদ তাও অজানা! ছিল না। প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্তেই বুদ্ধ নবাবের অস্থস্থৃতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে প্রজারা, বলছে-_“মির91 মামুদ স্ববেদার হলে এদেশের কি নিস্তার থাকবে?” এখানে গিরিশ-পববতী নাট্যকারদের তুলনায় লক্ষমী- নারায়ণ চক্রবতী অনেকবেণা ওয়াকেবহাল। তিনি জানতেন যে বাংলার নবাবর' সবাই দিল্লীর স্ববেদার ছিলেন .কউই স্বাধীন ভূপতি ছিলেন না। দুই পলাতক বীরের দেখা হল পলাশীতে । কষ্দাস বললেন «.সরাজদৌল্লার পুনে ছুবুত্ত দশাননের নিধনে প্রপীড়িত। পৃথিবী ঘে ভারমুক্ত হবেন তার আর সন্দেহ নাই |” (১/৪, ২১ পাতা ) গৌসাই দীস সাজলেন “ফতিমা” সিরাজের অপকর্মের প্রাতবিধান হল তার প্রতিজ্ঞ । ( সন্দেহ হয় গিরিশচন্ের জঙ্বর! চরিত্র ফতিমার দ্বার] অনুপ্রাণিত কিনা ! ) ফতিমা মীরনের মনে ঈর্ধ! জাগায় । সম্পদ, স্্বরা, স্ত্রীলোক সিরাঁজ ইচ্ছামত পায় মীরন পায় না । তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় “মামুদের” উচ্ছিষ্ট ত্যাগের জন্ত £২/১)। তিনি পিতা মীরভাফরের কাছে নিন্র ব্যথা প্রকাশ করলেন । ওদিকে নবাব আলিবর্দীর মৃত্যু হয়েছে । প্রথম দিনের দরবারেই নূতন স্থবেদার সিরাজ সকলকে অপমান করছেন । কষ্ণতদাস তান্না হরণে বাধ! দিয়েছে মে জন্ত তিনি কৃষ্দাসের ওপর রুষ্ট । কষ্দাসকে কলকাতায় ইংরজেরা' আশ্রয় দিয়ে অত্যন্ত অন্যায় কাজ করেছেঁ। রাজবল্লভ ও তার পুত্রের গ্ররোচনায় ইংরেক্জর! ছোট বেগমের ( ঘসেটি বেগম ) ২২২ বাংলা তিহা সিক নাটক সমালোচন৷ সঙ্গে যোগ দিয়েছে উদ্দেশ্য বেগমের নাবালক নাতিকে স্থবেদার করা । এই হল নবাব সিরাজদৌল্লার অভিযোগ । ভীষণ রেগে নবাব রায়ছুর্লভকে বলছেন-_-বজ্জাৎ কাফের আমি খুব দরিয়াফত করেছি | তুমিও নেমকহারাম রাজবল্পভের বদ মতলবের মধ্যে আছ ।” একটু পরে বলছেন-_০শুয়ার আমার সামনে থেকে দূর হয়ে যাও ।” (২/২ ৩১ পাতা ) জগৎশেঠও বাদ পড়ছেন না । তাকে বল! হচ্ছে প্দরবারে আর একট] হিন্দু বাচ্ছা রাখব না।” তারপর চাকর হয়ে মুনিবের হুকুম শুনবে না» (২/২ ৩২ পাতা) পরবর্তী দৃশ্ঠেই তাই সবাই জগৎশেঠের বৈঠকখানায় সমবেত হয়েছেন। এই দৃশ্যে জানান হয়েছে যে ছোট বেগম (ঘসেটি বেগম ) বন্দী এবং তার পৌত্র সিরাজ দ্বারা নিহত। সমবেত হয়েছেন জগৎশেঠ, পাটনার শাসনকর্তা রামনারায়ণ ও রাণী ভবানী । প্রসঙ্গত বলা হয়েছে রাণীর কন্তা মাতুলাঁলয়ে। গৌসাই ও রায়ছুর্লভ যোগদান করায় তাদের বিক্ষোভ প্রকাশিত হল। রাজবল্পভও যোগদান করলেন । লক্ষ্য করার বিষয় সব হিন্দুরা মিলে মুসলমান স্থবেদারের বিরুদ্ধে উত্তেজিত হয়েছেন। রায়ছুলভ পরামর্শ দ্রিলেন যে মীরজাফরকে সুবেদারীর লোভ দেখিয়ে দলে টানতে । তিনি প্রধান সেনাপতি স্থতরাং তিনি সিরাজের বিরুদ্ধাচারণ করলে স্থবেদারের পতন তরাদ্বিত হবে। রাজ রাঁজবল্লভ এই প্রস্তাব সমর্থন করলেন। পরবর্তী দৃশ্য মীরভ্াফরের নাচঘর। সহকমী ব্বায়ছুর্লভকে নবাব অপমান করায় মীরজাফর খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একটু আশাঙ্কিত হয়েছেন তাকেও সিরাজ প্রকাশ্ঠ দরবারে অপাদন্ত করতে পারেন এই ভয়ে । (২1৪ পাতা ৩৯৪৪) ফতিমার কথায় মীরণ প্রলোভিত হচ্ছেন। তার পিতা স্থবেদার হলে তিনি অথণ্ড পরাক্রমের অধিকারী হবেন । “মামুদের উচ্ছিষ্ট আর গ্রহণ করতে হবেনা । সাধারণ মান্ৃষও সিরাজের কুৎসা করে বলে_-“মেয়ে মানুষের পেট চিরে যে ছাবাল দেখে সে শালার নবাব কি মানুষ? শয়তান শয়তান, (২৫, পাতা 8৪) সিবাজকে মগ্চপানে ও বিলাসে মগ্র দেখা যায়। নর্তকীদের নৃত্যের মাঝেই মোহনলাল ইংরেজদের চিঠি পড়ে শোনান--“তারা কষ্দদাসকে দেবেনা, রাজস্ব বুদ্ধি দেবেনা ॥ ত্রদ্ধ নবাব চীৎকার করে ওঠেন-__ওদের কাশিমবাজার কুঠি লুঠ কর।? (২1৫ পাতা ৪৪-৪৯) উমির্টাদ অভিযোগ করেন যে কৃষ্দাসকে আশ্রয় দেবার জন্যই নবাঁক আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্ল। ২২৩ কলকাতা আক্রমণ করতে আসছেন । “আপনার জন্তই এই কাগুটা হল, (৩।১ পাতা ৫৩)। ইতিমধ্যে মীরণ স্পষ্টই পিতা মীরজাফরকে অনুরোধ করলেন সিরাজদৌললাকে হটিয়ে সুবেদার হয়ে বসতে । (৩/২ পাতা ৫€৬-৫৮) ফতিমারূপী গৌঁসাই হীরাবঝিলে ত্ত্রী সত্যবতীর সঙ্গে দেখা করে তাকে “পিশাচ বধের? ভন্ঠ প্রস্তত করে গেলেন। (৩/৩ পাতা ৫৮-৬৩)। নবাব কলকাতা। জয় করে ষোহনলালের পাশে পাশে ঘোড়ায় চেপে ফিরে এলেন । জগৎশেঠের বাভীতে ফড়যন্ত্রেরে আসর বসল। আলোচনায় প্রধান অংশ নিলেন জগৎশেঠ, তার ভাই বূপচাদ রায়, (মহারাজ! ম্বরূপটাদ্দ হবে ) গৌোসাই ও রায়ছ্ুললভ। রায়ছুর্লভ বিশ্বাসঘাতকতা করতে পরাম্মুখ। জগৎশেঠ ও রাজবল্লভ তাকে ৰোঝান-_এখন মোহনলালের হুকুমে তোমাষ। কাজ করতে হবে। তারপর সিরাজ চিত্র নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বল! হয় যে, তত গর্ভিনী রমনী ধরি বিদরে উদর, লোকপুর্ণ নৌকা সব জলে ডুবাইয়া, দেখেছে কৌতুক দুষ্ট, করতালি দিয়া । (৩/৫ পাতা ৭৩) মীরজাফর ষড়যন্ত্রে যোগদান করতে রাজী হয়েছেন শুনে অবশেষে রাষছলভ বিশ্বাসঘাতকতা করতে রাজী হলেন । সঙ্গে সঙ্গে এও জানালেন যে মোহনলাল নখাবের সহায় আছেন। “মোহুনলালকে খুব সাবধান? । (৩/৭ পাতা ৭৭) চতুর্থ অঙ্ষের প্রথম দৃশ্বের দরবার দৃশ্ঠাটি খুবই সংঘাতপূর্ণ। নবাবের পক্ষে মোহনলাল প্রশ্ন করে “২৪শে পৌষের সন্ধির পণগুলে! ইংরেজ ভুলে গেল?” উষিটাদ জবাব দেয় “নবাব করাসীদের সাহায্য করলে ইংরেজ নবাবের বিরুদ্ধে অন্ত্র ধরবে নচেৎ নয়। সিরাজ আবার অপমান করেন রায়হুললভকে, জগৎশেঠ তাঁর হাত ধরে গভীর ক্ষোভে দরবার ত্যাগ করেন। সিরাজ ঠিক করলেন ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ করবেন। যুদ্ধে তার ভয় দেখান হয়েছে ভাষণ দেওয়া হয়েছে__“শীতকালের লড়াইয়ে বেশ বুঝেছি, ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ করে, কেহই জয়ী হতে পারবে না।” (৪/১, পাতা ৮৪ ) বলা- বাহুল্য নবাব €ই ফেব্রুয়ারীর যুদ্ধের কথা এবং সে যুদ্ধে হেরে যাবার ঝথাই ঘোষণা! করছেন। ২৪শে পৌষের সন্ধির পণের উল্লেখও সেই কারণে। (৪/১ পাতা ৭৭-৮৫ ) সতাবতীর রূপমুগ্ধ সিরাজ তাকে উপভোগের জন্ত ৃ ১৫ ২২৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন। ব্যন্ত। এমন সময় মহল্লী খাক্ষে সেরা খবর আনে-_কাঁটোয়া কেল্লা ইং- রেজরা কেড়ে নিয়েছে । (৪/২ পাতা! ৮৫-৯১) পরবতী দৃশ্তে অর্থাৎ চতুর্থ অঙ্কের তৃতীয দৃশ্যে নাট্যকার কাটোয়া কেন্লায় ক্লাইভ ও কুটকে দেখিয়েছেন। লক্ষনীয় নবীনচন্তদ সেনের ক্লাইভের মতোই এই ছুই সাহেবও সোজা! বাংলা- তেই কথা বলেন। পরবতী যুগে ইংরেজ ফরাসী 'পর্ত,গীজ প্রভৃতি ইউরোপীয় চরিত্রের মুখে যে এক অদ্ভুত অসংস্কৃত ভাষা দেওয়| প্রচলিত পদ্ধতিতে দাড়িয়ে গেছে তখনও তার প্রচদন হয় নাই । তাই ক্লাইভ ও কুটের যুদ্ধসঙ্জ!, উষ্িঠাদ্দের জন্য জাল দলিল তৈরী করা, কুটের ক্লাইভকে ধিকার দেওয়া এবং অবশেষে ক্লাইভের রণবাগ্যসহ যুদ্ধঘাত্রা ঘটনাবলী বুঝতে কোনই অন্থবিধা হয়না । (৪/৩ পাতা ৯১-৯৫ ) পঞ্চম অঙ্ক পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রে সিরাঁছদৌল্লা আর তার পাশে মহারাজ মোহনলালকে নিয়ে সুরু । যুদ্ধের খবর আসছে । জানা গেল মীরজাফর যুদ্ধ করছেন না। মোহনলালের পুত্র আর মর্দন ( মীরমদূন ) যেদিকে আছে সেইদ্িক থেকে একমাত্র গোলাবর্ষন হচ্ছে । এইসব দেখে মোহনলাল স্বয়ং নবাবের পাশ ছেড়ে যুদ্ধ করতে গেলেন। ইতিমধ্যে সিরাজ মীর- জাফরকে ডেকে পাঠিয়ে বলছেন, “চাচান্জী আমাকে বাচাও।” (পাতা ৯৮) মীরমর্দনের মৃত্যুর খবর পেয়ে সিরাজ প্রাণভয়ে ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তিনি একাকী পলায়নের সংকল্প করলেন। মহলী থাজ! সেরার অনুরোধ উপেক্ষা করে মন্ত্রী বা সেনাপতিদের কাউকে কোন খবর না দিয়ে নবাব শিবির থেকেই পলায়ন করলেন। (৫/১ পাতা__ ৯৬-১০১) অন্তদিকে মীরজাফরের শিবিরের ঘটন1 দেখান হয়েছে । মোহন- লালের বীরত্বে মীরজাফর স্পইই ভীত ও ব্র্যস্ত। সংলাপ--“সমরক্ষেত্রে মোহনলাল বিহ্যতের স্ায় বিচরণ করছে ।” (পাতা ১০২) মীরজাফরের মনকষ্ট দেখান হয়েছে । নবাবের পলায়ন সংবাদে মীরজাফরের বুক থেকে বোস্ধী নেমে গেল। নবাবসৈম্তকে ছত্রভঙ্গ ও পলায়নপর দেখে মীরজাফক ক্রুত . ইংরেজ শিবিরে প্রস্থান করলেন । (€/২ পাতা ১০১-১*৪) হীরত বিলে পরবর্তী দৃশ্যে গোসাই তার স্ত্রী সত্যবর্তীর সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন। (৫/৩, পাতা ১০৫-১০৭ )। দরবার দৃশ্টেই যঠ অক্ক সুরু । মীরজাফরের রাজ্যাভিষেক হল। জগৎ- আলিবর্দী খা ও সির়াজ-উদ্‌-দৌল্লা ২২৫ -শঠ বক্তৃতা করলেন-_রাহু গ্রস্ত পূর্ণচন্দ্রের মুক্তি দেখতে কার না ইচ্ছা হয় ।, (পাতা ১০৮) রায়ছুলভ, ক্লাইভ, রাজবল্লভ, রামনারায়ণ প্রভৃতি সভাসদরা উপস্থিত। (৬/১ পাতা ১০৮-১৯২) পরের দৃশ্তেই গৌসাই দাস গঙ্গাগ্ভে তরণীতে পলায়ণপর সিরাজকে ধরে ফেলেন । মহল্লী থাজা সেরা শত উপরোধ অন্তরোধ করলে৪ গৌসাইএর মন টলল না। সিরাজের মুখে ধরা পড়ার মুহূর্তে সংলাপ-ক্ঝ্যা তুমিই কি সত্যবতীর স্বামী ত্ব্যা? (তষুাপরি পতন ), (৬২ পাতা ১১১-১১৭ ) তৃতীয় দৃশ্তে আবার দরবার । মীরজাফর ইংরেজদের খরচ বাবদ 1দলেন ২৫ লক্ষ টাক1। কুট সেলামী চাইলেন আরো ত্রিশ পক্ষ টাক। মীরজাফর বিপাকে পড়লেন। অনেক লাভের আশায় আনন্দিত উমিাদের দলিল জাল প্রমাণিত হওয়ায় তার মাথা খারাপ হয়ে গেল। তারপর বন্দী সিরাজ আর তার ভৃত্য মহল্লী থাজা সেরাকে দরবারে উপস্থিত করা হল। এই দৃশ্যে প্রাণভয়ে ভীত সিরাজের সকলের পায়ে পড়ে জীবনভিক্ষার দৃশ্তটি সত্যই খুব করুণ। নবীনচন্দ্রের মতন নাট্যকার এক কাগুজ্ঞানহীণ যুবকের জন্যই দুঃখপ্রকাশ করছেন_-তার পরিণামে দর্শকের করুণা ভিক্ষা করেছেন। নবীনচন্দ্র সেন থেকে সম্ভবত সুত্র সংগৃহীত “এ ষে মহন্মদ্ীবেগ তব অন্থচর। তুমি কেন পড়ে তার চরণ উপর? এখানেও মিরাজ তার সভাসদদের চরণে পড়ে ক্ষম৷ তিক্ষা করছেন । বলছেন, “বাচতে দাও” আক্ষেপ করছেন_-“আঃ মোহনলাল নাই | বীর কেশরী মোহনলাল ।” (পাতা ১২১) ক্ষোভে ক্রন্দন করছেন । দৃশ্যটি হৃদয় বিদারক সন্দেহ নাই। (৫/৩, পাতা ১১৭-১২৩) পরের দৃশ্ঠ নগর প্রাস্তরে উন্মাদ উমিটাদ ( ৫1৪, পাতা ১২৩-১২৮)। মীরনের প্ররোচনায় মহন্মদ্রী বেগ সিরাজকে হত্য। করতে কারাগারে উপস্থিত । গৌঁসাই দাস খবর পেয়ে এসেছেন হত্য। বন্ধ করতে । তাঁর মতে সিরাজের যথেষ্ট শান্তি হয়েছে_মৃত্যু তার অভিপ্রেত নয়। কিন্ত মীরণের অর্থ মহম্মদির অঙ্গে । ছুজন দিব্যাগনা এসে ভবিস্তৎ- বানী করলেন, যে কৃতকর্মের জন্য সিরাজের মৃত্যু হবে। নেপথ্যে মহম্মদ বেগ সিরাজকে হত্যা করলেন । গৌসাই গৃহত্যাগী হলেন। (৫/৫ পাতা- ১২৮-১৩১) শেষ দৃশ্ট রাণী ভবানীর শয়নাগার | সত্যবর্তীর কৃতকর্মের হাহাকার এবং অবশেষে ব্বাণীর কোলে মাথা রেখে মৃত্যু । সুরুতে রাণীর কণ্চা ও সত্যবত্তী অপহরণে নাটকের ঘটনাপ্রবাহ মুক্তি ও শেষে সত্যবতীর ২২৬ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন। রাণীর কোলে মৃত্যু তাকে রাণী ভবানীর কন্তাকল্প করা হয়েছে। বিয়োগব্যথায় নাটকের শেষ অংশ বিধুর হয়েছে । (৫/৬ পাতা ১৩২-১৩৬ ) নাট্যকার লক্ষমীনারায়ণ চক্রবভী যে পলাশীর যুদ্ধ ও নবীনচন্দ্রের কৰি কল্পনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন তাতে কোন সন্দেহ নাই। তিনি পলাশীর যুদ্ধ অন্নকরণে নাটক রচনা না করে ইতিহাস পাঠ করে নাটক রচনায় প্রবৃত্ত হয়েছিলেন এটাই অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। “নবাব সেরাজুদৌল্লা” নাটক পাঠ করলে নাট্যকারের ইতিহাসমুখীতা স্পষ্টই বোঝা যায়। নাটকের উপস্থাপনায় যথেষ্ট মুন্নিয়ানার পরিচয় পাওয়া যাঁয়। রাণী ভবানীর কন্তাব অপহরণ প্রচেষ্টাকে কেন্্র করে হিন্দুদের বিক্ষোভ ক্রমে রায়ছুর্লভ ও জগৎশেঠের প্রকাশ্য অপমানে বেড়ে গেল। তারা৷ অত্যাচারী স্ুবেদারকে বিন করার জন্ত সেনাপতি মীরজাফরের আনুকূল্য কামনা করলেন। স্ববে- দারীর লোভ আর পুত্রের আবদার মীরজাফর খাকে বিশ্বাসঘাতক করল। ইতিমধ্যে রাজবল্লভ-পুত্রকে আশ্রয় দ্রেবার জন্য নবাব সিরাজদৌল্লা ইংরেজদের ওপর ক্ষিগু হয়ে প্রথমে কাশিমবাজার কুঠি ও পরে কলকাতা৷ আক্রমণ করে জয়ী হলেন। ইংরেজরা প্রতি আক্রমণ করে “শীতকালে” কলকাতা দখল করে নিল, কাটোয়া কেল্লা অধিকার করল ও অবশেষে পলাশীতে সমবেত হল। মীরমদনের মৃত্যুতে ভীত স্বেদার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করলেন । মীরজাফর হ্থবেদার পদে অভিষিক্ত হলেন । সিরাজকে বন্দী করে দরবারে আনা হল। তিনি সকলের পায়ে ধরে প্রাণভিক্ষা করে ক্রন্দন করলেন। অবশেষে মীরণের প্ররোচনায় গুপ্রঘাতকের ছুরিতে তাব্র মৃত্যু হল। মন্ত্রী মোহনলাল বীর ও বিচক্ষণ রূপে চিত্রিত । পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রে মোহনলালের মৃত্যু হয়েছে ৰল! হয়েছে । লক্ষমীনারায়ণ চক্রবর্তী যে ভাবে নাট্য ঘটন। পরিবেশন করেছেন তা! ইতিহাস অন্থযায়ী নয় । যেমন রামীভবানীর কন্তার অপহরণ কেন্্র করে কোন রকম ষড়যন্ত্র সৃষ্টি হয় নাই বা সিরাভদৌল্লার পতন কেবল হিন্দুদের অভিগ্রেত ছিল একথা মনে করাও অসমীচীন। তবে স্বীকার করতে দ্বিধা নাই যে ইতিহাসকে নাট্যকার যে ভাবে ব্যবহার করেছেন তাতে তার মনীষ! প্রকাশ পেয়েছে। ইতিহাস বিকৃত না করেও তিনি তার নিজেয় মনমতো উপন্তাস দর্শকদের গুনিয়েছেন। বড়যন্ত্রের প্রধান হোত করেছেন রানী ভবানী, জগৎশেঠ, আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্স ২২৭ রামনারায়ণ, রায়হুলভ, ক্রাজবল্পত ও গৌঁসাই দাসকে । পরে মীরজাফর ষড়যন্ত্রে যোগ দিলেও কোন আলোচনার দৃশ্তে তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায় না। মুসলমান অত্যাচারী স্থবেদীরের বিরুদ্ধে হিন্দুদের বিদ্রোহ কল্পনাই ষড়যন্ত্র কারীদের নাম স্থির করে দিয়েছে । শেষের দিকে জগতশেঠ ভ্রাতা স্বরূপটাদও ষড্যস্ত্রে যোগ দিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গ “পলাশীব্র যুদ্ধ” কাব্যের ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করবার লময় বিশদভাবে দেখান হয়েছে । রামনারায়ণ ছিলেন পাটনার শাসনকর্তা । পলাতক সিরাজ পাটনায় রামনারায়ণের কাছে পৌছবার চেষ্টা করছিলেন। প্রচলিত মত অনুযায়ী বিশ্বাস করা স্বাভাবিক যে সম্ভবত তিনি নবাবের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছিলেন । কিন্তু যেহেতু পলাশীর যুদ্ধের অব্যবহিত আগে ও পরে রাঁমনারায়ণের মতামত বা গতিবিধি জান] যায় না সেহেতু জোর করে বলা চলে না যে ষডযন্ত্রকারীদের সঙ্গে তার গোপন যোগাযোগ কখনও স্থাপিত হয় নাই। এখানে নাট্যকারের কল্পনা এমন এক জায়গায় “ছিপ ফেলেছে” যে ইতিহাস কিছু বলতে পারে না । তবে এটা ঠিক যে রামনারায়ণ ১৭৫৭ খ্রীষ্টাবে মুশিদাবাদে ছিলেন না কারণ পাটনায় তার গতিবিধির নিদর্শন আছে । তর্কের খাতিরে কেউ যঙ্দি বলেন যে রামনারায়ণ গোপনে মুশিদাবাদে এসে বড়যন্ত্রে যোগ দিয়েছেন ইতিহাস তা প্রমাণ সাপেক্ষে সন্দেহ করতে পারে, সম্পূর্ণ অন্বীকার করতে পারবে না। গৌঁসাইদাস কল্পিত চরিত্র স্বতরাং তার সম্বন্ধে আলোচনার প্রশ্ন নাই। জগৎশেঠ ভ্রাতাদ্দের উপস্থিত করা নাট্যকারের ইতিহাস জ্ঞানের পরিচয় । শুধু নাম তুল হয়েছে । জগৎশেঠকে বল! হয়েছে “মাতাব বায়' হবে মহাতপ ঠটাদ। আর তার ভাইকে বল! হয়েছে রূপঠ।দ হবে স্বরূপটাদ। রায়হর্লত ও রাজবল্লভের যন্ত্রের ভ্মিকা আগেই বলা হয়েছে। এই নাটকে উভয়ের ধড়বন্ত্র করার চমৎকার কারণ দেওয়। হয়েছে । রায়ছুলভের দরবারে অপমান ও পদচ্যুূতি এবং কৃষ্দাসের (রাজবল্লভ পুত্র) কলকাতায় আশ্রয় গ্রহণ ইতিহাস সম্মত সত্য। নানাদিক থেকেই এ নাটকে বন ইতিহীস-সন্মত ঘটনাবলী আছে। রাণী ভবানীর কন্ভার অপহুরথ প্রচেষ্টা, জগৎশেঠ ও রায়ছুল'ভের দরবারে অপথান, বীরজাফরের সুবেদারীর লোভ, ইংরেজ সাহাষ্য ভিক্ষা, কাশিমবাজার কুঠী অয়, কলকাতা! অভিযান ও জনন, শীতকালের বুদ্ধে কলকাতা ইংরেভদের পুনর্দখল ২২৮ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা কাটোয়। দুর্গ দখল এবং অবশেষে পলাশী । নাট্যকার সব থেকে বেশী কৃতিত্ব দেখিয়েছেন সিরাজ-চরিত্র পরিকল্পনায় । ইতিহাসের পাত। থেকে উঠে আসা অপরিণামদশ, ভীরু, বিলাসী এক তরুণ উচ্ছৃঙ্খল যুবককে স্পষ্ট দেখা যায়। নাট্যকার তার মুখে যে অসভ্য ভাষণ দিয়েছেন তাও যেন তরলমতি, চরিত্রহীন এবং নৃশংস নবাবের মুখে খাপ থেয়ে যায়। কুসঙ্গী পরিবৃত হয়ে কেবল সুর! আর আসঙ্গলিগ্ায় যার জীবন কেটেছে তার মুখ থেকে সুসংস্কত ভাষা আশা করা যায় কি! নট্যকার সিরাজের কোন মহিষীর ঝঞ্ধাট রাখেন নি। তাই গৌসাই পত্বীকে ভোগ করার লালসার মাঝে নাট্যকার নবাবের মনে যে ভালবাসার আকাঙ্া জাগিয়েছেন তা একদিক থেকে যেমন মানবিক তেমনি নাটকীয় হয়েছে । চরম অবিমৃক্তকারিতায় পলাশী যাওয়া এবং সেখান থেকে সর্বাগ্রে পলায়ন করে নবাব ষে কাপুরুষতাঁর পরাকাষ্ঠ৷ দেখিয়েছেন তা! সুন্দরভাবে চিত্রিত । শেষ দরবার দৃশ্টে' সিরাজ সকলের পায়ে পতিত হয়ে ক্রন্দন করছেন এবং জীবন ভিক্ষা চাইছেন এতিহাসিক সত্য নয় যদিও দৃশ্ঠাটি খুবই সৃপরিকল্িত ও স্থলিখিত। নেপথ্যে সিরাজকে হত্যা দেখিয়ে এক বীভৎস্য দৃশ্যকে অন্তরালে রাখা হয়েছে । সিরাজকে হত্যা করে তখনি তার মুণ্ডটি কেটে ফেল! হয় এবং সেই ছিন্নমুণ্ড মিরণকে দেখিয়ে মহম্মদ্দী বেগ পুরষ্কার লাভ করেন। বলা বাহুল্য এদৃশ্ঠ নাট্য প্রযোজনায় অসম্ভব তাই নেপথ্যে সিরাজ হত্যা খুবই বিবেচনার কাজ হয়েছে। একটি দৃশ্তে সিরাজের অশ্বারোহণে প্রবেশ ঘোষিত হয়েছে। এই অংশ- টুকুর আলোচনা প্রয়োজন। ইতিহাস কথন সিরাজকে অশ্বারোহী দেখে নাই। ১৭৪৮ খ্রীষ্টাব্দে পাটনা যাত্রা কালে গোশকট। ১৭৫৬ শ্রীষ্টাবকে কলকাতা জয়ের পর বিক্ঞয়ী নবাব ডুলিতে চেপে ফোর্ট উইলিয়াম প্রবেশ করলেন। ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে ₹ই ফেব্রুয়ারীর যুদ্ধে ক্লাইভের অতফিত আক্রমণে সিরাজ হালসীবাগানে উমির্ঠাদের বাগান থেকে পালকী চেপে পলায়ন করলেন। কয়েকমাস পর ২৩শে জুন বিকাল চারটায় পলাশী রণাঙ্গন থেকে পলায়ন করলেন হাতিতে চেপে, মতান্তরে উটে । মুশিদাবাদ থেকে সেইরাত্রে নবাব প্রাণ রক্ষার জন্ত প্রথম গোশকটে এবং পরে নৌক। চেপে পালাচ্ছেন দেখে সন্দেষ থাকে না যে নবাব সিরাজদৌক্লা অশ্বারোহণে অশক্ত ছিলেন । সিরীক্ের বিলাসী রূপের চিত্রটি সম্পূর্ণ হল। দাছর আদরের নাতি, ছুধিনীত, আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্ল। ২২৯ বদরাগী, অত্যাচারী, ক্ষমতার সুরা» পানীয়ের মতোই তীকে সর্বদা মদমত্ত করে রেখেছে । যুদ্ধ সম্পর্কে সম্পূণ অনভিজ্ঞ এক ভোগীকেই বার বার দেখা যায় ধিনি যুদ্ধজয়ের কৃতিত্ব গ্রহণ করেন কিন্তু যুদ্ধ করার দাধিত্ব গ্রহণ করার সাহস রাখেন না। সেভার থাকে সৈন্তাধ্যক্ষদের হাতে। বরগীর সঙ্গে ক্রমাগত যুদ্ধে ক্লান্ত অশীতিপর নবাব আলিবদীর সম্পূর্ণ বিপরীত এই চরিত্র । [বপরীত কিন্তু নৃতন নয়। বাংলার নবাবের এটাই স্বাভাবিক রূপ । আসঙ্গলিগ্পা, নর্তকী আর স্থরায় তাদের জল্মগত অধিকার । দাছর আদরের নাতি কখনই যুদ্ধবিদ্ভা, অশ্বারোহণ প্রভৃতি শিক্ষা করার অবকাশ পান ন|ই। রমণী-সম্তোগেই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত অবসিত । তাই জীবনের শেষ মুহুর্তেও ভ্রতগামী অশ্বারোহণে তিনি জীবনরক্ষা করতে পারলেন না। ২৪শে জুন ১৭৫৭ শ্রীষ্টাব্দের রাত্রে তিনি পলাতক হুলেন। এবং ৩০শে জুন ভগবানগোলায় তিনি বন্দী হলেন। গোশকট ও নৌকাযোগে পুরা পাচদিন সময পাওয়া সত্বেও পলাতক নবাব দশমাইল. পথ অতিক্রম করতে পারেন নাই। এটা তার অপটুতার এক জাজল্যমান নিদর্শন । পাশাপাশি তুলনা করা যাক ওয়াটস সাহেবদের পলায়ন। সময় ২৪শে জুনের জায়গায় ১২ই জুন, বার দিন আগে। গতি উত্তরে নয় দক্ষিণে। নবাবের হাত থেকে পালাবার জন্য ওয়াটস্, কোলেট, হেস্টিংস প্রভৃতি শিকারের নামে রাজধানী ত্যাগ করে বাত্রিকালে অস্বারোহণে অগ্রদ্ধীপ পৌছে তখুনি নৌকায় কলকাতায় বওন] হয়ে গেলেন । ১২০-১২৫ মাইল পথ তারা চারদিনে অতিক্রম করলেন ।৩১ নাট্যকার লক্ষীনারায়ণ চক্রবর্তী উমি্টাদের জাল দলিল এবং তার উন্মাদ হয়ে যাবার ঘটনা নাটকে ব্যবহার করেছেন। এ নাটকেও মোহনলাল বাঙ্গালী বীর ও সিরাজের বিচক্ষণ পরামর্শদাতারূপেই চিত্রিত হয়েছেন । মৌহনলালের এক বীর পুত্র প্রচলিত সংস্কার অনুযায়ী পলাশীতে সিরাজের পক্ষে যুদ্ধ করেছে। ক্লাইভ চরিত্রকে কুশলী এবং কুটকে সরল যোদ্ধা করে নাট্যকার তার ইতিষ্বাস জ্ঞানের পরিচয় দিয়াছেন। নামকরণে বিশেবস্ব আছে। মির্জামহন্মন সিরাজদৌল্ল।কে মামুদ সেরাজুদৌল্ল! বলা হয়েছে, মীরমদন হয়েছে মীরমর্দান ; মেহমদি বেগ হবে মহচ্মদী বেগ। নাটকে এই প্রথম ও শেষ এ্রতিহ্হাসিক সিরাজদৌল্লা চরিত্র দেখা গেল। ২৩০ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা পরবর্তী যুগে রাজনীতির ঘুর্ণাবর্ত যেমন দেশকে কম্পিত করেছে নাটকেও তার প্রতিফলন হয়েছে । সিরাজদৌল্লা ধীরে ধীরে সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তরিত হয়েছেন । ১৭৮৬ এউষ্টাব্দের নাটকে যে চরিত্র দেখতে পাওয়া যায় তাতে সিদ্ধান্ত কর সম্ভব যে বাংলার রাজনীতিতে তথনও দেশাত্ববোধের বন্তা আসেনি এবং নাটকে দেশের যে গ্রতিবিদ্ব দেখা যাঁয় ত। থেকে বোঝা সহজ যে এঁতিহানসিক ঘটনাকে তখনও বিরুত করার কোন কারপ ঘটেনি । কেবলমাত্র মোহমলালের বীরত্বের এবং “মোহনলালের ব্যাটার+ স্থনাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । সব দ্দিক বিবেচনা করলে লক্গষমীনারায়ণ চক্রব্তীকে “নবাব সেরাজুদৌল্ল।” নাট্যরচনার জন্য সাধুবাদ জানাতে হয়। নবীনচন্ত্র সেন ও তিনি প্রমাণ করেছেন যে ইতিহাস পাঠ ও অন্থসরণ করে নাটক রচনা কর! সম্ভব । উনবিংশ শতাঁবীতে নাটক রচনায় তাই দেখা যায় ধ্রতিহাসিক ঘটনা সামান্ত প্রক্ষিপ্ত। নাট্যরচনার দিক থেকে এই গুণ বিংশশতাব্দীতে সম্পূর্ণ 'অবসিত। তথন মনের টানে প্রাণের তাগিদে কল্পনার পাখায় প্রতিহাসিক নাটক বিচরণ করেছে। এতিহাসিক নাটকে কল্পনা, বিবর্তনবাদের ধার! বয়ে প্রক্ষিগুতর থেকে প্রক্ষিগ্ততম হয়েছে । পরবর্তী নাটকে এই ক্রমাবনতি লক্ষ্য করা যাবে। ইতিহাস অবহেলার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির গ্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে । রাজনীতির গ্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নাট্যকাররা সম্পূর্ণভাবে স্বকপোল পরিকল্পনাকে ইতিহাস বলে চালাতে চেষ্টা করেছেন । গিরিশচন্দ্র ঘোষ £ সিরাজদৌল্লা ১৯০৫ দীর্ঘ ৩১ বছর পর বাংল! নাটকে নবাব সিরাজদৌল্লাকে দেখা গেল। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্র। সিরাজ হয়ে গেলেন দেশের নন্য উতসর্গাকৃত প্রাণ এক মহান নেত। | পলাশীর পরাজয় জাতির জীবনের এক বিরাট কলঙ্করূপে দেখা দ্রিল। নবীনচন্ত্র উনবিংশ বছরের এক বুদ্ধিহীন তরুনের অপরিণামদশিতা দেখিয়েছেন। লক্ষ্ীনারায়ণ চক্রবর্তীর সিরাঁজও তারই অন্তরূপ। (সিরাজের বয়স তথন ২৪ বৎসর | ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ যে সিরাঞ্জকে প্বাকলেন তা এক অঙ্গিববী বিপ্রবী, রাজনৈতিক প্রা্তায় তার কাছে সকলেই পর[তভৃত হয়েছে। আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্ল। ২৩১ চরিত্রচিত্রণে এই বিরাট পরিবর্তনের কারণ দেশের সম্পূর্ণ ভিন্ন আব- হাওয়া । ইতিমধ্যে ভারতবষের স্বাধীনতাকামন] স্পষ্টরূপ নিয়েছে । স্তাপিত হয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। বুটিশ পাসনের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি হয়েছে । সন্ত্রীসবাদীদের চরমবাদ্দে তখন শাসনযন্ত্র উদ্ধ্যত্ত । দেশের জমিদার- শ্রেণী গোপনে সন্ত্রাসবাদীদের অর্থসাহায্য করছেন। ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে অসঙ্তোষ প্রকাশ পাচ্ছে । জাতীযতাবাদেব এই মহাসন্ধিক্ষণে গিরিশচন্দ ১৯০৫ শ্রীষ্টান্বে তার রচিত মিরাজদৌল্লা নাটক প্রকাশ করলেন। ভারতের রাজনীতিতে তথন বালগঙ্গাধর তিলক, লালা গাক্গপত রায় ও বিপিনচন্দ পাল দিকপাল । তাঁদের নরুমপন্থী বা মডারেট বলার লোকেরা সবেমাত্র নেতা পর্যাষে মনোনীত হচ্ছেন। অরবিন্দ ঘোষের নাম সন্ত্রাস- বাদীদের দলপতি হিসাবে সকলের মুখে মুখে । স্বদেশী জিনিষ কেনার কন্ঠ আন্দোলন শুরু হয়েছে। ত্বদেশী ব্যবসা স্তাপন এবং স্বদেশী দ্রব্য উৎপাদনে বহু বাঙ্গালী উৎসাহিত হয়ে কাজ সরু করেছেন । বঙ্গীয় জাতীয় বণিকসভা৷ কায়েমী আসন পেয়েছে । ব্বদেশীয়দের ব্যবসায়ে আত্মনিয়োগ করার ডাক নিযমিত প্রচারিত হচ্ছে। বাঙ্গালী স্বদ্দেশী ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ।৩২ এই সময় দেশের মধ্যে এক জটিল অবস্থার উত্তব হল । বঙ্গভঙ্গের আলো- চন! সুরু হোল পুরোদমে । বাংলাকে ভাগ করে ছুই প্রদেশে বিভক্ত করার প্রস্তাবে বাঙ্গালী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। ১৯০৫ খ্রীষ্টাবে “সিরাজদৌল্লা+ প্রকাশের মাসাধিককালের ষধ্যেই বঙ্গভঙ্গের আদেশ প্রচারিত হল অক্টোবর মাসে। ই আগষ্ট ১৯০৫ টাউন হলের বিরাট সভায় বিদেশী দ্রব্য বর্জনের সিদ্ধান্ত ঘোবিত হল। এই সভায় সভাপতিত্ব করলেন বঙ্গীয় জাতীয় বণিক সভার অন্ততম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং দেশের এক সেরা জমিদার কাশিমবাজারের মহারাজ মণীন্বচন্র নন্দী । গ্রামে শহরে বাঙ্গালীর মন শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে অধীর হয়ে উঠল । রবীন্দ্রনাথ লিখলেন রাখী- বন্ধনের গান। হিন্পু মুসলমানের মধ্যে নূতন, করে বোঝাপড়ার প্রয়োজন রাজনৈতিক" কারণেই বড় হয়ে দেখা দ্রিল। এই পরিস্থিতির মধ্যে ১৯০৫ ্রীষ্টান্ষের সেপ্টেম্বর মাসে অভিনীত গিরিশচন্দ্রের সিরাজদৌল্লা (২৪শে ভাত্র ১৩১২) রাজনৈতিক নেতার মত ন্ুুসংযত ভাষায় পরিপক বুদ্ধি চেতন ও. কর্মক্ষমত! নিয়ে দেখা দিলে আশ্চর্ধ্য হবার কোন কারন নাই । এই শ্বাধী- ২৩২ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা নতাকামী মিরাজ বাংলার জন্তে জীবন তুচ্ছ করে যুদ্ধ করবেন এটাই স্বাভাবিক । কেবলমাত্র হিন্দু মুসলমানে মিলনগ্রন্থী স্থষ্টির প্রয়াসের জন্য নয়» গিরিশচন্দ্রের রচনায় পরাধীন বাঙ্গালীর ক্ষোভ ছুঃখ আর স্বাধীনতালাভের ইচ্ছা প্রকাশিত হয়েছে । এই নাটকে সিরাজদৌল্লাকে অবলম্বন করে ভাতির শ্রেঈ নাট্যকার বাঙ্গালীর আশা-আকাজ্ষাকে ভাষা দিয়েছেন | সিরাঁজ তাই হয়েছেন বাঙ্গালীর প্রতিভূ। তার পরাজয় বাঙ্গালীর মুখে পরাজয়ের কালিমা মাথিয়ে দিয়ে গেল। এঁতিহাসিক সিরাজ চরিত্র উপেক্ষা করে গিরিশচন্দ্র এক মহিমান্বিত সিরাজ চারত্র রচনা করে জনসাধারণের বিক্ষোভকে মূর্ত করে তুললেন। নাটকের জনপ্রিয়তা ও সাফল্য এমন হল যে ইংরেজ সরকারকে নাটকের অভিনয় বন্ধ করে দিতে হল । নবীনচর্দের সঙ্গে গিরিশচন্দ্র পার্থক্য লক্ষণীয় । সিরাজের পতনের ছবি আ্ীাকতে গিয়ে কবি এক সুন্দর কাব্য রচনা করেছেন। এই লম্পট ভীরু নবাবের জন্তে কবির অপূর্ব সমবেদনা । তিনি সিরাজের অপকীন্তিকে নিন্দা করেছেন কিন্তু তার পতনে, তাঁর অপঘাত মৃত্যুতে সমবেদনায় মনকে উদ্বেলিত করেছেন । এই সমবেদনা রাজনৈতিক নয়, দেশপ্রেমেরও নয়» শুধু এক বিপথগামী যুবকের শোচনীয় পরিনতিকে উপলক্ষ করা হযেছে। নবীনচন্দ্রের কাব্যে সিরাজ এক ব্যক্তি মাত্র । তার জন্য শোক, ব্যক্তি-স্বত্বার নির্মম নিয়তির জন্য ব্যথাবোধ। অত্যন্ত কঠিনপথে সিরাজ-চরিত্র ব্যাখ্যা করেছেন নবীনচন্ু । গির্রিশচন্দের রচনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন পন্থা দেখতে পাওয়! যায় । গিরিশচন্দ্র অত্যন্ত যত্তে সিরাজদৌল্লার ইতিহাস পাঠ করেছেন দেখে অবাক হতে হয়। তিনি অতি সাবধানে এ্রতিহাসিক তথ্য চয়ন করেছেন। তারপর সিরাজের কুকীতিগুলিকে তার শক্র প্রচারিত মিথ্যা বলে নাটকে উপস্থাপনা করেছেন। এজন্ত রতিহাসিক চব্রিত্রের সঙ্গে অনেকগুলি কাল্পনিক চরিত্রও তাকে আনতে হয়েছে। জহর! এমনি এক চরিত্র । তার পরিচয় দেওয়া হয়েছে হোসেনকুলি খাঁর বিধবা । এই অছর] নবাবের অন্তঃপুরে কুৎসা প্রচার করে নবাবকে হেয় করেন কথন) কখনও বা! বিশেষ ফেব্রুয়ারী ১৭৫৭ তে কলকাতার যুদ্ধে ক্লাইভের হাত ধরে নবাব শিবিরের সামনে তাকে নিয়ে এসে গোলাবর্ষণ করতে সাহাধ্য করেন। কাজেই তখন ওই অপ্রস্তত অবস্থায় রাব্রিকালে নবাবের পলায়ন আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্ল। ২৩৩ ছাড়া গতি কি? গিরিশচন্দ্র এইভাবে সিরাজকে রক্ষা করেছেন । তার পলায়ন তিনি অস্বীকার করেন নাই কিন্ত এমন এক নাটকীয় পরিষেশ সৃষ্টি করেছেন । যাতে মনে হবে পালিয়ে যাওয়! ছাড়া নবাবের আব্র কোন গত্যস্তর ছিল না। এইভাবে গিরিশচন্ত্র সিরাজ চরিত্রে সঙ্গতি এনে তাকে জাতীয়তাবাদী দেশনায়কে রূপান্তরিত করেছেন। লক্ষ্য করার বিষয় যে এতিহাসিক ঘটনাবলী বিৰৃত কর! হয় নাহ কিন্তু সিরাজ-চরিত্রের কলহ্কিত দ্িকগুলি নাটকীয় ভাবে পূরণ করা হয়েছে, সময়ে সময়ে “চুণকাষ” করা হয়েছে । নাটকের বিশদ আলোচনার সময় এই বিষয়গুলি আরও স্পষ্ট করে দেখাবার স্থযোৌগ পাওয়! যাবে । গিরিশের সিরাজ প্রথম রাজনৈতিক সিরাজ । গিরিশচন্দ ঘোষের সিরাঁজদৌল্ল। পাচ অঙ্কে ২০২ পাতায় শেষ হয়েছে। প্রথম অঙ্ক ১ থেকে ৬৪ পাতা, দ্বিতীয় অঙ্ক ৬৫ থেকে ১০০ পাতা, তৃতীয় অঙ্ক ১০১ থেকে ১৩৮ পাতা, চতুর্থ অস্ক ১৩৯ থেকে ১৭৭ পাতা ও পঞ্চম অঙ্ক ১৭৮ থেকে ২০১ পাতা । প্রথম অভিনয়ের তারিখ ১৩১২ সাল ২৪শে ভাদ্র+ মিনার্ডা থিয়েটার । নাট্যকার স্বয়ং অধ্যক্ষ ও শিক্ষক, আধুনিক নাঘে পরিচালক | সিরাজের ভূমিকায় অভিনয় করেন দানীবাবু (স্থরেন্্রনাথ ঘোষ ), করিম চাচা গিরিশচন্দ্র ঘোষ, দ্রানশা-অর্দেন্দু শেখর মুস্তফী, সকতজঙ» স্তীফটন ও মু'সালা এই তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেন মন্মথনাথ পাল ( হাছ্বাবু ) ভহরা ও আলিবর্দী বেগম-তারাস্থন্দরী, লুৎফউন্সিসা-সুশীলাস্থন্রী । ক্লাইভের ভূমিকায় হৃববিখ্যাত ক্ষেত্রমোহন মিত্র অভিনয় করেন । ডঃ হেমেন্নাথ দাশগুপ্তের মতে “সেই সময় বাঙলার রঙ্গমমঞ্চে সিরাজের ভূমিক! গ্রহণ করিতে দানীবাবু অপেক্ষা! যোগ্যতর ব্যক্তি কেহই ছিলেন ন11”৩৩ গোলমাল কিছু কম হয় নাই। অপরেশচন্ত্র লিথেছেন তাকে ওই সিরাজের ভূমিক1 না দেওয়ায় তিনি মিনার্তী ত্যাগ করেন। অমরেন্দ্রনাথ দত্ত মিনার্তায় ম্যানেজার হয়ে এসে নিজে সিরাজের ভূমিকা গ্রহণ করেন। ভ: দাশগুপ্ত দানীবাবুর অভিনয় কৃতিত্ব সম্পর্কে যা লিখেছেন ত1 সমকালীন বাজনৈতিক অবস্থা বুঝতে সাহায্য করবে। “সিরাজের ভূমিকায় দানীবাবুর প্রকুষ্ট অভিনয় তৎকালীন যুবক সম্প্রদায়ের মনে এইরূপ গভীর রেখাপাঁত করিয়াছিল ষে সেই স্বদেশী যুগে প্রসঙ্গক্রমে কেহ বন্দি বলিতেন “এবার দেশ ম্বাধীন হইলে নবাব হইবেন কে?” ২৩৪ ৰাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা অমনি উত্তর হইত-_"নবাব হইতে পারেন একমাত্র দানীবাবু।” স্থপ্রসিদ্ধ অভিনেতা মনোরঞ্জন ভট্রীচার্য্যকেও এই কথা একাধিকবার বলিতে শুনিয়াছি।,৩৪ সুতরাং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পুর্ণ স্থযোগ সিরাজদৌল্লা নাটক পেয়েছিল এবং প্রচণ্ড জনশ্গিয়তার জন্যই সম্ভবত অভিনয় বন্ধ ও পুস্তক বাজেয়াপ্ত করা হয়। গিরিশচন্দের নাটকে প্রবলপ্রতাপাপ্িত ইংরেজ সরকার কেন বিচলিত হলেন এ প্রশ্ন স্বভাবতই মনে আসে। ১৯০৫ শ্রীষ্টাব্বের ৭ই সেপ্টেম্বরে অভিনয় আরম্ত হবার দিন থেকেই দর্শকের উত্তেজনা ও আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে থাকে । সিরাজদৌল্লার পতন যে বিশ্বাসঘাতক, স্বার্থাম্বেষী সভাসদ ও ইংরেজ বনিকদের হীন চক্রান্তের ফল একথা সবার মনে জেগেছিল। এই তারিখ থেকেই মীরজাফর, ব্রায়ুলভ, ব্রাজবল্লত, জগৎশেঠ ও উমিচাদ অত্যন্ত হীন চরিত্র রূপে প্রতিষ্ঠিত হলেন। বিশ্বাসঘাতকের আর এক নাম মীরজাফর হল । বাংলা ভাষ! ও সাহিত্যে বিশ্বাসহস্তা ষড়যন্ত্রকারী মীরজাফর কায়েমী থল- চরিত্র হয়ে গেল। গিরিশচন্দ্র যে অতি যত্বে এতিহ্থাসিক ঘটনা চয়ন করেছেন একথ1 আগে বল! হয়েছে । ঘটনা চয়নের সময় গিরিশচন্দ্র সিরাজদৌল্লার পক্ষের সব কথাই সংগ্রহ করেছেন--বিরোধীপক্ষের কিছুই গ্রহণ করেন নি ৰা সত্যাসত্য বিচার করেন নি। তা সত্বেও সিরাজবিক্ুদ্ধ কথাকে নাটকীয় ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন। তাই মোটামুটি এ্রতিহাসিক ঘটনার আঙ্গিনার মধ্যে রাজনৈতিক সিক্লাজের হ্বদেশিকত। বাঙ্গালার দর্শক গ্রহণ করেছে । বঙ্গভঙ্গের মুহূর্ত বলেই বিনা বাধায় গিরিশচন্দ্রের সিরাজ শহীল্বের বেদীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তার প্রতিহাসিক চরিত্র চাপা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ভূমিকায় গিরিশচন্দ্র লিখেছেন-_-“ৰিদেশী ইতিহাসে লিরাজ চরিত্র বিরুতবর্ণে চিত্রিত হুইয়াছে। স্ুপ্রসিদ্ধ এতিহাসিক শ্রীযুক্ত বিহারীলাল মরকার, শ্রীনুক্ত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, শ্রীমুক্ত নিখিলনাথ রায়, শ্রীযুক্ত কালীগ্রসর বন্দ্যোপা ধ্যায় প্রভৃতি শিক্ষিত স্থুধীগণ অসাধারণ অধ্যবসায় সহকারে বিদের্গী ইতিহাস থণ্ডন করিয়া রাজনৈতিক ও গ্রজাবৎসল সিরাজের স্বরূপ চিত্র প্রদর্শনে য্রশীল হন। আমি এ সমস্ত লেখকগণের নিকট খণী। এস্বলে এসিয়াটিক লোসাইটির সহকারী লাইবেরীয়ান শ্রীযুক্ত ঘোগেশচন্্র আলবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্লা ২৩৫ চট্টরোপাধ্যায়-.....সিরাজদৌল্লা সংক্রান্ত যত প্রকার ইংরেজী পুস্তক আছে বিশেষ অনুসন্ধানে, আমার সাহাধ্যার্থে প্রেরণ করেন।” (ভূমিকা সিরাজদৌল্লা__গিরিশচন্দ্র ঘোষ পাতা ।০ ) স্বদ্দেশিকতার প্রথম যুগের আত উৎসাহে, ইতিহাসের নামে এমন অনেক কথা প্রচার হয়েছিল যা পরবর্তীকালের স্বদেশীয় এতিহাসিকগণ যেমন বছুনীথ সরকার (1115101% 01 861798। ৬০|. || )» আচাধ্য রমেশচন্দ মজুমদার ( বাংলাদেশের ইতিহাস দুইথগ্ড ) প্রভীতিকে সংহত করে নিতে হয়েছে । এছাড়। স্বদেশীধুগের লেখকরা পরস্পর- বিরোধী উক্তিও করেছেন। উদ্দাহরণস্বূপ বল! যেতে পারে যে মূলত নিথিল- নাথ সেনের মুশিদাবাদ কাহিনীর লুৎফউন্সিস! প্রবন্ধ লুৎফউন্নিসা বেগমকে নবাব মহিষীর সন্মানে ভূষিত করেছে। গিরিশচন্দ্র ও তৎপরবর্তী সাহিত্যিক- গণ এমন কি কিছু পরবর্তী এ্রতিহাসিক লুৎফউন্নিসাকে নবাব মহিষ সম্মান দ্রিযেছেন । কিভাবে ভুল বোঝাবুঝি ঘটল ভার বিশদ বিবরণ দেওয়া যাক। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয সন্তর্পণে লিখেছেন-প্রিক় সহচর লুৎফউন্লিসা বেগমকে সঙ্গে করিয়া *” (সিরাজদৌল্লা__অপয়কুমার মৈত্রেয়_ পাতা ৪৫ | অন্যত্র লিখেছেন, “একজন মাত্র পুরাতন প্রতিহারী এবং চিরসহচর লুৎফুউন্লিসা বেগম ছায়ার স্তাঁয় পশ্চাতে পশ্চাতে অন্ুগমন করিল । (পাতা! ৩-৮)। ছুই জায়গাতেই “বেগম” শব্দ ভুল বোঝাবুঝির স্যত্র হয়েছে । বেগম অর্থে ধরে নেয়! হযেছে_-“নবারের "স্ত্রী? এটা সম্পূর্ণ ভুল। ঘসেটি বেগম নবাবের কন্তা! হয়েও বেগম শব্ধ ব্যবহার করেছেন। বাদশাহ ওরঙগজীবের কন্তাছয় জেবুন্নিসা বেগম ও জিন্নতউদ্নিসা বেগম অবিবাহিত ছিলেন । বাদশাহ শাহজাহানের কন্তা জাহানারা বেগমও বিবাহ করেন নাই । স্থতরাং বেগম শব এখানে বাংলায় “দেবী” ব। প্দাসী” অর্থে ব্যবহৃত। অমুক দেবী ঝা অমুক দাসীর মতো অমুক বেগম ব্যবহার করা হয়েছে । অক্ষয়কুমার মত্রেয় বেভারিজ সাহেবের মতামত ফুটনোটে উদ্ধৃত করেছেন_-'19 ৬/৪5$ ৪0০01)- 791)90 17115 11910: 0% 15 8৬০1109 0010010109 |-9121611171952* এট! খুবই তাৎপর্য্যপূর্ণ। ১৩০৪ সালে অর্থাৎ ১০৯৭ খ্রীষ্টাব্দে মৈত্রেয় মহাশয়ের পুস্তক প্রকাশিও হয়। এ বছর শ্রাবণ মাসে নিখিলনাথ রায়ের মুপ্িদাবাদ কাহিনীর মধ্যে লুৎফউদ্লিসা প্রবন্ধে দেখা] যায় “*.*...-*. এবং তিনিই (লুখফউদ্ধিপা) সিরাজের প্রিয়তমা মহ্ষী বলিয়া! ইতিহাসে উল্লেখিত হইয়া ২৩৬ বাংলা ধ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। থাকেন।” (মুশিদাবাদ কাহিনী পাতা ১৯৪) কিছুক্ষণের মধ্যেই কিন্তু রায় মহাশয় অন্য কথা বলেছেন-__প্রসঙ্গ ক্রমে একটি কথা বলিয়া রাখি। লুৎফউন্লিসা অথবা ফৈজী কেহই সিরাজের বিবাহিত স্ত্রী নহেন। সিরাজের বিবাহিতা স্ত্রীর নাম ওমদাদউন্লিসা। (পাতা ১৮৭)। এমনি নানা অসঙ্গতি স্বদেশী- যুগের লেখার মধ্যে দেখা যাঁধ। লুৎফউন্লিসা বিষয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি মোহনলালের ভগ্নী । ১৭৪৮ শ্রীষ্টান্দে সিরাজ াঁকে অর্থমূল্যে ক্ষ করেন এবং লুৎ্ফউন্লিসা নাম দেন। তদবধি আমৃত্যু লুৎ্ফউন্নিসা নবাবের প্রিষ লহচরী কদাপি ভ্রীর মর্যাদা পান নাই । সিরাজ চব্রিত্রের নানা অসঙ্গতির মধ্যে এটি অন্ঠতম ।৩৫ গিরিশচন্দ্র যে এরতিহাসিক ঘটনা চয়ন করেছেন তার মধ্যে সিরাজদৌল্লার সমসাময়িক এতিহাসিকদের রচনা! স্থান পায় নাই । দোষ গিরিশচন্দেরাকনা বলা কঠিন কারণ তথনও মুতাক্ষরীনের ইংরেজী অনুবাদ বা করম আলির মুজফরনামা বাংল! ভাষায় মন্র্দিত হয় নাই । মুতাক্ষরীনের ইংরেজী অন্ুবাদও বৃহৎ গ্রন্থ । ম'সিয়ে জলা (981 1-৪%/) যে কাঁশিমবাজারের ফরাসী কুঠির অধিকর্তা ছিলেন তাও গিরিশচন্দ্র জানতেন না। তাই পরিচয়পত্রে দেখি-_ “মুসাল! নবাবের আশ্রিত ফরাসী সেনাপতি |” মসিয়ে জালা সিরাজ শাসনের দৈনন্দিন ইতিহাস তার আত্মজ্গীবনীতে লিপিবদ্ধ করেছেন। গিরিশচন্দ্র এই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় রচনাটি যে দেখেন নাই তার প্রমাণ যথেষ্ট । বিশেষ লা সাহেব ছিলেন ইংরেজ বিরোধী এবং সিরাজের প্রতি সচ্ান্ুভৃতিশীল। তার রচনায় সিরাজ-চরিত্রের স্পষ্ট ছবি ফুটে উঠেছে। পলাশীর যুদ্ধ ঘিরে মস্সিয়ে লার্‌ ভূমিকা, ফরাসী সেনানায়ক সীফ্রকে প্রেরণ এবং নিজে সসৈন্ে সিরাজের সাহায্যে আগমন সবিস্তারে বলা হয়েছে। সিরাজ পলাইত হয়ে পাটনায় রাজ। রামনারায়ণ ও লা সাহেবের কাছেই পৌছবাৰ চে্ট করছিলেন। নবাবের গলায়নের খবর পেয়ে লা সাহেব সৈম্ত-সামস্ত নিয়ে বাংলার সীমান্তে অপেক্ষা করছিলেন। সিরাজ অশ্বারোহণে পটু 'হলে . পীচদিনে (২৪শে জুন থেকে ২৯শে জুন ১৭৫৭ খ্রীঃ) সহজেই লা সাহেবের কাছে «€পীছতে পারতেন। ভগবানগোলায় যখন সিরাঁজদৌল্লা ধর! পড়লেন তখন লা সাহেব মাত্র ত্রিশ মাইল দুরে নবাবের জন্ত অপেক্ষা করছিলেন । গিরিশচন্ত্রের নাটকে তাই হ্বদেশী ধুগের কাল্ননিক সিরাজচরিত্র প্রতিভাত আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৩৭ হয়েছে । চিত্রটি সুন্দর কিন্তু অলীক উপন্তাস মাত্র । এই নাটকের প্রথম অন্ক দ্বাদশ গর্ভাঙ্কে বিভক্ত । প্রথম গর্তাঙ্কেই সিরাজ মতিঝিল আক্রমণ করে ঘসেটি বেগমকে বন্দী করছেন । ষ্ডন্ত্রকারীগণ প্রথম থেকেই স্পষ্ট। বলা হয়েছে ঘসেটি বেগমের পালিত পুত্র, মৃত এক্রামদৌল্ল! শিশুপুত্র মুরাদ- দৌল্লাকে নবাব করার জন্য ষড়যন্ত্র হযেছে । এই ষডমন্ত্রে ইংরেজ সাহায্য পাবার আশায় ঘসেটি বেগমের দেওযান রাজ। রা জবল্লভ তার পুত্র কষ্ণদাসকে অর্থ ও ধনরত্ব দিযে কলকাতায় প্রেরণ করেছেন । এই দৃশ্যেই সিরাজদৌল্ল।, রায়ছুলভ ও মীরজাফরকে পদচ্যুত করে তাদের জাযগায় যথাক্রষে মোহনলাল্‌ ও মীরমদনকে মন্ত্রী ও সেনাপতি নিধুক্ত করলেন। রাজবল্লভও পলায়ন করলেন। এই দৃশ্ঠ্যেই নাট্যকার সিরাজ-বিরোধী চবিত্ররূপে জহরা চরিত্রকে উপস্থাপনা করেছেন । জহর ঘসেটি বেগমকে প্রতিরোধ করতে নিষেধ করে গোপনে সিরাজ-ধ্বংসে আহ্বান জানাচ্ছেন। সভাসদগণ সকলেই যে নবাবের ভয়ে অত্যন্ত ভীত তা স্পষ্ট দেখান হয়েছে। দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে আলিব্দী বেগম সিরাজকে সংঘত হতে অনুরোধ করেছেন । উদ্ভরে সিরাজ জানাচ্ছেন অমাত্যা শওকতজজকে নবাব করার যত্ডযন্ত্র করছেন। তৃতীয় গর্ভাঙ্ক শওকতজঙ্গের পু্িয়! প্রাসাদের দরবার । মাতাল ও অকর্মন্ত শওকতজঙ্গকে সিরাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নবাবী লাভের প্রয়াসী দেখান হয়েছে । মীরণ ষড়যন্ত্রের সংবাদ দিতে এসেছে। দানসা ফকির আর এক সিরাজ বিরোধী কাল্পনিক চরিত্র । চতুর্থ গর্ভাঙ্কে ওয়াটস-পত্বী এসেছেন লুৎফউন্লিসার কাছে তার স্বামীর মুক্তির জন্য । লুৎফউন্লিসার অন্থরোধে সিরাজ ওয়াটস সাহেবকে সুক্তি দিলেন। ওয়াটস পত্বীকে সতীসাধবীরপে দেখান হয়েছে। জহরা রাণী ভবানীর কন্তা তারাবাঈ এর ( হওয়া উচিত তারাঙ্ছন্দরী ) চিত্র নবাবের শয়নকক্ষে লুৎফউন্মিসাকে দিয়ে স্থাপনা করছেন। এই ঘটনাকে অবলম্বন করে নবাবের তারাবাঈএর প্রতি আকর্ষণের কুৎসা রটনা হবে একথা লুৎফউন্নিসা বুঝতে পারলেন না। এই দৃষ্থে ওয়াটস পত্বীর মুখে গিরিশচন্দ্র আধা বান্গলা-আধা হিন্দী যে অভ্ভূত ভাষা ব্যবঞ্চার করছেন সেটা এই ধরনের ভাষা! প্রয়োগের প্রথম দৃষ্টান্ত । পরে সব সাহেব চরিত্রের মুখে এই ভাষ দেওয়া হয়েছে । এই ভাষা পরবর্তীকালের সব ইউরোপীয় চরিত্রের মুখে দেখা যায়। পরবর্তী নাট্যকারগণ আজ পধ্যস্ত সাহেব-মেমসাহেবের চয়িজ কৃষ্টি করলেই এ ২৩৮ বাংল! তিহাসিক নাটক সমালোচনা এই ভাষাটা সর্বদ! দ্দিয়ে থাকেন । নীলদর্পন নাটকের রোগ সাহেবের ভাষা এইভাবে গিরিশচন্দ মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে সমধিক প্রচলিত হয়েছে । পঞ্চম গর্ভাঙ্ক মুশিদাবাদের নবাব দরবার । অমাত্যদের ষড়ন্ত্র স্পষ্ট । জগৎশেঠ স্বীকার করছেন যে শওকতজঙ্গের নামে ফারমান আনার জন্য দিল্লীতে অর্থ প্রেরণ করেছেন। কৃষ্দাসের পত্রপাঠ করে রাজবল্পভ শোনাচ্ছেন যে ইংরেজ মোরাদদৌল্লাকে নবাব করার জন্ত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। লদিরাজদৌল্লা এসে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রীর অভিরুচি ঘোষণা! করছেন । জগতশেঠকে ইংরেজদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে অভিযোগ করছেন । বলেছেন কাঁশিম- বাঙ্জার কুঠি দখল করে ওয়াটস ও চেম্বার্স সাহেবদের বন্দী করা হয়েছে । “কিন্ত এদের উদ্বারার্থে দেখা যায়, কলিকাতার ইংরাজ ব্যগ্র নয়।” (পাতা ২৮) কলকাতা জয়ের সংকল্প ঘোষণ। করে নবাব নিজের কথা বলছেন__ “ম্বেচ্ছাচারে চালিত জীবন হিতাহিত ছিলনা বিচার, মছপানে করিয়াছি শতশত দুনীত ব্যাভার ! কিন্তু কহি স্বরূপ বচন, বসি বৃদ্ধ নবাবের মরণ-শয্যায়ঃ শেষ বাক্যে তার__ জন্মিয়াছে ধারণা আমার বাজকাধ্য নহে স্বেচ্ছাচার ; নবাব রাজার ভৃত্য, প্রভু প্রজাগণে প্রজার মঙ্গল কার্য সতত সাধন, নবাবের উদ্দেশ্য জীবনে । (১/৫ পাতা ২৯-৩০) বস্তত এহ প্রজীপালক নবাব সিরাঞ্দৌল্লা এই নাটকে প্রতিফলিত । ষ্ঠ গর্ভাঙ্ক কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম ব্যারাক । ড্রেক, হলওয়েল এর যুদ্বপ্রস্ততি এবং কৃষ্দাস ও উমিটাদ্কে কারাগারে প্রেরণ । সপ্তম গর্ভ্ক্কে নবাবের আগমন সংবাদে ভীত কলকাতাবাসীর পলায়ণ । অষ্টম গর্তাঙ্কে কারাগারে “কৃষ্দাস ও উষিঠাদের অনুশোচনা! এবং নবাবের যুদ্ধজয়ের খবর । নবম গর্ভান্কে ফোর্ট উইলিয়াম থেকে দ্রেক ও হলওয়েবের পলায়ণের প্রচেষ্টা ৷ দশম গঞ্তাঙ্ক বুদ্ধজয়ের পর ফোর্ট উইলিয়ষে নবাবের দ্রবায় । হলওয়েলের বিচারের আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৩৯ প্র নবাব মীরজাফরকে হলওযেলের ভার দিচ্ছেন। তারপর কৃষ্দাস ও উমিচাদের বিচার করে উদ্বার হৃদয় নবাব তাদের মুক্তি দিচ্ছেন। এই দৃ্টে নবাবপন্ষীয় চরিত্রে কামিনীকান্ত ওরফে করিম চাচাকে প্রথম দেখা গেল। বিশেষ দৃষ্টি বলে যা ঘটবে বা ঘটতে চলেছে সবই তিনি বুঝতে পারছেন। সংলাপ--এ ফোট উইলিয়াম, এখানে অনেক ব্যাটাকে সেলাম দিতে হবে» এখানে অনেক মুকুট গড়াগডি যাবে, (পাতা ৫০) একাদশ গর্ভাঙ্গে দানশা! ফকির নবাব ও নবাব মহিষীর নামে মুশিদাবাঁদে কুৎসা রটাচ্ছেন। সিরাজের ন্রীলোক সম্ভোগ, গভিনীর উদর বিদারণ, জনপূর্ণ নোকাকে নদীতে ডোবান এবং বাড়ী ভর্তি লোককে অগ্নি সংযোগে বধ করে উল্লসিত হবার ঘটনাকে দানশ! প্রচারিত কুৎসা বলে দেখান হয়েছে । অবশেষে মোহনলাল দানশাকে বন্দী করছেন। দ্বাদশ গর্ভাঙ্কে মুশিদাবাদের নবাব দরবার | নবাব হুকুম অমান্তা করে হলওষেল প্রভৃতিকে “অন্ধকৃপে” বন্দী রাখার গন্ঠ সিরা কষ্ট হয়েছেন । অন্ধকূপ হত্যার জন্য সিরাজ যেকোন রকমেই দায়ী নন এটাই প্রতিপা্ধ । জহরার কুৎসা রটনা নবাব বিবেচনা! করে তাকে বন্দী করার আদেশ দিলেন। দ্াঁনশা ফকিরের নাসা-কর্ণ ছেদ করার আদেশ ঘোষিত হপ। জগৎশেঠ শওকতজঙ্গের জন্ত নবাবী ফারমান সংগ্রহ করেছেন কিন্তু অর্থবচ্ছতাঁর অজুহাতে সিরাগদোল্লীর নামে সেটি সংগ্রহের চেষ্টা করেন নি সে জন্ত কষ্ট হয়ে নবাব জগৎশেঠকে চপেটাঘাত করলেন। অমাত্যগণ বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। অবশেষে আলিবদী মহিষী এসে নবাবেব সঙ্গে তার অমাত্যদের অসন্তোষের প্রতিবিধান করলেন। শওকঙঞঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রস্ততির আলোচনাশ্ব প্রথম অন্ক শেষ হল। নাটকের প্রথম অঙ্কে ১৭৫৬ শ্রীষ্টান্দবের এপ্রীল মাস থেকে আগ্ট মাসের ঘটনাবলীর বিবরণ দেওয়া হয়েছে । এ্রতিহাসিক ঘটন! নাট্যচরিত্বের প্রয়োজনে সাজান হয়েছে । জগৎশেঠকে অপমানের মে মাসের ঘটনাকে শওকতজঙ্গের সঙ্গে যুদ্ধের পূর্ববর্তী অর্থাৎ আগষ্ট মাসের ঘটনা করা হয়েছে। অমাত্যগণ সিরাঁজদৌল্লাকে চিরকাল ভয় করেছেন। ফৈজী ও হোসেনকুলি খার নৃশংস হত্যা তাদের স্বতি থেকে মুছে যায় নি। এখন সেই নৃশংস ব্যক্তি নঝ্যব হওয়ায় চিত্তার অবধি ছিল ন1। বিলাস ব্যসনে, চরিক্রহীনতায়, নৃশংলতায়, ধর্ষণে অত্যাচারে তখন তার সমকক্ষ ছিল না। তরলমতি অল্প বয়সে ক্ষমতার ১৩ ২৪০ বাংল! এতিহানিক নাটক সমালোচন। অহংকার এবং কুসঙ্গ সিরাজদৌন্লার নামে বিভীষিকার স্ষ্টি করত। বাংলার নিত্য নৈমিত্তিক জীবনে নবাবের নাম ছিল দুঃস্বপ্ন, নবাবের কীতি ছিল লচ্জাকর ।৩৬ কিন্ত সিরাজদৌল্লার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তিনি নবাব হবার 'আগে শুরু ভযেছিন এবং মৃত এক্রামাদৌল্লার শিশুপুত্র মোরাদদৌল্লাকে নবাব করার চেষ্টা হয়েছিল বা ইংরেগ রাজা রাঁজবল্লভকে এই কাঞ্জে সাহায্য করতে প্রতিশ্রুত হযেছিল প্রভৃতি ঘটনাবলীর কোন এতিহ|সিক সমথন পাওষ। যাঁষ না। সিরাজ নবাব হবার পর রায়ছুলভ ও মীরজাফরকে পদচ্যুত খত ন। সেটি বেগমের সম্পত্তি অপহরণ করলেন এবং গগৎশেঠকে অপমান করলেন । রাজবল্ল৬ও কারারুদ্ধ হন। তখন থেকেই নবাবের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্রের স্ত্রপাত হল। কলকাতা জয়ের আগে ইংরেজ সক্রিয় ভাবে মভাসদগণের সঙ্গে ষডবন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে এমন প্রমাণ নাই । বরঞ্চ জগৎশেঠ বারবার চেষ্টা করেও ইংরেজদের কাশিমবাজার কুঠি দখল ( ২রা ওর! ভূন ১৭৬ খ্রীষ্টা্ব ) বা কলকাতা জয়ের আগে (২শে জুন ১৭৫৬ খ্রীঃ) ষড়যন্ত্রের মধ্যে টানতে পারেন নাই । নবাবের কলকাতা জয়ে ভীত হয়ে ইংরেজ ষওধস্ত্রে যোগ দিল । কলকাতায় ইংরেজ প্রভুত্ব পুনঃ প্রতিষ্ঠার পর (জাঙ্য়ারী ১৭৫৭ খ্রীঃ) ক্লাইভের নেতৃত্বে ইংরেজ বণিকদের সম্পূর্ণ অন্ত চেহার। দেখতে পাই । কাশিমবাগার কৃঠির পতনে ওয়াটস্‌ সাহেব সিরাগের হাতির পদতলে নঙ্জান্ত হয়ে বসে, রুমাল দিয়ে নিজের হাত বেধে 'তুমহারা গোপ।ম” “তুমহাবা গোলাম” বলে চীৎকার করেছেন। ফেব্রুয়ারী যুদ্ধে জয়ী হবার পর সেই ওয়াটস শবাবের দরবারে এমন চীৎকার করেছেন বে ওয়াটস আসামাত্র নবাঁব সর্বদা ভীত ও ্রস্ত হয়ে থেকেছেন।৩৭ নবাবের ইংরেজদের প্রতি অসন্তোষ দীর্ঘদিনের | ইংরেজ নবাবের ভয় কাটিয়ে ওঠার পরই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জন্ত প্রস্তুত হয়। ক্লাইভের উপস্থিতিই ইংরেজদের নীতি নিদ্ধারণে সাহায্য করে। নাটক পাঠ করে এমন ধারণা হওয়া স্বাভাবিক যে 'অমাত্যদের যডযন্ত সম্পর্কে সিরাজ প্রথমাবধি অবহিত ছিলেন। লা সাহেবের আত্মহ্ণীবনীতে সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্যই পাওয়া যায়। লা সাহেব জানিয়েছেন যে নবাবকে কিছুতেই বিশ্বাস করান যায় নাই যে তার বিরুদ্ধে অমাত্যরা ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি নিজে বারবার নবাবকে বলেও তার বিশ্বা উৎপাদন করতে পারেন নাই। গভীর ক্ষোভে ল! সাহেব লিখেছেন, “হায় ভগবান আমি এখন কি আলিবদী থা ও সিরাজ-উদ্দ-দৌল্লা ২৪১ করব। সহরের সবাই জানে, দেশের সবাই জানে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। শুধু যার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তিনি তা বিশ্বাস করতে চাননা।” পলাশা যাত্রার অব্যবহিত পূর্ব মুহুর্তে মসিয়ে সাফ নবাবকে বারবার অন্টরোধ করেন যেতান যেন আর চোখ বন্ধ করে নাথাকেন। যড়ন্ত্র তার বিরুদ্ধে হয়েছে এবং অত্যন্ত প্রবল আকাব ধারণ করেছে । তিনি অবিলম্বে যড়ঘন্ত্ের নেতাদের বন্দী কর।র আদেশ প্রদান করুন এবং পদচ্যুত সিপাহশাপার মন্ত্রী বা দেওযানদের সঙ্গে করে বুদ্ধবাত্রা স্থগিত রাখুন । সিরাজদোল্ল! ষডখন্ত্রের খবর বিশ্বাস করতে অস্বীকার করে জানান যে তার অমাত্যদেব কেউ বিশ্বাস- থাতক নন ।৩৮ স্থতরাং যে কর্মচঞ্চশ নবাব গারিশচন্র সৃষ্টি করেছেন ত৷ একান্তই কবি কল্পনা । এ্রতিহাসিক সিরাজদৌল্লার কর্মর্লীবত্ধ তার অবিমুষ্যক।রিতার সমতুল্য ছিল। শওকতজন্গকে নবাব করার জন্য জগতৎশেঠ অর্থ ব্যঘ কবেছেন এ খবরও ভুল । শওকতজঙ্গ দিল্লীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সনদ নিজ্জের অর্থবলে সংগ্রহ করেন । জগৎশেঠ শওকতজঙ্গকে অর্থ সাহায্য করে, এক অসম্ভব পরিকল্পনা অথ নু করবেন এমন অসম্ভব ঘটন। কল্পন। কর। যায় না। বস্তত দেশে শাস্তি থাকলে এবং নিবন্ধে ব্যখসা করতে পারলে জগৎশেঠ রাজনীতির চক্রে যোগ দিতেন না। দেশের অশান্ত আবহাওয়। ও ব্যবসার ক্ষতি তাকে িবাজদৌল্লাকে সরাবার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে উদ্ুদ্ধ করে। তাছাড়। জগৎশেঠ না থাকলে ইংরেজ বাণকগণ, মীরভাফর, রায়ছুল ব বাজবল্লভের ভরসায় নবাবের বিরুদ্ধে অন্তর ধারণ করতে রাজী হতেন না। ব্যবসার প্রসারের জন্য তারাও দেশে শান্তি চেয়েছেন । তাদে্্ প্রয়োজন ও জগৎশেঠের প্রয়োজন এক হয়ে দেখা দিল । হ্ৃতরাং লা সাহেব জগৎশেঠকে ষড়যন্ত্রের প্রধান ব্যক্তির যে আসন দিয়েছেন তা যথার্থ এবং সত্য । নবাব দেশে শাস্তি স্থাপনে অপাবগ না হলে জগৎশেঠের নবাবের বিরুদ্ধাচরণ করবার কোন কারণ ছিল না। জগতংশেঠ তখন ভারতবর্ষের সব থেকে বড ব্যাঙ্কার। পশ্চিমে আফকগানিস্থান থেকে পূর্বে যবদ্বীপ পধ্যন্ত জগৎশেঠের মুচলেকা ও হুণ্ডির প্রসার হয়েছিল। তাই দেশের অভ্যন্তরে শাজিপুণ আবহাওয়া তার ব্যবসার সব থেকে বড় প্রয়োজন হয়ে দেখা দ্িল। জগৎশেঠের ভূমিকা না বোঝার জন্য নাট্যকারগণ দেশের অবস্থা সম্পূর্ণ উপলব্ধি করতে পারেন নাই। এইখানে আরেকটা কথ। বলা দরকার । ইংরেজ বণিকরা কিন্ত মানদণ্ড ২৪২ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। ছেড়ে রাজদ্ণ্ড ধরতে চায়নি । মীরজাফরের অকর্মন্তত। তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করল। মীরকাশিমের রাজচ্যুতির পর ইংরেজ রাজদণ্ড হাতে তুলে নেবার কথা চিন্তা করেছে তার আগে নয়। ইংরেজদের মতপব জান! থাকলে তাদের কমধারা বোঝ! সহজ হবে। ওষ"্টস পত্রী পরবর্তী জীবনে বেগম জনসন নামে পরিচিত হন। তার সম্বন্ধে নানা মুখরোচক খবর নানা বইএ ছড়িয়ে আছে। ৮৭ বছর বয়সে ১৮১২ এ্রগান্দে তানি পেতরক্ষ। করেন । লা সাহেব লখেছেশ ওয়াটস ও তার সহকারী কোলেটের (চেম্বাস নয়) বন্দী হবার পর তিনি ওয়াটস পত্বীকে ফরাসী কুঠিতে নিয়ে যান। এখানে ওয়াস পত্বীর লুৎ্ফউন্লিসার কাছে যাওয়া গল্পমাত্র তার কোন এ্রতিহাসিক ভিন্তি নাই । বেগম জন্সন বুদ্ধবয়সে তার প্রতি সিরাজের আকর্ষণ সম্পর্কে নানা অভব্য ও অসভ্য কীত্তিকলাপের যে অশ্লীল গল্প সকলকে শোনাতেন তা সত্য হলেও এই ঘটনা অলীক কল্পনা মাত্র। মনে রাখতে হবে যে ৩রা জুন বন্দী ওয়াটস ও কোলেটকে সঙ্গে নিয়ে সিরাজ কলকাতা অভিমুখে রওন! হন 1৩৯ মাঝে এক বা ছুইরাত্রি কাশিমবাজারে কোলেট সাহেবের হ্থন্দর বাড়ীতে অবস্থান করেন। এখান থেকেই কলকাতা যাত্র! শুরু হয়। কাজেই তাদের বন্দীত্ব অবসানের কোন চে! কলকাতার ইংরেজ করেনাই একথা নেহাৎ ভিত্তিহীন। ওয়ারেন হেষ্টিংফ ৯ই জুন কারারদ্ধ হন। তার বেনিয়ান কান্তবাবু কাশিষবাজারের ওলন্দাজ কুঠির অধ্যক্ষ ভেরনেট সাহেবের কাছ থেকে ৩০০০ টাকা সংগ্রহ করে সেই অর্থে হেষ্টিংসের মুক্তি ক্রয় করেন। সিরাজদৌল্লা ঘখন কলকাতা বিজয় করে বন্দী ইংরেজদের নিয়ে মুশিদাবাদে ফিরলেন হেষ্টিংফ তখন কাশিমবাজার কুঠিতেই অবস্থান করছেন ।৪০ এ&ীতি- হাসিক বিচারে প্রথম অঙ্ক খুবই গুরত্বপূর্ণ। লিরাজদৌল্লীর রাজত্বের প্রথম চারমাসের ঘটনা বল! হয়েছে । ইতিহাস মোটামুটিভাবে মেনে চলা সত্বেও দিরাজচরিত্র স্ষ্টিতে নাট্যকার সম্পূর্ণভাবে নিজকল্পনা অনুসরণ করেছেন । দ্বিতীয় অঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্ক মুশিদাবাদে জগৎশেঠের প্রাসাদ । শওকত- জ্গের সঙ্গে বুদ্ধে সিরাজ জয়ী হয়েছেন। শ্বরূপর্টাদ ঘোষণা করছেন, “শওকত- ভঙ্গের যুদ্ধের পর নবাবের যেন সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে । বিনয়ী, নত সকলকে মথাযোগ্য উচ্চ সম্মানে সম্মানিত করেছেন” (৬৬ পাত!) নবাব প্রবেশ আলিবর্দী ধা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৪৩ করছেন এবং সকলের প্রতি ষখাযোগ্য সম্ভাষণ করছেন । সিরাজ যে সত্যই বিনয়ী ও নম হযেছেন তার প্রকাঁশ। মীরমদন এসে সংবাঁদ দেয় ইংরেজ কলকাতা পুনরুদ্ধারের জন্য যুগ্ধসাজে প্রস্তত হচ্ছে । সিরাঁজ ছুঃখ করে বলছেন যে মোহনলাঁল ও মীরমদন নিযুক্ত কর্মচারীরা ছাড়া আর কেউ বিশ্বাসযোগ্য নন। ইংরেজের যুদ্ধ প্রস্ততির বর তার কাছে আসেনি । এমন সময় মানিকটাদ এসে খবর দিল কলকাত। ইংরেজ অধিকার করেছে । কর্নেল ক্লাইভ তাঁদের অধিনাষফক | নবাব মীরমদনের সঙ্গে গভীর আলোচনায় মগ্ন দেখে মীরজাফর প্রভৃতি ষডবন্ত্রকারী তাদের গ্রাণবধের আশঙ্কা করছেন। এমন সময জহরা এসে মীরজাফর খাঁকে বঙ্গ-বিহা র-উভিষ্ার অধিপতি বলে অভিবাদন জানিষে তীর বাজ্যলিগ্পায় ঘৃতাহুতি দিচ্ছেন । তাকে অর্থলোভী ইংরেজদের সঙ্গে মিলিত হবার উৎসাহ দ্রিচ্ছেন। ঘসেটি বেগমেব ধনরত্ব ষডযন্ত্রকারীদের সাহায্য করবে এমন আশ্বীমও দেওয়া হচ্ছে । নবাবের কাছে লিখিত পূর্বপত্র চাঁপা দিয়ে ইংরেজদের সঙ্গে নবাবের ভুল বোঝাবুঝি পাকা হছুল। সভাসদগণ ঠিক করলেন সিরাজকে রাজ্যচ্যুত করতে পারলে মীরজাফর থাকে নবাব করা হবে। দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে ভহরা ও ঘসেটি বেগমের কুমন্ত্রণ। নবাবের পাঞ্জা বা মোহর সংগ্রহের ভন্য জহরা পরামর্শ দ্িল। তদশ্যায়ী তৃতীয গর্ভাঙ্কে ঘসেটি পুৎ্ফউন্নিসাকে জানালেন যে ফকিরের নাসাঁকর্ণ ছেদ করায় সিরাজ তার অভিশাপে দগ্ধ হবে সেলন্ত শান্তিম্বস্তয়ন করা প্রযোজন । এজন্য একখানা নবাবের মোহরাকঙ্কিত কাঁগজ প্রযোজন । ঘসেটি সমস্ত ঘটন! গোপন ব্লাথতে বললেন এবং কোথায় মোহর থাকে জেনে রাখলেন । চতুর্থ গর্তা্কে উমিচাদের উদ্যানস্থ কক্ষ । নবাব আগমনে ভীত ইংরেজগণ সন্ধি করতে উন্ুখ। যড্তযন্ত্রী অমাত্যবর্গ তাই মিথ]া বললেন যে ইংরেজ- দূতদের বন্দী করার ব্যবস্থা হয়েছে। তাই শোনমাত্র দূতদ্বয় ওয়ালস ও স্াফটন ইংরেজ শিবিরে পলায়ন করলেন। পঞ্চম গর্তাঙ্কে ফোর্ট উইলিয়াম মধ্যস্থ কক্ষে ক্লাইভ, ওয়ালস প্রভৃতি যুদ্ধপ্রণালী আলোচনা করছেন এমন সময় হর! উপস্থিত হয়ে ব্লাইভকে তখনি আক্রমণের পরামর্শ দিলেন এবং নিজে নবাবেরে শিবিরের পথ প্রদর্শন করলেন। ষষ্ঠ গর্ভাঙ্কে গড়ের মাঠে বাসু- সেবনে ব্যন্ত করিমচাচ1 জহরাকে দেখলেন ক্লাইভকে নবাব শিবিরের দিকে নিয়ে চলেছে। ক্লাইভের গোলাবর্ধনে সিরাজ এই গড়ের মাঠেই দৌঁড়ে ২৪৭ বাংল! এরতিহাসিক নাটক সমালোচন। এলেন। নিণীথ আক্রমণে তিনি অত্যন্ত বিচলিত । ফিরিঙ্ষি নামে তার দেহ কম্পিত হচ্ছে। কেন কম্পিত হয় তাঁও তিনি জানালেন । শিখগুরু তেগবাহাছরের শিরস্খেদের সময় তিনি অভিশাপ দিয়েছিলেন, “শ্বেতকায় অর্ণবজানে এসে মোগলবংশ উচ্ছেদ করবে । (৯৮ পাতা) ইংরেজ মোগল- বংশকে নিমূল করতে ভারতে এসেছে । সিরাজ পলায়নের জন্য প্রস্তত হলেন। যাবার সময় বললেন_-“যেদিন ইংরাজের জলতরী, বাংলার বন্দরে উপস্থিত হয়েছে । সেইদিন আশা-ভরসা বিলুপ্ত । (৯৯ পাতা) শেষ সংলাপ-“জম্মভূমির আশা বিলুপ্ত । যদি কখনও সুদিন হয,যদি কখন জম্ম ভূমির অন্রধাগে হিন্দু-মুসলমান ধর্ম বিদ্বেষ পরিত্যাগ করে পরস্পরের মঙ্গল সাধনে গ্রবৃতি হয় - ঘদি র্ধা, বিদ্বেষ, নীচ গ্রবৃতি দলিত করে স্বদেশবাসীর অপমান আপনার অপমান জ্ঞান করে .... তবে এই দুর্দম ফিরির্সি দমন সম্ভব; নচেৎ অভাঁগিনী বঙ্গমাতার পরাঁধীনত! অনিবার্য | (১০০ পাতা!) প্রথম অঙ্কের মতো দ্বিতীয় অঙ্কে মূলত অক্ষয়কুমার মেত্রেয় রচিত সিরা জ- দৌল্লার প্রভাব স্পট দেখা যায় । অক্ষয়কুমার সিরাজ-চরিত্র চিত্রণে উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর ইংরেজী শিক্ষিত যুবকের মনোভাব আরোপ করেছেন । ইংরেজী শিক্ষ। পূর্ণবিকাশের আগে দেশ বা জাতি সম্পর্কে বাঙ্গালীর কোন স্থুম্পষ্ট মতামত ছিল এমন প্রমাণ পাওয়া ষায় না। ইংল্যাণ্ডের ইতিহাস পাঠ করে শেখা হল যে, রাজা, প্রজা ও জনসাধারণের ভৃত্য মাত্র । রাষ্ট্রদর্শনের নানা চিন্তা ইংরেজী ভাষায় পাঠ করার স্থযোগ হল। এইসব ঘটেছে সিরাজের পরবর্তীকালে সুতরাং সিরাজের মধ্যে যে দেশপ্রেম কল্পনা করা হয়েছে তা অক্ষয়কুমারের দেশপ্রেম, ইংরেজী শিক্ষিত পরাধীন জাতির এক মনীষীর দেশপ্রেম । সিরাজের সময় এসব ছিলনা । সিরাজদৌল্লা বাঙ্গালী ছিলেন না, বাংলাভাষা! জানতেন না, বাঙ্গালীর প্রতি কোন দরদ ছিলন! । নিজ স্বার্থ ও রাজ্যরক্ষা ছাঁড়া তার কোন উদ্দেশ্য ছিলন। । এটাই যে একাস্ত ্থাভাবিক তা বলাই বাহুল্য । ভারতবর্ষে তখন ক্ষমতালিপ্সার যুগ । মোগল- বানশাছর সঙ্গে যারাঠাদের ক্ষমতার জন্য ছন্দ হল। মোগল প্রথমৈ বিজয়ী হলেও পরে ধীরে ধীরে পরাজিত হল। মাঁরাঁঠা শক্তি উত্তরে দিল্লী থেকে দক্ষিণে হায়দ্রাবাদ এবং পশ্চিমে আরব সাগরের পার হয়ে বঙ্ষেপিসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হল। সুতরাং সিরাজের দেশভক্তি সম্পূর্ণভাবেই আরোপিত আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৪৫ ও প্রক্ষিপ্ত ঘটনা, অক্ষয়কুমারের মতই গিরিশচন্্র এই নাটকে বিস্তারিত করেছেন । এই অঙ্কের ঘটনার সময় ১৭৫৭ গ্রীষ্টাব্দের ২রা জাহুয়ারী (ক্লাইভের কণকাতা পুনরাধিকার )র পর থেকে ৫ই ফেব্রুয়ারী পর্য্যন্ত (সিরাজের পলায়ন) ঘটনা এই অঙ্কে বলা হয়েছে । মাঝের চারমাসের উল্লেথ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে শওকতনন্গের সঙ্গে যুদ্ধে জয়লাভ ও ডিসেম্বরে ফলতায় সমর[য়ৌজন স্থরু। ভূগোল সম্পর্কে একেবারে অনভিজ্ঞ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় কিছুতেই ত্বীকার করেননি যে ফলতা বলে কোন জায়গা আছে । বলেছেন ইংরেহর। ভুল করে ফলতা লিখেছেন ওটা আসলে হবে পলতা। গিরিশচন্র এই ভুল অন্রকরণ করেছেন (৮ পাতা)। বস্তৃত পলতা৷ কল- কাতার উত্তরে এবং ফলতা কলকাতার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কাছে। এখনও ফলতায় ইংরেজদের মাটির কেন্ন। দৃশ্বমান। ফলতাকে পলতা৷ বলা হলে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। এই অস্কে এই রকমের আরো ভুপ গিরিশচন্দ্র করেছেন। তিনি সিরাজের সময় উদ্লিথিত ফোর্ট উইলিয়ামকে বর্তমান ফোট উইলিয়াম মনে করেছেন । উমিচাদের বাড়ী সম্ভবত চৌরঙ্গীতে কল্পিত হয়েছে । তাই নবাবশিবির থেকে বেরিয়ে করিমচাচ1 গড়ের মাঠে বায়ু সেবন করেন, পথ দেখিয়ে ক্লাইভকে নবাব শিবিরে নিয়ে যাবার সমঙ্ন করিমচাচার সঙ্গে জহরার সংলাপ হয়। শিবির আক্রমণের পর নবাব সিরাজও এই গড়ের মাঠে ছুটে আদেন। বর্তমান গড়ের মাঠ ও ফোট উইলিয়াম হৃষ্টি হয়েছে ১৭৫৮ শ্রীষ্টাব্দের পর । ম্থতরাং গড়ের মাঠ বলে কোন জায়গা ১৭৫৭ তে ছিল না। পুরাতন ফোর্ট উইলিয়াম ছিল যেখানে প্রধান ডাকঘর বা 3..0. অবস্থিত। দুর্গের লাল ইটের ছায়া! জলে পডত বলেই নাকি লাঁলদ্দিধী নামের উৎপত্তি । প্রথমে এই অঞ্চলের পরিচয় হল 181. 50916 এবং পরে ভালহৌসী স্কোয়ার নামেই সমধিক পরিচিত হয়। উমিটাদেজ বাগানবাড়ী ছিল হালসীবাগানে যেখানে বর্তমানে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ অবস্থিত। কলকাতার তৎকালীন ভূগোল না জানার জন্ত এক হাস্তকর পরিস্থিতির উদ্তব হয়েছে । এই সঙ্গে আরেকটা কথ! মনে রাখা! প্রয়োজন । ১৭৫১ গ্রীষ্টাব্বে নবাব আলিবর্দী উড়িগ্তা মারাঠাদের ছেড়ে দেন। সুতরাং সিরাজদৌল্লা বা মীরজাফর কেউ উড়্িস্বার অধিপতি ছিলেন না । ২৪৬ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা লুৎ্ধউন্নিস। চরিত্র কল্পনাতেও নাট্যকারঞ্ভুল কবেছেন। বাঙ্গালী ঘরের লক্ষী ভাল মানুষ বোকাসোকা! বউ লুৎফউন্নিসা কখন ছিলেন না! পলায়নের সময়ও তিনি সিরাজের সঙ্গ ছাডেন নি। সিরাজের মৃত্যুর পর মীরণের লালসা তাব কাছে ঘেসতে পারেনি । ঢাকা একক জীবন যাপন কবার সময় তিনি প্রয়োজন হলে ইংরেজ শাসনকর্তাদের পত্র দ্িযে তার অধিকার রক্ষ। করতে কুষ্ঠিত হন নি। ১৭৭৪ শ্রীষ্টাব্দে লুৎফউন্নিসা রচিত একখানি পত্র ইতিহাস পত্রিকা আলোচিত হযেছে । (ইতিহাস পত্রিকা ৫ম খণ্ড ২য সংখ্যা । সিরাজদৌল্লার ১হ্ষী |) মুসলমাল সমাজ সম্পর্কে গিবিশচনেব মতো! খ্যাতনামা নাট্যকার কিরকম অজ্ঞ ছিলেন দেখে সত্যি আশ্চর্য্য হতে হয়। মুসলমান সমাজ সম্পর্কে তার একাধিক নাটক আছে। তবুতিনি হিন্দু সমাজের মতো সাধু ফকির, শান্তিন্বন্তযন, ভূত পেত্বী অভিশাপ প্রভৃতিকে নাটকের মধ্যে পুরোপুবি ব্যবহার করেছেন। তেগবাহাছুরের অভিশাপের গল্প সুন্দর কল্পনা সন্দেহ নাই-__তবে পিরাঁজদৌল্লা নাটকে বাতুলতার প্রতিকল্প মাত্র। এতদ্দিন এত কীরত ও উন্মা প্রকাশ কর!র পব হঠাৎ নবাব সিরাজদৌল্লা ৫ই ফেব্রুয়ারী ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে ফিরির্দিদেব ভয়ে ভীত হয়ে উঠলেন তেগ- বাহাদুরের অভিশাপের কথা স্মরণ করে এটা কেবল ঘটনাঁব দিক থেকে নয়-__ নাট্যকারের ভাবনাচিন্তাব দিক থেকেও আশ্চর্য লাগে। বস্তুত গিরিশচন্দ্র সিরাজদৌল্লার প্রচণ্ড কাপুরুষতার কাছে দ্বিতীয় অস্কের শেষে যে পরাভূত হলেন এটাই প্রতিভাত হল। পরবতী অঙ্কগুপিতে কল্পিত চরিত্রগুলি অর্থাৎ করিমচাচা ও জহর প্রধান নাট্যচারত্র হয়ে দাড়ায়। ইতিহাসের আঙ্গিনা ছেড়ে নাটক কঙ্গনার চোরাবালিতে ভাল করে নিমজ্জিত হয। চার মাস অর্থাৎ ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্বের মার্চ থেকে জুন মাসের ঘটনার বিবরণে আরো তিন অঙ্কের প্রয়োজন হয়ে পডল | মীরজাফর থা যেমন সহজে সিরাজ-পতনে নবাব হবেন স্থির হল এটাও ঠিক নয়। জগৎশেঠ আফিং সেবী মীরজাফর নবাব হলে দেশে শান্তিস্থাপনের ভরস: করতেন না । কিন্ত নবাব মনোনীত হবার প্রতিশ্রুতি ছাড়া মীরজাফর মডযন্ত্রে যোগদান করতে অস্বীকার করলে জগংশেঠ তা মানতে বাধ্য হলেন এবং তিলে তলে ইংরেজদের রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করতে উদ্ধ,দ্ধ করতে লাগলেন। পলাশীর যুদ্ধের অব্যবহিত ৬) থেকেই কাশিমবাজার কুঠির প্রধান হলেন আলিবদী খ| ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৪৭ ওয়ারেন হেস্টিংস। এই বিষয়ে তিনিও যে জগৎশেঠের সঙ্গে একমত ছিলেন তা তার ক্লাইভকে লেখা একাধিক পত্রে স্পষ্ট বোঝা যায়। গিরিশচন্দ্র রচনায় সব থেকে অবিচার করা হয়েছে মীরজাফর চরিত্রকে । মীরজাফরের ্রতিহাসিক চরিত্র সম্পূর্ণ মুছে গিযে তিনি এক প্রকাণ্ড বিশ্বাসঘাতকে স্থায়ী ভাবে রূপান্তরিত হয়ে গেছেন । অবকর্মণ্য সরফরাজ খাকে সরাবার জন্ত যেমন আপিবর্দা মনোনীত হয়েছিলেন তেখনি অকর্মণ্য নবাব সিরাজদৌল্লাকে অপসারিত করার জন্য মীরজাফর মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তখন পর্রচ্যুত। সৈম্তবাহিলীর সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগাঘোগের অভাব সত্বেও সৈন্যদের ওপর তার প্রচণ্ড প্রভাব ছিল বলেই তাকে ইংরেজদের প্রয়োজন হল। ষড়যন্ত্রকাঁরীর! বুঝতে পারেনি যে বুদ্ধ জিতিয়ে ইংরেজ চলে যাবে না । তাদের সেই লৌহমুষ্টির চাঁপে কেবল নবাব নয়, স্বয়ং জগৎশেঠ এবং অন্য ষডযন্ত্রকারীগণ বিহ্বল হয়ে যাঁবেন। পপাণীর বিজয়ে প্রথমে বাংলা তারপর বিহার ক্রমে বাদশাহ, মারাঠা এবং শেষ পর্যাস্ত ভারতবর্ষ তাদের পদানত হবে । এতবড় রাজনৈতিক দৃরদৃষ্টি বাঙ্গলায় কারও ছিল না। একমাত্র জগৎশেঠের ধারণা ছিল কি ঘটতে চলেছে তাই ক্ষমত৷ দখলের প্র জগৎশেঠ হলেন ইংরেজদের প্রথম বলি। তীর টাকা বানাবার অধিকার কেড়ে নিয়ে ১৭৭২ খ্রীষ্ঠাজে টাঁকশাল কলকাতায় স্থান।ন্তর করা হল। তৃতীয় অঙ্ক প্রথম গর্ভীস্ক মুশ্িদাবাদের দরবার । সিরাজ ওয়াটস সাহেবের ওপর উক্সা প্রকাশ করছেন। বলছেন-_-এই ফরাসী মুঁসালা আমার আশ্রিত। 'তামর] বিনা অনুমতিতে চন্দননগর অধিকার করবার পর এর! আমার আশ্রয় গ্রহণ করেছে ।, একট্র পরে বলছেন_-নবাবের অনুমতি ব্যতীত চন্দননগর আক্রমণ করেছ এখন নবাবকে যুদ্ধভয় প্রদর্শন করছ। ভেবেছে আফগান আহম্মদ সাহ আবদালিকে দমন করতে আমাকে বেহার প্রদেশে যাত্র! করতে হবে, ষুদ্ধার্থে প্রস্তত নই-_তাই ক্লাইভ দত্ত করে পত্র লিখেছে । ক্লাইভকে লিখো-_বিনা যুদ্ধে আফগান ভঙ্গ দিয়েছে আমরা ুদধার্থে গ্রস্তত।' এরপর প্রায় বিনাযুদ্ধে কলকাতা প্রত্যর্পনের জন্য রাজা মানিকঠাদ ১০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হচ্ছেন। মুঁসালার ভাষণে বল! হয়েছে_“নবাবী ফৌজকে যুদ্ধ শিখাইল, নবাবের পক্ষে লড়িলে, ইংরেজ হারিয়া যাইত-_সেইজন্ত হামাদিগকে তাড়াইতে চায় |, করিমচাচা নবাবের উপদেষ্টা ২৪৮ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন। তিনি রঙ্গ করে বলেছেন যে মদ ছেড়ে দিরাজের দুরবস্থা হয়েছে এমন, যে মনস্থির করতে পারেন না। মুঁসালার মুখে গৈরিশী সংলাপ-_“মদ থাইলে বিবেচনাশূন্ত হইতে হয়|” (১০৭ পাতা )। করিমচাঁচা মুঁসালাকে সিরাজের মারাঠা যুদ্ধের বীরত্বের কথা শোনাচ্ছেন (সিরাজ) “ছু পেয়ালা মদ টেনে, ঘোডায় চড়ে ধনকরে লড়ায়ে লেগে গেলেন, মারহান্টাগুলো, পালাবার পথ পেলে না।” (১৭৭ পাতা) ফরাসীরা অত্যন্ত সরল তাই ইংরেজ কুটনীতির কাছে পরাভূত হবেন এটাই বক্তব্য । তাই নবাব তাদের কয়েক 1দনের জন্য আজিমাবাদে প্রেরণ করপেন। তারপর ইংরেড্দের ডেকে ছুব্যধহারের গন্য ছুঃখ প্রকাশ করলেন। এবার বিশ্বাসঘাতকদের বন্দী করতে সিরা বন্ধ- পরিকর । কিন্তু আলিবদীবেগম বাধ সাধলেন। নবাব মোহনলালকে পৃিয়ার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছেন তাই তার অভাব বোধ করছেন। জগৎশেঠ ইংরেজদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন এবং অন্ত সভাসদবরা ষড়যন্ত্রে লিড জেনেও নব'ব মাতামহী এবং মহিষী লুৎফউন্নিসার অনুরোধে কিছু কর! থেকে বিরত হলেন। দ্বিতীয় গর্তাঙ্ক জগৎশেঠের বৈঠকখানা তার দৌহিত্রের পুত্রের অন্নপ্রাশন টপলক্ষে সব ষড়মন্ত্রকারীরা সমবেত হয়েছেন। করিমচাচা এসে সবাইকে দেশাজ্মবোধে উদ্দ্ধ করতে চেষ্টা করে বিফল হলেন। এমন সময় মোহনলাঁল এলেন । সবাই বন্দী হবার ভয়ে ভীত কিন্তু মোহনলালও তাদের দেশাত্মবোধক ভাঁল ভাল কথা বলে সবাইকে মার্জনা করতে অন্তরোধ করলেন তারপর নিজের পদ দিয়ে দিতে রাজী হলেন (নবাবের বিন! অন্থমতিতেই )। তাতে কোন কাজ হল না বুঝে বললেন তারা যথেষ্ট শক্তিমান । যতই ষড়যন্ত্র করুন মীরমদন ও মোহনলাল নবাবকে রক্ষা করতে দৃঢ়সঙ্কল্প । তৃতীয় গর্ভাঙ্কে ঘসেটি ও জহরার ষড়যন্ত্র । জহরা জানাচ্ছেন যে সিরাজের নামান্কিত মোহর দিয়ে সিরাছের নামে রাণী ভবানীর কন্তা তারাবাঈ এর কাছে প্রেমপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে-__তাতে রাণী ভবানী সিরাজ পক্ষ পরিত্যাগ করেছেন। চতুর্থ গর্তাঙ্কে ওয়াটস ও আমীর বেগ জাল সন্ধি তৈরী করছেন। এই সন্থিপত্র মীরজাফর সই করবেন । উমিঠাদকে ধোকা দেখার জন্য জাল সন্ধিপত্র প্রস্তত হচ্ছে। পঞ্চম গর্াঙ্কে মীরজাফরের বাঁটি। প্রাণভয়ে চিন্তিত মীরজাফরের কাছে জহরা ওয়াটসকে স্্রীলোকের বেশে নিয়ে এলেন। চুক্তিপত্র সাক্ষরিত হল। এটাই ষড়যন্ত্রের আলিব্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৪৪ পাকা দ্লিল। এদের প্রস্থানের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ং নবাব এসে মীরজাফরের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে বিজাতীয় শক্রদের দন্ত চূর্ণ করবার জন্য আহ্বান করলেন। নবাবের সনির্বন্ধ অন্থরোৌধে মীরজাফর যথাসাধ্য যুদ্ধ করতে গ্রতিশ্রতি দিলেন । এই অঙ্কে ২৩শে মার্চ এর পর থেকে ৫ই জুন ( ১৭৫৭ শ্রীঃ) তারিখের ঘটনাবলী দেখান হয়েছে । ২৩শে মার্চ ক্লাইভ চন্দননগর জয় করেন । মুশাপার মুখে বলান হযেছে-_“নন্দকুখঃরকে হামাদের চন্দননগর রক্ষার্থে হুকুম দেন, মানিকটাদকে বি পাঠান কিন্ত উামচাদ ইংরাজপক্ষ হইতে "আসিয়া সব থারাঁপি করিয়া দিল, কেউ আমাদের ওয়াস্তে অন্থলি তুাশণ না (১০৫ পাতা) নন্দকুমার হুগলীর ফৌজদার পদে নিষুক্ত ছিলেন। চন্দননগক্র আক্রমণে ইংরেজদের বাধ। দেওয়। তার কর্তব্য ছিল। কিন্তু ইংরেভ উৎ্কোচে বশীভূত নন্দকুমার, কিছুই করলেন নাঁ। লক্ষ্য করার বিষষ যে ১৯০৫ খ্রীষ্টাবে নন্দকুমার সম্পর্কে প্রতিহাসিক মনোভাব বজায় আছে। কিছুদিন পরেই নন্দকুমারকে শহীদের সম্মান দেওয়া "স্থর হল এবং এই নাটকের সিরাজদৌল্লার মতো, নন্দকুমার চরিত্রও চুণকাম” করা শুরু হল। কযেক বছরেই নন্দকুমার শহীদ হলেন। যথাসময়ে এ প্রসঙ্গ আবার উত্থাপন কর হবে। এই অঙ্কের নাটকও নাট্যকারকে পরাভূত করেছে তাই নবাবের অনুমতি নিয়ে বা না নিয়ে ইংরেজদের চন্দননগর আক্রমণ করা সম্ভব ভাবা হয়েছে । এর থেকে হাম্তকর আর কিছুই হতে পারেনা । কলকাতা যেমন ইংরেজদের চন্দননগর তেমনি ফরাসীদের। নবাব ইচ্ছা করলে বিদ্রোহীকে পাস্তি দিতে পারেন কিন্ত ইংরেজ নবাবের অন্থমতি নিয়ে চন্দননগর আক্রমণ করতে পারবে এ যুক্তি অসম্ভব । নববের ফরাসীদের সম্পর্কে সংলাপে বহু ভুল তথ্য পরিবেশিত । যেমন মুসালা বা মঁসিয়ে জাল! চন্দননগরের পতনের পর নবাবের আশ্রয়ে আসেন নি। তিনি নবাব আলীবদীর সময় থেকেই কাশিমবাজারের ফরাসী কুঠির অধ্যক্ষ। চন্দননগরের ফরাসীগণ কাঁশিমবাজ্তারে জালা সাহেবের আশ্রয়ে এসেছেন চন্দননগর ইংরেজ দখলে আসার পর। ইংরেজ কোম্পানী ফরাসীদের ত্যাগ করার ভন্য নবাবকে চাপ দ্বিতে থাকেন। এই চাপের কাছে সিরাজ নতি স্বীকার করে ফরাসীদের কাশিমবাজার তথ। বাংলা ২৫০ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা ত্যাগ করার হুকুম দেন। তদন্থুঘায়ী ১৬ই এপ্রিল ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে লা সাহেব ফরাসী কুঠি তুলে দ্রিয়ে পাটনা যাত্রা করেন। ইংরেজদের চাপে নবাবের এই কীত্তি তার কাপুরুষতার আর এক দৃগাস্ত মাত্র। পথে লা সাহেব কাশিমবাজারে ফিরে যাবার আদেশ পেযষেছেন এবং তার পরেই ফিরে না আশার আদেশও পেয়েছেন। সিরাজের অস্থির মৃতির এর থেকে স্বদৃগ্রান্ত পাওয়া যায়না । লা সাহেব লিখেছেন নবাবের আদেশ অমান্য করে তিনি কাশিমবাজারে জোর করে থাকলে নবাবেরই উপকার হত সন্দেহ নাই__ কিন্ত নবাবের আধেশ অমান্ত করে তাকে হীণ প্রতিপন্ন করা হত। ফিরে যাবার আদেশ পাবার আশায় লা সাহেব অত্যন্ত ধীরে পাটনা যাত্রা করলেন কিন্ক নবাবের সতবুদ্ধি জাগারত হলনা । আফগান দিশিজয়ী আহমদশাহ আবদ।লীর ভয়ে সিরাজদৌন্ল! যে অত্যন্ত ত হয়েছিলেন একথা শ্রতিহাসিক । ভধ পাবার যথেষ্ট কারণ ছিল। এই বছর (১৭৫৭ খ্রীঃ) ২৮শে জালয়ারী আবদালী দিল্লী প্রবেশ করলেন। ২৮শে ফেব্রুয়ারী হোলির দিন সুরু হল দিল্লীবাসী হত্যা । দেশ ভয়ে স্তম্ভিত হযে গেল। ১লা মার্চ থেকে ১৫ই মা মথুর1 ও গোকুল অধিকৃত ও লুস্তিত হল। গোকুলের নাগ! সন্নাসীর| প্রচণ্ড বিক্রমে যুদ্ধ করে প্রাণ দ্রিলেন। যমুনা রক্তে লাল হয়ে গেল । ২১শে মা আবদাঁলী আগ্রা দখল করলেন। ৩০শে মার্চ আবদালী ফর্রিদাবাদে উপনীত হলেন। সকলেই মনে করছিল এবার আবদালীর গতি সুজলা-সুফল! সাম্রাজ্যের শ্রেঈ প্রদেশ বাংলার দিকে । তাই চন্দননগর অধিকারের পর অর্থাৎ ২৩শে মার্চএর পরবর্তী সময় সিরাজের পক্ষে খুবই উদ্বেগপুর্ণ সন্দেহ নাই। গিরিশচন্দ্র সময়ের হিসাবে গোলমাল করে সিরাজের মুখে সংলাপ দিয়েছেন__“বিনাধুদ্ধে আফগান ভঙ্গ দিয়েছে__-আমরা এখন ঘুদ্ধার্থে প্রস্তত | (৩/১ পাতা ১০২)। ধ্রতিহাসিকগণের মতে আফগাঁন আক্রমণের ভয় না পেলে সিরাজ ইংরেজদের তুষ্ট করার জন্য ফরাসীদের তাড়িয়ে দিতেন কিন। সন্দেহ। আবদালীক্ব আক্রমণ আশঙ্কাতেই সিরাজ কোম্পানীর ওদ্ধত্য নীরবে সহা করেছেন এ বিষয়ে সন্দেহ নাই । লা সাহ্বে সিরাজদৌল্লার জীবনযাপনের যে দৈনিক কর্মপন্থা দিয়েছেন তাতে ' দেখা যায় যে নবাব দরবারে যতক্ষণ থাকতেন তার থেকে অনেক বেশী সময় হাযরমে অতিবাহিত করতেন । তার হারেমে আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্লা হ€১ গমন দরবার করার থেকেও নিষমিত ছিল। তাই শক্র মিত্র সকলেই নবাবকে শ্রন্দবরী ক্ীলৌক উপদেোকন দিতেন । এই সব কামিনীগণের দৈনিক কাজ ছিল নবাবের মনের কথা নিজ নিজ পৃষ্ঠপোষকদের জানান। এই ধরণের জীবনযাত্রাফ নবাব মগ্র না থাকলে সহজেই জানতে পারতেন এপ্রিল মাসেই আবদালী ভারত ত্যাগ করেছেন । অত্যন্ত অনিয়মিত দরবারে তিনি কোন খবর রাখতেন না তাই পলাঁণীর যুদ্ধে ধাবাব আগে পর্য্যন্ত নবাব আবদালীর ভয়ে কম্পিত হযেছেন। ইংপে্্দের সব রকম অন্তাঁয় আবদারের আস্ক'রা দিযেছেন। ২৮শে এপ্রিল ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্ধে জ্কাফটন সাহেব কাঁশিমবাজার কুঠি থেকে ক্লাইভ সাহেবকে এক পত্রে লেখেন যে “নবাবকে দমন করার এই শ্রেষ্ট অবকাশ। ফরাসীরা চলে গেছে । রাজা! মানিকটাদের ওপর দশ লক্ষ টাকার জব্িমানায় অন্তান্ত সভাসদগণ অত্যন্ত চিত্তিত। মথুরামল ও নন্দকুমার নিয়মিত ইংরেজ বিক্রমের যে সব খবরাঁখবব পাঠাচ্ছেন তাতে নবাবের শঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে । নবাব ওয়াটস সাহেবের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করছেন এবং সব আবদার মেনে নিচ্ছেন । কাশিমবাভাব কুঠির প্রাকারে একটি বৃহৎ কামান বসাবার অন্ুমতিও পাওয়। গেছে । ভগৎশেঠ ও উমিচাদ নিয়মিত সকল অমাত্যদের উত্তেজিত রাখছেন। একমুহুর্ত সময়ক্ষেপ আর যুক্তিসঙ্গত নয় । জগৎশেঠ শেষ পর্যন্ত কি করবে এখনও বোঝা যাচ্ছে না 1১৪১ স্বতরাং দেখা বাচ্ছে যে এই প্রতিহাসিক যুগসন্ধির ছুইটি গুরুত্বপূর্ণ মাস এপ্রিল ও মে নাট্যকার মোটেই উপলব্ধি করতে পারেন নাই । সব থেকে সেরা ও প্রধান নবাব-বিরুদ্ধ ষড়যন্ত্র এই সময়ে সংঘটিত হয়। কবিমচাচাকে আফিংখোর কর! হয়েছে । কাজেই তিনি যদি আফিংএর ঝেঁকে সিরাজের মারাঠা যুদ্ধের বীরত্ব বলে থাকেন তাহলে বলার কিছু নাই | তা ন| হলে বল। যেত যে মারাঠ। আক্রমণ সুরু হয় ১৭৪২ গ্রীষ্টাব্ে । তখন সিরাজেক বয়স নয় বছর । শেষ হয় ১৭৫০ খ্রীষ্টাব্দে তখন তার বয়স ১৭। বজে বর্গা নাটক প্রসঙ্গে এই ঘটনা আলোচিত হয়েছে। যাব্)ঠাযুদ্ধ দুরে থাকুক সিরাজদৌল্লা কোন যুদ্ধে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন এমন কোন প্রম্মণ এখনও পাওয়া যায় নাই। কলকাতায় €ই ফেব্রুয়ারী যুদ্ধে আর পলাশীতে ২৩শে জুনের যুদ্ধে তার ভূমিকা বুদ্ধ শেষ হুধার আগেই পলায়ন করার । ২৫২ বাংলা গ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা করিমচাচার 'আঁফিং খাওয়া আরেক সংলাপে বল! হয়েছে যে ফরাসীর। সরল ও ইংরেছ্রা কুট । সমগ্র ভারতের ইতিহাস আলোচনা করলেও এই উক্তির সনর্থন পাঁওগা যাবেনা । মনে রাখতে হবে যে ১৭৩৬ শ্রীটাবেও ইংরেচ কোম্পানী অত্ন্ত হীনবল। নবাবী শুকুমে তাঁদের আরকটে ও মাদ্রাজে তৈরী টাক।বর দাম কমিয়ে দেওয়া হল । এই খোঁড়া টাকায় বাংলায় ব্যবসা করে শাদের ক্ষতি কম হয় নাই।১২ ফরাসীদের তখন প্রবণ প্রতিপত্তি । কুড়ি বগুরেব মধ্যে রাজনীতির চালে ফরাসীরা ইংবেকদের কাছে “য হেরে গণ সেটা তাদের সরলতার জন্য নয়, অকর্মন্ততার : ৷ তাছাড়া ইংরেজ কোম্পানীর পেছনে ইংলগ্ডের পোকের ও সরক1রের সমর্থন ছিল। ফরাসী কোম্পানী দেশে হেয় হন বলেই বিদেশে অসফল হলেন। এই অঙ্গের অন্যান্থ ঘটনাও অলীক | বিশ্বাসঘাতকদের হাতের মুঠোয় পেলে তাদের ছেড়ে দেবার পাত্র মোহনলাল ছিলেন না। মোহনলাল সম্পর্কে আলোচনার সময় এ বিষয়ে বিশদ বিবরণ দেওয়া হবে। তবে মোহনলাল চরিত্রকে সব নাট্যকারই অত্যন্ত স্নেহের চক্ষে দেখেছেন। এই সময়কার ইতিহাস সম্পর্কে গিরিশচন্দ্র প্রথম ছুই অঙ্কের মতো সম্ভবত ওয়াকিবহাল ছিলেন না । তাঁই তাকে পদেপদে ভুল করতে দেখি। উমিচাদের সঙ্গে ক্লাইভের চুন্ডিপত্র আসপ ও জাল এবং মীরজাফরের সঙ্গে ওয়াটসের চুক্তিপত্র দুটি দলিল । তাই নাট্যকার বিভ্রমে পড়েছেন ওয়াটসকে পিয়ে জাল দ্লিলও সম্পাদন করিষেছেন। মীরজাফর-ওয়াটসের মধ্যে যে চুক্তিপত্র ৫ই জুন সাক্ষরিত হখ তা একটাই এবং জাল নয়। এ বিষয়ে নাট্যকার লক্ষীনারায়ণ চক্রবর্তী উমির্চাদের সঙ্গে সাক্ষরিত আসল ও জাল চুক্তিপত্র তার নাটকে সহজভাবেই প্রকাশ করেছেন। এই অঙ্কে জহরা সর্বত্র বিরাজ করছেন । এইমাত্র ঘসেটর সঙ্গে ষঢযন্ত্র করছেন রানী ভবানীর কন্ঠার কাছে নবাবের নামাঙ্কিত প্রেমপত্র পাঠাচ্ছেন ; আবার ওয়াটস সাহেবকে স্ত্রীলোকের ছদ্মবেশ পদ্্য়ি তাকে মীরজাফরের বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন । তারপর ঘসেটি বেগমের অথথ মীরজাফরকে দিয়ে তাঁকে চুক্তিপত্র সই করায় উৎ্পাঁহিত করছেন। মঞ্জে হয় জহবাই যেন সব অপকর্সের নায়িকা । তৃতীয় অঙ্কে জহরা ও করিমচাচার প্রতিপত্তি বৃদ্ধি নাট্যকারের দুর্বলতার প্রকৃষ্ট লক্ষণ । পরবতী সুই অস্কেও এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখ যাবে। এই অঙ্কের শেষ ঘটন! আলিবদী খা ও সির।জ-উদ-দৌল্ল। ২৫৩ সিবাজের মীবজ'ফরের কাছে এসে আত্মসমর্পণ করা ইতিহাস সম্মত ঘটনা । যদিও তব সময় পশানীঘদ্ধের অব্যবহিত আগে। «€ই জুনের দৃশ্যে সিরাজ- দৌলাকে নিযে আসাতে নাটকীষতা হয়েছে বটে, এণনকি মীরজাফরের চরিত্রেব হইীনতাও প্রকাশ েষেছে কিন্ধ সত্য খটনা প্রকা*। হযনি। বিশেষ আলিবন্দী বেগমকে মীপতাফরের আবাসে নিযে এসে এক অসম্ভব পরিিতি অহেতুক কষ্টি করা হযেছে । মনে রাখতে হবে থে এই সমধে মীরজাফর পদচ্যুত। সৈম্ৃবাহিনীর ভাব মীরমদনের ওপর | তা সত্বেও নখাব কেন মীরজাফরকে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থাকতে অন্তবোধ করলেন কেনই বাত'র ওপর সৈঙ্ক- বাহিনীর দাখিত্ব দ্রিলেন। মোহনলাল ম'রমদনের ওপর পুবাপুবি নির্ভব না কবে কেন পদচ্যুত সিপাহশালারকে নিষে পলাশীতে উপস্থিত হলেন? এর কোঁন কাজটাই সিরাজের গ্রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতাঁর পবিচষ দেয় না। চতুর্থ অঙ্কেব প্রথম গর্ভীঙ্ক প্লাশীর হংবেজ শিবির । ধ্রাসী সিনফ্রের গোল|বর্ষণে ক্লাইভের ধারণা হযেছে যে মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকতা করেছে অর্থাৎ বুদ্ধ করবে না বলে ঘোর বুদ্ধ স্থুরু করেছে। ক্লাইভের এই ঘোর সংকট সময়ে জহরা উপস্থিত হযে তাঁকে আশ্বস্ত করল। চহবরা জানাচ্ছেন যে বাঙ্গালীর মনে কোঁনবকম স্বদেশ অনুরাগ বা জাতীয়তা নাই। মাতৃ- ভূমির ভালমন্দ কেউ চিন্তা করেনা । স্থতরাং তার ভয় পাবার কোন কারণ নাই (১৪২ পাতী)। দেড় পাতা সংলাপের পর জহর! ক্লাইভকে ভবিষ্যৎ বাণী করেন যে মীরমদন মোহনলাল ও সিনফ্রের সৈন্ত একযোগে আক্রমণ করলেও ক্লাহভের জয় হবে। দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে নবাবা শবিরে সিরাজদৌল্ল! বিপক্ষের তোপধ্বনীতে ভীত হচ্ছেন। খবর এল হঠাৎ বৃষ্টিতে নবাবের সমস্ত বারুদ ভীজে গেছে। একটু পরেই আহত মীরমদনকে বহন করে নিয়ে এল । নবাবের সামনে মীরমদনের মৃত্যু হল। মীরমদনের শেষ উপদেশ মতো! নবাব নিজে হস্তীপৃষ্ঠে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হবার জন্ত হাতি সাঁজাবার হুকুম দ্রিলেন। কিন্তু বান্ুকবেণী জহরা বলে গেল নবাবকে রণক্ষেত্রে দেখলে মোহনলাল ইংরেজদের আক্রমণ করা বন্ধ রেখে নবাবের সাহায্যে আসবেন এবং তাহলেই যুদ্ধ পণ্ড হবে। সেকথা শুনে নবাব যুদ্ধক্ষেত্রে যাত্রা স্থগিত রেখে মীরজাফরকে ডেকে পাঠালেন। রায়ছুর্লভ এসে উপদেশ দিলেন যে বারুদ সব বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে । যুদ্ধ অবিলম্ছে স্থগিত রাখা কর্তব্য । পরদিন নবাবী ২৫৪ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন| বাহিনীর বিপুলতায় ইংরেজদের অবশ্যই পতন হবে। মীরজাফর এসে সেই উপদেশের পুনরাবৃত্তি করলে নবাব মোহনলাঁলকে ক্ষান্ত হবার আদেশ দিলেন। মীরজাফর উপদেশ দ্রিলেন নবাবের মুশিদাবাদে যাওয়া কর্তব্য উষ্ট প্রস্তত আছে কারণ নিশাকালে ক্লাইভ শিবির আক্রমণ করলে মহাসমস্যা কৃষ্টি হবে। সকলে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, বুঝেও নবাব মুশিদ্াবাদে ঘেতে সম্মত হলেন। আবার জহবা এসে নিজের পরিচয দিয়ে এবং প্রতিহিংসার কারণ জানিয়ে বলছে নবাব মদ্দি এখন পলায়ন ন। করেন তাহলে সেই রারে ষড়যন্ত্রকারীর। তাকে হত্যা করবে, প্রচার কর! হবে ইংরেজ হত্যা করেছে। সিরাজ মীরমদনের মৃতদেহ সঙ্গে করে মুশিদাবাদদ রওনা হলেন। তৃতীয গভাঙ্কে বণস্থল। মোহনলাল ও সিনফ্রে প্রচণ্ড যুদ্ধে বাস্ত। ইংরেজরা বিপদ- গ্রস্ত । এমন সময় আবার জহরা হসে যোহনলাঁলকে জানালেন যে বিদ্রোহীরা নবাব শিবির আক্রমণ করেছে, নবাব মোহনলাপ, মোহনলাল বলে আর্তনাদ করছেন । এই কথা শুনে নব'বকে রক্ষা করার জন্য তিনি দৌডে চলে গেলেন । আর জহর] সৈন্যদের বললেন :-“মীরমদণন মুত, মোহনলাঁল পলাতক, অকারণ ইংরেজ হাতে কেন প্রাণ দাও? পালাও, পালাও । এ দেখ ইংরাঁজ আসছে ।, সৈম্তদল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। ক্লাইভ পলাণীর যুদ্ধ জয় করে জয়ধ্বনি করলেন। চতুর্থ গর্তাঙ্কে নবাবের অস্তঃপুর । নবাব মহিষী ও কন্যাকে থিরে এক করুন দৃশ্ের অবতারণা হয়েছে । নবাবের অর্থ নিয়েও কেউ যুদ্ধ করতে সম্মত হলনা। নবাব মহিষী লুৎ্ফউন্নিলার সংলাপ--ণ্চলে! যাই--দূর বনে যাই, যথায় নর সমাগম নাই তথায় অবস্থান করি । ব্যান্রঃ ভলুকও রাজঅমাত্য অপেক্ষা বিদ্বেষহীন। চলো, বনবাসে কুটিরে রাজ্যস্থাপন করি, আমি তোমার প্রজা, আমি তোমার দাসদাসী, আমার সেবায় তুমি নিপুণ ভূত্যের সেবা বিস্বৃত হবে । (১৫৭ পাতা ) অবশেষে নবাব মহিষী ও নবাব কন্তা উদ্মৎ জহ্রৎকে সঙ্গে নিয়ে নবাবের প্লায়ণ। এখানেও নাটকীয়তাঁর শেষ য় । করিমচাঁচা নবাবের সঙ্গে বেশবাস পালটে নবাবসাজলেন কিন্তু জুতা বদল করতে ভূল হয়ে গেল। পরবতী দৃশ্ঠে করিমচাচার আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত করে জুতার ভ্গ্ভ নবাব ধরা পড়লেন। নবাবের পলায়ন উষ্ট্রে চেপে হয়েছিল বলে নাট্যকার জানিয়েছেন । (১৬০ পাতা )। একটু পরেই মোহন- লাল নবাবের থোজে এসে আলিবর্দী বেগম ও ঘসেটি বেগমের সঙ্গে সাক্ষাৎ আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্লা ২৫৫ পেলেন। সিরাজের প্রতি ঘসেটির প্রতিহিংসার আগুনে জলন্ত বক্তব্য শেষ হবার আগেই মীবণ প্রবেশ করে ঘসেটি বেগমকে কারাগারে নিক্ষেপ করলেন । পঞ্চম গর্তাঙ্কে কবিমচাচ নবাবী সাজে চলে সৈন্যদের দৃষ্টি নবাবের দ্বিক থেকে নিজেব দ্রিকে আকর্ষণে চেষ্টা করছেন। ষষ্ঠ গর্ভীক্ক ভগবানগোশ।য দাঁনশ। ফকিবের পীরে দ্বগা। জহর! এসে দানশার প্রভি- হিংসাকে পুনরুজ্জীবন ক্বছেন, নবাবকে ধরিয়ে দেবাব জন্যে উৎসাহিত করছেন । নধাব ন্্রী কম্তাকে সঙ্গে নিযে পীরের দরগ'য় আশ্রয় নিলেন । ক্ষুধা তষ্থায নবাব কন্তা অত্যন্ত কাতর । জুতা দেখে দানশ! ফকির নবাবকে চিনিয়ে দেয় এবং মীরকাশিম ও মীরদ্াউদ সকলকে বন্দী কবে। তৃষ্গীয় উন্মত্জহরতের মৃত্যু হল। নবাব ও নবাবমহিষীকে নিয়ে মুশিদাবাদ অভিমুখে যাত্রা করা হল। উম্মতজহরতের মৃত্যু ও নবাবের ছুর্ভাগ্য নিয়ে এক অত্যন্ত করুণ দৃশ্টের অবতারণা করা হয়েছে । সিরাজের মুখে কাব্য দেওয়া হয়েছে_-ণকয়জন বিদেশী বণিক» কাডি নিল সিংহাসন, ধূমকেতু উদ্ধি অকম্মাৎ শুধষিল সাগরনীর। বঙ্গসিংহাসন না জানি কি কুহকে গঠন, অধিক[রী বর্তন তাহার--কুহক প্রভাধে যেন। . : ব্ুণস্থলে সশন্ত্র দাড়ায়ে, অভিনয় নেহরিল বিপুল বাহিনী । পুত্রের মমতা নাহি বঙ্গ মাতা হৃদে।* (১৭১ পাতা) চতুর্থ অঙ্কে ১৭৫৭ গ্রীষ্টাব্দের ২৩শে জুন থেকে ৩০শে জুন পর্য্যন্ত আট দিনের ঘটনা বণিত হয়েছে । প্রথম তিনটি গর্ভাঙ্ক পলাশীর যুদ্ধ অর্থাৎ ২৩শে জুনের ঘটনা । নবাব বাহিনীর আক্রমণে ক্লাইভকে অত্যন্ত কাতর দেখান হয়েছে । পলাশার যুদ্ধে ইংরেজ পক্ষে নিহত হন ২৩ জন সৈন্ত ও আহত হন ৪৯ গন । নবাব পক্ষে কেবল মুতের সংখ্যাই ৫০০এর অধিক ৪৩ স্যার আয়ার কুটের রোজনামচায় পলাশীর যুদ্ধের প্রত্যক্ষদশীর বিবরণ আছে। তিনি নিজে ইংরেজ পক্ষে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। তার বক্তব্যের কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়। তিনি লিখেছেন কযেকদিন আগে চন্দননগর জয় করতে ইংরেজদের যে সৈন্ত ক্ষয় হয়েছে পলাশীতে তার অর্ধেকও হয় নাই। কারণ তিন্গি বলেছেন যে ইংরেজ সৈন্য পলাশীতে মাটির এক উঁচু প্রাীরের পেছনে আশ্রন়্ নিয়েছিল এবং যুদ্ধ সুরু হবার দ্রিকে বৃষ্টিতে নবাবের গোলা ভিজে যাওয়কি কামানের ত্বেজ তাদের বেশ কমে যায়। আয়াত কুটের আরেকটি লাইন, ১৭ ২৫৬ বাংলা রতিহাসিক নাটক সমালোচনা প্রায়ই দৃষ্টি এিয়ে বায়। তিনি বলেছেন নবাব তার কোন সৈন্াধ্যক্ষের ওপর আস্থা রাখতেন না তাই কোন সৈন্ঠাধ্ক্ষও নবাবকে বিশ্বাস করতেন না।১৪ একথা নবাবের কীতি দেখলে সত্য মনে হয়। মোহনলাল, মীরমদন সিনফ্রে থাক] সত্বেও তিনি যেভাবে অন্নয বিনয় করে মীরজাফর খাঁকে পলাশীতে এনেছিলেন ত1 দেখে মনে হওয়! স্বাভাবিক যে সম্ভবত মোহনলাল এবং তার সহকর্মাদের ওপর নবাবের সম্পূর্ণ আস্থা ছিল না। মীরজাফরের চরিত্র বুঝতে হলেও এই ঘটনাটা আগ্ঘপাস্ত জানা প্রয়োজন । তাই আচার্য রমেশচন্দ্র মজুমদারের রচিত ইতিহাস উদ্ধত করছি। আশা করি যে পলাশীর যুদ্ধ সম্পর্কে ধারণ এতে স্পষ্ট হবে। বিশ্বাসঘাতক কর্মচ!রীর! নবাবকে মীরজাফরের সহিত মিটমাট করিবার উপদেশ দ্রিপ। ঘোহনলাল মীরমদন প্রভৃতি বিশ্বস্ত অন্তচরের! পরামর্শ দিল যে মীরজাফরকে অবিলম্বে হত্যা করা হউক । এই বিষম সংকটের সময় দিরাজ তাহার অস্থিরঘতিত্ব, কুট রাজনীতিজ্ঞান ও দুরদশিতার অভাব এবং লোকচরিত্র সম্পর্কে অনভিজ্ঞতার চূড়ান্ত প্রমাণ দিলেন। মীরজাফরের বাড়ী ঘেরাও করিয়া তিনি তাহাঁকে পরম শক্রতে পরিণত করিয়াছিলেন । অকম্মাৎ তিনি ভাবিলেন যে অগ্ঠনয় বিনয় করিয়া মীবজাফরকে নিজের পক্ষে আনিতে পারা যাইবে । নবাব সমস্ত মান মর্যাদা বিসর্জন দরিয়া ত্বয়ং মীরজাফরের বাটাতে গমন করিলেন । মীরজাফর কোরাণ স্পর্শ করিয়া নিম্নলিখিত তিনটি শর্তে নবাবের পক্ষে থাকিতে রাজী হইলেন। (১) সমূহ বিপদ কাটিয়া গেলে মীরজাফর নবাবের অধীনে চাকুরী করিবেন না। (২) তিনি দরবারে যাইবেন না। (৩) আসন্ন যুদ্ধে তিনি কোন সক্রিয় অংশ গ্রহণ করিবেন না। আশ্চর্যের বিষয় এই যে সিরাজ এই সমুদয় শর্ত মানিয়| লইলেন এবং তৃতীয় শর্তটি সত্বেও মীরজাফরকেই সেনাপতি করিয়! তাহার অধীনে এক বিপুল সৈশ্তদল সহ যুদ্ধে চলিলেন।”৪৫€ সুতরাং স্যার আয়ার কুটের মন্তব্য সত্য হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। ফরাসী সীক্রর গোল! বৃষ্টিতে ভিজলন। অথচ ভব্রিতীয়দের ভিজে গেল এট! আশ্চর্য ঘটনা । ইংরেজপক্ষে মোষের গাড়ীর উপর নবাবী কামানের বর্ণনা আছে । বিকাঁল চারট। নাগাদ প্রাণভয়ে ভীত আলিবদ্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৫৭ নবাবের পলায়নের বর্ণনা পাওয়। যাঁয়। পলাশীর যুদ্ধে প্রাণ হারালেন সেনাপতি মীরমদন, মোহনলালের জামাত! বাহাদুর আলি খাঁ, ইনি বাহালিয়! বন্দুকধারীদের দলপতি ছিলেন এবং কামান বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন নউএ সিং হাজারী ।৪৬ মুতাক্ষরীণে গোলাম ভোসেন খ! লিখেছেন যে মীরজাফর যখন নবাঁবকে যুদ্ধ থামাবার জন্য উপদেশ দিলেন তখন মোহনলা'ল সে নবাবী হুকুম উপেক্ষা করে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে লাগলেন। মীরজাফর নবাবকে মোহনলালকে সংঘত করার নির্দেশ দিয়ে নবাবী তাখু ত্যাগ করলেন ।8৭ মৃতাক্ষরীণ পাঠকের মনে রাখা প্রয়োজন যে, তিনি স্বয়ং যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন না। মোহনলালের বীরত্ব কতখানি সত্য আর কতটুকু কবি কল্পন। তাও জানবার বিশেষ উপায় নাই । মোটমাট জানা যায় সকাল আটটার পর যুদ্ধ স্থুরু হয়। ১১টা নাগাদ আষাটে বৃষ্টি আর প্রচণ্ড ঝড় যুদ্ধ ক্ষেত্রের ওপর দিয়ে বে গেল। নবাব বাহিনী বৃষ্টি থামলে আবিষ্কার করল যে তাদের বারুদ ভিজে গেছে। ইংরেজ শিবিরে নিস্ততা দেখে সম্ভবত মীবমদনের ধারণ। হল যে তাদের বারুদও সিক্ত । তাই অসম সাহসী একদল সৈন্যবাহিনী নিয়ে মীরমদন ইংরেজ শিবিরের ওপর ঝাপিয়ে পড়লেন। পরক্মণেই ইংরেজ গোলার আঘাতে বর মীরমদন আর তার সেনাদল ধুলিশয্য। গ্রহণ করলেন ।৪৮ আশ্চর্যের বিষষ বীর ষীরমদন সম্পর্কে প্রায় কোন খবরই পাওয়া যায় না। পেদিন লা সাহেবের জীবনস্থতিতে মীরমদনের সংবাদ পেয়ে ভাল লাগল । মদন নামে এক হিন্দু পালোয়ান শাহাজাদ! সিরাজকে স্ত্রীলোক সংগ্রহ করে দিয়ে তার প্রিয়পাত্র হয়। অলম সাহস ও যুদ্ধ ক্ষমতার জন্ঠ মদন অচিরে সিরাজের প্রিয়পাত্র হলেন এবং মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করে মীরমদন নামে থ্য'ত হন। যুদ্ধ প্রণালী রচনার সহজাত ক্ষমতা মীরমদনের ছিল। ১৭৫৬ শ্রীষ্টান্বে কলকাতার যুদ্ধে রায়ছুর্লভের হয়ে সৈন্য চালনা করেন মীরমদন | চন্দননগরে ফরাসীদের সাহায্য করবার জন্ত রায়ছুরলভের সহকারী হয়ে মীরমদ্নকে পাঠাবার জন্য লা সাহেব অনুরোধ করেন এবং নবাব সে অনুরোধ রক্ষা করেন। কিন্তু নবাব সৈন্য মুশিদাব'দ থেকে বার হবার আগেই ক্লাইভ চন্দননগর জয় করে ফেললেন ।৪৯ ১৭৫৭ খ্রীষ্টান্বের ২৩শে জুন পলাীর যুদ্ধ আরম্ভ ও শেষ। নবাবের ৫৩ ২৫৮ বাংলা এতিহাসিক নাটক লমালোচন' খানা কামানের মধ্যে ৪১ ট| থেকে কোনো গোলা ছোড়া হয়নি । নবাব সৈন্টের এক পঞ্চমাংশে যুদ্ধ লিগু ছিল। যে অবস্থায় নবাব তার অপমানিত অমাত্যদের কাছে আনুগত্য ও বিশ্বাস প্রত্যাশা করেছিলেন তাই তাঁকে বাতুল বা অনভিজ্ঞ মনে করার পক্ষে যথেষ্ট | যুদ্ধ শ্ষে হবার আগে পলায়ন (কপকাতার €ই ফেব্রুয়ারীর যুদ্ধেও তাই করেছেন ) তার যুদ্ধবিদ্যা সম্পর্কে অজ্ঞতার লক্ষণ। সকলকে দেখিয়ে হাতিতে ( মতান্তরে উটে ) চেপে পলায়ন চরম অবিমুস্যকারিতা। সকলে দেখল ও জানল নবাব প্রাণভয়ে পলায়ন করলেন। এইসব এতিহাসিক ঘটনার মধ্যে নাট্যকার গিরিশচণ্ধ সিরাজের চরিত্র রক্ষার কোন উপায় না দেখে জহরাকে সর্বত্র ঘুরিযেছেন। জহরার চক্রান্ত এবার সম্ভাব্যতার সীম! ছাড়িয়ে হাস্যকর হয়ে উঠেছে। নাট্যকার ষে সম্পূর্ণভাবে ন।টকের হাল হারিয়ে ফেলেছেন এটাই প্রকউতর হয়েছে! পলাশীর যুদ্ধ তাই এই নাটকে জহরার যুদ্ধ হয়ে দীড়ায়। যুদ্ধের সাধারণ নিয়ম সর্বদা একদল সৈম্তকে পৃষ্ঠরক্ষায় রাখতে হয়। যুদ্ধে পরে যোগদান করবার জন্য বিশেষ সংরক্ষিতবাহিনী (79581491010 ) রাখা প্রয়োজন ও যুক্তিসঙ্গত। পলাশীর যুদ্ধে সিরাঁজদৌল্লা সেরকম কিছু করেছেন বলে জানা যাঁয়না। পরাজিত নবাবের এই একাকীত্ব আর নি:- সঙ্গতা দেখে সত্যি আশ্চর্য্য হয়ে বেতে হয়। কোন বন্ধু ছিলনা তার মুশিদাবাদে ! নবাব যুদ্ধ করার কোন চেষ্টা করলেন না। সৈন্ত সংগ্রহের কোন চেষ্টা না করে সঙ্গে সঙ্গে পলায়ন করলেন। পলাশী থেকে মুশিদাবাদ ৩৫ মাইল। হাতি কখনই ঘণ্টায় ৫ থেকে ৭ মাইলের বেশী যেতে পারেন! । সুতরাং নবাবের রাজধানী পৌছতে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা লেগেছে । অর্থাৎ বিকাল ৪ টায় পলায়ণ করলে তিনি মুশিদাবাদে এসেছেন রাত্রি ৯ টার পর ও ১১ টার আগে। মাঝামাঝি সময় ধর! যাক রাত্রি ১০টায় পৌছলেন। তারপর মাত্র চারঘণ্টা তিনি মুশিদাবাদে ছিলেন কারণ ইংরেজী ২৪শে জুন রাত্রি ছুটো নাগাদ তিনি গোশকটে রাজধানী ত্যাগ করেন। সঙ্গে ছিলেন নুৎফউন্নিসা আর এক বিশ্বস্ত ভৃত্য । চতুর্থ গর্ভাঙ্কে নাট্যকার ভীত ত্র্যস্ত নবাব সৃষ্টি করেছেন এবং লুৎফউন্নি- সার সঙ্গে তার গৃহত্যাগ দেখিযেছেন। লুৎফউন্সিসাকে নবাব মহিষীর মর্যাদা দিয়ে নাট্যকার সিরাজ চরিত্রকে স্রষশ দ্রিয়েছেন। কন্তাকে সঙ্গে আলিবর্দী খ|! ও সিরাজ-উদ্‌-দৌল্লা ২৫৭ নিয়ে যাওয়া উপলক্ষে করুণ রস সৃষ্টি করেছেন। করিমচাচার আত্মত্যাগ, ঘোহনপালের নবাব অদ্বেষণ প্রভৃতি সমস্ত ঘটনাগুলি নাটকীয় কিন্ত এ্রতি- ভাঁসিক নয় । সিবাক্ত কোন বিষয়েই তাঁর পটুত্ব প্রমাণ করতে পাবলেন না এমনকি প্রাণভয়ে পলায়নেও নয়। অবন্বে ষষ্ট গভাঙ্কে স্রাজেব বন্দীদশা। এখানে নাট্যকার প্রচলিত গন্নই ব্যবহার করেছেন। মীরকাশিম সিরাজ ও লুৎফউন্নিসাকে বন্দী করেন এবং লুৎফউন্লিলাব জহরতের পেটিকা আত্মসাৎ করেন এহটুকু ইতিহাস স্থতরাং নাট্যকাব মনের আনন্দে কল্পনাকে বিস্তৃত করেছেন। পিরাভ বন্তা উল্মতজহরতের মৃত্যু নাটকীয়। ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে কিন্তু উন্মত ভহবতের মৃত্যু হয় নাই। তার মৃত্যু হয় ১৭৭৪ খ্রীষ্টাব্দে টাকায় চারটি কন্ঠার জঙ্ম দেবার পর।৫9 কাজেই চতুর্থ অঙ্কে ইতিঙ্কাস কমে গিষেছে উপন্যাস স্পষ্ট হযেছে। বাঙ্গালী দর্শকের কথ! মনে রেখে নাট্যকার নবাব সিরাজদৌল্লার মুখে স্বদেণীকতার বানী দিয়েছেন। গিরিশের কাব্য দানীবাবুর অভিনয শুনে বাঙ্গালী এই ম্বদেশভক্ত দেশপ্রাণ নবাবের জন্য অশ্রু বিসর্জন না করে পাপেনি। “কয়ভন বিদেশী বণিক” ধার] ১৭৫৭ তে নবাব সিরাজদৌল্লাকে পরাভূত করেছিল তারা ১৯*৫ শ্রীষ্টান্বে নাট্যমঞ্চে সিরাজদৌল্লাকে দেখে তীত হয়েছিলেন এটাই সিরাজদৌল্লা নাটকের সব থেকে বড কৃতিত্ব। পলাশীর দূরপনেয় কলঙ্ক কালিম! বাঙ্গালী মুখে মাখল পলাশী যুদ্ধের প্রায় দেডশত বছর পরে এটাই গিরিশচন্দের শেষ্ঠ স্বীকৃতি । চতুর্থ অঙ্কেই নাটক শেষ বল! চলে। পঞ্চম অঙ্ক সবদিক থেকেই ক্ষীণ। নাটকের গতির সমাবর্তন অর্থাৎ সিরাজের হত্যা ছাডা আর কোন উল্লেখ- যোগ্য ঘটনাবলী বাঁকী নাই। সেটাই গিরিশচন্দ্র বলেছেন সাতটি গর্তাঙ্কে পাতার সংখ্যা ২৪। গডে তিনপাতায় এক একটি দৃশ্য বণিত হয়েছে। করিম্চাচা ও জগরার চরিত্রগুলিকে সাধঘগ্রস্তপূর্ণ পবিসমাপ্ডির দিকে নিয়ে যাওয়] হয়েছে। পঞ্চম * অক্কের প্রথম গর্তাঙ্কে মীরণ মহম্মদীবেগকে পিরাঁজ-হত্যায় প্ররোচিত করছেন। দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে মীরণের বিলাসকক্ষে বন্দিনী লুৎফ- উন্নিসাঁ। মীরণ লুৎফউন্নিসাকে সবলে উপভোগের জন্য যখন প্রস্তত হচ্ছে তখন সহসা ওয়াটস পত্ধী দৌড়ে এসে নবাব মহিষীকে রক্ষা! করে পূর্ব উপ- কারের প্রতিদান করছেন। তৃতীয় গর্ভাক্কে কারাগারে বন্দী সিরাজ ফৈজী ২৬০ বাংলা এতিহাঁসিক নাটক সমালোচনা হত্যা করার ঢঃখে অনুতঞ্ু। ঘাতক মহম্মদ্ী বেগ গ্রবেশ করলে সিরাজ তাঁকে উন্মত্ত জায়গায় হত্যা করার জন্য অন্বরোধ করে জগদীশ্বরকে তার শেষ অনুতাপ নিখেদন করলেন । মহম্মণী বেগ আবাত করল । হোসেন কুলি খা ও ফৈজীর প্রেতাত্মার তৃপ্তি আকাঙ্খা করে সির;জ মৃত্যুপথযাত্রী হছলেন। পরক্গণেই ওয়াটস পত্বী নবাবের মুক্তিপত্র ও লুৎ্ফ্উন্লিসাঁকে সঙ্গে করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখলেন সিবাঁড মুত । অবশেষে ভরা এসে সিরাজের রক্তে আপনার স্বামীর মুত আত্মার তর্পণ করলেন । নবাক্রে মৃতদেহ হস্তিপৃষ্ঠে নগরভ্রমনের জন্য নিয়ে যাওয়! হল। চতুর্থ গতাঙ্গে নবাবী পোষাকে সজ্জিত করিমচাঁচা আর কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারলেন না কিন্ত মোহনলাল বিভ্রান্ত হলেন। অবশ্ষে করিমচাচার কাছে নবাবের পলায়ন সংবাদ শুনলেন । জহরা এসে মহানন্দে নবাবের শেষ অংবাদ শোনাল। “নবাবের থণ্ড খণ্ড দেহ ভস্তিপৃষ্ঠে পরিভ্রমণ করেছে । আমিনা বেগম রাস্তায় এসে বুক চাপড়ে কেঁদেছে, বৃদ্ধা নবাব মহিষী রাস্তা লুটোপুটি খেয়েছে, আমার মনোবাঞ্ছ৷ পূর্ণ হয়েছে, (১৯০ পাতা )। এই কথা শুনে মোহনলাল ও করিমচাচ। রায়ছুললভের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। এই নাটকে গঞ্পকে ইতিহাসের থেকে উচু সম্মান দেওয়া হয়েছে এটা স্বয়ং গিরিশচন্দ অবহিত ছিলেন তাই এই দৃশ্ে করিমচাঁচার সংলাপে নাট্যকারের জবানবন্দী পাওয়া যায়। করিমচাচা1! জহরাকে বলছেন--“এত করেও হতিহাসে স্থান পেলে ন! চাচী, নাটক আর গল্পের কেতাঁবে শোভা পাবে। বেইমান কালিতেই ইতিহাসের পৃষ্ঠা ভরে যাবে তোমার আমার জায়গা হবে না। বাছাদুরী তো! নিলে, কিন্তু যে নবাব হোসেনকুলিকে কেটেছিল তার কিছু করতে পারলে না। সে মাতাল নবাব- আর এ হচ্ছে প্রজাপালক নিরীহ নবাব (১৯১-২ পাতা )। গিরিশচন্দ্র এই উক্তিতে নিজেই স্পষ্ট স্বীকার করেছেন যে তার রচিত সিরাজ চরিত্র অলীক কল্পন! প্রহুত | জহরার এক লম্বা বক্তৃতা তারপর পভন। মৃচ্ছ1 ন! মৃত্যু অনসন্ধানের প্রয়োজন নাই । পঞ্চম গর্ভাঙ্কে উমিটাদের গল্প শুরু। তার লোভ দেখান হয়েছে । পরের দৃশ্ঠে অর্থাৎ ষষ্ঠ গর্ভাঙ্কে জাল দলিল প্রকাঁশ হয়ে উমিচাদ ফাঁকি পড়েছেন। টাকার শোকে উন্মাদ হয়ে উমিটাদ পথে পথে ভ্রমণ করে বেড়াচ্ছেন। এই দৃশ্টে নবাব মীরজাফর মোহনলাল ও করিমচাচার প্রাণদণ্ডাজ্ঞা দ্িলেন। অবশেষে ক্লাইভ সাহেব নবাবকে চুক্তি লিখিত অর্থের জন্ত তাগিদ দিচ্ছেন। নবাব যে ক্লাইভের অর্থদাস এমন ভাব করা হয়েছে । ক্লাইভ স্পষ্টই বলছেন মোহনলাল আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্লা ২৬১ ছাড়া আর কারু বাক্যে তারা বিশ্বাসী নন। নবাব মীরজাফরেব প্রত্তি সংলাপ--“গণ্দী ছাডিযা উঠন, আমাব তাবুতে আন্ন। আইসেন বিলম্ব করিতে পারিব না!” (২০০ পাতা )। সপ্তম ও শেষ গর্ভাঙ্কে লুৎফউন্িসা খেসবাগে সিরাছগের কববে পুষ্প অর্পণ করছেন । পুষ্প নিষে ওয়াটস পত্বী এলেন এবং সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন । অবশেষে লুৎফউন্নিসার এক করুণ সঙ্গীতে নাটক ও দৃশ্তের ওপর যবনিকাপাঁত করা হযেছে। পঞ্চম অঙ্কে ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে ১ম থেকে ৫ই জুলাই এর ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে । নব*বেব গুপ্ত হত্যা ২রা জুলাইএর ঘটনা সুতরাং মীরণ- মহন্মপী' বেগ দৃশ্যটির কাল ১লা জুলাই হবার সম্ভাবনা । এই ঘটনা ৩০শে জুন নবাব পুশ হয়ে মুশিদাবাদে আনীত হবার পর ঘটতে পারে কিন্ত সে শ্গেত্রেও হবে অধিকরাত্রের ঘটনা অর্থাৎ ইংরেঙ্গী মতে ১ল] জুলাই । নবাবের মৃতদেহের নগবত্রমণ এবং ক্লাইভেব নবাবের দেয় অর্থ নিয়ে “সামরিক বাছ্য সহক*রে শোভাধাত্রা করিয়। প্রথম কিস্তির টাক ছুইশত নৌকায় বোখাঁই করিয! কলিকাতা অভিমুখে রওনা”৫১ হওয়া ছুইই ৩রা জুলাইএর ঘটনা । ৪2 জুলাই সিরাজ সমাধিস্থ হলেন সুতরাং কবরে ফুল দেবার খটনা ৫ই জুলাই বলে ধর! হয়েছে কারণ অনতিকাল পরেই সিরাজদৌল্লপর আত্মীয় মহিলাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে লুৎফউন্নিসা সম্ভবত অন্ততপক্ষে ১৭৭৪ খীষ্টাব্দ পর্যন্ত ছিলেন। ১৭৮২ খ্রীষ্টাব্দে তাকে খোসবাগে সিরাজের সমাধির তত্বাবধানে রত দেখা যায়। স্থতরাং ধরে নেওয়া যায় যে তিনি ১৭৭৪ খীষ্টাব্বের পরে কিন্তু ১৭৮২ খ্রীষ্টাব্দের আগে থোসবাগে এসেছেন ।৫২ এই অঙ্কে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ও নিথিলনাথ রায়ের স্পষ্ট গ্রভাব পড়েছে। মনে হয় শেষ দৃশ্যটি নিখিলনাথের আগ্রহে যুক্ত হয়েছে । এই অঙ্কে সিরাজের মহম্মদী বেগের হাতে গুপ্ত হত্যা, ক্লাইভের নূতন নবাবের কাছে অর্থ সংগ্রত এবং খোসবাগে লুৎফউন্নিসার ফুল দেওয়া একমাত্র তিহাসিক ঘটনা । কিন্তু প্রত্যেক প্বটনাই নাট্যকারের রচনায় প্রক্ষিপ্ত। হত্যার পূর্বসুহর্তে সিরাজের যে মহান রূপ আকা হয়েছে ত। তার সত্যচরিত্র অনুযায়ী একেবারেই অসম্ভব । লুৎফউদ্লিসাকে «ই জুলাই সিরাজের কবরে ফুল দিতে দেওয়1 হয়েছিল এট?ও অসম্ভব কারণ লুৎফউন্লিস1া তথন বন্দী । বন্দী অবস্থাতেই তাঁকে এবং তাপ কন্তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। সুতরাং এই দৃশ্ঠের ঘটন! অনেক পরের ২৬২ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা অর্থাৎ ১৭৭৪ গ্রীঈাব্দের পরবর্তী সময়ের ঘটনা । ক্লাইভের হাঁত ধরে মীরজাফর গর্তে বসেন এভন্য তাঁকে ক্লাইভের গর্ভ বলা হত। প্রথম কিস্তির টাকা শোভাযাত্র/ করে নিয়ে যাবার সময বাজনা দোরে বাজান হয়েছিল। তি- কাসিক ফীলিং লিখেছেন “গতবছরের লঙ্জা ঢাকব।র জন্যে সামরিক বাগ্ একটু বেণী জোরেই বেগেছিপ।+ ক্লাইভের সঙ্গে মীরজাষঘরের সম্পর্ক সম্বন্ধে অনেক মত প্রচলিত আছে। নাট্যক1র দেখিযেছেন তাঁদের সম্পর্ক ছিল প্রভু ভূত্যের। এটা সম্ভবত ঠিক নয়। ১৭৬৭ খ্রীষ্টাব্বের ২৫শে নভেম্বর ষীরজাফর মহিষীর ক্লাইভকে লেখা একখানি পত্র দিল্লীর মহাঁফেভখানার ফার্সী বিভাগে রক্ষিত আছে। সেটি পাঠ করলে মনে হয ক্লাইভ ও ষীরজাফরের সম্পর্ক ছিল সথ্যের। ক্লাইভ মীরভাঁফরকে ভাকতেন “বাবা, মীরভীফর মহিষীকে ডাকতেন “মা” । এই চিঠিখানি ক্লাহইভের চরিত্রের এক নুতন দিকে আলোকপাত করে সন্দেহ নাই । সিরাজের হত্যা দৃশ্ট বর্ণনা করতে গিয়ে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ইতিহাসের পাতায় নাটক রচনা করেছেন ।৫৩ বলাবাহুলা উহাও প্রক্ষিগ্ত। গিরিশচন্দ্র সেই বর্ণনাই অন্সরণ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে সিরাজের মৃত্যুতে সেদিনের “বাঙ্গালী দর্শকরা কোনরূপ উচ্ছাস প্রকাশ করে নাই ।+৫8 গিরিশচঞ্্ রচিত সিরাজদোল্ল। নাটক আলোচনার উপসংহারে বলা চলে গিরিশচন্্র এক নূতন সিরাজদৌল্লা স্থষ্টি করলেন। ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্ক- ৰিহীন রাজনৈতিক দেশহিতৈষী সিরাজ । নানা এ্রতিহাসিক ঘটনা! এই নূতন সিরাজের চারপাশে এমন করে সজ্জিত হল যাতে দর্শককুল সত্য সিরাজ বলে এই কল্পিত চারত্রকে ভুল করে। গিরিশচন্দ্র এই কাজে সফল হয়ে- ছিলেন। লোকমুখে সিরাঁজদৌল্ল! হয়ে গেলেন দেশনায়ক নেতা । পরবর্তী নাটকগুলি ক্রমান্বয়ে এই কল্পিত সিরাজ চরিত্রকেই জনসমক্ষে বার বার প্রকাশ করেছে । সকলে মিলে সমস্বরে একটি মিথাকে বারবার উচ্চারণ করলে শেই মিথ্যা যে প্রতিষ্টিত হয়ে যায় গিরিশচগ্র রচিত সিরাজদৌল্লা চরিত্র তার এক জলম্ত উদাহরণ , জাতীয় নাট্যকার রূপে গিরিশ গ্রতিভাও এই নাটকে উদ্ভাসিত হয়েছে। সিরাজদৌল্লার মতো এক কলঙ্কিত চরিত্রকে জাতীয়বাদীর রূপ দেওয়া নাট্যকারের কম কৃতিত্ব নয়। এই কাজ করতে গিয়ে নাট্যকার কেবল আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৬৩ নিজের কাছেই হার স্বীকার করেছেন। তার রচিত কল্পিত চরিত্রদ্ধয় জহরা ও করিমচাচা নাটকে প্রধান ছুটি চরিত্র হয়ে গেছে । সেখানে সমস্ত ষড়বন্ত্রকারী এবং ক্লাইভের নেতৃত্বে ইংরেজপক্ষ ভহরার কাছে ম্লান হয়ে গেছেন। নবাবহিতৈষধী মোহনলাল, মীরমদন, মোহনলালের জামাতা বাহাদুর আলি খা এমন কি লুৎফউন্নিসার তুলনায় করিমচাচাঁ নবাবের অেষ্ট বন্ধুবূপে চিত্রিত হয়েছেন । নবাবের বিশ্বস্ত আত্মোৎ্সগকারশ ভৃত্য “নাঞ্ির দালাল, নাকে কোন স্থান পান নাই ।৫৫ শচীন সেনগুপ্ু £ সিরাজদ্দৌলা ১৯৩৮ ১৯০৫ এ গিরিশচন্দের সিরাজদৌলা নাটক অভিনয় হয়। মিনার্তা থিয়েটারে ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দের ২১শে জুলাই এই নাটকের পুনরাভিনয় সুরু হয়। এবারে সিরাজ্ে ভূমিকায় অভিনয় করেন অমবেন্দ নাথ দত্ত এবং জহর করেন কুহ্থুম কুমারী । (গিরিশ রচনাবলী- প্রথম খণ্ড । একষট্টি পাতা । ভূমিকা) ২৭শে জুলাই গিরিশচন্দ্র দানীবাবুকে সঙ্গে নিয়ে মিনার্তা থিয়েটার ছেড়ে কোভিশুব থিয়েটারে যোগদান করেন। ১৯১১ শ্বীষ্টাব্বের ৮ই জানুয়ারী সরকারী আদেশে এই নাটকের অভিনয় ও প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্বাধীনতা লাভের পর শিশিরকুমার ভাদুড়ী শ্রীরঙ্গমে এবং আধুনিক কালে লিটল থিয়েটার এই নাটকের অভিনয় করেন। প্রত্যেকবার স্ুঅভিনীত হলেও পুনরভিনয়ে নাটক জনপ্রিয় হতে পারেনি । গৈরিণী সিরা ভদৌল্লাব্র চরিত্র চিত্রণে সেক্সপীয়রের দ্বিতীয় রিচা্ডের প্রভাব সম্পর্ক ১৯০৫ শ্রীষ্টান্বে কিছু আলোচন হয়। পরবর্তীকালে দেশাত্ম- বোধের বন্তায় সিরাজদৌলা! নাটকের সমালোচনা কঠিন হয়ে গড়ে । দ্বিতীয় বিচার্ডের ছাচে যে মিরাজ-চব্রিত্র অঙ্কিত একথ। বলাও অন্তায় মনে কর হত। সিরাজদৌল্লা সম্পর্কে এই অস্বাভাবিক বীরপৃজার উজ্জ্বলতম মুহূর্তে নাট্যকার শচীন্রনাথ সেনগুপ্ত আর এক সিরাজদ্দোল৷ নাটক রচনা করলেন (বানানের তফাৎ লক্ষণীয় )। প্রথম অভিনয় রজনী -৯শে জুন ১৯৩৮ খ্রীষ্টাব্দ (১৩৪৫ সালের ৭ই শ্রাবণ )। তেত্রিশ বছরে সিরাজদোল্লা সম্পর্কে জনচিত্ত এমনি বিভ্রান্ত যে নাট্যকার যা লিখলেন তাই সকলে অন্রাস্ত ইতিহাঁস রূপে গণ্য করলেন । মনে হল ইংরেজ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জনহিতৈষী নবাব যেন সকলের মাঝে এসে গাড়ালেন। জনপ্রিয়তার সমস্ত পূর্ব ইতিহাস এই দিরাজদৌল্লার নাটকের কাছে মাথ! নত করল। ২৬৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন! কথা প্রসঙ্গে নাট্যকার শচীন্দনাথ সেনগুপ্ত বলেন যে তিনি গিব্বিশচন্্রকে অন্থগমন করে এঁতিহাসিক সিরাজদোল্লা চরিত্র স্ষ্টি করার কোন চেষ্টাই করেন নাই । গিরিশচন্দ্রের সিরাজদৌল্লা হলেন বিপিনচক্ষ পালের প্রতিরূপ এবং তার সিরাভদৌল্লা-_স্থভাষচন্র বস্তু । একথা যে সত্য সে বিষষে সন্দেহ নাই। ১৯৩৮ শ্রীষ্টাব্দের জুন মাসে স্থভাষচন্দর বাংল দেশের অবিসংবাদ্দিত নেতা । ১৯শে ফেব্রুয়ারী ১৯৩৮ হ্রিপুরা কংগ্রেসে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন মহাত্স। গান্ধীর মনোনীত প্রার্থকে হারিয়ে দিয়ে। এ যেন যৌবনের জয়যাত্রা । নূতন পথে দেশকে চালিত করার স্থুবর্ণ অবসর । সুভাষচন্দ্র স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন যে মহাত্মা! গান্ধীর অহিংস পথের পাশে আর এক মতবাদের সহাবস্থানের স্থযোগ আছে । ইংরেজ শক্তির বিরুদ্ধে সর্ধ- শক্তি নিয়োগ করে ম্বাধীনত। সংগ্রামের শুভ স্চন] স্থভাষচন্দ্রের জয়ে স্থচিত হয়েছিল। পরবতীকালে ইংরেজ অধীনস্থ দেশীয় সৈম্তদল যখন তাদের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বন্দুক তুলে দাড়াল, প্রমাণ করল দেখভক্তিতে তাদের রুক্ত শ্রেঠ দেশনেতার মতোই উত্তপ্ত, তখন স্থভাষচন্দ্রের কীতির গভীরত! প্রমণিত হল। ১৯৩৮ এর ভারত মহাত্মা গান্ধীর ধীর শান্ত নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করল স্ুভাষচন্্রকে বরণ করে। সুভাষচন্্র সেদিন তরুণ সমাজের সামনে যৌধনের মূর্ত প্রতীক হয়ে দেখা দিলেন । হিন্দু-মুসলমানের একতাবদ্ধ এক ভারতবর্ষের রূপ মেলে ধরলেন দেশের সামনে । মুগ্ধ হল বালক যুবক বুদ্ধ, মুগ্ধ হল মাতা কন্যা বধূ । স্বভাষচন্দ্র ১৯৩৮ শ্রীছ্টান্বে হলেন বাঙ্গালীর নয়নের মণি, তাঁর নেতৃত্বে মহাত্মা গান্ধী ও পুরাতন কংগ্রেসের নেতাদের বিরুদ্ধে বাংলা জন- সাধারণের অসন্তোষ সোচ্চার হয়ে উঠল । কবি লিখলেন কাব্য, গীতিকার গান, ওউপন্তাসিক উপন্তাস, নাট্যকার নাটক। তাই শচীন্ত্রনাথ সেনগুণর “সিরাজদৌলার” সঙ্গে কেউ ইতিহাসের সম্পর্ক খু'ঁজবার চেষ্টা করলেন না । জাতির প্রয়োজনের কথা৷ ভেবে শচীন্্রনাথ সেনগুগুর সিরাজ বিনা দিধায় ব্রতিহাসিক সিরাজের সম্মান পেলেন। স্থভাষচন্দ্রের প্রতিচ্ছবিতে খ্ৰাক। বলেই দেখা গেল সিরাজ রাজনীতিতে প্রবীন, বয়সে পক্ক, চিন্তায় প্রাচীন আঁ কণ্ে উত্তাল। বক্তৃতা করে জনসাধারণকে বিভোর করে দেবার সহজাত ক্ষমতায় তিনি অসাধারণ। অবাক দর্শক ভাববার অবকাশ পায় নাই যে, ধার নাট্যচরিজ সমস্ত প্রেক্ষাগৃহকে উদ্বেল করে তুলল কেন তিনি নিজের আলিবদী খ। ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৬৫ জীবনে একটি জনচিত্রকেও অনুপ্রাণিত করতে পারেন নাই। সম্পূর্ণ অনৈতিহীসিক হলেও শচ"ন সেনগুপ্তর সিরাজ হৃষ্টি হযেছে এ্রতিহাসিক প্রযেজনে । খ্বাধীনতাকাঙ্খার অদম্য প্রবাস এই নাটকের শ্রেষ্ঠ গুপ। ১৯৩৮ খ্রীষ্টাব্বের নাটক বণেঠ “হন্দু-মুসলমান সম্পর্কে কথা খুব ৭৬ ভূমিকা নিষেছে। হিন্দু-মুসপমান ববোধ ১৯০৫ শ্রীগ্লাব্দ থেকেই প্রকট । সন্ত্রাশবাদীরা মুসলমান সমাড বা নেতাদের কাছ থেকে কোন সহাহুভৃতি পায় নাই । গিরিশচন্জের নাটকে তাই প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায হিন্দু- মুসলমান বিথেষের । গিরিশচন্্ সিবাজ্কে দিয়ে বলছেন-_ওহে হিন্দু- মুসলমান-_ এস করি পরম্পব মার্জনা এখন , হই বিস্বব্রণ পূর্ব বিবরণ 1, গিরিশচন্দ ১৯০৫ এর মন নিয়ে পূর্ব বিবরণ বিশ্মরণ কবার ভন্য অনুরোধ জানিয়েছেন । শচীন্দ্রনাথ ১৯৩৮এ এই হিন্দ-মুসলমান বিদ্বেষের অত্যন্ত গভীর রূপ দেখেছেন । তাই তার সিরাজ হিন্দু মুসলমানকে মিলনের প্রযাসে প্রচণ্ড ভাবুকতায় বক্তৃতা করেন-_-“বাংল৷ শুধু হিন্দুর নয়, বাংল। শুধু মুসলমানের নয়। মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা । (সিরাজন্দৌলা ৭৭ পাতা) এই সেতুবন্ধনের ডাক সুভীষচন্দের কর্মপদ্ধতির প্রতিধবনী। হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক সহজ করতে স্থভাষচন্দ্রের ব্যর্থতাকে সম্ভবত তার সব থেকে বড় রাজনৈতিক বিফলতা বলে অভিহিত করা যায়। কারণ অবশ্ঠই ছিল। ১৯৩৩ খ্রীষ্টাব্দ থেকে পাকিস্থান স্থাপনের জন্য কেন্বিংজ গ্রপ আন্দোলন স্থরু করেন। ১৯৩৮ শ্রীষ্টাব্ব থেকে ডঃ সৈয়দ আবছুল লতিফ মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও অন্যান্ত অধিকার রক্ষার জন্য পুস্তিকা প্রচার করেন । ১৯৩৯ ্রী্টান্দে সার! ভারত মুসলিম লীগের ওয়াকিং কমিটির সদস্য স্বার আবদুল্না হারুণ মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য একটি খসড়া শাসনতন্ন সংগঠনের প্রস্তাব ফরেন । অবশেষে ১৯৪০ শ্রীষ্টাব্দের ২৩শে মার্চ লাহোরে সারা ভারত মুসলীম লীগের প্রকাশ্ঠ অধিবেশনে, বাঙালী ফজলুল হক পাকিস্তান প্রস্তাব উত্থাপন কবেন ।৫৬ স্থতরাং ১৯৩৮তে বাংলার নেতাদের হিদ্দুমুসলমানের মিলনের ডাক নাটকে প্রতিফলিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ যেখানে নাট্যকার ২৬৬ বাংলা প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা জনমত অন্নরনন করে নাট্যরচনায় ব্রতী হয়েছেন সেখানে সমসাময়িক আব- হাঁওযার প্রকাশই শ্বাভাবিক | সত্যিকারের পলাশীর যুদ্ধের সময় কিন্তু বাঙালী হিন্দু-মুসলমানে কোন বিরোধ ছিল না । উভয়ে নিজের ধর্ম ও সমাজ রক্ষা করে চলেছেন । হিন্দ বমনীর ওপর নবাবী অত্যাচার কখনই মুসলমানদের অত্যাচার বলে মনে করা হয় নাই | বগীব হাঙ্গামায় উপদ্র ত মুসলমাঁনকন্তার নিগ্রহ, হিন্দুর অত্যাচার বলে মনে করা হয নাই। চাকরী বাঙ্গালী হিন্দুদের প্রধান উপ- জীবিকা হয় মুশিদকুলি খার আমলে । বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত শ্রেণী সৃষ্টি হয় এই সময়ে । সরকাঁবী চাঁকরীতে ব্যাপক ভাবেই হিন্দু নিয়োগ করা হত। এই ধরনের চাকুরে হিন্দুঃ মুখিদকুলি খাঁ, স্জা খা, সরফরাজ খাঁ, আলিবর্পী খা ও সির[জদৌল্লার শাসনকালে ক্রমাদ্বযে বৃদ্ধি পেষেছে 1৫৭ পলাশীর যুদ্ধেব সমষ জমিদার, তালুকদার অধিকাংশই হিন্দু ছিলেন, রাজের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভাবে জগৎশেঠ নিয়ন্ত্রণ করতেন । এছাঁডা শ্ঘনের কারবার, স্তো ও রেশমের বস্ব শিল্প প্রায় পরিপূর্ণ ভাবেই হিন্দুদের অধীন ছিল। কাঁজেই পলাশীর যুদ্ধ অর্থাৎ ১৭৫৭ শ্রীগাবে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ তো দরের কথা রীতিমত সদ্ভাব ছিল। এই ভালবাসার আরে কারণ ছিল। সিলেট কমিটির সভায় মহম্মদ রেজা! খা ২৫শে ডিসেম্বর ১৭৬৯ শ্রী্ান্দে যে বিবৃতি দ্রিষেছেন তাতে জানা যায় যে নবাবী নিয়মে সব বিষয়ে মসলমানদের যে শুক্ধ দিতে হত হিন্দুব তার দিগুণ শুক্ক দিতে হত | ননের ব্যবসায় মুসলমান দিত শতকরা ২" টাকা আব হিন্দুর্দিত শতকরা ৫ টাক1। এই নিয়ে বৃথা আন্দোলনে সময়ক্ষেপ না করে বুদ্ধিমান হিন্দু ব্যবসায়ীর! প্রায় সবাই একজন করে মুসলমান অংশীদার সঙ্গে রাখতেন। ফলে ৫ টাকা শুন্ধ কখনই নবাবী দপ্তরে জমা পডেনি ।৫৮ হিন্দু-মুসলমানে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মিল থাকার ফলে ছোট খাট বিরোধ কখনও সান্প্রদ্ধায়িক সমস্তা হতে পারেনি । ব্যক্তিগত ভূল “বাঝাবুঝি, অন্তায় বা হিং আচরণ কথনই বৃহৎ আকার ধারণ করতে পারেনি । বাংলার অর্থনৈতিক নিশ্চয়ত| হিন্দু-মুসলমানের শ্রীতিকে আরে! নিবিড় করেছে । ১৭৬৭ থেকে ১৭৬৯ খ্রীষ্টাব্ের বাংলার গভর্নর ভেরেলেস্ট যে চিত্র এঁকেছেন তা অতি সুস্পষ্ট । তিনি লিখেছেন পলাশীর যুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে 41081811191 ৬/৪5 995, 16 21015217 91700018090, 079 11810119110 911101190 81)0| 079 11109 581015890” আচার্যয নরেন্দ্রকুষ আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল। ২৬৭ সিংহের মতে এই স্থচিন্তিত অভিমতেখ প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা গ্রয়োজন। বাংলার এই ছবি পরের যুগের কোনও বাঙ্াণীর আকা নয। এমন একজন সমসাময়িক এই বর্ণনা কবেছেনাাযনা দেশী হশেও বাংলা দেশকে ভাল করেই গাঁনার স্থযৌগ পেষেছিলেন 1৫৯ তাই নিঃসন্দেহে এবং নিদিপাষ বলা চলে যে ১৭৫৭ খ্রীপান্দে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে কোন বিবোধ ছিল না। সিরাজদৌল্লার পতনে উভষ সম্প্রদাযেব প্রতিনিধিরা ষডযন্ত্রে অংশগ্রহণ করেছিলেন । উশ্য সম্প্রদাষের ব্যক্তিগণ নবাবপক্ষ সমর্থন কবেছেন। এই সময় বাংলাদেশে আ।থক সমৃদ্ধি ছিল এবং বাংলাকে লুণ্ঠন করার লোভ ইংবেক্সদেব ষডযস্ত্রে যোগদানের জন্য সব থেকে বেণী উদ্ধদ্ধ করেছে। তই বক্সারে মীরকাশিমের পরাজয়ের পরই ইংরেজরা সর্বপ্রথম জগৎশেঠের ক্ষমতা খর্ব করল । কারণ ইংরেজের সতি)কারের প্রতিপক্ষ ছিলেন জগৎশেঠ । শচীন্দনাথের নাটক যে পলাশীর যুদ্ধ, বঙ্গে বগী ও সিরা দৌল্লা নাট কত্য় ঘার! অনুপ্রাণিত তা সহছেই বোঝা যায়। গিরিশচন্দ্রের সিরাজদৌল্লার বিশেষ প্রভাব শচীক্রনাথের সিরীজপৌল্লায় দেখা যায়। যোগ এত ঘনিষ্ঠ যে পরবর্তী সিরাজকে পরিপূর্ণ ভাবে ১৯০৫ খ্রীষ্ঠাব্দের সিরাজের উত্তর পুরুষ বলা চলে। গিরিশের করিমচাঁচা রূপান্তরিত হয়েছেন ক্লাউন গোলাম হোসেনে আর গ্রতিহিংসাকামী জহর] হয়ে গেছেন দ্েশপ্রেমী আলে! । তার পরিচয় দেওয়] হয়েছে মোহনলালের সমাজচ্যুতা ভগিনী । এখানে স্পই বঙ্গেবর্গীর মাধুরী চরিত্রের প্রভাব পড়েছে । বাঙ্গালী বীর মোহনলালও ক্রমে এক দেশনাঁয়কে পরিণত হয়েছেন । এই ছুইটি চরিত্র কষ্টিতেই ১৯২২ খ্রীষ্টাব্দে নিশিকান্ত বস্থরায়ের বঙ্গে বীর অন্গরণ মনে হওয়া স্বাভাবিক ৷ নবীনচন্্র সেন পলাশীর যুদ্ধে রাজ! রাজবল্লভকে যে বৃহৎ ভূমিক। দিয়েছেন সেটা অন্থসরণ করেই শচীন্দ্রনাথ র|জবল্লভকে এক মুখ্য চরিত্র করেছেন। নবীনচন্দু ২০ বছব বয়লে পলাশীর যুদ্ধ রচনা! করেন। গিরিশচন্দ্র সিরাজদৌল্লা রচন। করেন ৬০ বৎসর বয়সে । (গিরিশচন্দ্রের প্রতি নবীনচন্দ্রের পত্র । গিরিশ রচনাবলী । প্রথম থণ্ড। সাহিত্য সংসদ সংস্করণ । পাতা পয়ষটি।) শচীন সেনগুপ্ত ৪০ বৎসর বয়সে সিরাজদৌল্লা রচনা করেন। ইতিহাস অনুসারী গিরিশচদ্দের বিজ্ঞতা বা তরুণ নবীনচন্দ্রের সাবধানতা কোনটাই শচীন্দ্রনাথের রচনায় দেখা যায় না। ২৬৮ বাংল! এতিভাপিক নাটক সমালোচনা এরতিহাসিক ঘটনাক্রম বা চরিত্র স্ষ্টি সম্পর্কে সংঘম শচীগ্্নাথের রচনায় নাই। তার (শ্রষ্ঠ গুণ ভাবালুতা এবং ভাবালুতার পরাকাষ্ঠা তার নাটকে আছে। এই নাটকের উনপ্রিয্বতা এই ভাবালুতার বিজয় ঘোষণা করে। অন্যান্য প্রতিহাসিক নাটক রচয়িতভার মতোই শচীন্ত্রনাথ তার নাটককে ইতিহাস অন্রসারী বলেছেন। তার ভূমিকাতেই পরম্পর বিরোধী কথা আছে। প্রথমে তিনি বলছেন “ইতিহাস ঘটনাপষ্রি। নাটক তা নয়। এ্রতিহাঁসিক লোকের জীবনের মাত্র একটি ঘটনা অবলম্বন করেও একাধিক নাটক রচনা কর! যায়। যায় এই জন্যই যে, ঘটনা নয, ঘটনাটি ঘটবার কারণই নাট্যকারের বিষয়বস্ত্ |” (ভূমিকা, সিরাজন্দৌল] )। সুতরাং মনে হওয়া স্বাভাবিক যে শচীন্দনাথ এই জবানবন্দী করেছেন তার কল্পনার “সিরাজ” সম্পর্কে নাটক রচনার জন্ত । কিন্তু পরের কথাগুপো অন্ত রকম। “সিরাঁজদ্দৌলার জীবনের ঘটনা! এিহাসিকরা লিখে গিয়েছেন। ধারা স্বার্থের থান্তিরে সিরাজ-চরিত্রে নানা কলঙ্ক আরোপ করে 'গছেন, তাদের কুকীতি আজ ধর] পড়েছে সত্যাশ্রয়ী ্রতিহাসিকদের সত্যানুসন্ধানের ফলে। পিরাজদ্দোল! নাটকে আমি শেষোক্ত এতিহাসিকদের নির্দেশ মত সিরাজকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি । কাজেই শেন পধ্যন্ত তিনি সিরাঁজদৌল্লকে ইতিহাসিক চরিত্র বলে দাবী করেছেন । তার নশাটককে সত্যান্ঠসন্ধানী ইতিহাস রচয়িতাদের অনুযায়শ বলে প্রচার করেছেন। ম্থতর"ং এই নাটকে কতথাঁনি ইতিহাস অন্ুুশ্ুত হয়েছে তার বিচাবের প্রয়োভন হচ্ছে । ভূমিকাতেই নাট্যকার তার ইতিহাস জ্ঞানের নে প্রাণ দিয়েছেন তাতেই আশ্চর্য্য হবার উপকরণ আছে । বাঙ্গালীর চারত্র সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ ব্তুতার পর শচীন্নাথ শিথেছেন-_ “সিরাজ ছিলেন খাটি বাঙ্গালী । তাই তার পরাজয়ে বাংলারও পরাজয় হল । তার পতনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙাপীও গল পতিত |” নবাব আলিবর্দীর ইতিহাস আলোচনা প্রসঙ্গে জানান হয়েছে যে আলিবদীর পিতা ও পিতামহ জাতিতে হলেন আরব । আপীবদীর মাতা খুরাসানের আফসার বংশীয় তুকা। মায়ের সম্বন্ধ হৃত্রেই মুণিদকুলি খার জ্ঞামাতা সুজাউদ্দিন খার সঙ্গে তাদের আঁত্ীযতা ছিল। আলিবর্দীর জন্ম দাক্ষিণাত্যে, কর্ম মোগল দরবারে, ভছৌএর যুদ্ধের পর আলিবর্দী সপরিবারে পালিয়ে গেলেন উড়িম্ঘার নুক্তাউদ্দিনের দরবারে । এখানেই কিছুদ্দিন পর মক্কা পলাতক আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্ল। ২৬৯ জোত্ঠন্রাত। হাজী আহমদ (আলিবদদীর থেকে দশ বছরের বড়) তার তিনপুত্র নিয়ে উপস্থিত হলেন এবং সকশেই নবাব সরকাবে নিযুক্ত হলেন। ১৭২০ খীএ্াব্দের ঘটনা । ১৭২৮ খ্রীষ্টাব্দে সুজাউদ্দিন বাংলার স্থবেদার ও নবাব হলে আলিবদীকে প্রথমে রাজমহলের ফোভধার ও পরে পাটনাব শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হল। এরই মধ্যে হাজী আহমদের তিনপুত্রেব সঙ্গে আলিবদীর তিন কন্তার বিবাহ হয়েছে । সিরাজের জন্ম ১৭৩৩ শ্রী্ান্দে পাটনায়। বাল্যকাল কেটেছে পাটনায়। ১৭৪০ খ্রীষ্টাব্দে আলিবদী নবাব হবার পর সাত বছরের পিরাজকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। শ্ৃতরাং সিরাজের মুশিদাবাদে আসার সময় ১৭৪১ খ্রীষ্টাব্ধ। পরুবসর ১৭৪২ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ব্গার হাঙ্গামা সুরু । স্ৃতবাং সিরাজদৌল্ল! বা তার উদ্ধতন চতুর্দশ পুকষ যে বাঙ্গালী ছিলেন না একথ। বলাই বাহুল্য । সিরাঁজদৌল্ল বাংলাভাষ! জানতেন একথা মনে করবার কোন প্রমাণ নাই । রাজকাধ্য পরিচালিত হত ফারুসীভাষায। সে যুগের সেটাই ছিল সকলের কথ্য ভাষা । সিবাজ এবং তার পার্্চরবা মোহনলাল এবং তাঁর ভগিনী লুৎফউন্নিসা সকলেই এই ভাষাতেই কথা বলতেন। বাঙ্গালীর স্ত্রীলোক অপহরণ করে এনে উপভোগ করা এবং সে সময় তার্দের অনুনয় বিনয় শ্রবণ বাংলাভাষার সঙ্গে সিরাঁজদৌল্লার একমাত্র প্রমাণিত যোগাযোগ । শচীপ্রনাথ সেনগুঞ্ুর সিরাজদ্দৌোলা নাটক তিন অঙ্কে ১৫৪ পাতায় শেষ হয়েছে । এছাড়া ভূমিকা, উৎসর্গ ও চরিত্র লিপি প্রভৃতির জন্ত আরও ৮ পাতা আছে। প্রথম অঙ্কে তিনটি দৃশ্ঠ ১ থেকে ৬£ পাতা দ্বিতীয় অস্কে তিনটি দৃশ্য ৬৬ থেকে ১১৮ পাতা ও তৃতীয় অঙ্কে তিনটি দৃশ্য ১১৯ থেকে ১৫৪ পাতা । এছাড়। সা্দা-কালোষ পাচখানি অভিনয়ের ছবি আর্ট পেপারের একদিকে মুদ্রিত হয়ে সন্গিবেশিত হয়েছে । প্রকাশকাল ১৩৪৫, মূল্য পাঁচসিকা। ৷ প্রথম অভিনয় বজনী ২৯শে জুন ১৯৩৮ শ্রষ্টা্ব । নাটানিকেতনে নাটক মঞ্চস্থ হয়। প্রযোজনা করেন প্রবোধচন্ত্র গুহ ও পরিচালনা করেন নির্মলেন্দু লাহিড়ী ও সতু মেন। বাণীবিনোদ নির্শলেন্দু লাহিড়ীকে নাটক উৎসর্গীকৃত | ভূমিকা লিপিতে দেখা যায়, সিরাজ-_নির্শলেন্দু লাহিড়ী, গোলাম হোসেন_ রবি বায়ু, ওয়াটস__ভূপেন চক্রবর্তী, আলেয়া_ শ্রীমতী নীহারবালা, লুৎফা-_শ্রীমর্তী সরযুবালা ও ঘসেটি বেগম-_শ্রীঘতী নিরুপন। | ২৭০ বাংল! গ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন! প্রথম অস্কের প্রথম দৃশ্য হিরাঝিপের দরবার কক্ষ । তীয় দৃশ্য মাঁভাঝণে ঘসেটি বেগমের প্রাসাদ ও তৃতীয় দৃশ্য ইংরেভদের কাশিমবাজার কুগি। প্রথম দুধকে বদি আপিবর্দীর মৃত্র অব্যবহিত পরের প্টনা বলে ধরে নেওয়া বায় তাহলে প্রথম অঙ্কের তিনটি দৃশ্যে ১৭৫৬ খ্রী্টান্দের ১০ই এপ্পরিপ থেকে ওই বছরের ২রা-৩রা জুনের ঘটনাখলী বলা হয়েছে । নাটকের শুরুতেই হিরাঝিল দরবার কক্ষে রাত্রিকালে একাকী নবাধের কণ্ঠে অধুনা বিখ্যাত সংলাপ শোনা যায়-“বাংলা বিহার উড়িগ্তার মহান অধিপতি । তোমার শেষ উপদেশ 'আমি ভুলিনি জনাব। ইউরোপীয় বণিকদের উদ্ধত ব্যবহ।ব আমি সহা করব না। তামার রাজ্যে আমি তাদেব মাথ! তুলে দাড়াতে দেব না। এই প্রথম কয়ে+ ছত্রেই নাট্যকার তার নাটকের চবিত্র স্থির করে দিয়েছেন এবং সেইসঙ্গে ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা সুরু করেছেন । তর্কের থাতিন্রে ধরে নেওয়! যায় যে, ন্বর্গত নবাবের সম্মানের ভন্তেই বর্তমান নবাব তাকে উড়িষ্কার নবাব বলেও অভিহিত করেছেন, কারণ ১৭৫০ ঝ্রষ্টাব্দ থেকে উঁড়গ্া যে মারাঠা অধিকারে চলে গিয়েছে এটা তার অজানা থাকতে পারেনা । কিন্তু সব ইউরোপীযঘ বণিকদের উদ্ধত ব্যবহার কোথায় হল। ফরাসীর1 নবাবের বন্ধু ছিল, ওলন্দাজদের সঙ্গেও অসভ্ভাব ছিল না। দিনেমার ও জার্মীনীর বণিককুল সবরকম নবাবী আবদার সহা করতেন। একমাত্র ইংরেজদের নবাব আলীবদীর সময় পরাক্রান্ত হতে দেখা যায়। নবাবী আদেশে প্রথমে কলকাতায় ও পরে কাশিমবাজারের ইংরেঞ বাসস্থান সুরক্ষিত করার স্থযোগ পেল ইষ্ট ইণ্ডয়া কোম্পানী । মারাঠ৷ আক্রমণের ভয়েই নবাব ইংরেজদের আত্মরক্ষার আদেশ দিয়েছিলেন। একটু পেছেনে তাকিয়ে নবাব আলিবদীর ইংরাজদের সঙ্গে ব্যবহারের নিদর্শনগুলি পরীক্ষা করা যাক । ১৭৪২ শ্রীষ্টাব্বের ২০ এপ্রিল ইংরেজর!| লগ্ডনের পরিচালক মগ্ুলী- কে থবর দিয়েছেন_-আমরা কাশিমবাজারের স্যার ফ্রান্সিস রাসেলের কাছ থেকে গত ১৭৪২ শ্রীষ্টাব্ষের ১৬ এপ্রিল খবর পেয়েছি যে কাশিমবাজারে মারাঠা-আক্রমণ হতে পারে। বর্ধমান রাধানগর ও অন্যান্য জায়গা থেকে আমাদের ব্যবসায়শর| এই খবরই এনেছে । এই খবর পাওয়। মাত্র কলকাতা থেকে কুঠি রক্ষার জন্ত একটি বড় শক্তিশালী সৈন্তদল কাশিমবাজারে পাঠান হল। মারাঠাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্ত কুঠির চারধারে উচু প্রাচীর ও আলিবদী খ। ও সির'জ-উদ-দৌল্ল! ২৭১ মাঝে কামান বসাবাব গন্বুজজগ (89510101) তৈবী কবা হল। ১৭৪৩ শ্রীগান্ধে চাবটি গম্বু” টতৈতবী কবে চাবটি কামান বসানো হযেছে । লগুনে চিঠি লেখা হল যে কুঠি এখন ছুর্ভেছ্য । তবে ভাবনা গেল না । আশঙ্কা হুল থে নবাব প্রতি গন্থুলের ভ্ন্য আলাদা! নজরানা দাবী ক্ববেন। ১৭৪৫ শ্রীঃব্দ পর্যান্গ নবাবী সমন না পেষে ইংবেজ কে।ম্পানী অবাক হল। লগুনের চিঠিতে লেখা হল যে সম্ভবত যুদ্ধের সময় বলেই নবাব প্রতিরক্ষার এই ব্যবস্থা অশ্ুখোদন কবেছেন। ইংবেজ কোম্পানীকে কিন্তু দূর্গ তৈরশ করার জন্ত নবাব 'দাষাবোপ কবেননি বাঁ কখনও নজরান! চাননি ।৬০ বরঞ্চ ১৭৪৪ খ্রাঞ্কান্দে তাদের ওপব অন্যবকম চাপ এল । নবাব জানালেন যে আগে ইংবেজ কোম্পানীর মাত্র চার পাচখানি জাহাজ ছিল, এখন তাদের চল্লিশ- পঞ্চাশখাঁনা জাহাজ কাশিমবাজাব বন্দবে বাওযষা! আসা কবে। তাব ওপর নবাব তাদের কলকাতা শহবেব বদক স্থতরাং যুদ্ধেব আংশিক ব্যযভাব স্বব্প ইংরেড্ড কোম্পানীর কাছে 7৫ পক্ষ টাক| তা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত দাবী । অবশেষে কাশিমব।জাব বুঠিব অধ্যক্ষ জন ষ্টার ১৭৪ খ্ীগাব্দের ১৬ই সেপ্টেম্বরেব চিঠিতে কলকা 1 কাউন্নিলকে আশ্বপ্ত কৰে জান"চ্ছেন যে নবাব বেষ পর্য্যন্ত সাডে তিন লক্ষ টাক নিতে সম্মত হয়েছেন এবং বিনিমযে এক পরোধানা জারি কবে কোম্পানীর হুগলী, পাটনা, ঢাকা ও বিভিন্ন আড্গেব বাণিজ্য অধিকাব স্বীকার কবে নিযেছেন। নবাব এই অর্থ পেষে খুব খুসী হন এবং কলকাতা ক[উন্সিলের প্রধানকে একটি হাতী ও শিরোপা উপহার দেন। কলকাত। কাউান্সপপ তখন নখাবাঞ্ে একট আবখী ঘাড়। উপহার দেন। নবাব বহিঃশক্রর আক্রঘণে কোম্পানীর সৈম্তসাহায্যের প্রস্তাব করেন কিন্তু ইংরেজ কোম্পানী তাতে রাজী হলেন না ।৬৯ কাজেই ১৭৪৪-৪৫ গ্রীষ্টাব্দের নবাঁবেব সঙ্গে ইংরেজ্দেব বেশ বোঝাপড৷ ছিল এটা বোঝ| কঠিন নয়। পরবর্তীকালে ইংরেজদের সঙ্গে নবাবের যে সস্তাব ছিল সেটা ইংবেজদের ব্যবসার প্রসাব দেখলেই বোঝা যায় । মারাঠা সন্ধি হবার আগে পর্যস্ত ইংরেজদের জগৎশেঠের কাছে খণের পরিমাণ ছিল ৫১২৮২ টাঁকা মাত্র ।৬২ অথচ পর বৎসর অর্থাৎ ১৭৫১-৫২ শ্রীতাব্দে ইংরেজ কোম্পানী, ৩৩৬৬০৫০ টাঁক! বাংলার বাবসায়ে লগ্মী করেন, তার মধ্যে কেধল কাশিম- বাজীরেই ৫৬৮৪০০ টাক ব্যবসায় প্রসারে ল্মী কর! হয়।৬৩ নবাবের সঙ্গে ১৮ ২৭২ বাংলা ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা বিরোধের কোন অবকাশ থাকলে ব্যবসায়ের লেন-দেনে ইংরেজ কোম্পানী সাবধান হতেন। কিন্ত তাহয়নি। তারা নিশ্চিন্ন মনে ব্যবসায়ের প্রসার করেছেন। এমন কি তাদের আশ্রিত ব্যক্তিরাঁও এই শান্তির আবহাওয়ায় নিশ্চিন্তে সম্পত্তি সংগ্রহ করেছেন; ১৭৫৬ গ্রী্টাব্বে নবাব আলিবর্দা দেশের শাঁজ পরিবেশেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আবার নাটকের প্রথম দৃশ্টে ফিরৈ যাওযা যাঁক। আলেয়া ও 'গোলাম হোসেন নামে দুইটি কল্পিত চরিত্র নাট্যকার উপস্থাপনা করেছেন । আগেই বলা হয়েছে এর। গিরিশচন্ত্রের করিমচাঁচা ও জহরার জায়গা নিয়েছে। গোলাম হোসেনও করিমচাচার মতে। হিন্দু দেশপ্রেমী নাম পুরন্দর | নবাঁবকে ভালবেসেই তিনি নবাবের ভাড় ও বান্দা সেজে থাকেন । আলেয়ার পরিচয়ে বলা হয়েছে তিনি মোহনলালের ভগিনী । পতুগীজ দঙ্থ্য তাকে অপহরণ করায় সমাজে তারস্থান হয়না তাই তিনি নর্তকী বৃত্তি গ্রহণ করে নবাবের জন্য গুপ্ত সংবাদ সংগ্রহ করেন। এই দুইটিই কাল্পনিক ও থিয়েটারী চরিত্র বটে তবে সেই সঙ্গে অসম্ভব চরিত্রও। অষ্টাদশ শতাব্দীর হিন্দু- সমাজের গঠন সম্পর্কে যাদের সামান্তম জ্ঞান আছে তারাই বুঝতে পারবেন হিন্দু পুরন্দরের মুসলমান গৃহে থাক1 কিরকম অসম্ভব কল্পনা মুসলমান সেজে থাকার কথা বাদ দিলাম । ১৭৫৬-৫৭ খ্রীষ্টাব্দের সমাজে হিন্দু-মুসলমানে যেমন বিরোধ ছিলনা তেমনি মাখামাখি ছিলনা । উভয় সমাজই নিজগণ্ডীর মধ্যে বাস করতেন । মুসলমান বাবুচির হাতে চপ কাটলেট খাওয়া হিন্দু পেট্রিয়ট আধুনিক ঘটনা__অষ্টাদশ শতব্দীতে এমন হলে জাতিপাত ঘটত । ষেমন হয়েছিল রাজা মোহন্লালের জীবনে । তিনি কেবল নামেই হিন্দু ছিলেন। নবাবকে ভগ্রীদ্ান করেই তিনি ক্ষান্ত থাকলেন না। মুসলমানকে কন্তাদানও করেছিলেন । সেজন্ত তাঁকে কেউ দৌধারোপ করেনি কেবল তার সম্পর্ক এড়িয়ে চলেছে । গোলাম হোসেনকে যদ্দি এই রকম হিন্দু মনে করা হয় তাহলে তাঁকে ছন্মবেশী হিন্দু দেখাবার কোন সার্থকত৷ থাকেন৷ । আলেয়ার নর্তকী চক্রিত্রও এমনি অসম্ভব। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ছুই রকম নর্তকী 'পাঁওয়া যায়। এক রকমের নর্তকী অর্থবানরা টাকা দিয়ে কিনে পুষতেন। যেমন নর্তকী ফৈজীকে সিরাজ কিনে পুষেছিলেন। আর এক রকষের নর্তকী ছিলেন যারা দলবদ্ধ হয়ে বিচরন করতেন বা কোন সহর অঞ্চলে বদবাস আলিবদী খা ও সিরাদ-উদ-দৌল্লা ২৭৩ করতেন । একক নর্তকীর প্রাচীন সমাজ ব্যবস্থায় টিকে থাকার কোন স্রযোগ ছিলনা । হয় তাকে যুথবদ্ধ হতে হবে নয় কোন রক্ষকের সম্পত্তিতে পরিণত হতে হবে। আলেযার পবিকল্পন! এসেছে উনবিংশ-বিংশ শতাব্দীর বাঈজীদের দেখে । মনে রাখা দরকার যে এবা ইংরেজ পরবর্তীযুগের কৃষ্টি । দেশে শাস্তি-শৃঙ্খল। এবং সর্বোপার আইনের শাসন গ্রবতিত হবার পর যে কোন একক ব্যক্তির সক্ষে নিজের ইচ্ছামতো! জীবনধারণ কর! সম্ভব ছিল। কলকাতার বাঈলীরা এক বাবুর কাছ "থকে অন্ঠ বাবুর কাছে গেলেও নিজেদের স্বাতন্ত্র বজায় রাখতে পারতেন । নিজ ইচ্ছামত জীবন-যাপন করতেন । এই অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্ততেও তাই কাশিমবাজার কুঠিতে আলেয়ার নৃত্যগীত যেমন অসম্ভব তেষনি অসম্ভব জগৎশেঠ বা রাজা রায়ছুলভেব মেখানে বসে সেই গান-বাজনা উপভোগ করা । এই অপরাধে উভয় হিন্দুর জাতিপাত ঘট। সম্ভব ছিল। বাজীরাও-এর দৃষ্টান্ত দেখলেই বোঝ! যাবে । সাম্রাজ্যের সব থেকে ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি হলেও মুসলমান রক্ষিতা রাখার অপরাধে, (বাজীরাও প্রবন্ধ দ্রষ্টব্য) নিজের পুত্র ও ভ্রাতুপ্পুত্রের উপনয়ন ও বিবাহে তিনি উপস্থিত থাকার অধিকার হারিয়েছিলেন । ইংরেজ রাজত্বে এই প্রাচীন সমাজ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ভেঙ্গে পডে, তার আগে নয়। প্রথষ অঙ্কের প্রথম ধৃশ্তেই নাট্যকারের আরেক কীতি অবাক করে দেয়। লুত্ফউন্নিসার নাম ছেটে তিনিই তাকে লুৎফ! করেছেন । লুৎফা' কথার কোন মানে হয়না । ছোটবেলার গল্পের সেই মজন্তালির মতো নাট্যকাব কেন হঠাৎ লুৎফউন্নিসা বা লুৎ্ফউন্নেসাঁকে একেবারে লুখ্ফা কবলেন বোঝা যায়না । লুৎ্ফ মানে ভালবাসা এবং নেসা বা ন্নেসা মানে ত্ত্রী। লুৎফউন্গিসা বা লুৎফউন্নেসা মানে প্রিয়তম রমণী বা! প্রিয় স্ত্রীলোক । কিন্ধ লুৎ্ফা শব্দের কোন মানে নাই। এই নাটকেও গিত্রিশচন্ত্র অনুকরণে “লুৎফ1” বা লুৎফ- উন্নিস৷ নবাবের মহিষী/% গলুৎফার সংলাপ “এটি কি নবাবের নতুন আমদানী ?” (পাতা ৯)' পড়ে সনোহ হয় যে নাট্যকার নবাবের বহু রমনীগমন ও রক্ষন সম্পর্কে ইঙ্গিত করছেন। একটু পরেই নবাব মহিষী বলছেন__-“শুনিচি এ দরবারে বীর মীরজাফরের, বিচক্ষণ রাজবল্লভের, ধনকুবের জগৎশেঠের' আসন টলে উঠেছে। নবাব কি এখন থেকে ওই নর্তকীর মতো নারীদের নিয়েই দরবারে বসাবেন?” (পাতা ১০) যদি এই উক্তিকে মীরজাফর ও ২৭৪ বাংলা প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা রাযদ্বলভের পদচ্যুতির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা যায় তাহলেও বেগমের অজ্ঞতা অসামান্য । রাজবল্লভ কখনই যে নবাব সরকারের চাকর নন এটা তার জানা উচিত । রাজবল্লভ চিরকালই ঘসেটি বেগমের বেতনভোণী। এই নাটকে জগৎশেঠ ভ্রাতধ্গল এক সঙ্গে মিলে একজন হয়ে গেছেন। তার হালচাল কথা শুনলে তিনি ঘে রাজত্বের একজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি মনে হয়না সন্দেহ হয তিনি বুঝি নবাবের ধনাধ্যক্ষ। বেচারা রায়ছুর্লভ এই নাটকে পার্খ চরিত্র । বাংলায স্বেদারের প্রধান কর্মচারী মহারাজা রায়ছুললছের এই পরিণতি হুঃখের সন্দেহ নাই | এই সময়ে নবাবের সুনজরে আসার ভন্ত আসল রায়ছুর্লভ দুইটি জরুরী কাঁভ কবেন। প্রথম কাজ শওকতঙঙ্গের বন্ধুত্ব সংগ্রহ তথা আঁন্ুগতা লাভ। ছুলভরাম একদল সৈন্য নিয়ে শওকতজঙ্গের ভীত মনের পূর্ণ স্থযোগ নিলেন । যার ফলে কলকাতা জুধে যাত্রা করবার সময় শওকতভক্গ সিরাজেব অন্রোপে চার হাগার সৈন্ত পাঠিষেছিলেন। এরা কলকাতার যুদ্ধে অংশ নিষেছিল। অবশ্য তাদের প্রতি গোপন নির্দেশ ছিল যে সিরাজদৌল্লা হারছে দেখলেই তারা নবাবের শিবির এট করে পৃণ্যাতে প্রত্যাগমন করবে । কলকাত। ভয়ের গৌরবও সবাই র।য়ুলভ এবং তার স্থযোগা সহকাঁবী মীরমদনকে দিয়েছেন | ছুটি ঘটনাই ১৭৫৬ খ্রা্রাব্দের | ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে রায়ছুললভের অন্ত চেহারা । প্রচণ্ড সিরাজভীতি তাকে নখ।বের বিরুদ্ধে ষড্যন্ত্রের প্রধান ব্যক্তিদের অন্ভতম করেছে । এই বছরে তাই দেখ' যায় রায়ছুর্লভ দু'হাতে ঘুষ নিচ্ছেন। অথ সংগ্রহের যত গোপন পথ আছে সবই তিনি কাজে লাগিয়েছেন। এমনকি ল' সাহেবের কাছ থেকে সোন' ও রোকড়ে ১৫০০০ ট কা এবং ২৫০০০ হাজার টাকার হাতচিটা আদায় করেন চন্দননগর রক্ষায় যাবার জন্য 1৬৪ কথিত কর্ণেল ক্লাইভের কাছ থেকে উপটৌকন পেয়ে তিনি মধ্যপথ থেকে ফিরে আসেন। এহেন চরিত্র ঘায় ছুর্লভরাম নাটকের উপযুক্ত কিন্তু শচীন্দ্রনাথ তাতুক্ষু মোটে ব্যবহার না করায় ইতিহাস ব্যাহত হয়েছে । "আর এক বিষয়ে রায়ছুলভ উল্লেখ- যোগ্য । তার পুত্র রাজা রাজবল্লভ পরে কলকাতার দেওয়ান নিষুক্ত হন। “ইংরেজ রাজার সেবা করার সরাসরি সুযোগ রাজবল্লভ পেয়েছেন। যখনই কোঁন অন্বিধায় পড়েছেন তথনই এক দীর্থ আঞ্জির অবতারণ] করে তার পিতা ইংরেজ কোম্পানীকে কতোরকম সাহায্য করেছেন তার উল্লেখ কর! আলিবর্দী খা ও লিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৭৫ হযেছে । বলাবাহুল্য রায়ুলভ পুত্র, কায়স্থ রাজা ৰাঞ্বল্লভ ও ঘসোটি বেগমেব দেওযান বৈদ্য বাজা রাজবল্লভের মধ্যে প্রায়ই ভূল কবা হয। বৈদ্য বাজবল্লভ ও তার পুত্র কষ্গদাসকে ১১৭০ সালে বা ১৭৬৩ খ্রীষ্টাব্দে মীব- কাশিমের আদেশে বধ করা হয। রাজবল্লভের সপ্তপুত্র, রামদাস, রুষ্দদাস, রতনকৃঝ» গোপালকুষ্» গঙ্গাদাস, কেবলক্কক্ক১ ও রাধীমোহন। রামদাসেব মৃত্যু হয ১১৫৫ সালে বা ১৭১৮ শ্রীষ্টাবে, রতনকৃষ্ত মাঁবা ধান ১১৬৯ বা ১৭৭২ শ্ী্টাবে । রাজা গঙ্গাদাস ১৭৭৪ খ্রীষ্টাব্দে জযিদাবীর অধিকর্তা এবং কায়স্থ রাজা বাজবল্লভেপ সমসামধিক ছিলেন ।৬৫ সিবাজদোল্লার প্রথম অক্কেব প্রথম দৃশ্তে নাটকীযতা আছে কিন্ত এতিহাসিকতা নাই । নবাব গুপ্ুচর সন্দেহে আলেয়াকে হত্যার আদেশ দ্রিলেন। মোহনলালকে ডাকা হল। সেতার ভগ্লীকে চিনতে অস্বীকার করল । তখন নবাবের আদেশ এক ধমকে প্রতিপালন কর! বন্ধ করে বান্দা গোলাম হোসেন মোহনলালকে সত্য কথা বলতে অনুরোধ করল । মোহনলাল জানাল আলেযা তার ভগ্রী। নবাবের জন্য সংবাদ সংগ্রহ তার পেশা । অবশেষে কাশিমবাগার কুটিতে দেখা হবার প্রতিশ্রতিতে অ'লেয়ার মুক্তি । দ্বিতীয় দৃশ্তে ঘসেটি বেগমের মতিঝিল প্রাসাদ । বাজবল্লভ জানাচ্ছেন যে সিরাজ রাজ্য পরিচালনায় খুবই পারদশী। এটাও অসম্ভব ঘটনা । রাজত্ব পাবাব কয়েকদিনের যধ্যে ঘসেটির সম্পত্তি অপহরণ করে তাকে বন্দী করা হয়। এই কয়দিনে সিরাজের রাজ্য পরিচালনায় দক্ষতা প্রমাণের কোন স্থযোগই নাই । অবশেষে নবাব বেগম “লুৎফাকে পাঠিয়ে ঘসেটিকে বন্দী করে নিষে গেলেন। রাজবল্লভ থোক্ত! দেহরক্ষীব অভিনয় করে প্রাণে বাচলেন। সবই নাটক । হিন্দু রাজ! বা সন্ত্রান্ত বংশীয়ের পক্ষে থোজ৷ দেহরক্ষীর (পাষাকাঁদি পরিধান করা যে কত কঠিনতা সামাভিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধ লোকের জানার কথ! নয়। এই নাটকের ছত্রে ছত্রে প্রতি পদক্ষেপে অজ্ঞতার ছবি পাওয়! যায়।* ইংরেজ সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে * দৃশ্যের শেষে সৈম্তবাহিনীর অধিকর্তা রায়ছুলভ চিনতে পারেন রাজবল্লভকে। রাজবল্লভ বলেন__-গ্রচুর পুরস্কার পাবেন।” ব্রায়ছুলভের সংলাপ-_ শ্ছদিনে এ অধীনকে স্মরণ রাখর্বেন। (পাতা ৪৩)। স্পষ্ট বোঝা যায় যে রশ্ম- ছললভের এ্রতিহাসিক ভূমিক1 সম্পর্কে নাট্যকার সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন। ২৭৬ বাংল! &তিহাসিক নাটক সমালোচন। পালিত পাট্যকার গণতন্ত্রের পাঠ পড়েছেন, পড়েছেন গিল বেস্থাম রুশো । তার সিরাজদৌল্লা হংরেনী সংস্কাতব জারকে জীর্ণ এক নব যুবক, প্রাচীন নবাব-স্থবেদারের সঙ্গে তার কোন মিল নাহই। এই বিংশ শতাব্দীর আব- হাওয়াই পাওয। যাষ প্রথম অঙ্গের *্ষে দৃশ্ে কাশিমবাভাঁর ঝুঠির জলসায়। কাশিমবাজার কুঠিতে নবাখ পিরাওপোল।র বিরুদ্ধে ফডযন্ত্র ভচ্ছে। ষডণস্ত্রের নাক ইংরেড ওয়াটস ও মীরজাফর, সঙ্গী বাড] রাজ্বল্লভ, ভগৎশেঠ, মামীরটাদ এছাড়া ডঃ ফোর্থ, পাদরী লং নামে ছুটি চাঝত্র বযষেছে। সকলে মিলে জলসার মাঝেই স্থির করে ফেললেন মে সিরাজের ইঈদ্বত্ত আর সহ কর! হবেনা । তাকে পদচ্যুত করে মীরজাফর গরীপাঁভ করবেন । আলোচনা শেষ হওয়া মাত্র নবাবের কামানধবনি শোনা গেল । ইবরেজগণ যুদ্ধার্থে প্রস্তৃত হলেন কিন্তু রাজবল্লভ আত্মসমর্পণের উপদেশ দেওয়ায় ওযাটস আত্মসমর্পণ করতে রাজী হলেন। নবাব এলেন এবং সিপাহশালার ও রাজবল্লভকে সঙ্গে করে কলকাতা যাবেন স্থির করলেন কারণ তাঁরা শেষাল ও প্যাচার সামিল । নর্তকী আলেয়াকে গুগুচরবৃত্তিতে সাফল্যলাভেব নঙ্ক মুক্তার মালা গল থেকে খুলে দিলেন নবাব । হিন্দু মতে বা হিন্দু দর্শকের চোখে সিরাড আলেয়াকে স্বীকৃতি দিলেন । এখানেও রাযছুলভকে নবাবের বিশ্বাসী এক সৈন্তাধ্যক্গ করা হযেছে । গোলাম হোসেন হয়েছেন ভার রাজনৈতিক উপদেইা। এই দৃশ্টের কোথাও ইতিহাস নাই বললে কিছুই বলা হল না। কষ্ট কল্পনার এক স্ুবৃহৎ দৃষ্টাস্ত রূপে এই দৃশ্যটি চিরকাল অঙ্কিত হবে। গিরিশচন্দ্রে প্রভাবের বিপুলতা ছাড়া আর কোন সারবস্ত এ দৃশ্টে নাই । তার প্রভাবেই মীরজাফর এক ত্বণ্য ষড়যন্ত্রকারী হয়েছেন। লা সাহেব অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন যে মীরজাফরের সাহায্য ছাড়া সিরাজদৌল্লা কখনই নবাব হতে পারতেন না । আলিবর্দী খা মীরজাধ্রকে ভালবাসতেন ! সিরাজদৌল্লাকে নবাব করার বিষয়ে আলিবদীর সন্দেহ হলে মীরজাফর তা নিরসন কনেছেন। এই প্রভুভক্ত সাহসী সৈন্ঠাধ্যক্ষের জোরেই প্রথমে সিরাঁজ নিবিদ্ছে নবাব হয়ে- 'ছন। অথচ নবাব হবার পর সর্বপ্রথম অপমানিত করেছেন এই মীরজাফরকে 1৬৬ মীরজাফর নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে সব শেষে যোগ দেন। শনি যোগ দেবার পরে ফড়যন্ত্রকারীর1 আশ্বস্ত হন। মীরজাফর ছাড়া অন্ত যে সব প্রভাবশালী সন্ত্রস্ত মুসলমান নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যোগ দিয়ে- আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌন্লা ২৭৭ ছিলেন তাদের উল্লেখ কোন নাটযকারই করেন নি-_তাবা ভলেন আমীর থোদাদদ খা বাখোদ। ইয়াব লতিফ খা। ইনিপিল্লীব আমীর বলে নিজেব পবিচয় দিতেন। জগতশেঠ প্রাতদ্ধয় তাকে নবাব করার জন্ত সংগ্রহ করেন। পবে মীরজাফর এবং তার ভাই মীর দাউদ খা ষডযন্ত্রে যোগদান করলে মীরজাফরকেই নবাব করা স্থির হল। এরা ছাঁডা নবাবের সভাসদ উর বেগ, বটকের মুসলমান ফোৌ-দার এবং ভূতপুব নবাব সরফরাজ খাঁর পুত্রদ্ধয ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে লা সাহেব লিখে গেছেন । আলেযাব হৃত্যগাঠের মধ্যে ষঙ্যন্ত্ব চলছে এমন হীস্াকর ঘটন! বাংলা থিষেটার ছা আর কোথাও সম্ভব নয়। ভুলের ফিবিস্তি করা বাক। কোন ষড়যন্ত্র কখনও কাশিমবাঁজার কুঠিতে হয় নাই। সিরাজ ইংরেজদের অপছন্দ করতেন সেজন্য তাদের দিকে কড। নজর রাথতেন। কান স্থযোগ পেলে হংরেজ। কুঠি ধ্বংস করতে তিনি দ্বিধা করবেন না এটা স্থবিদিত ছিল । স্পষ্ট ষডবস্ত্রের কোন নাটকীয় চেষ্টা হয় নাই। একে একে ছুষে দুযে আলোচন। চলেছে বলেই সিরাজদোল্লা বুঝতে পারেন নাই । ষড়যন্ত্র করার প্রধান এক স্থান ছিল কাশ্মবাজারে ক্গৎশেঠের গদী । ইংরেড কুঠির প্রায় উল্টো দিকে তার অবস্থান ছিপ। এই বাভীতে যাওয়া আসা টাঁক]। ধার নেবার ছুতোয় সহজেই করা যেত। দ্বিতীষ ভুল, জলসা তখন এভাবে হত না। ২রা ৩র| জুনের কথা বাদ দিলাম_-এই রকম জলসা সে বছর কোথাও হয়েছে কি না সন্দেহ। এ সম্পর্কে আগেও দীর্ঘ আলোচন| করা হয়েছে । আমীর টান্দ এ সময় কলকাতার ইংরেজ কারাগারে বন্দী স্ৃতরাং তার পন্ষে' জলসায় উপস্থিত থাক? অসম্ভব । রাজবল্পভ এ সময় হয় নবাব কারাগারে বন্দী নয় পলাতক | ইতিহাসে এ সময়ে তার কোন চিহ্ন নাই স্থতরাঁং জলসায় তার পক্ষে প্রকাশ্যে এই রকম গলাবাণ্ডী কর! অসম্ভব । মীরজাফর এ সময়ে ষড়যন্ত্রে যোগ দেননি স্থতরাং তার উপস্থিতি কষ্ট কল্লিত। পাদ্রী লং নামে কোন ব্যক্তি তখন কুঠিতে ছিলেন না । নব'বের আগমনে ওযাটস যুদ্ধ করবার জন্ত দৌড়াদৌড়ি করেন নি। নিজের রুমালে হাত বেঁধে কুঠির বাইরে নবাব যেখানে হাতীর ওপর বসেছিলেন সেইখানে ছুটে গিয়ে হাঁতীর সামনে নতজান্ছ হয়ে “তোমার গোলাম, তে'মার গোলাম, বলে চীৎকার ক্ডুরে কেঁদেছেন। বস্তত ক্লাইভ-ওয়াটসনের আসার আগের ইংরেজ এবং পরের ২৭৮ বাংলা ধতিহাসিক নাটক সমালোচনা ইংরেজে আকাশ পাতাল প্রভ্দে। বিনাধুদ্ধে ঝুঠি নবাবকে ছেড়ে দেবার জন্য ওয়াটস সাহেব লাঞ্চনা ভোগ করেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য কি না বিচ।র করতে যথাযথ ব্যবস্থা হয়। ওয়াটসের আত্মসমর্পণে ক্ষুব্ধ হয়ে কাশিমনাজার কুঠির ইংরেজ সেন্তাধ্যক্ষ লেফটেন্তাণ্ট এলিয়ট নিচের মাথায গুণে মেরে আত্মহত্যা করেন ।৬৭ নবাব, ওয়াটস এবং তার সহকারী কোঁলেট সাহেবকে সর্দে করে কলকাতাষ যুদ্ধযাত্রা করেন নি। তারা মুশিদাবাদে বন্দী হয়ে থাকেন। কলকাতা জযের পর জুলাই মাসে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। কাজেই এ দৃশ্যটি যে সম্পূর্ণ কল্পন। সে বিষয়ে সন্দেহের লেশমাত্র নাই । দ্বিতীয় অঙ্কে তিনটি দৃশ্য । প্রথম দৃশ্য কলকাতা জয়ের পর নবাবের দরবার। দ্বিতীয় দৃশ্য আলেয়ার দ্বিতলের কক্ষ এবং তৃতীয় দৃশ্য পপাশীর প্রান্তর । এহ অঙ্কে নাট্যকার ইতিহাসকে কি ভাবে উপেক্ষা করা বায তা দেখিয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী নাট্যকারগণ 'ঠাঁকেই অন্ঠসরণ করেছেন । গিরিশচন্দ্র কখন ইতিহাসের ওপর শ্ামলা করেন নি_-শচীন্জনাথ করেছেন এবং তার দৃষ্টান্ত অন্তেরা অন্থকরণ করেছেন। দ্বিনীয অঙ্ক প্রথম দৃশ্য হুরু হয়েছে কলকাতা ভয় ও ওয়াটসের মুক্তির পর স্থতরাং হওয়া উচিত ১৭৫৬ ্রীষ্টাব্দের জুলাই আগষ্ট মাস। এই দৃশ্তেই ক্লাইভ ওয়াটসন প্রসঙ্গ আছে। এঁর। ডিসেদ্বর জানুয়ারী ১৭৫৬-৫৭ গ্রাষ্টাবের আগে বাংলার রঙ্গমঞ্চে প্রবেশ করেন নাই । ক্লাইভ ভারতে আসেন ১৭৫৬ শ্রীষ্ঠাব্বের অগ& মাসে । এদিকে ল! সাহেবের সাবধানবানী রয়েছে স্থতরাং সময় সরে আসছে ১৭৫৭ শ্রীগ্রাব্দের মার্চ এপ্রিল মাসে । তাহলে €ই ফেব্রুয়ারীর কলকাতার যুদ্ধে সিরাজের পরাজয় ও পলায়নের উল্লেখ নাই কেন? চন্দননগর জয়ের কথা আছে । পলাশীতে সৈন্য সমাবেশের কথা আছে । সময় এবার এক ধাকায় সরে যায় জুন ১৭৫৭ শ্রী্টাব্দে। এর মধ্যে সিরাজের বাদশাহী ফরমান পাবার কোন উল্লেখ নাই, উল্লেখ নাই সিরাজের আহমেদশাহ আবদালী ভীতি ব ১৭৫৭র ইংরেজ ভীতির । সিরাজের ১৪ মাসের রাজত্ব থেকে নাট্যকার পুরে এক বছর অর্থাৎ ১৭৫৬ শ্রীষ্টাব্ধের জুন থেকে ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্বের জুন পর্যন্ত সমস্ত ঘটনা বাদ দিয়ে বসে আছেন। তিনি সিরাজ চরিত্র নিক্ত ইচ্ছায় অঙ্কিত করেছেন । গ্রকণ করেছেন কেবল ১৭৫৬র এপ্রিল» মে ও জুনের ঘটন| এবং ১৭৫৭র জুনের ঘটনা । এই বারমাসের ঘটন| বাদ দিলেও নাট্যকার কিন্তু তার বচনাকে আলবর্দী খা ও সিরাঁজ-উদ-দৌন্লা ২৭৯ পতিহাসিক আখা। দিতে ছাড়েন নাই । ইতিহাস-অজ্ঞ সাধারণ দর্শকদের প্রত নাট্যকাবের এই ব্যবহার কেবল ক্ষমার অযোগ্য নয় সম্পূর্ণ ভাবে তাদের সরলতার হীন স্্রনোগ নেবার সামিল। ভারতবর্ষে জাতীয় ইতিহাস বিরুত কবা অপবাঁধ নয, জাতীয় ইতিহাসকে ক্ষুন্ন করলে কোন শান্তি পেতে হয় না । তাই কিছু লোক ইতিহাসে নামে নিঙ্গ কপোল কল্পনাকে ইতিহাস বলে পরিবেশন কবার সাহস পেয়েছেন। স্বতরাং দ্বিতীষ অঙ্কেব ঘটনায ১৭৫৭ ্ীটাব্ধের প্রথম জুন থেকে ২৩শে জুনের ঘটনা বিবৃত হয়েছে । প্রথম অঙ্ক থেকেই নবাবেব গালবাছ্ধ চলেছে । হিন্দু-মুসলমানের মিলনের মন্ত্রে নবাবেব চোখ সঙ্গল হয়েছে । সভাসদবা অর্থাৎ মীবগাফর জগৎশেঠ ও বাজবল্লত তাদের উশ্মা প্রকাশ করেছেন। মোহনলাল মীরমদন নবাবী পক্ষ সমর্থন করছেন । অবশেষে নবাব রায়ছূর্লভ, ইযারলতিফ» মোহণলাল, মীবধ্দন ও সিনফ্রেকে নিজ নিজ বাহিনী নিয়ে পলাশীতে উপস্থিত থাকতে আদেশ কবছেন। ঘসেটি বেগম অভিশাপ দিচ্ছেন। শগ্ুতরাং সিরাজ “লুৎফাণকে বলছেন-_-“পলাশীতে শেষ যুদ্ধ।” (পাতা ৮৪) দ্বিতীয় দৃষ্তে আলেযার কক্ষে মীরণ পলাশীতে সিরাছ্রে সমাধ ঘোষণা কবছেন। তারপর নবাব মাসছেন বক্তৃতা করতে এবং আপেযার গান শুনতে । সব দ্দিক থেকে ঘটনা খুলি এতই অসম্ভব বে আলোচনার প্রয়োজন রাথে না। গোলাম হোসেনের স্বদেশ ভক্তি দেখে দর্শক মুগ্ধ হবেন সন্দেহ নাই । আমাদের দেশে, ইতিহাস পড়ে প্রতিহাসিক নাটক লেখার প্রচলন থাকলে শচীন্দনাথ নবাব ভূত্য এবং পার্খচর নাজির দালালকে ব্যবহার করতে পারতেন। কষ্ট কল্পনার অবকাশে শখদেশ ভক্তির বন্ত1 বান যেত না! বটে কিন্তু সন্ত্াম্ত নবাবের অসংযম, ভয় ও মানসিক অবিবেচনার পাশে তারই ভূতা ও পার্শ্চর প্রভৃতক্ত নাজির দালালের কীন্তি উজ্জ্বল প্রভায় বিরাজ করত । হয়তো নাটকের নাম তাহলে সিরাজদৌল্লা হত না, হত অন্য কিছু। তৃতীয় দৃশ্তে পলাশীর ঘুন্ধক্ষেত্র দেখান হয়েছে। নানা অদ্ভুত যুক্তির মধ্যে নবাব শুনিয়েছেন যে মীরজাফরকে তিনি সহ করেন কারণ তাঁর অধীনে সমন্ত সৈন্ভ তা! না হলে তাকে তিন্নি পছন্দ করেন না একথা স্থবিদিত। গিরিশচন্দ্র সিরাজ চরিত্রের মধ্যে কোনরকমেই বীরত্ব সঞ্চার করতে ন1 পেরে জহরাকে দিয়ে পলানীর যুদ্ধ জিতিয়েছেন। প্রতিপক্ষে কোন কাল্পনিক ২৮০ বাংলা প্রাতহাসিক নাটক সমালোচনা চরিত্র না থাকায পলাশীর প্রান্থরে শ্টীন্রনাথের তরণী ভেসে গেল। যুদ্ধক্ষেত্র বক্তৃতার অবকাশ নাই। তবু তারই মাঝে ছোটছোট বক্তৃতার মাধ্যমে প্রথম ও শেষবার নিজের অনিচ্ছাতে সিরাজের চরিত্র দেখিয়ে ফেলেছেন । এই দৃশ্যে সিরাজদৌল্লকে এক মূখ আত্মস্তরি ছাডা আর কিছু মনে হয় না। মীরমদনের মৃত্যুর পর সিরাজ পলায়ন করলেন। ওযাটস্‌ ক্লাইভকে পথ দেখিয়ে নিয়ে এল। ক্লাইভ কারু পথ গ্রদর্ণন করা পছন্দ করতেন না এবং পলাশীর যুদ্ধের সময ওয়াটস্‌ সাহেব কলকাতায় এ খবরটাও নাট্যকার রাখেন নি। সমগ্র দ্বিতীয় অঙ্কে এ্রতিহা্িক ঘটনার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে । স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে নাটক রচনাকালে তিনি কোন ইতিহাস পাঠ করেন নাই। এটা অপরাধ নয়। নাট্যকার প্রচণ্ড অপরাধ এবং চরম মিথ্যাচার করেছেন এই কল্পিত নাটককে এরতিহাসিক নাটক বলে প্রচার করে। গিরিশচন্ধ ছাড়া মণিলাল বন্দেঃপাধ্যায়ের বাজীরাও নাটকের স্পষ্ট প্রভাব সিরাভ্দৌল্লা নাটকে পাওষা যায । দুঃখের বিষয শচীক্ষনাথ গিরিশচন্রকে অন্ঠসরণ করে ইতিহাস পাঠ করলেন না, মণিলালকে অন্করণ কবে ভাষার তরঙ্গ তুললেন, কল্পনার ফোয়ারা খুলে দিয়ে দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করে দিলেন। তৃতীয় অন্কে ২৪শে জুন থেকে ২রা জুলাই অথাৎ ৯ দিনের ঘটনা বলা হয়েছে । এই অস্কেও তিনটি দৃশ্য । প্রথম দৃশ্য হীরাঝিলের দরবার কক্ষ । বেগম “লুৎফা”কে নিষে সিরাজের পলায়ন । ছিতীয় দৃশ্য কারাগার । গোলাম হোসেন ও আলেয়াঁকে নবাবের সন্ধানের জন্ত উতৎ্পীডন করা হচ্ছে । অতঃপর সেই কারাগারেই সিরাজকে নিক্ষেপ করা হল। তৃতীয় দৃশ্ঠে দরধার কক্ষে বক্তৃতারত অবস্থায় মহন্মদ্রী বেগের ছুব্রিকাথাতে নবাবের মৃত্যু । এগুলি যে সবই কষ্ট কল্পনা তা৷ বল! বাহুল্য । দরবারে বক্তৃতা করতে করতে সিরাজের মৃত্যু যেমন নাটকীয় তেমনি অসম্ভব । যেখানে যেখানে ইতিহাসের উল্লেখ আছে সেথানেই ভুল দেখা যাঁয়। সিরাজ পাটনায় রাজ] জানকশরামের কাছে যাচ্ছিলেন বলা হয়েছে। কিন্ত জানকীরাম আলিবর্দীর জীবন্দশাতেই গত হয়েছেন। এ সময়ে পাটনার শাসনকর্তা ছিলেন রাজ রামনারায়ণ । সিপ্াজ মুশিদাবাদে রাত্রিকালে মাত্র ৪1৫ ঘণ্টা ছিলেন স্থতরাং তিনি যে সৈন্ত সংগ্রহের জন্ত কয়েকদিন মুশিদাবাদে থেকে চেষ্টা! করেছেন একথ। সর্বৈব আলিবদী খা ও মিরাজ-উদ-দৌল্ল। ২৮১ মিথ্যা । আর এক মগজ দেখা যায়। লুৎফার পিত। ইরিচ খা কন্যাকে নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে রাখবেন বলে স্থির করে এসেছেন, কিন্তু “সতী সাধ্ৰী” €লুত্ফা” স্বামীকে ছেড়ে কোথাও গেলেন না। চমত্কার কষ্ট কল্পনা । তারিফ না করে উপায় নাই। ইরিচ খা বা ইরাজ খা সত্যই সিরাজের শ্বশুর । তাঁর জ্যেষ্ঠাকন্তা উমদাত্উন্নিসা বা ওমদাৎ্উন্িসা সিরাজের মহিষী। ইনি সিরাজের পলায়নের সময পিতার কাছেই ছিলেন। পরে পিতার জায়গীর ইংরেজ কোম্পানী তার ভরণ পোষণের জন্ত লিখে দেন। সিরাজের সঙ্গে পলায়ন করেন তাঁর মহিষী নন, তার চির এবং প্রি সভচরী “লুৎ্ফ উন্লিসা; বেগম । ইরিচ খাঁর উল্লেখ দেখে সন্দেহ ভয় যে “চীন্দনাথ ইতিহাস না ভানার যে ভাণ কবেছেন তা সত্য নয। মনে হয় ইতিহাস জেনে তিনি শ্বেচ্জায় ঘটনাবলী অবজ্ঞা করছেন। নিজের কল্পনার রঙিন ফান্তসে নাটক চাপিয়ে সত্যকে অবহেলা করেছেন, শ্বচ্ছায় মিথ্যাচার করেছেন । নাটক শেষ হয়েছে পুবাপুরি স্থভাষচন্দ্রের ছাযাঁষ। শেষ দৃশ্যে দরবার কক্ষে সিংহাসনের সামনে ৰভৃতারত সিরাজ জনতাকে উত্তে'জত করলেন এবং সেই মুহুর্তে তার হত্যা চরম ট্রাজেডী স্ষ্টি করে দৃশ্যকে সজল কবে তুলল । বক্তৃতা করাট! ইংরেজী গুণ নাট্যকার ভূলে গেছেন। কথার মালায় সকলকে বিভ্রান্ত করা আমরা ইংরেজদের কাছ থেকে শিখেছি । মুসলিম যুগে “জনসাধারণ? ছিল না। সোজা কাজ চটপট শেষ করা হোত । তাই নিয়ে নাটুকে হওয়া যেত না । এই নাটকে তাই যা ঘটেছে তা ইংরেজ আসার পরবত!কাঁলের কল্পনা তার আগের কোন ঘটনা নয় । চরিত্র ষ্টিতেও নাট্যকার সফল হন নাই। মীরমদন, সিনফ্রে বা মোহনলাল অতি ছোট পার্খ চরিত্র । ১৭৫৭ গ্রীষ্টাব্ধের ওয়াটস সাহেব ১৯৩৮ গ্রীষ্টাব্দের বৃটিশ সরকারের সর্বশক্তিমানতার নজীর হিসাবে এত বিরাট ভূমিক! নেন যে তাকে ক্লাইভ ও ওয়াটসনের থেকেও বড় ইংরেজ নেতা' মনে হয়। ওয়াটস সাছেবের এই বিরাট ছবি আকতে গিয়ে ক্লাইভের জন্তে কোন জায়গাই নাট্যকার শচীন সেনগুপ্ত রাখতে পারেন নি। রাজবল্লভকে প্রাধান্য দিয়ে রায়ছুললভকে অবজ্ঞা করেছেন। “সিরাজদে।ল্লার” এই করুণ কাছিনী ইতিহাসের আশ্রয় ছেড়ে এতদূরে চলে গেছে যে দর্শকের* ও শ্রোতাদের মনেও এ নাটক থিয়েটার ছাড়া আর কিছু হতে পারেনি। ২৮২ বাংপা এ্তিহাসিক নাটক সমালোচনা সকলেই সিরাজের গালবাগ্যকে সমসাময়িক জনপ্রিয় অভিনয় মনে করেছেন । গিরিশচন্দের নাটক ইতিহাসের গণ্ডীর ভেতর সিরাজের রাজনৈতিক চরিত্র স্ট্টি করে এক অগ্নিবর্ধা নাটকের রূপ নিয়েছে । তার ফলে গিরিশের সিরাজদৌন্লা রাভরোষে দীর্ঘকাল বাজেয়াপ্ত ছিল। বন্ধ ছিল তার অভিনয়, প্রচার বা মুদ্রণ। শচীন সেনগুপ্তর সিরাঁজদৌল্লার অভিনয় কোথাও কথন বন্ধ হয়নি । নাট্যকার এই নাটকে সবথেকে বেশী রধাঁলটি সংগ্রহ করেছেন । সত্যকথা "অত্যন্ত বূঢ়ভাবে প্রকাশ হযে পঠেছে। জনসাধারণের স্বীধীনতা- কাঙ্খার ইচ্ছাকে নাট্যকার নিজ প্রয়োজনে বাবহার করেছেন । কল্পনাশ্রয়ী জনপ্রিয় নটক সৃষ্টি করে তিনি দর্শকদের অজ্ঞতায় নিজের আঘিক উন্নতির হথযোগ করে নিয়েছেন। মোহনলাল উডরাফ সাছেব পলাশীর পরবর্তীষুগে ক্লাইভের কথা লিখতে গিয়ে বপেছেন_ ক্লাইভ কলুষতাঁর বাধ খুলে দিলেন। সেই দূষিত পৃতিগন্ধময় বস্তার জলে ইংরেজ বণিকগণ মহানন্ে সন্তরণ ও অবগাহন করতে লাগলেন । এই কথার অন্ভরণন করে বলা চলে-_শচীন্দ্রনাথ সিরাঁজদৌল্লা সম্পর্কে আজগুবি কল্পনার এবং অসম্ভব ঘটনার বাঁধ খুলে দিলেন। পরবর্তী নাঁট্য- কারগণ মহানন্দে যথেচ্ছ গঞ্জিকা-চচায় মগ্ন হলেন। শচীন্দনাথ বাডালীকে যে কতদূর প্রভাবিত করেছিলেন তার নিদর্শন দেখা যাবে পরবর্তীকালের সিরাজদৌল্লা মীরকাশিম ও নন্দকুমার সম্পর্কে নানা নাটকে । বর্তমান প্রবন্ধে ছুই উচ্চশিক্ষিত নাট্যকার কিভাবে প্রভাবিত হয়েছেন আলোচন৷ করা হবে। যে ছুইটি নাটক আলোচনা করা হবে তাতে মোহনপাল হলেন নায়ক এবং পলাশীর যুদ্ধ নাটকের মূল গল্প | প্রথম নাটক-_-“পলাশী” প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ খ্রীষ্টাব্বে। স্টার থিয়েটারের পেশাদারী মঞ্চে প্রথম অভিনীত হয়, রচয়িতা ডঃ হীরেন্দ্রনারায়ণ মুখোপাধ্যায় । দ্বিতীয় নাটক যোহনলাল, প্রথম প্রকাশ ১৯৫৩ খ্রীষ্টাব্দে, রচয়িতা ডঃ শীতাংগ্ত মৈত্র । মুখোপাধ্যায় মহা*য় উচ্চ সরকারী চাকুরে (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ধ) এবং কবি স্বনামে অধিঠিত। তার একাধিক কাব্য জনসমাজে আদ্ৃত। মৈত্র মহাশয় ইংরেজী সাহিত্যের খ্যাতনামা অধ্যাপক । এই ছই ব্যক্তি সাধারণত আলিবদী খা ও সিবাজ-উদ-দৌল্ল। ২৮৩ নাটক বচনায় উৎসাহিত নন। যথাক্রমে কাব্য ও সাহিতা ৯চ্চাই এদের নেশা । এরা হটাৎ কেন মোহনলালকে নিয়ে নাটক বচন1 করলেন হার একমাত্র সছুত্তর হল যে সিরাজদৌল্লা তাদেব প্রভাবিত করেছে এবং এচীন্মনাথ দেখিষেছেন যে এতিহাসিক নাটক লিখতে হলে ইতিহাস চ৮াব “কান প্রয়োছন নাই। হইীবেন্বনারাষণ মুখোপাধ্যাফ (পবিশিষ্টে সাক্ষাৎকাব ) স্পগ্ শচীন সেনগুপ্তব সিবাজদৌল্ল! দেখে অন্প্রাণিত। তার নাটক «পলাশী' শেখার সময শচীন্বনীথেব মতামত এবং উপদেশ লাভ করেছেন। বঙ্গেবগা ও নাট্যকাবকে যথেষ্ট প্রভাবিত কবেছে। এই দই নাটকের ব্রমবিবতি৩ ঘটনাই যেন ত"ৰ নাটকের বিষষবস্তু এমন আবহাঁওয। স্ষ্ট করাব চেষ্টা করেছেন । মোহননাল এই নাটকের প্রধান চরিত্র । দুঃখের বিষষ 'মাহনলানল সম্পর্কে কোন অন্তসন্ধান না কবে «এই নাটক বচিত হাযছে। সম্ভবত মোহনলাল সম্পর্কে কোন উপন্তাস তিনি শাঠ করোছলেন । 'অসম্ত ব্যতা এতিহাসিক নাটক বচনায় কি বিকট বিভতস৩! হুষ্টি করে, এ নাটকে তাব বনু দৃষ্টান্ত 'আছে। নাটক পা কবে খিনা পরিশ্রমে ইতিহাস শিখে ফেলবার ুষ্টগ্রহ কেবল সাধারণকে নধ শিক্ষিত বাঙ্জানীকেও গ্রাস কবেছিল। তাই হীরেন্দ্রনাথ মোহনশাপকে বগা বিতারণেব প্রধ'ন (হাত! কবেছেন, ভাস্কর পণ্ডিতেব কন্তা লক্ীব সঙ্গে মোহনলালের বোমান্স রচনা করেছেন, মোহনলালকে ব্রাহ্ধণ যুবক বনে পরিচয দিযে তাব নামকবণ করেছেন মোহনলাল ঠাকুর। আবাব সঙ্গে সঙ্গে তাকে বৈদ্ধ বাজবল্লভেব ভাবী জামাতাও বল হযেছে । উমি্চাদ হয়েছেন নবাবের ওমরাহ (নাট্যকার ওমরাহ শব্দের মানে জানেন বলে মনে হুযন ওটি আমীর শব্দের বহুবচন মাত্র । ) কলকাতা বিজয়ের কৃতিত্ব মোহনলালের হয়েছে । মোহনলালেব ভগ্রী হয়েছেন নবাব মহিষীর সহচরীশী। বাঙ্গালীর ভাবপ্রবণতা যে কতো স্থদূরপ্রসারী হতে পারে 'পলাশী* নাটক তাঁর এক জলন্ত দৃষ্টান্ত । “পলাশী” নাটক ৯৯ পৃষ্ঠায় তিন অঙ্কে শেষ হয়েছে । প্রথম অঙ্ক ১ থেকে ৪৪ পাতা এবং চারটি দ্বশ্ঠ | দ্বিতীয় অঙ্ক ৪৪ থেকে ৭৭ পাতা এবং চরটি দৃশ্য এবং তৃতীয় অঙ্ক ৮০ থেকে ৯৯ পাতা ও তিনটি দৃশ্য । প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্তে ছায়াঘন বাংলার এক পল্লীতে মোহনলালের গৃহ আগুনে ভম্মীভূত ২৮৪ বাংল! ধ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা হচ্ছে দেখান হয়েছে । এটি বগ।দের কীতি। তারা মোহনলালের আদরের ভণ্রী যুবতী ক্কণাকে অপহরণ করেছে । এই ঘটন। সম্পূর্ণ নিশিকান্ন বস্থু রাষেব বঙ্গে বগ। থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে । বদলান হয়েছে ভগ্লীর নাম। মোহনলাপেব সহকার্ীগণ পুরন্দর ওবফে আদি হোসেন শচীন পেনগুঞুর গোলাম হোসেনের চিত্র। বঙ্গে বগার খান্টছি মোহনলাল সহকারী শান্ধনাল হয়েছেন । দ্বিতীয দৃশ্টে বীর মোহনলাল মারাঠা শিবিরে একাকী উপস্থিত হয়ে যুদ্ধে সকলকে পরাজিত করে ভাস্কর পণ্ডিতের কন্া লক্ষীকে অপহবরণে উদ্ভোগী। পবে যথন শুনলেন বে মারাঠা নায়ক হ্বয়ং তার ভগ্রীকে গৃহে প্রত্যাবর্তন করতে গিয়েছেন তথন ক্ষান্ত হয়ে ফিরে গেলেন। এই ঘটনাও বঙ্গে বগী অন্রসারী। নূতন কথা লক্ষ্মীবাঈ মোহুনলালেব প্রেমে পডলেন। বর্গীদের সম্পর্কেও নাট্যকার নৃতন কথ! শুনিয়েছেন : “মারাঠারা লুগন- কারী দঙ্থা হলেও শভত্যাচারী পশু নয়) (পাতা ১৪) অর্থাৎ ম্্রীলে কের ওপর নির্যাতন বা অত্যাচার নারাঠারা তথা বগা ক্ষমা! করে না। মোহনলাল এ কথায় সন্ত্ট হলেন। মোহনলাল বাঙালী ছিলেন না-বাংলা- ভাষা তার জানার কথা নয়। কিন্ত নাট্যকার যখন বাংলাভাষায় নাটক রচনা করেছেন তাকে বঙ্গ ভাষাভাষী মনে করবার যথেষ্ট কারণ আছে। তাত ওপর তিনি উচ্চ শিক্ষিত। জনসাধারণকে জ্ঞান বিতরণের জন্য নাট্যরচনায় গ্রয়াসী । বর্গার হাঙ্গামা। সম্পর্কে তাই এক সমসামধিক কাব্য উদ্ধত করার লোভ সংবরণ করা গেল না। ১৭৫১ খ্রীষ্টাব্দে গঙ্গারাম ভট্টাচার্য্য তার মহারাষ্ট্র পুবাণ পৃথিতে বগ।দের অকথ্য অত্যাচারের যে ক।হিনী তুলে ধরেছেন তা উদ্ধত করা হল! শুট্টাচাধ্য মহাশয় স্বচক্ষে এইসব ঘটন! “দখেছেন ।৬৮ “ছে বড গ্রামে য৩ লোক ছিল। বরগিব ভএ সব পলাইল ॥ চাইর দিকে লোক পালাঞ ঠাঞ্চি ঠাঞ্চি | ছতিস বর্ণের লোক পালঞ্ে তার অন্ত নাঞ্ঞি ॥ এইমতে সব লোক পালাইয়া জাইতে । অ.চম্বিতে বরগি ঘেবিল! আইসা সাথে ॥ মাঠে ঘেঘ্রিযা বরগী দেয় তবে সাড়া। সৌনা-রূপা লুটে নেএ আর সব ছাড়া ॥ আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্লা ২৮৫ কাঁর হাত কাটে কাব নাক কান। এক চোটে কাক বধএ পরাণ ॥ ভাল ভা স্ত্রীলোক জত ধইর। লইয়া গাএ) আঙ্গুষ্ঠে দডি বাধি দেয তাব গলা এ ॥ একজন ছাডে তাবে আর জন! ধরে। বমণের ভরে ত্রাহি শব্দ করে । এই মত বরগি কত পাপ কর্ম কইরা । সেইসব ক্ীলোক জত দেয় সব ছইব] ॥ তবে মাঠে লুঠিয়৷ বরগী গ্রামে সাধাএ। বড বড ঘরে আইসা আগুনি লাগাএ ॥ বাঙ্গালা চৌআরি জত বিষুমণ্ডব | ছোট বড ঘর আদি পোডাইল সব। এই মতে জত সব গ্রঁম পোডাইয়া । চতুর্দিকে বরগি বেভায় লুটিয়া ॥ কাকে বাধে বরগি দিষা পিঠমোডা । চিত কইরা ম'রে লাখি পাএ জুতা চড়া ॥ বপি দেহ দেহ বোলে বারে বারে। কপি না পাইয়া তবে নাকে জল ভরে ॥ কাহুকে ধরিয়া বরগী পথইরে ডুবাএ। কাফর হইঞ তবে কারপ্রাণ জাএ॥ এই মতে বরগী কত বিপবীত করে । টাকাকডি ন| পাইলে তারে প্রাণে মারে ॥ জার টাকা কডি আছে সেই দেয় বরগিরে । জাব টাক কডি নাই সেই প্রাণে মরে ॥ বার! অনাচারী পণ্ড ছিলেন না বলায় মুখোপাধ্যায় মহাশয়কে জিজ্ঞাস্য, আর কি করলে অনাচারী পণ্ড বলা যায়? অথ প্রথম অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্য নবাব আলিবর্দী খা মৃত্যশয্যায়। জার পাশে তার কন্তা মেহেরউন্লিসা ওরফে ঘসেটি বেগম । বুদ্ধ নবাবের সংলাপে জানা গেল যে রাজা রাজবল্লভের ভাবী জামাতা মোহনপালের বাহুবলেই ২৮৬ বাংল! তিহাসিক নাটক সমালোচন। বাংলা আজ মারাঠ! উৎ্পীডশের থেকে মুক্ত। ঘসেটি সন্দেহ প্রকাশ করছেন ঘে এইবপ বলশাপশী ঘোহনপাল, শেঠতজী (অন্তবত ভগতৎশেঠ ) ও রাজা জানক্ীরামের সহায হাষ ও ভাবী শ্বশবের আম্ুকুল্যে শিজেই বাংশার মমনদ দখশ করে নেবেন। .বচারা মৃত্যুপথঘাত্রীব বিস্মরণেব স্বযোগ নিলেন নাকি বুটবশী ঘসেটি বেগম ? না নাট্যকারের অজ্ঞতার আর এক শিদর্শন দেখা গেল । বাজা ভানকীরাম গত হয়েছেন তখন এবং তাব স্যোগ্য পুত্র বাড! হলহুরাম বায় বা প্রচপিত নামে বায়ছুলঙ নবাবের দেওয়ান অর্থাৎ রাজস্ব বিভাগের প্রধান কম»বী। নাট্যকাব কিন্তু কিছু হাতহাস দেখেছেন । সিরাজদৌল।ব মধ্যম এতাকে সেটি বেগম» এক্রামদৌল্লা নামে থে দত্তক নিযেছিলেন সকপকে জানাতে পারছেন | বসন্বোগে এবং রমণাবলাসে তাব মুত্যু হলে সেটি তার শিশুপুধ শুরাঁদদৌল্লাকে উত্তবাধিকাবী ঘোষণা কবেন। এগুণি সত্য হতিহাস। নাঢ্যকারেব নিতান্ত ছুতাগ্য যে এখানেও তিনি তুপেব হাত থেকে বন্দী পেলেননা | অধ্যাপক কালী কঙ্কর দত্ত আধুনিককালে প্রমাণ করে দিলেন থে সিরাজদৌল্লাব মধ্যম ও কনিষ্ঠ ভ্রাতার নাম ঘথাঞকমে মিজা কাজিম ও "*্জী| মেহেদী | নাট্যকাব লিখিত মীবভা ফজপ কুলি শয। আলিব্দীব মৃত্যু আগিয়ে আসছে তাই ঘসেটি বেগমকে সরাঁঞকে ক্ষমা করাব অনুরোধ করলেন বৃদ্ধ নবাব । অতঃপব সভাসদগণ সহ সিরাজদৌল্লা এলেন। ইনি সেই বঙ্গে বগার সিরাজদোল্ল! । ভাজা মাছ উলটে খেতে না জানা অতি ভাল মানুষ দাদুর নাতি । মৃত্যুপথযাত্রী দাছুকে দেখে সংলাপ-_“তুমি অমন করছ কেন দাছ?? আলবর্দী সকলের হাতে আদ্ররের নাতিকে সমর্পণ করলেন উপস্থিত জাখ্র আলি ওবফে মীরজাফর, মানিকর্চাদ, আলি হোসেন অর্থাৎ পুবন্দর, উমিচাদ ও মোহনলাল । ঘোহনলালকে বৃদ্ধ নবাব ফতেপুর পরগণার জায়গীর, পাচ হাজারী মনসবদারী ও রাজা থেতাঁব দ্দিলেন। সিরাগদৌল্লার বয়স্তয গোলাম হোসেন, ভুল হল আলি হোসেন অর্থাৎ পুরন্দরকে ডেকে বললেন সিরাজকে অসৎ পথ থেকে রক্ষা করতে । তারপরই আবার নাট্য- কাবের নিদারুন অজ্ঞতার সশব্দ বিক্ফোরণ_আলিবদ্দী মোহনলাঁলকে অনুরোধ করলেন ছলে বলে কৌশলে ভাস্কর পণ্ডিতকে দমন করতে, প্রয়োজন হলে গুপ্তহত্যা করতে । বীর -মাহনলাল একথায় নিদারুন উম্ম প্রকাশ করে ফেললেন । তাঁর অস্ত্র গুপগুহত্যায় কলঙ্কিত হবেনা । বরঞ্চ প্রয়োজন হলে আলিবদ! থা] ও সিরাড-উদ--দীল্ল! ২৮৭ ইংরেজ কোম্প,নীর দুগ ধুলায় মিপ্যে দতে তিনি সঙ্ষম। সির'জ জানাচ্ছেন বগী লাঞ্ছিতা .মাহনলাল ভগ্রী এখন নবাব মহ্ষীর সপ্ভিনী নম তার সেপিন! বেগম_ সম্ভবত তাকে পিরাগের অন্ততম স্ত্রী কনা করা হয়েছে । সিরা স্রী শচীন সেনগুপ্ত অনুসরণে এ নাটকেও “নুৎ্ফা”। আঅখ্লিবদদীর মৃত্যু ও দশের শেষ ঘনিযে আসা নাট্যকার সেলিনার কণ্ঠে একথানি গান দিয়েছেন । খলা বাহুল্য সেপিনা শচীন সেনগুপ্তের আলেয়। চবিত্রেব ছায়া । কঈকল্লিত হলেও নজ চেষ্রায় ভেজাল প্রস্তত কারক 'মার পরশম্বাপভারী ভেঙ্প ব্যবসায়ীর মধ্যে তর্দাৎ অ।ছে বৈকি । প্রথম অঙ্কে ইর্তহাস কৌথাও নাই । স্থতরাং আলোচনার প্রয়োগন দেখি না। এতিহাসিক নাটক লিখতে বসে যে নাট্যকার জানলেন না যে ১৭৪৪ খ্রীঃ ভাঙ্কর পঞ্ডিতের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হল, ১৭৫১ খ্রীঃ বর্গার হাঙ্গ!মা শেষ হয়ে গেল এবং ১৭৫৬ খ্রীঃ নবাব আলিবর্দার মৃত্যু হল, তার নাটক আলোচনার সম্পূ£ঁ অধোগ্য একথা বল।হ বাল্য । সেই নাটক পেশাদারী মঞ্চে অভিনয় হয় এবং নাট্যক্কার অখ রোজগার করেন । বাঙাপী দশকের ইতিহাস বিখুখতার ও এ্রতিহাপিক অন্রান তার এমন নিদশন খব বেশী পাওয়। যাবে ন|। মোহনলাল খগীর হার্ামার সঘয় একটি আন্ুলও নাড়েন নাই একথা অ।গেও বলা হযেছে । প্রথম অঙ্কের ততীয় দৃশ্তে নাট্যঞ্ার আলিবর্দীর মৃত্যু দেখিয়েছেন অর্থাৎ ১৭৫৬ খ্রী্ান্ধের এপ্রিল মাস। পরের দৃশ্য কলকাত। বিজয় অর্থাৎ এ বছর জুন ম,সের ঘটনা । এখানেও মোহনলাল তার প্রচণ্ড বীরত্বের নিদর্শন দেখিয়ে কলকাতা জয় কর্পেন। মীরজাফর সাহেবের সব বাধ! তুচ্ছ করে মোহনলাল, শান্তণাল ও আপি .হাসেন কপকাতার যুদ্ধে জয়ী হলেন। ইতিহাস জ্ঞানের পরাকাষ্ঠ। দেখিয়ে নাট্যকার রাঁজা ছুলভরাম ব। রায়ছুলভ নামে কোন চরিত্র নাটকে রাখার প্রয়োজন অন্ভব করেন নি। কলকাতার বুদ্ধে মীরমদ্নকেও দেখ। যায় না। মোহনলাল হলওয়েল সাহেবকে নবাবের সামনে উপস্থিত করলেন । হলওয়েল জানালেন থে মানিকাদের চক্রান্তে অন্ধকূপ হত্যা সংঘটিত হয়েছে । হলওয়েল তাঁর নিজের লেখা বইএ কিন্তু সম্পূর্ণ অন্যরকম লিখেছেন । নাটক লিখতে বসে হলওয়েল সাহেবের লেখ! বই গড়ার প্রয়োজন অনুভব করেন নাই নাট্যকার । মানিকচাদ্ জানালেন এসব মিথ্য ৯০৯ ২৮৮ বাংল প্রতিহঠাসক নাটক সমালোচন' কথা, বন্দীর! জীবিত । সিরাজ হলওয়েলকে বন্দী করতে আদেশ দিলেন । সত্যাশ্রয়ী মোহনলাল জানালেন যে তিনি হলওয়েলকে মুক্তি দিয়েছেন। অগত্যা সিরাজ হলওয়েলকে মুক্তি দ্িলেন। রাজবল্লভ পুত্র কুষ্দাসকে নবাব উলঙ্গ করে চাবুক মারার হুকুম দিলেন কিন্তু মোহনলালের কথায় সে দগ্াজ্ঞাও প্রন্যাঠার করলেন । এমন সময় শাস্তশীল খবর দিলেন যে ভাঙ্কর পণ্ডিত মানকরে গুপ্তবাতকের হাতে নিহত হয়েছেন । ভাপ্কর পণ্ডিতের হত্যাকে বার বছর পেছিয়ে এনে নবাব আলিবদীকে কলঙ্কমুক্ত করতে এমন উবর কল্পনা! আগে কোন নাট্যকার দেখাতে পারেন নাই । অবশেনে নবাব তাঁর স্বপ্পের কথা সভাসদদের বলছেন। পলাণা প্রান্তরে স্থচিভেছা অন্ধকার দেখে ভীত হয়ে তার স্ুথনিদ্রা ব্যাহত হয়েছে জেনে সভাসদ্দগণ চিছ্িত হলেন। অবশেষে শচীন সেনগুপ্ত অনুসরণে হিন্দু মুসলমানদের খিলনের আহ্বান হঠাৎ গানিয়ে নবাব এক বক্তৃতা দিয়ে ফেললেন । দ্বিতীয় অঙ্ক সুরু হতে দেখা গেল ঘসেটি বেগম “মসনদে” বেশ জদিয়ে বসে নৃত্যগীত শ্রবণ করছেন। মীরজাঞর এলে উভয়ে ষড়যন্ত্রে মগ্ন হলেন। মোহনলাল জীবিত থাকতে নবাব যে সম্পূর্ণ নিরাপদ একথা আলোচনা করে উভয়ে বিষন্ন হয়ে পড়লেন । হতাশ হয়ে তার। ভাবলেন মোহনলাল থাকতে শওকতজঙ্গ বা ইংরেজ কেউ নবাবকে পরাভূত করতে পারবেন না। তারা মোহনলালের মারণান্ত্র বার করলেন। ভাস্কর পণ্ডিতের কন্যা মোহনলালের প্রণযক়িনী স্থতরাং তাকে হরণ নবাব ষড়যন্ত্র পাকা হল। নাট্যকারের যুক্তিতে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে বাংলার দর্শকদের বয়স ১২ বছরের বেশী নয়। ঘসেটি শওকতজঙ্গের সঙ্গে মুশিদাবা? আক্রমণের ষড়যন্ত্র করেছেন তাও জানা গেল। পরের দৃশ্যে ভাস্কর পাগ্ডতের কন্ঠ! লক্ষ্মীবাঈ দয়ানগরের দয়ানন্দ দেবাংশির কাছে আশ্রয় চাইতে এলেন। দয়ানন্দ উমিচাদদকে এই কন্তা বিক্রয় করলেন। উপভোগের ভন্য উমিচাদ লক্মীবাঈকে নিয়ে চলে গেলেন । তৃতীয় দৃশ্তে মোহনলাল যথন শওকতজঙ্গের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন তখন মীরমদন পুত্র সোলেমান লক্ষ্ীবাঈ অপহরণের সংবাদ দিল। এমন সময় মোহনলাল ভগ্নী করুণা ওরফে সেলিনা বেগম “পেশোয়ার সওদাগর? “ওমরাহ উমিটাদের” হাত থেকে “মোহনলালের* প্রণয়িনী লক্ষ্মীবাঈকে উদ্ধার করার ভার গ্রহণ করলেন । মীরজাফর এসে জানালেন, “কলকাতার ইংরেজর!। মাদ্রাজের কোম্পানীর সঙ্গে যোগ দিয়ে নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণ। আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্লা ২৮৯ করেছেন ।” তিনি ইংরেজদের সঙ্গে সন্ধি স্থাপনের প্রস্তাব করলেন । মোহনলাল গাতে আপত্তি করলেন। মীরজাফর খ। কথা প্রসঙ্গে ভানিষে দিলেন যে লঙ্গীবাঈকে হরণ করেছেন স্বয়ং নবাব | (স কথা শুনেমোহন-াল “অস্বাভাবিক ভাবে আৎকাইয়। উঠিলেন।” “ন্বত্বা যেন সহসা প্রচণ্ড বেগে আহত হই? | (৬৯ পাতা) চতুর্থ দৃশ্তে কাশিষবাজারে এক নির্জন গৃহে উমিষ্ঠাদ ও দয়ানন্দ যখন শশ্দীবাঈ এব ওপব অত্যাচারের চেঙ্া কবছেন তখন সেলিনা! বেগম অথ"'ৎ করুণা এলেন । উমিচাদকে কটাক্ষে মোহিত কবে তাঁকে মগ্যপানে বিভোর করে দিলেন তাবপব দযানন্দব বুকে ছুবি ধরে লক্ষ্ীবাঁঈকে পলায়ন করতে সাহায্য করলেন। এমন সময উদ্ধত প্রহরী পলায়নপব মহিলাদ্ববকে গুলি কবতে চেষ্টা করল। ঠিক তখনই মোহনলাল ও সোলেমান উপস্থিত হযে তাদের পরাভূত করে সত্যের জয় "ঘাষণা করলেন। দ্বিতীয় অঙ্ক সমাপ্ত হল। এই অঙ্কের সবই কল্পনা । আমিরটাদ বা উমিচাদ কলকাতার এক পাঞ্জাবী ব্যবসায়ী । হালসে সাহেবের বাগানে তারই বাগানবাডীতে সিবাঁজদৌল্ল! ঘটি স্থাপন করেছিলেন । ইংরেজর1 তাকে দীর্ঘদিন বন্দী করে রেখেছিল। ইংরেজদের সঙ্গে মীরজাকরের চুক্তি তিনি নবাবকে ফাস করে বেন বলে ভয় “দথাবার ফলে ইংরেজ কোম্পানী তাঁকে টাক! দিতে স্বীরুত হয। তার সঙ্গে যে চুক্তি হয় সেটি জাল ত ই পলাশীর যুক্ধের পর উমিচ"দ কোন অর্থই পান নাই | টাকার "পাকে তিনি পাগলের মতে! হয়ে যান এবং শর্থ যাত্রা করেন। ১৭৫৮ খ্রীষ্টাব্দে ৬৩ বছর বয়সে কলকাতায় তার মৃত্যু হয। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন । কাজেই উমিষ্ঠা্র সম্পর্কে নেহাতই আষাঢ়ে গল্প নাটকার ফেঁদেছেন নিজের অজ্ঞতা টাকবার চেষ্টায় । মাদ্রাজ কোম্পানীর সঙ্গে ইংবেজদেব যোগ দেবার কথা লেখায় সন্দেহ হয় যে নাট্যকার মনে করেছেন কলকাতার ইংরেজ হল ব্রিটিশ গভর্ণম্ণটে আর মাদ্রাজ কোম্পানী কোন ব্যবসায়ী সংস্থা । উভয় সংগঠনই যে একই প্রতিষ্ঠানের একথা জানবাব হ্যোগ নাট্যকার পান নি। নিজের আত্মস্তরিতা প্রেরণার উৎস হযেছে । মোহন-, লালকে ব্রাঙ্গণ কল্পন1 করার একমাত্র কারণ তিনি নিজেকে মোহনলালের সঙ্গে একাত্ম করতে ইচ্ছা করেছেন। নাটাকার রক্ষণশীল তাই মোহনলালের ২৯০ বাংল! এতিহাসিক নাটক সম।লোচন৷ প্রণায়নী সবত্ে নির্বাচন করেছেন সদ্ব্রাহ্মণ ভান্কর পগুতের কন্তায়। বারত্বও হল ড]তও ব১ল। ততীয় অন্ক পলাণশার প্রান্তর । মোহনলালের বীরত্বে সিরাজ মুগ্ধ । বলছেন_-“কলকাতা৷ ও পুর্ণয়ার যুদ্ধে থে বিয়লক্মী আপনার অঙ্কখাধনী হয়েছে, 'আ।এ।করি স্লাশীতে তার মর্যাদা উজ্জশ হবে| এমন সময় সিপাহশাপারের হুকুমে নবাব সৈম্ত ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। তারপরই এল মীর- মদনের মৃত্যুর থবর। নবাব ফিরে গেলেন মুশিদাবাদে আর মীরঞাফরের হুকুমে মোহনলাল যুদ্ধে ভঙ্গ দিতে বাধ্য হয়ে গর্জে খললেন_-মোহনলান জীবিত থাকতে বাপাগ সিংহাসনে বেহমানের স্থান হবেনা | দ্িতীয দৃশ্যে পলাতক সিরাজ ও “লুৎ্ফা” দানশ। ফাক্রে দরগায় উপনীত । গিরিশচক্ষের ব্যথ অন্গকরণ এই দৃশ্তে হফেছে। দানশ।, নবাব ও নব,ব পত্ীঞ্চে পাহঞকা দেখে চিনে ফেললেন । শচীন -সনগুপ্তর অন্নকরণে সিরাজ চলেছেন পাটনায় রাজা জানকীরামের কাছে । জানকীরাম যে আবদার জীবদ্দশাতেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন তা শচীনবাধুর জানা ছিলনা আগ শ্রযুক্ত মুখোপাধ্যায় মহাশয় কোন ইতিহান পাঠ না" কর্সে সেই হুলেরই পুনরুক্তি করেছেন মাত্র । কল্পনার সরসঙা প্রকাশ পেল_মীরণ স্বয়ং সর"্ঞ ও তার মহিনীকে বন্দী করলেন। তৃতীয় ও শেষ দৃশ্যে ঘদেট বেগম “ঘাষগা করেন_-“এই ঘসেটি বেগমের চোখের আগুনে নবাব সরফরাঞ% পতর্খের মে। পুড়ে ছাই হয়েছে ।” এই নাট্যকার প্রচুর নাটক পাঠ করেছেন -বাঝা যায়। এই উক্তি ক্সীরোদপ্রস[দের “বাংলার মসনদ” নাটক পাঠ করাব কল। ঘসেটির সঙ্গে সরফরাজের মিলনের কোন নিদর্শনই পাওয়া থায়না। আরও অদ্ভুত কথা৷ ঘসেটি বেগমের মুখে বসান হয়েছে । যথা-_“কৃট রাজনীতিতে পৃনিয়ার সিংহাসন বিধ্বস্ত হয়েছে । অর্ধবঙ্গের অধিষ্ঠাতা রাঁভা রা্গধল্পভের অন্তর তীব্র বিষে জর্জরিত হয়েছে । এবার সিরাদের পাল|।, ভাবালুতা বাংল! সাহিত্যের অন্ততম প্রধান উপাদান কিন্তু বাতুলতা কখনই বাংলা সহিত্য রচনার সহায়তা করে নাই। অৰশেষে ঘসেটি বেগমের যড়যা্ত্ে এমে"হ্নলাল বন্দী। সিরাজের হূর্তাগ্যের খবর শুনে তিনি সম্পূর্ণ আশাহত । অবশেষে প্রণয়িনী “লঙ্গগী+ ও ভগ্নী সেলিনার সম্মথে মোহনলাল আত্মহত্যা করলেন। “আপনবক্ষে ছুরিক] বিদ্ধ করিলেন” সংলাপ--“এ আত্মহত্যা আমি আলিবর্দী খা ও সিবাজ-উদ-দোল্লা ১৯১ কবিনি-_সার1 বাংলা আজ আত্মহত্যা করেছে ।” শেষে “পলাশী'__-“পলাখী বলে মুড্ভ়া ও নাটকেব সমাপ্তি । নাটকেব শেষ লাইনেও নাট্যকার শচীন্দ্নাঁথ অন্কবণে “রাক্ষসী পলাশী” বলে নাটক সমাপ্ত করেছেন । নাটকের তৃতীয় অঙ্কও প্রথম ছুইটিব অন্তকপ | ইতিহাস নাই গ্ুধুই কল্কন।। নাটক দেখে ইতিহাস শেখাব চেষ্টাব ফল কি সাংঘাতিক হয় “পলানীঃ তাব নিদর্শন। পরিশ্রম না কবে সস্তা উইতিষ্াসিক নাটক বচনা করতে গেলে এইভাবেই মিথাঁচাব প্রকাশ হযে পছে। অণজগুবি ঘটনাষ নাটিক সমাচ্চন্ন হয় । কর্তব্য জ্ঞানতো। নয়ই কাগুজ্ঞানও লোঁপ পেয়ে মাষ। গাক্ষাতকাঁবে ভীবেনবাব বলেছেন "য দেশের মুক্তি সংগ্রাষে সহাযতা করা “সং হিন্দু মসলমাঁন সম্প্রীতি প্রচাৰ কববাঁব উদ্দেশ্যে তিনি এই নাটক রচন! কাবন। তীব দুই উদ্দেশ্াই বিফল হযেছে । মাহ এবং অজ্ঞাঁনতা মনকে 'আচ্চন্ন কবে থাকলে কান শুভ কাঁজেই সাফলা লাভ কবা যায না। হবে্নবাঁবু ইতিহাস না "জনে বা ঈতিহাঁসিক ঘটনা সম্পর্কে মস্প? ধারণ! নিষে নাঁটারচনাষ ব্রতী হওযাঁয় তাৰ পরিশ্রম বুথা হল। অগ্গাদশ শতাব্দী সম্পার্দ নাটক “পলাশী? এক হাশ্কব প্রহসন ছাঁডা আর কিছু হতে পাবে নাই । /মাভনলাঁল সম্পর্কে কতটক্‌ ইতিহাস পাঁওয়! যাঁয় দেখা যাঁক। প্রথমেই মনে বাথা কর্তব্য মে মোহনলাল বাঙালী নন । স্থতরাং তিনি কোন জেলাব অপ্পিবাঁঁী তাই নিয়ে যে তর্ক চলেছে তা একেবারে অর্থহীন । কাশ্ীবেব অধিব*সী যুদ্ধ বাবসায়ী মোহনলাল ভগ্নীকে সঙ্গে নিষে বাংলার সুবেদার নবাব আঁলিবদ্দীব রাজধানী মশিদদাবাদে উপনীত হপেন। সমসাময়িক ধতিহা'সিক সৈযদ গোলাম হোসেন সিয়ার-উল-সুতাক্ষরীণে ১৭০৭ থেকে ১৭৮০ খ্রী্টাব্বের ঘটনাবলী লিপ্পবন্ধ করেছেন। এই বইটি *মুতাক্ষবীণ' নামে খ্যাত। বিখ্যাত ফারসী পণ্ডিত ভাজী মুস্তাফা মুতাক্ষরীণ অনুবাদ করেন। অক্ষয়কুমার" মৈত্রেষ তাঁর সিরাম্দৌল্লা বঈএ ভাজশী মুস্থাফা অনুসরণে লিথেছেন_-“সিরাঁজদৌল্লা যখন যৌবনোন্মাদে মত্ত সেই সময় যে সকল লোক দলে দলে তীহার পার্খচর হুইয়াছিলেন, মোহনলাল তাহাদেরই একজন ।৯ মোহনল'লের একটি সর্বালন্ন্দরী ভগিনী ছিলেন। : এই অপুরূপ রূপলাবণ্যের কথা সিরাজদৌল্লার নিকট অঅধিকদিন লুক্কায়িত রহিল না। তখন সেই ২৯২ বাংল! প্রাতিহাসিক নাটক সমালোচনা রূপরাশি সিরাজদৌল্লার অন্তপুরে আসিয়৷ উপনীত হইল ।,৬৯ মোহনলালের উন্নতির মূলে যে এই ভগিনীদানের ইতিহাল অক্ষয়কুমার থেকে আচার্য য্ধনাথ ও বমেশচন্ত্র মজুমদার স্বীকার করেছেন । এই ভগিনী যে লুৎফউন্নিস! ত| প্রায় সব এতিহাসিক স্বীকার করেছেন। মুতাক্ষরীণ লিখেছেন বে লুংফউন্লিসাকে সিরাজদৌল্ল। প্রয় করেন তাই তিনি হলেন জারিযা বা ক্রীতদাসী । পরবতীকালে নবাব থে কখনই লুৎফউন্নিসাকে বিবাহের ইচ্ছা করেন নাই তার প্রধান কারণ তৎকালীন সামাভিক ব্যবস্থায় জাবিয়াকে বিবাহ করে সন্মমনের আসন দবার কল্পনাও ছিল স্বপ্পের অগোচর । সিরাজদোল্ল। রক্ষণশীল নুসলমান অভিজাত ছিলেন স্থতরাং চিরসহচরী এবং প্রিষ সহচরী প্রেমাস্পদাঁকে সামাজিক স্বীকৃতি দেবার প্রধোজন অন্নভব করেন নাই। ১৭৪০ ্রীষ্টাব্দে লুৎফউন্নিসাকে সঙ্গে করে সিরাজকে পাটন! বাত্রা করতে দেখা যাঁয়। ইতিহাসে এটাই লুৎফউন্লিসার প্রথম উল্লেখ । এ সময় সিরাজদোৌলার বয়স ১৫ বৎসর । কাজেই মোহনলালের বাংলায় আসা এবং ভগিনী বিক্রয় নিঃসন্দেহে ১৭৪৭ বা ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ঘটন1। পাটনা যাত্রা ১৭৪৮-এর ঘটনা । নূতন থেলনাই বালকর! সর্বদা চোখে চোখে রাখে। ১৭৪৮ খ্রীষ্টাব্দে কাশ্মিরী রমনীর অপূর্ব দেহ সৌন্দধ্যে সিরাজ যে মগ্ন হযেছিলেন সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। এরপর আলিবদীর সময় মোহন্লালের আর কোন উল্লেখ নাই। একেবারে সিরাজদৌল্লা নবাব হবার পর ১৭৫৬ খীষ্টাব্দের মে মাসে ছুলভরামের পদচ্যুতিতে রাজা মোহনলাল দেওয়ান বা প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হলেন। আট বছরে এক সাধারণ সৈনিকের চরম উন্নতি যে নবাবের প্রিয় সহচরীর প্রভাবে হয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না । এই বছরে ফরাসী জ্ঞাল| সাহেবের আত্মজীবনীতে মোহনলাল সম্পর্কে কিছু খবর পাওয়া যাঁয়। লা সাহেব মোহুনলালকে পছন্দ করতেন এবং বহুবার স্বয়ং নবাবের সঙ্গে মোহনলালের বান্চীতে গিয়েছেন। লা সাহেবের রচনায় মোহনলালের চক্রিত্র বেশ বোঝ! যায় এবং পরবর্তী জীবনের সঙ্গে যোগস্থত্র টানা সহজ হয়। মোহনলাঁলের সঙ্গে লা সাহেবের যোগাযোগ নবাব আলিবর্দীর আমল থেকে । ১৭৫৫ গ্রীষ্টাব্ষে মোহনপালকে মাঁতব্বর করে লা সাহেব সিরাজদৌল্লার সঙ্গে পরিচিত হুন। সেই বছর দিনেমার বণিক- কুলকে লা সাহেব বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি স্পষ্টই লিখেছেন ষে আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৯৩ সিরাজদৌল্লাব আন্ুকুল্য ছাড! নবাব আলিবর্দীর কাছ থেকে দিনেমার বণিক- দের জন্ঠ ব্যবসার ফরমান আদায় করা যেত ন।। সে বছর সিরাজদৌক্লা দিনেমার ব্যবসাষীদ্দের কাছ থেকে প্রচুর উপচৌঁকন পেয়েছিলেন এবং সেজন্য ল! সাহেবের উপর তিনি বিশেষ সন্তষ্ট ছিলেন ।৭0 লা সাহেব এইসব কাবণে মোহনলালের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রক্ষা করে চলতেন। ১১৫৬ খ্রীষ্ঠান্দে মোহনলাল দেওয়ান বা প্রধানমন্ত্রী নিধুক্ত হলে লা সাহেবের ম্তরবিধা হয। এই নৈকট্য ঘে লোক দেখান ছিল না সেট। বোঝা বাঘ সিবাঞ্দৌল্লাব লা সাহেবকে সঙ্গে নিষে অস্তস্ত মোহনলালকে দেখতে যাবার খববে। লা সাহেব মোহনলাল সম্পর্কে অনেক কথাই লিখে গেছেন তারই অন্তবাদ এবার দেওয়া ভবে । মোহনলাল সম্পর্কে ভালা লিথেছেন-_- “সিরাজদোল্লার মন্ত্রী বা দেওযান মোহনলালের মতো! সের! বদমাষেস পৃথিবীতে আর ছিল না। যেমন প্রভু তার তেমনি উপযুক্ত মন্ত্রণাদাতা। তা সত্তেও মোহনলাল ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি নবাবকে সত্যি ভালবাসতেন । তিনি স্পঈগই বুঝেছিলেন যে প্রভুর সর্বনাশ হলে তারও সর্বনাশ হবে। দৃঁঢত। এবং বিচার বুদ্ধি মোহনলালের চরিত্রের প্রধান গুণ। সিরাজদৌলার মতোই মোহন- লালও জনসাধারণের চোখে দ্বণ্য ছিলেন। শেঠদের তিনি ছিলেন সবপ্রধান শত্র। তাদের অপকীর্তি তিনি বুঝতে পেরেছিলেন । বুদ্ধির প্রতিদ্বন্দিতায় তিনি ছিলেন শেগদের যোগ্য প্রতিপক্ষ । মোহনলাল তার নিজের ইচ্ছা অন্নসারে বাবস্থা কবতে পারলে শেঠরা ষড়যন্ত্র করার আগেই বিনষ্ট হত। নবাবের জন্যই মোহনলালের হাত পা বাধা ছিল। তাছাড়া সিরাজদেবল্লার সব থেকে সঙ্কটাপন্ন সমযে মোহনলাল ছিলেন মরণাপন্ন অন্ুস্থ । এ সময় তিনি বিছান। ছেড়ে উঠতে ব| বাড়ী থেকে বাইরে যেতে পারতেন নাঁ। আমি নবাব সিরাজদৌল্লার সঙ্গে এই সময় দুইবার তাকে দেখতে গিয়েছিলাম । সে সময় তার কথা বলার ক্ষমতাও ছিল না। অনেকে মনে করতেন যে তাকে বিষ খাইয়ে ম্বেরে ফেলবার চচষ্টা হযেছিল। এ সম্পর্কে মোহনলাল কোন কথা বলেন নি। এই দুর্ঘটনা সিরাক্তদৌল্লা নিজেকে খুবই অসহায় মনে করতেন ।+৭৯ শওকতজঙ্গের সঙ্গে যুদ্ধ হবার পর অর্থাৎ ১৭৫৬ ্রীষ্টান্জের নভেম্বর মাসে মোহনলাল অসুস্থ হন পরবর্তী বছরের জুন মাসে অর্থাৎ পলাশীর যুদ্ধের সময়ও ২৯৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হন নাই । পলাশীর যুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে সিরাজদোল্লার কাছে ক্লাইভের লেখা চিঠিতে জানা যায় থে তিনি তার আঞ্জি সাম্রাজ্যের প্রধান ব্যক্তিদের যথা জগৎশেঠ, মোহনলাল, মীরচাফর প্রভৃতির মধ্ান্থতায় সালিস নিষ্পত্তি করতে চান ।৭২ ১৭৫৬ খ্রীাব্দের জুন মাসে কলকাতা জয়ের সময অথবা ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে ৫ই ফেব্রুয়ারীর যদ্ধে পরাক্তয় এবং পলাঁয়নের সময মোহনলালের কোন উল্লেখ পাওয়া যায না। সম্ভবত এই ছুই সময়েই বাক্ষধানী মুশিদাবাদ রক্ষার ভার তার ওপব হ্বান্ত ছিল। বণ্ভধানী রক্ষার গুরুদায়িত্রের বিনিমযে মোহনলাল শওকলঙ্জেব সঙ্গে যুদ্ধেব সময় কর্তৃত্ব পেয়েছিলেন একথা ভাবা অস্বাভাবিক নয। এই যুদ্ধে মোহনলালের চররত্র প্রকাঁশিত হয়েছে । যুদ্ধের দিক থকে শওকতজঙ্গেব সঙ্গে যুদ্ধ অত্যন্ধ সহজ যুদ্ধ ভলেও মোহনলাল, মীরমদন বা অন্য কোন £সনানায়কের সাহায্য গ্রহণ করেন নাই-- সম্পূর্ণ নিজের বলবুদ্ধির ওপর নির্র করেছিলেন। একমাত্র পাটনার শাসনকর্তা তার নিছেব সৈশবাহিনী নিয়ে মোহনপালের সঙ্গে যোগ দেন। এই যুদ্ধে মোভনলাল জয়লাভ করায় সিরাজদৌল্ল! অত্যন্থ আনন্দিত হন। রাজা মোহনলাল, মহারাজ! খেতাবে উষিত হলেন, তাকে পৃণিয়ার শাসনকর্তা নিষুক্ত করা হল। তিনি নিজে মুর্শিদাবাদে থাকতেন এবং তার পুত্র ত্ত*র হয়ে ফৌজদারীর কাজ চালাতেন তার বিশ্ব'সী দেওয়ান অচল সিংহের সাহায্যে । নবাব এত উৎফুল্ল ভষে- ছিলেন শওকতজঙ্গের পরাজয়ে “য নবাব বংশের জন্ত বিশেষ ভাবে রক্ষিত এক জায়গীর- রংপুর বা ফকরকোগ্ডি জেলার বাহারবন্ধ পরগণা তাকে দান করেন। এই পরগণার প্রাক্তন মালিকদের নাম দেখলেই সিরাজের দানের গুরুত্ব বোঝা বাবে । নবাব মুর্শিদকুলি খার আমলে বাহারবন্দ ও ভিববন্ধ পরগণাছয় ছিল সরফরাজ খার সম্পন্তি। সরফরাজ খার পুত্র মির্জা আমানীর জন্মের পর এই পরগণা ভার শামে বদল হয় এবং তার মনপবদারীর অস্তভূক্ত হয়। সরফরাজের মৃত্যুর পর । মিঞ্জা আমানী যদিও তখন জীবিত ) এই সম্পত্তি জায়গীর হিসাবে সৈয়দ আহমদ খাঁ প্রাপ্ত হন। তিনি ছিলেন নবাব ত্বালিবর্দী খার মধ্যম জামাতা । তীর মৃত্যু হলে তার পুত্র শওকতজঙ্গ বাতার- বনের জায়গীরদার হলেন। শওকতজঙ্গের মৃত্যুর পর এই সম্পত্তি হল মোহনলালের ।৭৩ আশালবদা খা ও সিরাঁজ-উদ-দোল্লা ১৯৫ ১৭৫৬ খ্রীষ্টাবধের সেপ্টেম্বৰ মাস থেকেই পূর্ণিষা আক্রমণের তোঙভোঁড স্থক হয়। অবশেষে ১৬ই অক্টোবর ১৭৫৬ শ্রী: মণিহারীর যুদ্ধে শওকতজক্গ পবাজিত ও নিহত হলেন। সিয়ার-উল-মুতাক্ষরীণ লেখক গোলাম হোসেন পূর্ণিযাতে শও্কতজঙ্গের আশ্রয়ে ছিলেন। এই যুদ্ধের সমষ তিনি পৃণিয়! ছেড়ে পাটনাঁষ আশ্রয় নিলেন। গালাম হোসেন মোহনল[লকে পছন্দ করতেন না । (সই জন্যেই হয়তো পলাশীর যুদ্ধের পর রায়ছুলভবামের আজ্ঞায মোহনলালের নৃশংস হত) জনশ্রতি অনুসারে লিখতে তাঁব আনন্দ হয়েছে। মৃতাক্ষরীণ অন্ুলরণে .কবল নাট্যকার নয় বহু &ঁতিহাসিকও ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দেই মোহনলালের মুত্্যুব কথা৷ লিপিবদ্ধ কবে গেছেন। কিন্তু এই সময় মোহন- শলেব মৃতু হয নি। সে কথায খাবাব আগে পলাশীর যুদ্ধের অব্যবহিত পরে *৬শে জুন ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্ধে ওয়!টস সাহেব কর্ণেল ক্লাইভের কাছে মোহন- লালকে যে “নযে যাবার প্রস্তাব কবেছিলেন "সটা জান! আবশ্যক 118 এই সাক্ষাৎকার হয়েছিল বলে মনে হয় না। এমন হতে পাবে যে এই সময মহারাঙ্গা -মাহনলাল গলাতক হছন। কারণ ২৬শে জুনের পর মোহন- পালে কোন খোজখবব এ পধ্যন্ধ জানা ছিন না। এতদিন সবাই মনে করতেন পলাণীব বীপত্বেই মোহনলানের সমাধি । মাহনলাল ও মীরঘদনের অপীনে ছিল ৫০০০ অশ্বাবোহী ও ৭০০০ হাজার পদাতিক সৈন্য । নবাবের ৫৩টা কামানের মধো ১১টা থেকে কোন গোলা ছোডা হয নি। যে বারটি সক্রিষ কামান ইংরেজ বাহিনীর ওপর গোলাবর্ষণ করেছে সেগুলি মোহনলাল, মীবমদন ও ফরাদী সিনফ্রে বা পাফ্রব অধীনে ছিল। পলাশীতে “মাহনলল সবত্মক পঢাই করেছেন । নিজে অত্যন্ত আহত হযোছেন এবং তার জামাতা বাহ'দুর আপ খ। নিহত হয়েছেন ।1৫ দেখ! যাচ্ছে মোহনলাল মুসলমানকে কেবল ভতগ্মি নয কন্যাদানও করেছেন । ক'শ্যিরী যুদ্ধ ব্যবসায়শীর পঙ্গে এ ঘটনাগুলি যে একান্ত স্বাভাবিক ছিল তা আজকের ভিন্ন সমাজ ব্যবস্থায় বান করে উপলব্ধি করা ছুষব। এযাবত মোহনলালের ইতিহাস এখানেই শেষে হত। সম্প্রতি রাজস্ব দপ্তরের কাগজপত্র ঘাটতে ঘটতে মোহনল।ল সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য আবিষ্কার করেছি । ২৭শে জুন ১৭৫৭ থেকে ১১ই ডিসেম্বর ১৭৭১ দীর্ঘ চৌদ বৎসর মহারাজা মোইনলাল কোন বনবাহ্‌স অজ্ঞাতবাস করেছেন জান যায় ২৯৬ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা না। ১২ই ডিসেম্বর ১৭৭১ বাহারবন্দ জায়গীরের সুত্র ধরে মোহনলালের খোঁজ পাওয়া গেল। মুর্শিদাবাদের ব্রাজন্থ দণ্তরে তার একখানি আজি পাওয়া যায। "্যাতে তিনি লিখেছেন যে নবাব সিরাজদৌল্লার আদেশমূলে তিনি বাহারবন্দ পরগণার জায়গীরদার হয়েছিলেন এবং ওই পদে পলাণীর যুদ্ধেব দিন অর্থাৎ ২৩শে জুন ১৭৫৭ পধ্যস্ত অধিষ্ঠিত ছিলেন । এই সময়ে ওই পরগণ! দিনাজপুর জেলার অন্্গত ছিল | স্থতরাং দ্রিনাজপুরের রাজার কাছে তার ২০,৪৯২ টাকা পাঁওন| হযেছে । কিন্তু বারবার তাগিদ দিয়েও এই টাকা আদায় কর! তার পক্ষে সম্ভব হয় নাই । মাননীয় সরকার কোম্পানী বাহার ওই টাকা আদায় করে পৌছে দিলে তিনি রুতজ্ঞ থাকবেন । এ তরফে কোন উত্তর না দেবার ফলে মোহনলাল ২৩শে ডিসেম্বর আর এক আজিতে তার বক্তব্যের পুনরুক্তি করেন ।৭৬ এই অর্থ তিনি পেয়েছিলেন কি না জানা যায় না। তবে রাজস্ব দপ্তরের কাগজ পত্রে ওয়ারেন হেস্টিংস সাহেব গভর্ণর হয়ে আসার পর পাটনার এক মোহনলালকে একশত টাকা মাসহারা মঞ্জুর করেন। এই ব্যক্তির রাজা মোহনলাঁল হবার একমাত্র কারণ যে ইংরেজ কোম্পানী বিশেষ সিরাজদৌল্লার পরিজনবর্গের জন্তই মাসিক সাহায্যের ব্যবস্থা মঞ্চুর করেছিলেন । সিরাজ পত্বী ওমদাত্উন্লিসা, সিরাজ কন্ঠা ও তার মাতা সিরাজের প্রিয় সহচরশী লুৎফউন্নিসা, সিরাজের কনিষ্ঠ ভ্রাতা যিনি পরব্তীযুগে মহবুল আলি খা নাম গ্রহণ করেছিলেন, সিরাজের ভ্াতুষ্পুত্র মুরাদদেল্লা এবং মোক্নলাল সকলেই মাসহারা নিয়মিত আমৃত্যু পেয়ে এসেছেন । মাসহারা ব্যবস্থায় সনে থাকে না যে ইনি সির'জের মে'হনলাল । আর এক প্রমাণ হলেন ওয়ারেন হেস্টিংস সাহেব যিনি কাশিমবাক্তার কুঠিতে বিভিন্ন পদে একনাগাড়ে ১৭৫২ থেকে ১৭৬৩ পর্যন্ত ছিলেন। ল! সাহেবের মতো সিরাজের পার্শচরদের ভিনি ভালভাবেই চিনতেন । গভর্ণর হয়ে ১৭৭২ খ্রীষ্টাব্দে আসার পর সিরাজদৌল্লার অন্যান্য পরিজনদের সঙ্গে মোহনলালের মাসহারার ব্যবস্থ। করে দেওয়! তার পক্ষে তাই একান্ত স্বাভাবিক হয়েছিঙ্গ | এর পরও মোহনলালের খবর পাওয়। ষায়। তিনি পাটনায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং প্রথমে বস্ত ব্যবসায়ী হন। পরে রেশমের কাট! কাপড় ও আফিংএর ব্যবসাতে বেশ ভাল করেই মগ্ন হন। ১৭৯* খ্রীষ্টাববেও তার শরীর সবল এবং মন ব্যবসায় মশগুল । ১৮০৮ গ্রাবে প্রায় অঙ্থ। মোহনপাল আর এক ব্যাক্তিকে আলিবর্দী খ। ও সিরাজ-উদ- দোল্লা ২৯৭ ষ্টি করে পূর্ণিয়াতে পঞ্চাশ বছর আগেকার বাকী খাজন! আদায়ের ব্যর্থ চেষ্টা করে লাঞ্চিত হয়েছেন । মোহনলালের শেষ জীবনের ইতিহাসের চর্চা গবেষকদের জন্য মুলতুবি রেখে নাটকের আলোচনায় ফিরে যাওয়৷ যাক। নাট্যকার হীরেন্দ্রনারাষণ মৃখোপাধ্যায মোহনলাল সম্পর্কে নাটক লেখায় উৎস্থক হয়েছেন কিস্ত মোহন- লাল সম্পর্কে ইতিহাস জানার কোন চেষ্টাই করেন নি। এমন কি প্রচলিত ধ্রতিষহ্াসিক উপাদান এই নাটকে কয়েকটি নাম সংগ্রহেই শেষ হয়েছে । চবম অন্ধকারেও একটু আলোর রশ্মি রয়েছে । নাটকে অথবা ৫€ই অন্ত্রীণ ১৭৭৮ এর সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন যে প্রতিহাসিক নাটক লেখার কোন চেষ্টাই তিনি করেন নি । তাঁর কথায় নাটক “ইতিহাসের পটভূমিকাষ রচিত কিন্ত প্রতিহাসিক তথ্য ভিত্তিক নয়” | ( হীরেন্দনারায়ণ মুখোপাধ্যাষের সঙ্গে সাক্ষাৎকার ৫ই ভ্্াণ ১৩৭৮) হীরেন্ত্রবাবুর এই মন্তব্যটি আলোচন। করে নাটক সম্পর্কে আলোচন। শেষ কর! হবে । কলিকাত1 বিশ্ববিদ্য'লয়ের একজন স্নাতকোত্তর যিনি ১৯৪৯ খ্রীষ্টাব্দে দর্শনে এম, এ» পাশ করেন ভার পক্ষে গ্রতিহাসিক তথ্যকে ভিত্তি নাকরে নিজ কল্পনাকে একমাত্র প্রেরণা- দায়িনণী করা কি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার নিদর্শন নয়? বিশ্ষে এই নাটক পঞ্চাশোর্ধ সন্ধ্যা পেশাদারী রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হয়ে হাজার হাজার দর্শককে অহেতুক বিভ্রান্ত করেছে । এই স্ষ্টি যে অন্যায়, জাতীয় ইতিহাসের অজ্ঞানতা যে পাপ এধারণী তাঁব মতে বাক্তির মনে না এসে থাকলে তার থেকে লজ্জার কথা আর কি হতে পারে? হীরেন্দ্নারায়ণ মুখোপাধ্যাষ তার নাটককে “ইতিহাস? বলবার চেষ্টা করেননি কিন্তু অধ্যাপক ডঃ শীতাংশু মৈত্র লিখেছেন--“মোহনলালের হত্যার ব্যাপারে স্থান পরিবর্তন করা ছাড| আর কোন লক্ষনীয় অনৈতিহাসিকতা এই নাটকে নাই।” (দুষ্টিকোণ। মোহনক্লাল__শীতাংশু মৈত্র।) অলক্ষনীয় অনৈন্তিহাসিকতা যা অধাপক মৈত্র স্বীকার করেছেন তাহল “মাধুরীর চরিত্রের কোন এঁতিহাসিকত! প্রায় নেই বললেই চলে। ..নামটি অন্য নাট্যকার গ্রহণ করেছেন বলেই আমিও নিয়েছি, নইলে এ্রীনামের কোন ধরতিহাসিকতা৷ নেই তবে মোহনলালের ভগ্নীর ব্গাদের হাতে লাগনা থেকে আরম্ভ করে তিনি সিরাজের প্রণক্মিনী ছিলেন এই সমস্ত জনশ্রতির আমি ২৯৮ বাংলা! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা স্ষোগ গ্রহণ করেছি । জগৎশেঠর! অবশ্য ছুই ভাই ছিলেন কিন্তু নাটকীয় মূলোর দিক থেকে ছুজনেবহই এক ও অভিন্ন ব্যক্তিত্ব । আচার্য গিরিশচন্দ্র দুটি চরিত্র নামে মাত্রই রেখেছেন। আমি চরিত্র ও ঘটনার পরিমিত প্রযোগের খাতিরে একজন জগৎশেঠকেই এই নাটকে স্থান দিয়েছি ।, ( দ্টিকোণ । মোঁহনলাল_শীঃ মৈঃ 1) প্রথমে উপরোক্ত মতামত আলোচনা করা যাক । অধ্যাপক শীতাংশু চৈত্র “বঙ্গেবগাঃ নাটক থেকে মাধুরী নাঁষটি গ্রহণ করেছেন । ঘোহনলাল ভগ্নীর বগীদেব হাতে লাঞ্ছনার কাহিনী সেখানেই প্রথম উল্লেখিত হঘ | পরে হীরেন্নারায়ণ মুখোপাধ্যায় পলাশী নাটকে সেই ঘটন ক পুনরুল্লেথ করেন এবং মোহনলাঁল নাটকে আবার সে কথা বল! হয। থাকে ক্মাগত সত্য বলে প্রচার করলে দীর্ঘদিন পর (টাই লোকে সতা বিশ্বাস কবে থাকেন। অধ্যাপক শীতাংশুবাবুর মতামত এই পুরাতন সতাই প্রমাণ করছে। বগার দ্বারা লাঞ্ছিতা স্থতরাং মাধুরীর বাংলার গ্রামে বা সবে বাসস্থান ট্িল। মোহনলাল এব” তার ভগিনী বাংলার অধিবাসী হলে বরগীর 'আক্রমণেব কোন সময়ে তারা বাংলায় এসেছিলেন এ গরম ওঠেনা। (য় প্রশ্ন ওঠে সেটাও অধ্যাপক মৈত্র এড়িয়ে গেছেন। এই প্রশ্ন হোল মোহনলাশ ভগিনী কবে লাঞ্চিতা হলেন? এ বিষয়ে অন্তসন্ধান করার কিছু নাই, কাজেই তিনি অনুসন্ধীন করেন নাই । কিন্ত মোহনলাল অবাঙালী হতে পারেন স্বীকার করে তিনি তার ভগ্ীর অপহরণ কাহিনী অসত্য হবার সম্ভাবনাকে মনে স্থান দিলেন না কেন? তবে কি মনে করব তিনিও নাটক পড়ে ও দেখে ইতিহাস শিখে ফেলেছেন? নাটকের ঘটনাকেই ইতিহাসের অবিসম্বাদ্রিত সত্য বলে ধরে নিয়েছেন? নাঁটককে ইতিহাসের মর্যযাদ। দিয়েছেন? অধ্যাপক শীতাংশু মৈত্র মোহনলাল সম্পর্কে যা লিখেছেন প্রথম বর্ষের কলেজের ইতিহাস বিভাগের কোন ছাত্র পরীক্ষার খাতায় তার পুনরাবুত্তি করে একটি নম্বরও পাবে না। এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে। নাটক পাঠ "কবে বা দেখে বহু ছাত্র ইতিহাসের পরীক্ষার থাতায় জ্ঞানপনা বিস্তার করেছেন এবং পরিণামে ছুঃথ ভোগ করেছেন। অধ্যাপককে যখন দেখি আলবদী খ| ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ২৯৯ কল্পনাকে ইতিহাসের পঙ্গে তুলনীয় করতে--তথন সন্দেহ থাকে না ক্ষয়ব্রোগ জাতীর জীবনে কি গঞ্ীরভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। ভগৎশেঠ দু'জন ছিলেন না একজনই ছিলেন। কিন্ত জগৎশেঠ মহাতপচা" ও মহারাজ। শ্ববপচার্দ দুই সহোদর ভাই ছিলেন বলে এরা জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্ধয় নামে পরিচিত । অধ্যাপক মেত্র সেগন্ত বিভ্রমে পড়েছেন । নাটকায় মুপ্যে জনকে অভিম্ধ বলে স্বীক্|র করা ষায় না । জগৎশেঠ কেবল শ্ুবেদার নবাবের মন্ত্রণা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন না তান ছিলেন শ্ুব্দোর'র অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি । স্থবেদারের পরেহ ছিপ তার স্থান। শাসনব্যবস্থ। পিচালনাতে জগৎশেঠকে বাংল শাসনের অংশীদার মনে করা হত। নৃতন শ্বুবেধার নিবাচনের আগে জগৎশেঠের মতামতও কখন চাওয়া হয়েছে। জগৎশেঠ প্রথমে প্রত্যক্ষভাবে ষড়যন্ত্রে যোগ দেন নাই । গৎশেঠ নবাবের বরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বিদ্রোহ করলেন ১৭৫৭ খ্রাগাব্দের “ম মাসে অর্থাৎ পলাথার বুদ্ধের মানথানেক আগে। এর মধ্যে তিনি পুরাপুগি প্রস্তুত হয়ে আটঘ।ট বেধে বসেছেন । কাগঙ্ে-কলমে অগৎশেঠ বঠযস্ত্রে এসেছেন মীরজাফরের পরে। কিন্তু এটাও সত্য যে জগংশেঠ গেছনে না দাঙালে ইংরেজ ষড়যন্ত্রে যোগ দিতনাঃ সব পরিকল্পনা বিফল হতো । গঞগৎণ্ঠে ভ্রাতৃদ্ঘয় দ্বিমুখানীতির চমত্কার প্রয়োগ করেছেন। জগৎশেঠ দরব,রে নিয়ধিত ইংরেজদের গাল দিয়েছেন, নবাবের প্রতি আম্মগত্য দোখযেছেন, সর্বদা সুব্দোরের পাশে থেকেছেন । অন্তদ্দিকে মহার।জ| স্ববপটাদ' তলে তলে ষড়বন্ত্রের কাজকম চাপিয়ে গেছেন। জগতশ্ঠেরা যে সিরাজদোল্লাকে সরিয়ে তৎকালীন এতিহাসিক ও সংবাদপত্রের ভাষায়_-“বাংলায় বিপ্রব' ঘটাবার প্রধান পাণ্ডা সে বিষয়ে সন্দেহ নাই । জগৎশেঠ সিরাজদৌল্লার কাছে বসে এমন চমতকার আম্ুগত্যের অভিনয় করেছেন যে নবাব, মপিয়ে জালা সাহেবের সাবধান- বানীতে কর্পাত করেননি । গভীর উদ্মা ও প্রচণ্ড ক্রোধে মোহনলাল যখন জগতশেঠদের ধ্বংস করতে উন্মুখ হয়েছেন তথন তাকে বিরত করেছেন । জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্ধয়কে এক ভাবার কোন কারণ নাই । বরঞ্চ ছুই ভাবলে তাদের সাফল্যমণ্ডিত দ্বিচারণের হদিশ পাওয়া যায়। জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্বয় এক অপূর্ব নাটকীয় চরিত্র । নৃশংস নবাৰকে দারুণ ভয় করতেন বলেই বাইরের মুখোসট! ঠিক রেখে ভেতরে ভেতরে কাজ করে গেছেন। বাংলার নাট্যকার ৩০০ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ এহ চরিত্র ছুটির স্থযোগ যে একশত বছরেও গ্রহণ করতে পারেননি তার কারণ বাংলার নাট্যকারগণ ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ থাকায় এ সম্পর্কে কোন অন্ুমন্ধান করেন নাই । বিদেশী ভগৎশেঠ আর তার বংধরগণকে অনুধাবন করে কত পাঞ্জাবী রাজস্থানী বাংলায় এল, বাংলার ব্যবসায় জাকিয়ে বসল। স্বাধীনতার পর বাংলার অর্থনৈতিক নেতৃত্ব তাদের হাতে চলে গেল। এসবের কারণ বুঝতে হলে যে মূলম্ত্রে উপনীত হতে হবে দেখানে জগত্শেঠ আসীন। অধ্য।পক মৈত্র “দৃষ্টিকোণ” বা ভূমিকায় নাটকের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গয়ো পখেছেন “গিরিশচন্দ্র পলাশীর যুদ্ধের নায়ক সিরাজের মধ্যে দেখেছেন [নরমীয়মান বাঙালী জাতির অকালে আকম্মিক রাহুগ্রাস। মোহনলাল এই জাতীয় বিপর্যয়ের উপনায়ক মাত্র। আমি শুধু উপনায়কটিকে নিয়ে ক্ষীণ প্রচেষ্টা সুরু করেছি মাত্র ।” ১৭৫৭ গ্রীষ্টাব্দে বাঙালী জাতির “নিমীয়মান, সম্পূর্ণ অসত্য । তখন বাঙালী মৃতপ্রায় সন্তগ্রদেশের ক্ষমতাশালী ও অর্থবান ব্যক্তিরা বাঙলার বুকে চেপে বসে আছে। মিরাজ, জগৎশ্ঠ, মীরজাফর ও মোহনলাল, খোদাদদ ইয়ার লতিফ খাঁ, সিরাজদোল্লা ও মীরজাফরের আত্মীয়পরিজন মায় মীরকাশিম প্রভৃতি সকলেই অবাডালী। পূর্ব বাংলায় আধুঁনককালে পশ্চিম পাকিস্থানীরা যে রকম প্রতৃত্ব করেছেন প্রায় সেই রকমহ অবস্থা ছিল ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের বাঙালীর । তারই মাঝে বাঙালী কেরানী হয়েছেন, সনাপতি হয়েছেন। থয়ের খা বাঙালীর! হুজুরের মন জুগয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, অর্থ করেছেন, প্রতিপত্তি করেছেন যেমন রায়হুলভ ও নন্দকুমার । এই পদে উন্নীত হবার জন্য কোনরকম হীন কাজ করতে তীরা অপারগ হননি। পলাশীর যুদ্ধে মুসলমান রাজত্বের পতন বাঙালীর উন্নতির প্রথম সোপান। শিক্ষায়-দীক্ষায় বাঙালীর নবজাগ্রণের সময়। ইংরেজ আন্ুকুল্যে সেট! সম্ভব হয়েছে । পলাশীর পরেই নূতন সংস্কত শিক্ষার টোল বানানো সম্ভব হয়েছে। ইংরেজদের পৃষ্ঠপোষকতায় নৃতন করে সংস্কত ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা হয়েছে, কলকাতা মাদ্রাসা ও উদ্চিশিক্ষালয় স্থাপিত হয়েছে । পলাশী বাঙলার জীবনে অন্ধকার যুগের 'অবসান। অধ্যাপক শতাংশু মৈত্রের মোহনলাল নাটক চার অঙ্কে ৭১ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত । আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্ল। ৩৩১ দষ্টিকোণ বা ভূমিকা, কুশীলব, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য্য লিখত ভূমিক1 ও মুখ্য পত্রিক! নিয়ে আরো ছয় পাতা যুক্ত । প্রকাশ কাল ১৯৫৩ গ্রীষ্টান্বের ২০শে মে। প্রথম অভিনয় ১৯৫১ শ্রীষ্টাব্ষের ডিসেম্বর মাস। অভিনয় করেছেন লোক সংস্কতি সংঘ নামে এক অপেশাদারী সংস্থা । প্রথম অঙ্ক ১ থেকে ২৯ পাতা দৃশ্য সংখ্যা তিন। দ্বিতীয় অক্ক ৩০ থেকে ৩৮ পাতা ছুটি মাত দৃশ্যে সমাপ্ত । তৃতীয় অঙ্ক ২৯ থেকে ৪৮ পাতা ছুটি মাত্র দৃশ্য ও চতুর্থ অঙ্ক ৪৯ থেকে ৭১ পাতা ও চারটি দৃশ্ত । প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্য জগৎশেঠের মহিমা- পুরের প্রাসাদ, দ্বিতীয় দৃশ্য মোহনলালের প্রাসাদ ও তৃতীয় দৃশ্ত চন্দননগরের কক্ষে ইংরেজগণ। সুতরাং নাটক স্ত্রুর সময় চন্দননগর ঘুদ্ধের পরে ( মার্চ ১৭৫৭ ) এবং ফেব্রুয়ারী মাসে কলকাতার যুদ্ধে সিরাজের পরাজয়ের পরবর্তী সময়। ওয়াটসের সঙ্গে চুক্তির উল্লেখ নাটককে জুন মাসে নিয়ে গেছে। ক্থতরাং ধরা যাক ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দের জুন মাস নাটকের শ্বরু। প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে সিরাজদৌল্লার বিরুদ্ধে মৃড়মন্ত্র হচ্ছে । উপস্থিত জগৎশেঠ, মীরজাফর, রাজবল্লভ, র।য়হুলভ, উমিাদ, মাঁনিকর্চাদ, রাণী ভবানী পরে প্রবেশ করছেন নন্দকুমার ও মহারাজ কৃষ্ণচন্তর। পরিচয় দেবার সময় কিছু নৃতনত্ব চোখে পড়ে। রাজবল্লভের পরিচয় “সেনানী মহাব্াজ, ঘসেটি বেগমের প্রণয়ী” বায়- ছুলভের পরিচয় «সেনানী মহারাজ ; মোহনলালের প্রতিছন্ৰী” কৃষ্ণচন্ত্রও হলেন “সেনানী মহারাজ নদীয়াধিপতি', মানকচাদের পরিচয় “সেনানী মহারাজ”, উমিচাদ হয়েছেন বণিক প্রধান । এই মন্ত্রণাসভায় মানিকচাদ্দ অন্যতম প্রধান বক্তা» মীরক্াফর ও জগৎশেঠ ষড়যন্ত্রের নায়ক । নবীনচন্দ্র সেনের পলাশীর যুদ্ধ থেকে উঠে এসেছেন রাণী ভবানী বলছেন-_আহ্ত আপনার কিসের আশায় ইংরেজের হাতে বাংলাদেশকে তুলে দিতে যাচ্ছেন? (৯ পাতা) “ইংরেজ যদ্দি শুধু বণিক হয় তাহলে কিসের দরকার কাশিমবাজারের আর কলকাতার দুর্গের?” «“কিসেষ্ দরকার ছিল তার নূতন ছুগ নির্মাণ করবার পলতার কাছে? কিসের প্রয়ে জন ফরাসীদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের এখান থেকে বিভা়িক করখার ?” (৯ পাতা )রাণী ভবানী সিরাজকে সিংহাদন- চ্যুত করার বিরোধী । অভিযোগ করছেন যে মেদ্দিনীপুরে আতাউল্লার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে মীরজাফর আলিবর্দীকেও ।সংহালনচ্যুত করার চেষ্টা করে বিফল হন। রাণী ভবানী বলেছেন--“সঙেহছ হয় আপনারা বাঙালী কি না?... ৩০২ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা মোহনলাপ কাশ্মীর থেকে এসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্যে আপনা- দের কাছে কতই না! ছুর্ণাম কিনছেন । আর আপনারা বাঙালী ছযে বাংলাব সর্বনাশ করছেন, ভারতের সর্বনাশ ডেকে আনছেন । (১৩ পাতা ) মীরজাফর জানাচ্ছেন যে ইংরেছদের সঙ্গে কথাবার্তী পাক] হয়েছে । ওয়াটস স্ত্রীলোকের বেশে (১৩-১৪ পাতা ) তার বাড়ীতে এসে চুক্তি সই করিয়ে গেছেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ৫ই জুনেব পরবর্ত। সময়। নন্দকুমার এসে জানাচ্ছেন_“হগলীব নৃতন ফোজদার আপনাদের কথামতই কাজ করবেন।” মহারাজ রষচগ্দ মোহনলালের পরাক্রমে ভীত । জগৎশেঠ বুদ্ধি দিলেন যে মৌখিক আশ্বাস দিযে সৈনাপত) মোহনলালেব হাত থেকে নিয়ে জাফর আলি খাকে দিতে হবে । রায়হুলভ জানাচ্ছেন যে ভগিনী দান করে মাহনলাল সিরাজের ওপর বিশ্যে প্রভাব বিস্তার কবেছেন। উমিচাদ তার প্রাপ্য দশ লক্ষ্য টাকার কথা মীরক্ঞাফরকে শ্বরণ করাপেন। এরই মাঝে রাণী ভবানী ধোনালেন “মোহনল'ল এমন মানুষ যে দেশের মাটিকে ভালবাসে । দ্বিতীয় দৃশ্বে মোহনলালের প্রাসাদে মোহন্লাল ও তশ্ত। ভগিনী মাধুরী আলাপরত। মাধুরীর মুখে অনেকগুলি তাক্পধ্যপূর্ণ সংলাপ আছে (ক) “জগৎশেঠের বাড়ীতে দ্েশহন্তাদের সভা শেষ হয়েছে-ইংরেজের হাতে সোনার বাংলাকে তুলে দেবার বন্দোবস্ত সম্পূর্ণ ।” (১৭ পাত1) (খ) “সিনফ্রের গোলন্দাজেরা তোমার সঙ্গে লঙ়বে ॥ (১১ পাতা ) (গ) “চন্দননগর দখল করে ইংরেজ মান্রষের ঘর পুড়িয়ে, ক্ষেত থামার মাড়িয়ে, ন'দে বধম'ন একেবারে শেষ করে টিয়েছে। (১৮ পাতা) ই(তমধ্যে কাশিমবাজারেব ইংরেঞ্ ছুর্গ থেকে হাক্কা কামানের ছাচ তৈরী করা সমাপ্ত হযেছে স্ববঘ্া কমকার জানালেন। মোহনলাল জগৎশেঠ ও মীরজাফরকে দালাল নামে অভিহীত করলেন। মীরমদনের দেশপ্রেমে আপ্রত হুলেন। এমন সময় পান্ধিতে চড়ে ভ্রীলোকের ছদ্মবেশে এলেন স্বয়ং নবাব। “তারপর তাকিয়ায় হেলান দিয়ে একান্ত অসহায়ের মত বসে পড়লেন।” খবর এসেছে ইংরেজ মঙ্িদাবাদ অভিমুখে যুদ্ধ সজ্জা করছে। সেই খবর স্বয়ং নিয়ে এসে অসহাষের এ. 5 নবাব মীরজাফর ও জগৎশেঠকে গ্রেপ্তার করতে হুকুম দিলেন। কিন্ত ষোহনলাঁল বললেন “ওদের গ্রেপ্তার করতে যাওয়া] নিবুদ্ধিতা হবে।” (২৩ পাত|) বুদ্ধ সাজে প্রস্তুতি সুরু হল। মাধুরী জানালেন তিনি রাগপুত কন্ঠ) আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্লা ৩০৩ কাম:ন দাগতে পারেন স্থতরাং তিনি যুদ্ধে যাবেনই | তৃতীয় দৃশ্তে চন্দননগর ফোর্ট দখল করে ক্লাইভ উমরবেগকে ষড়যন্ত্রের খবর জানাচ্ছেন। আরো! জানাচ্ছেন জগৎশেঠ মীরজাফ্রের জামিন হয়েছেন। মীরজাফর অর্থনা দিলে জগংশেঠের কাছ থেকে তা আদায় কর! হবে। পলাশীতে ছাউনি ফেলার উদ্দেশ্যে ক্লাইভ চন্দননগর থেকে যাত্রা করলেন। অধ্যাপক মৈত্র যে অন্য সকলের মতে নাটক পাঠ করেই ইতিহাস লিখেছেন এমন দৃষ্টান্ত প্রচুর । নবীনচন্তর সেনকে অন্নকরণ করেই রাণী ভবানীকে সিরাজের প্রতি সহাহুভৃতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজা কৃষ্ণচন্তু যডমন্ত্রে প্রত্যক্ষ অংশ নেন নাই |] একথা আগে বলা হয়েছে । পদ্দাধিকার বলে এর] উভয়েই জগৎ্শেঠ, মীরজাফর ও রাঁয়ুল'ভের থেকে অনেক নীচু। সেদিক থেকেও তানের ষড়যন্ত্রে ষোগদান অসঙ্গতিপূর্ন। রাজা রাজবল্লভ এই ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষভাবে লিগু ছিলেন না । মানিকটাদ ও নন্দকুমার পদে অনেক ধাঁপ নীচে ছিলেন। নন্দকুমাঁর পলাশীর যুদ্ধ পর্য্যন্ত হুগলীর ফৌজদার ছিলেন। পলাশ'র পর তার চাকরি গেলে তিনি রায়হুলভের স্কন্ধাবঢ হন এবং ১৭৫৯ খ্ীান্দে রায়ছুলভের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে মীরজাফরেব দেওয়ান বা প্রধানমন্ত্রী হয়ে বসেন। যখনই মীরজাফর নবাব হয়েছেন, নন্দকুমার তার দেওয়ান হয়েছেন। রাণী ভবানীর সংলাপও ভুলে ভরপুর । কি অবস্থায় কাশিমবাজার ও কলকাতার রক্ষণ[বেক্ষণের ভার ইংরেজদের হাতে এসে পড়ে তা আমরা আগে আলোচনা করেছি । বগীর আক্রমণের সাংঘাতিক পরিস্থিতি আলোচিত হয়েছে--সে খবর রাণী ভবানীর ন। জানা থাকতে পারে কিন্ত মোহনলাল সম্পর্কে নাটক যিনি লিখবেন তার জানা কর্তব্য । ইতিহাস পাঁঠ ন। করার আর এক চরম নিদর্শন «পলতায়, ছুর্গ তৈরীক্ন সংলাপ । ভূগোল না জানায় অক্ষয়কুমার মৈত্র ভুল করেছেন, গিরিশচন্দ্র ধী বই পড়ে পপতা লিখেছেন । গিরিশচন্দ্র অনুসরণে শ্তাংশুবাবুও “পলতায়” লিখেছেন । আচার্য্য যদুনাথ বা রমেশচন্দ্রের বাংলার ইতিভাস ৰা সুখপাঠ্য তপনমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পলাশীর যুদ্ধ প্রভৃতি বইএ ইংরেজদের কসকাতার দক্ষিণে পলায়ন উল্লেখিত হয়েছে । ভায়মগ্হারবারের কাছে কলকাত। ছুর্গের ধ্বংসাবশেষ এখনও আছে। সেটি মাটির কেল্লা নামে বিখ্যাত। আর কলক]তার উত্তরে খল পলত]1 | রাণীভবানীর মুখের এই অসংলগ্ন সংলাপে নাট্যকারের ইতিহাস ২০ ৩০৪ বাংল! ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ অজ্ঞানতা স্থচিত হয়েছে । বণিক ইংরেজ কেন যুদ্ধার্থে প্রস্তুত হলেন? কেন সিরাজদৌল্লা কলকাতা দুর্গ জয় করলেন? কেন ক্লাইভকে মাদ্রাজ থেকে কলকাতায় পাঠান হুল তার যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। অন্তত ১৭৫৭ তে ইংরেজ রাজত্ব করতে প্রস্তুত হন নি। নাট্যকার নদীয়া ও বরধধানে ইংরেজদের যে অত্যাচার বর্ণনা করেছেন তা মিথ্যা এবং কষ্টকল্লিত। ইংরেজ শাসনে সাধারণ লোক প্রথম স্বস্তি অনুভব করেছে। সম্পত্তি সংগ্রহ ও ব্যবসায় বৃত্তিতে অর্থ বিনিয়োগ করেছে। রাণী ভবানী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ষড়যন্ত্রকারীর! বাঙালী কি না। ওইথানে সমবেত ষড়যন্ত্র কারীদের মধ্যে চুচড়োর রায়ছুরলভ আর ঢাকার রাজবল্লভ ছাড়া বাঙালী ছিলেন না কেউ । অবশ্ঠ কৃষ্চন্ত্র ও নন্দবু'নারের কথা বাদ দিয়ে বলছি । জগৎশেঠ, আমিরচাদ, মীরজাফর বা মানিকচাদ অন্য প্রদেশের লোক। নাট্যকার যে রকম রাজবল্লভের পরিচয়ে বলেছেন ঘসেটি বেগমের প্রণয়ী, রায়ছুলভকে বলেছেন মোহনলালের প্রতিদন্ৰী, ইয়ার লতিফ খাঁকে বলেছেন জগৎশ্ঠের ব্যক্তিগত বাহিনীর অধ্যক্ষ, তাতে এই সময়কার ইতিহাস সম্পর্কে তার কোন প্রাথমিক ধারণা আছে বলে মনে হয় না । এটা প্রতিঠিত সত্য থে আলিবর্দী সিরাগকে মিরজাফরের হাতেই অর্পণ করেন। মীরজাফর পক্ষে থাকায সিরাছের মসনদ পাওয়া সহজ হয়। নাট্যকার রাশী ভবানী মারফত ইংরেজদের কর ফাকি দেওয়ার কথাও বলেছেন। ইংরেজদের শুহু ফাকি দেওয়া মীরকাশিম নবাব হবার সময়ের ঘটনা, তাকে সিরাজদোল্লর সময়ের ওপর আরোপ কর যায় কি? ছুইটি নূতন তথ্য নাট্যকার স্বীকার করেছেন। প্রথম মোহনলাল এক কাশ্মিরী যুবক আর দ্বিতীয় তিনি তার ভগিনী মাধুর্নীকে সিরাজদৌল্লাকে দান করেছেন । গোলমাল স্থরু হল। কাশ্মিরী মহিলার নাম মাধুরী হয় কি না? কবে ভাই বোন মুশিদাবাদে এলেন? কেন এলেন, এসে কোথায় ছিলেন? কোথায় মাধুরী বর্গা দ্বার| উপদ্রতা হলেন, নবাব তাকে কেন গ্রহণ করলেন? মাধুরী বলছেন তিনি রাজপুত মহিলা । তবে কি তারা কাশ্মিরী রাজপুত না কি মোহনল"ল ও মাধুরী বৈমাত্রেয়। মোহন- লাল নাটকের নাট্যক[র এসব প্রশ্নের কোন জবাব দেওয়! প্রয়োজন মনে করেন নাই । কল্পনার তরে ভেসে তিনি দ্বিতীয় দৃশ্যে ঘোহনলাল মাধুরীর সংলাপ রচনা করেছেন । তাতে বিন! দ্বিধায় বলেছেন যে ইংরেজদের হাতে আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্ল! ৩০৫ লোনার বাংলাকে তুলে দেবার বন্দোবস্ত সম্পূর্ণ। বলাবানুল্য ইতিহাল অজ্ঞতার এটি আর এক বিরাট নিদর্শন । ১৭৫৭ গ্রী্টাব্ষে ইংরেজ কেবল ঘড়যন্ত্রকারীদের সাহায্য করেছে। মীরকাশিমের সঙ্গে বিরোধের আগে শাসন ব্যবস্থার স্থায়ী ভার নেবার কোন চিন্ত|! এদেশে বা ওদেশের হংরেঞ্দের মনে ছিল না। সিনফ্রে সম্পর্কে উক্তিতে (খ) স্পষ্ট বোঝা যায় যে সিনফ্রে কে? কিজন্তে এসেছিল এবং কোথায় গেল এ সম্বন্ধে নাট্যকারের বিন্দুদাত্র ধ্যান ধারণা নাই। আগে একবার সিনফ্রে বা সীক্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে । তিনি ছিলেন ফরাসীদের কাশিমবাজার কুঠির অধ্যক্ষ দল! সাহেবের অধীনে এক সৈল্াধ্যক্ষ । লা সাহেবের সঙ্গে সীফ্রও কাশিমবাজার ছেড়ে পাটনা চলেছিলেন। মধ্যপথে লা সাহেবের মনে হল যে নবাব একে- বারেই অরক্ষিত তাই তিনি পঞ্চাশজন গোলন্দাজ সহ সীফ্রকে মুশিদাবাছে পাঠালেন, হুকুম থাকল কখনই যন ন! সীফ্র নবাবের কাছ ছাড়া হন। পলাশীর যুদ্ধের ঘে আক্রমণ নীতি তৈরী হল তাতে মীরমদন ও সীফ্রর ওপর আক্রমণ রচনার ভার পড়ল। মোহনলাল থাকলেন মীরমদনের পেছনে । ইংরেক্জ বধ করতে পারবেন সম্ভাবনায় সাফ এই নবাবী আদেশ মেনে নিলেন। পলাশীর যুদ্ধে সবাধিক ইংরেছ স্াফ্রর কামানের গোলাতেই নিহত হয়েছে। দুপুর ১ট। নাগাদ মীরমদন নিহত হলে সেই বাহিনী মোহনলাল চালন| করতে লাগলেন। নবাবের পলায়নের সংবাদে আহত মোহনলাল নবাবের কাছে যেতে পারলেন না। অসুস্থ থাকায় তার ক্লান্তিও চরম হয়েছিল। এই অবস্থায় মোহনলাল আত্মগোপন করলেন। কোথায় কি অবস্থায় তিনি ছিলেন আজও জানা যায় নাঁ। সীক্র সন্ধ্যার সযোগ নিয়ে ছত্রভঙ্গ যুনধক্ষেত্র ত্যাগ করলেন। তিনিও নবাবের সাহায্যার্থে ষেতে পারলেন না। ইতিমধ্যে পলাশীর যুদ্ধের শেষ নিষ্পত্তি হয়ে গেল । বিজয়ী ক্লাইভের ভয়ডঙ্কায় আকাশ বাতাস মুখরিত হল 1 এই স্থযোগে অল্প কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে সীক্র পলায়ন করলেন। লা সাছেবের সঙ্গে মিলিত হবার পথ বন্ধ তাই প্রথমে আশ্রয় নিলেন বীরভূমের জঙ্গলে তারপর তিনি মেপ্দিনীপুরের ফৌজদার রাজার[মের কাছে উপনীত হলেন। রাজারাম আলিবর্দীর আমলের কর্মচারী এবং পাটনার রাজা রামনারায়ণের মতে] লিরাজের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন । রাজা- রাষের বুঝতে একটুকুও দেরী হল না যে হাওয়া কোনদিকে বইছে। কয়েকদিন ৩০৬ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা লুকিয়ে রেখেই তিনি সীফরদের দাক্ষিণাত্যে যাবার ব্যবস্থা করে দিলেন তারই সাহায্যে সাক দলবল নিয়ে বুণীর সঙ্গে মিলিত হলেন । বাংলায় তার ক্ষণিকের সঞ্চবণ শেষ হয়ে গেল। (111, 5. 86709) 1756-57 8170 717169 71911011911 11 887091.) মনে রাখতে হবে এই সব যুদ্ধ বিগ্রহের সঙ্গে সাধারণ ব্যক্তির কোন যোগ ছিল না। স্রতরাং ইংরেজ সৈন্তের নদীয়] বা বধমানে অত্যাচ'্র করার কোন কারণ নাই। পলাশীর যুদ্ধের পরবন্তী ঘটনাতেই ইংরেজ সেনাপতি ও সৈহদের চরিত্র বোঝা যাবে । “নবাবের ছাউনিতে ঢুকে কি বিলিতি গোরাঁ॥ কি দিশি লাল পলটন, কি তেলেক্ষি সেপাই, কেউ একটা! জিনিষে হাত দিলনা । অপূর্ধব তাদের ভিসিপ্রিন। ক্লাইভের সঙ্গে তার! সকলেই দাউদপুর পর্যন্ত এগিয়ে চলল |” ( পলাশীর যুদ্ধ ১৭৬ পাতা) দ্বিতীয় দৃশ্টে স্ত্রীলোকের ছদ্মবেশে স্বরা্দৌল্লাকে মোহনলালের গৃহে উপস্থিত করে নাট্যকার এক অসম্ভব পরিস্থিতির কৃষ্টি করেছেন । সিরাজদৌল্লার চরিত্র তিনি যে কিছুই বোঝেননি এর থেকে প্রকষ্ট প্রমাণ আর নাই। সিরাজ অহঙ্কারী ছিলেন। বহুবিধ কুগডণের তিনি অধিকারী ছিলেন। মাতার আসঙ্গ লিগ্সা ও প্রকাশ্য উন্মত্ত চরিত্রহীনত৷ সিরাঙ্দৌল্লাকে গ্রচণ্ডভাবেই আহত করে। স্ত্রীলোকের প্রতি এক প্রচণ্ড ঘ্বণাই তার বালকবয়সের চরিত্র গঠনে সহায়ক হয়েছে । এই মাতার প্রতি বিক্ষোভআকর্ষণ অতি অল্প বয়সেই স্ত্রীলোক সম্ভোগে তাকে উদ্দিপীত করেছে। ফেৈজীকে ক্রয় এবং ব্যভিচারিণী ফৈভীর নৃশংস হত্যা, হোসেন কুলি থাকে হত্যা (মাতার প্রণয়ী ) বিবাহিতা স্ত্রীর সঙ্গে অসপ্ভাব, ভ্রীলোকদের প্রতি অত্যাচার ও সম্ভোগ সবই একই কারণে ঘটেছে । লুৎফউন্লিসা অত্যন্ত বুদ্ধিমতী মহিল! ছিলেন বলে ক্রীতদাসী হয়েও সিরাজের সহচরী হতে পেরেছেন। এই মহিয়সী মহিলার চেষ্টায় ও যত্বে সিরাজ বংশধররা রক্ষা পায়। স্থৃতরাং এহেন সিরাজদৌল্লাকে স্্রীলোকের বসনে সজ্জিত কর! চরম বাতৃলত! মাত্র । তৃতীয় দৃশ্তে চন্দননগরে ক্লাইভের সঙ্গী কারা ছিলেন এবং তাদের কি ভূমিকা! ছিল নাট্যকার অনুসন্ধান না করে গুটিকতক নাম রচনা! করেছেন। এৃশ্ঠও সম্পূর্ণ প্রক্ষিপ্ত। চন্দননগর জয়ের পর পলালী নয়-_কাটোয়।। কাটোয়ার ছুর্গ যে কি গুরুত্বপূর্ণ তা সিরাজদৌল্লা বোঝেন নাই। কিন্তু আলিবন্ী, মারাঠারা বা ক্লাইভ বুঝে- আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ৩০৭ ছিলেন। মুশিদাবাদ আক্রমণ বা রক্ষায় কাটোয়! ছুর্গ ভল প্রধান। ভূগোলের মানচিত্রের দ্রিকে তাকালে একথা সর্বদাই বোঝা যাঁয়। ইতিহাস জানা থাকলে নবীনচন্ত্র সেনের প্রাজ্ছত!। নাট্যকার উপলব্ধি করতে পারতেন । দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে আলিবর্দী বেগম ও লুৎফউন্নিসার সংলাপ। এই নাট্যকারও পূর্বস্থরী শচীগ্দনাথ ও হীরেন্দনারায়ণ অন্থসরণে “লুৎফা লিখেছেন । আলিবদী বেগম জানাচ্ছেন ঘে তিনি মীরজাফরের হাতে পলাশী যুদ্ধে সৈম্তাপত্য দিয়ে অন্ঠায় করেছেন। মোহনলালকে সেনাপতি করা! উচিত ছিল। তিনি বলছেন--“মুসলমান আজ টাঁক1 থেষে দেশ বেচে দিচ্ছে আর হিন্দু মোহনলাঁল রাঁখথছে সিরাজের তাজ |, ২৩১ পাতা )। খুবই আপত্তিকর উক্তি । মনে ১৯৪৭ খ্রীস্টাব্বের দ্রেশবিভাগ নাট্যকারকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত করেছে তাই কলমের ডগায় প্রকাশ পেয়েছে । দ্বিতীয় দৃশ্য পুরোপুরি শচীন্দনাঁথ অনুসরণে বক্তৃতার দৃষ্ঠ, স্থান দরবার কক্ষ। নাট্যকার সিবাজকে দিযে বলিয়েছেন ইংরেজ নবাবী চায়। নন্বকুমারকে বিশ্বাসঘাতকার ঢন্য বরখাস্ত করিয়েছেন। ছুটিই ভুল সংবাদ। পলাশীর যুদ্ধের পর মীরজাফর নন্দকুমারকে বরখাস্ত করে হুগলীর ফৌজদারী দিলেন তার বন্ধু মীর্জা ওমরবেগকে | এরই মধ্যে নাট্যকার কোথ! থেকে বর্গীদেরও টেনে এনেছেন । ফীরভাফর, মোহনলাল ও ইয়ারলতিক নবাবের সামনেই তৰোয়াল টরোযাঁল বার করে এ ওকে কাটতে গেলেন। নবাবী হুকুমে সকলে নিরন্তর হলেন। নবাব বললেন সকলকে নিয়েই তিনি ঘুদ্ধযাত্রা করবেন ইতিমধ্যে মোহনলালকে দরবারেই গুগু হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হল। নবাব চললেন যুদ্ধে। দিনফ্রেকে করে দ্ধিলেন গোপন্দাজ বাহিনীর অধিনায়ক । টিকা নিম্প্রয়োজন । তৃতীয় অঙ্কের স্বরু হয়েছে কাটোয়াতে ইংরেজর! শ্রীলোকের ওপর অত্যাচার করছে দেখিয়ে । কুট বলছেন--৮৪1 05 5898109৪8০৪, এমন সময় সৈন্তাবাসে মোহনলালের প্ররোচনায় আগুন লেগে গেল। বাধ্য হয়ে আবার নবীনচন্ত্রকে স্মরণ করতে হচ্ছে। অধ্যাপক শীতাংশুবাবুকেও আর একবার নবীনচন্ত্র সেন রচিত পলাশীর যুদ্ধ পাঠ করতে অনুরোধ করি। যদ্দি সম্ভব হয তাহলে ১৯০৫ ্ীস্টাব্ধে প্রকাশিত কর্ণেল কুটের রোজনামচা ধা কাটোয়াম্ম ইংরেজ ক্রিয়াকলাপের গুরুত্বপূর্ণ দলিল, পাঠ করলে তীয় নিজের কল্পন। ৩০৮ বাংলা এতিহালিক নাটক সমালোচনা বিলাসিতা সত্য থেকে ঘে কত দূরে সরে এসেছে অন্ভব করতে পারবেন । সুতাক্ষরীণ লেখক গোলাম হোসেন অবাক হয়ে লিখে গেছেন_ ইংরেজরা বড মজার জাত। যৃদ্ধের সময়ও তারা যেখান দিয়ে যায় সেখানে সৈন্তদের রসদ, ঘোড়ার দ্বানা, সরঞ্জামী জিনিষপত্র সবই দাম দিয়ে কেনে লুঠপাট করে না। দ্বিতীয় দৃশ্যও এইরূপ । অস্তঃপুরে লুৎফার সঙ্গে সিরাজ নৃত্যগীত উপভোগ করছেন। সিরাজ বলছেন, “ইংরেজের কুত্তাকে শিক্ষা দ্দিরে ফের ভাঁলবাসব? (৪৭ পাতা )। লুৎ্ফার সংলাপে জীন! যায় যে এ পর্য্যন্ত সিরাজ ফোন যুদ্ধে পরাজিত হননি । সবই কল্পনা । সুতরাং পরবর্তী অস্কে পলাশীর যুদ্ধ দেখা যাক। প্রথম দৃশ্ঠ ২৩শে জুন সকাল আটটা অর্থাৎ তখন যুদ্ধ স্থরু হয়ে গেছে । এখানেও মজার শেষ নাই। মোহনলালও মীরমদনের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করলেন যে ইংরেজদের ছত্রভঙ্গ করে মোহনলাল মীরজ্াফরকে আক্রমণ করবেন । মুতাক্ষরীণে সিরাজের পরাজয়ের কারণ লিখতে গিয়ে বল৷ হয়েছে সিরাজদৌল্লা কোন সৈল্গাধ্যক্ষকেই বিশ্বাস করতেন না» হোন না তিনি ছুল ভরাঁম বা মোহনলাল, মীরমদন ব] মীরজাফর, ইয়ার লাতফ খাঁ বা সিনফে । সকাল আটটায় নবাব শিবিরে তাই এরকম আলোচনা! অবান্তব ও উদ্ভট । দ্বিতীয় দৃশ্টে সিরাজ মীরজাফরের সামনে নতজান্থ হলেন (৫১ পাতা ) একটু পরে ভার গালে চড় মারলেন (৫২ পাত) তারপর “বেতমিজ নিষকহারাম কুত্তা” বললেন । তারপর মা চাইলেন মীরজাফরের কাছে । মোহনলালকে যুদ্ধ থেকে বিরত হবার আদেশ দ্রিয়ে মীরজাফরের উপদেশমত মুশিদাবাদ রক্ষার গন্য যুদ্ধ ছেড়ে পলায়ণ করলেন। এই পলাশীর যুদ্ধের দৃশ্য কেবল বাঙ্গালীর নয় বাঙ্গালী নাট্যকারদের পলাশ হয়ে ধীড়ায় | অধ্যাপক শীতাংশুমৈত্র, গিরিশচন্দ্র ও শচীন সেনগুপ্তকে অনুসরণ করতে চে করেছেন এবং হাস্যকর নাট্যঘটনার অবতারণা করেছেন। মেত্র মহাশয় একটু অনুধাবন করলে বুঝতে পারতেন যে গিরিশচন্দ্র এবং শচীন্ত্রনাথ কেন কল্পিত চরিত্রের ওপর নির্ভর/করেছিলেন। পলাশতে সিরাজদৌন্তার ব্যর্থতা 'এবং কাপুক্ুষতাকে কিছুতেই ঢেকে রাখা যায় না। পলাশীতে নবাবপক্ষীয়দের প্রচণ্ড বীরত্বের হিসাব হল ইংরেজপক্ষে মৃত সাতজন গোর! আর যোলক্রন সেপাই এবং আহত তেরজন গোর! আর ছত্রিশজন সেপাই । অঙ্ক শেষ হল মোহনলাল ও মাধুরীর দীর্ঘ আলোচনায় । মাধুরী আরও যুদ্ধ করবার জন্ত কুতসঙ্কয় | তিনি আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ৩৯৭ বলেছেন "মুশিদাবাদের জনসাধারণকে অস্ত্র দাও ইংরেজকে তাড়ীও মীরজাফর- দের শেষ কর।” সে আমলে যার! সৈন্য হতেন তারা যে ইংরেজী কায়দায় কুচকাওয়াজ কর সৈন্য হতেন না এট! জান! আবশ্যক | সাধারণ লোক পয়সা নিয়ে হাতে বন্দুক কোমরে তরোয়াল আর পিঠে ঢাল বেধে সৈন্ হতেন । সেজন্যই স্থসজ্জিত সৈন্যদলের সঙ্গে যুদ্ধে দলে দলে মরতেন, পলানীতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি । মাধুরীর লাঠিবটিকান্তে হাতে নিয়ে যুদ্ধ করতে যাবার উত্তেজনা যুদ্ধ অনভিজ্ঞ স্ত্রীলোকের যোগ্য কথা কিন্ত নাট্যকার সম্ভবত এই সংলাপে তাঁর রচনার অসাঁবধানত] প্রকাশ করেছেন। বল" হয়েছে মোহনলাল ও মাধুরী লা সাহেবের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য ঘোড়ায় চেপে যাত্রা করেছেন। ইতিহাসে পলাধীর পর মোহনলাঁলের কীতিকলাপের কোন হিসাব নাই। বন্দি এসময় তিনি পলায়ন করে থাকেন তাহলে কোন পথে তা করেছেন জানা য'য নাঁ। ২৬শে জুন ওয়াঁটস ক্লাইভকে একপত্রে মে'হনলালকে তার কাছে নিয়ে যাবার প্রস্তাব করেন। মনে হয় মোহনলাল কোথায় ছিলেন ওয়!টস জানতেন। তারপরই চৌদ্দ বছব্রের অজ্ঞাতবাস। তৃতীয় দৃশ্যে মীরজাফর নবাব হলেন ক্লাইভের হাত ধবে। ক্লাইভের মুখে ভাষণ দেওয়। হয়েছে আর আধঘণ্টা গোলা চালালে ইংরেজ ফৌত হয়ে যেত 1, টিকা নিপ্রয়োজন । সিরাজ পরিবারবর্গের অন্তর যাবার হুকুম দিলেন নৃতন নবাব । ক্লাইভ, সিরাজ ও মোহনলালের গ্রেপ্তারের ভন্য মীরজাফরকে তাগিদ দিলেন। অবশেষে সিরাজদোল্লার গুপ্ত ধনাগার সকলে মিলে খুলে ফেলতে চললেন । নাটকের শেষ দৃশ্ঠের প্রথম লাইনেই বলা হয়েছে “পাটনায় রাজা জানকীরাম সেই ত্রিশহাজার অশ্বারোহী আর গোলন্দাজ দিল কিন্তু এত দেরীই করল যে কোন কাজেই এল না ।” শচীন সেনগুপ্তকে অনুসরণ করতে গিয়েই নাট্যকার চোরাবালিতে মগ্ন হয়েছেন। ইতিহাস পাঠ করলে জানতে পারতেন-__( ১) তখন জানকীরাম স্বর্গে আর জানকীরামের পুত্র ছুলভরাম ব৷ রায়ছুল্'ভ মীরজাফরের প্রিয়তম সহকারী । (২ )পাটনার ডেপুটি গবর্ণর রাজা রামনারায়ণ। (৩) পলাশীর পরাজয়ের খবর পেয়ে লা সাহেবকে রাষনারায়ণ নিজের কাছে রাখলেন। ক্লাইভ লা সাহেবের বিরুদ্ধে আয়ার- কুটকে পাঠালেন । লা সাহেব ছাপর! হয়ে অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দোল্লার সঙ্গে মিলিত হলেন। (৪) র্লামনারায়ণ ক্লাইভের সঙ্গে বোঝাপড়া করে ৩১০ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা ইংরেজ অনুগত হয়ে পডলেন। (৫) সৈন্য পাঠানর খবর ভিত্তিহীন নাট্যকারের কল্পনা মাত্র । এই কল্পনার আরো কিছু উদ্াহরণ এই দৃশ্তে দেখা যাবে । এটাকেই নাট্যকার সম্ভবত তার নাটকের নুতনত্ব বলেছেন। মাধুরী বলছে বর্গীদের ব্যতিব্যস্ত করে জনসাধারণ ত্যাড়িয়েছে স্ৃতরাং বাণী ভবানীর মতো! নেত্রীদের সাহায্যে গ্রামে গ্রামে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা হোক । ঘরে ঘরে ভাঁক দিয়ে বলা হোক ওরে তোরা জেগে ওঠ। মোহনলাল চণ্ডী পাঠ করে শক্তি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। মাধুরী জল আনেন। কিন্তসেই সঙ্গে আসেন বায়ছুলভ ঘার পিতার কাছ থেকে মোহনলাল সৈন্য পেষেছেন বলে স্বীকার করেছেন। সিরাজের মৃত্াসংবাদে মোহনলালেব ছাত থেকে অস্ত্র পড়ে গেল। কুৎসিত ব্যবহার সুরু করলেন রায়ছুলভ।| মাধুরী শ্লোগান দিলেন, “ইংরেজ নিপাত যাক । ধধীবে ধীরে সৈম্তবাহিনীর মধ্যে কিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ল। বনমাঠ কীপিয়ে বহু কণ্ঠে ধনী হল “ইংরেজ নিপাত যাক | এই অবকাশে রায়ছুলভ মোহনলালকে হত্যা! করে পলায়ণ করলেন । মৃত্যুপথযাত্রী “মাহনলালকে মাধুরী শোন',নন “৪ আসছে দাদ। ! দেশের বাহিনী আসছে ! দলে দলে আসছে! মোহনলালের মনে আশ! জাগল বললেন--“তুলে ধর আমাকে মাধুরী” তারপর “পলাশ; “পলাশী” বলে মৃত্যু। নাটক শেষ। ইংরেজী শিক্ষা! ও মানসিকতা, ইংরেজী ধরণের আওয়াজ ও সংগঠন সবই যে আধুনিক বুগের শিক্ষা, ১৭৫৭ তে তার যে কিছুই ছিল না নাট্যকার একথা ভেবে দেখেন নি! ক্বপ্ররাজ্যে গার নাটক শেষ হয়েছে। উদ্ভট নাটক হিসাবে বিবেচনা যোগ্য । এঁতিহাসিক নাটক হিসাবে একেবারেই অচল। ভূমিকা লিখতে বসে মনোরঞ্জন ভট্রাচাধ্য বলেছেন “এক জাতিতে পরিনীয়মান হিন্দু ও মুসলমানের অসংগঠিত জাতীয় চেহন' এব” সেই চেতনার সুচিমুখ মোহনলাল ও মীরমদন । অন্টাদকে অনভিজ্ঞ তরুণ সিরাঙ্তেরে ভীতিবিহ্বল অব্যবস্থচিত্ততা'.....এই জটিল আবর্তের, রূপদদান করবার চেষ্টা করেছেন নাট্যকার | দঃথের বিষয় এই প্রচেষ্টায় তিনি সম্পুণ বিফল হয়েছেন । তার নাটক জ্ঞানের তাণ্ডারে কোন কিছু সংযোজন করবে না। পাঠক ও দর্শক মহলে শুধু বিভ্রান্তির তি করবে । এই ঘটনা নিতাস্ত দুঃখের সন্দেহ নাই। আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্লা ৩১১ উপসংহার । ১৭৭৫ থেকে ১৯৫৩ পর্যন্ত নবাব সিরাজদৌল্লা ও আলিবদী সম্পর্কে নাটক আলোচনা করা হল। আলিব্দী-সিরাজদৌল্লা সম্পর্কের আরো যে সব নাটক আছে সেগুলি এই নাটকগুলির ছায়ায় রচিত। ছোটদের জন্ত রচিত বঙ্কিমচন্দ্র দাসগুপগ্তর সিরাতের স্বপ্রঃ শচীন সেনগুপগুর অন্নকরণ। এছ|ডা কতকগুলি নাটকে সিরাজদোল্লা ছে'ট কিন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্ররূপে প্রকাশিত । রামপ্রসাদ ১৭৪৬ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত এক ভক্তিমূলক নাটক । ইতিহাস বা রাজনীতি তার প্রাতপাগ্য নয। সেখানে হঠাৎ এগারো নম্বর দৃশ্তে (বার নম্বরে নাটক শেষ) দিরাজদৌলা! প্রবেশ করে রামপ্রসাদের গান শুনে খুব সাধুবাদ দিয়ে গেলেন। (রামপগ্রসাদ ৯৮-৯৯ পাতা) তাই দেখে মফস্বল পত্রিকায় এক প্রবন্ধ বার হল যে সিরাজদৌল্লা বাংলাগানের একজন পৃষ্ট- পোষক ছিলেন। ইতিহাস অজ্ঞানতা এবং কল্পনাবিলামিতার পরাকাষ্টা দেখা গেল। জাতীয় চেতনা জাগাবার জন্য যার সৃষ্টি হল, সে গরল কণ্ঠে থাকল না, উদরে গিয়ে মৃত্যু ঘটাল। পুজা করতে এসে পুরোহিত মশায় বিগ্রহের আসনে চেপে বসলেন । কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন | লক্ষনীয় নাট্যকারগণ সবাই হিন্দু কিন্ত আশ্চর্যের বিষয় মুসলমানী কোন আচার ব্যবহার কোন নাটকে স্থান পায় নাই। তারা হিন্দু চিত্র হ্ষ্টি করে তাকে মুসলমান নাম দিয়েছেন। ইওরোপীয় চরিএ কৃষ্টিতেও এহ একই দোষ দেখা যায়। তারা ডডভ করে এক অন্তুত বাংলায় কথা বলে বটে কিন্তু তাদের মনের ভাব আর চিন্তাধার৷ বাঙালী হিন্দুর । এখানেও কোন নাট্যকারই একমাত্র নবীনচন্ত্র ছাডা নিজের সামাজিক গণ্ডীকে অতিক্রম করতে পারেন নাই। কোন নাট্যকারই ১৭৫৭বু সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না । প্রত্যেকের নাটকে তার নিজের সমসাময়িক কালই প্রকাশিত, অধ্যাপক শীতাংশু মেত্রর ক্ষেত্রে তার ফল হন্তকর হয়ে দাড়িয়েছে । প্রত্যেক নাট্যকার তাদের নাটকে শিজ্বে সামাজিক দুর্বলতা যে ভাবে প্রকাশ করেছেন তাতে আশ্চর্য্য হতে হয় । উপ- সংধারে তাই নিঃসন্দেহে বল! যায় যে পলাশীর যুদ্ধ একটা সাংঘাতিক ঘটনা নয়। ইংরেজ এতিহাসিকরাও পলাশীর যুদ্ধের ফলাফলকে বড় কিছু ভাবেন নি। পলাশীর যুদ্ধকে বাঙ্গালী তার ভাবালুতা দিয়ে মস্ত রঙ্গীন ফাঙ্গুস ৩১২ বাংলা তিহাসিক নাটক সমালোচনা ৰানিয়েছে। কল্পনাপ্রবণ জাতির ভাববিলাদিতা কি রকম ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে প্রথমে বাতুলতা এবং শেষে ক্ষিগুতার পর্যায়ে উপনীত হয়েছে তা সত্যই লক্ষনীয়। প্রাথমিক চিন্তা! বিলাস ক্রমে কাঁয়৷ গ্রহণ করেছে। গ্রহ নিয়েছে ক্রমে বিগ্রহের রূপ । শেষে উপগ্রহ হয়ে স্কন্ধে আরোহণ করে নিগ্রহ স্তর করেছে সিন্দাবাদ নাবিকের সেই অপগ্রহের মতে] । আশ্র্য হতে হয় যখন দেখা যায় যে উনবিংশ শতাব্দীতে ইতিহাস মেনে নাটক রচনার ইচ্ছা ছিল। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ও নিখিলনাথ রায় গ্রভা বিত জাতীয় নেতা সিরাজের সৃষ্টি হল গিরিশচন্ত্রের চিস্তায়। তারপর থেকে আর কেউ ইতিহাস পাঠ করলেন না। নাটক দেখে বা পড়ে অক্পন্বক্প ছু'চারটে নাম জেনে ১৭৫৬-৫৭ খ্রীষ্টাব্ষের ঘটনা নিয়ে নাটক স্ৃষ্টির প্রয়াস করলেন । একমাত্র নবীনচন্ত্র সেন ও লক্ষ্মীনারায়ণ চক্রবর্তী চরিত্র চিত্রণে খ্রতিহাসিক লিরাঁভ্রে কাছ।কাছি গেছেন। অন্ত সাহিত্যিকগণ কাল্পনিক সিরাঙ্ড চরিক্র জ্যগ্রি করেছেন। প্রতিহাসিক ঘটনাপঞ্জী ও ফড়যন্ত্রকারীদের দায়িত্ব সম্পর্কে গিরিশচন্দ্রের নাটক ইতিহাসের কাছাকাছ গেছে কিন্ত জহরা ও করিমচাচা নামে ছুই কাল্পনিক চত্িত্র অবতারণ1 করায় এ্রতিহাসিক ঘটনাক্রম বিভ্রান্ত হয়েছে । সিরাজের চরিত্রের সঙ্গে সিরাজ মহিষীর চরিত্রও বিভ্রান্ত হয়েছে ! নবীনচন্ত্র ও লক্মীনারায়ণ সিরাজদৌল্লার পত্ীর কোন নামোল্লেথ করেন নাই । গির্রিশচন্্ই প্রথমে নাটকে 'লুৎফউদ্লিসাকে সিরাজের পত্বীর মর্যাদা দিয়েছেন । শচীব্্রনাথ তার নাটকে 'লুৎফা” নামের প্রচলন করেন । তদন্- যায়ী পরবর্তী নাট্যকারগণ তাঁকে অনুসরণ করেছেন। পলাশীর বুদ্ধকে গ্রত্যেক নাট্যকারই এক প্রচণ্ড রণাঙ্গন ছিসাবে বিবৃত করেছেন। কিন্ত ওই বৎসরের মধ্যেই কলিকাতার যুদ্ধ (€ই ফেব্রুয়ারী ), চন্দননগরের যুদ্ধ (১৩ মার্চ থেকে ২৩শে মার্ট) বা কাটোয়ার যুদ্ধ ( ১৯শে জুন) যে অনেক বেসী গুরুত্বপূর্ণ একথা নাট্যকারগণ উপলব্ধি করেন নাই। সিরাজদৌল্লার পত্ীর নাম ওমদাৎউদ্লিসা। ১৭৪৬ ্তরিষ্টাবন্দে, অর্থাৎ ১৩ বছর বয়সে তার সঙ্গে সিরাজদৌল্লার বিবাহ হয়। এঁর পিতার নাম মীর্জা ইরাজ খা ইনি যশোহরের জায়গীরদার ছিলেন । ওমদাৎউন্নিসা জ্যোষ্ঠা কন্ঠা ছিলেন তার ভগ্মির নাম ইমারীখানূম। বাঙ্গালী এরতিহাসিক গণ সবাই জানতেন যে লুৎফউন্লিসা সিরাজদৌক্লার স্ত্রী ছিলেন না তবু ভাবাবেগে আলিবর্দী খা! ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ৩১৩ বিত্রম জ্বি করেছেন। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এইভাবে লিখেছেন-প্রিয় সহচবী লুৎ্ফউন্লিসা বেগমকে করিয়া .. + (অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদৌল্লা ৪৫ পাতা )। সিরাজদৌল্লার পলায়ন সংবাদে লিখেছেন-__“একজন প্রতিহারী এবং চিরসহচরুশ লুৎফউন্লিস1 বেগম ছায়ার ন্যায় পশ্চাতে পশ্চাতে অন্গগমণ করিল। (২ পাতা ৩৭৮) বেভেরিজ সাহেবের বচনা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন তাৎপর্য্যপূর্ণভাবে । 4116 ৬/৪5 20001)10911760 10 1015 11011 0% 1115 07৬০0601119 00106101118 18191611181558. | 2) 171011760 017 015 180 5/95 01190117911 8 1111081 8170 1710176 01161 01197 076 51511 01 11011917181. নিখিলনাথ রায় চমৎকার লিখেছেন প্রসঙ্গ ক্রমে একটি কথা বলিয় রাখি, লুৎফউন্নিসা অথবা ফৈজী কেহই সিরাজের বিবাহিতা! স্ত্রী নহেন। সিরাজের বিবাহিতা স্ত্রীর নাম ওমদাত্উন্দিসা | ( নিখিলনাথ রায়, মুশিদাবাদ কাহিনী, ১৯৪ পাতা)। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় মহাশয়ের বহ প্রকাশ হয় ১৩০৪ সালের আশ্বিন মাসে । এই বছরই শ্রাবণ মাসে নিখিলনাথ রায়ের মুশিদাবাদ কাহিনী প্রকাশিত হয়। ১৩১২ সালে ব্রজ্ভ্দ্রেনাথ এই প্রসঙ্গ আবার উল্লেখ করলেন। সিরাঁজদৌল্লার পত্বীর তালিকায় তিনি পরপর সাজালেন-_ *১। ঠাহার বিবাহিতা পত্বী (ইরাজখার কন্যা] ), ২। লুৎফউন্নিসাঁ; ৩। ফৈজী ( মোহনলালের ভগ্মী ) (ব্রজেন্দনাথ বন্দোপাধ্যায় বাংলার বেগম» ৩ পাতা)। তিনজনের তালিকা দিলেও বিবাহিতা পত্বী যে একজন একথা তিনি স্বীকার করেছেন। বেগারিজ সাহেব লুৎফউন্নিসাকেই মোহনলালের ভগ্রী বলে ম্বীকার করেছেন। অন্ময়কুমার মৈত্রেয় এইমত গ্রহণ করেছেন। নিখিলনাথ রায় বলেছেন - “মুশিদাবাদের পরলোকগত নবাব বাহাদুরের দেওয়ান ফজলে ব্রব্বী খা বাহাছুরও বিশ্বাস করতেন যে লুৎফউদ্লিসাই মোহনলালের ভগিনী ।; ( মুশিদঃবাদদ কাহিনী ১৮৭ পাতা) মোহনলালের উন্নতিতেও এই কথাই প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে গিরিশচন্দ্র অন্ুসরণ করে অনেক সাহিত্যিক সিরাজ কন্তা্ব নাম উন্মত জহর বলেছেন এবং অনুঢ়া অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে ঘোষণা করেছেন। ছুটি সংবাদই ত্বুল। এই কন্তা ১৭৫৮ শ্ীটান্দে ৩১৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন। মাতা লুৎফউন্লিসা বেগমের সঙ্গে ঢাকায় স্থানান্তরিত হন । তার নাম উম্মৎ সায়রা বেগম । সেখানে তার বিবাহ হয় এবং চারটি কন্তার জন্ম হয়। এই শিশু কন্তা চারটিকে রেখে ১৭৭৪ শ্রীগান্ধের প্রথমার্ধে উম্মৎ সায়রা! বেগমঢাকায় পরপোকগমন করেন। কাঁলক্ষেপ না করে লুৎফউন্নিসা, গবর্ণর ওয়ারেন হেষ্টংস সাহেবকে এক আজি পাঠালেন তাতে লেখা হল--“আমি ও নবাব সিরাজদৌল্লার কন্তা এবাবত ঢাকার রাজস্ব বিভাগ থেকে মাসিক ছয়শত টাকা করে পাইতাম। সম্প্রতি চারমাস আগে মৃত নবাব সিরাজদৌলার কন্তা, চারিটি শিশুকন্যা! রাঁখিষা মৃত্যুমুথে পতিত হইযাছেন। নুতন আদেশ না আসা পধ্যন্ত মুত্ম্থদ্দিগণ মাসহারা দিতে অস্বীকার করিয়'ছে। বিনীত শিখ্ধেন অবিপন্থে ঢাকার রাজন্ব বিভাগের মুৎ্স্দ্দিগণকে নিয়মিত মাসহার। পুর্ণবহাল করিবাব আজ্ঞা হয।, ভেষ্টংস সাহেবেব হুকুমে অবিল্ছে মাসহার নিয়মিত দেবার আদেশ পাঠান হয় 1৭9 এই সুত্রে জানাবার স্থযোগ হচ্ছে যে ১৭৬৪-৬৫ খ্রীষ্টাব্দে নবাব মীরজাফর থোসবাগ দান করেন উম্মৎসায়রা বেগমকে । তার মৃত্যুর পর এই সম্পত্তিতে লুৎফউন্নিসা বেগম বসবাস শুরু করলে বাৎসরিক ৩৬৬০ টাঁকা পেতেন। প।টনার বেগমপাড়ার দরুণ পেতেন বাৎসরিক ১৩০০ টাঁকা।, ঢাকার পেনসন বাবদ মাসিক ১০০ টাক আর কলকাতার পেনসন বাবদ মাসিক ৫০০ টাকা । ১৪ই জুন ১৭৭৪ খ্রীষ্ট।ব্বের এই আজিতে পাটনায় দাদা মোহনলালের সঙ্গে যে যোগস্থত্র আছে একথা অনুমান করা যায় কারণ লুৎফউ ক্রিস হেষ্টিংস সাহেবের কাছে অভিযোগ করেছেন যে পাটনায় সিরাজদৌল্ল!র পিতা নবাব জেমগন্দিন আহমেদ খার কবরের রক্ষণাবেক্ষনের খরচ চালাবার ভন্য যে ছুইটি গ্রাম দেওয়া হয়েছিল, কোম্পানীর মুৎস্থদ্দিরা সেই গ্রাম ছুটি কেড়ে নিয়েছে কাজেই সমাধিক্ষেত্রের সুষ্ট, রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। বলা বাহুল্য হেষ্টিংস সাহেব তখুনি পাটনার ইংরেজ কুঠির অধ্যক্ষকে গ্রাম ছুটি ফিরিয়ে দেবার আদেশ জারী করেন। এই ঘটনায় পাটন'র মোহনলালই যে লুৎফউন্নিসার দাদা এবং পাটন| ও ঢাকার মধ্যে তারা যে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখেছিলেন একথা প্রমাণ কর! বায়। রাজা মোহনলালকে এই হুত্রে আবিফার করলে তিনিই যে বস্ত্র-ব্যবসায়ী ও অহিফেন কারবারী মোহনলাল সে বিষয়ে সন্দেহ থাকে না। ১৮০৮ খ্রীষ্টাব্দে তার জীবিত থাকার প্রমাণ পাওয়া ঘায়। আলিবদী খ| ও সির!জ-উদ-দৌল্লা ৩১৫ ঘসেটি বেগমের পালিত এক্রামাদৌল্লার পুত্র ও সিরাজের ভ্রাতৃক্দুত্রকেও ্রতিহাসিকদের কেউ কেউ ১৭৫৭ শ্রীষ্টাব্দেই মৃত বলে ঘোঁধণা করেছেন । যদি আলিবদর্শর বংশে কোন পুরুষ উত্তরাধিকারী জীবিত না থাকে তাঁহলে মীরণের অধিকার আইনসঙ্গত সাব্যস্ত হয়, তাই এই হত্যাগুলিকে মীরণের কীতি বলে বণিত হয়েছে । ইতিহাসেব্র অস্থুসন্ধ'ন অন্য কথা বলে। সিরাজের ছোট ভাই মীর্জা মেহেদীকে জীবিত থাকতে দেখা যায় ২৪ মে ১৮০৯ শ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত । তিনি নাম পালটে নবাব মহবুল "মালি খা নামে পরিচিত ছিলেন । সিরাজের ত্রাতুদ্পুত্র বা এক্রামাদৌল্লার পুত্র মুরাঁদদৌল্লা কিন্ত নিহত হন নাই। দীর্ঘকাল পর্য্যন্ত তাঁর বেচে থাকার প্রমাণও আছে। তিনিও ঢকায় বসবাস করেছেন । সেখানে সম্ভবত তিনি বিবাহ করেন এবং সঙ্গনাদি জন্মায় | মুরাদদৌল্লা মাসিক ৪০০ টাঁকা করে পেতেন । সংসার যাত্রার জন্ত অকুলান হওয়ায় তিনি মাসহারা বৃদ্ধি না করলে মাসহার গ্রভণ করবেন না বলে হুমকি দেওয়ায় তার মাসহাৰা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুরাদ কিছুদিন ধারধোর করে চালালেন। কিন্তু ক্রমে পাঁওনাদাবের সংখা] বেড়ে যেতে লাগল | শেষে উপাধন্থর না পেষে নবাব দরবারে ইংরেজ প্রতিনিধি স্যামুয়েল মিডলটন সাহেবকে সব জ্ানিযে এক 'মকতি ভরা আক্তি পাঠালেন । খাঁটি ইংরেজের মতে! কালবিলম্ব না করে রেনিডেণ্ট সাহেব কলকাতা গবর্ণর সাহেবকে চিঠি লিখে মুরাদদৌল্লার চারশ টাকার মাসহার। নিয়মিত পাবার আদেশ আনিঘে দিলেন ।৭৮ রাজস্ব বিভাগের কাগজপত্র এবং পলাশীর যুগের সামনের পেছনের দলিল দক্ডাবেজ দেখতে দেখতে এই কথাই মনে হয় যে মাত্র দুশো বছর আগেকার ঘটন। সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান কত সীমিত অথচ কাগজপত্রের মধ্যে ঝুটি ঝুড়ি থবর ছড়িযে আছে। দলিল দন্তাবেজে সিরাঁজদৌল্লার যুগের অনিশ্চিত অবস্থা ফুটে উঠেছে। অথচ সিরাজদৌল্লার রাজত্বের আগে এবং পরে বিরাজ করছে স্বাভাবিক শাস্তি । ॥ সিরাজ চরিত্র ॥ সিরাজ চরিত্র কেমন ছিল নাটক সম'লোচনার সময় কিচ কিছু বলা হয়েছে। সিরাজদৌল্লার বিলাস বা স্ত্রীসম্ভোগ একান্ছ স্বাভীবিক ঘটনা । ৩১৬ বাংলা তিহাদিক নাটক সমালোচনা সুজা খা, সরফরাজ, এক্রামাদৌল্লা, শএকতজঙ্গ, সিরাজদৌল্লা, মীরপ এমন কি বৃদ্ধ মীরজাফর পর্য্ন্থ এই স্বাভাবিক নবাবী বিলাসে মগ্ন হয়েছেন। তবে প্রদের মধ্যে সিরাঁজ ছিলেন সব থেকে অল্প বয়স্ক ( এক্রামাদৌল্লা বাদে ), সব থেকে ক্ষমতাসম্পন্ন আর সব থেকে আদ্ররে লালিত তাই তীর উগ্রতা একটু বেণী হবে বৈকি । স্ত্রীলোক সম্ভোগ, যুবতী জ্রীতদাসী ক্রয় বা সুন্দরী স্লীলোৌক উপঢৌকন দেওয়। সেকালের সমাজ ব্যবস্থাব অঙ্গ বিশেষ ছিল একথা “বাজীরাঁও” প্রবন্ধে বলার চষ্টা হয়েছে । বলা হযেছে নবাব সিরাজদোল্লার হারেমের জন্তা সমস্ত সভাসদ মায় ইংরেজ ও ফরাসী কোম্পানী স্ত্রীলোক উপহার দিষেছিল । সাধারণ উপহাবেব সঙ্গে তফাঁৎ ছিল এই যে ওই স্ত্রীলোক গুলির উপহারকর্তা এদের গুপ্তচরবুত্তি কবতে শেখাতেন । হারেমের স্মৃর্তির বেঁকে (যর্দি ধরে নেওযা যায় যে আলিবর্দীব কাছে শপথ অন্ুয।য়ী তিনি মগ্যম্পর্শ কবেননি আর জীবনে ) যা বলতেন পরদিনই তা সকলের জানা হয়ে যেত। ঘে রকম নিয়মিত ভাবে নবাব হারেমে উপস্থিত হয়েছেন এবং হারেমের বিভিন্ন উক্তির মধো তাঁর মেজাজের যে চডা চেহার! পাওয়া যায় তাতে মাদক দ্রব্যের স্পর্শ নাই বিশ্বাস করা কঠিন । বিশেষ তার শাসনের প্রথম সাত মাসের সাফলাকে পেছনে ফেলে দিয়ে পরবর্তী সাত মাসের কর্মহীন ব্যর্থতা তাঁর চিন্তার জডতা প্রকাশ করে। অত্যধিক বিলাস ও মাঁদক দ্রব্যের বাবহাবের ফলে মনের ব্লীবতা একান্ত স্বাভাবিক ঘটনা । ভারতীয় ইতিহাসিকগণ সিরাজদৌল্লার এই জথঘন্ত চরিত্র সম্পর্কে কোন ছিমত করেন নাই। আচার্য যছুনাথ সরকার তাঁর হিষ্টরী অব বেজলের স্িতীয়খণ্ডের ৪৬ থেকে 9৭১ পষ্ঠায় সিরাজদৌল্লার চরিত্র আলোচনা করেছেন। আচার্য রমেশচন্দ্র মজুমদার তাঁর রচিত বাংলাদেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় খণ্ডের ১৭৪-৭৫ পাতায় সিরাজদৌল্লার চরিত্র আলোচনা! করেছেন । নীচে উদ্ধৃতি দেওয়। হল। “সিরাজের অস্থিরমতিত্ব, অদুরদর্লিতা, লোকচরিত্রে অনভিজ্ঞতা, প্রভৃতি ছাডাঁও তাহার চরিত্রে আরে! অনেক দোষ ছিল । ..... সমসাময়িক এতিষ্ঠাসিক সৈধদ গোলাম হোসেন লিখিয়াছেন ষে সিরাজের চপলমতিত্ব, দুশ্চরিত্রা, অপ্রিয়ভাষণ ও নিষ্ঠরতার জন্ত সভাসদের] সকলেই তাহার প্রতি অসন্তট ছিল । এই বর্ণনা কতকটা পক্ষপাত ছুট হইতে পারে। কিন্ত বাংলাদেশের কবি নবীনচন্ু সেন তাহার “পলাশীর যুদ্ধ' কাব্যে সিরাজের আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দৌন্। ৩১৭ ঘষে কলঙ্কময় চরিত্র আকিয়াছেন তাহাও যেমন অতিরপ্রিত এ্রতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এবং নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষও সিরাজদৌন্লাকে থে প্রকার স্বদেশবংসল ও মহান্ুভব বল্গিয়৷ বর্ণনা করিয়াছেন তাহাও ঠিক তদ্ধপ |". '; কিন্ত ফরাসী অধ্যক্ষ জ| ল সিরাজের বন্ধু ছিলেন। সুতরাং তিনি সিরাজের সম্বন্ধে যাহা লিখিয়াছেন একেবারে অগ্রাহ্থ করা যায় না। তিনি এমম্বন্ধে যাহা লিখিয়াছেন তাহার সারমর্ম এই : “আলীব্দার মৃত্যুর পূেই সিরাজ অত্যন্ত ছশ্চরিত্র বলিয়া! কুখ্যাত ছিলেন। তিনি যেমন কামাশক্ত তেমনই নিঠুর ছিলেন। গঙ্গার ঘাটে যে সকল হিন্দুর মেয়ের! স্নান করিতে আসিত তাহাদের মধ্যে সুন্দরী কেহ থাকিলে সিরাজ তাহার অনুচর পাঠাইয়া ছোট ডিঙ্গিতে করিয়া তাহাদের ধরিয়| আনিতেন। লোক বোঝাই ফেরী নৌকা! ডুবাইয়া দিয় জলমগ্ন পুরুষ, স্ত্রী ও শিশুদের অবস্থ। দেখিয়া সিরাজ আনন্দ অনুভব করিতেন । কোন সম্থান্ত ব্যক্তিকে বধ করিবার প্রয়োজন হইলে আলিবদীঁ একাকী সিরাজের হাঁতে ইহার ভার দিয়া নিজে দূরে থাকিতেন যাহাতে কোন আর্তনাদ তাহার কানে নাঁযায়। সিরাজের ভয়ে সকলের অন্তরাত্ম। কাপিত এবং তাহার জঘন্ত চরিত্রের জন্য সকলেই তাহাকে দ্ব্ণা করিত।” ম্ৃতরাং সিরাজের কলুষিত চরিত্রই যে তাহার প্রতি লোকের বিমুখতার অন্যতম কারণ সে বিষয়ে কোন মনে নাই |" ল| সাহেব আরে! লিখেছেন_“বাংলার নবাবদের চরিত্রের কুথ্যাতি চিরকালের কিন্ত পিরাজদৌল্লার কুখ্যাতি সকলকে ছাঁড়াইয়৷ গিয়াছে।” লিখেছেন যে নবাব সিরাজদৌল্লা অন্যের মৃত্যু দেখতে ভালবাসতেন এবং পৈশাচিক আনন্দ পেতেন। জলে নৌকা] উলটে গিয়ে দাতার ন। প্লান শঙ শত ভ্ত্রীপুরুষ শিশু এই বিশৃঙ্খলায় কিভাবে ডুবে মরে দেখতে তিনি খুবই পছন্দ করতেন। এই বিষয়ে তিনি বিশেষজ্ঞ ছিলেন বগ! চলে। নানারকম অমিতাচার ও লাম্পট্যে ল৷ সাহেব নবাব সিরাজদৌল্লার পারদপিতা ঘোষণ। করেছেন। সিরাঙ্গের এ চরিত্র এত সোচ্চার ছিল যে তিনি মুবেদার পদ পাবেন না বলেই সবাই বিশ্বাম করেছিগ। বিশেষ (সিরাজের প্রতিহিংসা- পরামণত। এন পাংবাতিক ছিল যে কবে কখন সিরাঞ্জের চোখে অপরাধী সাব্যন্ত হন সেই ভয়েই সবাই তটস্থ হয়ে থাকতেন। ইংরেজদের সিরাজ পুপিওয়ালা' বলতেন এবং মনে গ্রাণে স্ব করতেন।+৯ ৩১৮ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। সিরাগ্তদৌল্লা ৫০০০০ অশ্বারোহী আর পদাতিক সৈন্য নিয়ে কাশিমবাজার কুঠি অবরোধ করেন ২রা জুন ১৭৫৬ খ্রীষ্টাব্ব। শওকতজঙ্গও তীর পরাক্রম দেখে বশ্যত' স্বীকার করেন এবং কলকাতা জয়ে ৪০০০ সৈন্য সাহায্য করেন । সিরাজের কলকাতা জয় এক বিরাট কীতি! রযয়ছুলভের নেতৃত্বে মীরমদন এই জয়ের প্রধান ত্রষ্টা। সিরাজ কিন্তু কলকাত। জয়ের সময়ও মহিলা সংগ্রহের ব্যাপারটা ভোলেননি। লা সাহেব লিখেছেন যেতিনি পরে জেনেছেন সিরাজের হারেমে কলকাত। জয়ের পরে যে মহিলাকে আনা! হয় তিনি ছিলেন গজানদীর এক ইংরেজ জাহাজ চালকের স্ত্রী। ঢাকার ইংরেজ কুঠিতে ছুই তিনটি পরমাস্ুন্দরী রমনী আছেন খবর পেয়ে সিরাজ লুব্ধ হযে পড়েন 'এবং তাদের সংগ্রহে সৈন্ত পাঠান । ঘটনাচক্রে সে তষ্বর্ম ঘটেনি 1৮০ ৫€ই ফেব্রুয়ারী ১৭৫৭র যুদ্ধে পরাজয় ও পলায়নের পর সিরাজের চক্রিত্রে লক্ষনীয় পরিবর্তন দেখে লা সাহেব আশ্চর্য্য হয়েছেন । ইংরেজদের প্রতি ঘ্বণ' এবং তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবার নবাবী সংকল্প অট্রট থাকলেও তিনি তাদের ভয় করতে আবস্ত করেছিলেন । এই ভষ এত স্পই যে নবাব দরবারে ওয়াটস সাহেব গল! ফাটিয়ে চীৎকাবে করে সন্ধির পাওনা বারে বারে আদায় করতে লাঁগলেন। শাস্তির প্রস্তাব নিধে যেদিন ক্লাইভের কোন চিঠি 'মাসত নবাব রীতিমতো! খুপী হয়ে উঠতেন। তার ছুই চোখ আর মন ভবেছিল ইংরেজ কোম্পানী তাই তিনি সভাসদদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পারলেন না । ইংরেজ যখন হুমকী দিল কাশিমবাজারের ফরাপসীদের তাডাঁও নইলে যুদ্ধ হবে! সিরাজ তার বহুদিনের স্বহদ এবং ফরাসী শক্তির প্রতিনিধি লা সাহেবকেও বাংল! ছেড়ে চলে যাবার আদেশ দিতে বাধ্য হলেন । ল! সাহেব বলেছেন ভয় আর লোভ সিরাজ চরিত্রের বৈশিষ্ট্য । যতদিন শক্তির অহঙ্কার ছিল ততদিন লোভই ছিল দ্িরাজের প্রতৃ কিন্ত যেদ্দিন থেকে ভয় এসে লোভের জায়গায় বসল সিরাক্ের সমস্ত কাজ কর্মচিস্থা ভাবনা বিপথ- গামী হয়ে গেল। কলকাতার পরাজয়ে এই ভয়ের সরু চন্দননগরের পতনে সভন্রগুণ বরধিত হল। লা সাহেবকে বিদায় দেবার সময় সিরাজদৌল্লা বিরক্তি প্রকাশ করে বলে ফেললেন-_“আপনাদের জন্তেই এসব হচ্ছে । আপনাদের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে বলেই ইংরেজ যুদ্ধসজ্জা করেছে । আপনাদের জন্টে আমিতে৷ আর সমস্ত দেশটাকে বুদ্ধ বিগ্রহে লিড করতে পারিনা । তাছাড়। আলিবর্দী থা ও সিরাজ-উদ-দৌল্ল! ৩১৯ আপনাদের আমি রক্ষা করব কেন। আপনার! নিজেদের রক্ষা করতে একেবারেই অক্ষম । আমি বখন সাহায্য চাই পাইনা । এখন আপনাদের আমার কাছে সাহায্য গাবার আশা করা উচিত নয়? (0 205) কিন্ত ল। সাহেবের সঙ্গে সিরাজের হছ্যতা শেষ মুহর্তে প্রকাশিত হল। বন্ধুত্ব ও সখ্যতা প্রকাশক «পানের খিলি” হাতে দিয়ে লা সাহেবকে নবাব বললেন-__ 'যে রাস্তা দিয়ে ইচ্ছা আপান যাত্রা! করুন । ঈশ্বর আপনার পথ প্রদর্শক হন (9. 206) লা! সাহেবের বর্ণনায় এক অপরিনামদশী ছুবিনীত যুবক ভেসে ওঠে চোখের সামনে । মনে হয় নিজের দুশ্চবিত্রতা আর ভীরুতার কাছে পরাজিত হয়ে কিংকর্তব্যবিমুড হয়েছেন । বন্ধুহীন একাকীত্ব তার কাণ্ড- জ্ঞানহীনতার সহায়ক হয়েছে। সকলের প্রতি অবিশ্বাস ও কাপুরুষতা, তাকে করে তুলেছে অত্যাচারী । স্ীাফটন সাহেব দববারে নবাবকে দেখে কাশিমবাজার কুঠি থেকে ক্লাইভকে চিঠি লিখলেন ২৮শে এপ্রিল ১৭৫৭ | তিনি লিখেছেন যে “মথুবামল আর নন্দকুমাবের চিঠি পেয়ে নবাব আবার বেগে ফেটে পড়েছেন। এর! জানিষেছেন যে ক্লাইভ মুশিদাবাদ অভিমুখে সমরসঙ্জা করছেন। দামনে বুড়ো উমিচাদকে পেয়ে নবাব তাকে যতপরোনাস্তি অপমান করলেন তারপব মীরজাফরকে ডেকে সৈন্য সাজাতে বললেন, এমনকি তাঁর নিজের তাবুও বাইরে থাটান হল। ল! সাহেবকে ফিরিয়ে আনার জন্য তথনি চর পাঠাতে বললেন । ইংরেজদের ধ্বংস কবে ফেলবার আদেশ দ্িলেন। সন্ধ্যায় আপনার চিঠি পেয়ে নবাব খুব খুসী হলেন। সমস্ত আদেশ নাকচ করে দেওয়া হল। ওয়াটসকে ডেকে শুনিয়ে দিলেন যে ইংরেজ এক পা আগালেই যুদ্ধ অনিবাধ্য | কিছুক্ষণের মধ্যেই ওয়াটসের সঙ্গে নবাব আবার বন্ধুত্ব প্রকাশ করলেন। নবাব ইংরেজবাহিনীর অগ্রগতি বন্ধ করে দেবাব প্রতিশ্রুতি চেয়ে চিঠি লিখবেন বললেন । এসব ঘটনাতেই সারাদিন কেটে গেল। তবে আপনার জেনে রাখ! ভাল যে নবারের সৈল্ত প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।” (5. ০. 11111/ 9৫. 89798। 1756-_57, 13. 344--346 )। বদমেজাভ আর রাজনীতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা নবাব সিরাজদৌল্ল।র পতনকে তরাদ্বিত করেছে। মীরজাফর তার ব্যবহারে গিয়েছে বিপক্ষে । এমনকি তার পরম হিতাকাজ্জী মোহনলাল আর মীরমদূনের ওপরেও আম্থ। ১ ৬২০ বাংলা &এতিহামিক নাটক সমালোচনা রাখতে পারেননি । কোনরকম সদগুণ সিরাজদৌল্লার মধ্যে পাওয়া যায় না। জীবন তার অত্যন্ত আনিয়মিত। ন্বেচ্ছাচার তার একমাত্র কীর্তি, অনাচার, অবিচার আর অসংযম তার একমাত্র বৈশিষ্ট্য । এমন চরিত্রকে নাটকের প্রধ'ন চব্রিব্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা অসম্ভব বলেই কল্লিত সিরাজ চরিত্রের সৃষ্টি ্রতিহাসিক নাটকে সিরাঁজদৌল্লার সত্যিকারের চবিত্র প্রকাশিত হযনি। কিন্ত সিরাজের মনোবিকলন নাটকের উপজীব্য হতে পারে যদি সে বিষয়ে কোন নাট্যকার সচেষ্ট হন। চরিত্রের একাকীত্ব, নিঃসঙ্গতা, স্বজনহীনতা, বান্ধব- হীনতা, ট্রীজেডি সৃষ্টির সহায়ক হতে পাবে । বিলাসে লাপিত, ভোগে পালিত, মাতা, মাতৃঘষা, স্্রীর ভালবাস না পাওয়া এক জীবন। মোগল শাসনের সায়।হৃ, চরিত্রের মধ্যে স্পষ্ট প্রকাশিত । মাতার আসঙ্গলিপ্সায় বাধা দেওয়া, মাতা ও মাতঘধার প্রণয়ীর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা, মাতামহের ন৷ বলা নির্দেশে সিরাজ চরিত্রকে ট্রাজিক বিভৎসতা দিয়েছে । তারপর নিজে সেই কামনা সমুদ্রে আক নিমজ্জমান। ভোগের চোরাবালিতে তার সমাধি । এরই মাঝে এক ক্রীতদাসীর প্রেম, নিষ্ঠা, শুভকামনা তার নিত্যকার সঙ্গী । অথচ নবাব ক্রীতদাসীকে স্ত্রীর মধ্যাদা দ্রিতে পরান্মুখ হলেও সেই ক্রীতদাসীই ঘোষণা করল যে তার কন্তা নবাবের বীধ্যসস্ভৃতা। ঘে লুৎফউান্নসাঁকে স্রিজ কোনদিন মধ্যাদার আসন দিলেন না তিনি সযত্বে রক্ষা করলেন তার নাম। ত্ত্রী না হয়েও স্ত্রীর কর্তব্য সম্পাদন করে গেলেন আমৃত্যু (হ্থত্র ২৯ দ্রষ্টব্য)। লুৎফউন্নিসা আর সিরাজ বিপরীত সংযোগ । কাশ্মিরী হিন্দু আর আরব-তুকী মুসলমান বাংলার নরম মাটিতে একত্র হলেন কিন্তু এক হলেন না। এই উ্রাজ্ডৌ চমত্কার নাটকীয় উপাদানে ভরপুর । সিরাজকে রাজনৈতিক ও দেশপ্রেমিক করে তুলবার তাগিদে এদিকে দৃষ্টি দেবার কারু অবকাশ হয় নাই। ভালবাসার কাঙাল এক তরুণ নিজের মনের বিহ্বলতার কাছে হেরে গেল। তার একান্ত ঈপ্দিত বস্ত্র তার হাতের মুঠোর মধ্যে রয়েছে সেদেখতে পেল না। ঘটনাতবঙ্গ তাকে এক নারকীয় চরিত্রে রূপান্তরিত করল। এমন বিয়োগান্ত ঘটন। সহজে পাওয়া যায় ণা। চমৎকার নাটক স্থষ্টির উপাদ্দান। কিন্ত ইতিহাসের পক্ষপাতহীন দৃষ্টিতে সিরাজদৌল্লা বাঙালীর জীবনে এক ছুংস্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়। একশ বছর ধরে সিরাজদৌল্লা সম্পর্কে নান! নাটক লিখে বাঙালী তাদের আলিবদী খা ও সিরাজ-উদ-দোল্লা ৩২১ ভাবালুতার পরিচয় দিলেন । রাষ্ট্রবিপ্নবের মহামুহুর্তে সিরাজ চরিত্রের ব্যর্থতা প্রকাশ করতে পারলেন না; নাটকের ইতিহাসে এট] চরমতম বিয়োগান্ত ঘটনা । বাংলাদেশের নাট্যকাররা অষ্টাদশ শতাব্দীর সমসাময়িক যুগকে তাদের নাটকের মাধ্যমে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামাজিক কোন ঘটনাই তারা ফুটিয়ে তুলতে পারেননি। ছিন্ুমুসলমানের কলহের যুগে নাটক লিখতে বসে তারা ধরে নিয়েছেন চিরকালই এমনি ছিল । তাই হিন্দুমুসলমান মিলন সঙ্গীত তাদের ন|টককে মুখর করেছে। অষ্টাদশ শতাব্দীর হিন্দু-মুঙ্গলমান সম্পূর্ণ ভিন্ন বস্তু । ইংরেজ শিক্ষিত হিন্দু নাট্যকার ইতিহাস পাঠ না করায এ বিষয়ে কোন হাল- হদ্িশই পান নাই। দে যুগে হিন্দু মুসলমানে বিরোধ ছিল না। তার ওপর বুসলমান তখন রাজার জাত তাদের হালচালই অন্য রকম। সাধারণ হিন্দু খাওয়া দাওয় পোষাক পরিচ্ছদ চালচলনে পুরোপুরী হিনদুষাঁনী বজায় রাখতেন । নবাব কর্মচারী হয়ে যে সব হিন্দুদের মুসলমানা পোষাক এবং আদব কায়দা করতে হত তারাও বাড়ী ফিরেই ধড়াচুড়। ছেড়ে স্বস্তি পেতেন। কোন হিন্দু তা সে যত উচ্চ কুলোস্ভব বা নামী সরকারী কর্মচারী হোন না কেন মুসলমানের সঙ্গে বেনী ঘনিষ্ঠতা! করলে স্মাজে ব্রাত্য হতেন। কাছেই হিন্দু মুসলমানের মধ্যে কাচের প্রাচীর পরম্পরের ছোয়া বাচিয়ে চলত। তখন মুসলমান বলতে দুইরকম জাতি বোঝাত । এক হলেন বাঙাপী মুসলমান এরা সাধারণ লোক আর অন্য হলেন শাসক মুসলমান এর! সকলেই বিদেশী । আলিবর্দী, সিরা জদৌল্লা, মীরজাফর, ইয়ারলতিফ খ! এমনকি মীরকাশিম পর্য্যন্ত সকলেই এই বিদেশী শাসক মুসলমান সমাঞ্জের অন্তভূক্ত। বাংলার নবাবরা প্রায় সকলেই ছিলেন “সিয়” সম্প্রদায়তুক্ত, দিল্লীর “নুষ্নী” সম্প্রাদদায়তুক্ত বাদশাহবংশ তাই কখনই বাংলার নবাবদের আপনজন ভাবতে পারেন নাই। আমাদের হিন্দু নাট্যকার্গণ মুললমান সমাঞ্জ ব। তাদের আচার ব্যবহার সম্পর্কে স্পট অজ্ঞতাই দেখিয়েছেন। কপহেরে যুগে বাস করে তারা মুসলমান চরিত্র নিয়ে বহু নাটক বলনা করলেও তাদ্দের সম্পর্কে একেবারেই অন্থুসন্ধান করেন নাই। আর এক মহৎ দোষ দেখা যাঁয়। একবার কোন নাট্যকার কোন চরিত্র সৃষ্টি করলে পরবণি নাট্যকাররা তার জের টেনে চলেন। নাদির শাহ ৩২২ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ সম্পর্কীয় নাটকেও এই ঘটনা দেখা গেছে। সিরাজ হতে হতে দেশহিতৈষী হয়ে গেলেন, মোহনলাল এক মস্ত বীর আর মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকের সেরা। বীর আলিবদীকে ভূলে স্ষ্টি হল এক জবুস্থবু বুদ্ধের । জগৎশেঠ হলেন নীচ কুশীদজীবী, রায়ছুল ভ হীনবুদ্ধি কর্মচারী আর ওয়াটস এক কাগুজ্ঞানহীন বীর ইংরেজ, সিনফ্রে সিরাজের ফরাসী সেনাপতি । নবীনচন্দ্র ছাড়া ক্লাইভের কোন স্পষ্ট ছবি নাট্যকারগণ আকতে পারেন নাই। অথচ প্রতি নাটকেই পলাশীর যুদ্ধের উত্তেখ করা হয়েছে । ক্লাইভকে কখন সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে পলাশীর বিবরণ লিখে বাঙালী নাট্যকারগণ প্রমাণ করেছেন যে ডেনমার্কের মুবরাজকে বাদ দিয়েও হামলেট নাটক কর] সম্ভব । রাজা রাজবল্লভ নাটকে নাটকে লুকোচুরি থেলেছেন। কখন তিনি প্রধান চরিত্র কথনও একেবারেই অন্ত্ধান। নবাব মহিষীর মর্যাদা পেয়েছেন লুৎফউন্নিসা বেগম। তাকে বাঙালী হিন্দুর ঘরের এক পুতুল বৌ বানান হয়েছে । মহিষী হিসাবে সন্মানিত হলেও তার কর্মচঞ্চল জীবনীর প্রতি অবিচার করা হয়েছে সব থেকে বেশী। ঘসেটি বেগমও একমুখী চিন্তাতরঙ্গে বিশ্বাসঘাতিনী হয়েছেন । সিরাজদৌল্লার মাতা আমিনা বেগম, সিরাজের শিক্ষাগুরু হোসেন কুলিখা বা সিরাজের কনিষ্ঠ ভ্রাতা মীর্জা মেহেদী কোন নাট্যকারের স্পর্শ পান নাই । সিরাজের ভ্রাতুষ্পুত্র মুরাদদৌললাকে কিছুদিন “ছোটনবাব বলে ডাকা হয়েছে, তাকেও কোন নাটকে দেখা যায়না । শওকতজঙ্গের পক্ষে বাঙালী বীর শ্যামসুন্দরের বীরত্ব কাহিনী কেবল ছোটদের নাটকটিতে অন্তভূক্ত হয়েছে । লক্ষ্য করবার বিষয় যে নন্দকুমীর তখনও শহীদ হননি । তার বিশ্বাসঘাতক এবং উৎকোচ গ্রাহক রূপটাই বিভিন্ন নাটক মাধ্যমে প্রকাশিত । পরবতি খণ্ডে নন্দবুমারের শহীদ হবার ক্রমবিবর্তন দেখা যাবে। মসিয়ে ল! বা তার লেখনী সম্পর্কে সকলের অজ্ঞতাই ফুটে উঠেছে । সিরাজদৌল্লার অন্যান্ত বন্ধ বা শত্রু সম্পর্কে গিরিশচন্দ্র ছাড়া কেউই কোনরকম অনুসন্ধান করেন নাই । সমসাময়িক কালের সামাজিক ব্যবস্থা না জান! থাকায় সা হিত্য-সংস্কতিতে ৫ সময়ের কোন প্রভাব পড়েছিল কিন| নাট্যকারগণ বুঝতে পারেন নাই। তাদের নাটক পড়ে সমসাময়িক কোন সাহিত্যের নাম জানা যায় না। রীমগ্রসা্দ নাটক একেবারেই অলীক ঘটনাপূর্ণ এবং আলোচনার অযোগ্য । সুতরাং সেই সময়কার বাংলার প্রচুর খাদ্যসম্তার এবং প্রাচুর্য কি ভাবে সাধা- আলিবর্দী খা ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ৩২৩ রণের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করেছিল নাটকে তার খোজ পাওয়া যায় না। যে মদমত্ত পারিপাশ্বিকত1 ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্ের বাংলার সমাজব্যবস্থায় গ্রচলিত ছিল তাতে কোন উচ্চভাব অস্কুরিত হতে পারে না। তাই সাহিত্যে শিল্পে সঙ্গীতে এই সময় হতাশাব্যঞঙ্জক । অথচ মোগল সাআাজ্যের পতন ও ইংরেজ- দের শাসন স্থুরু হওয়। মাত্র শিল্প সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আরম্ত হল নবজাগরণের যুগ। সঙ্গীতে থেষাল প্রতিষ্ঠিত হল ব্বমর্ধ্যাদায়। শিল্পস্থষ্টি যেন বাধন কেটে প্রকাশিত হল প্রর্গাপতিব মত। নৃত্যে লক্ষৌএর নয়া ঘরাণা কথকের তালে নেচে চলল, সহজ হয়ে দেখ দিল মাদ্রাজে কেরালাঁর কথাকলি। মুসলমান যুগের অন্তিম সময়ে বিলাপিতা ক্ষয়রোগের ছরারোগ্য প্রাবল্যে নেতৃস্থানীয়- দের গ্রাস করল। বাদশাহ শাহ আলম থেকে প্রধান উজীর স্থুজাউদৌল্লা সবাই এই রোগে ভূগেছেন। বুদ্ধ মীরজাফর বাদ যাননি সিরাজ তো৷ বালকমাত্র । তাই তর্কের খাতিরে যদ্দি ধরে নেওয়া যায় যে সিরাজ অত্যন্ত আত্মসচেতন নবাব ছিলেন তাহলেও ত্বীকাব করতে হবে যে নাগরীর কলহান্তে, নর্তকীর নুপুর নিকনে, সুরার সঙ্গীতে দে সচেতনতা ভেসে গিয়ে গঙ্গায় বিলীন হয়েছিল । নবাবের নবাবী অন্হিত ; কলনাদিনী গঙ্গা আভও প্রবহমান । এতিহাসিক ঘটনাবলী বা এতিহাসিক চরিত্র চিত্রণে নাট্যকারগণ যে অপারগ ভয়েছেন তা প্রমাণ কর! হয়েছে । ছুঃখের বিষয় যে তারা সমসাময়িক সাহিত্যকেও উপেক্ষা করেছেন তাই সামাজিক চিত্রও প্রকাশ করতে সক্ষম হতে পারেন নাই । সামাজিক রূপ সম্পর্কে অজ্ঞতার ফলে দেই সময়কার অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে তাদের অজ্ঞানতা প্রকাশ পেয়েছে । অথচ কেবল সঙ্সাময়িক সাহিত্য লক্ষ্য করলে এ বিষয়ে তারা স্পষ্ট ধারণা করতে পারতেন এবং নাটকের আবহাওয়াতে সমসাময়িক কালকে নিয়ে আসতে পারতেন। এইসব বিষয়ে তাদের উৎসাহের অভাবে তাদের নাটকে বিংশ শতার্বীর সভ্যতা ও সংস্কৃতির ছাপ পড়েছে । কোন নাট্যকারই তার নাটকে অষ্টাদশ শতাব্ধীকে দেখাতে পারেন নাই। এই চরম ব্যর্থতা তাদের ধরতিহাসিক নাটক রচনার প্রয়াসকে উপহাসের সামগ্রী করে তুলেছে। অগ্াদশ শতাব্দীর আবহাওয়া ও পারিপার্থিক অবস্থা সুষ্টি করা কঠিন হত না যদি অস্তত, সেই বুগের বাংল! সাহিত্য অভিনিবেশ সহকারে অধ্যয়ন করা হত। কিছু না জেনে এ্তিহাসিক নাটক রচনার প্রয়াস সফলতার আশা করতে পারে না। ৩২৪ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা পলাশীর যুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে শুধুমাত্র কাশিমবাভারের জনসংখ্য! ছিল একলক্ষ ৷ ব্যবসায়ী সহর হবার জন্য বহু বণিক, মহাঁজন, অফ ও গদীওয়ালা স্বারীভাবে বসবাদ করছে । গুজরাটি বণিকরা গঙ্গার ধারে এক উপনিবেশ সুষ্টি করে ফেলেছেন। এই অঞ্চলের নাম হয়েছে মহাঁজনটুলি । অধিবাসী- দের বেণীর ভাগই হিন্দু। তাদের মধে) অনেকেই বৈষ্ণব । শ্রীচতন্য মহা- প্রভুর প্রভাব খুব বেশী । কেনাবেচার মাঝে প্রায়ই কীর্তন শোনা যায়, মৃদ্গ আর কর্তালের ধ্বনি ব্যবসায়ীদের উম্মনা করে দেয়। ইংরেজ বণিক ও স্থানীয় ব্যবসাফীদের প্রতিপত্তি বুদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বহু শাস্তিপ্রিয় ব্রাহ্মণ নদীয়াতে রাজ কৃষ্ণচন্দ্র রাজত্বে বসবাস করতে চলে গেলেন। তীর্দের জমি-জমা বাড়ী ঘর হিন্দু ব্যবসায়ীরা কিনে নিলেন। নদীয়া তখন শান্ত্রর্চার কেন্দ্রভূমি। ন্যায় দর্শন ও স্বতি সব বিষয়েই নদীয়াতে চা চলছে। রাজা কৃষ্ণচন্দের সভায় ভারতচন্তদ্র কাব্যরচনা করে চলেছেন। পলাশীর যুদ্ধের আগেই ভারতচন্দের পূর্ণ বিকাশ হয়, মৃত্যু হয় ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্দে। গানিতিক শুভংকরও এই সময়কার মান্ষ। রামপ্রসাদ ও আজু গোঁসাই পলাণী-পুর্ব যুগেই প্রসিদ্ধিলাভ করেছেন। এছাড়া মেদিনীপুরের রাজা রামসিংহের সভায় রামেশ্বর ভট্টাচার্য শিবাযণ রচন| করলেন। বিষ্ুপুরে বখুনাথ সিংহের সভায় শঙ্কর চক্রবতি ব্ামায়ন ও মহাভারত বাংলা ভাষায় প্রকাশ করলেন। বর্ধমানের মহারাজ কীতিচন্রের সভায় ঘনরাম চত্রবতি ধর্মমঙগল রচনা করলেন। বীরভূষের আসাদ আল্লা খানের সভায় নৃপিংহ বঙও ধর্মমঙ্গল রচনা করলেন। এর! ছাড় বহু বিখ্যাত সাহিত্যকীতি রচিত হল এই সময়। তাদের মধ্যে বিখ্যাত কবিচন্দ্রের রামায়ণ, বলরাম দাসের কষ্ণচলীলামুত, রামজীবনের মনসামল ও হুর্যমঙগল, কবিরাজ ফকিরামের লঙ্কাকাণ্ড আর প্রেমদাসের চৈতন্য চক্দোদয় কোমুদ্রী। এই যুগের পীচাঁলী গানের মধ্যেও আছে সমসাময়িককালের চিত্র । এ যুগের বহু হিন্ছু যেমন বৈষ্ণব তেমনি বহু মুসলমান সুফী মতাঁবলম্বী । উভয় সম্প্রদায়ের বত কবির বনু গাথা আজও পাওয়া যায়। সহজিয়া ও আউল বাউল সম্প্রদায় এই সময় বেশ সম্প্রসারিত হয়। বাঙালী হিন্দুর ন্ায় অদ্বেষী মন হিন্দুধর্মের ফাটল দিয়ে প্রকাশিত হল ।-__ “তোমার পথ ঢাই গ্যাছে মন্দিরে মসজেদে। তোমার ডাক শুনি গ্লাই, চলতে না পাই আলিবদী খা! ও সিরাজ-উদ-দৌল্ল! ৩২৫ রুখে দীড়ায় গুরুতে মরশেদে ॥ আরে চমৎকার গান_-ও তোর কিসের ঠাকুর ঘৰ? (যাবে) ফাটকে তুই রাখলি আটক তাবে আগে খালাস কব।' অর্থনৈতিক দিক থেকে মুশিদাবাদেব পাশ্ববত। অঞ্চলের উন্নতি লক্ষনীয়। ১৬৩২ শ্রীহাব্বে হুগলী বন্দবেগ পতু গজ আধিপত্যের অবসান হয় এবং হুগলা বাদশাহী বন্দরে রূপান্তবিত হয। তখন সাধাবণ বাবসায়ীর বন্দর কাশিম- বাজারে জমায়েত হলেন। কাশিম্বাজারেব উন্নতি আরম্ভ হল। ১৭০৪ খ্রীাব্দে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে মুশিদাবাদে স্থানান্তরিত হল। বাঞ্ধানীর তিনমাইলের মধ্যে অবস্থিত বলে বন্দর কাশিমবাজার খুবই উন্নতি লাভ করল। বাংলাদেশ থেকে তখন নান। জিনিষ রপ্ধানী হত । বাদশাহ ওরঙ্গজীব বাংলাদেশকে তার সামাক্যের নন্দনকানন (29180153011 10710৬17099 ) বলে স্থখ্যাতি করতেন । প্রণান রপ্তানি ছিল চাল। প্রচুর পরিমাণে চাল বিভিন্ন দ্রেশ গ্রহণ করত । এছাড। সোরা, রেশমবন্ত্র, তাতবন্ত্, ঘাসের তৈরী থাঁন ও চাটাই জাতীয় জিনিষ, চিনি, নীপ, ঘি, লঙ্কা বা মবিচ, মোম লাক্ষা ও মাটির পুতুল বাংলার অন্যতম রপ্তানী বলে গণ্য হত। জব চারণক যখন কাশিম- বাঙার ইংরেজ কুঠির অধ্যক্ষ তখন পাটনাব (রশম ব্যবসায়ে ৫০০০ পাঁউও আর কাশিমবাঞারের রেশম ব্যবসাষে ৪০০০ পাউও লগ্মী কর! হয়। রেশম ও তাঁতের কাপডের ব্যবসার প্রসারের জন্যই ওলন্দাজ, ফরাসী আর ইংরেজ- দের কুঠি কাঁশিমবাজারে স্থাপিত তয়। ১৭৩৪ খ্রীষ্টান ফরাসীর] রেশম ও স্থন্টির কাট! কাপড বপ্তানি সরু করল। প্রতিবছর ৬০০০ পেটি সেরা সিক্ষের হুতো ব1 টানি ক্রয় হতে থাঁকল। সাদা গাড় বা মোটা স্থতি কাপড়ের থান প্রচুর পরিমাণে ফরাসী দেশে যেতে লাগল । ফরাসী সর্বাধ্যক্ষ ডুপ্লে, ও ডুমার চেষ্টায় কাশিমবাজারে নূতন জিনিষের ব্যবসা সরু হল। তার] চীন থেকে ফটকিরি, কর্পুর, দস্তার তৈরী জিনিষ, পারদ, চীনামাটির সামগ্রী» চীনাসিন্দুর আর ঝুটা মুক্তা নিয়ে এসে বাংলার বাজারে বিরাট চাঞ্চল্যের সথষ্টি করলেন। ডুপ্রে ফরাসভাঙ্গায় রাঞ্জের সেরা তাতীদের সঞাবেশ করলেন। ফরাসডাঙ্গার তাতের জিনিষ পৃথিবী বিখ্যাত হয়ে গেল। ১৭৩৩ ৩২৬ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন! খীষ্টাবে পাচখানা মাঁলজাহাঁজ কাঁশিমবাজার থেকে মাল নিয়ে সোজা ফরাসী দেশে পৌছে গেল। বেশম ব্যবসায়ে কাঁড়াকাঁড়ি বেডে গেল | দাদনী ব্যবসাদ্দারগণ কাচা! রেশম সরবরাহ করার জামিন হলেন । ক্রমে রেশম ও তাত বন্ধের ব্যবসায় আকাশ ছু'ষে ফেলল । বিদেণী প্রতিছন্দীদের হারিয়ে ইংরেজ কোম্পানী বাবসাধেব ক্ষেত্রেও মুখ্য ভূমিকা নিলেন। হযে সব দেশীয় ব্যবসায়ী তাদের সঙ্গে সহযোগিতা কবলেন না তারা ক্রমে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেন । (501161019. 0181019 1910, 119 210 111785 0 0817190 981000, ৬০1. 1, 01181018911, 1978) বিভিন্ন পর্যটকের রচনাতেও তৎকালীন বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ জানা যায়। ভেনিসের নিকোলো মানুচী এই অঞ্চলে আসেন ১৬৬০-৬১ খ্রীাব্দে, তার রচনায় দেশের সুন্দর ছবি পাওয। যায় । এছাডা বাওরে (80৬/19, 008170165 100170 078 138 01 881091) ১৬৬৯-৭৯ খ্ষ্টাব্দে বাংলায় আসেন। “মসলিনের” বর্ণনায় তার বৃত্তান্ত কাব্যস্ষম। পেয়েছে । বেরনিয়ার বর্ণনা দিয়েছেন সমুদ্ধিপূর্ণ বাংলাদেশের । মানরিক বলেছেন পৃথিবীর সব থেকে সম্তা জায়গা এই বাংলাদেশ । এখানে দেড়টাকা মণ ভাল চাঁল আর ছু টাকা মণ ঘি পাওয়া বায়। ২৫টা মুরগীর দাম ছিল ২ টাকা, খাবার জন্ত গকর দাম ছিল ১ টাকা । তাছাড়া ভাত থেকে এক উৎরুষ্ট মগ সম্তায় পাওয়া যেত। ট্যাভেরনিয়ারের রচনায় এক “সতী, অনুষ্ঠানের বর্ণন। পাওয়া যায়। এই সব পর্যটকদের রচনা পাঠ করলে অষ্টাদশ শতাব্ধীর বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বোঝা যাষ। এই সময়কার হালচাল বোঝার এত সুযোগ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই আশা কর! যায় যেএ সময়কে কেন্দ্র করে কোন রচনার অবতারণা করলে এই রচনাগুলির কয়েকটি বা অনেকগুলি পাঠ করা প্রয়োজন অথবা এ বিষয়ে ধারা ইতিহাস রচন। করেছেন সেগুলি অনুধাবন কর] কর্তব্য । এঁতিহাসিক নাটক রচনায় ভূগোলের বোধ থাকা দরকার । ভূগোল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে নান! বিভ্রম হ্ষ্টি হয়। এই সময়কার ভাগরথী ছিলেন ক্ষীণকায়। নদীর দুইপাশে গড়ে উঠেছিপ মুশিদাবাদ সহর 1 এপাড়ে ছিল 'নবাবী কেল্লা ওপাড়ে ছিল হীরাঝিল। স্থলপথে মুশিদাবাদ থেকে কাশিমবাজার ঘুরে আসতে হতো কিন্তু নদীপথ হয়ে সহজে আসা সম্ভব ছিল। আলিবদ্দী খা ও সিরাভ-উদ-দৌল্ল। ৩২৭ পরবন্তীকালে নদীর একপারে চলে এসেছে মুশিদাবাদ শহর । হীরাঝিল গঙ্গাগর্ভে, নবাবী কেল্লা লুপ্ত । কাশিমবাজার 'এক বিশ্বৃত প্রায় গণ্ড গ্রাম । নিঃসন্দেহে বলা চলতে পারে যে অগ্নাদশ শতাব্দীর প্রথম সাতান্ন বছরের ইতিহাস নিয়ে যে সব নাটক লেখা হয়েছে তাতে এই সময়কার স্থান কাল বা পাত্র কিছুই প্রতিফলিত হয় নাই। এ্রতিহাসিক নাটক হিসাবে তাই এদের অভিহিত করা যায় না। এতিহাসিক নাটকের মর্যাদা এই রচনাগুলিতে রক্ষিত হয় নাই । উপরস্ত অধিকাংশ রচনা নাটক হিসাবেও ব্যর্থ হয়েছে । কেবল কল্পনার দ্বাবা পরিচালিত পৌরানিক ও সামাজিক নাটকের মতো! ্রতিহাসিক নাটকও একই পদ্ধতিতে রচিত হয়েছে । প্রতিহাসিক রচনার ক্ন্য যে ইতিহাস জ্ঞানের প্রয়োজন তাও নাটকগুলিতে অনুপস্থিত । ছুই চারটা ঘটনার সঙ্গে এ্চুর কল্পনার মিশ্রণে এই র্রচনাগুলি উৎপত্তি লাভ করেছে । ১৮৭৫ থেকে ১৯৭৫ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে ১০০ বছরকার নাট্যইতিহাসে এই ব্যর্থতা সত্যই করুণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ । বাঙালী মনীষার এই ইতিহাস বিমুখতা নিঃসন্দেহে তাদের আত্মবিস্বৃতি প্রমাণ করে ॥ ॥ প্রথম খণ্ডের উপসংহার ॥ প্রথম খণ্ডের উপসংহার রচনা করতে গিয়ে কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্তক। (ক) পৌরাণিক ও সামাজিক নাটকের মতে! অধিকাংশ এতিহাসিক নাটক কল্পন৷ ভিত্তি করে রচিত হয়েছে । ইতিহাসের কয়েকটি পাত্রপাত্রীর নাম গ্রহণ কর। হলেও তাদের এতিহাসিক চরিত্র গ্রহণ কর! হয় নাই। (খ)ট অনৈতিহাসিক নাটক হলেও জনসাধারণ এই নাটক দেখে প্রভাবিত হয়েছেন। নাট্যকারগণও অনেক সময়ে একে অন্তকে প্রভাবিত করেছেন। নাট্যবস্ততে যে গল্প বলা হয়েছে তা শুধু নাটকের দর্শক নন তাদের উত্তরপুরুষগণ বিশ্বাস করতে আরন্ত করেছেন। এই গালগল্প অব- লম্বনেই পরুবতীকালে উপন্াস ছোট গল্প প্রভৃতি রচিত হয়েছে । নাটকের উদ্াহারণেই নাদিরশাহ এক অত্যাচারণ দিপ্বিঙ্গয়ী, আহমেদ শাহ আবদালী এক কুৎসিত ও লম্পট লুষ্ঠক । জাহান্দার শাহ পাঁগল প্রেমিক, বাজীরাও প্রেমিক দেশপ্রেমী ও সদাশিব বাও ভাউ যুদ্ধানভিজ্ঞ কাগুজ্ঞানহীন মূর্খ । বাংলার ইতিহাসের চরিত্রগুলির বিপরীত বিবরণ খুবই কৌতৃহলদ্দীপক সন্দেহ নাই। ৬২৮ বাংল! এঁতিহাসিক নাটক সমালোচনা প্রথমেই সীতারাঁম মূসলমান শাসন থেকে মুক্ত হয়ে বাংলায় হিন্দু সাম্রাজ্য স্থাপনের প্রয়ালী আর মুশিদ্কুলি খা এক নৃশংস ও অবিবেচক শাসক । তারপরেই দেশহিততষী সরফরাজ আর বিশ্বাসঘাতক হাজী আহমদ খা, হিন্দু- গৌরব মহান ভাস্কর পণ্ডিত আর কুচক্রী অকর্মন্য স্থবির আলিবদর্ী, অবশেষে বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর এবং স্বদেশ প্রেমিক বীর মোহনলাল আর তাঁদের উভয়ের প্রভূ দেশের জন্য উৎ্সগিকৃতপ্রাণ স্বদেশবৎসল নবাব সিরাজদৌল্লা। নাটক হিসাবে সব নাটকগুলি উচ্চপর্যায়ের না হলেও সাধারণ বাক্তির ওপর নাটকের যে ছায়া পড়েছে তা অনন্ত সাধারণ । নাটকে প্রচারিত এ্রতিভাসিক চরিত্রগুলি সম্পর্কে এই বিপরীত উক্তিই ক্রমে এমন প্রচলিত হযেছে যে সকলে তাকেই সত্য বলে বিশ্বাস করতে আরম্ভ করেছে । বর্তমানে এ্রতিহাঁসিক সত্য প্রকাঁশ করতে হলে দীর্ঘ প্রবন্ধ লেখ! প্রয়োজন হয়ে পড়ে । ১৮৭৬ পর্যন্ত যে এই অবস্থা ছিলনা! তা নাটক মারফতই বোঝা যায়। স্বতরাং দ্রেখা যাচ্ছে যে এঁতিহাসিক নাটকের রচয়িতারা একটি মাত্র উদ্দেশ্যেই এই নাঁটকঞ্চলি বচন করেছেন এবং তা হল (গ) দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে দেশবাসীকে উদ্দ্ধ করা । এই মূল লক্ষে০ দৃষ্টি রেখে নাট্যকারগণ যে বিষয় নির্বাচন করেছেন তার জন্য সাধুবাদ দিতে হয়। নাঁদিরশাহ অথবা আহমদ শাহ আবদালী; মহারাষ্ট্র ক্ষমতার পূর্ণ- বিকাশের অবকাশে বাজীরাওএর নেতৃত্বে তাদের উত্থান কিংবা বালাঁজী বাজীরাওএর ভূলের জন্য তাদের পতন; নিঃসন্দেহে স্বাধীনতা সংগ্রামকে চউদ্দীপিত করার যথাযোগ্য বিষয়বস্ত । নাদিরশাহ বা আবদালীর অত্যাচার- কে ইংরেজ সরকারের অত্যাচারের প্রতিভূ করার স্থযোগ নাট্যকারগণ গ্রহণ করেছেন। নাটকের বিষয়বস্ত তথ! এ্রতিহাসিক ঘটনাবলীর ওপর তাদের ঘদি আরে দখল থাকত তাহলে কাদের নাটকের সৌকর্ষ হত সন্দেহ নাই । আরো লক্ষ্য করার বিষয় যে বিংশ শতাব্দীর প্রথমদ্িকের নাটকগুলিতে স্বাদেশিকতার আহ্বান যত স্পষ্ট, বিংশ শতাবীীর অগ্রগতির দজে সঙ্গে সেটা কমে যাচ্ছে । তথন স্বাদেশিকতাঁর সঙ্গে হিন্দু মুললমানের মিলনের বাণীও শোনান সুরু হয়েছে এবং ক্রমে হিন্দু-মুসলমনে মিলন ম্বাধীনতা- কাজ্ফছার সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে। সিরাজদৌল্লা! সম্পকীত নাটকগুলি এ বিষয়ে চমৎকার উদাহরণ ॥ নবীনচন্ত্র ও গিরিশচন্দ্র রচনা! করেছেন আলিবর্দী খ| ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ৩২৯ স্বদেশী নাটক, গিরিশচন্দের রাজনৈতিক দিরাজ জনমানসে অগ্নিব্ষী। তারপর বঙ্গেব্গীর সময় থেকেই হিন্ু-মুসলমানের মিলনবাণী এসে গেল। ভাস্কর পণ্ডিতের প্রাণ বাচাবাঁর চেষ্টায় সিরাজ ও মোহনলাল সচেষ্ট। শচীন্দ্রনাথের সিরাজের রাজনৈতিক ভূমিকা গৌণ, হিনু মুলমানে মিলনই তার মুখা উদ্দেশ্ব--াংলা ও বাঙালীর ভাবপ্রবণতাকে ব্যবহার করা হয়েছে। পলাশী শচীক্ষনাথের ব্যর্থ অন্রকরণ, সিরাছের স্বপ্ুও তাই। অবশেষে স্বাধীনতার পরবর্তী যুগে অধ্যাপক মৈত্র এক বপকথা উপহার দিলেন 'মোহনলাল+ নাম দিয়ে। (ধ) লক্ষ্য করার বিষয় কি ভাবে বিভিন্ন নাট্যকার তাদের ব্যক্তিগত সাহস অনুসারে ইংরেজ বিরোধে নেমেছেন । লজ্জার কথা যে অধিকাংশ নাট্যকারই বিশেষ মনোবল দেখাতে পারেন নাই। বিষয়বন্ত্ নির্বাচনে যে প্রন্ঞা, বিষষবন্র ব্যবহারে সে প্রজ্ঞা পাওয়া যায় না। একমাত্র তারাশঙ্কবেব ইচ্ছা হয়েছিল যুগসন্ধির ইতিহাস ব্যক্ত করার। তাতে তিনি অপারগ হয়েছেন। অন্য সকলে কিন্তু খতি- হাসিক নাটকের আডাপে শাসকগোষ্ঠীকে আহত করতে চেযেছেন। সাহস ছিলনা বলেই তাদের রচনা ব্যর্থ হযেছে। বিশেষ ক্ষীরোদপ্রসাদের ব্যর্থতা অবাক হতে হয়। শচীন্বনাথের অমন জনপ্রিয় নাটক লোকের মুখে মুখে প্রচারিত হয়েছে কিন্ত দে এক নিবাধ সর্প। চক্র আছে কিন্কুতেজ নাই। ভাবালুতা। আছে কিন্তু শক্তি নাই । এই নাটক দেখে সকলে কেঁদে ভাসিয়ে দিয়েছে ইংরেজের বিরুদ্ধে রেগে গর্জে ওঠে নাই। আবার তাই গিরিশচন্দ্রে ফিরে আসতে হয়। বন ক্রুটি সত্বেও ইংরেজ শাসকের বিরুদ্ধে এমন প্রতিবাদ আর ধ্বনিত হয় নাই। (উ) এই খণ্ডে আলোচিত একশত বছরের এই ১৯টি নাটকের খন যেমন আজ গল্পে রূপান্তরিত তেমনি নানা গল্প, উপন্তাম ও প্রচলিত কণিক! থেকেই এক নাটকগুলির উৎপত্তি। এইসব নাটকের ঘটনাবলীকে ত্রমক্রমে যেমন অনেকে ইতিহাসের মর্ধ্যাদা দিয়েছেন তেমনি এই নাটকগুলিও গল্প, উপন্তাস কথিকাকে ইতিহাস ভ্রমে নাটকে স্থান দ্বিয়েছেন কোনরকম বিচার বিবেচনা না করে। (চ) সবশেষে লক্ষ্য করার বিষয় যে নাট্যোপ্লিথিত প্রধান চরিত্রগুলির মধ্যে এক সীতারাম বাঙালী | লীতারামের চরিত্র নিয়ে নাটক লেখা প্রধানত বঙ্ধিমচন্ত্রের উপন্তাসের জন্তেই হয়েছে । সীতারাম সম্পর্কে ৩৩০ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা নাটক লেখার কথা বঙ্কিমের ওই উপন্তাস খানি না থাকলে কারু মনের মধ্যে বা চিন্তার জগতে জাগরূক হত বলে মনে হয় না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে গত একশ বছর ধরে বাঙালী নাট্যকারগণ বাদশাহ রঙ্গ জীবের মৃত্যু থেকে পলাশীর যুদ্ধ ও পাণিপথের যুদ্ধ পর্য্যন্ত ঘটনাবলী নিয়ে বে নাটকগুলি রচনা করেছেন তাতে কোন বাঙালী নায়ক নাই। সরাসরি অবাঙালী চরিত্র সমধিক এবং ভুলক্রমে বাঙালী মনে কর! চরিত্র কয়েকটি যেমন আলিবর্দী, সরফরাভঃ সিরাজদৌল্লা বা মোহনলাল । বাঙালী এই সময়কার সমাঁজ- জীবনে পার্খ্চরের ভূমিক। নিয়েছেন সত্য কিন্তু একটি নাটকেও কোন বাঙালী বীর বা রাজনৈতিক নায়ক হন নাই দ্বেখে সন্দেহ থাকেন! যে বাঙলার ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান ও চর্চার অভাবই এই পরিস্থিতির কারণ। সেই সময়কার ইতিহাস জানা থাকলে কাল্ননিক বাঙালী চরিত্রকে নায়ক করেও ইতিহাস লেখা সম্ভব হত। যেমন পলাশার যুগে বাঙালী গৃহস্থ বা মুশিদ্কুলির আমলের বাঙালী কর্মচারীগণের কাউকে মুখ্য চরিত্র করে সুন্দর ভাবেই রাজনৈতিক ঘটনার বিবরণ দেওয়। চলত। বাংলার ক্রমবর্ধমান রেশম শিল্প বা মসলিনের কারুকার্য নিয়ে কোন নাটক যে রচিত হয় নাই এটা বাঙালী নাট্যকারের ইতিহাস অজ্ঞতার ফল। তৎকালীন কলকাতার জনসমাজ নিয়েও নাটক লেখার সুযোগ অবহেলা! করা হয়েছে । এই সময়কার বিভিন্ন সহর যেমন চুচুড়া, চন্দননগর, শ্রীরামপুর, কাশিমবাজার, মুশিদাবাদ বা ঢাকা নিয়ে নাটক রচনা কেউ করেন নাই । এই সময়কার জীবন যাত্রা! অনুসন্ধান করার কোন ইচ্ছা! দেখতে পাওয়া যায় না। তাই আলোচ্য নাটকগুলিতে (ছ) মুখ্য এক রাজনৈতিক বা নবাব বাদশাহ চরিত্র প্রীধান্ত পেয়েছে । এই ভুলের স্বর্গে বিচরণ করে পেশোয়াগণ অর্থাৎ বাজ্জীরাও ও তার পুত্র মহারাষ্ট্রের একচ্ছত্র শাসনকর্তীর মধ্যা্1] পেয়েছেন। পাশাপাশি যে সব মুখ্য বাঙালী চরিত্র আছে সেগুলিও অধিকাংশ সময় একান্ত অবজ্ঞাত। রাজ! হুললভরাম যে কোন নাটকের প্রধান চরিত্র হবার যোগাতা রাথেন। তার পিতা ও পুত্র বাত] জানকীরাম এবং রাকা রাজবল্লচকে নিয়েও নাটক হওয়া সম্ভব । এমনকি জানকীরাম থেকে রাজবল্লভ পর্য্যন্ত তিনপুরুষ নিয়েও নাটক রচনা করা সম্ভব । নাটোরের রখুনন্দন ও রামজীবনকে নিয়ে কোন নাটক তৈরী হয় নাই। দয়ারাম রার বা $ফ্চকাস্ত নন্দীও নাটকের প্রতিপাদ্য হতে আলবদী খ|! ও সিরাজ-উদ-দৌল্লা ৩৩১ পারেন নাই। প্রচুর উপাদান মায় কবি ভারতচন্দ্র থাক! সত্বেও নদীয়ার রাজা কৃষ্ঠন্ত্রকে নিয়ে কোন নাটক হয় নাই। নবকৃষ্ণ দেব বা গকুলচন্ত্র ঘোষাল সম্পূর্ণ অবজ্ঞাত। সব থেকে ছুঃখের বিষয় যে, বাঙালী বীর কলকাতা৷ জয়ী মীরমদ্দন কোন নাটকের নায়ক হবার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারলেন না । ঢাকার রাজবল্লভ এবং তীয় পুত্র কৃষ্তদাসের উন্নতির ইতিহাস যেমন বৈচিত্র্যপূর্ণ তেমনি রোমহর্ষক । এদের নিয়ে কোন নাটক রচিত হয় নাই। ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষ বাঙালীর ইতিহাস সম্পর্কে এই আত্ম- বিশ্বতি সত্যই জাতির চরিত্রের এক বিশিষ্ট দিক সে বিষয়ে সন্দেহমাত্র নাই। সব শেষে বাঙালীর চরিত্রের এক বিশেষ দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ কর! আবশ্তক। বাঙালী থিয়েটার দেখতে ভালবাসে তা আমরা জানি কিন্ত থিয়েটারে দেখা ঘটন| যে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করে তা প্রথম খণ্ডের প্রবন্ধ- গুলি থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় । এই বিশ্বাস এমন শক্ত ভাবে মনকে প্রভাবিত করে যে কোন রকম এঁতিহামিক গবেষণা বা প্রমাণ ত' থেকে সাধারণ বাঙালী মনকে বিচ্যুত করতে পারে না--সেই জন্য জাহান্দার শাহ এক প্রেমিক পাগল» অকর্মণ্য নৃশংস অত্যাচারী নন কিন্তু নাদির শাহ হয়েছেন নৃশংস অত্যাচারী এবং শয়তানের অনুচর, তার ্রতিহাসিক চরিত্র বিস্বৃতির অতলতলে সমাহিত। বাজীরাও, বালাজীরাও এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের বিকৃত ও প্রক্ষিপ্ত রূপই বিশ্বাসযোগ্য ও অনুকরণ যোগ্য হয়েছে । অষ্টাদশ শতাব্ধীর বাংল সম্পর্কে এই অজ্ঞতা, চরমে উঠেছে। সত্য সম্পূর্ণ ভাবে কাল্পনিক ঘটনার কাছে পরাভূত হয়েছে । বাঙালীর বিশ্বাস থিয়েটারে অনুষ্ঠিত কাল্পনিক নাটককে অনুসরণ করে চলেছে । ১১। ১ | ১৩। ১৪ । ১৫ । ১৬। ৯৮ | ১৭। সুত্র নির্দেশ ঃ 01. /১.169111), 1৬101191010 0011 16191) 810 11151177985, 0. 218 09100010 99৬1৬, 1873, ৬০|. 56, 99195 01 991918101. দ্রষ্টব্য £ শ্রীসোমেকচন্দ্র নন্দী, বন্দর কাশিমধাজার ( ১৯৭৮), এবং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকার ৭৪ বর্ষের ওই নামীয় প্রবন্ধ, এবং লেখকের 0090017091 ৫617 1750001.09 0181091018901 পত্রিক[র ১৯৭০ গ্রষ্ঠাব্ধের প্রথম ভলুযুমে প্রকাশিত 09551109281--179 0১961) 0701 ৬/৪৪, ৮৫ থেকে ১০১ পাতা । 09300078101) 501181760. 1115101 0 8970891, ৬০।. || (108০০9 201007 ), 599 : /৯14010। (61981). 04 210 নিাখলনাথ রায়, মুশিদীবাদের ইতিহাস। নিথিলনাথ রায়, মুশদাবাদের ইতিহাস (প্রথম সংস্করণ )১ ৫৭৩ পাতা! তদেব ৫৭৪8 » তদের ৫৭১১ ৫৭৬১ ৫৭১১ ৬৩০৫ তাদাব ৬০৭ ৯» 30797019 011817019 13910, 9811 9119৬420101 0 19001, 58917091089 870 19561, ৬০. ১০111, 59191 130. 175, )910171--/510111, 1974 0. নি. 11501, 9. 010 [01 ড/1|1181, ৬০|., |, 0. 156--166 11010. 0. 170--181 0. 11, 11006, 11098 0 5808 59101 0. 119--122 0. 457--467 08000180) 991101% 9. (011.. 3.5. 98106991, / 9৬ 1115101% 01 06119190085, ৬০1. || (1948), 0. 221--222 09001180) 59116891790. 011. 1010. 5911- (100959117 161917 ) ৬০।, 1, 0. 614 নিখিলনাথ রায় মুশিদাবাদ কাহিনী ১৯১--১৯৪ পাতা 0. 459--467 0. 455--467 (11-1011090176117, 0 118) 18450819 (5494 0০018) ২৩ । ২৫ | ২৬। ৭ | ২৮। ২৯। হত্র নির্দেশ ৩৩৩ 5911-111-10011801161111, 010. 01., ৬০. ||, 0. 17 ০৪100 79৬19৬41892 0. 204 817 1017. ৬9519381081 1015010 3800105+ 19৬/ 591199, 1789--1893, 60 3917481 1794, 0. 148 (€. 16. 70800, 52911 ০91991 01 51198101900 /191, 997081 172851 2170 1701859817 1967, ৬০1, 162, 01/-19091711091, 0. 142--146 5911-01-1001150119111, 72911011700. 61, 011, 0,614 নিখিলনাথ রায়, মুশিদাবাদের ইতিহাস, ১৯৬ পাতা! এবং অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদৌল্লাঃ ৪৫ পাতা |€. 1. 109109, 00. 011 )170310011115528 3898111, 076 ৬/1০0৬/ 01 5119), 1809180 116 95501981911 01781 18101161 01) 116 001110817. 918 ৬1009 00 018 050৬9117017 03617819| 017) 21 401 1788, 001- 01981101170 01021 911 50115 01 109010168 ৬/৪19 10117011790 50115 89911511817 08890 11601510910, 01811110 1191 178 1190 00110/90 17701798৬10 016. 11951011905 1590190 217 01091 00 2১911101181 1101 [178 01115010010) 0 019 /১০৬/81905. (10987. 8817991 79917018 1৬11501 0015115, 38109 51, ৬০1. 20 0121 401 1788, 0. 9/8--980) ৬৪001118101 5811681, 010. 01৮ 0 471 8170 0955110108291 00750019101015 ৬০1. 12, ০0. 24. সোমেন্দ্রন্দ্র নন্দী, বন্দর কাশিমবাজার । ৬,171, 10109, 00. 01 8170 5911-01-1101090119111, ৬০1, |, 0. 279- 273. সোমেন্রচন্্র নন্দী, সিরাজদৌনল্লার মহিবী, ইতিহাস পত্রিকা ৫ম ৭ণ্ ২য় সংখ্যা» ১১৯--১৩৩ পাতা তদেব। এবং 4-000111558 86501) 0190 17) 1৬111511091084 01 501) /৪৬/111 11397518109 5910091710917 1790. 1953 8917199। ৩৩৪ ৩৮। ৩৯ | ৪১ | ৪২ | ৪৩। ৪8৪8 | ৪৫ । ৪৬৩ । ৪৭ । ৪৮ । ৪৯। হুত্রনিশের্ধ 79/91818 11501 001596115, 99109 52, ৬০]. 30. 0 20, 818 1791, 0. 364--382. 27 7919181 001109510017081708 ৬০|. 1) 1790--91 19161 1২০. 735,510. 175, 8159 ৬০।. ১, 1792--93, 19051 1০. 14898, 0. 3095. সুত্র ২১ দেখুন। 5, ০, 11111, 90, 8917991 17 1756--57, ৬০1. |||. 6৬108109 19908910110 11011 0 ৪15, 1757, 0. 396--403 [১1901701) 4101198 ৬০111718009 887981 1910101191 011811- 10981 01 00171116108 8101 17001511250. 1889. হেমেশ্বনাথ ঘোষ, বঙগরঙ্গমঞ্চ ও দানীবাবু, "৫ পাত । তদেব ৭৫---৭৬ পাতা । সত্র ২৮ দেখুন । রমেশচন্্ মজুমদার, বাংলাদেশের ইতিহাস (দ্বিতীয় খণ্ড), ১৭৫ পাতা।। ০.০. 11111, 00. 01 /১17161701 761001 01 079 59139 ০0 009551171082281, 10. 220--224 এবং 18519191015 0. 238--241 1101. 11010. 00.167. (5910) 6611110, ৬/01191 119511795, 0. 20--29 5. 0. 11111. 00. 010, 10166 50191001745 16191, 0. 344-346. এ]. 11. 11009, 010. 011, 0. 81. রমেশচন্ত্র মজুমদ্বার, বাংলাদেশের ইতিহাস, ১৮* পাতা । 5. 0. 1111, 010. 011, 0191% ০01 511 6১19 ৮০909, [১ 321 --323,. রমেশচন্ত্র মজুমদার, বাংলাদেশের ইতিহাস, ১৭৯ পাতা। 18001 9811, 00. 010. 0. 491. 9911-01-1৬101901)9111) [১. 229. 08081178101) 58111, 00, 010 10 49০9-491 0991) 1.8৬/, 1199 [19110101191 11) 8910681। 03. 95--96. €১। ৫৩ | €৪ | ৫৬৩। ৫৮ | ৫১ । ৬০ । ৬১। ৬২ । ৬৩ । ৬৩ ॥ ৬৭ ॥ ৬৮ | সত্র নির্দেশ ৩৩৫ 21009901705 ০0 1016 17991718 309810 00151500179 01 019 ৬/10168 ০০180110140) 60078 1774, 670 1০. 886 5247--5248 রমেশচন মভুমদর, বাংলাদেশের ইতিহাস, ১৮১ পাতা । সোমেন্ধচন্্র নন্দী, সিরাজদৌল্ল[র মহিষী, স্ত্র ২৮ দেখুন । অক্ষষকুমার মৈব্রেয়, সিরাজদোল্ল।, ৪০৭--৪০৯ পাতা । স্তর ৫১ দেখুন । পাতা ১৮০ | ৪৪) 19/711199 [18110111761 11 38170781, 00. 97. অমলেন্দ দে, পাকিস্থান প্রস্তাব ও ফজলুল হক। ইতিহাস পত্রিকা, বৈশাখ-আষাঢ় ১৩৭৮ । নরেন্বরুষ্ণ সিংহ, পলাশী যুদ্ধের সময় বাংলার অবস্থা । ইতিহাস পত্রিকা, ৩য খণ্ড চঠুর্থ সংখ্যা ১৩৬০ । 11111191 নি910011 01 1176 00171771198 01 580180% 910100177190 [০9 61700)116 11700 1018 295 11018. 0011100817%, (1773), 0. 12---17. সুত্র ৫? দেখুন। 6০ 7 99115017, 90 010 101. ৬৬11118117, ৬০1, | 0. 156, 166, 178 8181 এ. 1, 1109, 00 01, 0-128--71 34. 11010.. 0,147 970 887991 0০0179011109101015 0 18117 [০৬৪1171091, 1891. ৬. 10, 91118, 50017001010 1115101% 0 9617991, ৬০1, 1, 0. 6--19 ৩, 0. 11111, 00. 011. 18/5118770115 0. 164-7197. 61709069011795 ০0 06 39৬617819 80810 001915010 01 09 ৬/7019 0০0101| 01 310 119 1774, 10. 25. 5. ০,111, 00. 011., 18৬/5 1৬19170115, 00. 211-7-215,. 69101 1911110 00, 011. 0. 21. গঙ্গারাম ভট্টাচার্য্য, মহারাষ্ট্র পুরাণ, সাহিত্য পরিষণ পান্রকা ১৩৪৩ ॥ ১৫, ৩৩৩৬ শ৩ | ৪ | ৭৬। ৭৭ | ৭৮ | ৭৯ |] বাংলা এ&তিহাসিক নাটক সমালোচনা ০1178101118 19108110191 01 1-6101915, 08108109 0)1161- 511, ৬০।. ১১, 1929, অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদৌল্লা, ৩৯-_৭০ পাতা । 5. ০.11111, 010. 01. 18৬/5 191911015, 0. 162. 101. 0. 190. 1010. ৬০1. 11, 01195161091 100 9 1910090 01 130 019 1757, 0১ 405. 710908801705 ০01 118 39৬617816 80910 00175150110 01 016 ৬/1018 0০0617011 01 1201 111 1774 0. 5500--5503,. 5. 0. 11111, 010. 01 ৬০1. 11, 80115191061 00 011৬6 01 2601 ১78 1757, 2. 433. 80170 ১. 17. 1011009, 00. 0100. 197. )806011780 5011691, 010. 011. 0. 491. 19088901105 01 018 ০0170011110 0০০08117011 0 39৬৪91019 81 41151109108 01 120) 8170 2310 080811991 1771. স্ত্র ৫০ দেখুন । (61091 00170% 8001 0 078 99510917100 076 0010291. 19191 105. ৪০--৪1 01 1010 810 1301 40011781773 0. 168--170. 5. 0.11111, 00. 010. 1-8৬/5 1৬191170115, 00. 161--1629. 1010. 0. 170--189 দ্বিতীয় খণ্ড দ্বিতীয় খণ্ডের সময় পরিধি প্রথম থণ্ডের তুলনার বুহৎ। প্রথম থণ্ডে ১৭০৭ থেকে ১৭৫৭ পধ্যন্ত পঞ্চাশ বছরের ঘটন! নিয়ে ব্রচিত এ্রতিহাসিক নাটকের আলোচন] করা হয়েছে । দ্বিতীয় থণ্ডে ১৭৫৮ থেকে ১৮৫৮ পর্য্যস্ত একশ; বছরের ঘটনাবলী নিয়ে রচিত নাটকগুলি আলোচনা কর! হবে। প্রথমথণ্ডের মতে দ্বিতীয় থণ্ডেও কতকগুলি প্রবন্ধের মাধ্যমেই নাটকগুলির বিচার হবে কারণ দেখা যাচ্ছে ষে নাটক স্থষ্টি হয়েছে কয়েকটি প্রধান চক্রিব্রকে অবলম্বন করে । বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহাওয়াতে নাট্যহ্্টির নান! সথযোগ থাকা সত্বেও মীরকা শিম, নন্দকুমার বা রাণী ভবানীকে ঘিরেই বাঙালী নাট্যকারগণ নাটক রচনা করেছেন । সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে মহিশুরের হায়দর আলি ও টিপু- স্থলতানকে ঘিরে বেশ কয়েকটি নাটক রচিত হয়েছে, অযোধ্যার বেগম ও মারাঠা নায়ক মাধব রাও নাটকের উপজীব্য হয়েছেন। উনবিংশ শতাব্দী নিয়ে নাটক লিখিতে অনীহার পরিচয় প্রকট হয়েছে। পাঞ্জাবের রণজিৎ সিং ও সিপাহীবিদ্রোহ ছাড়া অন্ত কোন ঘটন! বাঙাঁল নাট্যকারদের আকর্ষণ করে নাই বল চলে। সিপাহী বিদ্রোহের নাটকেও ঝাপীর রাণী লক্্মীবাঈ-এর ভূমিকা প্রধান। বস্তত সমগ্র বিদ্রোহের থেকেও লক্্মীবাঈ-এর আয্মোৎসর্গ নাট্যকারদের বেণী প্রভাবিত করেছে। বিষয় নির্বাচন থেকেই বোঝা যায় যে জাতীয়তার মন্ত্রে উৎসাহিত হয়ে নাট্যকারগণ “হদয়াবেগ” রচনায় স্থাবিধা হবে এমন বিধয়বস্তই চয়ন করেছেন। ভাবপ্রবণতার কাছে আবার বুদ্ধিবৃত্তির পরাজয় ঘোষণ। করেছেন । মীরকাশিম পলাশীর পরাজয় নৃতন যুগের স্চনা করল। বাংলার নবাবগণ দিল্লীর স্থবেদার ছিলেন ৷ 'এতদ্দিন তাদের কেবল মোগল বাদ্শাহের আনুগত্য স্বীকার করতে হত আন্নষ্ঠানিকভাবে কিন্তু পলাশীর যুদ্ধের পর তার! ইংরেজ কোম্পানীর বাহুবলের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়লেন । নবাব মীরজীফর খন রবাট ক্লাইভের হাত ধরে মুশিদাবাদের মসনদে ২৯শে জুলাই ১৭৫৭ উঠে বসলেন তখনও তিনি ইংরেজশক্তির সম্পূর্ণ বিঞুমের পরিচয় পান নাই। ভেলভেটের আন্তরণের তলায় লৌহবর্মের কোন ধারনাই তার ছিল না । সিরা€দৌল্লার বিরুদ্ধে ষড়্যন্ত্- কারীদের মধ্যে জগৎশেঠ-ত্রাতৃদ্বয় বাদে সবাই ভেবেছিলেন যে ইংরেজ যুদ্ধ জিতিয়ে দিয়ে কলকাতায় ফিরে যাবে এবং বশংবদ ভাপছেলের মতো ব্যবসাঁ- বাণিজ্যে মনোনিবেশ করবে । ব্যবসায়ী জগৎশেঠ ইংরেজদের মনোভাব বুঝতে পেরেছিলেন তাই দেশের শাঁসনভার নেবার জন্য তাদের উদ্ধদ্ধ করেছেন। হ্থায়ী শাসন ব্যবস্থা গ্রবতিত না হলে যে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে উন্নতি হতে পারে না একথা এদেশী জগৎশেঠদের মতো বিদেশী ইংরেজ কোম্পানীর বুঝতে একটুও দেরী হয় নাই ।৯ নবাব মীরজাফরও ক্লাইভের হালচাল দেখে শ্রশ্কিত হয়ে উঠলেন । পলাশী জয়ের পরের সেই প্রভৃভাব ক্লাইভ কিছুতেই পরিত্যাগ করছেন না। নবাব হয়েও যেন মীরজাফর ইংরেজদের গোলাম হয়ে আছেন । পিতার এই অস্বস্তি পুত্র সাদিক আপি থান ধিনি মীরণ বা ছোটেনবাব নামেই সমধিক পরিচিত, বুঝতে পারলেন । অল্লবুদ্ধি বিলাসীর মতোই তিনি এই প্রশ্নের সহজ সমাধানও করে ফেললেন। তিনি ভাবলেন ক্লাইভকে গুপ্ত হত্যা করলেই বুঝি ইংরেজর! পালাবে । কিন্তু জগৎশেঠ বাদ সাধপেন। ক্লাইভ সেদিন রাজপথে বার হলেন না যখন এলেন তখন সঙ্গীসাথীসহ বশন্ত্র হয়ে । মীরণের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হল। গুপ্তহত্যা করা হল না। নবাব মীরজাকর ভয় পেয়ে আরো বেণী ক্লাইভের অনুগামী হয়ে পড়লেন । সম্ভবত ক্লাইভের সঙ্গে মীরজাফরের সম্পর্ক নেশ ঘনিষ্ঠ হয়েছিল । পরবরতীকালের চিঠিপত্র পাঠে জানা যায় যে ক্লাইভ মীরজাফর ও তীর প্রথম স্ত্রী বিবি শাহ খান্থমকে :বাবা” ও “মা” বলে ডাকতেন। মীরকাশিম ৩৩৯ মীরজাফর এবং তার স্ত্রী তার সঙ্গে “পুত্রের মতো? ব্যবহার করতেন ।২ একাস্ত লজ্জার কথা যে নবাব মীরভাফরের নাটকীয় চন্রিত্র ও জীবন কোন নাটকের মুখ্য উপঞীব্য হয়নি । ইতিহাস বিমুখতার এমন উদাহরণ বিরল । ছুই বছরের মধ্যে দেশের চেহারা পাণ্টে গেল। ব্যবসা-বাণিজ্য আবার পুরোদমে চলতে শুরু করল । কাশিমবাজার হয়ে দাড়াপ ব্যবসার কেন্দ্রুমি | স্দূর গুভরাট থেকে ব্যবসায়ীর দল কাশিমবাজারের মহাজনটুলিতে বসবাস শুরু করলেন । খানিকটা জায়গা! গুজরাটীটুলি নামে পরিচিত হল। এ ঘুগের সেরা পণ্য হল “রেশম । কেবল ইংরেন্গ বা অন্তান্ত ইউরোপীয় গাতির কোম্পানী নয, বিদেশী ও দেশী ব্যক্তিগণ সম্পূর্ণ স্বার্থপরভাবে বাণিজ্যে লিপ্ত হলেন । ক্লাইভেব নেতৃত্থে কোম্পানীর কর্মচারীরাও ব্যক্তিগত ব্যবসা স্থরু করলেন। কাশিমবাজার কুঠির অধ্যক্ষ তেষ্টিংস ক্লাইভের জন্য ছুশো মন রেশম "গুজরাটে পাঠালেন । চীনে ক্লাইভ ষে সিক্কের সম্ভার পাঠালেন তাতে হেষ্টিংসও 'অংশাদার ছিলেন। ক্লাইভ কেবল নিছে্রে জন্তেই অর্থসংগ্রহ করলেন না। ছুশো গাহাজে নবাবের দেওয়া ধনরত্ব দামামা বাজিয়ে কলকাতায় নিয়ে এসে ইস্ট ইপ্ডিয়া কোম্পানীর তহবিল পূর্ণ করলেন। ইতিমধ্যে .সাতলক্ষ টাকা খণের দায়ে জগৎশেঠ ফরাসী কোম্পানীর কাশমবাজার কুঠির যাবতীয় সম্পত্তি মায় ঘরবাড়ি ছুর্গ আর ফরাসডাঙ্গার ছুশো তাত দখল করে নিলেন। মুগিদাবাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে ফরাসী প্রভাব এইভাবে ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্দে শেষ হয়ে গেল ।৩ ভারতের ইতিহাসেও ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্দ এক গুরুত্বপূর্ণ বছর । দিল্লীতে শাহ আলম বাদশাহ হলেন | আহমদ শা আবদালী দিখ্বিজয়ীর ভূমিক] ত্যাগ করে দিল্লীর বাদশাহের বন্ধু রূপে দেখা দ্িলেন। তার বন্ধুত্বে আশ্বত্ত দিল্লীর বাদশাহ বাংল! স্ুবায় তার অধিকার পুনস্থাপনের জন্ত শাহজাদা আলি গৌহরকে অযোধ্যার নবাবের সহযোগীতায় পাটনা অভিমুখে যাত্রা করতে আদেশ দিলেন । এদিকে বাংলার নবাবের প্রধান অমাত্য রাজ! ছুলভরামকে মারাঠাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেখা যায়। অন্যদিকে নবাবের মন্ত্রী- মহারাজ! নন্দকুমারও ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করার জন্য মারাঠাদের সে পত্রালাপ করতে লাগলেন। এমন কি স্বয়ং মীরজাফরের পদচ্যুতির জন্য বাদশাহের সঙ্গে মহারাজ নন্দকুমায়ের পত্রালাপ প্রমাণিত হয়েছে। ইংরেজ ৩৪০ বাংলা এতিহ'সিক নাটক নমালোচনা সন্দেহ করল যে মন্ত্রীমহাশয় ওলন্দাজদের কাছ থেকে অর্থ-গ্রহণ করেছেন ও ফরাসীদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত । সেই ১৭৬০ খ্রীষ্টাবেই নন্দকুমারের বিরুদ্ধে ইংরেজ জালিয়াতির অভিযোগ করে এবং মীরভাফর ওই বছর নবাবী থেকে বিতাঠিত হলে নন্দকুমার কারারুদ্ধ হন।৪ এই রাষ্ট্র বিপ্রবের মুহূর্তে সকলেই নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণে তৎপর । কোনরকম নিয়ম বা সত্য মেনে চলার রীতি ছিল না। আদর্শ ব। ব্বদ্রেশ বাৎসল্যের কোন ঢিহ্ই দেখা যায় না এই সময়ে । ইতিমধ্যে রাজ] রাজবল্লভ মীরণের দেওয়ান ও প্রধান মন্ত্রণাদাত হয়ে বসেছেন। ক্লাইভ ইংল্যাণ্ডে ফিরে গেলেন ..ফক্রয়ারী মাসে। যাবার আগে নবাব মীরুজাফর তাকে কলকাতার চারপাশের পঞ্চান্নথান! গ্রাম জায়গীর দিয়ে দ্িলেন। ফলে ক্লাইভ কোম্পানীর কর্মচারী হয়েও তাদের জমিদার হয়ে বসলেন এবং দশ বছর ধরে এই জায়গীরের দরুন কোম্পানীর কাছ থেকে বছর বছর ত্রিশ হাজার পাউণ্ড বা বাৎসরিক তিন লক্ষ টাক। পেতে লাগলেন। ক্লাইভ সাছেব জাহাজে চাপতে না চাপতে মারাঠারা বদ্ধমান আক্রমণ করে অধিকার করতে চাইল ১৭৬০-এর ফেব্রুয়ারী মাসে। জুলাই মাসে সাধারণ সৈন্টেরা বেতনের অভাবে নবাব মীরজাফরকে যার পর নাই অপমান করল। নবাব সাহেব তিনজন নিয়শ্রেণীর লোকের মন্ত্রণায় নাচ গান ও স্ত্রীলোক চচ্চায় মশগুল হয়ে উঠেছিলেন । এদিকে মীরণ প্রথমে রাজা ছুলভরামের সঙ্গে বাপকে সরিয়ে নবাব হবার ষড়যন্ত্র করলেন । মীরজাফর সেকথা জানতে পেরে দুল ভ- রামকে কলকাতায় তাড়িয়ে দিলেন। তথন মীরণ মহামান্য রাজা রাজবল্লভের মস্রণায় মেতে উঠলেন। হঠাৎ ২রা জুলাই, দিরাজ হত্যার দিন, বজ্তপাতে গশুক নদীর পারে মীরণের মৃত্যু হল। নবাব এই সংবাদে বিহ্বল হয়ে পড়লেন ।৫ ছোট নবাব নাসির-উপ-মুলুক সাদিক আলি খা ওরফে মীরণের সঙ্গে তার পিতার ইদানীং প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত | বৃদ্ধ নবাব মৃত্যুপথধাত্রী ন! হরে যে তারই পাক! ধানে মই দিচ্ছেন একথা জানাতে ছোট নবাব মীরণ কন্থুর করেন নি। মীরণের মৃত্যুতে তাই সবকিছু পাণ্টে গেল। নবাবের চুর তৃষ্ণা ও নারীলালসা প্রচণ্ড বৃদ্ধি পেল এবং সেই স্যোগে কান্থরাম, মপিলাল আর চিকন, তায় তিন জমাতা, ছু'হাতে অর্থ লু করতে লাগল । বুদ্ধ নবাবমহ্ছিষী নবাবের সঙ্গে থাকলেও প্রায়ই একাস্ত জীবন যাপন মীরকাশিম ৩৪১ করছিলেন। তার সম্মতি পেয়েই মীরজাফর-জামাতা মীরকাশিম যে রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে নেমেছিলেন সে বিষয়ে সন্দেহ মাত্র নাই । রাঞ্নৈতিক ঘটনাতরকঙ্গ পর্যালোচনা করলে আশ্চর্য্য ন! হয়ে থাকা যায় না। মীরণের মৃত্যুর পর মীরকাশিম রাজ্য শাসনের জন্য ইচ্ছুক হলেন। এই সময়ে তার নবাব হবার বাসনা হয়েছিল বলা যায় না__সম্ভবত নবাবের হীন মন্ত্রণাদাতাদের সরিয়ে সাআাজোর শাসন ক্ষমতা পেলেই তিনি খুশী হতেন। নবাবের অবিশ্বাস মীরকাশিমের চিন্তাকে ভিম্পপথে নিয়ে গেল । ২৭শে সেপ্টেম্বর ইংরেজ কোম্পানীর সিলেক্ট কমিটির সঙ্গে মীরকাশিমের বোঝাপড়ার ফলস্বরূপ কলকাতায় একরারনাম! সই হয়ে গেল। কয়েকদিন পর ১৫ই অক্টোবর থেকে নবাব মীরজাফরকে গদীচ্যুত করার প্রচেষ্টা সরু হল এবং ২২শে অক্টোবর পদছ্যুত মীরজাফর কলকাতা অভিমুখে একাকী যাত্রা করলেন । বৃদ্ধ বেগম, কন্তা জামাতার কাছে থাকতেই মনস্থ করলেন। বৃদ্ধ মীরজাফরের সাথী হলেন এক তরুণী বাঈত্রী যিনি মণি বেগম নামে পরবর্তীকালে বিখ্যাত হয়ে- ছেন। এব" তারই গর্ভজাত পুত্র এবং তাদের বংশধরগণই পরবতিকালে মুশিনাবাদের নবাব নামে পরিচিত্ত। স্থতরাং দ্রেখা যাচ্ছে বে মীরকাশিম নবাবপদে প্রতিষ্ঠিত হলেন ১৭৬০ খ্ী্টান্বের ২২শে অক্টোবর । একরারনামা অনুসারে তিনি বর্ধমান, মেদিনীপুর ও চট্টগ্রাম জেলা তিনটি ইংরেগ কোম্পানীর অধিকারে সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দিলেন। কোম্পানী এই তিন জেলার রাজস্ব আদায় ও উপভোগের সত্ব পেলেন। শ্রীহট্ট জেলার চুন ব্যবসার সমস্ত অধিকারও কোম্পানীকে দেওয়৷ । হল এ ছাডা 'কাম্পানী এবং তার কর্মচারীদের প্রচুর অর্থও দিলেন নূতন শবাব। নবাঁব মীরকাশিম ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্দে ২২শে অক্টোবর থেকে নবাবী সুরু করলেন এবং ১৭৬৪ খ্রীগ্রাব্বের ২৪শে অক্টোবর বকসারের যুদ্ধে এই নবাবী শেষ হল। ত্ববশ্ত আ্ুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নবাবী শেষ হয়েছিল আরও কিছুদিন আগে। কাটোয়ার ঘুন্ধে পরাজয়ের পরই বৃদ্ধ মীরজাফর আবার নবাব ঘোষিত হলেন। ২৪শে জুলাই ১৭৬৩ খ্রষ্টাব্বে মেজর আাডামস নবাব মীরজাফরকে মুপিদাবাদে নিয়ে এসে নবাবী আসনে উপবেশন করালেন । দেখা যাচ্ছে নবাব মীরকাশিমের বাংলায় কর্মব্যন্ততার সময়, মাত্র চার বছরে সীমাবন্ধ। তার ৩৪২ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা মধ্যে তিনি মাত্র ছুইবছর নয়মাস পরিপূর্ণভাবে নবাবী করার স্থযোগ পেয়েছেন। ॥ মীরকাশিমের ইতিহাস ॥ এবার নবাব মীরকাশিমের জীবনের প্রধান ঘটনাগুাঁপ ক্রমিক নিয়মে সাভান বাক । মীররকাশিম বিহারের এক সম্ত্রীস্ত বংশের ছেলে । তার পৃবপুরুষ দিল্লীর বাদশাহর কাছ থেকে বিহারে জায়গার লাল করেন । জাতিতে অবশ্য এর! ছিলেন পারস্তুখাসী সুন্নী সম্প্রদায় তুক্ত। মীরকাশিমের পিতামহ ইমতিয়াজ খা কবি ছিশেন। 'খালিস নাম নিয়ে তিনি বহু ফা শ্লোক লিখে গেছেন। মীরকাশিমের পিতা বাজী খা বুদ্ধিমান গায়গারদার ছিলেন এবং প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন । নবাব আলিবদ! খার আগ্রহে মীরগগাফরের কন্তার সঙ্গে মীরকাশিমের বিবাহ হয় । নবাব আলিবদী তাকে ছুইশত টাকা মাসহারায় নবাব সরকারে গ্রহণ করেন । ১৭৪. শ্রীগ্ভা্ষে ভাস্কর পণ্ডিতের মানকরে গুপ্তহত্যার সময় তরুণ মীরকাশিমের বলবীধ্যের প্রথম পারচষ পাওয়া যায়। তাঁর দ্বিতীয় কশতি নয় বছর পর। পলাতক সিবাগদৌল্লাকে মীরকাশিমের লোকগ্ন ধরে ফেলল । লুৎফউন্নিসার ধনরত্ব ও অর্থসম্পদ য! কিছু এই পলাতক যুগলের কাছে ছিল মীরকাশিম সবই নিজে আত্মসাৎ করলেন । সিরাজদৌল্লা ও লুৎ্ফউন্নিসাকে মুশিদাবাদে প্রেরণ করা হল। স্বভাবতই শ্বশুর নবাব মীরজাফ্রের কাছ থেকে মীরকাশিম এই কাজের পুরস্কার স্বরূপ কোন দায়িত্বপূর্ণ পদ আশা করেছিলেন কিন্তু ছোট নবাব সাদ্দিক আলি খাণ নাদির-উল-মুলুক অর্থাৎ শ্রীমান মীরণের প্ররোচনায় সেটা ঘটল না| মীরজাফর তার এই জামাতার প্রতি একান্ত উদাসীন রইলেন এমন কি নবাব ঘহিষীর শত অনুনয় তার বধিরকর্ণে প্রবেশ করল না। মীরণ থোলাখুলি- ভাবেই মীব্কাশিমকে অপছন্দ করতেন | রাজা রাজবল্লভ তার দেওয়ান হবার পর এই বিতৃষ্ণ! শতগুণ বৃদ্ধি পেল। পরবর্তীকালে মীরকাশিম নবাব হয়ে রাজা বাঙ্ষবল্লভকে ও তার জ্যে্ পুত্র কষ্দাসকে যে নৃশংসভাবে বধ করেছিলেন তার বীজ সেই ১৭৫৯-৬০ খ্রীষ্টাকে রোপিত হয়েছিল। মীরণের ঈর্ধাতেই মীরজাফর সম্পূর্ণ বশীভূত হয়ে জামাতা মীরকাশিমকে সুদূর রংপুরে ফৌজদার করে পাঠিয়ে দিলেন । মীরকাশিম ৩৪৩ ১০৬০ খ্রীষ্টাব্দে নবাব মীরক্াফর প্রথম ও শেষবার মীরকাশিমের শরণাপন্ন হন। ঘটনায় ভর্ষিব্যের ইঙ্গিত দেখা যায় । মীরণ গেছেন পাটনায়, বাদশাহ বিহার আক্রমণে উদ্ভত আর ঠিক সেই সময় একদল বরগী নিয়ে মারাঠা৷ শিব ভট্ট কাটোয়াতে এসে গেছেন । একাস্ত বাধ্য হয়েই নবাব মীরজাফর মীরকাশিমকে স্মরণ করলেন। মীরকাশিম মুশিদাবাদে উপনীত হতে না হতেই নবাবী সৈন্য দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে বিদ্রোহ করল । মীরকাশিম তাদের নিজন্ব তিন লক্ষ টাক দ্রিয়ে তখনকার মতো শান্ত করলেন। অনেকের মতো নবাবও হয়তে। মনে করেছিলেন যে মীরকাশিমের আগমন আর নবাবী সৈন্যের বিদ্রোহ ঠিক কাকতালীয় ঘটনা নয়। তাই মীরণের মৃত্যু সংবাদে আভভূত নবাব কর্মক্ষম জামাতাঁকে পুত্রের শূণ্য পদগুলি দিলেন না। বিপদমুক্তির পুরহ্ক'র শ্বর্ূপ কেবল পিয়ার ফৌজদারী তাকে দেওয়া হল। মীরজাফরের অবিশ্বাস, বৃদ্ধ বেগমের স্বামীর অপকীতি ও নারী লালসায় অসন্তোষ ও ইংরেড কোম্পানীর গভর্ণর হলওয়েল সাহেবের প্রচণ্ড লোভ মীরকাশিমকে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা! পাবার জন্য উদ্ধ,দ্ধ করল। শ্বাশুরীর প্রতি আমুগত্যে কিন্ত মীরকাশিম নবাব হতে চান নি। তিনি চেয়েছিলেন আফিং চও্ডু ও স্ত্রীলোক নিয়ে নবাব মীরজাফর মণ্ত থাকুন কিন্ত নবাবীক্ষমতা মায় নবাবী শীলমোহর নীরকাশিম ব্যবহার করবেন | নবাব মারজাফরের মনে গুপ্তহত্যার ভয় জাগিয়ে তাঁকে মীরকাশিমের আওতা থেকে কলকাতায় নিয়ে যাবার পেছনে একটি সুন্দরী তরুণী বাঈজীর প্রথরবুদ্ধির প্রভাব দেখা বায়। এই বাঈজীই পরবত্তি কালে মণিবেগম নামে খ্যাত হয়েছেন । এই পরিস্থিতির মধ্যে সুরু হল নৃতন নবাব মীরকাশিমের রাজত্বকাল। ইতিমধ্যে কোম্পানীর গভর্ণর হয়ে এসেছেন মাদ্রীজ থেকে ফার্সী ভাষায় পণ্ডিত ভ্যান্সিট্রার্ট সাহেব । এমন চমৎকার ভাল মানুষ ভদ্রলোক আর কখনও কোম্পানীর প্রধান কর্মচারী নিযুক্ত হয়েছেন কিনা সন্দেহ__কিন্ধ ত! সত্বেও বিরোধ বাধতে দেরী হল না। মীরুকাশিম করিতকর্ম! বুদ্ধিমান লোক ছিলেন । দেশের প্রয়োজন এবং. 'নজের কর্তব্য সম্পর্কে তার বেশ স্পষ্ট ধারণ] ছিল। সব থেকে আশ্চধ্য কথা সেই সময়ে তিনি ইংরেজী ভাষাও বেশ খানিকট! আয়ত্ত করেছিলেন। তার চরিত্রে তিনটি প্রধান দোষ তার গুণাবলীকে প্রকাশ হতে দিল না। প্রথম থেকেই তার অর্থলোভ খুব বেণী। অবিশ্বাস ও নৃশংসতার সঙ্গে যুদ্ধের ৩3৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন।! অনভিজ্ঞত1 মিশে তার ইংরেজের বিরুদ্ধে শক্তিপরীক্ষার বিরাট আয়োজনকে বার বার ব্যর্থ করে দিয়েছে । অন্তদ্দিকে গভর্ণর ভ্যাশ্সিট্রার্ট নবাবের প্রতি একাস্ত সহানুভূতিশীল হলেও তাঁর নিজের কাউন্সিলে সংখ্যালঘু । কর্তব্য- পরায়ণতা এবং নিয়মান্থবন্তিতা তাঁকে নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বাধ্য করেছে। নাটক রচনার এমন উপকরণ পাঁওয়া ভাগোর কথা সন্দেহ নাই । সেই সঙ্গে ওয়ারেন হেষ্টিংসের দৌত্যে এবং নবাব সম্পর্কে বিভিন্নপত্রে তার যে সহানুভূতির পরিচয় পাওয়। যায় ত1 সত্যই শ্লাঘনীয় । প্রথমে মীরকাশিমের জীবনের প্রধান ঘটনাগুলি লিপিবদ্ধ করা যাক | ১৭৬০ ॥ ২৭শে সেপ্টেম্বর । কলকাতায় ইংরেক কোম্পানীর সিলেক্ট কমিটির সঙ্গে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর । ১৫ই অক্টোবর । গভর্ণর ভ্যান্দি্রার্ট মুশিদাবাদে গেলেন এবং মীরকাশিমকে রাজপ্রত্নিধি নিষুক্ত করার জন্য নবাব মশীরজাফরের ওপর চাপ স্থষ্টি করলেন । বোঝালেন এই অনুরোধ আদেশের নামান্তর মাত্র । মীরজাফর নবাবী ত্যাগ করতে মনস্থ করলেন। ২২শে অক্টোবর । মীরজাফর নৌকাযোগে কলকাতা অভিমুখে ঘাত্রা (বিজ দশমী) করলেন। সঙ্গে চললেন নবাবী হারেমের ৬০ জন স্থন্দরী যুবতী। তাদের মধ্যে নবাবের অত্তিপ্রিয় এক নর্তকশী ষিনি পরে মণিবেগম নামে বিখ্যাত হন। বৃদ্ধানবাব মহিষী বিবি শ্াহথান্ছম কন্তা জামাতার কাছে মুশিদাবাদে থাকলেন।৬ মীরকাশিম নবাব ঘোষিত হলেন। তিনি বর্ধমান, চট্টগ্রামের, সঙ্গে মেদিনীপুরের রাজস্ব ও শীলহট্রের (সিলেট ) চুণ তৈরীর রাজম্ব কোম্পানীকে দিয়ে দ্িলেন। রাজত্বের পরিমাণ ৫০ লক্ষ টাকা । জনষ্টোন সাহেব মেদ্দিনীপুরে ও ভরেল্ট সাহেব চট্টগ্রামের শাসনকর্তা নিযুক্ত চলেন। নূতন নবাব কলকাতার টণীকশালে কলকাতা সিকার সঙ্গে মুশিদ্াবাণ সিক্কা বানাবার অগ্রমতি দিলেন ।৭ মীরকাশিম ৩৪৫ নভেম্বর : মীরজাফবের তিন মন্ত্রণাদাতা কেনারাম (অথবা কাম্রাম ), মুন্নালাল (অথবা মণিলাল ) ও চুণিলাল ( অথবা চিকণ ) কে কারারুদ্ধ করে তাদের সমস্ত সম্পন্ত মায় অলঙ্কারাদি এবং যা কিছু ছিল সমস্ত বাজেয়াপ্ত করলেন । শাসনকার্য্য দ্রুত শৃঙ্খলা আন। হল। জমিদারদের কর আদায় ও সম্পান্ত কেডে নেওয়া একই সঙ্গে সুরু হল। মীরজাফর পক্ষীয়দের সকলের এমন কি মীরণের উপপাত্তি ও গণিকাদের সম্পদ ও সম্পত্তি .কড়ে নেওয়া হল। একমাসেই নৃতন নবাবের কর্মক্ষমতা সম্পর্কে কারু মনে সন্দেহ থাকল না। ডসেম্বর নবাব সব বাকী খাজন1 ও ইংরেজ কোম্পানীকে দেয় অর্থ মিটিয়ে ফেললেন । এছাড়া পাটনার যুদ্ধের জন্য সৈন্তা- বাহিনীর মাঠিনাই পাঠালেন সাতলক্ষ টাকা। এছাড়া (ডসেম্বর, আমুয়ারী ও ফেঞ্ঞয়ারী াসে কাশিমবাজার কুঠির ব্যাটসন সাহেবকে প্রতি মাসে ছয় বা সাতলক্ষ টাকা দ্বিতে প্রতিশ্রুতি দ্বিলেন । এইসব স্থবিধা পেয়ে গভর্ণর সাহেব ছুইলক্ষ টাকা মাদ্রাজে পাঠিয়ে দিলেন। এই অর্থ পণ্ডিচারীর যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। বীরভূমের বিদ্রোহী রাঙ্জা আলাদ জামানের বিরুদ্ধে নবাব ত্বয়ং যাত্রা করলেন। মিলিত নবাবী ও কোম্পানীর ফোজ পারচালনা করলেন “মজর ইয়র্ক ও ক্যাপটেন হোয়াইট । আসাদ জামান পরাজিত হয়ে নবাবের বশ্বত। হ্বীকাবু করলেন ।৮ ১7৬১ || *১৪ই জাঙ্গয়ারী । পাণিপথের তৃতীয় যুদ্ধে আবদদালীর হাতে মারাঠা- দের পরাজয়ে কলকাতায় ইংরেজদের ক্ষমতাবৃদ্ধি হল। কোম্পানীর গভর্ণর ভ্যান্সি্রারট সাহেবের বিরুদ্ধে দাড়ালেন প্রথমে অমিয়েট, এলিস ও কারনাক। কারনাক পাটনা চলে গেলে বরুদ্ধ পক্ষে দাড়ালেন অযিয়েট, এলিস ও স্মাইঘ। গভর্ণর ও তার বন্ধ ৩৪৬ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা ওয়ারেন হেস্টিংস সংখ্যালঘু হয়ে গেলেন। ইংরেজদের বিনা শুক্কে বাণিজ্য করায় নবাব আপত্তি করায় গোলমাল চরম হল। গভর্ণর ও হেস্টিংস বোঝালেন ষে বিনা শুক্কে বাবসা করার কোন আইন সঙ্গত অধিকার কোম্পানীর নাই। সংখ্যাগুরুদল গায়ের জোরে বললেন - আছে । বাদশাহী কারমান তাদের বিনা শুক্থে বাণিজা করার মে অধিকার দিয়েছে বাংলার কোন জুখাদারের সেটা নাকচ করে দেবার কোন অধিকার নাই । সংখ্যাভাগীর শ্রযোগ নিযে তারা নবাব মীরজাফরের পদচ্যুতির প্রতিবাদ করলেন ।৯ ১৫ই জানুয়ারী । পাঁটনার কাছে বাদশাহ শাঁভ আলম বিহার প্রদেশ ছিনিয়ে নিতে এসে নবাবী ও ইংরেজ কোম্পানীর অধিনায়ক মেজর কারনাকের কাছে সম্পূর্ণ পরাভূত হলেন। বাদশাহের ফরাসী বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন মসিয়ে জাল! (দিরাজদৌল্লার বন্ধু) তিনিও ইংরেজ- দের হাতে বন্দী হলেন। পরাজয়ের পর কারনাক বাদশাহকে সসম্মনে পাটনা নিয়ে এলেন । দিলীর মপন্দ দখল করার জন্য বাদশাহ কারনাকের সাভায্য চাইলেন। নবাব মীরকাশিম সব খবর শুনে সন্দেহের দোলায় ছুলতে লাগলেন। তিনি ইউরোপীয় প্রথায় সৈম্টবাহিনীর গঠনের জন্য মনস্থির করলেন । ফেব্রুয়ারী । নবাব পাটনা অভিমুখে ঘাত্রা করলেন। কলকাতার কাউন্সিল মীরকাশিমের জোর-জবরদন্তি করে অর্থ-সংগ্রহের তীব্র সমালোচনা করলেন । মীরকাশিমের চক্ষুশুল এবং ক্লাইভের বন্ধু বিহারের ডেপুটি স্থবাদার 'রাজা রামনারায়ণকে রক্ষার জন্য কারনাকের কাছে বিশেষ ্‌ বার্তা পাঠান হল।৯০ মার্চ। নবাব বৈকুগ্টপুরে উপনীত । এইথানে (৬ই) মেজর কারনাকের সঙ্গে তার চরম মতবিরোধ । ইংরেজ কোম্পানীর এপ্রিল। মীরকাশিম ৩৪৭ সঙ্গে নবাবের এই প্রথম প্রকাশ্শ মতদ্বৈধতা |৯১ মীরকাশিম বাদশাহ শাহ আলমের সঙ্গে সাক্ষ্যাত করতে অনিচ্ছুক হলেন। পাটনায় বসে তথন মহারাজ। রামনারাযণ আর মহারাজা ব্াবল্পভ নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র স্বর করলেন । ক্যাপ্টেন চ্য+ম্পিয়ন গধার কাছে কামগার খার নেতৃত্বে বাদশাহী বাহিনীকে পরাজিত করলেন। পাটনায় বাদশাঞ্েে দরবারে বাদশাহ শাহ আলমকে নবাব মীরকাশিম আম্গত্য জানালেন । মীরকাশম সবে বাংলার বাঞ্স্ব বাবদ প্রতিবছর চব্বিখলক্ষ টাকা বাদশাহের দরবাব্ে দাথিল করতে রাজী হলেন। বাদশাহ মৌথিক মীরকাশিমকে বাংলার শ্ুুবাদার বলে স্বীকার করলেন এবং তাকে সাম্রাজ্যের সাতহাঁভারী মনসবদার করলেন। নৃতন উপাধি লেন “নবাব আলীভা নশীল-উল-মুলুক হমতিয়াজ-উ-দ্দোপা মীর মহম্মদ কাশেম আলী খা নশরত্জঙ্গ বাহাপুর' ।৯২ পাটনা ত্যাগের আগে বাদশাহ হংরেভদের জানালেন যে প্রাথনা করলে ইংরেড কোম্পানীকে তিনি বাংলা বিহার উড়িষ্কার দেওয়ানী ও বাণিজ্যের গ্রবিধ দানের ফারমান দিতে রাজী আছেন ।১৩ ইংরেডদের সঙ্গে বাদশাহর সখ্যতার স্পঃ আভাষ দেখা গেল । আয়ার কুট প্রধান সেনাপতি নিধুক্ত হয়ে পাটনা যাত্র! করলেন ২২শে এপ্রিল। সঙ্গে চললেন তাঁর দেওয়ান হয়ে নন্দকুমার। সংখ্যাগুরু কাঁউন্দিলরগণ মহারাজা রামন[রায়নকে নবাবের রোষবহ্ি থেকে রক্ষা করতে তাকে বিশেষ অন্ভুরৌধ করলেন। আয়ার কুট পাটনায় পৌছলে কারনাক সাহেব কলকাতা ফিরে এলেন । মে) মীরকাশিমের সঙ্গে কর্নেল আয়ার কুট ও মহারাজা বামনারায়ণের বিরোধ সুরু হল। ৩৪৮ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা :৬ই জুন । কর্নেল আয়ার কুট ষড়যপ্রের থবরে কাগজ্ঞান হারিয়ে দুইহাতে পিস্থল পরে নবাবী তাবুতে হামলা করলেন।৯৪ কর্নেল কুটকে বোঝান হয়োছল যে বাদশাহর সঙ্গে ইংরেজদের হ্ৃগ্ভতায় নবাব অত্যন্ত অসস্তষ্ট এবং যে কোন সময় তাকে এবং তার ইংরেজ সহকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেন । এই কুচক্রীদলে মহারাজা রামনারায়ণ, মহারাজা রাজবল্পভ ও রাজা নন্দকুমার বিশেষ ভূমিক! গ্রহণ করেন। কর্মেশ কুট কলকাতায় জানালেন যে ওয়াটস সাহেব হুগলীর ফৌজদারী নন্দকুমারকে দেবার ভন্য নবাবকে অনুরোধ করেছেন। এতে তার পূর্ণ সম্মতি আছে কারণ একজন বন্ধু ভাবাপন্ন ব্যক্তি হুগলীতে ফৌজদার হলে ইংরেজদের সুবিধা হবে ।১৫ নবাব রাজা বামনারায়ণকে শ্ক্ষা দ্রিতে মনস্থ করলেন। লাই | রাজা রামনারায়ণ পদচ্যুত ও রাঞ্জা রাজবল্লভ তার হিসাব পরীক্ষক নিযুক্ত হলেন। নবাবের কাট! দিয়! কাট! তুলবার প্রচেষ্টা সফল হল। নবাব রামনাবায়ণের সম্মতি ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তাকে কয়েদ করলেন। নবাব প্রতি- পক্ষীযদের ক্ষমতা হাসের জন্য বহু গণ্যমান্য ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেযাপ্ত করলেন রাক্জা মুরলীধর, বণিক মনদারাম সাহু, রাড হন্দরসিং তার কর্মচারী গঙ্াবিষুণ, পাটনার কোতোয়াল মহম্মদ ইশাথ, মুস্ঞাফ! কুলী খা, শাহুল্লা খা প্রভৃতি । এমনকি ্রতিহাসিক গোলামহোসেন (মুতাক্ষপ্পীণ লেখক ) ও তার পৈতৃক ভায়গীর হারালেন। সিতাব রায় বুদ্ধিবলে নবাবী ক্রোধ থেকে কোনক্রমে নিজেকে রক্ষা করে বাদশাহ শাহ আলমের কাছে পলায়ন করলেন। ্গষ্ট । নবাব মুঙ্গের ছুগ মুসংস্কুত করলেন এবং সৈল্থ বাহিনীকে বিদেশী কায়দায় তৈরী করলেন। নবাবের সেনাপতি হলেন আর্মানী বণিক খোজ। পিদ্রসের ভাই খোজা গ্রেগরী মীরকাশিম ৩৪৯ ইনি গুরগিণ খ। নামে প্রসিদ্ধ । আর্মানী মার্কার ও ফরাসী সমরু যার প্রকৃত নাম ওয়ালটার রাইনহার্ড সৈন্তা- ধ্যক্ষ পদে যোগ দ্িলেন। নবাবের সেম্তদল অশ্বারোহী, পদাতিক ও গোলন্দবাজ--এই তিনভাগে বিভক্ত হল। সমরুকে জার্মান বলেও কেউ কেউ অভিহিত করেছেন । তিনি জেবউন্িসা নামে উত্তরপ্রদেশের এক মুসলমান নর্তকীকে বিবাহ করেন। বেগম সমর কলকাতার রাজনীতির এক অদ্ভুত চরিত্র । ( সংবাদপত্রে সেকালের কথা দ্রষ্টব্য )। সেপ্টেম্বর । গোলাম হোসেন লিখেছেন যে ব্যাপার স্যাপার এমন হয়ে দাড়াল যে নবাবের দরবারে কথা বলবার মতে কোন লোক থাকল না। যতই ঘনিষ্ঠ বা মান মর্যাদাবান সভাসদ হোন না কেন নবাবের বিরুদ্ধে কথা বলতে সবাই ভীত হতেন এমন কি রাজ বিদুূষক মীর্জ সামস্থদ্দীনের মতো মুখফোর লোক-িনি নবাব মীরজাফরের নাম রেখেছিলেন “ক্লাইভের মদ্ধাগাধা”--রকমসকম দেখে তার মুখেও আর কথা সরে না। অক্টোবর । বিহারের জমিদারদের বিরুদ্ধে নবাবের সখৈন্টে অভিবান । ভোজ- পুরের জমিদাররা পরাজিত হলেন। নেপাল সীমান্তে বোতিষ! পর্যন্ত নবাবী প্রাধান্য প্রসারিত হল। দক্ষিণ বিহারে কাঁমগড় খা নবাবী সৈন্সের কাছে পব্তাজিত হলেন। বিহারের প্রায় সমন্তজ কেল্লা নবাবী দখলে এসে গেল । তারিথ-ই-মনন্থরী লিথেছেন মীরকাশিম থিহারে সন্ত্রাশের বাজত্ব চালু করলেন। নভেম্বর । কলকাতা কাউন্সিল মীরকাশিমের এই ক্ষমতাবৃদ্ধি অত্যজ সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে লাগলেন। সংখ্যাগুরু কাউন্সিলরদের মনে বন্ধমূল ধারণা জল্মাল যে মীরকাশিম ইংরেজ কোম্পানীর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্ত প্রস্তত হচ্ছেন এবং ৩৫০ বাংল! উীতিহানসিক নাটক সমালোচনা শক্তি-সংগ্রহ করছেন । বিহারে নবাবী প্রভাব হাস করার ওন্য এলিস সাহেব পাটনা কুঠির অধ্যক্ষ নিযুক্ত হলেন । সতেরশ এক ষটি শ্রীষ্টাব্ অবসিত হল। ১৭৬২ ॥ জান্তযারী। নবাবের সঙ্গে পন্তক+ নিয়ে .কাম্পানীর বিবাদ সুরু হল। নবাবের নিজস্ব বাবহারের ভন্ত সোড়া কেিনতে গিয়ে থোজা আণ্ট,ন পাটনার ইংরেজণের হাতে গ্রেপ্তার হলেন। রাজা রাজবল্লভ ইংরেজ আধার স্বীকার করে এলিস সাহেবের দধার প্রত্যাথা হলেন। র।জবল্লভ তখন পাটনার নায়েব নিযুক্ত হয়েছেন। আণ্ট,নকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে কলকাতায় পাঠান হল। নবাব এ ঘটনার তীব প্রতিবাদ করলেন ।৯৬ ফেব্রুয়ারী । এলিসের নবাব বিরোধী ব্যবহার সত্বেও আণ্ট,নকে গবর্ণর ভ্যান্সিট্রাট ছেড়ে দেবার প্রস্তাব করলেন। কিন্ত সংখ্যাগুরুদল তাকে বড়বাজারের রাত্তার ওপর কশা- ঘাতের নির্দেশ দ্িলেন। অবশেষে হেস্টিংস সাহ্বে কাউন্মিলকে জানালেন যে আন্ট,ন নবাবের প্রজা তার গাঁয়ে হাত দেবার কোম্পানীর কোন অধিকার নাই। ভ্যান্সিট্রাট অতি নম ও ভদ্র চিঠিতে নথাবকে অনুরোধ করলেন ঘে তিনি যেন আশ্টনকে শান্তি দেন। আশ্ট,ন মুশিদাবাদে পৌছিলে গবর্ণরের অনুরোধ রক্ষা করতে নবাব তাকে বরখাস্ত করলেন ।৯৭ ॥'- | মুঙ্গেরের নৃতন কেল্লীয় নূতন ফৌজ দেখা যেতে লাগশ। এলিস মুঙ্গের দুর্গ খানাতল্লাসের জন্য একজন সাঞ্জেট মার সৈন্ত পাঠালেন । কেন্লাদার স্বজন মিংএর হুমকিতে তারা ভয় পেয়ে ফিরে এল। এলিস তাদের কেল্লার সামনে তাবু ফেলে অপেক্ষা ' করতে বললেন । কলকাতার সংখ্যাগুরু কাউন্সিলরগণ ভ্যান্দিট্রার্ট ও হেস্টিংস সাহেবের সব যুক্তি উপেক্ষ। করে কেন্প! খানা- তল্লাসের জঙ্থ জেদ ধরে থাকলেন। অবশেষে নবাব মীরকাশিম ৩৫১ জানালেন যে কাউন্সিলের কোন সদস্য এলে তাকে মুল্গের হুর্গে ঢুকে দেখতে দেবেন। নবাব আরে। জানালেন যে কোম্পানীর সঙ্গে সঙ্ভাব রাখার জন্তই তিনি এই হীন প্রস্তাবে রাজী হচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে কোম্পানীর কর্মচারীদের উদ্ধত ব্যবহার সহা কর। তার পক্ষে কঠিন হবে একথ কাউন্সিলরগণ যেন মনে রাখেন । লেফটানেণ্ট গিলবার্ট আয়রনসাইভ ও ওয়ারেন হেস্টিংসকে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে পাঠান হল। ওয়ারেন হেক্টিংসকে সংখ্যাগ্ডরুর দল নবাবের কাছ থেকে ২৫লক্ষ সিক্কা টাক দাবী করার নির্দেশ দিলেন। গবর্ণরের বহু চেষ্টা সত্বেও এই অন্তাঁয় দাবী বজায় থাকল । গবর্ণর ভ্যান্সি্ার্ট তার ক1উন্সিলের সংখ্যাণ্ডর সভ্যদের বোঝাতে পারলেন না বে এই ২৫ লক্ষ টাকা নবাবের কাছ থেকে দাবী করবার কোন অধিকার তাঁদের নাই ।৯৮ মে। সাসারাম হয়ে ২৪শে মে মুঙ্গেরে পৌছলেন হেস্টিংদ ও আয়রন ১৬৬৩. সাইড । আয়রনসাইড কেল্লা পরীক্ষা করে একজন থঞ্জ ইউরোপীয় সৈনিকের সাক্ষাৎ পেলেন বুঝলেন যে দলে দলে ইউরোপীয় সৈম্ত মুঙ্গের ছুর্গে রাখার খবর গুজব মাত্র। অত্যন্ত অপমানিত বোধ করলেন নবাব এ ঘটনায় । তিনি হেস্টিংসকে স্পষ্ট জানালেন যে তার নবাবী অধিকারে কোম্পানী হস্তক্ষেপে করলে তিনি সহা করবেন না। কোম্পানীর বড় ছোট কোন কর্ম- চারীই বাহুবলে নবাবী লোকের ওপর হামলা করতে পারবেন না--করলে নবাবী লোকেরাও উচিত শিক্ষা দেবে । আর কোম্পানীর নাম করে বিন! শুকে ব্যবসা করতে তিনি আর দেবেন না। এই খবরে এলিস ক্ষেপে গেলেন। হেস্টিংস এলিলকে ঠাখা করার চেষ্টা করে বিফল মনোরথ হলেন। সাসারামে বেস্টিংসএর ৩৫২ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন।! সঙ্গে নবাবের সাক্ষ্যাত হল ১৩ই মে। হেস্টিংস পত্রে গবর্রকে জানালেন যে নবাবের সঙ্গে বোঝাপড়া করা কঠিন হবে না কারণ তিনি ঘন্ব চাননা। কিন্ত এলিসকে সামলান অত্যন্ত কঠিন। তার নবাবের গ্রতি ছুম্মতি যে কোন সময সংকটকে ত্বরান্বিত করবে। হেস্টিংস ভানালেন যে অমিয়েট, এলিস ও কারনাক নবাবের পদচ্যুতির জন্য যে কোম্পানীর পরিচালকদের কাছে হংল্যাণ্ডে পত্র লিখেছেন তা নবাব সম্পূর্ণ অবহিত ।৯৯ জুন-জুলাই | হেস্টিংদ মুঙ্গেরে অবস্থান করছেন। ২৫শে এপ্রিল ভাগলপুর থেকে লিখলেন সেই বিখ্যাত চিঠি২০ যাতে দেশের অবস্থার জাজল্যমান ছবি ত্বাকা হয়েছে । হেস্টিংসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নবাব অভিযোগ করলেন প্রত্যেক পরগণায় ইংরেজের নামে যথেচ্ছাচার হয় । তারা জন কেনাবেচা করে, স্বপারি, ঘি, চাল, খড়, বাশ, মাছ, বস্তা, আদী, চিনি, তামাক, আফিং প্রভৃতি জিনিষেরও ব্যবসা করে। রায়ত ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে মাল কেড়ে নেয়।২৯ হে্টিংসের দৌত্য বিল হল। সেপ্ম্বর । নবাব তার রাজধানী মুজেরে স্থানান্তরিত করে গবর্ণর সাহেবকে তার নূতন রাজধানীতে আমন্ত্রণ করলেন । ১লাঃনভেম্বর । হেস্টিংস সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে গবর্ণর মুকেরে গিয়ে নবাবের সঙ্গে দেখ! করতে মনস্থ করলেন। ৯ই'নভেম্বর । গবর্ণর ও হেস্টিংস কাশিমবাজার উপনীত । ১৫ই নভেম্বর । নবাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ঢাকা, লঙক্খা।পুর, চট্টগ্রাম ও পাটনায় ইংরেজদের ব্যবসায়ে বাধা স্ষ্টি করছেন। ৩শে নভেম্বর ॥ গবর্ণর সাথী সহ মুলেরে পৌছলেন। (মুশিদদাবাদ ত্যাগ ১২ই নভেম্বর )।২২ মীরকাশিম ৩৫৩ ১ল| ডিসেম্বর । নবাবের সঙ্গে গবর্ণরের প্রথম সাক্ষ্যাতকার তারপর দৈনিক আলাপ ।২৩ ১৫ই ডিসেম্বর | নবাবের সঙ্গে সন্ধির সর্ত স্থির ।২৪ হেষ্টিংসের পত্র ।২৫ নবাবের সঙ্গে বিরোধের মূল কারণ 20101101181 17809. গবর্ণর ও হেষ্টিংদ উভয়েই কোম্পানী কর্মচারী হলেও তাদ্দেব ও তাদের বন্ধুদের ব্যবভার নবাবের প্রতি সহান্গভূতিশীল। নবাব সুস্পষ্ট নির্দেশ গারী করলেন যে কোম্পানীর কোন কর্মচারী, তাদের অধীনস্থ কেউ বা গোমস্তা, দেশের কোথাও সরকারী পদ গ্রহণ করতে পারবেন না। শ্বাধীন ব্যবস| করার অথবা জমি, বা বাজার কেনবার অধিকার তাদের নাই । জমিদারদের অথবা সরকারী কর্মচারীদের তারা কোন অর্থ ধার হিসাবেও দিতে পারবেন না ।২৬ ১৭৬৩ ॥ ৯ই জীহুয়ারী। গবর্ণর ও হেষ্টিংস মুঙ্গের ত্যাগ করে ১৪ই জান্চয়ারী কাশিমবাঁজারে পৌছলেন। জানুয়ারী (শেষের দ্রকে )। নবাবের নিজ সৈন্ত নিষে যুদ্ধোদ্যম। গুরগিণ খীর অধীনে একদল সৈন্ত নেপাল জয়ে প্রেরিত হল। মকবনপুরের যুদ্ধে নবাবী সৈন্য গুর্খাদের পরাঞ্ত করল বটে কিন্ত রাত্রের গুর্থা আক্রমণে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল । ২৭ ফেব্রুয়ারী । গবর্ণরের নবাবের সঙ্গে চুক্তি কাউন্সিলে সংখ্যাগুরু সদস্যগণ নাকচ করে দ্িলেন। নবাবকে জানান হল ঘে বাদশাহী ফাব্রমান বলে এবং ভূতপূর্ব নবাবের অনুমতি অনুসারে কোম্পানীর দস্তকের বলে বিনা শুন্ছে আভ্যন্তরীণ ও বিদেশীয় বাণিজ্য করবার অধিকার ইংরেজ বণিকদের 'আছে। সুতরাং এই অধিকারে ইংরেজ ,বণিক বিনাশুক্কে ব্যবসা করতে পারে এবং করবে। কেবল, হন ও তামাকের ওপর কিছু শুন্ক দিতে কোম্পানী রাঁজী আছে ।২৮ নবাব কিন্তু ইতিমধ্যে গবর্ণরের পত্র সর্বত্র পাঠিয়ে বিনাশুক্কে বাণিজ্য বন্ধ করার ৩৫৪ বাংলা প্রাতহাসিক নাটক সমালোচনা এবং প্রয়োজন হলে জোর করে ইংরেজ বণিকদের এই বে-আইনী ব্যবসা রোধের হুকুম জানিয়ে দিয়েছেন। কলকাতা কাউদ্িলে গবর্ণর জানালেন যে তিনি নবাবকে বলেছেন যে তার সঙ্গে আলোচনা শেষ কথা নয়। কাউন্সিলের মতাঁমতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিবেচিত হবে স্তরাং কলকাতার পত্র না পেলে তিনি যেন কোন আদেশজারী না করেন। গবর্ণর ভ্যান্দি্রার্ট নবাবের ব্যবহারে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ।২৯ মার্চ। গয়ার কাছে নবাবী ফৌজের সঙ্গে পাটনার এলিস সাহেবের ফোৌঁজের সংঘর্ষ হল। বিহারের ডেপুটি গবর্ণরের পদে মীর মেহেদী খা নিযুক্ত ও নহবত রায় কর্মচ্যুত হলেন। জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্বধয় মহাতাপচাদ ও স্বরূপঠাদ নবাবী হুকুমে মুঙ্গেরে আনীত হলেন। নবাব ইংরেজ কোম্পানীর কাছে নবাবীতে ইস্তফা দিয়ে পদত্যাগের প্রস্তাব করলেন 1৩০ ১৭ই মার্চ । নবাব সমস্ত জিনিষের উপর থেকে শুল্ক তুলে দ্িলেন। বাংলার রাজন্ব অর্ধেক হয়ে গেল ।৩৯ এপ্রিল । পাটনায় এলিস যু্ধার্থে প্রস্তুত হলেন। নবাবী কর্মচারী ও কোম্পানীর লোকদের মধ্যে বিরোধ এলিসের ক্রোধে দ্বতাছুতি হল। কলকাত! হতে পাটন! যাবার পথে অস্ত্র বোঝাই ইংরেজদের নৌক1 নবাব আটক করলেন। ১৪ই এপ্রিল । কলকাতার কাউন্লিল যুদ্ধের পরিকল্পনা লিপিবদ্ধ করেছেন ।৩২ এপ্রিল (শেষ সপ্তাহ)__কাউন্সিলের প্রতিবাদের জবাবে মীরকাশিম জানালেন যে নবাবী হুকুমেই মহম্মদ তক খাঁ জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্বয়কে ভীরাঝিলে বন্দী করেছেন । (নবাবের ২রা মের পত্র। ) তিনি পরে তাদের মুঙ্গেরে প্রেরণ করেন 1৩৩ ১৫ই মে। কাউক্সিলের নৃতন প্রস্তাব নিয়ে অমিয়েট ও হে মুজেরে নবাব সমীপে উপনীত হলেন (ধাত্রা সুক্ষ কলকাতায়, ৪ঠ1 এপ্রিল) নবাব বললেন “ইংরেজরা বহু সন্ধি করিয়াছে মীরকাশিম ৩৫৫ এবং তাহা! অবিলম্ষে ভঙ্গ করিয়াছে-_আমি কোন সন্ধি তঙ্গ করি নাই! স্থতব্রাং নূতন সন্ধির কোন অর্থ হয় না”।৩৪ ২২শেজুন। কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের অন্থরোধে নবাব অস্ত্র বোঝাই ইংবেজ নৌকাগুলি ছেড়ে দিলেন। সেগুলি পাটনা অভিমুখে যাত্র। করল ।৩৫ ২৪শে জুন। এলিস পাটনা আক্রমণ করলেন। দুর্গ অয় করতে না পারলেও শহর অধিকার করলেন। সংবাদ পেয়ে নবাব সেনাপতি যার্কারের নেতৃত্বে সৈম্তদল প্রেরণ করলেন। মার্কাবের সৈন্যদল ইংরেজদের পাটনা কুঠি আক্রমণ করল । আর একদল সৈন্য নিষে সমরু বার হল। কয়েক দিন যুদ্ধের পর মাঞ্জীতে গঙ্গাতীরে এলিস সাঙ্গ-পাঙগ সহ বন্দী হলেন। তাঁকে অন্তান্ত ইংরেজ বন্দী সহ মুঙ্গেরে নিষে ঘাওয়া হল। ওর! জুলাই । অমিয়েট কলকাতা বওনা হয়েছিলেন । পাটনা যুদ্ধের খবর পেয়ে নবাব ঠাব গতিরোধের আদেশ দিলেন । নবাবী সৈন্টকে নোকার কাছে দেখে ভীতত্রস্ত ইংরেজরা! গুলি- বর্ণ করলেন। ক্ষিপু নবাবী সৈন্ত সমন্ত ইংরেজ সহ অমিয়েট সাহেবকে মুশিদাবাদ ও কাশিমবাজারের মধ্যবন্তি জায়গায় বধ করলেন । অমিয়েটের হত্যা সংবাদে কলকাতা! কাউন্সিল একজোট হযে মীরকাশিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন । তাকে নবাবী থেকে সরিয়ে বুদ্ধ মীরজাফরকে নবাব ঘোষণা করা হল। ইংরেজ নবাবের বজ্ধু সেজে দেশের হিতার্থে বিদ্রোহীকে শাসনের সংকল্প ঘোষণা করলেন। নৃতন "নবাব মীরজাফর ১০ই জুলাই চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করলেন। ১৯শে জুলাই | যুদ্ধ স্বর হল| কাটোয়ার যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ও তকীর্থার মৃত্যু হল। ২৪শে জুলাই । মুশিদাবাদ ইংরেজ দখলে । মেজর আ্যাভামসের হাত ধরে ৩৫৬ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা মীরজাফর আবার নবাবীতক্তে উপবেশন করলেন । আন্ুষ্ঠানিক ভাবে মীরকাঁশিমের নবাবী এই দিনে সাজ হল। ২র1 অগা । গিপিয়ার যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ও বদরুদ্দীন ও আসাছলার বীরত্ব। সমরু ও মার্কার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন না। ৫ই সেপ্টেম্বর । উধুয়ানালার যুদ্ধে নবাবের পরাজয় । আরাটুন, মার্কার ও গুরগিণ খাঁ! প্রায় বিনা যুদ্ধে পলায়ন করলেন। ৯ই সেপেম্থর। “পুনঃপুনঃ পরাজয়ে ও সেনানায়কদের বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী শুনিয়। মীরকাশিম উচ্মুভ্ভবৎ হিতাহিত জ্ঞানশূন্ত হইলেন। ইংরেজ সেনাপতিকে পত্র লিখিয়া জানাইলেন তাহাদের সৈম্দ্রের অত্যাচারে তিন মাস যাবৎ বাংলাদেশ বিধ্বস্ত হইতেছে বদি তাহার! এখনও নিবৃত্ত না হন তাহা হইলে তিনি এলিস ও ইংরেজ বন্দীদের হত্যা! করিবেন |৮৩৬ ইংরেজ কোম্পানী সৈন্ত সরান দূরে থাক আরো চাপ- সথষ্টর পথ অবলথ্বন করণ | ফলে নবাবও প্রচণ্ড রাগা দ্বিত হলেন । সেপ্টেম্বর । রাজা বামনারায়ণ ও কয়েকজন সন্্ান্ত ব্যক্তিকে গঙ্গায় ডুবিয়ে হত্যা করা ভল।৩৭ রাজ রাজবল্লভ ও তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র কষ্দ্াস বধ্য হলেন ।৩৮ কিংবদন্তি জগৎশেঠ ভ্রাত্দ্বয়ের এই সময় মৃত্যু নির্দেশ করে। চুনী নামক জগৎশেঠ ভূত্যের প্রভৃভক্তির গল্পও বহুল প্রচলিত । কিন্তু এ সময় জগৎশেঠরা জীবিত ছিলেন । ১লা! অক্টোবর । মেজর আয।ডামস মুঙ্গেরে পৌঁছলেন । ওরা দুর্গ দখল করলেন। মীরকাশিম পাটন! অভিমুখে পলায়ন, করলেন ।৩৯ «ই অক্টোবর । নবাবের আদেশে এলিস সহ সমস্ত ইংরেজবন্দধী নারী- পুরুষ-শিশ্ড নিবিশেষে নৃশংসভাবে নিহত হলেন। সাক্ষী হবার জন্ত একমাত্র ডাক্তার ফুলারটন জীবিত মীরকাশিম ৩৫৭ থাকলেন। গল্টোন ও হে সাহেবদ্ধয়ও এই সময় নিহত হন। ১৪ই অক্টোবর । নবাব পাটন] ত্যাগ করে ফুলওয়ারির দিকে পলায়ন করলেন ।৩৯ ১৫ই অক্টোবর । মুঙ্গের দখল করে মেজর আযাডামস পাঁটনা যাত্র। করলেন। :৮ই অক্টোবর । পাটনা থেকে সসৈন্তে পালিয়ে মীরকাশিম “বারে? উপনীত হলেন । এইথানে প্রধান সেনাপতি গুরগিণ খার গুপ্ত হত্যা নবাবী আদেশে সংঘটিত হল। পরদিন জগৎশেঠ ভ্রাতিদ্বয়কে নৃশংসভাবে হত্যা কর] হল তারপর শেঠবংশের বন্দীপুত্রদের বাদশাহেব কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হল। বাদশাহ পরে তাদের মুক্তি দেন 8০ ২৮শে অক্টোবর । মেজর আযাডামস সসৈন্যে পাটনা। পৌছলেন । ৩ই নভেম্বর । পাটনা ইংরেজ দখল করল। মীরকাঁশিম কর্মনাশা পার হয়ে পলায়ন করলেন। ইংরেজ কোম্পানী তাঁকে ধরে দেবার মূল্য ঘোষণা করল এক লক্ষ টাকাঁ। সমরুর শিরের দাম দেওয়া হল চল্লিশ হাঁগার টাকা ।৪৯ ডিসেম্বর । মীরকাশিষ অযোধ্যার নবাব স্থজাউদ্দোলীর আশ্রয় গ্রহণ করলেন । ১৭৩৪ ॥ ১৬ই ানুয়ারী। অত্যধিক ক্লাঙিতে কলকাতায় মেগর আাডামসের মৃত্যু হণ। নকৃস সৈম্তাধ্যক্ষ নিযুক্ত হলেন কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে তার মৃত্যু হলে জেনিংস একটিং জেনাবেল নিযুক্ত হলেন। ফেব্রুয়ারী । স্ুুঙ্গাউদৌল্লার ইংরেজের সঙ্গে সংযোগ । মার্চ। মীরকাশিমের সঙ্গে জুজাউদ্বোল্লার এলাহাবাদে সাক্ষাতকার। স্ুজ।উ- দৌল্ল। মীরকাঁশিমকে সাহাব্য করবার প্রতিশ্রুতি দিলেন । এপ্রিল 1 মীরজাফর বাধিক ২৮ লক্ষ টাকা রাঁজন্বের বিনিময়ে বাংলার স্থবেদার নিযুক্ত হলেন। বাদশাহী পরোয়ানা উজীর স্জাউদ্দোল্লা মাররফৎ জারী হল। সিতাব রায়ের বুদ্ধিতেই এ ঘটন। ঘটে। পুত্র কল্যাণ সিং-এর মারফঞ্চ তিনি বাদশাহী ৩৫৮ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা পরোয়ানা নবাব মীরজাফরের কাছে পাঠালেন । আনন্দে অধীর বুদ্ধ নবাব সার! জীবনভোর বিহারের নায়েব নাজিমগিরি করার হুকুমনাম! সিতাব রায়কে পাঠিয়ে দিলেন।৪২ মীরকাশিষের সনির্বন্ধ অনুরোধে জুজাউ- দৌল্লা তাঁকে সাহায্য করতে রাজী হলেন। স্থুজাউর্দোল্লা ও বাদশাহের সঙ্গে মীরকাশিমের সন্ধি হল। ৩রা মে। মেজর কারন্যাকের অধীনস্থ ইংরেজবাহিনীর কাছে মীবকা শিম, স্থজাউদৌল্লা, বাদশাহ শাহ আলম ও তার কর্মচারী বেণীবাহাদূরের সম্মিলিত বাহিনীর পাচপাহারির যুদ্ধে পরাজয় । একমাত্র স্ুজাউদৌল্লার অধীনস্থ এনায়েত থার নেতৃত্বে পাঠান বাহিনী আর অন্ুপগিরির নাগা- সন্গ্যাসীর দল যুদ্ধ করলেন। অন্ত সবাই দর্শকের ভূমিকায় । জুন। স্ুজাউদৌল্লার সঙ্গে নবাব মীরভাফরের গোপন পত্রালাপ। কোম্পানীর হুকুমে কাবন্তাক বরথান্ত। মীরজাফর পাটনায় এলেন। পাটন! থেকে নন্দকুমার সমভিব্যহারে মুশিদাবাদ হয়ে এলেন কলকাতায়। ছাপড়ায় ইংরেজ বাহিনীতে বিদ্রোহ। মেজর মনরে! কঠোর হস্তে বিদ্রোহ দমন করলেন। সেপ্টেম্বর । বক্সারে সৈচ্ভ সমাবেশ । পাটনা অবরোধ। স্থজাউদৌল্লা মীরকাশিমকে বন্দী করলেন। অক্টোবর । গুপ্ুধনের সন্ধানে বন্দী মীরকাশিমের উপর পীড়ন করা হল। মুক্ত হলেন অবশেষে ২১শে অক্টোবর । ২২শে অক্টোবর । বক্মারের যুদ্ধে হ্লীরকাশিম ও সুজাউদৌল্লার সম্মিলিত বাহিনী মেজর হেকটর মনরো পরিচালিত ই"বেজ বাহিনীর কাছে পরাজিত হল। মীরকাশিম "পলায়ন করলেন। ১৭৬৪ ॥ সুজাউদৌল্লাকে শিক্ষা দেবার জন্য তার শক্র রোহিলাদের সঙ্গে মীরকাশিম যোগাযোগ করলেন। সেখানে স্থবিধা ১৭৬৫ ॥ ১৭৬৬ ॥ ১৭৬৮ | ১৭৭০ ॥ মীরকাশিম ৩৫৯ করতে না পেরে ভরতপুরের তৎকালীন রাঁভা জাঠ জবাছির সিংএর শরণাপপ্জ হলেন। কিন্তু তরতপুরের গৌরব তখন অস্তমিত 1১৩ মীরকাঁশিম তখন শ্শিখদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন কিন্তু সাহায্য করবার জন্ত তারা যে মূল্য চাইল তা দেওয়৷ মীরকাশিমের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ল। মীরকাশিম ফরাস কোম্পানী এবং মহিশূরের হায়দার আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতে বিফল হলেন 155 মারাঠাদদের সঙ্গে প্রথম থেকে কোন আলোচনা হয় নাই দেখে মীরকাশিম এ বিষয়েও চেষ্টা করলেন ।8৫ রোছিলাদের মধ্যে বসবাস করে মারাঠাদের বন্ধুত্ব চেয়ে হাত বাড়ান রোহিল! সর্দার হাফিজ রহমত খা একেবারেই পছন্দ করলেন না । মীরকাশিমের এ চেষ্টা রহিত কর। হল 1৪৬ আগ্রা থেকে গোছাদের বাঙ্গার রাজত্বে মীরকাশিম এসে উপস্থিত হলেন। গোঁহাঁদের রাজা মীরক[শিমের বসবাসের জন্ নিজের একটি দুর্গ ছেড়ে দ্রিলেন। এখান থেকেই মারাঠাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সৈন্য সংগ্রহের চেষ্টা করলেন মীরকাঁশিম। এইসময় বেশ এক ৰড় বাহিনীর সম্ভাবন৷ দেখ! গেল । মারাঠ নেতৃত্ে যোগদান করলেন শিখ সংঘ ও দিল্লীর ভূতপূর্ব উজীর গাজীউদ্দিন, হাফিজ রহম খা মনস্থির করতে না পারলেও তার পুত্র এনায়েৎ খা মীরকাশিম পক্ষে নৈম্তদল নিয়ে যোগ দিতে শ্বীকার করলেন। ফরকাবাদের আহমদ খাঁ বঙ্গন মীরকাশিমের সঙ্গে যোগ না দিলেও তার রাজত্বে সৈম্ত-সংগ্রহে আপত্তি করেন নাই। মীরকাঁশিমের বিশ্বাসঘাতক সৈন্তাধ্যক্ষরা সমকক আর মেডোক, গোহার্দে এসে তার সঙ্গে যোগ দিলেন। সমগ্র চেষ্টায় জাঠরা যোগদান করল এবং আগ্রা ফোট ৩৬০ ১৯৭৪ | ১৭৭৫ | বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা থেকে ভারী কামানগুলি এলাহাবাদ অভিমুখী করা হল। ইংরেজ এইসব খবর পেয়ে এলাহাবাদ পরিত্যাগ কবে বাকীপুরে সৈম্ সমাবেশ করল । আপলিগডে ইংবেজ বিরোধী এই সর্বভারতীয় বিবাট বাঁহনী মিলিত হলেন। মিলনের সঙ্গে সঙ্গেই বিচ্ছেদ স্থরু হল। যে মূহুর্তে তারা বুঝতে পারলেন যে মীরকাশিমের ধনরত্বের গল্প মিথ্যা ও গুজব মাত্র তখনই সরে যাওয়! সরু হল। শিখ ও জাঠদের প্রাচীন কলহ আবার দেখা দিল। দেখতে দেখতে সৈম্তদের বেতন দেবার সময় হল । মীরকাশিমের অর্থশুন্তা প্রকাশ হয়ে পডামাত্র শিবির- গুলি ক্রত থালি ভয়ে যেতে লাগল । শেষে কপর্দক শূন্য বন্ধুহীন নিজেকে রক্ষা করতে অসমর্থ মীরকাশিম অত্যন্ত হীন অবস্থা প্রাপ্ত হলেন 18৭ শবর্ণর হেস্টিংসের সঙ্গে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলমের যোগাযোগ স্বরে হলে বাদশাহ মীরকাঁশিমকে আজমীভে প্রতিষ্ঠিত করে তার নামে স্থবা বাংলা দাবী কবলেন। মীরকাশিম এ সময় ধোধপুরে বনবাস করছিলেন । অবশেষে অযোধ্যার নবাব আসফউদৌল্লার ষথযন্ত্রে মীরকাশিমকে বাদশাহর সামনে উপস্থিত হতে দে “| হল না। মীরকাশিমএর পুরাতন বন্ধু মীর বক্পী নজাফ খা স্বয়ং চেষ্টা করে বিফল হলেন ৪৮ মীরকঃশিম রাজপুতানায় গেলেন এবং সেখান থেকে নেপালে যাবার চেষ্টাও করলেন। অবশেষে হেস্টিংস সাহেবকে এক পত্র লিখে তিনি জানান যে তার নাম দিয়ে যেসব ষডযন্ত্র হচ্ছে তার সঙ্গে তিনি কোনভাবেই জড়িত নন অথচ সে সব বন্ধ করার তার কোন ক্ষমতা নাই। হেস্টিংস যেন তাকে ক্ষমা করেন।৪৯ ২৭৭৭ | ৭ই জুন সাজাহানাবাদে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তার ছুইপুত্র গুলাম উরাইজ জাফারী ও মহম্মদ বাঁকির-উল-হুসাইনী মীরকাশিম ৩৬১ ফরাসী গবর্ণর মসিয়ে শেভেলিয়রকে জানান যে তাদের পিতার শেষরত্য করার ক্ষমতা তাদের নাই 1৫০ সম্ভবত ফরাসী সাহায্যেই মীরকাশিমের শেষরুত্যাদি সম্পন্ন হয। মনে রাখতে হবে যে ১৭৬৪ থেকে ১৭৭৫ ত্ী্াব্দের নানা ষড়যন্ত্রের নায়ক কিন্ত মীরকাশিম ছিলেন না, বরঞ্চ বলা চলে এই সময়কার রাজনৈতিক শতরগ্র খেলায় তিনি হয়ে গিষেছিলেন অন্যতম ঘু'টি । তাই অর্থকষ্টে জীবনের শেষ কয়বছর অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন বাংলার এই ভূতপূর্ব নবাঁব। উদবী রেগে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় স্ত্রী কাছে ছিলেন না সম্ভবত আগেই তার মৃত্যু হয়েছে । মীরকাশিমের জীবনের বৈচিত্রাপূর্ণ ইতিহাস বিশদভাবেই লিখিত হল যাতে তার জীবনের বিভিন্ন ঘটনাকে বিচার কর সহক্ত হয। ভাগ্যের পরিহাসে মীরকাঁশিমের বন্ধু হেস্টিংস সাহেব গবর্ণর হয়ে বাংলায় এলেন কিন্ত মীরকাশিম তখন বহু দবে, মৃত্ুপথযাত্রী। আশ্চর্য জীবন মীরকাঁশিখ্বে। ১৭৪৪ শ্রীষ্টান্বের ৩০শে মার্চ ভাস্কর পণ্ডিতেৰ অন্ততম শ্ত্যাকারী হিদবে আলিবদীর স্ুনজরে এলেন । সিরাজদ্দৌলাকে ধরিয়ে দিলেন ১৭৫৭ শ্রীগাে | নবাব হলেন ১৭৬০এ, বিতাড়িত হলেন ১৭৬৩তে* বক্মাবে পরাজয় ১৭৬৪, যুদ্ধোগ্যম ১৭৭০ ও মৃত্যু ১৭৭৭ খ্রীষ্টাবে। বহ্কিমচন্দ্র £ চন্দরশেখর ১৮৭৫ ॥ মীরকাশিমকে বাংল! সাহিত্যে প্রথম দেখ! গেল ১৮৭৫ খ্রীষ্টাব্দে বন্কিমচণ্ চট্টোপাধ্যাযের চন্্রশেখর উপন্যাসে ।৫৯ মীরকাশিম এই উপন্যাসে প্রধান চব্রিত্র নয়, পার্শচরিত্র মাত্র । বঙ্কিমচন্দ্র «বিজ্ঞীপনে লিখেছেন “ইহাতে যে সকল এঁতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ আছে তাহার কোন কে;ন কথা সচরাচর গ্রচলিত ভারতবর্ষীয় বা বাঙলার ইতিহাসে পাওয়। যায় না। সয়ের মতাক্ষরীণ নামক পারস্য গ্রন্থের একখানি ইংরেক্তি অন্গবাদ আছে; এরতিহালিক বিধয়ে কোথাও কোথাও প্র গ্রন্থের অন্ুুবর্তা হইয়াছি। প্র গ্রন্থ অত্যন্ত ছুলভ, এ ৩৬২ বাংল! এ্রতিহাপিক নাটক সমালোচনা গ্রন্থ পুনমুদ্রাঙ্কনের যোগ্য । বঙ্কিমচন্দ্র মুতাক্ষরীণ পাঠ করে মীরকাশিম চরিত্র স্থষ্টিতে প্রয়াস পান। ইংরেজদের সঙ্গে মীব্রকাশিমের বিরোধের ঘটনা- গুলির যতটুকু উল্লেখ আছে তা দাধারণভাবে ইতিহাস অনুসারী । উপন্তাসের মধ্যেও ইতিহাস হ্থন্দর ভাবেই ব্যবহৃত হয়েছে । প্রথমথণ্ডের প্রথম পরিচ্ছদে মুঙ্গের দুগপ্রাসাদে নবাব ও তার মহিষীর কথোপকথনে মীরকাশিমের সংলাপ--ঃ “( ইংরেজ ) বলেন, রাজ] আমরা কিন্তু গ্রজাপীড়নের স্ভার তোমার উপর | তুমি আমাদিগের হইয়া প্রজাপীড়ন কর।” কেন আমি তাহা করিব? যদি প্রজার হিতার্থ রাজ্য করিতে না পারিলাম, তবে সে রাজ্য ত্যাগ করিব--অনর্থক কেন পাপ ও কলঙ্কের ভাগী হইব । আমি সিরাজদ্দৌলা নহি বা মীরজাফরও নহি” (পাতা ১৫)। এত অল্প কথায় মীরকাশিমের সঙ্গে ইংরেজের বিরোধের মূল কথা তুলে ধরা কেবল বহ্কিমচন্দ্রের পক্ষেই সম্ভব । পরবর্তী প্রতিহাসিক উল্লেখ দ্বিতীয় খণ্ডের পঞ্চম পরিচ্ছেদে। “কলিকাতার কৌন্সিল স্থির করিয়াছিলেন নবাবের সঙ্গে যুদ্ধ করিব। সম্প্রতি আজিমাবাদ কুঠিতে কিছু অস্ত্র পাঠান আবশ্যক । সেই জন্য এক নৌকা অন্তর বোঝাই দিলেন । আজিমাবাঁদের অধ্যক্ষ ইলিস সাহেবকে কিছু গুপ্ত উপদেশ প্রেরণ আবশ্ঠক হইল। অমিয়ট সাহেব নবাবের সঙ্গে গোলযোগ মিটাইবার জন্য মুঙ্গেরে আছেন |” (পাতা ৪২) সময় যে ১৭৯৬৩ গ্রীষ্টাব্বের মে মাস সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই | পঞ্চম থগ্ডের প্রথম পরিচ্ছদে নবাবী সৈন্যের ভাতে অমিয়টের হত্যার বর্ণন! দেওয়। হয়েছে পাতা ৯২-৯৫)। গলস্টন সাহেব অবশ্য এই সময় অর্থাৎ ৩রা জুলাই ১৭৬৬ শ্রীষ্টাব্দে মারা যান নাই। বস্তত তিনি নৌকাতে ছিলেন না। উধুয়ানালায় পরাজয়ের পর ৫ই অক্টোবর ১৭৬৩তে নবাবী আদেশে যখন অকল্মাৎ ইউরোপীয় বন্দীদের হত্যা কর! হুল তখনই ফার্সীবিদ গলস্টনের জীবন্ত সমাধি দেওয়া হয়। বষ্ঠ খণ্ড দ্বিতীয় পরিচ্ছদে মীরকাশিমের সঙ্গে ইংরেজদের কাটোয়া যুদ্ধের বিবরণ দেওয়া হয়েছে, (পাতা ১০৭ ) তৃতীয় পরিচ্ছদে গিরিয়' যুদ্ধের খবর (পাতা ১১০) ও অষ্টম পরিচ্ছদে উধুয়ানালার যুদ্ধে প্রতাপের মৃত্ত্যর সঙ্গে সঙ্গে উপন্যাসের সমাপ্ডি (পাত! ১২২-১৩১)। উতিহাসিক চরিব্রগণের মধ্যে উল্লেখিত ব্যক্তিগন ছাড়া! খোজা! গ্রেগরী বা গুরগিণ খা এবং তকী খ! বিশ্বাসঘাতক রূপে চিত্রিত । তকী খা নবাব অন্থুগামী ছিলেন আমৃত্যু । এই বীর চত্বিত্রটি অহেতুক কলক্কিত। মীরকাশিম ৩৬৩ জগৎশেঠ ভ্রাতৃঘয় মুঙ্গেরে আমোদ আহ্লাদ করে গুরগিণ খার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছেন এটাও সঠিক নয়। জগৎশেঠ ভ্রাতৃঘয় মুঙ্গেরে বস্তত নবাবের বন্দী হিসেবেই বাস করতেন। ইংরেজদের মধ্যে লরেন্স ফস্টব্র কল্পিত চরিত্র--তবে জনসন নয়। বাক্ষিমচন্দ্র যে ভাবে উপন্যাসে ইতিহাসকে ব্যবহার করেছেন তা সত্যই বিশেষভাবে অন্ধাবনের যোগ্য । বঙ্কিমচন্দ্র পর দীর্ঘ ত্রিশ বছর পার হবার আগে বাংলা সাহিত্যে মীর- কাশিমকে না দেখে আশ্চর্ধ হতে হয়। ১৯০০ খ্রীষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত নিখিল নাথ রায়ের মুশিদাবাদ কাহিনীতে “উধুয়ানাল!” প্রবন্ধে মীরকাশিম সম্পর্কে কিছু তথ্য আছে। ছঃখের বিষয় তারিখের তুলে প্রবন্ধটি আচ্ছন্ন সেজন্ত মনে হয় যে যথেষ্ট যত্র সহকারে প্রবন্ধটি সংশোধিত হয় নাই। বঙ্গভঙ্গ ও তৎ- কাপীন রাজনৈতিক আন্দোলন এবং ১৯০৫ গ্রীষ্টাব্দে মহাকবি গির্িশচন্দের “সিরাজদ্দৌল|” নাটকের সাফল্য নবাব মীরকাশিমকে আবার সাহিত্য জগতে নিয়ে এল। তখন সকলের মনে পড়ে গেল যে বঙ্কিমচন্দ্র মীরকাশিমকে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব বলে উল্লেখ করেছেন । হঠাৎ মীরকাশিমকে নিয়ে বেজায় তাড়াহুড়া পড়ে গেল ।॥ এক বছরে তিনথানি নাটক রচিত হল। ১৯০৩ গ্রী্টাবের ১০ই অক্টোবর প্রকাশিত হল মণীন্দ্রনাথ নাগ রচিত মীরকাসেম। মাসখানেকের মধ্যে ১৯০৬ গ্রীষ্টাব্দের "ই নভেম্বর গিরিশচন্দ্র ঘোষের মীরকা সিম প্রকাশিত হল। আরে! আশ্চর্য্য বিষয় দুইটি নাটকই ছাপা হয়েছে ৭নং শাস্তিরাম ঘোষ ট্রটে। মুদ্রাকর যথাক্রমে শ্রীনাথ রায়চৌধুরী ও শ্রীমন্ত রায়চৌধুরী । মণীন্দ্রনাথের প্রকাশক হরিদাস মিত্র এবং তার নাটকের পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬+১৫৮। প্রকাশকের ঠিকানা নবকুমার রাহার লেন। গ্রির্িশ- চন্দ্রের প্রকাশক অবিনাশচন্দ্র গাঙ্গুলী এবং নাটকের পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৪০। উভয় নাটকের দাম প্রথম প্রকাশের সময় ছিল এক টাক মাত্র ।৫২ ১৯০৭ খ্টাকের হর হতে না হতেই ক্ষীরোদগ্রসাদ বিদ্যাবিনোদের “পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত প্রকাশিত হল। এই নাটকটিরও মূল্য এক টাকা মাত্র» প্রকাশক গুরদাস চট্টোপাধ্যায় ও পৃষ্ঠ। সংখ্যা ২১৭। গিরিশচন্দ্র রচিত লাটক মহালমারোহে অতিমীত হতে থাকে । আন" পাধারণের মনে মীরকাশিম এই নাটকের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বাঞ্ধমতক্রের চক্সশেথরের মাটাক্পও এই সময় অভিনীত হতে খাকে। ৩৬৪ বাংল৷ এঁতিহা সক নাটক সমালোচনা অবশেষে ১৯০৮ খ্রীষ্টাব্দে বুটিশ সরকারের নিদ্রাভঙ্গ হল তারা গিরিশচন্দ্রে মীরকাসিম, ক্ষীরোদপ্রসাদের পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত ও বন্কিমচন্দ্রের চত্রশেখরের অভিনয় নিষিদ্ধ করলেন। মীরকাশিম ও পলাধীর প্রায়শ্চিত্ত নাটক দুইটি রাজরোষে বাজেয়াপ্ত হল। আজ পর্য্যন্ত এই দুইটি নাটকের একক গ্রকাঁশ আর হয়নাই। সাহিত্য সংসদের গিরিশ গ্রস্থাবলীতে “মীরকাসিম? প্রকাশিত হয়েছে । এ পর্য্যন্ত মীরকাশিম সম্পর্কে পাচখান। নাটক পাওয়। গেছে। ১। মীরকাসেম-_মণীঞ্জ নাথ নাগ অক্টোবর ১৯০৬ হরিদাস মিত্র ২। মীরকাসিম__-গিরিশচন্দ্র ঘোষ নভেম্বর ১৯০৬ অবিনাশ চন্দ্র গ'ঙ্গলী ৩। পাশার প্রায়শ্চিত্ত _ক্ষীরোদপ্রসাদ বিগ্ভাবিনোদ ১৯০7 গুরুদ্দাস চট্টোপাধ্যায় ৪। মীরকাশিম__মন্মথ রায় ১৯৩৮ গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স ৫ | মীরকাশেম_ রেবতী মৈত্র ১৯৫৬ ? মণীন্রনাথ নাগ £ মীরকাসেম ॥ “মীরকাসেম” নামে মীরকাশিম সম্পকীয় প্রথম নাটক জাতীয় গ্রর্থাগার ব৷ বঙ্গ*য় সাহিত্য পরিষদে না থাকায় সেটা পাঠের স্থযোগ পাওয়া যায় নাই। পরবন্তীকালের নাটকের চিন্তাধারার সঙ্গে এই নাটকের মিল অথব1 আমল এখন আর বোঝার সুযোগ পাওয়। গেল না। একমাসের মধ্যে একই ছাপাথান৷ থেকে একই নামে ছুইটি নাটক প্রকাশের সম্পর্কে ওুৎস্ক্য মেটান সম্ভব হত মণীজ্রনাথের নাটকখানি পাঠ করার স্গযোগ পেলে । বর্তমানে এ বিষয়ে আর কোন খবর জানা যাবে না। সুতরাং মীরকাশিম সম্পর্কে প্রথম নাটক রচনার জন্য সাধুবাদ জানিয়ে প্রসঙ্গাস্তরে যাওয়া যাক। মণীন্ত্রনাথ নাগ মীরকাশিম সম্পর্কে প্রথম নাটক লেখার কৃতিত্বের অধিকারী । গিরিশচন্দ্র ঃ মীরকাসিম ॥ মণীন্্নাথ নাগ প্রথম নাটক রচনা করলেও তার নাটক কখন অভিনীত হয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়। যায় না। প্রথম অভিনীত মীরকাসিষ নাটকের রচয়িত| গিরিশচন্দ্র ঘোষ। অভিনয়ের সময় ১৯০৬ গ্রী্টাব্ 1৫৩ হেমেন্দলাথ দাসগুপ্ত লিথেছেন যে সিরাজদ্দৌলার অভিনয়ের. কিছুদিন পরেই মীরকাপ্লিষের মীরফাশিম ৩৬৫ অতিনয় হয়। তৎকালীন অমৃতবাজার পাত্রকা থেকে জানা যায় যে যীরকাসিম নাটক প্রথম অভিনীত হয় ২রা! আষাঢ় ১৩১৩ সাল অর্থাৎ ১৬ই জুন ১৯০৬ শ্রীষ্টাব্ব রাত্র ৯ ঘটিকায়।৫৪ প্রথম রজনীর অভিনয়ে বিভি্ চরিত্রে অংশ গ্রহণ করেছিলেন £__মীরজাফর--গিরিশচন্্র ঘোষ, মীরকাসিষ _স্থরেন্্নাথ ঘোষ (দ্ানীবাবু), স্জাউদ্দৌলা ও লালসিংহ-_মণীন্দ্রনাথ মণ্ডল (মণ্ট,বাবু ); সাহ আলম ও আমিয়েট--এন বন্দ্যোপাধ্যায় (আযামাচার), আলী ইত্রাহীম_-বসন্ত রাষ, সন্দেহ হয় বসন্ত রাষ ছল্মনামের আড়ালে ছিলেন স্বনামধন্য অভিনয শিক্ষক গোবদ্ধন বন্দ্যোপাধ্যায় । সামসেরউদ্দীন ও ডঃ ফুলারটন__মন্থ নাথ পাল (হাছুবাবু), তকী খাঁঁ_নগেন্ছনাথ ঘোষ, মহম্মদ আমীন-উপেন্দ্রনাথ বসাক, হায়বতুল্লা ও আরাব আলী-জীবনকৃঝ্চ পাল, ফোৌজ্দার দূত--ননীগোপাল বন্দ্যোপাধ্যায়, জগৎশেঠ মহাতপ চাদ ও সমরু-_পণ্ডিত হব্রিভূষণ ভট্টাচার্য, নন্বকুমার__সাতকড়ি গজোপাধ্যায়, ভ্যান্সিট্রার্ট-অটলচন্্ দাস, জগৎশে স্বরূপ চাদ--স্টটবিষারী মিত্র, বায়ছুল ভ, কৃষ্চন্দ ও সলিমান-_জ্ঞানকালশ চট্টোপাধ্যায়, রাজবল্লভ ও মহম্মদ হসাখ_- পান্নালাল সরকার, রামনারায়ণ ও আলম খাডপেন্্রনাথ তষ্টাচাষ্য, হলওয়েল, হে ও মেজর আযাডামস-_অর্ধেন্দুশেখর মুস্তফী, হেস্টিংস- শ্রীমতী প্রকাশমণি, ইলিস, ব্যাটসন ও মনরে ক্ষেত্রমোহন মিত্র ; মাঝি-_মন্মথনাথ বন্থ, কেলড ও জোনস্‌-_ব্রজেন্ত্রনাথ চক্রবতী, জন কানাক-_-সত্যেন্রনাথ দে, গুরগিন খা--থগেন্দ্রনাথ সরকার, খোজ! পিক্র-হরিদাস দত্ত। খোজা বাজ্ি ও জাফর খাঁ-_নির্সলচন্দ্র গঙোপাধ্যায়। মণিবেগম- ত্ধীরাবালা (পটল ), বেগম-স্থশীলা সুন্বরী, তারা-তিনকড়ি ॥ শিক্ষক-_গিরিশচন্ত্র ঘোষ ও অধেন্দুশেথর মুস্তফী। অভিনয়ের স্থান মিনার্তা রঙ্গমঞ্চ । ১৯০৫ খ্রীষ্টাব্বের ৭ই সেপ্টেম্বর সিরাজদন্দোলা নাটকের অভিনয় সুরু হয়। সিরাজন্দোল] নাটকের সাফল্যই যে গিরিশচন্্রকে “মীরকাঁসিম” নাটক রচনায় উৎসাহ দিক্সেছিল সে বিষয়ে সন্দেহ মাত্র নাই। গিরিশচন্দ্র স্বয়ং নাটকের ্রন্তাবনায় এই হ্বীকারোক্তি করেছেন। ““সিরাজদ্দৌলা” নাটক, সাধারণের গ্রতিকর হওয়ায়, আবার এতিহাসিক “মীরকাসিম,” উতিহাসিক পটে চিত্রিত, করিবার সাহস পাইয়াছি।'" "'নাটকাঁকারে এতিহাসক দৃশ্তগুলি, সাধারণ দর্ণক সমন্মুথে প্রদর্শন আমার প্রধান আকাজ্ষা। নাটকে ইতিহাস অক্ষুন্প ৩৬৬ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা রাখা আমার শক্তিতে যতদূর সম্ভব, তাহার চেষ্টা পাইয়াছি ; এবং দিন দিন উৎসাহপূর্ণ দর্শকবৃন্দে রজালয় পরিপূর্ণ হওয়ায়, সে চেষ্টা কতক পরিমাণে সফল হইয়াছে, আমার ধারণা |” সিরাজদ্দৌলা রচনার সময় যেমন গিরিশচন্দ্র ইতিহাস অনুসন্ধান করেছেন তেমনি “মীরকাসিম” রচনার আগেতিনিযে এই সময়কার অনেকগুলি ইতিহাসের বই পাঠ করেছেন সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। প্রস্তাবনায় ম্যালেসন হতে উদ্ধৃত ছাড়া তিনি ভ্যান্দিট্রাট সাহেবের আত্মজীবনীও পাঠ করেছেন বোঝ! যাঁয়। বস্তত গিরিশচন্দ্র এ্রতিহাসিক নাটক রচনার আগে যে বিশেষভাবে ইতিহাস পাঠ করতেন এ প্রমাণ বারবার পাওয়া যাবে । বাঙ্গালী নাট্যকারদের মধ্যে সম্ভবত গিরিশচন্দ্র পুংখানপুংখ ইতিহাসের অনুসন্ধানের দিক থেকেও অনন্ত । অপরেশচন্দ্রের মন্তব্যটি চমৎকার । এউতিহাসিক নাটক লেখায় গিরিশচন্দ্র সম্পর্কে তার উক্তি "তাহার লিখিবার একটা পদ্ধতি ছিল এই যে তিনি বে বিষয়ে লিখিতেন, সে বিষয়ের যাহা কিছু জ্ঞাতব্য, তাহা পুংখান্পুংখরূপে না জানিয়! “শ্রীহূর্গ” ফাদিতেন না 1৫৫ ষীরকাসিম জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩শে জুনের “বেলী” পত্রিকায় সাধুবাদ প্রকাশিত হয়। বন্থমতীও পঞ্চমুখে প্রশংসা করেন।৫৬ কবি নবীনচন্ত্র সেনকে গিরিশচন্দ্র ২০শে জুলাই ১৯*৬এ এক পঞ্জে লেখেন--“সত্যই খুব ব্যস্ত ছিলাম এখনে! আছি। মীরকালিম লইয়। ব্যস্ত ছিলাম, এখন আবার পরের কাজে পড়িয়াছি। যীরকামিম সম্পর্কে বাজারে সুখ্যাতি শুনিতে পাইতেছি। আর যে কয় রাত্রি অভিনয় হইয়াছে, লোকেরও যথেষ্ট ভীড় । ব্রান্ধর! পর্য্যস্ত সম্ভ্ । এ আমার সামান্য ভাগ্য নছে। আমার ছেলে দানি, মীরকাসিমের অংশ লইয়াছিল, তাহার সুখ্যাতি একবাক্যে ।”৫৭ মীরকাসিমের এই জনপ্রিয়তার ফলেই তৎকালীন বৃটিশ সরকার এই নাটকের অভিনয় বন্ধ করে দেন এবং নাটক বাজেয়াপ্ত হয়। স্থতরাং জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে এবং জনচিত্কে উদ্বেল করতে মীরকাশিম যে সিরাজদ্দৌলার তুলনায় বেশী সফণ হয়েছে সে বিষয়ে সন্দেহ নাই । সেদিক থেকে বিচার করলে গিরিশচন্ত্রের সিরাজদ্দোলার তুলনায় মীরকাসিমের নাট সফলত1 অনেক বেশী । এবার “মীরকাসিম' নাটক সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দেওয়! কর্তব্য । মীরু কাসিম নাটক পাচ অঙ্কে সমাপ্ত । প্রতি অঙ্ক গর্ভাঙ্কে বিদ্তক্ত | প্রথম অকে মারকাশিম ৩৬৭ সাতটি গর্ভাঙ্ক, ছিতীয় অঙ্কে ছয়টি গর্ভাঙ্ক, তৃত্তীয় অঙ্কে ৰারটি গর্ভাঙ্ক, চতুর্থ অঙ্কে নয়টি গাঙ্ক ও পঞ্চম অঙ্কে এগারটি গর্তাঙ্ক । অর্থাৎ মোট ৪€টি দৃশ্যে “মীরকাসম” রচিত হয়েছে । প্রথম অঙ্কে ১৭৬৯ খ্রাগাবের থটনা, ২রা জুলাই মীরণের মাথায় বজপাত হয় এবং ২২শে অক্টোবর মারুজাফর নবাবী ত্যাগ করে কলকাতা রওনা হলেন। দ্বিতীয় অঙ্ক ১৭৬১ থেকে ১৭৬৩ খরষ্টাব্দের ২৪শে জুন পর্য্যস্ত ঘটনা । অর্থাৎ মীরকাঁসিমের নবাবীর সুরু থেকে এলিস সাহেবের পাটন। শহর দখল পধ্যন্ত । তৃতীয় অস্কে ১৭৬৩ খ্রাষ্টাঞ্খের জুলাই মাসে নবাবের পাটন। জয় থেকে ১৯ ঞুলাই কাটোয়ার যুদ্ধে নবাবের পরাজয় পধ্যস্ত ঘটনা সন্গিবেশিত | চতুর্থ অঙ্ক সুরু হচ্ছে গিরিয়৷ ও উধু- য়ানালায় নবাবের পরাজয়ের পর ১৭৬৩ শ্রীষ্ট।ব্দের সেপ্টেম্বরে ও শেষ হয়েছে এক বছর পর ১৭৬৪ শ্রীষ্টান্বের সেপ্টেম্বর মাসে বক্সার যুদ্ধের আগে॥ পঞ্চম অঙ্ক স্থুরু ও শেষ ১৭৬৪ খ্রীষ্টাব্বের অক্টোবর মাসে বল্সারে। *্যেদৃ্য বা ষীরকাশিমে মৃত্যুর দৃশ্তে নাটকের সমাপ্তি হয়েছে_এতিহাদিক কালে অবশ্য দশঘদিন পর ১৭৭৭ খ্রীষ্টাব্দে । গিরিশচন্দ্র এ্রতিহাসিক কাপকে ঘে ভাবে নাটকে বিভক্ত করেছেন তা থেকে স্প্ট বোঝা যায় যোতান মীরকাশিমের প্রজারঞ্জক রূপের ওপর জোর দেবেন এবং বারবার বুটিশ শক্তির কাছে পরাভিত হওয়াটাই বিয্লোগান্ত ঘটনার রূপ পর্রিগ্রহ করবে । ১॥ গিরিশচন্দ্র প্রথম অঙ্ক সুক্ষ করেছেন মুশিদাবাদে মীরভ়াফরের অস্তঃপুরস্থ মন্ত্রণা কক্ষে । পুত্র মীরণের বজাঘাতে মৃত্যুর সংবাদে মীরজাফর ধাহাকার করছেন । নবাব মহিষী মণিবেগম তাকে সাত্বনা দিচ্ছেন এবং তাকে আবার যথারীতি আহার নিদ্রা করে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে বলছেন। মীরজাফর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন কুক্ষণে তিনি সিংহাসন প্রয়াস করে ইংরেজের সঙ্গে মিলিত হয়েছিপেন। এখন ধনাগার অরথশূন্ত, সৈম্তগণ বেতন অভাবে বিদ্রোহী প্রায়, রাজকাধ্য অধ্যক্ষশূন্ত ও চতুর্দিকে অসন্তোষ । মণিবেগম জানাচ্ছেন যে নবাবী শলমোহর পেলে তিনি স্ত্রীলোক হলেও সাম্রাজ্য পত্রিচালনায় অপটু নন। মীরজাফর অপটু তাই তিনি৷ মীরজাফরের জামাতা মীরকাশিমকে আহ্বান করেছেন। “তার ওপর সকল, ভার দাও । “সে অতি কর্মক্ষম, সমস্তকাধ্য ভ্ুচারু রূপে নির্বাহ হবে |» ২৪ ৩৬৮ বাংলা তিহাসিক নাটক সমালোচন! (১/১ পাতা ২০৩) অবশেষে কাশিম মাপির উপর রাজ্যের ভার দিতে মীরজাফর রাঞী হলেন বটে কিন্ধ কাশিমআলি উপস্থিত হলে তাকে শীল- মোহর ছেড়ে দিতে রাজী হলেন না। মীরজাফর জানালেন যে “নন্দকুমার প্রভৃতি স্থদক্ষ রাজকর্মচারীবর্গ কর আদায়ে অক্ষম । ইংরাজ কোম্পানীর দৌরাত্ম্য শুদ্ধ আদায় হয় না, জমিদার মাত্রেই অবাধ রাজন্বের আদায় দেয় না” (১/১ পাতা ২৮৩) । আরো বললেন প্রধান প্রধান করপ্রদ প্রদেশ ইংরাজের নিকট আবদ্ধ । জমিদাররাও ইংরাজকে উৎকোচ প্রদানে বশীভূত রেখেছে (১/১ পাতা ২৮৪)। মীরকাশিমের কাছে এগুলি কোন সমহ্যাই নয়। জানালেন যে শাসন রজ্জুর রাশ টেনে ধরলেই এসব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু মীরজাফর জামাতাকে বিশ্বাস করতে পারলেন না। অন্যদ্দিকে মণিবেগম মীরকাশিমের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে উৎস্থক-_আমি তোমায় সর্বোচ্চ পদ প্রদান কচ্ছি-_তুমি আমার পুত্রকে যৌবরাজ্য দাও ।, (১/১ পাতা ২৮৫ ) আরও বলছেন--“তো"মারও উচ্চ আশা আছে, আমারও উচ্চ আশ! তৃপ্তি হয় নাই । বলবে ছিলেম নর্তকী-বেগম হয়েছি । কিন্তু তাতে আমার আশা তৃপ্ত হয় নাই--প্রজ্লিত অগ্নিতে ঘ্বত প্রদ্দান হযেছে, (১/১ পাতা ২৮৪ )। মীরকাশিম কিন্ত মণিবেগমের প্রস্তাবে রাগী হবার নিদর্শন দিলেন না । ইতিমধ্যে বেতন অভাবে সৈম্তদল বিদ্রোহ করল এবং মীরকাশিম নিজ অর্থে তাদের শান্ত করলেন। মণিবেগম জানালেন যে অর্থ না থাকলেও তার নিজন্ব গহনা দিয়ে তিনিও একা করতে পারতেন। অবশেষে নবাব মীরজাফরের হাত ধরে তাকে চও্ খেতে নিয়ে গেলেন । দ্বিতীয় গর্ভীষ্কে ইংরেজ বণিকের অত্যাচার দেখান হয়েছে । মুত্স্দ্দি, মহাজন, তাতী সকলেই অত্যাচারে অতিষ্ট হয়েছেন। তামাকের মহাজন বলেছেন “লবণ, গ্পারী, দ্বত, চাউল, খড়, বাঁশ, মত্ত, চিনি, তামাক, পান, যে কাজে দেশীলোক ছু” পয়স। পেতো, কুঠিওয়ালা ইংরাজ সকল ব্যবসা কেড়ে নিলে” (১/২ পাতা-_২৮৭)। মীরকাশিম এই মব দেখে ছঃখিত হুচ্ছেন এবং তার বন্ধু আলি ইব্রাহীম বলছেন “আমর। সকলে মিলে পছন্দ করে নবাব বেছে নিয়েছি” (১/২ পাতা--২৮৭ )। এমন সময় “তার” প্রবেশ করলেন। ' পরিচয়ে বলা হয়েছে উন্মাদিনী এবং এ প্রদ্ধেশের রাণীর কন্া। তিনি] ফকিন্রিণির স্তায় বিচরণ করেন । যেখানে ব্োগ শোক দুঃখ সেখানেই তিনি ফীরকাশিম ৩৬৯ উপস্থিত হন। এক অতি অসামান্তা রমণী। নাট্যকার এই চরিত্রটিকে কাঙালিনী দেশমাতৃকার প্রতিভূরূপে ব্যবহার করছেন। প্রথম প্রবেশের সংলাপ-_বাবা, শুনছ চতুর্দিকে হাহাকার শব্দ শুন্ছ ? অন্ন নাই, বস্ত্র নাই, রোগ-শোক দৌরাত্মে বঙ্গভূমি জর্জরীভূতা ।--. 'ছুখিনী মাতৃভূমির ছর্দশা আর কতদিন দেখবে ? মীরকাশিমকে আদেশ করলেন--“বাব! ভুমি বঙ্গবাসী . মুমুযু বঙ্গমাতাকে পুনজীবিত করো 1, আবার--তুমি স্বদেশ বৎসল তোমারহ কাধ্য--এ কাধ্য আর কার? যে মাতৃমন্ত্রে দীক্ষত, মাতৃসেবা যর ব্রত, ষে মাতৃবৎসল-_তারই কাধ্য--বীরের কার্য তুমি বীর তোমার কাধ্য।” (১/২ পাতা--২৮৭)। তারার কথায় উদ্দ্ধ হয়ে মীরকাশিম সংকল্প করলেন_-'এতে আমার সর্বনাশ হয়, জীবন নাশ হয়, কপক্ক হয়, পোকের নিকট ঘ্বনিত হই, নবাবের বিরুদ্ধাচরণ করতে হয়, স্ত্রী পুত্র ত্যাগ করতে হয়, নরকগামী হতে হয়__-তাতেও আমি প্রস্তত ;__নিশ্চেই হয়ে দীন প্রজার দুঃখ আমি সহা করবো না।” আলি ইব্রাহীম জানাচ্ছেন--“এ মহা- কার্যের মূল্য .*-আত্মবিসর্জন যদি দিতে প্ররস্তত থাকেন-_অগ্রসর হোন" (১/২ পাতা--২৮৮)। তৃতীয় গর্তান্কে খোজা পিক্র মীরকাশিমকে হংরেজ কোম্পানীর সঙ্গে কলকাতায় গিয়ে বোঝাপড়া করে নবাবী কিনে নেবার জন্ত উদ্বুদ্ধ করছেন। জানাচ্ছেন ষে মীরজাফরকে অনেকেই পছন্দ করে না কাজেই গবর্নর হলওয়েল সাহেবের সঙ্গে বোঝাপড়। করে নিলেই সব ব্যবস্থা ঠিক হয়ে যাবে। শাহজাদা ও অযোধ্যার নবাব স্ুজাউদ্দৌল! বাংলার নবাবের বিরুদ্ধে ুদ্ধযাত্র4 করেছেন কাজেই বাংলার মসনদে মীরজাফরের জায়গায় একজন সর্বজনমান্ত কর্মক্ষম নবাব প্রয়োজন । খোজা! পিন্র আরে। জানালেন যে 'হলওয়েল সাছেব ফীরজাফরের দোষের এমন এক লঙ্বা চওড়া! ফিরিস্তি বানিয়ে রেখেছেন যে এক মজবুৎ নবাব পাইলেই ইংরেজ কোম্পানী তাহাকে গ্রহণ করবে ।” পিদ্র অভিযোগ করলেন যে সিরাজদ্দেপার লুকান অর্থ ষণিবেগম আত্মন্মথাৎ করেছে (১/৩ পাতা_-২৯০)। ইংরেজদের টাকা তৈরীর সনদ দেবার খবর পেয়ে বিচলিত জগৎশেঠ-_মীরকাশিমের কাছে উপস্থিত হচ্ছেন। নানা প্রসঙ্গ উঠছে । তার মধ্যে হিন্দু মুসলমানে বিরোধ, স্থার্থপরতা প্রভৃতি আলোচিত হুল। মণিবেগম এসে তার বক্তব্যের পুনরুল্লেখ করছেন--তার পুক্স নজামদ্দোলাকে যৌবরাজ্য দিতে ছবে। মীরকাশিম রাজ্য পরিছালন! ৩৭০ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা করুন আর নবাব নর্তকী নিয়ে সন্তঃ থাকুন। তিনি বিদায় নিলে মীরকাশিমের সহধমিনী ফতিম! বিবি প্রবেশ করে আশস্কিত হচ্ছেন কারণ তার মতে “যে কাধ্যে মণিবেগম, সে অবশ্যই কোন গহিত কাজ । (১/৩ পাতা --২৯৪)। অবশেষে মীরকাশিম তাঁর সংকল্প ঘোষণা করছেন-_-আমি দেশ- বৈরীর সহিত সংগ্রাম করতে জন্মগ্রহণ করেছি।.-".""যাদি মাতৃভূমিকে করাল বিদেশীর কবল থেকে উদ্ধার করতে পারি তবেই জীবন সার্থক, নচেৎ ক্ষল্ম বৃথা» কর্ম বৃথা, জীবন বৃথা (১/৩ পাতা ২৯৫ )। চতুর্থ গর্তাঙ্কে তারাদেবী তকিথাকে রাজসাহীর একগঞ্জে দেশসেবায় রক্ত দানের জন্য উদ্দ্ধ করলেন। পঞ্চম গর্তাঙ্কে কলকাতার কাউন্সিলে মীরকাশিষের সঙ্গে হলওয়েন» ভ্যান্সিন্টাট, কেলড প্রভৃতির আলোচন।। মনে হয় থোজ! পিক্রই এই সংযোগে দাগালী করছেন । মীরকাশিম সৈন্তদলের ব্যয়ভার বহনের জন্য বদ্ধমান, মেদিনীপুর ও চট্টগ্রাম ইংরেগ কোম্পানীকে অর্গণ করছেন। বণছেন “লাভ-পোকসানের ভার কোম্পানীর আমার ওপর কোন দাবী দাওয়। থাকবে না!” মীরকাশিম পাঁচ লক্ষ টাকা নগদ ও বিশ লক্ষ টাকার হুপ্ডি দিতে বাঁজী হচ্ছেন। কিন্ত ভ্যান্নিট্রাট সাহেব সঙ্গে সঙ্গে বলছেন বে ওইরূপ বে-আহনী অর্থ তিনি নিতে পারেন না। তারপর সন্ধির অন্যান্ত সর্ত ঠিক হয়ে গেল। হুলওয়েল থোজা পিক্রকে জানালেন যে তিনি বিলাতে চলে যাচ্ছেন (১1৫ পাতা ২৯৬--২৯৮)। ষষ্ঠ গর্ভাঙ্ক মুশিদাবাদের দীপমালা- শোভিত পথে ব্যাণ্ড বাজিয়ে ইংরেজ সৈন্ত চলে গেল তার পেছনে গেলেন ভ্যান্সিট্রাট ও হেস্টিংস। হর্গাপুজার দিন রাজপথে ইংরেজ সৈন্ত দেখে তারাদেবী হাহাকার করতে লাগলেন। সপ্তম গভাক্কে গবর্ণর ভ্যান্দি্রারট আর খোজা পিক্র নবাব মীরজকরের ওপর অনার্দায়ী অর্থের জন্য চাপ স্থষ্ি করলেন। উত্তরে মীরজাফর বলছেন “নাও নাও সাহেব নবাবী নাও-__এই আম তক্তা ছেড়ে উঠলাম । কাসিম, এসো বসে! । সাহেব আমায় মকায় পাঠিয়ে দাও, নয় ক্লাই5 সাহেবের কাছে পাঠিয়ে দাও, (১/৭ পাতা -_২৯৯)। একটু পরে বলছেন-__বুঝেছি-বুঝেছি-তোমার মনের ভাব বুঝেছি। এই নাও রাজমুকুট আমি পরিয়ে দিচ্ছি।."...'তোমর। যেয়ো না আমায় কলিকাতায় নিয়ে বাও। কাসিম আমায় খুন করবে” (১/৭ পাতা _-২৭৯ )। অবশেষে মীরকাশিম নবাব হলেন । নকীব নাম ফোকরাল। মণিবেগম. মীরকাশিষ ৩৭১ প্রবেশ কবে উদ্মা গ্রকাশ করলেন। কাশিম আলিকে বিশ্বীসঘাতক বললেন । তীব্র কষাঘাতের মতো! মীরকাঁশিম শুনলেন মণিবেগমের সংলাপ-_এ সন্ধি পত্র শেষ সন্ধিপত্র নয়; আবার সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হবে, আবার নবাবী তক্তা নিলাম হবে । বসো, বসো_ছর্দিন সিংহাসনে বসো |” (১/৭ পাতা ৩০০)। অতঃপব মীবঙ্গফর মণিবেগমের হাত ধরে সিংহাসনচ্যুত সিরাজের কথা বলতে বলতে নিক্ষাঁন্ধ হলেন। প্রথম অঙ্ক শেষ হল। আলোচনা ॥ “মীরকাসিম” নাটকের প্রথম অঙ্গ রচনায় গিরিশচন্দ যে অপূর্ব মুন্নীয়ানা দেখিযেছেন তার জন্য তাকে ভূয়সী সাধুবাদ দেওয়া কর্তব্য । সিবান্দোলার চবির নিষে তিনি যে সব অস্ত্রবিধা ভোগ করেছেন এই নাটকে তার কোন চিহ্ন নাই । মীরকাশিয প্রভূত গুণের অধিকারী ছিলেন। রাজ্য শাসনে তর ক্ষমতাও ছিল স্থবিদিত তাই গিরিশচন্দের পক্ষে এই চরিত্রের নায়কোচিত গুণাবলী ব্যবহাব করা! সহজ হযেছে । মীবকাশিম সহজেই দেশ হিতৈষীর ভূমিকায় থাপ থেয়ে গেছেন । তাঁর কীতি ও কর্মকে নাটকের মাধ্যমে প্রকাশ করতে গিরিশচন্দ্র বিশেষ অস্্রবিধা বোধ কবেন নাই। তাছাড়া “সিরাজ- দেৌপা” নাটকের মতো মীরকাসিম রচনাতেও গিরিশচগ্র অক্ষয়বুমার মৈত্রেয় মহাশখের ওই ন[মের প্রবন্ধ পুত্তকটির ওপর নির্ভর করেছেন । 'অক্ষয়কুষারের মীরকাঁটসিম অতিশয় সুলিখিত প্রবন্ধ ১৩১৯ সালে অর্থাৎ ১৯০৫ শ্রীষ্টাব্দে প্রকাঁশিত। অন্ত প্রবন্ধের ব্রটিগুলি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত । তাই অক্ষয়কুমার অন্রসরণে গিরিশচন্দ্র বিপদে পড়েন নাই। মীরকাঁশিমের তিন বছরের নবাবী ও এক বছরের যুদ্ধ প্রস্ততি একান্ত ঘটনাবহুল । প্রয়োজন মতো ঘটন চয়ন করতে তাই গিত্রিশচন্দ্র অস্থবিধা বোধ করেন নাই । ইংরেজদের লিখিত ইতিহাস ষে গিরিশচন্দ্র পাঠ করেছেন নাটকের সংলাপ রচনায় তার প্রমাণ পাওয়া যায় প্রথমেই,মনে রাখা দরকার যে “মীরকাসিম” নাটকে যে জাতীয়তাবাদ মীরকাশিমের মধ্যে দেখান হয়েছে ত1 ১৯৯৬ খ্রীষ্টান্বের বাংলার জাতীয়তা- বাদ তার সঙ্গে আসল মীরকাশিম বা তার যুগের কোন মিল নাই। বঙ্গ- ভঙ্গের প্রশ্নে উদ্বেলিত বাঙালীর জাতীয়তাবাদ ও দ্েেশাত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে মীরকাসিম নাটকে । ১৭৬০ থেকে ১৭৬৪ ্রীষ্টান্জে এই মনোবৃত্তির কোঙ্গ চিহ্ন ছিল না। নবাবের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধ ছিল ব্যক্তিগত ঘটনার সামিল। অর্থ দিয়ে মমনদ কিনেছিলেন নবাব মীরকাশিম, বাদশাহর ৩৭২ বাংল! প্রতিহাঁসিক নাটক সমালোচন। কাছ থেকে কিনেছিলেন সুবাদারের স্বীকৃতি । তিনি চেয়েছিলেন নিজের জ্ঞান বুদ্ধি ক্ষমতা মতে] নবাবী করতে । দেশকে স্থশাসনে চালাবার ক্ষমতাও তার ছিল কিন্তু ইংরেজ বণিকদের স্বার্থের সঙ্গে সংঘর্ষ হল। নবাব তখন নিজন্ব সৈম্তবাহিনী ইউরোপীয় প্রথায় গঠন করতে চেষ্টা করলেন, কামানবন্ধুক গোলাবারুদ তৈরী করতে চেষ্টা করলেন । ইংরেজর৷ প্রমাদদ গণলেন । ক্ষমতা - শালী শাসক ঠাদের বাণিজ্যের উপরিলাভ বন্ধ করবে । তার নবাবকে সরিয়ে দিতে উৎসুক হলেন । গবর্ণব ভ্যান্সি্রার্ট আর তার বন্ধু হেষ্টিংস কিছুতেই লোভী ইংরেজদের বাধ দিতে পারলেন না। এই গোলমালের মাঝে কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য অমিষেটের হতাকাণ্ড সংঘটিত হল। দোষী কর] হল নবাবকে । তাকে নবাবী থেকে খারিজ করে দিয়ে নিয়ম- তাস্ত্রিক ইংরেজ মীরজ।ফরকে নবাব ঘোষণ] করে তার নামে বিদ্রোহী শাসনে চললেন । তাই মীরকাশিমের বিদ্রোহকে জাতীয়তাবাদের প্রকাশ বললে ইতিহাস মানা হয় না। অবশ্য তখন সেটাই নাটক লেখার উদ্দেশ্য ছিল। মীরকাশিমকে জাতীয় নায়ক করে দাড় করালে তবে তে] বুটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহটা জোঁডাঁল রূপ নেবে । সেই জন্য গিরিশচন্দ্র যা করেছেন তা একান্ত যৌগ্য কাজ হয়েছে। তবে ইতিতভাস আলোচনার সময় মনে রাখতে হবে যে বাংলায় দেশাত্মৰোধ, জাতীয়তাবাদ, দেশকে তার সাহিত্য ইতিহাসের মাধ্যমে বোঝবার চেষ্টা এসবই হয়েছে ইংরেজদের চেষ্টায় ও পরিশ্রমে, ইংরেজী শিক্ষা ও দর্শনের প্রসারের সঙ্গে, এদেশে ইংরেজী শাসন কায়েমী হবার পর। তাই বাংল! ছাপাখানা থেকে ব্যাকরণ, শকুস্তলা থেকে ভগবদৃগীতা আর সংস্কত ভাষা থেকে বাংল! ভাষা সবারই স্রুতে ইংরেজ জ্ঞানীদের নামের তিলক শোভা পাচ্ছে। ইংরেজদের কছ থেকেই আমর! ইংরেজ তাড়াবার শিক্ষা পেয়েছি । কেবল আন্দোলন করে শোভাযাত্রা ও সভা করে ইংরেজ বিতাড়ণ নয়, পত্র পত্রিকার মাধ্যমে প্রবন্ধ লিখে, সাহিত্য ও নাটকে ইংরেজের কলঙ্ক তুলে ধরে তাদ্দের হেয় প্রতিপন্ন কর] হয়েছে । “মীরকাঁসিম” নাটক সেইরকম এক চমৎকার গ্রচেষ্টা এটা মনে রাখলেই চলবে । , নাটক শুরু হয়েছে মীরণের মৃত্যুর কিছু পরে। কিন্তু প্রথম গর্ভাক্কেই নাট্যকার প্রমাদে পড়েছেন। মীরজাফর মহ্ধীর নাম দিয়েছেন মণিবেগম। বলাবাহুল্য এই সময় প্রধানা বেগম বিবি শাহ থান্ছম মীরজাফরের কাছেই মীরকাশিম ৩৭৩ থাকতেন । ২২শে অক্টোবর মীরজ্জাফর যখন কলকাতা যাত্রা করলেন তখন প্রধান! বেগম কন্তা জামাতার কাছেই থেকে গেলেন । মণিবেগম যে প্রধান। মহিষীর রাগের অন্যতম কারণ এবং সেই কারণেই মীরকাশিম বে নবাবী কিনতে রাজী হলেন তা আমরা কিছু আগে আলোচনা করেছি । বস্তৃত কলকাতায় আসার পর মীরজাফর সম্পূর্ণভাবে মণিবেগমের অধীন হন। মণিবেগমের মীরকাশিমের সঙ্গে তার পুত্র নাজামদ্দৌলাকে বুবরাঁজ করবার যে ষড্যস্ত্র এও প্রক্ষিপ্ত কারণ মীরণের ছুইটি পুত্র তখন বর্তমান। দ্বিতীয়বার নবাব হবার সময থেকেই মণিবেগমের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায় এবং তার পুত্রকে নবাব করতে ইংরেজ অঙ্গীকার করে। লর্ড ক্লাইভ যখন ১৭৬৫ খ্রীষ্টাব্দে দ্বিতীয়বার বাংলাব গবর্ণর হযে এলেন তথন বৃদ্ধা নবাব মহিষীর করুণ পত্রে মণি- বেগমের সাঙ্গপাঙ্গদের তার ওপর ও মীরণের পুত্র কন্ঠাদদের উপর অত্যাচারের বিবরণ জানতে পারা বাঁয়। বুন্ধা প্রধানা বেগমের কথা অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় অপ্রয়োজন ভেবে লেখেন নাই স্বভাবতই গিবিশচন্দ্র ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্দে মণি- বেগমকেই নবাব মন্হিষী বলে ভ্রম করেছেন। মীবজাফরের রাজ্যচ্যুতি নানা আলোচনার মাধামে হয় বটে কিন্ত কোন সমযেই তিনি মীরকাশিমকে বিশ্বাস করেন নাই । গিরিশচন্দ্র মীরজাফরের এই ভাব নাটকের সুরু থেকেই বজায় রেখেছেন । এমনকি সৈন্তদের বিদ্রোহের জন্য মীরজাফর বে ঠার জামাতবাবাজীকেই দায়ী মনে করতেন এটাও অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে । সৈম্তবাহিনীর বিদ্রোহে মীরকাশিমের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ প্রমাণিত না হলেও নবাবী সৈম্ভদের ক্ষি%্ করার ব্যাপারে মীরকাশিমের হস্তক্ষেপ অসম্ভব নয় । গিরিশচন্দ্র তাই মীরজাফরের মনে এই সন্দেহ দেখিয়েছেন কিন্তু যীরকাশিমের সঙ্গে বিদ্রোহে যোগাযোগ অস্বীকার করেছেন। মীরকাশিম যে ধীরজাফরের প্রধান! বেগমের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে- ছিলেন তার সব থেকে বড় প্রমাণ মীরজাফর কলকাতা অভিমুখে যাত্রা করলে বেগম কুন্যাঙ্তামাতার কাছেই থাকলেন । মীরজীফর গবর্ণর ভ্যাম্নিট্রাটকে স্পঈই লিখে জানিয়েছেন ঘে মীরকাশিম ক্ষষতাশীল হলে তাকে বধ করবে তাই একমুহুর্ত বিলম্গ না করে তিনি মণিবেগ গ্রভৃতিকে সঙ্গে করে কলকাতা যাত্র। করলেন। সেটা ছিল বিজয়। দশমীর দিন । মীরজাফরের মীরকাশিমকে অবিশ্বাস খুব স্প্টভাবেই নাটকে দেখান হয়েছে এবং তা ইতিহাস অনুসারী । ৩৭৪ বাংল! এতিহা'সিক নাটক সমালোচনা যেটা ইতিহাস পরিপন্থী তা আগেই বলা হয়েছে-__মীরকাশিমের.চরিত্র | তাঁকে অমন ধর্মপ্রাণ, সৎ, সরল এবং উদ্বারচেতা৷ নাটকের প্রয়ৌজনে দেখান হয়েছে। স্থতরাং প্রথম গর্ভাস্ক ১৭৬০ শ্রীষ্টান্বের জুলাই মাসের ঘটনা । দ্বিতীয় গর্তান্কে দেখান হয়েছে যে দেশের অরাঁজকতাই মীরকাশিমকে নবাব হতে উদ্ধদ্ধ করল। এই গর্ভাঙ্ক রচনায় সম্পূর্ণ ভাবে ভ্যাসিট্রার্টকে লেখা হোষ্টংসের চিঠি অবলম্বন করা হযেছে । যণ্দও হেষ্টিংসের এই সুবিখ্যাত পত্র ১৭৬২ শ্রষ্টান্বের জুন-জুলাই মাসেব ঘটনা তাঁভলেও নাটকের অনুরোধে কল্পনা করা চলতে পারে যে এই অবস্থা দির্ঘদিন যাবৎ চলে আসছিল। হেষ্টিংস লিখেছেন_-“যে ঈব লোক মাথায় টুপি পবে তারা কলিকাতার আওতা ছাড়িয়ে আসামাত্র স্বাধীন রাজার মতো ব্যবহার করতে সুরু করে । আরো লিখলেন, “আমি যদি নবাবের স্থলাভিষিক্ত হতাম, তাহলে 'মামার প্রজাদের রক্ষার জন্য নবাব যা যা করেছেন তাই করতাম 1৫৮ কাশিমবাজারে পৌছে হেষ্টিংস লিখলেন__“যাওয়া আঁস“র পথে এমন একখানিও নৌকা দেখলাম না যাতে 'আমাদের পতাকা উড়ছে না । আমাদের সিপাহী ও লোকজন স্থানীয় লোকের সঙ্গে এমন দুর্বাবভাঁর করে যে দোকানপাট পরিত্যক্ত হয়। আমাদের আমদানিকারক ও ভৃত্যরা ইংবেজ জাতির কলঙ্ক ।৫৯ এই ঘটনাগুলিকে আগে ব্যবহার করায় নাটাকার নবাবের কীত্িকাণ্ডের অন্মোদন হিসাবে ঘটনাগুলিকে ব্যবহার করতে পারেন নাই । মনে হয় হেষ্টিংসের দৌত্যের ঘটনার বিশদ বিবরণ নাটকে রচিত হলে নবাবের কাজের যৌক্তিকতা প্রমাণের অপেক্ষা রাখত ন। ! দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে তারা” নামে এক পাগলিনী চরিত্রের অবতারণা করা হয়েছে । নাট্যকার এই চরিত্রটিকে “বঙ্গজননী'র প্রতিভরূপে ব্যবহার করেছেন। পরিচয়ে বলা হয়েছে--“এ প্রদেশের রাণীর কন্তা। শুনেছিলাম যে, সেই বাণীর কন্তা সাত বৎসরের সময় বিধবা হয়। কোন কাঁরণে রাণী তার মৃত্যু হয়েছে প্রচার করেন । সেই অবধি এই কন্তা ফকিরণীর স্তায় ভ্রমণ করে? ( ১/২ পাতা ২৮৮)। গিরিশচন্দ্র রাণী ভবানীর কন্তা 'তারান্বন্দরীঃকে বঙ্গজননী রূপে কল্পনা করেছেন । তারার বৈধব্য এবং মুশির্দাবাদের বরানগরে বসবাস এ্রতিগসিক সত্য । নবযৌবন। তারার প্রতি সিরাজদ্দোলার কামনার হঁতহাস প্রথমখণ্ডে আলোচিত হয়েছে । “তারা”কে ধরে নিয়ে আসার জন্ত সিরাজ সৈন্য প্রেরণ করলে রাণী ভবানী বিধব! কল্সার মৃত্যু সংবাদ ঘোষণ' মীরকাশিম ৩৭৪ করেন এবং নবাবী সৈন্যের সামনে এক মৃত তারাকে চিতাগ্রিতে ভম্মীভূত করা হয়। কন্ঠাকে নিয়ে রাণী কাশীধামে গমন করেন এবং তথন থেকেই “তারা? কাণীতে বসবাস করেন । রাণী ভবানীর মতো বাংলার সব থেকে অর্থশালী জমিদারের কন্তার পথে পথে “ফকিরণী”ব ন্যায় ঘুরে বেড়ান শুধু অকল্পনীয় নয় অন্ভ্ভব । মীরকাশিমের সময় রাণী ভবানী জমিদারী চালাচ্ছেন । মরকাশমের অর্থলোভ রাণীকেও নিষ্কৃতি দেয় নাই । অনাদাধী রাজস্ব দেবার জন্য বারবার সময় চেয়ে রাণী বিফল হলেন। অবশেষে তৎকালীন রাণীর দেওয়ানকে ধরে নিয়ে এসে মীরকাশিম সকলের সামনে রাজন্ব দেবার প্রতিশ্রুতি আদায় করবার জন্য বেত্রাঘাত করেন ।৬০ ব্বাণী ভবানীর দেওয়ানের অবস্থ। দেখে অন্য জমিদাররা রাজন্ব দিতে আর দ্রেরী করলেন না। “তারার পক্ষে তাই মীরকাশিমের পক্ষ অবলম্বন করা বা বঙ্গজননী হওয়] একান্ত অসম্ভব কারণ তিনি কাশিবাসী হিন্দুর মভিঞ্াত ঘরের ব্রাহ্মণ বিধবা, তার পক্ষে ফকিরণী হওয়া কেবপ বাতুলতাঁর নামান্তর মাত্র ! দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে আরেকটি ভুল, 'আলী ইব্রাহীমকে মীরকাশিমের বাল্যবন্ধু ও বয়স্তদপে কল্পনা করা হয়েছে । বস্তুত এই পদাঁধিকারীর নাম হবে মীর্জা শামসুদ্দিন ইনিই মীরজাফরের নামকরণ করেন-ক্লাইভের মন্দাগাধা? | তৃতীয় গর্তাঙ্কে খোজা পিদ্র মীরকাশিমকে নবাব হবার জন্ত ইংরেজদের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে উদ্বদ্ধ করছেন দেখান হয়েছে । মনে হতে পারে যে নবাবীতে মীরকাশিষের কোন লোভই ছিল না কেবলমাত্র খোজ! পিদ্রু কর্তৃক উদ্বদ্ধ হয়ে স্বদেশের সেব। করার জন্যই মীরকাশিম নবাবী কিনে নিতে রাঙ্জী হলেন । বলা বাহুল্য ইহা প্রাক্ষপ্ত । মীরকাশিম নবাবী লাভের জন্য ইংরেকজ- দের বিশেষ হলওয়েল সাহেবকে অর্থলোভ দেখিয়েছেন এবং সেই লাভের লোভেই ইংরেজর! তাকে নবাবী দিয়েছেন। এখানে খোঞ্জা পিদ্র বা অন্য কোন ব্যক্তিব্র প্রভাবের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না । মীরকাশিম “প্রভাবিত হবার মতো লোক ছিলেন না। সেটাই ছিল তার প্রধান গুণ ও প্রধান দোষ | এই গর্ভাঙ্কের খোজ! বাজিদ ও জগৎশেঠের সংলাপে হিন্দু মুসলমান ছুই দলের খবর দেওয়া হয়েছে । মনে রাখতে হবে যে এই খবর ১৯০৬ খী্টাবের খবর যখন শতাব্দীর সাধনায় হিন্দু মুসলমান দুইটি আলাদা দলে রূপাস্তরিত |. ১৭৬০ খ্ত্রীষ্টাব্দে হিন্দু-মুসলমা'নের মধ্যে যেমন গভীর প্রেমের ৩৭৬ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা নিদর্শন নাই, তেমনি নিয়ত দ্বেষেরও চিহ্ন নাই। হিন্দু ছিল সংখ্যাগুরু, মুসলমানরা শাসক জাতি । উভয়ে নিক্ত গণ্তী রক্ষা! করে উভয়কে সহ্য করেছে । জাতিগত প্রশ্ন তুলে পারস্পরিক সম্পর্ককে ভারী করেন নি। অষ্টাদশ শতাব্ধীর বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামার কোন খবর নাই এট। পরবর্তী কালের পবিপ্রেক্ষতে আশ্চর্য্য ঘটন। সন্দেহ নাই কিন্তু সপ্থদশ ও অগ্লাদশ শতাব্দীর বাঙালীর জীবনে এটাই ছিল একান্, স্বাভাবিক । ততীষ গর্ভাঙ্কে মনে হওয়। স্বাভাবিক ঘে জগৎশেঠ প্রভৃতির উপদেশ--“এখন উপস্থিত কৌশল করে তো নবাবী নেন” মীরকাশিম গ্রহণ করলেন। অবশেষে মণিবেগম এলেন ষড্যন্ত্রের হিসংবনিকীশ করতে এবং যীরকাশিম তীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বললেন; 'রাজমুকুট আমায় উপাসনা করছে, গর্দী দিতে ইংরাজ আমায় আবাহন করছে ।” মণিবেগমের সঙ্গে মীরকাশিমের কোন যোগাফোগ ইতিহাস পরিপন্থী ঘটনা । দৃশ্যের শেষে মীরকাশিমের স্্রীকে পতিগত প্রাণ দেখান হয়েছে । ইতিহাস মীরকাশিম-পত্বী সম্পর্কে প্রায় কোন খবরই দেয় না। স্থতরাং নাট্যকার যে "তাকে পতিঅন্থগামী দেখিয়েছেন তাতে কোন ক্ষতি হয় নাই । গিব্রিশচন্দর যে কতো! নিবিষ্ট ভাবে ইতিহাস পাঠ করেছেন তা বোঝ! যায় জগৎশেঠের কলকাভার ট"াকশালে মুশিদাবাদী টাকা তৈরী হবার সংলাপে এবং দেশের উন্নতি কল্পে মীরকাশিমের দৃশ্যশেষ সংকল্পে। লক্ষণীয় যে মীরকাশিমের পত্বীব চরিত্র অস্কন করতে গিয়ে নাট্যকার গিরিশচন্দ্র বঙ্কিমচন্দ্রে প্রভাবকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। পরবর্তী দৃশ্টেও দেখ! যাবে এ্রতিহাসিক তকি খাঁর চরিত্র অঙ্কণ করেছেন গিরিশচন্ত্র, বন্কিমের অনৈতিহাসিক তকির চক্রিত্র উপেক্ষা করে এবং সে কাজে অক্ষয়কুমার ঘৈত্রেয়র মীরকাসিম প্রবন্ধ ষ্টার প্রধান সহায় । চতুর্থ গরভাঙ্কে দেশের জন্ত রক্তদান করার জন্ত তারা তকি থাকে উদ্ব্ধ করলেন। তারা চরিত্র প্রক্ষিপ্ত আগেই আলোচিত হয়েছে । মনুরূপ অন্ত কোন চকিত্র থাকাও অসম্ভব কারণ বাংল! দেশের স্বাদদশিকত1 উনবিংশ শতাব্ধীর দান-__অষ্টাদশ শতাব্বীতে ব্যক্তিগত সখ দুঃখের কথ! ছাড়া দেশ জাতি প্রভৃতির সম্পর্কে চিস্তাভাবনার কোন প্রমাণ আজ পর্য্যন্ত পাওয়! যায় নাই। এউীতিহাপসিক কালাস্চ্যায়ী এই সকল ভাব ইংরেজী শিক্ষা! ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে এদেশে সঞ্চারিত হয়। স্থতরাং তারার চরিত্রের মতো তকি খার মীরকাশিম ৩৭৭ সঙ্গে তারার সংলাপ এক অসম্ভব কল্পনা । পঞ্চম গর্তাঙ্কে মীরকাশিমের সঙ্গে কলকাত। কাউন্সিলের ইংরেজদের আলোচন] দেখান হয়েছে । খোজ! পিক্তকে এই আলোচনার দালা মীরকাশিম স্বয়ং কলকাতা কাউ- ন্সিলের ইংরেজদের সঙ্গে আগাপ আলোচনা করেন। অন্যান্য ঘটন| গবণর ভ্যান্সিট্টাট লিখিত বিবরণ অন্ুপারী। এই সময়ে যে চুক্তিপত্র খাক্ষরিত হয় সেটাই ২৭শে সেপ্টেম্বরের সন্ধিপত্র নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এই সন্ধি পত্র সই হবার পর ইংবেজ কোম্পানী নবাব মীরজাফরকে গদীচ্যুত করার জঙ্য গবর্ণর ভ্যান্দিট্রাকে প্রেরণ করে। মনে রাখ! দরকাব যে এই গত্াঙ্কের বিবরণে মীরকাশিমের সঙ্গে কলকাতা কাউন্দিলের চুক্তির যে রূপ প্রকাশ কর! হয়েছে তা মোটেই ইতিহাস অনুসারী নয়। এই দিনের ঘটনার পৃণ বিবরণ কোম্পানীর ওই দ্দিনের কন্সালটেসনে লিপিবদ্ধ আছে । মোটামুটি ভাবে সেদিনেব ঘটনার সহজ থিয়েটারি সমাধান করা হয়েছে । পঞ্চম গর্তাঙ্কে মুখ্দাবাদের পথে ইংরেজ সৈন্টের পেছনে গবর্ণর ভ্যান্দিট্রার্ট ও হেস্টিংসকে দেখে তারাদেবীর আর্তনাদ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ঘটনা । গিরিশচন্দ্র যতো সহজে মীরজাফরকে গদীচ্যুত করেছেন প্রক্কত প্রস্তাবে সেটা তত সহজে ঘটে নাই । গিরিশচন্দ্র দুর্গাপূজার সপ্তমীতে সৈন্ত দেখিয়ে বিজয়াদশমীর দিন মীরজাফরকে কলকাতা অভিমুখে পাঠিয়েছেন । গবর্ণর ভ্যান্সন্ট্ীর্ট নবাবের সঙ্গে আলোচন! স্থরু করেন ১৫ই অক্টোবর এবং ২২ংশে অক্টোবর মীরজাফর নবাবী ত্যাগ করেন । এছাঙ] গবর্ণর ও হেস্টিংস সাহেবের সৈম্তবাহিনীব পেছনে সৈম্াধ্যক্ষের মতো! কুচকাওয়ীঞ্জ করে যাবারও কোন কারণ নাই। কাশিমবাজারে ইংরেজ কুঠিতে গবর্ণর উঠতেন। হেস্টিংস কাশিমবাজার কুগির অধ্যক্ষ নিষুক্ত হলেন ১৭:৮ গ্রীষ্টাব্বে। পরবৎসর তাকে রেসিডেন্টের পদও গ্রহণ করতে হয়। কুঠিতে ব্যবসা বাণিজ্যের অধ্যক্ষতা করতে করতে নবাব দরবারের রাজনীতির সঙ্গে ফোগ রাখা সহজ কান্ধ ছিল না। ১৭৬০ আীষ্টাবধে হেন্টিংস কুঠির অধ্যক্ষ ও নবাব দরবারে কোম্পানীর প্রতিনিধি এই দ্বৈত পদে সমাসীন। স্থৃতক্কাং গ্বর্ণর ও ইংরেজ প্রতিনিধিকে কুচকাওয়াজ করার ঘটনা সম্পূর্ণ থিয়েটারি কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। ইংরেজ কোম্পানীর গবর্ণর তখন এদেশে নবাবের গৃঠপোষকের সম্মালে সম্মানিত। তার কদর নবাবের কদরের থেকে কিছুমাত্র কষ ছিল না। ৩৭৮ খাংল। এঁতিহাসিক নাটক সমালোচনা সগচম গর্ভাক্কে মীরজাফরের বাজাচ্যুতি দেখান হয়েছে । পঞ্চম গর্ভাঙ্কের অতো মোটামুটি ঘটনাগুলি ঘটলেও যেভাবে দেখান হযেছে সে ভাবে ঘটে ম+হী | যেমন এই সময মীরকাশিম তার শ্বশুরমহাঁশযের ধারে কাছেও ছিলেন না। হেট্টিংস মীরজাফরের পদচ্যুতির সময় উপস্থিত ছিলেন না । বহ্্চ সৈন্তবাহিনীর অধাক্ষ মেজর কাইলোড বা কেলভ ও লাসিংটন নাষে এক ছোকরা কর্মচাপী মীরজাফর বিসর্জনে বড ভূমিকায় ছিলেন। লাঁসিংটন ভাল ফারসী জানতেন তাই "শষ পর্য্যন্ত মীরজাফর তাঁকে সঙ্গে নিয়েই কলকাতায় স্থানাভ্তরিত হবার সর্তে গবর্ণর সাভেবকে রাঁজী করান । মীরজাফর এই লাসিংটন মারফৎ ক্লাইভ সাহেবকে এক পত্র লিখেছিলেন তা যেমন করুণ তেমনি বেদনাময। লাঁসিংটন সম্পর্কে ছুইচার কথা এই স্বযোগে বলে রাখা যাক। এই ছোকরা কর্মচাবিট কলকাঁতাষ আসর কিছুদিনের মধো কলকাতার যুদ্ধে বন্দী হয়ে হলওযেলেব সঙ্গে অন্ধকুপে নিক্ষিগ্ত হন। পলাশীর যুদ্ধের কয়েকদিন আগে টউমিচাদকে *কাবার ক্যু ক্লাইভ যে জাল-দপিল তৈরী করলেন তাতে এাডমিরাল ওয়াটসন শ্লাক্ষব করতে অস্বীকার করায় শ্রীমান লাসিংটনই এ্াডমিবল ওযাটসনের নাম সই করে দেন। লাসিংটন, মীরজাফর বিদায়ের সময় কাশিমবাজার কুঠির কর্মচারী । অবশেষে অনেক টালবাহানা করে মীরজাফর পচিশ হাঙ্গার টাকা মাসহারার বিনিময়ে নবাবী ত্যাগ করলেন । বিয়া দশমীর দিনই তার বজরা ছাড়ল বটে কিন্তু সঙ্গে ছিল ৬০ জন সুন্দরী যুবতী । আফ্িঙের নেশায়, চণ্ডুর ঘোরে আর নাগরীর কলহাস্তে মীরজাফর সিরাজদৌল্লার কথা ভেবে ছুঃখিত হয়েছিলেন বলে মনে ভয় না। মীরজাফরের মন থেকে তখন সিরাজ বা মিরণ মুছে গিয়েছিল, ছিল কেবল প্রচণ্ড সম্ভোগ লিগ্সপা আব আসমুদ্র আসঙ্গ পিপাসা । মণিবেগষের অভিশাপ বাণীও কল্পনা মাত্র। কলকাতায় মীরজাফরকে না পেলে মণিবেগম কখন তার মহিষীর সন্মানে প্রতিিত হতে পারতেন কিনা বলা কঠিন। তবে প্রধান মহিবীর যশিদ্বাবাদে অবস্থিত মণিবেগমের হাতে ষীরজাঁফরকে পুণ্তলিক! করতে সাহায্য করেছে। প্রথম অঙ্কে তাই ১৯৬০ ব্রীষ্টাব্ধের জুলাই থেকে অক্টোধর মাসের ঘটনা- বলী লিপিবদ্ধ হয়েছে। স্বাদদেশিকতার কথা ছাড়া মোটামুটি ভাবে মীরকা শিম ৩৭, মীরকাশিষের কাহিনী ইতিভাস থেকে খুব দূরে সরে যায়নি বলা চলে। ২॥ দ্বিতীয় অঙ্ক শুরু হচ্ছে মুঙ্গেরে। নবাব মীরুকাঁশিম ১৭৬১ খ্রীষ্টাব্দের অগা মাস নাগাদ মুজের হুর্গ সংস্কারের কাঁজ শেষ করেন সুতরাং দ্বিতীয় অন্ক শুরু হচ্ছে অগাষ্ট ১৭৬১র পরবর্ধী কোন সময়ে । প্রথম গর্ভাঙ্কে বেগম মীরকাশিমের কীতির সপ্রশংস ব্যাখ্যা করছে এখানে মীরকাশিণের পত্বীরূপেই চিত্রিত । বেগম বলছেন--“তোমার প্রবল সহায় ইংরাছের সাহায্যে সকল শক্র দমিত, সাজাদ| তোমাকেই বাঙ্গলা বিহার উডিস্তার সুবেদারী দিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছে, তোমার ধর্দান্ত পরাক্রমে সকলে কম্পমান, তুমি অঞ্খণী, তোমার রাজকোষ অর্থপূর্ণ, তোমার স্থুশিক্ষিত অসংখ্য সেনা, সুযোগ্য সেনানায়ক চালিত-_তবে কেন তুমি চিন্তামগ্ন থাকো (২/১ পাতা ৩০০ )। মীরকাশিম চমৎকার ইতিহাস অন্গগ উত্তর দিচ্ছেন । তিনি বলছেন, «নিক শ্বশুরকে বঞ্চিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেছি, রাজ্যের ভ্মীদ্দারবর্গকে শোষণ করে অর্থসঞ্চয় করোছ, শত শত নরহত্যার আদেশ [দয়েছি, মমতা শূন্য হয়ে আমীর ওমরা ও, রাজা -প্রভ। দরিদ্রধনীর নিকট হতে কোটি কোটি অর্থ সঞ্চয় করেছি (২/১ পাতী।- ৩০১)। কেন এইসব করেছেন তার কারণ দিচ্ছেন নবাব, “আমি ন্বর্ণপ্রস্থ বঙ্গভূমির নিমিত্ত কাতর । পারি বাঙ্গলার উদ্ধার সাধন করবো» মুমৃষু মোগল-গোৌরব পুনজ্জ।বিত করবো, বিদেশী দাম্ভিক মাতৃশোণিত শোষক ইংবাজকে বিতাডিত করবো | (২/১ পাতা ৩০১)। তারপর নবাব ধীরেহ্বস্থে নবাবী পাবার পরে কি কি ঘটেছে গত এক বছরে তা বেগমকে শোনালেন। জানা গেল ণ্রামনাকণের কুচক্রে চালিত হয়ে পিস্তল হস্তে ইংরাজ সেনানী কুট উপস্থিত হয়োছল, সে অপমান কি তুমি খিশ্বত হয়েছ ? (২/১ পাত ৩০১) অবশেষে নবাব ঘোষণা! করছেন “কুচক্রী হিন্দ্-মুসলমান নিয়ত কুচর্ক্রি রত.....মে সকল কুচক্রীকে শির্মমরূপে বধ করেছি, দীন প্রজার * পীড়ক জমিদার প্রভৃতি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিগণ'. ' তাদের তাডনা করেছি। অসাধু ব্যক্তি মাত্রেই আমার কলঙ্ক রটনা! কচ্ছে_-আমায় নির্দয় বলে ঘোষণা করছে। অর্থ পিশাচ বলে ঘোষণা করছে । (২/১ পাড়! ৩০২)। দ্বিতীয় গর্তাঙ্কে €স্টিংসের সঙ্গে তারার কখোপকথন। তার! ও বাংলা প্রতিচার্সিক নাটক সমালোচনা হেস্টিংসকে ইংরেজদের কলস্কিত কীত্তিকলাপ প্রদর্শন করছেন এবং তাই দেখে হেস্টিংস, একজন অত্যন্ত ভাল ইংরেঙজের মতো লজ্জায় অধো বদন হচ্ছেন। তার] হেস্টিংসকে দেখাচ্ছেন “ক্ষেত্র দেখ-_শম্তাশৃণা, গঞ্জ পণ্যদ্রব্য শুন্য, জনশূন্ত হাট সমাধি ভূমির ন্যায় নিস্তন্ধ। নদ্বীর বক্ষে পতাকাশ্রেণী দেখ! এ সমস্ত পতাকা ইংরাঞ্জ বণিকের; প্রত্যেক নৌকা বলপূর্বক নিকি-সুল্যে গৃহীত পণ্যদ্রব্যে ভারাক্রান্ত॥ পাচগুণ মূল্যে বিক্রীত হবার জন্তে স্থানান্তরে যাচ্ছে। দেখ দেখ, এ সকল তন্তবায়েদের গৃহে, শৃগাল কুকুর প্রবেশ কচ্ছে, শিল্পীর! স্বানত্যাগ করেছে ।” (২/২ পাতা ৩০৩)। তৃতীয় গর্ভাঙ্ক মুক্ষের দরবারে মীরকাশিম ও ভ্যান্সিট্রারট আলোচনারত । এইখানেই নবাবের সঙ্গে ইংরেজের বিরোধের প্রধাণ কারণ বিবৃত হয়েছে । নবাব বলছেন, "্ায়- পর্ঝায়ন হেস্টিংস সাহেব, সমস্ত অবস্থা অবগত হয়ে আপনাকে পত্র লিথেছিপেন, আমিও সমস্ত অবস্থা, পত্রে আপনাকে জ্ঞাপন করেছি ।-* -.কোম্পানীর কর্মচারীরা সকলেই বিনা শুক্ষে স্বাধীন বাণিজ্য কচ্ছেন। এতঘদ্বযতীত যে ইংরাজ বাঙগলায় পদার্পণ কচ্ছেন, তিনিই দেশের লোকের সাহায্যে অর্থসংগ্রহ করে, দেশী অর্তবাণিজ্য ও বহি বাণিজা হস্তগত কচ্ছেন । কোম্পানীর কর্ম- চাবীদের নিকট হতে বিনা শুক্কে বাণিজ্যের দস্তক খরিদ করেন, কেউ কেউ জাল দত্তক প্রস্তুত করেন। অর্থ পেয়ে কোম্পানীর কর্মচারীরা দস্তক লিখে দেন, আমার কর্মচারীরা সে দত্তক মঞ্্ুর না করলে বিরোধ ; আমার রাজ্যে আমার দন্তক চপন নয়, কোম্পানীর কর্মচারীদের দত্তক চলন-__ এ সামান্ত অত্যাচার নয়” ।২/৩ পাতা ৩০৩)। কোম্পানীর সঙ্গে নবাবের বিরোধের অর্থনৈতিক কারণগুলি গিরিশচন্ত্রের মুন্নয়ানায় অতি সহজ সরলভাবে প্রকাশিত হয়েছে । নবাবের উদ্ম।র কারণ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান হচ্ছে, “যে সকল কার্য্যে ইষ্টইণ্ডিয়া কোম্পানী কথনও নিযুক্ত ছিলেন না, সমস্তই তাঁরা করছেন, সামান্য ব্যবসাও বলপূর্বক হস্তক্ষেপ কচ্ছেন,_স্বৃত, চীউল, লবণ, স্ুপারিঃ খড়, বাশ, পান, তামাক, চিনি প্রভৃতি দেশীয় লে'কের সামান্ত ব্যবসা পর্য্যস্থ আর দেশীয় লোকের নাই ।--**'কুঠীক্লাল সাকেবরা আযার কর্মচারীপ্নের গ্রাহন করেন না। আমার কর্মচারীদের বলপূর্বক বন্দী কার, সিপাহী দ্বারা কলিকাতায় চালান দেন। খোদা আশন্ট,নকে, ইলিশ সাছেষ, নায়েব-নবাব ব্লাজবল্পভের অনুরোধ উপেক্ষা করে কলিকাতায় মীরকাশিষ ৩৮১ চালান দেন-_-কাউব্দিলে জনস্টোন সাহেব তার কর্ণচ্েদের ব্যবস্থা করেন) মহাশয়ের অনুগ্রহে নিস্তার পায়” (২/৩ পাতা-৩০১ )। অবশেষে ভ্যান্সিষ্টাট সাহেব শতকরা ৯ টাক! হারে শুন্ধ দিতে রাজী হলেন এবং সেইসজে সন্িপত্র স্বাক্ষরিত হওয়া স্থির হল। হেস্টিংস সন্দেহ প্রকাশ করলেন যে কাউন্সিল গবর্ণরের এই প্রস্তাব সমর্থন করবে না । অবশেষে ইউরোপীয় সৈম্তর পরা- ক্রমের কথা শুনিয়ে গবর্ণর নবাঁবকে অন্থরোধ করছেন “ছুষ্টলোকের পরামর্শে আমাদের সহিত বিবাদ করিবেন না” (২/৩ পাতা! ৩০৫ )। ভ্যান্সিট্টাট ও হেস্টিংস বিদায় হলে নবাব তার অন্তরঙ্গ বন্ধু আলি ইব্রাহীমের সঙ্গে নিজের সৈম্বাহিনীর বলবীধ্য সম্পর্কে আলোচনা করছেন। তিনি জানাচ্ছেন যে তিনিও ভহউরোপীয় সৈন্যাধ্যক্ষদের দিয়ে তার সৈম্তবাহিনী পরিচালিত করছেন সমর, মার্কার প্রভৃতি সৈন্তাধ্ক্ষদের নিয়োগ এবং গুরগিণর্থাকে প্রধান সেনাপতি কর! হয়েছে নবাবের সংলাপে জানা গেল । আলি ইব্রাহীম বিশ্বাসঘাতকদের সম্পর্কে নবাবকে সভর্ক করছেন। বলছেন এ বাঙগলায় হিন্দুমুসলমানদের ভিতর কয়জন আছে, যে কায়মনোবাক্যে ইংরাজের দাসত্ব না প্রার্থনা করে । ইংরাজের সামান্য বেতনের নিমিত্ত পিতাপুত্র শ্বদেশীকে হত্যা করতে সহপ্র সহস্র লোক উগ্ভত” (১/৩ পাতা ৩০৬) | বিহ্বল নবাব প্রশ্ন করছেন_-“কাকে বিশ্বাস করবে? এবাঙ্গলায় কি বিশ্বাসপাত্র একজনও নাই? প্রতৃভক্তি, শ্বদেশভক্তি কি একজনের হৃদয়েও নাই?” - “আলী এই বিপদ সমুদ্রে আমার ছুই ভরসা বাল্যবদ্ধ তুমি আর প্রতৃভন্ত তকী খা, (২/৩ পাতা ৩০৬-৭)। চতুর্থ গর্ভাঙ্ক কলকাতায় মীরভাফরের চীৎপুরস্থ দাওয়ানথানায় মীরভাফরের একান্ত শুভাকাজ্কী ব্াাজা নন্দকুমার, অমিয়েট, হে ও ইলিস সাহেবের সঙ্গে মীরকাশিমকে নবাবী থেকে নামাবার যড্যন্ত করছেন। নন্দকুমার প্রথমেই জানাচ্ছেন তার কারারুদ্ধ থাকার খবব। ভ্যান্লি্টাট নবাবকে শুন্ধ দ্রিতে রাজী হয়েছেন সুতরাং কাউন্সিলে ভ্যান্দি্ার্ট সাহেবের এই প্রতিশ্রতি নাকচ করে দিতে হবে এটাই ষডযস্ত্রের প্রধান উদ্দেশ্ ৮৪ আমিয়েটের মুখে ভাষণ দেওয়া হয়েছে_-“কাশিম আলীকে গদী হইতে নামাইয়া॥ মীরজাফরকে ফের গদশী দিব।” উত্তরে নন্দকুমার বলছেন “আপনাদের অন্থগ্রহ থাকলে সবই হস (২/৪ পাতা ৩০৭)। মীরজাফর জগৎ্শেঠের সঙ্গে প্রবেশ করলে হেয় মুখে নাট্যকার এক অদ্ভূত অস্তাবণ ৩৮২ বাংলা এতিহামসিক নাটক সমালোচন! 'দয়েছেন। মহাকবি সেক্সপীয়র রচিত ম্যাকবেথ নাটকে ম্যাকবেথকে বিভৎস ডাইনীরা যে ভাষায় সম্ভাষণ করছেন সে ভাষা হের মুখে, “আইসেন, [৩৪৬/৪০ 0781 ৬/৪5 817019৬4910 0790 51811 09 জগৎশেঠ জানাচ্ছেন যে বিভিন্ন অর্থবান ব্যক্তি ও জমিদ[রগণ মীরকাশিমের অত্যাচারে উৎপীড়িত স্থতরাং সবাহ তার অপসারণে আনন্দিত হবে । রায়ছুলভ কলকাতায় স্থতরা, সেও তাদের পক্ষহ অবণন্থন ।করবে। অমিয়েট বলছেন “ওকে কিচ্ছু জাশাহবেন না। ও দাওয়াণীর ওন্য হী করিয়া রহিয়াছে । আমর! রাজা নন্দকুমারকে দাওয়ানী দিব!” ২/৪ পাতা ৩৮)। হলিশ সাহেব যুদ্ধের সরঞ্জামভান্ত নৌকাগুপি পাটনায় পাঠাবাব ব্যবস্থা! করে স্বয়ং পাটন! বাত্রা করলেন । হচ্ছ। নবাবের সঙ্গে ঝগডা বাধলেই তিনি পাটনা আক্রমণ করে আঁধকার করে নেবেন । মাণবেগম এই সময় প্রবেশ করছেন এবং ইংরেজদের সঙ্গে মীরজাফরের সন্ধি পর ব্রচনায় প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করছেন। মণি- বেগমের দীর্ঘসংলাপ মাধ্যমেই জানা যায় যে মীরকাশিম মুঙ্গের কেল্লার সংস্ক'র সাধন করে সেথানেহ আছেন। দেখা গেল সাহেবদের তুলণায় মণিবেগম কিছু কম জোরদার নন। বলেছেন মীরজাফরকে “$মি আমায় বেগম করেছিলে আমি তোমাকে মীবকাসিমের বৃদ্ভিভোগী করেছি, এ মর্নপীড় পুনরায় তোমায় সংহাসনে স্থাপত দেখেও দুর হবে না।, অবশেষে বেগম বলছেন “তুমি নবাব হও । রাজ্যের তার আমার উপর ধিযো, আমার নজামদ্দোলাকে যুবরাজ করো, তোমার কোন চিন্তার কারণ থাকবে না।” (২/৪ পাত। ৩০৯)। তারপর বেগম আরো সাংঘাতিক কথা বলছেন-_তুমি বিলাসপ্রিয়, অন্দরে থেকে শ্রূপ যুবতী লয়ে বিলাস করো, আমি নানা দেশ হতে স্ুন্বরী স্ত্রীলোক এনে তোমায় দেবো; তোমার বিলাঁদ উপযোগী সমন্ত উপকরণ সংগ্রহ করবো, তুমি নবাব হয়ে ভোগ ক'রো |” (২/৪ পাতা ৩০৯)। তারপর আবার “যে দিল্লীর বাদশার নামে সমস্ত ভারত একপ্রাণ হয়ে অস্ত্র ধরতো, সে দল্ীর বাদাশই গরব কোথায়?" : প্রত্যক্ষ দেখেছিলে দিল্লীর বাদশা আলী গোহর ইংরাঁজের হাতে বন্দী হয়েছিলো | (২৪ পাতা ১০ )। অবশেষে মীরজাফর সন্ধি পত্র স্বাক্ষর করলেন। নবাব বয়ন্য সামসেরউদ্দিন তাম্মাসা করে বললেন এরপর মুসলমানের ছেলেদেক্র ভিন্তি হয়ে মশক বয়ে থেতে হবে আর হিন্ছুদের ইংরানের কেরানীগিক্ি করতে হবে। তার উত্তরে, মরুকাশিঃ ৩৮৩ রাজ] নন্মকুষারের জবাব “আপনি ধাচলে বাপের নাম ।” (২/৪ পাতা ৩১১) পঞ্চম গর্ভাঙ্কে মুশ্রিদাবাঁদে জগৎশেঠের মধ্ত্রণাগারে রাজবলভ, রামনারায়ণ, কৃষ্ণচন্দ ও জগৎশেঠ শ্বরূপাদ । মুসলমান নবাবের খাজনাবৃদ্ধি ও অত্যাচারে বিরুদ্ধে এটা যেন হিন্ছু প্রতিষ্ঠাবান ব্যকিদের ষড়যন্ত্র । এমন সময় জগৎশেঠ মহাতপটার্দ এসে জানালেন যে মীব্রাফরের সঙ্গে সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হয়ে গেছে। অমিষেট ও ভে নবাবকে বোধাবার শেষ চেষ্টা করতে মুঙেরে গছেন। তারা কলকাতায ফিরলেই ইলিস সাহ্বে পাটনা আক্রমণ করবেন। ইতিমধ্যে অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই কতকগুপি নৌকা পাটনার পথে যাত্রা করেছে । রাজবল্লভের প্রশ্রের উত্তর দ্রিতে গিয়ে জগৎশেঠ বললেন--“সন্ধি আর কি-- এক প্রকার রাজ্য ইংরাজেরই হলো-_নাঁম মাত্র নবাব মুশ্রিদাবাঁদে থাকবে ।” (২/£ পাতা ৩১২)। এমন সময় “তারা*্র প্রবেশ এবং এই রাজন্তবর্গকে দেশভক্তিতে উদ্ব,দ্ধ করার চেষ্টা। পরিচয় দিচ্ছেন রাজনারায়ণ_ “রাণীর পাগলী মেয়ে। ওকে সকলে ভষ করে, কেউ কিছু বলে না, ও যেখানে দেখানে যাঁয়। (২/৫ পাতা ৩১২)। অবশেষে নবাবকে হিন্দুদ্বেষী 'আথ্য। দেওয়ায় তার! প্রচণ্ড ক্রোধে বলছেন এক চমৎকার সংলাপ- হিন্দুর পরামর্শ, কুটিল মন্ত্রশাঃ সমস্তই হিন্দুর । হিন্দুর মন্ত্রণায় পলাশীর যুদ্ধ, হিন্দুর কুচক্রে হিন্দু মুদলমানে ভেদ, শ্বদেশবাসীকে পরিত্যাগ করে, বিদেশীর আনুগত্য হিন্দুত্বাই কচ্ছে।? (২/৫ পাতা ৩১৩)। দেশের প্রতি আঙ্গগত্য জাগাতে ন! পেরে তারা” বলছেন «পরনের প্রতি লক্ষা করে।, নিজ সন্তানের প্রতি লক্ষ্য করো-__গলায় প্রস্তর বেঁধে সমুদ্রে ঝাপ দিয়ো না।” (২/« পাতা ৩১৩)। তাব্াকে আটকে বাথার চেষ্টা ব্যর্থ করে পাগলিনদ চলে গেলেন এমন সময় তকি খা এমে অসীম সন্মানে তারাকে শ্রদ্ধা জানালেন। তারা শেষবার জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্বয় ও তার বন্ধুদের মীরকাঁশিমের পতাকাতলে সমবেত করার চেষ্টা করলেন। “বিদেশীর ভেদমস্ত্রে হিন্দু-সুসলমানে প্রভেদ'.... ইংরাজের অস্ত্রপূর্ণ সজ্জিত.তরণী পাটনা অভিমুখে গমন কচ্ছে বুঝতে পাচ্ছ না? ইংয়াজ অধ্যক্ষের রণপ্রতীক্ষায় অধীর 1 (২/৫ পাতা ৩১৪) নিদ্রা ভাঙল না। তকি খা নবাবী হুকুম জানালেন যে তাদের সবাইকে মুক্েরে যেতে হবে কাল বিলম্ব না করে। তকি খা-টসম্ভসামন্ত নিয়ে প্রস্তত হয়েই এসে- ছিলেন। পকলকে বন্দী করে তিনি মুজেরে নিয়ে গেলেন। হষ্ট গর্ভাঙ্কে ৫ -৩৮৪ -» - বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা নমুঙ্গের! দরবারে অমিয়ট ও)হে'নবাবের দরবারে 5শুস্ক তুলে দেবার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দ্গানাচ্ছেন। ইংরেজদের কাছ থেকে শুষ্ক আদার করতে না পেরে নবাব দেশের সমন্ত শুক্ক তুলে দিলেন। সকলেই বিদেশীদের মতো বিন] শুক ৮ব্যবস! করতে লাগলেন। রাজকোষের আম এতে অনেক কমে গেল।, অমিয়েটের মুখে ভাষণ দেওয়া হয়েছে যে নবাব জোর করে যে তিনটি ছ্েল।' ' অর্থাৎ মেদিনীপুর চট্টগ্রাম ও বদ্ধমান ইংরেজ কোম্পানীর সৈশ্তবাহিনীর, খরচের)জন্ত “চাপাইয়” (২/৬ পাত। ৩১৫) দিয়াছেন তাতে আয় অত্যন্ত কম। 'অমিয়েট সাহেবকে দিয়ে অনেক তর্জন গর্জন করিয়েছেন নাট্যকার । অস্ত্রশস্ত্র] পূর্ণ নৌকা নবাব ছেড়ে দেবেন কিন! তিনি জানতে চান। নবাব উত্তরে বলেন যে ওই অস্ত্রশস্ত্র পূর্ণ নৌকাগুলি যদি কলকাতায় ফিরে যায় তিনি ছেড়ে দিতে রাজী কিন্তু পাটনায় যুন্ধসজ্জায় সজ্জিত ইলিস সাহেবের কাছে তিনি; কিছুতেই নৌকাগুলি যেতে দেবেন না । নবাব এবার গবর্ণর ভ্যান্সিট্রার্ট' স্বীকৃত শতকরা! নয়টাক। হারে শু্ক দেবার প্রতিশ্রতি ইংরেজ প্রতিনিধিদের 'কাছে দাবী করেন। নবাবের আবেদন গিরিশচন্দের ভাষায় অপূর্ব রূপ পেয়েছে । «একি উদ্দারচেতা খুষ্টীম ধর্মাবশ্বন্বী ইংরাঁজের কর্তব্য? সাহেব ক্ষান্ত হোন। ক্ষুধাতুরকে অন্নদান করুন, বন্ত্রহীনকে বস্ত্র দেন, নিরীহ বঙ্গ- সম্তানের সর্বনাশ সাধনে প্রবৃত্ত হবেন না। ত্বর্ণপ্রস্থ ক্ষেত্র মরুভূমে পরিণত করবেন না । সাহেব, স্তায়ের প্রতি, ধর্মের প্রতি লক্ষ্য করুন দন বঙ্গবাসীর উপর কপাবান হয়ে যুদ্ধ থেকে ক্ষান্ত থাকুন।” (২/৬ পাত] ৩১৬) অমিয়েট নবাবের কথায় কর্ণপাত করলেন না। উপরস্ধ অভিযোগ করলেন যে নবাব ইংরেজদের সঙ্গে আলোচনা না করেই রাজধানী, মুঙগেরে স্থানান্তরিত করেছেন। তিনি দুর্গপংস্কার করেছেন, সৈম্কবাহিনী বৃদ্ধি করেছেন। ইউরোপীর সৈল্াধ্যক্ষ রেখে বাহিনীকে ইউরোপীয় কায়দায় শিক্ষিত করেছেন। তিনি গোলাবারুদ সংগ্রহ করেছেন এবং কামান তৈরী সুর করেছেন । নবাব জানালেন যে সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা চালনার জন্যে ধা করবার প্রয়োজন তিনি মনে করেছেন তাই করেছেন কারণ তিনি দেশের শাসক। ইতিমধ্যে পাটনা আক্রমণের খবর এল। নবাব সঙ্গে সঙ্গে জানালেন যে তার উকিল ও কর্মচারী একলকাত! হতে নিরাপদে প্রত্যাবর্তন না করা! পর্য্যন্ত হে ও গলষ্টন মুঙ্গেরে বন্দী থাকবেন॥ তবে অমিয়েট কলকাঁতাক্স প্রত্যাবর্তন করতে পারবেন । গুরগিশ বীরকা শি তাকে ভেকে নবাব জানাচ্ছেন বে প্রজার দুঃখে তিনি দিবারাত্র ব্যাকুল। গুরনগিশ যেন এই প্রজাদের নিয়ত রক্ষা করেন। এমন সময় তকি খা খবর আনলেন 'ইলিষ বজনীযোগে পাটনা অধিকার করেছে। ইংরাঁজ সেপাই পানা লুঠ করেছে । (২/৬ পাতা ৩১৮)। নবাব এই খবর পাওয়া মাত্র সমরু ও মার্কারকে পানা অভিমুখে পাঠাবার জন্ত গুরগিণ খাকে আদেশ করলেন। অমিয়েটের কলকাতা যাবার আদেশ রদ করেতাকে মুেরে ফিরিয়ে আনার হুকুমজারী করা হল। মীরকাশিম তকি খাকে দেশভক্কির বাণী শোনালেন এবং আত্মত্যাগে উদ্ধদ্ধ করলেন। জানালেন “ভারতে বারত্বের অভাব নাই, পরস্পর পরস্পরের প্রতি ঈর্ষযাই আমাদের অধঃপতনের কারণ ।.'....বাংলার দীন প্রজা একমাত্র আমাদের লক্ষ, বিদেশীর করাল কবল হতে তাদের রক্ষা করা আমাদের উদ্দেশ্ট |” (২/৬ পাতা ৩১৮) অবশেষে--“কিরূপে বিদেশীর পীড়ন হতে বঙ্গমাতাকে রক্ষা করবো, কিরূপে দীন প্রজার ছুংখ নিবারণ করবো, কিরূপে স্বাধীনতার ধ্বজা আবার বঙ্গে উড্ঠীন হবে, এই চিন্তায় আমার মন্তিক্ষ বূর্ণায়মান__শক্রুদমন বা গ্রাপ বিসর্জন ।” (২/৬ পাতা ৩১৯) ॥ আলোচনা ॥ দ্বিতীয় অঙ্ক বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ । মীরকাশিমের নবাবীর অধিকাংশ সময় এই অঙ্কের প্রতিপাদ্য । দ্বিতীয় অঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্ক সুরু হচ্ছে রাজধানী মুজেরে সরাবার খবর জানিয়ে স্থতরাং ১৭৬১ শ্রীঠাৰের অগা মাসের পরবর্তী সময় । কিন্তু নবাবের মুখে ইংরেজ সৈল্াধ্যক্ষ কুটের নবাব শিবিরে পিস্তল হাতে ঢোকার্র ঘটন] দেওয়ায় সময় আগিয়ে যাচ্ছে ১*৬১ ্রীতাবের ১৬ই জুনের পরবর্তী কোন সময়ে । ধরা যাক এই সময় জুলাই মাস। দ্বিতীয় অন্ক শেষ হচ্ছে এলিসের পানা দখলের খবরে অর্থাৎ ২৪শে জুন ১৭৬৩ ্রীষ্টাৰ পাটন! দুর্গ দখলে অক্ষম হয়ে এলিস পাটন| শহর দখণ করার ঘটনার পর। ধর! যাক জুনের শেষ। তাহলে দ্বিতীয় অঙ্কের বিস্তার ১৭৬১র জুলাই থেকে ১*৬৩র জুন পর্যন্ত অর্থাৎ ঠিক ছু* বছর । মীরকাশিম দেশ শাসঞ্শ করেছেন ১৭৬০ খ্রীঠান্ধের ২২ অক্টোবর থেকে তেত্রিশ মাস অর্থাৎ জুলাই ১৭৩ শ্ীান্দ পর্যন্ত । মীদ্বকাঁশিমের নবাবী থারিকস করে মীরাফরের সঙ্গে ৩৮৬ বাংল৷ এতিহালিক নাটক সমালোচন! ইংরেন্সের চুক্তি হল ১০ই ছ্ুলাই ১৭৬০, কাটোয়ার যুদ্ধের তারিখ ১৯শে জুলাই ১৭৬৩। বন্সারের যুদ্ধ পর্যন্ত মীরকাশিষ নিজেকে নবাব ঘলেছেন। বন্সারের বুদ্ধ হয় ১৭৬৪ গ্রীষ্টাবে ২২শে অক্টোবর (প্রকৃতির কি চমৎকার ব্রসিকতাবোধ ) অর্থাৎ ঠিক ৪৮ মাস। মীরকাশিমের শাসনকালের ৩৩ মাসের মধ্যে গিরিশচন্দ্র তার নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কে ২৪ মাসের কাহিনী গুনিয়েছেন। তাছাড়া ১৭৬০ এর অক্টোবর থেকে ১৭৬১ খ্রীষ্টাৰের জুন পর্যন্ত অর্থাৎ আরো আট মাসের কাহিনী প্রথম গর্ভাঙ্কের অনর্গত করেছেন। স্তরাং মীরকাশিমের ৩৬৩ মাস শাসনকালের ৩২ মাসের ঘটন' দুই অঙ্কের উপজীব্য । একথা নির্দিধায় বল! চলে যে মীরকাশিমের শাসনকাল নাট্যকার দ্বিতীয় অঙ্কে বিবৃত করেছেন। ইংরেছ সহখোগীতায় নবাবী পাওয়া থেকে ইংরেজের সঙ্গে বিরোধের কারণগুলি প্রকাশের চেষ্টা হয়েছে এবং গিরিশচন্র ইতিহাস অনুনরণ করেই এই বিরোধের কারণ বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এক অঙ্কের মধ্যে মীরকাশিমের শাসন সময়ের কথা বলতে গিয়ে খুবই সংক্ষেপ করতে হয়েছে । তাছাড়া নাটকীয় মীরকাশিমকে প্রগাবৎসল স্বাধীনতাকামী ত্বাবীন নুপতি হিসাবে বর্ণনা করতে গিয়েও নানা অস্থবিধার স্ষ্টি হয়েছে । স্থতরাং বলা চলে যে নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক ইত্ভিহান আশ্রয় করে গড়ে উঠলেও ইতিহাপানুগ হয় নাই । প্রথমেই মনে রাখতে হবে যে মীরকাশিম ইংরেজের সঙ্গে চুক্তি করে অর্থের বিনিময়ে যেমন নবাবী কিনেছিলেন তেমনি বাদশাহকে উপটৌকন ও রাজস্ব দেবার অঙ্গীকার করে বাল! বিহার উড়িস্তার স্ুবেদারী ক্রয় করেছিলেন। উড়িস্তা ছিল মারাঠাদের দখলে । নামে উড়িস্যার সুবেদার হলেও উড়িয়া থেকে কোন রকম রাজস্ব আদায় কর] বা সেথানে শাসন ক্ষমতা বিস্তার করা নবাবের পক্ষে সম্ভব হয় নাই। উড়িস্তা থেকেই মারাঠারা মেদিনীপুর ও বর্ধমানে প্রায় নিয়মিত লুণ্ঠন চালিয়ে এসেছে । এতে মীরকাশিমের বিশেষ ক্ষতি হয় নাই কারণ ওই ছুইটি জেলাই ইংরেজ দখলে দেওয়া হয়েছিল। স্বভাবতই মীরমাশিম তাই পশ্চিমে বীরভূমে ও উত্তরে নেপালে তার অধিকার কায়েমী করার চেষ্টা করেন। ইংরেজ সৈম্ত ও সৈম্গাধ্যক্ষর সাহায্যে তিনি বীরভূমে তার অধিকার রক্ষায় সফল হন কিন্ত কেবল নিজ সৈন্যের নির্ভরতায় নেপাল দখলের চেষ্টা সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ হয়ে যায়। এই ছুইটি ঘটনাতেই মীরকাশিম চরিত্রের দূর্বলতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ বীরকা শিদ্দ ৩৮৭ পাচ্ছে। ১৭১ টাকে মাঝামাঝি সময় ইংয়েক্সদের সঙজে নবাবের মনো- মালিন্তে সুরু হল । এই দতোবিরোধের প্রধান কারপ যে পাটনার শাসনকর্তা যহারাজা রাষনারায়ণ একথ| গিরিশচন্ত্র কোথাও স্পষ্টভাবে বলেন নাই। মহারাজা রামনারায়ণের ঘটনা আলোচনা করতে গেলেই মীরকাশিষের প্রজাবংসল” রূপ নষ্ট হয়েযায়। ইতিহাগের অনুসরণে দেখা ধায় ্বাধিকাধ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাই মীরকাশিমের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধে মূল কারণ। এই স্বাধীকার প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি রামলারায়ণকে বরখান্ত করতে চেষ্টা করেন। ইংরেজরা তাতে রাধা কৃষ্টি করলে তিনি রাজা! রাজবল্পভকে মহারাজা রামনারায়ণের হিমাব পরীক্ষক নিযুক্ত করেন । রাজা রাজবল্পভ এই স্থযৌগ পূর্ণভাবে গ্রহণ করেন এবং নবাবকে থুসী করে শেষ পর্যস্ত তিনি বিহারের শাসনকর্তা হন। কিন্তু রাজবল্লভ '্বীরকাশিমষের শুভানুধ্যায়ী ছিলেন না। আত্মলর্বস্বত| এই সময়কার হিন্দুসুসলমান প্রধানব্যত্বিদদের মূল চরিত্র তাই রাজা রাজবল্লভকে ইংরেজের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করতে দেখে আশ্চর্যা হবার কারণ নাই। মীরকাঁশিম বিরোধী এলিস পাটনায় অধ্যক্ষ নিধুক্ত হলে বিরোধেক পথ প্রশত্ত হল। এবার ইংরেজবাহিনীর অধ্যক্ষ হয়ে কর্ণেল আয়ার কুট পাটনায় এলেন । ১৭৬১ গ্রীষ্টান্দবের ২২শে এপ্রিল আত্মার কুটের সঙ্গে তার জ্েওয়ান হয়ে এলেন রাজা নন্বকুমার। সমসাময়িক ইতিহাসে নন্দকুমারের মতো। তীক্ষুবুদ্ধি বুঝি আর কোন স্বদেশীয়ের ছিল না। নন্গকুমার, রামনারায়খ ও এলিসের বড়যন্ত্রে ফল দেখা গেল খন নবাবী লৈল্কের আক্রমণের মিথ্যা খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন কুট সাহেব পিস্তল হাতে নবাধী শিবিরে চড়াও হলে ১৭৬১ শ্রীষ্টান্ষের ১৬ই জুন রাত্রে । নবাব তথ্থন নিজ্া মগ্ন, যুন্ধচিন্ত। দৃষ্বে থাকুক নবাব শিবিনে ঘারযক্ষার জন্য বিশেয় সৈন্তদলও ছিল না| । এই ঘটনান্র পরে নবাব ও জ্যায়ার কুট নিজ নিজ দৃ্টিভজী থেকে গররণর ভ্যান্ষিউার্টকে লিখে জানালেন । ইংরেজের সঙ্গে সীরকাশিয়ের আনুষ্ভানিক বিরোধ পাট্টনাত্ব এই ১৬ই জুনের ঘটনা থেকে সুরু হয়েছে বলা চলে । গিরিশচন্দ্র এই ঘটনাগুলিকে নবাবেতর মুখে দিয়েছেন বটে কিন্ক' তার গভীরে প্রবেশ না করায় কার্ধা কারণের যোগস্থত্র স্পষ্ট হয় নাই। মীরকাশিম শ্বার্থীন অথব! গ্রজাবৎসল ছিলেন না। তিনি দেশের শাসন- যস্ত্রকে সুষ্ঠুক্ূপে চালন! করতে চেষ্টা করেন এবং সেই জঙ্তই বিহারের শাসনকর্তা কাসবারায়ণের অপজারণ প্রয়োজন হয় । গবর্ণর ভ্যান্দিট্ার্ট এবং ভীত সুযোগ্য ২৩৮৮ বাংলা ধ্রতিহালিক নাটক সমালোচন! সহকারী হেক্সিংস এ ব্যাপারে কোন আপত্তি করেন নাই ফারণ তারা নবাব- কেই দেশের শাসক বলে স্বীকার করেন কিন্তু অন্ত ইংরেজ কাউন্দিলারগণ এতে প্রমাদ্দ গণলেন এবং মীরকাশিমের ক্ষমতা বৃদ্ধিকে অত্যন্ত সন্দেহের চোখে দেখলেন। এই সময়ে পলাতক দ্রিলীর বাদশাহর সঙ্গে ইংরেজদের যোগাযোগ হল। পাটন! দখল করতে এসে বাদশাহ ইংরেজ বাহিনীর কাছে পরাক্জিত হলেন বটে কিন্ত ইংরেজ সসম্মানে তার দরবারে অভিবাদন জানাল। বাদশাহের চিন্তা ইংরেজদের কাছে স্পষ্ট ভাবেই এল। তিনি ইংরেজ কোম্পানীকে বাংলা বিহার উডিস্তার দেওয়ানি দেবার প্রন্তাব করলেন । এই সব আলোচনার মধ্যে বাদশাহ ও মীরকাশিমের পাটনার দরবারে যে সাক্ষাৎ হল তাতে সুবা বাংলার সুবেদারী লাভ করলেও মীরকাশিমের বুঝতে বাকী রইল ন| যে বাদশাহ এই বিদেশী বুদ্ধ বাবসায়ীদের বেশ পছন্দ করছেন এবং তাদের সাহায্য নিয়ে দ্বিক্লী ফিরে পাঁণর পন্রিকল্পনা করছেন 1 শ্বভাবতই এই ঘটনার পর থেকে মীরকাশিম ইংরেজদের অত্যান্ত সন্দেকের চোখে দেখতে লাগলেন এবং স্থযোগ পেলেই তাদ্দের ক্ষমতা হাস করার কখা ভাবতে লাগলেন। মীরকাশিষের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধের মূল রূপটি তাই নাটকের মধ্যে 'অবজাত থেকে গিয়েছে । যা! প্রকাশিত হয়েছে তা ১৯০৬ প্রীঠাব্ষের বাঙ্গালীর যনোভাব। দীর্ঘ ইংরেজ শাসনে জর্জঘ্িত বঙ্গবাসীর ক্ষোভ এ উদ্মা। ইংরেজদের ক্ষমতা কমাবার জন্তই রাজধানী মুঙ্গেরে স্কানাস্তরিত হল । সেখানে ইংরেজ দৃষ্টি বাইরে ইউরোপীয় রীতিতে সৈম্ভবাহিনী গঠন স্ক্ল হল। প্রধান সেনাপতি হলেন গুরগিন খা সহকারী তার সমর, মার্কার প্রস্ততি | সহজেই বলা চলে ১৭৬১ খ্রী্ঠাকে পাটনায় আগার কুটেছ হটকাদ্িতা এবং বাদশাহের ইংরেজ শ্রীতি, ইংরেজ সম্পর্কে মীরকাঁশিমৈর মনে গভীর সন্দেহ কৃতি করে। অন্তদিকে রামনারায়ণের পদচ্যুতি, মুঙ্দেরে রাজধানীর স্থানান্তর এবং নবাবের সৈন্তবাহিলীর পুনর্গঠন নবাথ সম্পর্কে ইংরেজদের মনে গভীর সন্দেহ জাগায়। বিরোধেক্ন প্রকাশ হল ইংরেজদের যিনা গুক্ছে বাণজ্যের চেষ্টায়, এলিসেব্র পাটন| শহর আক্রমণ ও দখলে এবং কলকাতা- গ্লানী অমিয়েট সাহেবের হত্যায় । দবিতীল্পন অন্কের প্রথম গর্তান্কে কিন্ত:সরই উতিহাসিক তথ্য'বল! হয়েছে। মীরকাশি ৩৬৯ এই সময় ইংরেজদের সঙ্গে নবাবের বিরোধ যে পরস্পরের প্রতি গ্রচণ্ড অবিশ্বাসের রূপ নিয়েছে একথা কোথাও বল! হয় নাই। এই বৃহৎ ত্রটি অস্বীকার করলে দৃশ্যটি চমকাঁরভাবে রচিত ৷ মীরকাশিম যে নৃশংসভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছেন এমনকি প্রয়োজন হলে তাঁর জন্য হত্যা ও কারাকুদ্ধ করতে কুষ্টিত হন নাই-__-একথা স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে । এই দৃশ্বের সং- গঠনের একমাত্র ত্রটি মীরকাশিমকে প্রজাবৎসলরূপে দেখান । এটা প্রক্ষিপ্ত। শাসনকার্ধোর অংশীদার হিসাবে প্রজার অধিকার স্বীকার করা ইংরেজ শাসনের ষূগের ঘটনা । মোগল আমলে কোন সম্পত্তিতে প্রজার কোন অধিকার ছিল লা। প্রজার সঙ্গে সাধারণত জমির সনওয়ারি বা বাৎসরিক বন্দোবস্ত হত। কোন বাক্তিগত সম্পত্তি থাকলে অধিকারীর মৃত্যুর পর সেই সম্পত্তির ওয়ারিশ হতেন বাদশাহ ওরফে সরকার । প্রায়ই ছোটখাট সম্পদ্থভি বাজেয়াপ্ত করায় সরকারী আগ্রহ দেখা যেত না ফলে সেই সম্পত্তি স্থানীয় সরকারী কর্মচাবী কুক্ষিগত করতেন। স্তবাং শাসনযস্ত্রের যে রূপ মোগল আমলে দেখা ঘেত তা “প্রজাবৎসল' প্রভৃতি সংজ্ঞার একাস্ুভাবেই পরিপন্থী । এই দৃশ্যে নবাব মহ্ষী বেগম নামে পরিচিত । ইতিহাস মীরজাফরের কন্যা সম্পর্কে নীরব । মুতাক্ষরীণ পধ্যন্ত মীরকাঁশিম মহিষী সম্পর্কে কোন সংবাদ দিতে পারেন নাই । নাঁট্যকাৰের তাই “বেগম” নাম গ্রহণ করা ছাড? গত্যন্তর ছিল না। দ্বিতীয় অঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্কের অন্ততম বড় ক্রটি মহারাজা রামনার'য়ণ সম্পর্কে সব কথা না বলা। ১৭৬১ শ্রষ্টান্ের জুলাই মাসেই যে নবাব রামনারায়ণের সম্পত্তি ও সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তাঁকে কয়েদ করলেন এখবর কোথাও জানান হয় নাই। হিন্দু-মুললমান নিরধিশেষে নবাব যে বহু গণ্যমান্য ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করলেন তাদের কোন পরিচয় দেওয়া হয় নাই । মুতাক্ষরীণ রচয়িতা লিখেছেন যে ১৭৬১ গ্র্টাব্বের সেপ্টেম্বরের মধ্যে রে “দরবারে কথা বলার মতো কেউ থাকল না। উচ্চ মর্যাদার দ, আত্মীয় বা! বদ্ধ নবাবের অসস্তোষের ভয়ে ভীত হয়ে কথনই তার ৮) ইন কথা ছাড়া আর কিছু বলতেন না । এমন কি রাজ বিদুষক * মীর্জা শামন্দ্িন, ধিনি মীরজাফরের নামকরণ ' করেছিলেন *কলাইভের . মন্দাগাধা” _নবাবকে ভয় করে চলতেন। ৩৯০ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা দ্বিতীয় অঙ্ক প্রথম গর্ভতাক্কের সঙ্গে ছিতীয় গর্ভাঙ্কের মধ্যে তফাৎ প্রায় নয় ব| দশমাসের । ইতিমধো মীরকাশিম ভোজপুরের জমিদারদের পরাভিত করে নেপাল সীমান্তে বেতিয়। পর্য্যন্ত নবাবী প্রভাবকে প্রসার করেন। বাদশাহর অন্যতম স্থহদ্দ কামগড় খা নবাবী সৈন্তের কাছে পরাস্ত হলেন। বিহারের প্রায় সমস্ত কেল্লা নবাবী দখলে এসে গেল। বিহারকে বশে আনতে মীরকাশিমকে কঠোর হতে হয়েছিল তাই তান্বিখ-ই-মনস্থরী লিখেছেন যে মীরকাশিম বিহারে সন্ত্রাসের রাজত্ব হট করেন। ১৭৬২ সুরু হতে হতেই “দত্তক' নিয়ে নবাবের সঙ্গে কলকাত! কাউন্সিলেন্ব বিরোধ হুর হল। ভ্যান্সিট্রার্ট ও হেস্টিংস সংখ্যালঘু হওয়ায় তার! নবাবের কাজের যৌক্তিকতা সমর্থন করতে গিয়ে বারবার পরাজিত হতে লাগলেন । অবশেষে লেফটেনান্ট আয়রনপাইড ও ওয়ারেন হেস্টিংসকে নবাবের কাছে দূত করে পাঠান হল। হেস্টিংস বয়ে নিয়ে চললেন কাউন্সিলের সংখ্যা- গুরুর মুসাবিদায় গবর্ণরের সহীযৃক্ত ২৫ লক্ষ টাকার এক অন্ঠায্য দাবী । এইখানে দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক নুরু হচ্ছে। মুঙ্গেরে আসবার পথে দেশের যে চরম দুর্গত অবস্থা দেখে ব্যথিত হয়ে কেস্টিংস গবর্ণর ভ্যান্িষ্ার্টকে পত্র দিয়েছেন লেগুলি কেন্দ্র করেই এই দৃশ্য গঠিত । নাট্যকার হেট্টিংসের প্রতি স্থবিচার করেন নি কারণ হেস্টিংসের লেখ| চিঠির বিষয় “তারা”র মুখে সংলাপ হয়েছে । ভারতপ্রেমী হেস্টিংস থে প্রথম ভ্যান্সিট্রার্ট সাহেবকে ইংরেজ কোম্পানীর অত্যাচারের প্ররুতরূপ জানিয়েছিলেন তা এই নাটকের দর্শক জানতে পারবেন না» মনে করবেন এই কল্পিত চরিত্র তারাই বুঝি হেস্টিংস লিখিত এই চিঠিগুলির উৎস। এই দৃশ্টে তারার সঙ্গে হেস্টিংসের কথোপকথন এবং ইংরেজ কোম্পানীর মুত্স্দ্দির অত্যাচার দ্বেখান হয়েছে । তারা হেস্টিংসকে দেশের ছুরবস্থা সম্পর্কে অবহিত করছেন এবং তা গুনে হেস্টিংস দুঃখিত হচ্ছেন। কল্পিত তার! চরিত্র এই দৃশ্তে গিরিশচন্দ্রকে মিথ্যাচান্র করিয়েছে। সিরাজন্দৌলা নাটকে হোসেনকুলীর স্ত্রীর মতো তারা চকিত্র প্রক্ষিগত ও কাল্পনিক । এই চরিত্র জহরার মতো নাটকের মধ্যে যে পরিমাণ অন্থবিধ! ভৃষ্টি করেছে তা বলার নয়। এই কাল্পনিক চরিত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে নাট্যকার বার বার কল্পনার সাহায্য নিয়েছেন এবং “তারার” পার্খচরিত্রগুলি সেই কল্পনায় রঙ্গীন রঙ্ডে অনৈতিহাসিক হয়ে গেছেন।, এই দৃশ্বটিকেই মীরকাশিষ ৩৯১ উদাহরণ স্বরূপ ধরা যাক। হেস্টিংস স্বয়ং দীর্ঘদিন কাশিমবাজারে কুঠিয়াল ছিলেন, ভাল ফারুসী জানতেন, কুলকারণি সাহেবের গবেষণা অনুযায়ী নাকি বাংলাও বলতে পারতেনঃ বুঝতে পারতেন সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। সুতরাং তার পক্ষে “তারা'র কাছে কি হচ্ছে জানতে চাওয়াটাই প্রচণ্ড অনোতি- হাঁসিকতা! | কাশিমবাজারে ১৭৫২ থেকে ১৭৬২ খ্রীঃ পধ্যস্ত যিনি এক নাগারে বাস করে ধাপে ধাপে উচ্চ পদ্দে উন্নীত হয়েছেন কোম্পানীর অত্যাচ'রের কপ যে ঠার অজানা নয় এটা বলাই বালা । হেন্টিংসের মুঙ্গের আসার পথে লেখ! পত্রগুলি ইংরেছদের অত্যাচারের জ্বলস্ত সাক্ষী | পরবত। দৃশ্তে অর্থাৎ তৃতীয় গভাঙ্কে মুঙ্গেরে নবাব ও ভ্যান্দিট্রারটের সাক্ষ্যাতকার দেখান হয়েছে । গবর্নরের সঙ্গে হেস্টি'স খাকাতে মনে হওয়। তঘবাভাবিক যে হেস্টিংস ও ভ্যান্দিট্রার্ট যেন একই সঙ্গে এসেছেন। প্ররুত অবস্থা তা নয়। হেস্টিংস ভুন মাসে (১৭৬২ খ্রীঃ) মুঙ্গেরে এলেন কিন্তু দৌত্য বিফল হল। দৌত্যের বিফশতা সম্পর্কে হেষ্টিংসের নিজের মনে কোন সন্দেহই ছিল না। তিনি ভানতেন, যে অসম্ভব কাছ্ধের ভার তাকে দেওয়া হয়েছে নবাব তাতে রাজী হতে পারেন না। ১৭৬৫ গ্রীষ্টান্দে কোম্পানীর কাজে ইস্তফ! দিয়ে ইংল্যাণ্ডে ফিরে গিয়ে তিনি ইস্ট ইগ্ডিয়। কোম্পানার গ্রে যে রিপোর্ট দাখিল করেন তাতে লিখেছেন--"নবাবের মতে। এমন শাস্ত ও ভদ্রলৌক আমি কখন দেখি নাই। শান্ত, যুক্তি ও শৃঙ্ধখল! রক্ষার জন্ত তার যতখানি ইচ্ছ। ততখানি ইচ্ছ। য্দি আমাদের থাকত তাহরে কখনই মতদ্বৈধের কোন কারণ ঘটত না| নবাবের প্রতি আমরা যে ব্যবহার করেছি তাতে কেঁচোর থেকে একটু বেন ব্যক্তিত্বপূর্ণ হলেই ক্ষেপে ওঠার কথা 1৬৯ নবাব বুঝেছিলেন যে হে৪্লিংসের় দৌত্য বার্থ হলেও ইংরেজ চুপ করে বসে থাকবে না। তাই হেষ্টিংস ফিয়ে যাবার পর তিনি রাজধানীকে আছুষ্ঠালিক ভাবে মুশিদাবা থেকে মুজেরে স্থানান্তরিত করলেন এবং গবর্ণর ত্যান্সিট্রার্টকে তার নৃতন রাজধানী দেখতে আসার ভ্ন্ত আমন্ত্রণ জানালেন । ভ্যান্দিট্টে শরীর ভাল যাচ্ছিল না মনের তে! কথাই নাই। তাই নবাবের সঙ্গে একটা বোঝা পড়ার ক্ষ তিনি গ্রণ করলেন । হেঞ্িংসকে সঙ্গে রন ১লা ৩৯২ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন! নভেম্বর ১৭৬২ কলকাতা থেকে নৌকাযোগে যাত্রা করলেন। ৯ই নভেম্বর কাশিমবাঁজারে উপনীত হয়ে তিনদিন বিশ্রাম করলেন। শীতকাল কাশিম- বাজারের নদীতে স্তল কম তাই ঘোড়ায় চডে মুশিদাবাদে পৌছে সেখান থেকেই নৌকায় উঠলেন ১২ই নভেম্বর । ৩*শে নভেম্বর মুদ্দের পৌছলেন। ১লা ডিসেম্বর নবাবের সঙ্গে প্রথম বৈঠক বসল, ১৫ই ডিসেম্বর নবাব ও গবর্ণর চুক্তিপত্র সই করলেন । নাট্টোলিখিত তৃতীয় গর্ভাঙ্ক এই ১৫ই ডিসেম্বরের ঘটনা বলা চলে । দত্তক নিয়ে বিরোধের ঘটনাগুলি জটিল । গিরিশচন্দ্র অপূর্ব মুন্দিয়ানায় “দত্তক” নিয়ে বিরোধের রূপ মোটামুটি ভাবে হুন্মর প্রকাশ করেছেন। সাধারণ দর্শকের পক্ষে ইতিহাসের এই পাঠ গ্রহণযোগ্য বলা চলে। নবাবের সঙ্গে ভ্যা্সিট্রার্টের চুক্তির মুল কখাটা নাটাকার চমৎকার বলেছেন। সমস্ত ঘাণিজ্যদ্রব্য যেগুলি নিয়ে ইংরেজ বাণিজ্যের অধিকারী শতকরা ৯ টাক! হারে তাদের ওপর শুনহ্ধ দিতে ভ্যান্সিট্রার্ট রাজী হলেন। নাট্যকার যে কথ! জানাতে ভুলে গেছেন তা! হল গবর্ণর নবাবকে অন্রোধ করেছিলেন যে এই চুক্তি কাউন্সিল অশ্চমোঁদন না করলে কার্ধকরী হবেন! স্ৃতরাঁং নবাব যেন গবর্ণরের পত্র না পাওয়া পর্যন্ত চুক্তির কথা প্রকাশ না করেন। বলাবান্কল্য নবাব তা করেন নাই ফলে ভ্যান্সিট্রার্ট কলকাত। কাউন্সিলে চুক্তি অনুমোদন করাতে পারলেন না। নবাবকিস্ত দিকে দিকে চুক্তির কথা জানিয়ে তাঁর কর্মচারীঙ্গের সেই মতো কাজ করধার নির্দেশ দির়্েছেন। হেষ্টিংস এই চুক্তি 'ন্ুমোদন করতে কাউন্সিল রাজী হবেন না বলে যে সংলাপ দেওয়া! হয়েছে তাও প্রক্ষিগ্ত কারণ গবর্ণর এবং তার সহকর্মী এই আপোষ চুক্তি কাউন্সিলের সদস্যদের বোঝাবার আশা করেছিলেন এবং সেইজন্ঠেই এটার নাম “খসড়া চুক্তি, বলা হয়েছে । নবাব এটাকে পূর্ণ চুক্তির মর্ধ্যাদ! দেওয়ায় গবর্ণরের অন্ুবিধাই বেশী হয়েছিল। যাবার আগে ইংরেজদের শৌধ্যবীধ্য সম্বন্ধে ভ্যান্দিন্টার্টের যে ভাষণ দেওয়া] হয়েছে তা কাল্পনিক । নবাবধকে বিভিন্ন যুদ্ধ গ্ররাঞ্জিত করার পরেও গবর্ণর লিখেছেন £ আমরাই নবাবকে বুদ্ধ করতে বাধ্য করেছি যুদ্ধের জন্ত প্রস্ততি তার ছিল ন11”৬২ ইংরেষ্জরা চলে যাবার পর মীরকাশিম নিজের বলবীর্ধ্য সম্পর্কে আলি ইত্াহীত্ষফে অবগত করেছেন। শ্রধানেও হিন্দু মুসলমানের" ইংরেজ দাসত্ের রীবকা শি ৩৯৩ আকাজ্। সম্পর্কে এবং পণ্যষান্ত ব্যক্তিদের ইংরেজ গ্লীতি সম্পর্কে নবাবী ভাষণ ১৯০৬ ্রষ্টাব্বের রাজনৈতিক প্রয়োজনে সংযোজিত হয়েছে এবং এই কারণেই “মীরকাশিম নাটক সর্বাগ্রে ইংরেজ শাসকদের ভীত করেছে। নাটক বাজেয়াপ্ত হয়ে অভিনয় বন্ধ হয়েছে । ইতিহাসেত্ অঙ্গনে মীরকাশিমের এই দেশপ্রেমের কথা, বিশ্বীসঘাতকদের ইংরেজ ছত্রচ্ছায়ায় আত্মপরিপোষণের ছবি অনৈতিহাসিক, কিন্ত সুন্দর । ১৯০৬ গ্রীষ্টার্ব পোষণের চমতকার ডদ্দাহরণ দেখিয়েছে, ১৭৬২ তে সেগুলি তখনও সৃষ্টি হয় নাই। নবাবীতে মীরজাফরকে বসান ছাড়! দেশের ধনী ব্যক্তিগণ ইংরেজ শাননে তখনও বিশেষ স্থবিধা অর্জন করতে পারেন নাই । ইংরেজ শাসনের স্বরূপ সম্পর্কে তখন তারা যেমন অজ্ঞ ছিলেন॥ ইংরেভ' চরিত্রের সাস্ত্রাজ্য বাসনা সম্পর্কেও তাদের কোন ধারণা ছিল না। কি প্রচণ্ড. শৃঙ্খলে ইংরেজ তাদের পরাধীনতার শাগপাশে বেঁধে ফেলবে তারপর বুটজুতোর ঠোক্করে সাম্রাজ্য চালনা করবে জানা থাকলে ফড়যন্ত্রকারীরা আর একবার ভেবে দেখতেন। তারা মনে করেছিলেন যে টুপিওয়ালারা মুষ্টিমেয় কয়েকজন বিদেশী বণিক সুতরাং শক্ত নবাব মীরকাশিমকে সরিয়ে দিতে পারলে তার! নিজ নিজ স্বার্থ অন্বেষণ বিনা বাধ-য় করে যেতে পারবেন । গিরিশচন্দ্র ১৯০৬ এর বাঙালীর চিন্তাকে এত ম্পষ্টরূপ দ্দিলেন “মীরকামিম” নাটকে যে ইংরেজ সরকার বিচলিত হলেন। মৰে রাখা! দরকার যে সর্বপ্রথম “মীরকাসিমের অভিনয় বন্ধ হয় ও নাটক ৰাজেয়াগড হয়। তারপর “সিরাজদ্দৌলা” ও পলাশীর গ্রায়শ্চত্তকে বাজেয়াপ্ত ও দ্ভিনয় নিষিদ্ধ করা হয়। ওই টানে বহিমঘের চত্্রশেখরের অভিনয়ও বদ্ধ কবে দেওয়া হয়। ণমীরকাসিম নাটক জনচিত্তরক্কে কি পরিমাণে যে উদ্বেলিত করেছিল তার এর. থেকে ভাল প্রমাণ গ্রয়োজনহীন । চতুর্থ গঞ্ভান্কে মীরজাফরের চীৎপুরস্থ দাওয়ানখানায় রাজ! নন্দকুমার» অমিয়েট, হে,.ও.এলিস সাহেব ত্রয়কে দেখান হয়েছে । এ দৃশ্টটি কাল্পনিক এবং কোন প্রতিহাসিক ভাত্তর উপর রচিত নয়। নবাবের সঙ্গে গবর্ণরের খসড়া চুক্তি ক্ষান্ন্সিল নাকচ করে দিয়েছেন বলে অনিয়েট জানাচ্ছেন সুতরাং সময় কিছুতেই ১৭৬৩ খ্রীষ্টাবের ফেব্রুয়ারীর আগে নয় । যদি ধরা যায় মার্চ বা ' গ্রপ্রিল মাসের ঘটনা তাহলে শ্রলিসের উপস্থিতি অসম্ভব কারণ এই সময় তিনি পাটনায় ছিলেন । মীরজাফরকে গুনরাপ নবাবী দেবার চিত্তা কখন ৩৯৪ বাংল! এ্রতিহালিক নাউ সমালোচন! ইংরেজের মনে এসেছিল সঠিক জানা যায় না । অবশ্ত মীরজাফরকে নবাধী থেকে সরাবার ইচ্ছা কাম্পিলের অনেক সদস্যরই ছিল না। যদি ধর! যায্স যে মার্চ বা এপ্রল মাসেই আময়েট ও হে সাহ্বছগ্প মীরজাফরকে নবাব করতে মনম্থ করেছিলেন তাহলে মেট] অসম্ভব ঘটন। নয়। আর একটা জিনিষ লক্ষণীয় । নন্দমবুমার মীরজাফরের বন্ধ রূপেই চিত্রত এবং মীরজাফরক্ে পুনরায় নবাবী দেবার পক্ষেরে একগ্ন প্রধান সওয়ালকারী। কৃতগ্ঞ মীরজাফর নবাবী গেলে রাভা নব্বকুমারকে তার রাজ্যের প্রধান ব্যক্তি করতে প্রতিশ্রুত হন এবং তদন্যায়ী “মহারাজা” উপাধি দিয়ে নন্দকুমারকে তার মন্ত্রী নিষুক্ত করেন। এ ঘটনাগুলি ইতিহাস অন্সারী । পরবর্তী কালে নন্দকুমার কি করে কুচক্রী মীরঞ্জাফরের বন্ধুর ভূমিকা থেকে দেশছিতৈষী শহীদ হয়ে গেলেন তা অন্ধ প্রবন্ধে (নন্দকুমার গ্রবন্ধ দ্রষ্টব্য) আলোচনা! কর] হবে । দেখা যাচ্ছে গিরিশচন্দ্র ১৯০৬ খ্রীষ্টাবে নন্বকুমারের হীন রূপই অব্যাহত রেখেছেন এবং ১৯০৩ গ্রীষ্টাব্বে নিখিলনাথ রায় তার মুশিপাবাদে কাহিনীতে “নন্বকুমার”কে শহীদ রূপে চিত্রিত করলেও গিরিশচন্দ্র মুতাক্ষরীণের নির্দেশকেই সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। এই গর্তাক্ষের শেষে মীরজাফর ও মণিবেগষের প্রবেশ । মীরজাফর দিধা গ্রন্ত হলেও বেগমই ষেন তাকে ইংরেজের লঙ্গে নুতন চুক্তিপত্র সই করতে ইঙ্গিত করছেন এবং নিজে ইংরেজ্রে মীরকাশিষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবার ভন্য অর্থ সংগ্রহেত্র প্রতিশ্রতি দিচ্ছেন। এই দৃশ্টের ঘটনা ও বিষয়বস্ত অত্যান্ত নাটকীয় ও সম্ভবনাপূর্ণ। এরকম ঘটনা! ঘটা যেমন সম্ভব, 'যালোচনায় বড়যন্ত্রের যে চিত্র প্রকাশ পায় তাও তেমনি বিশ্বাসযোগ্য । সহজেই মনে করা যেতে পারে যে ১০ই জুলাই ১৭৬৩ তে মীক্মাদাফর ও কোম্পানীর মধ্যে যে চুক্জি হুয় এট। তাত প্রস্ততি পর্ব পঞ্চম গর্ভাঙ্কে মুশিদাবাদে জগৎশেঠের অন্ত্রণাগারে ধনী হিব্দুদেন্ব মিলিত হবার দৃশ্য এবং এথান থেকেই জগৎশেঠ ত্রাতৃঘয়। রাজবলত, রাষনারায়ণ ও কুষ্ন্্রকে বন্দী করার ঘটন! কিংবদত্তির উপর রচিত। জগঞ্ধশেঠ অহাতপঠাদের সংলাপ যে কলকাতায় চুক্তিপত্র সই হয়েছে তাও ভুন। কারণ বগশেঠ ভ্রাতৃদয় বন্দী হন এপ্রিলের শেষে । (নবাব ২রা থে ভ্যান্সিউার্ট সাক্েষেকে এ সংবাদ পত্রে জানাচ্ছেন ) মীরজাফর চুক্তি শ্বাক্ষর করেন ১০ই ভ্বুলাই। ব্রাজ- বল্পভের সংলাপ, “দেশটা এক প্রকান্ত ইংরাছেরই হল” উত্তিও ঠিক নম কারণ ফীঘকাশিছ ৩৯৫ গণ্যমান্ত ব্যক্িগপ ভেবেছিঙ্গেন ষে মীরকাশিমের পতন চলে দেশটা ভাগেরই হবে। একখুঠো টুশিওয়ালার পরাক্রম সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই ছিল না। জগৎশেঠ ভ্রাতছ্য়কে আটক করার পর রামনারায়ণ বন্দী হন। রাজবল্লভ আর তার জ্যোষ্টপুত্র কষ্দাস আর কিছুদিন পরে মুঙ্গেরে আনীত হলেন | কৃষ্ণচন্দ্র নদীয়া! ছেড়ে কখন যান নি। দেশের রাজনৈতিক ঘটনায় তাকে এই সময় প্রতাক্ষ ভাবে দেখা যায় না। সম্ভবত এই কারণেই কোম্পানীর রাজত্ব কাযেমী হলে তিনি মহারাজ! উপাধিতে ভূষিত হন। কুঞ্ণচন্তর নানা কারণে সরকারী খাঁভন! ঠিক সময় দিতে পাবতেন না। সেঙন্ত আলিবদী খা থেকে সুরু কবে হেস্টিংস সাহেব পধ্যপ্ত প্রায় সমস্ত রাজন্ব আদায়কারীর দ্বারাই লাঞ্ছিত হয়েছেন । বাংলার হিন্দু সমাজের প্রধান ব্যক্তি হিসাবে স্বীরুত হলেও ব্যক্তিগত লাঞ্ছন৷ বা কয়েদ হওয়া থেকেও তিনি নিষ্কৃতি পান নাই । একমাত্র মীরজাফরের নবাবী কালে নদীয়ারাঁক্ত স্বস্তিতে বসবাস করেছেন । তার একমাত্র কারণ যীরজাফরের দেওয়ান ব। মন্ত্রী মহারাজা নন্দকুমার নদীয়া রাজের পৃষ্ঠপোষকতা আশা করতেন। তাই কৃষ্ণচন্দ্র নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশ নেবেন বলে মনে হয় না। যদিও রাণী ভবানী মীরকাশিমের কাছে যে লাঞ্চন। ও অপমান ভোগ করেছেন তাতে তার পক্ষে বিপক্ষাচরণ কর। ত্বাভাবিক ছিল। কিন্ত তিনি তা করেন নাই কারণ খাভাবিক ভাবেই নবাবী আমলে কোন জমিদারের পক্ষে নবাবের বিরুদ্ধাচরণ করলে জমিদারী হারাবার সম্ভাবনা ছিল। তখন নবাবী খুশীতে জমিদারের থাক! বা না থাকা নির্ভর করত । চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তখনও ত্রিশ বছর দূরে । তাই সবদ্দিক দিয়ে বিবেচনা করলে এ দৃষ্টিকে উদ্ভট বিবেচনা কর! সঙ্গত। নবাব সিরাজদ্দৌলার অপটু শাসণে যে ষড়যন্ত্র গড়ে ওঠ] সম্ভব ছিল মীরকাশিমের সমস তা সম্ভব ছিল না। সিরাজন্দৌলাব্র অধিকতম সময় কাটত হারেমে-_-মীরকাঁশিমের দরবারে । মীরকাশিমের পতনের গ্রয়োজন হয় ইংরেজ স্বার্থে । দেশের শাসন ক্ষমতা পেতে তার তখন কি পরিমাণ আগ্রহী “হয়েছিলেন্* তা যথাসময়ে আলোচন! কর। হবে। এই গর্ভাঙ্কের আলোচনার শেষে সংগত ভাবেই বলা চলে ষে জগৎশেঠদের নেতৃত্বে এমন গ্রকাস্ত বড়যন্ত্রের কোন সৃঘোগ মীরক?শিমের রাজত্ব কালে ছিল নাবাএ সম্পর্কে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় মাই । ভারতীয় পক্ষে বৃদ্ধ মীরজাফর এবং ৩১৬ বাংলা এরতিহাসিক নাট সমালোচন! তার সহৃদয় ম্হদ রাজা নন্দকুমার ছাড়া মীরকাশিমের বিরুদ্ধে আর কেউ প্রকাশ্ঠ ঘড়যন্ত্র করেছেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায় ন।। ইংরেজ মীরকাশিমকে সরিয়ে দেবার জন্ত যখন প্রস্তুত হল তখন একজন নবাব চাই। এই পোষা নবাব হতে মীরজাফর রাজী হলেন এবং মীরজাফর তার মন্ত্রণাদাতা রাজা নন্দকুমারের জন্য দেওয়ানীর পদ ইংরেজদের কাছ থেকে চেয়ে নিলেন। একাধারে ক্রুরতা এবং দাক্ষিণ্য দেখিয়ে মীরকাশিম শাসন ক্ষমতা এত তাড়াতাড়ি করায়ত্ত করেছিলেন ঘে করিৎকর্মা লোকছাড়! অন্টের পক্ষে তা করা অসম্ভব ছিল। তারা'র অংশ যে সম্পূর্ণ কষ্ট কল্পনা আগেও আলোচনা কর! হয়েছে। রাণী ভবানীর হ্ীরকাশিমকে লেখা পত্রগুলি পাঠ করলে এই ঘটনার অসম্ভাব্যতার প্রতি সন্দেছ থাকে না। এখানে আর একটি তুল গ্রণিধান- যোগ্য । ১৯০৬ খ্রীঠান্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমজমাট আওতায় বসে নাট্যকার নদীয়ারাঞ্জ কৃ্চচন্দ্র বা নাটোরের রাণী ভবানীকে সেই রকম ক্ষমতাঁশাঁলশী এক জমিদ্বার ভেবেছেন । এই ভূল অনেকেই করেছেন। রাণীর ক্ষমতা তথ বাংলার সব থেকে বড় আয়ের জমিদারের ক্ষমতা কতো! অল্প ছিল প্রমীণ হয়ে বায় যখন দেখি নবাব আলিবদীর আমলে ছু” বার ১৭৪১ ও ১৭) স্ত্ীষটাব্দে তার জমিদারী কেড়ে নেওয়| হয়েছে । রাণীকে মুশিদাবাদে এসে (প্রথমবার স্বামী রাক্ঞা রামকান্ত সহ) বনু রকম ভাবে বন্ধ ব্যক্তিকে নানা উপটোকন দ্দিয়ে এবং নবাবকে 'মধিক রাজস্ব দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভমিদ্ারীর অধিকার ফিরে পেতে হয়েছে । নবাব দিরাজবন্দোল! রাণী ভবানীর কন্তাকে জোর করে তার প্রমোদ ভবনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। বাণীর রাজস্ব দেবার প্রতিশ্রতি ভঙ্গ হওয়ায় নবাব মীরকাশিম রাণীর দেওয়ানকে মুজেরে ধরে নিয়ে এসে সামান্ত অপরাধীর মতো বেত্রাধাত করেন । এই সব ঘটনায় নবাবী আমলের জযিদার সম্পর্কে স্পঃ ধারনা হবে। সুতরাং “তারা”্র ঘটনা কাল্পনিক। এই সময় রাণীর মেয়ে, কারীতে বসবাস করছেন। সেখানে তিনি কি করছিলেন সেটা অস্ত ইতিহাস এই আলোচনার সঙ্গে কোনরকমে সংঙ্লি্ নয়। হিন্দু-মুর্সলমানের সাধারণ ভাবে মীরকাশিমের সঙ্গে কোন প্রত্যক্ষ বিপ্বোধ ছিল না বা বিরোধের অর্থনৈতিক কারণগুলি সহি হয়নি। কাজেই হিন্দু-মুসলমানে বিরোধ, মীরকাশিষ ৬৪৭ সম্পকিত উক্তি সম্পুর্ণ ভাবে ১৯০৬ এর মানসিকতার ফল এবং বঙ্ষগভঙ্গের পূর্ব- সুইর্তে হন্দু-সুসলষানের মধ্যে মিলনের সেতু রচনার প্রয়াস । ষষ্ঠ গর্ভাঙ্কে অমিয়েট ও ছের দৌত্য এ্রতিষ্থাসিক । ঘটনাতরঙ্গ লক্ষ্য করার মতো । গবর্নরের সঙ্গে নবাবী চুক্তি কাউন্সিল নামণ্রুর করে দিলেন ১৭৬৩ শ্রীষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারী মাসে । মীরকাশিম মার্চ মাঁসে গবর্ণরকে এক পত্র লিখে নবাবীতে ইন্তফা দেবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। কিন্ধ ইস্তফা! না দিয়ে ১৭ই মার্চ নবাব সমস্ত ব্যবসার দ্রব্য থেকে শুষ্ক তুলে নিলেন। বাংলার রাজন্ব তার ফলে অর্ধেক হয়ে গেল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ এপ্রিল মাসে কলকাতা থেকে পাটনাগাষধী ৬ থান! অন্তর বোঝাই নৌকা নবাৰ আটক করলেন । কলকাতা কাউীশ্ল যে কি পরিমাণ ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন বোঝা যায় যখন দেখি ১৪ই এপ্রিল তার] নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা অহমোদন করাবার চেষ্টা করেছেন। ভ্যান্সিট্রার্ট ও হেস্টিংসের গ্রচণ্ড বিবোধিত৷ না৷ থাকলে হয়তে৷ তথনি যুদ্ধ সুরু হত।৬৩ ১৫ই মে আমিয়েট ও হে নবাবের সঙ্গে মিটমাটের জন্য কলকাতা থেকে মুঙ্গের যাত্রা করেন । সুতরাং অমিয়েট ও হেব সাক্ষ্যাতকার কাউম্সিলের সংখ্যাগুরু সদস্যদের চরমপত্র বলে ধরে নেওয়া ওতে পারে । অমিয়েটের মুখে নবাবের সঙ্গে আলোচনায় নাট্যকার অনেক তর্জন গর্জন স্বষ্টি করেছেন--এট! হয়েছে ১৯০৬ এব সাম্রাজ্যবাদী ইংরেলের পরিকল্পনায়, ১৭৬৩ বর ইংরেজ, দেশের নবাবের সামনে গলা তোলবার সাহস রাখতেন না। অতি কঠিন কথাও ভদ্রতার খোঁলসে মুড়ে ধরলে নবাবকে অপমানের জন্ত “কোতল” হবার সম্ভাবনা ছিল। মীরকাঁশিম জানিয়েছেন যে বদ্ধমান মেদিনীপুর ও চট্টগ্রাম থেকে ইংরেজরা বাধিক ২৪ লক্ষ টাঁকা খাঁজনা পেতেন সুতরাং অমিয়েটের মুখে বগীর হাঙ্গামার ষে অজুহাত দেওয়া হয়েছে তা অচল। তাছাড়। পাপিপথের যুদ্ধের পর মারাঠা শক্তিও হতবল হয়ে গিয়েছিল। নবাবের সব থেকে বড় বন্তব/ গিরিশচন্দ্রের চোথ এড়িয়ে গেছে। নবাব বলেছেন এবং পরে লিখেছেন যে তিনি প্রত্যেক সন্ধির প্রতিটি ধারা, মেনে চলছেন কিন্ত ইত্রেজ কোন সন্ধির কোন ধারা মানছে না যথেচ্ছ ব্যবহার করছে । লক্ষণীয় যে অমিয়েট ও হের দৌত্যের ফলে নবাৰ ২২শে জুন, আটক নৌকাগুলি ছেড়ে ছ্িলেন। ছু” দিন পর অর্থাৎ নৌকাগুলি ছেড়ে দেয়! হয়েছে এই খবর পাবার পর এলি ২৪শে স্থুন পান! ৩৪৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন! আক্রমণ করলেন । হ্র্গ জয় করতে না পারলেও শহর অধিকার করলেন । এলিসের নবাবের প্রতি আন্মগা্ীনত| স্বরলাশিমকে ইংরেজের বিরুদ্ধে সব থেকে বেশী ক্রুদ্ধ করেছিল। একাধিক পত্রে মীরকাশিম গবর্ণরকে লিখেছেন পাটনা থেকে এলিনকে সরিয়ে সেই পদে হ্রেস্টিংস বা মারিয়ট বা অন্ত কোন স্থিতধী লোককে নিযুক্ত করতে । কাউন্সিল নবাবের সমস্ত অন্থরোধ উপেক্ষা করেছে । এইসব ঘটনাপ্ন নবাবের মনে এমন তিক্ততা স্ষট্ি হয়েছিল ঘে কলকাতাগামী অমিয়েটকে গতিরোধ করতে গিয়ে নবাবী বাহিনী তাকে হত্যা করতে পারে এ সম্ভাবনা তার মনে ঠাই পায় নাই। তাই তিনি হুকুম জারী করেছেন অমিয়েটকে মুঙ্গেরে ফিরিয়ে আনবার-_ জীবিত কি মুত বলেন নাই । নবাবী সৈম্তকে সশস্ত্র বাধা দিয়ে অমিয়েট নিজের মৃত্যুকে ত্বরাঁদ্িত করেছেন । গিরিশচন্দ্র এই গর্ভাঙ্কে দর্শকদের মনে ধারণা জল্মান যে ইংরেজের অন্যায় ব্যবহারে ও পাটনা দখলে এবং এলিস সাহেবের কীত্তিতে নবাব ক্ষুণ্ন হয়ে যুদ্ধার্থে প্রস্তুত হলেন। এই বক্তব্যকে মোটামুটি ভাবে এঁতিহাদিক বল! চলে । নবাব মীরকাশ্িম যুদ্ধার্থে প্রস্তত হুচ্ছিলেন দীর্ঘদিন ধরে । ইংরেজ ছাড়া আর কোন প্রতিপক্ষ ছিল না স্থতরাং ইংরেজের বিরুদ্ধাচারণের জন্যই তিনি প্রস্তত হচ্ছিলেন-_-তবে ত্বার মনে এই ধারণ ছিল যে গবর্ণর ও হেস্টিংদ সাহেব সম্ভবত সন্ধির সুত্র খুঁজে বার করবেন। এলিসের পাটনা আক্রমণে ও দখলে সে সম্তাবনা লুপ্ত হল। তাই অমিয়েটকে আটক করার সোজা! কথাটা অমিয়েট হত্যায় রূপাভরিত হল। নাট্যকারের কল্পনা মতে। দেশপ্রেম যদি মীরকাশিমের চরিত্রের এক দিক হত তাহলে তাঁর সফলতার সম্ভাবন! অনেক বেশী ছিল। জনসাধারণ ধনী ব! দবিদ্র-_-নবাবের সঙ্গে ইংরেজের এই বিরোধ শুধু দেখেছে পক্ষগ্রহণ করে নাই। নবাব বা কোম্পানী ছুইই তাদের কাছে সমান বিদ্দেশী | ৩) অতি নাটকীয় ভাবে তৃতীয় অঙ্থ সুক্ষ হল মুশিদাবাদে গঙাতীরে । অমিয়টকে সুঙ্গেরে ফিরে যাবার জন্ত নবাবী হুকুম এল কিন্তু তিনি ফিরতে অর্থীকার করলেন এবং নবাব সৈন্সর ওপর তার সিপাহীদের গুলি চালাবার হুকুম দ্িলেন। ফলে নবাব সৈন্তগণের সঙ্গে যুদ্ধে অমিয়েট নিহত হুলেন। দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে পাটনার যুদ্ধ দেখান হয়েছে । হুরগগ্রাকারে লালসিং অতিকষ্ঠে পানা দুর্গে ইংরেজ আক্রমণ বার বার প্রতিহত করছেন এমন সময় সমর মীরকাশিষ ৩৯৯ এসে গেল। ইংরেজরা পলায়ন করলেন। তথন মহম্মদ আমিনের পকামর্শে নবাবী সৈম্ত পাটনার ইংরে আক্রমণ করতে চলল । তৃতীয় গর্ভাক্কে গঙ্গাতীরে মাঞ্জীতে ইংরেজ রমণী শিশু ও বালক বালিক। সমেত পলায়নপর এলিস । ইতিমধ্যে সমরু এলে, এলিস অস্ত্র পরিত্যাগ করে আত্মসমর্পণ করলেন । চতুর্থ গর্ভাঙ্কে মুঙ্গেরে নবাবের অন্তঃপুরে নবাব ও তার বেগমের মধ্যে সংলাপে মীরকাশিমের চরিত্রের কলঙ্ক স্পষ্ট হয়-“নবাব, তোমার নিকট জানু পেতে আমার মিনতিঃ বে বিশ্বাসপাত্র, তারে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করো । যে অবিশ্বাসী সে চিরদিনই অবিশ্বাসী-তারে বর্জন করো |, (৩1৪ পাতা ৩২৩) তকি খ। এলে তাকে বেগম এক “ইরাণী তরবারি” দিয়ে বলছেন তুমি এই অস্ত্রে “নবাব-শক্র দমন কর? (৩/৪ পাতা ৩২৪ )। যুদ্ধে জয় কিংব] মৃত্য প্রতিজ্ঞা করে তকি খা ইংরেজের বিরুদ্ধে যুদ্ধার্থে চললেন। নবাব বেগমকে জানালেন যে মুর্শিদাবাদে ইংরেজের গতিরোধ করবার জন্ত তকি খাঁকে পাঠান হচ্ছে। পঞ্চম গর্ভীষ্ক অত্যন্ত স্থুরচিত । একাধিক দিনের ঘটনাকে একটি দৃষ্টে প্রকাশিত করা হয়েছে । নন্দকুমারের কুচক্রীরূপ গিরিশচন্দ্র বজায় রেখে প্রথমেই দেখাচ্ছেন যে নন্দকুমার নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজ-উম্মায় ইন্ধন যোগাচ্ছেন_-তাতে উৎসাহিত হয়ে ব্যাটসন, গবর্ণর ও হেস্টিংস উভয়ের পদত্যাগ দাবী করছেন এবং বিতণ্ডার স্থষ্টি হয়ে হেস্টিংস ও ব্যাটসন “পরস্পর ঘুসোখুসি, করছেন। হেস্টিংদ ব্যাটসনকে উুয়েলে ব| ঘন্দযুদ্ধে আহ্বান করছেন । এমন সময় অমিয়েট হত্যার থবর এল। ইংরেজ্গণ সব বিরোধ ভুলে ৬/৪1-৬/৪17৬/৪” বলে চিৎকার করে উঠলেন । ব্যাটসন ক্ষম৷ প্রার্থন৷ করলে হেস্টিংস তা গ্রহণ করলেন। সংকটের সময় ইংরেজ একাগ্রতার স্ন্দর ছবি এঁকেছেন নাট্যকার । ভ্যান্সিট্রাট সজে সঙ্গে ঘোষণ। করলেন যে কাউন্সিল মীরকাশিমকে নবাবী পদ থেকে খারিজ করলেন এবং মীরজাফরকে” নবাব ঘোষণা করা হল। সন্ধিপত্র স্বাঞ্ধবরের জন্য সদলে মীরজাফবু নিবাসে গ্রমন করলেন। নন্দকুমার ও মুনির সংলাপে কাউন্দিলের সমগ্র ঘটনার বিবরণ দেওয়] হয়েছে । ষ্ঠ গর্তাঙ্কে মুঙ্গের দরবারে নবাব বন্দী এলিস সাহেবের সঙ্গে তর্জন গর্জন* করছেন। নবাব ৰলছেন--তোমার ন্তাঁয় অনেকেই বন্দী হয়েছেন; আর ২৬ ৪০০ বাংলা প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ তোমার স্তায় হটকারিতায় অনেকেই প্রাণত্যাগ করেছেন । (৩/৬ পাতা- ৩২৭) এপিস সমানে বলছেন-_“একটা লড়াই নবাব জিতিয়াছ, তাই লহ্ব৷ লম্বা কথা কহিতেছ। ইংরাজ সাজিয়া আসক তথন বুঝিবে যে পাটনায় এক মুঠি ইংরাজ জিতে ৮/৪1 শেষ হয় নাই 1 .. .**আমি লড়াই করিয়াছি আমাকে দণ্ড দাও কিন্তু আর আর গোরালোক, মেমলোক, বাচ্চালোক তাদের কিছু বলিও না। '..লডাই হারিবে। ইংরাজ এই কথা মনে বাখিয়। তোমার প্রতি নরম ব্যবহার করিবে |” (৩/৬ পান্তা ৩২৭) পাটনা রক্ষার জন্য নবাব পাল সং ও মহম্মদ আমিনকে প্রখংসা করলেন । এালস ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বন্দী করে রাখার আদেশ হল। পাপাঁসং কাঁটোয়াতে মহম্মদ তকি খার সঙ্গে যুদ্ধ করতে যেতে চাইলে সে প্রার্থন। নবাব মঞ্জুর করপেন। মহম্মদ আমিনকে “"শবাবের শরীররক্ষক” নিযুক্ত করা হল। নবাব গুরগিণ খাঁকে কাটোয়াতে সৈম্ত প্রেরণ করব।র হুকুম দিলেন । নবাব বয়ন্য আলী ইব্রাহীম এদেশায়দের গোলাম হবার বাসনাকে ব্যঙ্গ করলেন। সগডম গতান্ক “মীব্রজাফরের চিৎপুরের দাওয়ানথানা” । সামসেরউন্দীন তার প্রভু মীরজাফর আর মাঁণবেগমকে বলছেন--কেন গর্দভের গর্ভ হব? নচেৎ কেন স্বদেশ বিক্রয় হচ্ছে, স্বজাতি বিক্রয় হচ্ছে, ধন-মান গোৌরব- এর বিক্রয় হচ্ছে, কলিকাতাধ বসে ইংরাজ এসমস্ত নিলাম কচ্ছে_এই ণৃতন ব্যবসায় কেন সহায় হব? বেগম সাহেব রু£ হবেন না-নবাব নামে আর নবাবী নাই, গোলামের হীন গোলামী। (৩/৭ পাতা ৩৩০ ) মণিবেগম এসব কথা উপেক্ষা করে জানালেন যে পোড়া বাড়ীতে যা পাওয়া! যায় তাই লাভ। তারপর কাউশ্মিলের সদন্তগণ এলেন। কার্নাক মীরজাফরকে নবাব ঘোষণা করলেন অন্ত সকলে অভিবাদন জানালেন। ভ্যান্সি্টাট সন্ধিপত্র পড়ে শোনাবার চেষ্টা করলেন কিন্তু মণিবেগম অধীর আগ্রহে চুক্তিপত্র গ্রহণ করে মীরজ্াফরকে দিয়ে দস্তথখত করালেন। আযাডামস্‌ মুশিদাবাদে যাবার জন্তে মীরজাফরকে প্রত্বত হতে বললেন। মণিবেগম কার্নাকের সঙ্গে য়ন করলেন যে থোজ। পিদ্রর সাহায্যে তার ভাই গুরগিণ খাঁকে ক্রয় করার চেষ্ট। করতে হবে। সাহেবগণ বিদায় নিলে মণিবেগম মীরঞ্াফরকে জানালেন যে তিনি এত কষ্ট স্বীকার করে মীরজাঁফরকে নবাব করলেন--স্ৃতরাং তার পুত্র মীরকাশিম ৪১ নজামদ্দৌলাকে যুবরাজ করতে হবে। নবাব স্বীকৃত হলে গুরগিণ খাকে বিশ্বাসহন্তারক করবার জন্ত বেগম প্রস্থান করলেন। সামসেরউদ্দিনের ভাষণ__ “কেউ অন্ন পাবে না, ছুঙিক্ষে সব মারা যাবে, বাঙ্গল! মরুভূমি হবে। প্রজার সর্ত থাকলে তো! নবাবী করবেন? ..'.'ইংরাঙ্জের বিনাশুক্কে বাণিজ্যে কেউ হু'বেলা অন্ত পাবে না ।”'-*"*বাঙ্গলায় কৃষি থাকবে না, শিল্পী থাকবে না, তন্তবায় নাম উঠে যাবে, বাণিজ্য লোকে তুপে যাবে, জনকতক লোকের পাসত্ব করে জীবিকা ননর্বাহ হবে, আর কোটি কোটি লোক,» বৎসর বৎসর ছুভিক্ষে প্রথণ দেবে । (৩/৭ পাতা ৩৩৩ )। অধম গর্ভাঙ্কে এুঙ্গেরে »শংশেঠের শয়নকক্ষে জগত্শেঠ মহাতপচান্, স্বরূপ- চাদ, রাজবললভ$ বামনারায়ণ ও কৃঝ্চচন্ত্রামলিত হয়ে আলোচন! করছেন যে পাটন| আবার হংরেজ হস্তগত হয়েছে । মীরজাফর আবার নবাব হয়েছেন এটাও এক মুখ্য সংবাদ। গুরগিণ খা বিশ্বাসঘাঁতকত1] করবেন কিনা তাই নয়ে আল্পনা হল। নবাবের চর সংবাদ নিয়ে গেল। জগতশেঠ জানালেন যে ইংরেক্দের দেবেন বলে পচিশ পক্ষ টাক! প্রস্তত করে রেখেছেন। নবম, দশম, একাদশ ও থাদশ গতান্কে কাটোয়ার যুদ্ধ বণিত হয়েছে। নবম গতাক্কেহ হায়বতুল্লা, আলম খ| ও জাফর খার বিশ্বাসঘাতকতা দেখান হয়েছে । লালাসং এব শত অন্থরোধ স্বতেও তার। তাক খার সাহায্যে আগিয়ে গেলেন না । তখন বাধ্য হয়ে পালনিং ঘোষণ। করলেন-_-“দারুণ ঈর্যাই ভারতের সর্বনশের কারণ!” (৩৭ পাতা ৩৩৫) তারপর নিজে একা তকি খার সাহাধ্যাথে অগ্রসপ্গ হলেন। পশম গর্ভাঙ্কে তকি খ| লালনিংকে ুদ্ধ অবস্থা বর্ণনা করলেন । বপলেন অন্ঠান্ত সৈন্যধ্যক্ষরা ধোগদদান করলে ইংরেজ সৈম্তকে তান পরাভূত করতে সক্ষম । হঠাৎ “তারা” প্রবেশ করে সকলকে যুদ্ধ করবার জন্য দেশের নামে ভতৎসাহ দিলেন। একাদশ গর্ভান্কে আ্যাডামস সাহেবের যুদ্ধোগ্যম ও ইংরেজ বাহিনী ও সেনাপতির নিয়মান্গ- তিতা, নবাবী তরফের বিশৃঙ্খল স্পষ্ট করার জন্যই দেখান হয়েছে। ভীত রায়হলভ তকি খাঁর পরাক্রমে বিহ্বগ। আযাভামসের ভাষণ_401) ০৪ 881199111০৬ 18৬9 011 019 ০0611899 1০ ০811 017 016 019105 ০ ০৪1 18980, ৮০ 081) ৬/০11 ৬/০910915, (৩/১১ পাতা ৩৩৬) দ্বাদশ গর্ভান্কে তকি খার মৃত্যু । মৃত্যুপথযাত্রী তকি খার সঙ্গে বঙ্গমাতা- ৪০২ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা বূপী তারার দীর্ঘ সংলাপ। অবশেষে--যাও» যাও, মাতৃবৎসল, স্বদেশবৎসল, ত্রাতৃবংসল যথায় বাস করে তথায় গমন করে! ! যাও-_যাও-_কীত্তিপুরে গমন করো, যথায় আত্মত্যাগী সপুত্র ভীমসিংহ, গোরা» বাদল, হামির বাস করে, যথায় বীরকেশরী রাণা প্রতাপ, শিবাজী, গুরুগোবিন্দ উচ্চাসনে প্রতিষ্ঠিত তথায় গমন করো | যথায় হিংস1, দ্বেষ, স্বার্থ বিদলিত, যথা কর্ম কর্মে পুরস্কত, যথা গৌরব চিরাঁশ্রিত, সেই শ্রখবর কপালোকিত মহা লোকে গমন করে! । বাঁও বৎস! এ দেখ মীরমদ্বন, মোহনলাল তোমার প্রতীক্ষায় দণ্ডায়মান” / ৩/১২ পাতা ৩৩৮ )। তারার সংলাপে বঙ্কিমচণ্দ তকি খাঁকে বিশ্বাসঘাতকরূপে চিত্রিত করে যে বীর অবমাননা করেছেন গিরিশচন্্র 'নুদে আসলে” সেই “অপরাধে'র প্রায়শ্চিত্ত করলেন। বীর তকি থার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তৃতীয় অঙ্ক অবসিত হল। আলোচনা ॥ ততীয় অঙ্কের কাল নিপ্ধারণ প্রথম ও দ্বাদশ গর্ভাঙ্কের ঘটনায় সহজ হয়েছে । ওরা জুলাই ১৭৬৩ খ্রীষ্টাব্দে অমিয়েটের হত্যার সঙ্গে সুরু হয়ে ১৯শে জুলাই এ বছর কাটোয়ার পরাজয় ও তকি খার মৃত্যুতে শেষ হয়েছে। এই অঙ্কের বিস্তার তাই মাত্র ১৭ দ্িন। এরই মাঝে ১০ই জুলাই মীরজা- ফরের সঙ্গে সন্থিপত্র স্বাক্ষর হয়েছে । গিরিশচন্দ্র কি সুন্দরভাবে ইতিহাস অন্সরণ করেছেন তা এই অগ্কে লক্ষ্য করবার মতে] | বিশেষ ্রতিহাসিক নাটক যার পিখবার ইচ্ছা করেন এই অঙ্কটি তাদের কাছে প্রণিধানযোগ্য। অমিয়েটের মৃত্যু বা হত্যা দৃশ্য দ্বিতীয় অঙ্কের শেষে সন্নিবেশিত না করে তৃতীয় অঙ্কের প্রথমে সম্মিবেশিত কর] গিরিশচন্দের মতো এক অতি প্রাজ্ঞ গ্রযোক্তকের পক্ষেই সম্ভব। হত্যার মধ্যে দিয়ে অঙ্ক সুক্ক কল্পে তকি খাঁর প্রাণ বিসর্জনে শেষ করায় সমস্ত অঙ্ক জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ইতিহাসকে 'বিরুত না করে ্রতিহা'্িক ঘটনার কাঠামোর মধ্যে যে কত সুন্দর নাট্য রচনা করা যায় এবং কল্পনাকে বিস্তার করে ইতিহাসকে যে কত চমৎকারভাবে প্রকাশ করা যায় গিরিশচন্দ্র এই অঙ্কে ত। দেখিয়েছেন । প্রথম গর্তীঙ্কে গঙ্গাতীরে অমিয়েট হত্যার কোন বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় ষীরকাশিম ৪০৩ ন|, নাট্যকার এমন চমৎকার ভাবে অমিয়েট হত্যার ঘটনাকে দেখিয়েছেন যে তাকে ইতিহাস পরিপন্থী বল! যার ন|। মৃত্যুর সময় মমিষেটের মুখে ভাষণ দেওয়া হয়েছে _-দেখো মুনলমান, ইংরাজ-রক্ত বাঙ্গলায় পড়িল, বাঙ্গল। বলিয়া যাইবে ।” (৩/১ পাত! ৩২০) আত্মন্তরী অমির়েটের মুখে এ উক্তি শানিয়েছে কারণ ইংরেজ রক্ত আগেও পড়েছে পরেও পড়েছে-_বাঙ্গল! পুড়ে ঘায় নাই। পাটন৷ ছুর্গ রক্ষায় লালসিংএর উদ্যম ও মহম্মদ আমিনের সাহস সিয়ার মুতাক্ষরীণ অবলম্বনে রচিত। সংলাপে নাট্য ঘটনার অপূর্ব পরিস্ফুটন হয়েছে। তৃতীয় গর্তাঙ্কে মাজী গঙ্গাতীরে মার্কার ও সমরুর বেড়াজালে এলিস সাহেব, তার সাঙ্গ পাঙগ এবং ইংরেজ শিশু রমনী ও বৃদ্ধদের ধর! পড়ে যাবার দৃশ্য দেখান হয় নাই। সমরুর হাতে শিশু নারীদল সহ এলিসের পরাজয় ও বন্দীত্ব বরণ দেখান হয়েছে । চতুর্থ গর্ভাক্কে মীরকাশিম ও বেগমের আলো- চনার মধ্যে দেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া চমৎকার ফুটে উঠেছে । মীর- কাশিম তকি খাকে যুদ্ধে পাঠালেন। এই ঘটনাটি কিছু প্রক্ষিপ্ত। মীর- কাশিমের চরিত্রের প্রধান দোষ ছিল অবিশ্বাস। তাই তকি খার উপর নির্ভর করলেও তাকে যুদ্ধ পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতা বিশ্বাস করে দিতে পারেন নাই । তার ফলে তকি খা একাই প্রাণপণে যুদ্ধ করলেন অন্তেরা সম্ভবত গুরগিণ খার আদেশে যুদ্ধ থেকে সরে থাকলেন। অন্তঃপুরে তকি খাকে নিয়ে এলে তাকে পুর্ণ ক্ষমতা দিয়ে বিশ্বাস না করতে পারা অসম্ভব মনে হয়। তাই নবাব অন্তঃপুরে তকি খা এলেন এটা না দেখালে ভাল হত। পঞ্চম গর্তাস্ক গিরিশচন্দ্রের মুন্পীয়ানার আর এক নিদর্শন । অনেক দিনের নানা ঘটনাকে একসঙ্গে একপ্িনের ঘটনারূপে প্রকাশিত হয়েছে । সদ। বিবদমান ভারতীয়দের সঙ্গে ইংরেজ চরিত্রের তফাৎ দেখাবার জন্যই হেষ্টিংস ও ব্যাটসনের বিবাদ এবং পরে ক্ষম! প্রার্থনা দেখান হয়েছে । বিপদের সময় ইংরেজরা ব্যক্তিগত বিছেষ তুলে যায় সম্ভবত এটাই নাট্যকার দেখাতে চেয়েছেন। দৃশ্ঠটি নাটকীয় বটে কিন্তু সত্য নয়। হেষ্টিংস ও ব্যাটসনে ঘুষোঘুধি হয় নাই । ১৭৬৩ গ্র্টাবের ৯ই জুনের কাউন্সিলের সভায় হেষ্টিংস দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে নবাব যদ্দি সন্ত্র পূর্ণ নৌকা ছেড়ে দেন তাহলে ইংরেজের তাঁকে অযথা ও অন্তায় ভাবে উত্যক্ত কর! উচিত হবে না। সেক্ষেত্রে অমিয়েট এবং ছে সাহেব নবাঙ্বরু সঙ্গে আলোচন! ধেন চালিয়ে যান এবং সন্ধির সর্তীবলী ছকে নিয়ে আসেন । ৪০৪ বাংল! উরতিহাসিক নাটক সমাঁলোচন। ব্যাটসন রাগে অন্ধ হয়ে আর স্থির থাকতে পারলেন না । হেষ্টিংসের মুখে চপেটাঘাত্ত করে তাকে ও গরর্পরকে “নবাবের ভাড়া করা দালাল” বলে গালি- গালাজ করেন। এই ঘটনার প্রায় একমাস পর অমিয়েট হত হলেন। হেষ্টিংসের মুখে রতিহাসিক ফ্যালেসনের বক্তব্য বসিয়ে গিরিশচন্দ এই এীতি- হাঁসিক ঘটনা সম্পর্কে চমৎকার মন্তব্য করেছেন। তবে ব্যাটসন ক্ষমা চান নাই আর হেষ্টিংসও ক্ষমা করেন নাই। হেষ্টিংস শেষ পর্যস্ত নবাবের সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন । বলেছেন--৬/17819৬917 108 076 6৬111 0 ৪ //87 ৬/16016 1959১, ৬/101) | 9. 11019 178/ 198 ৪৬/০10৪০, 89 | 186 6৬৪1 09018180 89081151911 11698501165 1181 186 1684 10 1. ৬৪ মীরজাফরকে নবাব করা৷ বিষয়ে সন্ধিপত্র রচনার সময় হেস্টিংস আবার বিরোধিতা করে বললেন _- 1 06901916 1/ 0155611 হি0ো। 106 10681 01000999 10 11591718991 810 01111 10179111119 19510181101) [0 119 10151110115 109 09 100111 817160 ৪ 11110, 07919 15 5৪ 17911- 1951 1110151106 810 170017919170 11 9১৪00179 115 0010101181708 ৬/019৬/ 91115." ৬৫. ৬ই জুলাই এর বিখ্যাত কাউশ্নিল সভায় মীর- কাশিমকে বরখাস্ত করা হল । এই সভাতেই মীরজাফরের কাতর ও সপির্বন্ধ অন্ররোধে নন্দকুমারকে স্তর দেওয়ান বা মন্ত্রী এবং মুওন্থদ্দী বা প্রাইভেট সেক্রেটারী হতে দিতে কাউন্সিল রাজী হলেন। নন্দকুমার প্রবন্ধে এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হবে। নন্দকুমার কলকাতায় নজরবন্ধী হয়ে ছিলেন। তার আগে তাকে কয়েদও করা হয়েছিল। এখন তাকে মুক্তি দেওয়া হল। কাউন্সিলের সভায় তাই নন্দকুমারের উপস্থিতি অসম্ভব । গরর্ণর ব| হেস্টিংস নদ্দকুমারকে অবিশ্বাস করতেন। অন্তেরা তাকে বিশ্বাস না করলেও তার কর্মক্ষমতাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে ইচ্ছুক ছিলেন। এই সব ক্রটি বাদে এই গর্তাঙ্কে নাট্য ঘটনা স্থুরচিত। ষ্ঠ গর্তাক্কে নবাব ও এলিসের আলোচনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক হলেও এই কল্পনার প্রসারে উতিহাসিক ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। সেদিক থেকে এ দৃপ্ঠ সার্থক । দালসিং ও মহম্মদ আঁমিন পাটনা দুর্গ ছেড়ে এসে তকি খাকে সাহায্য করেছেন এমন বিবরণ পাওয়া যায় না। তাদের পক্ষে পাটনা ছুর্গ ত্যাগ করে আস! অসম্ভব মনে হয়। নাটকের গতিবেগের জন্চেই এই কাল্পলিক ঘটনা যুক্ত হয়েছে। মীরকাঁশিম ৪৬৫ আলী ইব্রাহীমের সঙ্গে আলোচনাও কাল্লনিক। বস্তভত বন্ধুহীনতা মীরকাশিমের নবাবী জীবনের অন্ততম অভিশাপ এবং তার জন্য পূর্ণ দায়িত্ব তাঁর নিজের। স্থতরাং দেখ! যাচ্ছে গিরিশচন্দ্র ইতিহাসের সঙ্গে পা মিলিষে ন1 চলেও এঁতিহাসিক ঘটনাগুলি চমৎকারভাবে গ্রকীশ করেছেন । সাহেব চবিত্রগুলির সংলাপে গিরিশচন্দ্র তাদের ভেতরকার বিরোধ, স্বার্থ এবং চরিত্রের বিভিন্নতা সার্থকভাবেই প্রকাশ করেছেন বিশেষ গবর্ণর ভ্যান্দিটার্ট ও হেস্টিংস তাদের স্বমর্য্যাদায় প্রতিঠিত হয়েছেন । সপ্রম গর্ভীঙ্ক মীরজাফরেব চীৎপুরস্থ দাওয়ানথানায মণিবেগমের সংলাপে স্তর হযেছে । অতি 'আননিত বেগম বলছেন-_ “নবাব, নবাব আমার মনোবাগ্ধা পূর্ণ হয়েছে । আবাব তুমি সিংহাসনে বসবে, আবার হিন্দু- মুসলমান তোমায় নবাঁব বলে সেলাম করবে ।” মীরুভাফরের সঠিক বাসস্থান কোথায ছিল তা ১৯০৫ ব্রীষ্টাবে ব্লেচিনডেন সাহেব তার ক্যালকাটা পাস্ট এাণ্ড প্রসেণ্টএ দেখিয়েছেন। (08100116295 270 0165911-16 91901/1087)। এই গবেষণায় দেখান হয়েছে যে মীরজাফর কলকাতায় আসাব সামান্য কিছুদিন পরেই কলকাতাব দক্ষিণে একট। বাড়ী কিনে সেথানেই বসবাস সুরু করেন। দ্বিতীয়বার নবাব হবার পর +নজনাম অনুসারে মীরজাফর আলি খা সাহেব এই জায়গার নাম রাখলেন আলিপুর । আজ পর্য্যন্ত সেই নামই প্রচলিত আছে। কিছুকাল আগে যে ভগ্রপ্রায় বিরাট প্রাসাদ *'আলিপুরের নবাববাতী” নামে খ্যাত ছিল সেই বাভীতেই পলাতক ম্ীরজ্ঞাফর ও পবে নবাব মীরজাফর ও তার বংশধবগণ বসবাস করতেন। আলিপুর আজও আছে যদিও নবাব প্রাসাদ আর নাই। নাটক লেখার সময় গিরিশচন্দের পক্ষে এ তথ্য সম্ভবত জাঁন1 ছিল না তাই তিনি গ্রচলিত কথিক1 অন্যায়ী চিৎপুরের দাওয়ানখানা তার নাটকে ব্যবহার, করেছেন । নবাব বয়স্থর ব্যঙ্গ ক্রমে গম্ভীর কথায় রূপান্তারত হয তিমি বলেন_-ম্বদেশ বিক্রয় হচ্ছে, স্বঙজাতি বিক্রয় হচ্ছে, ধনমান গৌবব শবরধ্য বিক্রয় হচ্ছে-কলিকাতায় বসে ইংরাজ এ সমস্ত নিলাম কচ্ছে। বলাবাহুল্য এ সমস্তই ১৯৯৬ গ্রীষ্টাবের কথা । গিরিশচন্দ দর্শকের ইংরেঞ্জ বিরাগকে স্থকৌশলে ১৭৬৩ গ্র্টাব্বের ঘটনায় স্থানান্তরিত করেছেন। নাট্যকাত্ব হিসাবে এই কাবের যেমন ফোঁক্তিকতা পাওয়। যায় তেমনি ৪০৬ বাংল! তিহাসিক নাটক সমালোচনা নাটকের গুরুত্ব শতগুণ বুদ্ধি পায়। স্থপরিপত মনে গিরিশচন্দ্র সবদ্দিক বিবেচনা করেই নাটকের এই ধরণের সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় চেতন! ও তঘ্বদেশ বংসলতা প্রকাশ করেছেন । ১৯০৬ খ্রীষ্টাব্দের জ্ঞানযোগ ও কর্মযোগের আবহাওয়ার মধ্যে বসে তার পক্ষে কল্পনা করা অসম্ভব ছিল যে পরবর্তীকালের বিচার বিবেচনাহীন মূর্খেরা তার নাটককেই ইতিহাস মনে করবে। ইতিহাস পাঠ না করে নাটকে দেখা দৃশ্ঠ ও ঘটনাকেই ইতিহাস বলে স্বীকার করতে দ্বিধা করবে না। অলসতার প্রচণ্ড মোহে নাটক ইতিহাসের স্থানা- ধিকারী হয়ে দাড়াবে । “সিরাজদ্দৌলা” নাটকের ক্ষেত্রেও যেমন মীরকাশিমের বেলাতেও তেমনি বিভ্রম কৃষ্টি হবে। যাইহোক সপ্তম গর্ভাঙ্কে সাহেবর' তোপধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে এলেন এবং মীরজাফরকে নবাঁৰ বলে অভি- বাদন করলেন। এ দৃশ্টে মণিবেগম স্বভাবতই প্রধান চরিত্র । বদি এটিকে সন্ধি স্বাক্ষরের দ্িন বলে ধরা হয় তাহলে সময় ১০ই জুলাই । মণিবেগম কিন্ত মীরজাফরের জীবিতকালে অস্তঃপুরচারিণীই ছিলেন। মীর্গাফরের মৃত্যুর পর যখন নাবালক নাজা'মদ্দৌল[কে নবাব নির্বাচনের কথা হল তখনই মণিবেগমকে প্রথম রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে দ্রেখা যায়। প্রশ্ন তোলা হয়েছিল মণিবেগমের পুত্র নাজামন্দোল!, মীরঞজাফরের এরসজাত কিনা । এই দৃশ্যে ঘণিবেগম ও সাহেবদের আলোচনার মাধ্যমে সন্ধির সর্তগুলি দর্শকরা জানতে পারলেন। নাট্যকার দেখালেন যেন মাণবেগমের বুদ্ধিতেই খোঙ্গা পিক্রকে তার সহোদর গুরগিণ খাঁকে অর্থের লোভ দেখাবার কাজে লাগান হল। নাটকে যদিও দেখান হয়েছে যে নাজামন্দৌলাকে যুবরাজ করার স্বীকৃতি দিলে মণিবেগম তার অর্থের ঝাপির তাল! খুললেন প্রকৃত অবস্থা অন্ত রূপ। মীরজাফরের মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকার স্থির হয় এবং তখনই মণিবেগমের অর্থ ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। ইংরেজের কুশাসনের যে ভবিষ্তত্বাণী সামসেরের মুখে দেওয়! হয়েছে তা ১৯০৬ গ্রীষ্টাবে সত্য মনে হলেও ১৭৬৩তে সত্য ছিল না। ইংরেজ শাসন যে নবধুগের সুচনা করে লে বিষয়ে, সন্দেহ নাই। শিল্প বাণিজ্য গ্রভৃত উন্নতি 'লাভ করে। সামগ্রিক ভাবে দেশে স্থশাসন ও শৃঙ্খলা প্রতিহত হল। শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রসারলাভ করে। অষ্টম গর্ভাঙ্কে মুজেরে ক্ষগৎশেঠের শয়নকক্ষে জগৎশেঠ ভ্রাতৃতয়, রাঁজবল্পত মীরকাশিম ৪৪৭ রামনারায়ণ ও কৃষ্ণচন্দের আলোচনা! অলীক কল্পন! মাত্র । মহারাজা রুষ্ণচন্তর বন্দী হন নাই । অসন্ঠের1 অবশ্ঠ মুঙ্গেরে বন্দীজীবন যাপন করছেন কিন্ত তাদের মধ্যে আলাপ আলোচনার স্যোগ না থাকাই স্বাভাবিক । তাদের হত্যাকাণ্ডও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে .ও বিভিন্ন কারণে হয়। দেশের সে সমযকার অবস্থা এবং মীরকাশিমের বিরোধী পক্ষীয়দের বক্তব্য এই দৃশ্ঠ মাধ্যমে স্বষু ভাবেই প্রকাশিত হয়েছে । যদিও ডগৎশেঠ মীরকাঁশিমের পতনে অর্থ বা বুদ্ধি দিয়েছিলেন এমন কোন প্রমাণ নাই । মীরকাশিম তাদের অবিশ্বাস করতেন ও সন্দেহের চোখে দেখতেন তাই প্রথম স্থযোগেই তাদের বন্দী করেন এবং হত্যা করেন । এই অবস্থায় জগৎশেঠ ২৫ লক্ষ টাক দিয়ে ইংরেজকে সাহায্য করবেন এটা একান্ত অবিশ্বাস্য ঘটনণ। নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ গর্ভাঙ্কে কাটোয়ার যুদ্ধের বর্ণনা ও তকি খার যুদ্ধে নিহত হওয়া দেখান হয়েছে। দৃশ্ঠগুলি স্থুরচিত এবং ছুই পক্ষের আচরণ সুন্দর ভাবেই প্রকাশিত হয়েছে । এই চার দৃশ্য রচনায় গিরিশচন্দ্র পরিপূর্ণভাবে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র মীরকাঁসিম প্রবন্ধের অষ্টাদশ পরিচ্ছদ “কাটোয়ার যুদ্ধ দ্বারা অন্ধপ্রাণিত হযেছেন। নাটকীয়তার জন্যই পাটন! দুর্গের লালসিংকে কাঁটোযায় দেখা গেছে । এই সময় লালসিং পাটনাছূর্গ বক্ষায় নিযুক্ত ছিলেন। কাটোয়ার যুদ্ধের ঘটনাবলী চমৎকার নাটকীয়তায় প্রকাশিত হয়েছে একমাত্র তারাস্থন্দরীর যুদ্ধক্ষেত্রে বিচরণ ছাড়া ইতিহাস মোটামুটি ভাবে অন্ুস্থত হয়েছে । তকি খার বীরত্ব প্রকাশে এবং কাটোয়ার যুদ্ধকে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র ভাষায় হলদিঘাঁটের যুদ্ধের সমকক্ষতা দিতে নাট্যকার অশেষ যত্ব করেছেন। তাই কাঁটোয়ার যুদ্ধের চারটি দৃশ্য বাংলা ধ্রতিহাসিক নাটকের যুদ্ধ দৃশ্য বর্ণনায় শ্রেষ্ঠত্বের দাবী রাখে । দ্বাদশ গর্তান্কে মৃত্যুপথ্যাত্রী তকি খাকে “তারা” শিবঙ্গী গুরুগোবিদ্দ এবং বাপ প্রতাপের সঙ্গে তুলন।' করে উচ্চ সম্মানে ভূষিত করেছেন বটে কিন্তু সেটা অনৈতি- হাসিক 1, তকি খাঁ, কেবল তার বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন, সমগ্র নবাবী বাহিনীর অধ্যক্ষতা তার ছিল না। যুদ্ধ পরিকল্পনা রচনাতেও ভার কোন কৃতিত্ব নাই। তিনি ফেবল ব্যক্তিগত ধীরত্তবের দাবীদার । সুতরাং রাপা প্রতাপ অথবা শিবজীর সঙ্গে তার তৃলন! অসঙ্গত । এদ্দিক থেকে একমাত্র মীরঘদনের সঙ্গে তীর ভূলনা চলে । মোহ্দলাল পলাশীতে প্রাণ দেন নাই। ৪০৮ বাংলা ধ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা ৪॥ চতুর্থ অঙ্ক বিশ্বাসঘাতকতার প্রসঙ্গ দিয়ে সুরু, মুজেরের গঙাতীরে খোজ। পিদ্র তার ভাই ও নবাবের প্রধান সেনাপতি গুরগিণ খাঁকে অর্থের বিনিময়ে বিশ্বাসঘাতকতায় প্রলুব্ধ করছেন এবং মপিবেগমের উপঢৌকন এক বৃহৎ হীরক থণ্ড উপহার দিচ্ছেন । তিন লক্ষ টাকা! মূল্যের হীর| পেয়ে গুর- গিন খুবই খুশী হয়ে উঠলেন । এর পরই জগৎশেঠ প্রভৃতি গুরগিণ খাঁকে উদয়নালায় পরাজয়ের কারণ জিজ্ঞাসা করায় গুরগিণ খাঁ স্বীকার করলেন যে সৈম্তর! “নবাবের তরফ হয়ে লড়বে তো আপনাদের টাক] হামি খাচ্ছে কেন? (৪/১ পাতা ৩৩৯) অর্থাৎ গুরগিণ খা একদিকে জগৎশেঠ প্রভৃতির কাছ থেকে অন্ত দিকে খোজা পিজ্র মারফৎ মণিধ্গেমের কাছ থেকে অর্থগ্রহণ করে নবাবের প্রতি বিশ্বাসঘাতকত। করছেন । ইতিমধ্যে মীরকাশিম এসে জগৎ্শেঠদের গঙ্গাতীরে সমবেত হবার কারণ জিজ্ঞাসা করছেন । জগৎশেঠ প্রভৃতি সকলের বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় পেয়ে এবং সিরাজদ্দৌলার প্রতি এদের আচরণ স্মরণ করে মীরকাশিম বালুকাপূর্ণ বস্তা কণ্ঠলগ্ন করে এদের সকলকেই গঙ্গায় ডুবিয়ে মারবাধ আদেশ দ্রিলেন। “তারা” এসে উদয়নালায় নবাবের পরাভ্য়ের কারণ বিশ্লেষণ করে বললেন "যদ্দি উদয়- নালায় সমস্ত সামন্ত একতায় চালিত হত, যদি পরস্পর পরম্পরকে উপেক্ষা করে অসতর্ক ভাবে অবস্থান না করতো» তাহলে একজন নবাব পক্ষীয় ইংরাঞ্জ সৈন্যের বিশ্বাসঘাতকশায়, উদয়নালা শক্রর হস্তগত হত না-_পঞ্চদশ সহ নবাব সৈন্ত বিনাযুদ্ধে প্রাণত্যাগ করতো! না।' (৪/১ পাতা ৩৪১) নবাব তারার কথাঁতেও মনস্থির করতে পারছেন না। যুদ্ধে যোগদান করলেই মৃত্যুমুথে পদ্ভিত হবার ভয় হ্ন্দর ভাবে নাট্যকার প্রকাশ করেছেন । অন্যদিকে গুরগিণ খ| বিশ্বাসঘাতকতা! করার জন্ত প্রস্তত হচ্ছেন। নবাব আরাব আলির আন্গত্যে সন্তষ্ট হয়ে ভাকে মুলের দুর্গ রক্ষার* ভার অর্পণ করলেন। পরমুহুর্তে গুরগিণ খাকে লেখা! খোজা পিদ্রর পত্র নবাবের হাতে গড়ল। গুরগিন ওদিকে মণিবেগমকে তার রূপমুগ্ধ মনে করে কল্পন!র বজিন স্বপ্রে মশগুল 1 দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে মীরজাফর শিবিরে আমল, পিজ্র ও ঘণিবেগম ৷ মীরকাশিম পাছে ইংরেজ বন্দীদের হত্যা ফরে তাই আযাভামস মুলেক়ে আক্রমথ করতে ইতন্ততঃ রূরছেল। মণিবেগম তাকে উদ্,্ধ করছেন মীরকাশিম ৪০০ বলছেন গুরগিণ খা তার অর্থগ্রহণ করে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন সুতরাং বিনা ছিধায় মুঙ্গের আক্রমণ কর] উচিত । অবশেষে আাভামস মীরজাফরকে সঙ্গে নিয়ে যাবার পারকল্পনা করণেন। নবাব মীরজাফরকে নিয়ে এলেন ছেস্টিংস ও সামসেরউন্দীন । “তারা” মণিবেগমকে «বঙ্গরমনী+ বলে সম্বোধন করে তাকে রাজ্য লাল] ত্যাগ করে স্বদেশীকে পরাধীনতা থেকে রক্ষা করতে অনুরোধ করলেন । মণিবেগম বললেন যে তাঁর ব্যথ! সংসারত্যাগী ফকিরের পক্ষে জান সম্ভব নয়। মণিবেগম জানালেন, “তুমি স্বামী-পুত্রের হাত ধরে সিংহাসন হতে এনে পর-পদ-প্রান্থে স্কাপন করো নাই। যে স্বামী হীন নর্তকীকে বেগম পদে স্থাপন করেছিলো, রাঙ্য লোলুপ 'জামাতার সঙ্গে পরামর্শ করে, সে স্বামীকে পদ্চ্যুত করে] নাই ।” (৪/২ পাতা ৩৪৫ ) মণি- বেগমের তীর ভাষায় তারাও বিভ্রান্ত হলেন। বেগম বললেন--দারে ঘারে ভ্রমণ করো--যদ্দি একজন স্বার্থত্যাগী পাও» যদ্দি একজনকে বঙ্গভূমির জন্য কাতর দেখো, যদি এমন কাঁকেও দেখতে পাও যে আত্তোন্নতি পরিত্যাগ করে দেশের উন্নতির জন্ত ব্যাকুল তারে আমার কাছে নিয়ে এসো। যদি সত্যি কেউ এমন মহাপুরুষ থাকে, যদ্দি আমার হৃদয়ে প্রতীতি জন্মায়, যে সত্যই সে স্বার্থত্যাগী, সত্যই সে স্বদেশের উন্নতি কামন। করে, আমি সকল পালসা বর্জন করবো ।.*..*'পরাধীনতা ভিন্ন বক্তশ্োত নিবারণ হবে না। নচেৎ দিন দিন পিত| পুত্রের শক্র, ভ্রাতা ভ্রাতার শত্র-__ আত্মীয় আত্মীয়ের শক্র পরস্পর পরস্পরের রুধির মোক্ষণ করবে ।--.""বাঙ্গলায় শাতিস্থাপনের জন্য, ঈশ্বর প্রেরিত ইংয়াজ উদয় হয়েছে ।” € ৬/২ পাতা ৩৪৬)। এই দৃশ্ঠের অন্যত্র দেখান হয়েছে যে “তারা” হেস্টিংসকে বলছেন__“সাহেব, তুমি না বাঙলার হূর্গতি দেখে, বাঞ্গলায় শাস্তিস্থাপন করবে প্রতিশ্রুত হয়ে- ছিলে ?-.... শাস্তির পরিবর্তে সমরানল প্রজলিত করেছ ।” (৪/২ পাতা৷ ৩৪৫) ইরেজ খা নামে এক চরিত্র ( একজন ইরাজ খা ছিলেন সিরাজদ্দৌলার শ্বশুর । ইনি কে?) “তাক়া”কে বন্দী করার প্রস্তাব করলে তারা প্রস্থান করছেন। হেস্টিংস জানাচ্ছেন-+5179 100110118৬9 10991710011) 11 60110198. (8/২ পাতা ৩৪৬ )। " রে তৃতীয় গর্ভাক্ষে গুরগিণ খা মণিখেগমের ছৰি দেখে মুগ্ধ হয়ে তার প্রেমে পড়ে গেছেন তাই গুগুাতকদের বাধা দেবার চেষ্টাও কয়লেন মা, তাদের হার! ৪১০ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা থগ্ডিত হলেন। ঘাতকরা জানালেন--“যে তবীখা| তোমার কৌশলে শত্র যুদ্ধে হত হয়েছেন_-আঁমরা তার শিক্ষায় নিমক হালাল” (৪/৩ পাতা ৩৪৭ ) চতুর্থ গর্তাক্কের স্ুরুতেই আলী ইব্রাহীম জানালেন যে আবরাব আলী খ| মুঙ্গের দুর্গ ইংরেজদের হাতে সমর্পণ করেছেন এবং লালসিং মুমুধু অবস্থায় বন্দী। ক্রমান্য় পরাজয়ে বিভ্রান্ত ও ক্ষিপ্ত নবাব সমরুকে ডেকে সমস্ত ইংরেজ বন্দীদের হত্যার আদেশ দ্দিলেন। আলী ইব্রাহীম ঘোর প্রতিবাদ করলেন। মীরকাশিম বললেন__“আমার জয় আশা বিলুপ্ত । কিন্তু নিবিরোধী প্রজার পক্ষে কেবল আমি" ** তাদ্দের হযে আমি প্রতিহিংসা গ্রহণ করবো । কলঙ্ক হবে-হোক্। নিরীহ প্রজার প্রতিহিংসা তৃপ্ত হবে” (৪8/৪ পাতা ৩৪৮)। পঞ্চম গর্তাঙ্কে মীরকাশিমের বেগম ইংরেজবন্দীদের প্রাণ ভিক্ষা চাইলেন। বহু সংলাপের পর বেগমের প্রতিও মীরকাশিম রুষ্ট হলেন। “ইংরাজ বন্দীর প্রতি তোমার যে মমতা সে মমতা তোমার গ্রজার প্রতি নাই, তোমার স্বামীর প্রতি নাই--তোমাব মমতা তোমার স্বামীর শক্রর প্রতি। তুমি আমার অবাধ্য হয়ো ন৷ রোটাসে যাঁও__নচেৎ শৃঙ্খলা বন্ধ করে তোমায় তথায় প্রেরণ করবো । আর আমি সে মীরকাসিম নই |” (8/৫ পাতা ৩৪৯) বেগম অবশেষে মহম্মদ ইসাথের করুণায় ছদ্মবেশে নবাবের কাছেই ভৃত্য হয়ে থাকলেন । ষষ্ঠ গর্ভাঙ্কে নবাব সমরুকে বালক ও স্ত্রীলোকদের বধ করাব জন্য ভৎসনা করছেন । এই সময়ে নবাব জানাচ্ছেন _গণ্যমাণ্য বৃদ্ধ জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্ধয়কে বধ করেছি, রাজা রামনারায়ণকে বধ করেছি, ইংরেজ স্থাপক কৃঞ্চদাসের পিতা-বর্াজা রাভ্বল্লভকে বধ করেছি - গুরগিণকে বধ করোছ ॥ (5/৬ পাতা ৩৫০ ) একমাত্র জীবিত ইংরেজ বন্দী ডাক্তার ফুলার- টনের সঙ্গে মীরকাঁশিমের অবশেষে দীর্ঘ সংলাপ । ফুলারটন জানালেন যে বন্দীদের হত্যার ফলে ইংরেজের সঙ্গে মীরকাশিমের সন্ধির সমস্ত সম্ভাবনা অন্তহিত হল। ফুলাব্রটন দেশের মধ্যেকার চরম অরাজকতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে হিন্দুমুসলমানে বিদ্বেষ এবং বড়লোক ও গরীবের মধ্যে প্রচণ্ড পার্থক্য ইংরেজের জয়ে সাহায্য করছে। তিনি প্রস্থান করবার আগে জানা- লেন যে নবাব বিশ্বাস ধেমন দিতে পারেন নাই তেমনি নিজেও অবিশ্বাসী হয়েছেন। তার পতন অবশ্যস্তাবী। ফুলারটন চলে গেলে নবাব আলী ইত্রাহীমকে জানালেন যে তিনি তাকেঞ্জ বিশ্বাম করেন নাঁ। অবশেষে মীরকাশিম ৪১১ অধোধ্যার নবাবের শরণাপন্ন হতে স্থির করলেন মীরকাশিম ৷ ইব্রাহীমকে আদেশ করলেন “আজই সসৈম্ঠে রোটাস দুর্গ হতে ধনরত্ব ও পরিবারবর্গ লয়ে গুজাউদ্দোলার রাজ্যাভিমুথে গমন কর” (8/৬ পাতা ৩৫৩ )। সপ্তম গর্ভাঙ্কে কলিকাতা ভ্যান্সিট্রাটের কক্ষ। ইংরেজ বন্দী হত্যার থবর পেয়ে গবর্ণর, হেস্টিংস ও কাউন্নিলরগণ 965799+ 179/9799” বলে চিৎকার করলেন । গবর্ণর মীরকাশিম ও সমরুকে ধরে দেবার জন্ত লক্ষ টাক। পুরস্কার ঘোষণা! করলেন । কেল্লা থেকে 1৬০04171793-9017” ছোডবার নিদ্দেশ দেওয়া হল। সকল নেটিভ কর্মচারীদের নগ্রপদে থাকার আদেশ জারী হল। গঙ্জগাগোবিন্ববাবু নামে এক কর্মচারী ভুত] পরে আসায় তিরস্কৃত হলেন। চৌদ্দদিন অশৌচ পালনের নির্দেশ দেওয়া হল। অষ্টম গর্ভাঙ্কে প্রান্তরে আলী ইন্বাহীম ও বালকরূগী বেগম । অদ্ভুত রাজ- নীতিজ্ঞান পোষাক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বেগমের মধ্যে প্রকাশ পেতে দেখ! যাচ্ছে। তিনি জানাচ্ছেন যে দিল্লীর শাহজাদ। বর্তমানে মীরকাশিমকে সাহায্য করতে প্রতিশ্রীতিবদ্ধ হলেও তার আসল লক্ষ্য ইংরেজ সাহায্ো দিল্লীর হারান মসনদ ফিরে পাওয়। । ইংরেজরা বাদশাহকে সে গ্রতিশ্ররতি দিলে বাদশাহ মীরকাশিমকে ত্যাগ করবেন। তিনি জানালেন যে মুসলমান হলেও অযোধ্যার নবাব বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং একমাত্র ভরসাস্থল মহারাস্তীয়রা । তাঁরা দস্ধ্য বটে তথাপি তাদের হৃদয় এখনও কলঙ্কিত নয়+ (৪/৮ পাতা ৩৫৫ )। আলী ইব্রাহীম অবশ্য বালকের কথার গুরুত্ব দিলেন না। পরবর্তী ন্বম গর্ভাস্কে স্থজাউদ্দৌলার শিবিরে সুজাউদ্দোলা, মীরকাশিম ও শাহ আলম্‌ বক্সার যুদ্ধের জন্ত গ্রস্তত। এমন সময় “তারা” এসে সতর্কবানী শোনালেন “কপটতায় ভারতের সর্বনাশ হবে। স্বার্২-কপটতা পরিহার কর বীরকীণ্তি জগতে স্থাপিত করে! ।” (৪/৯ পাতা ৩৫৫) দিল্লীশ্বর শাহ আলম অযোধ্যাপতি সুজাউ- দলা ও বঙ্েশ্বর মীরকাশিম জয়ধ্বনীর মধ্যে যুদ্ধ যাত্রা করলেন। চতুর্থ অঙ্ক অবসিত হল। আঁলোচন। ॥ তৃতীয় অঙ্ক গিরিয়ার যুদ্ধে শেষ হয়েছে আর চতুথ অঙ্ক উধুয়ানালায় পরাজয়ের পর স্বর হয়েছে । ১৯শে জুলাই ১৭৬৩তে গিরিয়ার ৪১২ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা পরাজয়ের পরে ২৪শে জুলাই মীবজ্ঞাফরের দ্বিতীয়বার নবাবী আরম্ভ হল মুশিদাবাদে । আবার নন্দকুমার তীর প্রধানমন্ত্রী হলেন। আম্ষ্ঠানিক ভাবে এই দিন থেকে মীবকাশিম আব নবাব থাকলেন না। মাত্র কয়েকদিন পরে ২র! অগাষ্ট গিবিয়ার যুদ্ধে মীরকাশিমের সৈন্যাদল পরাজিত হল । বিরাট সমর সক্ষা ও ছুর্ভেগ্য ছুর্গ থাকা সত্বেও «ই সেপ্টেম্বর ভধুয়ানালার যুদ্ধে মীরকাশিম আবার পরজিত হলেন। গ্তরাং চতুর্থ অঙ্ক সরু হবার সময় ১৭৬৩ গ্রীষ্টাব্দেব সেপ্টেম্বর মাস। শেষ দুশ্যে নবাব স্থজাউদ্দৌলার আশ্রয় গ্রহণের দৃশ্ঠ দেখান হয়েছে ক্ষতরাং ওই বছরের ডিসেম্বর মাসের ঘটনা । এই অক্ষের বিস্তার তাই ১৭৬৩ খ্রীষ্টাবন্দের শেষ চাব মাস ধরা যেতে পারে। ক্রমান্বয়ে পরাজযে মীর- কাশিমেব মার্নসক বিপর্যয়ে ঘে নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে গিরিশচন্দ তার ্পুব সদ্যবহাব কবেছেন। সমগ্র অঞ্কটি অতি উত্তেজনাপূর্ণ । নাটকের গতি অতি ক্রত। গুরগিণ খার বিশ্বামঘাতকতা সম্পকে নাট্যকার স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন । অর্থ ও রূপের মোহকে এই কশতির নিয়ামক বলা হয়েছে । খোজা পিদ্রুকে ইংরেজেরা তথ। মীরগাফর ব্যবহাব করেছিলেন তার ভাই গুরগিণের সঙ্গে বোঝাঁপডা করতে । ছুই ভাইএ দেখ। হয়েছিল গুপ্তলাবে । থোজা পিদ্র গুরাগিণকে পত্র লিখেছিলেন লোভ দেখিয়ে এবং ত1 নবাবের হাতে পড়েছিল এ সবই সত্য ঘটনা । কিন্তু গুরগিণের বিশ্বাসঘাতকতার কোন স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় নাই। বারবার যুদ্ধে পরাজয় হবার ফলে মীরকাশিম গুরগিণ খার ওপর বিশ্বাস হারালেন তাবপর গুরগিণ যখন প্রস্তাব করলেন যে ুষ্ট, প্রস্তুতির চন্য ইংরেজের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করা প্রয়োজন তখনই ক্রোধে ক্ষিপ্ত মীরকাশিম গুরাগণকে বিশ্বাসঘাতক বলে ভূল করলেন। খোকা পিক্রর পত্র নবাবের হাতে এলে তার সন্দেহ বিশ্বাসে পরিণত হল-_তিনি তখন গুরগিণকে গুপ্রুহত্যার আদেশ দীলেন। খোজা পিজ্রর ভাইকে লেখা চিঠি জাল হওয়া সম্ভব। কারণ বিশ্বাসঘাতকতা করলে কি কি পুরস্কার পাওয়া যাবে তা চিঠিতে লিখে পাঠান খুবই অসম্ভব মনে হয়। বঙ্কিমচ্্ গুরগিণকে বিশ্বাসঘাতক রূপেই চিত্রিত করেছেন। গিরিশচন্দ্র তাকে অনুসরণ করেছেন। এ বিষয়ে প্রমাণের অভাবে খ্রতিহাসিকগণ নীরবতা অবলম্বন করেছেন। কোন কোন আধুনিক এঁতিহা সক গুরগিণকে নিরপরাধ মীরফাশিষ ৪১৩ সাবান্ত করেছেন এবং ষীরকাশিমকে অব্যবস্থচিত্ততায় বন্ধু হত্যার পাপে কলঙ্কিত করেছেন। এ বিষয়ে আলোচনাকে ব্যাপ্ত না করেও একটি অনৈতিহাসিকতা লক্ষণীয়। গুরগিণ থা নাটক অনুসারে মুেরে সেপেট্বর মাসে নিহত হলেন । কিন্তু ঘটনার বিশ্তার ভিন্ন। মেজর আাডামসের মুঙ্গের আসার খবর পেয়ে মীরকাশিম সসৈন্যে মু্গেব তাগ করে পাটনা চলে গেলেন অক্টোবরের স্থরুতে । শুরা অক্টোবর মুঙ্গেব দর্গ দখল করে আাডমস প'টনা অভিমুখে ধাবিত হযেছেন থবব পেষে ৫ই অক্টোবর মীরকাশিমের আদেশে পাটনাষ যুদ্ধবন্দীদের হত্যা করা হল । ১৪ই অক্টোবর মীরকাশিম পাঁটন| পরিত্যাগ কবে ফুলওযাবির দিকে পলায়ন করসে্ন। ( গবর্ণরকে (লখা ডাক্তার ফুলারটনের পত্র । ৬৪791091705 181718016 ৮০।. 111 0399 378) ১৫ই অক্টোবর আযাডামস পাটনা অভিমুখী যাত্রা করলেন। ১৮ই অক্টোবর “বার' নামে বিহারের এক গ্রামে মীরকাশিম ছাউনি ফেলেন। এখানে এ রাত্রেই গুরগিণ খা ও পরদিন জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্য়কে হত্যা করা হয়। (1109059 01 4999 590, এ] 11. 11009, 00 221-223 ) সহজেই প্রমাণ কর যায় যে মুঙ্গের থেকে পলায়নের সময় থেকে বারে পৌছান পর্য্যন্ত গুরগিণ খ! ও জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্বয় নবাবের সঙ্গে ছিলেন । জগৎশেঠরা বন্দী অবস্থায় ছিলেন কিন্তু গুরাঁগণ খা নবাবের সহ্ধাত্রী ছিলেন তাই গুপু- ঘাতক দিয়ে তার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করতে হয়। এই পবিস্থিতি দেখে সহজেহ মনে হয় যে একমাত্র নবাব ছাড়া গুরগিণ খা বিশ্বাসঘাতকত। করবেন একথা কেউ বিশ্বাস করতেন না। পাছে গুরগিণকে প্রকাশ্রভাবে হত্য। করলে সৈম্ভবাহিনীতে বিক্ষোভ হয় তাই গুপগুভাবে নবাব তাকে হত্যা করলেন। মুতাক্ষরীণ রচয়িত। জানিয়েছেন যে গুর্গিণ খার হত্যাকাণ্ডের পর মীরকাশিম আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশও করেছিলেন। কিন্তু সেই শোক প্রকাশে আস্তরিকতার এতই অভাব ছিল যে কারু বুঝতে কষ্ট হয় নাই যে কার আদেশে গুরগিণ খা নিহত হয়েছেন। এবার সন্ধান্ত ব্যক্তিদের নিহত হওয়ার বিষয় আলোচনা করা যাক। প্রথম গর্তান্কের ঘটনা অনুসরণ করলে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে নদীয়ার কুষ্ণচন্ত্রকেও মীরকাশিম জলে ডুবিয়ে হত্যা করেন ৷ অবশ্ত ষষ্ঠ গর্ভাঙ্কে গিরিশচন্দ্র এই ক্রটি সংশোধন করেছেন। মীরকাশিম যে সব গণ্যমাণ্য ৮১৪ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ ব্যক্তিদের হত্যা করেছেন বলে দাবী করছেন তার মধ্যে কঝ্চন্ত্রের নাম করেন নাই। গণ্যমাণা ব্যাক্তিদের হত্যাকাণ্ড ১৭৬৩ খ্রীষ্টাব্বের সপেম্বর মাসে মুঙ্গের পরিত্যাগের অব্যবহিত পূর্বে ঘটে। রাজা রামনারায়ণ ও রাক্তবল্পভ পুত্র কৃষ্দাস সহ হত হন। রাজা রামনারায়ণকে জলে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। ওইদিনই রাজা রাজবল্পভ ও কৃষ্ণদাসকে গুলি করে হত্যা করা হয়। (987991 39৬917019 00175001181010175 01 310 1৬19 1774) দীর্ঘদিন ধরে মনে কর! হত থে জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্বয়কে জলে ডুবিয়ে হত্য। করা হয়। কিংবদন্তি জগৎণেঠদের এক ভূত্যের অপূর্ব সাহসিকতার কথাও প্রচার করে। চুণীনামে এই তৃত্য স্বেচ্ছায় জলে ঝাপিয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করে। প্রভৃতক্তির এই আজগুবি গল্প জগৎশেঠ ভ্রাতৃদয়ের মৃত্যু কাছিনীকে বছুল প্রচারিত করে। এই শতাব্দীর স্ুরূতে এই বিষয়ে আলোকপাত হল এবং জানা গেল যে ১৮ই অক্টোবর “বারে” পোছে মীরকাশিমের আদেশে গুরগিণ খার হত্যাকাণ্ডের পরে শেঠ ভ্রাতৃদ্বয় নৃশংসভাবে দ্বিধপ্ডিত হন ॥ (1709852 ০7 49980 560) 00. 221 )। শেঠদের ছুই পুএ শেঠ গুলাব চাদ ও বাবু মহীর চাদ প্রথমে স্থজাউদ্দোলার কাছে ও পরে বাদশাহর কাছে প্রেরিত হয়ে বন্দী থাকেন । পরে ইংরেজর! তাদের উদ্ধার করে স্বজনবর্গের হাতে তাদের ফিরিয়ে দেন ।৬৬ বলা বাহুল্য যে গুরগিণ থ৷ সম্পর্কে এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হত্যা করা বিষয়ে গিরিশচন্দ্র সম্পূর্ণ ভাবে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র মীরকাসিম প্রবন্ধ অন্থসরণ করেছেন। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের মতামত এবং তুল তাই গিরিশচন্দের নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে । উধুয়ানালার যুদ্ধে যে মীরকাঁশিমের শক্তি প্রায় নিঃশেষিত হয়ে গেল একথা অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় স্বীকার করেন নাই ।৬৭ তিনি অবশ্ঠ স্বীকার করেছেন যে এই বুদ্ধেই মীরকাশিমের সর্বনাশ স্সম্পন্ন হয়। অক্ষয়কুমারকে অনুসরণ করে গিরিশচন্দ্রও উধুয়ানালার .যুদ্ধের নাটকীয় ঘটনাকে প্রকাশ করার প্রয়োজন অস্কভব করেন নাই। গিরিশচন্দ্র ফে সময়ে সময়ে প্রায় অন্ধভাবে অক্ষয়কুমার মেত্রেয় মহাশয়কে অহুসর করেছেন তার একটি মজার উদ্দাহরণ দেওয়া যাক। পাটনার হত্যাকাণ্ডের পর কলকাতার কউন্দসিল প্রস্তাব করলেন--1115 09191019 897990 9170 01019150 181 ৪ 90919191 09919 17100111109 510811 09 01059190 11) 0109 59101919171 দায়কাা উস 101 019 90809 010011581 0855 10 00171178108 11941 ৬/8910 ৮4৪৩৬ 165$৫8, 0119 210 198677081. 1181 09110110010 01 09 09 91811 069 991 90811 8170 0069. /৪০ 85 ৪ 10110110185 8170 11011118001) 8110 (18 17007180079 0৪ ৪8000101701 01৬61 10 06 01181918175 00 08 10169108190 ৬41 ৪ 91 701) 8101 10011711501 01891 56011801610 119 00208591017.৬৮ অক্ষর কুষার মৈত্র কৃত বঙ্গান্থবাদ__“সে মধ্যান্কে কেহ জলবিনদু স্পর্শ করিতেন না, সকলে সার়ংকালে ধর্মমন্দিরে সমবেত হইবেন; ছূর্গপ্রাকারে রণতরীতে, ভাগীরথীর তীরে সর্বত্র শোকস্থচক কামানধ্বনী হইবে । চতুর্দশ দিবস ইংসাজ মাত্রেই শোকচিহ ধারণ করিবেন ।”৬৯ বলাবাহুল্য অক্ষয়কুমারের অন্গবাদে নানা কাল্পনিক কথা প্রবেশ করেছে। গিরিশচন্দ্র তার নাটকের সপ্তম গর্ভাঙ্কে গবর্ণর ভ্যান্দিট্রার্টের মুখে ভাষণ দিয়েছেন__-“অগ্ক আমরা খানা খাইব না, একপক্ষ আমর! পাটনার্‌। হত্যাকাণ্ডের জন্ত শোকগ্রকাশ করিব-_কেন্পা হইতে 1011111719--0101) ছুড়িব, সারা শহরে কালানিশান উড়িবে |” (8/৭ পাতা ৩৫৩ ) সুতরাং এই উদাহরণ গিরিশচন্দ্র অক্ষয়কুমারের গ্রতি আঞ্গত্ অতি স্পভাবে প্রকাশ করছে। সাধারণভাবে চতুর্থ অঙ্ককে ইতিহাস অনুসারী বল! চলে। প্রথম গর্তাক্কে উধুয়ানালার পরাজস্বের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। তারপর দেখান হয়েছে থোজা পিক্র গুরগিণকে গ্রলুদ্ধ করছেন । গুরগিণ খার ষণিমাণিক্য গ্রহণ করার সম্ভাব্যত1 তিনি বিশ্বাসঘাতক কিনা তার ওপর নির্তর করে। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় অনুসারে গুরগিখ বিশ্বাসহত্। সৃতরাং এই দৃশ্ঠও সম্ভব । জগৎশেঠ ভ্বাতৃত্বয়। রাজা রামনারায়ণ, রাজা রাজবন্লত ও রাজ কষ্চোর মুজের গঙ্গাতীরে ভ্রমণ একাস্ত অসম্ভব ঘটনা!) কৃষ্চন্্র তখন ননীয়াতে এবং অন্তরা বন্দী । এই বন্দী অবস্থা থেকেই রাজা রামনারায়ণকে জলে ডুবিয়ে এবং রাজবক্লভ ও তার পুরে কৃক্তদাসকে গুন্যি করে হত্যা করা হয় । জগৎশেঃ আাতৃহয় প্রপজ. 'বি্তান্থিতভাখে আল্লোচদা (করা ছয়েছে। এ বিষয়ে গিরিগাটজ প্রচলিত কিংাকি ও অক্ষয়কুমারকে র্দরণ করেছেন। “রবীন ধা গড টার প্রকাপ। করে রা কলেবস তিনিই ৪১৬ বাংল। এ&ঁতিহাসিক নাটক সমালোচনা যায়। “তারা” চরিত্র কাল্পনিক তা আলোচন! কর] হয়েছে এখানে তার পুনরুক্তির প্রয়োজন নাই । তবে তারার সঙ্গে কথোপকথনে মীরকাশিমের যুদ্ধে মৃত্যুর ভয় নাট্যকার চমৎকার ভাবে প্রকাশ করেছেন। এই দৃশ্ঠের শেষে মীরকাশিমের পাটনাধাব্র1! একান্তভাবে ইতিহাস অনুসারী । দ্বিতীয় গর্তাঙ্ক কঞ্পিত ঘটনার সমষ্টি হলেও মেজর আযাডামসের মুের যাত্রা ইতিহাস সম্মত । মীরজাফর এসময় মুশিদাবাদে সৃতরাং মীরজাফর ও মণি- বেগমের পক্ষে আডামসের শিবিরে অবস্থান অথব! খোজা পিদ্রর সঙ্গে সংলাপ কাল্পনিক । হেষ্টিংস এসময় কলকাতায় স্থতরাং তার সঙ্গে তারার সংলাপ অসম্ভব । তারা ও মণিবেগমের কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে নাট্যকার ছুটি চরিত্রের বিপরীত ধর্মী মনোভাব সুন্দর ভাবে প্রকাশ করেছেন। এ সবই নাটকীয় ঘটনা এ্রঁতিহাসিক নয়। তবে এই দৃশ্ের কোন সংলাঁপে ইতি- হাসের বিরুদ্ধাচারণ কর! হয় নাই। তৃতীয় গর্ভাঙ্কে গুরগিণ খার হত্যা দৃশ্য কাল্পনিক হলেও অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রত ঘটনাক্রম অনুসারী । পরবতীঁকালে জানা গেছে যে গুরগিণ খা পাটনা ত্যাগ করবার পর নিহত হন। গিরিশচন্দ্র গুরগিণ খাঁকে আগাগোড়া বিশ্বাসঘাতক রূপেই চিত্রিত করেছেন। চতুর্থ ও পঞ্চম গর্তাঙ্কে ক্রোধে উন্মত্ত মীরকাশিমকে দেখা যাচ্ছে। নিরস্ত্র বন্দীদের হত্যায় তিনি রুত সংকল্প । আরাব আলীর মুের দুর্গ ইংরেজদের সমর্পণ এবং ক্রমান্বয়ে যুদ্ধে পরাজয় মীরকাঁশিমকে প্রতিহিংসাপরায়ণ করে তুলেছে । পাটনার ছুর্গে বসে মীরকাশিমের এই সংকল্প আলী ইব্রাহীম বাধা দেবার চেষ্টা করলেন। আলী ইব্রাহীম চরিত্রটিকে অক্ষয়কুমার অনুসরণে গিরিশচন্দ্র চমতকার ভাবে ব্যবহার করেছেন। হতসর্বন্ব নবাবের একমাত্র বন্ধু ও হিতৈষীরূপে তার চরিত্র ফুটে উঠেছে। বন্দী হত্যার জঘন্ত কাজে মীরকাশিমের পক্ষে কিছু সহানুভূতি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন নাট্যকার । বলেছেন প্রজাদের প্রতি ইংরেজদের অত্যাচারের প্রতিশোধ নিয়েছেন মীরকাশিম। মুতাক্ষরীণ কিন্ত এই মত সমর্থন করেন না। স্প্ লিখেছেন যে যুদ্ধের সময় ইংরেজসৈন্ত জনসাধারণের ওপর এতটুকু অত্যাচায় করে নাই । বরঞ্চ নবাব সৈন্তের চলার পথ লুঠের আগুনে প্রজ্বলিত থাকত । « জনসাধার« তাই ইংরেজের বিজয় কামনা করেছে । ১৭৬৩ থ্রীগ্রাব্দে যে মনোভাব ছিল ১৯০৬ গ্রতাবে তা সম্পূর্ণ বদলে গেছে । তখন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে জনসাধারণের মীরকাশিম ৪১৭ মন বিক্ষুৰ। জনসাধারণ তথন শ্বাদেশিকতায় মেতে উঠেছে। তাই মীর- কাশিমের মুখে নাট্যকার সংলাপ দিয়েছেন_-“হতভাগ্য আমি, হতভাগ্য বঙ্গভূমি, হতভাগ্য দীন প্রজাগণে ! দেখ দেখ কঠিন নয়নে, অগ্যাপিও নহে শুষ্ক বারি! কাহার মমতা_কার হেতু এই কোমলতা-_পাবাণ, পাষাণ আমি!” (৪/৪ পাতা ৩৪৭ )। বন্দীহত্যার নাটকের দর্শক মীরকাশিমের ওপর বিরূপ হওয়া দূরে থাকুক তাকে সমর্থন করেছে। নিরন্্ ইংরেজ বন্দীদের হত্যায় তারা শতাব্দী অধিককালের ইংরেজ শাসনে নিরন্ব ভারত- বাসীদের হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছে । মীরকাশিমের কর্মকে সমর্থন জানিয়েছে । গবর্ণর ভ্যান্দিষ্রার্টের বক্তব্য পাঠ করলে তাই আশ্চর্য হতে হয়। এই উদ্ারচেতা বৃটিশ রাজনৈতিক যে কতে। মহান ছিলেন বোঝা যায় বখন পর়ি-7179 1910109801 ৬/1101 11991 09551) 1089 1000016 01001 10017591110 016 01191 ৪9১81015901 07 018 01110810910 01191015 81 22018, [0049 1111 8. 11811191006 01 11 [00৬/91 10 00 1015009 10 [118 011781 [081 01115 00170010, 91708 1704 51010 50 8৬৪1 119 72 118৬6 8016160 10 115 81009091781715 ৬101 01961701151, 0115 ৬/।|| 81৬/8১5 16001 895 217 01001179171 00 ৬1170108189 2৬91৯ 17101 0019 1111 1091019 015 10891109907; 810 191098190 ৬1018010175 0 098 01 0817 109117 ৬/71151 49 ৬/919 017) 19115 01719105101) ৬৬101) 11117. ০170 ৬/9 ৬/919 176 11151 89007955015 10% 019 859811 01019 019 ০01 28018. ৬/|| 1700 109 019100090,,১11991 00551771180 1701 10 015 01719 5179৬/1. 21 1175091108 01 ৬1০005 018 ৬1019111 01500516101 ; 176 ০০৪1০ 170198 19১90 ৬/111) 017 801 01 01191 10 115 0৬/171 5011019005, 17017 01990119110 015. 119 180 99199 9170001 00 170৬4, 0181 1019 67911911 71981059110 /০90110 109 115 01981951 58০00112170 0 01690 011911 100/91 1 691 0119 5170410 00176 [0 199 115 91169117185. ...১.* 7£811917 85 1৬1991 5955) ৬/৪5 00 [115 5189 0 08510918001, 1015 1709 ৬/07091 0180115 19110091 01019 | 11510117191 185081115 8170 089৬9 ৪ 10059 170 016 50111 0118৬917939, 5০ ০0011701 81107051115 ০০101181210 11৬ 09108094109 09111911910) 8170 900/080101. (1 91790 016 11081- ৪১৮ বাংলা এতিহানিক নাটক সমালোচন। 080 185681711791] 01 811 06 111811185 ৬1101) 19 1780 81151911190 1) 00110010181 9১661001 01 10801817068 0011770 019 01166 98015 01115 00৬61111611, 0 (1115 01716 1001 81019 [00558351011 01115 10170, 170৬4 19119160 1810100৬115 178100151 010101%, 010 079 110110011 010910901081018 111 810 010৬৪ 110) 011681708 8৬৪1 00161 13107071019, 01 10185 9100150 15916 ৬01) 076 01000 ০1 ৪1 ৬৬101117115 18801 ৬/0 1180 910181 00170100190 [01015 1119101- 0017185010৮ 1981 01181701801 00718011015 ৬/101) 115 91911185 |0608118 010709১1005 10115 18৬8109.9 ভ্যাম্সি্রাট এই জঘন্ত হত্যাকাণ্ডের পরেও মীরকাশিমকে কটুক্তি করছেন ন। বরঞ্চ যে হুঃসহ জালা সহা করতে না পেরে মীরকাশিষ এই অপরাধ করলেন তাকে বিশ্লেষণ করছেন। কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ট দল যে এই অপরাধের আসল অংশীদার একথা স্বীকার করতে গবর্ণর ভ্যান্দিট্রার্ট দ্বিধা করেন নাই। তবু নিরন্তর নারী ও শিশু সহ বন্দী হত্য। অন্তায় তাই প্রথমে আলী ইব্রাহীম ও পরে বেগম মীরকাশিমকে বাধা দেবার চেষ্টা! করলেন । বেগম বাধ! দিতে গিয়ে লাঞ্চিত হলেন। ৪র্থও ৫ম এই ছুই গর্ভাঙ্কই কল্পিত। কিন্তু এমন সুষ্ঠ, নিয়মানগ কল্পনা সত্য ঘটনা বলেই বিভ্রম হয়। এই ছুইটি দৃশ্ত রচনায় গিরিশ- চন্দ্র যেন ইতিহাসের অলিখিত পাতাগুলি" দর্শকের সামনে মেলে ধরেছেন। কল্পনা বাস্তবের রূপ নিয়ে দেখা দিয়েছে । ইতিহাসের গণ্ডীর বাইরে না গিয়েও ষে কল্পনার বিস্তার করা সম্ভব এই দৃশ্ঠ ছুটি তার প্রকুষ্টতম উদ্দাহারণ। মীর- কাশিমের চরিত্রের দুর্বল মুহূর্ত এই দৃশ্ঠ ছটিতে চমৎকারভাবে প্রকাশিত । ভ্যান্সিট্রার্ট সাহেবের মীরকাশিম চবিত্র বিশ্লেষণ যেন মূর্ত হয়ে উঠেছে । বেগম সম্পর্কে ইতিহাস নীরব তাই মীরকাঁশিমের জীবনের চরমতম সময়ে বেগমের ব্যবহার উভয় চরিত্রকেই মহত্ব দিয়েছে। ষষ্ঠ গর্ভাঙ্কে বন্দীহত্যার পরবর্তী ঘটনা । নারী ও শিশুদের হত্যা করার জন্ত মীরকাশিম সমরুকে ভর্খসনা করছেন। নাট্যকার বলতে চেয়েছেন যে মীরকাশিম নারী ও শিশুদের হত্যার ভন্য দায়ী নন সমরুই দায়ী । বলাবাহুল্য মীব্রকাঁশিমের কলঙ্ক ব্থালনের অন্ত এই চেষ্টা করা হয়েছে । তবে একথা নিশ্চল বল! চলে যেনার্ী ও শিশু হত্যা সম্পর্কে মীরকাশিম কোন স্পট নির্দেশ ঘেন মীরকাশিম ৪১৯ নাই। ডাক্তার ফুলারটনের সঙ্গে মীরকাশিমের সংলাপ বহুলাংশে কলকাতায় লেখা ভাক্তার ফুলারটনের পত্র থেকে সংগৃহীত। ডাক্তার ফুলারটন লেখেন যে এলিস, হে ও লুমিংটন €ই অক্টোবর নৃশংস ভাবে প্রথমে নিহত হন। তারপর অন্ঠান্ত ইংরেজ বন্দীদের নারী শিশু নিবিশেষে বেপরোয়া ভাবে হত্য। কর হয়। দেই সময় গলষ্টোন নিহত হন। ৭ই অক্টোবর নবাব ডাক্তার ফুলারটনকে কলকাতায় যাবার জন্ত প্রস্তুত হতে বলেন। তাকে জানান ষে কয়েকটি যুদ্ধে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বলে ইংরেজরা যেন তাকে শক্তিহীন ন1]মনে করে। প্রয়োজন হলে তিনি দিল্লীর বাদশাহ, মারাঠা ও আব- দাল্লাদের (?) সাহায্যে ইংরেজদের এদেশ থেকে বিতাড়ন করবেন। পরে নবাব মত পালটে জান|লেন যে তিনি পাটনায় যথেচ্ছ ভ্রমণ করতে পারেন তবে যেন শহর ছেড়ে না চলে যান। ডাক্তার ফুলারটন ওলন্দাজ কুঠিতে ষাবার প্রার্থনা জানালে তা মঞ্জুর হয়। সেলটনের সাতজন ইংরেজ তখনও জীবিত । আলী ইব্রাহীম খ! বার বার নবাবের কাছে এদের জীবন ভিক্ষা করে বিফল হলেন। ১১ই অক্টোবর সমরু সেলটনের সাতজন সাহেবকে সপরিবারে ভত্যা করে। ইংরেজ সৈন্তর আগমন সংবারে বিচলিত হয়ে মীরকাশিম ১৪ই অক্টোবর শহর ছেড়ে ফুলওয়ারী অভিমুখে চলে যান। এ পর্যন্ত ওলন্দাজ কুঠিতে থেকে ২৫শে অক্টোবর ডাক্তার ফুলারটন কলকাতা অভিমুখে পলায়নে মনম্থ করেন । সেই দিনই রাক্তি ১১ টায় মেজর আডামস সসৈন্তে পাটনায় উপস্থিত হন।৭১ ডাক্তার ফুলারটনের পত্রে সহজেই বোঝ যায় যে আলো- চনার মনোভাব তখন মীরকাশিমের ছিল না। ৫ই অক্টোবর এবং পরে ১১ই অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড এবং আলী ইব্রাহীম খার বিফল আবেদনের কথা শুনে মীরকাশিমের প্রতিহিংসা পরায়ণ মনের পরিচয় পাওয়া যায়। ভয় ও অবিশ্বীস তার চিন্তাকে যে সম্পূর্ণ আচ্ছন্ন করেছিল সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। স্থতরাং এতিহাসিক দৃষ্টিতে এই দৃশ্ঠ অবাস্তব । তবে গিরিশচন্দ্র মীরকাশিমের ষে বীর চত্রিত্র জনসাধারণের সামনে অক্কিত করেছেন তাতে ভীত মীরকাশিমের ঠাই নাই ।* তাই আন্রী ইব্রাহীম থাকে অবিশ্বাসের মধ্যে দিয়ে নাট্যকার তার অপ্রক্তিস্থ মনের সাষান্ত পরিচয় দিয়েছেন মাত্র। ভ্যান্দিষ্রার্ট কি অপূর্ব বিশ্লেষপ করেছেন মীরকাপিমের বিধাংসার......70৬/ 19709150 1781700 / 11317800181 077010/ 870 (79 1191801 101099901 09019 1017, ৪২০ বাংলা এতিহাঁসিক নাটক সমালোচন। 8170 010৬9 101) 08709 9৬91৮ 0061 10111011019 01 11 01019011- 5811 ৮/101 076 01090 01 911 ৬/011) 115 16801. মীরকাশিমের চরিত্রের এই পরিণতি হয়ত খুব নাটকীয় হত কিন্তু ১৯০৬ খ্রীষ্টাব্দের দর্শক ধার! জাতীয়তাবাদশি স্বদেশ বসল প্রজারঞ্জক মীরকাশিমের জন্ত মনের ছুয়ার খুলে দিয়েছিলেন এই পরিণতিতে সন্ভট হতেন না। তাই জাতির শ্রেষ্ঠ নাট্যকার গিরিশচন্দ্র জাতীয়তাবাদের মহামস্ত্রে দেশকে উদ্বদ্ধ করার জন্ক মীরকাশিমের এই কলঙ্ককাহিনীকে হাক্কা করে দিয়ে অন্তায় করেন নাই । বস্তত যে কারণে এই নাটক বচন! মীরকাশিম চরিত্রের এই অনৈতিহাসিক প্রকাশে তা সফলতা লাভ করেছে । মীরকাশিম সসম্মানে দেশবরেণ্য নরপতি রূপেই প্রতিভাত হয়েছেন। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় মহাশয়ও মীরকাশিমের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমর্থন করতে পারেন নাই । তিনি লিখেছেন_-আমিয়েটের হত্যাকাণ্ডে সহসা যুদ্ধানল প্রজ্বলিত না হইলে, পাটনার হত্যাকাণ্ডে মীরকাশিমের নৃশংস স্বভাব পরিব্যক্ত না হইলে, ভ্যান্দিষ্ার্টের ্তায় শুভান্ুধ্যায়ী ইংরেজ গভর্ণরের কল্যাণে মীরকাশিমের সকল আশাই পূর্ণ হইতে পারিত।”৭২ গিরিশচন্দ নাটকের অনুরোধে এই দৃশ্তে অক্ষয়কুমারকেও লঙ্ঘন করেছেন। সপ্তম গর্ভাঙ্কে পাটনার থবরে কলকাতার ইংরেজ শিবিরের প্রতিক্রিয়। দেখান হয়েছে । এ দৃশ্য সম্পূর্ণ কাল্পনিক । কাউন্সিলের প্রস্তাবের ভূল অনুবাদ এই দৃশ্যের সংলাপে প্রকাশিত হয়েছে কি ভাবে ত| একটু আগেই আলোচনা করা হয়েছে । সেইদিন কেউ উপবাসী থাকেন নাই বরঞ্চ ২র| নভেম্বর উপবাসের সংকল্প ঘোষিত হয়। এই দিনই মীরকাঁশিমের মাথার দাম একলক্ষ টাক! ও সমরুর চল্লিশ হাজার টাকা ঘোষিত হয়। এই দৃশ্যে জনৈক গঙ্গাগোবিন্দবাবুকে দেখান হয়েছে । ইনি ঘদি স্ুবিখ্যাত গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ হন তাহলে তার উপস্থিতি কাল্পনিক গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ কমপক্ষে দশ বছর পর কোম্পানীর চাকুরীতে যোগদান করেন। তাকে এই দৃষশ্তে উপস্থিত কর। একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক । অষ্টম গর্ভাঙ্কে বালকরূপী বেগমের সহসা রাজনীতি জ্ঞান এবং আলী ুত্রানহীমের গজে সংলাপ সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এখানে কিন্ত একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় আলোচনা না করলে অন্যায় হবে। গিরিশচন্দ্র বেগমের মুখে ভাষণ দিয়েছেন যে হিন্দু হলেও মারাঠারাই প্রকৃত বন্ধু। এই উক্তি বিশেষ মীরকাশিম ৪২১ প্রণিধানযোগ্য কারণ রাজ্াচ্যুত মীরকাশিম জাঠ, রোহিল! ও মারাঠাদের সঙ্গে ক্রমান্বয়ে যোগাযোগ করেন ১৭৬৪ থেকে ১৭৭০ খ্রীষ্টাব্দ পর্য্যস্ত। ১৭৭৯ খ্রীষ্টাব্দে মারাঠা, শিখ, জাঠ ও মুসলমানদের এক সর্বভারতীয় বিশাল- বানী আলিগড়ে সন্মিলিত হল। ইংরেজ কোম্পানী এই বিরাট বাহিনীর মোকাবিলা করতে এলাহাবাদ পরিত্যাগ করে বাঁকীপুরে সৈম্ত সমাবেশ করল। এইখানেই এই পরিচ্ছেদ শেষ। যে মুহুর্তে সকলে বুঝলেন যে মীরকাশিষের ধনরত্বের গল্প মিথ্যা এবং এই সৈন্তবাহিনীর এক সপ্তাহের বেতন দেবার ক্ষমতাও তার নাই তখনই সকলে নিজ নিজ সৈন্তবাহিনী নিয়ে প্রস্থান করলেন। কিন্তু আশ্চর্যের কথা এই যে ১৯০৬ খ্রীষ্টাব্দে মীরকাঁশিমের সম্পর্কে এই খবর আবিষ্কৃত হয় নাই । গিরিশচন্দ্র সম্পূর্ণ কল্পনার ভিত্তিতে মারাঠা সা্কায্যের যে সংলাপ দিয়েছেন তা পরবত্তীকালের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আশ্চর্যাভাবে সত্য হয়ে উঠেছে। বক্সার যুদ্ধের পর মীরকাশিমের ভিখারীর মতো কপর্দিকশূন্ অবস্থায় মৃত্যুর খবরই প্রচলিত। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় তার প্রবন্ধে (প্রকাশকাল ১৯০৫ গ্রীঃ ) এবং তপনমোহন চট্টোপাধ্যায় ( পলাশীর পর বক্সার প্রকাশকাল ১৯৬৩ ক্র: ) তার পুস্তকে এই প্রচলিত কাহিনীই লিপিবদ্ধ করেছেন। বক্সার যুদ্ধের পর থেকে মীরকাশিমের আমৃত্যু কাহিনী অধ্যাপক নরেন্ত্রকঞ্ণ সিংহ প্রকাশ করেছেন ।৭৩ অভিনয়ের সময় এই দৃশ্যটি জিত হত। কাজেই গিরিশচন্ররের মণিষার এই অপরূপ পরিচয় জনসমক্ষে অপরিচিত হয়ে আছে । নবম গর্তাঙ্কে মীরকাশিমের স্বজাউন্দৌলার আশ্রয়লাভ এবং শাহাজাদার সঙ্গে যোগাযোগ দ্রেখান হয়েছে । মীরকাশিমের অর্থ ও মণিমাণিক্যেরু উপর শাহাজাদদার লোত প্রকাশ করা হয়েছে। মীরকাশিষের মণি- মাণিক্যের লোভেই যে শাহাজাদ ও সুজাউদ্দৌলা তার পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন ও পরে তাকে পীড়নও করেছিলেন এট] এখন সর্বজন স্বীরুত | এই দৃশ্ঠ ,নাটকীয় কিন্তু এরতিহাসিক নয়। বলা চপে অনেকদিনের অনেক ঘটনার সংক্ষিগুসার এই দৃশ্তঠে গ্রকাশিত। স্বচ্ছন্দ দৃশ্ঠাটিকে তাই ইতিহাস অনুসারী বলা চলে। তবে সব থেকে অনৈতিহাসিক বিষয় মেজর& আযডামসের পত্র । পানা জয়ের পরেই মেজর আযাডামস অনুস্থ হয়ে পড়েন এবং কলকাতায় ফিরে যান। নকৃন তীর জায়গায় সেনাপতি নিষুক্ত হন। ৪২২ বাংল! ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা ১৭৬৪ খ্রীষ্টাব্বের ১৬ই জানুয়ারী কলকাতাষ আযাভামসের মৃত্যু হয়। অল্প কিছুদিন পরে নক্সও মারা যান তখন জেনিংস এযাকটিং জেনারেল নিযুক্ত হলেন এবং পরে মেজর কারন্তাক ইংরেজবাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। স্থতরাং মেজর আডামসের পক্ষে ডিসেম্বরে পত্র দেওয়! একাস্ত অসম্ভব কারণ তিনি তখন কলকাতামুরখী। বাদশাহ ও মীরকাশিষের সকাশে “তারার প্রবেশ ও সাবধানবানী আর এক অসম্ভব ঘটনা । সর্বশেষ অসম্ভব ঘটনা ইংরেজ দূতকে ডেকে শ্রাহাজাদার ইংরেজ বিদ্বেষ প্রকাশ । আসলে শাভজাদা! সর্বদা ইংরেজের বন্ধুত্বই কামনা করতেন । এইখানেই চতুর্থ অঙ্কের সমাপ্তি । ৫ ॥ পঞ্চম অঙ্কের প্রথম গর্তাঙ্ক গান। সময় ও ক্রীড়াসজিনীগণ «আসমানে গান গাইছেন। দ্বিতীয় গর্তভাঙ্কে মীরজাফরের শিবিরে নবাব মীরজাফর, মণিবেগম ও মন্ত্রী নন্দকুমারের সঙ্গে আলোচনারত | মীরকাশিমের সাভায্যে অযোধ্যার নবাব ও দিল্লীর শাহাজাদ। আগিয়ে আসাতে মীরজাফর চিস্তিত। এই সংযোগ নই করার আবশ্যকতা অত্যন্ত জরুরী রূপ ধারণ করেছে। নন্দকুমার পরামর্শ দিচ্ছেন যে মীরকাশিমের কোষাধ্যক্ষ মীর সলিমানকে বশীভূত করে মীরকাশিমের সমন্ত গচ্ছিত ধন স্থুজাউদ্দৌলাকে পাইয়ে দেওয়া । এ বিষয়ে সুজাউদ্দৌলার লোকে জাগিয়ে দ্রিতে হবে । তাছাড়। মীরকাশিম সমরুকে স্ুজাউদ্দৌলাকে হত্যার আদেশ করেছিলেন একথা জানিয়ে দিয়ে তার সঙ্গে মীরকাশিমের বিরোধ ঘটাতে হবে। ইতিমধ্যে দূত এসে খবর দিল যে নন্দকুমারের আর এক বড়যন্ত্র সফল হয়েছে । শাহাজাদা! মীরজাফরকে বাংলা বিহার উড়িস্ঘার স্ববাদার বলে স্বীকার করেছেন। তিনি আসন্ন যুদ্ধে কোন পক্ষে যোগদান না করতে সিদ্ধান্ত করেছেন এবং সময় হলেই ইংরেজ আশ্রয় গ্রহণ করবেন। দূত আরও খবর এনেছে যে মীরকাশিম ও স্ুজাউদ্দোলার মধ্যে বিরোধের আভাষ পাওয়া! যাচ্ছে। মীরজাফর ও নন্দকুষার এই সব থবরে উৎফুল্ল হলেন। মণিরেগম জানালেন নন্দকুমার ইংরেজকে যুদ্ধে অগ্রর হতে সম্মত করুন। তিনি অর্থবলে যেমন মীরকাশিমের সেনানায়কদের বশীভূত করেছেন তেমনি নুজাউন্দৌলার সৈন্তদেরও বশীভূত করবেন । মীরকাশিমের কোষাধ্যক্ষ মীর সলিমানকে অর্থ দিয়ে বশীভূত করার অন্ত নন্দকুধারকে আদেশ দিলেন। ননা- মীরকাঁশিম ৪২৩ কুমার ক্রুটিহীন কাজের অঙ্গীকার করে মীরকাশিমের সর্বনাশ করতে চলে গেলেন । তৃতীয় গর্তাঙ্কে মীর সলিমান জানালেন যে অধিকাংশ ধনবুত্ব মহম্মদ ইশাখের কাছে । তবে তীর কাছে যা আছে তিনি তা সুজাউন্দৌলার হাতে তুলে দিতে রাজী হলেন । ইতিমধ্যে শাহাজাদ। স্বয়ং ছদ্মবেশে উপস্থিত হলেন । তিনি মীরজাফরকে দেওয়ানী সনন্দ দিতে এবং বকসারের যুদ্ধ থেকে দূরে সরে থাকতে রাজী হলেন। ইংরেজর। তাকে আবার দিল্লীর সিংহাসনে স্থাপন করবে এই আশ্বাসে তিনি তখন অত্যন্ত আনন্দিত | চতুর্থ গর্তাঙ্থে স্বজাউদ্দৌল1 ও সমক মীরকাশিমের সঙ্গে বিরোধ বাধিয়ে তার ধনরত্ব লুনের ষড়যন্ত্র করছেন। ইতিমধ্যে মীর সলিমান মীরকাশিমের ধনরত্ব স্থজাউন্দৌলাকে সমর্পণ করলেন । মীরকাশিম অভিযোগ করলে স্থজাউদ্দৌল] সে অভিযোগ কর্ণপাত করলেন না৷ উপরন্ত পাটনার যুদ্ধে সাহায্য না করার জন্য মীরকাশিমকে অভিযুক্ত কবলেন। সেনাবাহিনীর বেতন দেবার জন্যও মীরকাঁশিমকে তাগাদা দেওয়। হল। ক্ষু্ মনে মীরকাশিম প্রস্থান করলে সমরুকে মীরকাশিমের শিবির লুগটন করার আদেশ দেওয়া হল। রটনা কর! হু যে মীরক।শিম স্ুজাউদ্দৌোলাকে হত্যার সংকল্প করেছেন। পঞ্চম গর্ভাঙ্কে ফকিরবেশী মীবকাশিম অযোধ্য। তযাগে কৃতসংকল্প । অবশেষে আলী ইত্রাহীন- খর মধ্যস্থতায় স্থজাউন্দোলার সঙ্গে মীরকাঁশিমের মিলন হল। নবাবী পরিচ্ছদ ও মুকুটে মীরকাশিমকে সজ্জিত করে স্থজাউদ্দৌলা তাকে ধর্মভ্রাতা” বলে আলিঙ্গন করলেন। এই বন্ধুত্ব কপট বুঝেও মীরকাশিম বলছেন_-“আশ৷ নারি করিতে বর্জন, ইংরাজ বিঘবেষ অগ্নিসম জলে হদে। মীরজাফরের বন্ধু সামসেরউদ্দীন মীবকাশিমের বিরুদ্ধে ষড়ঘস্ত্রের প্রায়শ্চিত্ত করলেন সমুদয় সংবাদ আলী ইব্াহীম খাঁকে জানিয়ে । সমরু মীরকাশিমের শিবির আক্রমণ করবে একথা আলী ইব্রাহীম বিশ্বাস না করায় তাকে মীরকাশিমের শিবিরে প্রেরণ করলেন। ষষ্ঠ গর্ভাঙ্কে সুর শিবির আক্রমণ, আলী ইব্রাহীমের বাধা দেবার ব্যর্থ চেষ্টা এবং মীরকাশিমের বন্দী হওয়া দেখান হয়েছে। পটপরি- বর্তনে মীরকাশিম সমরুকে বলছেন যে তাকে তিনি যেরূপ বিশ্বাস করেছেন হ্বদেশীয়দের তেমন করেন নাই তাই যোগ্য প্রতিফল পেলেন। *সপ্তম গর্ভাক্কে আহত আলী ইব্রাহীম ও বালককধপী বেগম। বেগমের পরামর্শে আলী ৪২৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা ইব্রাহীম সমরুর সঙ্গে বন্দী মীরকাশিমকে মুক্ত করার এবং যুদ্ধের সময় সজাউ- দেোৌলার শিবির লুন করবার পরামর্শ করছেন। সমরুকে লুন্ধ করার জন্য আলী ইব্রাহীম বললেন যে মীরকাশিমের অর্িকাংশ ধনরতু মহম্মদ ইসাখের কাছে। স্থতরাং মীরকাশিম মুক্ত হলেই মহম্মদ ইসাথের কাছে যাবেন তখন, সমরু তার পশ্চাৎধাবন করে ইসাখের গুপরস্কানের সন্ধান পাবেন এবং ধনরতুও হস্তগত করছে পারবেন । স্বতরাং মীরকাশিমকে মুক্তি দেবার জন্ত স্জাউ- দেঁলাকে জানাতে হবে যে তার সৈন্তরা মীরকাশিম বন্দশ থাকলে যুদ্ধ করতে রাজী নয়। বালকরূপী বেগম এই থবর অযোধ্যার নবাবকে জানালে তিনি এসে খবর দিলেন যে মীরকাশিমকে তিনি মুক্তি দিয়েছেন আর একটা থঞ্জ হস্তী বাহন দিয়ে তাকে শিবির ত্যাগের অনুমতি দিয়েছেন । এইসব কথা শুনে আলী ইব্রাহীম স্থজাউদ্দৌলাকে প্রতারণার পরিণাম সম্পর্কে কিছু ভাষণ দিয়ে মুচ্ছিত হয়ে পড়লেন । স্জাউন্দৌল! এই ধামিক মুসলমানের শুশষার ব্যবস্থা! করলেন। অষ্টম গর্ভাঙ্ক বক্সার যুদ্ধের পরবর্তী ঘটনা । ফকিরবেণী মীরকাশিম বনপথে পালিয়ে যাচ্ছেন পেছনে চলেছেন বালকবেণী বেগম | নবম গর্তাঙ্কে বাদশাহ শাহ আলম ইংরেজ কোম্পানীকে বাংলা, বিহার, উড়িস্ার দেওয়ানী ও অযোধ্যার উজিরী প্রদান করতে মনস্থ করলেন । মেজর মন্রে! এই প্রস্তাব কলকাতায় লিথে পাঠাবার প্রতিশ্রতি দিলেন। মীরকাশিম সম্পর্কে মেজর মন্রো সাধুবাদ দিয়ে বললেন-_-“তিনি ইংরেজদের একজন উপযুক্ত শক্র।” এমন সময়ে “তার]” এসে শাহাজাদাকে ভারতের হুর্গতি দূর করতে না পারার জন্ত দোষারোপ করলেন । মন্রো ন্তায়বান ইংরেজ জাতির গুণ- গান করে খোজা পিদ্রকে সাবধান করে দিয়ে বললেন কেউ যেন এই মহান ফকিরণীর উপর অত্যাচার না করে তাহলে পার্পামেণ্টে তার ইমপিচমেণ্ট হবে। ৃ দশম গর্তাঙ্ক অত্যন্ত নাটকীয়। কুট রোগগ্রস্থ মীরজাফর ডাক্তার ফুলার- টনের চিকিৎসাধীন । মণিবেগম সতীদাধকীর মতো স্বামী সেবা করছেন। গভীর যন্ত্রণায় মীরজাফর বলছেন যে মণিবেগম যেন এই অভিশপ্ত সিংহাসনে তার বালক পুত্র নঞ্জামউদ্দৌলাকে উপবেশন না করান। করলে তার জীবনও বিষময় হবে। ডাক্তার ফুলারটন সেক্সগীয়রের ম্যাকবেথের ভাক্তাবের মতো মীরকাশিম ৪২৫ মন্তব্য করছেন-_ (111151)116916 01 511 1718 10901111919 0061701 9170 1819. একাদশ ও শেষ গর্ভাঙ্কে পর্ণকুটিরে বিকৃত মস্তিষ্ক ভূপতিত মীরকাশিম জাগ্রত স্বপ্নে বাঙ্গলায় রামনারায়ণ ও জগৎশেঠের ষডযন্ত্রকে প্রত্যক্ষ করে উত্তেজিত হচ্ছেন। এমন সময় "তাবরা” এসে স্থান! প্রদান করছেন । অবশেষে তারার উপস্থিতি উপলব্ধি করে মীরকাশিম হতভাগ্য জন্মভূমির জন্য বার বার ক্ষোভ প্রকাশ করে অবশেষে মুত্যুমুখে পতিত হলেন। তারপর বেগম এসে ত্বামীর মৃত্যুতে হাহুতাশ করে নিজেও মৃত্যুবরণ করলেন । কুটিরের মধ্যে একখানি ছিন্ন শাল পেয়ে 'তারা” সেইটি বিক্রয় করে সমাধির অর্থ সঞ্চয়ের সংকল্প ঘোষণা করলেন । এই দীন অবস্থায় মৃত্যু মীরকাশিম নাটকের সমাপ্তি ঘোষণ| করল। চরমতম দুঃখের মধ্যে "বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের? কাহিনী পরিসমাপ্ত হল। আলোচনা ॥ পঞ্চম অঙ্কের বিস্তার অতি দীর্ঘ । ১৭৬৪ গ্রীষ্টাব্ষের জানুয়ারী মাস থেকে ১৭৭৭ শ্রীষ্টাব্বের ৭ই জুন পর্যন্ত । পাটন৷ ত্যাগের পর থেকে মীরকাশিমের মৃত্যু পর্য্স্ত এই অঙ্কের প্রতিপাগ্য । মীরকাশিমের জীবনের শেষ দ্রিকে তার জীবনের গতি ভিন্ন পথ নিয়েছে । যুদ্ধের পর যুদ্ধে পরাজিত হয়ে যে ক্ষিপ্ত নবাব অসহায় বন্দীদের হত্যা করলেন, বকসারের যুদ্ধের পূর্ব মুহুর্তে স্বয়ং দিল্লীর বাদশাহ ও অযোধ্যার পরাক্রান্ত নবাব যাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন সেই লোকটি যেন হঠাৎ হারিয়ে গেল। মহাজোট, গজের ফাহ্ৃসের মতো উড়ে গেল। অযোধ্যার নবাব অর্থলোভে মীরকাশিমকে বন্দী করলেন । বাদশাহ দূরে পাড়িয়ে তামাসা! দেখলেন এবং শেষ পর্যযত্ত বকসারের যুদ্ধ হল সুজাউদ্দেলার সঙ্গে ইংরেজ কোম্পানীর । নাটকের নায়ক মীরকাশিম তখন আগ্রা! অভিমুখে পলাতক । চতুর্থ অন্ক পর্য্যস্ত নাটক একটা নির্দিষ্ট গতিপথে আগিয়ে গিয়েছে' পঞ্চম অঙ্কে কেন্দ্রচুত হয়ে ঘটনার ঘুণিতে বিভ্রান্ত হবার উপক্রম হয়েছে। এই অনুবিধা গিরিশচন্দ্র উপলব্ধি করেছেন এবং নাটাকব হাল শক্ত হাতে ধরবার চেষ্টা করেছেন । তবু অস্বীকার করা যায় না পঞ্চম অস্কে নাটক আদর্শচ্যুত । এই ক্রটির জন্ত গিরিশচন্দ্র যে একেবারেই দায়ী $২৬ বাংলা ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা নন একথা বলা বাহুপ্র্য। নায়কের চরিরব্রচ্যুতি নাটককে পানসে করেছে। মীরকাশিমের চন্নিত্রের এই ছুর্বলতা। নাট্যকার প্রাণপণে ঢাকা দেবার চেষ্ট করে ব্যর্থ হয়েছেন । ১৭৬৪ গ্রীষান্বের ঘটনা তরঙ্গ আর একবার অনুসরণ কর! যাক । ফেব্রুয়ারী মাসে সবজাউদ্দৌলা ইংরেজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন কবলেন। মার্চ মাসে মীরকাশিমকে সাহায্যের প্রতিশ্রতি দিলেন। এপ্রিল মাসেই মীরজাফর বাধষিক ২৮ লক্ষ টাক রাজম্বের বিনিময়ে বাংলার স্থবেদার নিযুক্ত হলেন। বাদশাহী পরোয়ানা উজীর স্বজাউন্দৌল! মাব্রফৎ জারী হল। আবাব ওই মাসেই স্জাউদ্দৌোল। ও বাদশাহব সঙ্গে মীরকাশিষের সন্ধি হল। ঘটনাক্রম ঘেকি রকম উল্টে পাণ্টে চলেছে তা সহজেই বোঝা যায়। মে মাসে স্থজাউন্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ বাহিনীর যুদ্ধ সবক হল। পাচ পাহারির যুদ্ধে মেজর কারন্তাকের হাতে মীরকাশিম, স্থজাউদ্দৌল1, বাদশাহ শাহ আলম ও তার কর্মচ'রী বেণী বাহাছুরের সম্মিলিত বাহিনীব পরাজষ ঘটল। সম্মিলিত জোটের সঙ্গে ইংরেজ বাহিনীর এটাই প্রথম ও শেষ যুদ্ধ । জুন মাসেই মীরজাফরের পত্র নিয়ে নন্দকুমারের চর স্জাউদ্দৌলার শিবিবে । সেপেম্বর পডতে না পড়তেই স্ুজাউদ্দৌল! মীরকাশিমকে বন্দী করলেন। গুপু- ধনের সন্ধানে প্রচুর পীডন করে ২১শে অক্টোবর তাকে মুক্তি দিলেন | মীর- কাশিম পলায়ন করলেন। পরদিন ২২শে অক্টোবর ছুই বাহিনীর অধিনায়কত। করলেন স্ুজাউদ্দৌলা । বকসার যুদ্ধে হল প্রচণ্ড পরাজয় । ৭ই জুন ১৭৭৭ খ্ষ্টাবে সাহজাহানাবাদে উদরী রোগে মীরকাশিমের মৃত্যু হয়। মোটামুটি এই ঘটনার উপর ভিত্তি করেই পঞ্চম অঙ্ক রচিত। £ই অঙ্ক রচনাতেও গিবিশচন্ত্র অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রচিত মীরকাসিম প্রবন্ধের ওপর নির্ভর করেছেন ফলে অক্ষয়কুমারের ভূলগুলিও প্রতিফলিত হয়েছে । একটি বড তল বাদশাহ শাহ আলমকে বার বার “সাজাদা' বা শ[হজাদ। বলে ভ্রম করা । অক্ষয়কুমার কোথাও বাদশাহ কোথাও শাহজাদ! লিখেছেন । গিরিশচন্দ্র কি হবে স্থির করতে ন! পেরে প্রবন্ধের ২০৭ পাত অঞ্চলারে সর্বত্র “সাজাদা” ব্যবহার করেছেন। * দ্বিতীয় গর্ভান্কে মীরকাশিমেত্র পতনের জন্য মীরজ্ঞাফর, মপিবষেগষ ও নন্দ- কুমারের কুমন্ত্রণ! দেখান হয়েছে । ইতিহাস এই ধরণের ঘটনার সাক্ষ্য রাখে মীরকাশম ৪২ নাই তবে এ ধরণেক় ঘটন| ঘট! বিচিত্র নয় । মীরজাফরের পত্রাদি ষে নন্দ- কুমার রচনা করতেন এমন প্রমাণ বিরল নয়। স্থতরাং মীরকাশিমের পতনের ষড়যন্ত্র আসলে মীরজাফর মারফৎ নন্দকুমারের ষড়যন্ত্র মনে করলে কোন ক্ষতি হয় না। মণিবেগমের কি অংশ জানা না গেলেও মীরকাশিমের পতনে তার সৌভাগ্য সুর্য উদয় হল। তৃতীয় গর্ভাঙ্কে মীর সোলেমনের বিশ্বাসঘাতকতাও অক্ষয়কুমার অন্থসারী ঘটনা । অন্য কোথাও এ বিষয়ে কোন রকম উল্লেখ দেখার সৌভাগ্য হয়নি। €মীরকাসিম পাতা ২০৮) বক্সারের যুদ্ধের পর দীর্ঘ দশবৎসর মীরকাঁশিম নান! রকম রাজনৈতিক খেল! করেছেন। মনে হওয়া স্বাভাবিক যে বেশ কিছু অর্থনিয়ে তিনি পলায়ন করতে সক্ষম হয়ে- ছিলেন। এ বিষয়ে তার ভূত্য সেথ মহম্মদ অসুর বিশ্বাসঘাতকতার মরুভূমিতে বিশ্বস্ততার এক সজল উদাহরণ স্থাপন করেন। এই দৃশ্যে দির্লীর বাদ্শাহকে বড হীনমান করা হয়েছে । নাট্যকার তাঁকে ছদ্নবেশে ইংরেজদের সঙ্গে সন্ধিতে উৎস্থক দেখিয়েছেন । এই সব বিবেচনা এই দৃশ্যাটিকে প্রক্ষিপ্ত বিবেচনা কর! যেতে পারে । চতুর্থ গর্তাঙ্কে সবজাউদ্দৌোলার সঙ্গে সমু ষড়যন্ত্র করছেন । উদ্দেশ্য মীরকাশিমের ধনরত্ব অপহরণ । সমরুর বিশ্বাসঘাতকত' ইতিহাসে প্রতিষিত। সুজাউদ্দৌল। যখন মীরকাঁশিমের শিবির লুণ্ঠন করান তথন জেনানাদেরও বাদ দেন নাই । মীরকাশিমকে বন্দী করা হল এবং গুপ্তধনের সন্ধানে অসহা পীড়ন করা হয়। কথিত আছে যে একদিন এক কডাই ফুটন্ত গরম জলের ওপর মীরকাশিমকে বসিয়ে দেওয়া হয়। অসহা যন্ত্রণায় মীরকাশিম চিৎকার করে তাকে বধ করবার অন্রোধ জানান | মীর- কাশিমকে বন্দী করে রাখলে অন্থুবিধা হতে পাঁরে মনে করে স্থুজাউদ্দৌলা তাকে বিদায় দেন। তাঁকে আর তার পরিবারবর্গকে বহন করার জন্য একটা খোড়! হাতিও তাঁকে দেওয়া হল। তাতে চড়েই মীরকাশিম আগ্রা অভিমুখে প্রস্থান করেন। এই দৃশ্টে আলী ইবরাহীম ও বালকবপী বেগমের ঘটনা গল্প । নাটকের রঙ"পাগিয়ে জান] বেগম চিত্রের প্রতি দর্শকের সহানুভূতি আনার জন্তই উপৃস্থাপিত ৷ ,আলী ইব্রাহীমের মহত্ব ও ত্যাগ মীরকাশিমের জন্য দরদ প্রকাশের জন্যই আনা হয়েছে। এই সময় আল ইব্রাহীমের কোন খবর ইতিছালে পাওয়া যায় না এমনকি তিনি পাঁটনা ত্যাগ করেছিলেন এমন প্রমাণ নাই। ৪২৮ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম গর্তাক্কে মীরকাশিমের লাঞ্ন! দর্শক সমক্ষে উপস্থাপিত | পঞ্চম অঙ্কে স্থজাউদ্দৌলার কপটতা দেখান হয়েছে । তিনি মীরকাশিমকে ধর্মভ্াতা বলে কোরাণ স্পর্শ করে আলিঙ্গন করেছিলেন এবং পরে মীরকা শিম তাকে হত্যার ষড়ষন্ত্র করছেন বলে তাকে পরিত্যাগ করেছিলেন | এই দৃশ্ঠে তিনি হত্যার ষড়যন্ত্র মিথা। বলে বিশ্বাস করে মীরকাশিমকে আবার ধর্মভ্রাতা বলে আলিঙ্গন করছেন। ফকিরী পোষাক ফেলে দিয়ে নবাবী পোষাকে নাকে সজ্জিত করছেন। খুবই নাটকীয় দৃশ্য বটে। কিন্তু ঘটনাক্রমে গোলমাল থাকায় একটু বিভ্রান্ত হতে হয়। সমস্ত ঘটনাটি ঘটেছিল কয়েক- মাস আগে অর্থীৎ ১৭৬৭ খ্রীষ্টাব্ষের এপ্রিল মাসে । উপলক্ষ্য মীরজাফরের স্ববেদীরী লাভ। তখনই সুজাউদ্দৌল। মীরকাশিমকে ধর্মভ্াতা বলে আলিঙ্গন করেন ও তাঁকে সাহায্য করতে প্রতিশ্রুত হন। সমরুর সঙ্গে ষড়যন্ত্র ওই বৎসর সেপ্টেম্বর মাসের আগে ঘটে নাই । মীরকাশিমের কাছে প্রচুর ধনবত্ আছে এবং তাকে গীড়ন করলেই স্জাউন্দৌলা সেগুলি হস্তগত করতে পারবেন এই খবর মীরজাফর গোপনে স্থজাউদ্দৌলাকে জানিয়ে দেন বলেই সন্দেহ করা হয়। মীরজাফরের এই পত্র রচনা করেন তার মন্ত্রী মহারাজ নন্দকুমার। আপাতদৃষ্টিতে কেবল মীরকাশিম বিরোধী হলেও এই পত্র রচনার আর এক গভীব উদ্দেশ্য ছিল। নন্দকুমার বুঝেছিলেন যে মীরকাশিমকে সম্পূর্ণভাবে পরাভূত করতে হলে স্বজাউদ্দোলার পরাজয় প্রয়োজন । অত্যন্ত তীক্ষ বুদ্ধিতে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন স্থাউদ্দৌলার প্রচণ্ড লোভ জাগিয়ে দিতে পারলে তিনি মীরকাশিমকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন বক্সারে ইংরেজ সৈম্ত সমাবেশ লক্ষ্য করবেন না। তাই সেপ্েম্বর মাসে স্ুজাউদ্দৌল। মীরকাশিমের ওপর অতাচার করতে লাগলেন। অক্টোবর মাসে বক্সাবের যুদ্ধে পরার্দিত হলেন । ষ্ঠ ও সপ্তম গর্ভাঙ্কে মীরকাশিমের প্রতি অত্যাচারের শেষে আলী ইব্রাহীম সমরুর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে মীরকাশিমের মুক্তি দাবী করলেন। মীরকাশিমকে স্থজাউদ্দৌলা মুক্তি দিলেন এবং তাকে বহন করার জন্ত একটা ঘোড়া হাতি দ্রিলেন ৷ নাটকের প্রয়োজনে এই দৃশ্ঠ ছইটি এসেছে। বেগম ও অলী ইব্রাহীমের ঘটনার কোন তিহাসিক মূল্য নাই। একমাত্র খোঁড়া হাতি ছাড়া অন্ত ঘটনাগুলি কাল্পনিক । মীররকাশ্ ৪২৯ নাটক নিয়েও গিরিশচন্দ্র অস্থবিধায় পড়েছেন। বক্সারে বীরকাশিম শেষ যুদ্ধ করলে নাটকের স্ষ্ট, সমাপন হতে পারত । বক্সার যুদ্ধের আগের দিন মীরকাশিমকে সব্িয়ে দেওয়া হল। তিনিও ভবিস্যৎ লাঞ্ছনার হাত থেকে মুক্তি পাবার জন্য পলায়ন করলেন। চরিব্রচিত্রণে এই অস্থবিধা ঢাকবার জন্টেই মীরকাশিমের লাঞ্চনাকে বিশেষভাবে দেখান হয়েছে । এই কষ্টভোগের মধ্যে দিয়েই মীরকাঁশিমের জীবনের চরমতম ট্র্যাজেডী সৃষ্টির প্রয়াস হয়েছে । ফলে নাটকের কেব্দ্চ্যুতি সম্পূর্ণ হয়েছে । মনে রাখতে হবে ধে প্রথম চার অঙ্কে মীরকাশিম ইংরেজদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার প্রজাদের রক্ষা করবার সংকল্প নিয়ে যুদ্ধ করেছেন, হত্যা করেছেন নিরন্তর বন্দীদের এমন কি বেগমকে পরিত্যাগ করতে দ্বিপা করেন নাই। পঞ্চম অঙ্কে আর সে সব কথা নাই । স্জাউদ্দৌল! এই অঞ্কের নায়ক তিনি মীরকাশিমের ধনরত্বগুলি পাবার আকাঙ্খায় কোন অন্যায় কাঁজকেই অবাঞ্থনীয মনে করেন না। স্বীকার করতে হবে যে নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ইতিহাসের গণ্ডভীর মধ্যে থাকতে চেয়েছেন বলেই পঞ্চম অক্কে এই অন্ুবিধার সনুখীন হয়েছেন। পরবর্তী নাট্যকারদের মতো কল্পনার রঙিন পাথায় উড়ে গেলে তিনি সহজেই অপূর্ব ঘাত প্রতিঘাত পূর্ণ এক পঞ্চম অঙ্ক স্থষ্টি করতে পারতেন। গিরিশচন্দ্র তা করেন নাই বলেই আমাদের নমস্য । নানা অস্থবিধা সত্বেও তিনি এতিহাসিক ঘটনা অনুসারেই নাটক রচনা করেছেন । সামান্ত ক্রটি বিচ্যুতি বা চবিত্র চিত্রণে স্বাধীন মতামত পোষণ করলেও এতিহাসিক নাটক রচনার সমস্ত নিয়ম তিনি পুঙ্থান্থপুত্খবূপে পালন কবে এতিহাসিক নাটক বচনার দিগদর্শন কবে গেছেন। অষ্টম গর্ভাষ্কে বক্সার যুদ্ধের পরবতী ঘটনা । বন পথে ফকিরবেশী মীরকাঁশিম পলায়ন করছেন এবং বালকরূপী বেগম তাঁর পেছনে পেছনে চলেছেন। টিক নিশ্রয়ৌোজন। নবম গর্ভাঙ্কে শাহ আলম বক্সার যুদ্ধ জয়ে ইংরেজদের সাধুবাদ দিচ্ছেন ও বাংল! বিছার উড়িস্যার দেওয়ানী ও অযোধ্যায় উঞ্জিরি দেবার প্রস্তাব করছেন। বক্সার যুদ্ধের প্রায় একবছর পরে ১২ আগষ্ট ১৭৬৫ গ্রষ্টাব্দে বাদশাহ শাহঅলম বাংল! বিহার উড়িস্তায় দেওয়াশী সনন্দ ইংরেজ কোম্পানীকে প্রদান করেন। অযোধ্যায় উ্জিরি দেবার কোন্‌ প্রস্তাব হয়েছিল বলে জানা যায় না। অযোধ্যা আর কয়েক বছর স্বাধীন 8৩৪ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন। ছিল এবং ১৭৮২ খ্রীষ্টান্ে অযোধ্যায় ইংরেজ গ্রতৃত্ব স্থাপন করা হয়। তবে বিহারের প্রতান্ত সীম! বারাণসী পর্য্স্ত টেনে দেওয়া হয় এবং তদনুযায়ী কাশীরাজ বলবস্ত সিংহ ইংরেজ কোম্পানীর অধীনস্থ জমিদারে বপাস্তরিত হন ॥ দশম গর্ভাঙ্কে মীরজাফরের কুষ্ঠরোগ ইতিহাস সম্মত ঘটনা তবে এই দৃশ্তাটি কাল্পনিক । ডাক্তীর ফুলারটন কখনও মীরজাফরের চিকিৎসা করেন নাই এবং ষণিবেগমকে কেউ সতীসাধবীরূপে বা মীরজাফরের সেবারতা মহিষী ভাবেন নাই। বরঞ্চ উদ্টোটাই শোনা গেছে। মণিবেগম অত্যন্ত দুশ্চবিত্র মহিলারপেই আখ্যাত হয়েছেন। বল! হয়েছে নবাবী আবাসকে তিনি দেহ বিলাসীর ক্রীড়াক্ষেত্রে পরিণত করেন এমনকি পরবর্তী নবাব নাজামন্দৌলা মীরজাফরের ওরসজাত পুত্র নন এ অভিযোগ কর! হয়। অতিবৃদ্ধ অসুস্থ অহিফেনসেবী কুষ্ঠরোগগ্রস্ত মীরজাফর সন্তান উৎপাদনে অক্ষম একথাও বারবার বলা হয়েছে । কাজেই এই কাল্পনিক দৃশ্য অবতারণায় মণিবেগমকে যে সম্মান দেওয়া হয়েছে তা আদৌ তীর প্রাপ্য কিন! সে বিষয়ে গবেষণার অবকাশ আছে। মীরজাফর-মণিবেগম সংলাপও কাল্পনিক । শেষ দৃশ্টে মীরকাশিমের পর্ণকুটিরে মৃত্যু সত্য। উন্মাদ অবস্থায় মৃত্যু সত্য নয়। “তারা? বা বেগমের সেখানে উপস্থিতিও কাল্পনিক। “তারা; যে সম্পূর্ণ নাটকীয় চরিত্র তা বহুবার আলোচনা করা হয়েছে। বেগম মীরকাশিমের মৃত্যুর কিছুদিন আগে মার! যান স্থতরাং তার উপস্থিতি অযভ্ভব। ১৭৬৫ থেকে ১৭৭৫ খ্রীষ্টাব্ মীরকাঁশিম ভারতীয় রাজনীতিতে ব্যবহৃত হয়েছেন। ১৭৭ খ্রীষ্টান্বে মীরকাশিম রা'জপুতানায় অবস্থান করেন এবং নেপাল যাবার চেষ্টা করে বিফল হন। এই সময় গবর্ণর জেনারেল ও তার পুরাতন বন্ধু ওয়ারেন হেস্টিংসকে এক পত্র লিখে জানান যে তাকে কেন্দ্র করে এবং তার নাম ব্যবহার করে যে সব যড়ন্ত্র হচ্ছে তাঁর সঙ্গে তিনি কোনভাবেই যুক্ত নন। অথচ এগুলিকে বন্ধ করবার তার কোন ক্ষমতা নাই। তারপর +ই জুন ১৭৭৭ তার মৃত্যু হলে তার ছুই পুত্র গুলাম উরাইভ জাফারি ও মহম্মদ ওয়াকিরুল হুসেণী ফরাসী গবর্ণর ম'সিয়ে শেভেলিয়রকে জানান যে তাদের পিতার শেষরুত্য করার ক্ষমত] তাদের নাই। সম্ভবত ফরাসী লাভাঁয্েই মীরকাশিম কবরস্থ হন। সাজাহানাবাদে (দিল্লীর নিকট) তার মৃত্যু হয়। স্থতরাং নাটকের শেষ দৃশ্য কাল্পনিক সে বিষয়ে সদেহ নাই ॥ মীরকাশিম ৪৩১ বাংল-র ভূতপূর্ নবাব ভারতের রাজনৈতিক শতরঞ্জ খেলার ঘুঁটিতে বপান্তরিত ভপেন এবং দীনদরিদ্র অবস্থায় তার মুত্যু হল এর থেকে বিয্বোগাস্ত ঘটনা আর কি হতে পারে। নাটকের নায়ককে হুষ্টভাবে গারশচন্দ যে পরিণাত দিয়েছেন তা কাল্পনিক হলেও এঁতিহাসিক ঘটনার পরিপন্থী নয়।- পঞ্চম অঙ্কের ঘটনাগুপিকে বিয়োগান্থ নাটক কৃষ্টির কাজে 'গরিশচন্্র যেভাবে ব্যথার করেছেন তা সত্যিই লক্ষণীয় । তার কল্পনাও কখনও নিয়মিত ঘটনাবীকে লঙ্ঘন করে অসম্তভবের পধ্যায়ে পড়ে নাই। নান! এতিহানসিক ঘটনায় কণ্টকিত হয়ে নাটকের গতি মাঝে মাঝে ব্যাহত হযেছে সত্য তবু সমগ্রভাবে বিচার করলে স্বীকার করতে হবেষে “মীরকাসিম' এক সার্থক এঁতিহাসিক নাটক | নাটক হিসাবে বিভিন্ন ঘটন। তরঙ্গ থাকা সত্বেও বচনার মনোহাবিত্ব ১৯০৬ শ্রীগাব্ষের দর্শকের মতে। আজও স্বীকার না করে পারা যায় না। মীরকাদিম নাটকে গিরিশচন্দ্র পরাধীন জাতির বিক্ষোভ প্রকণ* করেছেন । এক দেশতক্ত প্রজাবৎসল নবাব হ্ষ্টি করে তিনি ইংরেজ শাসক- গোষ্ঠিকে ছন্দে আহবান করেছেন। ট্রতিহাসিক ঘটনার মধ্যে হই দেশাত্ব- বোধক এই নাটক জনসাধারণের মনকে অত্যন্ত প্রভাবিত করেছিল । তাই সাম্রাজ্যবাদী বুটিশ গর্নমেণ্ট ভয় পেয়ে এই নাটকের অভিনয় বন্ধ করে দেন ও নাটক বাছেয়াগ্ত করেন। সময় ১৯১১ শ্রীষ্টাব্দের ১৮ই জানয়ারী | মীরকাঁশিম নাটক অভিনয় চলাঁকালীনই 'গরিশচন্দ্রের সিরাজদৌল্লার অভিনয় নিষিদ্ধ হয় ও বই হয় বাজেয়াপ্ত । “সিরাজন্দৌল” ও “মীরকাসিমের জন- প্রিয়্তা এমনতাঁবে বুদ্ধ পেয়েছিল যে মীরক]শিমের নাম শুনলেই ইংরেজ সরকার ভীত হয়ে উঠতেন । মীষকাঁশিম নাটকের এক প্রধান চবিত্র হওয়ায় বঙ্কিমচন্দ্রের “চন্দ্রশেখর” উপন্তাসের নাট্যরূপের অভিনয় নিষিদ্ধ হয়। ক্ষীরোদ প্রসাদ বিদ্ভাবিনোদের “পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত” মীরকাশিমকে ঘিরে থাকার জন্তই নিষিদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত হয় বল চলে । তা না হলে এমন বার্থ নাটককে বন্ধ করার কোন প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয় না। গিরিশচন্দ্র দুইটি নাটক মারফৎ দেখিয়ে- ছেন যে সার্থক এঁতিহাসিক নাটক কিভাবে লেখা উচিত । মীরকাশিম চরিত্র আলোচনার সময় দেখা ঘাবে যে পরবতা লেখক বশেষ নাট্যকারগণ ফ্েঁমন ইতিহাস পাঠ না করেই মীরকাশিমকে নিয়ে নাটক লেখার চেঠা করেছেন। ষ্ঠ ৪৩২ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা সেহসব ব্যথ প্রচেষ্টার হাস্তকর কীতিকলাপ আলোচনা করার আগে আরেক বিষয় আলোচনার প্রয়োজন । দুইটি নাটকের মধ্যদিয়ে গিরিশচগ্্র মীরজাকরকে এক চরম বিশ্বাসঘাতক চত্রিত্রকূপে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অতি সাবধানী এতিহাসিক ভিন্ন ১৯০৬ খ্রীষ্টাব্দের পরধতা যুগের বছু হাতহাস রচয়িতা নিদ্ধিধায় মীবজাফরের বিশ্বাসধাতকতার কথা উল্লেখ করেছেন। বস্বত বাংলাভাষায় বশ্বাসঘাতকতার আর এক নাম হয়েছে মীরভাফর । রাজনীতি ও সংবাদ- সন্র মারফত প্রসারিত ও প্রচারিত হয়ে মীরজাফর সর্বকালের এক প্রচণ্ড বিশ্বাসবাতকরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন । পরবতীকালের সাহিত্যিক ও নাট্যকার- গণ উৎসাহের প্রাবল্যে মীরজাঁফরকে সরফরাজ খার বিরুদ্ধে এমনকি আলিবন্দী খার বিরুদ্ধে বিশ্বাসবাতকতাক় লিপ্ত দোখয়েছেন । থিয়েটারে যাত্রায় বা সিনেমায় মীরজাফর খাঁর থলচরিত্র সুঅভিনয়ে পরিস্ফুট করা হয়েছে । আজ মীরজাফর বিশ্বাসঘাতক ছিলেন না বল। প্রায় গঙ্গায় জল নাই বলার মতো অসম্ভব কথা । কিন্তু ছুই কথাই সত্য। একমাত্র বর্যার কয়েকমাস ছাড়। রাজমহলের গঙ্গার একফোটা জলও ১৯৭২ গ্রীষ্টাব্ষের কলকাতার গঙ্গার 'মাসত না (ফরাক হবার আগে )। অর্থাৎ গঙ্গানদীতে গঙ্গার জল নাই । তেমান ইতিহাস বিচারে মীরজাফর খাকে বিশ্বাসঘাতক ছিলেন বলার আগে একটু ভাবতে হবে। তিনি লোভী ছিলেন, বিলাসী ছিলেন, দুশ্রিত্র ছিলেন সত্য কন্তবিশ্বাসঘাতকহা করার কোন প্রমাণ নাই। সিরাজদ্দৌলার এ্রতিহাসিকত। আলোচনার সময় বল! হয়েছে যে মীরজাফর খ। নবাব আলিবদ্দীর অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন ছিলেন । ১৭৪৪ খ্রীষ্টাব্দে ভাস্কর পণ্ডিতের হত্যায় মীরজাফর একজন প্রধান উদ্যোত্ত! | বগার হাঙ্গামার সময় মীরজাফরের সাহসীকতার পরিচয় পেয়েই আলিবদী খা তাকে প্রধান সেনাপতির পদ দেন । সৈন্ত- বাহনীতে মীরঞ্জাফর অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন বলেই সিরাজদ্দৌলা যুদ্ধের সময় বার বার তার শরণাপন্ন হয়েছেন । দৌহিত্রের হাবভাব দেখে ভীত হয়েছিলেন বলেই মৃত্যুর অব্যবহিত পূর্বে নবাব আলিবদী খ। মহবতজঙ্গ মীরজাফরের হ!তেই তার ছুবিনীত নাতিকে সমর্পণ করেন। পরবত্তী ইতিহাস আলোচিত হয়েছে। ন+বী পাবার একমাসের মধ্যে মীরজাফর পদদচ্যুত হলেন। নবাবের বিরুদ্ধে যে ধড়যন্ত্র সুরু হল তাতে মীরজাফর যোগদান করেন সবশেষে । একথা নিশ্চিত ঙাবেই বল! চলে মীরজাফর বড়যন্ত্রে যোগদান না করলে ইংরেজ কোম্পানী মীবুকাশিম ৪৩৩ কদাচ নথাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহসা হতেন কিনা সন্দেহ। তথনকার কলম পেশা ইংরেজ কেরানী স্বেচ্ছায মী ছেড়ে অসি ধরতেন না। পলাশীতে মীরজাকর উপস্থিত ছিলেন সিরাজ্ব্দোপার সনির্বন্ধ অগ্তবোধে। যুদ্ধ না কার কতকগুলি সর্ত সাপেক্ষে । বরঞ্চ যুদ্ধ ক্ষেত্রে মীরজাফরকে দেখে স্বয়ং ক্লাতশ প্রনুখ ইংরেজ কর্তার! চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন । ক্লাইভ স্পছই পিথে গেছেন থে ওয়াটসেব সঙ্গে সন্ধিচুক্তি খাক্ষর করলেও মীরজীফর যে মত পালটে নখাব পক্ষে বুদ্ধ করতে আসেন নাই এটা বুঝতে তার সময় লেগেছিল । পলাশীর পর মীরজাফর নবাব হলেন। আলিবদ্দী খার উপাধিট। কাধে ঝুপিষে নিঞ্জেকে মহবত্জঙ্গ বললেন তারপর অন্ত নবাঁবদের মতো সরা সম্ভোগ আর বিলাসে মত্ত হয়ে উঠলেন। নাটক লেখার চরিএ বটে। কঠিন সৈনিক- জীবনের পর বিলাসিত! প্রায় বাতুলতার পধ্যায়ে এসে গেল। মগ্ভ নারী আফিঙ কোকেন প্রভৃতি নেশার কোন উপকরণ বাদ গেল না। ফলে দেশে নৈরাজ্য অবশেষে নবাবী গেল। এই সময় থেকেই মীরঙ্গাফর নন্দকুমারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পডলেন। পরবর্তীকালে কলকাতা প্রবাসে বা নবাবীতে পুনরায় নিযুক্ষর সময নন্দকুমার তার সব থেকে বিশ্বাসী ও নিকটতম সুহৃদ । এই সময় থেকেই মণিবেগমের প্রভাব বৃদ্ধি ও শেষজীবনে কুষ্ঠটরোগ গ্রন্ত হয়ে মৃত্যু । রোগের যন্ত্রণায় নন্দকুমারই তার চিকিৎসক । তার কথায় হিন্দুর কালীমন্দিরের চরণামৃত পান করেছেন। কোথাও একজন কঠোর বিশ্বীস- হগ্তাকে পাওয়া যার না বরঞ্চ কর্তব্য বিমুখ এক নুন্ধ কামুকের ছণি বার বার ভেসে ওঠে ।॥ গিপ্রিশচন্্র মীরঙ্গাফরকে এমন রঙে বিশ্বাসঘাতক সাঞজয়েছেন ঘে এখন €দ রঙ তুলে ফেলা মুস্কিল । এই অপামাগ্ ক তের গন্য [প্রিণ- চন্দকে যোগ্য মর্য্যাদা দেওয়া হয় নাই। ১৯০৬ খ্রীগ্ান্ধের পূর্বে মীএগ'ঘর চরিত্রমাত্র কিন্ত পরে কার সাধ্য বিশ্বাসবাতক বলে কটুবাক্য না বলে মীরজাফর চরিত্র সৃষ্টি করে। ক্ষীরোদ প্রসাদ : পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত মীর্কাঁশিম সম্পকীয় তৃতীয় নাটকের রচয়িতা ক্ষীরোদ প্রসাদ বিছ্বাঝ- বিনোদ । নাটকের নাম পপলাশার প্রায়শ্চিন্ প্রকাশ কাল গিরিশচন্দ্রের মীরকাশিমের মাত্র একবছর পর ১৯০৭ ত্রীষ্টাববে। যতদূর খোজ পাওয়া গেছে ৪৩৪ বাংলা এঁতিহাসিক নাটক সমালোচনা তাতে মনে হয় এই নাটকটি কথনও অভিনয় হয় নাই তারপর ১৯১১ শ্রীষ্টাব্দের পর সরকারী আদেশে বাজেয়াপ্ত হয়। ছুইটি প্রশ্ন স্বভাবত জাগে । প্রথম গিরিশচন্দ্র মীরকাশিমের প্রচণ্ড জনপ্রিয়তা সব্বেও কেন এক বছরের মধ্যে মারকাশিম সম্পর্কে আর এক নাটক হৃষ্টি হল আর হল যদি তাহলে অভিনয় হল নাকেন। ক্ষীরোদপ্রসাদ বিগ্ভাবিনোদ অন্টের সু জনপ্রিয়তার স্থযোগ নিয়েছেন বার বার । মীতারাম দেখে তিনি স্ষ্টি করেছেন প্রতাপাদ্দিত্য নাটক । গিরিশের সিব।জদ্দৌলার ছাপ পড়েছে ক্ষীরোদপ্রসাদেব “বাংপার মসনদে'র সরফরাজ খাঁর ওপব আর মীরকা সিমের অপূর্ব আলোয়, বাঙালীব মনের ভাব।লুতাকে নিঙরে গিরিশচন্দরের মেধার পূর্ণ স্বযোৌগ কেবল অর্থকরী- বপে ব্যবহার করার জন্য স্থষ্টি হয়েছিল পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত! এই নাটক বচনাব পেছনে সমসাময়িক কালের উত্তেজনার উত্তাপ আছে? ক্ষীরোদপ্রসাদেব এই নাটক বচনা এবং তা অভিনয না হবার পেছনে বঙ্গ রঙ্গালযেব যে লজ্জাকর ইতিহাস অছে তা না জানলে এই নাটকের সৃষ্টি রহস্য বিশ্বতির অতলে তলিয়ে ষাবে। একটু বিশদভাবে বলা যাক । ১৯০৫ ৬ খ্রীষ্টাব্ধে বঙ্গ রঙ্ষমঞ্চের দুইজন থ্যাতনাম| ব্যক্তির মধ্যে চলেছিল ঘোব মনোমালিন্য | কেবল ব্যবসায়ী পর্যায়ে এই বিদ্বেষ সীমিত না থেকে ব্যক্তিগত গালিগালাজে বপানস্তরিত হল। নাটকের মাধ্যমেও বিদ্বেষের প্রসার বেড়ে চলল । ১৯০০ খ্রীষ্টাব্দে “সীতার ম, অঙিনয়ে গিরিশচন্দ্র ঘোষ ও অমরেক্স নাথ দত্তর যে বিরোধ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯০৬ খ্রীষ্টাব্দে সেটা প্রকট আকার ধারণ করল। সিরাজদ্দৌলা অভিনয়ের সময় অদ্ভুত এক ক"ওড হল। যেরাত্রে অর্থাৎ ২৭শে জানুয়ারী ১৯০৬ স্রীষটান্ গিরিশচন্দ্র মিনার্তা মঞ্চে তার নাটকের উদ্বোধন করলেন সেই রাত্রেই ক্লাসিক থিয়েটারে অমরেন্দ্রনাথও গিরিশচন্দ্রের সিবাজন্দোলার অভিনয় সুরু করলেন। ভূমিকা লিপিতে £ সিরাজ_-অমবে% নাথ দত্ত, মির্জাফর--নটবর চৌধুরী করিমচাচা-_হরিভূষণ ভট্টাচার্য, দানসা ফকির-_নৃপেন্দ্র চক্র বনু, কাইভ-_ এনোমোহন গোশ্বামী, মোহনলাল-_-হীরালাল চট্টোপাধ্যায়, ঘেসেটা-_-হরি- স্থন্দরী (ব্যাক ), জহরা--কুস্মকুমারী, লুৎফউন্নিসা_বিনোদিনী ।৭8 বলা'বাহুলা ছুই মঞ্চে একই নাটকের অভিনয় দর্শকদের বিভাগ করে দ্িল। মিন[াষ সিরাজের ভূমিকায় দানীবাবুর অপূর্ব অভিনয় সত্বেও ক্ল্যাসিকের সঙ্গে মীরকাশিম & ৩৫ প্রতিঘোগীতা করে মিনারভায় সিরাজদ্দেল। বেশীদিন চালান সম্ভব হল না। রিশচন্দ কাশক্ষেপ না কবে “মীরকামিম” লিখলেন এবং মহলাব সময় এই নূতন নাটকের কপিযাঁতে অমবেন্দনাথ না পেতে পারেন তাব জন্য যথাধোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ কবলেন। গিবিশচন্ত্র বৃতন নাটক মহলায় ফেলেছেন এবং সে াউকে মীরকাসিম চরিত্রে দানবাবু অভিনয় করার চনত প্রন্থত হচ্ছেন এ খবর 'মমরেন্দনাথের 'অশানা ছিল না । ক্গীরোদগ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ অমবেক্- নাথেব অন্নুরোধে অথবা নিজে ইচ্ছা করে মীরকাঁশিমকে প্রধান চবিত্র করে পলাশীর প্রায়শ্চিন্ত বচন করেছিলেন ঠা জানবার আজ আব কোন উপায় নাই | তবে ট।বিশঅমবেনের মঞ্চ মন্থনেই এই নাটকের উৎপত্তি হযেছে স “বষযে সন্দেহ কবাব কোন কাবণ নাই । ছুঃখের বিষয় ক্ষীরোদপ্রসাদের নাটক রচন। শেষ হতে না হতেই অমরেন্দনাথ দত্ত ১৯০৬ শ্রীষ্টাব্ধের মে মাসে ক্যামিক থিষেটার ছেডে চলে গেলেন । পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত থিষেটার মহলে “অপয়া অপবাদ কিনপ। কয়েক- মাসেব মধ্যেই অমরেন্দ্রনাথ দণ্ভ নিদারুণ অন্ুস্থ হয়ে মঞ্চ জগৎ থেকে 'অবসর নিলেন (অগাষ্ট ১৯০৬ খ্রী্াব্ব)। ফলে কেউ আর এই নাটক অশ্নয় করবার কথা ভাবতে পারলেন না। পব্বস্তীকাপেও অর্থৎ ১৯০৭ গেকে ১৯১১ শ্রীষ্টাব্দের মধ্যে, বাজেয়াপ্ত হবার আগে, অভিনয়ের কে।শ গ্রমাণ পাওয়া বায না। গিরিশচন্দ্রের ইতিহাস নির্ভর “মীরকাঁসিম' নাটকের পর ক্ষীরোপপ্রসাদেব এই ইতিহাস গন্ধী রূপকথা বাংলা নাটকের বিবর্তনের ইতিহাসে এক অস্থুৃত প্রলাপ মনে হয। পলাশীর পরবর্তীকালের ঘটনা নিয়ে নাটক লিখতে বসে স্গীরোদগ্রসাদ কোন ইতিহাস পাঠ করেছিলেন এমন সন্দেহ করা চনে না। তিনি গিব্িশচন্দ্রের সিরাজদ্দৌল। দেখে কল্পনার কড়াইএ জাল চডালেন তারপর কয়েকটা! এঁতিহাসিক নামের ফোডন দিয়ে সেই গ্যাজলা বঙ্গনাট্য পিপাস্ুদের কাছে “পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত নামে প্রকাশ করলেন । ম্শীরোদপ্রসাদের পক্ষে বল! চলে যে তিনি এই নাটককে কোথাও “এঁতিহাসিক” আখ্যা দেন নাই। নাট্য চিত্রে গ্রতিহাসিক ব্যক্তিদের প্রাচুর্য থাকায় জনসাধারণের পক্ষে এই রচনাকে শুধুমাত্র এক “কাল্পনিক কথকথ!' বলে মনে করা সম্ভব হবে না একথা তার মনে রাথা উচিত ছিল। ১৯১১ খ্রীষ্টাব্দে ভীত বৃটিশ সরকার অন্ত ৪৩৬ বাংল! এরতিহাসিক নাটক সমালোচনা নাটকের সঙ্গে এটিকে বাজেয়াগ্ড করে এই প্রক্ষিপ্ত রচনাকে আশাতীত সম্মানে ভূষিত করলেন। পলাশীর প্রায়শ্চিত্তর গল্পাংশ বিবেচনা করলেই নাটকের বাতুলতা প্রমাণিত হবে। নাটক পর্চাঙ্কে সমাপ্ত পৃষ্ঠা সংখ্য। ২১৭, এছাড়া মুখপত্র ও নাট্যচরিত্র বর্ণনা আরও 9 পৃষ্ঠা. প্রকাশক গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় । প্রথম অঙ্ক ১ থেকে ৬২ পাতা ছয়টি দৃশ্টে সখাধ্ু, দ্বিতীয় অঙ্ক ৬৩ থেকে ১০৩ পাত দৃশ্য সংখ্যা সাত, তৃতীয় অঙ্ক ১০৪ থেকে ১৪৪ পাতা দৃশ্ঠ সংখা] ছয়, চতুর্থ অঙ্ক ৪৫ থেকে ১৮৩ পাত? দৃশ্য সংখ্যা ছয়, পঞ্চম অঙ্ক ১৮৩ থেকে ১১৭ পাতা দৃশ্য সংখা সাত। গোড়া "খকেই আষাটে গল্প । পলাশীর পর মীরজাফর নবাবী করছেন। তার মন্ত্রী হন্নে রাজা রাজবল্লভ আর সেনাপতি হলেন তকী খা। নবাব তকী খাকে জানাচ্ছেন যে তাব নিজের জামাত] মীরকাশিমকে বঞ্চিত করে ওই প্র তাকে দিয়েছেন (পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত পাতা ৩)। সৈন্যরা নবাবীমহল দীঘ দিনের বেতন বাকী পাকার জ্ন্য থেরোৌধা করেছে একথা নবাব বিশ্বাস করছেন না উপরন্ত তকী থাকে বিশ্বাসঘাতকতাৰ অভিযোগ করছেন। জানা গেল যে নবাব বিভ*রের শাসনকর্তা খাজা রামনারাষণেব কাছে হিসাব চেয়েছেন । নবাবপুত্র মীরণ এসে অভয়বানী শোনাচ্ছেন । বলছেন তিনি এই মাত্র ক্লাইভ সাহেবের সঙ্গে কথ! বলে এলেন । ক্লাইভ বলেছেন কাউকে কোন টাকা পয়সা না দিয়ে আগে কোম্পানীর দরেনাটা শোধ করে ফেলুন (পঃ পঃ পাতা ৭)। মীরণের ঘসেটি ও আমিনা ৰেগষকে ঢাক] পাঠানর প্রস্তাব নবাব সমর্থন করলেন কিন্তু “বাদী বেগম” (পঃপঃ পাতা ৮) লুৎফউন্নিসাকে মুশিদাবাদেই ব্াখতে বললেন । তখন মীরণ মীরক[শিমকে বর্তমানে রংপুরের ফোজদারীর জে পূণিয়ার ফৌজদারী দেবার স্থপাবিশ করলেন এবং নবাব রাজী হলে স্বাগত ভাষণে স্থির করলেন যে রংপুর থেকে পৃণিয়া আসার পথে মীরকাশিমকে চত্যা করাবেন। (প*পঃ পাত৷ ১১) মোহনলালকে হত্যা! করার সংকল্পও মীরণের ভাষণে পাওয়। গেল। এছাড়া মনু ইতিহাসও কিছু জানা গেল যে ফৈজী মোহনলালের ভগ্রি আর মোহন- লফলের অপূর্ব সুন্দরী কন্তা মতিবিবির প্রতি স্বয়ং নবাব ষ্ীরজাফর আসক্ত (পঃ পঃ পাতা ১২)। রাজা বাজবল্লভ নবাবের কাছে এলে মীরণ অত্যন্ত মীরকাশি ৩৭ উন্মা প্রকাশ করলেন | রাকা ব্রামনার,'য়ণের মতো অবিশ্বাসীকে গৃহে মাশ্রয় দিয়েছেন কলে রাজবল্লভকে ভতসনা করলেন। বীক্তবল্পভ মীরণের বাবহারে অসস্তোৌষ প্রকাশ কবলেন। ক্ানালেন তিনি ও বর্তমান নবাথ একই সম নবাব সিরাঙ্দ্দৌলার বেতনভোগী ছিলেন । এখন নবাব কষেও মীরজা্্ব তার যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে থাকেন। নবাবজাদা বদি তাৰ প্রতি বিকদ- শাবাপন্ন হন তাহলে খুবই ছুঃখের বিষয় । মীরণের তর্জনগর্জন প্রশামত না হওয়ায রাজবল্লভ জানালেন যে রাজা রামনারায়ণ ম্মে্ায় তার বাজী থেকে বিদায না নিলে তিনি তাকে চলে ঘেতে বলবেন না এবং তাকে গ্রেপ্তার করার ক্গন্ধা নবাবী বাহিনী প্রেরিত হলেও তিনি তাদের বিবোধিতা করবেন । প্রথম দৃশ্যের নবাবী প্রসাদ ছেছে দ্বিষে দ্বিতীয় দৃশ্যে মোহনশালেব উদ্যানে যেতে হবে। মোহনলাল কন্তা মতিবিবির সঙ্গে আলে!চনারত। তিনি পলাশীব যুদ্ধে নিজের অসতরকতার জন্য সদা মুহামান । বলছেন মীবঙ্জাফবেব কথা শুনে তিনি যদ্দি অস্ত্র সংবরণ না করতেন তাহলে লডাই দিতে তাবপর পবাজিত হতে হতনা (পঃ পঃ পাতা ১৭)। মোহনলাল কন্তার মর্ধযাদ'ব ছনা শক্তিত হচ্ছেন । কন্ত। জানাচ্ছেন যে আমি গঙ্গায় ঝাপ দেবো, তবু গোলাম নীরজাফরের ঘরে কখন যাবে না ।....."আমরা নাচওয়ালীর জাত, আমাদের অনেকেরই বিবাহ হয় ন।” ( পঃ পঃ পাভা। ১৭) । মোহনলালের চিন্তা ঘেতার ভগিনী ফৈঙজগীর কলঙ্ক উচ্চবংশীয়দের ঘরে কন্ঠার বিবাহ অসম্ভব করে দিয়েছে অথচ টিনি নবাব সিরাজন্দৌলার একজন প্প্রধান ওমরাও” স্থাতবাং সামান্য ঘবেও কন্ঠ। সমর্পণ করতে পারবেন না। পলাশীর পরাজয ও বাংলার গ্রান সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করে মোহনলাল প্রস্থানের মাগে কঙ্তাকে উপদেশ দিলেন যে যদি দে কথনও আত্মরক্ষা অসমর্থ হয় তবুও যেন কখনও কোন গৃহস্থের ঘরে আশ্রয় নিয়ে সেই পরিবারকে বিপদ্রগ্রস্থ না করে। ফেজীর শিক্ষায় শিক্ষিত মতিবিবির সংলাপ--এআমর] নটার জাত পিসি বলত মানুষকে ভোলাবে, ভুলবে না। প্রাণ ঢেলে দেবে কিন্ত ছেডে দেবে না। কাশ্ীরে থাকঞ্পে পিসির মতন বাইজশী হয়ে জীবনযাত্রা নর্বাহ করতে হত |. -*ওমরাঁও পুত্রীর ধর্ম রাখবে! বলেছি রাখবে! । তাহলে বংশান্গগত সম্পদ বাইজীর প্রাণ_কঠোরতা ছেডে দেব কেন?” (পঃ পঃ পাতা ২১) এমন সময় বভ সৈম্ভ মোহনলালের বাড়ী আক্রমণ করল । পেছনের দরজ। ৪৩৮ বাংল] এ&তিহ্াসিক নাটক সমালোচনা দিয়ে কয়েকতন মতিবিধির সামনে এলে তিনি ৩াদের পরাস্ত করলেন। ইতিমধ্যে মীরকাশিম 2 বঞ্চির এসে সৈম্তদের পরাজিত করলেন। মতিবিবিকে দেখ'মাএ মীরকাশিম মোহত হলেন । ফাকব তার স্ত্রীলোক আসক্তিকে তিপস্কাব কণে রাঁভ। খামন'বাধণকে সাহাব্য কবতে বললেন । অবশেষে এক ফকিবখের পোশাক মীরকা শাক পরিধান করিয়ে হুকুম করলেন “কায্য [সদ তলে মৃহুর্তমাত্র বিনঙ্গ কব না -খংপুরে ফিরে যেয়ো” (পঃ পঃ পাতা ২৪)। তীয় দৃশ্তে বাঞা বা"ক্লপত্বে গৃহে বসে রাজবল্লত ও বামনারাষণ মীবণের আবমণ আমা করছেন এমন সম্গঘ মীবকাশিম ব্রাইন্ব কাছ থেকে রামনাবায়ণকে বন্মী করাব পত্র সংগ্রত করে সামসেরউদ্দিনের হাতও াদয়ে সেটা রামন।রায়ণকে পাঠিয়ে দ্রিলেন। মতাখশি সৈন্য তাড়িত হে বাঞবল্লতের গৃভে আশ্রয় নিলেন। মীবণের সৈন্তগণ মে হনপাশ ণবং তার গৃহের সকলকে হত্যা কবেছেন জানা গেল। রামনাব্রায়ণ মণিবিধিকে “দথে নপ্ধ হলেন এবং তাকে বঙ্গী কবতে কতসংকল্ল হলেন। তিনি মতিবিবিকে ভাব বডনগরের বাশীতে রেখে আসার নিদেেশ দিলেন। মতিবিবিব খোঁজ করতে এসে প্রতিহত হয়ে মহম্মদীবেগ রামনারায়ণকে হত্যা করতে কৃতসংকল্প হলেন। মীরণ এসে মতিবিবির পণায়নে সাহাধ্য কবাব জন্য পামনারাযণকে তিবস্কার কবতে লাঁগলেন। রামনারায়ণের বিপধাসঙ্ধায় মতিবিবি ও লাহোরী ফিরে এলেন এবং রামনাবায়ণের কোন সাহ্াব্য প্রয়োজ্ন নাই শুনে চলে গেলেন । মীরণের আস্ফালন শুনে রামনারায়ণ বললেন-_-একি নিরীহ নবাব সিরাজদ্দেল! পয়েছিস, যে একা নিরস্ত্র দেখে হত্যা করতে আসছিস। আমি তাদের এত ত্বণিত মনে করি, এত নীচ মনে করি, এত অপদার্থ কাপুরুষ মনে করি যে তোদের কাছে আত্মরক্ষার জন্য আমি অস্ত্র পর্যন্ত হাতে করিনি” (প.প পাতা ৩২)। মীরণ ও তার সহকর্মী মহম্মদীবেগ ভীত হয়ে পলায়ন করল। লাকোরী ও মতিবিবি ফিরে এলেন। রামন।রায়ণ মর্তবিবিকে পাটনাষ নিয়ে যাবার সংকল্প কবলেন কারণ সেখানেই,তিনি 'শমাপদ । লাহোরী প্রস্তাব করলেন যে বজরায় মোহনলাল কন্তার গমন বিপিদসন্কুল হবে তাই জেলেডিডিতে তাঁকে নিয়ে যাবার প্রস্তাব করলেন। রামনাবায়ণ সম্মতি দিয়ে মতিবিবির অতুলনীয় দূপসাগরে নিমজ্জিত হয়ে মীরকাশিম ৪৩৯ গেলেন । চতৃর্থ দৃশ্টে মীরণ নবাবের কক্ষে নবাবকে রাঁঞা রামনারায়নের মপকীর্তির কথা সবিস্তারে জনালেন। মতিবিবিকে নিযে পলায়নে নবাবও বিশেষ অসঙ্গ্র হয়ে তক খাকে ডাকতে গাঠালেন। ইচ্ছ। রণ্মনারায়ণকে পদচাত করে হত্যা কবা। এমন সময় গবর্ণব ক্লাইভেব পত্র য়ে অমিযেট সাহেব এলেন । রামনারায়ণকে নবাবের কোন শাস্তি দেওষা ঠল না। এই দৃশ্যে শেষে বলা হয়েছে মে মীবগাফর অক্ষরহীন মূর্থ | (প প পাতা ৪৩-3৪)। পঞ্চম দৃশ্যে কাশিমবাজারের রাজপথে মীরকাশিম ও ফন্কির ইতিকর্তবা বিবেচনা! করছেন । ক্লাইভ চলে যাচ্ছেন এবং অমিয়েট তার হ্ায়গাষ গবর্ণর হবেন বলতে গিয়ে ফকির জানাচ্ছেন যে__ “মাঁজও এ বণিক জাতিকে চিনতে পারলে না। তোমাদের ভাব "আর ওদের ভাবে কিছু পার্থক্য আছে! স্বজাতির যাতে অপকার হয় ওর! সে কার্য কখনও করে না। - বাঙ্গালীর স্বভাবজাহ মমতা ত্যাগ করতে পারিনি । তোমার ভালবাসায় কতকটা আবদ্ধ হয়ে পড়েছি । বুঝতে পাবছি বাঙলার ছুঃখে কাতর হযে তুমি একট] নিজশক্তির আতরিক্ত কার্য করেছ” (প প. পাতা-৪৬-৪৭)। ইতিমধ্যে গুপগিণ খ অমিয়েটের সঙ্গে প্রবেশ কবলেন। তিনি ম'রকাঁশিমকে নবাবী দেবার ভন্ক তাকে ছুইলক্ষ উাকা বুষ দিতে রগ হলেন। জামীন স্বরূপ ইংরেজ গুদামে তার ছুইলাখ টাঞ্চর মলমণ রেখে দেবার প্রতিশ্রতি দিলেন। অমিষেট কিন্ত নিজের ময্যদা রাখতে পারলেন না ফলে মীরকািমের ঘুষ খেবে ধরাশায়ী হতে হল) মীরকাশিম 'অমিয়েটের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা করতে রাজ” লেন ন|। মীরকাশিম দেশের কথা ভেবে চিগ্াঘ্বত “মীবশাপপের হাতে আর দশবৎসর বাঙলা থাকলে বাঙপাব অবস্থা হবে কি! শুধু কি এই দেখতে নবাব আলীবদ্দীর বংশে ওন্মগ্রহণ করনুম !, (প. প* পাতা-৫১) ষষ্ঠ দৃশ্যে সিরাজদোলার সমাধিস্থলে লুৎফউন্গিসা ও সিরাঁছ-কন্ত। গুলফনের সংগীত ও সংলাপ। ফকিরের বেশে মীরকাশিম এসে সিরাজন্দৌলাকে ধরিয়ে “দেবার অপরাধের ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। জানালেন যে বেগম লুৎফউন্লিসাঁর নয়লক্ষ টাকার অলঙ্কার অপহরণের উদ্দেশ্ট মহৎ ছিল। অন্তের হাতে এই মহামুল্য অলঙ্কার যাতে বিনষ্ট না হয় তাই তিনি আগেই সেগুলি সংগ্রহ করেছিলেন । লুৎফউন্দিস! মরকাশিষকে কৃতকর্মের জন্ত ক্ষমা করলেন ৪৪০ বাংলা প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা এবং নবাব সিরা দ্দৌলার খেষ স্থৃণ্তি চিহ্ন তার হাতের অঙ্কুরীয় মীরকাশিমকে দিয়ে তার কন্যাকে রক্ষা করার জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ ভানালেন। মীরকাশিম সরাভ-কন্থাকে নিয়ে প্রস্থান কবাঘাত্র» মীরণ, মহম্মদ্ীবেগকে সঙ্গে নিষে উপস্থিত হলেন । উদ্দেশ ঘসেটি ও আামিন। বেগমের সঙ্গে লুৎফউন্নিসটকেও ঢাকা প্রেরণ করা । সির'জ-কন্তাকে খুঁজে না পেয়ে তারা লুৎফউান্রসাকে নিয়েই প্রস্থান কবলেন। সিরাজ-কন্তা মীরকাশিমের হেফাজতে অবস্থান করতে লাগলেন । বাবার সময মীবকা।শম বলে গেলেন “এহ ভার ঘণ্দ স্বন্ধচ্যুই হয তথন আনবেন মীরকার্শিম জীবিত নাই |” ( প. প. পাতা-৬৯) অবণেষে প্রথম অঙ্গ অবশিত হল। এই অঙ্কের শেষে মীরকাশিম নাক, মতিবিবি নায়িকা ও মরণ খল-নাযক বপে প্রাতঠিত হলেন । ॥ আলোচনা । বাঙ্গালী দশকের চিন্তা ও ণুদ্ধকে থে সব নাট্যকার হেয মনে করেছেন তাদের মধ্যে শীরোদপ্রসাদ বিগ্ভাবিনোদের স্বান বেশ উঠতে । আলিবাবা, দৌলতে দুনিয়া, ভূতের বেগাপ, আহোরয়া বা খাভাহ।ন প্রভৃতি নাটকে তর কল্পনা বিপাসেব পারুচয় পাওয়া গেছে । এঁতিহাসিক নাটক লেখার সময তিনি একই পথ অবলম্বন কবেছেন অর্থাৎ ইতিহাস অনুসন্ধান না! করেই কেবল কল্পনার ওপর নির্ভর করে নাটক বচনা করেছেন । মনে কণেছেন যে বাঙালী দর্শকের ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতা তাঁকে নাটক নিয়ে যা খুসী করবার অধিকার দিয়েছে । যেমন বর্তমান নাটকে তেমনি ১৯১০ শ্রীহাব্দে রচিত “বাংলার মসনদ” নাটকে (সিরাজদ্দৌল! প্রবন্ধ দ্রষ্টব্য ) এবং ১৯০৩ খীষ্টান্বে রচিত প্রতাপাদ্দিত্য নাটকে এই কল্পন! বিলাসের রাশি রাশি উদাহরণ সঞ্চিত হয়ে আছে। পলাশীর প্রায়শ্চিত্তের অসংখ্য ও অগন্ত ভুলের না আছে কোন প্রযৌজন বা কারণ। এগুলি নাট্যকারের ইতিহাস অজ্ঞতার এবং এ্রতিহাসিক ঘটনা অবমাননার জাজল্যমান উদ্দাহরণ মাত্র । প্রথম অঙ্কের নাটকে মীরজাফর নবাব, রাজবল্লভ মন্ত্রী, তকি খা (সেনাপতি এবং মীরণের দাপাদাপিতে সবাই অতিষ্ঠ, ফকিরের বেশে মীরকাশিম মুশিদ্দাবাদের পথে পথে ভাল লোকদের বিপদ থেকে উদ্ধার করছেন। ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্ধে মীরজাফর নবাব হলে, মীরকাশিমকে করলেন মীরকাশিম ৪৪১ রংপুরের শাঁসনকর্তী। মন্ত্রীপদে বসলেন রায় ছুলভরাম কিছুদিন পর তিনি কলকাতায় গেলে (১৭৫৯) ওইপদ পেলেন নন্দকুমার | রাজবল্লভ মীরণের দেওয়ান হলেন এবং তারই প্রচেষ্টায় মীরণ বা ছোট নবাব নাসিব-উল-মুলুক মীরকাশিমের নামও সহা করতে পারতেন না। ১৭৬০ খ্রীগান্দের আগে মীরকাশিমের মুশিদাবাদে আসবার কোন গ্ুযোগ হয নাই । এই বছর নবাব মীরজাফর প্রথম ও শেষবারের জন্য জামাতার শরণাপন্ন হলেন । দিলীর ব্দশাহ পাটনা আক্রমণ করতে আসছেন শুনে মীরঙ্গাফর মীরণকে সৈন্য দিষে পাঠালেন বাদশাহ 'মাটকাতে। ঠিক সেই সময একদপ বগী নিয়ে মারাঠ শিবভট্ট কাটোয়াফ পৌছে গেলেন । নবাব বাধ্য হলেন জামাতাঁকে ডেকে পাঠাতে । মীরকাশিম মুশিদাবাদে এসে পৌছানমান্র দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে ঠন্তদ্ল বিদ্রোহ করল । মীরকাশিম নিজস্ব তিনলক্ষ টাকা দিযে তাদের তখনকার মতো শ্বকর্মে কিরে পাঠিয়ে দিলেন। এইখানে গিরিশচন্দ্র চমৎকারভাবে নাটক স্ুরু করেছেন ॥ মীরঙ্গাফরের সময কোখায় তকি খা ব| গুরগিণ খা। মযীরণের পানা! যাত্রার পর সৈল্যবাভিনীর বিদ্রোহ হয় এবং বজাঘাতে মীরণের মৃত্যুর খবর আসার পর সবাই যখন আঁশ করছে জামাই মীরকাশিমের ওপর মীরজাফর র্রাজ্য শাসনের কিছু ভার দেবেন তখন তিনি কেবল পূর্ণিয়ার ফৌজদারশ পাওয়ায় নবাবের মনের কি ভাব বয়ে চলেছে তার নিদর্শন পাওয়। গেল। এই নিদর্শন পাওয়ার পরই মারকাশিম কলকাতার সাহেবদের টাক। দিয়ে নবাবী কেনার কথা ভাবতে আরম্ত করলেন । এই নাটকে মোহনলাঁলের কন্তা এক প্রধান চরিত্র £য়ে গেছে। নাট্যকার জানতেন না যে ফৈজী নয় শ্বয়ং লুৎফউন্নিসা বেগমই মাহনপালের ভগিনী । মোহনলালের জামাতার পলাশীতে মৃত্যু হয়। সিরাজন্দোল। প্রবন্ধে মোহনলাঁল প্রসঙ্গ বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে স্থতরাং এখানে তার পুনরুল্লেথ নিশ্প্রয়োজন। ॥ দ্বিতীয় অঙ্ক ॥ দ্বিতীক্ন অঙ্ক আরে। আজগুবি ঘটনার সমাবেশ। প্রথম দৃশ্যে দেখান হয়েছে যে মোহনলালের কন্তা মতিবিবি মাছ ধর! নৌকায় চেপে পাটনায় পালিয়ে যাচ্ছেন। সঙ্গে রাজা রামনারায়ণের দেহরক্ষী লহোরী বেগ । 3৪২ বাংল। এতিহাসিক নাটক সমালোচনা এ সময রমন গ্রায়ণেব সঙ্গে ম্তিবিবির বিবাহের প্রস্তাবও করা হয়েছে । মনে হয ব্রামনাবাধণেব ধাপ গুপে মতিবিবি মাকুগ । এমন সময় সমসের বশ খবব দিণ নে মাভববির পলাষন সংবাদ পেয়ে মহম্মদীবেগ দলবল নিয়ে আসছে কেই পথেব মধ্যে মাতিবিবি নৌকা ছেছে এক চটিতে আশ্রয় এনেলেন। ছি৩্ষ দৃশ্যে এই সংবাদ ম"বকাশিমকে দিয়ে সমসের তার প্রত মীরণের কাছে চলে গেল। সংলাপে মনে হয় যে সমসের মতিবিবিকে সিরা” মঠিষী লুৎফউগ্নিসা বলে ভূ করেছে। মতিবিবি মীরকাশিমের কাছে আশ্রয় চাইতে এলে মীরকাশিম তার বপ দেখে বিমোহিত হলেন। চ$্ুর মতিবিবি কিন্ত মীরকাশিমকে দ্রেখেই তাকে জিন্মতনহলের স্বামী বলে চিনতে পারলেন। ইতিমধ্যে মহন্মৰীবেগ ও তার দলবল আক্রমণ করলে মীরক্াাশমের পরাক্রমে মহন্মদীবেগের গতন হল এবং অন্তের। পলায়ন করল । মতি ববি মীরকাশিমের কাছ “থকে তার ফঞ্চিরের পোষাক চেয়ে নিপেন। মীরকাশিমের মতিবিধিকে “থে যুদ্ধ হবার নিদর্শন রয়েছে সংলাপে-্যদি কেউ বাগলায় নবাবী করতে চায়, সে ধেন তোমার ন্যায় শক্তিশালিনীকে মসনদের অংশভাগিনী কখে।? তৃতীয় দৃশ্ঠে মীরণের অন্চরর। তাদের পরাজয়ের কাহিনী বর্ণনা! করছেন। এাই শুনে মীরণ অগ্রিশমী। মীরকাশিমকে হত্যা করতে না! দিয়ে তার পিতা থে কি অন্যায় করেছেন তা উচ্চৈশ্বরে ধোষণ| কবতে থাকেন । সমসেব ফিরলে মীরণ বিশ্বাসঘাতক্তাব অপরাধে তাকে হত্যার আদেশ দিলেন । এমন সময় মীরকা'শম এসে অভিধোগ কবুলেন যে মীরণ-তার স্ত্রী পুত্রকে রংপুব থেকে অপহরণ করেছেন । কাপুরুষ মীরণকে বলতে হল যে পিতা নবাব মীরজ্ঞাফরের আদেশে এই কর্ম করা হয়েছে । মীরকাশিম তখন সমসেরকে পাঠালেন তীর স্ত্রী পুত্রকে রক্ষা করতে । এমন সময় হটাৎ ভ্যান্দিট্রাট সাহেব উপস্থিত । মীরণ তাডাতাড়ি জানালেন বে তারা ঝগড়া করছিলেন না বরঞ্চ রাষ্ট্রের উন্নতি কি করে হয় তারই আলোচনা করছিলেশ। চতুর্থ দৃশ্টে নবাবের কক্ষে রাজবল্লভ আর গুরগিণ খ।। গুরগিণ খা র'জবল্লভকে মীরকাশিমের স্ত্রী পুত্রকে নবাবের কাছে নিয়ে আলার জন্য সাধুবাদ দিলেন। ' তারা রংপুরে থাকলে মীরণের প্ররোচনায় অবশ্তই নিহত হতেন এমন আশঙ্কা গুরগিণ প্রকাশ করলেন । তিনি আরো জানালেন যে তিনি গোপন খবর মীরকাশিম 8৪৩ পেয়েছেন কলকাতার গবর্ণরপদে ভ্যান্সিট্রাট সাহেব বসছেন। নবাব এসে উপস্থিত হলে গুরগিণ অভিযোগ করলেন ঘে কোম্পানীর দাদন অসহ্ হয়ে উঠেছে । বললেন_-সবাই কৌন্সিলে অভিযোগ করতে পারে না এভাবে চপলে দেশের কারিকররা বাচবে না তাই তাতভীরা সবাই বুচো আঙল কেটে ফেলছে ।, এখানেও সহসা ভ্যান্সিট্রাট সাহেব হাব হযে নবাবকে কোম্পানীর কাছে তার দেনার কথা স্মরণ করিষে দিলেন । রাজবল্লভকে জানালেন যে তিনি ফ্লাইভের সপ্গে সাক্গ্যাত করতে এসেছিলেন ফেরার পথে নবাবের সঙ্গে দেখা করে গেলেন। পঞ্চম দৃশ্টে গৌড়পথ ৷ মীরকাশিম ও ফকির অতীত গৌড়ের গৌরবে মোহিত । ফকির শোনালেন সপ্তদশ অশ্বারোহী লক্ষণসেনের সময় বাউলা জয় করেছিণ। পশাশাতে মুষ্টিমেয় পরাজিত করল অসংখ্যকে | স্থতরাং আত্মশক্তিতে নির্ভর করতে হবে । এই আত্মশক্তি তাকে সর্বপা পথের নিশান বশে দেবে । ষ্ঠ দৃশ্তে লাহোরীবেগ ভেলায় করে মতিবিবিকে নিষে পদ্মা পার হল। মতিবিবিব এই অসম সাভসের তারিখ করতে মীরকাশিম পন্মাপারে উপস্থিত । মনে হয় মতিবিবি মীরকাশিমকে প্রচণ্ডভাবেই আকর্ষণ করেছিলেন । কারণ মীরখাশিম নবাব হঝার ইচ্ছা প্রকাশ করশে মভি।বাণ লুন্ধ না হযে বলছেন জনন মহল নবাব মহিষী হবার উপযুক্ত ।” এমন সময় ভ্ত্রীলোকের আর্ত চিৎকারে দৃশ্যান্তর | সপ্তম দৃশ্যে দেখা গেল লুৎফউন্নিসাকে শবে ঙুবিয়ে মারার চেষ্টা হচ্ছে। মীরকাঁশিম আর লাহোঁরীবেগ দৌডে গিয়ে তাকে রশ] করলেন । কিন্তু এই সুযোগে আমিনা বেগম আর ঘসেটি বেগমকে জপে ডুবিষে হত্যা করা হল। তখন ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে মতিবিবি চললেন । পিতৃহগ মীরণকে খুঁজে বার করে প্রতিশোধ নিতে । যে বজরায় ল্‌ফউন্নিসাকে আনা হয়েছিল মীরণের সেই বজরায় চেপেই মীরণের উদ্দেশে মতিবিবি চলে গেলেন । * ॥' আলোচনা ॥ দ্বিতীয় অঙ্কের সবটাই আফাটে উপকথা । ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীধ্তি ও সামাজিক পরিবেশ উপেক্ষা! করে মনের আনন্দে মিথ্যার বেসাতী কিভাবে জমান যায় এই অন্ক তার প্ররুষ্ট উদ্বাহরণ। সমন্ত অঙ্ক অনৈতিহাসিক 3.৪ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। ম্ৃতরাং নস্যাৎ যোগ্য। এই অঙ্কে মীরণকে নিয়ে অনেক ঘটন। ঘটেছে । পপাশীর পর মীরণ মাত্র তিন বছর ভীবিত ছিলেন। এই লময তিনি যে খেল! সুরু কবেছিলেন ভা সতাহ নাটকীয়। নবাব হবার ইচ্ছা তাব £যেছিল বি সেচন্য তি ন গিতার মৃত্যু পণ্যস্ত অপেক্ষা করতে চান নাই। এবারেও যডযন্ত্র হল বাঁ91 ছুলভব'মের নেতত্বে। উদ্দেশ্য অকর্মণ্য মীরঙজজাফরকে সরিয়ে তার পুত্র মীরণকে নব।ব কণা । সিরাজদোলার পতনেব ষড়যন্ত্রের সময়ও গ্রধানচক্রী বাজা ছুলভবাম, যান বরায়ছুলভ নামে বেশী পরিচিত, একথা ক্লাইভ স্বয়ং একাধিকবাণ পণ্ডনে কোম্পানীর পরিচালকদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন । পলানার পর মশরগাফব পেলেন নবাবী কিন্তু ছুলভরামের [বশেষ কিছু হল না, উপরন্ধ মন্ত্রীত্বতে ভাগ বসালেন তারই আশ্রিত নন্দকুমার আর নবাবও রায়ছুলভকে ছেড়ে নন্দকুমারের মুখাপেক্ষী হয়ে পডলেন। অসহ্‌ হবারই কথা । তাই রায়ছণভ নৃতন জাল খুনলেন। এবার তার প্রধান সহায় মীরণের দেওয়ান তীক্ষধী রাজবল্লভ। কিন্ত গোলমাল হল মীরণকে নিয়ে। তার ধারণা হণ যে তিনি নবাব হয়ে গেছেন তাই একেবারে প্রকা্যভাবেই আলিবদীর ছুই কন্তা আমিনা আর ঘসেটিকে জলে ডুবিয়ে হত্যা করালেন। মীরগাকৰ প্রমাদ গণলেন। কাশিমবাজ।র কুঠির প্রধান হেস্টিংস সাহেবকে ডেকে এনে “শোনালেন তার প্রাত মীরণের ছব্যবহারের ইতিহাস। মোগল নবাব-পুত্রদের পিতৃহত্যার বংকাহিনী শুনিয়ে মীরণের ক্ষমত] হাসের প্রস্তাৰ করশেন। সেই সঙ্গে এই কথা শোনাতে তুললেন ন! যে মুশিদাবাদে থাকলে রাষছুলশের ভীবন বডই বিপদসস্কুল হয়ে পডবে। রায়ছুলভ নিজেও সেট! বুঝতে পেরেছিলেন তাই দ্বিধা না করে চটপট মন্ত্রিত্ব থেকে ছুটি নিয়ে কলকাতায পলাধন করলেন। মীরণ এটাকে ষড়যন্ত্রে প্রথম পর্ব মনে কবে তার বিরাট নাবীবাহিনী নিয়ে মগ্ধ ও লাম্পট্যের বন্তা বহিয়ে কলকাতায় এসে উপস্থিত হলেন। ব|যছুলত তথন চুপসে একেবাবে চামসী | নন্দকুমারের পরামর্শে নবাব মীবজাফর ওলন্দাজদের সঙ্গে াঁলোচনা চালালেন ইংরেজদের বিতাডণ করবার ইচ্ছায় । এর আগেই ফরাসীদের নাড়াচাডা করতে গিয়ে নবাব বিধ্লকাম হয়েছেন এবার ওলন্বাজদের সঙ্গেও হলেন। ক্লাইভ থাকতে ইংরেজদের সঙ্গে শস্ত্র পরীক্ষায় কেউ রাজী হলেন না। এইসব কথাই হেস্টিংস ক্লাইভ সাহেবকে লিখে জানালেন ।৭৫ অবশেষে ক্লাইভ স্বয়ং মীরকাশিম ৪৪8৫ নবাব সকাশে উপস্থিত হতে সব মেব কেটে গেল। মীরক্াফর ক্লাইতের মাজীবন আনুগত্যের অঙ্গীকার করলেন। এই সময় থেকেই ননাকুমার ক্'ইভের নগরে পড়লেন । ক্লাইভ নন্দপ্ুমারকে নানা কাজের ভার দিতে হুক করলেন । বধমানের ব্বাঞজজার কাছ থেকে খাজনা সংগ্রহের ভার দেওয়াতে গালমাল বেধে গেল কারণ এই কালের ভার হেস্টিংস সাহেবের ওপর ন্ত্ত ছিল। বলাচলে হেস্টিংসের সঙ্গে নন্দকুমারের এই সময় থেকেই বিরোধ স্বর হল। মীবরণের কলকাতা থেকে ফিরে ধারণ! হল যে তিনি একজন মস্ত বেদ্দী এটা গ্রমাণ করতে পারলে ইংরেজরাঁও তাঁকেই নবাব করবে । তবে ওই রুগচটা! রাশভারি ক্লাইভ সাহেবটাকে তার পছন্দ নয় । কলকাতায় শুনে এসেছেন ক্লাইভ দেশে ফিরছে কাছেই সৈম্তবাহিনীকে হাত করার এই চমৎকার অবকাশ । যুদ্ধ করতে গেলেন মীরণ সাহেব, ছোটে নবাব বলেই ঘিনি সমধিক খ্যাত। সঙ্গে দেওয়ান বাজবল্লভ। সৈন্তসামন্ত প্রয়োজনের অতিবিক্তই সঙ্গে চলল । তারপর বিনামেঘে বজ্রপাত--বজ্বপাতে মীরণের মৃত্যু ২রা| জুলাই ১৭৬০--ঠিক সিরাজদ্োৌলাকে হত্যা করার দিন। মৃত্যুর খবর চাপ! রেখে মুতদেহকে হাগুদায় বেধে মুশিদাবাদে আনবার চেষ্টা করলেন বাজবল্লভ। সুবিধা হল না। দুর্গন্ধ সত্য প্রকাশ করে দিপ। মৃতদেহ নাঁময়ে রাজমহলে কবরস্থ করা হল। সিরাজ্দৌল্লার মাম! মারণ এক নাটকশয় চরিত্র । ছুঃখের বিষয় সে বিষয়ে জ্ঞানের অভাব থাকায় নাট্যকার স্ীরোদপ্রসাদ কেবল কল্পনার রাঁজন্বেই উড্ডান হয়েছেন । মাটিতে নামবার ভরসা করেন নাই । কিন্ত পাখীও চিরকাল উড়তে পারে না তাই ক্ষীরোদ- প্রসাদকেও নামতে হয়েছে আর নামামাত্র ঘটেছে সাংঘাতিক হাশ্তকর তুর্ঘটন। । তৃতীয় অঙ্কে এই অনাবিল অসত্যের অনর্গল প্রকাশ দেখে আশ্চর্য্য হওয। যায় না। তৃতীয় অঙ্ক ॥ সুরু থেকেই কাল্পনিক ঘটনার প্রাচ্র্্য । তৃতীয় অঙ্কের প্রথমেই হলওয়েল, এলিস ও ভ্যান্দিষ্টার্ট মীরজাফরের পদচ্যুতি আলোচনা করছেন । জ্গৎশেঠ মহাতপঠাদের কাছে হলওয়েল টাকা চাইলেন কেননা তিনি কোম্পানীর তহবিল ভেঙে রেখেছেন টাকা গেলে পূরণ করবেন। জগৎশেঠ এখানে ৪৪৬ বাংল। রতিহাসিক নাটক সমালোচনা “মাতাব' নামে আথ্যাত, টাক দ্রিপেন না। গুরগিণ খা বুদ্ধি দিলেন যে এখন টাকা দেবার সময় নয় কারণ ওই টাকা অন্য কাজে লাগান হবে। অবশেষে মীরঞ্াশিম টাকা দিতে রাজী হলে সবাই একবাক্যে স্বীকার করলেন থে এমন ভাল পোককে নবাব করা উচিত । ভ্যান্সিট্রাটও মীরকাশমকে জানালেন যে $ইভ সাহ্বেও বিলেতে ফিরে ঘাবার সময় তার কানে কানে বলে গেছেন যে মীরণকে নবাব না করে থেন মীরকাশিমকে নবাব করা হয়। (পঃ পঃ পাতা ১১০) এতে মীরকাশিম খুব সন্তষ্ট হলেন। ছিতীয় দৃশ্তে মীরণের শিবিরেও প্রচণ্ড ছুধোগ । মতিবাবি মীরণকে হত্যা করতে এলেন । মীরণ তার (সই সংহ।বসুততে ভীত হয়ে ক্ষমা চাইল । মতিবিবি তখন ঘসেটি বেগম ও আমিনা বেগমের লে ডুবে মৃত্যুর দৃশ্য বর্ণন| করে তাদের অভিশাপ বানী মীরণকে পোনালেন। মীরণ এই সব শুনে প্রচণ্ড ভীত হলে ম'তধিবি তার ষথেষ্ট শাস্তি হয়েছে বিবেচনা করে যেই প্রস্থান করলেন অমনি অভিশাপ সফল করে বজপাতে মীরণের মৃত্যু হল। মতিবিবিও ভান হারালেন। রামনারায়ণ ছুটে এসে মতিবিবির জ্ঞান সঞ্চার করলেন বটে কিন্তু তাকে চিনতে পারণেন না। ধোর ছুর্যোগের মধ্যে এই দৃশ্য শেষ হল। তৃতীয় দৃথ) অতি অভিনব । পুত্রের মৃত্যুর খবরে শোকাচ্ছন্ন নবাব মীরজাফর নিজ কক্ষে বসে মদ্যপন করছেন এবং ইংরেঙ্ীতে মাতপামি করছেন ঝা ইংরেছী ভাষায় কপচাচ্ছেন। মণিবেগম এসে জানালেন থে মীরণের বজ্রপাতে মৃত্যু মীরকাশিমের ষডবন্ত্র॥ এবিষয়ে নবাব একমত হলেন। ইতিমধ্যে রাজপথে ইংরেজ সৈন্তের উপস্থিতির থবর পাওয়া গেল। মীরকাশিমের স্ত্রী ও পুত্র এলেন নবাবকে সমবেদনা! জানাতে | তারা মণিবেগমের পুত্র নাজামান্দোল”কে তার পরবতঙা নবাব মনোনীত করতে অনুরোধ করলেন । নবাব রাজী হলেন না। বলদেন নাজামাদ্ে'ল। বালকমাত্র। তিনি মীরকাশিমকে ওই পদ দেবার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তার কন্তা ও দৌহিত্র আনন্দিত হয়ে বলে ফেললেন যে মীরকাশিম অত্যন্ত যোগ্য ব্যক্তি । আরযায় কোথা নবাব বিদ্রোহ ও ষড়যন্ত্র একসঙ্গে আবিষ্কীর করে, কন্তা ও দৌহিত্রকে রংপুরে নিবাসিত করলেন। মন্ত্রী রাজবল্লভ বল্লেন “ত1 হতেই পারে না” এবং সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিজের আবাসে আশ্রয় দিজেন। (সুকুমার রায় মহাশয় হযবরল লেখার সময়ও এমন উদ্তট কল্পনা করতে পারেন নাই ।) সেনাপতি তকী থা খবর মীরকা শিম ৪৪৭ দিল যে চকের রাস্তা কোম্পানীর সেপাহএ ভরে গেছে । সঙ্গে সেনাপাত কেলড। নবাব তকার্থাকে তলে তলে তৈরী থাকতে বললেন। সমসের এই সুযোগে স্মরণ কবিষে দিলেন পলাশীর প্রান্তরে কেমনভাবে সিরাজ তার পদতপে পঙে ক্রন্দন করেছিলেন। 'আরো বললেন “সোনার বাংলা শুধু আপশি ও আপনার পুত্রের নাচাশয়তায় চিরকালের মতে! বিদেশীর হাতে চলে গেল।” এমন সময় হটাৎ ভ্যান্সিট্রাট সাহেব প্রবেশ করলেন। (পৌরাণিক নাটক লিখে শ্রীকুষ্ণ প্রভৃতি দেবতা চারত্রকে যথন তখন যেখানে সেখানে প্রবেশ করিয়ে নাট্যকার এমন বদঅভ্যাস করেছেন যে ভ্যান্সিট্রাট সাহেবকে শ্রীকৃষ্ণের আসন দিষেছেন।) ভ্যান্সিট্রাট সাহেব মীরকাশিমকে সহকারী নবাব করার প্রস্তাব দিলেন । সে প্রস্তাব নবাব উপেক্ষা করলে নাজামান্দৌলাকে সহকারী নিষুক্ত করতে চাইলেন। নবাব এ প্রস্তাবেও আপত্তি জানালে গবর্ণর ভ্যান্সিট্রার্ট সাহেব মীরজাফরকে নবাবী থেকে অপহৃত করণেন এবং তাকে অবিলম্বে কলকাতা যাবার হুকুম করলেন। চতুথ দৃশ্ত আরো! অদ্ভুত কাহিনীর সমাবেশ। মন্ত্রী রাজা রাজবল্লভ শ্বীকার করে ফেললেন যে মীরজাফরকে নবাবী থেকে সরাবার চক্রান্তটি তাঁরই । রাঁজবল্লভ সবাইকে জানালেন থে ক্রমাঘ্বয়ে চক্রান্ত করে তিনি ক্লান্ত । তবে এবারকার কর্ম সৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত কারণ তিনি বাঙলার সামান্ততম অংশ রক্ষা করতে চেষ্টা করেছেন। তকী খা তাকে সাপুবাদ জানিয়ে মীরকাশিমের পাশে দাডাবার ইচ্ছ। প্রকাশ করলেন। এমন সময় মীরকাশম এলে সবাই তার আন্গত/ শ্বীকার করল। লঙ্কাঁভাগের খবর পাওয়৷ গেশ অর্থ।ৎ মীরকাশিখের নবাবীতে রাজবল্লভ দেওয়ান, আলি ইব্রাহীম উজীর, গুরগিণ খ| গোলন্দাজ। তকীখা পায়গাপের সেনানায়ক আর লালমিং রেসেলদার। গঞ্চষ দৃশ্তটে মীরকাশিম নবাবী নিয়ে ব্যপ্ত স্ত্রীপুত্র কোথায় খোজ নেবার সময় নাই । " রাজবল্লভের বাড়ীতে জিন্নতমহল ও বাহার স্বামী ও পিড়ার ওদ্াসিন্তে ছঃখিত ।* অবশেষে নবাব সংবাদ পেয়ে তাদের ডেকে পাঠালেন । এতে স্ত্রীর অভিমান বৃদ্ধি পেল তিনি কলকাতায় পিতার কাছে বাত্রা করলেন । এদিকে হষ্ঠ দৃশ্তে কলকাতা অভিমুখী নব৷বের নৌকা সিরাজের সমা ধিশ্থলে* আটকে গেছে । সেখানে লুৎফউদ্গিল! মীরগাফর ও মাঁণবেগমকে আশ্র্ দিলেন। এমন সময় স্বামীর প্রতি অভিমান করে জিন্নত এসে হাজির ৪ ৪৭৮ বাংলা এ্রতিতাঁসিক নাটক সমালোচন! হলেন। মীরজাফর এইসব নৃতন ষড়ঘন্ত্র মনে করে মপিবেগমকে নিয়ে পলায়ন করলেন। তখন জিন্নত ও বাহার আত্মহত্যার সংকপ্প গ্রহণ করলেন । কিন্তু পু্ফউন্সিস| বাধা দিলেন । এমন সময় নবাঁব মীরকাশিম এসে স্ত্রী পুত্রের অভিমান দূর করলেন । সঙ্গে নিয়ে চললেন সিরাজ-কন্তা গুলফনকে উদ্দেশ্য নজ-পুত্র বাহারের সঙ্গে তার বিবাহ! বেশ মধুর মিষ্টি মিষ্টি আবহাওয়া । এই প্রস্তাবে লুৎফউন্নিসা মোহিত । তিনি গুলফনকে তার ভাবী প্রভুর হাত (বরে যেতে বললেন । মীরকাশিম মহানন্দে নবাধী ও স্ত্রী পুত্র ভাবী পুত্রবধূ কলকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীতে ফিরে গেলেন। আলোচনা ॥ তৃতীয় অঙ্কও অনৈতিহাসিক । মীরকাঁশিমের অর্থ দ্বিয়ে নবাবী কেনার নটনা ঘটে ১৭৬০ খুষ্টান্বের ২৭শে সেপে্ম্বর ( মীরকাশিমের জীবনের প্রধান ঘটনার তালিকা দ্রষ্টব্য ।) সেই আসরে জগৎশেঠ মহাতপচাদ বা গুরগিণ ঠা উপস্থিতির কারণ বোঝা গেল না। মীরকাশিম জগৎশেঠদের অবিশ্বাস করতেন স্থতর।ং তারা সামনা সামনি ইংরেজকে সাহায্য করবে ভাবা অসম্ভব । “ই সুত্রে বল! প্রয়োজন যে বাঙালী নাট্যকারদের হাতে জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্ধয হয় কুণীদজীবি নইলে নবাবের কর্মচারী রূপে চিত্রিত। তারা যে তখন ভারত- র্ষের সব থেকে বড় ব্যাঙ্কার এট! অনেকেই বুঝতে পারেন নাই। পরবর্তী ৃশ্ঠ কিন্ত সময়কে পিছু হাটিয়ে চলে গেল ২রা / ৩রা গুলাই । তৃতীয় দৃশ্য এক লাফে অক্টোবর মাসের বাইশ দিনের ঘটনাকে এক দৃশ্যে সীমাবদ্ধ করল। গিরিশচন্্রকে অনুকরণ করতে গিয়ে তার গুণগুলি বুঝতে পারেন নাই কিন্ত দীষটা উঠে এসেছে । এ সময় মণি বাঈজী বেগম হননি বাঈজীমাত্র আর কোথায় তখন নাজামাদন্দৌল! ! খুব কাছাকাছি হলেও মাতৃজঠরে | মীরজাফরের কন্যা বা দৌহিত্র কোন নামই ঠিক নাই । লুৎফউন্লিস এবং তার কন্তা উন্মৎসায়রা বেগম ১৭৫৮ ব্রীষ্টাব্েই ঢাকা চঙ্গে যান। “সখানেই কন্ঠার বিবাহ হয়। চারটি কন্ত! রেখে উন্মৎসায়রা বেগম ১৭৭৪ খ্বীগ্াব্ধের প্রথমার্ধে ঢাকায় পরলোক গমন করেন। এই চারটি শিশু কন্তাকেই লুৎফউন্লিসা বেগম গভীর ম্নেহে পালন করে বিবাহ দেন।৭৬ নাতজামাইগণ নকলেই ঢাকার প্রতিষ্ঠিত অভিজাত বংশের সম্তান। প্রৌডত্বের শেষে মীরকাশিম ৪৪৯ পুৎফউন্লিস! মুশিদাবাদে ফিরে আসার আবেদন করেন তদনুযায়ী তাকে মুশিদাবাদে ফিরে তার প্রভুর কবরের রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয। করেস্টার বলেছেন এই সময ১৭৮২ খ্রীগাব্ব৭৭, মুতাক্ষরীণেব মতে এই সময় ১৭৮৯।৭৮ এবপর লুৎফউন্িস1| মাত্র বছর খানেক বেঁচে ছিলেন ১৭৯০ খানের অক্টোবরে তার মৃত্যু হয় । মীরকাশিমের সিরা্কন্তার সাঙ্গ নিজের পুরের বিবাহ প্রস্তাব একান্ত অনস্তব ঘটনা কারণ মীবকাশিম লুৎফউন্নিসার কন্যাকে দ্াপীকন্ত! ছাড় আর কিছু ভাবতেন না । রাজ! রাজবল্লভ যে মীরকাশিমের বিপক্ষীয় দলের লোক ছিলেন সেটা নাট্যকার ভুলে গেছেন। বন্ত্রব্যবসাষী গুরগিণ খা বা থোজা গ্রেগরী ও অন্ান্ত আর্মেনীয় যুদ্ধব্যবসায়ীগণ ১৭৬১র জুলাই-অগাষ্টের আগে মীরকাশিমের সঙ্গে যোগদান করেন নাই । অর্থাৎ নাট্য ঘটনার একবছর পবে। ভ্যান্সিট্রার্ট-মীরজফর ও নবাবচ্যুতি প্রসঙ্গ গিরিশচন্দ্রের আলোচনার সমঘ বিস্তারিত ভাবেই করা হয়েছে তাই এখানে তার পুনরুস্তি নিশ্্রয়োজন। অস্ুসন্ধিৎসা জাগলে মীরকাশিমের জীবনের প্রধান ঘটনার তালিক] দ্রঈব্য । এই অস্কের কোথাও ইতিহাস জ্ঞানের মতো নাট্যজ্জানেরও পরিচয় নাই । মাসা যাওয়া কথাবার্ত।, সন্দেহ, দুঃখ, বীরত্ব, দয়া, করুণা, অতিমান সবই প্রাণহীন কেবল পুতুলের হাতনাডা, বিচরণ, আসা যাওয়া । মনের কোথাও কোন ছাপরাথে না। চতুর্থ অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে রাজবল্লরভ আর গুরগিণ । নৃতন কায়দায় সৈম্ভবাহ্িনীকে শিক্ষিত করা হচ্ছে ইংরেজের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তরতির জন্ত । মীরকাশিম'এসে জানালেন বে কোম্পানীর অত্যাচারে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন । অর্থাৎ ক্ষীরোদপ্রসাদের নব ইতিহাসে অমিয়েট সাহেবের মৃত্যুর আগেই মীরকাশিমই যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। হা হতোন্মি। তারপর দেখালেন যে অমিয়েটের প্ররোচনায় এবং পৃষ্ঠপোষকতায় দেশভক্ত রামনারায়ণ বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন । মীরকাঁশিষ সমসেরকে বামনারায়ণকে বন্দী করার অনুরোধ জানালেন । হ্যা অনুরোধ | সংলাপ-রামনারায়ণকে গ্রেপ্তার ৪০ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা করে আনতে পার ?” (প: পাঃ পাতা ১০৯ ) অবশেষে রাগ চড়ল, তখন বেঁধে আনখার আদেশ দিলেন রামন|রায়ণ বেইমানকে | দ্বিতীয় দৃশ্যে রাজা রামনারায়ণ বাড়ীতে বসে বসে জমিদারদের ওপর মীরকাশিমের অত্যাচারের কাহিনী বর্ণনা করছেন। জানাচ্ছেন যে রাজস্ব জম করতে নায়েব গোমস্তা সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে । তবে কেউ মীরকাশিমকে ফাকি দিতে পারে নাই। এলিস সাহেব রামনারাধণকে বিদ্রোহ করতে ভরস] দিচ্ছেন--বলছেন ক্লাইভ জোর করে ভ্যান্দিট্রাটকে গবর্ণর করেছে । অমিয়েট সাহেব বিলেতে পরিচালকদের আদালতে আবেদন করেছে ভ্যান্দিট্র!ের গবর্ণরী টিকবে না। ইতিমধ্যে ম্যাকগোয়ার জানালেন যে তার প্রতি পাটনার ভার অর্পণ করা হয়েছে এলিস সাহেব অবসর নিতে পারেন। এলিস ভ্যান্ষিট্রাটের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। মতিবিবি এসে বখন সব শুনলেন তখন মীরকাশিমের ব্যবহারে ছু:ঃথিত হলেন। রামনারায়ণ মতিবিবিকে কামন] করলেন । তারপর ভালবাসার উদাত্ততাঁয় বলে ফেললেন যে আসলে তিনিও একজন দেশভভ্ত। মীরকাশিমের প্রতি অভিমানে বিরুদ্ধ পক্ষ নিয়েছেন । মীরকাশিম নাকি তার অধীনে একদিন কর্মচারী ছিলেন। নবাব হবার পর রামনারায়ণকে যথেষ্ট খাতির না করার জন্তেই রামনারায়ণ তাকে একটু শিক্ষা দিতে মনম্থ করেছেন। অধশ্য তিনি স্বীকার করেন যে একমাত্র মীরকাশিমই বাঙালীকে মুক্ত করতে পারবেন। সমসের এসে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা দেখালে স্থবোধ বাপকের মতো রামনারায়ণ বন্ধাথ স্বীকার করলেন । তৃতীয় দৃশ্যে ভ্যান্সি- ট্রাট ও নহবৎ রায় দেশের অবস্থা আলোচনা করছেন। ভ্যান্সিট্রাট বলছেন-_ নবাধের কাজে কোন দোষ নাই। নহবৎখ| স্বীকার করছেন সব দোষই কোম্পানীর । তাদের গোমস্তাদের অত্যাচারে রা'জসাহী শ্মশান হয়ে গেল। অমিয়েট ও হে সাহেবছয় প্রবেশ করলে ভ্যান্সিন্টরার্ট সাহেব বলছেন যে নবাব বে-আইনী ব্যবস| বন্ধ করে ভাল কাঞ্জ করেছেন । অমিয়েট ও, হে একথায় যথেষ্ট উদ! গ্রকাশ করছেন। অমিয়েট গবর্ণরকে “া181101” বলে 25891,এ আহ্বান জানালেন । এমন সময় কর্মচারী এসে খবর দিল “দেশী মহাজনের € * ক্ষীরোদপ্রসাদ জানতেন ন| যে কোম্পানীর পরিচালক সভার নাম ছিল--?৩০এ1 06 1011906015+ উহা কোন আদালত নয়। মীরকাশিম 9৫: গা পাটনাঁর বাজারের সমস্ত কোম্পানীর যাল গুদাম থেকে ফেলে দিয়েছে । এস সাহেব কতকগুলি সেপাই নিয়ে বিরোধিত! করতে গিয়েছিলেন নবাবের ফৌজ তইতে চড়াও হযে এলিন সাহেবেব সব সেপাইদের মেরে ফেলে তাঁকে কয়েদ কবে নিষে গিয়েছে ।” (পঃ পাঃ পাতা ১৬১) এই কথ। গুনেই সাহেবরা খুনকর+ ফাপী দাও? প্রভৃতি ধ্বনী দিতে দিতে বেবিষে গেলেন । ভা*শ্লিট্রাট 1-9117781670৬/ 09 8015১ বলায় অমিয়েট 40077 ৬০11) ০1 বলে চনে গেলেন। (পঃ পাঃ পাতা ১৬১) চতুর্থ দুশ্টো রাষদূর্ণভ ও মাঁতাঁবটাদ নবাবের সঙ্গে কোম্পানীর যুদ্ধ বাধায চিন্িত। অমিষেট এসে বললেন ণ্য র শ্ন'রাধণকে বাচাতে তিনি নরকে যেতেও প্রস্তৃত । তে এসে চনীলেন ঘে নবাবের মাসল মতলব তারা ধরে ফেলেছেন এবং সেটা হল কোম্পানীর ব্যবসা বন্ধ করা। এই জন্তেই জাঁল দশ্তকের মিথ্যা খবর চারিদিকে রটনা হচ্ছে! রাযদ্র্লভ হে সাহেবের হুকুমে এলিসকে পত্র দিতে বাজী হলেন যে তিনি যেন নবাবের বিরুদ্ধে ধুদ্ধার্থে প্রস্তুত থাকেন । পঞ্চম দশ্যে কলকাতায় মীরজাফরের বাডীতে মীরজ্ঞাফর ও মণিবেগম । মীরভাফর ভাঁড়ামী করছেন । রাষদ্ুলভ খবর দিলেন যে নবাব পোষাক পরে প্রস্তবত থাকুন কারণ তিনি আবার নবাব হতে চলেছেন। মণিবেগম এই শবাবীর নরকে স্বামীকে ফিরে যেতে দিতে আপত্তি করলেন । জানালেন যে মীরকাশিম তার সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছেন সেজন্য তিনি তাকে দ্বণা করেন কিন্ত নবাবী আর নয়। মীরজাফর নবাৰ হতে রাগী হলেন না। তখন এলেন ভ্যান্সিট্রাট» অমিয়েট ও হে তাদের বহু উপরোধে মীরজাফর শেষ পথ্য্ত শবাব হতে রাজী হলেন। মীমাংসার কথা বলে সম্য়ক্ষেপ করবার জন্ত অমিয়েট আর হে মুঙ্গের যাত্রা! করলেন । ষ্ঠ দৃশ্যে মীরকাশিম মাতাবটাদকে ঘনঘন কলকাতায় যেতে দেখে সন্দেহ করছেন এবং তাকে মুঙ্গেরে নজরবন্দী করে রাখছেন। অমিয়েট ও হে এলে কেবল অযিয়েটের সঙ্গে নবাব সাক্ষাৎ করছেন । তাঁদের কথোপকথনে এলিসের পাটনা আক্রমণের সংবাদ, বাণিজ্যেক্ ওপর সব সরকারী মাশুল তুলে দেবার সংবাদ এবং ইংরেজের পাটন! অভিমুখী মাত্র এক বজর] অস্ত্রশস্ত্র আটক করার সংবাদ জানান হচ্ছে । অবশেষে হেকে জামিন রেখে নবাব অমিয়েটকে ফেরার অঙ্গমতি দিলেন। এই অঙ্কের শেষ ও সথ্চম দৃশ্তে সিরাজ-কন্তা গুলফনের সঙ্গে মীরকাশিম-পুত্র 8৫২ বাংলা &তিহাসিক নাটক সমালোচনা বাহারের প্রেম । সহসা বেগমমহলে অস্বিয়েট সাহেব প্রবেশ করলে বাহার আপন্তি জানাচ্ছে। বাহারের পরিচয় পেয়ে অমিয়েট সাহেব তাকে চুরি করে নিয়ে পালাবার সংকল্প করছেন। এমন সময় মতিবিবি এসে গেলেন। বাহার নিষ্কতি পেলেন। অমিয়েট বলছেন--আমার কাছে পিজ্জুল আছে জান। মতিবিবি অসি আক্ষালন করে বলছেন “এইথানা তোমার পেটের ভেতর ঢুকে যেতে পারে জান!” চমত্কৃত অমিয়েট হার স্বীকার করলেন (পঃ পাঃ পীতা। ১৮৩) । পলাষনের সময় মতিবিবির বপগুণে মুগ্ধ হযে সেলাম করতে করতে অমিয়েটেব হঠাৎ সেক্সপীয়রের ম্যাকবেথ নাটক মনে পড়ে গেল, আউডে দিলেন এক লাইন '8110 0010 17781) 0171101791 0171 1101 01 (17091011090 17191019 9100]10 00100568 ০0 1011115 100 1719195 (পঃ পাঃ পাতা ১৮৩ 11 এইসব বাতুলতার মধ্যে চতুর্থ অঙ্ক অবসিত হল। আলোচনা ॥ সমস্তই নাটকই যেখানে কাল্পনিক সেখানে ইতিহাস খোজার অবকাশ কোথায়। তবু তারিখের হিসাব নেওয়া যাক। রাজা রামনারাঘণ ১৭৬১র জুলাই মাসে বন্দী হন। তাৰ সমন্ত সম্পত্তি ও সম্পদ নবাব বাজেয়াণ্চ করেন। তার ছুই বছর পর ১৭৬৩র ১৭ই মার্চ নবাব সমস্ত শুন্ব আদায় রচিত করলেন। ওই বছর ১৫ই মে অমিয়েট ও হে মুঙ্গের যাত্রা করলেন । তাদের অন্রোধে ইংরেজদের অস্ত্র বোঝাই নৌকা নবাব ছেড়ে দিলেন ২২শে জুন। তার ছুদিন পরে এলিস পাটনা আক্রমণ করলেন। কলকাতায় ফিরে আসার পথে অমিয়েট হত ভলেন ওরা জুলাই । তারপর নবাবের সঙ্গে ইংরেজের যুদ্ধ বাধল। ২৪শে জুলাই মীরজাফরকে আবার নবাব কবা হল। নাটকের ঘটনা সম্পূর্ণ প্রক্ষিপ্ত। মনে হয় ক্ষীরোদপ্রসাদ কেবলমাত্র গিরিশচন্দ্ের নাটক দেখেই পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত রচনায় প্রয়াসী হয়েছেন । তিনি ঘুণাক্ষরেও জানতেন না যে গিরিশচন্দ্র ইতিহা্। পাঠ করে নাটক লিখতে বসেছেন। মনে করেছেন গিরিশচন্দ্রও কল্পনার দম চড়িয়েছেন। ক্ষীরোদপ্রসাদ নিদ্িধায় ভবল দম চাপাতে তাই একটুও কুঠা বোধ করেন নাই। অযিয়নেটের হত্যা ও এলিসের পাটনা আক্রমণের বিস্ফোরক চেহারা ভাই তার অজান! রয়ে গেছে । এটাই যে নবাবের সঙ্গে মীরকাশিম ৪৫৩ কোম্পানীর যুদ্ধ বাধবার তাত্ক্ষণিক কারণ এট] হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন নাই বণেই না অমিয়েট-মতিবিবির ভাড়ামীর দৃশ্ত কলমে এসেছে । তারপর নবাবী করতে মীরজাফরকে অনুরোধ করতে কোথায় হে, কোথায় অমিয়েট। একজন মীরকাশিমের কারাগারে বন্দী আর একজন পরলোকে। মীরজাফরকে মন্ত্রণা দিতে নাট্যকার নিয়ে এসেছেন কায়স্থ বায়ছুরলভকে । ইতিহাস অঙ্গসারে এই সময়ে প্রাঙ্গণ নন্দকুষারের বিশ্বাসঘাতক চেহাবঝা স্য্ট করতে গিরিশচন্্র কার্পণ্য করেন নাই । ক্ষীরোদপ্রসাদের এটা পছন্দ হয় নাই তাই তার নাটকে নন্দকুমারের অপকীতিগুলির কোন চিহ্ন নাই। সম্ভবত এই সময়েই ক্ষীরোদপ্রসাদ নন্দকুমারকে “দেশভক্ত শহীদ” বানয়ে নাটক লেখার সংকল্প মনে মনে স্থির করেছেন। তাই নন্দঝুমাঁরকে সঘত্ে মীরজাঁকরের কাছ থেকে সরিয়ে রেখে তার কলঙ্কিত কর্মগুাণি লোকচন্সে'র আড়ালে নিয়ে যাবার প্রয়াস পেয়েছেন । নাটক নিয়েও বিপদে পড়েছেন নাট্যকার । স্থরুতে মতিবিবির যুগল প্রেমিক টি করেছেন রাজ! রামনাবায়ণ আর মীরকাশমের মধ্যে। গিরিশচন্দের নাটকের জনপ্রিয়তা হৃদয়ঙম না করলে একথানি ত্রিভুজ প্রেমের নাটক হয়তে] সৃষ্টি হত এবং মীরকাঁশিম কইক গ্লামনারায়ণের হত্যায় এই প্রেমের গঞ্জের সমাপ্তি ঘটত । বৃদ্ধ রামনারায়ণের বয়সের ছিসব না করে তাকে মতিবিবির প্রেমিক করার পেছনে এমনি একট! চিন্তা দেখ যায় । দ্বিতীয় অঙ্কে মীরণের মৃত্যু পর্য্যন্ত এই দিকেই নাটক গেছে। গিরিশচন্দ্র মীরক।শিমের জনপ্রিয়তায় তৃতীয় অঙ্কে নাটক অন্য পথ ধরল। ভেসে গ্লে মতিবিবি আর রামনারায়ণ। চতুর্থ অঙ্কে তাই চটপট প্রেমের গল্লের ছেদ- টানার চে হয়েছে । রাজনীতির ভুয়া গন্ধে তখন নাটক জমাবার প্রয়াস দেখা যায়। মীরকাশিম আর অমিয়েটকে প্রতিপক্ষ খাড়া করে নাটক বীচাবার ব্যর্থ প্রয়াস একাধারে বাতুলত! আর কাণুজ্ঞানহীনতার নামান্তর হয়েই দেখ দিল। ফলে প্রথম দুই অঙ্কের নাটকের ধারা পরের ছুটি অন্কে আর দেখা যায় না। ইতিহাস না জেনে এতিহাঁসিক নাটক রচনার প্রয়াস কিরকম ব্যর্থ ও হাস্যকর হতে পারে ক্ষারোদপ্রসাদ তার সম্যক উদ্দাহরণ দ্রিয়েছেন। নাটক পাঠ করলে বেশ বুঝতে পারা ধায় যে নাট্যকার ইতিহাঢ়সর কার্ধয কারণ কিছুই বুঝতে পারেন নাই । ১৫৪ বাংলা ইতিহাসিক নাটক সমালোচনা পঞ্চম অঙ্ক ॥ পঞ্চম অঙ্কে নণ্ট্যকাব নাটক ঝাচাবার শেষ চেষ্ট| করে ব্যর্থ হযেছেন। প্রথম দণশ্য মব, গুরগিণ, তকীী খা ও রাজবল্পভ যুদ্ধার্থে প্রস্তত হচ্ছেন । ( ব-প্গাদ ও হাব পুর রুষ্দামকে নবাব যে বধ কবেছিলেন এটা নাট্য- কাহ্ে অভনা মনে হয়|) তক খাঁর উপব দেওয়। হল কাঁটোয়ার ভার । সদন” € মার্কাব 'পলেন গিবিযাব আব গুবিণ খা উধুযান।লার ভার। রগিণ 'এাবো কিছুদিন 'অপেঙ্গা। কবে ধু ণ্ঘণ্ষণপ্ব উপদেশ দিলেন । মীবকাশিম পুত্রকে সঙ্গে নিষে এসে বললেন যে তার পুত্রকে ভপহবণ কবতে চাঁন্ষাঁষ ইংরে মনোলাঁব স্পঈ বোঝা গেছে । স্বতবাং আর “রী না কবে এখনই শৃ্দ ঘোষণা কব ভবে। বামনারায়ণকে আনা হলে তার বক্তবা হল, ঈশ্ববেব নাম নিয়ে তিনি অমিষেটকে সাহাধ্য কবতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ স্ুতবাং সে প্রতিভ্ঞা ভিনি ভাঙতে পারবেন না। যদিও এখন তিনি স্পই বুঝতে পরছেন ঘে অমিযেটকে প্রতিশ্তি দেওযা অত্যন্ত গঠিত কাছ হয়েছে। ₹ব শীবনেব এই নিদারুণ ছন্দ মেটাতে নবাবের কাছে তিনি প্রাণদণ্ড যাঁচনা করেন। মতিবিবি এসে রামনাবাযণের জীবন ন্ভক্ষা চাইলেন তাঁকে নিষে স্তন চলে যাবার সংকল্প ঘোষণা কবলেন। ফকির এসে বললেন যে ঘতিবিবিব প্রতি মোহবশত মীরকাশিম যেন দেশের সর্বনাশ না করেন। নবাব কিছ স্থির কবার আগেই গুবগিণ খা খবব দিলেন যে ইংরেজ মীবজাফরের নামে মীরকাঁশিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণ। করেছে । যুদ্ধ কবা ছাডা 'আরু কোন গত্যন্তর নাই। কাজেই দ্বিতীয় দৃশ্য থেকেই যুদ্ধ বেধে গেল । দৃশ্য রণস্থল । কাটোয়াঁব যুদ্ধে গ্র্যাভামসের বিক্রম দেখা গেল। অবশেষে গোল! লেগে তকী খার মৃতু ও ইংরেজের জয়। মতিবিবি এসে খুব কাল্গীকাটি করলেন। তৃতীয় দৃশ্টে মীরকাশিম লুৎফউদ্সিসাকে এসে খবর দিলেন ষে গিক্রিয়াতেও তার পরাজয় হয়েছে । শুনে মাতাকন্তা। কাম্নাকাটি করালেন। নবাব গিরিয়ার যুদ্ধের বর্ণনা] দিলেন । বাশুলী নদীতে স্টার্ট সাহেব এবং তার সৈন্চদের মৃত্যু সংবাদ খুব জমিয়ে বললেন । এথানেই নবাব মীরকাশিম এ৯ফউদ্লিসাকে জানিয়ে দিলেন যে উধুয়ানালাষ তার জয়ের কোন সম্ভাবনাই নাই। চতুর্থ দশ্টে উধুয়ানালায পরাজয়ের সংবাদ নিয়ে এক ভূত্য এল। মীরকাশম ৪৫৫ এইসব খবর শুনে গুরগিপণ খা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন স্থির করে ফেললেন। কিন্তু নবাবের কাছ থেকে এই মতলব নুকিয়ে ঝাথতে পারলেন না। নবাধ তাকে “কাোতপ” করবার হুকুম দ্রিশেন। এরপরই নবাব মাম্সহার] হয়ে গলেন এবং পাটনায সমস্ম ইংরেজ বশশিদের হত্যার সংকল্প ঘোষণা করদেন। পমসের নবাবকে শান্থ করার 'চঈগী করনেন কিন্তু পারঙেণ না। পঞ্চম দৃশ্টে » বাব রণস্থল। ইংরেজ দরের ফটক 'ভঙে ফেলেছে । । তবু বণস্থল £) নবাব যুদ্ধ থেকে একচক্ধর ঘুবে এসে সমসেরকে রোটাসে তার ল্ীকে নিয়ে যাবার হুকুম (দিলেন; তাবপর যুদ্ধে যোগ দিতে চলে গেলেন। একটু পরে সমসের খবর দিলেন যে বেগম শক্রর কবলে ( প. প. পাতা-০৯ ) এই কথা শুনে শিপু হয়ে নবাব বন্দীদের হতা। করতে নিদেশ দিগেন টার বরোষবন্তি লেলিহান শিখায় জলে উদল। ষ্ঠ দৃশ্ঠে রাষনারায়ণ ও মতিবিবি এই বন্দী হত্যার জন্য নবাবের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কিন্তু যুদ্ধ চলছে সুতরাং উভয়েই যুদ্ধ করতে গেলেন। মতিবিবি ফটক রক্ষা (আবার ফটক এল কোথা থেকে 1) করতে করতে অন্পীম বীরত্ব দেখিয়ে ইংরেজের হাতে বন্দী হলেন। [স্থর হল থে যুদ্ধকালীন নিয়ম অনুযায়ী তার বিচার ও শান্তি ভবে। অগ্তম ও শেষ দৃশ্ঠ একেবারেই আঁক-্মক | ব্নপথে ক্ষিপ্ত, উন্মত্ত, পরাজিত, ব্যাধিতারিত নবাব মীরকা শিম মুত্যবরণ করলেন। সমরু এসে তার বত্বালঙ্কার লুণ্ঠন করে নিল। অবশেষে ফকির এসে উপস্থিত হলেন। হৃতসর্বস্য মীরকাশিমকে তিনি বহু সছুপদেশ দিলেন এবং মীরকাশিমের তুষ্টির ভন কিছু যাতখ্গ্ার প্রদর্শন করলেন । এই বাছবিগ্ায় তিনি বঙ্গনারী পুতি বঙ্গমাতার আবর্তাব তিনি মীরকাশিমকে দেখিয়ে তার গীবন সার্ক করলেন। মারকাশিমের মন থেকে সব ক্ষোভ হুঃথ মুছে গেল তার মাত্মা পরিতুষ্টি লাভ করল । এইভাবে তাঁর কীতির সফলতা দেখে মীরকাশিম নিদ্ধায় মৃত্যু মুখে পতিত হলেন । কল্পনাশ্রয়ী- এই উদ্ভট নাটক চরমতম এক অদ্ভুত দৃশ্বের অবতারণা করে সমাপ্ত, হল। ,পলাশীর প্রারশ্চিত্ত মীরকাশিমকে এইভাবেই শেষ করতে হল। ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্ভাবিনোদ মীরকাশিমের অসাফল্যের মাঝে এক মানসিক সকলতার ধৃঅঙ্গাল স্ষ্টি করে নিদারুণ আত্মন্গাঘা অন্জ্র কর্ধলেন। ৪৬ বাংল! ধরতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ আলোচনা ॥ পঞ্চম ও "শষ অঙ্ক একাধারে ইতিহাস বিবোধী ও নাটক হিসাবে প্রক্ষিপ্ত | ৩ব। জুলাই ১০৬৩ অমিয়েটের মৃত্যুর পর কোম্পানীর যুদ্ধসাজ স্তক হল মীরজাফরের সঙ্গে ১০ই জুলাই চুক্তিপত্র সাক্ষরিত হবার পর। ক।টোযার যুদ্ধে তকি খাঁর পবাক্রম ও অন্যান্য নবাবী সেনাপক্তিদের বিশ্বাস- ঘাতকতা গিরিশচন্দ্রের নাটকে চমৎকার প্রকাশিত হয়েছে । কা'টোয়াব যুদ্ধ ১৯শে জুলাই । গিবিয়ার পবাজয ২রা অগাঈ। তারপরে মুগ্সিদাবাদে মীরকাশিম আব ফিরে যেতে পাবেন নাই । তাই লুৎফউন্লিসা .বগম মশিদাবাদের খোসবাগে থাকলেও মীরকাশিমের সেখানে যাবার উপায় ছিল না কাবণ মুশিদাবাদ তখন ইংরেজ দখলে । আসলে লুদ্ৰউন্নিসা কন্যা সহ তখন চাকায়। তাকে মাসিক ১০০০ টাকা ও তার কন্তাকে মাসিক ৪০০ টাক] দেবার বাবস্থা কোম্পানী করেছেন । তাছাড] লুত্ফউন্নিসা মীরকাঁশিমকে বনে গমা করতে পারেন নাই । তার পতনে উল্লসিত হযেছেন। তুলে গেলে চলবে না থে পলায়নপর সিবাজদ্দোপা ও পুৎফউন্লিসা বেগমকে মীবকাণিমই ধবেছিলেন এবং লুৎফউন্নিসার ব্যক্তিগত হীবা, মুক্তা ভহবৎ» প্রভৃতি গহনাদি সেই সময়েই তিনি অপহরণ করে নেন। এই ঘটনার ফলেই সিরাজের ভত্যা এবং লুৎফউন্নিসার অশেষ লাঞ্ছনা-একথা বাঙালী দশক ভুলে গেলেও কাশ্মীরের এই বপবর্তী সিরাজেব প্রিয়সথীর ভূলে মাবাব কোন সম্ভাবনা দেখ। যায় না। নাট্যকাৰ কপোলকল্নায় গিরিয়ার পবা- জয়েই মীরকাশিমকে হতোছিম দেখিয়েছেন। সেটা সত্য হলে উধুয়ানালার যুদ্ধ, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের হত্যা, বঝ্সারের যুদ্ধ এবং ক্রমান্বয়ে মীরকাশিমের নবাবী ফিরে পাবার প্রচেষ্টা মিথ্যায় পর্যবসিত হয়। বঙ্কিমচন্দ্র চক্রশেখরে উধুয়ানালার যুদ্ধের যে স্থন্দর চিত্র এঁকেছেন সেট] জানা থাকলে নাট্যকাৰ ভূত্যের মুখে উধুয়ানালাব পরাজয় বৃত্তান্ত প্রেরণ কবতেন না। €ই সেপেম্বর উধুয়ানালায পরাজয় হল । এরপরই মীরকাশিম ক্ষিপ্ত যে রাজ! রামনাব্বাণকে লে বিয়ে এবং বাজা৷ রাঁজবল্লভ ও তার পুত্রকে গুলি রূরে হত্যা করেন । নারপরই মীরকাশিম জগৃৎশেঠদের সঙ্গে করে মুঙ্গের ত্যাগ করে পালিয়ে গ্েেন। ১লা অক্টোবর মেজর আাডামস মুঙ্গের পৌঁছলেন ৩রা অক্টোবর ধুর্গ দখল করলেন। পাটনায় মীরকাশিম নারী পুরুষ শিশু নিবিচারে সমস্ত মীরকাশিম 9৫) ইংরেজ বন্দীদের নিহত করলেন। এই কলঙ্কের একমাত্র সাক্ষী হলেন ডাক্তার ফুলারটন। ১৪ই অক্টোবর মীরকাশিম পাটনা ছেড়ে পালালেন । ১৮ই অক্টোবর গুরগিণ খাঁর গুপ্তহত্যা! ঘটে গেল। সকলে সন্দেহ করলেন যে এটা নবাবের প্ররোচনায় ঘটেছে । পরদিন ১৯শে অক্টোবর জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্বয়কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হল । ৬ই নভেম্বর ইংরেজ পাটন। দখণ করল । মীরকাশিম অযোধ্যার নবাব স্ুজাউদ্দৌলার 'আশ্রয় পেলেন ডিসেপ্বর মাসে। পরব বছরে অর্থাৎ ১১৬৪ শ্রীগ্গাব্ষের ১২শে অক্টোবর বকঝ্সারের যুদ্ধ । মীরকাশিম তথন একটা খোডা হাতর পিঠে চেপে সপরিবারে দিল্লীর পথে পলায়ন করছেন । কাজেই তার বেগমকে ইংরেজ চুরি করেছে একথ। একান্তভাবে অসত্য। শেষের আগের দৃশ্যের এই যুদ্ধই বা কান যুদ্ধ নাট্যকার তার নির্দেশ দেন নাই। নাটকীয় করার জন্ত নির্জন বনে ঠার একাকী মৃঠ্য সহা করা সম্ভব হলেও “বঙ্গনারীপূজিত বঙ্গমাতার আবির্তাব, অসহা। কেবলমাত্র স্বাধীনতাকাঙ্খী দর্শকদের মনকে নির্দয়ভাবে দোহন করা ছাড়া এই দৃশ্যের আর কোন মুল্য নাই। মস্ত নাটকই অসঙ্গতির সমষ্টি মাত্র কোন উচ্চভাব বা আদর্শের বাহন নয। মতিবিবির চরিত্র সৃষ্টি করে “মোহনলাল+ সম্পর্কে বাঙালীর ছুবলতার চক্রম স্থযোগ গ্রহণ কর! হয়েছে। মোহনলাপের কন্তা এক মুসলমান বীরকে বিবাহ করেন। এরপর মোহনগালের থোঁজ পাওয়া যায় কিন্তু মোহনলাল-কন্ত! লুপ্ত । পলাশীর প্রায়শ্চিন্ত নাটক হিসাবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট এবং এতিহাপসিক নাটক হিসাবে সম্পূর্ণ বাতুলতাশ্রয়ী। ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্তাবিনোদের রচন] না হলে এই নাটককে বিনালোচনায় বাতিল করে দিলেও কোন ক্ষতির কারণ ছিল না। কিন্ত একাধারে মীরকাশিমের নাটক এবং একজন জনপ্রিয় নাট্যকার স্ৃতরাং নাটকের বিশদ আলোচনার প্রয়োন্ন অনুভূত হয়েছে। গিবিশচন্্ের অন্থকরণ করতে গিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষীরোদপ্রসাদ একেবারেই তপিয়ে গেছেন” প্রমাণ করেছেন গিরিশের অন্ুকরণও স্থকঠিন। মশ্সথ রায় £ মীব্রকাঁশিম বা পলাশীর প্রায়শ্চি বাজেয়াপ্ত হবার পর মীরকাশিমকে নিয়ে দীর্ঘদিন কোন নাটক রচিত হয় নাই। কারণ অবশ্ঠ ইংরেজের ভয়। বিদ্রোহী সাজবার, 3৫৮ বাংলা তিহাসিক নাটক সমালোচনা মতে| ন'ট্যকাব পাওয়া ঘেমন কঠিন হল-ন্বাধীনতাকাক্ষী নাটক অভিনয় কর'ব মঞ্চ মালিক পাঁচসা হল অসন্তব। বুটিশ সরকার দোর্দগ প্রতাপে রাত করছে লাগলেন। পুরাতন নাট্যকারুদের যুগ চলে গেল নৃতন যুগের নাট্যকার নৃন্ন অভিনেতকুল দেখা দিল। শিবজীর ভীবনীকে কেন্দ্র করে এন মেনগুপু গৈরিক পন্তাকাষ আলগ! করে দেশপ্রেমের ফোডন দিলেন মলাথ রায় আর এক ধাপ এগিয়ে কংস কারাগারে শ্রীরুষ্ণের জম্ববৃত্তাস্ত নিয়ে নাটক রঢনা করলেন । এবার একট্র সাহস করে কংসের রাত্বের বিরুদ্ধে বিদোহ জানান ভল। সাঁপ হলেও জানটা নিধিষ। মুশকিল করল কাজী নচরুল ইসলামের কটব £দরণপ্রেমী গানগুলো । অণ্ভনয় বন্ধ হল। কিছুদিন পর গানপ্ুনি ছেঁটে অন্ঠিনঘ অন্ষমতি মিলল কিন্ত ততদিনে নাটক আলনি হযে গেছে । ১৯৩৮-এ শন সেনগুপ্তর সিবাঁজন্ৌল। জনপ্রিষতার শিখরে পৌছে গেল । ভাবালতাধ_নাটকের প্রতিষ্ঠা যত হল-স্বাধীনতাঁকাক্ষা তত প্রন্ট হল না। দর্শক দে কেঁদে প্রেক্ষাগৃহ ভাসিষে দ্িলেন। প্রবণপ্রতাঁপ ইংরেজ সরকার নাটক চলতে দিলেন ' “সই বছরই নাট্য নিকেতনের সত্বাধিকাঁরী শ্রী প্রবোধচন্্র গুহব আগ্রতে মন্ধথ রায় 'মীরকাশিম” নাটক লেখার ভার পেলেন। “লেখকেব কথা"য় এই সব মুল্যবান সংবাদ তিনি দিয়েছেন আর জানিয়েছেন তিনি ইতিহাসের কোঁন কোন বই পাঠ করে নাটক রচনায় উদ্ভোগ করেন। তিনি লিখেছেন “বহু প্রামাণ্য গ্রন্থ হইতে মীরকাশিমেব ইত্তিবুত্ত সংগৃহীত হইয়াছে এবং এ নাটকে ইতিহাস বিকৃত হয নাই বলিয়াই আমার বিশ্বাম।” মীরকাশিম সম্পর্কে নাটক লেখার সব থেকে বন্ড বিপদ যে কোন একথানি পুস্তকে ফীরকাশিমের ইতিহাস লিপিবদ্ধ নাই। সেক্ঞম্ত বিভিন্ন ব্যক্তির শেখা বিভিন্ন পুক্চকের সাহায্য নিতে হয়। গিব্রিশচন্ত্রকে মীরকাশিম নাটক লিখতে ষে প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হয়েছিল তা যথাস্থানে টল্লেথ করা হযেছে । বাধ্য হয়েই অনেক বিষয়ে গির্িশচন্ত্রকে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় মহাশযের বুহৎ মীরকাঁশিম প্রবন্ধের উপর নির্ভরশীল হতে হয়েছে মন্মথ রায় যদি গিরিশচন্দের নাটক ও অক্ষয়কুমারের প্রবন্ধ, নাটক লেখার আগে "এতে পেতেন তা হলে নিঃসন্দেহে তাঁর নাটকের ক্রটিগুলি শুদ্ধ করা সম্ভব হত |, এই দুই পুস্তকই তথন নিষিদ্ধ তালিকায় সুতরাং মন্মথবাবু যদি তা না পেয়ে থাকেন তাহলে তাঁকে দোষী করা যায় ন1। তবে মীরকাশিম সম্পর্কে মীরকা শিম ৪৫৯ সব থেকে প্রয়োজনীয় রচনা গিরিশচত পাঠ করোছলেন কিন্তু মন্মথ রায় করেন নাই__-সেটা হল ৬৪159100165 3811810৬901 0116 71215800109 01 8917- 99। 01 17609--1765. এই বইটিতে ভ্যান্সিট্রাট সাহেবের বক্তব্য, তিনি মীরকাশিমের সঙ্গে যে চিঠি-পত্র আদান প্রণান করেছেন সেগুলি, হেস্টংস, ডাক্তার ফুপারটন প্রভৃতির রিপোট মাব কাউান্সণের দৈনিক আপোচনার গ্রতিলিপি অন্তভুন্ত আছে। ভগৎশেঠ ও মীরকাশিম সম্পর্কের প্রামাণ্য বই এ, 1. 11006 এর 119959 01 499915903 মন্মথব।বু পড়বার হখোগ পান নাই । এই ছুটি খই মীরকাশিম সম্পর্কে আলোচন[র আকড় গ্রন্থ। এই বই ছইটি পাঠ করলে শীরকাশিমের চরিএ ও কীতি আরে স্পঃ হত সন্দেহ নাই। যেসব গ্রন্থ পাঠ করে মম্মথবাবু মীরঞ্াশ নাটক রচনায় মনন করেছিলেন, কোন গ্রন্থই নবাব মীরঞ্চাশিমকে দেশপ্রেমী বা শহীদ বা স্বাধীনতাকাঁজ্ষমী বণে উল্লেখ করে নাই। সুতরাং দেশপ্রেমী নবাব স্থান করাটাই সত্যের অপলাপ বা ইতিহাস পারিপন্থী হযেছে । মন্মথ রায়ের মীরকাশিম নাটক নানা দিক থেকে বশিষ্ঠ হার দাবী রাখে। গিন্িশচগ্্র বু ঘটনার সমাবেশ কথেছেন, মন্মথবাএ কষেকটি মাএ ঘটন। মাধ্যমে সমগ্র মীরকাশিমের জীবন ধশঃদের সামনে তুলে ধরেছেন । দুটি নাটকের রচনাশৈলীতে আকাশ পাতাণ প্রভেদ। গিরিশচন্দরের ছোট ছোট নানা দশ্টে মীরকাশিমের জীবনের ঘটনা প্রকাশিত। মন্মথবাবুব পঞ্চাঙ্কে, দৃশ্য সংখ্যা মাত্র সাতটি । সম্ভবত শচীন সেনগুপ্তর সিরাজদ্োলা নাটকের ছায়ায় রচিত 'এবং অভিনয় মঞ্চে অন্রবর্ভী হবাব জন্যেই মীরকাশিম চরিত্রে প্রচণ্ড ভাবালুহার ছাপ লেগেছে আর মীরকাশিমের গতনের কারণেও জগৎশেঠ, রায়ছুলভ, রাজবল্লভ প্রভৃতির ষড়মন্ত্র বলা হয়েছে । এই ভাবে ছুটি নাটককে এক গোত্রে ফেল। হয়েছে । মীরকাশিঘের পতনের অন্তত কারণ যে তার ঝ্ক্তিগত লোত, অর্থ আদায়ের জন্ত সম্ত্রাশ হৃ্টি এবং কাউকে বিশ্বাস না করা, ক্ষীরোদপ্রসাদের নাটকের মতো! এই নাটকেও অবহেশিত হয়েছে । তবে ১৯৩৮ এর দর্শক ব্যর্থতার খবর নিতে আসেনি । তারা চটকদার নাটকের চমৎকার অভিনয় দেখে কেদে ভাসিষে দিয়েছে । মন্মথ রাগ্মের মীরকাঁশিমের জনপ্রিয়তার সুত্র ধরে আবার বঙ্ষিমচন্দ্রের চন্জরশেখর নাট্যরূপে অভিনীত হয়েছে। নাম ভূমিকায় ছবি বিশ্বাসের সংঘত '্অভিনয় মাধুর্য ৪৬০ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা অভিনয্ ইতিহাসে স্তস্ত হয়ে থাকার যোগ্য । বস্তবত শ্রেষ্ঠ অভিনেতৃ সংযোগে মীরকাশিম অভিনীত হয় । থোজা পিত্রশ ও গুরগিণ খার ভূমিকায় যথাক্রমে নরেশ মিত্র ও অমল বন্দ্যোপাধ্যায় অপূর্ব অভিনয় করেন। এরা ছাড়া মীরভাফর-শিবকালপী চট্টোপাধায়। নঙগ্গাফ খা-ভূপেন চক্রবর্তী, নাজামান্দৌলা--সিধু গাঙ্গুলী, ফতেমা__নীহারবালা ও মণিবেগম-__অপর্ণা । সব থেকে উল্লেখযোগ্য হল পরিচালনায় সতু সেন। প্রথম অভিনয় রজনী ১৭ই ডিসেম্বর ১৯৩৮ বা ১লা পৌষ ১৩৪৫ শনিবার রাত্রি সাড়ে সাত ঘটিকায় । স্থান__নাট্যনিকেতন মঞ্চ । মীরকাশিম অভিনয় হয় সিরাজদ্দৌলার পরেই হৃতরাং এর্শক সাধারণের মনে দ্বিতীয় নাটক প্রথম নাটকের শেষাংশ বলে মনে হয়েছে । নিঃসন্দেহে প্রথম নাটকের প্রচণ্ড ভাবালুতা দর্শক মাধ্যমে দ্বিতীয় নাটককে আবৃত করেছে । অথচ একথা অনম্বীকাধ্য যে এতিহাসিক বিচারে মীরকাশিম সিরাভদোৌলার থেকে অনেকাংশে শ্রেষ্ঠ । কিন্তু গিরিশচন্দ্রের সময়ের পুনরুক্তি হল ন|। মম্মথ রায়ের মীরকাশিম নাটক শচীন সেনগুগ্তর সিরাজন্দোলার থেকে জনপ্রিয় হতে পারল না। প্রধান কারণ নাটকের দৌর্বল্য । বলাবাহুল্য মীরকাশিম নাটকেও কম ক্রটি নাই । রাজা রামনারায়ণ কি করে বেন টুঁচুডার রাষহুলভ হয়ে গেলেন । মীরকাশিঘ তাকে বধ করে ফেললেন। জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্বম় আবার জুড়ে এক ব্যক্তি হয়ে গেলেন আর রাজবললভ তার পুত্র কুষ্দাসকে হারিয়ে বসে পড়লেন । ছোটখাট ত্রুটি আছে যেমন ভ্যান্সিষ্রাট যুদ্ধ ঘে/বণা করেন নাই-_কাউন্সিল করোছল। কপর্দকহীন ভাবে মীরকাশিমের মৃত্যুও এক নাটকীয় মৃত্যু দিয়ে প্রক্ষিপ্ত করা হয়েছে। মন্থ রায়ের মীরকাশিম নাটকে পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১৪ আর বিজ্ঞাপন, লেখকের কথা, উৎসর্গ, কুণীলব প্রথম পাতা মিলে আরো ১৪ পাত । নাটক পাঁচ অস্কের। তারমধ্যে প্রথম অঙ্ক ১-২০ পাতা, ছিতীয় অস্কে ছুটি দৃশ্য ২১৫৭ পাতা, তৃতীয় অঙ্কে ছুটি দৃশ্য ৫৮--৮৭ পাতা, ততুর্থ অস্কে একটি দৃশ্য ৮৮--১০০ পাতা ও পঞ্চম অঙ্কে একটি দৃশ্য ১*১--১১৪ পাতা। নাটক স্থকু হচ্ছে একেবারে ঘোর ছন্দের মধ্যে সময় ১৭৬৩ খ্রীষ্ঠা্ষ তারিখ ১৫ই মে নবাবের কাছে চরম পত্র বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অমিয়েট আর হে সাহেব। নাটকের চতুর্থ অন্ধ শেষ হচ্ছে উধুয়ানালায় পরাজয়ের পর সন্ত্রস্ত বাক্তিদের হত্যায় অর্থাৎ ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে। পঞ্চম অস্ক মীরকাশিষ ৪৬১ অনৈতিহামিক কাজেই যে কোন সময়ে হতে পারে । ধরা যাক মীরকাশিমের মৃত্যুর বছর অর্থাৎ ১৭৭৭ শ্রীষ্টাব্ব। মূল নাটককে অর্থাৎ প্রথম থেকে চতুর্থ অঙ্ক মাত্র পাচমাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে নাট্যকার প্রকুষ্ট মু্খিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নাই । উৎসর্গ পত্রে নাট্যকার লিখেছেন “মীরকাশিম বাঙলার অতশত স্বাধীনতার সন্ধযাদীপ 1 বাক্যটির শেষে আশ্চঘ হয়ে যাখার চিহ্ন নাট্যকার অথবা মুদ্রাকর দেবার সময় শিশ্চয় ভাবেন নাই যে ওই চিহৃটাই নাটকের শ্রেষ্ঠ সমালোচনা হয়েছে । বিশদভাবে বলতে হলে--ওই চিহ্টি আশ্চর্য হয়ে জনসমক্ষে প্রশ্ন তুলেছে__মীরকাশিমকে বাঙলার অতীত স্বাধীনতার সন্ধ্যাদীপ বলা যায় কি? উত্তর অত্যন্ত সহজ | মীরকাশিম স্বাধীন ছিলেন না তিনি দিল্লীর অধীনে বাঙলা বিহারের সুবেদার মাত্র ছিলেন। এই স্থবেদারীর বাদশাহী ফারমান সংগ্রহ করতে তিনি কম অর্থব্যয় করেন নাই। তিনি নিজে বাঙালী ছিলেন না স্থতরাং বাংলা সম্পর্কে তার কোন মোহ ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন ইংরেজ সাহায্যে নবাবী চালিয়ে ব্যক্তিগত আথিক প্রাচুর্য বৃদ্ধি করতে । সেখানেই বিরোধ বাধল। ইংরেজের সঙ্গে বিরোধ কেবলযাত্র অর্থনৈতিক কারণে । বাদশাহ ইংরেজকে ডেকে বাংলা-বিহার-উড়িষ্তার দেওয়ানী দ্িলেন শুধু সময়ে রাজনের টাক ঠিকমত পাবার এবং প্রয়োজনে দিল্লীচ্যত দিল্লীর বাদশাহকে সিংহাসনে পুনঃগ্রতিষ্ঠা করতে, ইংরেজের ক্ষমতা ও অর্থ সাহায্য লাভ করার জন্য । এ্রতিহাসিকের চোথে মীরকাঁশিমের এই হতোছম ক্রমবর্ধমান ইংরেক কোম্পানীর ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রো্ প্রচেষ্টা একমাত্র নাটকীয় ঘটন1] | মীরকাশিম সংযত হলে এ বিদ্রোহে সফলতার আশা ছিল বলেই মীরকাশিমের ইতিহাস নাটকের উপজীব্য হয়েছে। প্রথম অঙ্ক ॥ প্রথম অস্ক স্ুরু হচ্ছে নাটকীয়ভাবে । গুলিবিদ্ধ গুুচর নবাবের সামনে এসে মৃত্যুবরণ করল। ষীরকাশিম জানালেন বাংলায় বেইমানের অগস্ভাব নাই। তিনি নিজেও যে সিরাজকে বেইমানী করে ধরিয়ে দিয়েছিলেন সেকথা স্পষ্ট না বলেও প্রকাশ করলেন। “নজাফ খ|” নাষে এক সেনাপতি ৪৬২ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা নবাবের বিশ্বস্ত ব্যক্তি বলে চিত্রিত হয়েছেন। সভায় উপস্থিত জগতশে, রাজবল্লভ ও গুরগিণ খা । স্থান মুঙ্কের ছুরি মন্ত্রণাকক্ষ । গুপ্ডচরের জুতোর মধ্য এক লাল পাঞ্জা পাওয়া গেল ওটাই নাকি কোম্পানীর বিশ্বস্তুতম পোকের চিহ্ন । ওই পাঞ্জা দেখিয়েই নাঁকি মীরকাশিম কর্নেল কলার্ডকে মুশিদাবাদ প্রাসাদ দখল করতে সাহায্য করেন (মী: পাতা-৫)। কোম্পানী নাকি চায় ওই পাঞ্জা হাতে নিয়ে নবাব রাজ্যশীসন করবেন অর্থাৎ কোম্পানীর গোলামী করবেন । সিরাজদ্দৌোলাকে এই স্থযোগে নবাব মীরকাশিম “সিংহশিশু” বলে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। নিজের কৃতকর্মের চন্য অনুশোচনা প্রকাশ করছেন এবং পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত করবার সংকল্প ঘোষণ! করছেন। মীরকাঁশিম পেছনের ইতিহাঁস বর্ণনা করে কি করে তিনি নবাী লাভ করলেন সকলকে জানাচ্ছেন । বলছেন বদ্ধমান, চট্টগ্রাম ও মেদ্রিনীপুরের রাজন্ব দিলেন ইইপ্ডিযা কোম্পানীকে আর দিলেন তাদের দাক্ষিণাত্যের যুদ্ধের খরচ চালাতে পাচলক্ষ টাকা । গুরগিণ বললেন নবাব প্রজারঞজক | নবাব তথন এলিসের সঙ্গে গোলমালের কারণ এবং গবর্ণর ভ্যান্সিট্রার্ট ও হেষ্টিংসের দৌত্যের সন্ধিপত্রের কথা সকলকে জানাচ্ছেন । কলকাতার কাউন্সিল দলে ভারি হয়ে গবর্ণরের এই সন্ধিপত্র বাতিল করে দেন। তখম বাধ্য হয়ে নবাব সমস্ত জিনিষের ওপর শুষ্ক আদায় রাহত করেন। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী আর কোম্পানীকে প্রতিবোগীতায় নামতে হল। ত্বাই অমিয়েট ও হে আসছেন নবাবকে বোঝাতে বে বিনাশুক্ষে বাণিজ্যের অধিকার কেবল কোম্পানীর । অন্ত কেউ এই স্থযোগের অধিকারী হতে পারেন না। রাজা রাঁয়হুল ভ এই সময় বলে ফেললেন মুশিদাবাদে ফিরে যাবার কথা । শচীন সেনগুপ্ত অনুকরণে মন্মথ বায দিয়েছেন মীরকাশিমের সংলাপ । “রাজা রায়ছুল ভ» শ্রেষ্ঠী মহাতাপচাদ, বিচক্ষণ রাজবল্লভঃ শুনে আশ্বশ হলাম-_ মুশিদাবাদের জন্য আপনাদের প্রাণ আজ কাদছে ! কিন্তু মশিদাবাদকে শ্বশান করে সেই তমসাবৃত নগরীর পথে পথে সিরাজের শবদেহ নিয়ে আপনার প্রেতের যে তাগুব করেছিলেন, তাঁও আমি দেখেছি । মীরকাশিমের মনোভাবের চমৎকার প্রকাশ হয়েছে এই আংশিক অনৈতিহাসিক সংলাপে । তেমনি হয়েছে আরেকটিতে যথন বায়তুল ভ কালীঘাটে গঙ্গাতীরে বাস করবার মীরকাশিম ৪৬৩ অন্থমতি চাইছেন নবাবের কাছে। নবাব বলছেন-_“অমিয়েট আর হে সাহেব আপনাকে বলে দিয়েছে আপনি হিপ, তবে না আপনার মনে পড়ে গেল আপনি হিন্দু, কি বলেন? (ষীঃ পাতা! ১১) যদিও এ সংলাপ সত্য হযেছে উনবিংশ শতাব্দীতে মীরকাশিমের মৃত্যুর পঞ্চাশ বছব্র পর, তবু জাতিযক়তাবাদী নাঁঘক কৃষ্টি করলে ইংরেজের এই বিভেদ স্যষ্টির প্রয়াসেরও উল্লেখ থাক প্রয়োজন সেদিক থেকে সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় তকী খা খবর দ্রিলেন যে কলকাতা থেকে কোম্পানীর ভ্রিশখানা নৌকা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পানা যাচ্ছিল । মুঙ্গেরে সেগুলিকে আটক করা হয়েছে । এর পবই অমিয়েট ও হে সাহেবের সঙ্গে নবাবের বিতগ্া । সাহেবরা নবাবের ওপর তাদের এগার দফ] দ্রাবী চাপিয়ে বিনাশুক্কে বাণিজ্য করার অধিকারী হতে চাইলেন । নবাব তাতে রাজী না ভয়ে জানালেন যে তিনি বাণিজ্যের সমস্ত মাশুল তুলে দ্রিয়েছেন। এর পরই পাটনাগামী নোকায় অস্ত্রশস্ত্র পাওযা গিষেছে জানিয়ে নবাব হে সাহেবকে জামিন রেখে অমিয়েট সাহেবকে বিদায় দ্রিলেন। আরাব খা এসে খবর দ্রিল যে এালস সাহেব অতকিতে পাটন৷ আক্রমণ করে দুর্গ দখল কবেছেন। তার অত্যাচারে, অবাধ হত্যায়, লুঠতরাক্ে, অগ্নিদাহে পাটনার ঘরে ঘরে ক্রন্দনের রোল উঠেছে । মীরকাশিম এই সংবাদে "ক্প্ত হযে বলছেন যে বাংলা বিহার উড়িস্তার সবত্র কোম্পানীর অত্যাচাবে এই বুক-দাটা কানা দেখা দিয়েছে । তারপর তিনি ইংরেজ কোম্পানীর "বরুদ্ধে সর্বশক্তি সমরসঙ্জার 'আহ্বান জানাচ্ছেন। বলছেন “বাংলা-বিহারে কোম্পানীর প্রতিষ্ঠিত সব কুঠি অবরোধ কর, সমগ্র ইংরেজ ব্যবসায়ীকে বন্দী করে শাঠ্যের সমুচিত শান্তি দিযে পলাশীতে অঙ্গষ্ঠিত পাপের প্রাযশ্চিস্ত কর ! (মীঃ পাতা ২০) আলোচনা ॥ মীরকাঁশিমের চরিত্র যে প্রক্ষিপ্ত তা আমরা আলোচনা করেছি । জন সাধারণের সঙ্গে তচুর যোগ না থাকায় নাটকের প্রথম অঙ্কের শেষের সবাত্মক সংগ্রাষের ডাক সম্পূর্ণ অনৈতিহাসিক হয়ে গেছে। বস্তত এমন জনচিত্তহারী ভাষণ দ্দিতে পারলে মীরকাশিমের পতাঁক! তলে বুলোক সমবেত হত এক তার ক্ষমতাও বৃদ্ধি গেত শতগুণ । এইসব মৌলিক অসঙ্গতি সত্বেও নাট্যকার ৬ ৪৬৪ ৰাংলা এরতিহাসিক নাটক সমালোচনা প্রথম অঙ্কে বিরোধের স্ত্রগুলি চমৎকার বর্ণনা করেছেন । এলিসের পাটন! আক্রমণকে ধুদ্ধ আরম্ভের কারণ হিসেবে বর্ণনা করা খুবই নাটকীয় হয়েছে সন্দেহ নাই । তবে একটা ভ্রান্তি রয়ে গেছে । নবাব অস্ত্র পূর্ণ নৌকাগ্াল হে ও অমিয়েটের অনুরোধে ছেড়ে দেবার পরে এলিস পাটনা আক্রমণ করেন । সত্য ঘটনা বর্ণন1! করলে এখানে নবাবের শাঞ্ছিপূর্ণ মনোভাব আরো স্পষ্ট হত। তবে এসময় ইংরেজ প্রতিনিধিদের (ক্লাইভ সাহেব বাদে) কোন নবাবের সামনে দাড়িয়ে তেজ বা বিক্রম দেখাবার সাহস ছিল না-তাতে কোতপল হবার ভয় ছিল। নবাবদের সামনে ইংরেজ প্রতিনিধিরা সাধারণত ( ওয়াস সিরাজকে ভয় পাওয়াবার জন্তে ইচ্ছা করে অপভ্যের মতো দরবারে চিৎকার করতেন--কিন্তু তাও কলকাতা যুদ্ধে ফেব্রুয়ারী ১৭৫৭তে নবাবের পরাজয়ের পর ) খুবই শাস্তঃ শি্ট ও ভদ্র ব্যবহার করতেন। আর একটি ভুল খবর হল এলিস পাটনার দুর্গ জয় করতে পারেন নাই কেবল শহর দখল করেছিলেন । দুই দিন পরই মার্কার আর সমরু এলিসকে দলবলসহ যুদ্ধে হারিয়ে বন্দী করে। আর একটি ভুল মীরকাশিম যুদ্ধ ঘোষণা করেন নাই। নাট্যকার ফড়ঘস্ত্রেরে আগুন জালিয়ে রেখে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে যারা দিরাজকে সিংহাসনচ্যুত করেছে তারাই মীবরকাঁশিমের পতনের প্রত্যাশী হয়েছেন। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। অমিয়েট ও হে ১৭৬৩ শ্রীষ্টান্বের ৯৫ই এপ্রিল যখন মুঙজেরে এসে নামলেন তখন এই তথাকথিত ষড়যন্ত্রীর। কে কোথায় ছিলেন দেখা যাক। রায়দুললভ তখন মনের ছু:থে কলকাতায় অবসর যাপন করছেন মাঝে মাঝে পিতৃভূমি চুণ্চুড়া যাতায়!ত করছেন। জীবনে আর কথন রাজনীতি করবেন না এমন সংকল্পও করতে পারেন এ সময়। এদিক থেকে রায়ছুর্লভ গ্রথম বাঙালশ রাজনৈতিকের সন্মান পাবার যোগ্য । আগেই জানান হয়েছে যে লিরাজের পতনের ষড়যন্ত্র এরই মস্তি নিষ্কোষিত প্রজ্ঞার ফল। জগৎশেঠ ত্রাতৃদ্বয়কে তকি খা নবাব আদেশে বন্দী করলেন এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে । তাদের সসম্মানে হিরাবিল প্রাসাদে আটক রাখা হল।”+৯ অমিয়েটকে হত্যার পর তাদের মুঙ্গেরে আন! হয়। বন্দী অবস্থায় তাদের পক্ষে কোন বড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ অসম্ভব ছিল। এইসব ঘর্টনার কিছু আগে বাজবল্লভ রামনারায়ণের বিক্কদ্ধে তকবিল তছব্দপের অভিযোগ করলে নবাব মীরকাশিম রাজা রামন।রায়ণকে বন্দী কনে মুঙগেরে নিয়ে মীব্কাশিম 5৬৫ আসেন। মেই সময় গ্রেপ্তার হলেন ভোভপুরী জধিদারছয় ফতে সিং আর বুনিয়াদ সিং। রাজা রাজবল্লভ এই সময় পাটনায় নায়েব নাজিম হয়ে পায়ের ওপর পা দিয়ে আরাম করছেন। পাটনা দখলে রাজবল্লভের যোগাযোগ খাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে ভাবামাত্র মীরকাশিম তাকে আর জ্যে্ট পুত্র কৃষ্ণদাসকে বন্দী করে মুলেরে নিয়ে আসেন । স্থতরাং ১৫ই এপ্রিল এই তিন ব্যক্তির পক্ষে, একত্র হয়ে মুঙ্গেরে কোনরকম ষড়যন্ত্র কর! অসম্ভব ।, মীরকাশিম পলাণার প্রায়শ্চন্ত করতে মনম্থ করেছিলেন এটা কবির কল্পনামাত্র। সিরাজের প্রতি তার বিন্ুমাত্র শ্রদ্ধা ছিল না! ঢাকায় লুৎফউন্নিস1৷ কন্ঠা সহ এসময় অশেঘ কে দিন ষাপন করেছেন । পলাশ থেকে মীরকাশিম একটি মাত্র শিক্ষা গ্রহণ করেন সেটি হল কদাচ যুদ্ধক্ষেত্রে ভপস্থিত না থাক] এবং এই শিক্ষাই তার পক্ষে মারাত্মক রূপ নিয়েছে। মীরকাশিম চরিত্রের ছুটি দোষ, লোভ এবং অবিশ্বাস তাঁর বহু সদগুণকে প্রকাশ হতে বাধা দিয়েছে । গবর্ণর ভ্যান্সিষ্রার্ট ও ভহস্টিংস সাহেবদয়ের মীরকাশিম সম্পর্কে সাক্ষাতের বিবরণ না থাকলে--পরবতী ইতিহাস ত।কে দানবরূপে কল্পনা করতে দ্বিধা করত না। মুতাক্ষরীণ লেখক সৈয়দ গোলাম হোসেনের সম্পত্তিও তিনি কেড়ে নেন। মুতাক্ষরীণ তাই কলমের ডগায় নবাব চরিত্রের নিন্দাই প্রকাশ করেছেন। এসব কথা বলেও নাট্যকারকে সাধুবাদ দ্রিতে হবে কারণ প্রথম অঙ্ককে তিনি এতিহাসিক সাজে যেভাবে সাজিয়েছেন তাতে ইতিহাসের খুব বেশী ব্যতিক্রম হয় নাই। দ্বিতীয় অঙ্ক, প্রথম দৃশ্য ॥ দিতীয় অক্কে ছুটি দৃশ্ত। প্রথমে কলকাতায় ভ্যান্সি্টাট সাহেবের কুপ্তি। সেখানে সব ইংরেজ রাজপুরুষগণ সমবেত হয়েছেন । মীরজাফর ও মণিবেগম সেখানে উপস্থিত হয়েছেন সঙ্গে নন্দকুমার । মণিবেগম চান যে মীরজাফর পুনরায় নবাব হবেন, মীরক্শিমের সঙ্গে ইংরেজের যুদ্ধ হলে তার পতন হবে । এই কর্মের জন্ত তিনি যথাসর্বন্থ বায় করতে প্রস্থত । মীরগগাফর একটু ছিধা করতেই মপিবেগম বকে উঠলেন সাহেবরা যা বলবেন তাতেই | তিনি সম্মত। 'তারপর মশিবেগমের উপদেশে খোজা পিক্রসকে কয়েদখান] ' থেকে মুক্তি দেওয়া হল। কারণ পিদ্রদ গুরগিণ খার ভাই। মণিবেগষ ৪৬৬ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা তখন পিক্রসকে অর্থ দ্বেবার প্রতিশ্ররতিতে গুরগিণ খাঁকে হস্তগত করার ভার নিলেন । তারপরেই অমিয়েটে ও হের হত্যার খবর এল। সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানীর সাহেবরা সমস্বরে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন । পরমুহূর্তেই মীরজাফরকে বাংলা-বিহার-উড়িস্যার নবাব ঘোষণা করা হল এবং তিনিও বশংবর্দ ভূত্যের মতে! ইংরেজের সব সর্তে না দেখেই সাক্ষর করে দিলেন। শেষ সময়ে জাম! গেল যে মণিবেগমের আসল রাগ মীরকাশিমের ওপর নয় তার স্ত্রী মীরজাফর কন্তার ওপর কারণ তিনি মণিধেগমকে তার পিতার বিবাহিতা পত্বী বলে স্বীকার না করে করেছেন চরমতম অপমান। ভ্যান্সিট্াট পাহেব শেষে বলছেন *শয়টান মীরকাশিমকে এমন সাজ! ডিব সার! বাংল। দেশটা কাপিয়৷ উঠিবে? (মীঃ পাতা ৩৬)। আলোচনা ॥ ট্রতিহাসিক কার্ধী সম্পর্কে ,ধারণা না থাকলে নাট্যকারের গল্ভীর কাজও হাসির উদ্রেক করে । এই দৃশ্য সেইরকম । ভ্যান্দিট্রার্টের কৃঠিতে ইংরেজ রাঁজ- পুরুষের মাঝে মীরজাফর, বেগম ও নন্দকুমার সহ সমবেত হবেন এটা আশ্চয কথা । সাহেবরা কাউন্সিলে মিলিত হতেন । বেগমবা কথনই নিজেদের আবাস ত্যাগ করতেন না। বিংশ শতাব্বীর আবহাওয়ার কিছুই যে অষ্টাদশ শতাব্দীতে ছিল না এটা! না বোঝার ফলেই অধিকাংশ নাট্যকার বহু ভুলের সন্মুখীন হয়েছেন। পাটনায় ইংরেজ নরনারী হত্যার পর ভ্যান্সি্টাটের বক্তব্য উদ্ধত করে দেখান হয়েছে। সেই ব্যক্তির পক্ষে মীরকাশিমকে *শয়টান? বল! যে একাস্ত অসম্ভব তা বলাইবাহুল্য। মণিবেগমের খোজ! পিক্রসের সাহায্য নিয়ে মীরকাশিমের পতন ঘটান আর এক অসম্ভব ঘটন1 | নবাব রা নৰাব-বেগম কেউ এই ব্াষ্ট্রবিপবের ধারক ব! বাহক ছিলেন না। তাই তাদের হাত থেকে ক্ষমতা পরিপূর্ণভাবে চলে গেল। তারা কোম্পানীর হুকুমে মসনর্দে বসেছেন, সাহেবদের মন জুগিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন এটাই বাংলার নবাবীকে নপুংসক করে দিল। মীরজাফর বিনাসর্তে নবাবী গ্রহণ করলেন এটাও টিক কথা নয়। মীরজাফর যে মুহুর্তে বুঝলেন যে কোম্পানীর কাছে তার দাম কম নয় সজে সজে দরদাম সুক্ক করে দরিলেন। তিনি বুঝেছিলেন' যে নবাবীতে . বসবার আগে সর্ত ঠিক করতে হবে কারণ এবার নবাবী গ্রহণ করলে সম্পূর্ণ- মীরকা শিম ৪৬৭ ভাবে কোম্পানীর মুখাপেক্ষী হতে হবে নিজের কোন স্বাধীনতা থাকবে না। মীরজাফরের প্রধান সর্ভ তাই হল-_রাজ] নন্দকুমারকে তার মন্ত্রী হতে দিতে হবে। আর তার মৃত্যুর পর মণিবেগমের পুত্র নাঁঙ্গামদ্দৌলাকে নবাব করতে হবে। ইচ্ছা না থাকলেও ছুটি সর্তই ইংরেজকে বাধ্য হয়েই মানতে হয়। শনদকুমারের কুচক্রী কর্ম কখন কি বিপদ আনে এই ছিল ইংরেন্ের ভয়। বিশেষ চিঠিপত্র জাল করতে নন্দকুমারের সিদ্ধহস্ততার প্রমাণ তাদের কাছে কম ছিল না। মণিবেগমের পুত্র নাজামাদ্দোলাকে অনেকেই মীরজাফরের সন্তান, বলে মনে করতেন না। কিন্তু দুইটি সর্তই ইংরেজ কোম্পানী মানলেন । “মহাব্রাঙ্তা” উপাধিতে .ভূষিত হয় নন্দকুমার মীরজাফরের দেওয়ান নিষুক্ত হলেন । একমাত্র তিনিই ভারতীয়দের মধ্যে প্রকাশ্যিভাবে মীরকাশিমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সুরু করলেন । নাট্যকার মন্সথ রায় এইসব ঘটন! জানতেন না। তাঁছাডা একাঁলের “শহীদ নন্দকুমার” সৃষ্টির জোয়ার দেখে তিনি একটু পাশ কাটাতে চেষ্টা করেছেন। তাই দৃশ্টে নন্দকুমার মীরজাফরের বন্ধু হিসাবে উপস্থিত থাকলেও বিশেষ কথাবার্তা বলেন নাই । নানা কারণে তাই মীরকাশিমের সঙ্গে ইংরেজদের যুদ্ধ বাধার কারণগুলো অস্পছ রয়ে গেছে । মনে হওয়া ব্বাভাবিক যে অমিয়েট ও হের হত্যা! বুদ্ধ বাধার একমাত্র কারণ। এখানেও নাট্যকার অপাবধান। অমিয়েট হত হন্‌ কিন্ত হে বন্দী ছিলেন। উধুয়ানালার পরাজয়ের পরে পাটনায় ও মুঙ্গেরে ইংরেজ বন্দীদের হত্যার সময় হে মৃত্যুবরণ করেন। শচীন সেনগুপ্ত তার সিরাজন্দৌল! নাটকে যে “বাংলা-বিহার-উডিষ্তার নবাব সৃষ্টি করেছেন পরবর্তী নাট্যকাব্রগণ তারই প্রতিধবনি করেছেন। সমস্ত আওয়াজটাই ভূল। অষ্টাদশ শতাব্ধীতে ওই রকম কোন শব্দ বা পদ ছিল না। ভারতবর্ষ মোগল সরকারের অধীনে কয়েকটি স্থববায় বিভক্ত ছিল। ভৌগলিক বাংলা বিহার উড়িযু! “বাংলা স্ববা'র অন্তর্গত ছিল। মুর্শিদকুলি থেকে দ্বিতীয়বার নবাব মীরজাফর সবাই ছিলেন বাংলা সবার স্বেদার । মহাত্মা ঈশ্বরচন্ত্র বিদ্ভাসাগর রচিত বাঙলার ইতিহাসের চতুর্থ অধ্যায়ের প্রথমেই লেখা! “১৭৬০ খ্রীষ্টাব্বের ৪ঠা অক্টোবর, ইংরেজর! মীরকাশিষকে বাঙলা ও বিহারের স্থবাদার করিলেন ।, (বিস্তাসাগর রচনাবলী। প্রথম থণ্ড। পাতা ১৩২।) উড়িঘ্বা বাংলা স্ববা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ১৭৫১ প্রষ্টাবে এবং ইংরেজর! পুনরায় দথণ কৰে না ৪৬৮ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন! নেওয়া! পধ্যস্ত মারাঠা-প্রদেশ হিসাবেই গণ্য হত। বাংলার নবাব বললে বাংল! স্ববার নবাব বোঝাত যেমন অযোধ্যার নবাব বললে বিরাট অযোধ্যা স্থবার নবাব বা স্বেদার বোঝাত। ছুইশত বছরে বাংলা যে আমুল বদলে গেছে এটা ,না বোঝার জন্তই নাট্যকাররা অষ্টাদশ শতাব্দীর আবহাওয়া বুঝতে পারেন নাই এবং সেই জন্তেই তাদের নাটকে এত রকমের তল ও অসঙ্গতি দেখা গেছে। মল্মথ রায় প্রথম দৃশ্টের ছূর্বলতা দ্বিতীয় দৃশ্তে ঢাকবার চেষ্টা করে এই একই কারণে ব্যর্থ হয়েছেন । দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় দৃশ্ ॥ দ্বিতীয় অঙ্কের দ্বিতীয় দৃখা সুরু হচ্ছে কাটোয়া ও“গিরিয়া যুদ্ধে মীরকাশিমের পরাজয়ের পর । ষড়যন্ত্রকারীর1 খুবই আনন্দিত। নাট্যকার দেখিয়েছেন যে রাজবল্লভ, জগৎশেঠ ও রায়ছুর্ল৬» থোজা পিক্রসের কাছে সংবাদ সংগ্রহ করছেন । পিক্রস তার ভাই গুরগিণের সঙ্গে আলাপ করছে । গুরগিণ তাকে বলছেন যে বারবার হেরে গিয়ে তার মন অত্যন্ত খারাপ হয়ে আছে। আবরাব আলি থবর দ্িলযে মীরজাফর আবার 'বাংলা-বিহার- উডিষ্তাব” নবাব স্বীকৃত হয়েছেন। কোম্পানী এক অশিষ্ঠ ইস্তাহার বার করেছে তাতে মীরকাশিমের মন্তকের মূল্য এক লক্ষ টাক] ঘোষিত হয়েছে । নবাব মীরজাফর তার প্রিক্স প্রজাদের মীরকাশিমের ছত্রছায়। থেকে সরে ষেতে নির্দেশ দিয়েছেন । আরাব ও গুরগিণ আগামী ভধুয়ানালার বুদ্ধ আলোচনা করছেন । গত যুদ্ধ দুটিতে তাঁর! যে কেবল বিশ্বাসঘাতকতার জন্যেই হেরে গেছেন একথা বলতে ভূলছেন না। নবাব মীরকাশিম এসে বলছেন উদয়নালায় আমাদের শেষ চেষ্টা” (ষীঃ পাঁতা ৪৩ )। /ষড়যস্্কারীর! নবারর্কে আশ্বাস দিচ্ছেন যে তকি খা মরলেও আর অনেক বীর আছে। নবাব এসব কথায় ভূলছেন না গুরগিণকে জানাচ্ছেন যে তার ওপর নবাবের আস্থা আছে । গুরগিণ জানালেন উধুয়ানালার ভার তিনি নিলেন-_ এবং, কর্মের ঘার] নিজের যোগ্যত। প্রমাণ করবেন । আরাব আলিকে নবাব মুলের হর্গের ভার দিলেন । নজাফ খা মীরকাশিম পক্ষের. একমাত্র নির্ভরযোগ্য লোক জানাচ্ছেন যে নবাবের ক্ষমতা ইংরেজের তুলনায় অনেক বেশী কিন্ত কেবল বেইমানী নবাবের বার বার শর্বলাশ করছে। এরপরই লাট/কার কল্পনার মীরকাশিম ৪৬৯ সাগরে নৌকা ভাসালেন । নবাব মহিষী ফতেম। দরবারে উপস্থিত হয়ে তার পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন । মীরকাশিমকে শ্বশুর মীরজাফরের বিরুদ্ধে দণ্ড ধোষণা করতে বলছেন । এখানে মণিবেগমের বিরুদ্ধে বিষোদগারের স্যোগ কিন্তু নাট্যকার ফতেমাকে দেননি__মীরকাশিমের মুখেই হাক্কা সংলাপ সৃষ্টি করেছেন। কল্পনার বিপদ হল তার সীমা নির্ধারণ করা । মল্বাথ রায় প্রথম অঙ্কের চমত্কার ইতিহাসসম্মভ বিবরণীকে দ্বিতীয় অঙ্কে ভাবাবেগে নষ্ট করে ফেললেন। ভাবালুতা চরমে উঠল যখন যুবক নাজামাদ্দোল! দূত হয়ে তার ভগ্নি ফতেমার কাছে এলেন এবং মীরকাশিমের পক্ষ হয়ে তার পিতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। অনেক দেশপ্রেমী সংলাপ আছে। একটি হল নাঙ্ঞামাদ্দোল। জানাচ্ছেন যে তার মা মণিবেগম তাকে সিংহাসনে বসবার জন্তে এই যুদ্ধ চালাচ্ছেন সেই সিংহাসন তিনি চান না। মীরক্যশিম তাকে বধ করুন তা হলেই এ যুদ্ধের অবসান হবে। দেশের স্বাধীনতা ও বাংলার মসনদ-_-তাই এই বুদ্ধব__"ন্বাধীন বাংলার বাচ্চা আমি ঘসনদে পদাঘাত করি- ন্বাধীনতার পতাক1 দাও”, এই সব অসংলগ্ন বাতুল কথায় দর্শক মনোরঞ্জন করে নাট্যকার মীরকাশিমকে দিয়ে সযতনে মাজামাদ্দোলার প্রাণ বাচিয়ে তাকে স্বস্থানে পাঠিয়ে দ্িলেন। সংলাপ “নাজামাদ্দোল! বাচলে__এ দেশ জাগবে |” (মী; পাতা ৫৭) আলোচনা ॥ এ দৃশ্য সম্পূর্ণ অনৈতিহাসিক । মীরজাফরের ১৭৬৫তে মুত্যু হলে নাজামাদ্দোল। নাবালক অবস্থাতেই সুবেদার হলেন। মণিবেগম হলেন নবাবের রক্ষক । স্থতরাং ১৭৬৩তে যুবক নাজামান্দোলা এবং তার সমত্ত সংলাপহ অসম্ভব এবং ইতিহাস বিরোধী তৃষ্ি। সেই হিরণ্যকশিপু আর প্রহলাদের গল্প শোনার পর থেকে বাঙালী দর্শক হুস্কতকারী পিতার বিরুদ্ধে পুত্রের বিদ্রোহ দেখতে ভালবাসেন । যোগেশ চৌধুরীর “পরিণীতা' নাটক কেবলমাত্র পিতা-পুত্র ঝগড়া কেন্দ্র করে জনপ্রিয় হল ও বহুরাত্রি চলল [ বলা যাক এট! হল প্রহলাদ-_কমপ্নেক্স |] দর্শক ও নাট্যকার মগ্মথ রায় এই প্রিয় মনোভাবটি বর্জন করতে পারেন নাই--বালক নাজামান্দৌোলাকে দিলেন যুবক করে। একবার ভাবলেন না, যে বালকের মুখে মসনদে পদাঘাতের ৪৭৩ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। ভাষণ দিলেন তাকে সেই মসনদে গুটিগুটি উঠে ঝিমুতে দেখলে তার প্রাতি দর্শকদের কি ধারণা হবে। নাজামাদেৌলা যে প্রথম ইংরেজ পুষ্ট নবাব নাট্যকার ভুলে গেছেন । এই দৃশ্যের দ্বিতীয় অনৈতিহাসিকতা বড়যন্ত্রকার্ীদের যোগাযোগ । এ বিষয়ে প্রথম অঙ্কের শেষে বিশদ আলোচনা হয়েছে সুতরাং তার পুনরাবৃত্তি নিস্পোয়জন। এই দৃশ্যের সময় ১৭৬৩ ্ীস্টাব্দের ২রা অগাঞ্টের পর ও €ই সেপ্টেম্বরের আগে । তৃতীয় অনৈতিহাসিকতা “উদ্য়নালা”। ওই নামে কোন দুর্গ বা নালা বা জায়গা ছিল না। কথাটা হচ্ছে “উুয়া” যেটা উদ্ধমুখী ন[লা কথাটার চলতি অপত্রংশ। সব বই-এ উধুয়ানালা ব্যবহৃত হয়েছে। স্থানটি গঙ্গার ওপর । সামনে পেছনে নালা কেটে মাঝের উচু জায়গাঁটিকে হুর্গ স্থাপনের ভপযোগী করা হযেছে । নালাটির জল গঙ্গার গতির উ্টো দিকে বয়ে যেত বলেই এই স্থানটি উধুক্লানালা নামে প্রসিদ্ধ হয়। ূ্‌ দ্বিতীয় অঙ্কে কয়েকটি ঘটন৷ জানান ছাড়া নাট্যকার নাটককে এতটুকু আগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেন না। অনেক হাততালি পাওয়া কথা জুড়ে দিলেও নাটক হিসাবে এই অঙ্কটির দৌর্বল্য অনন্থীকা্য । পিক্রসের কাছে গুরগিণ যুদ্ধে হারার খবর দিচ্ছেন যেন গত ফুটবল ম্যাচ ছটিতে হেরে ' যাবার জন্ট ছুঃথ করছেন । রাষ্ট্রবিপ্রবের কোন গন্ধ এই সংলাপে তথা এই অঙ্কে পাওয়। যায় না। প্রথম অঙ্কে নাট্যকারের এতিহাসিক সচেতনত। মীরকাশিম ৪৭১ দেখার পর দ্বিতীয় অঙ্কের এই “দিবা-নিদ্রা-স্থখ” খুবই আশ্চর্যা পাগে। অপচ বটনাত্ অস্ত নাই। নাটকীয়্তার শেষ নাই । কলকাতায় মুশিদাবাদে মুঙ্গেরে অথবা পাটনায় নাট্যবস্ত অঞ্জলী ভরে, ইতিহাস এই সময় উপহার দিয়েছে। ছুর্ভাগ্য যে বাঙালী নাট্যকার এই অভূতপূর্ব ঘটনাসম্তার ব্যবহার করবার স্থযোগ নিলেন না। নিজের. কপোলকল্পনাতেই মুগ্ধ হয়ে বইলেন। তৃতীয় অস্ক ॥ ততীয় অঙ্কে ছ'টি দৃশ্য | প্রথম দৃশ্ঠ ইংরেজ শিবিরের বহির্তীগ ও দ্বিতীয় “উদ্য়নালা”র ছুর্গ । এই অক্কের উদ্দেশ্য উপুয়নাল। দুর্গের পতন দেখান | প্রথম দৃষ্তে তাই নাটাকার নডযন্ত্রকারীদের ধৈঠক বসিয়েছেন আর মন্ত্রবলে মুঙ্গের বন্দীশালা থেকে হাজির করেছেন জগৎশেঠ, রাজবল্লভ প্রভৃতিকে, কলকাতা থেকে নিয়ে গেছেন রায়ছুলভকে আর মুশিদাবাদ থেকে এনেছেন নবাব মীরজাফর, তার তরী মণিবেগম ও মন্ত্রী মহারাও। নন্দকুমীরকে। ইতিহাস সম্পর্কে একান্ত ভাবে ভূল ধারণা পোষণ না করলে নাট্যকার এই রকম একটা! ভুল করতেন ন!। প্রথমাবধি তান ধরে নিয়েছেন ঘে মণিবেগমের অর্থানুকুল্যে একট| ষড়যন্ত্র ভয়েছে এবং ইংবেজ ষড়যন্ত্রকারীদের সাহায্য করেছে। এটা সম্পূর্ন ভূল । পলাশীতে ইংরেজ ছিল এই ভূমিকায় অর্থাৎ সিরাজ পতনের সাহায্যকারী । কিন্তু কাটোয়া বা গারিয়! বা উধুয়ানালায় ইংরেজ তাদের পছন্দমতো নবাবকে সিংহাসনে বসিয়ে তাঁর নামে নিজেরাই দেশ শাসনে উৎস্থক। তাই আকাশপাতাল প্রভেদ পলাশীর সঙ্গে উধুয়ানালার । দু*বছর পরে বল্সারের যুদ্ধে পরাজয়ের পর স্বয়ং দিল্লীর বাদশাহ নিজে ডেকে ইংরেজ কোম্পানীকে বাংলা-বিহার-উডিষ্তার দেওয়ানী দিয়েছেন। উড়িস্যা মনে রাখতে হবে তখন মারাঠা অধিকারে । ইংরেজ কোম্পানীই বাদশাহর পক্ষে উড়িস্তা দখল করে নামে মোগল শাসন চালু করে। আসলে উড়িস্তা কোম্পানীর কন্জায় আসে । সুতরাং নাট্যকার মন্সথ রায় উধুয়ানালার কাছে যে ফড়ঘন্ত্র শিবির, দেখিয়েছেন তা অসস্ভব। তিনি দেখিয়েছেন যে জগৎশেঠ, রায়ছুর্লভ, রাজবল্পভ, মীরজাফর, মণিবেগম ও নন্দকুমার ষড়যন্ত্র করছেন কি কৰে ৪৭২ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। উধুয়ানাল| দখল করা যায়। নানা সংলাপের ভেতর দিয়ে নাট্যকার প্রচলিত- ভুলগুলি পুশরাবৃন্তির প্রমাণ রাখেন । এক | জগৎশেঠ বলছেন যে তারা হলেন “বাংলার মসনদের দাস”। অষ্টাদশ শতাব্ধীতে বাংলা-মসন্দ বলে কখন কিছু ছিল ন।। ওটা দিল্লীর মসনদের প্রতিভ্‌ এক কল্পনা । দ্বিতীয় জগণ্শেঠগণ কথনো বাংলার স্রাদারের দাস ছিলেন না। মুসলমান আমলে বিনয়ী ওসওয়ালী জৈন জগৎশেঠদের পাছে কেউ দাস ভাবে তাই বাংলার ক্ববাদারের দক্ষিণে সমীন উচ্চ আসনে তাদের বসার স্থান নিদিষ্ট ছিল এবং বাংলার নবাবের মতন পায়ে সোনার অলঙ্কার পরবার তাদের অধিকার ছিল। এসব কথাই সিরাজ-জগৎশেঠের ব্যবহারিক ঘটনা আলোচনার সময় বিশদ- ভাবেই জানান হয়েছে। এখানে সংক্ষেপে পুনরুক্তি করা হল মাত্র ।৮০ ছুই। মণিবেগম রায়হুলভকে বলছেন “আপনারাই বাংলার প্রকৃত কর্ণধার” । এটা অসম্ভব। কারণ নন্দকুমার এক সময়ে ছিলেন রায়ছুলভের আশ্রিত। কালের চক্রে আবন্তিত হয়ে এখন নন্দকুমার মীরজাফরের শুধু মন্ত্রী নয় একমাত্র মন্ত্রণাদাতা । তার বিবেচনা অনুবায়ী মীরজাফর রায়দুলভকে ভয় দেখিয়েছিলেন ষে মুশিদাবাঁদ ত্যাগ না করলে তাঁকে গুপ্ত হত্যা করা হবে তদবধি রায়ছুর্লভ কলকাতায় বসেছেন সৃতরাং উধুয়ানালার আগে তার এই উক্তি অসম্ভব । মীরজাফরের মৃত্যুর পর যখন লর্ড ক্লাইভ আবার বাংলার গবর্ণর হয় এলেন তিনি নন্দকুমারের ক্ষমতা খর্ব করার অন্য আবার র্রায়ছূর্লভকে সরকারী উপদেষ্টা করে মুশিদাবাদে পাঠিয়ে ছিলেন । কিন্তু সেটা আর এক ইতিহাস । তিন। নন্দকুমারের মুখে ভাষণ যে ১৭৫৭তে নবাবী পাবার পর নবাব মীরজাফর হিন্দু মন্ত্রী সব সরিয়ে দেন এই বুদ্ধিটা নাকি তিনি কলকাতায় ইংরেজদের কাছে শিথেছিলেন-_1014109 9170 16 (মী: পাতা ৬০ )। ইহা অসত্য ভাষণ চতুর্দিক থেকে | প্রথম দিক--নবাব মীরজাফর হিন্দু মন্ত্রী সরান নাই । প্রথমে ছিলেন দেওয়ান রায়ছুলভ পরে হলেন নন্দকুমার |, দ্বিতীয়বার নবাৰ হবার একটা সর্ত ছিল নন্দকুমার দেওয়ান হবেন। মীরজাফরের মৃত পর নন্দকুমার-পুত্র গুরুদাস দেওয়ান হন। দ্বিতীয় দিক-_একষান্র নবাব ীরকাশিম হিন্দুমন্ত্রী ব দেওয়ান রাখেন নাই। তিনি কলকাতার সাহেবদের কাছে এই বুদ্ধি নিয়েছিলেন ধনে করার কোন কারণ নাই । তৃতীয় দ্বিক-_ এই সময়ে কোম্পানীর পক্ষে হিচ্টু মুসলমান আলাদা নয়। কিছু হিন্দু সুসলমান মীরকাশিম ৪৭৩ তাদের বন্ধ আবার কিছু হিন্দু মুসলমান তাদের শক্র । তারা বন্ধুদের সাহায্যে শত্রুদের পতন ঘটিয়েছে । ইংরেজ কখনও ভারতবর্ষে 01৬09 8170 7016 2০110/ সরকারীভাবে চালিয়েছেন কিন! এ নিয়ে জনাব বদরুদ্দিন তায়েবজ্ঞী গবেষণ কার্য্যে নিযুক্ত আছেন । তার মতে হিন্দু মুসলমানে অবিশ্বাস ও বিরোধ বিদেশী শাসকদের হ্ুযোগ দিয়েছে । তাঁয়েবজী দেখিয়েছেন যে প্রতিটি সাম্প্রদায়িক অনুশাসন হিন্দু অথব! মুসলমানদের অন্ুরোধে কর! হয়েছে। তায়েবজীর বক্তব্য হুল যে নানা রাজনৈতিক কারণে হিন্দুমুসলমান নিজেছ্গের মধ্যে বিরোধ জাগিয়ে রেখেছে কাজেই বৃটিশ সরকারকে বিভেদ শুষ্টি করতে হয় নাই, বরঞ্চ বিভেদ সুষ্টি হল বলেই শাসন্যস্ত্র পরিচালন সহজ হয়েছে । এই মত ইতিহাসের আলোকে সমর্থনঘোগ্য ।৮৯ চতুর্থ দ্রিক। আযাডামসের মুখে ভাষণ--1178 881081 15 170 101808 01 51981 01 17111 00511”, সম্পূর্ণ ভুল। সিরাজের মতো চরিত্রহীন অসংঘত অন্তায়কারী আর মীরকাশিমের মতো! লোভী, ক্ষমতালিগ্প, অবিশ্বাসী অতাচারীতে পূর্ণ না হলে বাংলার এই দশা হয় না। উদ্বাহছরণ আর লা বাড়িয়ে নাট্য ঘটনায় ফিরে যাওয়া যাক'। ষড়যন্ত্র চলাকালীন খোজ! পিদ্রস এসে বলেন যে গুরগিণ খাব সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন। সকলের মনে হওয়া স্বাভাবিক যে ইংরেন্দ নয় মণিবেগমই থোজা পিদ্রসের সাহায্যে মীরকাশিমের পতনের প্রধান উদ্যোগী । পিক্রস জানায় গুরগিণ টাকা নিচ্ছে বটে কিন্ত আরে! টাকা চ'ইছে। মণিবেগম দিচ্ছেন তাকে তার হাতের অঙ্কুরি ও সর্বশেষ হীরক বলয়। এদিকে মুঙ্গের থেকে পলাতক বন্দীর! ভীত ক্কি করে তার! তাদের বন্দীশালায় ফিরে যাবেন! এমন সময় মীরকাশিম পক্ষে নজাফ থা ইংরেজ শিবির আক্রমণ করলেন। তাদের ফিরে যাবার সময় থোজা। পিক্রস কাল চাদর চাক দিয়ে তাদের পেছনে পেছনে উধুয়ানালার গুণ পথ দিয়ে ছুর্গে ঢুকে পড়লেন । দ্বিতীয় দৃশ্টে, “উদয়নালা” দুর্গে পানোন্মত উতৎ্সব। যুদ্ধের আগের মুহূর্তে ॥এমন "সম্ভব কিনা নাট্যকার বিচার করেন নাই। উতিকাসিক লিখেছেন যে “সৈম্তগণ সতর্কতার সহিত হছুর্গ পাহারা দিত না হৃতাগীতে চিত বিনোদন করিত 1১৮২ এই নৃতগ্বীত কিন্ধ ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীষাবন্ধ। নাট্যকার তাকে উৎসবের আঁকার দিয়েছেন! অবশেষে পিক্রস এসে ৪8৭৪ বাংলা ্তিহ'সিক নাটক সমালোচন। হাজির ভাইএর সামনে । ভাই একবারও প্রশ্ন করলেন নাকি করে এই দুর্ভেছ্ক ছুর্গে পিদ্রস প্রবেশ করলেন। তিনি আবার ম্যাজিকের কৌশলে “'আরম্মেনিয়ান নর্তকী” সংগ্রহ করেছেন । নাচ দেখে আর মদ খেয়ে নবাব মীরকাশিমের প্রধান সেনাপতি এত উম্মস্ত হলেন ষে পিক্রস যখন ইংরেজকে ছর্গ আক্রমণের সংকেত জানালেন তখন বাধা দিতে পারলেন না । নজাফ খশ! এসে গুলি করে 'গুব্রগিণকে হত্যা করলেন । মরবার সময় তার সংলাপ-- বাংলাদেশের মাটির দোষেই তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। আলোচনা! ॥ মন্তান্ত নাটাকাবের মতে মন্মথ রায় গুরগিণকে বিশ্বাসঘাতক হিসাবেই প্রতিষ্ঠিত করলেন। গুরগিণ কোন যুদ্ধ ক্ষেত্রে বা ছুর্গে হত হন নাই। উধুযাঁনাল! বুদ্ধেব দেড়মাস পব পলায়নপর মীব্রকাশিম বথন পাটনা থেকে বারে পৌছলেন তখন একদিন গুরগিণকে কেটে ফেলা হয। তাৰিথ ১৮ই অক্টোবর ১৭৬৩ । পরদিন অর্থাৎ ১৯শে অক্টোবর জ্গৎশেঠ ভ্রাতৃদ্ধধকে মীরকাশিমের আদেশে নৃশংসভাবে হত্য! কব! হয। অস্কের স্ক্কতেই এক অন্ভুত ষড্যন্ত্র দেওয়া হয়েছে । শেষে দেওয়া হয়েছে ততোধিক অদ্ভুত এক যুদ্ধ্যোগ্যম । বারবারই গিরিশচন্দ্রের গিবিয়ার যুদ্ধের নাট্যরূপ মনে পডেঘাষ। 'আশক্ষিভ হযে দেখা যায় যে ১৯০৬ এর জ্ঞানের সাধনা! ১৯৩৮এ অবলুপ্ত। নাটাকার কিভাবে নাট্যবস্ত ব্যবহার করবেন বুঝতে পাব্রছেন না। এখানে কল্পনা প্রসারে স্থযোগ ছিল কিন্ত তাও এখানে শ্ুপ্ত । উধুযানালা পতনের এমন চমৎকার ঘটন] নাট্যকার ব্যবহার করতে পারলেন না। এই অপারগতা নাটক নষ্ট হয়ে গেল। সমগ্র ঘটনা সম্পর্কে স্পট ধারণা ন! থাকায় নাট্যকার পদে পর্দে আশঙ্কিত হয়েছেন । অসম্ভব ঘটনার দিকেই তার মন চলে গিষেছে সম্ভাব্য ঘটনার প্রসার তার রচনায় দেখা গেল না বলেই ্রতিহাসিক নাট্যন্থষির প্রয়াস তৃতীয় অঞ্কে পরিপূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে । বাঙালী নাট্াকারদের আর এক চরিত্র এই নাটকে প্রতিফলিত বাঙালী নাট্যকার বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই নিজের পরিবেশ কাটাতে পারেন নাই । "তাই রাজা নবাব বাদশাহ মায় বিদেশী নরপতিও কেরাণী বাঙালীর মীরকাশিয় রর ৪৭৫ চালচলন কথাবার্তা ধরণধারণে বাধা । এ বিষয়ে বাংলাৰ নাট্যকার এত রক্ষণশীল যে বাঁঙান্বী মুসলমান, ব1 বাঁঙালী খ্রীষ্টান সমাজ সম্পর্কে তাদের কোন রকম ওউৎস্থক্যের প্রমাণ নজরে পড়ে না। এখানে আমেনিয়ান ব্যবসায়ী সমাজ সম্পর্কে নাট্যকারের পর্বতগ্রমাণ অজ্ঞতা প্রমাণিত হয়েছে। মম্মথবাবু একবারও ভাবেন নাই যে থোজ পিক্রস তৎকালীন মুশিদাবাদ ও কলকাতার একজন বিরাট ব্যবসায়ী হতে পারেন যিনি মীরকাশিম ও হেস্টিংস সাহেবকে বিভিন্ন সময়ে লক্ষাধিক টাঁকা কজ্জ দিয়েছেন। ইংরেজ বন্ধু হিসেবে তিনি তার ভাইকে বা অন্য ইউরোপীয় সেনাপতিদের পত্রে লোভ দেখিয়েছেন এবং মীরকাশিমকে ত্যাগ করবার জন্ত অনুরোধ করেছেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায় । কিন্তু কালো চাদরে নিজেকে মুড়ে থোজা পিক্রস স্বয়ং গুচচরবৃত্তি করবেন এটা অসম্ভব কল্পনা । মনে কর] যাক শ্রীযুক্ত টাট। গত বাংলাদেশের যুদ্ধের সময় রিষ্সাটালক সেজে ভারতীয় সৈন্তদের ঢাকায় নিয়ে চলেছেন । সময় ও ব্যক্তি সম্বন্ধে বথেষ্ট জ্ঞান না থাকলে এমন হাস্তকর ভুল ওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়। খোজ। পিক্রস দীর্ঘদিন কলকাতায় ব্যবসা করেন । তারা পুরা নাম আগ! পেটরুশ আযারাটুন। তিনি ভ্রাতাঘয় আগ! গ্রেগরী ও আগ। বারসেগ সহ সৈদাবাদে ব্যবপা স্থুরু করেন পলাশার আগে। পলাশীর পর তিনি কপকাতায় ব্যবসা নিয়ে যান। ছোট ভাহ বারসেগ সৈদাবাদে থাকেন ও সেখানেই বৃদ্ধ বয়সে দেহরক্ষা করেন। পেটরশকে অবশ্ঠ অর্থ নৈতিক অপরাধে ইংরেজ কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করে। তিনি তখন সপরিবারে মুঙ্গেরে গিয়ে গ্রেগরী বা গুরগিণ গ্রতিষিত ব্যবসার ভার গ্রথণ করেন এবং গুরগিণ খার পরিবারভূক্ত হন। মুঙ্গেরেই তার সফাধি রয়েছে। আর এক বিষয় স্মরণ রাখা কর্তব্য । মীব্রজাফরের নবাব হবার প্রথম সর্তে যেমন লিখিত আছে যে নন্দকুমার দেওয়ান হবেন তেমনি লিখিত আছে খোজ! পিক্রস সিপাহসালার হবেন । ম্থতরাং ষপিবেগম পিক্রসকে অর্থ ও গহন! দেবার থেকে খোজ! পিক্রসের মীরজাফরকে সৈল্ত- বাহিনীর মাহিনার*জন্ত অর্থ সাহায্য করা অনেক বশী স্বাভাবিক। ইংরেজরা নবাৰ পক্ষে যুদ্ধ করে মীরকাশিমকে বাংলা সুবা ত্যাগ করাল। এই যুদ্ধে ইংরেজদের যে খরচপত্র হল তা সবই ছিল নবাবের দেয়। তাই নবাব পক্ষে টাকা দেবার জামীন হলেন খোজ] পিক্রস। নবাবের জামিনদারকে কালোকাপড়ে ৪৭৬ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ সুডিয়ে হীন গুপ্তচরবৃত্তিতে করতে দেখিয়ে তাই হাস্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে মাত্র। তবে স্থবিধা হল ১৯৩৮ এ বাঙালী দর্শক ইংরেজের বিরুদ্ধে কিছু উম্মার উদগার পেলেই খুশী । বৃটিশ সরকারও সেটা বুঝে ফেলেছিলেন । তাই শচীন সেনগুপ্রর সিরাওদ্দৌলা বা মন্থ রায়ের মীরকাশিম কিছুদিন একটু আওয়াজ- টাওয়াক্ত করে যাছঘরে রক্ষিত হল। ইংরেজ সরকার অভিনয় বন্ধ বা নাটক বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজন রোধ করলেন না। তার! জানতেন এইরকম নিবিষ ভূজঙ্গ তাদের সত্যিকারের বন্ধ । চতুর্থ অস্ক ॥ এই 'অঞ্কটি সম্পর্কে একলাইন লিখলেই যথেষ্ট । মীরকাশিম সন্রাস্ত ব্যক্তিদের ও মুঙ্গেরে বন্দী ইংরেজদের হত্যার আদেশাদলেন। «€ই সেপ্টেম্বর উধুষানালার পতন | ৯ই সেপ্টেম্বর ইংরেওদের কাছে মীরকাশিমের চরমপত্র। তারপরই এহ হত্যার আদেশ । আযাডামস মুঙ্গের ছুর্গ অধিকার করলেন ৩রা অক্টোবর । স্বতরাং মুজেরের হত্যাগুলি এই সময়ের মধ্যে হয়। পাটনায় হত্যাকাণ্ডের তারিথ «ই অক্টোবর | নাট্যকার দেখিয়েছেন উধুয়ানালার খবর পাবার পর মীরকাশিমের আদেশে সমরু সন্ত্রান্ত ব্যক্তিদের বধ করলেন। বধ্য ₹লেন জগৎশেঠ ( একজন ) ব্রায়হুলভ ( তাহুলে পরে বেচে উঠলেন কি করে), রাজবল্লভ, সৈয়দ মহম্মদ থা ও মীর্জা ইরাজ খা (সিরাজন্দোলার শ্বশুর । এ'র কবর আছে ঘধশোরে। কি ছু:খে ইনি মুঙ্গেরে খুন হবেন?) নাট্যক'?র' দৃষ্তটিকে সম্পূর্ণভাবে কল্পনায় রচনা করেছেন। নবাবের 'সঙ্গে তার পত্ধীর আশোচন্ার মধ্যেই যেন নবাব উধুয়ানালায় পরাজয় আশঙ্কা করছেন মনে হয। ফতেমার সংলাপ “নিম্মুল কর বেইমানদের-__নিম্থুল কর বাংলার মীরজাফরদের ।” মীরকাশিমের সংলাপ আরও অদ্ভুত। “স্বাধীনতা রক্ষার সাধন! ষদি ব্যর্থ হয়-_পরাধীনতা দূর করবার সাধনা নিয়েই বাব ভারতের গ্রামে গ্রামে-ঘরে ঘরে।” (মী£ঃ পাতা ৯১)। তারপর বিজয় উৎসবের আয়োজনের মধ্য মীরকাশিষ সম্তান্ত ব্যক্কিদের মধ্যে এসেন। ভাদের আশা আশঙ্কা বলাই ভাল, উধুয়ানালায় ইংরেজ পরাজিত হয়েছে। এই দ্ৃশ্তে নাট্যকার ইতিহাস অজ্ঞতার ঝুত্ি ঝুরি প্রমাণ রেখেছেন। একটি-- ীরজাফরকে বধ করা হয়েছে তে1?+ (মী: পাতা ৯২) নাট্যকার জানতেন মীরকাশিম 8৭৭ ন! যে বৃদ্ধ নবাবের দেছে জরার সঙ্গে তখন কুষ্ঠরোগ দেখা দিয়েছে । মণি- বেগমই নবাবী চালাচ্ছেন মহারাজ! নন্দকুমারের সহযোগীতাষ ও বুদ্ধিতে । আর মীরজাফরের মৃত্যু হলেই যে মীরকাশধ নবাখ হবেন তাও ঠিক নয়। বস্তত ১৭৬৫তে মীরজাফরের যখন মৃত্যু হল তথন মীরকাশিম গীবিত কিন্ত কোম্পানী জারজ সন্দেহ থাঁক। সন্ধে নাবালক নাজামাদ্দোলাকে নবাব মনোনীত করলেন। এই দৃশ্তে নাটকীয়ত' সৃষ্টির প্রয়াস চরিব্রগুণিকে ব্যাহত করেছে । বিশেষ করে মীরকাশিম চরিত্র বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তার কোন কোন সংলাপে তাকে উদ্মাদ মনে হয়। অবশেষে যুদে। পরাজয় সংবাদ পাওয়ামাত্র সমরুকে হত্যার আদেশ দিয়ে অট্রহাসি হাসতে হাসতে প্রস্থান বডই বিসদৃশ লাগে। নাট্যকার বুঝতে পারেন নাই যে রাগে উদ্মাদ হযে অট্রহাসি হাসবার লোক মীরকাশিম ছিলেন না। যাদের হত্য। করলেন তারা প্রত্যেকেই পাটনার সঙ্গে বিভিন্ন ভাবে জডিত। রাজা রামনারায়ণ আলিবদীর সময় থেকে সেখানকার নবাব-নাজিম পরে রাজ! বাজবল্পলভ অল্লসময়ের জন্য হলেও ওই পদে অপিষ্ঠিত হন। অন্তরা বিভারের সন্ত্রান্ত জমিদার স্তরাং পাটনায় তাদের যোগাযোগ থাকাই স্বাভাবিক । পাটনায় পালিয়ে ধাবার অব্যবহিত পুর্বে নবাবের এদের ₹ত্যা] কর! ছাড়া উপায় ছিল ন।। জগৎশেঠ ও গুরগিণ খীঁকে হত্যা কর! হর পাটনা থেকে প্াাপয়ে বাবার পথে। রায়ছুলভ সম্পর্কে আগেই আলোচন!। করা হয়েছে। ক্লাইভ দ্বিতীয়বার গবর্ণর হয়ে ফিরে এলে ১৬৫ ্রীষ্টাব্বে বৃদ্ধ রায়হুলভ আবার শাসনকার্য্ের সঙ্গে যুক্ত হলেন। কিছুদন পর তিনি বৃদ্ধত্বের অজুহাতে অবসর গ্রহণ করে কলকাতায় এসে বসেন এবং তারই সনির্বন্ধ অনুরোধে তার পুত্র রাজবল্লভ “রাজা” উপাধিতে ভূষিত হয়ে কলকাতায় কোম্পানীর নায়েব দেওয়ান ও পরে দেওয়ান নিযুক্ত ভন। এইপদে রাজা! রাজবল্লভ দীর্ঘদিন অধিষ্তিত ছিলেন। উত্তর কলকাতার একটি রাস্তা ও পাড়! এই ভদ্রলোকের নামেই নামাঙ্কিত। এই দৃশ্তে মীরকাশিমকে জানান হচ্ছে যে লক্ষ টাকার বানময়ে গুরগিণ খা বিশ্বাদঘাতকতা করেছেন। মুষ্ষিল হারা গুরগিণ খার বিশ্বাসঘাতকতা, আজও অনুমান নির্ভর কারণ প্রকৃষ্ট প্রমাণ পায় যায় নাই । এটা নত্য ষে ৪৭৮ বাংল! এতিহা'সিক নাটক সমাঁলোচন! নবাব তাকে সন্দেহ করতেন বলেই তাকেই গুপ্তহত্যা করেন। বার বার পরাঞ্য়ে নবাবের মনে সন্দেহ এসেছে । বন্ত্রব্যবসায়ী গুরগিণ খা তার বিরাট বপু ও সামরিক নিয়মতান্ত্রিকতার জ্ঞানের জোরে শস্ত্ব্যবসায়ী হলেন। সৎ ও অদ্ধাণীল লোক বলে পরিচিত হওয়ায় তিনি কিছুদিনের মধোই প্রধান সেনাপতির পদ পান। কিন্তু জীবনে তিনি কখনও যুদ্ধ করেন নাই | যুদ্ধবিদ্যায় শিক্ষিত ইংরেজ জেনার্লেদের কাছে তাঁর বারবার পরাজয় তাই অস্বাভাবিক নয়। হয়ত কোনদিন প্রমাণ পাঁওয়। যাবে যে গুরগিণ খা অপটু ছিলেন কিন্তু বিশ্বাসঘাতক ছিলেন না। পঞ্চম অহ ॥ দিল্লীর জুম্মা মসজিদ স্থবিস্তীর্ণ সোপান শ্রেণীর নিমস্থ প্রাঙ্গণ । ফতেমা ও নজাফ খা আলোচনারত | তাদের সংলাপে জানা যায় যে মীরকাশিম বাংল! থেকে পলায়ন করে দিল্লীতে এসেছেন বাদশাহর সাহায্য ভিক্ষা করবার জন্য । বাদশাহর সভাসদরা তাকে কিছুতেই দেখা করতে দিতে রাজী নয় তাই তিনি জুম্মা মসজিদের সামনে অপেক্ষা করছেন যাতে বাদশাহ নমাজ করতে এলে তাকে নিজের আবেদন জানাতে পারেন। মীরকাশিমকে ধরিয়ে দিতে পারলে লক্ষটাক1 পুরষ্কার দেওয়া হবে প্রচার করা হচ্ছে। বাদশাহী সভাসদগণের সংলাপে জান! গেল যে “উদয়নালা”য় মীরকাশিমের শেষ যুদ্ধ। (বক্সার যুদ্ধের কোন কথা নাই যাতে বাদশাহ স্বয়ং যুদ্ধে নেমে- ছিলেন মীরকাশিমের পক্ষে !) বাদশাহ এখন মীরকাশিমকে সাহায্য করতে খুব উৎস্তক তাই মীব্রকাশিম যাতে বাদশাহর সঙ্গে দেখা করতে ন1 পাঁএ্েন বিশেষভাবে দেখতে হবে। এমন সময় ভিক্ষুকের বেশে পাগলের মতো মীরকাশিম প্রবেশ করলেন। (এই একই কায়দ! নাট্যকারের প্রথম সার্থক নাটক াদ.সদাগরে ব্যবহৃত হয়েছে ।) সংলাপ--শুনতে পাই সিরাজের আর্তনাদ, লুৎফার ক্রন্দন, বাংলার হাহাকার” (মীং পাতা ১০৭)। ফতেমা মীরকাশিমের দীনতা সহা করতে পারছেন ন! ক্কিস্ত তিনি অপারগ । মীরজাফরের কন্ত। বলে নবাব তার সঙ্গ ত্যাগ করেছেন । অবশেষে বাদশাহ 'এলেন। তীর কাছে যাবাদ্ব জন্ত মীরকাশিম দৌড়ে গেলেন কিন্ত রক্ষণীরা বাধ! দিল এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল । মীরকাশিমের তাতেই পতন ও মৃত্যু মীবর্কাশিম ৪৭৯ হল। স্ত্রী বুকফাটা কান্না! কাদলেন। মীরকাশিমের শেষ সংলপে “সারা ভারত লালে লাল হয়ে গেল-__লালে লাল--লালে লাল । (মীঃ পাত! ১১৪ )। আলোচনা ॥ বলাবাহুলা সমস্ত দৃশ্যই কাল্পনিক । মীরকাশিমকে নিয়ে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে কি শতরঞ্জ থেলা চলেছিল তা নাটাকাঁবেব পক্ষে জানা সম্ভব নয় তাই মীবকাশিমের মুত্যু দ্বশ্বো নাটাকার যথেচ্চ কল্পনাকে ব্যবহার করেছেন । এ বিষয়ে ভেবে চিন্তে লিখলে তই অনৈতিহাঁসিক হোক ভাল নাটা-কল্পনার স্বযোগ ভিল। সমস্ত দিক কেই তার এই শেষদৃশ্য শটীন সেনগুগুর সিরাজদ্বৌলা নাটকের শেষ দৃশ্তের অন্থকরণ। শচীনবাবুর বলার কথা ছিল যে তিনি স্থভাষচন্দ্র বস্থকে সিরাঁজন্দৌলার সঙ্জায় জনসাধারণের সম্মুথে এনেছিলেন এবং কিছু পরিমাণে সফলও হযেছিলেন । মন্মথ রায় মীরকাশিমে তার ব্র্থ অন্করণ করে স্থযোগের অপব্যবহার করেছেন মাত্র । ইতিহ/সকে এই দৃশ্টে অস্থীকাব করার ইচ্ছা বোঝা যায়। বক্সারে দিল্লীর বাদশাহ, বাদশাহের মন্ত্রী অযোধ্যার নবাব ও মীরকাশিমের সম্মিলিত বাহিনী ইংরেজের সঙ্গে শক্তি পরীক্ষা করতে প্রস্তত হয়েছিল একথা তিনি অন্থীকার করলেনকি করে । সত্য মীরকাশিম শ্বয়ং তখন যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পলাতক কিন্ত তাঁর জন্তেই যুদ্ধ বা তিনিই হলেন প্রধান নায়ক । স্বরু থেকেই ভুলের সাআজ্য। দিলীীর বাদশাহগণ মোতি মসজিদে ছইৰেল৷ নমাজ করতেন । কেবল বিশেষ দ্বিনে জুম্মা বা অন্ত মসজিদে যেতেন। দিল্লীর বাদশাহ নিজে থেকেই ১৭৬৫ শ্রীষ্টাবে ইংরেজ কোম্পানীকে বাংল। বিহার উড়িয্যার দেওয়ানী দান করেন । রাদশাহকেও এই সময় ইংরেজ মুখাপেক্ষী দেখা যায়! পরবর্তীকালে বাদশাহের সঙ্গে কোম্পানীর গোলোযোগ ঘটে ১৭৭৪ খর্াবে । নাটাকার সেই ঘটনাটিকে নাটকে ব্যবহার করেছেন । এমনকি বাদশশহের বক্সী চিরকাল দিল্লীবাসী মীরকাশিম বন্ধু নজাফ খাঁকে তিনি নাকের মধ্যে বঙ্গবাসী মীরকাশিমের সেনানায়ক করে দিয়েছেন। ঘটনার বিবরণ এই রকম। ১৭৭০ খ্রীষ্টাঞ্ধে বাদশাহ বাংলান্বার রাজন্ব বৃদ্ধি করতে চাইলে তৎকালীন গবর্ণর ওয়ারেন হেহ্টিংস বাধা দেন। তিনি জানান যে খ্০১ ৪৮০ বাংল! প্রতিহ্াসিক নাটক সমালোচনা বাংল! স্ববার কোন দাযিত্ব বাদশাহ স্বীকার করেন নাই স্থতরাং রাজন্ব বুদ্ধি করার তার কোন অধিকার নাই । উপরন্তভ ১৭৬৫ খ্রীটাব্রে দেওয়ানী সনদে বাদশাহর প্রাপা অর্থের উল্লেখ আছে কিন্ত বাদশাহের সে অর্থকে বৃদ্ধি করবাৰ কোন ক্ষমতার কথা লেখা নাই । তখন বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম কপর্দক- শূন্য বন্ধ্ীন মীরকাশিমকে ধরে আঙগমীট়ে প্রতিষ্ঠিত করে তার নামে স্থবা বাংল1 দাবী করলেন ১৭৭৪ খ্রীষ্টাব্দে । হ্বার্থে স্বার্থে সংঘাঁত হল। অযোধ্যার নবাব প্রমাদ গণলেন। যদি বাদশা স্ব পাঁংলাষ মীরকাশিমকে প্রতিঠিত করতে পারেন তাহলে মীরকাশিম প্রণমেই অযোধ্যার নবাবের বিশ্বাস- ঘাতকতার প্রতিশোধ নেবে । তখন ষড়যন্ত্র করে মীরকাশিমের উদ্মাদ হবার খবর বুটন1 করে মীরকাশিমের সঙ্গে বাদশাহর লাক্ষাৎ্কাঁব বন্ধ করা হয়। মীরুকাশিমের বন্ধু বাদশাহর বক্সী নজাফ খঁ! বত চেষ্টা করেও বাদশাহর সঙ্গে মীরকাশিমেরু সাক্ষাৎ করাতে পাঁবলেন না । নজাফ খা আশা করেছিলেন যে তৎকালীন ভারতীয় রাজনীতির সর্বাপেক্ষা ধুরন্ধর ব্যক্তি মীরকাশিষ বাদ্শাহকে অর্থ সাহাযো উদ্বদ্ধ করতে পারবেন । মীবকাশিম নিজে কিন্ত এই সাক্ষাৎকার চাইছিলেন না। তার ভয় ছিল বাদশাহ তাকে বন্দী করে বেখে দেবেন । তাই বাদশাহর অনুমতি প'ওয়! মাত্র তিনি আভমীঢ় ত্যাগ করে আবার যোধপুরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেইতিনি তার পুরাতন বন্ধু ওয়ারেন হেষ্টিংসকে পত্র পেখেন । জানান যে তার নাম ব্যবহার করে থে সৰ ষড়যন্ত্র হচ্ছে ভার সঙ্গে তিনি কোনভাবেই যুক্ত নন অথচ সে সব বন্ধ করবার তাঁর কোন ক্ষমতা নাই । অতি চমতকার এই পত্র। একাধারে শ্রকান্থিক, সুরুচি ও আভিঙ্ঞাত্যপূর্ণ । 'এরই চিঠির সময় ১৭৭৫ খ্রীষ্টান । রাভপুতানাক় কিছুদ্দিন ঘুরে মীরকাশিম নেপাল যাবার চেষ্টা করেন। অবশেষে ১৭৭৭ রীষ্টাব্দের ৭ই জুন দিল্লীর কাছে শাহজাহ[নাবাদে তার মৃত্যু হয়। হয়েছিল উদ্বরীীরোগ । স্ত্রী সম্ভবত আগেই গত হয়েছিলেন কাছে ছিলেন ছুই পুত্র তার। ফরাসী গবর্ণর ম'সিয়ে শেভেপিয়রের অর্থ সাহায্যে মীরকাশিমের শেষ কত্যাদি করেন । দেখ! যাচ্ছে নাটকের শেষ অঙ্ক সম্পূর্ভাবে প্রক্ষিপ্ত। ইতিহাসের সঙ্গে যেমন তার যোগ নাই-_নাট্যধারার সঙ্গেও তা বিষুক্ত। স্বতরাং ইতিহাস অবলম্বনে সুরু হলেও মীরকাশিম নাটক প্রতি অস্কে কপোল কল্পন। বৃদ্ধি করতে করতে চতুর্থ ও পঞ্চম অস্কে পূর্ণ কল্পনাস্রয়ী হয়েছে । চতুর্থে মীরকাশিম ৪৮১ তবু ইতিহাসের ঘটনার হুত্র আছে কিন্তু পঞ্চমে তাও নেই । নাটকের চরিত্র বা ঘটন*র উপর দখল না থাকার জন্য নাটকের সমস্ত সম্ভাবনাই নিম্মুণ হয়ে গষেছে। দলগত অভিনয় সৌকর্ষ ছাঁডা মীরকাশিম নাটকে মনে রাখার মতে] কিছুই থাকল ন1 এটাই নাট্যকারের সব থেকে বড ব্যর্থত1। রেবতী মৈত্র £ মীরকাশেষ মীরকাসেম নামে মণীণনাথ দাসের বচিত প্রথম নাটক যেমন পাওষা যায় না তেমনি বেবতী মৈত্রের মীরকাশের নামে এ বিষয়ে শেষ নাটকও 'আজ হর্লভ। প্রথম নাটকের প্রকাশকাল ১৯৬ আর শেষ নাটকের ১৯৫৬। এই নাটক ছুটি পেলে মীরকাশম সম্পর্কে পঞ্চাশ বছরের নাট্য পরিক্রমার ইতিহাস পর্ণ হত। মল্থ রায়ের “জনপ্রিক়্” মীরকাশিমের পর স্বাধীন ভারতের নাট্যকার কি ভাবে এই চকিত্র বিশ্লেষণ করেছেন জানতে পারলে তাল লাগত। ইংরেজ শাসন অবসাণের পর নাট্যকারের মনের ব্যথা প্রকাশ করায় কোন বাধা ছিল না। রাজরোষ বা সব্রকারী নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে দ্বিপার আর কোন কারণ নাই। নাট্যকার সহজেই ষীরকাশিমের এতিহাসিক চরিত্র ভন- নাধারণের সামনে তুলে ধরে দ্েশহিতৈষণায় সকলকে উদ্ধদ্ধ করতে পারতেন । এই নাটক কোন পেশাদারী মঞ্চে অভিনীত হয় নাই। আদেৌ। অভিনীত হয়েছে এমন কোন প্রমাপ নাই । তাই এই নাটক সম্পর্কে কোন মালোচন! করার সুযোগ নাই । তবে আশা 'এই যে মাত্র সেদিনের ছাপা বলে হয়তো কোন অখ্যাত পুস্তকাগারের এক কোণায় নাটকটি ভবিস্ততে আবস্কৃত হতে পাবে। তখন জান! যাবে যে নাট্যকার তার নাটকের মাধ্যমে মীরকা?শঘের চরিত্রের কোন কোন দিক জানাবার প্রক্লাস পেয়েছেন । তাই সবামলে পাঁচটি নাটক থাকলেও তিনটিকে আলোচনা করেই ছেদ টানতে হচ্ছে। সিদ্ধান্ত 1 মীর্কাশিম সম্পর্কে যে তিনখানি নাটক বিশ ভাবে আলোচিত হপ্‌ তার ঘধো উ্রতিহাসিকতার দিক থেকে গিরিশচন্দ্রের নাটকথানি শ্রেঠট । অভিনয়ের । দিক থেকেও গিরিশচন্দ্রের নাটকের শ্রেষ্ঠত্ব অনম্বীকাধ্য । অপূর্ব মনন- ছ্বীলতার পরিচয় দিয়েছে “মহাকবি এই নাটকে । এতিহাসিক নাটক রচনা ৪৮২ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ কি ভাবে কর] উচিত, প্রতিহাসিক ঘটনাবলীকে কি ভাবে নাট্য উপযোগী করতে হবে, ইতিহাস ব্যাহত না করে নাট চগ্ষিত্রকে উপস্থাপিত করলে হলে কি ভাবে লিখতে হবে সবই তিনি নির্দেশিত করেছেন । কিন্তু ছুঃখের বিষয় গিরিশচন্দ্রের উদাহরণ অন্তনীলন কর! বাঙাঁলশ নাট্যকারদের সংস্কারে নাই। তাই তারা গির্রশচন্রের এতিহাসিক নাটক থেকে কোন শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলেন না । নাটোলিখিভ পুরুষদের সঙ্গে এই তিন নাট্যকারকে ভূুলনা! করার লোভ সম্বরণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পডছে । গিরিশচন্দ্র যেন ক্লাইভ চিন্তায় কর্মে অধীত কর্তব্য সমাপনে নিপুণ, মন্মথ রায় যেন মীরকাশিম, সৎ ইচ্ছার অভাব ছিল না, চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু করতালির লোভ আর কল্পনাপ্রবণতা তাকে পথ ভরষ্ট করে লক্ষ্যচ্যুত করে দ্িল। ক্ষীরোদপ্রসাঁদ যেন নন্দবুমার, সমস্ত অদ্ভূত কীতির মাঝে তার স্বার্থপরতা জাজলামান । আলিবদ্ী-সিরাকদ্দৌলা-মোহনলাল সম্পকীয় নাটকগুলি আলোচনার সময় যে সব কথা বলা হয়েছে তারই পুনরুক্তি করতে হয় এখানে । গির্রিশচন্দ একমাত্র ইতিহাস পাঠ করে নাটক লিখতে বসেছিলেন কিন্তু মুসলমান ও খ্রীষ্টান সামাজিক ব্যবস্থা সম্পর্কে তার ধারণা স্প£ ছিল না তাই নাটকের মুসলমানের চরিত্রের পেছনে “হিন্দু” প্রতিচ্ছবি বার বার প্রকাশ পায়। এই তফাৎ যে কতো বৃহৎ তা বোঝা যাবে যখন মুসলমান নাট্যকাবের লেখা সিরাজদ্দৌল1 ব! মীরকাঁশিম চরিত্র দেখা যাবে। অন্য ছুই নাট্যকার সামাজিক বিষয়ে অনুসন্ধানের কোন প্রয়োজন অনুভব করেন নাই। কোন নাট্যকারই যে মুঙ্গের ব৷ উধুয়ানালার হুর্গ দেখেন নাই, কাটোয়া বা গিরিয়া প্রান্তর কোথায় জানেন না বা ৰক্সারের যুদ্ধে গঙ্জানদীর ভূমিকা বিষয়ে অজ্ঞ _-তা নাটক পাঠে স্পষ্ট বোঝা যায়। গিরিশচন্দত্রে ঘটনান্্োতে এসব ক্রুটী লক্ষণীয় নয় কিন্তু অন্ত নাটক ছুটিতে বিশ্রীভাবে প্রকাশিত । মল্থ রায়ের নাটক উধুয়ানালার যুদ্ধের ঘটনার আগে ও পরে সীমাবদ্ধ । ওই.দ্বর্গকে কেন্ত্র করে অর্থাৎ নাট্যকার ওই ছুর্গ দেখে যদি নাটক লিখতে বসতেন তাহলে ইতিহাস যতটুকু পাঠ করেছেন সেটা সম্পূর্ণ ভাবে ব্যবহারে লেগে যেত। অবথা কল্পনা বিস্তার সীমিত হত। মন্মথবাবু এই কাজ করলে আর এক ভাঁবে 'দ্বেশ উপরূত হত। ১৯৩০ খ্রীষ্টাব্দে অর্থাৎ মন্সথবাবুর নাটক অভিনীত হবার আট বছর আগে থেকে ইংরেজ সরকারের আদেশে উধুয়ানালার হুর্গ থেকে মীবকাশিম ৪৮৩ পাথর খুলে ভাঙা স্থরু হয়। এই পাথরকুচি নানা কাজের মধ্যে রাস্তা তৈরীর কাজেও ব্যবহৃত হয়েছে । ১৯৩৬-৩৭ সালেও বিহারের ওই অঞ্চলে পাক। রাস্তা তৈরীর হুডানড়ি পড়ে যায়নি কাজেই ছুর্গের অনেকটাই তখন অক্ষত ছিল । মম্মথবাবু নাটক লেখার উদ্দেস্টে “উধুয়া'তে উপস্থিত হলে জনমত সষ্টি করে ছুর্গটিকে রক্ষার প্রচেষ্টা করতে পারতেন । কিন্তু এসব হল ন|। “শাকচক্ষুর অন্তরালে মীরকাশিমের হূর্ভেছ্য ছুর্গকে গুড়ো! করে রাস্তা তৈরী হল পিচ ও কংক্রাটের। এখন পড়ে আছে শুধু স্বতি আর বন্যায় ভাড়িত এক দদ্বান্ত গ্রাম । ওখানে মীর কাশিমের নামও জানে না কেউ । প্রধান প্রবেশ- বারের বিরাট ধ্বংসাবশেষের দ্দিকে অজ্ঞ বিশ্বয়ে তাকিয়ে থেকে নান! আজগুবি রূপকথার স্ষ্টি করে । অতি বুদ্ধ স্থানীয় মুসলমানকে জিজ্ঞাসা করলে ঠোটে আহ্ুল চাপা দিয়ে বলে__“কোম্পানীর মানা আছে”। এই ভাবে লে'ক আর কীতি মুছে গেছে। ভবিষ্যতে স্বতিকে জাগরিত রাখতে কোন নাট্যকার আজগুবি রঙে সাজাবেন মীরকাঁশিমকে । গড়ে ভুলবেন মস্ত এক কল্পনার ফাভস। সূত্র নিরদেশ ১। সোমেন্ত্র চন্দ্র নন্দী, বন্দর কাশিমবাজার। সাহিত্যপরিষৎ পত্রিকা ৭৪ বৎসর 0 109-110 ২। 68615191) 001105001709109 (19101017981 /১1011৬895) 19161 01 8101 51791110179 01) 00 1010 01159 09190 18 158 1765 ৩। 5.0.11101, 90. 19৬45 1৬191110115, 99179081117) 1756-57 ৪। বমেশচন্ত্র মজুমদার, বাংলাদেশের ইতিহাস, মধ্যযুগ 0 188 «| তদেব 0 1990 ও | ৬৪191001, 1181158001015 117 891981 1760-1764 ৬০1 । 158 ১৬। ১৭। ১৮) ১৭। ১৬ | ২২। ২১৩। ২৪ | হু । ২৬ ॥ ২৭ । ২৮ ॥ ২৯। ৩১ । ৩২ । ৩৩ | ৩৪ | ৩৫ | 1010. 11010. 11010. 1101 11010 স্থত্র নিরেশ ৬০1। ৬০1 ||| ৬০1 | ৬০1। ৬০1 | রমেশচন্্র মজুমদার, বাংলাদেশের ইতিহাস, মধাযুগ ৬/৭19107177191580110179 117 89170291, 1760-1764 11010. 1010 11910. 11010 11014. 11010 1014 1010 11010 1010 1010. 11010. 11010. মজুমদার তদের ৬911591110011, 010. 011. 11010. মজুমদার 010. ০11. ৬০177510001, 0910. ০11. 1010. মজুমদার 00. ০11. তদেব ৬০| ॥ ৬০1] | ৬০] | ৬০| || ৬০1] || ৬০| || ৬০1 || ৬০1 111 ৬০1 ||| ০168-169 0 189-190 0) 178-179 0182 0 185-188 70 196 0251 0 216-219 ০ 243-247 0 299-307 0 22-42 70 43-71 0 79-84 09 71-99 9141 0 142-145 2 145-147 70 1509-164 01609 0 2091 0 202 0 234+-274 0 6-15 0 2093 0 157-159 70 2097 70 204 70 204 ৩৬৩ | ৩৭ | ৩৮ | ৩৯ । ৪০ | ৪১ | ৪২ | ৪৩। 8৪8 | ৪৫ | ৪৬ | ৪৭ । ৪৮৮ | ৪০৯ । ৫০ | ৫১ । €২। ৫৩ | ৫৪ | €৫ | €৬। €৭ | ৫৮ | €১। ৬৩০ । ৬১। স্যত্র নির্দেশ ৪৮৫ মজুমদার 00 011. 0 201 তদ্দেব 0 208 36179381 7681116 001790111910101)5 01 310 1৬19৮ 1774 ৬৪175116911, 010. 011. ৬০] ||| 7) 34৪ ১. 11- 11109, 11098058 ০6418091590 0 221-2923 মজুমদার 90. ০11. 70 209 তদেব 70 215 ও 1€ 51118. 80. 17176 1119101 01 36199| (1 757-1905) 0] 58-61 11)10 1010. | 010 1101] 1019. 101. 1101 বক্কমচ « চট্টরোপাহ্যায়, চক্ছশেখর ( বঙ্গীয সাহতা পরিষৎ সংস্করণ ) 39170 91 11101717% 08191099009 01 29 119 1907 হেমেন্দনাথ দাসগুপু, বঙ্গরঙ্গষঞ্চ ও দানীবাবু 0) :729-78 /৬11001 88201 728071169. 0 14 43076 1905 অপরেশচন্্ মুখোপাধ্যায়, বঙ্গালয়ে ত্রিশ বসব ০ 128 অবিনাশচন্দ গঙ্গোপাধ্যায়, গিরিএচ এ 2 517-548 তর্দেব 0636 7169107129111179, ৬/91191711350105 ০46 1010. « রি 29151901 0017170951901019109 1019581৬680 11) 0178 19001781 /510101৬95 0 1759 00 1767, 1-910915 ্ ০5 1164. 1165, 1179 258 2774 16910) 691110, ৬৬/৪11617119510195 0 4০ 8৮৬ ৬২। ৬৩ । 5৪ | ৬৫ । ৬৩৬ | ৬৭ । ৬৮ । ৬৯ । ৭১ । ৭২ | ৭৩ । ৭8 । ৭৫ । ৭৩৬ ৭৭। ৭৮ | শন । ৮১ । সুত্র নির্দেশ ৬৪151019811. 00. 011. ৬০| ||| 11010. 1010. 11010. এ. 17. 11019, 17106015601 38081 59117 অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, মীরকাসেম 01705 58180110175 ৬০1 || অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, মীরকাসেম ৬৪175111810 010. 011. ৬০। 1 ৬০1510915 191718101৬6, (01. 01118110015 19191 ৬০1 ||| অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, মীরকাসেম ৩. 16. 91111-8, 80, 1115101% 01 8917981 (1757-1905) রমাপতি দণ্ড, রঙ্গালয়ে অমরেন্দনাথ 17018 01109 7900105, 011/9+5 28108915, ও 37 04091-511 ০ 157-159 0 284 0 342-343 0 221-223 0176 0 335-336 70185 0 3809-399 0 375-379 0০186 0]: 58-61 0 395 8০৮ 27. 19065 01 24 /509. 1758, 17 9093 1701 8 181 1০৬ £€ 15 8 16 5901 1759. (1018 01609 96900109, 2109098011195 01 89৬91619 06101. 01 201) 108৬ 1791. 79799 52 ৬০1 30 2015161, )09011179$ 6017 881981 10 617019170 1781 ৬০|। 0 364-382 0 12 (1101817 790010 981185, 8210991, ৬০1] 1, ০০৬11) 581-01-100991109111) (67011517) ৬০1 ৬৪17510191 00. ০11. এ], 11. 11009, 110058 01 38981 590. ৬০1 ||| 70614 0 297 0801-00-017191011,716 00111101181 01010181 870 016 01111517 11৬01৬9119111 01 00171101101, [00 01091) 36৬19৬41৩০1 ৬০1 2 মজুমদার, 0১ ০1. 0 29-37 0 207 মহারাজা নন্দকুমার এই রকম ঘটন! ঘটেছে মহারাজ] নন্দকুমারের ৰেলায়। তিনি ছিলেন লিরাজদৌলার বিপক্ষে, মীরকাশিমের শক্র, ক্লাইডের আজ্ঞাবহ, রায়ছুল ভের সহকারী এবং মীরজাফরের মন্ত্রী ও মন্ত্রণাদাতা । কিন্ত বাংলার নাট্যকারগণ মিথ্যার বেসাতি এমনই সার্থকভাবে করেছেন যে নন্দকুমারকে বলা হয়েছে “জাতির প্রথম শহীদ” । জনেজনে এঁতিহাসিকগণ নন্দকুমার সম্পর্কে লিখে গেছেন। মীরজাফরের সঙ্গে তার হৃগ্যতার কথা চুক্তিপত্রের প্রথম লাইনে স্থান পেয়েছে । মীরকাশিমকে নবাবীচ্যুত করার জন্য মীরজাফরের সঙ্গে কোম্পানীর যে চুক্তি হল তার গ্রথম লাইনেই লেখা হল যে নন্দকুমারকে হাবুজথান| থেকে ছেড়ে দিতে হবে এবং তিনিই হবেন তার প্রধানমন্ত্রী বা দেওয়ান। এই সুত্র অনুযায়ী নন্দকুমার মীরজাফরের আমৃত্য স্থহাদ, অস্থুস্থ হলে ডাক্তার এবং সমস্ত বিষয়ে তার প্রধান সহায়। যীরকাশিম খন অঘোধ্যার নবাব স্জাউদ্দৌলার সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন ১৭৬৪ খরষ্টাব্দের জুন মাসে, মীরজাফর ভীত হলেন_-গেশ বুঝি তার নবাবী । নন্দকুমার পত্র লিখলেন স্ুজাউদ্দৌলাকে যে মীব্রকাশিমের সঙ্গে আছে বনু ধনরতু ও সম্পদ | তিনি ঠিক জানতেন যে লুন্ধ অযোধ্যার নবাব মীরকাশিমের সম্পদের লোভে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবেন। ঠিক তাই হল। লোভের বশবর্তী হয়ে স্জাউদন্দৌলা মীরকাাশিমকে পীঙন করলেন। বন্সারের যুদ্ধের সময় তাই বাধ্য হয়ে মীরকাশিমকে হতে হল পলাতক । পলাশীর যুদ্ধের পর নন্দকুযার ক্লাইভ সাহেবের বশংব্দ আদেশবহ। কয়েক- জন ভূম্যধিকারীর ওপর উৎপীড়ন করে অর্থ 'আদায়ের ইচ্ছা হল ক্লাইভ সাহেবের। হেস্টিংস সাহেব ষথেষ্ট অত্যাচার করতে পারছেন ন! দেখে এই ভার নন্দকুমারকে দেওয়া হল। বর্ধমান, নদীয়া প্রভৃতির জমিদারদের কাছ থেকে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক লক্ষ টাকা আদায় করে ফেললেন। দলিল পত্র জাল করা যে নন্দকুমারের অন্ততম পটুত্ব ছিল একথা স্বয়ং মুতাক্ষরীপ রচয়িতা 'লিখে গেছেন । নন্দকুমারের মৃত্যুর পর তার বাড়ী থেকে বত বিশিষ্ট ব্যক্তির জাল ঈীলমোহর পাওয়া যায়, সঙ্গে ছিল বাহান্ন লক্ষ টাকা । সবই, ননকুমারের পুত্র গুরুদাসকে দেওয়া হয়। আরো এক বিষয় প্রায়ই উল্লেখ করা হয় না। মীরকার্সিমের রাজত্ব- ৪৮৮ বাংলা প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। কালে নন্দকুমার হলেন কর্নেল কুটের অর্থাৎ কোম্পানীর প্রধান সেনাপতির ও ক্লাইভের বন্ধুর দেওয়ান। ৭৬১ খরষ্টাব্দের এপ্রিল থেকে জুন মাসে পাটনায় মীরকাশিমের সঙ্গে কর্নেল কুটের ঘে প্রচণ্ড বিরোধ হুল, যে বিরোধে কর্মেল কুট পিশ্ুল হানে নবাবের খাস তাবুতে ছুটে £গলেন' তার প্রধান উদ্যোক্তা ও পরিচালক ছিলেন নন্দকুমার । তিনি তীস্বুদ্ধির অধিকারী ছিলেন বটে কিন্তু কোন দেশ হিতৈষণা তার মনের কোণেও ছিল না। ত।র মুখ্য উদ্দেশ্ঠ ছিল কোম্পানীর রাজ্যে সব থেকে অর্থবান ও ক্ষমতাশীল ব্যক্তি হওয়া । তার সবকর্ম এই উদ্দেশ্যে ধাবিত হয়েছে । একই ব্যন্তিকে তাই প্রযোজনে খোসামোদ করতে বা! তার বিরুদ্ধাচারণ করতে দেখে তাই আশ্চ্যা হবার কারণ নাই । নন্দকুমারের চরিত্র অজানা ছিল না বলেই গিরিশচন্দ তার মীরকাসিম নাটকে নন্দবুমারকে মীরজাফরের কুচক্রী বন্ধু রূপ্ই চিত্রিত করেছেন। আধুনিক কালেও তপনমোহন চট্টোপাধ্যায় তার “পলাশীর পর বক্মারঃ -ইএ “কুচক্রীদের পাপের গোদা নন্দকুমার রায়”৯ বশে তাকে অভিহিত করেছেন ॥ কোন দিক দিয়েই নন্দকুষারের চরিত্রের কোন ভাল কীতির নিদর্শন নাই । অন্টের ক্ষতি করার বিষয় তার পটুত্ব ছিল অসাধারণ। নন্দবুমারের চরিত্রের বিশেষত্ব হল স্বার্পরভাবে অর্থ ও সম্পদ সংগ্রহ করা এবং অস্কের সর্বনাশ সাধন করে নিজেকে ক্ষমতার শিথরতম প্রদেশে সংশ্কাপন। এই প্রস্তাৰনার পর নন্দকুমারের গশীবনের এতিহাসিক ঘটনাগুলির কালাঠক্রমিক বর্ণনা দেওয়। যাক। নন্দকুমারে জীবনী ॥ নন্দকুমারের প্রথম জীবন বা বংশপরিচয় সম্বন্ধে প্রায় কোনরকম এতি- হাসিক নভির বা নিদর্শন নাই । নিজের বংশধর না থাকায় তার কন্তার বংশ বিংশ শতাব্দীতে তার একমাত্র উত্তরাধিকারী । তাদের কাছে শুনে এ্রতিহাঁসিক নিখিল নাথ রায়২ নন্দকুমারের আদি নিবাস বীরভূষে নির্দিষ্ট করেছেন ।* নন্দকুমারের সমসাময়িক কালের মাত্র একখানা চিঠি পাওয়া যায় যাতে 'নন্্কুমারের প্রথম জীবনের কথা বধিত হয়েছে। এই পত্র কোম্পানীর * জন্ম সম্ভবত ১৬৯৮ থেকে ১৭০০ জ্ষ্টাব্জের মধ্যে । মহারাক্তা নন্দকুমাব ৪৮৯ কাউন্সিলের অন্ততম সদস্ত ব্রিচার্ড বারওয়েলের লেখা । যেহেতু এই পত্র সামাজিক এবং বিদেশে লেখা হয়েছিল সেইহেতু এটির কোন রাজনৈতিক চরিত্র নাই বলেই মনে তয় । “কোন র'জনৈতিক প্রয়োজন বা প্রচারের সঙ্গে যুক্ত নয় বলেই সম্ভবত পত্রের বন্তবাকে সতা বলে মানতে বাধ। নাই। এই পত্রথানি বারওয়েল সাহেব কলকাতা থেকে লেখেন ইংল্যাণ্ডে তার ভগিনীকে। এই পত্র লেখার প্রায় এক শতাব্দী পরে যখন বারওয়েলের পত্রগুলি প্রকাশিত হল তখন এটির অন্তিত্ব ভনসাঁধারণের গোচবে এল । ইতিহাসে এই পত্র প্রথম ব্যৰভাঁর করেন স্যার জেখস ফিটস্‌ জেমস স্টিফেন সচেব ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দে কযালকাট1 রিভিউ"র এক প্রবন্ধে এবং পরবতীকালে তার পুস্তকে 1৩ যে কোন কারণে প্রতিহাসিকদের নজর এডিয়ে যাওয়ায় নন্দকুমারের জীবনের প্রথম দিক নিয়ে নানারকম গাপগন্প প্রচলিত ঠয়েছে । দায়িত্বশীল এ্রতিহাসিক এ সম্পর্কে নীরব থেকেছেন। বার৪য়েল তাবু ভগিনশকে লেখেন যে নন্দকুমার তার জীবনে প্রথম সরকারী কর্মচারীব চাকুবী পান নবাব অণ্পলিবদী খাব নির্দোশ। রাজা জানকীরামের পুত্র উদীষঘান নবনিযুক্ত দেওয়ান রায়ছুর্লভের অন্ুকম্পায় নন্দকুমার ভিজ্লী ও মহিষ'দল পরগণার আমিন নিযুক্ত হলেন । বেশীিন কিছ্ছ এই পদে [তনি টিকতে পারেন নাই । বায়রায়ানঞ্চ চয়ন রায় 'অভিবোগ করেন যে প্রজ! উৎপীড়ন ও উৎকোচ গ্রহণ ছাঁডাও নন্দকুমার সরকারী টাকা আদায়ের হিসাব দেন নাই | হিসাব শেষ হলে দখা গেল যে সম্যক টাকা যা আদায় হয়েছে তা নন্দকুমার খালসা কাছারীতে সুমা দেন নাই | তখনই তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হল এবং জ্ঞানান হল যে বাকী টাকা ন। দিলে মুক্তি দেওয়া হবে না। এই খবর পেয়ে নন্দকুমংরের পিতা পদ্মনাভ রায় বাকী টাকা মিটিয়ে ছেলেকে মুক্ত করেন । এরপর নন্দকুমারকে মুস্তাফা খার সাকরেদ হিসাবে,দেখা গেল। মুস্তাফা খার জমিদারী দেখাশোনার ভার নিলেন নন্দকূমার। কিন্তু টাঁকা পয়সা নিয়ে গোলমাল হতেই তিনি চটপট কর্পাকাতায় চম্পট দ্রিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই চয়ন রায় ও মুস্তাফা খা উভয়েই ইহুলোক ত্যাগ করলেন । কাজেই নন্বকুমার আবার মুশিদাবাদের * রায়রায়ান পদের মানে হল রাজস্ব বিভাগের দেওয়ানের সহকারী । ৪৯৩ 7 বাংলা প্রাতহাসিক নাটক সমালোচনা নবাব দরবারে ঘোরাফেরা করতে লাগলেন এবং পরগণা "স্থটসিটরা (বারওয়েল বাংলা কোন নামের কি ইংরেজী করেছিলেন আর একশ বছৰ পর ছাপতে গিয়ে কি হয়েছে বলা সহজ নয়। তবে মনে হচ্ছে “পরগণা সাত সিকা” হবে।) দেখাশোনার ভার পেলেন । নন্দকুমার কেন এই চাকরি ছাড়লেন? কেনই বা হুগলীতে উপনীত হয়ে সেথানে বসবাস করলেন? কেনই ব1 হুগলীর থ্যাতনামা অধিবাসী মীর হুতবুল্লা তাকে পাঁচদিন কয়েদ করে রেখেছিলেন তা বারওয়েল সাহেব জানতেন না। তিনি সন্দেহ করেছিলেন যে যথাসময়ে খণের টাকা শোধ না হওয়ায় নন্দকুমারকে হাজত বাস করতে হয়। এই অপমান নন্দকুমার ভুলতে পারেন নাই। প্রতিশোধ নেবার ভন্য তিনি মুশিদাবাদে ফিরে গিয়ে মুন্সী সাদেকউল্লাকে ধরলেন এবং তারই স্থপারিশে হুগলীর ফৌজদার মহন্মদ ইয়ারবেগ খানের দেওয়ান নিযুক্ত হলেন । কিছুদিনের মধ্যেই উৎকোচ গ্রহণের থবর নন্দকুমার প্রমাণসহ ফাস করে দেওয়ায় মহল্মদ ইয়ারবেগ খান পদচ্যুত হলেন ও নন্দকুমার ভুগলীর ফৌজদার নিযুক্ত হলেন। এটাই ক্ষমতার উচু মহলে ওঠার ছিল সহজতম পথ । ঢাকার রাজবল্লভের জীবনী আলোঁচনাতেও এই একই কর্মকাণ্ড দেখা গেছে । তিনিও ক্রমান্বয়ে তার অন্নদাতাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে শেষ পর্যাস্ত বিহারের নবাব-_- নাজিম হয়েছিলেন। ১৭৫৭ গ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসে ইংরেজ কোম্পানী নন্দকুমারকে প্রচুর অর্থে বশীভূত করল। ফরাসী চন্দননগর অধিকার প্রায় শেষ হবার সময় নবার-দরবার নন্দকুমীরের সরকারী পত্র পেলেন । ফরাসী কুঠী মারফৎ খবর অবশ্ত আগেই পৌছে গেছে । মসিয়ে জ] লা নবাব সিরাজদ্দৌলার সাহায্য চেয়েছেন। নবাবও হুকুমনাম। লিখে দিয়েছেন। কিন্তু রায়ছুর্লভ মসিয়ে জ! লা! সাহেবকে জানালেন বাধা কোথায়। প্রথমে তাকে দশ হাজার টাকা ঘুষ দিলেন ফরামী কোম্পানী-_কিন্ত সাভদিনের মধ্যে নড়াচড়ার নিদর্শন নাই দেখে খোজ নিতে এসে জানলেন টাকার কম পড়ে গেছে। আবার ১৫ হাজার টাকা রায়ছুলভকে ঘুষ দিলেন ম সিয়ে জ! লা। তথন মীরমদনকে ডেকে সৈম্দের কুচকাওয়াজ করাতে অন্থরোধ করলেন দুললভরাম। নবাবী সৈল্ত নদী পার হয়ে মুশিদাবাদ ছাড়িয়ে কিছুদূর ঘেতে যেতেই চন্দননগর পলাতক দলে দলে ফরাসী স্ত্রী পুরুষ শিশু খবর দিল মহারাজা নন্দকুমার ৪৯১ যে চন্দননগরের যুদ্ধ শেষে ক্লাইভ দুর্গাধিকারী | মভাননে রায়ছুলভ সৈশ্ত- বাহিনীকে ফেরবার আদেশ দিলেন। নন্দকুমারেব স্দে রায়ছুলভের সখ্য দীর্ঘদিনের । তাই সন্দেহ হয় বে ইংরেজদের চন্দননগব জয় নন্দকুমাত্কে ও রাযদলভের অভিপ্রেতই ছিল। এ সময় বাংলার আকাশে ঘনবট1।. তাই এই রাষ্ট্রবিপ্রবের ক্ষণকে উপার্জনের প্রক্ষ্ট অবকাশ ভেবে নন্বকুমার, রাষছুর্লভ প্রভৃতি দুহাতে উৎকোচ গ্রহণ করে নিজ নি অবস্থার উন্নতি করেন। (স্টিফেন, |, ২৭৩-২৮৯ পাতা) ভবিষ্বতের ঘটনা লক্ষ্য করলে রায়ছুরলভ ও নন্দকুমারের মধ্যে চরিব্রগত তফাৎ বিশেষ ওঁৎস্থক্যের সুচনা করে। রায়ছুলভ নবাবের দেওয়ান তথা বাংল! স্থবার উচ্চতম কর্মচারী হযেছিলেন তা সত্বেও তিনি ছিলেন উৎকোচ গ্রহণে আগ্রহী । পরবর্তীকালে নবাব মীরজাফরের সঙ্গে মনোমালিন্য হলে তিনি ভেবেছেন যে মীরণকে নবাব করে তিনি ক্ষমতাশীল হবেন, সরিয়ে দেবেন মীবুজাফরকে | ব্রাজনৈতিক পরিবেশ কতট। বদলেছে বুঝতে পারেন নাই “ছর্লভরাম”। বুঝতে পারেন নাই যে ইংরেজ বজমুষ্ঠিতে বাংলাব ব্যবসাকে ধরেছে । এই অজ্ঞানতা বাজ! ছুললভরামকে ধ্বংস করে দিল । তার পুত্র রাজা বাজবল্লভ কলকাতার কোম্পানীর কমিটির দেওয়ান হয়ে ঝুড়ি ঝুড়ি চিঠিতে একই অভিযোগ করেছেন বার বার । বলেছেন মীরজাফর কিছুই করল ন| কিন্ত কোম্পানী তাকে নবাবী দ্রিল তার বংশধরদের স্থথে শান্তিতে বসবাদ করবার ব্যবস্থা করে দিল। এমনকি কলকাতার এক প্রান্তিক অঞ্চল মীরজাফরের নামে আলিপুর” বলে চিন্তিত হল। কিন্তু পলাশী-বিপ্রবের প্রধান হোতা তার পিতা রায়দুলভের জন্ক কোম্পানী কিছুই করেন নাই। রায়ছুলভ ছাড়া কোম্পানীর ক্ষমতা লাভ কখনই স্থার্থক হত না অথচ তাকে কোম্পানী সব বিষয়ে বঞ্চিত করেছেন । রাজবল্লভ আবেদন , করলেন যে পিতামহ জানকীরাম বিহার ও বাংলার যে সব ভায়গীর ভোগ করেছেন এবং পিতা ছুলভরাম যে সব জমিদারী ও আধিক সুযোগ স্থবিধা ভোগ করৈছেন সেগুলি সমুদয় তাকে দেওয়া হোক। কোম্পানী বলাবাহুল্য কোন কথাই শোনে নাই । তবেউত্তর কলকাতায় “রাজ্রবশ্রড পাড়া” তার নামাঙ্কিত হয়ে আছে। এ বিষয়ে নন্দকুমারের চালচলন সম্পূর্ণ বিপরীত । চন্দননগর পতনের ৪৯২ বাংলা এতিহামিক নাটক সমালোচনা পর থেকেই ক্লাইভ সাহেবের সঙ্গে তার বাক্তিগত সথ্যতা। ক্লাইভের বাহিনীর পিছনে পিছনে এসে তিনি পলাশীর পরাক্যয় সংবাদ পাওয়া মাত্র মুশিদ!বাদে উপনীত । ২৯শে জুপাই যখন ক্লাইভের হাত ধরে মীরজাফর সিংহাসনে বসলেন তখন নন্দকুমার সেখানে উপস্থিত। ননাকুমার ক্লাইভ সাহেবের একজন বন্ধু বুঝে মীবঙ্গাফরের কাছে তার দাম বেশ একটু বেডে গেল বৈকী। এক্থা। ছুল ভরাম বুঝতে পেরে তাডাতাড়ি নিজের নায়েবের পদ দিলেন নন্দকমারকে | বুদ্ধিমান নন্দকুমার পদ গ্রহণ করলেন বটে কিন্ধ তিনি দুল ভরামের কোন কাজ করতেন না। করতেন ক্লাইভ সাহেবের কাজ তাতে নবাব মীরজ!ফরেব কাছে, মুশিদীবাদ দরবাবে এবং কলকাতায় তার যাতায়াত ন্চ্ছন্দ হল। খাতির বেড়ে গেল দারুণ ! এই রাজনৈতিক গঠন বোঝবার বুদ্ধি নন্দকুমারকে সমসাময়িক বাঙালীদের থেকে পৃথক করেছে। এইথানে নন্দঞুমারের চব্িত্রগত মিল আছে সেইসব বাঙাশশর সঙ্গে বারা ঘুগসন্ধির স্থযোগে নিজেদের আথিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছেন যেমন নবকৃষঞ, গঙ্গাগোবিন্দ, কষ্চকান্তথ এ গোকুলক্ুষ্জ | নন্দকুমার তার তীক্ষ- বুদ্ধিতে বুঝেন্ছিলেন যে রাজনৈতিক ক্ষমত] তাকে সম্পদের উচ্চতম শিখরে নিয়ে যাবে । সেই শিখর ছোবার মূহুর্তে তার পতন তাই এক আশ্চর্য্য কাহিনী । হুঃথের বিষয় “সই জীবন বোঝবার চেঙ্গা না করে বাঙালী নাট্যকারগণ রূপকথা দিয়ে কার জ"বন মুড়িয়েছেন। বিংশ শতাব্দীর রাজনৈতিক আলো তার ওপর দলে মিথ্যাচার করে বলেছেন তিনি শহীদ । কোন নামাবলী চিক্কিত করে নন্দকুমারকে “বাঝ! যাবে না। পদেপদে তার পথ পরিবর্তন বিভ্রম সৃষ্টি করবে শুধু । ভূলে গেলে চলবে না যে তার উন্নতির প্রথম সোপান ক্লাইভ সাহেবের খিদমত্গারী। সেইজন্তই স্থরু হল হেস্টিংসের সঙ্গে মনোমালিল্স আবু নবাব মীরজাফর আলি খা মহবৎ জঙ্গ বাহাছরের সঙ্গে প্রগাঢ় ও একান্ত বন্ধুত্ব । মীরজাফবের সঙ্গে নন্দকুমারের বদ্ুত্ব যে প্রথমাবধি ইংরেজ কোম্প'নীর ইচ্ছায় হয়েছে তার প্রমাণ আছে । ওরা জানুয়ারী ১৭৫৮ জ্রাফটন সাহেব ক:শিমবাজার কুঠির অধ্যক্ষ ও অস্থায়ী রেসিডেণ্ট ওয়ারেন হেস্টিংসকে লিখে পাঠালেন, "ওহে ওই কাশীনাথ নামে ব্যক্তিটি নবাব দরবারে বড়ই প্রভাবশালী হয়ে উঠছে এখুনি ওর পতন ঘটাও | মনে রেখ বিপ্রবের পর ( পলাশীর যুদ্ধকে মহারাভা নন্দধুমার ৪৯৩ “বাঙলাব্রাবপ্রব” বলা হত।) এই সিদ্ধাস্ত নেওয়া! হয়েছে যেকোন দেশীয় লোক (লেখা হয়েছে_কাল লোৰ ) আমাদের অন্মতি ছাড়া ধেন নব'ব দ্রধাবে প্রতিপন্ত করতে নাপাবে। বাজাবের জিনিষের মতো তাদের নিয়ে থালি কেনা বেচা করতে হবে ।8 হেক্টিংসের সঙ্গে নন্দকুমারের মনোমালিন্ত শুরু হল। €ই ফেব্রুয়ারী ১৭৫৮ ক্লাইন হেস্টিংসকে এক পত্রে বর্ধমানের ব্রাঙ্ছম্ব আদায়ের ভার দিলেন। শই সেপ্টেম্বর হেস্টিংদ ক্লাইহকে এক পত্রে জানালেন যে বদ্দঘ!'নের রাজা তাকে জাশিষেছেন ঘে নন্দকুমাব তার কহে রাক্ষম্ব অ|দায কবতে যাওয়ায় .হস্টিংসকে নৃতন কিন্ঠর বাম্বের যেটাকা |তনি দেবর প্রতিশ্রত দিষে- ছিলেন সেটা দওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। নন্দাঁমারকে রাচস্য আদায়ের ভার দেওয়ায় হেস্টিংদ আশ্চর্য্য হয়েছেন এবং বাব বার প্রতিবাদ করেছেন। ক্লাইভ কিন্তু ১০ই সেপ্টেম্বর ১৭৫৬ হেস্টিংসদকে জানালেন ষে তিনি মেন বদ্ধমানের রাঙ্জাকে লিখে জানান যে এখন থেকে নন্দকূমারের ছকুম শুনতে হবে। ১২ই জানিয়ারী .৭৫০ ক্রাক্টন হেস্টিংদকে খবর দিচ্ছেন যে নন্ববুমাপ ৪০ জন সপাহী নিয়ে বীর বিক্রমে ধদ্ধশানের রাজার কাছে টাকা আদায় কবতে গেছেন ।৫ ক্লাফ্টনেপ পন্বে ক্লাইভ গাহেবের ওপর নন্বকুমারের প্রভাবের কারণও পাওয়া ঘায়। ক্রাঞ্টন বলেন নন্দ[মার টাকার লোভ দেখিয়ে ওয়াটস পাহেবক্চে বশীভূত কবেছে এবং তাবই সাভাযো ক্লাইভ সাহেবকে "ধাকা দিকে চলেছে । এটি ব্যাক্তগত পর বনেই বেশ প্রণিধানযোপ্য | স্সাফটন লিখছেন হস্টিংসকে ২রা অক্টোবর ১৭৫৮। তার নিজের জবানই শোনা মাঁক-__ 1015 50188018170 21119521110 10 588 170৬/ (11700017191 10095 179 0০0101791, 00919 15170 17168 19901550810 117 91, 061 29178 15 50110100194 19 1৬1 ৬/৭15 1 15 10191091019 0191 178 ৬/।|| 00111017149 90179101779 1017091 11015 9111)10117307--.৬ তা সত্বেও হেস্টিংল তীব্র প্রতিবাদ করলেন । "জানালেন বে নবাবের সঙ্গে কোম্পানীর যে চুক্তি হয়েছে তদনুযায়ী কোম্পানীর কর্মচারী বদ্ধমানের রাজার রাজশ্ব আর্ায় করবেন। নল্দকুমারকে রাজস্ব দিতে আপত্তি করে বদ্ধমানরাজ কোন অন্তান্ব করেন নাই। ৪৯৪ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমাপোঁচনা ইতিমধ্যে মুশিদাবাদ থেকে রায়ছূর্লভকে সরে যেতে হয়েছে কলকাতায়, ১৭৫৮ গ্রীষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে । নবাব মীরজ্ঞাফর প্রথমে একটু মন:ক্ষুন্ন হলেন যে তার বন্ধু নন্দকুমার রায়ছ্বলভকে সরাবার খাপারে কোন প্রতাক্ষ ভূমিকা নেন নাহ | কিন্ পরে তিনি বুঝলেন বে নন্দকুমার কলকাতায় বসে তার অন্ুদাত। ব্রায়হুল ভের বিরুদ্ধে মদ্দি ক্লাইভ সাহেবের কান ভাবি না করতেন তাহলে মীরজাফর কথনই দ্লল ভরামকে মুশ্িদাবাদ থেকে সরাতে পারতেন না। মীরচ্গাফর বুঝলেন ফে এমন সুহৃদ তিনি আর পাবেন না। এদিকে দেওয়ানের পদও খালি পড়ে আছে । একাধারে তাব শুভাকাজ্মী আর ক্লাইভ সাহেবের বন্ধু এমন লোক তিনি পাবেন কোথায় । ১৭%৯ সালের ১৫ই জুলাই এব আগেই নন্দকুমার 'রাজ' নন্দকুমার” নামে মীরক্াফরের দেওযাঁন হয়ে বসেছেন | মন্তামান্য ক্লাইভ সাতেব সানন্দে এই ব্যবস্া অনুমোদন করলেন ।? ঘটনাক্রম এই রকম। বছর "শেষ হবার আগেই ক্লাইভ সাহেব জানালেন ; ২৮শেনভেম্বর ১৭৫৮১ [017001101195 (510) 170৬৮ 01170810116 (২9100105 ০0৬1) 18170, 01199 0 91010198170 19009911119 ৬০110 10110 078 ৪911 06 70 0০901005191 10 ৪ ০9০9 15506.৮ বেচার! হেস্টিংস অত্যন্ত ছুঃখিত হলেন। তাতে কি? ১৬ ফেব্রুয়ারী ১৭৫৯ এর চিঠিতে ক্লাইভ হেস্টিংসকে হুকুৰ দিখেছেন বে নন্দকুমার যত দেহরক্ষী চাইবে যেন দেওয়া হয়।৯ জুলাই মাস আলতে না আসতেই নন্দকুমার হলেন নবাব মীরজাফরের দেওয়ান। হেস্টিংস এই লোকটির সংশ্রব যত এড়িয়ে চলতে চেয়েছেন ভাগ্যের পরিহাস তাদের তত কাছকাছি এনে ফেলেছে । ১৭৬০ গ্রীগাঞ্ড পড়তে না পড়তেই ক্লাইভ সাহেব দেশে ফেরবার যৌগাড করে ফেললেন ৷ নন্দকুমার দেওয়ান হয়ে জমিয়ে বসলেও ক্ষিম্ত নবাবের দিকে তার নজর ছিল না। ব্যক্তিগত সম্পত্তি সংগ্রহে প্রায়ই তিনি মুশিদাবাদের বাইরে থাঁকতেন। নবাব আফিং খেয়ে ঝিমুতেন আর বাঈজিদের নিয়ে বিভোর আর হয়ে যেতেন। রাজত্ব পাসন করতেন তিনটি নিক শ্রেণীর লোক । ফল সহজেই ফলল। শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ল। ১৭৬০ স্রীষ্টাব্দে হঠাৎ, যেন হারিয়ে গেছেন রাজা নন্দকুমার । কোথায় গেলেন খুঁজতে খুজতে সাপের গর্তে ্গাত পড়ে গেল। এই অময়েই জান! মহাক্বাজা নন্দকুমার 8৯৫ গেল যে কোম্পানীর উচ্ছেদ সাধনের জন্তটে তিনি প্রথমে ওলন্দাজদের সঙ্গে ও পরে করাসীদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করে বিফল হন (কোন আধুনিক বুদ্ধিমানের মতে এটাই তার ইংরেজ বিদ্বেষ ও স্থার্ধীনতাকাজ্ষার প্রকুষ্ট প্রমাণ) । খবরটা ফাবার আগে ক্লাইভই শুনলেন, প্রমাণ পেলেন চিঠিপত্রে | যাবার সময় ভ্যান্সিট্রার্ট সাহেবের জন্য নিদেশ রেখে গেলেন ঘে তিনি এসেই ধেন বথাযথ ব্যবস্থা অবলম্বন করেন । তদন্তযায়ী গবর্ণরের পর্দে আসীন হয়েই ভ্যান্দিষ্্রার্ট রক্ষী বসালেন নন্দকুষারের ওগর। বাড়ী তল্লাসী করে বত চিঠিপত্র পাওয়া গেল নানারকমের । নন্দকৃষ্ষার সম্পর্কে সন্দিহান হশেন কাঁউন্সিল। তাঁকে জেলে বন্ধ করা হল। ইংরেজদের হাতে এটাই তার প্রথম কারাবাস। তার পূর্বকীতি স্মরণ করে চলিশদিন হাজত বাসের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হল ১০ এবুই মাঝে মীরজাফরের রাজত্ব গেশ। বাংপার স্রবাধার হলেন মীৰকাশিম। নন্দকূমার কলকাতায় এসে মীরজাফরের সঙ্গে থোগাষোগ রক্ষা করে চললেন । এই সময় নন্দকুমার খোলাখুপিভাবেহ মীরকাঁশিমের বিরুদ্ধে ষড়ঘন্ত্র চালালেন। কোম্পনীর কোন কোন সাহেব যেমন অমিয়েট নন্দখুমারকে বিশেষ ক্সেহ করতেন । নবাবের বিরুদ্ধে নন্দকুমারের ষড়যন্ত্রে তারা হন্ধন যোগাত্তেন। নবাব ম"বৰক।শিমের বন্ধু গবর্ণর ভ্যান্সিট্রাটের বই পড়লে এই সময়কার নন্দকুমারের খল মুতি স্পষ্ট দেখা যাঁয়। ১৭৬৩তে কোম্পানীর প্রধান সেনাপতি হয়ে এলেন ক্লাইভের বন্ধু আর পলাধীর অন্ততম সেনাপতি আয়ার কুট । কর্ণেল কুট বার, যোদ্ধা ও বদরাগীলোক বলেই প্রসিদ্ধ হয়ে আছেন। নাম কুট হলেও বুদ্ধিতে একটু ভোতা। নন্বকুমার চটপট কুট সাহেবের দেওয়!ন হয়ে বসলেন এবং কুটের সঙ্গে পাটনায় উপস্থিত হলেন ॥। নবাব মীরকাশিয তখন পাটনায় বসে রামনারায়ণকে তাড়াবার বন্দোবস্ত করছেন । কাউন্সিলের সংখ্যাগুরু দল সনির্বন্ধ অন্ররোধ করলেন কুট সাহেবকে যেন তিনি রাজ! রামনারায়ণকে রক্ষা করেন। পাটনায় পৌছুতে না পৌছুতেই কর্ণেল আয্মার কুটের সঙ্গে নবাব মীরকাশিমের বিরোধ বেধে গেল। অবশেষে রাজা রামনারায়ণ, মহারাজা রাজবল্লভ ও রাজা নন্দকুমার কুটকে খবর দিলেন যে নবাব তাকে ও ভার বাহিনীকে বন্দী করার ষড়যন্ত্র করছেন। ফলে পিস্তল হাতে কট সাহেবের নবাব মীরকাশিমের ৩২ ৪৯৩ *ংল] প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। হারেম তাবুতে হামলা! এক হাস্যকর ইতিহাস হয়ে আছে। কুট পাহেব কিন্ধু ষড়বস্ত্রের খবপ্পে বিশ্বাস করেছিলেন । তাই নন্দকুমারেব ওপর তার বিশ্বাস আগ ভালবাসা দু হল। কর্ণেল কুট কলকাতায় চিঠি লিখে দ্রানালেন ধে ওয়াটস সাহেব নবাবকে অনুরোধ করেছেন যেন জগলীর ফৌজদারী গাধার নন্দকুমারকে দেওষা হয়। কাউন্সিল নেন নন্দপুমারকে এই পদ দেবার জন্তক নবাবের ওপর চাপ দেন।১৯১ বলাবাহুল্য নবাব মীরকাশিম এ প্রশ্থাবে সম্মত হন নাই । ১৭৩২ সম্পর্কে কাউন্সিলের সভাসদ ভইলার সাহেবেব বন্তব্য স্পষ্ট 719 ৬০076 06 91908901195 (90 2711 /510111 1761 10 270 59101911091 1762) 01 076 6711 101001109 0 11170017191 15 8 ০0110015 180010 00117901090 ৬/1017 018 007111719- 0901017011৬] ৬৪1511011৯১ বস্থত কোম্পানীর কাগগ্পত্রে নন্দবুমার সম্পর্কে সাবধানবাণী ধ্বনিত হযেছে নিয়মিতভাবে । নবাৰ মীরকাশিমও ননকুমারেব কীতিকলাপে চরম অসন্থট। নন্দবুখার ইংরেজদের সঙ্গে নবাব মীবরকাশিষের খগোধের স্রযোগে, ফরাসীদের সঙ্গে ষছযন্্রে লিপু হলেন। ফরাঁসীখা চন্দনগরে নন্দকুমারকে চিনেছে তাই আলোচনা চালালেও কোন প্রস্তযবেই রাণী হলেন ন।। উপরন্ত যঙ্যস্ত্রেরে কাগজপত্র ঘাতে ইংরেওদের হাতে পড়ে তার ব্যবস্থা করলেন । ১৭৬৩ খ্রীষ্টান্দের মাচ মাসে নন্দকুমাবকে আবার হাবুজখানায় ভবা হল। খবর গেল ইংল্যাণ্ডে, সেই সঙ্গে ষডযস্ত্রের কাগজপত্র । সেগুলি পাঠ করে বিলাতের ব্যবসায়ী পরিচালক মণ্ডলী ভে কেঁপে উঠলেন । তাড়াতাড়ি লিথে পাঠালেন নন্দকুমার যেন কোন রকমেই দক্ষিণে যেতে না পারেন । পগ্িচেরীর ফরাসীকর্তারা তাকে পেশে কি করবেন তার ঠিক নাই । এক বছর পরে যখন সেচিঠি এসে কলকাতায় পৌছল তখন নন্দকুমার শুধু মুক্ত নয় সাআাজ্যের সব থেকে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি, নবাব মীরজাফ্ব্রের দেওয়ান । চিঠি যাওযা আসার মাঝে বাংলায় হযেছে দৃশ্য পরিবর্তন । দ্বিতীষবার নবাব হবার প্রথম প্রস্তাবেই মীরজাফর চাইলেন নন্দকুমারের মুক্তি এবং তাঁকে মন্ত্রী করবার অন্মতি । এই পদের নাম হল নায়েব- স্বা অ!”ঘস্ুবাদারের নায়েব বা প্রধান কর্মচারী | ইংরেজ বাধ্য হয়ে রাজী হপেন। গই জুলাই ১৭৬৩ খ্রীষ্টাব্দে নন্দকুমার জেলথান| থেকে ছাড়া পেলেন। এবার মহারাজ! নন্দকুমার ৪৯৭ আর আগের বারের ভুল করলেন না নন্দকুমার | স্বাদ্ার হিলাবে বাতে নবাব মীরজাফর সনদ পান তার চেষ্টা শুরু হল। বাদশাহ দিল্লী থেকে, পলাতক হয়ে অযোধ্যার নবাবের আত্িত। ঠাদের কাছেই ছুটে গেছেন মীরকাশিম | নন্দকুমার বাদশাহকেই চিঠি লিখলেন । মীরকাশিমের উপস্থিতি এবং 'মাপত্তি সত্বেও ১৭৬১ শ্রীষ্টাব্ষের এপ্রিল মাসে ২৮ পক্ষ টাকার বিনিময়ে হ্ববাদারী সনদ মীরগাফরের হস্তগত হল আর সেই সঙ্গে নন্দকুমার “মহারাজা? খেতাবে ভূষিত ইলেন | জুন মাসেই নন্দকুমারের দূত অযোধ্যার নবাব শ্জাউন্দোলার সপ্গে চুপি চুপি দেখা করলেন নবাব মীরজাফরের পক্ষে । থখর দিলেন যে মীপকাশমের +ছে বয়েছে প্রচুর ধন্রত্ব | অযোধ্যার নবাব ম'রকাশিমকে প্রচণ্ড পীড়ন করলেন গুপ্তথনের খবর জানতে । বগ্পাপ সুদ্ধে হেড গয়ী হল ক্ন্ধ যুদ্ধ সক হবাপ আগেই মীরকাশিমকে হতে হল পলাতক । পণ বিনাশ হশ। নবাব মীরজাফব মন্ত্রী নন্দকুমারকে নিয়ে স্থে রাজত্ বরণে পাগশেন। আুথ সম্থ হলনা কারণ হাতমধ্যে মীরজাফর কুষ্ঠব্য ধিগ্রত্ত হয়েছেন আর ননাপুমাবেব উপদেশে 'হন্দুর পীঠস্থান কাীবাড়ী থেকে চরণামূত 'শষে এসে ইবধ জ্ঞানে তাহ নিযমি* পাদ কবছেন। ১4৬৫ খ্রাগ্াব্বের ৫হ্‌ ফেব্রুযাবী মীরজাদরের মৃঠ্য। কিছুদিন পরেই লড ক্লাইভ বাংলার গবর্ণর হয়ে কলক্াতাষ এলেন । মাচ মাসেই কাশীরাজ বলবন্ত সিংহের সঙ্গে নন্দকুমারের হীন ষড়যন্ত্র প্রকাশ হয়ে পডল। ১লা ও ৩রা এপ্রলের পত্রে নবাবকে অনুরোধ করা হল নন্দকুমীরকে যেন খন্দী করে কপকাতায় পাঠান হয় কারণ বণবন্ত সিংজের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করার জন্ত নন্দ- কুমারের বিচার হবে ।৯৩ তদন্যায়ী ১৩ই জুন ক্লাইঙ সাহেব সিলেক্ট কামটির বিবরণীর খাত টেনে জনস্টন সাহেবের অভিনোগের উত্তরে লিখপেন_- 44107153910 00 1৬1. 01115101795 00591901015 00710817110 [39170178111) 2600159,+ (01709001191 8210 (11101015591, 079 0151 ৬485 01391715590 101) 17 9591৬108, (179 980০010 10411)80] 00 01 11 1090458 এা0 016 01110 1000 17091 00101119117610 ৬৬0) 2 04810. /১|| 01061) | 10901001001 93 ৬1||10175.৯5 হ্ুতরাং এই সময় পর্যন্ত নন্দকুমার যে কয়েদখানায় বন্ধ ছিলেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। সম্ভবত নন্দকুমারের সঙ্গে বলবন্ত সিংহের ষড়যন্ত্র প্রমাণ করার মতো! ৪৯৮ বাংলা এতিহামিক নাটক সমালোচনা কাগঞ্রপত্র ইংরেজ কোম্পানীর হস্তগত হয় নাই। এমন হতে পারে যে মুশিদদাবাদ থেকে নন্দকুমারকে সরিয়ে আনবার এট। এক ছল। মীরজাফরের মৃত্যুর পর নব[ব হয়েছেন নাবালক নাজামান্দৌল! তার প্রধান মন্ত্রী মুজাফ.ফর জঙ রেজা খা হয়েছেন নায়েৰ স্থবা, উপদেষ্টা নৃতন জগৎশেঠ ও প্রাচীন ছলতরাম। এতগুলো পাকা মাথাই থে নন্দকুষারকে কলকাতায় এনেছে তা নিঃসনেহ। তবে এবার ক্লাইভ সাহেবের কান ভারি করেছিলেন সম্ভবত নবকৃষ্ণ। তিনি তখন তার প্রিয়পাত্র । লর্ড ক্লাইভ চটলে রক্ষা ছিলনা । তিনি নন্দঝুমারকে সপরিবারে চট্টগ্রামে নির্বাসন দণ্ড দ্বিলেন। আবার নবকৃঞ্চের অন্থরোধেই সেটা বদ করলেন । “/9, 0116 17911081901 076 0০০90107001 17 0041 [0102৬198015 17198070, 101160 95 19501010017 001 115 08171911767 10 01109900179. 80 9817 ৬/91| 110৬৮101810, ৭1)0115581) 1৬001751188, 185 18181 91৬91 005 2৬61৬ 50101] 80৬109 1716 585 072 95 217 11019011110 11817, [$01001917 5170810 10110858170 (0 01110900179, এ 9 0017191091910168 019191709 0] ০910810 7; 07 09 0০070911169 51709010108 06091190 21 ০8100108 17091 50101 5001/61119108 85 ৪ 51869 1017151701,৯৫ স্থতরাং নন্দকুমারের বন্দীদশা তখনও চলছে। এবার নন্দকুমার দীর্ঘদিন আবদ্ধ ছিলেন মনে হয় কারণ গোট। ১৭৬৬ শ্ীষ্টান্জে কোথাও তাঁকে দেখা যায় না। আর নন্দকুমার চুপ করে বসে থকতে পারতেন না সেট! পরবর্তী ইতিহাসে দেখা যাবে। হয়তো ১৭৬৬ খ্রীহাব্বের কোন সময় ননাকুমার মুক্তি পান। ১৭৬৭ গ্রা্টাবে লর্ড ক্লাইভ দেশে ফিরে গেলেন। একটুও দেরী না করে নন্দকুমার প্রতিশোধ নেবার চেষ্টা করলেন নবকৃষ্ণের বিরুদ্ধে। কিন্ত সে কথায় ষাবার আগে ননাকুমার-নবন্কষ্ণ সম্পর্কে কিছু বলাযাক তা না! হলে সমসাময়িক রাজনীতি অকথিত থেকে যাবে । পলাণীর পর নন্দকুমার ও নবকৃষ্ধের প্রগাঢ় বন্ধুত্ব দেখা যায়। পলাশীর পর নবকৃষ্ ও ননকুমারের মধ্যে ভীষণ সখ্য হল। নবকৃষ্ণ ক্লাইভের-বেনিয়ান সুতরাং নন্দকুমার তাকে হস্তগত করার প্রয়োজন অন্থভব কারছিলেন। ১৭৫৭ থেকে ১৭৬০ গ্রীষ্টাব্বের মধ্যে ছুই বন্ধু পুরাতন জমিদারদের বহু সম্পত্তি নান! অছিলায় আত্মগ্তাৎৎ করলেন। নদীয়া! ও প্র মহারাজা শন্দকুমার 8 ই বর্দমানের মহারাঙ্র্দের সম্পত্তিই এরা সব থেকে ৰেশী হরণ করলেন ১৭৬০ থেকে ১*৬৩র মধ্যেকি কারণে দুই বন্ধুর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হল স্পঃ জানা যায়না । সন্দেহ করা ভয় ঘেছুই বন্ধুর নোমালিন্যের ফলেই নবরুষ নন্দকুমাবের ষড়যন্ত্র ফান করে দেন যার ফলে নন্দকুমাবকে ১৭৬৩ শ্বীগাবের তিন মাস জেলে থাকতে হয। মীবজাফরের মৃত্যু ও র্লাইছের ফেরার পরই থে কাশীরাজ বলবন্থ সিংহের সঙ্গে ষড়ন্থ প্রকাশ পেল এতেও নবকুষ্ণর হাত 'আছে মনে হয়। ক্লাইভ ১৭৬৭ খ্রীাব্দে স্বদেশে ফেরবার সঙ্গে সঙ্গেই নন্দকুমার শবকুষ্ণের শিক্ষার ব্যৰস্থা করলেন । জনৈক হিন্দু বাহ্গণের স্ত্রী নীবুর উপর জোর করে বলাৎকারের অভিযোগে নবকৃষ্ণ অভিযুক্ত হলেন। এই ঘটনাকে লোকের মুখে মুখে এমনভাবে প্রচাব কর! হল যে কারু মনে সন্দেহ থাকল ন। ষে নবরুঞ্ সত্যই অপরাধী । দীর্ঘ দুইশত বছর পরে বহু শিক্ষিত বাঙালীর সঙ্গে আলোচনায় বোঝা গেছে ঘে তার! মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন নবরুষ্ণ এই অপরাধ সত্যই করেছিলেন। (কোম্পানীর কাগজপত্রে এ বিষষে বিষদ বিববণ পাওয়! যাঁয়। নবকৃষ্ের অনুরোধে ইংরেজ কোম্পানী এক অন্সন্ধান সমিতি নিয়োগ করেন। তাদের বিবরণ যেমন আছে ত্তেমনি বলাত্কুত খলে চিহ্নিত বরাছণের স্ত্রীর বিবৃতি আছে । ব্রাঙ্গণ ও ব্রাহ্মণের কাছে ধার! ষড়যন্ত্রের জন্য এসেছিলেন তারাও অন্ুসন্ধানীদের কাছে সব প্রকাশ করে দেন। জনৈক বামনাথ দীস অভিযোগ করেন যে নবকৃঞ্ণ তার কাছ থেকে জোর করে টাক] আদায় করেছেন এবং রামশক্কর ঘোষ ও নীমু গুলী অভিযোগ করলেন যে নবকৃষ্চ ব্রাহ্মণের স্ত্রীর ওপর অত্যাচার করেন।৯৬ কমিটির সামনে ব্রাঞ্ছণ কানাই ঠাকুর যা বলেন তা লিপিবদ্ধ আছে । 416 81811171091 95190 1 18 180 917 178191 01 ০0111019811) 9091751 10101055917, 16101165170, 0780 18185 17010111190 10117758100 8118909, 041 081 18 1180 1061 110101 01895590 8170 501101190 0 321)52911001 3058 8110 19110 05017001889 100 2৪০০458 (00115591801 ৬1০01801170 115 ৬/19.771781016 190 10917 98170 10110% 61740017901, ৬/10 01951160 179 ৬/০এ০ ০01710181) 0 01016155217 10 065 80810, 0170 5810 179 ৬০010 95515101011) ৬৪10 10178 11 176 11991101118, 2170 ৬/181 08 81811 ৬/৪5 0৬91 9149 11 25000 17601089510 ০0111109175919 1117 001 19510 08519. 116 ৫০০ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা 10110181 09018185 01781, ৮/10010171 113017) 1) 101701001791+5 [01011595 8170 009 1091509310179 01 38075981001 30956 2170 19710 001700199. 18 01980 115 01077950 81098৬০9০1 70 17016৬৪1101 115 ৬19 00 80০856 [010119591] ; 100 518 ১৬/০০এ।৫ 19৬61 01৬9 1761 001156111 10 196 08 11501011811 01 11111110 ৪1 1111009111 11817.+...47176 31211115 ৬/19 15 08118017519 09018195 11791 916 1716৬61 ৬/৪5 217 ৬/৪৬% 117101190 10৮ 1০001619591) ; 1001 1101 99011571001 959 810 19110 901700169 190 0560 6৬61 917068৬0811 10 061501806 1)91 0170 1761 11015102710 10 90081591111. 71191 [91719 307090199 009160 10 90149181500 7110669 17 18/619 ৪174 2000 9701 3095 1 [1018 16 519 ৬/০৬]এ 00175911... .. (1015৬) 477 ৬/০1160 509 14101) 11001 116 1110 01 181 10015908170 10% 18109 010111565 9170 00815 0 10178 091 1189 (0116 13181117) 8৬17 01016919190 1001 1191 51168 1901580 10 0011101%. 1106৬911091 518 51111 08151516011 09০191110 01901 518 ৬/০1০ 16৬০1717117 017 |1)11009111081501.+১৭ সমপাময়িক সমাজবাবস্থা না জানা থাকলে এই ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ি করতে পার! যাবে না । তত্ক।লীন নিয়ম অনুসারে ব্রাহ্মণপত্রীকে বলাৎকার প্রমাণিত হলে উত্তয়েরই জাতিপাত ঘটবে । ব্রাক্ষণদের জন্ত নন্দবুমার ২৫০০০ টাকার ব্যবস্থা রেখেছিলেন যাতে জাতিতে ব্রাত্য হলেও তাদের জীবন কেটে যাবে। কিন্তু নবরুষ্ণের পক্ষে জাতিপাত হওয়া! এক সাংঘাতিক বিষয় কারণ তাতে তিনি সমাজে পতিত বলে গণ্য হবেন । সেই সঙ্গে তার রাজনৈতিক ক্ষমতার হাস হবে ও অর্থকরী সুযোগ কমে আসবে। নন্দকুমার যে বুদ্ধি করেছিলেন তাতে এক ধাক্কায় নবরুষ্ককে পতিত কৰে নন্দকুমারের কলকাতার সামাজিক নেতৃত্ব করবার স্থুযোগ হত। এক মূর্খ ্রাহ্মণী ইতিহাসের কত বড় খুঁটি তখনই বোঝা যায় ঘখন দেখা যায় থে 'শীর্ঘদিন পরে ১*৭৫ খ্রীষ্টাব্দে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত নন্দকুমারের মামলার ফারসী কাগজপত্র ইংরেজীতে অন্তবাদ করতে ফারসীবিধ মুন্সী নবকৃষ্ণকে ডাকা হচ্ছে। | নন্বকুমার, নবকৃষ্ণর পতন ঘটাতে না! পেরে কিছুদিনের জন্তে গা ঢাকা মহাবাগা নন্দকুমার &০১ দিলেন। কেউ বলেন তীথ পর্যটনে সময় অতিবাহিত করেন । এ সময় সকলেই তাকে সন্দেহের চোখে দেখতেন। মুতাক্ষরীণ জার সম্পর্কে লিখেছেন --2 118 ৬/৪5 81181 0 ৬0190 01500310101) 810 11801- 0110 191711091, 21710905 109 929 1101 0901799, 81701 01 10901911793 ৬111 09 01981911021 01177011011, 81017000011 18 1780 00170891160 17৬০1115017 [৬/০ 01 01190 17717 2170] ৬/৪5 111]া) 11 115 91190171915. ক+থত আছে ঘে রাস্তা চলতে কোন ব্যক্তির পিকে তা।'কযে নন্দকুমার হাঁসনে সেই ব্যর্ত বাতী ফিরে বানর রঙ্গনী ঘাপন কবত। কারণ সারধরণেব কাছে ওই হাসির বক্তবা হল “রও, এবার তোমার সর্পনাশ করিতে ছ । , ১৭৬৮ [থকে ১৭৭১ খ্রীটাব্ধে নন্দকুমাবেব বিশেষ কোন কাজকর্ম দেখা যাধ ন|। কট কউ ননে করেন যেতাব প্রাণদণ্ডের পর অন্ত অভিভাতদ্বে 1» সব জাল শীলমেশছর তব বগা থেকে আবিঙ্কত হয পেঞলি এই সময় সণ্পূগত হযে থাঞক্তে পারে । এং সময় নবরুধও শিজের শঞ্জি এদ্ধি করলেন । প্রথমে .গাঝুলক% ঘোযালের সঙ্গে ও পরে গঙ্গগোবন্দাসংহেব সঙ্গে ভাব রাভনোতক সথ্য তাকে কপকাতার সামাজিক নেঠতে গপ্রহষিত করন । নন্দপ্মাব তাঁকে এাঁওয়ে চপতে লাগলেন । এই সময়ে নন্দণুমার মণিমা'ণক্য বন্ধক ধেখে টাকা ধার দিতেন মনে হয়। সই সুত্রে বোল/কিদাস শেঠ মম্পাকত ঘটন|বলী এই সময় ঘটে খা পরে নন্দকুমারের জাপ্য়াতি মামলায় বিশদভাবে ব্যবধত ও আলোচিত হয়। অর্থলোভ ও অন্যের শীলমোহর জাল করে ব্যবহার করার অভ্যাস নন্দকুমারকে এমনভাবেই আচ্ছন্ন করেছিল যে এই সময়কার ঘটন'বল* ভ।শ করে অনুধাবন করলেই বোঝ যায় যে নন্দকুমারকে বিপদে ফেলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করা মোটেই কঠিন ছিল না। নন্দকুমার যে পথে ক্ষমতার ও অর্থের উচ্চতম শ্চিরে আরোহন করেছেন “সই পিছল পথ তার পতনকেও দ্রুততর করবে বোঝা কঠিন নয়। ১৭৭২ খ্রীষ্টাব্ষ নূতন যুগের বার্তা বংন করে আনল। কোম্পানী ওয়ারেন হেস্টিংস সাহেবকে গবর্ণর করে পাঠালেন। ফিলিপ উডরাফ সাহেব এই যুগ সম্পর্কে স্বন্দর লিখেছেন :--কোথাও কোন নূতন সাহেব €০২ বাংপ এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। নিধুক্ত হলেই জভারতীয়গণ প্রথমে তার গন্ধ নিতেন, কেমন লোক ব্যবহার করে দেখতেন তারপর খোসামোদ করে ঘনিই ভবার চেষ্টা করতেন। ঘনিষ্ঠত। ক 5ট। ৰা আদৌ আছে কিনা বোঝা যেত উপহারের নজির দেখে । উপহার গ্রহণ করলে, আরও খোসামোদ করে আরও ঘনিষ্ঠতা বুদ্ধি করতে হবে এবং সেই সঙ্গে শিজের অর্থ ও ক্ষমতা বুদ্ধির চেষ্টা করতে হবে | কিন্ক “কডা সাহেব, হলে এসব কিছুই ভবে না। শ্রিতবাং তখন ওপব মহলে ত'র বিরুদ্ধে অভিযোগ পাগাতে হবে । তাঁর শাঁসনকাজে ভম্থবিধা সষ্টি করতে হবে। এই সব কাজের মুখ্য উদ্দেশ্ট “কা সাহে বকে তাভাঁতাঁভি তাডান "মার যাতে “নরম সাহেব আসে তার চেগগা করা । কাবণ “নরমসাঁহেব' না হলে বাক্তিগত উন্নতির পথে নানা বাধা |” নন্দকুমার ও হেস্টিংস বিষষে উপরোক্ত গণনা যে অক্ষরে অঙগবে সত্য তা দেখাযাবে। নন্দকুমার এই গাণিতিক পথে নিভুল- ভাবে বিচরণ করেছেন। বখন বুঝেছেন “কড়াসাহেব'কে তাডান প্রযোজন তথনই অভিযোগ এনেছেন ও সংখ্যাগুরু কাউন্সিল সদত্যদ্েগ সঙ্গে বন্ধুত্ব করে তদের প্রধান সহকারীতে নিজকে রূপান্তরিত করেছেন । ১৭৭৯ শ্রীষ্টাব্ের ১৩ই এপ্রিল হেস্টিংস গনর্ণর পদ গ্রহণ কবলেন। ১৮হ জুন নন্দকুমাব হেস্টিংসকে এক অতি সুমিষ্ট সম্ভাষণে পত্র দিলেন। পত্রে অনেক খবর ছিল। প্রথমেই জানালেন যে রাগ] ছুলভরামের পুত্র প্রা] রাঁজবল্লভ মণিবেগমকে চাট্রকারিতায় ভুলিয়েছেন। “তনি এখন নবাবের দেওখান হবার চেষ্টা করছেন । রাঁজবল্লভের ক্ষমতালিগ্স। আর অর্থ পোভ সম্পর্কে লিখে নন্দকুমার সাবধান করে দিচ্ছেন যে এই পদ পেলে রাজবল্লভ নিজের আত্মীয় আর বন্ধুতে নবাব সরকার ছেয়ে ফেলবেন । তার মতে এই পদের লব পেকে যোগ্য ব্যক্তি তার পুত্র রাজা গুরুদাস। তিনি একাধারে সৎ ও কর্তব্যপরাষণ। গুরুদাস এই পদ পেলে নন্দকুমার চিরকাল হেস্টিংসের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবেন । পত্রের শেষটুকু বডহ মধুর । “1 90৬ 1090 16288 10 11818 9 50181) 10101891910101) 10 0 110170901, 17.0111789৬9 170 01161 71160 810 21019010117 0718 ০0090710$ 598৬9 ০011 1101080, 1 081610162 81701181 09109170 01 ৮0117 11017011175 17৬০1] 8170 00011109178108.৯৮ পাছে নানা কাজের মধ্যে ভূল হয় তাই ২৭শে জুন আর একথানা পত্রে মহারাভ! নন্দকুষার ৫০৩ মনে করিয়ে দিয়েছেন হেস্টিংসকে, যে গুরুদাস দেওয়ান হণে তান আহঙ্তীবন তার বশংবদ্দ ভৃত্য হয়ে থাকবেন ।৯৯ এইভাবে গন্ধ নেওযার কাজ শেষ হল । হেস্টিংস নন্দবুমারের চরিত্র ভানলেও এই পত্র ছুটি বিশ্বাস করেছিলেন বলে মনে হয় । নন্দকুমার পক্ষে থাকলে শাসনযন্ত্র নিবিদ্ধ হবে এট”ও তার মনে হতে পারে । এ বিষয়ে হেপ্টিংস মিডলটনের মতামত চাইণলন। মিডলটন কাশিমবাজার থেকে ১১৪ জুলাই [লখে পাগালেন__ 41015 1731 1016161050 11786 11956 01705 218 109 109 01019117901 1718191 িটো 079 810111095 ০0 38191 30017095. 1115 ০) 210 11 - 9)009116109 191091 1017) 91101090191 01109)009101101791018 11 01181 185 9015, 17801801199 109 08 1891 10001110058 01 1115 9101001111179171. 90101115 090191195 811 0178 91011101695, [)91759৬8121708 910 19171091 1০- 01115119101 50101 91705 11) 9. 01990798 10917198105 8%098110 917 1৬/017 17 881109811২০ স্থতরাং দেখা যাচ্ছে রাও গুরুরধাসকে ওই পদ দেওয়া যেন হেস্টিংসের নন্দবুমারের সঙ্গে সন্ধির প্রচেঞা । নন্দপুমারেখ কর্মক্গমতার ওপর নিভরতার স্পট প্রমাণ না থাকলেও নন্দকুমারের কাযাদক্ষ তা পরিপূর্ণভাবে ব্বীকুত। হেস্টিংসের সমস্ত কাজকর্ম দ্রুতগতিতে সমাপিত হল তাই বিনা বাখায়। নন্দকুমার সম্পর্কে কিন্ত হেস্টিংসের ধারণা পালটায় নাই । মণিবেগম গুরুপাসকে দেওয়ান পদে স্থাপনা করতে অস্বীকৃত হওয়ায় হেস্টিংস বিশেষ কমচারী পাঠিয়ে তাকে শান্ত করেছেন এবং গুরুদাসের মনোনয়ন বৈধ করেছেন। বিলাতের কোর্ট অফ ডিরেক্টাস দের 'হুস্টিংস যখন শান্তিপুর্ণভাবে মনোনয়নের বিষয় জানাচ্ছেন তথন নন্দকুষার সম্পর্কে ভার ভাবা দ্বর্থহীশন। 41189011701 08617 00018170650 10% 078 0০8110101) ৬৮171017 ৮০০ 179৬৪ 10991 10199580 00 81011) 1776, 81. 1৬ ০0৬৬1 1670৬419009 0 079 01917201917 0 [01070001719 ৬/০৬০এ 1949 71850191790 1779 60] %18101170 1111 2177 00111011891 89010170116 ৬/10101 00010 10170৮8 0901- 11917158110 19 00117081715 171919505. 119 1710758161189 170 049 01 81010110116, 10810171018 95091709170 ৬৬101017179 18210171911 0195) ৩৬০৪1 115 501. /৯7 91910100020 058 1178 9৬০1 ১1107 159 1098171 918৬417 11117, 02171701 8509199 01171001080, 81011 08190090 1718৬ 70111) 211 1015 101089. 118 5017) 15 ০0 ৪ 01500910101 ৬61৮ * ০৪ বাংলা ইতিহাসিক নাটক সমালোচনা 01101156115 07021; 1018010, 99171168170 ৬/1010011 015001159. 1710 1117) 11819. 0917) 108 170 0817961.+২১৯ শ্তরাং ১৭৭২ খ্রীষ্টাব্দের শেষে হেন্টিংসের সঙ্গে নন্দগুমার যে সন্ধি করতে বাধ্য হয়েছিলেন সে ব্ষিয়ে সন্দেহ নাই। নন্দকুমারেরর পূর্ব চরিত্র জানা থাকায় এবং তাঁর কীতিকলাঁপের ধরণ ধারণ সম্পর্কে অবহিতি হেস্টিংসকে বিশেষ ক্ষমতায স্ধিঠিত করেছিল । ১৭৭৩এ ইংলগ্ডের পরিচাঁলকমণ্ডলী হস্টিংসের সব কাজ অন্মোদন করলেন । ১৬ই এপ্রিল খুশী হযে লিখলেন “০ 010109 01117813991 101 00191019110 179 91000 ৬/9.017111918 91070109৬9, 019 0159 ০ 11870 11910107007 1২1117000901191 15 ৬91 [01091061, 810 11 910105 (15 01901 59115190110 10 110 [170 ০1 ০0010 81 01708 09181- 11118 10 91110101659 7211 00919017981 16591171617 ৬1161 [0010110 ৬/6। 9 5261] 109 718751 ৬/10]। ০0011011919 9917101191715, 18180৬6 10 41100001161 +২২ বিলাতের অনুমোদন দেখলে মনে সন্দেহ থাকে না'য হেস্টিংস নন্দবূমারেব বশ্তাতায় খুনী হয়েছেন । এব পণই তিনি কোম্গ।নীর কর্নচ'রীদের এই সন্ধির বিষয জানাতে স্থরু করলেন । ৯ই জুলাই ১৭৭৩ শ্রীপলাব্দ স্যামুযেন মিডিলটনকে জানাশেন-71 1070১/ 01689901715 01019011015 [0 309017109855..1719% 81199 101 1178 ৬11101165 0115 91191, 81701 এ) 5017 10 58 818 08100 ৬/৪1| 10017080. .. 1179 %০90179 17191) 1117581 18101011 15 ৬/0001 019 01115 80915 080 001811065, 15 0917119, ৬/৪11 19111091690 9170 17166 70 8৬৪1৬ 51080195 01 810009. 16 10910175911 01191919170 81091 0 119 90179 111” আয।লডারসেকে ১লা জুলাই বিশদ ভাবে জানালেন নন্দকুমারের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হবে । 410170001191--6109190 0170 00101719179109 1107, 10011 0150151 9৬61৬ 01179 119 585 8170 18169019৬61 80011091001 ৬4111017179 18159 [0 ০91 101 29117110615 200 (0171915. 316 111716828৬6 10 '৬191017015 19101€ 0 [300098) 19011011014 1111) 10 90 10 101791109- 0৪80.+২৩মিডিলটন সাধারণভাবে হেস্টিংসের মত পছন্দ করে জানালেন যে তাদের সর্বদা ওই “বুড়ো! শেয়াল” (০19 1০৮) সম্পর্কে সাবধান থাকতে হবে। মহারাজা নন্দকুষমার ৫০৫ সাগর পার থেকে হেস্টিংসের পুরাতন বন্ধু সাইকৃস সাহেব কিন্কু খুব খুশী হলেন না। পিখপেন “ওই নারকী, (17181181) নন্দকুমীরকে প্রশ্রয় দিয়ে তিনি ভাল কাঁক্ কবছেন না 1২৪ স্ততবাং ১৭৭৩ শ্রী্টাব্দেও “হস্টিসের সঙ্গে নন্দকমীবের কে ন বিসংৰাদ স্যট্ট হয নাই । উনষে নিজ নিজ পরিধিব মধ্যে কাড কবেছেন ' এমনকি মহম্মদ বেজা খাকে নায়েব-দেওয়ান পদে অর্থাৎ বা প্ব বদগের প্রধান কর্মচাবী হিসাবে নিযোগও শন্দকুমরর চুপ করেহ সহ কবেছেন। কিন্তু ১৭৭৩ শ্রীাব্বেব "শষেব দকে এমন কতকগুপি নৃতণ ঘটন। ঘটল নে নন্দকূমাবেব জীবনের গা ভ্ববাদ্বিত হযে গেল। কোম্পানীৰ নূতন নিয়মে গবর্ণরেব কাউন্সিলেব পাচজন সাশ্ত মনোনীত হল্নে। 'ঠাবা হলেন গবণব হেস্টিংস, কোম্পানীব পুব'তন কর্মচারী রিচাঁদ বারওধে? (ঘাব পঞ্ে নন্দকুমারেব প্রথম লীবনের মআভাষ পাওষা বায) আব, “সনরে” আন (ক্ভাবিং, কর্ণেল এনসন ও ফিপিপ ফ্রান্সিস । ষোক নন ভাববর্ষে “ভন এবং বাঁংশাৰ বা,নীতি, দনগণ এ কর্মপপ্ত সম্পর্কে এস্বোবেই অজ্ঞ । কলকাত।য পৌছতেই বা আভবোগ কবলেন য তীাদেখ অহ্যযনাব 7 ব্যবস্থা ভয় নাই । যদ্দও অন্তেব মতে ভাদেব জ্ন্তে থে ববাট আধে"ন হয়েছিণ, থেমন সতের বাব তোপধ্ব্ন হযেছিল তা হেস্টিংস 'আসাব সময়কার কথা দূরে থাক পঙ ক্লাইভ বা ভ্যান্সিট্রাট সাহেব গবর্ণধ হযে আসাঁব সময়ও হয় নাই । নন্দফুমাবের বুঝে একটুও কষ্ট ভলনা খে এদেব দিয়েই তকে কাঘ উদ্ধার কবঙে হবে। তার তীক্ষ বুদ্ধিতে তি ন বুঝেছিলেন 0 চহস্টিংস থাকলে তাব আশা ফলবতী হবে ন। কিন্তু কোনবকমে যদি হেস্টিংসকে বিলেতে পাঠিয়ে দেওয়। যায় তাহলে তাঁব ক্ষমতাঁকে রুদ্ধ কবাব ক্ষমা আব ক"র থাকবে না। তিনিই হবেন আসল শাসক | সুতবাং নন্দকুমারেপ স"মনে ছইটি কা” | প্রথম এই তিন হেস্টিংস বিদ্বেষীর সঙ্গে প্রগাঢ বন্ধুত্ব মিয়ে তদেব প্ম5- লোভে ইন্ধন জোঁগান আর দিঙায় তাদেগ হেস্টিংস বিদ্বেষকে বাবহার করে এই তিনজনকে একদলতুক্ত রাখা, এবং সেট] করব'র জন্য এদের দিয়ে গবর্ণরের কাউন্সিলে নিয়মিত তাঁর কীত্তির সমালোচনা করা এবং সংখ্যা- গরিষ্তার জযোগে তার কর্মপন্ধতিতে অন্থমোদন না করা। নিত্যনিয়ত কাজে বাধা সৃষ্টি করা । নন্কুমার মনে করেছিলেন যে এইরকম কিছুদিন ৫০৬ বাংলা ঈতিহাজিক নাটক সমালোচন। চললেই ভেম্টিংস পদত্যাগ করবেন । হেষ্টিংস চলে গেলে এই অনভিজ্ঞ সাহেবদের হাতে "ঠা ক্ষমতা অপ্রতিহত তবে । ২* অক্টোবর ১৭৭৩ খ্রীষ্টাব্দে কাটশ্সিলের প্রথম সভাঁতেই চরম বিবাদ স্তক হল। রাজ্য শাসনে বিশৃঙ্খল দেখা দিল। নন্দকুমার মহাঁনন্দে সংখ্যাগুরু £গার্ঠীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করলেন এবং 'অচিরাৎ তাদের দঙ্সিণ ভল্ত স্বরূপ হয়ে াডালেন | হেস্টিংদ যেমন নন্দক্মারকে চিনতেন দেখ। যাচ্ছে নন্দকুমার কিন্ত হেস্টিংসকে সেরকম চিনতেন না। ব্যাপার কি চলছে বুঝতে হেস্টিংসের দেরী ইল নাঁ। তিনি সাবধান হলেন, প্রস্তুত হলেন। সংখ্যাগুরু গোষ্ঠী গবর্ণরের বিরুদ্ধে একের পর এক যত অভিযোগ আনলেন হেস্টিংস প্রত্যেকটি যুক্তি তর্কে এবং আবশ্যকীয় কাঁগজ পত্র দেখিযে থগুন করলেন। বস্তুত সার লোকজন প্রত্যেক বিষয়ে সর্বদা স্পট কাগজপত্র রাখতেন যাতে প্রয়োজন হলেই কাউন্সিলের সভায় সেগুলি দেখান যায় । ১৭৭৪ শ্রী্টাবের গবর্ণরের কাউন্সিলের সভার বিবরণীগুলির মধ্যে এই বাকযুদ্ধ লিপিবদ্ধ আছে। কোন বিষয় প্রমাণ করতে না পেরে সংখ্যাগুরুর দল গালাগালি দিতে কম্ুর করতেন না । এইভাবে গোটা ১৭৭৪ খ্রীষ্টাব্দ নন্দকুমাঁর রাবণতনয় ইন্দছজিতের মতো সংখ্যাগুরু সাহেবদের আঁডাল থেকে হেস্টিংসকে বিতাড়ণের সব রকম চেষ্টা করলেন কিন্ত সফলকাম হলেন না। তেস্টিংসের এই বছরের ব্যবহার লক্ষণীয় । তিনি সব বুঝেও নন্দকুমারের কোন বিরুদ্ধাচরণ করলেন না । এমনকি রাজ! গুরুদ্াসের পদ নিয়েও কোঁন আলোচনা করলেন না। তিনি পরিষ্কার জানতেন বে নন্দকুমারের মতো লোক ক্ষমতার অপব্যবহার করবেই । তাছাডা পূর্ব ইতিহাসে ধার নানা দোষ দেখা গেছে তিনি নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হবামাত্র অপকীত্ির পথে পা দেবেন এটাই স্বাভাবিক । হেস্টিংস এক ফাদ পাতলেন। নন্দকুমার হেস্টিংসের এক বিশ্বস্ত ব্যক্তির আত্মীয়ের মুখে হেম্টিংসেও নিন্দা গুনে তার মাধ্যমে ভেস্টিংস সম্পর্কে আরে খবর পাবেন আশায় তাকে নিজের কর্মচারী নিযোগ করলেন। ১৭৭৩ খ্রষ্ঠাব্বের ২০শে অক্টোবরের কাউক্সিলের সভার পর এই নিয়োগ নিঃসন্দেহে যোগাযোগ ষ্টি করছে। নন্মকুমার আবার হেস্টিংসের বুদ্ধির কাছে পরাজিত । সমস্ত ১৭৭৪ প্রীষ্টাব্ে নন্দকুমারের তৈরী অভিযোগ সংখ্যপগ্তরু দল কাউন্সিলে তুলে কখনই গবর্ণরকে আশ্র্য্য মহারাড। নন্দকুমার ৫৩৭ কল্পতে পারেন নাই । হেস্টিংস সর্বদা প্রস্তত থেকেছেন । এইভাবে সংখ্যা গুরু দলের মন্ত্রণাদাতা হয়ে নন্দঝুমারেব সন্মান খুবহ "ডে গেল। বভ পাশ তার বাডীর লামনে সর্বদা লেগে থাকত। সবাই তাকে “বিশেষ সম্মান কবতে লাগল এবং নিয়মিত তাকে উপটৌকনে খুসী করত। এ সময়ে অনেকেই মনে মনে বিশ্বাস কবতেন «থে এদেশে তেস্টিংস সাহেব 'আর বেশীপিন থাকতে পারবেন না স্থতরাং নন্দবুমারেব ভঙন। করলে আখেরে কাজ হবে। শুধু বাইরের ,লাঁকের] নয়--কাউশ্সিলেব সংখ্যা গুরু সদস্যদের মধ্যেও এই ধারণা এসোছল। ক্লেভারিং সাহেব ননাকুমাবের পষ্টপোষক তাহ তিনি গবর্ণরী পেলে কি হবে বুঝতে কারু বাকী ছিলনা । এমন কি ফ্রান্সিস সাহেব একদিন কাগজ কলম নিষে বসে গেনেন। হেস্টিংস গবণর পদে ইন্তধশ দিলে তার লোকএন ঠাঁডিয়ে কাকে কোন পদ দেবেন ফ্রান্সিস সাহেব 'লখে ফেললেন । অত্যন্ত গুকত্বপূর্ণ আব বিস্ময়কর এই দলিল কাবণ ফাশ্সিস প্রত্যেক পদে যাদের নিযোগ করবেন খ্িব করেছিলেন তারা প্রত্যেকে নন্দকুমারেব লেক। এহ কাগম্গুল অন্ধাবন করলেখ৫ সংখ্যাণ্তর সদম্তগণ অর্থাৎ ক্লেভাবং, মনসন ও ফ্রাশপিস কি পরিমাণ নন্দকুমাব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন বু্তে কষ্ট হয় না। বদ্দম নেব বাজাব দেওয়ান থেকে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নূতন লোক দেবার কগা 1চন্ত করেছেন ফ্রান্সিস সাহেব । শুধু একণ্নকে তিনি সবাতে চন নাই সেই ব্যক্তি হলেন দেবী সিং কাবণ ইতিমধ্যে নন্দকুমারের সঙ্গে দেবী সিংএব সমঝেতা হয়ে গেছে ঘর্দিও দেবী সিং জুরাত ছিলেন গঙ্গাগো।বন্দ সিংহের সহকারী । ১৭৭৫ গ্রীষ্ঠাব্বের ঘটনা নিযে এত বহুলভাখে 'আলোচন' হযেছে .ঘ এই রচনায় সেগুলির পুনরুল্লেখ নিশ্প্রয়োজন । তবে নন্দকুষাব চবিত্র বে'ঝবার জন্য মূল ঘটনা অনুসরণ কর। হবে । ১৭৭৫ শ্রীষ্টাব্বে হেস্টিংসএর সঙ্গে সংখ্যাগুরু সদস্যদের বিরোধ চরমে উঠল। এবার তারা ঠিক করলেন আব পরোক্ষ অভিযোগ নয প্রত্যক্ষভাবে ভার! গবর্ণরকে শক্তি পরীক্ষায় আহ্বান জানাবেন। তাদের উপদেশ মতো নন্দকুমার অভিযোগকারী মনোনীত হলেন। এইভাবে নন্দকুমার সমতার লোভে তার জীবনের চরমতম রাজনৈদ্ভিক ভুল কন্ঠে বললেন। ৫ ০০ বাংল। এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা [তি।শ বুঝতে পারণেন না যে সংখ্যাগুরু সদস্যগণ তাদের নিগের স্বার্থে তাকে ডৎসাহ দিয়েছেন এবং চর্ম 1ৰপদের সময় তাকে ফেলে পালিয়ে যেতে বিন্দুম[এ ঘিধ| কখখেন শ1। --হ ম৮ 13৫ গ্রাচক» কাডশ্সিশের সভায় নন্দকুমারের ১১ পাতা েস্টিংসের বিকত্। আভযোগ এ পড়া হল।২৩ নন্দকুমার অভিযোগ বরেছেন থে হেস্ঠংস মণিবেগমের কাছ থেকে লক্ষাধক টাকা ঘুষ নিয়েছেন । [খতম ব্যাওর কাছ তেকেোনজপন্ষীয় লোক যে বন্ধ অথসংগ্রহ করেছেন এখং তাৰ াবশিষযে তার অগ্রগ্রহভাঙ্ন ব্যাঞ্তদের খহুসম্পা অন্ঠ/য়ভাবে দিহেছেন। সবপক্চাপী কমচাবীও তাবে ও তার বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের উঞ্জক্োচি দগেছে। ২৩. মী 1৭ গ্রাগান্জে নন্দঞুমারকে কাউন্সিলে তার অভিযোগ বিবষে [জঞ্াণাপ্দ্বে চন্য আন। হল। গবর্ণ্ণ হেস্টিংস আপাতত করলে সংঘ) গক্দণ তে মাপও মাণপেন না। তখন পবরণর ও বাবওয়েল সতা ত্যাগ কবে চলে গেপেন। ননধুমাগের ওবান্বন্দী সংখ্যাগুরু দল লিপিবদ্ধ করপেন। এহখানে লক্ষণীয় যে পন্দকুমার এহ জবানবন্দী ফাখসী ভাষায় সহ ঞ্বেছেন। খদিও তখনকার বাঙালীর! সবদা বাঙপাশাষায় সহ করাহ পছন্দ করতেন । তারপর চপল তুমুল সংঘর্ষ ২০শে মাচের সভায়» ১৭ই এপ্রিপের সভাষ আবু ২২শে এপ্রিলের সভায়। হেস্টিংস প্রমাণ করলেন যে মণিবেগমের চিঠি আর নবাব মীরজাফরের ভাহ মীর দাডদ বা নবাব বেতের-আম উ-ন্দৌলার চিঠি ঘা শন্দঝুমার কাউন্সিলে অভিযোগের সময দেখিয়েছেন উভযই জাল । মণিবেগমও এই মর্মে তস্টিংসকে পত্র দযে জানিযেছেন। কিন্ত বুদ্ধিমান নন্দকুমার সেই পত্র ছুটি হাতছাডা করেন নাই ।২৭ হেস্টিংস পাণ্টা আভিযোগ করলেন থে নন্দকুমাবেক্ অতীত ইতিহাসের কলঙ্ক না জেনে তাকে বিশ্বাস করে সংখ্যাগুরু সদস্যগণ অত্যন্ত অন্তাষ কাজ করেছেন। সংখ্যাগুরু সদস্যর কিন্তু সমানে ঝগডা করে চললেন। গবর্ণরের কোন কথা তারা বিখ্বাস করতে রাজী হলেন না। - ১৭৭৫ খ্রীষ্টাব্বের ৫€ই মে তার! হেস্টিংস সাহেবের বিরুদ্ধে অন্যান্ কভিযোগ য়ে ব্ন্ত ভয়ে পড়লেন। সমস্ত মার্চ ও এপ্রীল মান যখন মহারাজা নন্দগকুষার ৫৪০৭ কাউন্দিক্জরে প্রতি সভায় তুমুল বাগবিতগ্া হচ্ছে তখন কিন্তু গবর্ণরের কাছে শন্দকুমারের কীতিকলাপের বহু খবর গোপনে সংগৃহীত হচ্ছে। জর্জ ভ্ান্সিট্ররট ২৩শে ফেব্রুয়ারী ১৭৭৫ খ্রী্টান্দে হেস্টিংসকে ব্যক্তিগত পঙ্তে ৮. লালেন) 4/5106৬/ 0895 890 7090101781911) ৬4৪95 9811 001 1) 001113 970 50091090 101 701179৬1175 10000108087 0198108 9091751 ০৪. 116 061 09৬৪ 01 09000981 0 2.012090 75 16091৬80 10% ০, 1200 1800. 10 1৬1 91019 0170 809,000 0 8০9৬৭171৬ 1905. 1719 ৬/95 0811190 ৬৬07 110 079 091781915.7179 039170101 017169৬4 1 099৬7 17 ৭7091 970 5001090 70010781917 01115109110 50 170101 1955 1101) /895 10101715807 1081 18 1001৫ ॥1 010) 90011 0170 109019190 1, 8170 | 50101000591 ৬4111 1011 8 [001 01 (08 109)011/5 161091 10 089 0০০91 0 00119019015 10 01652. ১17125.+২৮ ভ্যাশিস্রাট সাহেব তার সঙক্ষমা গ্রেহাম সাহেবকে দিখিত পত্রে হেস্টিংসের প্রতি জেনারেল ক্লেভাবিং কন এত রেগে আছেন তাঁর কারণ বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি লিখছেন যে জেন।রেল ক্লেভারিংএর একন্ত ইচ্ছা! থে হেস্টিংস তার একটি কন্তার পাণিগ্রহণ করেন। বারওয়েল সাহেব বুদ্ধিমানের মতো এক কন্তার সঙ্গে আসনাই করে চনেছেন। আরো লিখছেন যে গোরিং সাহেবকে ৫০ হাজার থেকে এক সঙ্গ টাক। পুরস্কার দেখার প্রতিশ্রাত অন্তপক্ষ দিচ্ছেন । ইতিমধ্যে থাণসা বিভাগ থেকে প্রভূরামকে বিদায় দ্রিয়ে রজর্চশোরকে গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ নিধুক্ত * করেছেন। প্রভুরাম ছিপ অন্তপক্ষের লোক ।২৯ ২৫শে মার্চ ১৭৭৫ ভ্যালসিট্রাট হেস্টিংসের বিরুদ্ধে সংখ্যাগুরু সদস্যদের ষড়যন্ত্রের খবর দিয়ে গনাচ্ছেন। 4175 3811 301 11811619119 17101) 079 109)0111%. 70119 800৬/21) 00091000 /95 01998111010 00 50101 8000170 078 1৬19)011 ৬1058 0111 1069 81 1115 50898 (19191011775) ৬/৭5 00 09091 (99901761 91700901 9৬1০61706 01 1711501917981101 101 08 015701558। 01195101105... -,**, ৮০0 1701090০019 1181017118101015 06 10019591315 19৬17009917 18908180 10 817 01 06 17191110815 06 019 1818 0001701| 709111001811 079 050৮9117681 01 ৮০ 0 891/611 01179 5 170৬4 008 01980 00180 01 019 1৬9810110/5 180001 101 0119 ৫১০ বাংল! এরতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ 04101109090 1৬10105017, 00117081710 [২0110001019 0178 201170 10915015 | 0015 001501. 110-00101, 078 ৬০৪৪1] 0 10178 98111 01 789519, ৬/170 1785 10891) 50118 11718 117 ০910018 00111019110 9091151 01101 70 8170 67098৬08117 10 16900৬91 16 নি 0 1017981 0150101 5/95 6১0019551 1010 10 1৬101775011 1117- 591, 85118 8170 3601179900৬1170 18৬6 89550180] 1779, 01791 179 51911 1701 0101811 115 ৬/15185 101111655 118 ৬/০10 109098 800058010175. 017 116 01781 11710 119 2170 32171015581 078 80010160 501 1198 [09981 895500180 10 [01101001191 01781 1 019 ৬/।1| 10002 80015- 80105 176 517911 0101911) 001101919 501008354,.. *,..০, 40178 109069 26111170131 1995 8150 1)96817 180111150 1০0 10009 9000158101019.--.--০-, 10110001191 1195 1781 ৬/101 61711010615 ৬1০0 81109৬/ 011 50008 €0 115 909171015. 119 591795 01 811 018 ৬৪/:৪15 210 8৬৪1৬০০০৬% 8198 ৬৬10) 178 0817 0381 00 00186 17681 11) 210 01510111001195 0719815 910 101011565 8|| 09 10179.+৩0 নন্দকুমারের চেষ্টা ক্রমেই ফলবতী হতে থাকল । ১০ই এপ্রিল ১৭৭৫ ্ীষ্টাব্ে ভ্যান্দিষ্রাট গ্রেহামকে গোপনীয় খবরগুপি জানালেন । “07 3151 89101 119 178 19115 10109001090 27 000171011 81 111017172101017 1101) 2:611-111-91001991, 018 18171116170 078 ০0 178 01৬151015 06160101001 072 02 17080108101 11009011 110105 115 01106 111 ৬1018 01 না 80991761710 1709 36000 875. 2 69০91 10 1৬1 11895111705 2170 40900 75 00 0০817100097; 8170 011 0168 15101 09 10111 89006110101 ৬/85 10010001090 01 38111015581) 18101658101170 80. 07921701151) 09171161191 1180] 8771092581801 ৪ 01991 0881 01 170178৬ 017 7905919 11 09 1781195 0 101911 9821010175. 71718 09010101). ৬/৪5 9০০0111081190 10/ 9 59109151615 81200170019 00 15 18015 0 87005985 0161) 0৮ 0০8176090. 58101917, 799168 ৪0111011011 2170 001101 70%, 80000 51901511717680 70118 810 10 09৮ 06 01015 0 079 08175 079৮ 17910. | 10710৬/ 1011 016 79৬ 09170091191) 9১080 00 00৬9 মহারাজা নন্দকুমার ৫১১ 17959 890০০015800175 011 079 919 00109004090 011 11) 10095 01 109151170 ৪ 019110017. 1 5010100952 08 11701917089 0010৬) 11710 10109 19705 ০0 11110001791 9170 019 0015101110010101 01 [07011585, 11716815, 16৬/৪105 810 10111)1510171815 ৬৮।]1 001000018 1791) 17079 90০০01158900175. 117. 079 17991701179 [01170001791 19015 ০৪ 001 11175919170 17091179105 101 50118 0 115 81010109175. 81710909 €615110011 09115 1778 0791 78117001) 01 08 [09171 01 06 8010/9]17 নি017% 195 90009811%00919 1011) 3209 93014 1/01015 * 01040]17 [18 178705 01 017910017-179881 81700 ১)81061) 01010, 1৬/০ 01 1015 121910880 5৬/991615, 91701 03001111911 51001. 51া]1190 11001119110) 1985 10891 0191 179 10 99111001181) 9170] 98111817210 1195 8159 08617 ৬/10021 0 43019509091 ২917189০1) 119191 0 80010৬/814. ১ ০০:41 17591 109119৬6100 09 ৬/৪1| 090100190. , * . 4/৯1800011 10০0 /5 ৬৬105089180 910001 [৩9911101110, ৬1. 718170151 9810191), 18৬1170 00176 010 10 109091199৬4 095 9909 20170 10109601011 00৮1 ৬101 1।1) 9 18701 0 75... +461005101)0170 19115 178 11781 [৩0110001701 : 185 00181791090 1060)010190015 ৬07 076 0700)91 01 /5501017-01-00৬/18 2170 5917 101 01811 ৬৪/৪815.+৩৯ ভ্যান্দিট্রার্ট সাহেব গোয়েন্দা মারফত সমস্ত খবরাখবর সংগ্রহ করে সেগুলিকে বিভিন্ন ব্যক্তি ওস্ত্র মারফত বার বার যাচাই করে অবশেষে “গোপনীয় সংবাদ? শিরোনামায় তার সংগৃহীত সংবাদ বিবরনী হেষ্টিংস সাহেবের কাছে পাঠিয়ে দিলেন ১০ই মে ১৭৭৫ খ্রীষ্টাব্দে । এ পত্রে যে সাংঘাতিক তথ্য উদ্যাটিত হয়েছে তাতে হেস্ট্রিংসের বিরুদ্ধে নন্দকুমারের অভিযান যে কতো ব্যাপক হয়েছে আর সংখ্যাগুরু সদস্যগণ কিভাবে নন্দকুমারের হাতে খেলার পুতুল হয়েছেন বুঝতে অস্থুবিধা হয় না। 9 8010৬21) নি 01 00175109180017 0 079 38171095 19177091790 1161 801990 10 179168 0118 [01109৬41110 109/1781115 :-- জজ 3200 ৮ 165-5135. 51,200 91008001191 175. 95296 (৫81098/-) ৩৩ ৫ ১৯ বংলা তারিক নাটক সঙ্গালোচনা [01759179191 019৬0911170, 0০1 51079017810 1৬17 71017015 -_35 2,090 9090 70 :/1 1 0৬19 _-,, 30,099 [0 [01170001191 7, 30,099 170 79090171011717 ১, 2,009 75 2,65,909 118 9170 0 10101) 01 10901110110 01 /510111 06911111101), 1৬11 71811015 08171917 ৬/৪11 10 01717950119 10 185191। [078 09৬17211041 [810111780 ৬4100018160 154০0 0895 8910914/9195 875 15 000 8111৬790117 ০9100080710 80004109 911 01 /0111 85. 10,000 না7 00117 1179 90115 ৬/০16 09100951190 11 1৬1. 75 170099 017 0178 16071 0 /810111 8 0111 ৬9519081৬90 10% 3090107919/217 (০110৬/৫1101 91010958011) 8161191 70 076 97011170195. 31009 018৬41) 011 [১0010101105 11090158281 01115019. 116 510৬9 11 10 ২0700017191, ৬/170 9810 078 ৬০1০ 17107 019 039179191 . 4017 08 407 01109 এ 8111 0111৬90 ৬4101 11৭. 01 00 [01100017191 217011110179 00 50117801975. 109900+. . 178 [011০৬/170 99198- 17181711795 10901) 17908 ৬1011 38101015591 01 879095178 *-- 710 019৬91170, [৬101501 9170 6181015--875. 200,000 710 10১৬419৪810 (২1110001191 785. 40,000 119 2707) (9181017 01 /১0111 7 2) 21090901875. ৬/8519081480 0৮ 170001181. ভ্যান্সিট্টাট আরো জানালেন :__ 41116111091708 99001. 19911101117 5001179--:881727 00 7171015 8151761121) 5011179--9100181 01 80099, 21 0101 09109109171 50181 0) (10110001191. 9917101011) 9801179--310670911 01 079 8917৬91) 01 8115100৬/. 980178121) 581179-10909170917 01) 1২01৫- 01191. 32111155917--718 90010180 501 01106 39171 01 174905- 18. /* 1191) 01 10 017091519170110. 18 (থা) 01 790919 185 18191 0981) 91978060 00 1177 0৮ 06 117109195 01 11110001791.4৩২ মহারাভা নন্দকুমার ৫১৩ আবার €ই “য ১৭৭: খ্রীষ্টাব্দের কাউন্সিল সভা দেখা যাক | নন্দকুমারের মতা এখন অপবিসশম । সমস্ত দেশ টার প্দভরে কম্পমান। কুভাবং সাহেবের সঙ্গে উর বিশেষ বন্ধুত্ব । সংখ্যায় অধিক সদস্যরা তাদের ক্ষমতা প্রকাশে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নন্দকুমাব তাদের প্রধান সহায়! শিখবে পৌছতে বাকণ শুধু একটি পদক্ষেপ । ঠিক তখনই হল পদস্থনন | এমন নাটকীঘ ঘটনার বলনা সহজে পাগ্যা যায ন'। স্ুপ্রিমকোটে জালিযাতিপ্ আভযোগ আনল নপ্রকুমারের বিরুদ্ধে এক বণিক । নন্দকুমার ৬ই £ম ১৭৭৫ ্রীষ্টান্খ পুনরায় দীর্ঘদিন পর গ্রেপ্তাব হয়ে কাবা মধ্যে রুদ্ধি হলেন। শক্র মিত্র নিবিশেষে যারা নন্দকুমারের ক্ষমতার প্রচণ্ড দাপটে থরহরি অহনিশি কম্পমান হচ্ছিলেন সবাই হাফ ছেড়ে বাচলেন। নন্দকুমাবকে রক্ষা করার প্রচণ্ড অনীহা দেখে তাই অবাক হয়ে যেতে হয। নন্দকুমারের নিজস্ব একান্ত ব্যক্তি কয়েকজন মাত্র ছানা তাকে বাচাবাব কোন চে! হল না। তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ হয়ে গল ॥ নন্দকুমার অপরাধী প্রমাণিত হয়ে চবমদণ্ডে দণ্ডিত হযে প্রাণ ফারালেন। এই বিচারের ব্যবস্থাকে প্রপন্থিত করার কোন চেষ্টা হল না। প্রমাণগুলিকে বিচার করার কোন চেষ্টা হশনা নন্দকুমারের পক্ষ থেকে । অদ্ভুত বিয়োগাস্ত পরিণতি | ক্লেভান্রিং, মনদন ও ফ্রান্সিসের ব্যবহাব দেখলে সত্যই আশ্চর্য্য হতে হয়। *ই মে ১৭৭৫ শ্রীষ্টাব্দের সভায় তার! নন্বকুমাল বন্দী হয়েছেন শুনে খুব চিৎকার চেঁচামেচি করলেন। তারপর সংখ্যাগরিইতার জোরে মণিবেগমকে পদচ্যুত্ত করে রাজ! গুরুদাসকে সেই পদে বসালেন ।৩৩ সম্ভবত তারা যনে ভেবে- ছিলেন থে পদাধিকার ৰলে রাজ! গুরুদাস তার পিতাকে বাচাবার গন্য যা করবার করবেন । সংখ্যাগুরু সদশ্তগণ এই ভাবে নিছেদের দায়িত্ব এাঁডয়ে গেলেন । মণিবেগমকে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বরখাস্ত না করে তার! যদ্দি নন্দকুমারেব প্রাণ বাচানর জন্য গরিষ্ঠতার জোর ব্যবহান্র করতেন তাহলে অধিক ফলপ্রস্থ হত। সে সবনা করেতার! ফালতু চিত্কার করলেন ষে নন্দকুমার ব্রাহ্মণ স্থতরাং তাকে সাধারণ কয়েদখানায় রাখা অন্তায় হষেছেও। এই প্রসঙ্গে তার! ভুলে গেলেন যে নন্দকুমার এর আগেও কারারুদ্ধ হয়েছেন -- এটাই প্রথমবার নয়। তথন বদ্িতার জাতিপাত না হয়ে থাকে তাহলে এথন তার জাতিপাতের কোন কারণ নাই । এই বিষয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই ৫১৪ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন। স্বপ্রিষমকোটের প্রধান বিচারপতির পত্র কাউন্সিলে পাঠ করা হল। ্তার ইলাইজা ইম্পে স্পষ্ট লিখেছেন ষে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্য্যস্ত ভাতিপাতের কোন কারণ ঘটতে পারে না। "1 17751 09958190781 5895 11 0858 01 001711111617811 101 0117185 01060 01) 0118 [0115101 079 09519 ৬/।|| 09112117108 10010 178 0985 1701 598 1 ৬1109 1051. 115 15 1701 06 0858 0 08 (৬1911019191, 170 01109 15 010৬8 01100071011) 00018 15 00095910৬61 01891090 ৬/।01) 21 011781709 ৬৬110110৬11 08 11001110811 01) 019 101705908)0015 10 010৬6 80101115 17181.৩৪ সংখ্যাগুর সব্দশ্তগণের ব্যবহার বাস্তবিক বিম্ময় উৎপাদন করে। মনে হয় যে তারাও যেন নন্দকুমারের মৃত্যুই চেয়েছেন। রাজ! গুরুদাসের একাধক পত্র ও হ্বয়ং নন্দবুমারের পত্রগুলি বিষয়ে 'তারা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন নাই । ইংলগ্ডের রাজার কাছে পত্র দিয়ে মার্জনা ভিক্ষা অথবা জীবন ভিক্ষা করতেও দেখা যায় না সংখ্যাগরিষ্ঠয সদস্যদের । তাদের এই সময়কার শশ্বুকবৃত্তি দেখে হু'টি সম্ভাবনার কথা মনে আসে। প্রথম, নন্দকুমারের মৃত্যুতে তার! নিশ্চিন্ত হয়েছেন_ যেমন পাওনাদারের মৃত্যুতে থাতক আনন্দিত হয় । দ্বিতীয়, নন্দকুমার কারারুদ্ধ থাকায় তাদের বুদ্ধি দেবার লৌকের অভাব হয়েছে । ভয়ে কারা হাত পা গুটিয়ে নির্বাক দর্শকের ভূমিকা নিয়েছেন। নন্দকুমারের দগ্ডাদেশের পর বরঞ্চ একজন ইংরেজ জুরী দয়া পরবশ হয়ে মৃত্যুদণ্ড মকুবের জন্য স্বপ্রিমকোর্টে দরথাস্ত দিয়েছেন কিন্তু ক্লেভারিং, মনসন, ব! ফ্রান্সিস কিছু করেন নাই। নন্দকুমার ৩১শে জুলাই ১৭৭৫ শ্রীষ্টাব্ডে ফ্রান্সিনকে জেল থেকে চিঠি লিখে তার প্রাণরক্ষার জন্ত আবেদন করেন। ৪১] আগষ্ট ১৭৭৫ স্রাহ্টাব্দ প্রাণদণ্ডের আগের দিন নন্দকুমার ক্লেভারিংকে আর একখানি পত্র লেখেন। ক্রেভারিং সেই পত্র নন্দকুমারের মৃত্যুর আগে খুলেও দেখলেন না। পরে কাউশ্দিলের সভায় এই পত্র হথানি পঠিত্ত হলে ফ্রান্সিসের প্রস্তাবক্রমে এই পত্র ছুটি খিনি নন্দকুমারের ফাসী দিয়েছিলেন তাকে দিয়েই পোড়ান হল ।৩৫ এই সুত্রে /. 0. 11165 লিখেছেন :-_- 71918 ৬/85 8 50110101617 198501) 01018 0০041101| 10 0101811) ৪ 18510109 10) 01491 10 19181 078 177897 10 67919170 7 04 ৬/1)91) মহারা্তা নঙগকুমার ৫১৫ 11161116017৬11819, 018 118105 0 01100171281 1811580 10 70৬9, (1 ৬/85 18101 1০108 ৪১090190 1181 1185111705 51000104 30 01 06115 ৬/৪৬ 10 01019011719 0৬/ 617617.৮৩৬ দোষ প্রমাণিত হয়েছে। দগ্ডাদেশকে আটকে রাখবার কোন চেষ্টা হল না । €ই অগাষ্ট ১৭৭৫ খ্রীষ্টাব্দে নন্দকুমারের ফাঁসী হল। নন্দকুমারের বিচার সম্পর্কে ব্ত পুস্তক রচিত হয়েছে । বন্ধু আলোচনা, গবেষণ। হয়েছে এবং হচ্ছে । বঙ্গভাষাভাষী মহলে কিন্তু আবছ। একট! ধারণা হযে আছে যে হেস্টিংসেব প্ররোচনা তাঁর বন্ধু প্রধান বিচারপতি ইম্পে নন্দকুমারের ফারসী দিয়েছেন। এমনকি পণ্ডিত প্রবর ঈশ্বরচন্দ বিছ্াসাগর মভাশয বাজলার ইতিহাস রচনাকালে লিখেছেন--“নন্দকুমার দুরাঁচার ছিলেন যথার্থ বটে, কিন্ত ইম্পি ও হেস্টিংস তাহা 'অপেক্ষা অধিক দুরাচার, তাহার সন্দেহ নাই ।”৩৭ বলা বাহুল্য এই মত একেবারেই ভ্রাস্ত। কেবল প্রতিহ্থাসিক দৃষ্টি থেকে নয় আইনের দ্রিক থেকেও নন্দকুমারের বিচার আলোচিত হয়েছে বার বার, এখনও হচ্ছে । এই খিচারের প্রত্যেকটি কাগজ স্থন্দরভাবে সংরক্ষিত তাই এখনও এই বিষয়ে নূতন আলোকপাতের সম্ভাবনা আছে । মনে রাখতে হবে যে প্রাচীন ভারতীয় এঁতিহা অন্তযায়ী বাহ্গণের প্রাণদরণ্ডাজ্ঞ৷ নিষেধ ছিল তাই নন্দকুমারের মতো বিখ্যাত ব্রাঙ্গণের প্রাণদণ্ডে বাঙাপী হিন্দুসমাজ বিচালত হুযেছিলেন। বিদ্যাসাগরের রচনায় ব্রাহ্মণ বধে রোধ প্রকাশিত হয়েছে মাত্র । সমসাময়িক সমাজেও নন্দকুমারের গ্রাণদণ্ড 'আলোডন স্ষ্টি করেছিল বটে কিন্ত ব্রাহ্মণ সমাজের নৃতন সম্মানে প্রতিষ্ঠিত হতে তখন কয়েক বছর বাকী তাই সেরকম আলোড়ন হয় নাই। ইংরেজ কোম্পানীর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ব্রাহ্মণ সমাজের প্রতিষ্ঠ। বেড়েছে । দশ বছর পরে ব্রাহ্মণ সমাজ যথন স্তুপ্রতিষ্ঠিত তথন এই প্রাণদগ্ডাদেশ অনেক “বশী আলোড়ন স্ষ্টি করতে পারত । নন্বকুমারের মৃত্যুতে নিঃসন্দেহে হেস্টিংদ লাভবান হয়েছেন। তার সবথেকে বড় শক্র অপসারিত হয়েছে একথা সত্য। কিন্তু বিচারের স্থুরু থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত এমন একটি প্রমাণ পাওয়া যায় নাই যাতে হেস্টিংসকে পরোক্ষভাবেও নন্দকুমারের বিচারের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ম্ুবিখ্যাত আইনজ্ঞ শ্যার জেমস স্টিফেন বিচারের নধিপত্র ঘেটে রায় দিয়েছেন__ ৫১৬ বাংলা এতিহাসিক নাটক সম্মালোচনা 41890986058 191709100117915 09901) 1779 18৬91617059 2 ৬1091 ০4 01195011795 10901, 40951100169 1701 108 08191801090 40101010591 100.” 71781915170 ৬৪110 9৬1091706 10 50100011015 ৬1৪১/.৩৮ সৃতরাং হেস্টিংস নন্দকুমারকে বিচারের প্রহসনে হত্যা করেছেন এমত সম্পূর্ণ ভ্রান্ত॥ অমূলক, ভাখাবেগ প্রধান এবং প্রমাণ সিদ্ধ নয়। বস্তত নন্দকুমারের বিচাবের সময় হেস্টিংস দে ভা(ব সরে থেকেছেন ত1 অত্যন্ত প্রশংসাযোগ্য । এইবার অভিযোগ ও বিচার সম্পর্কে কিছু বলার সময় হয়েছে । মোহন প্রসাদ নামে উত্তর ভারতীয় এক ব্যবসায়ী নন্দঞুঁমারের বিরুদ্ধে ালিয়াতির অভিযোগ করে। এই জাল দপিলখানি নন্দকুমার মেয়রের আদালতে ব্যবহার করেছিলেন । মোহন প্রসাদ ১৭৭৪ খ্রীগাব্দের মার্চ মাসে এই দলিল- থানি উদ্ধারের আবেদন করেন এবং ১৭৭৫ শ্রী্টাব্দের এপ্রিল মাসে এই জাল দলিল হত্তগত হওয়া মাত্র নন্দকুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন । তাহলে এখন ছুইটি প্রশ্ন আলোচনার প্রধান বিষয় হল। প্রথম, দলিলটি চাল কিনা এবং দ্বিতীয় দলিলটি জাল জেনেও নন্দকুমার সেটিকে ব্যবহার করে জেনেশুনে মিথ্যাচার ও জুয়াচুরি করেছেন কিনা । উভয় দিকেই অনেক সাক্ষ্য প্রমাণ শোন] হল । বিচার যে কোনরকম স্থার্থদ্বেষশূন্তভাবে হয়েছিল তা আগেও স্বীরুত হয়েছে এখনও যে কোন ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রমাণাদি স্কিরভাবে পাঠ করেও একই সিদ্ধান্তে আসবেন । খুচরা প্রশ্ন করেছেন কেউ কেউ। অসুস্থতার জন্ত যে সাক্ষী আসতে পারলেন না তিনি এলে বিচার ফল অন্তরকম হতে পারত কি না? অথবা রাজা নবরুষ্ণকে না দিয়ে অন্ত কাউকে দিয়ে ফারসী থেকে অন্গবাদ করলে নন্দকুমারের কোন সুবিধা হত কি না। এই নব চুলচেরা বিচারের মধ্যে না গিয়েও নন্দকুমারের বিচার যে অত্যন্থ স্তায়সঙগত- ভাবে হয়েছিল তা সন্দেহ করবার কোন কারণ নাই। চারডন বিচারপতির এজলাসে বিচার হয়। ১২ জন জুরী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান বিচারপতি স্যার ইল!ইজ। ইম্পে যে আশাতীত সম্মান প্রতি মুহুর্তে নন্দকুমারকে দেখিয়েছেন তাতে দলিল দন্তাবেজে তাকে মাঝে 'মাঝে নন্দকুমারকে পক্ষপাত দেখাচ্ছেন বলে খাটি আইনজ্ঞ ভূল করতে পারেন। প্রথমে জুরীরা নন্দকুমারকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন একযোগে এবং তারপর বিচারপতির] একমত হয়ে তাকে প্রাণদপ্ডাজ্ঞ দিয়েছেন তৎকালীন আইন মহারাজ! নন্দকুমার 5১৫ অনুসারে । একটা কথা চালু করা হয়েছে যে এদেশী আইনে নন্দকুঁমাবের দণ্ডাজ্ঞ! হয় নাই । এ কথাটাও ভ্রান্ত কারণ ভারত-শাসন আইন অন্কসারে ইংলগ্ডের পার্লামেণ্টেব স্থম্পট নির্দেশ বয়েছে, যে সব ধারায় ভারতীয় মাইন তৈবী নাই সে সব বিষষে দণ্ডাজ্ঞা ইংলগ্রীয় আইন অনুসারে ভবে । তদন্থুযায় নন্দকুমারের প্রাণদণ্ডাদেশ হয় ক'রণ দেশী আইনে ভাল দলিল জেনে শুনে ব্যবহার করে অন্তকে বঞ্চিত করার দণ্ড তখনও এদেশে তৈরী হয় নাই । একটা স্থদ্র টদাহবণ “নণয়' গাক । লগ মেঞক্লের সশাপতিত্বে ভ।রর্তীয় দণ্ডবিধি তৈধী হবাব ”বেকার ঘটনা! সময় ১০১৭ খ্বীশাব্ব। উইপ বিষয়ে আইন তথনও এদেশে তৈরী তয় নাই তাই ভারতী শ্তপ্রিম কোর্ট ইংরেজী পন ল কোড অন্ুসাবে বিচার করে এক মামলায শ্বযং হু হাগুয়! কোম্পানীকে হাবিষে দ্রেয়। এই বকম ঘটনা বিরল নয ( 5৬401781089 09951 ৬5 16851171018. 001119811/ )। সুপ্রিম কোটের পুরাতণ রায়েব নহি ঘটলে এমন বহ দৃষ্টান্ত পাওযা যাবে । এখানে বক্তব্য হচ্ছে নন্দকুমাবের বিচার বা দণ্ডাদেশ পক্ষপাঁতহীন ভাবে ঘটেছিশ সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নই | এবার প্রশ্ন আসবে যে এই অপরাধে নন্দকুমারের আগে মদ আব্র কার মৃত্যুদণ্ড না হয়ে থাকে তাহলে নন্দকমারের প্রতি এই দণ্ড দেশ যুরক্িসঙ্গত হয়েছি কি না? দশবছব আগে ঠিক এই রকমেব এক ঘটনা ঘটেছিল। গোবিন্দরাম মিত্রের নাতি রাধাচরণ মিত্র জালিয়াতির জন্ত প্রাণদণ্ডাদেশ পেয়েছিলেন । ঘটনা এইভাবে লিপিবদ্ধ আছে /া19 10117010981 10180 |1017910119115 01 [76 [01306 98170 11 112 00110/105 08110101717 68৬০017 01 39809010111) [1909 010091 961719108 ০01 09201 101 101021, 901101019, ৬/৪ ৬/০০1০ 49161 [178 2১8001101) 810 18০০- 71117910 08 06111011917 10 1119 1091951/ [01 171810% “৩৮ এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে ততকালশন কণক্াঁতা শহবের প্রায় সমস্ত গণ্যমাণ্য ব্যক্তি রাধাচরৈর জন্ত জীবন ভিক্ষা চেযেছেন । ৯৫ জন ব্যবসায়ী, বেনিয়ান ও সম্পদশালী নাঁগরিক রাজা নবরুষ্জর দলপতিত্বে এই আবেদনে স্বাক্ষর করেন এবং তারই ফলব্বরূপ রাঁধাচরণের প্রাণদণ্ডাজ্ঞ! মকুব হয়ে যায় । নন্দকুমগরের বেলায় একজন মাত্র অনামা ইংরেজ জুরীব আবেদন ছাডা নন্দকুমারের ৫১৮ বাংল। এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা প্রাণরক্ষার কোন চেষ্টাই হয় নাই । রাধাচরণের প্রাণদণ্ড মকুবের অন্ত যারা লম্বা দরখাস্ত করেছেন, নন্দকুমারের বেলায় তাদের নীরবতা এইটাই সপ্রমাণ করে যে নন্দকুমারের ক্ষমতাবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যক্তিগত লিগ্লাকে সকলেই হীনচক্ষে দেখেছেন ॥ নন্দকুমারের মৃত্যু কলকাতার সমাজ তাই কামনা করেছেন। তর্কের থাতিরে কেউ ঘদ্দি বলেন যে গবর্ণরের ভয়ে তাবা চুপ করেছিপেন তাহলে সেটা মিথ্যা কথ! হবে কারণ সংখ্যা গুরু সদশ্যরাই তখন ক্ষমতায় অধিঠিত। বরঞ্চ এর েকে ম্বাভাবিক বিশ্লেষণ হবে থে সবাই ভেবেছেন ঘে নন্দকুমারের ভীবন-রক্ষ। ক্বার জন্ত তার বন্ধু ক্লেভারিং, মনসন ও ফ্রান্সিস প্রভৃতি কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা রযষেছেন। তব! নিশ্চয়ই একলা বা একজোট হয়ে একট! সাংঘাতিক কিছু করবেন। কিন্তু তারাই যখন হাওযা বেরিয়ে যাওয়া বেলুনের মতো! ঘরের কোণে চুপসে গডাগডি খেতে লাগলেন তথন অন্য কেউ কোন সাহসে আগিয়ে আসবে । কোন ভরসায় আবেদন পত্র লিখবে । দীর্ঘদিন পরে ইংলগ্ডে হেস্টিংসের ইমপীচমেণ্টের সময় এই বিষয়ে ফ্রান্সিস সাহেবকে ঠান্ট্র। করা হলে তিনি তার স্বভাবসিদ্ধ সৎজান্তাভাবে বলেন যে ঞ্নোরেল ক্লেভারিংএর জন্তে তিনি কিছুই করতে পারেন নাই। ফ্রান্সিসের কথার সত্যতা যাচাই করার উপায় ছিল না কারণ জেনারেল ক্লেভারিং তখন পরপারে । এইবার নন্দবুমারের ভীবনের শেষ কয়দিনের ঘটনার বিবরণ “দওয়া যাক । মোহন প্রসাদ স্থপ্রিমকোটে নন্দকুমারের বিরুদ্ধে জাল দশিল ব্যবহার করে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ করেন। সমস্ত কাগজপত্র পাঠ করে বিচারপতি লেষাস্ট্রে ও বিচারপতি হাইড নন্দকুমারকে গ্রোরের পরোয়ান! জারী করেন। তদন্ুযায়ী নন্দকুমার ধৃত হয়ে কারাগারে বন্দী হন। বন্দী- শালার ভেতরে জেলর সাহেখের বাডী। জেলর সাহেব সেখান থেকে তার পরিবারবর্গকে পরিয়ে নেন এবং জেলর সাহেবের শোবার ঘঝে মহারাজা নন্দকুমারকে বন্দী রাখা হয়। এই ঘরে তাকে একাই রাখা হয়েছিল। তৎকালিন কলকাতার বিখ্যাত এটনী জারেট সাহেব নন্দকুমারের পক্ষে ছিলন। ৮ই জুন ১৭৭ খ্রীষ্টাব্ বিচার সুরু হয়। রাজ! গুরুদ্াস কলকাতার ছুই (অষ্ট ইংরেজ ব্যারিষ্টারকে নিধুক্ত করেন। আটদিন, সকাল থেকে বিকাল পর্যযস্ত ছুই পক্ষের উকিল ব্যারিষ্টার! তাদের বক্তব্য বলেন। ্ুরীরা মহারাজা নন্দকুমার ৫১৯ একমত €য়ে 'দোষী' সাব্যস্ত করেন। তদন্ুযায়ী বিচারপতিগণ একমত হয়ে নদকুমারের প্রাণদগ্ডাদেশ ঘোষণা করেন ১৬ই জুন ১৭৭৫ খ্রীষ্টা্ৰ বিকাল চারটায়। তারপর চৌদ্দদিন নন্দকুমার বেচেছিলেন। কেউ তীর প্রাণ সাচাবার চেষ্টা করে নাই । €ই অগাষ্ট তার ফাসী হয়। নন্দকুমারের ফাসীতে বিশেষ ব্রাহ্মণের প্রাণদণ্ডে কলকাতা শহর থমকে দাটিয়েছিল। কিন্ত ননাকুমারের বাঙী থেকে যখন বত ভাল শীলমোহর বরিয়ে পড়ল, তার মধ্যে মণিবেগম ও মীরজাফর ভ্রাতা মীরদাউদের শীল টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, তখন নন্দকুমারের মৃত্যুতে যে ভাব সৃষ্টি হয়েছিল তা কেটে .ঘতে সময় লাগল না। নন্দকুমাবের বাচী থেকে প্রায় ৫০/৫২ লক্ষ টাকাও পাওযা গেল। এইসব সম্পতি ব্াঙ্া গুরুদাসকে দেওয়া হয় । তিনি জাল শীলগুলি ন্ট করে ফেলেন। পরবর্তী ঘটনায় সন্দেহ থাকে না যে পিতার মৃত্যুতে ছঃখের থেকে পিতার কতিতে লজ্জাই গুরুদাসকে বিচলিত করেছে। নিজকর্ম তিনি অতি স্থ্ুভাবেই চিরকাল সম্পাদন করেছেন । ইংরেজ মহলের আনন্দ অত্যন্ত স্পষ্ট । ম্যাকফারসেন তথন মাদ্রাজের গবর্ণর (হেসীংস বিদায় নিলে তিনি তার পদ্দাভিষিক্ত হন) কেস্টিংসকে লিখে পাগলেন_ জেনারেল ক্লেভারিংএর প্রাণের বন্ধু নন্দকুমারকে গ্রেগারের খবরে আনন্দিত হয়েছি” 18০ সাইকসএর চিঠি এল জানুয়ারী ১৭৭৬ থ্রীষ্টাবে, লিখেছেন হেস্টিংসদকে “তোমার প্রশ্রয়েই নন্বকুমার অত বেড়ে গিয়েছিল 1৪৯ ওহ বছরে ৩রা এপ্রিল আবার লিখলেন “ঈশ্বরের অন্তগ্রহ তাই নন্দকুমারের জালিয়াত প্রমাণিত হল- এইসব ছুরাচার উচিত শান্তি না পাওয়া পর্য্যন্ত বলার উন্নতি অসম্ভব ।৪২ ধীরে ধীরে দেডবছরের মধ্যে সংখ্যাগৰিষ্ঠ দদস্তর! যাদের তাড়িয়ে দিয়েছিলেন তারা ফিরে এলেন । মণিবেগম স্বপদে পুনরায় অধিষ্ঠিত হলেন। রাজা গুরুদাসও নিজের আগের পদেই থাকলেন। রাজা রাজবল্লভ (ইনি রাজা রায়ছুলভের পুত্র), ছুলাল রায়, গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ নিজেদের পদে পুননিধুক্ত হলেন। সংখ্যাগুরুরা অনেক সাহেবকেও গায়েব 'জোরে তাডিয়েছিলেন। ইংলগ্ডের পরিচালকমণ্ডলীর হুকুমে তারা পূর্পদ ফিরে পেলেন। এরা হলেন জন সট্লার্ট, প্রেডেল, নাথানিয়াল, [মডলটন, ফ্রেড স্ট.ষ়ার্ট প্রভৃতি । আম্চ্য্য হতে হয় মেক্ছরিটির নপুংসকতা দেখে | নন্দ্কুমারের মৃত্যুতে ৫২০ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন! তার দিশাহার। হয়ে গেলেন। কর্ণেল মনসন মারা গেলেন ১৭৭৬ স্ত্ী্টাব্দে। জেনারেল ক্রেভারিং ১৭৭৭ খ্রীষ্টাব্দে অগাস্ট মাসে তচ্ুত্যাগ করলেন। সংখ্যাগুরু সাস্যদের ক্ষমতা ভেঙে টুকরো হয়ে গেল। নন্দকুমারের মৃত্যুর সঙ্গে তাদের অকর্শন্তত1 জড়িত হযে গেছে । প্রমাণ করে দিয়েছে যে নন্দকুমারই ছিলেন তাদের বুদ্ধিদাতা, চালক ও প্রধান কমাধ্যক্ষ। বাংলার নানা জায়গা থেকে নানারকম অভিযোগ আসা বন্ধ হয়ে গেল । চত্রশঙ্গের প্রধান চক্র নিঃসন্দেহে বাংলার রাজনীতি থেকে অন্ততিত হয়ে গেলেন । ০০ আধুনিক ভারতের এক রাজনৈতিক অধ্যায় “শষ হল । উপসংহারে এলে হবে যে নন্দকূমাপ অতান্গ পরিশ্রমী লোক ছিলেন । পলানীর পর তার বয়স পঞ্চাশের ঘরে ' মৃত্যুর সময় চ্তিনি ভর্দ সত্তর বছর বয়সী ( জম্ম সম্ভবত ১১০০ শ্বী: ঘিরে )। শীশক্ষ বুদ্ধিকে তিনি সয্যক কাক্ে লাগিয়েছেন পলাশীর পর-_ইংরেজদের সান্সিধ্যে। তার প্রধান উদ্দেশ্ট ছিল আত্মন্থথ ও ক্ষমতা বৃদ্ধি। প্রচণ্ড ক্ষমতার তিনি অধিকারী হয়েছিলেন কিন্তু সে ক্ষমতা তিনি কেবল অন্তঠের সর্বনাশ্ই ব্যবহার করেছেন দেশের বা দশে কোন উপকাব করেন নাই । তাই সমসাময়িক মহলে তার নাম “কুচক্রী?, “বুড়ো শেয়াশ?, “ছুষ্ট ছুরাচার? প্রভৃতি । নন্দকুমারের চরিত্রের আর একদিক সাধারণতঃ দেখা হয় ন1 সেট। হল তার পারিবারিক দ্িক। রাকা গুরুদাসের কাছেই তার মাতা থাকনেন। নন্দকুমার কলকাতায় একাই অবস্থান করতেন । নন্দকুমারের এই নিঃসঙ্গতা খুবই বিশেষস্বপূর্ণ। বার বার মনে হ্য নন্দকুমারের তীস্ষবুদ্ধি বদি হেস্টিংসের কর্মক্ষমতার সঙ্গে মিশিত হে পারত তাহলে হেস্টিংস ৰাংলায় বা করেছেন তাঁর থেকেও বেণা সৎকাজ করতে হয়তে। সমর্থ হতেন। সব থেকে আশ্চর্য কথ হল কেবল আধুংনক ভাবালুতাকে বাহন করে নন্দকুমারকে কেউ কেউ শহ'দ বলে গণ্য করছেন আর দেশের এত উপকার করেও হেস্টিংস তার প্রাপ্য সন্ধানে প্রাতঠিত হতে পারশেন না । মহারাজ] নশ্দকুমারের বিচার, কারাবরণ ও প্রাণদও্ সম্পর্কে প্রায় সমস্ত কাগজপত্র স্যত্বে রক্ষিত আছে । এগুলি পড়ে এবং সমকালীন আইন জানলে মতামত গঠন করতে দেরী হয় না । বিচার ও দণ্ড তৎকালীন ।নয়ম অনুসারে অপক্ষপাত ভাবে হয়েছিল । শেষ দিনের বিচারের দৃশ্য দেখা যাক । বিচার শেফ মহারাজ! ন্নকুমার ৫২ হবার আগে বৃদ্ধ রাক্তার পক্ষে কলকাতার তৎকালীন শ্রেষ্ঠ ব্যারিস্টার ফাল্বার যেমন সওয়াল করলেন তাত নন্দক্ুমারের মুক্তি সম্পর্কে অনেকেই '্সশান্বিত হয়েছিলেন । কিন্ত বিধিবাম। নন্দুকুমার মনে করলেন থে সাক্ষ্য প্রমাণ কার বিপক্ষে যাচ্ছে তাই তিনি তাড়াতাড়ি কৃষ্জজীবন দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে অনুরোধ করলেন । এই বান্তি কেবল মিথ্যা সাশ্বী গ্রমাণত হলেন না মহারাজ নন্দকুমারও সম্পূর্ভাবে দোষী প্রমাণিত হয়ে মৃত্যুদণ্ড ঘোগ্য হলেন। কি নাটকীয় ঘটনাবলী! প্রচণ্ড জ্বর থাকা সত্বেও ফারার অপূর্ব সওয়াল করলেন ১৫ই জুন নন্দবুমারেব পক্ষে । প্রচণ্ড গবম দিন 92০ ভিগ্রি টেম্পারেচার বাইরে, আকাশ মেঘশ] থাকায় তেমনি গুমোট । সওয়াল শেন করে ফারার আর আদালতে দাড়িয়ে থাকতে পারলেন না । এই মামলাতে নন্দবুমারের পক্ষে তার জুনিয়র ব্যারিস্টার সি, এফ, বিক্স সাহেবকে কোর্টে থাকতে বলে বাডী চলে গেলেন । বাডীকে বিছ্বানা নেওয়া মাত্র জরের ঘোরে প্রায় অচৈতন্ত । ১৬ই জুন আদালও নন্দুুমারের বিচারের রায় দিতে হ্বরু করল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্নান্ত। ফারারকে লেখা ব্রিক্সএর পত্র উদ্ধৃত করা হল । 1115 ৬410 11010101198 00170911) | 00111701110818 10 ৬০৪, ৬4128 ৬০96] 1719 10008101% 178৬9 911680 19910170177 1৬1655619 81161 810 1০0101 ( মহারাজা নন্দকুমারের এটনী ) 0181 076 78181) 185 1701 0101 10981710010 0011, 0011 1৬01. [0011091), 017 1)9181 0 06 01956001001, 17951 01709119181 10 10109560016 1৬11 /55280 11, 9118111 91 1৬191701790 7170 1015581) 0181 10955, [01 1091]011% 21 079 11151821709 01 078 0০901. -1710৬/ 01111101615 19 79191 00 199 10101017115 17151011019 1001 1717561 0% 099111170 016 1851 9১৪11111910101 01 ১)081) 10955, ৬৬110171780) ০৬61591 911 078 ৬/81011 01115 1011791 8৬106102 ৪৩ অস্থস্থ অবস্থাতেও ফারার পরদিন হাক্তির হলেন আদালতে । দণ্ড মকুবের “চা চলল । এ রাধাচঞ্ষণ মিত্রের দ্ণ ইছর আগে ওই একই অপরাধে দণ্ড ও ক্ষমার ন্ভর । কিল্ত কেথায় আবেদনকারী ক্লকাতাৰ্ নাগ্রিকগণ, কোথায় নন্দকুমারের আত্মীয় বন্ধুগণ ! ফার্বার এততেও দ্রমলেন নী । বললেন ইংলগ্ডের রাজার কাছ থেকে সহজে ক্ষমা পাওয়া যাবে। পূর্ব নজির আছে। কিন্ধু আবার আত্মীর স্বজনদের ৫২২ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন! ব্যর্থতা । নিয়মমতো ভ্রুতগতিতে ব্যবস্থা করার বিষয়ে অনীহা । কি ঘটছে সম্ভবত নন্দকুমাবরের থেকে ভাল কেউ বোঝেন নাই তাই শেরিফের কাছে নিজের কপাল দেখিয়ে বলেছেন “দোষ কারুর নয় শুধু এই কপালের |, ফ্রান্সিস সাহেবকে লেখা ৩১শে জুলাই তারিখের শেষ চিঠি ধ্বংস করা হয়েছে কিন্ধ ফ্রান্সিস সাহেবের কাগক্গপত্রের মধ্যে এই শেষ চিঠি খানির ইংরেজী অনুবাদ রক্ষিত আছে। এই অনুবাদে এত ব্যাকরণ ভূল যে মনে হয় ফ্রান্সিস সাহেব কোন নিকৃষ্ট লোককে দিয়ে অন্তবাদ করিয়েছেন । 4100100011915 19161. /* 191751816 0017) 076 86179371 0101179| 0712 3151. 4011 17757. 1 2177 170৬/ 01011011170 07811 179৬9 1001 9 51011 0176 911৬9, 101 21110170019 121101151) 09170, /১1779171815, 1৬100158170 038171005ঃ 162৬৬ 07818 15 ৬4110 15 1701 89039117951 1179, 001 01058 0791 91917011017 77815 0017010701911$ 09৬151170 911 098 111501161 0116 0817 11790119 8941090179”.88 এ চিঠির মধ্যে দিয়ে নন্দকুমারের হতাশার প্রকাশ অত্যন্ত ছুঃখেবু । তাই নন্দকুমারের বিচার আর দণ্ড “মনে নিলেও এই সত্তর বছরের বৃদ্ধের ফাস কিছুতেই সহা করা যায় না। সম্ভবত এই কারণেই কেউ হেস্টিংসকে কেউ ইম্পেকে দোষী সাঙ্জাবার চে্টা করেছেন । ইংলগ্ডেব' পার্লামেন্টে এদের উভয়ের বিচার হুয় বিভিন্ন সময় । নন্দকুমারের বিচারে হেস্টিংস অংশ নিয়েছেন বা ইম্পে পক্ষপাত দেখিয়েছেন প্রমাণিত হয় নাই কারণ সত্যই হেস্টিংসকে কোন ব্কমেই জড়ান যায় নাবা ইম্পের পক্ষপাতিত্ব ছিল না। পালামেণ্ট যাদ্দের কাটগড়াক্স তুলতে পারে নাই তার! হলেন কলকাতার সেই নন্দকুমারের বন্ধুর ধার! তাকে দিয়ে সমস্ত কাজ করিয়ে নিয়ে বিপদের সময় ফেলে পালিয়েছেন। দোষী সেই সব ঘাত্মীয়ম্বজন যার! ইংলগ্ডের বাজার কাছে আবেদন পাঠাতে গাফিলতি করেছেন--কলকাতার গণ্যমান্ত মহলে ঘুরে বাঙালী সম্পন্ন নাগরিকদের দিয়ে আবেদন সই করাবার কোন চেষ্টাই করেন নাই। এই নি:সঙ্গ একাকিত্ব মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তে মহারাজ! নন্দকুমারকে এক অদ্ভূত মহিমায় ভূষিত করেছে। তার সাহস, ভদ্রতা, কর্তব্যপরায়ণতা, মৃতার মুখোমুখি দাড়িয়ে অসীমের প্রাতি আত্মসমর্পণ, তার ঈশ্বর ভক্তি, তার অন্তিম মহারাজা নন্দকুষার ৫২৩ প্রশান্গি, ফ্জার জীবনের শেষ মুহূর্তের বিবরণীকে ব'ঙ ল'র অবশ্ত পাঠ্য করে তূলেছে। তাই নন্দকুমারের জীবন-মৃত্যু বাঙালীর অবশ্ত জ্ঞাতব্য বিষয় হয়েছে । নন্দকুমারকে নিয়ে নাটক ॥ ননাকুমারের এই সদীঘ ইতিহাস রচনণ্র কারণ যে এই বিষয়ে শুধু অজ্ঞানতা নয় তুল থবরের প্রাচুধ্য রয়েছে । তল ইতিহাস প্রচার করার দায়িত্ব প্রধানত হুইজন নাট্যকারের ধারা সম্যক ইতিহাস জানবার কোন চেষ্টা না কবে কেবল নিজেদের কপোলকল্পনার ওপর নির্ভর করেছেন। নন্দকুমারের ব্রাহ্মণত্বকে বিশেষ আভায় মণ্ডিত করতে গিয়ে ইতিহাপ, ভূগোল, সমাজ ও অর্থনীতি সবই পদদলিত করেছেন। ঠাদের রচনায় নন্দকুমার শহীদের সম্মানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এমনকি স্কুলপাঠ্য ইতিহাসে বহু মূর্খ শিক্ষক নাটকীয় ঘটনাকে সতা আধ্য। দিয়ে স্বকুমারমতি বালক ও কিশোর- দের শিক্ষা দেন, পুস্তকে ছাপিয়ে এই ভুল সংবাদ প্রকাশ ও গ্রচার করেন। প্রতি বৎসর মিথ্য! সংবাদের বংশবৃদ্ধিতে সত্য ইতিহাসের ক্রমেই ক্রোধ হয়ে যাচ্ছে। মিথ্যা) হতিহাস তাই বিশেষ বপবান। মহারাজ! নন্দকুমার সম্পকায় ছুটি নাটক প্রচলিত আছে £-_ ১। নন্দকুমার--ক্ষীরোদ প্রসাদ বিদ্যাঝিনোদ প্রকাশ ১৩১৪ প্রকাশক গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় । ২। মহারাভা নন্দকুমার__ মহেন্দ্র নাথ গুপ্ত প্রকাশ ২৪£$ প্রকাশক শ্রুগুরু লাইব্রেরী । বাংল! সাহিতে)র ইতিহাসে নন্দকুমারের ফাস নামে আরে। ছুটি নাটকের নাম পাওয়া যায়। একটির রচয়িত! হরিদাস চট্টোপাধ্যায় (১২৯৩ -বা ৯৬) এবং অন্ঠটির রচয়িতা অস্তুল কৃষ্ণ মিত্র (১৩১০?) । কিন্ত নাটকছুটি সম্পর্কে আর কোন থবর জানা বায় না।৪৫ নাটকের জগতে নন্দকুমারের গতি বড়ই বিচিত্র । ১৯০৬ শ্রী্াব্ধে গিরিশচন্দ্র তার “মীরকাসম+ নাটকে নন্দকুমারের কূটনৈতিক, ছুরাচারী ও লোভী চরিত্র প্রকাশ করতে দ্বিধা করেন নাই। ১৯০৬ খ্রীটাব্দেও নন্দকুমা!র সম্পকায় প্রতিহাসিক তথ্য পিখতে বাঁধা ছিল না। তিনি থে সমাজ-সংস্কারক ব। দেশপ্রেমী ও হ্বজাতি বসল ছিলেন না৷ একথা সকলেই স্বীকার করতেন। ৫২ বাংলা এইতিহাসিক নাটক সমালোচন।! বপ্তত নন্দখুষ'বরেবু হীন চর্রত্র অঙ্কন করে গিরিশচন্দ্র মীরজাফরের প্রধান মন্্ণ দাতার প্রতি কোনবপ অন্তায় করেছেন বলে মনে হয় না। বরঞ্চ ইচতহাস সম্মত চবিআ রচনা করার গুন্ত তাকে আর একবার সাধুবাদ দিতে »য়। কিন্তু ১৯৩৮ শরীরের মীরকাশিমের নন্দকুমার অন্য প্রাণী। ঠনি মীরজাফবের মন্ত্রী বটে কিন্তু বড় আলগোছে ছোওয়া বাচিয়ে কোন রকমে নিজের সম্মান বক্স কবে চপেছেন। এই নাটকে তিনি কুট তো ননই এমনকি কুটনৈতিকও নন। ('ঠার বুটসাহেবের দেওয়ান হওয়! অবশ্য “কান নাট্যকারই দেখান নাই ।) ৩১ বছরের মধ্যে নন্বকুমারের এ্রাততা'দক চরিত্র সম্পূর্ণ মুছে ফেলে এক রূপকথার নন্দকুমার সৃষ্টি হল। ইনি এক দেশ- ছিতৈষী, উৎসগগীরুতপ্রাণ শহীদ | ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশ ক্রবার চেষ্টায় একে একে সিরাজদ্দৌলা ও মীরকাশিম প্রথমে দেশ- শক্তি বন্তা আনলেন এবং তাদের অন্ুনরণ করে সরফরাজ খা! ও নন্দকুমারকে ন্বাধীনতাকাজ্ষী বানান হল। সরফরাজের রং ধরল ন1। আসলে ষে নাটকটা অত্যন্ত হূর্বল তা লুকিয়ে রাখা গেল না। তার ওপর গিরিশচন্দ্রের সিবাজন্দৌলা ও মীরকাসিমের পাশে সরফরাজ বড ফিকে ৷ নন্দকুমাবের বপকথা কিন্তু জনসাধারণ বিশ্বাস করতে স্বর করলেন । একদ্দিকে “ঘষ্ন এটি এক নিনববিচ্ছিন্ন স্বাধীনতার গল্পের তৃতীষ পবিচ্ছ্দ হল (সিরাজদ্দৌলা প্রথম ও মীরকাশিম দ্বিতীয় পরিচ্ছদ । অন্তদিকে এই প্রথষ বাঙালী দশক এক বাঙালী হিন্দু ব্রাঙ্গণকে নাটকের নায়ক হিসাবে পেলেন । নন্দকুমাত্র অভি সহজেই বাঙালীর কাছে শহীদের মধ্যাদা পেয়ে গেলেন । নাট্যকাঁব ক্ষীরোদ্প্রসাদ বিগ্ভাবিনোদ ত্রা্গণ্যধর্মের ধ্বজাকে স্থউচ্চে উন করলেন | বলা হল মহারাজ] নন্দকুমারের দেশ স্বাধীনের আকাজ্ষাকে কোন ব্বকমে বাধা দিতে না পেরে ইংরেজ তাকে ফাসীর দড়িতে অন্ঠায়ভাবৰে বিচারের প্রহসন করে বধ করল। আরে! বল হল নন্দকুমার কেবল একজন মহারাজ! নন তিনি তৎকালীন বাংলার সরবশ্রেষ্ ভূম্যধিকারী--সবার ওপর তিনি ব্রাঙ্ষণ। ছুষ্ট ইংরেজগণ তার ধর্মাচরণকে পর্য্যন্ত কলুষিত করতে চেয়েছে । মেকলে থেকে উদ্ধৃত করে বলা হল ষে আপন স্বার্থসিদ্ধির জন্য গবর্ণর হেস্টিংস তার বন্ধু প্রধান বিচারপতি ইলাইজা ইল্পের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে নন্দকুমারের ফ্কাসী দেন। এই মত তখন বেশ চালু মহারাজা নন্দকুমার ৫২৫ হয়েছে । বেভাব্বিজ সাহেব এই মত প্রকাশ করে একথানা বই লিখে ধললেন। যথা সময়ে প্রতিবাদও প্রকা শত হল। জেমস ছিফেন সাহেব বভাবিজ সাহেবের মতামত থগুন করলেন । বণ বাহুল্য বেভারিজের বই-এর ধুবই গ্রচার হল কিন্তু ্টিফেন সাহেব বা অন্দের রচিত প্রাতবাদ কে পড়লেন না। হ্বাধানতাক্চাঙ্থী বাঙাশীর মনে ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে সতা যাচাই করার ধৈর্য্য নাই। তারা এক হংরেজ রচিত কলঙ্কের ইতিহাসের গ্রতি পাতা রব সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করলেন। এই ঘটনার পুনরাবুত্তির আর এক উদ্বাহরণ আছে । বার্কসাহেব ওয়ারেন হেষ্টিংসের বিচারে প্রধান অভিযোগ কতার ভূমিক্চা নিযোছলেন। তিনি কি ভাষায় কি কি অভিযোগ এনেছিলেন গাও বল প্রচারিত । বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের অন্তভু কত ভওয়ায় এ বিষয়ে যুখ গভীর জ্ঞানী ব্যক্তি প্রচুর দেখা যায়। কম্তু গত দুইশত বছর অতিক্রান্ত হবার পরও তাদের অধিকাংশ জানেন না যে হেস্টিংস সাহেবের বিরুদ্ধে একটি আভযোগও্ প্রমাণিত হয় নাই। দীর্ঘদিন বিচারের পর তিনি বেকক্থর খ।লাস পান । এই ঘপুব কাজের ভন্ত দায়ী হেস্টিংসের পক্ষ সমথনকাকী বক্তা যিন অপৃব মুন্সিয়ানায় প্রত্যেক অভিযোগ থণ্ডন করেন, আশ্চর্যের বষ্ব বন্ধ বাঙালী এই ব্যক্তির নাম গানেন না । বপলে অবাক হয়ে তাকয়ে থাকেন । পর থার্লে। বলে বে কোন ব্যাক্ত ইংলগ্ডে বিচবণ কবেছেন এটা তারের অগ্ঞাত। নন্দকুমারের বেলাতেও এই ঘটনার পুনরুক্তি দেখা যায়। বেভাব্রিজ অন্থসরণে তাই নাটক রচিত হয়ে নন্দকুমারের জীবনী-রূপকথার মূল উৎস হয়েছে । নন্বধুমারকে দ্েশনেতার সম্মান দিয়েছে। বিংশ শতাব্ধীর প্রণম দুই দশক রক্ষণশীল বাঙালী হিন্দুর ক্ষমতার যুগ । বর্ধাশ্রমের প্রতি প্রচণ্ড আন্তগত্য এই দুই দশককে বিশেষভাবে চিঞ্িত করেছে। তাই ব্রাহ্মণের প্রতি অবিচার, অনাচার ও প্রাণদণ্ড প্রচণ্ড পাপের রূপ নিয়েছে । বিচারের ছলে ব্রাহ্গণ হত্যা ইংরেদদের অপকীতির চরম শ্নিদর্শন হয়ে দেখা দিয়েছে । এই রূপকথার আবেদন এত গভীব হয়েছে যে প্রবল পরাক্রাস্ত বুটিশরাজ নাটক বাজেয়াপ্ত করে আভিনয় বন্ধ করতে বাধ্য হন। এথানে লক্ষণীয় যে ভারতীয় রাভ্নীট্ির আকাশে মচাত্া। গান্ধীর আবির্ভাবের পর থেকে ররাঙ্মণ প্রভাব” কমতে আরম্ভ করে। ক্ষীরোদপ্রসাদ যদি পূর্ণ বাকতনৈতিক চেতন! সম্পন্ন নাট্যকার হতেন ভাহুলে ৫২৬ বাংলা ্রতিহ/দিক নাটক সমালোচনা নন্দকুমারের ইতিহাস পাঠ করে তাকে তৎকালীন ভারতের অবিসংবা দি নেতা বাল গঙ্গাধর তিলকের প্রাতিভূ করে দেখিয়ে গিরিশচন্দ্রের মতে] এক অগ্নিববী কালদক্ী নাটক রচনা করতে পাব্ততেন। তিনি তা পারেন নাই বলে তার অন্তান্ত এতিহাসিক” নাটকের মতো! “নন্দকুমার'+ও এক ভাবাবেগ গ্রধান, ইতিহাস আশ্রয়চ্যত আশই রচনায় পরিণত হয়েছে । সমসাময়িক বাঙালীর মনের ভাবাবেগ, বঙ্গভঙ্গকারী ইংরেজ শক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ব্রাহ্মণের প্রতি অন্তায়ের প্রতিশোধ স্পৃহা জনসাধারণকে বিক্ষুব্ধ করেছিল । দীর্ঘ সীতষট্টি বছর পরে এই নাটক পাঠ করে কোন রকম উদ্দীপনা বা বিক্ষোভ পাঠকেব মনকে আলোডিত করে না এটাই নাট্যকারের প্রচণ্ডতম ব্যর্থতা । আশ্চর্য্য হতে হয় ১৯০৭ শ্রীষ্টাব্দের বাঙালী মনের উত্তাপ দেখে । কি পরিমাণে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হলে এই বকম নাটককে জনসাধারণ বাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে গণ্য করে ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। এখানে গিরিশচন্দের প্রভাব কাজ করেছে । সিরাজদ্দোল1া ও মীরকাশিমের পর নন্দকুমার দেখে জন- সাধারণ তার সত্যত! সম্পর্কে সন্দেহ করে নাই। নন্দ$মারকে শহীদের সম্মানে ভূষিত করে তাকে দেশনেতার সম্মান দিতে দ্বিধা করে নাই । নি ক্ষীরোদপ্রসাদ বিগ্ভাবিনোদ : নন্দকুমার ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্ভাবিনোদ রচিত নন্দকুমার এতিহাপিক নাটক নামে অভিহিত হয়েছে । এই নাটক স্টার থিয়েটারে আভনীত হয়। প্রকাশকাল ১৩১৪ | মুল্য এক টাকা (যে পুস্তক ব্যবহৃত হযেছে সেটি ১২৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত অধুনালুপ্ত সিকদার বাগান বান্ধব পুঙকাপয়ের সম্পত্তি বর্তমানে এটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে পাওয়া গেছে ।) নাটকটি পাচ অন্কে ও ১৭৬ পাতায় সম্পূণ। প্রথম অস্কে তিনটি দৃশ্য (পাতা ১ খেকে ৩২ ", দ্বিতীয় অঙ্কে ছয়টি দৃশ্য (পাতা ৩৩ থেকে ৭০), তৃতীয় অঙ্কে ছয়।ট দৃশ্ব (পাতা ৭১ থেকে ১১০), চতুথ অঙ্কে পাঁচটি দৃশ্য (পাতা ১১১ থেকে ১৩৯), পঞ্চম অস্কে নয়টি দৃশ্য ( পাতা ১৪০ থেকে ১৭৬ )। ক্ষরোদপ্রসাদ যে কি দারুণ দায়িত্বজ্ঞানহীন নাটাকার তার পরিচয় প্রতি অন্কের গল্লের মধ্যে পাওয়া যাবে । ইতিহাস সম্পর্কে ধারণ] থাক দুরে থাক তিনি এবিষয়ে একেবারেই দিকৃবিদিকজ্ঞান শৃন্ত । ইতিহাসের কোন মহারাজা নন্দকুমার ৫২৭ বই তিনি দেখেছেন বলেও মনে তয় না। বিজ্ঞাপনে তিনি অবশ্য স্বীকার করেছেন যে“মহারাজা নন্দকুমার সম্বন্ধে কতকগুলি কিন্বদন্তী.. আমার এই নাটকখাঁনি প্রণযনে বিশেষ সাহায্য করিষাছে |, প্রথম অঙ্ক ॥ প্রথম অঙ্ক প্রথম দৃশ্যে মহারাভা নন্দকুমার তার ছোট জামাতা রাঁধাচরণেব সঙ্গে মীরকাঁশিম বিষয়ে তর্ক করেছেন। তার বক্তব্য হল ধে মীরকাশিম নন্দকূমারের বিরোধিতা না! করলে বাংলা থেকে সহজেই ইংরেজদের বিতাড়িত কবা যেত । নন্দকুমারের মতে বিলাঁতের ডাইরেক্টররা অতি নিষ্ঠাবান ভদ্রলোক, তাঁদের কাছে কোম্পানীর কর্মচারীদের অপকীতি প্রকাশ করে দিলেই তাদের ণাসন হবে। রাধাচরণকে নন্দকুমার জানালেন যে তিনি শাহজাদার সঙ্গে পত্রালাপ করেছেন একথা ইংরেজ জানতে পেরে তার ওপর রুই হয়েছে। তবে ইংরেজ সৈন্ঠ, তার মতে অতি স্থশিক্ষিত, মীরকাশিমের সৈন্ত যতই শ্শিক্ষিত হোক ইংরেছের কাছে পরাজিত হবে। ইংরেজদেশের কডা আইনের কথাও শোনাচ্ছেন "চুরী কণ্রলে ফাসী, জাল করলে ফাসী-- নন্দকূমার জানাচ্ছেন মীরজাফর অতি গহিত চরিত্রের লোক। যখন শোভারাম বসাকের বাড়ীতে তিনি অর্থাভাবে কষ্টে ছিলেন তখন নন্দকুমার তাকে রক্ষা করেন। জানাচ্ছেন হুগলশীর ফৌল্দার হয়ে দেশশুদ্ধ লোককে চটিয়েছেন। কোম্পানীর দেওয়ানী করে বহু সাহেবের বিশেষ হেস্টিংসের বিষ নজরে পড়েছেন । এই রাগের কারণ নন্দকুমারের মতে তাঁর কর্মক্ষমতা যার ফলে হেস্টিংস, ক্লাইভের চোখে অপদস্থ ও হেয় প্রতিপন্ন হন। এইসব ইতিহাস-গন্ধী কথাব পর তান জানালেন যে তিনি জরুলগ্রামে পৈত্রিক গুরুকে দর্শন করতে চললেন কেননা চতুর্দশ বৎসর তিনি অদর্শনে আঁছেন। পথে যেতে তীর গুরু কণ্ঠার সঙ্গে সাক্ষাৎকার হল। তিনি সহজেই রাজ্ীকে চিনতে *পারলেন ধদিও রাজা তার পরিচয় পেলেন না। তবে কন্তা গুরুগৃহের পথও দেখালেন না, রাজাকে খুঁজে নিতে বললেন । দ্বিতীয় দৃশ্ে নন্দকুমারের গুরু বাপুদেব এবং তাঁর বিধবা জ্যেষ্ঠা কন্তার কথোপকথন । পিতার অনুমতি সত্বেও লোৌকাপবাদের ভয়ে গুরুকন্ত। নন্দকুমাবরের গৃহে অবস্থান করতে অস্বীকার করলেন । তীর্থযাত্রী অভিলাঁষী পিতার মনে তার ৩৪ ৫২০ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা ক্লে সঙ্কট স্থষ্টি হল। সহস] জান! গেল যে ইংরেজ ভয়ে মীরকাশিম তার থে বালকপুত্রকে এতদিনে গোপনে রেখেছিলেন সে এই গুরুগৃহেন্র নামনে উপস্থিত। তাঁর ডাক শুনে সন্তান আকাঙ্খা হৃদয়ে জেগে ওঠায় জ্যে্া গুরুকন্তা গ্রমদ গৃহ ছাড়লেন। গুরু বাপুদেবও কন্ঠার অদ্বেষণে বাহির হলেন । মীরকাশিমের পুত্রের নাম বাহার । প্রমদা তাকে সৈগ্ঠদলের হাত থেকে রক্ষা করলেন । রেজ! খা স্বয়ং এই সিপাহী বাহিনীর পরিচালক । রেভা খা জানালেন “ম বালক রাজদ্রোহী। অবশেষে নন্দকুমার প্রবেশ করে নবাব পুত্র ও গুরুকন্তাকে রক্ষা করছেন । তারপর নিজ জীবনকাহিনী বিবৃত করে বলছেন থে তিনি গুরুগৃহেই লাপত পাপিত এবং সেই সানাতেই ফৌজদারী শাভ হয় চৌন্দবছর আগে। সোদনের কুমারী; প্রমদাকে বিধব। দেখে রাজা ছুঃখিত হলেন। ইতিমধ্যে ভৃত্যসহ গুরু এলেন । বাহার প্রথম অঙ্কে ছেদ টানলে এই কথা বলে: “মা! নাম আমার বঙ্গায় রাখ দেখবে বাংলার রাজত্ব এক ব্রাহ্মণ কন্তার হুকুমে চালিত হচ্ছে ।” আলোচন। ॥ সংলাপে নাটকের ষে সময় দেওয়া হয়েছে সেট। মীরকাশিমের সঙ্গে ইংরেজ কোম্পানীর বিরোধের সময় অর্থাৎ কোন কারণেই ১৭৬১র আগে নয় অথবা] ১৭৬৩ খ্রীষ্টাব্জের মার্চ মাসের পরে নয় । অর্থাৎ নবাব মীরকাশিমের পূর্ণ রাজত্বকাল। তখন নবাবপুত্র পালিয়ে বেড়াবে কেন বা রেজা খা তাকে বন্দী করতে চাইবে কেন বোঝা গেল না । নন্কুমার রেজা খাকে ভৎসন। করছেন কেন তাও স্পষ্ট নয় £ “নবাব মীরকাশিমের ছেলেকে গ্রেপ্তার ক'রে আপনার ইংরেজ ভক্তি দেখাবার সময় এখন আসেনি মীরকাশিম বাংল সবার প্রধান শাসনকর্তা ছিলেন সম্ভবত নাট্যকার তলে গেছেন। ১৭৬১ খ্রীষ্টাব্দে নন্দকুমার কর্ণেল কুটের দেওয়ান ছিলেন সম্ভবত তা নাট্যকার জানতেন না। তিনি নন্দকুমারের পূর্বজীবন গুরুগৃহের অন্তি পবিত্র পরিবেশে রচনা করে তারপর তাকে ফৌজ্দারী দিয়েছেন চৌদ্দবছর আগে অর্থাৎ €১৭৪৭ থেকে ১৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে কোন সময়ে । বলাবাহুল্য এই হিমাব সম্পূর্ণ তুল। হুগলীর ফোজদার মহম্মদ ইয়ারবেগ খানের পতন এবং তার দেওয়ান নন্দকুমারের সেই পদ লাভ পরবর্তীকালের ঘটনা । নন্বকুমার মহারাজা নন্দকুমার ৫২৯ পলানীর পরাজয়ের পরে প্রথমে ব্াজা ছ্রললভরামের নায়েব তারপর ক্লাইভ সাহেবের সহকারী এবং ১৭৫৯ এব গুলাই মাস আসতে না আসতে রাক। পদবী নিয়ে মীরজাফরের দেওযান । ১৭৬৩ শ্রীষ্টাবন্দে মার্চ মাস থেকে নন্দকুমার ইংরেজ হাজতে । সেখান থেকে মুক্তি ১৭৬৩ শ্রী্টাব্দের এই জুণাই, এবং আরার মীরজাফরের মন্ত্রীত্ব। ক্ষীরোদ প্রসাদ অবশ্য এসৰ জানবার চেঈা না করেই মনের আনন্দে কল্পনার ফানুস উড়িয়েছেন । রেগা খা তখন ঢ কাঁষ স মান্য কর্মচারী | দ্বিতীয় অস্ক ॥ দ্বিতীয় অঙ্কের সুরু মোহনপ্রসাদের সঙ্গে হেস্টিংসের সংলাপে। .ঘ খনপ্রসাদ জানাচ্ছেন যে মীব্রকাশিমের সঙ্গে কোম্পানীর ধুদ্ধ বেধে গেছে । .হস্টিংদ আশ্চর্য হচ্ছেন কারণ তিনি মান্রাজে বসে যুদ্ধের কোন খবর পান নাই। মোহনপ্রসাদ জানচ্খেন যে অমিয়েট সাহেবের জন্তেই যুদ্ধ লেগেছে । 'তস্টিংস থাকলে অমিয়েটকে সামলাতে পারতেন কারণ সিরাজন্দৌল। কাশিমবাজার লুঠ করার সময় তিনি এবং অমিয়েট একই সঙ্গে কাস্তবাবুত ঠেকিশালে লুকিয়েছিলেন। হেস্টিংস অমিয়েটের মৃত্যুতে ছুঃখ প্রকাশ করলেন। মোহনপ্রসাদ জানালেন যে তিনি এখন কোম্পানীর চাকরী করছেন। তিনি মীরকাশিমের বালকপুত্র ও নন্দকুমারের খবরও দ্িলেন। হেস্টিংদ জানালেন যে ভ্যান্লিট্রাট সাহেবের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় নন্দকুমার কোম্পানীর চাকরীতে ইন্তফা দিয়েছেন। জানালেন মুঙ্গের থেকে মীরকাশিম পলাতক কিন্ত তার বেগম বন্দী হয়েছেন। রেজা খা এসে থবর দিলেন যে মুশিদাবাদের এক ছোট্ট গ্রামে নন্দকুমারকে দেখেছেন । হেস্টিংস মীরভাফরের সঙ্গে দেখা করতে কাটোয়! চললেন। দ্বিতীয় দৃশ্তে নন্দকুমার তার জ্যেষ্ঠ জামাত] জগচ্চন্ত্রের সঙ্গে আলোচনারত । নবাবপুত্র এবং গুরুকন্তা নিরুদ্দেশ, হওয়ায় নন্দুকুমার চিন্তা করছেন যে তারা আবার ইংরেজ সৈম্ের হাতে বন্দী হলেন নাকি | জগচ্চন্ত্র বিক্ষুব্ধ কারণ সম্পর্কে ও বয়সে বড় হওয়। সত্বেও নন্দকুমার তার ছোট জ্ঞামাতার ওপর বিষয় রক্ষার ভার দ্িয়েছেন। কিন্ত নন্দকুমারের ছেলে গুরুদাস “জীবিত, সেজন্ত জগচ্চজ্র জানাচ্ছেন তার বিষয়ে লোভ নাই। তিনি কেবল রাধাচরণের অব্যবস্থায় পীড়িত। নন্দকুমার ৫৩০ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সর্মালোচন৷ ছুই জামাতার মধ্যে বিষদূশভাবে আশঙ্কিত হলেন। মোহনপ্রসাদ জানালেন ষে বড জামাতা বাবাজী রেগে গিয়ে হেস্টিংস সাহেবের কাছে চাকরী করতে গেলেন । ইতিমধ্যে বুলীকীদাস এসে বলছেন যে নন্দকুমার যে সমন্ত গহন। গুরুকন্ঠাকে দেবার ইচ্ছায় তার কাছে রাখতে দিয়েছিলেন ত1 ইংরেজ সৈন্য লুঠ করে নিয়েছে। স্থতরাং বুলাকীপ্ধাস পঞ্চাশ হাজার টাক খণ স্বীকার করে এক থৎ লিখে দিতে স্বীকৃত হলেন। মোহনপ্রসাদ জানালেন এসব অতি সাধারণ কাজ ও নামমাত্র অর্থ কারণ নন্দকুমারের আয় বছরে 'আড়াই লক্ষ টাকা । পরের দৃশ্ঠে নন্দকুমার তার গুরুর দর্শন পাচ্ছেন। অলঙ্কার অপহরণের খবর পেয়ে গুরু বলছেন ওই অর্থ এখনি কোন সৎকাজে বায় করা হোক । প্রথমেই যখন বাধা পড়েছে তথন গুরুকন্টাকে অলঙ্কার দেওয়া বা তার ভুন্ত কোন থৎ গ্রহণ অশ্তভ হবে। এই কথা নন্দকুমার মেনে নিতে অস্বীকার করায় গুরু নন্দকুমারকে স্বকার্ধে ফিরে যেতে নির্দেশ দিলেন । গুরুর ক্রোধের কারণ এবং তাঁকে ঘমন্ত্র দিতে অনিচ্ছা প্রকাশের হেতু জিজ্ঞাসা করে নন্দকুমার জানতে পারলেন যে ত্রিবেণীতে হিন্দুর তীর্ঘস্থানে বাধা দেবার জন্য ইংরেজ সৈন্ত ছাউনী ফেলেছে । নন্দকুমার সেই বাধা সরিয়ে দেবার জন্ ব্রিবেণী যাত্রা করলেন । সংলাপে প্রকাশ যে ইংরেজের সঙ্গে মীরকাশিমের কাটোয়া ও গিবিয়াতে যুদ্ধ চলছে। ননকুমারের গুরু বাপুদেবের কনিষ্ঠ কন্তা মুসলমান ঠগী দলপতির হাতে লালিত পালিত। (ব্রাঙ্গণ লালিত মুসলমান নবাব পুত্রের সঙ্গে মুসলমান লালিত কুমারী ব্রাগণ কন্তার তুল্য মূল্য করা হল। ) এই শ্রীমতী রাধিকার নেতৃত্বে ঠগীরা ত্রিবেণীতে ইংরেজের মোকাবিলা করতে চলল। পথে বাপুদেব ক্রানালেন ত্রিবেণী হতে সরম্বতী অন্তহিতা। সপ্তগ্রামে আর গঙ্গার উল্লাস দেখা যায় না। মুশিদাবাদ ইংরেজ দখলে । তিনি জানালেন যে নন্দকুমার একাকী ত্রিবেণীতে ইংরেজ বাধাকে মুক্ত করতে গেছেন। রাধিকা জানালেন ধে তার দলবল নিয়ে তিনি এখনি নন্দকুমারের সাহায্যে চললেন |, ত্রিবেণীতে, পৌছে নন্দকুমার ম্যাগুয়ার সাছেবকে গঞ্জার বাধা মোচন করতে অনুরোধ করলেন। তিনি অপারগ হলে বারওয়েল সাহেব এসে হিন্দুদের “ডাম নিগার” বলে গালি দিতে লাগলেন । জানালেন যে তীর্থযান্তীর! প্লান করলে নদশর জল ময়লা হয়ে যাঁবে বলে তীর্থস্থান অবরোধ করা হয়েছে । এই দ্ুযোগে জানালেন যে মহারাজা নন্দকুমার €৩১ বাণেশ্বর বিগ্ভালঙ্কার বিধান দিয়েছেন যে তীর্থমৃত্তিক স্পর্শ করলেই তীর্থ- স্ানেব পৃণ্য হয় । নাম বল! হয়েছে “বোনো ষাঁড় (বাণেশ্বর)। বন্ধ অন্ঠনয় বিনয় করেও নন্দকুমার কৃতকার্য্য হলেন না । অবশেষে নিজের পরিচয় দিয়ে তিনি জানালেন যে তিনি হুগলীর ফোজদ্ার ॥ অবশেষে ঠগীরা! খবর দ্বিল যে নদীতে ঘে বজরায় হেস্টিংস আসছেন, সেটি এখন সম্পূর্ণভাবে তাদের দখলে । অবরোধ উন্মোচন না করলে নৌকাশুদ্ধ হেস্টিংঘকে সলিল সমাধি দেওয়| হবে। ইতিমধ্যে জনৈক ওমরাও? দৌড়ে এসে জানালেন যে স্বয়ং নবাব মীরজাফর বজ্রায় করে সেখানে উপস্থিত | তীর্থযাত্রীরা নবাবের বজবাক়্ উঠে সাহেবদের ৰিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে । জানা গেল ঘে এই তীণর্থযাত্রীর! ছদ্বেণী ঠগী। ইংরেজ সৈম্তকে ঘিরে আরো! দশহাজার ঠগী দাড়িয়ে আছে। কাজেই অবরোধ না! তুললে উপায় কি। বাধা উঠে গেল । নন্দকুমারের হয হোল । আলোচনা ॥ ক্ষীরোদপ্রসাদ এই অঙ্কে এ্রতিহাসিক ব্যক্তিদের নাম করেছেন কিন্ত ইতিহ।'স পাঠ করতে ভূলে গেছেন। পাঠ করলে জানতেন যে মীরজাফর নবাব হবার প্রথম ও প্রধান সর্ত দিয়েছিলেন যে নন্দকুমার তার মন্ত্রী হবেন। ওদন্বায়ী ইংরেজ জেল থেকে নন্দকুমার মুক্ত হলেন। নাট্যকার জানতেন না বে কাটোয়ার ও গিরিয়াৰ যুদ্ধ মুঙ্গের বুদ্ধের আগে। তিনি জানতেন না যে বারওয়েল তখন কাউন্দিলার নয়। জেলার নিযুক্ত কর্মচারী মাত্র । ভ্যান্দিস্টার্ট তখনও গবর্ণর। বুলাকীদাসের থৎ লিখে দেবার সমস্ত ঘটন! কলিত। এমনকি মহামহোপাধ্যায় বাণেশ্বর বিগ্বালঙ্কারকে হেয় প্রতিপন্ন কর! উদ্দেশ্য প্রণোদিত কারণ নন্দকুমার ১৭৭৫ খ্রীষ্টান্ে কারাগারে আবদ্ধ হলে তিনি বিধান দ্রেন যে আবদ্ধতায় জাতিযায় না, দোষ প্রমাণিত হলে জাতি যায়। অনেকে মনে করতেন যে'এই বিধানের ফলে দোষী প্রমাণিত নন্দকুঙ্'রকে ফাসী*দিতে ইংরেজ কোম্পানী দ্বিধা করে নাই। সিরাজদোৌলার ভয়ে হেস্টিংসের কাস্তবাবুর কাছে আশ্রয় গ্রহণের বহুল প্রচারিত মিথ্যা ঘটন! বণিত হয়েছে কিন্তু সে গল্লে' অমিয়েট সাহেব তার সাথী ছিলেন না। ব্রিবেণীতে তীর্থযাত্রীদের নান বন্ধকরার ঘটনা সম্পূর্ণ নাট্যকারের ৫৩২ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ কল্পনা, এমন ঘটনার কোন বিবরণ কোথাও পাওয়া যায় না ইংরেজ ক্ষমত। সম্পর্কেও ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে । বাদশাহর কাছ থেকে দেওয়ানী লাভ ১৭৬৫ সালের ঘটনা, তার আগে ১৭৬৩ শ্রীষ্টাবে মীরজাফর স্থবাদার এবং তার প্রধান মন্ত্রণাদীত ঠিসেবে মহারাজ নন্দকুমার বাংলার প্রধান শাসক । এই অঙ্কের সব কিছুই প্রক্ষিপ্ত ও অনৈতিহাসিক । মোহন প্রসাদ উত্তরপ্রদেশের ব্যবসায়ী ১৭৬৩-৬৫তে তার বাংলায় আসার কোন প্রমাণ নাই । সবই নাট্যকারের কষ্টকল্পনা এবং ত্রাহ্মণত্বের ধবজ! উডডীন প্রচেগ মাত্র। নন্দকুষার কখনও কোম্পানী কর্মচারী ছিলেন না। তৃতশয় অঙ্ক ॥ ভভীয অঙ্কে নবাবের কক্ষে মীরজাফর বসে অনুশোচনা করছেন । তিনি সিবওবধের জন্য অনুশোচনা করছেন, বাংলাকে শ্বাশান করার ভন্ত অন্তশোচন] করছেন, ইংরেজদের বাংলায় আধিপত্য করতে দ্রিষেছেন বলে অনশোচনা করছেন। এক কথাষ তার বিরুদ্ধে প্রচলি৩ সমস্ত মভিবোগ স্বীকার করছেন। আত্মধিকার তার মনকে এমন বিধ্বস্ত করেছে যে তিনি ভৃত্যকে আলিঙ্গন দ্রিতে বলছেন এবং মণিবেগমকে সাম্রাজ্য চালাতে বলছেন। বলছেন তিনি অন্তরে বাহিরে অন্ধ। মণিবেগম জানাচ্ছেন যে ভ্রিবেণী সঙ্গমে মহারাজ নন্দকুমারের মর্যাদা! রক্ষা! করতে নবাব ধা করেছেন ভ| অতি প্রশংসার যোগ্য । তার এই কীতি নবাবকে প্রজাপীডকের ছুরপনেয় কলঙ্ক থেকে রক্ষা করেছে। মণিবেগম জানালেন বে একমাত্র নন্দকুমারকেই তিনি বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন। এমন সময় হেস্টিংসের পত্র নিয়ে নন্দকুমারের জামাতা জগচ্ন্দ নবাব সমীপে উপস্থিত । নবাব নন্দকুমারের জামাতাকে “চাকর” দিতে ইচ্ছুক কিন্ত হেস্টিংসের পত্রের জন্য নয়। তিনি তার পুত্র নাজমুদ্দোলার দঙ্গীরূপে জগচ্চন্দ্রুকে নিযুক্ত করলেন। মীরজাফর মণিবেগমকে জানাচ্ছেন যে নন্দকুমারকে বঞ্ধু পেলে তিনি সত্যিকারের শাসকের মতে! নবাবী করতে পারেন। দ্বিতীয় দৃষ্তে মুশিদাবাদের কক্ষে হেস্টিংস. চিন্তিত । সঙ্গে রাজা রামচাদ ও বেজ! খাঁ। উধুয়ানালায় জয় না হলৈ কিছুই করতে পারা যাচ্ছে ন1 বলে হেস্টিংস ক্ষেত করছেন। এমন সময় একজন সিপাহী খবর দিল যে মহারাজা নন্দকুমার ৫৩৩ উধুষানালার যুদ্ধে ইংরেজদের জয হযেছে । তাই শুনেই হেস্টিংস খুব “হিপ হিপ হুররে? করলেন । সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে স্থির করলেন যে সর্বকার্ধে বাধা স্বরূপ নন্দকুমারকে এবার গ্রেপ্তার করতে হবে। এমন সময মোহনগ্রসাদ এসে পড়ায় রামচাদ্দ বলছেন নন্দকুমারকে এখনও সাজা দেওয়া গেল না। হেস্টিংস জানালেন যে ভ্যান্সিট্রারটের সইএ তিনি নন্দকুমারের নামে পবোয়ানা “বব কববার ব্যবস্থা করবেন । মোহন প্রসাদ জানালেন যে তিনি বাবস্থা করছেন যাতে বুলাকীদাস একখানা খত নন্দকুমারকে লিখে দেয়, সেই খৎ দিয়ে মনেক কাজ হবে। তবে সর্ত হল ণোরা সৈম্তবা বুলাকীদাসের বাডী লুঠ করে চার লক্ষ টাকা নিযে গেছে। সেই অথ ফেরৎ দিতে হবে। ভেস্টিংস এর সংলাপ £ “আস্কন রাজা আমরা মীরজাফরকে মুঙ্গের পাঠাইবার ব্যবস্থা কবি ।... সেদান্তিক রাঙ্গাকে নিজের মুখে যতক্ষণ শান্তি শুনাইতে না পারিতেছি ততক্ষণ আমার স্ফৃতি নাই |” নবাব মীরজাফর আসামাত্র উধুযানাল] জয়ের ভন্য ২৮ লক্ষ্য টাক! হেস্টিংস নবাবের কাছে দাবী করলেন এবং প্রায জোর করে তাকে মুঙ্গেব থেতে বাধ্য কবলেন । তৃতীয় দৃশ্টে বাপুদেব ও নন্দকুমার কিরীটেশ্বরীব মন্দিরে পুক্তা করছেন এবং যতবার ফুল দিচ্ছেন ততবারই পড়ে যাচ্ছে । অবশেষে রাধিকার সঙ্গে খন নন্বকুমার এক সঙ্গে ফুল দিলেন, সেই ফুপ দ্রেবী গ্রহণ করলেন । বাপুদেব নন্দকুন্বারকে রাধিকাঁকে বিবাহ করতে বললেন। জানালেন তা হলে তার জয় অবশ্যস্তাবী । কিন্তু মুসলমান পালিত ব।পুদেব কন্তাকে নন্দঞুমার বিবাহ করতে অস্বীকার করলেন। চতুর্থ দৃশ্যে নন্দকুমার তার রাণী এবং জামাত! রাধাচরণকে সব থরর শুণিয়ে রাধিকাঁকে বিবাহ করার কথা বললেন । রাধিকা তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হয়ে জানালেন যে সমস্ত হিন্দুজাতির প্রতিনিধি হিসাবেই তিনি রাজাকে দেখেন। তাঁর আন্থগত্যের সেইটাই কারণ। রাধাচরণ খবর দিলেন কোম্পানীর পণ্টন নন্দকুমারকে গ্রেপ্তার করতে আসছে । তখুনি মোহনপ্রসাদ গ্রেপ্তারী পরোয়ানা দেখিয়েশ্ন্বকুমারকে বন্দী করল। পঞ্চম দৃশ্তে মুেরে মীরজাফর ও মণিবেগম। মীবুঞগ্গাফর আশঙ্কা করছেন যে মীরকাশিমের পরাজয়েব পর তার নবাবীকেও বাতিল করা হবে। মণিবেগম সায় দিলেন সেই ভাল কারণ বাংল! বিহার উড়িস্তার বেগম হয়ে তিনি গোলামী করতে চান নাঁ। নবাব মৃত কষ্ঠার জন্যে অশ্রমোচন করলেন কারণ মনস্তাপে 'জীন্নত মহল” জহর থেয়ে জীবন ॥ ৩৪ বাংল! এঁতিহাসিক নাটক সমালোচনা বিসর্জন দিয়েছে । এমন সময় বারওয়েল সাহেবের আসার খবর পাওয়া গেল । মীরজাফর মণিবেগমকে নবাবী করতে দিতে রাজী হলেন কারণ নৃবগ্গাহান তাই করেছিলেন। তদনুষায়ী মণিবেগম বারওয়েল সাহেবকে খুবই নাস্তানাবুদ করলেন। কথার মারপ্যাচে জানালেন মহারাজ নন্দকুমারকে না পেলে দেশ শাসন করা অপন্তব। দেশ নুশাঁসিত না হলে কোম্পানীকে খাজন! দেওয়া! সম্ভব হবেনা । বারওয়েল এই কথ! ভ্যান্দিট্রার্টকে জানাতে ছুটলেন। ষ্ঠ দৃশ্ঠ খুবই নাটকীয়। ছুই প্রতিপক্ষ হেস্টিংস ও নন্দকুমার মুখোমুখী | এই দৃস্তে নন্বকুমারের মুখে নাট্যকার সংযত ও ভদ্র ভাষা যেমন দ্রিয়েছেন হেস্টিংস সাহেবকে তেমনি অশালীন রঙে আকা হয়েছে । তার অভিযোগ নন্দকুমার সর্মদা “অনারেবল কোম্পানীর” সঙ্গে শক্রতা করছেন। তিনি জানাচ্ছেন যে «এই নিগারের দেশে” তারা রাজ বাদশার বিচার কবতে সক্ষম। নন্দকুমার নিজেকে যতই বুদ্ধিমান মনে করুন তাকে শান্তি পেতে হবে। কারণ তিনি মীরকাশিমের পুত্রকে আশ্রয় দিয়েছেন এবং ভ্রিবেণীতে বারওয়েলের কাজে বাধ! দিয়েছেন । রাজাকে সাবধান করে দিয়ে হেস্টিংস তাঁর সংলাপে বলছেন যে মীরকাশিম ইংরেজকে বাধ! দিতে এসে ফুৎকারে উডে গেছে, নন্দকুমারেবও সেই দশা হবে। এমন সময় রাধিকার প্রবেশ। তিনি জানালেন যে হেস্টিংস যখন সিরাজদ্দৌলাব ভয়ে পালিযে কান্তবাবুর আশ্রয়ে ছিলেন তথন তিনিই তাকে নিত্য ছৃপ্ধ সরবরাহ করে বাচিষে রেখেছিলেন । স্থতরাং তিনি তার জীবনদাত্রী । কিন্তু রাধিকা, মহারাজ নন্দকুমারের জীবনভিক্ষা চাইবার আগে নন্দকুমার তাকে বাধা দিয়ে বললেন যেরাধিক! তার প্রার্থনা মতো জীবন ভিক্ষা পেলে নন্দকুষাঁর সে জীবন রাখবেন না। ইতিমধ্যে হেস্টিংস বুঝে গেছেন যে ঠগীদের সারণী রাধিকা এবং ঠগীরা পার বক্ষীদের গলায় রুমাল বেধে হত্য| করেছে । তিনি তাই বন্দুক নিয়ে রাধিকাকে গুলি করতে এসে দেখেন তিনি নাই। নসম্বক্মার তাই দেখে বললেন £ *“গুপ্তশক্তি দেশর হদয়ের কোন নিভৃত দেশে এ শক্তি নিহিত আছে জানি না। তাই শুনে ক্ষিপ্ত হেস্টিংদ বলছেন £ া181101 ! %0 99811 189 10 819//61 ৪11 011656.+ এবং মহারাজ নন্দকুমারকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখছেন । অবশেষে নবাব যীরঙ্গাফর বারওয়েল সাহেবকে মহারাজা নন্দকুমার ৫৩৫ সঙ্গে করে এবং গবর্ণর ভ্যান্সিন্টাটের পত্র নিয়ে এসে নন্দকুমারকে মুক্ত করছেন। হেস্টিংস জানাচ্ছেন যে নন্দকুমার যেন তার এ আচরণ মনে না রাখেন। কারণ নন্দকুমার নবাবের দেওয়ান নিধুক্ত হয়েছেন। রাজা রামঠদ শন্দকুমারকে “গৌডপতি” ও “সমাজের শিরোমণি” বলে আপ্যায়ন করলেন। মীরজাফর ঘোষণা করলেন যে “আক্ত থেকে আপনি--বাংলা বিহাব উড়িস্তার দেওয়ান 1, আলোচনা ॥ সম্পূর্ণভাবে এতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক রহিত এই অঙ্ক । তবে থে ভাবে ঘটনার অবতারণ1 করা! হয়েছে তাতে সন্দেহ থাকে না যে নাট্যকার এতিহাসিক ঘটনাগুলি সম্পর্কে সজাগ এবং স্বেচ্ছায় সেগুলির তুল ব্যবহার করে দর্শকের এবং পাঠকের সঙ্গে প্রতারণ! করেছেন, তাদের মনে সম্পূর্ণ বিপরীত মত স্থষ্টি করবার প্রান পেয়েছেন। আত্মতুষ্টির ভন্য এতিহাসিক ঘটনার এই ব্যবহার যে কোন ব্যক্তির পক্ষেই অতান্ত গনিত কাজ । ক্ষীরোদ প্রসাদ বিদ্ভাবিনোদ গেনেশুনে সেই পাপাচার করে কঠোরতম নিন্দার ভাগী হয়েছেন। লক্ষ্য করার বিষয় বে মীরকাশিমের নবাবীকালে ফরাসীদের সঙ্গে বডযস্ত্রের অপরাধে নন্দকুমার ১৭৬৩ খ্রীঙটাব্দের মার্চ মাসে বন্দী হন এবং মীরজাফরের রাজত্ব সমঘ ৬ই জুলাই ১৭৬৩ খ্রীষ্টাব্দে মুক্ত হযে মীরজাফরের দেওয়ান হলেন দ্বিতীয বার । এই সব ঘটন'র সঙ্গে হেস্টিংসের কখনই কোন প্রত্যক্ষ যোগ ছিল না। ক্ষীরোদপ্রসাদ সকলের মনে বিভ্রম সৃষ্টি করার জন্য কাঁটোয়! গিরিয়া ও উধুয়ানালায় পরাজয়ের পর এই দৃশ্টের অবতারণা করছেন যদিও এই ঘটনা মীরকাশিমের সঙ্গে যুদ্ধ আরন্তের পূর্বেকার ঘটন! (মীরকাশিম প্রবন্ধ দেখুন )। বস্তুত ১৭৬৩ খ্রীষ্টাব্দের জুলাই থেকে ১৭৬৪-র অক্টোবরের মধ্যে নন্দকুমারের স্মরণীয় কাজের মধ্যে ১। নবাব মীরজ্ঞাফ্ষরের বাদশাহী অনদ আদায়। ২। নিজের জন্য বাঁদশাহের কাছ হতে মহারাক্তা পদ্বী*আদাীয়। ৩। মীরকাশিমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও পত্রালাপ | ৪1 নবাব মীরজাফরকে বিলাসে মগ্প রাখা এবং তিনি কুষ্ঠ রোগগ্রস্ত হলে তাকে কীরিটেশ্বরীর চরণামুত খাবার জন্য স্থপারিশ করা। এই জন্য মণিবেগম চিরকাল নন্দকুমারকে অপছন্দ ও সন্দেহ করেছেন। স্থতরাং তার কথায় ৫৩৩ বাংলা প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। মীরক্ঞাফরের নন্দকুমারকে দেওয়ান করা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়। অঙ্কের প্রথম থেকেই মিথা কথার বেসাতি। ১৯০৬ খ্বরী্গান্দে গিরিশচন্দ্রের মীরকাশিম নাটকের সার্থকতায় ক্ষীরোদ প্রসাদ ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে নন্দকুমার নাটক রচনা করলেন । কিন্তু গিরিশচন্ত্রের মনীষা ক্ষীরোদ প্রসাদ কোথায় পাবেন। তিনি বালুকাবেলায় কল্পনার যে ছুর্গ রচনা করেছেন তা সতোর একটি মাত্র ঢেউ ভক্মম্মাৎ করে দিয়েছে । মীরজাফরের সিরাজ বধের অনুশে'চনা তাঁই গিরিশচন্দের “মীরকাশিমঃ নাটকের সঙ্গে যোগসুত্র গাথবার এক ব্যর্থ পরিকল্পনা । এই সময়ে সিরাঁজকন্া এবং লুৎফউন্নিসার প্রতি ব্যবহার দেখলে সন্দেহ থাকে না যে মীরকাশিম অথবা তার শ্বশ্খর মীরজাফর কেউই সির"্জদ্দৌলার হত্যায় অন্ুশোচনায় বিগলিত হয়ে যান নাই । ক্ষীরোদপ্রসাদ আর একটি জোচ্চ,রী করেছেন। নন্দকূমারের ফাসীর সময় যারাই উচ্চপদস্থ কোম্পানীর কর্মচারী ছিলেন এবং নন্দকুমারের বিরোধিণত1 করেছেন ত্বাদের সঙ্গে বিরোধের স্থাত্র ১৭৬৩ খ্রীষ্টাব্দে নিরেশ করে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে ব্যক্তিগত হিংস। নন্দকুমারের মৃত্যুর জন্য দ্রায়ী, তাই এসেছেন হেষ্টিংস, বারওয়েল ও মোহনপ্রদাদদ । প্রস্তাবনায় নন্দকুমারের ইতিহাস বলার সময় দেখান হয়েছে যে হেস্টিংসের সঙ্গে নন্দকুমারের বিরোধ আরো এগার বছর পরের ঘটনা । ১৭৭৪ শ্বীষ্টাব্বের আগে কোন প্রত্যক্ষ বিরোধের প্রমাণ নাই । বরঞ্চ নন্দকুমারের স্পারিশ অন্ক্যায়ী ১৭৭২ শ্রীষ্টাবে নন্দকুমারের একমাত্র পুত্র রাজা গুরুদীস নবাবের দেওয়ান নিযুক্ত হলেন। ১*৭২-৭৩ খ্রীষ্টান হেস্টিংসের সঙ্গে নন্দকুমারের সখ্যত] ছিল বলা চলে। ক্ষীরোদগ্রসাদ ইচ্ছ। করে প্রকাশ করেন নাই ১৭৬৪ খ্রীষ্টাব্দে হেস্টিংস কোম্পানীর কাজে ইন্তফা দিয়ে দেশে ফিরে যান এবং নয় বছর পর ১৭৭২ খ্রীষ্ঠাবে গবর্ণর হয়ে ফিরে আসেন | সুতরাং ১৭৬৩র কর্মকাণ্ডে হেস্টিংসকে প্রধান চতিত্ররূপে দেখান সত্যের অপলাপ ছাডা আর কিছু নয়। বিশেষ'যখন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে নাট্যকার একটু একটু ইতিহাসের খবর রেখেছেন । বারওয়েল বা মোহ্নপ্রসাদের সম্পর্কেও ওই একই কথা । তারা কেউই নন্দকুমারের বিরুদ্ধে কোন কর্মে হোতা ছিলেন না । কলকাতা বা মুপিদাবাদে তাঁদের উপস্থিতির মহারাজা নন্দকুমার ৫৩৭ কোন প্রমাণ নাই। আরো মজার ব্যাপার আছে। ১৭৬৩ গ্রীষ্টাকে মীরকাশিম মুঙ্গেরে । সেখানেই তিনি সেপ্টেম্বর মাসে রাজ| বামনারায়ণ ( এই নাটকের রাজা ব্রামঠাদ ) প্রভূতিকে জলে ডুবিয়ে হত্যা করেন। কয়েকদিন পরে রাজ! ব্রাজবল্লভ তব পুত্র রুষ্জদাস এবং জগংশে» ভ্রাতৃদ্ধধকে হত্যা করেন। সুতরাং হেস্টিংস নবাব মীরজাফরকে কেন মুঙ্গেরে পাঠাবেন ধোঝা গেল না। তাছাড়া গবর্ণব ভ্যান্সিট্রাট ও হেস্টিংস মীরকাশিমের সঙ্গে যুদ্ধ করার অপক্ষপাতী ছিলেন । কিন্তু কাউন্সিলে তারা সংখ্যালঘু হবার জন্য যুদ্ধ ঘোষণার অব্যবহিত পরে উভয়েই কোম্পানীর কর্মে ইস্তফা দ্িষে দেশে ফবে যান। মীরকাঁশিম প্রবন্ধে এ বিষয়ে বিস্তাবিত আলো'চন1 করা হযেছে 5তরাং এখানে তার পুনকুল্লেখ নিষ্প্রয়োজন । গোরাসৈন্তর বুলাকীদাসের বাভী লুঠ আর এক মিথ্যা কথা । বুলাকীদ্াস কলকাতাব বা মুশিদাবাদের অধিবাসী ছিলেন না । বারওযেল ও মণিবেগমের ঘটনা প্রক্ষিপ্ত । এ সময়ে দেশের আসল শাসক নন্দকুমার, মণিবেগম নয়। এই অঙ্কেব অন্তান্ত ঘটন! সম্পূর্ণ গাবে করিত । ঠগীদের ক্ষীরে প্রসাদ যে সম্মানের আসন দিতে চেষেছেন তাতেই তার মনোবৃত্তির পরিচয পাওয়া যাষ। ঠগীরা দেশে বিষ স্ফোটকের মতো দেশব্যপী বিশৃঙ্খলায় জন্ম নিয়েছিল এবং হিন্দু-মুলপশমান নিবিশেষে এক প্রচণ্ড আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। ঠগী দমন ইংরেজ শাসনের এক অন্যতম প্রথম স্থকার্য। নন্দকুমারকে প্রতিষ্ঠা দেবার জন্ত তাকে “গৌডপতি” এবং “সমাজের শিরোমণি” বল! হয়েছে । নন্দকুমার অত্যন্ত সাধারণ অবস্থ! থেকে নিজের বুদ্ধিবলে কিভাবে উন্নতি করেন এই প্রবন্ধের প্রস্তাবনায় তার বিশদ উল্লেখ করা হয়েছে । তিনি কখনই “গৌডপতি” এই আখ্যা লাভ করেন নাই অথব1 ওই আখ্যা লাভেব যোগ্য হন নাই। সামাজিক প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য নন্দকুমার নদ্বীয়ার মহারাজ! কুষ্ণচন্ত্রের এক পুত্রের সঙ্গে তার কণন্ঠার বিবাহ দিতে চেষ্টা করেন। কিন্তু নদীয়ারাজ তার কথা মতো কাজ করতে অস্বীকার করায় নানা ছতোয় তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে দ্বিধা করেন নাই। নদীয়ার কৃষ্ণচন্দ্র এই সময়ে হিন্দুসমাজের নেতা ৰলে স্বীকৃত হতেন। তার প্রতি এই ছুব্যবহারে সাধারণ হিন্দু নন্দকুমারকে নিন্দা করেছে যার ফলে তার ফাসীর আদেশ থারিঞজ বা মকুব করার জন্ত একজন কিন্দু বা ৫৩৮ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা মুসলমানের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা যায় নাই। আশ্চর্যের বিষয় এই যে মহাকবি গিরিশচন্দ্র ১৯০৬ খ্রীষ্টাব্দে মীরকাশিম নাটকে নন্দকুমারের যে ধতিহাসিক চরিত্র প্রকাশ করেছেন। ১৯০৭ খ্ী্াব্দের নাটকে ক্ষীরোদ প্রসাদ সে সব উপেক্ষা করে এক স্বকপোল কল্লিত চরিত্র স্ষ্টি করে জনসাধারণের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করেছেন এবং ছুঃখের বিষয় সেই অপকীতিতে কিছু পরিমাণ সার্থক হয়েছেন। ১৭৬৫ শ্রীষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারীতে মীবজাফরের মৃত্যু হল। মার্চ মাসে ক্লাইভ চলে এলেন বাংলার গবর্ণর হযে। ১৩ই এপ্রিল কাণীরাজ বলবন্ সিংহেব সঙ্গে ষড়যন্ত্র করায় নন্দকুমারকে আবার কলকাতায় এনে বন্দী করা হল। এবার তার বন্দীদশ। দীর্ঘদিন । সম্ভবত ১৭১৬৭ কোন সময়ে তিনি মুক্তি পান। চতুর্থ অঙ্ক ॥ চতুর্থ অঙ্কের স্থরুূতেই নন্দকুমার স্ত্রী ক্ষেষঙ্করীকে বাংলাষ সুশাসনের পরি- কল্পনা শোনাচ্ছেন । বলছেন ইংরেজের পৈশাচিক ব্যবস! তিন বন্ধ করেছেন। নবাব মীরজাফরকে কেন্দ্র করে তিনি এমন ব্যবস্থা করবেন যাতে ইংরেজ বাংল। ছাডতে বাধ্য হয়। তারপর তিনি জানালেন যে তিনি বৈষ্ঙজব গুরুর কাছে দীক্ষা নিয়েছেন । বাধিকা প্রসঙ্গে বলছেন যে রাধিকাকে বিবাহ করলে তার জয় সবত্র বিরাজ করবে জেনেও তিনি জাতিনাশের ভয়ে তাকে বিবাহ করতে অস্বীকার করে তার কুলগুরুর আদেশ অমান্য করেছেন। রাধাচরণ জানাচ্ছেন যে হেস্টিংস ভার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। এখানে একমাত্র এ্রতিহাসিক ঘটন। যে রেজা খাকে নবাব আদেশে বন্দী করা হয়েছে । দ্বিতীয় দৃশ্যে নন্দকুমারের বাগানে এসে হেস্টিংস নন্দকুমারের দুই জামাত! জগচ্চন্দ্ ও রাধাচরণের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করছেন | নন্দকুমার এলে হেস্টিংস তাকে জানাচ্ছেন যে স্পেনসার সাহেবের পর তিনি বাংলার গবর্ণর হচ্ছেন। তিনি রেজা! খার মুক্তির জন্য নন্দকুমারের কাছে স্থপান্বিশ করছেন । নন্দধুমার জানাচ্ছেন যে নবরুষ্ণের তেফাজতে তিনি ছয় লক্ষ টাকা ফোম্পানীক্রে' বহু ক? দ্বিয়েছেন। তিনি কোম্পানীর অপকীতির এক তালিক! প্রস্তত করেছেন। হেস্টিংস প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে তিনমাস পর গবর্ণর হয়ে তিনি সকল অপকশতির বিচার করবেন। সেই কথা গুনে নন্দকুমার রেজা খাবে মভারাজ] নন্দকুমাব ৫৩৯ মুক্তি দিলেন । হেস্টিংসেব মুখে এক সাংঘাতিক শ্বগতে ৬০" বশান হয়েছে যে নন্দকুমারেব নিধন ছাড়া ভেসিংসের উন্নতি হ7 ল। তিতীয দৃশ্তে মীরজাফর মার! যাচ্ছেন । তিনি আগামী মন্বন্তবেৰ পদধ্বনী শুননে পেলেন । এমন সময় বাপুদেব উপস্থিত হযে জানতে চাইলেন ষে মীরজাফব ঘর্দ বেচে থেকে দেশের হাহাকাব দেখতে চান, তিনি তাকে বাচিষে বাখবেন। রাধিকা এসে নখাবী 1ভক্মী চাইলেন । জানালেন তাকে ভিক্ষা দিলে গঙ্গাভলে শুদ্ধ কবে তিনি নবাখীকে বাচাবেন। নবাব মীবজ্ঞাফর অন্তিষ- কালে পিতাপুত্রী উভযকেই আশাহত কবলেন। বাচতেও চাইলেন না আব নবাবীও [লেন না। চতুর্থ দৃশ্টে হেস্টিংস সন্দেভ কবছেন 07 ৬৮ ৬/০111218 1116111 13801011715 00170981110 1118 178৬/5 0 079 [9৬/৪10ও 96901) মোহনপ্রসাণও সাগ্রহে নবাব মীরজাফরের মৃত্যুব জন্ত অপেক্ষা করছেন এমন সময় নাজান উ- দ্দীলা এবং ব্রেজা খ| সংবাদ দিলেন নবাব মৃত। তাই শুনে হেস্টিংস বললেন “হুররে” | নাজাম-উ-দ্দীলাকে জোর করে ধবে নবাব করা হল। মণিবেগম নন্দকুমারকে সেখান থেকে পালাতে বলছেন। নন্দকুমার জানাচ্ছেন যে মীরকাশিমের পুত্র জীবিত তাকে নবাব করা হলে বাংলা বাঁচবে । মণিবেগম তাতে স্বীকৃত হলেন । নন্দকুমার তখনই প্রমদার কাছে সংবাদ পাঠালেন । হেস্টিংস নন্দকুমারকে দেখে তাকে দরবারে যেতে অন্তরোধ করেলেন। রাধাচরণ পলাতক শুনে তার পেছনে সৈম্ত পাঠালেন । এক সাংঘাতিক শ্বগতোক্তি করছেন ইংরেজিতে বক্তব্য মীরজাফব ঠিক সময় মাঁবা গেছেন তা ন1 হলে নন্দকুমার বাংলাকে ইংরেজের কুক্ষি থেকে বাহির করে নিতেন। পঞ্চম দৃশ্তে বীরভূমের জঙ্গলে প্রমদাব আশ্রয়ে মীরকাশিমেব পুত্র। তাকে বাচাতে রাধিকা তার ঠগাদশ নিযে উপস্থিত। রাধাচবণ পূতন নবাবেব খবর আনলেনশ। বললেন এমন শ্বযোগ আর আসবে না কারণ অযৌধ্যাৰ নণাব, বগগীর সর্দাব, কাণীব বলবজ্ঞ সংহ সকলেই রাজা নন্দকুমারুকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। এমন সময় ইংরেজ “সৈম্যসহ কাপ্তেনের প্রবেশ” এবং তার এক অসতর্ক গুলিতে মীরকাশিমের পুত্র বাহারের মৃত্যু । আলোচন ॥ বলাবাহুল্য সকল ঘটনাই প্রক্ষিপ্ত ও মিথ্যা । হেস্টিংস স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের €১০ *ংলা1 প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা পর মীরভাফরের মৃত্যু ১৭৬৫ শ্রীষ্টাব্ে। ক্লাইভের সঙ্গে মণিবেগমের আলোচনা অন্যায়ী নাবালক নাঞাম-উ-দৌল! নবাব এবং মণিবেগম তার অভিভাবক নিযুপত হন । রেজা খা হলেন নায়েব সুবা। রেজ। খার পদচ্যুতি অনেক পরের ঘটনা । নন্দঞ্ুমার ইংরেজ ব্যবসা বন্ধ করেন নাই। বরঞ্চ যে ব্যবস! মীরকাশিম বন্ধ করেন শন্দবুমার তা খুলে দেন। তার জাত্যাভমান প্রথম দৃহ্যে উদ্দেশ্য প্রণোদিত কৃষ্টি । [নি এতবার বন্দীত্ব ভোগ করেছেন দেখলে আশ্চর্য হতে হয়। হেস্টিংস সম্পককীয় সব কথাই মিথ্যা কারণ ১৭৬৫ খ্রীষ্টাব্দে তিনি স্বদেশে । তাছাড়া নন্দধুমারের সঙ্গে তার কখনও কোন চুক্তি হয়োছল এমন প্রমাণ নাই । তারপর কোম্পানীর প্রাপ্য টাকা কেন রাজা নবকুঞ্চকে দেওয়া হবে তাও বোঝা গেল না। তিনি তখন কোম্পানীর কোন চাকরী করেন না। বরঞ্চ শোভাবাজারকে কেন্ত্র করে ক্রমে কলকাতা৷ সমাজের নেতা হতে চলেছেন। ক্ষীরোদপ্রসাদ সম্ভবত নবকুষ্খের ব্রাহ্মণী রমণী বলাত্কারের ঘটনা পরবর্তী কোন দৃশ্টে নাটকে যোগ করার ইচ্ছায় এই সংলাপ দিয়ে- ছিলেন। পরে এই মিথ্যা ঘটনার নাট্যক্লীপ তাকে বিপদে ফেলতে পারে ভঙ্কে সেটিকে নাটকে প্রকাশ করেন নাই । আশ্চধ্যের বিষয় এ বিষয়ে প্রচুর সাক্ষ্য প্রমাণ থাক। সত্বেও এবং এ বিষয়ে একাধিক পুস্তক রচিত হলেও আজও কলকাতার বু ব্রাঙ্ছণ নবকৃঞ্ণ সম্পফিত এই গল্পকে সত্য বলে মনে করেন। কল্পনালোকে বিচরণ করেই ক্ষীরোদপ্রমাদ বারওয়েলকে ১৭৬৫ শ্রীষ্টাঝেই কাউন্দিলার করে দিয়েছেন। হেস্টিংসের মুখে জবর মিথ্য। সংলাপ জুড়েছেন। মীরকাশিমের পুত্র সম্পকীয় সব গল্পই অলীক । মীরকাশিমের ছুই পুত্রই বেচেছিলেন এবং কখনও বাংলার স্ত্রবাদার হবার চেষ্টা করেন নাই। বংশাহু- ক্রমে কথন কখন হলেও সুবাদারীট। যে মোগল বাদশাহের অধীনে একট। চাকরী এট! বোধ হয় ক্ষীরোদপ্রপাদের জানা ছিল না। আলিবাবার রচফ্নিত৷ তাই “বাংলার সিংহাসন” নামক এক অসম্ভব বস্তর মোহে ৰিভোর হয়ে গেছেন। ১৭৭৭ শ্রষ্টান্দের ৭ই জুন ঘখন মীরকাশিমের মৃত্যু হয় তখন তার দুই পুত্রই গুলাম উরাইজ জাফারি ও মহম্মদ বাকির-উল-হুসাইনী উপস্থিত ছিলেন। কাজেই নন্দকুমারকে নিয়ে আর একটি “আলিবাবা” রচনা করা ছাড়া নাটাকার আর কিছু করেন নাই। তবেতার এই অন্ধত্ব ইচ্ছাকৃত । সেট? আবার প্রমাণ হচ্ছে অযোধ্যার নবাব, বলবস্ত সিং ও বর্গীদের সম্পর্কে মহারাজ! নন্গকুমার ৫৪১ সংলাপে । এই ষডযন্ত্রগুলি নন্দবুমার বিভিন্ন সময়ে করেছেন। নাট্যকার নন্দকুমার চরিত্রে সংগতি দেবার চেগ্ায় এগুলি একসঙ্গে করা হয়েছে বলে উল্লেধ করেছেন । এমনকি ক্ষীরোদপ্রসাদ্দের “সাতকোটি বাঙ্গালীর” সংলাপ9 ভূল। কেন না ১৭৬৫তে বাংলাৰ জনসংখ্যা অনেক কম ছিল। এত নাটকে ক্ষীরোদপ্রসাদ তার আগের নাটকেব মতনই প্রমাণ করেছেন যে ইতিহাস না জানলে বা তাকে নিজের খুশী মতো ব্যবহার করলে প্রীতিহাসিক নাটক লেখা যায় না। কিছু পাঠক বা দর্শকের মনে বিভ্রান্তি স্টি করা ছাডা এই ধবনের নাটকের কোন মুল্য নাই। ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত তাব অন্ত নাটক “পলাশীর প্রাযশ্চিত্তর মতনই “নন্দকুমার” আষাঢ় গল্লেব উপাদানে তৈরী । নাটক হিসাবে যেমন বৈশিষ্ট্য বিহীন, রচনা সৌকর্ষেও তেমনি অপটু। এরই ফাকে ফাকে তিনি দর্শককে মিথ্যা বলেছেন। জানিয়েছেন স্পেন্সারের পরে হেস্টিংস গবর্নর হলেন । স্পেন্নারের পৰ গবর্ণর হন লর্ড ক্লাইভ এবং তাঁর অনেক পরে এসেছেন হেস্টিংস ১৭৭২ খীষ্টান্দে। ক্লাইভই রেজা খার দক্ষতায় সন্ধষ্ট হয়ে তাঁকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসেন । পঞ্চম অঙ্ক ॥ পঞ্চম অক্কের স্বরুতেই হেস্টিংস নন্গকুমারকে বন্দী করেছেন বলে উল্লসিত দেখান হয়েছে। তিনি ফ্রান্সিদ ও মনদনের* আসার খবর দিচ্ছেন এবং দর্শকদের শোনাচ্ছেন তার কর্মে কেহই বাধা দিতে পারবে না! একমাত্র নন্দকুমার ছাডা তাই তিনি নন্দমকুমারক্ষপী সিংহকে যতকাল তিনি জীবিত থাকবেন খাচায় বন্ধ করে রাখবেন। বারওয়েল এসে আরো সাফলোর কথা জানাচ্ছেন । অধযোধ্যার নবাব পলাতক | বর্গাঁরা দেশে ফিরে গেছে । ঠগী দমন হয়েছে এবং মীরকাশিম পুত্র নিহত | হেস্টিংস ছুঃঘ করে বলছেন ষে ফ্রান্সিস তার বিরুদ্ধ'চরণ করছেন তাই বাধ্য হয়ে তাকে রেজা খার গ্রেপ্তারের আদেশ দিতে হয়েছে কারণ ছৃভিক্ষের সময় তিনি- নিজে ব্যবসা করে প্রজার ওপর অত্যাচার করেছেন। রেঞ্জা খা! এগে সেই অভিযোগই তাক্ুক শোনাচ্ছেন। বলছেন এই অপরাধে তার ফাপী হবে। রাজ! ব্ামঠাদ বোঝাচ্ছেন যে হেস্টিংসকে মোটা রকমের ঘুস দিলেই ফাসী রদ হয়েযাবে। ৫৪২ বাংলা ইতিহাঁসিক নাটক সমালোচন। দ্বিতীয় দুশটো ননন্কুমার ফ্রান্সিস সাহেবকে হেস্টিংসের অপকর্ম বোঝাতে গিয়ে বলছেন “য মদ্বন্রের ভন্য ভেস্টিংস দাষী। রাণী এসে ভবিষ্যতের আশা প্রকাশ করছেন কারণ ক+টন্সিলেব নৃতন সদস্যর! নন্দকূমারের পঙ্গে আলোচনা করতে এসেছিলেন | বাঁণীও নন্দকমাবকে «গৌভডাধিকাঁরী বলে সন্মান দেখাচ্ছেন । নন্দকমাঁর জানাচ্ছেন ঘে হস্টিংসকে আপদ করনে পারলে তিনি বন্দশ অবস্তাতেই বাংলাব শাসনদণ্ড চালনা কবতে পাবেন । বলাকীদ'সেব খতের কথাও নন্দকমার বলছেন । জাঁনাঁচ্ছেন' যে লগংশেঠের কাছে টাকা কমা (বখেছেন । ততীষ দশে নন্দকূমার বাঁধাচরণকে বোঝাচ্ছেন যে ফ্রান্সিস একজন অত্ন্ত ক্ষমতাধারী লোক তাই হেস্টিংস পর্যান্চ নাকে খোঁসাঁমেদ করছেন । কিন্ধ নন্দকুমার তাঁতে ভুলবেন না । 'এযাঁবৎ যেখান থেকে মত ঘুষ হেস্টিংস পেয়েছেন তাঁব তাঁলিক! তিনি প্রস্থত কবেছেন । হেস্টিংসের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ 'আনবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন । বরাধাচরণ বলছেন “এ বাজ্যেব সর্বেসর্বা হয়েও আপনার এই হীনাবস্থা” (কবল হেস্টিংস্বে জন্য । বাঁধাচরণ সাবধান করছেন যে এই কাজে সফল না হলে চরম ছুর্গতির সম্ভাবনা । তারপরই প্রমদার প্রবেশ । বক্তব্য, ভিক্ষা করে তিনি মীরকাঁশিমের পুত্রের এক বিরাট সমাধি মন্দির তৈরী করবেন । এই সমাঁপি মন্দির তৈরীর জন্য বুলাকীদাসেব শচ্ছিত টাক! নন্দকুমার গ্রহণ করলেন থেবং বাধাচরণকে হুকুম করলেন যে মোহনপ্রসাদ এসে যেন থৎ ফিরিযে নিয়ে যায়। চতুর্থ দৃশ্ঠে হেস্টিংসের সঙ্গে মোহনপ্রসাদের ষডযস্ত্র। ফেরৎ দেওয়া খতকে নিজের স্থবিধামতো! ব্যবহার করে নন্দকুমারকে যে কোন বিপদে ফেল! যাবে । উপরম্থ মোহন প্রসণ্দ নিজেকে একজন সহীজাল করার ওত্তাদ হিসাবে প্রকাশ করছেন । প্রমাণ স্বপ মীরকাশিমের সই, হেস্টিংস গৃহিনীর সই জাল করে দ্রেখালেন। স্থির হল যেজালিয়াতির দায়ে মহারাজ নন্দকূমারকে অতিযুক্ত করা তবে। কাগজপত্র সব ঘোহন প্রসাদ প্রস্তুত করবেন। হেস্টিংস তাডাতাঁড়ি বারওয়েলকে পাঠাচ্ছেন ইম্পেকে (প্রধান বিচারপতি ) খবর দিতে |. পঞ্চম দৃশ্যে কাউন্লিল গৃছে নন্দকুমার হেস্টিংসের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন এবং তাই নিয়ে ফ্রান্সিস ও হেস্টিংসের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলছে । এমন সময় যোহন প্রসাদ কোর্টের বেলিফ ও প্রহরি নিয়ে প্রবেশ করে নন্দকুমারকে গ্রেপ্তার করলেন। স্থগ্রীম কোর্টের হুকুম মহারাজা ননখুঁমার ৫৪৩ দর্শনে কেউ কিছু করলেন না। নন্দকুমার নিগের ভাগ্যকে দৌষী করলেন । রাধাচরণ ফ্রান্সিস সাহেবের শরণাপন্ন হলেন কিন্তু তিনিও কিছুই করতে পারবেন না জানালেন। ব্ঠ দৃশ্যে সাধারণ লোক আলোচনা করছে মহামহোপাধ্যায় বাণেশ্বর বি্ভাশক্কারের বিধানের এবং জানাচ্ছে থে সে বিধান আস্তাকুডে যেলে দিযে নন্দকুঘার হেলখানায নিরম্ু উপবাসী । বাধাচরণ লানালেন ঘে উপবাপেই নন্দকৃমারের প্েহান্ত তবে । অবশেষে হদ্মবেশে সাণবেগম আসছেন রা] রামচাদের কাছে । রাম্চাদ তখন নন্দবুমারকে উদ্ধারের সংকল্প গ্রহণ করছেন৷ রামচাদের মা! এসে জানাচ্ছে থে ব্রাঙ্গণের প্রতি এই অত্যাচারে জান্ৃবী উষ্ণ হযেছেন। যেমন কবেও হোক নন্দকুমারেব উপবাস ভাঙতে হবে। অগ্তম দৃষ্ে নাগরিকগণ বিশ্বাস করতে পারছেন না যে ব্রাঙ্গণের ফাসী হতে পাব্ধে। অবশেষোবচার শেত। জানতে পারা গেল যে নন্দকুমারের ফাসীর আদেশ হয়েছে । একদল বললেন স্্ী পুত্র পরিবার নিয়ে আজই গঙ্গাপার হও । যদি ব্রাঙ্গণ হও এ অভিশপ্ত হুমে আর জপগ্রহণ কর না। অষ্টম দৃশ্ঠ কারাগারে নন্দবুমার ও রাধাচরণ। নন্দকুমাব ফাসী মাপ হবার দরথাস্ত করতে রাজী নন। বড় জামাত৷ »গচ্চক্্র তার বিরুদ্ধে সার্ধী দিয়েছেন বলে নন্দকুমার মর্মাহত । তিনি পুত্র গুরুদাসকে জানাতে বলছেন যে সমস্ত পরিবার নিষে সে যেন ভদ্রপুরে চলে যাধ। ব্রাধাচরণ জানালেন বে রাজা ব্রামচাদের চেষ্টায় জেলের ভেতর আলাদা ঘব তৈরী হযেছে । সাধারণ কয়েদীদের সঙ্গে রাজাকে থাকতে হয নাই । তাই নন্দবুমার জল ও আহার গ্রহণ করেছেন। নন্দকুমার রাজা র/মচাদকে গুরুণাসকে দেখবার অনুরোধ করছেন। তাঞগপপর শেরিফ ম্যাকরাবির প্রবেশ এবং রাজাকে শান্ত অবস্থায় দেখে ভূয়সী প্রশংসা । নন্বকুমার তাকে বলছেন যে তিনি তার কর্তব্য বিনাদ্বিধায় করতে পারেন । তারপর তা*্র মারফৎ কর্ণেল মনসন ও ফ্রান্সিস সাভেবের কাছে খবর পাঠাচ্ছেন তারা ,যেন পুত্র গুরুদাসক্ে একটু দেখেন । কারণ তার অবর্তমানে গুরুধাসই ব্রাহ্মণ সমাজের মুখ্য ছবেন। অবশেষে সহজভাবে এবং নিভীকভাবে মৃত্যুকে বরণ করার জন্য শেরিফ নন্দকুমারকে প্রশংসা করলেন। তারপর তাকে, ফাসীর মঞ্চের দ্িকে নিয়ে প্রস্থান করলেন। নবম এবং শেষ দৃশ্য মাত্র একপাতা । ফাসী কাষ্ঠে নন্দকুমার। বত্ৃৃতা দিচ্ছেন বাপুদেব শাস্ত্রী ৩৫ ৫৪9 বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা “তামার শব হিন্দুকে স্বাবণ করিষে দিক বাক্ধণ শক্তির অবসানে মকলবর্ণেব শক্তিলোশ ।” স্তরাং বর্ণাশ্রম ধর্ম এবং ব্রাহ্মণ প্রতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্িত না হলে আশঞ্জাতিব উখান হওয]| অসভ্ভব। ইত্যাদি । নাটকেব শেষ বাক্য “কন্মর্্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু ধদাচন”। এহ বক্ততাব পথহ নটক সমাপু হচেই। শাশোচন। ॥ ঘচ অঙ্গে ১৯)৭$ ও ১৭৭৫ খ্বীগাব্দেব কথা বশা হযেছে । এব মধ্যে হেস্টিংস “ণশে ফিরে গছেন এবং পনবাধ গবর্ণব ভযে ধিরে এসেছেন । নন্দকুমাবের *৭৬৫ব বন্দীত্ব ১৭৬৬তেহ শেষ হযেছে। সেহ খন্দীত্বর ০ ১৭৭৪ পয্যন্থ টানার একমাত্র কাবণ ইতিহাসক্চে গ্রান্গপ্ত কবা। বলাবাহুল্য ১৭৭৪ খ্রীষ্গাব্দে নন্দকুম'্ব সম্পূর্ণ মুক্ত পুরুষ । এই সমযে তার কীত্তিকশাপে প।রচয প্রস্তাবনায় দেওয়া হয়েছে । ছিয়াত্তবেব মন্বশ্থবের ভন্। ভেস্টিংস দ'ষী নন। বস্তত তিনি মগ্বন্থবের চাব বৎসর আগে স্বদেশে গ্রঠ্য।খর্তন কবেছেন। গবর্ণর হয়ে আসার তখন তিন বছব বাকি । স্ুতরাং নাট্যকাব সম্পূর্ণ কাগুজ্ঞ।ন রহিত না হলে এইপ্প বচনা করতেন না। হেস্টিংসেব সঙ্গে ফ্রান্সিস, 'কুভারিং ও মনসনেবাখরোধ সম্পর্কেও তার কোন স্পট ধ বণ "ছল না কাজেই আবছা কথ ছাডা স্পঞ্গু কবে কিছুই খলতে পবেন মহই। এমনকি ফ্রান্সিনকে কেন হেস্টিংস সমীহ কবতেন তাও ক্ষীরোদপ্রপাদ জানতেন বলে মনে হয না। বুলাকীদাসের খত সম্পর্কেও অত্যন্ত অস্পষ্ট খবব দেওয়া হয়েছে । মনে হয় মোহনপ্রসাঁদই বুঝি সই জাল করেছে । কিন্তরযদ্দি জানান হত ঘে মোহনপ্রসার্দ নামে উত্তরপ্রদ্দেশের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ এনেছেন যে নন্দকুমার বুলাকীদাসের সই জাল করেছেন অথবা সেই দলিল জাল জেনেও ব্যবহার করেছেন, সেটাকে আসল দলিল বলে চালাবার চেষ্টা করেছেন তাহলে গল্পটা একটু ভিন্ন গতিতে চলে। সেইটাই প্রধান জ্ঞাতব্য হুল বিচারালয়ে যে রাজা জেনেশুনে জাল দলিল ব্যবহার করেছেন কিনা। নন্বকুমার নিজের দোষে কি ভাবে প্রায় জেতা মামলাকে নষ্ট করলেন প্রন্তা- বনাঁয় বল! হয়েছে । কৃষ্ণজীবন দাসের মধ্যরাত্রের সাক্ষ্যে গ্রমাণ হয়ে গেল যে নন্বকুমার দোষী । এই সাক্ষী নন্দকুমারের পক্ষের লোক। তাকে মহারাজা নন্দকুমার ৫৪৫ পুনরায় সাক্ষ্য দিতে নন্দকুমার অনুরোধ করেন তার পক্ষের প্রধান ব্যারিস্টার ফারার, যিনি ছিলেন তৎকালীন কলকাতার সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী, বাড়ী চলে যাবার পর। দ্বিতীয়বার সাক্ষীর কাঠগড়ায় ্াড়িষে কৃষ্ণজীবন দাস যা বললেন তা প্রথমবারের সঙ্গে মিলল না। জব্বার মুখে নিজেব্র প্রাণ বাচাতে ধীকার করে বসলেন রাজ! জাপিয়াৎ। গভীর ক্ষোভে নন্দকুমারের পক্ষের ছোট ব্যাবিষ্টার বিকস্‌ পত্র লিখলেন ফারারকে তার বাড়ীতে । স্পট লিখলেন, ব্রাজ। নিজের এক গুযেমীতে এই ছুর্দশ! নিজের মাথায় টেনে নিলেন দ্বিতীষবার কুঞ্জজীবন দাসের সাক্ষ্য দাবী করে। বুলাকীদাসের ঘটনার সঙ্গে মীরকাশিমের পুত্রের সমাধি মন্দিরের গল্প জডে দর্শকদের ভোলাবার প্রচেষ্টা হয়েছে । ভুলে যাওয়া চলবে নাবে এ গল্প সম্পূর্ণ মিথ্যা কারণ মীরকাঁশিমের ছুই পুত্রই তখন তাঁর কাছে। এই সময় ঘীবকাশিম উত্তবে ভাবতে জীবিত । ১৭৭৫ শ্রষ্টান্দে তিনি তাঁর পুবাঁতন বন্ধু হেস্টিংসকে পত্র দ্িষে শ্নান ঘে তার নাম দ্িষে দিল্লীতে নানারকম ষডবন্ হচ্ছে যদিও সে সবেব সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নাই । হেস্টিংস যেন তাকে ভূল নাবোঝেন। এই জন্ত মোহনপ্রসাদের সই জালের গল্প হাসির উদ্রেক করে। ক্ষীরোদপ্রসাদ আব লোক পেলেন না-পিখলেন মীরকাশিমের কথা যিনি তখন রাজপুতানায় অথবা নেপালে জার তারপরেই লিখলেন হেস্টিংসের বিবির কথা । এইখানেই ক্ষীরোদপ্রসাদ সব থেকে আমোদ দিয়েছেন কাবণ এইসময় হেন্টিংসের কোন বিবি ছিল না। 1হনি দ্বিতীয়বার বিবাহ করলেন আরে! ছবছর পর ১৭৭৭ শ্রীষ্টাব্ষে। এর সঙ্গে তুল্যমূল্য রাধিকার সঙ্গে নন্দকুমারের প্রেমের উপন্তাস। নাটকে উল্লেখিত ঘটনার সময় নন্দকুমারের বয়স ষাটের ওপর। মৃত্যুর সময় তার বয়স উত্তর ৭০ বৎসর । পঞ্চম" দৃশ্য নি:সন্দেহে ১১ মার্চ ১৭৭৫ এর ঘটনা । নাট্যকার কেবল নদি সেইটুকু পাঠপ্করে নাটক লিতে বসতেন তাহলেও এই দৃশ্য শ্রীম্ডিত হতে পারত । কিন্তু “আলিবাবা” রচয়িতা পাঠক ব| দর্শককে কেবলমাত্র পিটুলী গোলা জল দুগ্ধ বলে দিতে উৎসাহী । মিথ্যার বেসাতিতে সতোম্স কোন স্থান নাই । তাই এমন নাটকীয় কার্ধ্যাবলীর বিবরণী এবং নন্দকুমারের সত্যকার অভিযোগগুলি সম্পর্কে দর্শক কিছুই জানলেন না। নন্দকুমার ৫9৬ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন! কাউন্সিলে বন্দী হন নাই । বরঞ্চ কাউদ্ষিলের এই সভাব্ প্রায় ছুই মাস পর ৬ই মে ১৭৭৫ সালে বন্দী হন। আগেও বলা হয়েছে নন্দকুমারের এই বিচারে হেস্টিংস বা ত্কার কোন কর্মচারীর যোগাযোগ থাকার কোন প্রমাণ নাই । বেভারিজ সাহেব এই অসম্ভব প্রমাণ করতে গিষে এক ভান্যকর পরিস্থিতির উদ্ভব কবেছেন। নন্দকমারের বড় জামাতা! জগচ্চন্দ ব। »গণ্চঠ'্দ শ্বশুরের বিপক্ষে সাক্ষী দেন । দীর্ঘদিন মনে কর] হত সেই কারণেই ফাসী হয়। মণিবেগমকে নন্দকুমীর পছন্দ কবতেন না। হেস্টিংসেব আপত্তি সত্বেও নন্দকুমারকে শ্রেপ্তারের কয়েকদিন পরে মণিবেগমকে নবাবের অভিভাবকের পদ থেকে সরিষে নন্দকুঁমারের পুত্র রাজ] গুরুদাসকে সেই পদ দেওয়া হল। ক্রতরাং মণিবেগমের নন্দকুমারের প্রাণ বাচানর চেষ্টা এক অলীক কল্পনা মাত্র । উপরন্ত মণিবেগম হেস্টিংসের কাছে অভিযোগ করেন যে নন্দকুমার তার নামে যে পত্র কাউন্সিলের সামনে দিয়েছেন তাতে যে সই আছে সেটা জাল, মণিবেগমের নয়। নাট্যকার নন্দকুমারের পুত্র গুরুদাঁসকে নাটকেই 'আঁনেন নাই । গুরুদাস তার পিতাকে রক্ষা করার জন্ত কলকাতার শ্রেষ্ঠ ব্যারিষ্টার ও এ্যাটনী দিয়েছেন, এমনকি বিলাতেও নন্দকুমারের আমমোক্তার ছিল। কিন্ত দোষ প্রমাণ হয়ে গেলে ফাঁসী রদ করার জন্ত বা জনসাধারণের পন্দ থেকে কাউন্সিলের কাছে দরথাস্ত পাঠাবার কোন ব্যবস্থাই করেন নাই। নন্দকুমারের মৃতার পর তার বাডী থেকে যখন প্রচুর জাল শীলমোহর প্রকাশ পেল তখন গুরুদ্াস নিজে দ্রাড়িয়ে থেকে সেগুলিকে নষ্ট করে ফেলেন। সন্দেহ হয় পিতার অপরাধ সম্পর্কে পুত্রের মনে কোন সন্দেহ ছিল না। নাট্যকার সেটা বুঝেছেন বলেই গুরুদাসকে নাটকে আনতে পারেন নাই। গুরুদাস হেস্টিংসের সঙ্গে সথ্য বজায় রেখেছেন এবং নন্দকুমারের পুত্র বলে হেস্টিংস তার প্রতি কোন বিদ্বেষ পোষণ করেন নাই | মনে রাখা কর্তব্য গুরুদাস কথন ব্রাহ্মণ সমাজের মুখ্য ছিলেন না । এই সম্মানে অধিষ্ঠিত ছিলেন নদীয়ার মহারাজ কৃষ্ণচন্র রায়। নাট্যকার গুরুদান সম্পর্কে বলতে গিয়ে 'নিজামতের দেওয়ানী কথাটা এমনভাবে বলেছেন যে ফারসী না৷ জানা দর্শক মন করবেন সম্ভবত এটা কোন হেড কেরানীর কাজ । জানবেন না যে ওই শব্দের অর্থ “নবাবের প্রধানমন্ত্রী” । এইভাবে ক্ষীরোদপ্রসাদ ক্রমান্বয়ে দর্শকদের সঙ্গে তঞ্চকত] করেছেন। ব্রহ্মহত্যা মহাপাপ, ব্রাহ্মণের মৃত্যুতে মহারাজা ননবুমার ৫১৭ আর্স»াতির শক্তিলোপ প্রভৃতি গালভর] কথায় তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন বেহেতু নন্দকুমার ব্রাঙ্গণ সেই হেতু তার মৃত্যুদণ্ড অন্যায় । বলাবাহুল্য এমন আইন বহুদিন উঠে গেছে বদিও নন্দকুমার জশবনে এবং ক্ষীরে|দপ্রসাদ ভার মৃত্যুর পর ত্রাঙ্ষণত্বের স্থযোগ নিতে কম চেষ্টা করেন নাই । ন্বেচ্ছায় মিথ্যাচার ব্রাহ্মণের সদণ্ডতণের অঙ্গ নয় তাও নাট্যকার ক্ষীবোদপ্রসাদ ভুলে গেছেন । ক্ষীরোদপ্রসাদ ব্রাঙ্গণত্বে ধদি আত্মহারা না হতেন তাহলে এ নাটক লিখতেন না । মীরকাশিমে গিরিশচন্জ ব্রাহ্মণ নন্দকুমারের বে কুটিল কুৎসিত রূপ দেখিয়েছেন তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহই এই নাটক উৎপত্তির মূল কারণ তা ন! হলে এই কল্পনাভিন্তিক বিভ্রম কষ্টিকারীশ অষ্টাদশ শতাব্ধীর এক আলিবাবার গল্প দর্শক সমক্ষে উপস্থিত করার 'মার কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। স্বাধীনতার অব্যবহিত পূর্বে ১৯৪৩ খ্রী্গাব্ষে 'আরেকখানি নাটক “মহারাজ নন্দকুমার+ নামে রচিত হল। এই নাটকে আর এক প্রস্থ কল্পনা বিলাসের পরাকাষ্ঠ! দেখান হল। মিথ্যার মোহমুদগরের চাপে কে কার বন্ধু আর কে কার শক্র কোন বিবেচনা থাকল না। নন্দকুমার সহসা মীরকাশিমের পরম বন্ধু রূপে দেখ! দিলেন । যে লুৎফউন্গিস| জীবনে কখনও মীরকাঁশিমের নামও সহা করতে পারতেন ন! তাকে মুশিদাবাদে পাঁওযষা গেল বালিকাকন্তা সহ। ভ্যান্সি্টাট আর হেস্টিংস ছুই দানবের মতো] দাঁপাদাপি করে বেড়াতে লাগলেন। বাংলার সব ছুরবস্থার জন্য তাদের দায়ী করা হল। রাষ্ট্র বিবর্তনে যে তিন বাঙালী কীতি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন ভাদের হেস্টিংসের তিনটি পোষা হনুমানের মত্যে লম্বন্ফ করান হল। ছুঃখের বিষয় এই ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্ক রহিত, সাংস্কৃতিকে দূষিত করা অঙ্গীল নাটক সম্পর্কে প্রতিবাদ হওয়া দৃষ্মে থাক তাকেই সত্য ইতিহাস মনে করে ভাবাঁলুতার জোয়ার বয়ে গেল,। একাধিন্ব নাটক এই ছাঁয়াতে রচিত হল। এমনকি নন্দকুমারের পূর্ণাঙ্গ মুক্তি তৈরী করে জনগণের সম্মুখে স্থাপনার প্রস্তাব হল। মহেস্দ্রনাথ গুপ্ত বহু ইতিহাসের বইএর নাম ছেপে যে নাটক লিখলেন তাতে জনসাধারণকে ধেক1 দিলেও, ইতিহাসের পরীক্ষায় পাশ করা যায় না। প্রথম অভিনয় রজনী ষ্টার থিয়েটার ৪ঠা জুন ১৯৪৩। 78৮ বাংল! এতিহাঁসক নাটক সমালোচন। মহেন্দ গুপ্ত £ মহারাজ নন্দকুমার মহেন্দনাথ গুগু রচিত “মহারাজ নন্দকৃমাব” তিন অঞ্গেৰ নাটক । প্রথম অঙ্ক ১ থকে ৩৩ পাতা, দ্বিতীষ অঙ্ক ৩৪ থেকে ৬৯ পাতা ও ভ্তীয অঙ্ক ৬৩ থেকে ৮৩ পাতা । প্রতি অঙ্কে তিনটি কবে দৃশ্ভ। মোট পাতা সংখ্যা ৮৩ | পূর্বাভাঁষে নাট্যকাঁৰ এক এউতিহাঁসিক নাটক লিখেছেন বলে দাবী কবেছেন এখং মেকলেব প্রবন্ধ, কিকাতাঁব কথা, বার্কেব বন্ত তা, ইমপিচমেন্ট অফ ওযাবেন তেস্টিৎস, “বভাবিজেব ৭ বোণ্টেব পুস্তক গুটি এবং নিখিলনাথ বাষেব মুশদাবাদ কাহিনী হতে তথ্য সংকলন করেছেন জানিষেছেন । নাট্যকাৰ “ভমপিচমেণ্ট? সম্পর্কে কোন পুস্তক থে পাঠ বেন নাই নাটকে তাৰ প্রম'ণ পাওয়া যায় । বেভাবিঞজ ও (বাণ্টস নিঞ নি মতামত ব্যক্ত কবেছেন, বার্কেব বও5। ও মেক্লেব প্রবঞ্চ তাদেব নিজখ্ধ মহাঁমতের প্রকাশ, ঘটনা তানবার উপায় নয়। “কলকাতার কথা” একটি নিরুঈ সংকলন । নাট্যকারের ইতিহাস জ্ঞান প্রমাণিত হয যখন তার *পূর্বাভাষে দেখা যাঁষ লিখেছেন “ইংলগ্রেশ্বরেব অভিমত শা আশা পধ্য* মহারাজা নন্দঞ্মারেখ ফাসী স্থগিত রাখিবাপ আবেদন করা হহ'ল , বিচাবপতি সে আবেদন অগ্রাহা ক্খলেন ; এমন পা'রপূর্ণ মথ্যা পেখার যাব সাহস তার পক্ষে কোন কর্মহ বিচিত্র নয। বালকোচিত চাপল্যে তিনি প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে লিখলেন “মনম্থর গঞ্জ প্রাসাদের দ্ধবার কক্ষ । নবাব সিরাজদ্দৌপাৰ মর্মর মৃতি। কে তার পুশ্পমাল্য পদতলে মহারাজ নন্দকুমান্ব ৷” এই দ্বুহ লাইনের সবই মি'যা। মনন্থরগঞ্জে কোন প্রাসাদ নাই তার দরবার কক্ষ ছরের কথা । সিরাজদ্দৌলাব মর্মর মুতি [ছল না_কারণ এই বিদেশী শিল্প ইষ্ট ইণ্ডিয়। কোম্পানী এদেশে আনেন। পুজ্পমাল্য অসম্ভব কারণ মীরকাশিমের আমলে সিবাজদ্োলাকে সম্মান জানাবার কে!ন সম্ভাবনা ছিল না| কেননা মীরকাশিম ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর বন্ধু হিসেবেই স্্ববাদারী পেয়েছিলেন । নন্দকুমীরও মীরকাঁশিষের প্রাসাদে অসম্ভব । কারণ উভয়ের মধ্যে অহিনকুলেব সম্পর্ণ ছিল। তাছাড়া কোথায় তথন রাজা নন্দকুমার খোভ নেওয়া যাক। ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্দে অর্থাৎ স্বীরজাফরের গদ্দী যাবার অব্যবহিত পরে তিনি ইংরেজ কোম্পানীর হাতে বন্দী । তারপর কলকাতায় বসে মীরকাীশিমের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে মগ্র। ১৭৬১ খ্রীষ্টাব্দ কর্ণেল কুটের দেওয়ান হয়ে পাটনায়। সেখানকার মভাঁবাজ। নন্দকুমার € ০৯ মীবকাঁশিমেব লাঞ্চনা নন্দকুষষারের মাস্তস্ক প্রস্থত। তারপর করলেন নিজের চ'করুশর উমেদারী। তৃগলীর ফেখ্জদারী পেলে তিনি মীরকাশিমের পিরুদ্ধাচরণ সার করবেন না একথা স্বীকার করলেও মীরকাশিম কিছুতেই নাঁকে ওই পদ দিতে রাক্গীহন নাই । ১৭৮৩ রমার্চ মাসের মধ্যেই নন্দকুমার ভানুজখানাঘ । খান শেকে তীকে মুক্ত কবলেন তার প্রাণের বন্ধু মীরত।ফর ৬ই জুলাই | ম্রতবাঁং 'এখ মধ্যে মীরক1প্মের প্রাসাদে গিষে, সিরাজ্দ্দৌলার মর্মর মুঞ্চতে / তর্বেব খাছিবে পরে নিলাম “ছেলে? ॥) মালা চণ্ডিষে তার গদওাজ কখন বসলেন তাযদি মাননীষ নাট্যক্কাব বাতলে দিতে পারেন, তণহলে অন্ত কারু কোন উপকার হৌক কি না হোক নাট্যকার মহাশষকে একবার ঘোর অনিচ্ছ] সত্তেও ইতিহাস নামক বস্টি নেছে চেডে দেখতে ভবে। এই প্রস্তাবনার পরই এই নাটক সম্পর্কে আলোচনা বন্ধ করা দ্ধ । কিন্ধ ঘেহেত তাতে মনে ভতে পারে ঘেনাটক আলোচনায় ফাকি জেবাব চেখা হচ্ছে সেক্ষন্য এই অনণ্তি অসভ্য শিল্পকর্মকে যথাবীতি বিচার কবা হবে। সব থেকে আশ্চধ্যের কথা দে এই নাটাকার, ক্ষীরোদপ্রসাদের 'বাজেয়'গ্ত, নাউকটি গল করে পাঠ করেছেন এবং সেখান থেকে নিজের স্থাবধামতে! বস্তগুশি 'আহরণ করেছেন। যেমন বুলাকীদাসের দলিল। কোথা 5 সত্য ঘটন! না বলে ছুইজন নাট্যকারই “গুরু ভগ্রির গচ্ছিত অথ? বলে মিথা*ব চাষ করে গেছেন | নন্দকুমার, নবাব মীরজাফরের সঙ্গে ছুই- বারই যে মন্ত্রীত্ব করেছেন এবং তার সব থেকে অন্থরঙ্গ রাজনৈতিক সহকশী ভিলেন একথা ।ল্থতে দুজনার কলমই ক।টকে গেছে । প্রথম অন্ধ ॥ এবারর নাটকের আলোচনা । প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে নাট্যকার দেখাচ্ছেন যে সিরাজ মহিষী লঙক! মনন্রগঞ্জের প্রাসাদে সিরাজদ্দৌলার দুঃখজনক ইতিহাস দর্শককে শোনাচ্ছেন । তারপর নন্দকুমার প্রবেশ করে বলছেন যে তিনি তার গোলাম নন্দকুমার। তারপর ইংরেজ বাছা শুনে লু্ফা হুঝুম করলেন যে নন্বকুমীর সিরাভের মর্মর মৃতির সম্মান রক্ষার জন্ত সেটিকে যেন স্থানান্তরে নিয়ে যান। নন্দকুমার তাই করলেন। ভ্যান্সিট্রার্ট ৫৫০ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। ও ওয়ারেন হেস্টিংদ প্রবেশ করে জানালেন থে তারা বেগম সাহেবার কন্তা উদ্মৎ জহুরতকে নিয়ে এসেছেন। উচ্মাৎ জহরৎ ও লুতফার মিলনে সাহেবরা 411599101/ 510171 দেখে তৃপ্ত ভলেন। বেগম জানালেন যে তিনি ওয়াটস্‌ সাহেবের পত্রী পুত্র কন্ঠাদের ৩৭ দিন নবাব জননীর মহলে আশ্রয় দিয়ে- ছিলেন। নুতন সাহেবদের পরিচয় পেয়ে তিনি হেস্টিংসকে জিজ্ঞাসা করছেন “অবরুদ্ধ কাশিমবাজার় কুঠী হতে পালিয়ে তুমিই নবাবের ভয়ে কান্তমুদীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলে না? তোমাকেই বুঝি কান্তমুদ্রী পাস্ত। ভাত আর চিংড়ি মাছ খাইয়ে বাচিয়ে রেখেছিল?” তার উত্তরে হেস্টিংস জানাচ্ছেন : “সে সময় কাণ্ট হামার বহুট উপকার করিয়েছিল তাই কাশীমবাজারে জায়গীর পাইল।” তারপর হেস্টিংস জানাচ্ছেন যে লুৎফা! প্রতি মাসে ৩০৫ তঙ্কা এবং তার কন্তা ১০* তঙ্কা করে বৃত্তি পাবেন। নবাবের ধনাগার লুঠন করে পলাশীর পর কে কতো অর্থ লাভ করেছে তার হিসাব দিয়ে লুত্ফা অতি অল্প অথ তার মাসিক বরাদ্দ করার জন্য সাহেবদের শ্লেষ করলেন। এমন সময় উম্মৎ ভহরৎ মসনদে বসতে চাইলেন । সাহেবদের হাত ধরে মসনদে উঠতে গিয়ে পড়ে গিয়ে কপাল কেটে রক্তপাত হল। তখন জগৎ্ণেঠ, স্বরূপচাদ ও রায়ছুলভ প্রবেশ করছেন। তারা জানালেন যে সিরাজ চপলমতি ছিল সত্য কিন্ত মীরকাশিম ৪বাত্মা কারণ তাদের হিরাঁঝিলে বন্দী করে রেথেছেন। তারা জানালেন থে মীরকাশিমকে নবাবী দেওয়া ঠিক নয় নাই । এমন সময় “অতকিতে মার্কার, গুগিণ, সমর প্রভৃতি সৈল্তাধ্যক্ষমহ নবাব মীরকাশিমের প্রবেশ ।” মীরকাশিম স্বকর্ণে শুনলেন যে জগৎশেঠ প্রভৃতি তাকে সরিয়ে মীরজাফরকে পুনঃ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তখন আর কালক্ষেপ না করে তাদের বন্দী করলেন। হেস্টিংস বাধা দ্রেবার চেষ্টা করে অসফল হলেন । ভ্যান্দিট্রাট জানালেন “মানী লোকেদের বন্দী করায় সন্ধি ভগ্ন হইল।” মীরকাশিম জানাচ্ছেন বিনা শুক্কে ব্যবসা চালিয়ে কোম্পানী আগেই সন্ধি ভঙ্গ করেছেন। তাই তিনি দেশের ব্যবসায়ীদেরও বিনাশুক্কে ব্যবস' করার অধিকার দ্িয়েছেন। হেস্টিংস চোখ গরম করে বলছেন যে এভাবে চললে তাঁকে মসনদচ্যুত করা হবে। মীরকাশিম তাতে গলাচড়িয়ে পলাশীর গর কি ভাবে প্রথমে মীরজাফর ও পরে তিনি চডাদামে মসনদ নিলাঘে ডেকে নিয়েছেন তার হিসেব দিচ্ছেন। হেস্টিংস আবার শাসাচ্ছেন বে মহারাজা নন্দবুমার ৫৫১ তাহলে লড়াই ভবে। মীবকাশিম বুক ফুলিয়ে /শানাচ্ছেন লডাইকে তিনি ভয কবেন না। তিনি আরও জাঁন'লেন যে কোম্পানী যাতে বিশ্বীস- বাতকদেব সাহাব্য না পাষ তাঁই কিনি জঙগ্গংশেঠ, শ্ববপ্টাদ ও বাযছুলভ প্রভৃতিকে পূর্বান্ধে গ্রেপ্তাব করে নিষে গেলেন মুঙ্গের তুর্গে । ম্থবাবো জীনালেন অমিয়েট ও হে শান্তির প্রস্তাব নিষে কাব কাছে মঙ্গেরে উপস্থিত, অন্তদিকে পাটনায় এলিস সাহেব কলকাতা থেকে নিষমিত গে শাবারুদ পাচ্ছেন। নবাবেব প্রস্থানের পর উত্তেজিত হেস্টিংস ঢানাচ্ছেন ন16 009077011 1711151 06111016 [১11118511া। 1” প্রবেশ করছেন মীবজাফর ও মণিবেগম | তাদের জানান হল যে “মসনদ” আবার নিলাম হবে। মণিবেগম “ঘত টাকা শাগে? তিশি দেবেন বলাষ স্থির হল যে মীবকাশিমকে সরিষে পুনরাষ মীরভাদবকে নব[বী দেওয়া]! হবে। ভ্যানিট্রাট অমনি ঝট করে শপথ কবে ফেললেন যে মীবঙ্গাফব পুনবায বাংল বিহ্কাব উভিষ্তাব এবাবী পাবেন। ছিতীয দৃশ্টে নন্দকুমারের গৃহে, কলকাত।য নন্দকুখার স্্রী ক্ষমাদেখীকে জাণাচ্ছেন য মীবকাশিম রাজ্যচ্যত হযেছেন এব” মীরঙগাফর মসনদে বসেছেন। মুশিদাবাদ ইংবেজ দখলে । কণ্টোযাব মুদ্ধে মীবকাঁশিম পবাভিত হযেছেন | নন্দকুমীর, নবাব মীবকাশিমের সঙ্গে দেখা করণে চলেছেন কাবণ “বুলাকী দাস শেঠ? তীাব বাল্যবন্ধু তাকে বলে গেছেন যে 1তনি যেন মীবকাশিমকে বেইমানদেব হাত থেকে রক্ষ। করেন। নন্দকুমাব জানাচ্ছেন ঘে মুশিদাবাদ অপধিকাবেব লম্য ইংবেজ সৈঙ্গাবা বুলাকীপাসের সমস্ত ধনলম্পান্তি লু? করেছে । সই সঙ্গে লুঠ হয়েছে অর্থ ও অলঙ্কার যা ননদকুমার তাব গুরুপতী ও গুরুক্ন্যাদের প্রণামী বাবদ তাব কাছে গচ্ছিত রেখেছলেন । দর্বন্থভাব| বুলাকীদাস তাই একট! দলিল লিখে দিয়ে গেছেন যে ক্ষতিপুবণ বাবদ ইংবেভ কোম্পানীর কাছে তার যে ছুলক্ষ টাক! পাঁওন! আছে সেই টাক] নন্দকুমার যেন আদায করে গ্ঞ্গত্রীর জন্য গচ্ছিত অর্থ শোধ করে নেন। গুরুকন্যার অকালবৈধবো গভীর শোক প্রকাশ করে নন্দকুমাব এই দপ্লিখানি ক্বীব কাছে রাখতে দ্িলেন। কিন্তু তার স্ত্রী অন্যষনস্কভাবে এই দলিলখানা দিয়ে তার কপালের পসিঁন্দুর মুছে ফেললেন । তারপর রেগে দলিল ছি'ড়তে চাইলেন। নন্দকুমার বাধা দিয়ে বললেন যে দলিল ছি'ডলে ব্রহ্ন্য 'অপছরণ করা হবে। নন্দকুমারের ত্রীর মনে হুল ফাসীর দডি কে তার গলায় ৫৫২ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা আটকে দিয়েছে । গুরুদাস এসে জানালেন যে নবাব মীরজাফবের একান্ত ইচ্ছা যে তিনি শর দেওয়ানী গ্রহণ করুণ। তাব উত্তরে তিনি কছু ইতিহাস »শান ছ্েন। বলছেন যে বদ্ধমান নদ্রীধা প্রভৃতি স্থানের রাজস্ব আদায় নিষে ওযাপেন ভেস্টিংসের সঙ্গে তাব তুমুল কলহ হয়েছে _তদবধি $17৮ংস তাব শত্রু । তাছাডা ফবাসী ল সাহেব ও শাহাজাদা আলী গওহবেখ সঙ্গে ষডঘগ্ত্র করায় তাকে নভরবন্দী থাকতে হয়েছিল । নন্দুকুমাপ অবশেষে মীরজাফরের দেওয়ানী করতে রাগী হলেন । কিন্তু এ আগে মীরক্াশমের খোজ নিতে তিনি চলশেন মুঙ্গেব। তুতীষ দৃশ্যে মুপের দুর্গে 5গৎ্খশেঠ প্রমুখ জনৈক বেতন ভোগী ইংরেজ সৈম্তকে উদয়শালাব গুপ্রপথ কোম্পানীকে গান।বার ৬ প্ররোচিত করছেন । ছানাচ্ছেন যে এই গুপ্তপথ দিয়ে এসে রাত্রিকীলে আক্রমণ করাই শ্রেয়। অবন্বে নিত্য গপ্পাক্নানের কন্যা নবাৰ তাঁদের যে পাঞ্জা পিযেছেন সেটি ইংরেজ সৈম্তকে দিয়ে তাকে দুর্গের বাইরে পশায়ন করার স্থযোগ করে দিচ্ছেন। মীবকাশিম বাত দস্বপ্র দেখে উসে আসছেন তাঁবপর বক্তিতি। কবে শোনাচ্ছেন যে কাটোযার পর গিরিযাতে তার পরাজয হযেছে কবল খৈন্যাধ্যক্ষদেঞ বেহমানীর ভন্য। বায়ছুর্লভ গ্ানাচ্ছেন যে উদযনালায় কেউ বিশ্বাসঘাতক তা কববেনা। জগতশেঠ ভার বাজেয়াপ্ত ধনভাগ্ারের কথা জাপ্ঠে চাইলে নবাব দেখাচ্ছেন যে জগৎশেঠের শেষ্ঠরত্ব গলি তিনি মালা করে গলায় পরেছেন। তারপর ঞানাচ্ছেন যে এই বহুমুল্য মণিশুগ্তার থেকেও তার কাছে অমূল্য চবে দেশের মাটি আর স্বাধীন বাংলার পথের ধুপো ! বললেন উদবণালাষ জয হলে তবেই তারা মুক্তি পাবেন । নন্দকুমার এসে জানালেন “ব জগৎশেঠেব প্রদত্ত পাঞ্জা যে ইংরেজ গোলন্দাজ মুঙ্গের হুর্গ থেকে বাইবে পাণিয়েছে সেই কোম্পানীর ফৌভকে উদয়নালা বিলের গুপ্ত পথে নিযে এসেছে। নন্দকুমার উদপয়নাজার পরাজয় সংবাদ দলেন। ভগৎশেঠরা মনে করলেন যে নন্ববুমার বুঝি মীরজাফরের পক্ষে মীরকাশিমকে বঙ্শী করতে এসেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই তাকে সাহায্য করতে রাঙ্ী কলেন। তখন ননঝুমার তাদেপ দেশদ্রোহী হলে তার ফল কি কুৎ্সিৎ হতে পরে সে বিষয়ে নাতিদীথ বক্তৃতা করলেন। কিন্ত তাতেও জগৎশেঠ প্রমুখ টললেন না। উপরহ্ধ তারা নিজেরাই শীরকাশিমের সঙ্গে নন্দকুমারকে বন্দী করার জন্য মহারাভা নন্দকৃম।র ৫৫৩ বধ পরিকর হলেন। এমন সময মীরকাশ্মি পুনরায় প্রবেশ করলে “্নঝুমার তাঁকে অযোধ্যা পার্সষে ঘাবার জন্য সনিবন্ধ অঠকোধ করলেন । তারপর মীরকাশিম নন্দ মারের দেশভক্তিতে আশ হযে তর গশায় "অমূল্য মণমাণিক্যের মালা পাঁরয়ে দিলেন। নানা বক্তৃতার পর জানালেন এ তার আনে নিভে গেছে কিন্ধ জলে উসেছে নন্দঞ্মারের আলো | দ্রেএএ্ষিতে নন্দট্ুমাই মীরপ। শমের একমাএ ৬র্তরাধিকারী। ভারপর একান্ত শাউঞায- ভাবে ডদযশাছয় কি ভাবে পর্াগ্ষ হন শুনলেন তারপর ঘর্ণাযমন গঙ্গা প্রবঃহের কাপ গহ্বরে জগৎশেঠ প্রমুখদের নিক্ষেপ করতে আদেশ দপেন। খিথাসঘাতক্র' বদ হলেন । শেষ হল গ্রথম অঙ্কের নাটক । আলোচনা ॥ এই অঙ্কের প্রতিছত্রামধ্যা এবং ভূল । নাট্যকার এ্াতভ'সি৯ বাকিদের নাম দিয়ে এক আফাটে গল্প রচনা! কবেছেন নার মদে 8তহাসের মগ নাই । "শক্েব সর্পে পুরোপুবি প্রবঞ্চনা করেছেন বশে নাগ্যকারকে দ'খী করা চলতে পাবে । ছুঃখেখ বিষ এতহাঁসক সত্যকে হর্দ কবাব কোন শাস্ত আমাদের "দশে রচিত হয় নাই খলেই এহ নাটকের নাট্যকার [বনা "ধায় তঞ্চকতা কর।র স্থযোগ পেস্জেছেন। প্রথম থেকেই তিনি কিভাবে মিথ্যার আশ্রয় শিযেছেন দেখা যাক। প্রথম জঙ্কের প্রথম দৃশ্যে জগৎশেঠ প্রভৃতির গ্রেপ্তার এবং দ্বিতীষ দৃশ্যে কাঁটোয়া ও শেষদৃষ্ঠে উধুয়ানালার যুদ্ধের বিবরণ দেওয়া হয়েছে । আতরাং সময়সীমা এই "মঙ্কে পাটনায় এলিসেব যুদ্ধ সজ্জা থেকে জগতশে5 এমখের হত্যার মধ্যেকার ঘটনায় বদ্ধ করা হলে দাড়াবে ১*৬৩ আীপান্দেন জানয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর মাসের ঘটনা । এই সময় সিরাজ-সঙ্গিনী লুৎ্ফউন্নিসা ( লুৎফা নয় ) ঢাকায় কন্তাসহ অবস্থান করছেন। এখানেই তিনি কন্যার বিবাহ দিয়ে ত্বার সন্তানদের প।লন পালন করেন ( সিরা”দ্দোলা গ্রান্ধ দ্রষ্টব্য )| কন্ত1 উন্মৎ সায়রা! বেগম সহ লুৎফউন্নিসা ১৭৫৮ থেকে ঢাকার অধিবাসী । তিনি বাংলায় ফিরে আসেন অনেক পরে। ১৭৮২ শ্রষ্টাবে বু তার ছুই এক বছর আগে। লুৎফউন্নিসা সম্পকীয় সব ঘটনাই কেবল বিভ্রম স্ষ্টির জন্ত ৷ মাসোহার। সম্পর্কেও ভূল খবর দেওয়া হয়েছে । ঢাকায় যাবার পর ৫৫৭ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা থেকে কন্পাসহ লুৎ্ফউন্নিসা মাসোহারা পেষেছেন অনুযুন একহাজার ছ*শো টাকা। এইখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে সিরাজ-মহিষী ওমদাৎ উন্নিসা ম'সোভারা পেষেছেন একহাজার টাকা। ভ্যান্সিট্রার্ট এবং “হস্টিংস মীরকাশিমের সঙ্গে দেখা কবতে মুঙ্গেরে উপনীত হন ৩০ নভেম্বর ১৭৬২ খ্রীষ্টাবে। এরা উভয়েই মীরকাশিমের বন্ধু ছিগেন। কিন্ত সন্ধির সর্ত যখন কাউন্সিল নাঁকচ করে দিল তথন ভ্যান্দিট্রার্ট ও হেস্টিংসকে “নবাবের দালাল? আথ্য! পেতে হয। হেংস্টিসের সঙ্গে ব্যাটসনের প্রকাশ্য কাউন্সিলেই বিতগ্ডা হয় এবং হেস্টিংসকে ব্য'টসন চপেটাঘাত করেন । নাটাকার এইসব এতিভাসিক গোপমালেব মধ্যে না থেকে সোলাম্জি হেস্টিংসকে দিনেই নবাঁবকে শাসাতে শুরু করেছেন। নন্দকম'ব চলেন মীরগ"ফরের বন্ধু তাই সিবাঁজ পক্ষীয় বা মীবকাশিষ পক্ষীযদের তিন ছিলেন শক্র। মীবকাশিমকে গদীচ্যুত করবার জন্ত নন্বকুমার সর্বদাই সাক্রধ ছিলেন । স্ৃতবাঁং ণুৎফউন্নিসার সঙ্গে নন্দকুমাবের কথোপকথন প্রক্ষিপ্ত এবং অসম্তব। নন্দকুমারের পক্ষে এই সময মুশিদাবাদে উপস্থিতি "অসম্ভব কারণ আগেই বলা হযেছে। হস্টিংস ও ভ্যান্সিট্রার্টের পক্ষেও এই সময লুৎফউন্নিসার সঙ্গে আলোচন! অসম্ভব কারণ হখন তারা মুঙ্গেবে নবাব মীরকা"শমের সঙ্গে আলোচনারত | এই আলোচনার পবই মীবকাশিম বিনাশুক্কে কোম্পানীর কর্মচারীদের বেআইনী ব্যবস। বন্ধ করাঁব আশ্বাস পান ও ব্যবস্থা করেন। মীরকাশিমের সধ্য জগতৎ্শেঠদের বিশ্বাসঘাতকতার কোন পরিচয় নাই । ১৭৬৩র এপ্রিলে মহম্মদ তকি খা! তাদের গ্রেপ্তার করেন। কয়েক মাস পবে নবাবের আদেশে তাদের বধ করা হয়। অবশ্য এই দলে মহারাজ! রায়ছুলভ ছিলেন না। ঠার মৃত্যু হয় রোগশধ্যায় অষ্টাদশ খ্রীষ্টাব্বের শেষ দশকে । মীরজাফর পুনরায় স্থবাদারী পাবার জন্ত কি করেছিলেন মীরকাশিম প্রবন্ধে আলোচিত হয়েছে । এখানে পুনকুলেখ নিংশ্রয়োজন । দ্বিতীয় দৃশ্যে নন্দকুমার কাটোয়] যুদ্ধের কথা শোনাচ্ছেন । তিনি তখন মীরজাফরের দেওয়ান । কারণ মীরজাফর নবাব হলেন ৬রা জুলাই, ১০ জুলাই ডুক্তি স্বাক্ষর হল আর ১৯শে জুলাই কাটোয়ার যুদ্ধ । বুলাকীদাঁসকে নিয়ে মিথ্যার জাল বোনা হয়েছে। ক্ষীরোদপ্রসাদকে অনুকরণ করে গুরুভগ্নির মহারাজা নন্দকুমার ৫৫৫ গাচ্ছত অর্থের গল্প শোনান হয়েছে। তারপর ঠে ধ গল দিষে সিঁদুর মোছা! এবং ফাসপীর কথা শানান নেহাতই ছেলেমান্ধী পরিকল্পন। | নন্দকুমারের মুঙ্গের যাত্রাও এই রকমের আর এক মিথ্যা । ক্ষীরোদপ্রসাদ অস্তত মীবকাশ্িমের সঙ্গে নন্দবুমারের শক্রত। বজাষ রেখেছেন কিন্ত এই নাটকে সতযকে উপেক্ষ। করে নন্দকুমাপ হযেছেন মীবকাশিমেপ পরমমিএ | তৃতীয় দৃশ্য একান্ত ভাস্তকর্ণ। কোথায় খুর্দের আগ কে।খায় ডধুয়ানালা। 2টি জায়গার মধ্যে কমপক্ষে ষাট মাহপ ব্যবধান! পাক দ্েখপে সন্দেহ হবে বে উধুয়ানাল! বুঝি মুঙ্দেরেবৰ বৈঠকথানা । এই নাটকে খোঠা পিদ্রর কোন ভূমিকা নাহ । পবটাহই ভ" হশেঠদের কাপসাছি বোঝাখার চেষ্টা করেছেন নাট্যকার তানা হনে বিশা কারণে ভগৎশেঠ প্রমুখদের হতা। করার কোন সঙ্গতি দেওয়া যায শা। দৃশ্ঠটিতে অতি নাটকীধ মিথ্যা বাহুল্য । নন্দবুূমার কথনও এই সময় মুঙ্গেরে বা মীরকাশমের সঙ্গে দেখা করতে যান নাহ । রায়ছ্লভও মীরকাশিম কতৃক নিত হন পাহ। খণাবাহুল্য দৃষ্টে বণিত ঘটনা প্রক্ষিপ্ত ও অনোতিহাসি+ । আবার মনে রাখতে হবে সরাজদোপার মতো মীরকাশিমও বাঙালী ছিলেন না। ব্যাক্তগত স্বাথছাড়! কোন ম্বাদেশিকতার পরিচয় তার মধ্যে পাওয়া যায় না। এই অঙ্কে নাট্যকার আরে! অনেক মিথ্যা শুনিয়েছেন। স্থবিখ্যাত কান্তবাবু তার লেখনীতে কেন যে “কান্তমুদী” কপে বণিত হলেন তা বোঝা যায় না। আগেই বল হযেছে হেস্টিংসের কান্তবাবুর বাড়ীতে আশ্রক্স গ্রহণ প্রচলিত গল্পমাত্র। তাঁকে আশ্রয় দেবার জন্ট কান্থবাবু কোন জায়গীর পান নাই। বস্তত এই সময় কান্তবাবু ক্তায়গার পাওয়া মেথ্য| কথা । যেমন মিখ্যা পান্তা ভাত ও চিংডি মাছ” থাবার গল্প । কান্তবাবু | ছলেন অগ্যন্ত রক্ষণশীল হিন্দু বৈষ্ব এবং তৎকালীন নিয়মানুসারে সম্পূর্ণ নিরামিষাশী। হেস্টিংস বন্দী হলে কাস্তবাঁবু অর্থ দিযে তাকে জামিনে থালাস করেন। হেপ্টিংস তারপর দীঘদিন ইংরেজ কুঠিতেই ছিলেন । ফ্পাসীদের সঙ্গে এবং আলি গওহরের সঙ্গে নন্দঝুমারের পত্রালাপকেও যেভাবে প্রকাশ করা হয়েছে তা মিথ্যা । মীরকাশিমের নামাক্কিত পাণ্থা নিয়েও এক অদ্ভুত গল্প কুষ্টি করা হয়েছে দশক-্ দের বিভ্রান্ত করবার জন্য | উধুয়ানালায় মীব্রকাশিমের পরাভয় নাটকীয় ঘটনা। কিন্তু কেন মীরকাশিমের আর্মানী ও ফরাসী সৈঙ্গাধ্য্ম গণ বিনাযুদ্ধে পলায়ন, ৫৫৩ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা! করলেন তা বোঝবার বা বোঝাবার ক্ষমতা নাট্যকারের আছে বলে মনে হয়না। হৃতরাং প্রথম অঙ্কের মিথ্যার হিসাব এই রকম ভবে £- ১। লুৎফউন্নিসা সিরাজের মহিষী নন। তিনি নাটকের উল্লেখিত সময়ে মুশিদাবাদে ছিলেন না। তার সঙ্গে ভ্যান্দিট্রাট বা হেন্টিংসের কথন দেখা ভয নাই | নন্দকুমারের সঙ্গে তার বাক্যালাপের কোন প্রমাণ নাই । নন্বকুমার পরোক্ষে নবাব মীরঙ্গাফরের দেওয়ান ভিস'বেতার সঙ্গে “নত করেছেন মীরণের সিরাজ সঙ্গিনীকে কেনবার ইচ্ছায় বাঁধা দেন »!ই। বরঞ্চ কোষাগাঁর থেকে অর্থ পাওয়া যাবে জানিযেছেন। মীরণ অবশ্য সেই অর্গে লুৎফউন্নিসাকে লাভ করতে না পেরে “একঝীড়ি, স্ত্রীলোক ক্রয় করে ভোগের নদীতে নিমজ্জমান হয়েছেন। ২। ভ্যান্িট্রার্ট এবং হেস্টিংস মীরঞ্াফরের রাজ্যচুতির পর থেকেই মীরকাশিমেখ সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছেন। তারা ১৭৬৫ তে কোম্পানীর কাজে হস্তফা দেয়া পধ্যন্থ সে বন্ধুত্ব ন) হয় নাই । ৩। মীরজাফর বা মণিবেগম চুক্তি করতে মুশিধাবাদে আসেন নাই । এই চুক্তি হয় কলকাতায যার প্রথষ ও প্রর্গান সর্ত অন্তযারী দ্বিতীয় বা'রেব নবাবীতে ও নন্দকুমার মীরজাফরের দেওয়ান হলেন | ৪ | মীরকাশিম প্রবন্ধে মীরকাশিম সম্পর্কে প্রচুর আলোচনা হয়েছে । নন্দকুমার ছিলেন ীরকাশিমের শক্র পক্ষীয় স্থতরাং তাকে বিশ্বাস করার কোন প্রশ্ন নাই। সন্দেহ থাকে না যে হাতের মুঠোয় পেলে নন্দকুমারেরও সলিল সমাধি তৈরী করতে মীরকাঁশিম দ্বিধা করতেন না। মীরকাশিম বাঙালী ছিলেন না৷, ছিলেন পারশ্যবাসী। সুতরাং “স্বাধীন বাংলার পথের ধুলো” সংলাপ একান্ত নাটকীয় এবং অবাস্তব । দ্বিতীয় অন্ধ ॥ প্রথম দৃশ্যে সিরাজের কবর খোসবাগে নন্দক্মার ও মণিবেগম আলাপরত । মণিবেগম জানাচ্ছেন ধে মীরজাফর, নাজামাদ্দোল।, এবং সৈফুদ্দোল। গত খয়েছেন। এখন নবাব মীরজাফব্ের আর এক নাবালকপুত্র মোবারেকউন্দোলা এবং তিনি তার অভিভাবক । নন্গকুমার শোনাচ্ছেন যে ছিয়াত্তরের মগ্বস্তর' সমঘ্ত বাংলাকে শ্বাশান করে দিয়ে গিয়েছে । মন্বস্তরের জন্ত দায়ী দেওয়ান মহারাজ নন্দকুমার ৫৫৭ £রজা খা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে অনুপ্রাণিত ই ইত্ডিয়া কোম্পানীর কর্মচারী- গণ । মণিবেগম জানাচ্ছেন যেতিনি দেড় লক্ষ টাকা হস্টিংসকে উৎকোচ দিয়েছেন অভিভাবিকা হবার জন্তু । নন্দকুমার শোনাচ্ছেন যে তার পুত্র গুরুদাসকেও মোবারেকউদ্দৌলার "ৃহকাধ্যের দেওয়ানী পাবাৰ গন্য প্রচুর উৎকোচ দিতে হযেছে হেস্টিংসকে | বলছেন .ঘ তিনি যর্দ .হস্টিংসকে রেভা খার থেকেও বেশী অর্থ দিতে পারতেন তাহলে রেঙ্গা খাব বদলে দেওয়ানী তারই হত। তারপর শোনাচ্ছেন যে যেমন করেই হোক কোম্পাণীর দেওযাঁনী তাকে পেতেই হবে। তিনি আরো জানাচ্ছেন নে বাংলার »ঠকম্পা, ভিত্ারন পুৎফা এবং তার কম্ঠাকে ঘিরে রয়েছে । তার ইচ্ছা যে মোবারেকউন্দৌলার সঙ্গে সিরাজ দুহিতার বিবাহ য়ে তিনি স্বাধীন বাংলার গৌরব পতাকা আবার উড্ডীন করবেন। এন সময় কবরে ফুল দিতে দিতে গান গাইতে গ'ইতে লুৎফার প্রবেশ । তিনি এসেই চিনলেন বে এই ত্রাঙ্গণই সিরাছের মর্মরমূৃতি তৈরী করিয়েছেন। লুৎ্ফা শোনালেন ঘে করবি রাম প্রসাদের সঙ্গে সিরাজের সাক্ষাতের কাহিনী । জানালেন থে সিরালের মর্মর- মৃতি তিনি “মা-গর্জা'র কোলে ডুবিয়ে দিয়েছেন। তারপর তিনি মণিবেগমকেও চিনতে পারলেন । বললেন সে ছিল একদশ ঠাঙ্গার তঙ্কার বাঈজশ, আদিবাস দল্লী অথবা সেকেন্দ্রা। মাঁণবেগম ববাহের প্রস্তাব করলেন। লুৎ্ফা .বরগে বললেন যে তাঁর এই বিবাহে মত নাই । তারপর সিরাজ কন্থা উন্মৎ ভ্হরতের সঙ্গে নাবালক নবাবের খেলা এবং নাবালক নবাবকে তার প্রত্যাখান দেখান হয়েছে। দ্বিতীয় দৃশ্যে কলকাতায় নন্দকুমারের বাজীতে নন্দকুমার স্ত্রীকে শোনাচ্ছেন থে রাণী ভবানীর বাহারবন্দ পরগণ! হেস্টিংস তার মুন্সী কান্তমুদীর ছেলে লোকনাথ মুদ্দীকে দিয়েছেন। জানাচ্ছেন যে জোর করে প্রজাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। গুরুদাসকে বলান হয়েছে যে হেস্টিংস বলেছেন বে রাণী ভবানী শ্রীলোক বলে তার হাত থেকে জমিদারী কেড়ে নেওয়া হয়েছে । আরো বলছেন যে বিলাতের পরিচালক সমিতির হুকুম হয়েছে রেজা খাকে গ্রেগার করবার । তারা নাকি আরো বলেছেন যে যোগ্যতম ব্যক্তিকে দেওয়ানী দিতে এবং নন্দকুমারের থেকে ষোগ্যতম ব্যক্তি আর কে আছে। গুরুদাস আশা করছেন যে তার পিতার দেওয়ানী পাবার ৫৫৮ বাংল। প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। সঙ্গে সঙ্গে বাংলার ছুঃখী প্রজাদের মুখে হাসি ফুটবে । তারপরই এসেছে বুলাকীদাস শেঠের দলিলের কাহিনী এবং আবার সেই গুরুকন্তার গল্প। তারপর গুরুদ্দাস বলছেন “কোম্পানী বুলাকীদাসের হয়ে আমাদের টাকা শোধ কে দিয়েছে এবং দপিল ফেরৎ নিয়েছে ।” তারপরই শেখ কামালুদ্দিন এসে নিজ্রে পারচয় দিচ্ছেন গুরুদাসের কাছে। জানাচ্ছেন যে তান হিজপী নিমক মহলের একজন ইঞ্জারাদার। তার আজি হল যেগর্ধাগোবিন্দ সিংহ ও আককাডকেন সাহ্বে তার সমুহ ক্ষতি করেছেন। ছ্ার্ববশ পক্ষটাকা গঙ্গাগেবিন্দ সিংহ উৎকোচ চেয়েছেন এবং পনের হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। তার এই অভিযোগ তিনি নন্দকুমার মারফৎ্ উত্থাপন করতে চান। তৃতীয় দৃশ্য রেভা খার প্রমোদ কক্ষ। নাচগান ও সরাব চলছে । এমন সময় ক্ষুধার্ত জনগণ বাইরে চাপের জন্ঠ হানা দিন। ছিয়াত্বরে মদ্বপ্তরের কথ। শোনান হণ। নন্দকুমার এসে ভানালেন যে রেজা খু। পাহাড পারমাণ তুল জম করে রেখেছেন বলেই এই দুঙিক্ষ হয়েছে । মিাঁলত হিন্দুমুসলমানের চেষ্টায় বাংলাকে বাচাবার কথা বললেন। রেজ! খা রাজী হলেন না তথন নন্দবুমারের হুকুমে, কারণ তিনি নাকি তখন 09৬/৪1 580৪, মিডিলটন সাহেব রেজা খাকে গ্রেপ্তার করণ। জানাল ইহাই হেস্টিংসের আদেশ । তারপর গঞ্গাগোবিন্দ এলে তাকে উৎকোচের মর্থ কামালুদ্দিনকে ফিরিয়ে দিতে বলছেন। জানাচ্ছেন যে জোসেফ ফাউককে তিনি সেই দরখাস্ত সম্পকে ব্যবস্থা করতে বলে্ছেন। তখন গর্দসাগোবিন্দ বললেন যে স্বয়ং কামালুদ্দিন দরথাস্ত ফেরৎ চাইতে এলে তিনি সেট] “ফরৎ দেবেন । অবিলম্বে কামালুদ্িন নিজে এসে সেই কথা! গানাল। নন্দকুমারকে দরথান্ত ফেরৎ দিতে অস্বীকার কর।য় তিনি জানাচ্ছেন যে হেস্টিংসের সর্বকর্মের নিত্য সহচর হলেন গঙ্গাগোবিন্দ ও কান্তমুদদী । শাপাচ্ছেন ষেআগে রেজা খার বিচার হোক তারপর কউম্সিলে তিনি প্রত্যেকের স্বরূপ উদ্ঘ।টন করবেন। এমন সময় হেস্টিংস "এসে পানাচ্ছেন যে রেজা খাকে তিনি মুক্তি দিয়েছেন। নন্দকুমার বলছেন খে দশ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়ে হেস্টিংস রেজা! খাঁকে মুক্তি দরিয়েছেন। বিশলক্ষ টাকা পেলে এতক্ষণ তার বিচার শেষ হয়ে যেত। হেস্টিংস তখন নন্দঝুমারকে সাবধান করে দিচ্ছেন। নন্দকুমার জানাচ্ছেন ষে মহারাজা নন্দকুমার €€৯ বিচারের দ্রিন এসেছে । তিনি হেস্টিংসের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শ্বৈরাচারের অভিযোগ আঁনবেন। সেই সঙ্গে আনবেন রাণী ভবানীর বাহারবন্দ পরগণা কেড়ে নেবার, এবং মণিবেগম ও মহম্মদ্র রেজ। খাঁর কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ । অবশেষে তিনি জানিয়ে যাচ্ছেন যে মুন্নি নবকৃষ্ণ, মুন্সি গঙ্গাগোবিন্দ ও কান্তমুদীর মতো তার পারিষদদের মাথা হুইয়ে দিতে হেস্টিংস সক্ষম হবেন কিন্ত নন্দকুমারের উচ্চ শির ভেঙে দিতে পারলেও তাকে কখনও হুইয়ে দিতে পারবে না। এই কথা বলে চলে গেলে দ্বিতীয় অঙ্ক সম'গ্ড হল। হেস্টিংদ ঘোষণ করলেন যে তিনি মহারাক্ত নন্বকুমারের শত্রু । আলোচনা ॥ পূব অঙ্কের মতো! এই অঙ্কেও মিথ্যার রোসনাই লেগেছে । একদিকে ১৯৪২এর ছুভিক্ষ অন্যাদকে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ জনতী নাট্যকারের কলমের ডগ| থেকে সব সঙ্কোচ সরিয়ে দিল। উনি ১৯৪২এর ঘটনাকে আরোপ করলেন ১৭৭৩-৭৪ খ্রীষ্টাব্দে । ইতিহাস কোথায় থাকল সে খোজে দরকার কি! কেস্টিংদ এবং তার সাঙ্গপাঙ্গ তাই হয়েছেন ১৯৪২ খ্রীষ্টাব্দের ইংরেজ শান্তর প্রতিভূ । রেক্তা খা হয়েছেন বাংলার তৎকালীন মন্ত্রী নাজিমুদ্দিন ও স্ুরাবদ্দীর প্রাতিনিধি। মনের আনন্দে নাট্যকার যা ইচ্ছ৷ হয়েছে তাই লিথেছেন। সময়ের কথ! বিবেচনা করে প্রতিবাদ করতে কেউ সাহসী হন নাই। নাট্যকারের মিথ্যা কায়েমী আসন পেয়েছে । অলীক, অসম্ভব ও অদ্ভুত ঘটনা দর্শককে বিন! দ্বিধায় পরিবেশন কর! হয়েছে। সৈফুদ্দৌোলার নাবালকত্ব এবং হেস্টিংসের সঙ্গে নন্বকুমারের বিরোধ নাটকের কালকে ১৭৭৩-৭৪ খ্রীষ্টাব্দে স্থাপনা করেছে । আগেই বল! হয়েছে যে এই সমস্ন লুৎফউন্লিসা ঢাকায় । তার কন্ঠ! ঢাকাতেই বিবাহিতা হন এবং চারটি শিশুকন্ত। রেখে ১৭৭৪ গ্রীগ্াবে উন্মৎসায়র। বেগম পরলোকগমন করেন। স্তরাং বালিকা উন্মৎংজহরৎ কল্পনার চতিত্র। প্রথম দৃশ্তের সমস্ত ঘটন!ই অলীক | নন্দকুমার পুত্র গুরুদাসের দেওয়ানী লাভ নন্দকুমারের হেস্টিংসের, কাছে উমেদারীর ফল। এই বিষয়ে পত্রাংশ প্রস্তাবনায় উদ্ধৃত করা হয়েছে। মগিবেগম অবশ্য গুরুদসেকে প্রথমে গ্রহণ করতে রাজী হন নাই, কারণ তার ৩৩ ৫৬০ বাংল এঁতিহাসিক নাটক সমালে'চনা ভয় ছিল যে গুরুদাস তার পিতার ছারা প্রভাবিত হবেন। হেস্টিংস মণি- বেগমকে বুঝিয়ে রাজী করান। সুতরাং নন্দকুনারের সঙ্গে মণিবেগমের যোগাযোগ অসম্ভব । পরবর্তীকালে যখন মণিবেগমের অভিযোগ নন্দকুমার কাউন্সিলে পেশ করলেন । মণিবেগম প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জানালেন যে সে পত্র জাল। তিনি নন্দকুমারকে কোন পত্র দেন নাই । মণিবেগমের হেস্টিংসকে অর্থউপঢৌকন দ্রেবার ঘটনা সত্য। এই বিষয়টি হেস্টিংসের ইমাপীচমেণ্টের সময় আলোচিত হয়। তথন হেসিংস প্রমাণ করেন যে সমুদয় নজরাণ! যথারীতি কোম্পানীর কোষাগারে তত্কালীন নিয়ম অনুযায়ী জমা দেওয়। হয়েছে । কোম্পানী নিয়ম করেন বে কোম্পানীর কর্মচারীগণ যদি কোন উচ্চমূল্য উপহার পান অহলে কোম্পানীর ধনভাগ্ডারে সেই উপহার প্রত্যর্পণ করতে হবে। দেই নিয়মমতে। কোম্পানীর ধনাগারে মণিবেগমের দেওয়] অর্থ জমা পড়েছিল । রাজ! গুরুদান বা মহম্মদ রেজা থা হেস্টিংসকে কোন উপহার বা উৎকোচ দিয়েছিলেন এমন কোন প্রমাণ নাই । নন্দকুমার এগার পাতা জুড়ে যে অভিমোগ ১১ইমার্চ ১৭৭৫ শ্ত্রীষ্টাব্দের কাউন্সিলের সভায় পেশ করেন তাতেও এই ছুইটি অভিযোগ নাই। সুতরাং বিনা ছ্িধায় ধরে নেওয়া যেতে পারে এই ছুটি অভিযোগই নাট্যকারের মস্তিক্ষপ্রস্থত। হেস্টিংস ভারতের তথা বাংলার কত বড় বন্ধ ছিলেন নাট্যকার বোঝবার চেষ্টা করেন নাই বলে হেস্টিংসের হীনচরিত্র অঙ্কন করতে তার দ্বিধা হয় নাই। রামপ্রসাদ সম্পকীয় গল্প প্রচলিত কথিক1 মাত্র। সিরাজ্দ্দৌলার পক্ষে রামপ্রপানকে বোঝবার সময় ছিল না কারণ তিনি বাংল! ব৷ বাঙালীর সম্পর্কে উৎন্ুক ছিলেন না । ছিতীয় দৃশ্যে নাট্যকার তুলের স্বর্গ তৈরী করছেন! বাহারবন্দ জেলা হেস্টিংসের বেনিয়ান কান্তবাবুর পুত্র লৌকনাথের পাওয়া সম্পর্কে বার্ক হেন্টিংসের ইমপীচমেণ্টের সময় অভিযোগ এনেছেন । কিন্তু এই' অভিযোগ থণ্ডিত হয়েছে । প্রমাণিত হয়েছে যেরাজন্ব বৃদ্ধি করতে রাজী না হওয়ায় ১৭৪৮ গ্রীষ্টাব্ধে রাণী ভবানীর হাত থেকে বাহারবন্দ নামে নবাবের জায়গার 'পরগণ! তুলে নেন নবাব আলিবন্দী খা। তদবধি এটি নবাধী জায়গীর। উত্তরাধিকার সুত্রে এই জায়গীর পেয়ে নবাব সিরাজন্দোলা এটি দেন মহারাজ মোহনলালকে । পলাশীর যুদ্ধের শেষে দীর্ঘদিনের অজ্ঞাতবাসের পর মোহনলাল মহারাজ। নন্দকুমার ৫৬১ কোম্পানীর কাছে অভিযোগ করেন যে গার এই জায়গীরের আদায় কার্ধ্য তার অনুপস্থিতিতে দিনাজপুরের রাজা গ্রহণ করেন। এখন তার প্রাপ্য আদায়ী অর্থ দিনাজপুরের রাজ! ফেরৎ দিচ্ছেন না।৪৬ এই সময় জুডে কিন্ত খালসাবিভাগের খাতায রাণী ভ্বানীর নাম খারিজ করা হয় নাই। ১৭৭৪ গ্রগ্াব্দে যখন বাহারবন্দ পরগণা লোকনাথকে দেওয়। হয় তখন এই নাম খারিজ হয় বলেই বিভ্রম সৃষ্টি হয়েছে ।৪৭ এ বিষয়ে ব্রাণী ভবানী স্বয়ং সত্য অবস্থা মেনে নিয়েছেন।৪৮ না মানলে বিপদ ছিল কারণ তাহলে ১৭৪৮ থেকে ১৭৭৪ পর্যন্ত এই ছাব্বিশ বছরের রাজস্ব তার দেয় হত। তাছাড়া কোম্পানী ১৭৬৮-৬৯ খ্রীষ্টাব্দে অন্তান্ত থাস সম্পত্তির সঙ্গে বাহারবন্দ পরগণাঁও বন্দোবস্ত করেন। এই বন্দোবস্ত হয় হেস্টিংদ গবর্ণর হবার বা বাংলায় ফিরে আসবার আগে । সেই বন্দোবন্তে কেউ কোন বাধ! দেন নাই । নাট্যকার বার্কের অভিযোগগুলিকে প্রায়ই ব্যবহার করেছেন। জানতেন না যে বার্কের কোন অভিযোগই প্রমাণিত হয় নাই বরঞ্চ রঙ্গিনকথার ফাহ্সে সভ্যদের বিভ্রান্ত করার জন্ত ছেস্টিংসের ইমগীচমেণ্টের পর বার্কের বিরুদ্ধে এক প্রস্তাব গ্রহণ করে তাকে চিরদিনের মতো “হাউস অফ কমনস্” থেকে বিদায় দেওয়! হয় । রেজ! খাঁর গ্রেপ্তার ও মুক্তির কাহিনী কেবল কল্পনা মানত্র। নাট্যকার অহেতুক বিভ্রম কৃষ্টি করেছেন নিজের অজ্ঞতা ঢাকা দেবার জন্ত। তাই ইতিহাসের ছুই এক ঘটনা শোনাতে হবে। ১৭৬৫ খ্রীষ্টাবে দিল্লীর বাদশাহ কেম্পানীকে বাংল! বিহার উড়িয্ঘার দেওয়ানী দ্িলেন। তদনুযায়ী দিল্লীর বাদশার অধীনে কেঃম্পানী হলেন বাংলাশ্গবার রাজস্ব আদায়ের অধিকারী এবং বাদশাহকে বাংল সুবার প্রাপ্য বাদশাহীরাজন্থ দেবার জামিনদার । বাংলার নবাবের হাতে থাকল কেবল শাসন শৃঙ্খল] রক্ষ। এবং বিচার বিভাগের ভার। পারস্য জাতীয় মহম্মদ রেজা খা হলেন কোম্পানীর অধীনস্থ দেওয়ান এবং রাজ] গুরুদাস হলেন নবাবের অধীনস্থ দেওয়ান। একটু পরেই গঙগ। গোবিন্দ সিংহের কথা আপবে, তাই জানিয়ে রাখা ভাল যে তিনি ছিলেন এই সময় 'রাজস্ব বিভাগের দেওয়ান । তার স্থান রেজা খীর অধীনে । রেজা খা পারন্যতে জদ্মগ্রহণ করেন ১৭০৭ ্রীষ্টাকে। পরে নবাবু 'আলিবন্দী তার কর্সক্ষমতায় আরুষ্ট হয়ে তাকে দিল্লী থেকে স্ব! বাংলায় নিয়ে আসেন। ১৭৬৯ গ্রীষ্টাবধে চট্টগ্রামের ফৌজদার হিসাবে তার কর্মদ কতা মনে ৫৬২ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা রাখার মতো । এমনকি নবাব মীরকাশিমও তার কর্মক্ষমতার তারিফ করতেন। সেখান থেকে তার পদ্দোল্লতি ঢাকায়। ঢাক থেকে লঙ্ড ক্লাইভ ১৭৬৫ শ্রী্ান্দের দেওয়ানী পাবার পর তাঁকে কোম্পানীর প্রধান কর্মচারী ব! দেওয়ান পদ দেন। ইংরেজ মন্ত্রণাঙদাতাসহ রেজ। খা প্রথমে মুশিদাবাদে ও পরবর্তীকালে কলকাতায় অফিস করেন। তার সঙ্গে হেস্টিংসের বিরোধ শাসনকার্ধ্য সংক্রান্ত মতদ্বধত| 1৪৯ বরঞ্চ হেপ্টিংস ভয় করতেন যে রেজা খ তার বিপক্ষীয় দলে যুক্ত হলে তাদের ক্ষমতা অত্যন্ত বৃদ্ধি পাবে । এই জন্তেই হেন্টিংদ তার নিজের দেওয়ান কাস্তবাবুর সঙ্গে রেজা থার বন্ধুত্বে কথনও বাধা দেন নাই। বয়সের তঞ্ষাৎ প্রায় তের বছর হলেও রেজা খাঁ ও কাস্তবাবুর বন্ধুত্ব আমৃত্যু অটুট। (মহম্মদ রেজ! খাঁ সম্পর্কে অধুনা প্রচারিত গবেষণ। গ্রন্থ জরষ্টব্য )1৫০ নন্দকুমার়ের সঙ্গে হেস্টিংসের বিরোধের কারণগুলি প্রস্তাবনায় লিপিবদ্ধ হয়েছে । দেখা যাচ্ছে নাট্যকারের সে সম্পর্কে ধারণ! অত্যন্ত অস্পষ্ট। তৎকালীন রাজনৈতিক কারণগুলি ন! জেনেই তিনি কল্পনার পাথা মেলেছেন । তিনি জানতেন না৷ যে ১১ই মার্চের অভিযোগের আগে নন্বকুমারের সঙ্গে হেস্টিংসের প্রত)ক্ষ সংঘর্ষ হয় নাই কেবলমাত্র পরোক্ষ সংঘর্ষ হয়েছে । সুতরাং প্রতাক্ষ বিরোধের থে ছবি তিনি একেছেন তা৷ অসম্ভব ও মিথ্যা । হেস্টিংস অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক লোক ছিলেন কাগজে-কলষে তার কাজকর্মের প্রমাণ থাকত যে জগ্ত কাউন্সিলে অথবা ইমগীচমেণ্টের সময় তাকে দোষী সাব্যত্ত কর! যায় নাই । কামালুদ্দিন সম্পূর্ণভাবে নন্দকুমারের লোক ছিলেন। মুনের মহল ইজার! নেবার সময় স্বয়ং রাজা গুরুদাস ও নন্দকুমারের জামাতা রাধাচরণ তার সিকিউরিটি বা জামিনদার হয়েছিলেন বলেই কামালুদ্দিনের মতো! একজন অজ্ঞাতকুলণীল কোম্পানীর কাছ থেকে ক্জলীর ইজারাদারী লাভ করেন। অর্থের পরিমাণ দেখলেই বোঝা যায় যে কামালুদ্দিন কার জোরে হিজলীর নিমকমহলের ইজারাদারী গ্রহণ করতে সাহসী হয়। জামিনদারগণই অনেক ময় হতেন সত্যকাঁর ইজারার্দার_নাশ যার দেওয়া হত তিনি হতেন নাম মাত্র । এখানে সকলের অবগতির জন্ রাজস্ব বিভাগের ১২ই অগাষ্ট ১৭৭২ খ্ীষ্টাব্ষের অনুলিপি ও অনুবাদ দেওয়া হচ্ছে ।৫১৯ স্মরণে রাখতে হবে যে ম্থারাজা নন্দকুমার ৫৬৩ এই সময় হেস্টিংসের সঙ্গে নন্দকুমারের কোন বিরোধ ছিল না বরঞ্চ এই সময়েই হেস্টিংস নন্দকুমার পুত্র গুরুদ্বাসকে নবাবের দেওয়ান নিযুক্ত করেন মণিবেগমের আপত্তি সত্বেও । নিমকমহল ইজারাদার তম্ত জামিনদাৰ প্রতিবছর যে পরিমাণ অর্থ ও লবণ বুদ্ধি করতে হবে। হিজলশী কামালুদ্দিন খা গুরুদ্দাস ও বাধাচরণ ৩৫০০০ টাকা ৩৫০০ মণ তমলুক আবছুল রহমান রাষতন্ দত্ত ১৫০০৩ ১) ২৩০০০ ৯১ জলামুথা রাজা বীরনারায়শ বৈগ্ভনাধ রায় ৭৬০০ » ১৫০০০ », স্বজামুথা রাজামহেন্দ্রনারায়ণ রঘুনাথ রায় ৫০০০ ,, ৭০০০ », মহিষাদল কালী প্রসাদ শাস্তিরাম সিংহ ২১৫০০ ৮ ২৭০০০ ৮ সুতরাং নাটকে গুরুদ্বাস যে কামালুদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করছেন তিনি কে তা যেমন মিথ্যা তেমনি মিথ্যা গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের সঙ্গে কামালুদ্দিনের বিরোধ। পরবর্তীকালে ঠিক মতে! অর্থ না পাওয়ায় কামালুদ্দিন নন্দকুমারের বিরুদ্ধাচবণ করেন। কামালুদ্দিনকে ঘুটি করে নন্মকুমার থে ভুয়াচুরির অভিযোগ এনেছিলেন তা বানচাল হয়ে যায় কারণ কামালুদ্দিন মিথা৷ অভিষোগেব শান্তির খবর পেয়ে এবং আশা মতো অর্থ না পেয়ে পিছিয়ে যান। তৃতীয় দৃশ্টে ছিয়ান্তরের মন্বস্তরকে নাটকের মধ্যে আনার কোন কারণ বোঝা যায় না। ১৭৭৪ খ্রীষ্টাব্দে দেশে পর্যাপ্ত শহ্য এবং কোন থাগ্ভাভাব ছিল না। নন্বকুমার এ সময় 409৬481। 58৪8+ ছিলেন না সুতরাং মিডিলটন সাহেব তার ভ্ৃকুমে যে কিছু করবেন না তা বলাই বান্ল্যা। এ বিষয়টিও প্রস্তাবনায় স্পষ্ট করে লেখা হয়েছে । গঙ্গাগোবিন্দ ও কামাপুদ্দিন জম্পর্কে পুনরুক্তি নিশ্রয়োজন । সবশেষে দেখা বাচ্ছে যে নাট্যকার কয়েকজন তৎকালীন, সার্থক ব্যক্তির সাফল্যে ইর্যাতৃর । তাই মহারাজা নবরুষ্খ তার কলমে মুন্নি আখ্য] পেয়েছেন, দেওয়ান গজাগোবিন্দ সিংহ তখন এক হাজার টাকা যাসিক মাহিনায় কোম্পানীর থালসা বা রাজস্ব বিভাগের পরিচালক-_ তাকেও মুম্নি আখ্য। পেতে হয়েছে। বস্তত মুন্সি শব্দের অর্থ নাট্যকারের জানা নেই। মুন্সি হচ্ছেন শিক্ষক। নবরুষ্ঝ প্রথম জীবনে মুন্সি ছিলেন। তিনি কোম্পানীর কর্মচারীদের ফারসী ভাষা শিক্ষা দিতেন এবং সেই ৫৬৪ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা স্যত্রেই তিনি ক্লাইভের বেনিয়ান হন। বুলাকী দাস শেঠের ফারসী দলিল: ইংরেজী ভাষায় অন্বাদ করার জন্য মাননীয় স্ুপ্রীমকোট নবর্কষ্ণকে নিযুক্ত করেন । তথন নন্দকুমারের পক্ষ থেকে কোন আপত্তি হয় নাই | গঙ্গাগোবিন্দ কথনও মুন্সি ছিলেন না। প্রথম জীবনে তিনি নন্দকুমারের মতে! আমিন ছিলেন । তার কর্মদক্ষতার নজীর পাওয়! যায় তখনই যখন দেখা যায় যে তাঁর অবসর গ্রহণের পর খালসা বিভাগ চালাতে চারজন ইংরেজ কর্মচারীর প্রয়োজন হল। এই সব অত্যন্ত মেধাবী বাঙালীর প্রতি যোগ্য সম্মান না দেখিয়ে নাট্যকার তাঁদের অপযশ গাইবার চে্া করে শুধু নিজের অজ্ঞতা ও হীনমন্যতা প্রমাণ করেছেন । নাট্যকারের সব থেকে বেশী বাগ হেস্টিংসের দেওয়ান কান্তবাবুর ওপর । তাকে তিনি ক্রমান্বয়ে 'কান্তমুদদী” লিখেছেন এমনকি তার ছেলেকেও “লোকনাথ মুদদী” লিখতে তার কলমে বাধে নাই। কাস্তবাবু সম্পর্কে অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীর প্রায় ছুই হাজার কাগজের কোথাও তার সম্পর্কে এই হীন মন্তব্য নাই । বস্তত নাট্যকারের ষনোবৃত্তির ব্যক্তি ছাড়া এই রকম হীন উক্তি কেউ কল্পনাও করেন নাই। তার পুত্র প্রথমে লৌকনাথ নন্দী ও পরে মহারাজ লোকনাথ নায়েব নাজিম বাহাদুর নামেই পরিচিত হয়েছেন । রাণী ভবানী ও অন্তান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগস্ুত্র যে সব কাগজে পাওয়া যায় সেখানেও তারা এই ভাবেই আখ্যাত । হেস্টিংসের সঙ্গে চরম বিরোধের সময়ও কান্তবাবু স্বনাষেই আখ্যাত।৫২ 'ভুলে গেলে চলবে না যে এই সময় তিনি 08519 ০8101)917/-র পরিচালক ! কিন্তু নন্দকুমার সম্পর্কে কাউন্সিলে তিনি কোন মতামত দেন নাই। সে ভার ব্রাঙ্গণ পণ্ডিতদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন । নাট্যকারের এই কর্ম ক্ষমার অযোগ্য । নিজের অজ্ঞতা ঢাকতে গিয়ে নাট্যকার ষে রূপকথা শুনিয়েছেন, তা যদি এমনি অহেতুক চরিত্র হননের দায়ে অঙ্লীল না হত, তাহলে হয়তো তার এই বিভ্রম হাসির উদ্রেক করত । কিন্ত বর্তমান নাটকে তিনি নন্দকুমারকে শহীদ” করার নেশায় ইচ্ছাঞ্তভাবে মিথ্যাচার করেছেন। | | তৃতীয় অঙ্ক ॥ এই অঙ্কেও তিনটি দৃশ্য । প্রথম দৃশ্ত নন্দকুমারের গৃহদংলগ্ প্রাঙ্গন সেখানে মহারাজা নন্দকুমার ৫৬৫ কাউন্সিলার ও কোম্পানীর প্রধান সেনাপতি ক্লেভারিং নন্দকুমারকে জানাচ্ছেন যে হেস্টিংসের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের মামলা চাপা পড়ে গেল । কাষালুদ্দিন তার বিরুদ্ধে এনেছেন ষড়যন্ত্রের মামলা । দেশের কল্যাণ কামনায় হেন্টিংস ও তার স্থার্থলুব্ধ সহচরদের যাতে উচিত শাস্তি হয় এটাই জনগণের পক্ষে তার প্রধান আবেদণ। ক্লেভারিং জানাচ্ছেন থে তিনি মনসন ও ফ্রান্সিস সর্বদাই হেস্টিংসকে শাস্তি দিতে অভিলাষী কিন্তু তার জন্ত দেশবাসীর সাহাব্য প্রয়োজন । জানালেন “কাণ্টমুডী? সাক্ষ্য দ্রিতে অন্বীকার করেছে। তখন তিনি কান্তকে চাবুকে মারতে চাইলে হেস্টিংস বাধ! দিয়ে বলেন, “যে কান্তবাবুকে চাবুক মারিতে চাহিবে আমি তাহাকে চাবুক মারিব।+ জানালেন এই সবই তিনি ইংলগ্ডের স্ম্মান বাচাবার জন্য করছেন। সঙ্গে সঙ্গে সাবধান করে দিলেন যে গবর্ণর হেস্ট্ংসের সাঙ্গপাঙ্গরা “মতলব ভালিতেছে+। আরো জানালেন যে প্রধান বিচারপতি হেস্টিংসে বন্ধু। নন্দকুঘারের স্ত্রী অস্থস্থতার জন্য তিনি ডাক্তার পাঠাতে চাইলেন কিন্তু হিন্দুর তরী বিলাতি ডাক্তারের ওষুধ খাবেন না গ্ানান হল। ক্লেভা্িং চলে যাবার পরই বেলিফ এসে নন্বকুমারকে গ্রেপ্তার করল । অভিযোগ 'বুলাকীদাসের যে দপিল তিনি কোম্পানীতে পেশ করেছেন সেট! জাল ।” বিয়োগাস্ত দৃশ্য, ক্রন্দন- শল স্ত্রী, বিহ্বল পুত্র তাঁরই মাঝে নন্দকুমারকে কারাগারে নিয়ে চলে গেল। দ্বিতীয় দৃশ্য ক্লেভারিং এর গৃচ্ে ভোজসভায় আমন্ত্রিত গঙ্জাগোবিন্দ সিংহ, কান্তমুদ্রী, নবক্ুষ্চ ও কামালুদ্দিন। নাট্যকার ক্লেভারিং মারফত নন্দকুমারের বিচারের কথা শোনাচ্ছেন । বলছেন এই বিচার প্রহসন কারণ নন্দকুমারের ইচ্ছামতো! কোন দেশীক়্ ব্যক্তি জুরী নিযুক্ত হন নাই, ছুই জাল দলিলের তারিখ 20 /54945 1965, তখন নন্দকুমার মুশিনাবাদের অধিবাসী, কলকাতার নয় স্থতরাং 4411501০001)” এর প্রশ্ন আসছে অথবা নন্দকুমার তখন স্থপ্রীম কোর্টের এলাকার বাইরে বাঁস করতেন। এবং তিন, জালিয়াতির অভিযোগে ফাসী স্কটল্যাণ্ডে চালু নাই স্থতরাং ভারতবর্ষে কি করে চালু হতে "পারে । কাষালুদ্দিনকে দিয়ে নাট্যকার শ্বীকার করিয়ে দিলেন যে সে মিথ্যা সাক্ষ্য দ্রিয়েছে। তারপর ক্লেভারিং সোনার বাংলা সম্পর্কে এক নাতি দীর্ঘ বন্ৃতা করলেন। পাপপৃণ্য বিচার করলেন। স্ন্য দিকে ভারতীয়গণ অত্যন্ত হীন ব্যবহার করলেন। এমন সময় হেস্টিংস এসে ৫৬৬ বাংলা প্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা জানালেন যে নন্দকুমার দোষী সাব্যস্ত কয়েছেন। গার ফাসীর হুকুম হয়েছে। ভারতীয়গণ আনন্দে লম্ষঝম্প করতে লাগলেন । ভোজের ব্যবস্থা করতে চললেন। ক্লেভারিং ও তার কন্ত। কেদে অস্থির ছলেন। তৃতীয় দৃশ্যে কারাগারে নন্দকুমার ও গুরুদাস। গুরুদাস জানালেন যে মাত গত হয়েছেন তাকে দাহ করে তিনি আসছেন । আরে জানালেন ইংলগ্ডের রাজার মতামত না আস] পর্ধযস্ত ফাী স্থগিত রাখার আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে । স্বতরাঁং ৫€ই অগাষ্ট অর্থাৎ আগামী কাল ফরাসী অবধারিত। নন্দকুমার সকলকে বিশেষ তার পক্ষীয় ইংরেজদের আশীর্বাদ জানালেন। নন্দকুমার তখন দেশভক্তি সম্পর্কে এক! ঘরে দর্শকদের শোনাঁবার জন্য বক্তৃতা! করতে লাগলেন । হঠাৎ তার চোখের সামনে ভেসে উঠল এডমণ বাকের প্রতিমৃতি তিনি হেস্টিংঘকে ইংল্যা্ডের পার্লামেণ্টে অভিধুক্ত করছেন। থানিকক্ষণ বার্কের ইংরেজী ভাষায় বক্তৃতার পরে গিরিশচন্দ্র সুষ্ট সাহেবরা যে বাংলা বলত বলে নাট্যকারগণ মনে করতেন, সেই বাংলায় বুটিশ পালামেণ্টে বাগী শ্রেষ্ঠ এডমণ্ড বার্ক বক্তৃতা করলেন । ক্লেভারিং সাহেব এসে নন্দকুমারকে শেষ বিদায় জানিয়ে গেলেন। নন্দকুমার হান্তোজল মুখে বদ্ধভূমির দিকে অগ্রসর হতে হতে ঘোষণা করলেন “অত্যাচারী ইস্ট ইঞ্ডিয়া কোম্পানীর রাজত্বের চির অবসান । ভিক্টোবিয়। যুগে আবার ভারতের নবজাগরণ 1, আলোচনা ॥ এই অঙ্কের ঘটনা ৬ই মে থেকে «ই অগাষ্ট ১৭৭৫। এই অঙ্কে নন্দকুমারকে শহীদ করবার প্রচেষ্টায় নন্দকুমারের মুখে প্রচুর ব্বদেশ5ক্তির বক্তৃতা দেওয়া হয়েছে । ফলে এই অঙ্কটি এঁতিহাসিক বিচারে সম্পূর্ণ প্রক্ষিপ্ত ও কল্িত বলে গণ্য করতে হবে। প্রথম থেকেই মিথ্যা কথা । নন্দকুমার হেস্টিংসের বিরুদ্ধে কোন মামল! রুক্তু করেন নাই অথবা কামালুদ্দিন নন্দকুমারের বিরুদ্ধে কোন ফড়যন্ত্রের মামলা করেন নাই । যদি নন্দকুমারের ১১ই মার্চের অভিযোগ এই “মামলা” তয় তাহলে ৬ই মে তারিখে তা মোটেই চাঁপা পড়ে নাই বরঞ্চ ভীষণ ভাবেই জীবন্ত ছিল। ১৩ই মার্চ ১৭৭৫ নর্দফুমারকে কাউন্সিলে ডাকা! হপ তার অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবার জন্ত । হেস্টিংস এতে আপত্তি করলেন । কিন্তু ক্লেভারিং, মনসন ও মহারাজা নন্দকুমাব ৫৬৭ ফ্রান্সিস সংখ্যাগরিষ্ঠতা সে আপত্তি অগ্রাহ্য করলেন। ফলে হেস্টিংস ও বারওয়েল সভাত্যাগ করলেন। তখন নন্দকুমীরের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করা হল। তারপব কাউন্সিলে তুমুল সংঘর্ষ চলল ২*শে মার্চের সভায়, ১৭ই ্রপ্রিলের সভায় ও ২২শে এপ্রিলের সভায় হেস্টিংস ও বারওয়েলের সঙ্গে সংখ্যা গরিষ্ঠ সভ্যদের । কাস্তবাবুকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইতে হেস্টিংস স্পঈ জানান যে কাস্তবাবু তার দেওয়ান হিসাবে কলকাতায় প্রথম নাগরিক হৃতরাং মেয়রের আদালতের আওতায় তাকে আনা যাবে না। সংথ্]াগরিষ্ঠদের সমস্ত অন্তায় দাবী কেবল মাত্র আইনের সাহায্যেই কাটান সম্ভব ছিল। শেষ পর্্যস্ত সংখা গরিষ্ঠগণ জানালেন যে “জাতি কাছারী”র পরিচালক হিসাবে কান্তবাবুর মতামত জানা দরকার। হেস্টিংস সঙ্গে সঙ্গে কাস্তবাবুকে ডেকে পাঠান এবং কাউন্মিলে তাঁর জবাব লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। এইখানে নাট্যকার একটা বিরাট ভূলে দেশমাতৃকার বন্দনা নন্দকুমারের মুখে বসিয়েছেন । নন্দকুমার বা ব্রেজা খা ছিলেন মোগল শক্তির প্রতিভূ। বলতেন কইতেন ফারসী, সইও করতেন সেই ভাষায়। বাংল[ভাষাকে গেঁয়ো ও সাধারণ বাঙালীকে মেঠো বা অসংস্কত বলে হেয় করতেন । নবকৃষ্ণ মাঝামাঝি যেতেন। কথনও ফারসীওলাদের সঙ্গে কখনও সাধারণ বাঙালীর সঙ্গে । কিন্তু হেস্টিংসের বাংলা ও সংস্কৃত ভাষাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা কান্তবাবু ও গজাগোবিন্দ দেখেছেন। ফলে এই অতি সাধারণ বাঙালী দুজন সর্বদা বাংলায় অথবা সংস্কততে (কিন্তু বাংল! হরফে) নাম স্বাক্ষর করেছেন ফারসী ও ইংরেজী জানা সত্বেও। বাংলার ভাষা সাহিত্যের উন্নতির জন্ত হেস্টিংস যা করেছেন ত নন্দকুমার কখনও কল্পনা করেন নাই। সংস্কৃত শিক্ষা ও বাংলাভাষার পুনরুদ্ধারে হেস্টিংসের অপরিসীম দানের কথা জানা থাকলে নাট্যকার তাঁর অদ্ভুত মিথ্যাগুলি সংঘ করতেন বলে আশা করা যায়। ক্লেভারিং কদাচ বলেন নাই যে তিনি কান্তবাবুকে চাবুক মারবেন অথবা হেস্টিংদ তার উত্তরে একথা বলেন নাই যে তিনি ক্লেভারিংকে চাঁবুক মারবেন। ঘটনা এইরূপ। নান। উপায়ে কাস্তবাবুকে কাউন্সিলের সামনে আনতে খন অপারগ হলেন তখন ক্লেভারিং রেগে বলেছেন বে কাস্তবাঁবু বার বার কাউন্সিলের আদেশ অমান্য করার অন্য 1116 91001009104 017 ৫৬৮ বাংল এতিহঃসিক নাটক সমালোচন। 5100065+, এই 96০015 বস্তটি কি নাট্যকারের বুদ্ধিতে আসে নাই। তিনি তার অতি উর্বর কল্পনায় তাঁকে “চাবুক বানিয়েছেন। উন্মুক্তস্থানে পা বেধে বন্দী করার কাঠের যন্ত্রটির নাম স্টকস। এটিও ইংল্যাণ্ডে প্রচলিত শাস্গি এবং ক্লেভারিং এর স্থপারিশ সত্বেও এদেশে কথনও চালু হয় নাই। হেস্টিংস তার উত্তরে জানিয়ে ছিলেন যে কাউকে স্টকসে পুরতে হলে, সে সেখানে যাবার যোগ্য কিনা আইনসঙ্গত ভাবে প্রমাণ করতে হবে । স্থতরাং নাট্যকার যেভাবে ক্লেভাব্রিংএর সংলাপ সাক্কিয়েছেন তাতে তাকেও মিথ্যাবাদী করা হয়েছে । যিনি এক কাহন করে বিশকাহনের গল্প গাবান এমন লোক ক্লেভারিং ছিলেন ন1। নাট্যকারের অজ্ঞানতা তার চরিত্রেও কলঙ্ক দিয়েছে । তার মুখ দিয়ে আরে] শোনান হয়েছে যে ইলাইজা ইম্পে স্বপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হেস্টিংসের বন্ধু। এটি বেভারিজ সাহেবের অনুস্থত পথ | এই জন্য এতিহাসিক মহলে বেভারিজের বইএব স্থনাম প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। বেভারিজ সর্বদা এমন ভাবে লিখেছেন যেন ইলাইজ! ইম্পে একল! বিচারপতি । বলতে ভূলে গেছেন বে চারজন বিচারপতির এজপাসে |বচার হয় এবং সকলে একমত হয়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। অনেকের মতে কোর্টে ইন্পের ব্যবহার নন্দকুমারের প্রতি পক্ষপাত পৃণ ছিল । এমন কি শেষ বিচারের আগের দিন পর্যন্ত ব্যরিস্টার ফারার বিশ্বাস করতেন যে নন্দকুমারকে তিনি মুক্ত করতে সক্ষম হবেন। ক্লেভারিংকে যেভাবে নাট্যকার দেখিয়েছেন তা আইনের সীমা লঙ্ঘন করে। বিশেষ ক্লেভারিং নন্দকুমারের তাকে লিখিত শেধ পত্র না পড়ে যে ভাবে জল্লযদকে দিয়ে পুড়িয়েছিলেন তাতে তাঁর মুখে এই সব সংলাপ অতীব বিসদৃশ | : দ্বিতীয় দৃশ্যটিও পুরো বেভারিজ সাহেবের বক্তব্যের চবতি চর্বন। প্রথম থেকেই আজগুবি ও আবোল তাবোল ঘটনা । মহারাজা নবুষ্ণ, দেওয়ান গঙ্গাগোবিন্দ বা দেওয়ান কৃষ্ণকান্ত তিনজনই নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব । নাট্যকারের এই দৃশ্ঠ লেখার সময় সম্ভবত মাথায় রং চড়ে গিয়েছিল বুঝতে পারেন 'নাই এই নিষ্ঠাবান বৈষ্ণবদের শ্রীষ্টানের বাড়ী নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন দেখিয়ে তিনি তাদের মান ও মধ্যাদাহানি করেছেন। কামালুক্ধিন তখন লক্ষাধিক টাকার অধিপতি । রাজস্ব বিভাগের পাতায় তার অপরূপ জীবন ইতিহাস মহারাজা নন্দকুমার ৫৬৯ উপন্তাসের উপজীব্য । নাট্যকার তাকে দিয়ে যা করিয়েছেন সবই ধিথ্যা। বেভারিজ সাহেব কাষালুদ্দিনের ইতিহাস জানবার অবকাশ ও ধৈর্য দেখান নাই। নাট্যকার তো কেবল সেইট্কুতেই সীমাবদ্ধ বেখেছেন নিজের বিছ্া ও বুদ্ধি। ধরে নিয়েছেন সাহেবের লেখা কি মেকী হতে পারে । কিন্ত এক বিষয়ে তিনি বেভারিজকেও আঁতক্রম করেছেন। বেভারিজ কোথাও “কান্তমুদী” শব্দ ব্যবহার করেন নাই, নাট্যক'্র করেছেন। ক্রেভারিং সাহেব রাগের মাথায় কাস্তবাবুকে কাউন্সিলে অনেক গালাগালি করেছেন । সব থেকে থারাপ গালি দিয়েছেন “কান্তবাবু ঘুড়ি ওডানেওয়ালার ছেলে ।” এবং এর থেকে খারাপ গালি ক্লেভাবিং এর জানা ছিল না। কিন্তু নাট্যকারের আছে তাই তিনি নাটক জুডে কান্তবাবুকে “কান্তমুদী* লিখেছেন, এমন কি ক্লেভারিং এর মুখেও খুবই হাস্তকরভাবে “কাণ্টমোডী+ দ্িযেছেন। বেভারিজ সাহেবেব বন্তব্যও বাবে বাবে থাঁগুত হয়েছে। বৃটিশ পালামেণ্টের ভারত শাসন আইন মগ্রসাবে এদ্রেশে শাসন ও বিচার ইষ্ট ইঞ্চিযা কোম্পানী প্রচলন করেন। যথন জুরশতে ভারতীয় নেবার কোন ব্যবস্থা ছিল না তখন ভারতীয় জুরী কোথা থেকে আসবে । অবশ্ত এই জুবিদ্বেরই একজন নন্দকুমারেব ফ্াসী মকুবের দরখাস্ত দিয়েছেন। সেটাই নন্দকুমারের দণ্ড মকুখের একমাত্র দরথান্ত। দ্বিতীয়ত নন্দকুমার দীর্ঘদিন যাবৎ কলকাতার বাসিন্দা যদিও তার ছেলে রাজা গুরুদাস ও স্ত্রী মুশিদাবাদে থাকতেন। তারপর দলিলের তারিখেব থেকেও সেই ছাল দলিল কবে ও কোথায় ব্যবহার হয়েছিল জানা দরকণ্র। প্রস্তাবনা জানান হয়েছে সেই জাল দলিল শেরিফের আদালতে ব্যবহার করা হয়েছিল। মূ্প প্রশ্ন হল নন্দকুষার দলিলটি যে জাল জেনে ব্যবহার করেছিলেন কিনা । কুষ্ণজীবন দাসের সাক্ষ্যে প্রমাণিত হল যে নন্দকুমার দোষী । তাই ছোট কৌসলী বিষম, বড় ক্রেসলী ফারাঁরকে ছুঃথ করে লিখেছেন যে 'রাজ!, জীবন দাসের পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণ করুতে গিয়ে এই দুঃখজনক পরিস্থিতি স্বেচ্ছায় নিজের মাথায় টেনে নিলেন। আগেকার সব সাক্ষ্য বানচাল হয়ে গেল।” তৃতীয়ত বেভারিজ অনুসরণ করে বলা হয়েছে এই দণ্ড ভারতে এই প্রথম। এ খবরও ভুল। স্বনামধন্য গোবিন্দ মিত্রের নাতি রাধাচরণ মিত্র দশবছর আগে এই একই অপরাধে একই দণ্ড পেয়েছিলেন কিন্ত কলকাতার নাগরিকগণ দণ্ড ৫৭৪ বাংলা ধরতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ মকুবের দরখাত্ত করায় সে দণ্ড মকুব হয়। নন্গকুমারের বেলায় দরখাস্ত দেবার কোন চেষ্টা ৫য় নাই অথবা হংলগ্তের রাজার কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন হয় নাহই। ক্লেভারিংএর সংলাপ সবই অসংলগ্ন । কারণ তার থেকে কেউ ভাল করে জানত না য| ঘটেছে তা আইনসঙ্গত। কাউন্সিলে তখন ক্লেভারিং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা । তারা মণিবেগমকে অপসারিত করে গুরুদাসকে সেই পদ দিয়েছেন নন্দকুমার গ্রেপ্ডার হবার পর কিন্তু তার প্রাণ বাচাবার কোন চেষ্। করেন নাই । নন্দকুমারের লেখ! পত্র তিনি পাঠ না নষ্ট করে ফেলেছেন। নাট্যকার কিন্ত ক্লেভারিংএর কাউন্সিলে সংখ্যা গরিষ্ঠতার কথ" দর্শকদের জানাতে ভূলে গেছেন। আগেই বল! হয়েছে যে নন্দকুমারের মৃত্যুতে হেস্টিংস কোন মতামত প্রচার করেন নাই । হেস্টিংস ব৷ কান্তবাবু নন্দকুমারের বিচারের সময় এমন ভাবে দুরে সরে থেকেছেন যে তাদের কোন ভাবেই যুক্ত করাযায় না। কাজেই দ্বিতীয় দৃশ্যের শেষে ষে সংলাপ নাট্যকার কৃষ্টি করেছেন তা অবাস্তর। সব শেষে বলার কথ! ঘে মহারাজ! নবকৃষ্$, দেওয়ান গঙ্গাগোবিন্দ, দেওয়ান কৃষ্ণকান্ত বা কামালুদ্দিন কেউই ১৭৭৫ শ্রীষ্টান্দে নাট্যকার যে ভাবে দেখিয়েছেন সেইরকম মোসাহেবী করার লোক ছিলেন না। তারা প্রত্যেকেই তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে সার্থক পুরুষ। নাট্যকাঁর সেটা উপলব্ধি করেছেন এমন চিহ্ন কোথাও নাই। তিনি নিজের মনে যা ইচ্ছা হয়েছে তাই লিখেছেন। ইতিহাস জানবার বা সত্য ঘটনা প্রকাশ করার কোন ওৎস্ুক্য তার রচনায় নাই । এটা! একদিনের ঘটনা নয়। নাট্যকারগণের ইতিহাস সম্পকীয় অশালীনতা এই প্রবন্ধের ছত্রে ছত্রে দেখান হয়েছে। শেষ দৃশ্যের পরিকল্পনা এই অসম্ভাব্যতার পরিণতি | গুরুদীস তার পিতাকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন বা শোকে অধীব্র হয়েছেন বল] চলে না। প্রস্তাবনায় এই মনোভাব আলোচিত হয়েছে পুনকুল্লেখ নিশ্প্রয়োজন । নন্দকুমারের স্ত্রীর এই সময় মৃত্যু হয় নাই । নাট্যকার সংলাপ দিয়েছেন নন্দকুমারের মুখে যে ক্লেভারিং, মনসন ও ফ্রান্সিস তাকে বাচাবার চেষ্টা করছেন। সেই চেষ্টা কি রকম জানতে পারলে ভাল হত। কেনই বা ফ্রান্পিদ তার চিঠি পুড়িয়ে ফেললেন, কেনই ব৷ ক্লেভারিং ও ফ্রাব্সিসকে লেখা পত্রঘ্য় নষ্ট কর! হল জানতে পারলে বোঝ! যেত ষে এই সব ক্লীবত্েক্ধ পেছলে নন্দকুমারকে বাচাবার কোন মহারাজা নন্দকুষার ৫৭১ চেষ্টা হয়েছিল। গুরুদাঁসই বা কেন নাগরিকদের দিয়ে দরখাস্ত করালেন না» কেন নন্দকুমারের বিলাতের এজেণ্টের কাছে রাজার দরবারে আগীল করার নির্দেশ গেল ন৷ প্রভৃতি প্রশ্নের জবাব নাই। নাট্যকার ক্লেভারিংকে শেষ মুহুর্তে কারাগারে নিয়ে এসে আর একবার মিথ্যাচার করেছেন। জন- সাধারণকে জানাতে দ্বিধা করেছেন যে নন্দকুমার গ্রেপ্তার হবার পর থেকে ক্লেভারিং, মনসন ও ফ্রান্সিস সাহেবগণ তার বা তার পুত্রের সঙ্গে কোন যোগাযোগ রাখেন নাই । নন্দকুমারের শেষ মুহুর্তের ছবি না একে নাট্যকার এডমণ্ড বার্কের বক্তৃতা গুনিয়েছেন। উল্লেখ কর! প্রয়োজন যে নন্দকুমারের ফাসী বার্কের বহুল অভিযোগের মধ্যে ছিল না। দীর্ঘদিন বিচারের পর হেস্ট্রিংস আথিক ছৃর্গতিতে পড়েছিলেন সত্য কিন্তু তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও প্রমাণিত হয় নাই। স্থতরাং নিদ্ধিধায় বলা চলে যে এই দৃশ্যের সবই অলীক। নন্দকুমার দেশহিতৈষী ছিলেন এমন কোন প্রমাণ নাই । বরঞ্চ হেস্টিংসের বিচারের দ্রীর্ঘদিন পরে যখন লর্ড ময়]! (যিনি পরবতীক]লে মারকুইস অফ হেস্টিংস) এদেশে গবর্ণর জেনারেল নিযুক্ত হলেন তথন ওয়ারেন হেস্টিংস তাকে পত্র লিখে জানালেন £ 4/১770190 019 198101495 01 11019, 0618 819 1161. 0 85 5010170 171911601, 85 50010 11716011%, 8170 85 101700181018 186811705 959 21 0 01516110001), ...-., 0% ১০০৭ ৪১৪1101319 17818 1 078 09511017 8100179| ০017 00011071791) 10 0991 0161) ৬/10 ০0011195% 810 25 09101011081015 11) 018 98178 80481 119115 01 59016 ৬101) 011811)- 58195. ভারতবা সী সম্পর্কে ওয়ারেন হেস্টিংস লিখলেন “116 918 9917019, 06179019171, 17019 5019910191016 0 01800009001 161 017655 518৬1) 01917) 081 [0101001 10 91091709101 ৬/101795 50519811790, 901101- 1611 0 01909051160, 78910011810 81900101799 11 591৬108 814 51107115518 109 19991 ৪8/0011/.' বলাবাহুল্য এ ভাষ! ভারত বন্ধুর, কোন অত্যাচারী ইংরেজ দানবের নয় । হুঃথের বিষয় বিভ্রমের বাম্প নাট্যকারকে অদ্ধ করেছে, অগ্থয়৷ তার কলমকে ব্যাহত করেছে তাই ননদকুমার সম্পূর্কে নাটক লিখতে বসে না পারলেন নন্দকুষারের রাজনৈতিক চরিত্র বর্ণনা করতে, না পারলেন তৎকালীন পরিস্থিতিতে হেষ্টিংস ও অন্থান্ত সঃহেবদের চরিত্র 4৭২ বাংল! এতিহাদসিক নাটক সমালোচনা প্রকাশ করতে । সার্থকনাম। বাগ্ডালীরা তার লেখনীতে কলঙ্কিত হলেন । তাদের কীতি বোঝার মতো! মন বা ক্ষমতা নাট্যকার দেখাতে পারলেন না । তিনি এক কল্পনার জগৎ রচন। করে প্রাণের আনন্দে প্রাসাদ নির্মাণ করলেন। সমুদ্রের ঢেউ তা ভাসিয়ে দিয়ে গেল ! তার নিজের ঈর্ধাতুর মানসীকতা উলঙ্গ হয়ে গেল। লুৎফউন্নিসার কন্ঠার মৃত্যুর বছর তানি যেমন তাঁকে বালিকা সাজিয়েছেন তেমনি সমস্ত নাটক জুড়েই অসম্ভব কল্পনার প্রাবল্য নাটককে তুচ্ছ করে দিয়েছে । ইতিহাসের সিংহদরজার বাইরে নাট্যকার শিক নাড়িয়ে থেলা করেছেন কিন্তু ভেতরে ঢুকে তাঁর বিরাট মহত্বকে আবিষ্কার করতে পারেন্‌ নাই । বিভ্রম সৃষ্টি করে তিনি কিছু দর্শককে হয়তো কিছুদিন ঠকিয়েছেন কিন্তু তৎকালীন বাংলার এতিহাসিক গৌরবকে নাটকে প্রকাশ করতে অপারগ হয়েছেন। বারবার তাই একটা কথ! মনে আসে তা হুল ইতিহাস পাঠ ন৷ করে ব৷ এ্রতিহাঁসিক ঘটন সম্পূর্ণ ভাবে না বুঝে ষারাই নাটক রচনায় উদ্যোগী হয়েছেন তারাই পগুশ্রম করেছেন। দেশের ও দশের কাছে মিথ্যাবাদী সেজেছেন। এ অপকাীতি বড়ই লজ্জার । সৃত্রনিদেশ ১1 তপনমোহন চট্টোপাধ্যায়, পলাশীর পর বক্সার (১৩৭৩), ১৫০ পাতা। ২। নিথিলনাথ রায়, মুশিদাবাদ কাহিনী, “নন্দকুমার+ প্রবন্ধ । ৩। 5717 ০. 7. 51910181॥, 10170017817 810 11108, ৬০1. 1811 (1885). ৪1. 8110917 1159817.. 00. (155. 29132, 759, 501810070০0 719501705, 1758. € 1 1010. (0) 00. 1055. 29131517015 01500 17195011705, ্ 5 6650. 1758. (1) /১৫0. 1055. 29096, 11950117935 10 ০11৬৪, 7 56101. 1958. ৬। গ | ন। ১০ । ১১। ১২। ১৩। ১৪ । ১৫। ব্রনিরদেশ €৭৩ (111) /১00. 1155. 29131, 18, 001৬5 10 118511109, 19 590 1758. (1৬) 490. 155. 29132, 168, 501810017 109 17185- 01795, 12 48171181%, 1759. 1010. /১০০. 155 29132, 1 32-33, 901816017 00 119501195, 20901010981, 1758. 1010. (1) £১9. 1159. 29131,1 5, 01159 10 11985101195, 20 /5490051 1758. (11) 109নি. ও:37, 11850079100 011৬9, 24 ১8945, 1758. (1) 9116. 105. 4১0. 1৬55, 29131, 107, 0116 00 119501195 22 /১1945 1758. (1৬) 1010. /১0. 155 29131, 1415 011৬9 00 17195- 00705, 28 1৭০৬9101991, 1758. 9111. 105. /500. 1055. 29131, 1 471011৬50০0 18901705, 28 1০9৬৪171081, 1758. 11010. 169, ০11৬9 10119501705, 165 £910161871 1759. 19101 ৬৪1510080119 1801190৬901 079 11815800015 11) 8917091, 17609-1 764, 0. 216--219, 243-72475. 1101. /55 00009159410 1. [খ. 01109517070 076 19110115 01 1091818)9 (01101015191 99179010017 (19091), 0. 115. /17991917 1911701817- থা) 06390010511) 09 101919] 10 9108110779816. 1210099- 1105 01 016 59019 810 591091819, 01 2701) /510111 1761 0০ 0719 270) 56910091091 1762. 3900181 /1011495. 09819170161 91 1915181) 7900105, 1-6100919 01 191 8170 310 /১101117 1765. 610998011005 ০01 079 5919০1 0০017110099 ০01 1765, /১012$17- 015 1০. ৪. 1010. ০01 190) 341৮, 1765. €খও ১৬। উগ:3 ১৮ । ১৪৯ । ২০ | ২১ । ২২। ২৩। ২৪ । ২৫। ২৬। ২৭। ২৮ | ৩৩০ | ৩১ । ৩২। ৩৩। ৩৪ । ৩৫ । ৩৬ । ৩৭। ৩৮ | ৩৯ । বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন' 1010. 01 1801) /0111, 1767. 1010. /5150 598, 1. 1২. 01351, 116710115 01 191181819 40101515591) 89178041 (1901). 911. 9115. /১০এ. 155 291 33, 1 160--161. 1014. 1 162---163. 21008801705 ০0 08 00117110098 0 011001 81 101579091 814, 168511100952281 01 11 401১ 1772. 8111. 105. / ১0. 1055. 29125, 1 1398. 11010. /১এ. 155. 29133, 1518. 101৫. /১0৫- 15155. 29125, [219 ৪ 228. 11010. /৯00. 19155. 29134717078 6 362. 10 লি. 1155 2007, ০78, 0. 477--479. 61009801105 01 6019101 09108101911, 590181 01099980110 5 01111010101, 1775, 0. 2609--271. 1010. 01 22104 /১10101, 1775. 9110151) 110159117, /১0এ. 19155. 29136, 1 94. 1010. 1128-_-129, 110. 1130--133. 101 1138--139, 101. /১০এ. 1095. 48370. 1 3-:11 ৮1006901735 01 6089101) 0910910119111, 580181 710098011)95 01 801 19৬, 1775. 11010. 01610171৬19, 1775. 1010. (1) 59190601017) ৬০1. || (92100990110 01 09 58016 0910. 01 160) 18, 1775), 1০. 413. (1) 10115, ৪1191 1193111795, 0 117--119. /, 0. 11195, 91011111510 01 81105171101, 0 110--111 বিদ্ভাসাগর রচনাবলী, প্রথম খণ্ড (মণ্ডল বুক হাউস ), ১৫৭ পাতা । 17101661, ৬/০1151 17135007905 0. 119. [00110 61909900793 ০01 110) 18101 1765. ৪০ ॥ ৪১ । ৪২ । ৪৩ । ৪8৪8 | ৪৫ । 8১ । ৪৮ | ৪৯ । সত্রনির্দেশ ৫৭৫ 8170 1৭, 1৭. 91051, 1917015 ০01 191791818 10101615321) 881280041 0(1901), 170. 71--74. 91101517 11581, /২৫. 1555. 29136, [ 192--197. 1010. 4800. 155. 29137, 56--57. 11010. /00. 19155. 29137. 1 142. 451880, €01095 0 010 08100100, 16097 01 811% 00 72171291, 0- ৪3--:84. 1010 (99116691701 10100001781, 10. ৪4--85. শন্থবুমার €সন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (হবু থণ্ড), ৩৩৭ ও ৩১১ পাতা । 77090990195 ০01 79910198081 00115150070 01 006 ৬/1)০19 ০০811701101 120) ১01, 1774, 0. 5500--5503. 1010. 01 3151 109% 1774, 0. 4০০9--41 3. 198. 1৬055. 5607 6 51110. 01779, 1৬155. 0. ৬. 165 8, 3151 1৬19 00 120 59109171081 1777. /১00001 1৬18110 1617817,17170175910017 117 89179091 1756--1775 (09177011098 1969), 010. 61009901795 0 08 ০010০011119 ০০701710096 ০0 89৬910619 01 1210) /১10451 1772, 0. 449. 50177617012 01191700129 1০10, 118 81701 11195 0 ০917100 ৪90০০, 08 9010181) 01 81191) 11851011795, ৬০1. 1 61978). ৩৭ রাণী ভবানী এবং অযোধ্যার বেগম রাণী ভবানী সম্বন্ধে সহত্র কথিক] আছে। কমপক্ষে ছয় সাতখানি বই তাঁকে নিয়ে রচিত হয়েছে । শত শত গল্পে, উপন্াসে নাটকে তীর চরিত্র পাওয়া যায়। কিন্তু এই পৌনে দুইশত বছরে তাকে নিয়ে ইতিহাস একখানিও রচিত হয় নাই। কলিকাতা! হিস্টরিকাল সোসাইটির পত্রিকায় প্রকাশিত মৎ প্রণীত প্রাণী ভবানী অফ. নাটোর”? এই বিষয়ে প্রথম পদক্ষেপ। লগুনের ইত্ডিয়া অফিস লাইব্রেরীতে অবশ্ঠ দু'জন গবেষকের সঙ্গে আলাপ হয়__ত|র! ছ'জনাই রাণী ভবানীকে নিয়ে গবেষণা করেছেন । এর! ছু'জনাই বাংলাদেশের অধিবাদী। তাঁদের রচনা প্রকাশিত হলে নূতন অনেক তথ্য জানা যাবে । অগ্ভাৰধি প্রকাশিত বইগুলির মধ্যে দুর্গাদাস লাহিড়ী (১৩১৭) মহাঁশয় যদি উপন্যাস রচনার লোভ সম্রণ করতে পারতেন তাহলে যে ভাবে তিনি তথ্য চয়ন সুরু করেছিলেন তাতে রাণী ভবানীর সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারা যেত। এই প্রবন্ধে ছুর্গাদাস লাহিড়ী মহাশয় কর্তৃক ব্যবহৃত কিছু তথ্যের ওপর নির্ভর কর! হয়েছে । রানী ভবানী অষ্টাদশ শতাব্দীর এক স্থবিখ্যাত চরিত্র । তাঁর জীবন ও চরিত্র সম্পর্কে প্রায় কিছুই প্রামানিকভাবে প্রকাশিত হয় নাই। যদিও তার কীতিকলাপ সম্পর্কে সমসাময়িক কাগজপত্র ও দলিল দস্তাবেজে সংবাদের অভাব নাই। প্রথমে তাই রাণী ভবানীর ইতিহাস অতি সংক্ষেপে আলোচনা করে তাকে নিয়ে যে নাটকগুলি রচিত হয়েছে বিচার করা হবে। রঘুনন্দন বায় নবাব মুশিদকুলির অধীনে কাঁজ করার সময় নাটোর র!ংজ- বংশের প্রতিষ্ঠা করেন এবং 'ার মধ্যত্রাতা রামজীবন হন নাটোরের প্রথম বাজা । মাত্র আটবছর বয়সে নাটোরের রাজা রাঁমজীবনের পোস্পুত্র রামুকাঞ্চের সঙ্গে ভবানীর বিবাহ হয়।১ সেটা ১৭৩৩ খ্রীষটাব্ে সুতরাং ১৭২৫ খাষ্টাব্বকে রাণীর জন্মের বছর বলে ধরে নেওয়া] যেতে পারে । রাজা ব্ামজীবন স্ুবিখাত লোক ছিলেন। অত্যন্ত অল্প বয়সে তিনি এবং তার দাদ! রঘুনন্দন, মোগল সরকারের কর্মচারী হন। কর্মদক্ষতায় তৎকালীন বাংলান্ববার স্ুবাদার নবাব মুশিদকুণি খার নজরে পড়েন।২ ১৭০৪ এরষ্টান্দে সবার রাজধানী যখন রাণী ভবানী এবং অযোধ্যার বেগম €এ৭ পাকা থেকে মুশিদ্দাবাদে স্থানান্তরিত হল তখন ছুই ভাই মুশিদকুলি খার সঙ্গে এলেন । রথুনন্দন ন'য়েব কান্নগো১ ও রামগীবন আমলা৪ নিযুক্ত হলেন। কিছুদ্দনের মধ্যেই রথুনন্দন টাকশালের দারোগা হলেন এবং এই পদে ১৭২২ পর্য্যন্ত ছিলেন 1৫ এই সময় বামজীবন, দয়ারাম নামে এক ধুবককে তার কমে নিযুক্ত করেন। পরবতাঁকালে এই দয়ারাম নাটোর রাজবংশের প্রধান স্তস্তম্বদপ হয়েছিলেন ।৬ ইতিমধ্যে বথুনন্দন আরো! সম্মানের অধিকারী হযেছেন। ১৭১৪ শ্রীই/ব্বে তিনি রামজীবন ও দয়ারামের সাহাযো ভূষণার বিদ্রোহী ভূষ্বামী মহাবাজ সীত,রামেব পতন ঘটালেন । মুশিদকুলি খা এই ঘটনায় আনন্দিত হলেন, কেবল সম্পত্তি ও খেলাৎ দিষে তিনি সন্তষ্ট হলেন না, এই ছুই ভাইকে একান্ত বিশ্বাসের পাত্র করে নিয়ে তাদের সম্মানিত করলেন ।4 সীতারামের সম্পন্তি ভাগাভাগি হল। বেশীর ভাগটাই পেলেন বঘুনন্দন ও বামজীবন। যদিও ত"দের সম্পত্তি আহরণ ১৭০৬-৭ থেকে স্থুক্ক হয়েছে তবু এবারকার প্রাপ্যই তাদের জমিদার হবার সম্মান দ্িল। তাই নাটোর জমিদারী ১৭১৪ খ্রীষ্টাব্দ থেকে স্থরু হয়েছে বললে সত্যের অপলাপ করা হবে না। দযারামের সম্পত্তি সংগ্রহের স্বরুও এই সময় হয়েছে বলা চলে। এইসব সম্পন্তি দেখাশোনা করার ভন রঘুনন্দন ভাই রামজীবনকে চাকর থেকে ইস্তফা দিয়ে নাটোরে বসালেন। ভাইএর কর্মক্ষমতায় সম্ভবত রঘুনন্দনের পূর্ণ আস্থা ছিল না তাই নূতন রাজা রামজীবনের সঙ্গে দিলেন দযাবামকে | তিনি তার দেওয়ান হলেন ।৮ রঘুনন্দন নিজে মুঘল সরকাঁবের »করীতে মুশ্দাবাদে থেকে গেলেন এবং কিছুদিনের মধ্যে বায়রায়ান ( সহকাবী দেওয়ান) পদে সন্মানিত হলেন। বঘুনন্দন নাটোর জমিদারীর জন্য ক্রমান্বয়ে সম্পত্তি আহরণ করতেন এবং রাজ! রামজীবন ও দেওয়ান দয়ারাঁম সুষ্ট, পরিচালনায় আয়ের উন্নতি কবতেন ।৯ ১৭২৭ খ্রীষ্টাব্দে যখন নবাব মুপিদকুলি রখ ধেভরক্ষা করলেন তখন নাটোর বাংপাহ্নবার বুহওুষ জমিদারী তাদ্দের বাধিক আয় ৫২ লক্ষ টাকা ।১০ রঘুনন্দন ভগ্ম্বাস্থ্য নিয়ে ১৭২৪ খ্রীষ্টাব্দে মুঘল সরকারের চাকরী ত্যাগঞ্ করে নাটোরে ফিরে এলেন এবং অল্পদিনের মধ্যেই তার মৃত্যু হল। রঘুনন্দন যেমন ছিলেন একদিকে বিচক্ষণ, ধামিক ও শান্ত, তার একমাত্র পুক্র ৫৭৮ বাংল। প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ ভবানীপ্রসাগ ছিলেন তেমনি অবিবেচক ও অশীল। বিশেষ তার পিতার অঞ্জিত সম্পত্তিতে নিজের অধিকার স্থাপনা সম্পর্কে তার মনে কোন দ্বিধা ছিল না। সকলেই বিশ্বাস করতেন যে বুঘুনন্দনই নাটোরের প্রতিষ্ঠাতা । তাই ভবানীপ্রসাদের দাবী কেউ কেউ ন্তায়সঙ্গত মদে করতেন । তবে এ বিষয়ে অধিক উত্তেজনা হৃষ্টি হবার আগেই ভবানীপ্রসাদ পিতার অন্গমন করলেন। ব্বামজীবন নাটোরের অধিকর্তারূপে বিন দ্বিধান্ন স্বীরুত হলেন । ইতিমধ্যে বামজীবনের একমাত্র পুত্র কালীপ্রসাদ ১৭২৪-২৫ খ্রীষ্টাব্দে গত হয়েছেন! তাই বংশরক্ষার জন্ত রামজীবন তার নিজ কন্ঠার সন্তান রামকান্তকে দত্তকপুত্র গ্রহণ করশেন। এই দত্তক গ্রহণে নাটোর বংশের বিষবৃক্ষ রোপিত হল। কারণ রঘুনন্দন ও রামজীবনের আর এক ভাই ছিলেন বিষ্ণরাম। কুষ্টরোগপ্রস্থ হবার জন্ত তিনি সর্বদা ঘরে বন্ধ থাকতেন। সম্পর্তিতে তার কোন স্পৃহা ছিল না। কিন্ত তার পুত্র দ্েখীগ্রসাদ পৃ্স্বাস্থ্য যুবক । তিনি আশা করেছিলেন যে রামজীবন পুত্রহীন হওয়ায় সম্পত্তির উত্তরাধিকার তিনি পাবেন । রামজীবন দত্তক গ্রহণ করায় তিনি অত্যন্ত আশাহত ও ক্রুদ্ধ হলেন | তাঁর মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হল য তাঁকে বঞ্চিত করার জন্যই রামজীবন দত্তক গ্রহণ করেছেন। [াহন্দুধর্ম বা উত্তরাধিকার বিধি দুইই তার স্বপক্ষে কারণ তিন ভাইএর তিনিই একমাত্র উ্রসজাত জীবিত পুত্র সন্তান ।৯১ সম্ভবত পিতা বিষ্ুরাম স্বনদ্রোহ থেকে দেবীপ্রসাদকে তখনকার মতো নিবৃত্ত করেন । বদিও দেবীপ্রসাদের/ মনের ভেতর যে আগুন থেকে গেল পরে তারই লেলিহান শিখায় রাণী ভবানী এবং তার নাটোরুকে দগ্ধ হতে হল । ইতিমধ্যে রাজা রামজীবন দণ্তকপুত্র রামকান্তের বিবাহের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লেন । দেওয়ান দয়ারাম নিজে পাত্রী নির্বাচন করে পণপত্রে স্বান্দর করলেন।৯২ ত্রয়োদশ বধীয় রামকান্তের সঙ্গে ১৭৩৩ গ্রষ্ঠান্ধে অইম বৎসরের তবানীর বিবাহ মহাধুষধামে অন্ুঠিত হল। মাও চার বছর পরে ১৭৩৭ খ্রীষ্টাব্দে রাজা রামজীবন পরপারের ডাক শুনলেন। বিষ্ুুরাম ইতিমধ্যেই ভ্রীবনযন্ত্রণ। থেকে অব্যাহিত পেয়েছেন । রামকাস্ত হলেন নটোরের দ্বিতীয় রাজা আর তার রাণী ভবানী। দেওয়ান দয়ারাম সভয়ে দেখলেন যে দেবী প্রসাদরূপী মেঘ এবার ঘোর ঝঞার রাণী ভবানী এবং অযোধ্যা বেগম ৫৭৯ মতো আকাশ পরিব্যাপ্ত করেছে । দেবীপ্রসাদ স্পষ্টই বলতে লাগলেন যে রামকান্ত অনধিকারী । নাটোরের সম্পস্তিতে তার দাবী থাকবার কোন কারণ নাই। ভাইএর বংশ থাকতে, কন্যার পুত্রের কোন অধিকার জন্মায় না। স্থবির মাতামহের স্নেহের কারুণ্যে দত্তকরূপে গৃহীত হলেও হিম্দধর্ম বা বিধিতে তা স্বীকৃত হয় না। দেবীপ্রসাদের অধিকার জনসাধারণও মেনে নিলেন । বংশের সন্তানকে ফেলে অন্ত গোত্রীয়কে দত্তক নেওয়া অধমীয় এষন মন্তব্য করা হল। স্বভাবতই তিন ভাইএর একমাত্র জীবিত পুত্র সন্তান হিসাবে দেবীপ্রসাদ অনেকের সমর্থন পেতে লাগলেন । এই ভ্রাতৃবিরোধে আশঙ্কিত হয়ে দয়াবাম সন্ধির হুত্র খু'জতে অধীর হলেন। ছুই ৰাড়ীর মধ্যে যাতায়াত করতে করতে দেওয়ান কি ভাবতেন জানা যায় না তবে আড়াই বছর ধরে এই সন্ধির প্রস্তাবের দৌত্য তাঁকে করতে হয়েছিল । অবশেবে দয়ারামই সমাধানের প্রন্তাৰ করলেন। বললেন এ পরিকল্পনা ঠার প্রতৃ রাজ। রামজীবনের মৃত্যুর পূর্বের ইচ্ছা । ব|মকাস্তর থাকবে নাটোর ও ষাট শতাংশ সম্পত্তি । দেবীপ্রসাদদ পাবেন শতকরা চতল্লিশভাগ সম্পত্তি, কিন্ত সম্পত্তি ভাগ করবেন রাজা রাষকান্ত। দেবীপ্রসাদ ফাঁকে কার রাজ] বলে মানবেন বিনিময়ে তাকে “ছোট তরফের+ সম্মান দেওয়া হবে। বলাবাহুল্য এই প্রস্তাব কাউকেই খুশী করল না। দেবীপ্রসাদ ভাবলেন তাকে ফাকি দেবার বন্দোবস্ত হচ্ছে আর রামকান্ত ভাৰলেন যে বৃদ্ধ দেওয়ান দেবীপ্রসাদের দিক টেনে প্রস্তাব দিচ্ছেন। তখন দয়ারাম নাটোরের সর্বময়কর্তী | প্রকৃত ক্ষমতা তার হাতে । আদায় ও ব্যয়ও তার আজ্ঞা মতো! হয়। চাটু, কারদের এতে সুবিধ! হয় না কারণ শেহপ্রবপ দয়ারাম রামকান্তকে দোষক্রটি দেখিয়ে দিতে দ্বিধ করেন না। এইবার হ্থযোগ পেয়ে চাটুকারদল দয়ারাম সম্পর্কে নানা সন্দেহে, অবিবেচক+ অনভিজ্ঞ ও বিংশতি বর্ষায় রামকাস্তর মন তরে দিল । বিশ্বাসঘাতক অপবাদে ১৭৪০ ্রীষ্টাঝে ব্রাজা রামকান্ত বৃদ্ধ দেওয়াল দয়ারাম রয়কে বরখাত্ত করলেন ।৯৩ ১৭২৭ প্রীষ্টান্দে যে জমিদারী, ক্ষমতার শিখরে, মাত্র ১৩ বছর পর ১৭৪ খ্ষ্টান্বেই তার গৌরবের দিন অতীত হয়ে গেল। একদিকে রামকাস্তর অনভিজ্ঞতা এবং তার চাটুকারঘের শ্বৈরাচারে জমিদারীর নিগ্রহ অন্সদিকে দেবীপ্রসাদ ছলে বলে কৌশলে নিজ ক্ষষতা বৃদ্ধি করতে দৃঢ় প্রতি । এই ৫৮০ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা ছুই বিপদের মাঝে নাটোর জমিদার্ীর চরম অব্যবস্থা দেখা গেল। বাংলার বাঁজনৈতিক আকাশেও তখন ঘনঘট। ঘনিয়ে এসেছে । নবাব সরকরাছ খাব বিরুদ্ধে তার কর্মচ'পীরা সমবেত হলেন । আলিবর্দা খ, এলেন বিদ্রেহীদের দল- পতিভযে । রাজ] রাকা» নবাব সরফরাগ খার অন্ঠথে।ধে এপপল সৈম্তবাতিনী পাঠিয়ে দিলেন সরফরাকের পক্ষে যুদ্ধ করার উন্য। বরভূমের বীস্ুলী নপীব তীরে গিরিয়ার রণক্ষেত্রে সরফরাজ খা, নবাবী আব প্রাণ হার'লেন। কোটি বৎসরের এক নিরুদ্ধ আগ্নেযগিরি মৃক বিস্ময়ে এহ দৃশ্যান্বরের সাক্ষী হল। নবাব আলিবর্ী খ। খুশিদ্বাবাদে জমিষে বসা মত্র “দবী প্রসাদ ঠার দবণারে আভজী পেশ করলেন । ভ্পনিয়ে দিলেন রামকান্থর 2 তপুৰ নবাব সরফবাজকে সাহায্য করার কাহিনী । আশ্বাস দিলেন ঘে পরস্বাপহাব", অন ধক্াবী ৭ লক রামকান্তর জায়গায় বাজা হলে তিন নাটোর জমিদ্াগীর দেয় রাভস্বের ওপর আরো ছই লক্ষ টাকা বেণী দেবেন। চার্রিদিকেব আখক প্রয়োজনে নবাব আলিবদী তথন দিশাহারা । দেবীপ্রসাদেব প্রস্তাব তার কানে নপুর নিকনের মতোই সুমপুর লেগেছিল সন্দেহ নাই। 2» ই তখনই এক থেশাত দ্রিয়ে দেবীপ্রসাদকে 'রাক্জা” উপাধি দ্িলেন। তাবপর 'ঠাকেই নাটোবের স্তায়সঙ্গত উত্তরাধিকারী বলে স্বীকার করে নিলেন ॥। এপ্দল নবাবী সৈম্ দেবীপ্রসাদের সঙ্গে চলল নাটোব রাজপ্রাসাদে তাকে প্রতিঙগিত করতে আর সেই অনধিকারী রামকাস্ত আর তার পরিবারকে বার করে দিতে ।১৪ ১৭৪১ স্তরীষ্টাবে হতভাগ্য রামকান্ত পত্রী ভবাঁনীকে সঙ্গে নিয়ে মুশিদীবাদে এলেন । রাজধানীর কাছাকাছি থাকার ভন্ঠ গঙ্গার ওপর বড়নগরে বাড়ী করলেন । খোঁজ পড়ল দয়ারাম রায়ের । রামকান্ত পূর্ববীত অপরা ধের জন্য ক্ষম! চেয়ে দয়ারামকে ফিরিয়ে আনলেন । দয়ারামই মুশিদাবাদে যাতায়াত করতে লাগলেন । অতঃপর চারমাস দরবারী কুটকচালীর পর জগৎণ্ঠের আহকুল্যে রাজা রামকান্ত নাটোরের জমিদার বলে স্বীকৃত হলেন। তাঁকে অবশ্ত কথা দ্রিতে হল যে দ্বেবীপ্রসাদ ষে খাজনা দ্দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি তদপেক্ষা আরে ছুই লক্ষটাক। বেণী রাজস্ব দেবেন।৯৫ ১৭৪১ গ্রাটাব্দের শেষে রাজা রামকান্ত ও রানী ভবানী নাটোরে ফিরে গেলেন। দেওয়ান দয়ারাম রায়ের চেষ্টায় ও যত্বে অনেকগুলি সম্পত্তি দেবীপ্রসা্কে দেওয়া হল। দয়ারাষের সনির্বন্ধ অন্ববোধে অসুস্থ দেবীপ্রসাদ রাজা রাষকাস্তকে বাণী ভবানশ এখং অযোধ্যা বেগম ৫০৮১ স্বীকাঁৰ করে শিনেন। কিন্ত বিষবৃক্ষে তখন ফল ধরতে আরম করেছে । মাত্র দডবছরের মধ্যে নজেদেব মধ্যে বিসংস্থাদেব ফলে নাটোব জমিদাকীর রজম্ব চ'ব লক্ষ টাকা বুন্দি পেয়ে গেল । র'্জ। রামক ন্থ ও প্রাণী ওবানীধ ছুই পুএ এবং এক কণ্ঠা জম্মায়। পুত্র ছুটি শি থালেগ »।লের থলে নপগ তলেন। কন্তা তাবাসুন্দবীর বিবাহ মহাস্মালে ঠ৬ অণ্ঠিঠ ভা1 কিন্ধু এলাগাকমে অন্ত "তুনব মধোই বিধবা! তারাঙ্জন্দব' পিতপুহে দিবে এলেন পয ন দষাবান্রে আপ্রাণ চেষ্টায় বাদ্ধত হ বে বাচপ্ধ যেও নণ্টোর ৩মিদ ধী ধাবে ধীর অন্ুকল জায়ের আবহাওয়া সষ্ট কবশ। নূতন বন্দেবস্তের মাধামে বাঙ্খ সনয়ঘতো দেবার ব্যবস্থা হ || ক্িগ্ভ নবাব আলিবপা কখনহ বামকান্তর্র সংখরাজকে সৈন্যদল পাঠাবার কগা ভুলতে ণাঞলেন ন|। এমাগত জ যণারের খাজনা বুদ্ধির নির্দেশ আসতে লাগল | শেষপর্যন্ত ১৭১৫ খ্রাগ্গাধে একাধিক জাযগীর নবাবকে প্রত্যার্পণ কবতে হশ। বামকান্ত হঠাৎ ১৭৫১ শ্বীান্জে পএথলোকগমন কবার সঙ্গে সঙ্গে ভ্রাতাবরোপ আবার শতন্। বিস্তাব করে প্রকট ত তল। দেবাপ্রলাদ ৩খন মুত কিন্ধু তাব সুযে'গা পুত্র গীবীপ্রসাদ নাটোর জমিদাবখীব দাবীদার হলেশ। জানালেন যেহিন্দুব দাযভ'গ নিয়ম অনুসারে যোগ্য উন্ভবাধিক।বী খর্তমান থাকলে স্ত্ীনোকের কোন আধকার জন্মায় না। আবাপ 'দ্রওষান দয়াবাম ফুটলেন মু্দাবাদে। দীর্ঘ দ্রিনের প্রচেষ্টার কলে রাণী ভবানী নাটোব জমিদ।বীব উত্তরাধিকারী ঘোষিত হলেন । বল! বাহুল্য স্বেচ্ছা রাজন্ব বুদ্ধই হল এই প্রাপ্তিযোগের দক্ষিণা । মারাঠাদের সঙ্গে যুদ্ধে শূণ্য রাজকোষ পূর্ণ করাব জন্ক নবাবের কাছে প্রধান যুক্তিই হল অর্থ। এইভাবে ১৭৫২ শ্রী্টান্দে নাটোরের সবেসর্ব। কত্রী হলেন রাণী ভবানী । কিন্তু ভ্রাতি বিরোধে ফলে বিশেষ যুবক গে'বীপ্রদাদের সঙ্গে বাজস্বের নিলাম ডাকাভাঁঠিকিতে দেয রাজস্ব আকাশ ছোয! হয়ে গেল! বৃদ্ধ দয়ারামের বয়স ষাটের ঘরে তার্পক্ষে আর আগের মতো পবিশ্রম করা সম্ভব নয়। রাণীর পক্ষে এক! জমিদারী সংগঠন সম্ভব নয়। নূতন কাউকে নেওয়! হলে গৌরশ প্রসাদের পক্ষাবলম্বী হবে কিনা জান! সম্ভব নয়। দরকার ছিল একজন কর্ম শাসকের । বাণীর দুর্ভাগ্য ক্রমে সেরকম লোক পাওয়া গেল না। বিপদ এল আর একদ্দিক থেকে । রাণী তার বিধবা কন্ত। তারাহুন্বরীকে ৫৮২ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন- নিয়ে তখন বড়নগরে অবস্থান করছেন । একদিন নবাবের অপরিণামদশী দৌহিত্র মীর্জা মহম্মদ যিনি একবছর পরে সিরাজ-উদ্‌-দেোপা নামে বিখ্যাত হন তারাহ্থন্দরীকে লা করার জন্ ব্যাগ্র হযে উঠলেন । কেবল 'মন্তবোধে রানী কন্তাদান করবেন না বুঝতে পেরে সিরাজ সৈন্য পাঠালেন তারাস্থন্দরীকে হরণ করার জন্য । সময় হল ১৭৫৬ খ্রীষ্টান | সময়ে খবর পেয়ে রাণী রটিয়ে দিলেন যেতার কন্তা আত্মঘাতী হয়েছেন। সৈম্তদল বখন এল তথন তারাস্থন্দরীর নামে এক মুতদেেহ তারের সম্মুথে যথাযোগ্য সম্মানে দাহ করা হল । ইতিষধ্যে রানী ভবানী ২৬ দীাড়ী রঙ্গলাল নৌকায় কন্তাকে নিয়ে কাশী চলে গেলেন। কাশী তখন বাংলার নবাবের আয়তের ও ক্ষমতার বাইরে অযোধ্যা সবার অন্তর্গত রাজ্য । তারাঙ্ন্নরী কাশীতে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। রানী ভবানী নিয়মিত নাটোর ও কাণশীর মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে চলতেন। এইসব ঘটনায় নাটোর জমিদারীর অভাবনীয় ক্ষতি হয়ে গেল। প্রতি বছর রাজস্ব দেবার সময় হলেই রানী অর্থের প্রয়োজন বোধ করতেন । ১৭৫৯ শ্রীষ্টাব্ থেকেই রাণী নিয়মিত সম্পত্তি বিক্রি করতে সুরু করলেন। জমিই তথন প্রধান সম্পদ কাজেই ধীরে ধীরে বহু জমিদারীই রানী ভবানীকে বিক্রী করে দিতে হল। নূতন কর্মচারীরা রানীর বিশ্বাসের স্বযোগ নিয়ে পরিচালন ভার গ্রহণ করতেন তারপর সম্তায় একটা ভাল জমিদারী হয় বেনামীতে নিজে কিনে অথবা অন্তকে বিক্রি করে উৎকোচ গ্রহণ করতেন । রাণীর দরখাম্ত নিয়মিত নবাবী দপ্তরে জমা! হয়েছে । রাজম্ব সময়ে না দ্বিতে পারার বহু নিদর্শন সেখানে জমে আছে । ১৭ই মে ১৭৬১ খ্রীষ্টাব্দে নবাব মীরকাশিমকে রানী অনুরোধ করেছেন যে পুরো রাজস্ব না দেবার জন্য তার যেসব কর্মচারীকে নবাব আটক রেখেছেন তাদের যেন দয়া করে ছেডে দেওয়া হয়। আর একখানি পত্রে নবাবের রাজন্ব জাদায়কারী তোরাব আলি খাকে লিখেছেন যে বাইশ হাজার টাকা রাজন্ব দেবার জন্টে মুশিদাবাদে পাঠান হয়েছিল কিন্ত পথে তেলেঙ্গা সিপাহীর! সেই অর্থ চুরি করে একি ইংরৈজ ফ্যাক্টরীতে আশ্রয় নিয়েছে । সেই ফ্যান্টরীর অধ্ক্ষ ব্যটসনসাহেবকে আর অর এক পত্রে জানালেন যে নবাবের রাজন্ব এক লক্ষ টাকা নিয়ে তার কর্মচাক্বীরা পৌছান মাত্র নবাবের কর্মচারীরা সেই অর্থ অপহরণ করে এবং তাক কর্মচারীদের আটক করে। ব্যালন সাছ্বেকে রানী জানিয়েছেন থে রাণী ভবানী এবং অযোধ্যাব বেগম ৫৮৩ কাম্পানীর প্রাপ্য টাক! সেই জন্তে তার দ্বিতে দেরী হচ্ছে ।১৬ এই পরগুপির মধ্যেকার অসঙ্গতি রানীব আধিক অন্বচ্ছলতাকেই প্রকাশ করে। এহ অবস্থা ১৭৬৬ শ্রী্াব্ধেও চলেছে। ১৭৬৫ শ্রীগ্াব্দে ইট হগ্ডিয়া কোম্পানী বাংলাস্থবার পেওয়ানী বা রাজস্ব আদায় করার ক্ষমতা পেলেন । ১৭৬৬ খ্রীষ্টাব্দে ১৩ই ডিসেম্বর গবর্ণর ভেরেলষ্ট .কাম্পানীর দেওয'ন মহম্মদ রে খাকে গান।চ্ছেন থে বানী ভবানী তার জ মপাবীতে ফথেচ্ছন্ বে শ্পাবী প্রভৃতি কোম্পানীর প্র।প্য রক্ষিত সামগ্রী বিক্রয় করে চলছেন বলে হার কাছে অভিযোগ এসেছে । রেজা খা যেন অ বে অনুসন্ধান ক্রেন এবং কেম্পানীর প্রাপা রক্ষিত বস্তগুলি রানীকে অবাহুত করেন ।৯৭ ১৭৭০ খ্রীষ্টাব্ষেও রানীর অবস্থার উন্নতি দেখ! যায় না। বাজন্ব দেবার জন্ত সমযেপ আবেদন নিযমিতভাবে কোম্পানীব অফিসে জমা পড়েছে । কখন অভিধোগ, কখন অন্থযোগ, কথন নিজের দুরবস্থারু কাহিনী বলে মময় চাওষা হযেছে । বাকী রাজস্ব বাডতে বাডতে পর্বতের রূপ নিয়েছে ।৯৮ বাণী ভবানী ইতিমধ্যে রামকৃষ্ণকে দত্তক নিয়েছেন। ব্রামকুষ্খ হলেন রাজ রামজীবনের একমাঞ্জ পুত্র কালীপ্রসাদ্দের দৌহিত্র | দণ্তক নেবার সঙ্গে সঙ্গেই আবার ভ্রাতৃবিরোধ বৃদ্ধি পেল । গৌরীপ্রসাদদ নবাব এবং ইংরেজ কোম্পানীর কাছে প্রার্থনা জানালেন যে তিনিই যোগ্য অধিকারী স্থতরাং নাটোরের সম্পত্তি তারই প্রাপ্য । ইংরেজ কোম্পানীর পক্ষে গবর্ণর হেস্টিংস তাঁর ৫*০ টাক1 মাসোহারার ব্যবস্থা করে দিলেন কিন্ত নাটোর সম্পত্তিতে তার অধিকার স্বীকার করলেন না। মহারাজা গোরীপ্রসাদ নাম নিয়ে নাটোব বংশের এই ভাগ্যহীন বংশধর সমানে ভ্রাতৃবিরোধ চালিয়ে ঘেতে লাগলেন ।৯৭ ১৭৭৭ গ্রীষ্টাব্ধে রাণী ভবানীর বাকী রাজন্ব এমন আকার নিল যে কোম্পানী স্থির ফরলেন ঘে বাধিক আড়াই লক্ষ টাকার বিনিময়ে বাজ আদায়ের দায়িত্ব থেকে রাণীকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। প্রতিবছর দুই কিস্তিতে রাণী ২৫০০০* টাক! পাবেন এবং কোম্পানীর কর্মচাবীগপ বাণীর হয়ে রাজন্ব আদায় করবেন | এর অগ্ঠ প্রয়োজন মতো! রাণীর দতক পুত্র রামকষ্জের সাহায্য নেওয়া হবে। রাণীকে বলা হুল যে তিনি ৫৮৪ বাংল] এতিহাঁসিক নাটক সমালে চনা মুশিদাবাদের বড়নগরে অথব| কাশীতে ভার সমর অতিবাহিত করতে পারেন। ১৭৭৫ শ্রীষ্টান্খ থেকেই কোম্পানী রাণীর নামে খাজনা আদায় করতে লাগলেন 1২০ ১৭৭৭ শ্রীষ্টান্দে উইলিয়াম হোসিধা নাটোরে উপাস্থিত । কিন্ক রাণী ভবানীও কখন বেনদনেব চন্ নাটেন্ব ছেতে থাকতেন ল | রাণী লোকডনের উপর চ।প কষ্ট হচ্ছে ত1নতে পারলেই ত'দের খান] মত্ুব করে দিতেন, খপে হে লিযা সাহেব খুবই অন্্রাবধায় প.তেন। এ বিষয়ে তার দীর্ঘ পত্রগুণি বাণী ভবানীব চাবিগ্র বোঝার সভাষক । এই পত্রগুলি থেকে জানা যায থে বাণী দবিদ্র প্রজাদের প্রতি চলেন অন্যন্ত সহান্রভূতিসম্পন্ন অন্তদিকে শ্বমতাশাপী প্রজ।দেখ কাছ থেকে খাভনা দায়ে তার দুর্গত প্রকাশ পেত। ফলে কোন প্রগাব কাছ থেকেই খানা আদাষ হতনা। এবিষধে বাণীব *ভতকপুত্র রাগীকেও দেষন সাভাধ্য করতে পারেন শাহ তেমনি কোম্প নী* ভাব কাছ থেকে কোন সাহায্যই “পল ন1।২৯ সম্পত্তি হারতে হার ঠে ১৭৮৫-৮৯ খ্রীগগান্দে বাংলা ১১৯২ সণল নাটোরের সম্পর্ভির আয বা জম! এসে গাডাল মার একুশ ক্ষ টাকাষ।২২ কোথাষ অর্থবঙ্গেশ্বরী আব কোথায় বাজস্থ গীতা এক অসহা'য। [প্রোঢা । ১৭৮৭ শ্রীটান্দেও ভ্রাঙাবিরোধেব নিদশন বর্তমান । এবার গৌরীপ্রসদের পুত্র গঙ্গা প্রসাদ গবর্ণব কর্মওয়াপিসের কাছে আবেদন করপেন থে বামবঞ্চকে যেন অনধিকারী ঘোষণা করা হয কারণ দ্ায়ভাগ আইনে রামকৃষ্ণ সম্পঞ্তি পেতে পারেন না বলেই দত্তকপুত্রপে রাশী তাকে গ্রহণ করে গঙ্গাপ্রদাদের 'আঁধকারকে ক্ষুন্ন করেছেন। রামরু্জ সম্পর্কে সাহেব মহলে ধারণা ভাল ছিল না। তারই হ্ববোগ নিযে গঙ্গাপ্রসাদ লিখলেন যে রাণী ভবানী বুদ্ধ। ইয়েছেন তার পক্ষে বামঞষ্ণকে নিবৃত্ব করা সহজ নয সেই সুযোগে রামরুঞ্চ নাটোর জমিদারীকে রসাতলে দিচ্ছেন ।২৩ হয়তো কথাটা খুব মিথ্যা নয়। কারণ নিয়ম্তি রাজন্ব দ্রেবার প্রতিশ্রতিতে ব্লামকুষ্* নাটোরের শাসনভার নিঙ্জে গ্রহণ করেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয় না রাজন্ক বাকী পড়তে থাকে এবং রামকু্চ নিয়মিত সম্পত্তি বিক্রি করেন অথবা! সহজ কিস্তিতে ইজারা দিতে থাকেন।২৪ অন্যদ্দিকে “মহারাজা” উপাধি পাবার জন্ত কলকাতা ধরাধরিও করতে থাকেন । অবশেষে রাণী ভবানীর ধৈর্যযচ্যুতি ঘটল। ৬ই জান্য়ারী ১৭৯২ গ্রীষ্টাৰে কোম্পান্টীকে এক দরখাস্ত দিয়ে বাণী ভবানী এবং অযোধ্যার বেগম ৫৮৫ জানালেন যে রামরুঞ্চের অবিবেচনায় নাটোর জমিদারী বিপন্ন এবং তার প্রচুর রাওস্ব বাকী পড়েছে । সমুদয বাক রাজন্ব সম্পূর্ণ মিটিযে না দেওয়া পথ্যস্ত কোম্পানী বেন 'মহাবাজা' খলাৎ ব্রামরুঞ্জকে না অপণ করেন ।২৫ “কোম্পানী অবশ্য রাণী ভবানীর এই আভিতে কর্ণপাত কগদেন না। পরের খছর ১৭৯০ শ্রীঠাব্ধেব ৬হ মাচ রাজখ/হীর কমিশনার হাবিংডন মহারাজা রামকঞ্চকে রাজ অনাদায়ে অভিদোগে গ্রেপ্তার কবে নখাখোগ্য বাসস্থানে” বন্দী করে রাখলেন । .সপাহশান্থী পারবৃত থাকলেও বাশকৃষ্ত্র ভৃত্য ও কমচারীদের বাতাখাত অবাধ ছিল । ভাব শ্বাচ্ছন্দের “কান অগাব হয় নাই ।২৬ র।ণী ভবানীর সম্পন্তি কেবণ রাজস্ব অনাদাযষে বিক্রি হয়ে গেহে একথ। ভাবলে ভুল হবে । নূতন জমিদাধদের কাছে রাণী বহু সম্পান্ত হারস্জেছেন। বিশেষ গেইসব সম্পন্তি বখানে তিনি নাষে মাত্র জমিদার ছিলেন অথব। যে সম্পত্তিতে তার পর্ণ অধিকার ছিল শা সবই ক্রমে হাত ছাড হয়ে গেল। যদি মনে করু। হয বেবাণী সহজে এই সব সম্পর্ভিকে ছেডে ধিয়েছেন তাহলেও ভুল কর! হবে কারণ প্রত্যেক সম্পত্তি বাণী প্ক্ষা করবার চেঠা করেছেন। বনু জায়গায় লেছেল পাইক বরকন্দ।জ £নযে রাণা মারামারি করতে .নমেছেন। ফলে সব দিকেই হেরেছেন। ইংরেজ ০*|স্প।নীর যুগে মারামারি করাকে ভাল চোখে দেখা হোও ন, তখন মাখেদন নিবেদনের যুগ এসে গিয়েছে। রাণী কিছুকাল দয়ারামের চেষ্টায় জগৎ্শেঠকে মাতব্বর পেয়েছিলেন । নবাব দরবার উঠে গেলে রামকৃঞ্চ নন্দকুমারকে মাতব্বর ধরলেন। তার ফাসা হয়ে গেলে গঙ্গাজলে হাত মুখ ধুয়ে পুনরায় আচমন করে হেস্টিংসের বগম কাণীর বেনারাম পণ্ডিতকে মাতব্বর করলেন। প্রতেক ক্ষেত্রেই কিছু অর্থদণ্ড লাগলেও মাতব্বরর] প্রত্যেকেই রাণীর কিছু উপকার করেছেন । গিতিনস রকমেরু'মাতব্বর দেখলেই বোঝা ঘ।য় বে খাণী ভবানী যেদিকে বাতাস বয়েছে সেম দ্রিক থেকেই মাতব্বর ধরেছেন।২৭ অবশেষে জআবেদনও রাণী ভবানী অভ্যস্ত হয়ে পড়লেন । নানা বিষয়ে তার অসংখ্য দরখাস্ত বিভিন্ন সেরেন্তায় পাওয়। যায় । ২৭শে এপ্রিল ১৭৮৮ খ্রীষ্টাব্দে ইংলগ্ডের হাউস অফ. লর্ডসে রাণী এক দরধান্ত দিয়ে জানালেন যে ওয়ারেন হেস্টি'স এদেশে সুশাসন প্রবর্তন করেছেন। তার ৫৮৬ বাংল! এরতিহাপিক নাটক সমালোচন। ওপর তার পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা ছল এবং আছে ।২৮ এই দরখান্তের পরি- প্রেক্ষিতে বার্কসাহেবের বাগ্ীতা হাস্তকর হয়ে গেছে। বার্ক বলেছিলেন যে হেস্টিংসের অত্যাচারে একদা এ্রশ্ধ্যশাগ্লিনী রাণী ভবানী পথের ভিথারিনী হয়ে গিয়েছেন। রাণী ভবানী তার প্রতিটি দরথাস্তের তলায় রামকুফের স্বাক্ষর করাতেন। বিরাট ব্যাপারে যেমন ক্ষুদ্র ব্যাপারেও তেমনি । নদীয়ায় ভবানীগঞ্জের হাটের স্বত্ব স্বামীত্বের জন্য ১৭৯১ *থেকে ১৮০১ খ্রীষ্টাব্দ পর্য্যস্ত সমানে দরখাত্ত দিয়ে গেছেন । বলা বাহুল্য হাট তিনি রাখতে পারেন নাই। রাণী ভবানীর সহায়হীনত1 সেই যুগে তার বর্ষে বাধা ৃষ্টি করেছে। তার কর্মদক্ষতার যে পরিচয় পাওয়া যায় সুটু সহকারীর অভাবে তার পূর্ণ বিকাশ হল না। জমিদারীর পরিচালনার অসাফল্যের সঙ্গে রাণী ভবানীর নাম যুক্ত নয়। দেবদিজের সেবা এবং দরিদ্রের উপকার রাণী ভবানীকে প্রাতঃংস্মরনীয় করেছে। হিন্দুধর্মের উন্নতির জন্য তার দান স্বিখ্যাত হয়ে আছে । আজও বাংলার বহু জায়গায় এবং কাশীথণ্ড জুড়ে রাণী ভবানীর দানের নিদর্শন গ্রকটিত। বড়নগরের স্থবিখ্যাত মন্দির থেকে কাণীর দুর্গাবাড়ী পর্যযস্ত রাণীর কীতি সরবে প্রকাশিত | তাছাড়া হিন্দু জমিদীবের অবশ্ত করনীয় কাজগুপি তিনি নিয়মিত করেছেন। দেবালয় সংস্কার, পুক্ষরিনী ও বৃক্ষ প্রতিষ্ঠা, কৃপ খনন, পাস্থশালা নির্মাণ, ব্রহ্গোত্তর দান প্রভৃতি কাজ করতে তিনি কখনও পরানুখ ছিলেন না! । বাণী ভবানী সংস্কৃত শক্ষার উদ্দেশ্তে বিভিন্ন টোল ও পপ্ডিত সমাজে নিয়মিত সাহায্য করেছেন। কাণীর প্ডিত সমাজে তিনি নিয়মিত ৪০০০* টাক] করে প্রতি বছর বায় করতেন। অবশ্ত মৈমনসিংহের আট আনার জমিদার শ্যামর্টাদ চৌধুরী ১৭৭৮ ও ১৭৭৯ খ্রিষ্টাব্দে কোম্পানীর কাছে এক দরখান্তে জানান যে এই নিয়মিত দান উদ্দেশ্তমূলক । বাংলার পণ্ডিতগণের মতে (নদীয়৷ ও ভাটপাড়৷ ) স্বত্রাতৃপুত্র বর্তমান থাকলে সেই সম্পত্তির অধিকারী হয় । এই মতে রাণী রামরুষ্কে দত্তক নিতে পারেন' না সম্পত্তির অধিকার গঙ্গাপ্রসাদকে বর্তায় । তাই তিনি কাশীর পশ্তিতদের কাছ থেকে মত আনিয়েছেন ষে স্বত্রাতৃপুত্র বর্তমান থাকলেও অন্তকে দত্তক গ্রহণ কর! যাবে এবং পুনত্রপ্রতিম দত্তক সম্পত্তির উত্তরাধিকার লা করধে। বেনারাম পণ্ডিতের চেষ্টায় কাশীর পণ্ডিতদের যতই ইংরেজ ক্ষোম্পানী গ্রহণ করলেন এবং রামকৃফেন্ব উত্তরাধিকার মেনে নিলেন ।২৯ রাণী ভবানী এবং অযোধ্যার বেগম ৫৮৭ রাণী ভবানীর শ্রেষ্ঠতম কীতি ছিয়াত্তরের মদ্বস্তরের সময় । এই করাল' দুভিক্ষের সময় রাণীর অপূর্ব কীতিকলাপ লোকের মুখে মুখে কথিকায় রূপান্স- রিত হয়েছে। বাংলার প্রতি ঘরে রাণী ভবানীর নাম ও দাক্ষিণ্যের ইতিহাস, প্রতিষিত হয়েছে । মন্বন্তরের সময় রাণী কেবল যে হাজার হাজার ছৃতিক্ষ প্রপীডিত ক্ষুধার্ত জনগণের থাগ্ের ব্যবস্থা করেছিলেন তাই নয় নিষ্বেও সেই থাদ্য বিতরণ করেছেন । কোষাগার শৃণ্য হয়েছে, দিনের পর দিন রাণী নিজে অভুক্ত থেকেছেন কিন্ত কখনও দ-রদ্র ও ক্ষুধার্ত তার কাছে এসে ফিরে যায় নাই । তথনই তাঁর নাম হল অন্নপূর্ণা এবং আগ্যাশক্তির এক অবতার ভাবা তখন থেকেই সুরু হল। ইপন্তামিকগণের মতে ছুভিক্ষের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা কবার জন্য স্বয়ং অন্নপূর্ণা রাণী ভবানীর রূপ ধরে মর্তে নেমে আসেন এবং তার কর্তব্যকর্ম শষ হলে মন্দিরের দুর্গা প্রতিমায় অথব। অন্নপূর্ণা অথবা ভবানী প্রতিমায় বিলীন হয়ে বান। রাণী ভবানী নিস্বার্থ সর্ধাত্মক জনসেবা এবং ছুপ্িক্ষের সময় অন্নদানে জনগণকে রক্ষা কর] তার জীবনেব শ্রেষ্ঠ কীতি সন্দেহ নাই | যেখানেই অন্নের অভাব মিটেছে সেখানেই রাণী ভবানীর নাম উচ্চারিত হয়েছে । সত্যকার রাণীর সঙ্গে সম্পর্কহ্ীন “রাণী ভবানী” নামে এক গ্রামীন দেবতার উদ্ভব হয়েছে । পথে প্রাস্থরে কুটিরে প্রাসাদে রাণী ভবানীর পৃণা নাম সসম্মীনে উচ্চারিত হয়েছে। সত্যকার রাণীর জ্ৰীবনের ইতিহাস অন্ীব ছুঃখের। শুধুমাত্র সম্পত্তি হারান বা স্বজন বিরোধ নয় তাঁব জরীবিতকালেই রাণী সমস্ত প্রিয়জনকে হরান। তারাহ্থন্দবী কাশীতে দেহ বাখলেন। তার বৃদ্ধ দেওয়ান রাজা দয়ারাম রায় আগেই পরলোকগমন করেছেন । অবশেষে ১০০২ খ্রীষ্টাব্দের গ্রীত্মের দাবদাহে রামরুঞ্জ মারা গেলেন। এই মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই ধাদের নিয়ে রাণী ভবানী বেঁচেছিলেন সকলের দেহাস্ত হয়ে গেল। রাণী এই শোক বেশীদিন সহা করতে পারলেন না ১২ই সেপ্টেম্বর ১৮০২ শ্রীষ্টাব্ব (২৮শে ভাদ্র ১২০৯ সাল) অল্পদ্দিন রোগভোগের পর পরলোক গমন করলেন 1৩১ “হেইজ সাব রাণীর মৃত্যুর খবর কলকাতায় জানাতে গিয়ে তার দান ও দয়াশীলতার কথা উল্লেখ করেছেন । খুব সম্ভবত রাণী ভবানী বড়নগরের বাড়ীতে দেহরক্ষা করেন। কারণ হেইজ তখন মুশিদাবাদের কালেকটস্সি। ভেইজ জানালেন যে রাণীর শেষ ইচ্ছ। অন্যযায়ী তার পুত্রবধূ রামকৃষ্জের বিধবা ৫৮৮ বাংলা প্রতিহাদসিক নাটক সম'লোচনা পত্বী মুখাগ্রি করেন । রামরুষ্জের জোষ্টপুত্র বিশ্বনাথ সম্ভবত তৎ্ন নাটোরে ছিলেন। ৭ই আশ্বিন ১২০৯ সাল রাণী ভবানীর শ্রাদ্ধকাধ নাটোবে সম্পন্ধ করলেন বিশ্বনাথ । কয়েকমাস আগে তার পিতার শ্রান্ধে ২২৯০০ টাকা ব্যয় হুয়। সেই কথা স্মরণ করে ইংরেজ কোম্পানী রাণী ভবানীর শ্রাদ্ধে ১০০০০ টাকা মপ্তুর করলেন । অতিরিক্ত ব্যয় রাণীর ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে করবার কথাও জানালেন ।৩২ রাণীর জীবন কাহিনী অত্যন্ত দুঃখের সন্দেহ নাই । ধার দয়ার সৌগন্ধ আকাশে বাতাসে বিচরণ করে সমগ্র বাংলায় এক অপূর্ব মহত্ব কষ্টি করেছে, ধার দানের পুণ্য সমস্ত দ্রেশকে স্চিশভ্র সুষমায় ভরিয়ে দিয়েছে, ধার পুণ্য নাম নিয়ে বাঙালী শুভকার্ধো বাত্রা করেছে ঠার ব্যক্তিগত ভীবনের ব্যথার কাহিনী কজনাই বা জানতো। । তিনি নাটোরের শ্রেষ্ঠটদ্িনও যেমশ দেখেছেন চরম অবনতিও তাঁকে তেমনি “দথতে হয়েছে । তার সময়েই নাটোর জমিদারীর পতন হযেছে অথচ তারই কীপ্তির সৌরভে নাটোরের নাম স্থায়িত্ব পেয়েছে । রাণী ভবানী বলার সঙ্গে সঙ্গে এক উজ্জল অভয়া অন্নপূর্ণারূপী মাতৃমূতিই ভেসে ওঠে, এতিহাসিক ব্যক্তির দৈনন্দিন ছুঃথ ছুর্শার সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নাই । ঘগারাণী ভবানীর ইতিহাস তাই জনসমক্ষে অবলুপ্ত। তার স্থান জুড়েছে এক বিরাট রূপকথা । ছিয়ান্তরের মন্বন্তুরে বার সুরু, তারপর সময়ের সব লীম। হারিয়ে চলেছে যুগ যুগধরে। রাণী ভবানী রূপাস্থরিত দেবী ভবান'তে। নাটোর রাজবংশ (১৭০৬ থেকে ১৮০২ খ্রীষ্টাব্দ ) রঘুনন্দন রানা পা 9 পাপ | ৃ [ | ভবানীপ্রনারদ কালীগ্রলাদ কন্ত। দেবশপ্রসা্ (দত্তক) রাজা রামকান্ত- রাণী ভবানী পা 1 গধাধিনাগ , ছুই রি জরা ৰ মহারাজা রামকৃষ্ণ /দত্তক) বিশ্বনাথ র'ণী ভবানী এবং অযোধ্যার বেগম ৫৮৯ নাটক রাণী ভবানীকে নিয়ে এ পধ্যন্ত তিনটি নাটকের সন্ধান পাওয়! গেছে। সবগুলি নাটকে কলিত রাণী ভবানীর চরিত্র নিয়েই আলোচনা! নিবন্ধ, এতিহাদিক রাণীকে সেখানে খুজে পাওয্া! কঠিন। নাটকগুলি সাজান হুল ০-- -। অমরেন্্নাথ দত্ত (ছুগানাস লাগিড়ীর উপন্যাসের নাট)রূপ )- রাণী ভবানী ২। জ্ঞানরঞন ঘটক ( প্রকাশ ১৯১৬) রাণী ভবানী ৩। মহের গুপ্ত (62৮ -১8788:) রাণী ভবানী নাটকে একদকে যেমন বাণীর চরিত্রকে নরম মাটির পুতুলের মতো! দেখান হযেছে তেমাঁন রাণীর দত্তক পুত্র রামরুঞ্চকে সাধক করা হয়েছে, নামের মিলে চরিত্রের মিল করা হয়েছে । উভয় চরিত্রই প্রক্ষিপ্ত । দান ও দয়ার খ্যাতি থাকলেই তাঁর সহজ ও করুণ হবার কোন কারণ নাই। অন্তত রাণী ভবানী তা ছলেন না। তার সাহস, তেজন্ষিতা ও জ্ঞান ইংরেজ কোম্পানীর সাহেবরা বারে বারে উল্লেখ করেছেন। রাণীর অমতে, বিশ্ষে তিনি নাটোরে উপস্থিত থাকলে কিছু করতে পার! বে অসম্ভব একথা হেইজ ১৭৭৪ খ্রীষ্টাব্দেই লিথেছেন। রামকঞ্চ ভক্ত ছিলেন না, ছিলেন অপটু। একাধিক ব্যক্তি তার অপটুতার স্থযোগ নিয়ে তাকে দিয়ে বহু অন্তায় কাজ করিযেহেন। নন প্রতিবন্ধকত1 সত্বেও যতদিন রাণী জমিদ্ারীর পরিচালনা করেছেন ততদিন ক্ষতির পরিমাণ কম ছিল। কিন্ত রামরুষ্জের হাতে এই ক্ষয় এমন প্রচণ্ডভাবে বৃদ্ধি পেল বে রাণীও শঙ্কিত হলেন। রামকৃষ্ণের অন- ভিজ্ঞতার ফলেই চিরস্থায়ী বন্দোবন্তের সময় নাটোর জমিদারীর স্থান বহুজনের নিচে নেমে গেল । সেখান থেকে ধীরে ধীরে উখান ও বাংগার সমাজে নাটোরের সাংস্কৃতিক দান আরো একশত বছরের এ্রাশহাসিক ঘটনার ফল। না্ট্যকারগণ বিংশশতাব্দীর নাটোরের কথা মনে রেখে ছুইশত বছর আগেকার ইতিহাস ভুলে গেছেন। তাই শাদের নাটকগুপি বিন! আলোচনায় রূপকথার পর্যায়তৃক্ত কর] চলে । । অমরেন্ছনাথ দত্ত দুর্গাদাস লাহ্ড়ীর উপন্তাস থেকে নাটক করেছেন ৫৯৩ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সঘালোচন। ত্বীকার করেছেন। এই নাটকটি এখন লুপ্ত । জ্ৰানবরঞ্জন ঘটকের নাটকেরও, কোন হদিশ মেলে না । একমাত্র মহেন্ব গুধ্তর “্ঝাণী ভবানী” পাওয়া যায় । মহন গুগ্ু £ রাণী ভবানী মতেন্্র গুপ্ত দুর্গাদাঁস লাহিভীর উপন্তাঁস পড়েছেন স্পট বোঝা যায়। কিজ্জ তিনি কল্পন? চালনা থেকে বিরত থাকতে পারেন নাই ফলে বঙ্কিমের' দেবী চৌধুরানীর ভবানী পাঠক তাঁর নাটকের মধ্যে এসেছে । তারপরই হাতির প্রবন্ধ মুখস্ত করা ফাকিবাজ ছাত্রের মতো তিনি সিরাজদ্দেলাকে নিয়ে নাটক রচনী। চলেছেন । পলাশীতে সিরাজদ্দৌলার পতন ত্কার নাটকের মুখ্য ঘটন। হয়েছে । নাটক শেষ হয়েছে মহ্মদী বেগ কর্তৃক সিরাজ হত্যায় । কারাগৃভে রাণী ভবানী সিরাজ বধে লহ্ব। বক্তৃতা করেছেন । নাটক যেমন হুর্বল নাটকের ঘটনাও তেমনি প্রক্ষিপ্ত। নবাবী ফৌজ কর্তৃক রাত রামকান্ত ও বাণী ভবানীর রাজাচ্যতিতে নাটক সুরু | দেব"প্রসাদ, দেবকীগ্রসাদ নামে থলনায়ক হয়েছেন । পরে অবশ্য তিনি কুত অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করকার জন্ত সিরাজদ্দৌলার সঙ্গে যোগ দিয়ে পলাশীর প্রান্তরে ভীগীবন উৎসর্গ করেছেন। পল'শীর বুদ্ধের সাত বছর আগে তিনি দেহরক্ষা করেছেন নাট্যকারের জানা ছিল না। রাজা রামকান্ত এক মূখ বালকের মতো বাণী ভবানীর কাছ থেকে কখন কি করতে হবে তার নির্দেশ পাচ্ছেন । চটে গিয়ে তরোয়াল খুলে দেবকীপ্রসাদকে বধ করতে যাঁচ্ছেন। ভবানীর দত্তকপুত্র রামরুষ্জকে আর এক রামরুষ্ণের ছায়ায় সাধকরূপে দেখান হয়েছে । বলাবাহুল্য এটাও প্রক্ষিপ্ত । তিনি গৃহী ছিলেন এবং বিষয়ী লোক ছিলেন কিন্তু কর্মোক্ষম লোক ছিলেন ন1। বস্তত তার জন্যেই নাটোরের পত্তন অত ত্রত্তগতিতে হয়েছে । ্‌ অন্যান্ত চরিত্র যথা নিয়মে অনৈতিহাসিকতার জের টেনে চলেছে। দেশপ্রাণ সিরাজদ্দোল তার স্বামীপ্রাণা স্ত্রী লুৎফা, খল মীরজাফর নবাব ভূত জগৎশেঠ ও রলাজবললিভ এবং নবাবের বন্ধু মোহনলাল প্রভৃতি চরিত্রগুলি অঙ্কন করতে নাট্যকার প্রচলিত মিথ্যার কোন ব্যতিক্রম করেন নাই। রাণী ভবানী নাটক তিন অঙ্কে ৯৩ পাতায় সমাপ্ত । প্রথম অঙ্কে তিনটি: রাণী ভবানী এবং অযোধ্যার বেগম ৫৯১ মৃত ১ থেকে ৪১ পাতা পথ্যস্ত* দ্বিতীয় অঙ্কে চারটি দৃশ্ত ৪১ থেকে ৬৯ পাত। পর্যন্ত এবং তৃতীয় অঙ্কে চারটি দৃশ্ত ৬৯ থেকে ৯৩ পাতা৷ পধ্যন্ত। প্রথম অভিনয় ২৪শে জানুয়ারী ১৯৪২ শ্রী; । উপসংহারে এই কথাই মনে আসে যে রাণী ভবানীর পুণ্য চরিত্র নিয়ে নাটক রচনা ছল না। তার দেশের মানুষের প্রতি দরদ, তার দয়! দাক্ষিণ্যঃ জনসাধারনের ধর্মের উন্নতির জন্ত তার বিরাট দান নাট্যকারদের টলাতে পারল না। ছিয়াত্তরের মদ্বস্তরের সময় রাণী ভবানীর মহৎ ভূমিকা] কেবল কথিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকল। নাট্যকার কেবল সিরাজন্দৌলার সময়ে রাণী ভবানীর কীতিকলাপ আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। রাণীর সঙ্গে নবাবের এ সময় প্রায় কোন যোগই ছিল না, যেটুকু হয়েছিল তারাস্থন্নরীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে ইতিহাসও মধুর নয়। কাজেই নাট্যকারকে বাধ্য হয়ে কষ্টকল্পনার আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়েছে । বারে বারেই দেখা যাচ্ছে যে বাঙলার ইতিহাস ব! বাঙালীর কীতিকাহিনী নাট্যকারদের মন টানতে পারে না। তীরা বাঙলা বা বাঙালীর গৌরব প্রকাশের থেকেও কর্ন৷ সাগরে নিমজ্জমান হয়ে রূপকথা রচনায় বেশী আমোদ পান। তা না হলে রাণী ভবানী নাটকে সিরাজদ্দৌলার জীবনী ও চরিত্র প্রাধান্ত পাবার কোন কারণ নাই । এই নাটকের এগারটি দৃশ্ের মধ্যে চারটি বৃহৎ দৃশ্য জুড়ে আছেন বাংলার নবাব। ছুটি দৃশ্য ভবানী পাঠকের এবং মাত্র পাচটি দৃশ্য রাণী ভবানীর । ৯৩ পাতার মধ্যে ৩২ পাতা জুড়ে আছেন বাংলার নবাব । নাটকীয় ঘটনার বাহুল্য না থাক সত্বেও রাণী ভবানী নাটকে ্রতিহাসিক রাণী ভবানীর কোন পরিচয় প্রায় পাওয়া যায় না । নাটকে বাণী ভবানীর প্রতিহাসিক জীবন প্রকাশ করতে নাট্যকার অসমর্থ হয়েছেন একথা কঠোর হলেও সত্য । অফোধ্যার বেগম ॥ এবার অযোধ্যা বেগম ম্পর্কে দুঢার কথা বলা যাক। অযোধ্যার বনু বেগম বা! ভাউবেগম বানী ভবানীর সমসাময়িক.। একমাত্র অর্থের প্রাচ্য ছাড়া এই ছই মহান মহিলার মধ্যে কোন. ষিল নাই। ভবানী ছিলেন মহারাঁজ। স্বামকান্ের একমাত্র. কান্কা আর. ডাউবেগম ছিলেন -আবোধ্যার মুকাব ৩% ৫৯২ বাংলা এরতিহ্াসিক নাটক সমালোচনা হ্জাউদ্দৌলার ধর্মৰিবাহের চার পত্বীর একজন । স্ুুজাউদ্দৌলার জেনানায় শত শত রমণী ছিল বলে প্রবাদ। কেউ বেগম বা অন্ত নামে আখ্যাত হলেও স্রীদেহবিলাসী স্জাউদ্দৌলার এই বিরাট বেগম মহল তার নামকে বর্তমান কালেও জীবিত রেখেছে । সন্ভোগ রমণের যুগেও অযোধ্যার নবাবের খ্যাতি স্থবিদিত ছিল। অপরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ১৩২৮ সালের ১৭ই অভ্রাণ যখন “অযোধ্যা বেগম নাটক লিখে অভিনয় করলেন ষ্টার থিয়েটারে তখন অযোধ্যার নবাবের নামে নানা প্রচলিত কথিক1 ছাড়া অন্য কোন খবর তিনি জানতেন না। জানতেন না যে মোগল রাজত্ব কতকগুলি স্ৃবায় বিভক্ত ছিল। প্রত্যেক স্থববায় একজন স্বাদার নিষুক্ত হতেন ধার উপাধি হত নবাব। বাংলা স্থবার অন্তর্গত ছিল বাংল!, বিহার, উড়িস্তা এবং আসামের কামরূপ জেল প্রভৃতি যে জায়গাগুণি তখন বাংলার অংশ বলে গণ্য হোত। এই স্বাদার সাধাব্রণত «বাংলার নবাব” বলে উল্লিখিত হতেন। এই কথার মানে আজকে গবর্ণর অফ ওয়েষ্ট বেঙ্গল বলতে যা বোঝায় তার থেকে এক ইঞ্চি বেনী নয় যদিও তখনকার বাংলার নবাব মানে বাংলার স্ববাদার যার ভৌগলিক পরিধি আজকের বাংলা বিহার উড়িস্া। সব থকে বড় স্থবা ছিল অযোধ্যা । এই সবার অন্তর্গত ছিল সমগ্র মধ্যপ্রদেশ ও হিমাচলপ্রদেশ হিমালয় পধ্যস্ত, দক্ষিণে নর্মদা ও পশ্চিমে দিলী ॥ দ্িলীর বাদশার প্রধান আমির (বাঙালী নাট্যকারদের খুব পছন্দ ওমরাহ শব্টি। এটি আমির শব্দের বহুবচন মাত্র ।) সাধারণতঃ অযোধ্যর স্থবাদারী পেতেন। প্রায়ই দেখা গেছে যে অযোধ্যার নবাব দিল্লীর বাদশাহের প্রধান মন্ত্রী হয়েছেন। তার রাজনৈতিক কারণও ছিল। দিল্লীর বাদশাহরা ছিলেন সুন্নী আর অযোধ্যার নবাবর। ছিলেন সিয়া। প্রধান মন্ত্রণাদাতার পদে তাদের রেখে সুন্নী ও সিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্ব রক্ষার প্রচেষ্টা সফল হয়েছিল। ছৃদ্ধর্য প্মাফগান রোহিলা সম্প্রদায়কে অযোধ্যার নবাবই বশে রাখতে পারতেন । বাদশাহ পুত্র আলি গৌহুর দিল্লী থেকে বিতাড়িত হয়ে অযোধ্যার নবাব 'ুজাউন্দৌলারই আশ্রয় গ্রহণ করেন। অযোধ্যার নবাবই তাকে বাদশাহ ঘোষণা করেন এবং তাদের সম্মিলিত বাহিনী বাংলার বিতাড়িত নবাৰ মীরকাশিগের সঙ্গে মিলিত হয়ে বঙ্সায়ে ইংরেজদের কাছে পরাক্তি হন'। এই রাণী ভবানী এবং অযোধ্যা বেগম €৯৩ পরাজয়ের অবশ্থস্তাবী ফলস্বরূপ ১৭৬৫ ত্রীষ্টাব্ধে বাদশাহ বাংল! বিহার উড়িস্তার, বা বাংলা স্থবার দেওয়ানী বা রাজস্ব মন্ত্রীত্ব ইষ্ট ইত্ডিয়া কোম্পানীকে দ্দিতে বাধ্য হন। অযোধ্যার নবাবকেও বেনারস ও গাজীপুর পধ্যন্ত ভূভাগ ছাড়তে হল। অর্থাৎ বাংলা স্ববার পশ্চিম পরিধি বেনারস ও গাজীপুর জেলা পর্য্যন্ত বন্ধিত হল। এই সময়কার ইতিহাসে অধোধ্যার নবাব একজন অত্যন্ত ক্ষমতাশীল ব্যক্তি। বাদশাহীর পুরঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষমতা তার ছিল। ক্রমবর্ধমান ইংরেজ শক্তির বিরুদ্ধে দাড়াবার মতো! অর্থবল, জনবল এবং রাজনৈতিক ক্ষমতাও তার ছিল। কিন্তু তৎকালীন নবাবী নিয়মের ব্যতিক্রম তিনি করতে পারলেন না তাই স্থুরা, সাকী, সম্ভোগ, বিলাস থেকে নিজেকে মুক্ত করার কোন চেষ্টাই করলেন না। তার মৃত্যুর কিছুদিনের মধ্যেই অযোধ্যা সুবা ইংরেজ অধিকারে চলে গেল এবং সেই সঙ্গে সমগ্র উত্তর ভারতে ইংরেজ গ্রতুত্ প্রতিষিত হল। অপরেশচন্দ্র এই সব ধতিহাসিক ঘটনা নিয়ে মাথা ঘামান নাই । তীর নাটক পলায়নপর মীরকাশিমকে অযোধ্যার নবাবের আশ্রয় দেওয়ায় হুক হয়েছে । তারপর বক্সারে পরাঙ্গয় ও মীরকাশিমকে পরিত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে নাটক নবাব স্থৃজাউদ্দৌলার ধুবতী স্ত্রীলোকের প্রতি আকর্ষণ এবং রোহিল! আফগানদের সঙ্গে বিরোধের এক রূপকথার গল্পে নিমজ্জিত হয়েছে। নাটক শেষ হবার আগে স্ুজাউদ্দৌোলার এবং রোহিলা নায়কদের মৃত্যু দেখান হয়েছে। শেষ দৃশ্ত দিল্লীর পথে ভিক্ষুকরূপে নবাব মীরকাশিম এবং তার পুত্রদ্ধয়ের মৃত্যু এবং রোহিল! প্রেমিক প্রেমিকার পুনমিলন। নাটকে বাদশাহ আলিগৌহারের কোন চিহ্ নাই |. অযোধ্যার ভাউ বেগম সর্বদ। নকলের উপকার করে বেড়ালেন বলেই নাটকের নাম 'অযোধ্যার বেগম” রাখা হয়েছে । যেমন মীরকাশিমকে আশ্রয় দিতে ভাউবেগম তার ্বামীকে অস্প্রাণিত করলেন। কিন্ত ব্সারে যেতে ত্র বাধা না শোনাই স্থভাউদ্জৌলার পতনের কাব্রণ হল। বল্সারে শক্র পরিবেষ্টিত নবাবকে ভাউ বেগমই রক্ষা করলেন । মীরকাশিমকে পরিত্যাগ করতে বা রোহ্লাদের সঙ্গে বুদ্ধে মাততে ভাউবেগমের নিষেধ মানলেন না নবাব সুজাউদ্দৌলা |, বন্ধিনী যুবতী সস্তোগ করতে গিয়ে বিষাক্ত ছুরিতে প্রাণ হারালেন । ভাউ ৫৯৪ বাংলা ধতিহানিক নাটক সমালোচনা বেগমের নিষেধ ন! শুনে নবাব তার বিলামী জ্যেষ্ঠ পুত্র আসফউদ্দৌলাকে নবাবী তক্ত দেওয়াতে অযোধ্যার পতন হল | মীরকাশিমকে রক্ষার শেষ চেষ্টা করে অসফল হুলেন বেগম যদিও তার চেষ্টাতে রোহিলা প্রেমিক প্রেমিক। পুনমিলিত হলেন। ভাউবেগমের সাফল্য হতাশায় নাটকের পরিসমাঞ্ধি, হল। নাটকে ১৭৬৪ থেকে ১৭৭৭ গ্রীষ্টাব্দের ঘটন। দেখান হয়েছে কিন্তু ইতিহাস নাটকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত । বজ্সারের যুদ্ধ ও মীরকাশিমের মৃত্যু ছাড়া সবই কল্পিত ঘটন!। তবু যোগবিয়োগের নিয়ম মিলিয়ে নাটক জমাবার যথেষ্ট উপকরণ আছে। সুবিথ্যাত অভিনেত্রী তারান্ন্দরীর ভাউবেগমের ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় নাটকের স্নাম বদ্ধিত করেছে। মীরকাশিম হতেন চুনীলাল দেব, নবাবকে হত্যা করতেন কষ্ণভামিনী আর নায়ক নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করতেন প্রফুল্ল সেনগুপ্ত ও নীহারবাল! । পাঁচ অঙ্কের নাটক ১৮৩ পাতায় সমাপ্ত । প্রথম অঙ্ক ১ থেকে ৫২ পাতায়, আটটি দৃশ্ত। দ্বিতীয় অঙ্ক ৫৩ থেকে ৮৮ পাতায় ছয়টি দৃশ্য, তৃতীয় অঙ্ক ৮৯ থেকে ১১৪ পাতায় পাঁচটি দৃশ্ঠ, চতুর্থ অঙ্ক ১১৫ থেকে ১৪৫ পাতায় পাঁচটি দৃশ্ঠ, ও পঞ্চম অন্ক ১৪৬ থেকে ১৮৩ পাতায় সাতটি দৃশ্ত। নাটক পরিচালনা করেন স্বয়ং অপরেশচন্দ্র । নাটক প্রকাশিত হল শ্রাবণ ১৩৩৭ সালে বা ১৯৩০ ৬১৬০ ০ উপসংহারে বলতে ইচ্ছা হয়রাণী ভবানীর সম্পর্কে এতো কথিক! থাকা সত্বেও তার নাটক অবহেলিত। ভাউবেগম সম্পর্কে কোন থবর না থাকাতেও কেবল রূপকথা দিয়েই ভাউবেগমকে এক মহান চক্রিত্রক্ূপে অঙ্কন করা হয়েছে । সামঞ্জশ্তবিধান করে যন্দি রাণী ভবানীর নাটক অপরেশচন্ত্রকে দিয়ে লেখান যেত হয়তে। একটি সুন্দর নাটক পড়রার সুযোগ পাওয়া যেত। হু:খের বিষয় তা হয় নাই। তার ফলে ছুটি নাটকের কোনটিতেই ,সম্তোষ আসে না। এতিহাসিক নাটক রচনার দিক থেকে ছুইটি ব্যর্থ গ্রচেষ্টা। অষ্টাদশ শতাব্দীর দুটি মহান জীবনকে নাটকের মাধামে প্রকাশে নাট্যকা রুদ্র, 'অপারগ হয়েছেন এই কথ! বলেই এ প্রবন্ধের ছেদ টানা বাক। | ৬ ৪ | ৬। ৭ ৮ । ৯ | ১। হ। ৩। | ৮ | ৫১৫ সূত্র নির্দেশ হুর্গাদ্াপ লাহিড়ী, রাণী ভবানী ( ১৩১৭ )। 511 80017811) 911021, 9৫. 1115101% 01 8917081, ৬০।, 11, 0. 414. ০91991009 39৬18৬৬, 1873, ৬০1. 56, 19111001101 /১11500901805 ০8817091718 78195 01 381511911, 00. 1:20 যছুনাথ সরকার,. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সীতারামের এরতিহাসিক ভূমিকা! (সাহিত্য পরিষদ সংস্করণ )। /১. 16211, 190015110 001) 16181) 210 115 111885, 00. 218. ০91060000 79৬19১4, 00, 011. ফছুনাথ সরকার, সীতারামের এ্রতিহাসিক ভূমিকা । এবং /. 1011], 010. 011. 0. 49--53. 0০810801158 79৬19৬/, 010. ০11. /. 1621171, 000. 010 10. ৪82--83, 218, 259. 08910111005 79৬18৬/, 900. ০11. 1010. 1101৫. দুর্গাদাস লাহিড়ী, রাণী ভবানী । তদেব। এবং 21999900105 ০0 09 99/90618 80810 00151511115 01 0116 ৬/1016 ০০081101| ০ 7 4018 1774. 1010. 62915181 0011091901091708 859 10185817490] 10) 116 1$9001781 810155, ৩০1. 1209 1405. 1164, 1165, 1179 8 1194. 1010, 19091 1$০. 2774. /. 00170011110 0004011 0 99৬91819 ৪1 01511081990, [70069017199 ০0 1118 1771; 14 [090911091, 1771 £ 23 09809171097, 1771 870 8 4১809091774. 8. 79$9749 8০৪0 00781901001 076 /1019 00171011, ৫৪৯৩ ১৯ | ০ । ২১ । ২২ | ২৩। ২৪। ২৫ । ২৬ । ২৭ । ২৮। ২৯। হৃত্রনির্দেশ [21009901705 0 11 81701811774, 16 18101) 1774. 5 /১0111 1774 070 9 01904511774. 21006601105 01 06 76৬61706090. (59108918109), 36৬/817018 161181528 101009801105 ০0 15 10৬91111091 1778, ৬০1. 3 00. 312--313 7 01909601795 ০05 48170911779 ৬০1. 4. 00. 41--53. ১৮নং সুত্র দেখুন। 10নি. 1155. €087 2 5118, ০, 0. 01116 155 )001791 14 /0111 1777 00 12 56101610109 1777. 71009901105 ০0 0168 99৬91016 10910910161 0 3 /১011 1788, 0. 23. 1010. 01 18 /91011 1781, 0. 1911--1929. 0০910601187. 36৬1৪৬/, 010. 011. 1078. 89110991 75৬91619 0017911119101015 (006011011), 17109089- 01195 ০01 6 )91)0181% 1792 3০. 4. 08101110 76৬1০৪৬/, 00. 0০1. ১৯নং সুঞ্জ দেখুন । [0910869 01 07911090056 01 10105 01) 9৬108105 01911491890 11 (69 771181 01 /811917 11850110, 65001175, 8110 19501701185 01 0169 8116051। 817017901৬9 11181011810 01 17018, (1797), 00. 673--674. 107. (/১) 89109] 79%91816 00817101| 71006990100 ০0 7 00101091 1791 0. 166--187. (8) 997991 ন6$61118 001541680015 (11501), 58১91 00175811181101) 01 30 /১0111 18091. |0েন, 21009900195 ০01 06 96৬91146 0900. ( 59191919 ) 76$6917009 1019188 ০015 19/61109 1778, ৬০. ও 0. 312--313 8170 ০0 5 4816281% 1779, ৬০. 4০ 0. 41-753, ৩২। ৫ । ৬ । ৮ | ৯ । ১১1 ১২ । ডু ১৩ । গ ১৪। ১৫। স্তত্রনির্দেশ ৫৯৭ 8917091 80870 0 39৬/916016 00190110800139 0 17 59810191701061, 1802, 1৪101, 1০. 50. 1010. 0121 59100911091 1802, ০. 11. রাণী ভবানী ও অযোধ্যার বেগম রচনায় নিয়লিখিও পুশ্তকাদির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। [0910918 0 176 110058 01 10105 11) 11191171981 01 ৬/91191 119511105 25ন.. 29110110811 10810681501 1010119109118 79] 810 009351171108291 791. 11151017 0 01877171981 01 ৬৬৪1191 11950105 659. (1796) 08৬ 10 09818910015. 91017 1101. 60110110 860115 : 11103898011079171 01 /০1101) 11951117905. 0. ৬. 17019512119 /0111115101810101) 01 ৬/91191) 11951011105. ৩. 16. 51118 (6৫.) 1115101% 01 8917081 (17657--1995), (০. এ), (99151791| 2 11109901170617 01 ৬/81191) 119501105. 76001701110 2110 7001101081 6১009119101) 2 /% 02859 0 0101), (09010101191) ২), 1010 : 0010100010119116804 197900105. 1017. 716 0179 62210615. 811010805- 71911950175 17919915. 107. 7169 [০৬18 2810915. 1078. 7176 [181015 7810915. | 107. 11501. 60010109217 1155. ড4৪157. 119511195 : (1917015 991801459 100 06 51809 ০0 11015. 18000195০01 01181039 ০01 11191 0111785 8101 1৬1150191198701 809811750 ৬/৪11917 11850105 £5ণ. (1786). মারাঠা শিখ ও মহিশুর তারপর সিপাহী বিদ্রোহ বাংলার অঙ্গন থেকে আগিয়ে গিয়ে দেখা যায় যে ইংরেজ আধিপত্য বিস্তাষের প্রথম যুগে ভারতবর্ষের নান! নেতার সংগ্রাম নাটকের বিষয়বস্ত হয়েছে। ইংরেজের কাছে পরাভব বাঙালীর মনকে শ্বাদেশীকতায় উদ্ুদ্ধ করেছে যার প্রকাশ হয়েছে নাটকে । দুঃখের বিষয় এই পর্যায়ের অধিকাংশ নাটক সংগ্রহ কর! যায় নাই যার ফলে এই পরিচ্ছদের আলোচনাকে অসম্পূর্ণ গণ্য করতে হবে। মারাঠা্ের নিয়ে মাত্র একখানা! নাটক (খা যায় £--মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মাধবরাও। নাটক না পাওয়ায় এতিহাসিকতা আলোচন! সম্ভব হবে না। শিখেদের নিয়ে তিনথাঁনা নাটক আছে। ১। শিখ--বিপিনবিহান্বী নন্দী । ২॥ পাঞ্জাব কেশরী রণজিৎ সিংহ__মহেন্ত্র গুপ্ত । ৩। ব্ণজিতের জীবনযজ্ঞ_ হরিপদ চট্টোপাধ্যায় মাত্র পাঞ্জাব কেশরী রণজিৎ সিংহ পাওয়া গেছে তাই এই নাটকটি আলোচিত হবে। মহিশুর জম্পর্কে সব থেকে বেণী নাটক লেখা হয়েছে। সব সমেত পাচথানি নাটকের নাম পাওয়া যায় £__ ১। হাক়দর আলি-_সুরেন্্রনাথ মুখোপাধ্যায় । (১৯২১) ২। হায়দর সাহেব বা হায়দর আলি--সরোজ রায়চৌধুরী । (১৯৪২) ৩। হায়দার আলি- মহেন্দ্র গুপ্ত । (১৯৪৮) ৪। টিপু সুলতান-_ মহেন্ত্র গুপ্ত । (১৯৪৪) ৫ | সরমা নাটক? (সম্ভবত মহিশূর নিয়ে রচিত) (১৮৮০) বর্তমানে মাত্র একথানি নাটক পাওয়া গেছে সেখানি অলোচন! করা হবে। নাটকটি টিপু স্থুলতান। ভরতে ইংরেজ প্রতৃত্ব বৃদ্ধি পেতে সুরু করল বঙ্সার যুদ্ধের পর থেকেই। শাসনব্যবস্থাকে হুসংবদ্ধ করতে ইংয়েজের দশবছর সময় লাগল তারপরেই মারাঠা শিথ ও মহিশূর তারপর সিপাহী বিদ্রোহ ৫৯৯ ভারতের বুকের ওপর দিয়ে সরু হল তাদের বিজয় অভিযান। দিল্লীর বাদশাহ তখন দিল্লী থেকে পলাতক তার আশ্রয়দাতা! প্রধানমন্ত্রী অযোধ্যার নবাব । ভূগোলের দ্বিক থেকেও বাংল! স্থবার গায়েই অযোধ্যা স্থবা। তাই অযোধ্যার নবাবকে ইংরেজ বশে আনবার চেষ্টা সুরু হল। অন্তদ্দিকে মারাঠ1 শক্তি তথন মহাপরক্রমশালী । আ'বব সাগর থেকে বঙ্গোপসাগর অথবা গুজরাট থেকে উড়িয়া তাদের দখলে । দিল্লীতে পর্যন্ত মারাঠ! ক্ষমতা ও পরাক্রম স্বীকৃত । মারাঠ] মহানায়ক মহাদাজী সিন্ধিয়ার পরাক্রমের খ্যাতি দিকে দিকে বিস্তারিত। মারাঠা কূটনৈতিক নানা ফাড়নীস বিচক্ষণতায় চাণক্য ও যুদ্ধবিগ্ঠায় দ্রোণাচার্য । ছুজনেই অর্থাৎ মহাদাজী সিন্ধিয়া ও নানা ফাড়নীস দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধের পলাতক সৈন্তাধ্যক্ষ | এই ছুই মহানায়কের কাছে যেকোন ব্যক্তি পরাভূত হবে সে বিষয়ে সন্দেহ ছিল না। অর্ধভারতের অধিশ্বর মারাঠাদের পতন তাই অবিশ্বাস্য । মহানায়কদ্বয় কেবল পরম্পরের ক্ষমতা নাশ করলেন । তাদের পক্ষাবলম্বীগণ গৃহযুদ্ধে ভ্রাতৃবধে এমন মেতে থাকলেন যে মারাঠার সম্মিলিতবাহিনী ইংরেজের সম্মুখীন হল না। ইংরেজ ধীরে ধীরে একে একে বিভিন্ন মারাঠা নায়কদের আলাদা! আলাদা যুদ্ধে পরাজিত করলেন। ১৮০৪ খ্রীষ্টাব্দে লর্ড লেক যখন দিল্লী দখল করলেন তথন ইংরেজের ভারত জয় সম্পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য করা হল। মারাঠা পতিত হল। তাদের অভ্রংলিহ শৌর্্য স্বার্থপরতার কৃপে নিমজ্জিত হল। আপৎকালে মেদ্দিনী রথচক্র গ্রাস করল, ব্রহ্মবিদ্ভা বিশ্মরণ হল। ত্রাতৃহত্যা, অনাচার, অত্যাচার কিছুই বাদ গেল না। মারাঠা পতনে আনন্দিত রাজপুত কিছুদিনের মধ্যেই সন্ধির জালে ইংরেজ বশ্ততা শ্বীকার করলেন । এই ধ্বংসাবশেষের মধ্যে থেকে মহারাজ রণজিৎ সিংহ ক্ষমতা আহরণ করে ভারতীয় শৌধ্যকে শেষবারের জন্ত প্রজ্বলিত করলেন। পাঞ্জাব থেকে কাশ্পীর তার বশ্তত1 স্বীকার' করপ। শেষ গান তখন সুরু হয়ে গেছে। মহাবীর রণজিৎ সিংহের বুঝতে সময় লাগে নাই যে ইংরেজ প্রভৃত্বের লাল রংকে রোধ করা কতো কঠিন। তাই অকর্মণ্য ও বিলাসী পুত্র খগ্জা সিংহকে বাদ, দিয়ে পৌর নওনিহাল পিংহকে উত্তরাধিকারী নির্বাচন করলেন। রণজিৎ সিংহের মৃতদেহ শীতল হবার আগেই, সুরু হল ভ্রাতৃুবিরোধ। অপঘাত ৬০০ বাংল! এ্রঁতিহাসিক নাটক সমালোচনা না গুপ্তহত্যা বিচার কে করবে । শিখ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার আশ! নওনিহাল সিংহের মৃতদেহের সঙ্গে পুড়ে ভম্মীভূত হয়ে গেল। পাঞ্জাবের সর্বসম্মত নেতা নাকি নাবালক দলিপ সিংহ। তার মাতা বিন্দন কাঁউরকে নাকি রণজিৎ কোনদিন সত্যই বিবাহ করেছিলেন। দলিপ সিংহ বিলেতে গিয়ে জনৈক মেমসাহেবের পাণিগ্রহণ করলেন । বোধহয় খ্ীন্টানও হয়েছিলেন । কাশ্মীরের শিখ রাজবংশ দ্াড়ী কেটে বিলেতে গিয়ে “্ীযুক্ত এ নামে কেচ্ছাকাহিনীর নায়ক হলেন। রণজিতের সঙ্গেই শিখ সাআজ্যবাদের উৎপত্তি ও বিনাশ হয়ে গেল । এইভাবে একে একে নিভিল দেউটি। ভারতবর্ষের স্বাধীন] বিদেশীর পায়ের তলে পিষ্ট হল। এই ব্যর্থত| যেমন হয় বিদারক তেমনী শিক্ষনীয়। নাটকের যোগ্যবস্ত বটে। নাটকও রচিত হয়েছে । ১৮৮০ খ্রীষ্টাব্দে রচিত “সরম। নাটক" সন্দেহের বশবতী হয়ে যদি বাদও দেওয়া নাঁয় তাহলেও মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( সম্ভবত ) ১৯১৫ খ্রীষ্টাব্দে রচিত মাধবরাও ব1 সুরেন্্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের ১৯২৭ থ্রীষ্টান্ে রচিত নাটক থেকে মহেন্দ্র গুধ্ঠর ১৯৪৮ গ্রীষ্টান্দে রচিত হায়দার আলি পর্যন্ত এক নিরবিচ্ছিন্ন ঘোগন্ত্র পাওয়া যায়। অর্থাৎ দেশের ত্বাধীনতা রক্ষা সংগ্রামের ক্ষেত্রে বাঙালী নাট্যকার সর্বভারতীয় এ্রতিহাসিক নায়কদের সম্পর্কে সজাগ ছিলেন সেটাই প্রমাণ হয়। নাটকগুলি নিয়ে আলোচনায় নামার আগে ইতিহাসের ঘটনাগুলি মনে করে নেওয়া যাক । একটু পেছন থেকেই সরু করা যাক। ১৫৬৫ খ্রীষ্টাব্দে তালিকোটের যুদ্ধে বিজয়নগর সাআজ্য ধ্বংস হল। মহিশুরের রাজ্যপাল রাজ ওয়াদিয়ার (ওয়াদিয়ার শব্দের অর্থ সম্রাটের প্রতিনিধি) বিজয়নগরের বশ্যতা অস্বীকার করে নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করলেন। তাঁর বংশধর চিকা দেবরাক্ত বাদশাহ ওরক্গজজীবের বিশেষ প্রিয়পাত্র হন এবং দাক্ষিপাত্যের যুদ্ধে বাদশাহ পক্ষে থাকার ভন্ত উপাধি ও হস্তিদন্ত নিমিত্লিংহাসন উপহার পান ১৬৯৯ শ্রীষ্টাব্বে। মহিশুরের কোলার জেলায় হায়দার আলি ১৭১৭ প্ী্টান্ধে জন্মগ্রহণ করেন এবং মহীশুর রাজার অধীনে চাকুরী গ্রহণ করেন। তার নির্ভীক কর্মধার] এবং যুন্ধ নিপুণত! তাকে সৈল্ঠাধ্যক্ষের পদ সহজেই পাইয়ে দিল। তারপর নিজাম পুত্রদের সঙ্গে যুদ্ধে মহিশুর যখন মেতে উঠলেন সেই মারাঠা শিথ ও মহিশূর তারপর সিপাহী বিদ্রোহ ৬০১ সুযোগে হায়দার আলিও নিজাম পুত্র নাসিরজণ্ডের শিবির লুষ্ঠন করে প্রচুর ধনরত্বের অধিকারী হলেন। নাসিরজগঙ ফরাসীদের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে গুগুঘাতক দ্বারা হত হলেন। ইংরেজ তখন যেমন পূর্ব ভারতে প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত ছিল ফরাসীরা তেমনি দক্ষিণ ভারতে নিজেদের প্রাধান্ত কায়েমী করতে চেষ্টী করেছে । হায়দর আলির ক্ষমতার পূর্ণ স্থযোগ নেবার জন্য মহিশৃররাজ তাঁকে ১৭৫৫ খ্রীষ্টাব্দে ডিগ্রিগুল জেলার শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতি ঘোলাটে হয়ে এল। ফরাসী সাহায্যে নিজাম মহিশ্রেরঞ্ বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্র। করলেন। সেই প্রবল বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ না করে মহিশূররাজ অর্থ দিয়ে সন্ধি ক্রয় করলেন। সে থবর প্রকাশ হওয়। মাত্র মারাঠা পেশোয়া বালাজী বাজীরাও স্বয়ং বিরাট এক বাহিনী নিয়ে মিশূর আক্রমণ করতে এলেন । তাদেরকেও প্রচুর অর্থ দিয়ে সন্ধি ক্রয় করা হল। রাজকোষ হল অর্থশূন্ত । মহিশৃরের সৈন্যরা দীর্ঘদিন বেতন ন! পেয়ে শেষে বিদ্রোহ করল। হায়দার আলির ওপর বিদ্রোহ প্রশমনের ভার পড়ল। তিনি কাউকে যুদ্ধে হারিয়ে, কারু ধন সম্পদর লুন করে অন্যদের সন্ত করলেন । গৃহযুদ্ধের খবর পেয়ে মারাঠারা ফিরে এল। হায়দার অলির নেতৃত্বে এক মহিশূর বাহিনী গোপালরাও পট্টবর্ধনকে পরাজিত করল। আনন্দিত মহিশ্ররাজ হায়দার আলিকে উপাধি দিলেন ফতে হায়দার বাহাদুর । তখন থেকে হায়দার আলিই হলেন মহিশূররাজের প্রধান সহায়। একদিকে প্রবল প্রতাপ মারাঠা অন্তদ্িকে পরাক্রাস্ত নিজাম তাছাড়া ছোট ছোট প্রতিবেশী কালিকটের জামুরিন বা! ব্রিবাঙ্থুরের নায়ক কেউ মহিশুরের সঙ্গে বন্ধতাবাপক্গ, নন। এরই মধ্যে আবার আরকটের নবাবের উত্তরাধিকার নিয়ে এসে গেল ইংরেজ। এই সংকট থেকে মুক্তি পাবার জন্ত হায়দার আলি সব ছেড়ে মাদ্রাজ দখল করতে সৈন্ত চালন! করলেন । ইংরেজ সংঘত হুল। হায়দার “আলির সঙ্গে সন্ধিত্রে আবদ্ধ হল। কিন্তু ওদিকে নূতন পেশোয়া মাধবরাও ১৭৬৭ ্রীষ্টার্ষে আক্রমণ করার ভয় দেখিয়ে পয়ত্রিশ লক্ষ টাকা সন্িপণ আদায় করলেন। দুবছর যেতে মা যেতেই পেশোয়া মাধবরাও 5 আবার, যুদ্ধসাজে সজ্জিত এবারকার সন্ধিপণ এককোটি টাকা । ছইপক্ষ যুদ্ধাজে সজ্জিত কিন্তু হটাৎ অস্ুম্থ হয়ে মাধবরাও ফিরে গেলেন পুপা। সেনাপতিস্ক ৬০২ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন! করতে এলেন ব্র্যস্বকরাও। প্রথম দিকের যুদ্ধে জিতলেও লুণ্ঠন করতে ব্যন্ত মারাঠ! সৈন্তদের শেষ পর্য্যন্ত হায়দার আলি বাধা দিলেন। সেই সঙ্গে খবর পেলেন যে মহ্িশূররাজ -ম্বয়ং মারাঠাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছেন, মূল্য হায়দার আলি। অচিরাৎ গুগ্তঘাতক দিয়ে মহিশ্ররাকে হত্যা করিয়ে হায়দার আলি রাজ-ভ্রাতা চামরাজ ওয়াদিয়ারকে রাজা ঘোষণা করলেন। মারাঠাদের সঙ্গে সন্ধি করে হায়দার আলি কুর্গপ্রদেশ দখল করলেন । মারাঠাদের তখন ঘোর ছর্দিন। পেশোয়া মাধব রাও ১৭৭২ খ্রীষ্টাব্ডে মারা গেলেন। তার ছোট ভাই নারায়ণ রাও পেশোয়া হলেন বটে কিন্ত এক বছরের মধ্যে গুপ্তঘাতকের অস্ত্রে মৃত্যুবরণ করলেন । তার খুড়ো রঘুনাথ রাও বা রঘোবার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে নারায়ন রাও এর নাবালক পুত্র দ্বিতীয় মাধব রাও নামে পেশোয়া ঘোষিত হলেন । মারাঠাদের এই বিপদে হায়দার আলির দ্রুত রাজ্য বিস্তার সহজ হুল। রঘোবার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে মারাঠাদেরকে দেয় চৌথ কমিয়ে একচতুর্থাংশ কৰে ফেললেন । ১৭৭৬ খ্রীষ্টাব্দে ভায়দার আলি মহীশুরের একছত্র অধিপতি । রাজা চামরাজের মৃত্যুর পর তারই বংশের এক বালককে নামমাত্র অধিপতি ঘোষণা করে হায়দারের ক্ষমতা হল অপ্রতিহত | (১৭৯৯ খ্রীষ্টাব্দে টিপুর নিধনের পর এই বালককেই মহিশূর রাজ বলে শ্বীকার করে ইংবেজ তাকে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করেন। ইনি ৬৮ বছর ব্রাজা থেকে ১৮৬৮ শ্্ীষ্টাব্দে মারা যান।) এই বছরেই নিজামের কাছ থেকে তিনি বেলরি জেল] কেড়ে নিলেন । দ্বিতীয় মাধব রাও ক্ষমতায় বসতেই নান! ফাড়নীস মহিশূর আক্রমণ করলেন। রঘোবার .সঙ্গে হায়দার আলির নখ্য সহজে ভূলে যাবার বিষয় নয়। তাই এৰার মারাঠা-বাহিনী ভয়ানকভাবে পরাজিত হুল। হায়দারের জয়ে আশাম্িত হয়ে মারাঠাদের অন্ত পক্ষ তার সঙ্গে যোগ দিল। মারাঠা ক্ষমতা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে গেল। হায়দার ধীরে ধীরে কৃষ্ণ! এবং ভূঙ্গভদ্রার মাঝে একচ্ছত্র অধিপতি হলেন । মহাকুটচক্রী নানা ফাড়নীস সন্ধির সর্ত পাঠালেন । নব পেশোয়ার বিবাহ উপলক্ষে নিমন্ত্রণ করলেন । মারাঠ, নিজাম ও মহিশূর একত্র হয়ে স্থির করলেন যে ইংরেজদের প্রথমে দাক্ষিণাত্য থেকে এবং পরে ভারত থেকে বিতাঁড়ন করতে হবে। সম্ভবত ইংরেজকে ভারত থেকে বিতাড়নের সক্ষিলিত রাষ্ট্রবর্গের এইটাই প্রথম; এবং শেষ লংকল্প। ১৭৮* খ্রষ্টাবে নান মারাঠা শিখ ও মহিশৃর তারপর সিপাহী বিদ্রোহ ৬০৬, ফাড়নীসের চেষ্টায় একই সঙ্গে মারাঠা আক্রমণ করল আরকট আর হায়দার আলি মাদ্রাজ। কিন্তু নিজাম নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে রইলেন। ওয়ারেন হেস্টিংসের চরম কৃতিত্বে মারাঠা মহিশূর আর নিজামের বন্ধুত্ব ভেঙে গেল। ভারতে ইংরেজ আধিপত্য রক্ষ। পেল। তারপর শুরু হল ইংরেজের সঙ্গে হায়দার আলির সরাসরি লড়াই । ইংরেজ সহজেই বুঝে নিল হায়দারের পতন না হলে দাক্ষিণাত্যে ইংরেজ প্রতৃত্ব স্বাপন করা যাবে না। হায়দারের বিরুদ্ধে তাই আয়ার কুট, হাশ্বারস্টোন প্রভৃতি বড় বড় সেনাপতিকে নিয়ত যুদ্ধ সঙ্জা করতে দেখা যায়। অবশেষে ুদ্ধক্ষেত্রের পশ্চাতের এক তীবুতে কর্কটরোগে হায়দার আলির মৃত্যু হল ২র ডিসেম্বর ১৭৮২ । কথিত আছে যেহায়দার আলি নাকি বলেছিলেন যে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ভূল ইংরেজের সঙ্গে যুদ্ধ। ইংরেজের সঙ্গে যুদ্ধের থেকে সন্ধির প্রয়োজনই যুক্তিসঙ্গত ছিল কারণ তাদের মধ্যে বিরোধের বিষয় বিশেষ কিছু ছিল না । ইংরেজের সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে হায়দার আলি সমগ্র দাক্ষিণাত্যকে মহিশুর রাজ্যের বশে আনতে পারতেন। হায়দার আলির মৃত্যুর পর তার স্থযোগ্য পুত্র টিপু স্বলতান যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন। তথন তার বয়স মাত্র ত্রিশ বছর (জন্ম ১৭৫৩ গ্রী:) টিপু স্থলতান অসমসাহসী যোদ্ধাএবং ব্হরচন] সম্পর্কে সহজাত জ্ঞানের অধিকারী হলেও জীবনে সাফলা লাভ করতে পারলেন ন! তার প্রধান কারণ তার জীবন এবং অভিজ্ঞত| মধ্যযুগীয় কোটর থেকে বাইরে আসতে পারে নাই। পৃথিবী যে কতো বদলে গেছে টিপু বুঝতে পারেন নাই। ইংরেজদের সাম্রাজ্য বৃদ্ধির প্রয়োজন এবং ফরাসীদের অকর্মণ্যতার কারণ তাঁর কাছে কথনও- স্পষ্ট হয় নাই। হলে যে অশিক্ষিত মেধা তাকে চালন। করেছে ত সম্পূর্ণ ভিন্নরপে প্রবাহিত হত। জীবনের শেষের দিকে এই মেধার তাড়নায় তিনি এক সাংঘাতিক কাজ করে ফেললেন যার জের সামলাতে ইস্ট ইত্ডিয়! কোম্পানীকে নাস্তানাবুদ হতে হুল। কিন্তু টিপু সুলতান নিজে কি কম্েছেন বুঝতে পারেন নাই। তাই জানতেন না কেন ইংরেজ তার নিধনের জন্ত এত বেণী ব্যন্ত হয়ে পড়েছে । জানলে তিনি আরো! সাবধানে ুদধ প্রণালী নির্ণয় কতেন।. বেঁচে থাকার চেষ্টা করতেন। এই সাংঘাতিক কাজ কি এবার বলা যাক। ১৭৯৮ খরটান্দে টিপু সুলতান ৬৪৪ বাংলা ধতিহাসিক নাটক সমালোচনা ফরাসী সম্রাট নেপোলিয়ান বোনাপার্টের খবর এবং তার দ্বিগ্বিজয়ের কাহিনী গুনলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ মরিশাশ দ্বীপের ফরাসী শাসনকর্তার মাধাষে নেপোণিয়ানের সাহায্য চাইলেন | টিপু জানতেন না বটে কিন্ত গবর্ণর জেনারেল ওয়েলেমলী জানতেন যে নেপোলিয়ান তখন মিশর পর্যাস্ত এসে গেছেন। ইচ্ছা করলে সহজেই ভারতে আসতে পারেন। তিনি হিসাব করলেন যে কোনক্রমেই ফরাসী সৈন্ত ১৭৯৯ খ্রীষ্টাব্বের মে মাসের আগে ভারতে পদার্পণ করতে পারবে না, হয়তো সময় আরে চার পাঁচ মাস বেশী লাগবে । সুতরাং যেমন করেই হোক ১৭৯৯ গ্রীষ্টাব্বের শীতকাল আসবার আগে এবং সম্ভব হলে মে মাসের মধ্যে টিপুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে। নেপোলিয়ান ভারতে আসবার কথা কখনও ভেবেছিলেন কি না ঠিক জানা নাই। কিন্তু ওয়েলেসলীর কার্যপ্রণালী নিধারণে কোন ত্রুটি ছিলনা । তাই সর্বশক্তি নিয়োজিত হল টিপুর নিধনে । তাঁর বিরাট বাহিনীর গোলাবর্ষণে শ্রীরহ্- পতনের পতন হল। সেইদিনই টিপু সুলতানের মুতদেহ আবিফ্ৃুত হল। তারিখ ২রা মে ১৭৯৯ শ্রীষ্টা্খ। নেপোলিয়ান ওই বছরের অক্টোবর মাসে মিশর থেকে ফিরে গেলে ইংরেজ কোম্পানী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল । ১৭৮২ থেকে ১৭৯৯ এই সাড়ে ষোল বছর টিপু হলতাঁন ভীম পরাক্রষে রাজত্ব করেছেন। মহিশ্ররাজকে বিদায় করে দিয়ে নিজেকে ১৭৮৬ গ্ী্টাবে 'পাদশা” ঘোষণা করলেন এবং দিল্লীর বাদশাহকে অমান্ত করে নিজের নামে মুদ্রা ছাপালেন ও মসজিদে খুতব। পাঠের হুকুম দিলেন। এই ঘটনায় বাদশাহ পক্ষর টিপুহ্বলতানকে সন্দেহের চোখে দেখতে লাগলেন। এদিকে ওয়ারেন হেস্টিংস মারাঠ। বীর মহাদাজী সিন্ধিয়ার সঙ্গে সন্ধি স্থাপনা করে ইংরেজ-মারাঠা যুদ্ধে বিরতি আনলেন । নিজাম সহজেই সন্ধি করতে রাজী হলেন। কাজেই প্রথমবার যখন ইংরেজ বাহিনী টিপুর সৈন্তদের মুখোমুখী ধাড়াল তখন টিপু একা, তার সাহায্যে কেউ নাই। সম্ভবত এই একাকীত্বই তার বীরত্বকে এমন করে জাগিয়ে দিল যে ইংরেজ সৈন্ত 'পরাভূত হুল। যার ফলে ইংরেজ সৈন্তদের মুখে মুখে গুজবে গুঞ্জনে টিপু সুলতান এক বৃহ্দাকার দানবে রূপাস্তরিত হলেন। লর্ড কর্ণওয়ালিস বহু যুদ্ধের পর ১৭৯৩ খ্রীষ্টাব্দে টিপুর সঙ্গে সন্ধি করতে সমর্থ হলেন। কিন্ত এই সন্ধির ফলে মহিশৃর রাজ্যের যেসব জেলা বা প্রদেশ টিপু এবং তার মারাঠা শিথ ও মহিশুর তারপর সিপাহী বিদ্রোহ ৬০৫ পিতা বাহুবলে জয় করেছিলেন সেগুলি টিপুকে ছেড়ে দিতে হল। এই সন্ধিকে টিপু পরাজয় মনে করে প্রতিশোধ নেবার অন্ত প্রস্তত হলেন। আবার যুদ্ধ বাধল। অবশেষে ওয়েলেসলীর নেতৃত্বে ২র। মে ১৭৯৯ শ্রীর্পত্রনের পতন ও টিপুর মৃত্যু ইংরেজদের সামনে থেকে ভারতবর্ষ অধিকার করার শেষ বাধা সরিয়ে দিল। ১৭৫৭ স্রীষ্াবকে পলাশীর প্রাঙ্গনে যে বিজয় অভিযান স্থরু হয়েছিল তা ১৭৯৯ খ্রীষ্টান শ্রীরঙ্গপত্তনের ভগ্নদৃর্গে সমাঞ্চ হল। মহিশূরে টিপু সুলতান যখন ইংরেজের বিরুদ্ধে জীবনমরণ সংগ্রামে নিয়ত শিখ রণজিৎ সিংহ তখন লাভোরে বিবাহিত হচ্ছেন (জন্ম ১৭৮০)। দশম ও শেষ গুরু গোবিন্দ সিংহের হত্যার পর (১৭০৮) শিখ সম্প্রদায় নান! ভাগে বিভক্ত হয়ে ছিন্নবিচ্ছিন্নভাবে জীবন যাপন করছিল। রণজিৎ সিংহ এই শিখ সম্প্রদায়কে ধীরে ধীরে সংহত করলেন এবং টিপুর মৃত্যুর মাত্র ছই মাস পরে জুলাই ১৭৯৯ শ্রীষ্টাবধে লাহোর ও অমৃতসরকে নিজের দখলে আনলেন। পাঞ্জাবের অন্তান্ত জেলায় ক্রমেই তার প্রতৃত্ব বিস্তারিত হল। টিপু সৃলতানের ভুল সংশোধন করে তিনি প্রথম থেকেই ইংরেজদের সঙ্গে মিত্রতা করলেন । স্থবিখ্যাত চালস মেটকাফ তার দরবারে ইংরেজদের প্রতিনিধি হয়ে এলেন। ইংরেজদের দেখে রণজিৎ সিংহ সৈন্তদের মধ্যে নিয়মান্থবর্তিতার প্রয়োজন বুঝেছিলেন তাই টিপুর মতো! অনেক বিদেশী সৈন্তাধ্যক্ষ তার দরবারে ছিল । জেনারেল ভেনটুরা ও জেনারেল আ্যালার্ড কেবল জাতে ফরাসী নন নেপোলিয়ানের নেতৃত্বে যুদ্ধ করবার সুযোগ তাদের হয়েছিল। গোলাগুলিতে আইরিশদের প্রাধান্ত বুঝে তিনি রেখেছিলেন কর্ণেল কোর্ট ও কর্ণেল গার্ডনারকে। আধুনিক যুদ্ধে কামানই বড় সম্বল বুধে ১৯২টি কামান তিনি প্রস্তুত রেখেছিলেন । সৈন্তবাহিনীর নাম দিয়েছিলেন 'থ|লসা সেনা” । অতি তীক্ষ বুদ্ধি রণজিৎ সিংহকে তার সমসাময়িকদের মধ্যে চিহ্নিত করেছে । তিনি সযত্বে ইংরেজ অধিরূত বা অধিকৃত হতে পারে এমন এলাক। পরিহার করে পাগ্জাবের পশ্চিমের দেশগুলি জয় করতে ব্যস্ত হলেন। ১৮১৮ গটান্বে আফগান নবাব মুজাফ ফর খার কাছ থেকে মূলতান কেড়ে নিলেন। বন্দুক ও কামানের পূর্ণ ব্যবহার করে রণজিৎ তার প্রতিপক্ষকে তরোয়াল নিয়ে, যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব দেখাবার কোন সুযোগই দিলেন না । তারপরই কাশ্মীর অভিযান। লহজে কাশ্মীর বশ্তত। মানল না । দীর্ঘদিন বুদ্ধের পর ১৮২৩ ৬০৬ বাংলা উ্রতিহাদিক নাটক সমালোচন৷ ্রীষ্টান্দে আফগানদের পরাভূত করে কাশ্মীর দখল কর! হল। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই থালস] সেনা পেশোয়ার দখল করল। বলা হুল “লাইলী” নামে এক আরবী অশ্ব পাবার জন্ত রণজিৎ সিংহ ষাট লক্ষ টাকা আর বার হাজার জীবন বায় করেছেন । ভারতবর্ষের মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে ইংরেজদের মনোভাব বুঝতে রণজিৎ সিংহের ভূল হয় নাই । তিনি একথাও বুঝেছিলেন যে তার সাধের লাহোর, তার খালসা সাত্রাজ্য সবই একদিন ইংরেজ পদ্দানত হবে। তাই তাঁর সেই বিখ্যাত বাক্য “সব লাল হো৷ জায়গা” । এবার ইংরেজ উপযাচক হয়ে এল সন্ধি করতে কারণ দ্বারে রুশশক্তি । যদ্দি রণজিতের সঙ্গে বন্ধুত্বের মাধ্যমে পাঞ্জাবের উপত্যকায় নেমে আসে রুশ ভন্লুক এই হল বৃটিশ সিংহের ভয়। রুশ জার আলেকজাগার, স্বয়ং নেপোলিয়ানকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছেন। তার রাজ্য বিস্তারের লিগ্সা কারু থেকে কম নয়। তাই আগেভাগেই সন্ধি ভিক্ষা করা হল রণজিতের কাছে। সর্ত একট! অবশ্ঠ ছিল সেই সঙ্গে । আফগানিস্থানের সাহহজ] তথন রণদজিতের আশ্রয়প্রার্থ তার কাছে থেকে আহরিত অমূল্য মণি কোহিনূর তখন রণজিতের কোষাগারে । ইংরেজদের সর্ভ হল যে এই ব্রিপাক্ষিক সন্ধিতে সাহস্থজা হবেন একপক্ষ। তাই হল। শ্রীমতী এমিলি ইডেন তার দাদা গবর্ণর জেনারেল লর্ড অকল্যাণ্ড ও মহারাজা রণজিৎ সিংহের সাক্ষাৎকারের এক অপূর্ব বিবরণ রেখে গেছেন। বলেছেন রণজিৎ ছিলেন ঘোর কৃষ্চবর্ণ এবং কুৎসিৎ। আলিজনের সময় পাগড়ীমুক্ধ শিখরাজা তার ভাই এর চিবুক পর্য্যন্ত পৌছতেন । তিনি রণজিতের অন্তঃপুরেরও বিবরণ দিয়েছেন । এই সন্ধি রণজিতের জীবনে ভাল ফলই এনেছিল। ডাকাত মানেই শিখ এই শব্ধ পরিবত্তিত করলেন বুণজিৎ। তার স্থশাসনে শিখর! সুসংবদ্ধ জাতিতে রূপান্তরিত হল। পাঞ্জাবের মাঠে ফলল সোনা । কোমরে কপা বেধে শিখ চাষী শান্ত, সংহত গৃহস্থ হয়ে উঠল। রণপিতের বিচার দ্বিল জবরদত্ত। দৌষীকে হয় তার গ্রামের সীমানায় ফাসী দেওয়া হত কিংবা তোপের মুখে উড়িয়ে দেওয়া হত। সব পাপই গুরু ধরে নিয়ে নিঃসক্ষোছে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া! হত। ফলে অপকর্মের বোঝ! অতিদ্রত কমে গেল ॥ মারাঠা শিখ ও মহিশুর তারপর সিপাহী বিদ্রোহ ৬০৭ রণজিতের শাসন পদ্ধতি আজ বিশ্ববিগ্ভালয়ে পঠনীয় বস্ত। কিন্ত সমস্ত ক্ষমতা একীতৃত হবার ফল খারাপ হল। সুর! নারী অসৎ সঙ্গে প্রিয় পুত্র নষ্ট ভয়ে গেল। অতি তরুণ পৌত্রকে শিক্ষিত করার তাগিদের পেছনে রপজিতের জীবনজোবর1 ভুলের থেসারত। শেষ সময়ে বাচবার, অশালীন আকুতি । ১৮৩৯ খ্রীষ্টাব্দে রণজিতের মৃত্যু হল। তার মুতদেহ নিয়ে যাবার সময়কার এক দুর্ঘটনায় বা গুগু5ত্যায় তার প্রিয়তম পৌত্র ও উত্তরাধিকারী নওনিহাল নিংহ হত হলেন। পিতামহ ও পৌত্রের সঙ্গে দাহ হল পাগ্রাবে স্থায়ী শিখ সাম্রাজ্য স্থাপনার আশা | রণজিতের মৃত্যুর ছয়বছর পর ১৮৪৫ গ্রীষ্টাব্ষে সন্ধির সর্ত অমান্য করে শিরা ইংরেজ অধিকৃত অঞ্চলে অভিযান স্থুরু করল। কয়েকটি যুদ্ধেই স্থসংযত বীর খালস! বাহিনী পরাজিত হল। আবার সন্ধি। আবার বুদ্ধ। ১৮৪৯ খ্রীষ্টাব্বের যুদ্ধে শেষ পরাজয়ের পর বৃদ্ধ শিখ সেনানী মন্তব্য করলেন “আজ রণজিৎ সিংহ মর গিষ্পা। রণজিতের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের পরাধীনত৷ সম্পূর্ণ হল। বিশাল ভারতে এমন একজন নেতাও থাকলেন না যিনি স্বাধীনতার আলোকবত্তিকাকে জালিয়ে রাখতে সক্ষম। ইংরেজ ভারতে তার কায়েমী অধিকার সম্প্রসারিত করতে পারল, তার প্রধান কারণ দেশ ছিল নেতাহীন । এই নেতৃহীনত প্রকাশ পেল ৯৮৫৮ গ্রীষ্টাব্ের সিপাহী বিদ্রোহে । মারাঠা নানাসাহেব, বাদশাহ বাহাছুর শাহ বা গোয়ালিয়রে ঝান্সির রাণীর মধ্যে কোন যোগস্ত্র ছিল না, কোন কর্মপদ্ধতি স্থির হয়নি । কেউ কারু নেতৃত্ব মানেন নাই। তাই তাত্তিয়া তোপীর বীরত্ব এক একক ঘটনা । সিপাহী বিদ্রোহ ভারতীয় ক্ষোভের এক নিতাস্ত দুর্বল বিস্ফোরণ । অবশ্তট তাতে ফল হল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রাজত্ব শেষ হল। ইংলগ্ডের রানী ভিক্টোরিয়া ভারতেশ্বরী নামে ভারতের শাসনভার গ্রহণ করলেন। একটা যুগান্ত হল। এই পরিচ্ছদ প্রেস্গে প্রায় একশত বছরের যে সব ঘটনা বর্ণিত হল তাতে নাটকীয় ঘটনা কম নাই। বাংলার নাট্্টকারগণ বুঝতে ভুল করেন নাই ষেনাটক লেখার এমন প্রশস্ত বিহয়বন্্ পাওয়া দুর্লভ হবে। কিন্তু তারপক্ক তারা যা করেছেন ত| আগেও বর্ণনা করা হয়েছে । ইতিহাস থেকে ঘটনা চয়ন না.করে রূপকথ! উপকথাকে নাটকের বিষ্নরস্ক করেছেন যার ফলে এক দিত ৩৯ ৬০৮ বাংলা এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন এঁতিহাসিক ব্যক্তির চরিত্র যেমন পালটে গেছে অন্তদিকে তার কীত্ির মধ্যে ষে বিশেষত্ব ছিল তাও নাট্যকার প্রকাশ করতে পারেন নাই। উদাহরণ স্বরূপ বল! চলতে পারে যে হায়দার আলী এবং তার ছেলে টিপু সুলতান উভয়েই ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। কিন্ত তাদের যুদ্ধ করার উদ্দেশ্ঠ যেমন বিভিন্ন ছিল বুদ্ধ করবার ধরণেও তফাৎ ছিল। হায়দার আলীর মতো কুশলী সৈম্তাধ্যক্ষকে ইংরেজ এতিহাসিক শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কিন্ত টিপু স্থলতানের নৃশংসতার কাহিনী ইংরেজ সৈন্যদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে। তারা মনে করতেন টিপুর হাতে বন্দী হওয়া মৃত্যুর অধিক যন্ত্রণ৷ কাজেই তার থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ বিসর্জন দেওয়াও ভাল । এই মনোভাবের ফলে যুদ্ধের ধরণ পালটে ষেত। টিপু স্থলতান নেপোলিয়ানকে ভারতে ডেকে আনতে পারেন এই ভয়ে টিপুর ক্ষমতা রোধ ইংরেজ ইস্ট ইগ্ডয়া কোম্পানীর এক জরুরী কাজ হয়ে দ্রাড়াল। কারণ নেপোলিয়ান ভারতবর্ষে এলে কি হবে সেট। তার! টিপুর থেকে ভাল জানতেন। হিন্দুদের প্রতি টিপু যে বিদ্বেষ পোষণ করতেন না বা তাদের ওপর অধথা অত্যাচার করতেন না তা পরলোৰগত আচাধ্য ডঃ স্থরেন্দ্রনাথ সেন একাধিক প্রবন্ধে প্রমাণ করেছেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে একথাও বলেছেন যে কোন গহিত অপরাধে কোন হিন্দু শাস্তি পেলেই সমগ্র হিন্দু জনসাধারণ ত্রযন্ত হতেন ভাবতেন এইবার বুঝি হিন্দু নিধন যজ্ঞ স্বু হবে। মহিশূরের নামে মাত্র হিন্দুরাজাকে বিতাড়নের ফলেই যে এই ধরণের আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তা মনে করবার যথেষ্ট কারণ আছে । সব থেকে বিপদের কথা হল ম্নারাঠাবা৷ মহিশূর প্রবেশ করলে হিন্দুদের এক অংশ 'এবং নিজাম এলে মুসলমানদের একাংশ চিরকাল টিপুক্থলতানের বিরোধীতা করেছে। সম্ভবত এইসব কারণেই টিপুকে কঠোর হতে হয়েছে__হয়তো! সময়ে সময়ে আজকালকার সংজ্ঞা অনুযায়ী_নৃশংস হতে হয়েছে। তার এই চরিত্র তার পতনকেই ত্বরাদ্িত করেছে । টিপু সবলতান ॥ নাট্যকারগণ বল! বাছল্য এত সব ভাবনা! চিস্তার ধারে কাছেও যান নাই । টিপু স্থলতান নাটকের নাট্যকার ১১২ পাতার তিন অঙ্কের নাটক রচনা করেছেন কেবল রূপকথ! অবলম্বন করে। স্টার থিয়েটারে প্রথম অভিনয় মারাঠা শিখ ও মহিশূর তারপর সিপাহী বিদ্রোহ রজনী ১৯মে ১৯৪৪ । নাটকের বিষয় হায়দার আলি ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত । তার ছুই পুত্রের মধ্যে টিপু বুদ্ধের পক্ষে কিন্তু অন্ত পুত্র ইংরেজদের সঙ্গে বিরোধের অবসান করতে ব্যগ্র। হায়দার চান ইংরেজদের ভারত থেকে বিতাড়ন করতে । তার পরিচয় দেওয়া হয়েছে “মহিশূরের সুলতান'। এই কাজে মারাঠা মন্ত্রী নানা ফড়ণাবীশ তাকে সাহায্য করতে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। হিন্দুমুসলমান একত্রে মিলে ইংরেজকে ভারত থেকে বিতাড়নের সংকল্প, কংগ্রেসের ১৯৪২ ্রীষ্টাবের 40011 11018, আন্দোলনের পরবর্তী কালের নাটকে ধ্বনিত হচ্ছে আনুমানিক ১৭৭৪ খ্রীষ্টাব্দে । কিন্ত নাট্যকারও এই মিথ্যা বজায় রাখতে পারলেন না। মারাঠা সভায় তাকে এই সন্ধি নাকচ করতে হল। টিপুর প্রতিনিধি হয়ে এলেন পশ্ডিচেরীর ফরাসী গবর্ণর লালী। তিনি ইংরেজদের মতো ?ট+ ন্ট” করে মারা! নায়কদের গালি দিলেন। নাট্যকার তাকে টিপু সুলতানের ফরাসী সেনাপতি বানিয়েছেন । হাহতোস্মি! ইতিহাস ভণ্ডুল করে পেশোয়া হায়দারের সঙ্গে সন্ধি করতে চললেন, যদিও হায়দারের সঙ্গে বষোবার বন্ধুত্ব মারাঠা শক্তির পতনের এক কারপ। রঘোবা ৰা রঘুনাথ রাও নাটকে কোথাও নাই। শেষে নান! ফড়ণাবীশের কোলে হায়দারের মৃত্যু হল। তারপর টিপু হলেন সথুলতান। নানা ফড়ণাবীশ আর টিপু» হায়দার বিহনে পরস্পরকে আলিঙ্গন করে শোকাক্র বিসর্জন করলেন । (পাতা ১৩৯) নিজাম ও মারাঠা ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়ে হিংসায় ভুগছেন এবং ভাবছেন যে টিপু কেন এখনও অপরাজিত । এমন সময় জানা গেল টিপুর ভ্রাতা ইংরেজ পক্ষে যোগ দিয়েছেন । ওদিকে টিপু কেবল ইংরেজ নিধন করছেন না ইংরেজদের পরিচ্ছদ ও ভাষার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন। আচ্ছা! নাট্যকারের এ কি রকম অসুস্থ কল্পনা, টিপুর ছেলে শ্রীরঙ্গপত্তনের দুর্গের মধ্যে বসে ইংরেজী পোষাকে সজ্জিত হল, ইংরেজী ভাষা শিখল কিন্ত টিপু কিছুই জানতে পারলেন ,না হঠাৎ একদিন দেখতে পেয়ে খুব চিৎকার করলেন। বদহজমেরও একটা সীমা আছে। তারপর আরে। আছে। লালী জানাচ্ছেন তার ফরাসী রাজ! ষোড়শ লুই তাঁকে সাহায্য করতে পারবেন ন! জানিয়েছেন। কি সাংঘাতিক। মাত্র কয়েকযাম রাজত্বের পর যে ষোড়শ লুইকে জনসাধারণ শিরচ্ছেদে করল ১৭৮৯ গ্রীষ্টান্ষে তিনিও নাট্যকাঁরের কষ্টকল্পনার ৬১০ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা শিকার হলেন। এদিকে নান! ফড়ণাবীশ কিন্তু ক্রমাঘ্বয়ে হহিশূরের সাহায্যে মারাঠাকে আনবার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ছ:খের বিষয়, কোন মারাঠ। নায়কই তার কথা শুনছেন না। টিপুর ভাই কিন্তু বসে নাই। সে মহিশূরের ভনলাধারণের পক্ষে টিপুর বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ করেছে লর্ড কর্ণওয়ালিসের দরবারে । যেন ইংরেজ তখন দেশের প্রতু হয়ে গেছে। ইংরেজের কাছ থেকে পুরস্কারের লোভে টিপুর ভাই, টিপু গৃহিনীকে দৈববাণী শুনিয়ে গেল। তদনুষায়ী টিপু গৃহিনী সেই দৈববানী নিজে শুনেছেন বলে টিপুকে জানালেন । টিপু বাংলা নাটকের নায়কের মতো! সেই কথায় বিশ্বাস করে লালবাগ থেকে সৈন্ত সরিয়ে নিলেন এবং সেই দিক থেকেই বিশ্বাসঘাতকের চক্রান্তে ইংরেজসেন৷ প্রবেশ করল । এবং তখনই হুল, “টিপু স্থলতানের ভীষণতম পরাজয় !, (পাতা ৪৮-৮৩ ) না নাটক শেষ হয় নাই । এবার শেষ অস্ক। নিজ্ঞামের সঙ্গে ওয়েলেসলীর সাক্ষাৎকার । উপস্থিত লালী। সাবসিভেয়ারী এলায়েম্স স্বাক্ষর পর্য্যন্ত আলোচিত হচ্ছে। এবং বল! হয়েছে ওই ভয়েই মারাঠার! টিপুকে সমর্থন করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে রাজী হল। সিন্ধিয়া বলে যে চব্িত্রটি নাট্যকার ছেড়েছেন তিনি নিশ্চয় মহাদাজী সিন্ধিয়া নন। পরন্ত ওই নামের কোন মহাবীরের অস্তিত্ব সম্পর্কে নাট্যকার জ্ঞাত একথা মনে হয়না । অবশেষে মারাঠ। বাহিনী টিপুকে সাহাধ্য করতে এল কিন্ত বড় দেরী হয়ে গেছে। টিপু পরাক্তিত । বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে আত্মাহৃতি দিলেন । মারাঠা বাহিনী নিয়ে পেশোয়া মাধব রাও নারায়ণ ও নান ফড়ণাবীশ এসে গেলেন। হিন্দু মুসলমান ভ্রাতৃত্বের বক্তৃতা সান হবার পর নান! ফড়ণাবীশের কোলে টিপু দেহ রাখলেন। (পাতা ৮৪-১২২) প্রথমে দেওয়! ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে দেখ! যাবে যে ইতিহাসের সঙ্গে নাটকের কোন সম্বন্ধ নাই। নাট্যকারের নিজের যেমন এই সংগ্রাম বোঝবার ক্ষমতা হয় নাই তার দর্শকদেরও তেমনি তা বোঝাতে পারেন নাই । সম্পূর্ণ ভেজাল এক নাট্য চক্রিত্র টিপুস্বলতানের নামে ' দর্শকদের 'উপহার দ্রিয়েছেন। কোন তিরস্কারই এই নাট্যকারের পক্ষে যথেষ্ট কঠোর- নয় । 0... পাঞ্জাব কেশরী রণজিৎ সিংহ ॥ পাঞ্জাব কেশরী রণজিৎ সিংহ নাটকে এই, একই ধরণের কষ্টকল্পনার মারাঠা শিথ ও ষহিশুর তারপর সিপাহী বিদ্রোহ ৬১১ বাহুল্য দেখা যাবে । ইতিহাসের পরিধির বাইরে বিচরণ বাঙালী নাট্যকারদের এক অদ্ভুত ব্যবহার । চার অঙ্কের নাটক ৯৬ পাতায় সম্পূর্ণ। প্রথম অভিনয় রক্গনী ১০ই জুলাই ১৯৪০। যদ্দিও মাত্র সতের বছর বয়দে মাতা রাজকাউরের নিধনের পরই ব্ণজিৎ সিংহ ক্ষমতাগীল হন কিন্তু নাটকে তিনি মাতৃভক্ত সম্তান। নাটকের শেষে মাতার হত্যার জন্ত দায়ী করছেন নিজের জোন্ঠ পুত্র থড্গী সিংহকে । ইতিহাস বলে রণজিৎ বারটি শিখ মিশলকে একতাবদ্ধ করে তারপর সাস্ত্রাজ্য স্থাপনে তৎপর হন । নাটকে দেখান হয়েছে দিধা বিভক্ত মিশলগুলির কতকগুলি রণজিতের পক্ষে অন্তগুলি বিপক্ষে, তাদের বিরুদ্ধে রণজিৎ যুদ্ধ করে চলেছেন। আর লাহোরের সিংহাসন যেন তার পৈত্রিক সম্পত্তি। ইতিহাস বলে প্রতিপত্তিশালী কানহাইয়া মিশলের গুরুবক্প সিংহের কন্তা মেহতাঁব কাউরকে ১৭৯৬ গ্রীষ্টাব্ষে বিবাহের পৰে রণজিতের ক্ষমতা অত্যন্ত বৃদ্ধি হল। কিন্তু মাতা রাজকাউর তার নিজের সুথচরিয়া মিশলের নেতৃত্ব কিছুতেই দিতে চাইছিলেন ন! বলে ১৭৯৭ গ্রীষ্টাবে মাতৃহত্যার প্রয়োজন হয়। পণ্ডিতেরা গবেষণ। করছেন যে এই ছক্ষার্ধয রণজিৎ সহস্তে করেন অর্থাৎ নিজের হাতে শ্বাসরোধ করে রাজকাউরকে হত্যা করেন না গুপ্তবাতকের সাহায্য নেন। নাটক এই সব কঠিন বিষয় সম্পর্কে নীরব । মধ্যবিত্ত বাঙ্গালী মনোভাব পাঞ্জাবের উচ্চাকাহ্ধী কঠোর ষনোভাবের নাগাল পাবে কি করে। রণজিৎ বিবাহবন্ধনের ভেতর দিয়ে ক্ষমতাবৃদ্ধি করেছেন । অত্যন্ত ক্ষমতাশালী নেক্কী মিশলের রাজকাউরকে ১৭৯৯ গ্রীষ্টান্বে বিবাহ করে ভাকেই প্রধান-মহিষীর সম্মান দিতে কুষ্টিত হন নাই। ইংরেজদের সঙ্গে সন্ধি, ফরাসী ও আইরিশ পৈন্াধ্যক্ষ রাখা তার সুপরিকল্পিত কার্য্যধারার কল। লাহোর ও অমৃতসর অয় করে সাম্রাজ্য স্থাপন যে কতো বড় কীতি ত। বোখবার ক্ষমত! নাট্যকারের থাকলে তিনি কিছু ইতিহাস অধ্যক্তন করতেন। অজীর্দ রোগগ্রস্থ রোগীর কষ্ট কল্পনাগুলিকে নাটকে সন্গিবেশিত করে জনসাধারণের মামনে উপস্থাপিত করতেন না। খড়ধ লিংহ রণজিতের জীবনে চরম বিকলত।। রাজ্য বিস্তারের মাঝে; সরা ও মানী প্রীতি রণজিতের গ্রয্মোজন ছিল। পুত্র পিতাক্স মাত্র এই গুপটি, শিক্ষা পেলেন অন্তগুলি নয়।. হপধিতের মৃডায় পর ভার উত্তরাধিকারী পোজ নওনিস্কাল লিংষকে হত্যা করায় খড়া। সিংহ রং তার. মাছ পদের ৬১২ বাংল এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচন! দায়িত্ব অস্বীকার করা যায় না। এ হেন হীন নিকৃষ্ট চরিত্রকে নাট্যকার মহান রংএ সাজিয়েছেন । তার কীতিকলাপকে একটা বিশিষ্ট দপ দিয়েছেন খড়গ সিংহ চরিত্রচিত্রণে যে অশ্লিলত। নাট্যকার প্রকাশ করেছেন সমাজ সচেতন যে কোন দেশে তার জন্ঠ তাকে গঞ্জনা সহ করতে হত। কিন্তু হুঃখের বিষয় ভারতবর্ষে একমাত্র অতি আধুনিক রাজনৈতিক বিষয়ে ছাড়া-__অন্ত বিষয়ে যা খুশী লেখার অবাধ স্বাধীনতা সকলকে দেওয়া হয়েছে । জনসাধারণকে ভারত ইতিহাসের ভূল শিক্ষা দিলে কোন অপরাধই হয় না এই কথাই বারে বারে প্রমাণ হবে। টিলমিটে নেপোলিয়নের সঙ্গে রুশ-জার আলেকজাগার সন্ধি করলেন। এই ছুই বৃহৎ শক্তির চুক্তিতে বছলোক ভীত হল। ইংরেজ আশঙ্কিত হল থে আফগানিস্থানের ভেতর দিয়ে ভারতে রুশবাহিনী আসতে পারে এবং যদি রণজিত সিংহের সঙ্গে তাদের কোন বোঝাপড়া হয় তাহলে ইংরেজের ভারত- সাম্রাজ্যের দরজায় রুশ-শত্তি ঘ! মারবে । ইংরেজদের এই ভীতির কারণ সর্বভারতীয় নেতাদের মধ্যে রণভিৎ সিংহের মতে একজন অশিক্ষিত নরপতি খবর রেখেছিলেন এটা কম শ্লীঘার্ কথা নয়। বস্তত রণজিতের মতো আতস্ত- াতিক ঘটনা সম্পর্কে সজাগ আর কোন নেতাকেই দেখা যায় না। রণজিতের ইংরেজদের সে চুক্তির মূল কথ! হল মুলতান, কাম্মীর ও পেশোয়ার জয়ে ইংরেজ তাকে বাধা দেবে না। ইংরেজরা তাতেই রাজী যদি আফগানিস্থানের পলাতক ছুররাণী নৃপতি শাহহজ| এই ব্রিপাক্ষীক চুক্তির এক পক্ষ ছন। অর্থাৎ আফগানিস্থানে রুশ শক্তি এলে ইংরেজ সেখানে গিয়ে ভাদের বাধা দেবার অধিকান্ব চাইল। শাহসজ|! কিন্তু তার আগেই রণজিতের আশ্রয়ে এসেছেন এবং ইতিমধ্যে তার কোহিনৃত্র মণিটি রণজিৎ হম্তগত করেছেন। তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তার রাজত্ব রণজিৎ বাহুবলে পুনকন্জার করে দেবেন। কাজেই এই ব্রিপাক্ষিক চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার সাধ্য শাহস্থজার ছিল না। নাট্যকান্ব অবশ্য অতশত বোঝেন নাই । তিনি মহান ভ্রাতৃপ্রেষ, বন্ধুত্ব, উপকার, আশ্রয়দাতা প্রভৃতি ভাল ভাল কথার পর উফীব বিনিময় কর্িয়েছেন। শিখের উ্ধীষ যে তার ধর্মের অঙ্গ এই কাগুজানটুকুও নাট্যকারের লাই বুদ্ধিবৃত্তির কথ! বাদ দিলাদ॥ গবর্ণর জেনায়েল অকল্যাণ চিফ, সেক্রেটারি ১৮৩৮ ধীটাষে রপজিতের মারাঠ| শিখ ও মকিশূর তারপর সিপাহী বিদ্রোহ ৬১৩ বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন মহারাজার চরিত্রের বিস্তার অসম্ভবের সীমানা ছাড়ায়। বুদ্ধক্ষেত্র থেকে মগ্ধপানের আসরে যেতে বা বিগ্যা আহরণের সভা থেকে শিকার করতে যেতে তার মাত্র একমুহ্র্ত সময় লাগে। সাধারণের একটা কাজ করবার কথা ভাবতে যা সময় লাগে মহারাজার লাগে তার সিকির সিকি এমনই বিস্ময়কর মানুষ । নাট্যকার অবশ্য অত জানবার স্থযোগ পান নাই। তিনি ঝিন্দন কারকে রণজিতের প্রধানা মহিষীর সম্মান দিয়েছেন। এটাও তুল । রূপসী বিন্দন কাউর রণজিতের সম্ভুক্ত ন্রীলোকদের একজন । মৃত্যুর অব্যবহিত পূর্বে রণজিৎ হয়তো! তাকে বিবাহ করে সম্মানের আসন দিয়েছিলেন কিন্ত সে বিবাহ গোপনেই হয়। যেজন্য ঝিন্দনের সন্তান দলিপ সিংহকে শিখদের এক অংশ রণজিতের পুত্র বলে স্বীকার করতে চায় নাই। তারপর রণজিৎ সিংহ ছিলেন অত্যন্ত কুৎ্সিৎ দলিপ সিংহ অত্যন্ত সুপুরুষ । পিতার কোন চিহ্বই তার দেই মনে দেখা যায়নি । নাট্যকার অঙ্ক করতেও ভূলে গেছেন। যদি রণজিৎ সিংহের মাতা রাজ কাউরুকে মৃত্যুর সময় অর্থাৎ ১৭৯৭ অথবা কাশ্মীর ভয়ের সময় অর্থাৎ ১৮২৩ শ্রীষ্টাকে দলিপ সিংহ পাঁচবছর বয়স্ক এবং নওনিহাল সিংহ যুবক অর্থাৎ ২০ বছর বয়স্ক ধর] যায় তাহলে রণজিৎ সিংহের মৃত্যুর সময় অর্থাৎ ১৮৩৯ খ্রীষ্টাব্দে দলিপ সিংহের বয়স হবে হয় 8৭ 'অথবা ২১ বছর আর নওনিহাল সিংহের বয়স হবে হয় ৬২ অথবা ৩৬ বছর। যা একেবারেই অসম্ভব কল্পনা । নাট্যকারের কাগুজ্ঞানের এই পরিচয়ের পর সম্ভবত আর কোন আলোচনার অবকাশ নাই । শিখ জাতির অভ্যর্থান নিয়ে লেখা অন্ত নাটক রক্তের লেখা এই আলোচনার, সীমানার বাইরে কারণ সেটি নবম শিখগুরু তেগবাহাদুর ও দশম শিখগুরু গোবিনা সিংহের সঙ্গে বাদশাহ ওরজজীবের ছন্দের কাহিনী । কষ্টকল্লিত অনৈতিহাসিক এক অসুস্থ মস্তিষ্কের গ্রলাপ। 'পর্বর্তীকালের ত্বর্থাৎ সিপাহী বিদ্রোহ নিয়ে লেখ! নাটকগুলির মধ্যেও এই একই ঘটনা দ্বেখা যায়। শুধু যে সেগুলি অনৈতিহাসিক তা৷ নয় চিন্তায় ভাবনায় অতি ক্ষুদ্র। যেমন রণজিৎ সিংহ নাটকে দেখা যায় খড্গা সিংহ পানাসজ তাকে রক্ষা করতে মাতা রাজকাউর হত। হত্যার শান্তি পাকে ৬১৪ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন! খড়গ সিংহ বুকে গুলি করতে আসবে তার পুত্র নওনিহাল সিংহ । তখন এলেন বিন্বন কাউর দিলেন দলিপ সিংহকে আগিয়ে বললেন এর বুকে গুলি কর। মহত্বে বিহ্বল রণজিৎ নাটক শেষ করলেন। প্রতি নাটকেই এট মহত্বের আর বিশ্বাসঘাতকতার ছড়াছড়ি । একটা বাঁধা পথ ছাড়া যেন নাট্য- কারদের চিন্তাধারা অন্ত পথ নেয় নাই । সেই পথটাও হল পাল নাটকের পথ। একান্ত ভাবেই ভাবপ্রবণ এবং চিন্তায় ও বুদ্ধিতে দুর্বল । সিপাহী বিদ্রোহ নিয়ে রচিত নাটকগুলির নাম ও রচয়িতাদের লিপিবদ্ধ করা যায়। নির্বাপিত দীপ -. অতুলকৃষ্ণ মিত্র ১২৮৩ সাল শতবর্ষ আগে _- মহেন্দ্র গুপ্ত ১৯৪৬ শ্রীষ্টাব্জ ? ঝাক্ষীর রাণী - ষণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৪৯ ঝাসীর রাণী -- বিধায়ক ভট্টাচার্য ? বাসীর রাণী লক্ষমীবা৯ - রেবতীকাস্ত মৈত্র ? তাস্তিয়া ভীল - কোন কোন মহলে সিপাহী বিদ্রোহ শ্বাধীনতা সংগ্রাম আখ্যা! পেয়েছে । কিন্ত সে সম্পর্কে নাটক লেখার জন্ত যে চিন্তা বুদ্ধি বা ক্ষমতা প্রয়োজন ছিল ছঃখের বিষয় তার কোন পরিচয় দেখা যায় নাই। তাই অন্তান্ঠ এতিহাসিক নাটকগুলির ষতোই উপকথাকে উপজীব্য করে রচনা! ॥ ইতিহাস হিসাবে যেমন অসংযত, নাটক হিসাবেও তেমনি অগ্রয়োজনীয়। মারাঠা শিখ ও মহিশুর তারপর সিপাহী বিভ্রো্ রচনাতে নিয়লিখিত পুস্তকার্দির সাহায্য নেওয়! হয়েছে। ১। 61011151016 :1115101 01117018 (1911), : ২1 1.1. 51118 6 /. ০. 88161] :11510% 001008 (1944). ও | ০0808018101 5811681 ১611 01 019 71010181 61710115 ৬০1. | 101 (1950) ৪1 17001010811) 981061169 : €£/০161011 91 09 (18198, ৬০01,1 618 (1587), € | ৬ । প্‌ । ৮ । | ১১। ১২। ১৩। ১৪। ১৫। ১৬। ১৭ । ১৮ । ১৯1 ২১ । ২ ॥ ২৩। ২৪। ৮2 মারাঠা শিখ ও মহিশ্র তারপর সিপাহী বিদ্রোহ ৬১৫ ও. 16. 51119 0০ 0০ /, 0০, 881761] 5. 5. 5810954। 01111101917 1৬01189$ 1৬. /৯. 1৬190911119 লি. 0. 11910117091 50119170198 1907 5617 79111 91701 (1943) 17191091 /511 358 01 0116 51117 20৬/61. 7951৬48 189018৬ 790 1. 1২৪০৬/ 17150101076 1৬918101195, ৬০1. 1, 11 8111 (1946) 11151010109 91175 (1848). 3ি0701961 5117011 17176 5161 381101017+ ৬০।. 100 ৬1 (1909), 7179 59100৮1৬110 8 79৬০1 0 1857 (1957), 610111991 610 99৬61) (1957). |. 6. 70151100016 ৬1119175065.) 2. 0. 19101170091 81181 058100791 5. 1. 3917 2. ০. 1013 5. 81009 9.4. 1185181 5. 1৩. 5917 1. 5, 95101911910 09179811911 01 117018. 11156010106 1616580৫0। 10৬911917৬০. | 0011. 26851111012 0০011108171 , 01 0719 1911771901€, : 8811 38011. :/51010-911 501 1845-6 £ 1848-3. :/5010-510 87912010175 1799-18439. ১:/17010-1818018 87691801015 ৫011179 076 2৫171508001 01 ৬/811৩17 118511705. : 6851 11018 0০011119817 17 1801 0০9171001 20111803. [99111155811 /১01101811610178111 08110515190 105 ৬৮৬. 151195 0. 6011951 * 190 5016517 (1782--98). ১-11091 01 87$5019. উপসংহার উপসংহারে কেবল ছুঃখের কথা, বেদনার কথাই লিপিবদ্ধ করতে হবে॥ নাট্যরচনার বিষয়বস্তব থাকা সত্বেও ইতিহাস অজ্ঞতা সব গ্রচেষ্টাকেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে দিয়েছে । কয়েকজন নাট্যকার জেনে শুনে শঠতাও করতে ভোলেন নাই, অনৈতিহাসিক রূপকথাকে ইতিহাস বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা করেছেন। প্রথমে যে কথা বলা হয়েছে শেষেও তারই পুনরুক্তি করতে হবে। বরঞ্চ পরাধীন ভারতের নাটকের মধ্যে তবু একটা! ত্বেজ ও বক্তব্য দেখতে পাওয়া গেছে কিন্ত য্ড স্বাধীনতার কাছাকছি আসা গেছে ততই রং হয়েছে ফিকে । স্বাধীনতার সময় এবং তার পরব্তীকালে রচিত নাটকগুলি প্রায় মঃলোচনার অযোগ্য । এই দীর্ঘ আলোচনার পর লজ্জার সঙ্গে স্বীকার না করে উপায় নাই ষে ত্র একজন নাট্যকার সার্থক এ্রতিহাসিক নাটক লিখতে সক্ষম হয়েছেন । [তনি নাট্যজগতের শিক্ষাণ্তরু ও দীক্ষাগুরু মহাকবি গিরিশচন্দ্র ঘোষ। তিনি ছাড়া এই পুস্তকে আলোচিত আর একজন নাট্যকারেরও নাম করা যায় না ধার নাটক এঁতিহাসিক নাটকের সংজ্ঞা পেতে পারে । কোন কোন নাটক নানা কারণে পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে দীর্ঘদিন অভিনীত হলেও পদে পদ্দে প্রমাণিত হয়েছে নাট্যকারগণ সত্যকার ট্রতিহাসিক নাটক লিখভে কতো পরিশ্রমকাতর ॥। কেউ কেউ ছুই চারট! বই-এর নাম লিখে দিয়ে ইতি কর্তব্য সম্পাদন করেন কিন্তু আপতকালে দেখা যায় যে হয় তিনি সেগুলি পাঠ করেন নাই অথব! পাঠ করে তার বক্তব্য বুঝতে পারেন নাই । অনেক লময় এমন বইএর নাম দেওয়া আছে যা ওই নাটক লিখতে সম্পূর্ণভাবে অপ্রয়োজনীয় । বাঙালী যে আত্মবিস্থত জাতি একথ! বিংশ শতাববীর নাট্যকারগণ পুনরায় প্রমাণ করেছেন। কেবল হৃদয়াবেগ স্থল করে নাটক লেখায় উদ্দ্ধ হয়েছেন। ভাই তাদের লেখ গ্রায় কোন নাটকই এঁতিহাসিক নাটকের মর্ধ্যাদা, পেতে পারল না। প্রথম খণ্ডের কথাই দ্বিতীয় থণ্ডে পুনরাবৃত্তি করতে হয় । ১৭৫৭ | “বিশেষ ডরষ্টর্যঃ নাট্যকার ঘিজেজ্্লাল রায়ের কোন নাটক ই আলোচনাকালের মধ্যে পড়ে না। উপসংহার ৬১৭ থেকে ১৮৫৭ পর্য্যন্ত একশ বছরের ইতিহাস নিয়ে যে সব নাটক লেখ হয়েছে ভাতে এতিহাসিক স্থান কাল পাত্র কিছুই প্রতিফলিত হয় নাই শুধু সমসাময়িক মনের দীনতা প্রকাশ পেয়েছে । সামাজিক বা অর্থনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে নাট্যকারদের অজ্ঞতা অবাক করে দেয়। এমন কি রাজনৈতিক ইতিহাস বর্ণনা করতেও তীর সক্ষম হন নাই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাবাবেগপ্রধান কল্লিত ঘটনা নাটকে মুখ্য রূপ নিয়েছে। বাংলার সামাজিক চিত্র আীকতে তারা যেমন অক্ষম হয়েছেন সর্বভারতীয় চরিত্রগুলির মধ্যে তেমনি বাঙ্গালীত্ব আরোপিত হয়েছে । ইংরেজ শাসনের পরবর্তীকালের মনোভাব অধিকাংশ নাট্যকাঁরের মনকে আচ্ছন্ন করায় ইংরেজ শাসনের পূর্বেকার মহানায়কগণের মানসিকতা তারা প্রকাশ করতে বাথ হয়েছেন। দ্বিতীয় খণ্ডের রচনাকাল সম্পর্কে বহু ইতিহাস পুস্তক থাকা সত্বেও তাদের এই অপারগতা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়ে সন্দেহ নাই। মনীষ! এবং বুদ্ধিবৃত্তি সম্পূর্ণভাবে ভাবপ্রবণতার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। জ্ঞানের সাধনায় হৃদয়াবেগ পথ আগলে দাড়িয়েছে । দ্বিতীয় খণ্ডের নাটকগুলি আলোচনার পর তাই একটা ব্যর্থতার গ্লানি ষনকে আচ্ছন্ন করে। বাংল নাটকের ক্ষেত্রে এ্রতিহাসিক নাটক রচনা সফলতা! লাভ করতে পারে নাই একথ! ক্ষোভের সঙ্গেই স্বীকার করতে হয়। সঙ্গে সঙ্গে একথাও বলতে হয় যে তার ফলে এই রকম কল্পনা ভিত্তিক ইতিহাসের চরিত্র নিয়ে রচিত নাটক প্রচণ্ড দাবন্দাহের হতো! বৃদ্ধি পেয়েছে । আধুনিক বুগে "নানা স্থানে ও আসরে এ্রতিহাসিক নাটক নাষ দিয়েয পরিবেশিত হচ্ছে সেগুলি পরীক্ষা করলেই এই প্রবণতা কতে। তীব্র বিচার কর! বাবে। দ্বিতীয় খণ্ডের নাটকের মধ্যে ভারতবর্ষের একশত বছরের ইতিহাস আছে । এই ইতিহাস যেমন ঘটনাবছল তেমনি তাশপধ্যপুর্থ। এই একশত বছরের ইতিহাঁসে ভারতীয় মহানায়কগণের পরাজয় এবং ধীরে ধীরে ইংরেজের ক্ষমতায় অধি্ান অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাটকে এমন অপূর্ব যুগসদ্ধির পরিচয় ল্িপিবন্ধ করার স্থযোগ যে ব্যর্থ হয়ে গেল তার জন্ত নাট্যকারদের দায়িত্ব কম নয়। ষীরকাশিমের যুগই তো! এক অনন্ত সাধারণ সময় । কিন্ত গিন্মিশচন্দ্ ছাড়া তার যোগ কে নিয়েছে | মহারাজ 'নন্বকুমার ব! রানী ভবানী সত্যই ৬১৮ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন! নাটকে প্রচারের চরিত্র। কেবলমাত্র আয়াসী নাট্যকারগণের ভুলেই তো! সে স্যোগ ব্যর্থ হয়ে গেল। অযোধ্যার বেগমকে নিয়ে যে অপূর্ব নাটকীয় মুহূর্ত রচিত ভতে পারত কেবল অজ্ঞানতার জন্তই তো সে সুযোগ হারিয়ে গেল। সব থেকে আশ্চর্য্যের বিষয় হল, যে মারাঠ! শক্তি আরব সাগর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করল, যাদের হাতে দিল্লীর নৃপতি পুতুল হলেন তারা নাটকে প্রায় অদৃশ্ত রয়ে গেলেন । এই বিরাট কীন্তিকে উপলব্ধির কোন চেষ্টা হল না। হায়দার আলির দুরদৃষ্টি, টিপুস্থলতানের বিক্রম, রণজিৎ সিংহের কূটনীতি, অনুধাবন করে নাটকের মাধ্যমে প্রকাশ কর] হল না, বাংলা সাহিত্যের দরবারে নাট্যকারদের এই ব্যর্থতা, চিরকালের জন্ত তাদের আসনকে দূরে ঠেলে দিল। কারণ অনুসন্ধান করতে বেশী দূরে যেতে হবে না। বাঙালী থিয়েটার পছন্দ করেন, ভালবাসেন অভিনয়ের আসরে শ্রোতা হতে। ইতিহাস সম্পর্কে তাদের বিশেষ জিজ্ঞাস! নাই। তাই নাটক অভিনয় হয়েছে আর বাঙালী দর্শক প্রেক্ষাগৃহ পূর্ণ করেছেন। যখন এ্তিহাসিক ব্যক্তির নামে নাটক হয়েছে তথন যদ্দি পৌরাণিক ব্যক্তির নামে হোত তাতে আপত্তি ছিল না। এঁতিহাসিক নাটকের নামে যে একটু ইংরেজ বিদ্বেষ প্রকাঁশিত হয়েছে তাতেই তার] অতান্ত খুশী হয়েছেন। লক্ষ্য রাখতে হবে যে সব নাটকগুলির মধ্যেই ইংরেজ বিদ্বেষ কমবেশী প্রচারিত ॥ পরাধীন ভারতের দর্শক তাই পেয়েই খুশী হয়েছেন। স্বাধীনতা আকাঙ্ষা তাদের মনের ইচ্ছার সঙ্গে ওই ইংরেজ্ঞ বিদ্বেষকে একাখ্ধ করেছে। তার বেশী তার! কিছু চান নাই তাই তার বেশী তারা কিছু পান নাই। নাটকে ইতিহাস থাকল কিন! তা নিয়ে তারা একটুও চিস্তিত হন নাই। নাটকে ইংরেজ বিদ্বেষ থাকলেই হ্ৃ্চিত্তে তাকে এঁতিহাসিক নাটক ৰলে গ্রহণ করেছেন । অধিকাংশ নাট্যকারগণও ইচ্ছায় অনিচ্ছায় কল্পনার স্রোতে নাটক চড়িয়ে দর্শকদের তাদের অভিপ্রেত বস্ত দিয়েছেন। চূড়ান্তভাবে তাই স্বচ্ছন্দে বল! চলে এ্তিহাসিক নাটকের চাহিদা! ছিল না বলেই তা রচিত হয় নাই। চাহিদা! ছিল সাম্রাজ্যবার্দী বৃটিশ শাসনকর্তাদের বিক্ষক্ধে বিক্ষোভের । নাট্যকারগণ ট্রতিছাসিক নাটকের নামাবদী চাপিয়ে বিভিন্ন'রঙ্ে বিভিন্ন ছনে নিজ নিজ সাহস জ্ঞান ও বুদ্ধি মতো সেই বিক্ষোভের নাটক রচনা করেছেন। 'একটা- মোটামুটি কাঠংঘারাখতে যেটুকু ইতিহাস, -উপসংহার ৬১৯ প্রয়োজন তার বেশী ইতিহাস অধিকাংশ নাট্যকারের প্রয়োজন ছিল না এবং সম্ভবত জানাও ছিল ন|। ক্তরাং দেখা যাচ্ছে ইতিহাস বা এ্রতিহাপিক ঘটনা বা চরিত্রের প্রকাশে কোন নাট্যকারই উৎসুক ছিলেন না। যারাই এ্রতিহাসিক বিষয় নিয়ে নাটক লিখেছেন তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ম্বাধীনতাকাজ্ষীকে কমবেশী প্রকাশ করা এবং অধিকাংশই ত1 করবার জন্ত কল্পনার আশ্রঙ নিয়েছেন । যথন তারা, বুঝতে পারলেন যে ইতিহাস না থাকলেও দর্শক সাজসঙ্জার পোভে নাটক দেখা থেকে বিরত হয়না তখন তারা নিজেদের কল্পনাকে ইতিহাস বলতে ছিধা করলেন না । এই অবস্থার ব্যতিক্রম তে হয়ই নাই বরঞ্চ দুরারোগ্য কালব্যা ধিবব. মতে! ক্রমেই বিস্তারিত হয়েছে । একথা বারে বারেই মনে এসেছে যে এই রোগ প্রশমিত হবে না বরঞ্চ দ্বিগুণ ত্বেজে প্রজলিত হবে। ইতিহাস কল্পনার লে নিমজ্জিত হবে এবং জাতির উত্থান পতনের কথা জ্ঞানের অগোচরে ব্রয়ে যাবে । মিথ্যায় মিথ্যার প্রচার বর্ধন করবে এবং সত্য পীতার মতো ধরণীর অন্তরে প্রবেশ করবে। তিনটি পশুরাজের পদতলে আমরাই তো “সত্যমেব; জয়তেকে বসিয়েছি | পরিশিষট নাট্যকারদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার প্রথ্যাত সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সহিত সাক্ষাৎকার ॥ গত ২৩শে ডিসেম্বর, ১৯৭০ (বাংল! ৭ই গৌষ ১৩৭৭) টালা-পার্কের বাড়িতে খ্যাতনামা সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের সহিত প্রতিহাসিক নাটক বিষয়ে সাক্ষাৎকার হয়। সময় তখন সন্ধ্যা ৭টা। আমার সঙ্গে ছিলেন অধ্যাপক দেবজ্যোতি দাশ আর তারাশঙ্করবাবুর পাশে বসেছিলেন তার জোষ্ঠ পুত্র শ্ীসনৎ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় | তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় “যুগৰিপ্রব” নামে পাণিপথের তৃতীয় যুদ্ধ নিয়ে নাটক রচনা করেছেন । মারাঠ নায়ক বালাজী বাজীরাও তার প্রধান চরিত্র | সাক্ষাৎকারে 'তারাশঙ্করবাবু তার “বুগবিপ্রব” নাটক লেখার পরিস্থিতি সবিস্তারে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে ১৯২৩-২৪ সালে তাকে কিছুদিন কানপুরে খাকতে হয়েছিল। কানপুর যাবার সময়ে তিনি গ্রাণ্ট ডাফ, ( 01870 046)-এর মারাঠা ইতিহাস (1115107% 06079 1/1918089 ) বইথানি সঙ্গে করে নিয়ে যান। এই বইটি পড়ে তিনি তৃতীয় পাণিপথ যুদ্ধ সম্পর্কে নাটক হৌথবার জন্য বিশেষ আগ্রহাস্বিত হন। তারই ফলন্বরূপ “মারাঠাতর্পণ” নামে নাটকটি লেখা কানপুরে শুরু হয় এবং শেষ হয় বীরভূমের লাভপুরে । তারাশঙ্করবাবুর ত্বদেশে নাটকটি সাফল্যজনকভাবে অভিনীত হয় ১৯২৮ খ্রীষ্টান্বে। নাটকের প্রধান চরিত্র-বালাজী বাজীরাও, ২য় আলমগীর ও আহমেদ শা আবদালী। কথাপ্রসঙ্গে তারাশঙ্করবাবু কৌতুক করে বলেন যে এই নাটকে ক্ষীরোদ ণ্রসাদ বিগ্ভাবিনোদের “আলমগীর” নাটকের প্রভাব স্পষ্টভাবেই ছিল। নাটকীয়তাই ছিল মৃখ্য, তাই এতে ইতিহাসের বিশেষ ঠাই ছিল না। নানা- রকম লোক সর্বদা মোগল হারেমের ভিতর যাতায়াত করছে দেখাতে তিনি দ্বিধাবোধ করেন নি। বস্ততঃ নাটক হিসাবে “মারাঠ| তর্পণ”কে তারাশক্করবাবু সাফল্জনক মনে করেন, যদিও ইতিহাসকে এই নাটকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই” নাটকে হিন্দুপৎ-পাদশাহীর আগ্রহ ও চিন্তাকে অত্যন্ত সচেতনভাবেই প্রধান আসন দেওয়া! হয়েছে। পরিশিষ্ট ৬২১ কথাপ্রসঙ্গে নাট্যকার আরও জানালেন যে সমসাময়িক রাজনৈতিক চিন্তাধার1 বা শাসকগোষ্ির বিরুদ্ধে বিদ্রোহকে তিনি কখনই এই নাটকের ভিতর দিয়ে প্রকাশ করতে চাননি। এই নাটকটি “ষ্টার” থিয়েটারে অপরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়-এর কাছে অন্দিনয়-এর জন্য দেওয়া হয়েছিল। অপরেশবাবু এই নাটকটিকে অভিনয়ের অযোগ্য বিবেচনা করে ফেরৎ পাঠালে তারাশঙ্করবাবু নাটকের মূল পাওুলিপিটি আগুনে পুড়িয়ে দেন। ১৯৫১ খ্রীষ্টাব্দে শ্রাঅহীন্দ্র চৌধুরী এই নাটকটি সম্বন্ধে থোজ খবর শুরু করেন। তখন তারাশঙ্কর,বাবুর মনে হল বে এই নাটকটিকে নূতন করে 'লেখ। প্রয়োজন এবং সেইজন্ত এই সময়কার ইতিহাসকে অধ্যয়ন কর! দরকার । আচার্য্য যুনাথ সরকার লিখিত “দি ফল্‌ অফ. মুঘল এম্পায়ার*” (1119 1811 ০91 10011916101) বহাটি তিনি বিশেষ ভাবে পাঠ করেন এবং “মারাঠাতর্পণ'-এর বিষয় অবলম্বন করেই সম্পূর্ণ নূতন এক নাটক রচন৷ করেন। সেই নাটকই “যুগবিপ্রব”। এই নাটকটিও সাধারণ রঙ্গমঞ্চ গ্রহণ করেনি। পাণিপথের তৃতীয় যুদ্ধ নিয়ে লিখিত এই নাটকের প্রধান চক্রিত্র বালাজী বাজীরাও, আহমেদ শা আবদীলী ও দ্বিতীয় শাজাহান । তারাশক্করবাবু জানান যে সমসাময়িক রাজনীতির প্রভাব থেকে এই নাটককে মুক্ত রাখা হয়েছে । ১৯৫১ খ্রীষ্টাব্দের কোন জাতীয় নেতার চরিত্র বা ঘটনাকেও তিনি নাটকের মধ্যে পরোক্ষভাবে দেখান শি। তবে ১৯৫১ গরীষ্টাব্বের ভারতীয় রাজনীতির জন্য ১৭৫৭ শ্রীষ্টান্দের হিন্ু মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মারাঠা ও জাঠ জাতির মধ্যে হিংসাকে হাক্ছ! রঙে আকা হয়েছে। এই নাটকে তিনি পাণিপথের তৃতীয় যুদ্ধের সাফল্য ও পরাজয়কে নাটকীয়ভাবে দেখাতে চেষ্টা করেন। বাজীরাও-এর চরিত্র ও পরিকল্পনা তাকে অন্প্রাণীত করে তাই তান বাজীরাও চরিত্রকে তার পুত্র বালাজী বাজীরা১৩-এ আরোপ করে “যুগ বিপ্লব” নাটক রচন! করেন। কথাপ্রসঙ্গে আবুও জানতে পার গেল যে নাটক এবং অভিনয়ের প্রতি পক্ষপাতিত্ব যৌবনের প্রারস্ভ থেকেই তারাশক্করবাবুর মধ্যে আছে। ১৭1১৮ বছর বয়সে তিনি ক্ষীরোদপ্রসাদ-এর ্টা্দবিবি” নাটকে “মরিয়ম বেগম'-এর ভূমিকায় অভিনয় করেন । তীক্ক প্রথম নাটক “দাযুদ খা” প্রাচীন বাংলাদেশের ৬২২ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা ইতিহাস নিয়ে রচিত। জীবনের সায়াহ্নে (জন্ম ১৩০৫/১৮৯৮ শ্ীঃ) তার ইচ্ছা, আরও কতকগুলি নাটক রচনা করবেন। শ্রীহীরেন্ত্রনারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকার ॥ গত «৫ই অগ্রহায়ণ ১৩৭০ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে খ্যাতনামা! কৰি শ্হীরেন্্রনারায়ণ মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের সঙ্গে তার রচিত “পলাশী নাটক বিষয়ে আলোচন। হয়। আমার সঙ্গে ছিলেন অধ্যাপক দেবজ্যোতি দাশ । সাক্ষাৎকারে হীরেন্দ্রবাবু তার “পলাশী” নাটক লেখার ইতিবৃত্ত বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে নাটক লেখার সময় তাঁর বয়স ৩৭/৩৮ বৎসর । বলেন, তার উপন্টাস মৌস্থমী //95 8 91 0198 5010955. প্রমথেশ বড়ুয়া সতু সেন ইত্যাদি মৌসুমীকে সিনেমার মতো! 0949100 করার জন্য বহুবার অনুরোধ করেন। হীরেন্দ্বাবু পারেন নি। তথন অল্প বয়স । সে সময়ে স্বাস্থ্যহানি হল-__ 28710001811, মৌসুমী লিখতে ফিয়ার্স লেন, আমহার্ট সীট ইত্যাদি অঞ্চলে তথ্য ও অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করতে গিয়ে হল স্নায়বিক দৌর্বল্য । সে সময়ে যুদ্ধ হচ্ছে। তারুফলে চ2৪1091 019015001)101018. সই অবস্থার উপশম করতে ১৫ মাষ ছুটি নিয়ে বহরমপুরে গমন করেন। ফেরার পরে রঙমহল থিয়েটারে গিয়ে অহীন্ত্রবাবুর সঙ্গে সতু সেনতার আলাপ করিয়ে দেন। অহীন্দ্রবাবু নাটক লিখে দিতে অনুরোধ করেন। এঁতিহাসিক অথচ 17700911॥ নাটক লেখার অগ্ররোধ করায় হীরেন্্বাবুর মনে মোহনলাল সম্বন্ধে লেখার আগ্রহ জল্মে। সে সময়ে মোহনলাল সম্বন্ধে তিনি একটি বইও পড়েছিলেন । হীরেন্্বাবু সে কথা বলতেই অহীন্ত্রবাবু উৎসাহ দেখান। হীরেন্ত্রবাবু পলাশী” নাটকটি তারপরে লেখেন, কিন্তু নাটক লেখার 19011919 সম্বন্ধে অবহিত. না থাকায় হোচট খেতে থাকেন । শচীনবাবু বারকয়েক নাটকটি লেখার সময়ে দেখেন এবং এখানে ওখানে পরিবর্তন করতে উপদেশ দেন। ঘসেটির মেহেরুন্সিসা নাম, এক্রামউদ্দোলার নাম, ঘসেটির চরিত্রাদি ইত্যাদি সম্বন্ধে ইতিহাসের নান! বই পড়ে জেনেছিলেন, বেমন মুশিদাবাদ কাহিনী, বাংলার মস্নদ (ইংরেজিতে ), মোহনলাল প্রভৃতি। তিনি যে মোহনলালকে বাঙ্গানী ব্রাঙ্মপ বলে দেখিয়েছেন, তার কোন 08819 নেই বলে ত্বীকার করেন । পরিশিষ্ট ৬২৩ তবে তার বোন যে একসময়ে চরিত্র হারিয়েছিল এবং পরে সিরাজের অঙ্কশায়িনী হয়েছিল, তা প্রচলিত কাহিনী অবলম্বনে লিখেছেন । শচীনবাবু তাকেই “আলেয়]” বলে দেখিয়েছেন। ভাস্কর পণ্ডিতের কন্তা লক্ষ্মীর গল্প কল্পিত। ভাঙ্কর পণ্ডিতের 17101061-এর 0916 কোন বই থেকে নেওয়া-__ কল্পিত নয়। সম্পূর্ণ ইতিহাস-ভিস্তিক না করায় হীরেন্দ্রবাবু নাটকটিকে ইতিহাসের পটভূমিকায় রচিত কিন্তু এতিহাসিক তথ্যভিদ্তিক' নয় বলে ঘোস্ণা করেছেন । অহীন্্রবাবু নাটকটি পছন্দ করেন। নাটকের বক্তব্য ছিল না, কারণ এটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত নয়। ইংরেজের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, মুক্তি সংগ্রামে সহায়তা এবং হিন্দু মুসলমান মৈত্রী _-এই তিনটিকে লক্ষ্য বলা চলে। ২-১ রাত্রি ভাল অভিনয় হয়। ভূমেন রায় মোহনলালের ভূমিকায় ৬/019 58190001 ছিল বলে মতপ্রকাশ করেন। পরিচালকদের & মধ্যে কেউ কেউ নাটকটি অভিনয়ের বিরোধী ছিলেন । হীরেন্্বাবু মোহনলালের ভূমিকায় ভূমেনের 5619001017-এ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তথন মহেন্দ্র সত্য পাঠককে সেই ভূমিকা দিলেন । সতা পাঠক ভূমেনের চেয়ে ভাল অভিনয় করেছিলেন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন । সে ঘুগে নাটক লেখা বা অভিনয় থেকে অর্থ বিশেষ পাওয়া যেত না । হীরেন্্বাবুও সে স্থুথে বঞ্চিত ছিলেন। এই অভিনয়ে ১০ টাকা শো৷ প্রতি হারে ৫০০ টাকার মতো পেয়েছিলেন। শুদ্ধিপত্র পাতা লাইন অশুদ্ধ ৪ ৮ সে দিক ৫. ১১/১২/১৩ ৪১১ ৩৮) ৩২ € ২৬ রমনীর ্ ৬ ৮ রর ৯ ১৩ লালকুয়ার ই টে উদ্মীষ্ীন নহ অনষ্টানের , রর উদ্বীষহীন ১৪ ৬ প্রমান ১৫ ১০ কর্ণমশ্োতে ১৫ ১১ অবশেগে ২৩ ১৩ দাসগন ৯ ১৮ বাহাদুর ৩১ ১ একদিন ৩৩ ২৪ ব্যায় ৪১ ৫ কি ৪২ ১ সন্ত ৪৩ ৮ সম্মিলিত ৫১ ১২ পদাতিত €ও ১ ভীববেগে ২ চি দুরিভূত ৫৩ "১৭ উদ্ট্রারোহী ৫৮ ৮ ঘোষনা তা ত্বত্বকথাকে ৯ ৬২ ২ হারেম বিষক্ত শুদ্ধ "স দিকে ৫১১ ৪৮১ ৪২ রমণীর লালকুয়ার উষ্কীষহীন অনুষ্ঠানের উ্ীষহীন কর্দমম্োত অবশেষে দাসগণ বাহাদুর একদিক বায় এক সম্মিলিত , পদাতিক ভীমবেগে দুরীভূত উদ্ীরোহী ঘোষণা . তত্বকথাকে হারেম বিষাক্ত ৬৩ ৬৫ ৬৫ ৬৭ ৬৭ ৭২ ৭৩ ৭৩ ৭৬ ৭৬ লাশ ৭৭ লাইন ষ্ট ৩ পত্রান্ক ষ্খ৭ ১৫ ৭ ১৪১ ৪ ১৬ ১৬ ০ ১৬ ৬ ১৭ ১১ ২ ১৩১ ১১ ৩ ১৬ ১৩ গুদ্ধিপত্র অশুদ্ধ বলতে! ৬ও পবিমানে রমনীকে সন্সাসী বিরাট সার্থসিদ্ধি স্বসম্মানে ভগিনীশতি আযুস্কাল গুরূদেবকে তবূণ গোৌয়ারতু মি ভারতবব্যাপী কাণপুর প্রাণিধান মৃথ্য তুর্ববাহারের আসি লিফাসন জীবনধারনের কষে হরে সন্বাসীদের নাল পরবস্তি পরবতিকালে বলতে পরিমাণে ২০ রমণীকে সন্ন্যাসী বিরাট ত্বার্থসিদ্ধি সসম্মানে ভগিনীপতি আবুফাল গুরুদেবকে গৌয়ারতুমি ভারতব্যাপী কানপুর প্রণিধান পরবর্তীকালে ৬২৩৬ পাতা ১১৯৪ ১১৮ ৯১৮৮ ১১৮ ১১৮ ১১৮ ১২০ ১৭৭ ১২৭ ১২৫ ১২৬ ১৩৩ ১৩৪ ১৩৮ ১৩৮ ১৩৯ ১৪৩ ১৪৩ ১৪৪ ৯১৪৭ ১৪৯ ১৫৩ ১৫৮ ১৫৮ ১৫৮ ১৫৮ ১৬৩১ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচন। লাইন ২০ ১৭ ১৭ ১০১ ২৩ ৪ ১৪ টং ১৭ ১ ১৩ ৩ ২৭ ২২ ১৫ স্শী ০১ ৯৭ ১৩ ১ অশুদ্ধ অবতারনা বাঈজা বিবাহকে অগ্রনী তার তার রমনী রক্ষনা জেগানীয় গন্নাবেগর বিবরনীতে বসে পরিস্থিতেতে আবদালী অস্তস্বত! বিধ্বংশী মুছর্তে স্পটই একিতৃত ব্যাথ! আভ্যন্তরিণ বিচরন নিমজ্জিত বঙ্ধিকচন্ত্রের অবতারলা উপধ্যপরি ০1918081913 বাণ শুদ্ধ 'অবতারণ। বাঈজীকে বিবাহ অগ্রণী তার তার রমণী রক্ষণ] জেনানার গন্নাবেগমের বিবরণীতে বশে পরিস্থিতিতে আবদালীকে অস্তঃসত্বা বিধ্বংসী মুহুর্তে, স্পষ্টই একীভূত ব্যথা আভ্যন্তরীণ বিচরণ নিমজ্জিত বঙ্কিমান্দ্রের অবতারণ। উপবু'পরি (01081900975 বান 0 ১৬১ ১৬২ ১৬৩ ১৬৭ ১৬৭৯ ১৭৪ ১৭৮ ১৮১ ১৮১ চোখ শিচেত “২৪৪ শুদ্ধিপত্র লাইন ২৭ ২৯ ৮ ২৭ ১৫ উট ১৯ ২৫ ২৮ ২১ ৪ ্ ১৩ ১১ ১৩ ১ ২৭. ২৪ ৫ ৫ ৭ ৬২৭ অশুদ্ধ দ্ধ প্রমান প্রমাণ জগাখিচুড়ী কজ্গাখিচুড়ি বীনাকে বীণাঁকে পশ্ঈপল্ললে পঙ্কপন্থলে কারনে কারণে উপক্রমনিক+ উপক্রমণিকা' আোতে শন্োতে রমনী রমণী তাহইলে ত1 হলে মন্ুর্তের মুহর্তের ষডযজ্জ্রকারিনী ষড়যন্ত্রকারিণী শর এশ্বর্য মীরনের মীরণের রণহস্তি রূণহত্তী কাল্পনীক কাল্পনিক রেছেন করেছেন বৈচিত্রপূর্ণ বৈচিত্র্যপূর্ণ অ!রোহন আরোহণ কালুন্ুক্রমিক কালান্ুক্রমিক হবে হয়ে আবিমৃষ্যক1রিতায় অবিমুস্তকারিতায় ককুধ ককুদ নীতি নাতি বিপনীতে বিপণীতে উপধ্যপরিতার উপযুপরিতার স্বীক্ষার স্বীকার সাক্ষর ্বাক্ষর চলাকালিন চলাকালীন ১ ১. ২২৩ ১৩০ ৩০ ৩০ ২৩০৪ ৩১১ ২৩২ ৩৪ ৩৫ ২৩৫ ২৩৬ ৩৮৮ ২৩৮ ২৪১ ২৪৩ ২১৮ ২৪৯ বাংল! এ্তিহামিক নাটক সমালোচন! ' লাইন ঙ ২২১ ২৩ ১৯ ১৪ ই ১৪ ১ ১৬ ১ ০৯ ১ ১০ এ ২৬১ ২৮ ধু ৪ ১৩ ১৬০ অশুদ্ধ শুদ্ধ পলায়ণ গল্প যন রমনী রমণী ভূম্যধীকারীদের ভূম্যধিকারীদের পলাশীয় পলাশীর মীরন মীরণ আশাঙ্কিত আশঙ্কিত গভিনীরমনী গভিণীরমণী পরবস্তী পরবর্তী গোলাবর্ষন গোলাবর্ষণ ্রয্ত ্রস্ত কাগুজ্ঞানহীণ কাগুজ্ঞানহীন নিজেরমনমতে! নিজের মনোমত মিরণকে মীরণকে ঘুর্ণাবর্তী বর্ণাবর্ত দেশাত্ববোধের দেশাত্মবোধের তরুনের তক্ুণের কারন কারণ পরিনতিকে পরিণতিকে বনিকদের বণিকদের সাহাধ্যার্থে সাহাষ্যার্থে সেনের রায়ের পলাইত পলায়িত পলায়ণ পলায়ন হুলওয়েবের হলওয়েলের মুদূর্তে মুহূর্তে গোলাবর্ধনে গোলাবর্ধণে সাক্ষব্বিত স্বাক্ষরিত নববেবেয নবাবের ২৫৩ ২৫৩ ২৫৪ ৫৫ ২৫৫ ২৫৮ ২৫টি ২৫৮ ২৫৯ ২৬২ ২৬৫ ২৬৫ ২৬৬ ২৭৩ ২৭৮ ২৮৬ ২৮৮ ২৯৩ ২৯৫ ২৯৭ ২৯৭ ৩০০ গুদ্ধিপত্র লাইন ৮ ২২ চিএ ২৪ ১৬ ২৭৯ ২ হঠ ২৭ ১২ ৯৩ শু ১৭ ৪ ন্ট ১৭৯ ২৬৪ ২৮ অশুদ্ধ হণ ভীজে করুন পলায়ণ নেহরিল ত্বেজ .পঞ্চমাংশে যুগ পলায়ণ ্র্যস্ত বানী উচ্ছাস সন্ত্রাশবাদীরা প্রতিধবনী রমনার রমনীগমন, রক্ষন সাবধান বানী নিদারুন বিষন্ উপঢৌকন চোদ ১৭৭৮ লক্ষনীয় বংধরগণফে জাকিয়ে ৪১ বিভাড়িক লক্ষা অভিহীত ৬২৯ শুদ্ধ হীন ভিজে করুণ পলায়ন নেহাৰিল তেজ পঞ্চমাংশ যুদ্ধে পলায়ন ্রস্ত বাণী উচ্ছাস সন্ত্রাসবাদীর। প্রতিধ্বনি রমণীর রমণীগমন, রক্ষণ সাবধান বাণী নিদারুণ বিষণ্ন - উপঢৌকন চৌদ্দ ১৩৭৮ লক্ষণীয় বংশধরগণকে জাকিয়ে ৩৯ বিতাড়িত লক্ষ . অভিহিত ৩১৭ ৩১৯ ৩১৭ ৩২৪ ৩২৫ ৩২৭ ৩২০ ৩২০ ৩২৪৯ ৩৩৮ ৩৩৯ ২৩০৪ ০ ৩৪৭ ৩৪৮ ৩৫২ ৩৫৩ ৩৬২ ৩৩৬৩৫ ৩৩৮ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা লাইন ২৮ উনি ২৩ ১৭ ৬ ১২ ১৫ অশুদা নিবুদ্ধিতা উদ্দিপীত মহিয়সী ইয়ারলতিক দিরে ধনী লক্ষণীয় ক মাঁশক্ত অপরিনামদর্শা যতপবোনাস্তি রামায়ন লক্ষনীয় উদ্দাহারণেই প্রভূ উৎসগিরুত এক ধারন] সহযোগীতা য় মন্ত্রণাদাত | হল সাক্ষ্যাত সম্মতি সাক্ষ্যাত সাক্ষ্যাতকার ব্যক্তিগন শ্বতিকর সন্ধুর অতিষ্ট শুদ্ধ নিবুদ্ধিতা উদ্দীপিত মহীয়সী : ইয়ারলতিফ দিয়ে ধ্বনি লক্ষণীয় কামাসক্ত অপরিণামদর্শী, বপরোনাস্তি রামায়ণ লক্ষণীয় উদ্দাহরণেই প্রত উৎসগাকৃত এই ধারণ। সহযোগিতায়, মন্ত্রণাদদাতা হল। সাক্ষাৎ সম্পত্তি সাক্ষাৎ সাক্ষাৎকার ব্যক্তিগণ ল্লীতিকর অক্ষুণ্ন অতিষ্ঠ ২৩০৩৯ ৩৩৬৩০) ২৩৬৮ ৩৭৮৮ ২৩৯১ ৩৯৬ গুদ্ধিপত্র লাইন ৪ ১১ চা ২ ৯ ১০৪ ৯১ ১ ২১ ১৩ ১ ১১ ৪ ১৫ ৭ ৯০ ১৭ ৯৫১ ১৮ ১৮৮ ১৭ অশুভ দোৌরাক্মে ঘনিত ফকিরিণির মিরণ কথোপকথণ স্ায়পরায়ন মর্সপীড় স্ুরূপ বাদাশাই সহযোগীতায় মনোমালিন্টে মতাবিরোধের সাক্ষ্যাতকার লক্ষনীয় ধারণ সাক্ষ্যাতকার লক্ষনীয় ঘুসোথুসি স্বত্বেও রমনী বঙ্গরমনী শাতিস্থাপনের গস দৃশ্ঠেরে সুহুর্তে মণিষা ইব্রাহীন স্বাস্থ! ২৩১ শুদ্ধ দৌবাত্মো দ্বণিত ফকিরণী মীরণ কথোপকথন স্সায়পরায়ণ মর্মপীড়া স্থরূপা বাদশাই সহযোগিতায় মনোমালিন্য মতবিরোধের সাক্ষাৎকার লক্ষণীয় ধারণ সাক্ষাৎকার লক্ষণীয়, ঘুষোতুষি সস্ববেও রমণী বজরমণী শাস্তিস্থাপনের শুক্ষ দৃত্যের মুহূর্তে মনীষা ইব্রাহীম সাস্বন। ৬৩২ পাতা ৪২৩৬ ৪৩২ ৪৩৫ ৪৩খ & ৩৮ ৪ ৪০ ৪8৪8২ ৪8৪২ ৪০৩ ৪8৪৯ ৪৫১ ৪€২ ৪8৫৫ ৪৭ ৪৭১ 9৭৭. ৪৭৬ ৪৭৬ ৪৭৭ ৪৭% ৪৭০৯ 9৮৭ ৪৯৯ 8০৪ ৪০৯৩ ৪৯৭ বাংলা তিহাসিক নাটক সঘালোঁচিন! লাইন ১৪ ১৫ ১ ১ ১০৩ ১৮ ৪ ১৮ হও ৭ ১ ৫ ১৩ ১৭ ঙ ২ ১৭ 8 £ নখ ন্‌ ১৫ ৯ ১৩ অশুদ্ধ সম্মিলিত সম্মুর্থীন সাহসীকতার প্রতিযোগীতা প্রসাদ বিপদাসঙ্ধায় জ্বান্লল্যমান উচ্চৈশ্বরে হটাৎ সাক্গ্যাত সেপাইএ ধবনী সমস্তই ব্যাধিতারিত শ্রাস্টাব্দের অঞ্জলী য় গুগ্চচরবৃত্তিতে ভুজঙ্গ সহুবোগীতায় কোমপানী সংলপে মীরকাশের করলে স্বার্থক আর চন্দনগরে কুষ্টব্যধি গ্রস্ত শুদ্ধ সম্মিলিত সম্মুখীন সাহসিকতার প্রতিযোগিতা প্রাসাদ বিপদাশঙ্কায় জাজ্বল্যমান উচ্চৈম্বরে হঠাৎ, সাক্ষাৎ সেপাহয়ে ধ্বনি সমস্ত ব্যাধিতাড়িত শ্রা্টাব্দের অঞ্জলি হয়ে গুগুচরবুণ্তি ভুজঙ্গ সহযোগিতায় কোম্পানি সংলাপে মীরকাশেম করতে সার্থক ? চন্দননগরে কুষ্টব্যাধিগ্র পাত ৫১১ ৫১৩ €১৪ ৫২৫ €৩০ ৫৩৩ ৫৩৫ ৫৩৩৬ ৫৩৭ € ৩৮ ৫১৩৯ ৫৪৩ ৫৪৩ ৫৪৩ ৫৪8৪ € ৪ €৪৬ ৫৪৭ ৫৫০ ৫৫৭ ৫৫৩৬ ৫৫৮ শি ৫৬৩ £৬৫ €& ৬৩৮ €৭০ €৭২ গুদ্ধিপত্র লাইন ২১ ১৯ ১৩ ২৭ ১ ২ ২৭ ্ ১৬ খ্জ ৯৮ ৫ ১০১5৫ ১৬ ১৮ ১৫ ১১ ৪ ১৭ ২৩ অশুদ্ধ বিবরনী সংখ্যাগরিই্টতার সংখ্যাগরিষ্ট্য লক্ষনীয় বিষদৃশভাবে সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে কশীরিটেশ্বরীর ভস্মম্মাৎ দেশব্যপা | করেলেন আন্ভাকুড়ে ফাসী সাক্ষী কম্মণ্যে উত্তরে সাক্ষী, ফারসী কাটকে নয় করুণ অনুযারী দিন | ইর্ষাতুর হেস্টিংসে চবতি পাঠ ন। মানসীকতা ৬৩৩৩ শত বিবরণী সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংখ্যাগরিষ্ঠ লক্ষণীয় বিসদৃশভাবে সঙ্গে সঙ্গে . কিরীটেম্বরীর ভূমিলাৎ দেশব্যাপী করলেন আন্তাকুড ফাসি সাক্ষি কর্মণ্যে উত্তর সাক্ষি, ফাসি আটকে হয় করুন অনুযায়ী দিল ঈর্ষাতুর হেস্টিংসের চবিত পাঠ না কণ্রে মানসিকতা ৬৩৪ ৪ ৭২৬ €$৮৩ £৮৬৩ ৬৮৩ ৫০০ ৬৩০৪ ৬০৭ ৬০৭ ৬৩১০৩ ৬১৬ ৬১১ ৬১২ ৬১৩ ৬১৩ ৬১৬ ৬১৭ ৬১৭ শ১০ ৭ ০ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা লাইন ৮ ১৭ ১ ১৪১ ১: ৯১ ১৭ ২৩ ১৭ ৭ শ ৪ ৩ ১০১ ৬ চা ৪ ১২ ৯ ১১ ২০ ৪ অশুদ্ধ আবিস্কার প্রাত:ম্মরনীয়া করনীয় পরান্মুথ কর্মোক্ষম নিধারণে নেতাহীন রানী ্র্যস্ত গৃহিনী দেববানী কোগগ্রস্থ অঙ্লিলত। ত্রিপাঙ্ষীক ত্বেজ কাছাকছি ত্র বিষয়ে রানী ত্বেজে মুখ্য অন্তপ্রাণীত শুদ্ধ আবিফার প্রাতঃম্মরণীয়। করণীয় পরাজুথ কর্মক্ষন নিরধধারণে ' নেতৃহীন রাণী ব্রস্ত . গৃতিণী দৈববাণী রোগগ্রস্ত অশ্লীলতা ত্রিপাক্ষিক তেঙ্জ কাছাকাছি মাত্র বিধয় রাণী তেজে মুখ্য অন্ুপ্রাশিত নির্দেশিকা ক্স অকল্যাণ্ড--৬০৬, ৬১২ অক্ষয়কুমার টমত্রেয়_-২১৮, ২৩৪-২৩৫, ২৪৪-২৪৫) ২৬১-২৬২১ ২৯১- ২৯২ ৩০৩) ৩১৩) ৩১৭5 ৩৭১) ৩৭৩, ৩৭৬১ ৪০৭) ৪১৪-৪১৬১ ৪২১৯১ ৪২৬ ৪২৭, ৪৫৮ 'অগ্রদ্ধীপ--( নদীয়৷ )--১০৪ অক্তিতকুমার ঘোষ--৬৬ অতুলকৃষ্ণ মিত্র--১৫৫-১৫৭, ১৬৪-১৬৫১ ১৬৮-১৬৯, ৫ ২৩১ ৬১৪ অন্তজী মানকেশ্বর ৮৬) ১০৬, ১৩৭-১৩৮, ১৪০ অগ্গুপ গিরি_-১১৬, ৩৫৮) অন্নপৃা ( বিগ্রহ )--৫৮৭-৫৮৮ অন্তপবাঈ_€, অভয় সিংহ-_-৮৬১ ৮৮ 'অমুতসর--৪৩, ৬০৫, ৬১১ অমরেন্দনাথ দত্ত _-৬৮, ৯৫, ১৫৭-১৫৯) ১৬৯১) ২৩৩, ৪৩ -৪৩৫) ৫৮৯ অমলেন্দু লাহিডী-_৩৪ অমল বন্দ্যোপাধ্যায়_--৪৬০ অমিয়েট_-৩৪৫, ৩৫২, ৩৫৪-৩£৫, ৩৬৫) (এন. বন্দ্যোপাধ্যায় ) ৩৭২১ ৩৮১-৩৮৫) ৩৯৩-৩৯৪, ৩৯৭-৩৯৮) ৪০২-৪০৪) ৪২০১ ৪৩৯১ ৪৪৯-৪৫২, ৪৩৪, ৪৬৬-৬৭) ৫২৯, ৫৩১১ ৫৫১ অযোধ্যা_ ৫৩১ ৭৬১ ৮৩১ ৯৯১ ১০৩) ১১৭, ১২৬-১২৭১ ১৩৩১ ১৩৭৯১ ৩৩৭, ৩৩৭; ৩৫৭, ৩৬০, ৩৬৯, ৪১১১ ৪২৩-৪২৫) ৪২৯-৪৩৪১ ৪৬৮১ ৪৮৪১ ৪৮৭, ৪৯৭১,৫৩৯-৫৪১১ ৫৫৩, ৫৯১-৫৯৪, ৫৯৯ অযোধ্যার বেগম-__-€৯১, অধোধার বেগম (নাটক )--৫৯২-৫৯৩ অরুণ।--১৬১ অবুবিন্দ ঘোষ-_-২৩১, অবিনাশচন্দ গোপাধ্যায়-_-১৯৩, ৩৬৩ ৬৩৬ বাংল! এরতিহাসিক নাটক সমালোচন। অবিনাশ বন্দ্যোপাধ্যায়--১৭১ অস্টীয়। 78১৩১ ত্আ আইফৎত-উন-নিস1--১২০, ১৩১ আই ভাঁজ খা-_-৮£ আওরঙ্গজেব-_আলমগীর দেখুন আকবরী-_-২৪ (চারুশীল। ), ৩৯-৪ ০ আকবর নগর 'বাজমইল)--১৪৭১ ১৫৩, ১৭৭ আকবর বাদশাহ-__ ৪৯, আর্কডিকেন সাহেব__-€৫৮ আগ! গ্রেগরী--গুরুগিণ খা! দেখুন আগা পেটরুশ আযারাটুন_থোজা পিজ্রল দেখুন আগ। বারসেগ-_-৪৭৫ আগ! মহম্মদ নৈয়দ--সৈয়দ আহমদ খা দেখুন আগ্রা--১৭-১৮ ২০১ ২৫, ৭১-৭২১ ৭৫১ ১০৬-১০৭১ ১০৯ ৩৫৭৯ আজু গৌঁসাই-_-৩২৪ আজিজুদ্দিন_- আলমগীর ( ছিতীয় ) দেখুন। আজুপ্দিন__-৫» ১১-১২৯ ১৪, ২৬ আঁজিম-উস-সাঁন-_ ২-৩১ ৫১ ২২১ ২৬১ ১৪৮১ ১৫১ আজিমাবাদ__-২৪৮১ ৩৬২ আজম শাহ--১১ ২৬১ ১৭৩ আজমশট__- ৩৬০, ৪৮০ আজার বাইজান--৪৪ আতাভল্লা--৩০১ | আনন্দমঠ--৭৩, ১৪১১ ২১৭, ২১৯ ।আনন্দরাম--৬৪ আন্দোলী-__-৩০ আফগানিস্থান_-৩৩, ৩৭১ ৩৯৯ ৪৯-৫০১ ৬০, ১০০১ ২৪১১ ৬০৬ ৬১২ নির্দেশিকা ৬৩৭ আমিন থান- ৮৩ আমিনা বেগম--১৮৪১ ১৮৬১ ১৯৫১ ১৯৯-২০০১ ২৬০৯ ৩২২১ ৪৩৬১৪৪০১৪৪৪ আম্বালা--১৯১ আমির বেগ-_-১৩৯১ ২৪৮ আমীর চাদ_-উমিচটাদ দেখুন । আরকট-_২৫২, ৬০১১ ৬০৩ আরাটুন--৩৫৬ আরাব আলি খা--৪১০১ ৪৬৩১ ৪৬৮ আলা সিং--১৩২ আলা ইব্রাহিম খা-৩৬৫ (বসন্ত রায়) ৩৬৮-৩৬৯১ ৩৭৫১ ৩৮১১ ৪০০, ৪০৫১ ৪১০-৪১১, ৪১০৮-৪২০১ ৪২৩- ৪২৪১ ৪২৭-৪২৮১ ৪৪৭ আলেকজাগ্ার (রুশ জার )--৬০৬, ৬১২ আলিকুলি খান--১১৭-১১৮ আল্লাখ।--১৪ ৭-১৪৮ আলি গৌহর _-১৪০, ৩৩৯, ৩৮২, ৫৯২) ৫৯৪ আলিগড--৩৬০১ ৪২১ আ'পলিনগর _২০৩ 'আলিপুর--৪০৫, ৪৯১ আলম খা_-৩৩৫ ( উপেন্দনাথ ভট্টাচার্য ) ৪০১ আলমগীর-_-১, ২,৪৯১ ৫৭) ৭৯, ৮২১ ৮৭) ৯০-৯২১ ৯৯১ ১০১১১০২) ১৪৭১ ১৫০১ *৬৩০+ ১৬৪১ ১৭৬) ২৩৪, ৩৩০১ ৬০০৪ ৬১৩ আলমগীর (দ্বিতীয় )--৫-৮১ ১০-১২১ ১৪১ ১৭-১৯, ২৪১ ২৬১ ১০৮) ১১৭-১১৮) ১২০১ ১২২১ ১২৩১ ১২৬-১২৭১ ১২৯-১৩০১ ১৩১-১৩২১ ১৪০ আলমটাদ-_-১৭৭, ১৮১১ ১৮৩-১৮৪ আলিমুরাদ্র কোক তলাস খা কোকলতাস খ! দেখুন। আলিবাবা (নাটক )--৪৪০, ৫৪০, ৫৪৫, ৫৪৭ আলিবদী খা_-৬৪, ৬৭১ ১০৪১ ১১৪, ১৭৩-১৭৪১ ১৭৬-১৮০১ ১৮২-১৯২৯ ১৯৪-১৯৬) ১৯৮-২০০% ২০২১ ২০৬, ২০৮১ ২১৪-২১৫, ২২১ ২২৯, ২৪৫, ২৪৪, ২৬৬১ ২৬৮-২৭৩১ ২৭২১ ২৭৬১ ২৮০১ ২৮৫-২৮৮১ ২৯০-২৯২) ৩০০১ ৩৯১, ৬৩৮ বাংল! &তিহাসিক নাটক সমালোচনা ৩০৫-৩০৬) ৩১১১) ৩১৫) ৩১৭, ৩২১-৩২২, ৩২৮, ৩৪২, ৩৬১১ ৩৯৫১) ৪৩২- ৪৩৩১ ৪৩৯, 8৪9) ৪৭৭) ৪৮২১ ৫৬০-৫৬১১ ৫৮০১ ৫৫২ আলিবদ্ী বেগম-_-২২৩ (তারামুন্দরুী) ২৩৭, ২৩৯ (আলিবর্দী মহিষী ) ২৪৮, ২৫৩-২৫৪) ৩০৭ আলা সিং--১৩২) ১৩৩ আলা হাজিম-_-৩৪ আল্লাহাবাদ__-২৬, ২৯ আলি হোসেন_-২৮৭ আলেয়_-২৬৭, ২৬৯ (শ্রীমতী নীহাবুবাল| ) ২৭২-২৭৩, ২৭৫-২৭৮, ২৮০ আবুতোরাব ( আবুতোরাপ )--১৫২-১৫৩১ ১৫৫, ১৬১১ ১৬৩-৬৪১ ১৬৭ আবদুল করিম__-৬৪ আবদাল্ল! খা--২০-২১ আবদুল রহমান__-€৬৩ আবহুল্ল! হারুণ_ ২৬৫ 'আশুতোষ ভট্টাচাধ্য--৬৫, ৯৫ আসাদ আল্লা খ।--৩২৪ আসাদ খা--২, ১৯-২০১ ১৩-২৪ অ|সাদ জামান--৩৭৫ আসাদ বুরুজ-_ ৫৫ আপসাতুল্লা--৩৫:৬ আসফউন্দৌলা_-৩৬০১ ৫৯৪ আসফ ঝশ-৫৫) ৫৯১ ৬৩৭ আসাম-__-৭৯২ মাহমেদ খা--১১৮১ ১৩৬১ ১৩৯ আহমেদনগর--৮৭ আহমেদ্রাবাদ__-৮৭ আহম্মদ শাহ 'আবদালী--২ » ৩৮-৪১১ ৬০, ৬২, ৯৬-৯৮, ১০৪-১০৯ ১১১১ ১১৩ ১১৬, ১১৯-১২৭০ ১২৯-১৩৯১ ১৩৪-১৭৩৭১ ১৩৯-১৪৯১ ২০৩-২০৪, ২৪৭,২৫০) ২৭৮) ৩২৭-৩২৮১ ৩৯১ ৩৪৫ নির্দেশিকা ৬৩৯ আহেরিয়া! £(নাটক)_-৪৪০ আযাডামম--৩৫৫'৩৫৭% ৩৬৫ ( অধেন্দু শেখর মুস্তফী ) ৪০০-৪০১) ৪০৮ ৪০৯, ৪১৬, ৪১৯, ৪২১-৪২২১) ৪৭৩, ৪৭৬ আগ্ু১--৯৩ আযানি বেলাস্ত-_৬২ আলাড --৬০৫ ইউরোপ-_-৪৩, ৪৬১ ইকলাস খা_-৯, ইজুদ্দিন__&» ৭১ ১৪ ১৬১৭১ ইতমাৎ-উদ-দোৌল্লা__কামাকদ্দিন খান-_€৩, ইমতিরাজ খা_৩৪২, ইমতিয়াজ-উ-দ্দোৌল্লা--৩৪৭, ইমতিয়াজ মহল-_লালকুঁয়ার দেখুন । ইমাদ-উল-মুলুক--€,» ১০৩-১০৬, ১১৭-১১৯, ১২২ ১২৬, ১২৯-১৩০১ ১৩১১, ১৪০-১৪১, ইমাম কুলি_-৪২, ইরিচ খা বা ইরাজ খা--১৯৬১ ২৮১ ৩১২-৩১৩, ৪০৯১ ৪৭৬ ইরাঁন--৩৬১ ৩৯ ইলাইজা ইন্পে_-€১৬) ৫২৪১) ৫৬৮ ইলিশ সাহেব-__এলিস সাহেব দেখুন । ইব্রাহিম খঁ। ৩৮১ ১৩৭-১৩৮১ ১৫০১ ৪১১ ইসলামবাদ--১৫৩ ইম্পাহান--৬৩ , ইয়াকুব আলি থান--১১৪, ১২২১ ১২৫ ইয়ার থ|__৯ ইয়ার লতিফ খা__-২০৪১ ২৭৯ ৩০৪, ৩৯৭-৩০৮১ ৩২০ | ইংল্যাগ্ঁ--১৮৪, ২০৯, ২১৫১ ২৪৪, ৩৪০১ ৩৫২, ৩৯১১ ৪৮৯১ ৪৯৬১ ৫১৪, ৪১৭ ৫১৯) ৫২১-৫২২, ৫২৫১ ৫৪৮) ৫৬৬১, ৫৬৮১ ৫৭০ ৬৪০ বাংল! ঞতিহাসিক নাটক সমালোচন। জী ঈশ্বরচন্দ্র বিগ্ভাসাগর--৪৬৭১ &১৫ উ উইলিয়াম ইরভিন সাহেব-_-৩, ১২৫ উইলিয়াম হোসিয়।-_ ৫৮৪ উভরাফ সাহেব--২৮২ উত্তর প্রদেশ-__-৩৪৯১ ৫৩২১ ৫৪8৪ উদ্দাজী যাদব-_-৮৬ উদ্দিপুরশ বেগম--১১৮ উদয় নারায়ণ রায়__-১৪৯ উদদয়নাল1 _ উধুয়ানালা দেখুন । উদ্যপুর ৫৮, ৮৮ উধমবাঈ--১১৮১ ১২২-১২৩ উধুয়ানালা-_৩৫৬, ৩৬২ (প্রবন্ধ ) ৩৬৩, ৩৬৭১ ৪০৮, ৪১১-৪১২১ ৪১৪- ৪১৫) ৪৫৪১ ৪৫৬১ ৪৬০) ৪৬৭-৪৬৮১ ৪৭০-৪৭৪) ৪৭৬১ ৪৭৮১ ৪৮২-৪৮৩১ €৩২-৫৩৩, ৫৩৫১ ৫৫২, ৫৫৩, ৫৫৫ উদ্মংজহরৎ__উদ্মৎ সায়রা! বেগম দেখুন । উন্বাৎ সায়র' বেগম-_--২৫৪-২৫৪, ২৫৯, ৩১৩, ৩১৪১ ৪৪৮১ ৫৫০১ ৫৫৩, ৫৫৭, ৫৫৯ উপেন্দ্রকুমার মিত্র--৩৩ উমদাৎ ওন্রিসা__ওমদাৎ উন্লিলা দ্নেখুন। উমি্টাদ__২০৩, ২০৭, ২০৯, ২২৯, ২২৪-২২৫, ২২৮-২২৯১ ২৩৪১ ,২৩৮ ২৩৯১, ২৪৩, ২৪৫) ২৪৮-২৪৯১ ২৫১-২৫২১ ২৬০১ ২৭৬-২৭৭) ২৮৩? ২৮৬, ২৮৮-২৮৯) ৩০১-৩০২১ ৩১৯১ ৩৫৪, ৩৭৮ | উমদ্বাবেগম--১১৮ । উমর বেগ-_-৩০৩ উম্ষেশচন্দ্র মৈত্রেয়-_-১৬২ উড়িয্ব)__-২, ১৬, ৬৭, ১০২, ১৯৪১ ১৪৭১৪৮১ ১৫৩১ ৯৭৫১ ১৭৭-১৭৮, নির্দেশিক1 ৬৪১ ১৮২১ ১৯০১ ২৪৩১ ২৪৫১ ২৬৮১ ২৭০১ ৩৭৯১ ৩৮৩১ ৩৮৮১ ৪২২, ৪২৪১ ৪২৯, ৪৬১১ ৪৬৩১ 9 ৬৬-৪৬৮) ৪৭১১ ৪৭৯১ ৪৫৩৩, ৫৩৫১) ৫৫১১ ৫৬১১ ৫৯২-৫৯৩১ ৫ ৯৯ এ এক্রামান্দোল1_-১০৬১ ২০০, ২৩৭১ ২৪০১ ২৮৬ ৩১৫-৩১৬ এডমও্ড বার্ক-_-€২৫১ ৫৪৮১ ৫৬৬) ৫৭১) ৫৬৮ এলাহাবাদ-__-৭৮১ ১৩১-১৩৭১, ৩৬০১ ৪২১ এলিসসাহেব--৩৪৫১ ৩৫০১) ৩৫২, ৩৫৪) ৩৫৫, ৩৬৫) ৩৬৭১ ৩৮০১ ৩৮২) ৩৮৫১ ৩৮৭-৩৮৮১ ৩৯৩১ ৩৯৭-৪০০১ ৪০৩১ ৪১৯, ৪৫১১ ৪৬৪৯ এশিয়া--৩৬১ ৪৩, ৪৬১ ১১১১ ১৩৬, এ্যান (রুশরাণী )--৪৪, ও ওমদ্াৎউন্লিসা--১৯৬১ ২১৬১ ২৩৬) ২৮১) ২৯৬১ ৩১২-৩১৩১ ৫৫৪১ ওয়াটস লাহেব--১৯৭১ ১৯৯১ ২০২১ ২০৪) ২২৯১ ২৩৮১ ২৪০১ ২৪২-২৪৩, ২৪৭-২৪৮, ২৫১-২৫১) ২৬০-২৬৯, ২৬৯ (ভূপেন চক্রবর্তী), ২৭৬ ২৭৮ ২৮০-২৮, ৩০২, ৩০৯) ৩৮-৩৯, ৩৪৯, ৪৩৩, ৪৬৪, ৪৯৩, ৫৫০, ওয়াটসন সাহেব-_-১৯৭ ৩৭৮, ওয়ারেন হেস্টিংস-__-২০২, ২০৪, ২২৯, ২৪৯২) ২৪৭, ২৯৬১ ৩৪১ ৩৩৯১ ৩৪৪, ৩৪৬১ ৩৫ ০-৩৫ ৩, ৩৬০ ৩৬ ১ ৩৬৫১ (শ্রীমতী-প্রকাশমণি ) ৩৭০-৩৭১, ৩৭৪, '৩৭৭-৩৮১১ ৩৮৮১ ৩৯০ ৩৯১১ ৩৯৫১ ৩৯৭-৩৯৯১ ৪০৩-৪০৫১ ৪০৯১ ৪১৯১১ ৪১৬১ ৪৩০, 8৪৪-8৪৫)১ ৪৫৯, ৪৬২) ৪৬৫) ৪৭৫, ৪৭৯-৪৮০১ ৪৮৭১ ৪৯২-৪৯৩, ৫১১, ৫১৯-৫২০১ ৫২২, ৫২৪-৫২৫, ৫২৭১ ৫২৯ ৫৪২, ৫৪৪-৫৪৮, ৫৫০-৫৫২, ৫৫৪5৫৬৮, ৫৭০-৫৭১, ৫৮৩, ৫৮৫, ৬০৩-৬০৪, , ওয়েলসণী-৬০৪-৬০৫, ৬১০১ ওরঙ্র্রীব বাদশাহ--আলমগীর গেখুন ওরঙাবাদ_-৮১১ ৮৫১ ৬৪২ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন৷ নক কটক--১৭৬ করতলবর্থা__মুশিদকুপিখা দেখুন করম আলি-_-২৩৬ কর্ণাক-_-৩৪৫-৩৪৬, ৩৫ ২, ৩৫৮, ৩৬৫ ( সত্যেন্দ্রনাথ দে ), ৪০০, ৯২২, ৪২৬ কর্ণাট-_-৭৪, ৮৪ ( কর্ণাটক) কর্ণাল_-৪৮-৪৯১ ৫৩) ৫৫) ৫৯, কর্ণেল আমার কুট সাহেব--১৯৭, ২১৫, ২২৪-২২৫, ২৫৫, ৩০৭, ৩৪৭- ৩৪৮, ৩৮৫, ৩৮৭-৩৮৮১ ৪৮৮১ ৪৯৫-৪৯৬১ ৫২৪, ৯২৮, ৬০৩ কর্ণেল কোর্ট-৬০৫ কর্ণেল গার্ডনার-_ ৬০৫ কর্ণেল মণশসন--৫০৫১ €*৭, ৫১৩-৫১৪১ ৫১৮১ ৬২০১ ৫৪৩-৫৪৪১ ৫৬৬১ €৭০-৫৭১ করিম চাচা--২৩৩ (গিরিশচন্দ্র ঘোষ ), ২৩৯) ২৪৫১ ২৪৭-২৪৮১ ২৫১- ২৫২১ ২৫৪-২৫৫১ ২৪৯-২৬০ ২৬৩, ২৬৭ ২৭২ ৩১২১ ৪৩৪ (হরিভূষণ ভষ্টাচাধ্য ) কলিকাতা-৪১, ৬৩, ১৪২১ ১৮৭১ ১৯৬-১৯৭১ ২০০১ ২০২-২০৪, ২১৪, ২২০১ ২২১, ২২৩, ২২৬, ২২৮, ২৩২, ২৩৭-২৩৮, ২৪০১ ২৪২-২৪৩১ ২৪৫১ ২৪৭১ ২৪৯ ২৫১, ২৫৭-২৫৮, ২৬১১ ২৭০-২৭১১ ২৭৩-২৭৪১ ২৭৮৪ ২৮০১ ২৮৭, ২৯০১ ২৯৪১ ২৯৭5 ৩০১১ ৩০৩, ৩০৫১ ৩১২? ৩১৫১ ৩১৮১ ৩৩০-৩৩১১৪ ৩৩৮ ৩৪১১ ৩৪৩-৩৪৬১ ৩৪৮-৩৫০৪১ ৩৫৪১ ৩৫৭-৩৫৮, ৩৬২, ৩৭০১ ৩৭৩-৩৭৪, ৩৭৬-৩৭৮১ ৩৮০-৩৮১১ ৩৮৩-৩৮৪১ ৩৯০১ ৩৯২১ ৩৯৪১ ৩৯৭-৩৯৮) ৪০৯) ৪০৫৯ ৪১১১ ৪১৭, €£১৯-৪২০১ ৪২২১ ৪৩২-৪৩৩১ ৪৪১১ ৪৪৩-৪ ৪৪, ৪৪৭) ৪৫১- ৪৫২১ ৪৬২-৪৬৩ ৪৭১-৪৭২% ৪৭৫৯ ৪৭৭-৪৮৯, ৪৯১-৪৯২% ৪৯৪, ৪৯৬-৪৯৮, ৫০৫১ ৫১২১ ৫১৮১ ৫২১৫২২, ৫৩৬-৫৩৮১ ৫৪০১ ৫৪৫-৫৪৬১ ৫৪৮১ ৫৫১) ৫৫৬:৫৫৭১ ৫৬২১ ৫৬৭১ ৫৬৯১, ৫৬) ৫৮৪১ ৫৮৭ কলাঙ--৪৬২ নির্ধেশিক! ৬৪৩ কল্যাণ সিংহ_-৩৫৭, কাজী নজরুল ইসলাম-_-8৫৮, কাটোয়।-১৮৮, ২০৪, ২০৬১ ২০৯, ২১৫, ২২৪, ২২৬, ২২৮, ৩০৬-৩০৭, ৩১২ ৩৪১১ ৩৫৫, ৩৬৭, ৪০০-৪০১, 8০৭) ৪৪১) 8৫৪) ৪৫৬ ৪৫৮১ ৪৭১) ৫€৩০-৫৩১৪ ৫৩৫, ৫৫১৪ ৫৫৩) কাণপুর-_ ৯৬-৯৭) কান্তবাবু--২৪২, ৩৩০, ৪৯২১ ৫১০) ৫৩১১ ৫৩৪) ৫৫০) ৫৫৫) £৫৭-৫€৯, ৫৬৩০১ ৫৬২১ ৫৬৪-৫৬৫১ ৫৬৩৭১) ৫৬৮১ ৫৬৯5 ৫৭০১ কান্তমুদী-_কান্তবাবু দেখুন; কান্দাহার-_-৪৪-৪৫, ১২২) কান্থুরাম--৩৪০, কামগার খা--৩৪৭১ ৩৪৯) ৩৯৪ কামারুদ্দিন খান--৮৮) কামরূপ--২১৩, ৫৯২, কামবকা _--১১ ৭৯১ ১১৮, কামালুন্দিন ৫৫৮, ৫৬২-৫৬৩, ৫ ৬৫-৫ ৬৬) ৫৬৮-৫৭০১ কালিকট--৬০১, কালীগ্রপাদ--৫৬৩, ৫৭৮, ৫৮৩, ৫৮৮) কালী প্রসন্ন ঘোষ-_ ২১৭, কালীকিস্কর দত্ত--২৮৩, কালীঘাট _৪৬২, কালীপ্রলন্ন বন্দ্যোপাধায়_-১৮১, ২৩৪, কাবুল_-২, ২২, ৪৯-৫০, ফাশী_১৩৬, ৩৭৫) ৩৯৬১ ৪৩০১ ৫৩৮-৫৩৯) ৫৮২১ ৫৮৪-৫৮৭) ₹াশিম খা_-৭৯, জাশিমবাজার--১৭৫, ১৮৭-১৮৮১ ১৯৬-১৯৮১ ২০০১ ২০২-২০৪) ২২২, ঠ ২২৯-২২৭) ২৩১১ ২৩৬১ ২৩৮১ ২৪০১ ২৪২, ২৪৯-২৫১১ ২৭০-২৭১% ২৭৩, ২৭৫-২৭৮, ২৮৯, ২৯৬, ৩০১৪ ৩০৩, ৩০৫১৩১৮-৩১৯১ ৩২৪-৩২৭১ ৩৩০১ ৩৩৯, ৬৪৪ বাংলা এতিষ্াসিক নাটক সমালোচন। ৩৪৫১ ৩৫২-৩৫৩, ৩৫৫, ৩৭৪, ৩৭৭-৩৭৮১ ৩৯১-৩৯২) ৪৩৯১ ৪88৪১ ৪৯২) ৫০৩, ৫২৯, ৫৫০) কাশ্বীর--২, ৫৮, ১৯৫১ ২৯১-২৯২) ২৯৫১ ৩০২, ৩০৪ ৪৩৭) ৪৫৬, ৫৯৯-৬০০,১ ৬০৫-৬০৬, কাশীরাজ-_ ৪৯৭, কাশীবাঈ--৮১, ক্লাইভ--১৯৭, ২০৩, ২০৫-২০৬, ২০৯ ২১০, ২১২, ২১৫১ ২১৮, ( গিরিণ চন্দ্র ঘোষ )১ ২২৪, ২২৮-২২৯ ২৩৩ (ক্ষেত্রমোহন মিত্র ), ২৪০১ ২৪৩১ ২৪৫ ২০৭, ২৫১-২৫২১ ২৫৪-২৫৫, ২৫৭) ২৬ -২৬৩, ২৭৪১ ২৭৭-২৭৮) ২৮০-২৮২, ২৯৪-২৯৫) ৩০৩-৩০৬১ ৩০৯, ৩১৮ ৩১৯, ৩২২, ৩৩৮-৩৪০১ ৩৪৬, ৩৪৯১ ৩৭০, ৩৭৩, ৩৭৫, ৩৭৮১ ৩৮৯, ৪৩৩, ৪৩৪। ( মনোমোহন গোস্বামী )১ ৪৩৬, ৪৩৯, ৪৪৩-৪৪৬১ ৪৫০) ৪৬৪১ ৪৭৭, ৪৮২, ৪৮৭-৪৮০) ৪৯০১ ৪৯২-৪৯৫) ৪৯৭-৪৯৯, ৫০৫১ ৫২৭, ৫২৭৪ ৫৩৮, ৫৪২১ ৫৬২১ ৫৬৭) কশরিটেশ্বরী £ বিগ্রহ )--৫৩৩, ৫৩৫, কণীত্তিপুব-- ৪০২, কুইলি খা--১২২, কুঙ্জপুরা1--১০৭) ১১০, "কুতুব শাহ-__-১১০, কুরুক্ষেত্র ৫৩১ ৮৮১ ২১৯ কুলকারণি সাহেব_-৩৯১১ কুলি খা-__-১৬০১ কুডিবাড়ি_-১৫৩ (রংপুর ), বুষকান্ত নন্দী-__কাস্তবাবু দেখুন । ্‌ কৃষ্দাস--২১৪, ২২১-২২২১ ২২৭) ২৩৭-২৩৯, ২৭৫) ৩০১১ ৩৩৯, ৩৪২, ৩৫৬, ৩৯৫১ ৪১০, ৪১৪-৪১৫১ ৪৬০১ ৪৬৫, ৫২১১ ৫৩৭, ৫98-৫9৫) ৫৬৯, কৃষ্ণভা মিনী-_-৩৪১ ৫৯৪) কেনারাম (কাঙ্ছরাম )--৩৪৫, € টি ক্েভারিং--৫০৫, ৫০৭) ৫১৩-৫১৪, ৫১৮, ৫২০) ৫৪৪১ ৫৬৫-৫৭১, কেলড-_-৩৬৫, ৩৭০) ৩৭৮, নিদেশিক। ৬৪৫ কোকলতাপ খা ( আবুমুরাদ )--৪, ৫ (কালী সরকার ), ৯-১০, ১৬-১৮১ ২০-২১১ কোলেট সাহেব_-২০২, ২০৪, ২২৯, ২৪২, ২৭৮, ক্যাপটেন চ্যাম্পিয্ান_-৩৪৭, ক্যালকাট| রিভিউ--৪৮৯) থড্গ সিংত--৫৯৯১, ৬১১-৬১৪, থাইবারু-__ ৫১, থাণ্ডেরাও --১০১-১০২) ১৪০, থানহুরাণ__-৫৩-৫৫, ৮৮, থান্দেশ ৮৫, থাম্ুসিয়াত খা--৬, খাঁজাহান (নাটক )--৪৪০, ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্বাবিনোদ__১৪, ৪২, ৯৭, ১৮০, ১৮২, ১৮৪১৯ ২৯০, ৩২৯) ৩৬৩-৩৬৪১ ৪৩১১ ৪৩৩-৪৩৫১ ৯৪০, 8৪৫, ৪৫২-৪৫৩, ৪৫৫, ৪৫৭) -৫৯১) ৪৮২, ৫২৩-৫২৬) ৫২৯, ৫৩১১ ৫৩৫-৫৩৮, ৫৪০-৫৪১, ৪৪, ৫৪৬-৫৪৭) ৫৪৯১ ৫৫৫) খুজিস্তা আখতার--২, খুরাসান-_২৬৮, ক্ষেমঙ্করী-_ ৫৩০১ খোজা আণ্ট,ন--৩৫০, ৩৮০, খোজ! পিদ্রস-_-৩৬৫ (হরিদাস দর্ত ), ৩৬৯-৩৭০১ ৩৭৫, ৪০৬, 3০০ ৬১২১ ৪১৫-৪৯৬, ৪২৪১ ৪৬০১ ৪৬৫-৪৬৬, ৪৬৮, ৪৯০) ৪৭৩-৪৭৫১ ৫৪৫, থোজা বাজিদ--৩৬৫, ৩৭৫, খোদ ইয়ার-লতিফ খা (আমীর থোদাদদ খা )--২৭৭/ ৩০০, খোরাসান--৪২-৪৩১ ৪৮, খোসবাগ--২৬১, ৩১৪, ৪৫৬১ ৫৫৬১ ৬৪৬ বাংল! প্রতিহাসিক নাটক সমালোচন। গা গকুলচন্দ্র ঘোষাল-_-৩৩ ; গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ_-৪১১% ৪২০) ৪৯২» ৫০১১ ৫০৭৪ ৫০৯, ৫১৯১ €৫৮-৫৫৭৯১ ৫৬৩-৫৬৫১ ৫৬৮) ৫৭০১ গঙ্গাদাস--২৭৫, গঙ্গাধর শ্বামী--১৫৬, গঙ্গাপ্রসাদ- ৫৮৪১ ৫৮৬১ ৫৮৮১ গঙ্গারাম দাস-_-১৫৫১, ১৫৮ ( মহেন্দ্রবাবু ), ১৬১, ১৬৩-১৩৪১ ১৬৬ (জহর গাঙ্গুলী ), ১৬৭, গঙ্গারাম ভট্টাচার্য-_ ১৮৮১ ২৮৪, গলাবিষুণ ৩৪৮, গজণী_-৫৮, গণপৎ্ রাও মেহেন দাল--৮৬, গননা বেগম--৯৭, ১১৭-১১৯১ ১২১-১২২, ১২৬, ১২৮, ১৩৩-১৩৫১ ১৪১-১৪৪, গলস্টোন সাহেব_-৩৫৭, ৩৮৪) /এ গবুর ডলন -- ১৫০, গয়1--৩৪৭১ ৩৫৪১ গাজী উদ্দীন--১২২) ৩৫৯, গাজীপুর _৫ ৯৩১ জ্ঞান রুগ্জন ঘটক- ৫৮৯-৫৯০, গ্রাণ্ট ভাফ-_-৯৬, গিরিধর বাহাছুর-_-৬৯১ ৭২১ ৭৪১ ৮৬-৮৭) ৯২-৯৩) গিরিশ চন্দ্র ঘোষ_৪২, ৯৫৫-১৫৯, ১৬৪-১৬৫, ১৬৯-১৪, ১৮২-১৮৩) ২০২) ২১৮, ২২০-২২৯) ২৩০-২৩৮, ২৪১১ ২৪৫-২৪৭) ২৫০, ২৫২, ২৫৮-২৬৪) ২৬২-২৬৫১ ২৬৭১ ২৭২১ ২৭৬১ ২৭৮-২৮০১ ২৮২১ ২৯০১ ২৯৮৪ ৩০০) ৩০৩, ৩০৮১ ৩১২-৩১৩১ ৩১৭১ ৩২২১ ৩২৮-৩২৯১ ৩৬৩-৩৬৭১ ৩৭১-৩৭৪ ৩৭৭১ ৩৮০, ৩৮৪১ ৩৮৬-৬৩৮৭) ৩৯০৪ ৩৯২-৩৯৪১ ৪৯৭১ ৩৯৯১ ,৪০২-৪০৭১ ৪১২-৪১৬, নির্দেশিকা ৬৪৭ ৪১৮-৪২১) ৪২৫-৪২৬১ ৪২৯ ৪৩১-৪৩৫, ৪৪১১ ৪৪৮-৪৪৯,১ ৪৫২-৪৫৩, ৪৫৬-৪৬০১ ৪৭৪১ ৪৮১-৪৮২১ ৫২৩-৫২৪, ৫২৬, ৫৩৬১ ৫৩০১ ৫৪৭১ ৫৬৬, গিরিয়া--৬৪, ১৭৩, ১৭৯-১৮০১ ১৮৩-১৮৪৯ ৩৫৬১ ৩৬৭১ ৪১১১ ৪৫৪, ৪৫৬ ৭৬৮১ ৪৭৪১ ৪৮২১ €৩০-৫৩১১ ৫৩৫১ ৫৫২১ ৫৮০১ গুজরাট-_-৫২, ৮৩-৮৪৯ ৮৭-৮৮) ১০৪১ ৩২৪, ৩৩৯, ৫৯৭৯, গুরগিণ খা ( গ্রেগৰ্রি খা! )--৩৪৯, ৩৫৩, ৩৫৬০৭) ৩৬২-৩৬৩, ৩৩৫ ( খগেন্দ্র নাথ পরকার ), ৩৮১১ ৩৮৪-৩৮৫১ ৩০৮১ ৪০০-৪০১১ ৪০৩১ ৪০৬) ৪০৮-৪১০১ ৪১২-৪১৬১ ৪৩৯১ ৪৪১-৪৪৩১ ৪৪৬-৪9৯১ ৪৫৪-৪৫৫১ ৪৭১ ৪৬০, ৬২, ৪৬৫) ৪৬৮) ৪৭০১ ৪৭৩-৪৭৪১ ৪৭৫১ ৪৭৭-৪৭৮১ ৫৫০, গুরুগোবিন্দ সিংহ-_৬৮১ ৪০২, ৪০৭১ ৬০৫১ ৬১৩, গুরুদর্দাস-- ৪৭২১ ৪৮৭), ৫০২-৫০৩, ৫০৬, ৫১৩-৫১৪) ৫১৮-৫২০) ৫২৯, ৫৩৬১ ৫৪৩, ৫৪৬, ৫৫২১ ৫৫৭-৫৬৩১ ৫৬৬, ৫৬৯ ৫৭০, গুরুদাস চট্টোপাধ্যায়--১৭৭১ ১৮০৪ ১৯১১ ৩৬৪, ৪৩৬, ৫২৩, গুলাম উরাইজ জাফারি--৩৩০১ ৪৩০ ৫৪০, গ্রেহাম সাহেব-_-€০৯-৫১০, গোঁকুল--১০৬১ ১২৫) ১২৭১ ১৩১-১৩২১ ১৪০১ ২০৪৯ ২৫০ গোকুলকৃষ্চ-_-৪৯২, ৫০১ গোঝুলনাথ--১২০, গোপালকষ্ণ - ২৭৫, গোরা--৪০২, গোরিং সাহেব--৫০৯, গোলাম ছোসেন_-২৬৭১ ২৬৯ (রবি রায়), ২৭২১ ২৭৬ ২*৯-২৮০১ ২৮৪*২৮৬) ২৯১) ২৯৫১ ৩৪৮-৩৪৯, গোবধন বন্দ্যোপাধ্যায়--৩৬৫, ' গোবিন্দ পন্থ খেরপরে-_-৮৬, গোবিন্দ বল্লাল বুন্দেলা-_১৩৪/ ১৩৮, গোবিন্দ মিত্র--৫ ৬৯, গোয়ালিয়র_-১০৯, ৬০৭, গৌতমা- ৬৯) ৭১১ ৭৩-৭৪% ৭৬১ ৮০১ ৬৪৮ বাংল! গ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা গৌরুপ্রসাদ--৫৮১) ৫৮৩-৫৮৪১ ৫৮০১ গৌরীবাঈ-_-১৯২-১৯৩। গৌছুর উন-নিসা--১২০, গোৌঁড়-৪৪৩, ৫৩৭, গৌসাইদাস__২২১৯ ২২৩-২২৫১ ২২৭-২২৮, ঘনরাম চক্রবর্তী--৩২৪, ঘসেটি বেগম-__-১৮০১ ১৮৩১ ১৮৬১ ২০০১ ২০২৯ ২০৫, ২১৪ ২২১, (ছোট বেগম ), ২২২১ ২৩৭১ ২৪৩, ২৪৮, ২৫২১ ২৫৪-২৫৫» ২৬৯ (শ্রীমতী নিরুপম ), ২৭০) ২৭৪-২৭৫) ২৮৮, ২৯০১ ৩০১১ ৩০৪১ ৩১৫, ৪৩৪ ( হুরিসুন্দরী, ব্লযাকী ), ৪৩৬, ৪৪০৯ ৪৪৩-৪৪৪, ঘোড়াঘাট--১৫৩, ১৯৬, চট্টগ্রাম--৩৪১১ ৩৪৪১ ৩৫২১ ৩৭০১ ৩৮৪১ ৪৬২১ ৪৯৮১ ৫৬১, চন্দননগর--১৯৭১ ২০৩, ২০৬ ২১৩৯ ২৪৭১ ২৪৯-২৫০) ২৫৫১ ২৫৭১ ২৭৮, ৩৬ ১-৩০৩১ ৩০৩৬১ ৩১২১ ৩৩০১ ৪৯০-৪৯১ ৪৯৬৯ চন্দ্গুপ্ত-_৩৪ (নাটক ), ৪৪, ৪৬, চন্দ্রচুড়_-১৫৬১ ১৫৮১ ১৬৩, ১৬৬ ( রবি বায় )) ন্দ্রশেথর ( উপন্তাস )-_-৩৬১১ ৩৬৩, ৩৯৩, ৪৩১১ ৪৫৬, ৪৫৯১ চন্দ্রসেন যাদব--৭০-৭১১ ৭৩) ৭৫-৭৭১ ৮৫€১ ৯২১ চম্পত্রাও--৯০, চাণকা--৫৯৯, চামরাজ ওয়াদিয়ার--৬০০১ ৬০২১ চার্লস (প্রথম, ইংল্যাণ্ডের রাজ! )--১৮৪ চালস ( চতুর্থ, পোল্যাণ্ডের রাঞজা। )--৪৪, চাদশাহ ফকির--১৫৬, চিক্। দেবরাজ-_-৬০০, চিন কিলিচ খা _নিজাম-উল-মুলুক দেখুন । চিমনজী আগ্ল1--৮০-৮১১ ৮৬৯০১ ৯৩, ১০৯, চীৎপুর--৩৮১+ ৩৯৩১ ৪০৫, চুণী-_-৩৫৬, ৪১৪-৪ ১৫ নির্দেশিক। ৬৪৯ চুণিলাল ( চিকণ )-- ৩৪০১ ৩৪৫, চুড়ামন জাঠ-_-১৯, চুঁচুড়া। ( চঁচড়া )---৩০৪, ৩৩০, ৪৬৯, ৪৬৪, চেম্বার্স সাছেব--২৩৮১ ২৪২, চৈতণ্য চন্দ্রোদয় কৌমুদী-_৩২৪, চৌবিয়াগাছি--১৮৯, ছ ছত্রপতি রাজারাম-_রাজারাম দেখুন-- ছত্রপতি শিবজী--১২১ ৭২১ ৭৮১ ৮০১ ৮২১ ৯১১ ৯৩১ ১০০-১০২১ ১১৬) ২০১১ ৪০২১ ৪০৭১ ৪৫৮) ছত্রপতি সাহু-__মহারাজ সাহু দেখুন ছব্রশাল--৭৫, ৭৮, জগচ্চন্র-_-৫২৯, ৫৩২, ৫৩৮) ৫৪৩১ ৫৪৬, জগৎশেঠ--১৪৭১ ১৫৪, ১৭৪, ১৭৭-১৮৩১ ১৮৫১ ১৮৮১ ২০২ ২০৪ ২৯৭, ২১৩-২১৫১ ২২২-২২৭১ ২৩৪১ ২৩৮-২৩৯১ ২৪১-২৪২১ ২৪৬-২৪৮% ২৫১5 ২৬৭, ২৭১) ২৭৩, ২৭৬-২৭৭, ২৭৯, ২৯৪১ ২৯৮-৩০৩১ ৩২২, ৩৩৮-৩৩৯, রি ৩৫৬-৩৫৭, ৩৬৩, ৩৬৯, ৩৭৫-৩৭৬১ ৩৮১-৩৮৩, ৩৯৪-৩৯৫১ ৪০১১ ৪০৬-৪০৮, ৪১০, ৪১৩-৪১৫) ৪৪৫১ ৪৪৮১ ৪৫৭১ ৪৫৯-৪৬০+ 9৬২ ৪৬৪ ৪৬৮, ৪৭১-৪৭২ ৪৭৬-৪৭৭১ ৪৯৮, ৫৩৭) ৫৪২, ৫৫০-৫৫৫১ ৫৮০৯ ৫৮৫১ ৫৯০১ জজৌ-_ ১, ১৩১ ১৭) ৪৯) ১৪৭, ১৫২১ ১৭৬, ২৬৮) * জঙ্জিয়। ৪৪১ জনারন--৮১, * জন ফস্টাঁর-_২৭১, জনাব বদরুদ্দিন তায়েবজী-_ ৪৭৩, জনস্টোন সাছেব--৩৪৪, ৩৮১, ৪৯৭, জন সঈ,য়ার্ট--৫১৯, জরুল গ্রাম-_-€২৭, ০ বাংলা এঁতিহাসিক নাটক সমালেচনা জলন্ধর--৫২, জবাহির জাঠ_-৯৮) ১১৭-১১৯) ১২১১ ১২৪১৯ ১২৮-১২৯১ ১৩৩-১৩৪) জবাহির সিং_-২৫১) ১১৭১ ১২৮১ ১৩৪-১৩৫) ১৪১-১৪৩১ ৩৫৯, জহরু1---২৩২, ২৩৭১ ২৩৯) ২৪৩, ২৪৫) ২৪৮) ২৫২-২৫৫) ২৫৮-২৬০) ২৬৩, ২৬৭) ৩১২১ ৪৩৪, ( কুহ্থমকুমারী ) কহরুলাল নেহেরু _-১৪২) ১৪৩, জয়্তী-__-১৫৬, ১৫৮, ১৬৩, ১৬৫১ ১৬৬ (মুকুল জ্যোতি )» ১৬৭-১৬৯, জয়াপ্ল।--১১১ জয়পুর-_ ৭৬১ ৮৮-৮৯ ১০৪১ ১৪০, জষ়সিংহ__-৫৮) জাকারিয়া খান--€৫২১ ৫৮, জানকোজী সিন্বিয়া_-১০৮-১১০১ ১৩৭-১৩৮১ জাফর আলি খা__মীরজাফর দেখুন জাফর জঙ্গ_-১১৭, জাভা-- ২১৩, জাভজী দাভাদে_-৮৮, জামুর্সিন_- ৬০১, জারিয়া_-১৯৫, ১৯৯১ ২৯২) জালিম মিংহ__১৮৩-১৮৪১ জালাপাবাদ-_৫০-৫১, জালিয়ান ওয়'লাবাগ--৪১, জাহাজশীর নগর-_ ১৫৩, জাহান খ।--৩, ৫১ ১০৬১ ১২৪, ১৩৯) জাঞান্দার শাহ ( মৈজুদ্দিন )--১*৯১ ১১১৪১ ১৭-৩০ ১১ ১৪৮১-১৫২) ৩২৭১ ৩৩১১ জাহানার! বেগম_--২৩৫, (জাহান শাহ--২৯ ১২, জাল] সাহেব--১৯৭, ২০৩-২০৪% ২১৪১ ২১৫, ২৩৬, ২৪০১ ২৪২১ ২৪৭- ২৪০১ ২৫৭) ২৭৪, ২৭৬১ ২৭৮৪ ২৯২-২৯৩১ ২৯৬১ ২৯৯১ ৩০৪৫/ ৩০৯১ ৩১৭, নির্দেশিক। ৬৫১ ৩১৯) ৩২২১ ৩৪৬১ ৪৯০১ ৫৫২১ জিজাবাঈ--৮০, জিন্ুতউন্লিসা বেগম--৪১ ৫ ( রেবাদেবী ), ৬, ১০-১৫১ ১৮১ ২৫-২৬, ২৮১ ৩০১ ৮৭, ৯১১ ১৭৭ ২৩৫১ ৪৪২-৪৪৩১ ৪৪৭-৪৪৮, জীবন গাঙ্গুলী _-৩৪, জুলফিকর থা ৫ ( মুরারী ভাছুড়ী 1) ১৭ ২65 ২২১৩৭53৮8৩5 জেনিংস_-৩৫৭, জেবউন্লিসা বেগম পমরু দেখুন । জেবুন্সিসা বেগম-_-২৩৫, জেমন্‌ ওয়েষ্টল্যাণ্ড-_ ১৬২, জেমস স্টিফেন__৫১৫, ৫২৫, জৈম্তন্দিন আহম্মদ খা--১৭৭ ১৮৪১, ১৮৬১ ১৯৫১ ১৯৮, ৩১৪০ ৫১০১ জোনস্‌_-৩৬৫ (ব্রজেন্দরনাথ চক্রবর্তী ), জোসেফ ফাউক--৫৫৮, না ঝান্সীর বাণী (নাটক )--৬১৪, ঝশাসী--৩৩৭১ ৬০৭, বাসীর রাণী (নাটক )--৬১৪, বঁীসীর রাণী লক্ষ্ীবাঈ ( নাটক )--৬১৪, ঝিন্দন কাউর-__-৬১৪, টাটহ1-_২, ট্রাত্রিজ-_৪8৪, টিপু স্থলতান__-৩৩৭ (নাটক ), ৫৯৮, ৬০২-৬০৫১ ৬০৮-৬১০১ টিলসিট--৬১২, টুকোজী পাঁওয়ার_-৭৮, ১০৪, টুকোজী সিন্ধিয়া-_-১৩৭, টোপাঁল ওসমান-_ ৪৪, ৬৫২ বাংলা প্রতিহভাসিক নাটক সমালোচন৷ ট্যাভেরনিয়র--৩২৬, ডায়মগুহারবার-- ৩০৩১ ভিগ্ডিগুলজেলা-__ ৬০১, ডুপ্লে--৩২৫, ডুমা--৩২৫, ডুরাণ্ড--৪৩৫১ ৬৪১ ডেনমার্ক__৩২২ ( দিনেমার দেখুন ), ড্রেক ২৩০৮১ ঢাক।--১৪৭) ১৭৭-১৭৮১ ১৮৩১ ২০৬১ ২৬১১ ২৭১১ ৩০৪) ৩১৪-৩১৫) ৩১৮১ ৩২৫১ ৩৩০-৩৩১, ৩৫২১ ৪৪৮, ৪৯০১ ৫২৯১ ৫৫৩, ৫৫৯, ৫৬২, |] তকি খা--১৭৭) ৩৫৪-৩৫৫১ ৩৬২১ ৩৬৫ ( নগেকনাথ ঘোষ ), ৩৭০১ ৩৮১১ ৩৮৩) ৩৯৯১ ৭০১ ৪০৩, ৪০৭, ৪১০৯ ৪৩৬১ ৪৩৯-৪৯১১ ৪৪৬-৪৪৭) 8৫৪) ৪৫৬১ ৪৬৩, ৬৮১ ৫৫৪, তথৎ-এ-তাউস (নাটক )--৩-৪১ ৮-৯১ ১১-১২১ ১৪১ ১৬) ১৯) ২১-২৩) ২৭) ২৯-৩০, তপনমোহন চট্টোপাধ্যায়__৪২১১ ৪৮৮) তমলুক ৪৬১৩) তানোজী-_ ১৯২, তান্তিয়া তোপী-_-৬০৭, তাস্তিয়া ভীল (নাটক )--৬১৪, তারক মুখধোপাধ্যায়_-২০২, তারিখ-ই-বাংল1--১৫৩, তারিখ-ই-মনন্রী-_৩৪৯, ৩৯০, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়-_ ৯৬, ৯৮-৯৯) ১৩৫১ ১৪৪১ ৩২৯১ তাবরাবাঈ-__৮০১ ৯১১ ১১২১ ২৩৭১ তাব্রান্থন্দরী (অভিনেত্রী )--৫৯৪, তার। সুন্দরী (রাণী ভবানীর কন্তা )--২২১১ ২৩৭, ৩৬৫ (তিনকড়ি), ৩৭৪-৩৭৫১ ৩৮৩, ৩৯০-৩৯৬১) ৪০১১ ৪০৭-৪০৯১ ১১১১ ১১৬, ৪২£-৪২৫) ৫৮১- ৫৮২১ ৫৮৭-৫০৮) ৫৯১) তাহামাস-_ ৩৭, তিবেণী--৫৩০-৫৩২১ ৫৩৪, তুর্কতাজ খা -৮৫, তুকীস্থান--৩৯, তুরুস্ক-_-৪১১ ৪৩-৪৪, তেগ বাহাছুর__- ২৪৪ ২৭৬, ৬১৩, তৈমুর লং--৪৭/ ৫২, তৈমুর শাহ_-১০৭, তোরাব আলি গ।--৫৮২, থানেশ্বর--৫৬১/১০ ৯৯ দূ দত্তাজী সিন্ধিয়া_১০৮-১০৯, ১১৩, ১৩০০১৩১১১৪০, দ্লিপ সিংহ-_৬০০১ ৬১৩, দয়ানগর-__- ২৮৮১ দয়ানন্দ দেবাংশি__২৮৮-২৮৯, দয়] রাম বায়__-১৫২-১৫৩১ ১৬৩) ১৮৫১ ৩৩০১ ৪৭৭-৫৮১) ৫৮৫) ৫৮৭, দয়া বাহাদুর-_৮৬, 'দ্বাউদপুর-__৩০৬, দাক্ষিণাত্য ৬০৩, দ্ানীবাবু_স্থরেন্দ্রনাথ ঘোষ দেখুন-_ দানসা ফকির--২৩৩ ( অর্দেন্দুশেখর মুস্তফী ), ২৩৭ ২৩৯ ২৫৫১ ২৯০ ৪৩৪ (নৃপেন্দ্রচন্দ্র বনু ), ৬৫৪ বাংল এ্রতিহা সিক নাটক সম!লোচন! দাভলজশী সোমবংশী--৮৬, দামান্কাস_-৩৮, ৬৩, দারাববক্স--৫৭, দারাল্কো--১১১ ১৯১ ৪৯১ ৭৯১ ১১৮৪ দ্রিখ্বিজয়ী (নাটক )--৩৩-৩৪১ ৪৫-৪৬১ ৪৮১ ৫৮-৬০১ ৬৩-৬৪, দনাজপুর__-২৯৬১ ৫৬১, দিনেমার--২৯২-২৯৩, দিল্ল-.১-৩১ ৬-৭৯ ৯, ১১১ ১৩-১৫১ ১৭১ ১৯১ ২১-২২১ ২৪-২৫১ ২৮-২৯১ ৩৩) ৩৬-৪১১ ৪৮-৪৯১ ৫৩১ ৫৫-৬২১ ৬৪১ ৬৭১ 98১ 9৬১ ৮৩, ৮৭১ ৮৯-৯১ ৯৬, ৯৯-১০২১ ১০৪-১০৭১ ১০৯-১১৫১ ১১৭-১১৮১ ১২১-১২৩১ ১২৫-১২৬১ ১২৬, ১৩১১ ১৩৫১ ১৩৮-১৪১১ ১৪৮১ ১৫০১ ১৫৩-১৫ ৪১ ১৭৫-১৯০১ ১৯৫১ ২০৩, ২০৬, ২১৫) ২৩৮, ২৪১১ ২৬২১ ২৭৭১ ৩৩৮:৩৩৯১ ৩৪২১ ৩৪৬১ ৩৫৯১ ৩৮২১ ৩৮৮১ ৪১১, ৪১৯, ৪২৩, ৪২৫, ৪২৭, ৪৩০৯ ৪৪১, ৪৬১৯ ৪৭৮-৪৭৯১ ৪৯৭১ ৫৪৫) ৫৫৭) ৫৬১) ৫৫৯, ৫৯২১ ৬০৪১ দ্বিজেন্্রলাল রায়__-৪৯, ১৬২, দীনবন্ধু মিত্র--২১৭, ছুর্গা্দাস লাহিড়ী-_৫৭৬১ ৫৮৯-৫৯০ ছুর্গা ( বিগ্রহ )--৫৮৭, দুরগেশনন্দিনী ( উপন্তাস )--১৫৯, হুলাল ব্লায়--৫১৯, দেবকণ প্রসাদ--৫৯০, দেবীপ্রসাদ রায়--১৮৫১ ৫&৭৮-৫৮০১ ৫৮৮০ ৫৯০১ দেবী সিং__-৫০৭, দৌলতে ছুনিয়া (নাটক )--৪৪০, ধ ধর্মমঙ্গল-_ ৩২৪, নন নওনিহাল সিংহ-_-€৯৯-৬০০, ৬০৭১ ৬১১৯ ৬১৩১৬১৪৯ নকস্‌-_৩৫৭, ৪২১-৪২২, নির্দেশিকা ৬৫৫ নঙ্ঞাফ খা-_-৩৬০ ৪৬০ (ভূপেন চক্রবতী ), ৪৬১) ৪৬৮১ ৪৭৩-৪৭৪১ ৪৭৮১ ৪৮০ নন্দকুমার_-২৪৯১ ২৫১১ ২৮২১ ৩০১» ৩০৩-৩০৪, ৩০৭, ৩১৯, ৩২২, ৩৩৭, ৩৩৯- ৩৪০, ৩৪৭-৩৪৮, ৩৬৫ (সাতকড়ি গঙ্গোপাধ্যায় ), ৩৬৮১-৩৮৩, ৩৮৭১ ৩৯৩-৩৯৬১ ৩৯৯১ ৪০৪/ ৪১৯১ ৪২২১ ৪২৬-৪২৮১ ৪৩৩৪ 8৪৪১১ ৪১৪-৪৪৫১ ৪৫৩) ৪৩৫-৪৬৩৭, ৪৭১-৪৭২, ৪৭৫, ৪৭৭) ৪৮৭-৫৪৮) ৫৫০-৫৬০১ €৬২ ৫৭১ ৫৮৫৯ নন্দকুমার (নাটক)-__£২৩, ৫২৬) ৫৪১১ ৫9৭, নন্দকুমাবের ফাসী (নাটক )--৫২৩, নন্দহুলাল-__-৫ ১০, নদীয়।_-৩০৪, ৩০৬১, ৩২৪, ৩৩১, ৩৯৫-৩৯৬, ৪১৩১ ৪৯৮১ ৫০৪১ ৫৩৭, ৫৪৬১ ৫৮৬) নরেন্বকৃষ্চ সিংহ-_২৬৬, ৪২১) নরেন্দগিরি ১১৬, ১২৪১ ১২৭, নরিন্দর গিরি গোন্বামী--১১৫১ ১২৪১ ১২৬) ১২৮-১২৯১ ১৩৪-১৩৬১ ১৪১- ১৪২, নবেশ চন্দ মিত্র--৩৪১ ৪৬%, নওয়াজেস আহমদ খা--১৭৬, ১৭৭ ১৮৩-১৮৪১ ১৮৬ নওয়াজেস মহম্মদ _নওয়াজেন আহমদ খ| দেখুন । নবকুষ্ণজদেব--৩৩১১ ৪৯২) ৪৯৮-৫০১১ ৫১৬১ ৫৩৮) ৫৪০, ৫৫৯১ ৫৬৩-৫৩৬৫) ৫৬৭-৫৬৮) ৫৭০) নবদ্বীপ _২১৫১ নবীন চন্দ্র সেন--১৭৪, ২০১১, ২০৬-২০৯% ২১৩-২১৪, ২১৬-২২০, ২২৫- ২২৬৯ ২৩০১ ২৩২, ২৬৭১ ৩০১১ ৩০৩১ ৩০৭১ ৩১১-৩১২১ ৩১৬১ ৩২৮১ ৩৬৬) নবাবী যুগে বাংলা_-১৮১, , নবাব সেরাজদ্দৌল্স। (নাটক )--২০১, ২১৯-২২০১ ২২৬, ২৩০, নসরুল্ল--১২০১ ১৩১ নসীবনউন্লিসা--১১৯-১২৪, ১২৬, ১২৮-১৩১) ১৩২-১৩৫১ ১৩৭১ ৯৪১, ১৪৩, নহবৎ খা-_৪৫০, ৬৫৬ বাংল! প্রতিহাপসিক নাটক সষালোচন! নহবৎ বায়_-৪8৪৫০, নাঁগপুর-_-১৯০, ১৯৩, নাজিবউন্দৌোল1--১৩৯, ৩৬৯, নাজিব খান-_-৯৯, ১০৭, ১০৯১ ১২৪১ ১২৬, ১২৯, ১৩৫-১৩৭) নাজিমুদ্দিন__৫ ৫৯, নাজামান্দোল।-_ ৩৭৩) ৩৮২, ৪০১১ ৪০৬, ৪৯৪) 2৮:785588 ৪৬০ (সিধু গুলী ), ৪৬৭১ ৪৩৯-৪৭০১ ৪৭৭১ ৪৯৮১ ৫৩২১ ৫৩৯-৫৪০১ ৫৫৬১ নার দালাল--২৬৩, নাটোর--১৮৫, ৩৯৬১ ৫৭৬, ৫৭৮-৫৮৪১ ৫৮৮-৫ ৯০, নাদির কুলি বা নদর কুলি--৪২, নাদ্দির শাহ_-২৬১ ৩৩-৬৫১ ৯০১ ৯২১ ৯৪১ ১০৩১ ১১৭১ ১২০১ ১৭৮-১৭৯, ৩২৭-৩২৮) নাদির শাহ বা শয়তানের শ্বপ্র (নাটক )__-৩৩-৩৪৯ ৩৬, নান] ফাডনীশ--১৩৮১ ৫৯৯১ ৬০২) ৬০৯-৬১০) নানাসাহেব (বাজীরাও-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র )--৮০-৮১ নানাসাহেব_( বিদ্রোহী নেতা ) ৬০৭ নারাশহ্কর ৭৮১ ৮৬১ ১১৩১ ১৩৪৯, নারায়ণ রাঁও--৬০২, নাসির-উল-মুলুক__ ৩৪০১ ৩৪২৯ ৪৪১১ নাসির খা-৫১, নাসির জঙ্গ_৮১১ ৯০, ৬০১ নাসিরুল্পা_ ৫০১ ৫৭ নিখিল নাথ রায় _-১৮০-১৮৩১ ১৯৫৯ ২৩৪-২৩৬) ২৬১১ ৩১২-৩১৩১ ৩৯3 নিজাম-উল-মুলুক--৬, ২৫১ ৫৩, ৫? ৬৭) ৭১৭২১ ৭৪) ৭৬১ ৮১১ ৮₹-৮৪১ ৮৭১ ৯০১ ৯২১ ৯৯, ৬০০-৬০১১ ৬০৩-৬০৪১ ৬০৯১ নির্মলেন্দু লাহিড়ী (বাণী বিনোদ )-৩৪, ২৬৯১ £ «নির্বাপিত দীপ (নাটক )--৬১৪, নিশিকাস্ত বন্ুরায়__-৩৪, ১৯০১ ১৯৩, ২৬৭১ নিয়ামত খা€৫ (মণি শ্রামানী ), ৬, ১৫) ১৭, নির্দেশিকা ৫৫৭ নীলদর্পনম্‌ নাটকম্--২১৭-২ ৮, ৩২৮, নূরজাহান--৬, ৯১ ১৫ ৫৩৪, নৃরবাঈ__-৩৭, ৫৭, নেপাল-- ৩৫৩, ৩৬০) ৩৯০) পঞ্ডিচারী--৩৪৫, ৪৯৬, পশ্চিমবজ--১৮৮, পরিণীতা ( নাটক )--৪৬৯, পলতা _-২৪৫১ ৩০৩, পলাশী-_-১৭৪, ১৮৬, ১৯৭, ২০১-২০২১ ২০৪-২০৬১ ২০৯-২১২, ২১৫-২১৮১ ২২০১ ২২৪১ ২২৬-২২৭১ ২২৯-২৩০, ২৩৬১ ২৪০) ২৪৭১ ২৫১, ২৫৩১ ২৫৫-২৫৯, ২৬৬-২৬৭১ ১৯৭৮-২৮০১) ২৮২১ ২৮৮১ ২৯০-২৯১) ২৯৫-২৯৬ ২৯৮-৩০০) ৩০৩, ৩০৫-৩১১, ৩২২১ ৩২৪, ৩২৯-৩৩০১ ৩৩৮১ ৩৭৮১ ৩৮৩১ ৪৩৩-৪ ৩৭১ ৪৪১, ৪৪৩৪ ৪৪৭, ৪৬৫, ৪৭১) ৪৭৫১ ৪৮৭-৪৮৮১ ৪৯১-৪৯২১ ৪৯৮১ ৫২০, ৫৫০) ৫৬০, ৫৯০ পলাশী (নাটক )-_-২০২; ২৮৩, ২৯১১ পলাগীর প্রায়শ্চিত্ত (নাটক )--৩৬৩-৩১৪, ৩৯৩, ৪৩১ ৪৩৩, ৪৩৫ ৯১৩৬, ৪৪০, ৪৫৭) ৪৬৫) ৫৪১, পলাণীর যুদ্ধ (নাটক )- ২০১, ২০৬, ২১৩, ২১৭-২১৯১ ২২৬-২২৭/ ৩০৬- ৩০৮১ ৩১৬, পাকিস্থান--১৪২, ৩০০, ,পাঞ্জাব--২০, ২৫-২৬, ৫২,» ১০৭-১০৮, ১১০-১১১% ১১৪ ১৩২-১৩৩, 82 ৩৩৭, ৫৭৯-৬০৬, , পাঞ্জাব ফেশরী রণজিৎ সিংহ__( নাটক ) ৫৯৮, ৬১০, পাটনা--৯-১০১ ২৮১ ১৭৭) ১৮৪১ ১৮৬১ ১৯৬ ১৯৮-১৯৭১ ২০৪5 ২২২৯ ২২৭-২২৮) ২৩৬, ২৬৯১ ২৭১১ ২৮০১ ২৯২১ ২৯৫-২৯৬/; ৩০৫১ ৩০৯১ ৩১৪, ৩৩৯১ ৩৪৩১ ৩৪৪, ৩৪৬-৩৪৮, ৩৫০১ ৩৫২১ ৩৫৪-৩৫৮ ৩৬৭১ ৩৮২-৩০৮৫১ ৩৮৭- ৩৮৮) ৩৯৩১ ৩৯৭-৪০১/ ৪০৩-৪০৪% ৪১৩-৪১৪১ ৪১৬-৪১৭) ৪২১-৪২২) ৪২৫ ৬৫৮ বাংল! এঁতিহাসিক নাটক সমালোচন। ৪২৭১ ৪৩৮, 8৪১১ ৪৫০ ৪৫২১ ৪৫৫-৪৫৭১ ৪৬৩-৪৬৫, ৪৭৭, ৪৮৮১ ৪৯৫) ৫৫৩, পাঁণিপথ_-৯৬-৯৯, ১০৫-১০৬, ১১০-১১৪, ১১৯, ১৩৪-১৪৪, ২১৯, ৩৩০, ৩৪৪১ ৩৯৭১ ৫৯৯, পার লং-_-২*৬-২৭৭) পারস্য-_ ৩৩, ৩৬১ ৪০১ ৪২-৪৪% ৪৯, ৫২১ ৫৪১ ৫৬১ ৫৮-৬০) ৬২১ ১১৭১ ১২০১ ১২৫৯ ১৩০, ১৪০, ৩৪২১ ৫৫৬১ ৫৬১১ পালখেদ--৮৫, পাবনা--১৫১, পার্বতী বাঈ-_-১৩৮, পিলাঙ্জী গাইকোয়াড--৮৮১ ৯৩, পিলাজী যাদদব-+*৮, ৮৬১ ৮৮, ৯৩, ১৩৭, পুনা- ৮৮, ১০৫-১০৭) পুরন্দর-_-২৭২, ২৮৪৯ ২৮৬, পৃিয়া--১৮৪, ১৯৬, ২০৩, ২০৬, ২৩৭) ২৭৮, ২৯০, ২৯৪-২৯৫, ২৯৭) ৩৪৩, ৪৩৬, ৪৪১) গ্লেডেল-_ ৫১৯, পেশোয়া_-৫২১ ৭৪-৭৬, ৯০১ ৯২০ ৯৮১ ১০৫১ ১০৮১ ১১০-১১১১ ১২০-১২১) ১২৫,১২৮, ১৩০-১৩১, ১৪১, ১৪৩১ ৬০৬, পেশোয়া বাজীরাও-_বাজীরাও দেখুন। পেশোয়া বালাজী বাজীরাও-_বালাজীরাও দ্রেখুন। পৈথান--১৩৮, পোল্যাও--৪৩-৪৪ প্রতাপ সিংহ-_- ৪৬, ৪৯, ২০১, ৪০২, ৪০৭, প্রতাপাদ্দিত্য ( নাটক )--২০১, ৪৪০, প্রতুরাম--€৫০৯, প্রমথনাথ রায় চৌধুরী--১৫৯-১৬০, ১৬২, প্রমদ1-__-৫২৮, € ৩৯, প্রবোধ চন্দ্র গুহ__- ২৬৯, গ্রয়াগ--৮৮/ ১১৫, ১২৬১ নির্দেশিকা! ৫৫৯ প্রেমাস্কুর আতর্থী__-৩ ফককরকোপ্ডি (রংপুর )--১৭৭ ফক্কিরাম-_-৩২৪ ফকির শাহফানা--শাহফান! দেখুন । ফতেটাদ--১৭৪১ ১৮০ ফতিমা বিবি--২২১-২২২১ ৩৭০, ৪৬০ ( নীহারবাঁল] )১ ৪৭৮ ফতে সিং_-৮৫১ ৪৬৫ ফরাকাবাদ--১৩৬,১ ৩৬৯ ফরুকনগর--১৩৭ ফরিদাবাদ--১০৬, ২৫০ ফরাসডাঙা--৩২৫১ ৩৩৯ ফলতা1-_-২৪৫ ফারুকপসিয়র-_ ৪-৫,১ ৯-১০, ১৬১ ১৮-২৫১ ২৯-৩০ ১৫৩ ফারার ৫২১১ ৫৪৫, ৫৬৯ ফ ফিলিপ উডরাফ সাহেব--৫০১ ফিলিপ ফ্রান্সিন_-€০৫১ €০৭, ৫১২-৫১৪ ৫১৮, ৫২২৯ €৪১-৫৪৪১৫৬৭ ৫৭০-৫৭১ ফীলিং_-২৬২ ফুলওয়ারি_-৩৫৭ ফুলারউন-__-৩৫৬, ৩৬৫ ( মন্মথনাথ পাল ), ৪১০১ ৪১৩% ৪১৯১ ৪২৪ ৪৩০১ ৪৫৭ কৈজী--১৯৪-১৯৫) ১৯৮৪ ২৩৬, ২৩৯, ২৫৯-২৬০% ২৭২ ৩০৬ ৩১৩, ৪৩৬-৪৩৭১ ৪৪১ ফোর্থ_ ২৭৬ বকথম আলি খা--১৫২ ৫৬০ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা বকরুল্লা-- ১৩৭৯ বক্সার_-৯৯, ২৬৭১ ৩৫৮১ ৩৬১১ ৩৬৭১ ৩৮৬১ ৪১১১ ৪২১১ ৪২৩-৪২৯১ ৪৫৬ ৪৫৭) ৪৭১) ৪৭৮) ৪৮২১ ৪৮৭-৪৮৮১ ৪৯৭ ৫৯২-৫৯৪ বখতাওর খ। (বক্তার খ| )--১৬১ বর্গী হাঙ্গামা__ ২২৯, ২৬৬, ২৬৯১ ২৮৩-২৮৪১ ২৮৭১ ২৯৭-২৪৮১ ৩০৩-৩০৪, ৩১৬১ ৩৪৩১ ৩৯৭১ ৪৩২, ৫৪০-৫৪১ বহ্কিমচন্ত্র চট্টোপাধ্যায়_-৭৩, ১৭৯, ১৫৪-১৫৫, ১৫৮-১৬৩, ১৬৫-১৭০ ২১৭-২১৯১ ৩২৯১ ৩৬১-৩৬১৪, ৩৭৬, ৩৯৩, ৪০২৯ ৪১২১ ৪৩১১ ৪৫৬, ৪৫৯ বঙ্কিমচন্ত্র দাশগুধ-_-২০২১ ৩১১ বঙ্গদর্শন (নাটক )- ২১৮ বঙ্গেবগা ( নাটক )--১৯০-১৯১১ ১৯৩১ ২৮৬১ ২৯৭-২৯৮ বর্ধধান--১৫৩, ১৮৭, ১৯১, ২৭০) ৩০৪, ৩০৬১ ৩৪১৯ ৩৪৪৯ ৩৭০ ৩৮3৪ ৩৮৬, ৪৬২১ ৪৯১১ ৪৯৩, ৫১১ বরদাপ্রসম দাসগুপ্ত-৩৩, ৩৫১ ৪২, ৪৭১ ৬০-৬১, ৬৫ বরারী ঘাট ১৩০ বরোদা--৮৮, ৯৩ বলরাম দাস-_-৩২৪ বলবস্ত সিংহ__৪৩০, ৪৯৭ ৭৯৯৯ ৫৩৮-৫৪০ বস্থমতী সাহিত্য মন্দির-_ ১৬৪ বহরমপুর--৭৪১ ০৫, ৯০ বড়নগর--৩৭৪৯ ৪৩৮, ৫৮৬-৫৮৭ বাগদ্দাদ-_-৬৩ বাজী ভিবরাঁও রেতরেকার-_ভিবব্াীও রেতরেকার দেখুন । বাজীরাও--৫৮১ ৬৭-৬৮, ৬৯৯০১ ৯৩-৯৪, ৯৭১ ১০০-১০২১ ১০৮১ ১১২৭ ১১৩১ ১১৭, ১২০-১২১১ ১২৫১ ১৩১১ ১৩৭, ২৭৩১ ৩১৬৯ ৩২৭৪ ৩৩০-৩৩১ | বাদশাহ শাহ-মালম-_বাহাছুর শাহ দেখুন। বান্দা বাহাদূর-__২৫ বাপুরেব--৫২৭, ৫৩০ ৫৩৩, €৩৯ নির্দেশিকা ৫৬১ বারওয়েল--৪৮৯-৪৯০১ ৫০৫১ ৫০৮ ৫৩৪১ ৫৩৬-৫৩৭ €৪১-৫৪২) ৫৬? বারাণসী-_-৮৮, ৪৩০১ ৫৮৬১ ৫৯৩ বাল গঙ্গাধর তিলক--_২৩১ বালাজী বাজীরাও-_বালাজীরাও দেখুন | বালাজীরাও (বালাজী )--৬৭, ৮৮) ৯২, ৯৬-৯৭, ১০৮১ ১১১-১১২৯ ১১৪, ১২৩-১২৪১ ১২৭-১২৮১ ১৩১-১৩২১ ১৩৪১ ১৩৭-১৩৮১ ১৪১-১৪২৯ ১৮৯-১৯৩) ৩৩১১ ৬০১ বালাজশ বিশ্বনাথ_ ২৬, ৮২১ ৯২ বাবু মহীরটাদ-_৪১৪ বাবুবাও মলহর-_- ৫৫ বাবরশাহ__ ১২ বাহাদুর আলি খা_২৬৩, ২৯৫ বাহারবন্দ পরুগণা-_-২০৩, ২৯৪৯ ২৯৬ ৫৫৭) ৫৫৯-৫৬১ বাহাতুর শাহ ( শেষ বাদশাহ )--৬০৭ বাহাতুর শাহ-শাহ আলম-_-শাহ আলম দেখুন। বাংলা-২৬১ ২৯১ ৬৭৬৮১ ৯৪১ ১০৪-১5৫১ ১২৫১ ১৪৭-১৫১১ ১৫৩-১৫৪, ১৬৫) ১৭৩-১৭৫১ ১৭৭-১৭৮১ ১৮২-১৮৩১ ১৮৫১ ১৮৭১১৮৯১৯২১ ১৯৪১ ১৯৬) ২০০-২০২১ ২০৬-২০৭১ ২২৯-২৩০১ ২৩২১ ২৩৫-২৩৬১ ২৪০১ ২৪৩, ২৪৭১৪২৪৯- ২৫০) ২৫২১ ২৬৪-২৬৫, ২৬৭১ ২৬৯, ২৭০-২৭১% ২৭৭-২৭৮৪ ২৯১-২৭৯২১ ২৯৮- ৩০৯, ৩১১১ ৩১৬-৩১৭১ ৩২১-৩২২৪ ৩২৫-৩২৭১ ৩২৯-৩৩১১ ৩৩৪-৩৩৯৪ ৩৪ ১১ ঠ ৩৪৭, ৩৫৬-৩৫৭১ ৩৬০-৩৬১৯ ৩৬৩, ৩৭২১ ৩৭৬৯ ৩৮৫-৩৮৬১ ৩৮৮১ ৩৯৫১ ৩৯৭, ৪২২ ৪২৪-৪২৬১ ৪২৯১ ৪৩১-৪৩২১ ৪৪৭, ৪৬১, ৪৬৩, ৪৬৬-৪৬৯১ ৪৭১-৪৭২, ৪৭৫) ৪৭৯-৪৮০) ৪৮৭১ ৪৯১১ ৪৯৬, ৫২০১ ৫৩২-৫৩৩১ ৫৩৫১ ৫৩৮-৫৪২৯ ৫৫১ ৫৫৩) ৫৫৬-৫৫৯, ৫৬১১ ৫৭১১ ৫৭৬-৫৭৭) ৫৮৩, ৫৮৬-৫৮৭, ৫৮৯১ ৫৯১-৫৯৩, ৫ ৯৮-৫৯৯5 ৬১০ বাংলার মসনদ (নাটক )--১৮০-১৮৪১ ২৯০ ৪৩৪৯ ৪৪ বাংলার বেগম ( নাটক )__-৩১৩ বিষুপুর--১৫৩, ৩২৪ বিষুরাম--১৮৫১ ৫৭৮, ৫৮৮ ৫৬২ বাংল! এরতিহাসিক নাটক সমালোচন! বিধায়ক ভট্ট চার্য-_৬১৪ বিনোদ্দিনী_-২১৮ বিপিন চন্দ্র পাল-_-৬২ ২৩১ বিপিন বিহারী নন্দী--৫৯৮ বিশ্বনাথ ভাছুড়ী-_-৩৪ বিশ্বাস রাও_-১১০, ১৩০১ ১৩৩-১৩৪১ ১৩৭ ১৪০-১৪১৯ ১৪৩ বিহার--২, ২৬, ১০৪১ ১৪৭-১৪৮১ ১৫৩১ ১৭৫১ ১৭৮-১৭৯১ ১৮২১ ১৮৭, ১৯০১ ১৯৮১ ২৪৩, ২৪৭১ ২৭০১ ৩৪২-৩৪৩, ৩৪৬১ ৩৪৯-৩৫০১ ৩৮৬-৩৯০১ ৪১৯৩, ৪২২১ ৪১৪, ৪২৯-৪৩০) ৪৩৬-৪৬১১ ৪৬৩১ ৪৬৬-৪৬৮১ ৪৭১১ ৪৭৯, ৪৮৩, ৪৯১ €৩৩১ ৫৩৫১ ৫৫১১ ৫৬১১ ৫৯২ বিহারীলাল চট্টোপাধ্যায়-_-১৫৫, ১৬৯ বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ওদ্র--১২১১ ১৬৬ বীরভূম__-১৫৩, ১৮৭১ ৩০৫, ৩৪৫) ৩০৮৬, ৫৩৯, ৫৮০ বুন্দেলথও--৭৫১ ৭৮১ ৮৭-৮৮ বুরহানপুর--৭৪, ৮৫১ ৯০ বুলাকীদাস--৫৩০-৫৩১১, ৫৩৩১ ৫৩৭১ ৫৪৪, ৫৫১, ৫৫৮, ৫৬৪-৫৬৫ বুলবুল- ৩৯১ ৪৫ কেওয়াথানা-- ২৯ বেগম জনসন-__বেগম সমরু দেখুন । বেগম সমরু--২০২১ ২৪২৯ ৩৪৯ বেগম (স্থশীলা )--৩৪, ৩৬৫ বেণী বাহাছুর-_-৩৫৮, ৪২৬ বেণারস-__বারাণসী দেখুন । বেস্থাম__-৬৩১ ২৭৬ বেভারিজ সাহেব_-৩১৩, ৫২৫, ৫৪৬, ৫৪৮১ ৫৬৯ বেরিলি__১০৫ ব্রেচিনডেন সাহেব-_৪*€ খেলারি জেলা__-৬০২ বেরার--৮৬, ৯৩ নির্দেশিক। ৫৬৩ বৈকুষ্ঠপু --৩৪৩ (বাপ্টস্‌__৫ ৪৮ বাাটসন সাহেব--৩ ৫১ ৩৬৫৯ ৩৯৯১ ৪০৩-৪০৭১ ৫৫৪) ৫৮২ এনমোজ্--৭২-৭৩১ ৭৭ বভরকিশোর--৫০৯ এ্রজেন্জমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫৫ ৩১৩ ওকেব্্নাথ শীল-_২১৭ বিকা, সি. এফ._-৫২৫, ৫৪৫, ৫৬২ ভ্ভ ভগবদূৃগীতা--৩৭২ ভগবানগোল1--১৯৭, ২০৫, ২২৯১ ২৩৬) ২৫৫ ভদ্রপুর--৫৪৩ শরতপুর---২৫১ ১৩৬১ ১৩৮১ ৩৫৯ ভবানীপ্রসাদ--৫৭৮, ৫৮৮ ভবানী মিত্র ৫০৯ ভাউবেগম-- ৫৯১১, ৫ ৯৩-৫৯৪ ভাম্ষর (ভাকর )-- ২ ভাগযচক্র (নাটক )--১৫৭১ ১৬২-১৬৩১ ১৬৬১ ১৬৯ ভাগপপুর --৩৫২ ভাটপাড়া---৫৮৩ ভারত--৩৩১ ৩৬-৩৭১ ৩৯-৪০১ 8৪8১ ৪৬১ ৪৯ ৪১-৫২৪ ৫৮5 ৬৪ ৬৭) ৭৭-৭৯১ ৮৯) ৯৩১ ৯৬৪ ৯৯১ ১১১-১১২১ ১১৬১ ১২২৪ ১২৫১ ১২৭ ১২৯১ ১৩১- ১৩২৯ ১৩৬১ ১৪০৯ ১৪২-১৪৪৯ ১৭৩, ১৭৮-১৭৯১ ২০১১ ২০৭ ২১১ ২১৯ ২৩১১ ২৪১১ 398? ২৫১-২৫২, ২৬৪-২৬৫১ ২৭৮-২৭৯১ ৩১৬১ ৩৩৯১ ৩৬১১ ৩৯০১ ৩৯৫১ ৪২৪) ৪৩০-৪৩১১ ৪৪৮ ৪৬৭১ ৪৭৩১ ৪৭৯-৪৮১৪ ৫০২১ ৫১৫-৫১৭) ৫২০১ ৫২৫- ৫২৬১ ৫৪৫) ৫৬৫-৫৬৬১ ৫৭১ ৫৯৩১ ৫৯৮-৬০২১ ৬০৪ ৬০৭-৬০৮$ ৬১২ ভারতচম্--৩২৪+ ৩৩১ ভাস্কর পণ্ডিত--১১৪+ ১৯৮৭) ১৮৯-১৯৪১ ২৮৩, ২৮৬-২৮৮৪ ২৯০৮ ৩২৮- ৩২৯১ ৩৪২) ৩৬১, ৪৩২ ৫৬৪ বাংল! এ্রতিহাসিক নাটক সমালোচনা ভিক্টোরিয়া_-৬০৭ ভিটল শিবদেব-_১১৩ ভিতরবন্ধ পরগণা--২৯৪ ভিবরাও রেতরেকার-_-৮৬ ভীম সিংহ-_-৪০২ ভূতের বেগার (নাটক )--৪৪০ ভূপেন বন্দ্যোপাধ্যায়-_-৩৪ ভূপাল__৭৬, ৮৯-৯১ ভূষণাঁ-_-১৪৯, ১৫১-১৫৩, ১৬০১ ১৬৩ ভেনটুর1-_-৬০৫ ভেরনেট সাহেব-_-২০২৯ ২৪২ ভেরেলস্ট সাহেব-_-২৬৬, ৩৪৪, ৫৮৩ ভোজপুর--৩৯০১ ৪৬৫ ভ্যান্দিট্টার্ট সাহেব-_-৩৪৩-৩৪৫১ ৩৫০-৩৫১১ ৩৫৪, ৩৬৫ ( অটলচন্ত দাস ), ৩৭০১ ৩৭২-৩৭৪১ ৩৭৭৪ ৩৮০,» ৪০৫» ৪১৩, ৪১৫১ ৪১৭-৪২০5 ৪৪২-৪৪৩% ৪৪৫- ৪৪৭৯ ৪৪৯-৪৫১১ ৪৫৯-৪৬০১ ৪৬২, ৪৬৫-৪৬৬ ৪৯৫-৪৯৬১ ৫০৫১ ৫০৯-৫১১৯ ৫২৯১ ৫৩১১ ৫৩৩-৫৩৪১ ৫৩৭১ ৫৪৭, ৫৪৯-৫৫১১ ৫৫৪) ৫৫৬ মক্ক1-_-২১৯ ১৭৬১ ২৬৮ মকন্ুদাবাদ-_মুশিদাবাদ দেখুন । মণীন্্রনাথ দাস-_-৪৮১ মণীন্দ্রনাথ নাগ--৩৬৩ ৩৬৪ মণিপুর--১৭৫ মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায়--২৮০১ ৩৪০ ৫৯৮, ৬০০১ ৬১৪ " মণিবেগম-_-৩১৪১ ৩৪১,৩৪৪, ৩৬৫ (স্ধীরবাল! [ পটল 1), ০০ ৩৭২-৩৭৩১ ৩৭৬৯ ৩৭৮, ৪০০১ ৪০৫-৪০৬, ৪০৮-১০৯১ ৪১৬, ৪২২ ৪২১১ ৪২৬- ৪২৪১ ৪৩০১ ৪৩৩, ৪৪৬-৪৪৮১ ৪৫১১, ৪৬০১ ( অপর্ণা ), ৪৬৪-৪৬৭, ৪৬৯১ ৪৭১- ৪৭৩, ৪৭৫১ ৫০২-৫০৩) ৫০৮) ৫১৩) ৫১৯১ ৫৩২-৫৩৪5 ৫৩৭১ ৫৩৯-৪৪০১ ৫9৩, ৫৪৬১ ৫৫১১ ৫৫৬ ৫৫৭১ ৫৫৯-৫৬০১ ৫৬৩১ ৫৭০ নির্দেশিকা €৬৫ মতলাস (নহেরু-_৬২-৬৩ ম'তিবিবি- ৪৩৬১৪ ৪৩৮-৪৩৯১ ৪৪১-৪৪৩, ৪৪৬১ ৪৫০১ ৪৫২-৪৫৫ মথ--১৯১ ৮০১ ১০৬১ ১০৯৯ ১১৪১ ১১৬, ১১১-১২০% ১২৩-১২৪৮ ১২৬- ১২৭১ ১৩১-১৩২১ ২০৭ ২৫০ মথুরানাথ--১২৪ মথুরামল--৩১৯ মধ)প্রদেশ-_-৫৯২ মন্মণনাথ বন্থ_-৩৬৫ মম্মথ পাল__২৩৩ ( হাছুবাবু ) মন্মথ বায়---৩৬৪১ ৪৫৭-৪৬০৯ ৪৬৭-৯৬৯৯ ৪৭৪-৪৭৬ ৪৭৯১ ৪৮১-৪৮৩ মনরো_-৩৬৫ (ক্ষেত্রমোহন মিত্র ), ৪২৪ মনোরগ্ুন ভট্টাচার্য_-২৩৪, ৩০১১ ৩১০ মনসামর্গল-__ ৩২৪ মনস্ুবুগঞ্জী-_৫৪৮-৫৪৯ মনসারাম সাহু-_-৩৪৮ মলহর রাঁও হোলকার--৬৯-৭১» ৭৪, ৭৭৮০৯ ৮৫-৮৬১ ৮৮৮৯১ ৯২১ ১০১-১০২১ ১০৪-১০৫১ ১০৭১ ১১৩-১১৪,+ ১২৯-১৩০১ ১৪০ মস্তানী--৭০ ৮২) ৮৬১) ৯২-৯৩১ ১১৭১ ১২০-১২১১ ১৩৭ মসনদে মোঘন্স (নাটক )--৩১ মহাতপচাদ-_-৩৫৪, ৩৮৩, ৩৯৪৯ ৪০১১ 8৪৫, ৪৪৮, ৪৫১১ ৪৬২ মহাত্স] গান্ধী--৬৩১ ১৪৩, ২৬৪১ ৫২৫১ মহারাজ সিন্কিজী--১১১১ ১৩৮৪ ৫৯৯১ ৬০৪১ ৬১০ মহেন্্নাথ গপত--৫২৩১ ৫৪৭-৫৪৮, ৫৮৯-৫৯০৯ ৫৯৮ ৬০০ ৬১৪ মহদ্মদ আজম--২, ১৪৭ * মহম্মদ আমিন-_-৩৬৫ (উপেন্ত্রনাথ বলাক ), ৩৯৯-৪০০১ ৪০৪ মহম্মদ ইসাথ--৩৬৫ ! পাম্ালাল সরকার )» ৪১০, ৪২৩-৪২৪ মহম্মদ ইয়ার বেগ--৪৯০» ৫২৮ মহম্মদ ওয়াকিরুল ছুসেনী--৪৩০ মহন্মনপুর-_-১৫ ০১৫২৯ ১৬০, ১৬৩১ ১৬৭ ৬৩ বাংল1 ধরতিহাসিক নাটক সমালোচন। মহম্মদ রেজা খা_রেজ! থা দেখুন । মহম্মনী বেগ--২১৩, ২২৫১ ২২৮-২২৯১ ২৬০-২৬১, ৪৩৮১ ৪৪২১ ৫৯০ মহম্মদ শাহ--৩৩) ৩৮-৪১১ ৪৬-৪৭১ ৫০) ৫২-৬১ ৬৪) ৭৪১ ৮৩১ ৮৭৪ ৯৯% ১১৮-১১৯১ ১২২১ ১৭৯১ ১৯১ মহণ্ান হাদি__মুশিদকুলি থা দেখুন । মহিমা পুর--১৮৮ মহামহোপাধ্যায় বাণেশ্বর বি্ভালঙ্কার_- ৫৩১, ৫৪৩ মহারাজ নন্দকুমাণ (নাটক )--৫২৩, ?৪৭-৫৪৮ মহারাজ মণীন্দ্রচন্জ্র নন্দী__-২৩১ মহারাজ। সীতারাম ( নাটক )--১৬২১ ১৬৪১ ১৬৬১ ১৬৯ মহারাজা স্বরূপচাদ--২১৩১ ২২৭১ ২৪২, ২৯৭৯ মহারাভ সাহু__১৪) ২৬১ ৬৭১ ৭০-৭১৪ ৭৭) ৮১-৮৫) ৮৭১ ৯৬-৯৩১ ১০১ ১১২১ ১৯০ মহারাষ্ট্র-৭৪, ১২১, ২০৮৯ ২৮৪১ ৩২৮, ৩৩০ মহলীশ থাছে সেরা--২২৭-২২৫ মহবুস আলি ঝ-_মির্জা মেহেদী দেখুন। মহিশৃর_--৩৩৭, ৩৫৯, ৫৯৮ ৬০০-৬৫ম৯ ৬০৮ ৬১০ মহ সিং--১৫১ মহিষাদল-_-৫৬৩ মলিষে শেণেলিয়র--৩৬১১ ৪৩০৯ 9৮5 মার্কার-__-৩৫ ৫-৩৫৬১, ৩৮১১ ৩৮৫১ ৩৮৮১ ৪৮৩১ ৭৬০১ ৫৫০ মাপ্রাম্ত--২৯১ ২৮৯১ ৩২৩৭ ৩৪৩১ ৩৪৩১ ৩:৫১ ৫২৯, ৬০৩ মাণিকলাল বন্দ্যেপাধায়-_-৮২ মাণিকর্ট।দ-১৪৭, ১৪৪১ ২৪৩১ ১৪৯১ ২৫১ ২৮৬-২৮৭১ ৩১৪ ৩০৩ ৩০৪ মাধুরী-__ ১৯১-১৯৩), ১৯৫, ২০৫১ ২৯৭-২৯৮১ ৩০২ ৩০৪, ৩০৮-৩১০ মাধবরাও---৫৯৮১ ৬০০-৬০২১ ৬১০ মানকড় পরগণা--১১৪, ১৮৯ মানতৃম--১৭৫ মান।াঈ--১৩২ মামুদশাহী পরগণা--১৫' মারকুইস অফ কেছিংস-- মারাঠ। তর্পণ (নাটক ) মার) ০ মারিয়ট---২০৪, ৩৯৮ মাঁলিকা-ই-জামানি--১১৯ মালব--৬৯১ ৮৫১৪ ৮৭, ৭১০৭৩) ৭৬9 ৭৮৪ ৮৩-৮৪১ ১০৪ মির্জা আমানী--২৯৪ মির্জা আহমদ_ হাক্জি আহমদ খঁ| দেখুন। মির্জা ইরাজ খা__ইবিচ থা দেখুন । মির্জা কাজিম--১৮৬১ ১৯৫১ ২৮৬ মির্জা মেনেদী--১৮৬) ১৯৫১ ২৮৬ ২৯৬? ৩১৫১ ৩২২ মির্জা মহন্মদ আলি-_আলিবর্দী খা দেখুন । মির্জা মহম্মদ হাসিম__নওয়াজেস আহমদ খা! দেখুন । মির্জা রেজ্জাকুলি-__৬২ মিভলটন-_-৫০৩-৫০৪১ ৫১৯১ ৭৫৮) ৫৬৩ মিরকাশিম 1 নাটক )--৩৯৩১ ৪২৫ ৪৫৭-৪৬০১ ৫৩৬১ ৫৩৮, ৫৫৪ মিল--২৭৬ মিলটন-_২১১ মিল্লাত--শাভজ্াহান (ছিতীয় ) দেখুন। মীর্জ। সাষস্ধশিন_-৩৪৯১ ৩৮৯ মীরকাশিষ--৯৯১ ১৯০১ ২৪৯ ২৫৫১ ২৫৯১ ২৬৭১ ২৮২১ ৩৩০১ ৩০৪-৩০৫, ৩২০১ ৩৩৭৯ ৩৪১-৩৪৪১ ৩৪৬-৩৪৭, ৩৪৯৯ ৩৫৪, ৩৫৬-৩৬৪১ ৩৬৫ ( সুরেন্্রনাৎ ঘেঠব ১) ৩৬৭-৩৬৮১ ৩৮৫-৩৯০১ ৩৪৯২-৩৯৯১ ৪০৩*১০৮১ ৪১৯-৪১৪, ৪১৬-৪৩১ ৯৩৩, ৪৩৬, ৪৩৮-৪৪৬, ৪৪৬-৪৫১, ৪৫৩-৪৪৯, ৪৫৯ (ছবি বিশ্বাস ১ ৪৬১, ৪৬৪১ 8৯২-৪৮৩১ ৪৮৭-৪৮৮১ ৪৯৫৭৪৯৭১ €&২৪১ €৫২৬-৫৩%5 ৫৩৪-৫৩৭ € ৩৯" ৪২৪88694895 ৫৪১-৫%৬। 8৮৯৮৪7২০৫৪৪ মীরফাজিম ( নাটক )--৩৬৩-৩৬৭৪ ৩৭ ১০৩৭২০ ৩৯৩, ৪২৭৪ ৪৩১৯ ৪৩৪. ৪৩৫. ২৩ ৬৬৮ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন। মীবুকালেম (নাটক )--৩৬৩-৩৬৪৯ ৪৮১ মীরজা ফজল কুলি--২৮৬ মন্রজ্াফর__ ১৮৫-১৮৬১ ১৯০) ১৯২১ ১৯৭) ১৯৯১ ২০২১ ২০৪-২০৫৯ ২০৭, ২০৯-২১০, ২১২-২১৫) ২২১-৩২৭১ ২৩৪১ ২৩৭১ ২৩৯-২৪৩১ ২৪৫-১৪৯১ ২৫২- ২৫৭) ২৬০-২৬২) ২৭৩; ২৭৬-২৭৭৪ ২৭৯১ ২৮৬-২৯০১ ২৯৪ ৩০০-৩০৪১ ৩০৭. ৩০৯, ৩১৬, ৩১৯-৩২০১ ৩২২১ ৩২৮১ ৩2৮-৩৪০১ ৩৪২-৩৭৬, ৩৬৫ (নির্মল চচ্গু বন্লোপাধায় ), ৩৪৯, ৩৫৫-৩৫৮১ ৩৬২, ৩৬৫ / গিরিশ চন্দ্র ঘোষ ), ৩৬৭- ৩৭০১ ৩৭২ ৩৭৩, ৩৭৬, ৩৭৮১ ৩৮১-৩৮৩১ ৩৮৫১ ৩৮৯১ ৩৯৩-৩৯৬+ ৩৯৯৪ ০১৯ ৪০৪-৪০৬, ৪০৮-৪৩৯১ ৪১৬, ৪২২-৭২৪১ ৪২৬-৪২৮১ ৪৩০১ ৪৩২-৪৩৪ (নটবর, চৌধূরী ), 9৩৬-৪৩৭, ৪৩৯-৪৭২, ৪8৪-৪৪৫১ ৪৪৭-৪৪৯, ৪৫১-৪৫৬১ ৪৬০ (শিবকালী চট্ট্রোপাধায় ), ৪৬৫-৪৬৯১ ৪৭১-৪৭২৯ ৪৭৬-৪৭৮১ ৪৮৭-৪০৮ ৪৯১-৪৯২, ৪৯৪-৪৯৯, ৫০৮১ ৫১৯১ ৫২৪, ৫২৭১ ৫২৯, ৫৩২-৫৩৬, ৫৩৮-৫৪০১ ৫৪৮-৫৫০১ ৫৫১-৫৫২১ ৫৫৪১ ৫৫৬, ৫৯০ মীরভুমল।-_-২৯ মীরণ-_-১৮৬, ২০৫, ২১২১ ২১৪১ ২২১-২২৩১ ৯২৫২২৬১২২৮১ ২৩৭ ২৪৬, ২৫৫, ২৫৯, ২৬১) ২৭৯, ২৯০১ ৩১৫-৩১৬১ ৩৩৮৪ ৩৪০-৩৪৩, ৩৬৭ ৩৭২-৩৭৩, ৩৭৮, ৪৩৬-৪৪৬, ৪৯১১ ৫৫৬ ষীর দাউদ থা_-২৫৫, ২৭৭১ ৫০৮, ৫১৯ যীরমদন-_২০২১ ২০৪-২০৫১ ২১৬, ২২৪ (মর্দন ), ১২৬১ ২২৯) ২৩৭) ২৪৩, ২৪৮) ২৫৩-২৫৪১ ২৫৬-২৫৭১ ২৬৩, ২৭৪১ ২৭৯-২৮১১ ২৮৭-২৮৮১ ২৯৪-২ ৯৫৪ ৩০২১ ৩০৭১ ৩০৮১ ৩১০৪ ৩১৯৪ ৩৩১১ ৪০২১ 8০৭৪ 8৯৩ মীর মহম্মদ জাফর আলি খা মীরজাফর দেখুন । মীর সলিমান-_-৪২২-৪২৩ মুঘঙগানি বেগ ঘ--১১৮ ১৪০ মু্গের- -৩৫০-৩৫৭১ ৩৬২-৩৬৩) ৩৭৯১ ৩৮২৪ ৩৮৩৩৮ 0100 ৩৯৫-৩৯৬, ৩৯৮-৩৪৯৯১'৪০১১ ৪০৬৪৩৮% ৪১০১ ৪১৩, ৪৫১) ৪৫৬৮ - $৬২-৪৬৪, ৪৬৭.৪৬৮, ৪৭১১ ৪৭৩১ ৪৭৬১ ৪৮২১ ৫২৯১ ৫৩১১, ৫৩৩১ ৫৩৭১ ৫6১৫৫২৪ ৫৫৫ ্‌ রর মুজফফরণামা---২৩৬ নির্দেশিকা ৬৬৯ মুনিরাম রায়-_-১৫০১ ১৬০-১৬১ মুরাদ ১১১ ৪৯১ ৫৭ | মুরাদ আলি খা-_-১৭৮ মুরাদদ্দৌল্লা__ ১৮৬, ১৩৭-২৩৮, ২৪০১ ২৮৬১ ৩১৫১ ৩২২ মুশিদকুলি থা--২৫, ২৮-৩০১ ৬৪১ ১৪৭-১৪৭৯১ ১৫১*১৫৪) ১৬০-১৬১৪ ১৬৩, ১৭৩-১৭৫১ ১৭৭-১৭৮ ১৮০১ ১৮৩১ ১৮৫১ ২০০১ ২১৩, ২৬৬১ ২৬৮১ ২৯৪) ৩২৮) ৩৩০১ ৪৬৭১ ৫৭৬৩-৫৭৭ মুশিদাবাদ-_-১৪৮, ১৫১১ ১৫৩১ ১৭৫, ১৭৭) ১৮১১ ১৮৫-১৮৯১ ১৯৬১ ১৯৮ ১৯৯১ ২০৩১ ২০৫-২০৬) ২১২১ ২১৪-২১৬১ ২২৭-২২৮১ ২৩৯১ ২৪২১ ২৪৭১ ২৫৪- ২৫৫, ২৫৭-১৫৮) ২৬১১ ২৬৯১ ২৭৮১ ২৮০) ২৮৭-২৮৮৪ ২৯০-২৯২৯ ২৯৪১ ২৯৬১ ৩০২৯ ৩০৪-৩০৫, ৩০৭১ ৩১৩১ ৩১৯১ ৩২৫-৩২৭১ ৩৩০, ৩৩৮-৩৩৯১ ৩৪১-৩৪৪, ৩৫০, ৩৫২১ ৩৫৫১ ৩৫৮৯ ৩৬৭) ৩৭৪১ ৩৭৬-৩৭৮ ৩৮৩ ৩৯১-৩৯২১ ৩৯৪, ৩৯৬, ৩৯৮-৪০০১ ৪১২১ ৪১৬১ ৪৩৬১ ৪৪০-৪৪১১ ৪৪৪-৪৪৫,» ৪৪৯, ৪৫৬, ৪৬২, ৪৭১-৪৭২১ ৪৭৫১ ৪৮৯-৪৯০১ ৪৯২১ ৪৯৪৯ ৪৯৮) ৫০৪) ৫২৯-৫৩০/ ৫৩২৪ ৫৩৬- ৫৩৭১ ৫৪৭-৫৪৮, ৫৫১১ €€৪১ ৫৫৬, ৫৬২১ ৫৬৯9 €৭৭১ ৫৮০১ ৫৮২৯ ৫৮৪১ ৫৮৭ মুশিদাবাদ কাহিনী--১৮১, ১৮৩১ ২৩৫-২৩৬১ ৩১৩১ ৩৯৪ মুশিদাবাদের ইতিহাস--১৮১-১৮২ মুস্তাফা খা ৪৮৯ | মুহতারাম-উন-নিস।--১১৯ মুহম্মদ করিম-_৩ মুহগ্মদ খা--৭৫ ৭৮১ ৮৭৯ ১৭৫ মূলতান-_-২+ ৬২২১ ২৬ মুল্ময়-_১৬১১ ১৬৩, ১৬৯ মেকলে__-৫৪৮ মেজর হেকটর যনরো-_-৩৫৮. মেটকাফ (চা্খস )-৯০৫ ' মেদিনীপুর-_-১৯০১ ৩০১১ ৩০৫১ ৩২৪১ ৩৪১৪ ৩৪৪৪ ৩৭০ ৩৮৪ ৩৮৬ ৬৭০ বাংল! এরতিহাসিক নাটক সষালোচনা মেবাবু---৪৬১ ৪৯ মৈমনসিং-- ৫৮৬ মোচডা সিংহ--১৫০ ফোবারেক-উ-দ্দৌল্লা-__-€৫৬-৫৫৭ মোহন প্রসাদ--€২৯-৫৩০, €৩২-৫৩৩। ৫৩৬, ৫৩৯১ ৫৪২১ ৫88 মোহনলাঙল--১৯১-১৯৫১ ১৯৮১ ১০১-২০৫১ ২১০,২১১১ ২১৬১ ২২০১ ২২৩- ২২৬, ২২৯-২৩০১ ২৩৬-২৩৭১ ২৩৯৯ ২৪৩) ২৪৮, ২৫২-২৫৪১ ২৫৬ ২৫৭১ ২৫৯- ২৬০১ ২৬০১ ২৬৭) ২৬৯, ২৭২১ ২৭৫ ২৭৯, ২৮১-৩০২% ৩০৪-৩১০। ৩১৩-৩১৪১ ৩১৯) ৩২২১ ৩২৮-৩৩০১ ৪৯২১ ৪০৭, ৪৩৪ (হীীরালাল চট্টোপাঁধ্যায্ ), ৪৩৬-: ৪৩৮) ৪৪১১ ৪৮২) ৫৬০১ ৫৯০ মোহনলাল (নাটক )--২০২ য্যাকবেথ (নাটক )-_-১৬৯১ ২০৯) ৩৮২১ ৪২৪১ ৪৫২ যছুনাথ গাঙ্থুলী-_-১৫০, ১৫৫ ( চন্দ্চুর ) ১৭৩ যদুনাথ যগুল--২২০ যছুনাথ সরকার-_-৬১ ৭৩, ৯৭১ ৯৯, ১০৩, ১১৩, ১১৮১ ১৪৯৪ ১৫৩, ১৬৯, ২০০১ ২৩৫) ৩০৩) ৩১৬ যু মঙ্জুমদার-_-১৬০ যবদ্বীপ-_-২৪১ যশোবজবরাও পাবার--১৩৭ যশল্লীর--৭৬ যশোহর--১৫৩। ৩১২ যামিনাবাদ-_৫২ যুগবিপ্রব (নাটক )-_-৯৬-৯৯, ১১৪ ১১৬১ ১২১ ১৩৫৪ ১৪৪১ ১৭৪ যুগল কিশোর--১২৫,১ ১২৭১ ১৩২১ ১৪০ যেতের-আম-উ-দ্দৌলা_-৫০৮ যেস্ুবাঈ-_৯১ ম্বোগানন্দ---১৬৩ যোগেশ চৌধুরী-_-৮৩; ৪৫, ৬৫-৬৬১ ৪৬৯ যোগেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়--২৩৪ নির্দেশিক! ৬৭১ যোগেশ্বরী--১৬৩ ধোধপুর---+৬+ ৩৬০১ ৪৮০ রন রঘুক্ধী ভৌোসলে--৮৫, ১১৪, ১৮৯-১৯০১ ১৯৪ রঘুনাথ রাও (রা ঘোবা )--১০৪, ১০৬-১০৮১ ১১৩১ ১৪০১ ৬০২১ ৬০৯ রঘুননান রায়--১৬৩, ১৭৪-১৭৫১ ৩৩০১ &৭৬-৫৭৮১ ৫৮৮ রথুবাম ঘোষ__১৫০-১৫৫ রষ্ট্রাবাঈ ( গন্নাবেগম )--১২২১ ১২৮১ ১৩৪-১৩৫১ ১৪২-১৪৩ রণজিৎ সিংহ-_৬৭১ ৩৩৭১ €৯৯-৬০০১ ৬০৫-৬০৭১ ৬১১-৬১৪ রণোজী সিন্ধিয়া_-৬৯-৭*১ ৭৩, ৭৫, ৮৫-৮৬১ ৮৮৮৯১ ৯২১ ১০৪১ ১৩৮ রফি-উস-সান-_২-৩, € পমা--১৫৫, ১৬৩১ ১৬৫১ ১৬৮ রমেশচজ্ দর্ত-২১৭ রমেশচন্দ্ব মজুমদার-_-৬৫-৬৬১ ৯৫, ২৫৬১ ২৯২ ৩০৩ রবীন্দ্রনাথ--৭৫১ ২৩১ রংপুর ( ফকরকোগ্ডি )_২৯৪১ ৩৪২, ৪৩৬১ ৪৩৮১ ৪৪১-৪৪২১ 8৪৬ ব্লাজকাউবর-_-৬১৩ রাজ। কৃষ্চন্দ__-২০৭), ২১৩) ২১৫১ ৩০৩-৩০৪১ ৩২৪১ ৩৩১, ৩৬৫১ ৩৮৩১ ৩৯৪-৩৯৬১ ৪৬১১ ৪০৭) ৪১৩-৪১৫১ ৫৩৭১ ৫৪৬. রাজা জানকীরাঁম_-১৮৪% ১৮৯১ ১৯১১ ১৯৯, ২০২১ ২০৪-২০৫, ২১৫১ ২২২১ ২৮০১ ২৮৬) ২৯০) ৩০৯১ ৩৩০১ ৪৯১ রাজেজ্গিরি গোস্বামী--১১৫-১১৬১ ১২৬ *র্লাকতমহল-_ ১৪৭১ ২১৫১, ২৬৯১ ৪৩২১ ৪৪€ ব্রা] রাজবলভ--১৭৮১ ১৮৩১ ২৪০২ ২০৭, ২১৩-২১৪১ ২২০-২২৩১ ২২৫- ২৭১ ২৩৪, ২৩৭, ২৪০-২৪১১ ২৬৭১ ২৭৩-২৭৭) ১৭৯১ ১৮১১ ২৮৩১ ১৮৫১ ২৮৮১ ৩৪১১ ৩০৩-৩০৪) ৩৪০১ ৩৪২১ ৩৪৭-৩৪৮, ৩৫৪১ ৩৫৬১ ৩৬৫, ৩৮০৪ ৩৮৩, ৩৮৭) ৩৯৪-৩৯৫১ ৪০১১ ৪০৬, ৪১১ ৪১৪-৪১৫১ ৪৩৬-৪৩৮১ ৪৪৯-৪৪৪/ ৪৪৬- ৪৪৭১ ৪৪৯, 88৪১ ৪৫৬১ ৪৫৯, ৪৬২ ৪৬৪-৪৬৫, ৪৬৮১ ৪৭১১ ৪৭৬-৪৭৭, 88৪) ৪৯৫১ ৫৩৭১ ৫৯৬ ৬৭২ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচনা রাজা রামবল্পভ (কায়স্থ )১--৩৩০১ ৪৯১৪ ৫০২১ ৫১৯ রাজারাম- ৯১, ৯৩১ ১১২১ ৩০৫ রাজা রামকাস্ত---১৮৫১ ৩৯৬১ ৫৭৮-৫৮১) ৫৮৮১ €৯০-৫৯১ বাজ! রামনারায়ণ--২২২, ২২৫১ ২২৭১ ২৩৬, ২৮০১ ৩০৫১ ৩০৯, ৩৪৬- ৩৪৮, ৩৫৬, ৩৬৫১ ৩৮৩, ৩৮৭-৩৮৯১ ৩৯৪-৩৯৫৪ ৪০১১ ৪০৭১ ৪১০১ ৪১৪-৪১৫১ ৪২৫১ ৪৩৭-৪৩৯১ ৪৪১-৪৪২১ ৪৪৯-৪৫৬১ ৪৩০১ ৪৬৪১ ৪৭৭১ ৪৯৫, ৫৩৭ রাজস্থান-১৪৭১ ৩০০ রাজসিংহ-_-১৫৯১ ২০১ রাণী ভবানী--১৮৫১ ২০৭, ২০৯১ ২১৩, ২১৫১ ২২০-২২২১ ২২৫-২২৭৯4 ২৩৭১ ২৪৮১ ২৫২) ৩০১9 ৩০৩-৩০৪১ ৩১০১ ৩৩৭১ ৩৭৪-৩৭৫? ৩৯৬১ ৫৫৭9 ৫€৫৯-৫৬১১ ৫৭৬১ ৫৭৮) ৫৮০-৫৯১১ ৫৯৪ রাণী ভবানী (নাটক )--৫৮৯-৫৯১, ৫৯৪ রাধিকা-_-€ ৩৩-৫ ৩৪১ ৫৩৮-৫৩৯ রাধিকানন্দ মুখোপাধ্যায়-_-৩৪ রাধাচরণ মিত্র--৫১৭১ ৫২১১ ৫২৭১ ৫২৯) ৫৩৩, ৫৩৮-৫৩৯, ৫৪২-৫৪৩, €৬২-৫৬৩১ ৫৬৯ রাধানগর--১৮৭, ২৭০ রাধাবাঈ__৮৮ রামকষ_€৫১০১ ৫১২১ ৫৮৩-৫৯০ রামচরণ--৪৯৭ রামচাদ--১৫৮১ ১৬৬১ ১৬৮১ ৫৩২-৫৩৩১ ৫৩৭১ ৫৪১১ ৫৪৩ রামজ্ীবন রায়-__১৫১-১৫৩, ১৭৪১ ৩২৪১ ৩৩০১ ৫৭৬-৫৭৭১ ৫৭৯১ ৫৮৮ রামপ্রসাদ ১৭৪১ ৩১১১ ৩২৪৪ £৫৭১ ৫৬০ রামগ্রপাদ (নাটক )--২০২, ৩২২ রামশন্কর ঘোষ--৪৯৯-৫৩০ রামনাথ দাস--২৭৫, ৪৯৯ রাশিয়া ৩৯, ৬৩, ৬০৬, ৬১২ বায়গড়--৯১ রায় দুর্ণতরাষ--২১৩-২১৪১ ২২৩, ২২৫১ ২২৭, ২৩৪১ ২৩৭5 ২৪৬৯২৪১ নির্দেশিক। ৬৭৩ ২৫৩১ ২৫৭১ ২৬০১ ২৭৩-২৭৬) ২৭৯৯ ২৮১ ২৮৬-২৮৭১ ২৯৩১ ২৯৫১ ৩০১-৩*৪, ৩০৯-৩১০১ ৩১৮, ৩৩০১ ৩৩৯-৩৪০১ ৩৬৫১ ৪০১১ ৪৪১১ ৪৪৪১ ৪৫১-৪৫২) ৪৫৯১ ৪৬২১ ৪৬৪১ ৪৬৮১ ৪৭১-৪ ৭২১ ৪৭৬-৪ ৭৭) ৪৯০-৪৯২) ৪৯৪১ ৪৯৮১ ৫০২১ ৫১৯, ৫২৯, ৫৫০-৫৫২) ৫৫৪-৫৫৫ ৃ ব্িয়াজুস শালাতিন-_-১৮৪ রূপা রায়--২২৩, ২২৭ রূপচাদ ঢাপী--১৫০ কূশেো- ২৭৬ রেজাকুলি থ1--৩৮, ৪০-৪১১ ৫১১ ৫৭১ €৯-৬৪ রেজা খা__-১৭৬) ৫০৫) ৫২৮-৫২৯১ ৫৩২১ ৫৩৮-৫৪১১ ৫৫৭-৫৬২৪ ৫৬৭১ ৫৮৩ রেভারেণ্ড লালবিহারী দে-_২১৭ রেবতী কান্ত মৈত্র--৪৮১১ ৬১৪ রোকন-উদ্‌্-দ্দৌলা__-৫৬ রোহিলা-_৭৬ ল লক্ষ্ৌ__-৩২৩ লক্্রীনারায়ণ চক্রবর্তী-_২০১, ২১৯-২২১, ২২৬, ২২৯, ২৩৮৯ ২৫২১ ৩১২ লক্ষ্মীপুর--৩৫২ লক্ষীবাঈ-_ ২৮৩-২৮৪৯ ২৮৮-২৮৯১ ৩৩৭ লর্ড কর্ণওয়াগিস_-৫৮৪,১ ৬০৪১ ৬১০ লর্ড থারলো-_-৫২৫ লর্ড ময়রা1-_-€ ৭১ লগ্ডন--১৮৭, ১৯৬১ ২৭০-২৭১১ ৫৭১৬ লালী--৬০৯-৬১৪ লালকুমারী-_-২৮, ৩০ লালকেল্লা--২২১ ২৮১ ৩৮ ১২২ লালকুয়ার_৪, ৫ (রাজলঙ্জী ছোট ), ৬-৩০১ ১১৮ লাল! লাজপত রায়--২৩১ ৬৭৪ বাংল! এতিহাপিক নাটক সমালোচন৷ লাল দিং--৩৬৫ ( মনীন্দ্রনাথ যগ্ডল ), ৩৯৮১ ৪০০-৪০১১ ৪০৩-৪০৪১ ৪১০, ৪৪৭ লা সাছেব- জালা সাহেব দেখুন । লাহোর-_৫২, ৫৮১ ১০৭-১০৮১ ১৩০১ ২৬৫১ ৩০৫১ ৬১১ লাছোরী বেগ-_-৪৩৮১ ৪৪১, ৪৪৩ লুসিংটন-_-৩৭৮, ৪১৯ লুৎফউন্লিসা--১৯২, ১৯৪-১৯৫, ১৯৮-১৯৯, ২০৫, ২১৬, ২২৩, (সুশীল স্বন্দরী ), ২৩:-২৩৭১ ২৪২-২৪৩, ২৪৬, ২৪৮১ ২৫৪১ ২1৮-২৬১১ ২৬৩১ ২১৯ (শ্রীমত সরযূবালা), ২৭৩১ ২৭৫১ ২৭৯-২৮১, ২৮৭) ২৯০১ ২৯২১ ২৯৬১ ৩০৬-. ৩০৮১ ৩১২-৩১৪)১ ৩২০১ ৩২২১ ৩৪২১ ৪৩৪ ( £বনোদিনী ), ৪৩৬, ৪৩৯, ৪৪১- ৪৪৩, ৪৪৭-৪৪৯, 7৫8, ৪৫৬, ৫৩৬, ৫৪৭১ ৫৪৯-৫৫০, ৫৫৩-৫৫9১ ৫৫৬-৫৫ ৭) ৫৫৯১ ৫৭২১ ৫৯০ লেফটানেণ্ট গিলবার্ট আয়রণ সাইড--৩৫১ ৩৯০ লেমাসট্্রে--৫১৮ শ শহ্কর চক্রবতী- ৩২৪ শঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায়-_-৯৬ শঙ্কর রাও---৭৬ শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত--৭০» ১৬৬, ২০২৯ ২১৪১ ২৬৩-২৬৫,১ ২৬৭-২৬৯, ২৭৪১ ২৭৮-২৮৪১ ২৮৭-২৮৮/ ২৯০-২৯১৪ ৩০৭-৩০৯১ ৩১১১ ৩২৯১ ৪৫৮-৪৫ ৯) ৪৭৬১ ৪৭7 শতবর্ষ আগে (নাটক )--৬১৪ শু জী--৭৪-৭৫১ ৮২৯ ৮৪-৮৫৯ ৯১১ ৯৩ শর্ৎচন্ধ চট্টোপাধ্যায়_- ১৬৬ শয়তানের স্বপ্র( নাটক )--৩৫-৩৬ শাহুল্ল। খা-৩৪৮ শ]ম্তজী বাঘ---১৩৭ শান্তিরাম সিংহ ৫৬৩ শাম্তশীল--২৮৭ ম্শ্ নির্দেশিকা ৬৭৫ শাহ আলম-_-১১ ৩) ৪১ ১৩, ২৬১ ১১০১ ১১৮১ ১৪৭১ ১৫২ শাহ আলম (দ্বিতীয়, আলি গৌহর )-_-১০৩, ১৪০, ৩৪৬-৩৪৭, ৩৫৮) ৩৬৩১০) ৩৬৫) ২৩৬৭৯) ৪২১-৪২৪) ৪২৬, ৪২৪ শাহওয়ালি খ। বরখন্রদার__-১৩৯ শাহজাহান (দ্বিতীয় )--১০৮ ১২১১ ১২২-১২৩, ১২৬-১২৭১ ১৩০) ১৩২১ ১৩৫১ ১৪০১ ২৩৫ শাহজাহান সানী_এ শাহাজাদ| মহম্মদ আজম-_-১৫১ শাতফানা-_-১১৪-১১৬১ ১২৩, ১২১ ১২৯১ ১৩৩ ১৪১ শিব্জী-__ছত্রপতি শিবজী দেখুন । শিবভট্টর-_৪৪১ শিশির ভাছুড়ী-__৪-৫, ৮১ ২৭-২৮১ ৩৪১ ৬২৯ ২৬৩ শতাংশ মৈত্র_-২০২১ ১৮২) ২৯৭-২৯৮) ৩০০১ ৩০৩১ ৩০৭১ ৩০৮৮১ ৩১১ শীলহট্র ( সিলেট )--১৭৫১, ৩৪১১ ৩৪৪ শুভংকরু-_-৩২৪ শেখ গোলাম হোসেন সামিন_-১২৫ শেঠ গুলাবাদ-_৪১৪ শেঠ ফতেটাদ--১৫৪ শৈলেন চৌধুরী-_-৩৪ শোভারাম বসাক-__৫২৭ শোভা সিং_-১৫১ শ্যাম চাদ- ১৬৬১ ১৬৮ স্টামটাদ চৌধুরী-__৫৮৬ ৬ হ্যামসুন্দর__-৩২২ শ্ী-+১৫৫-১৫৬, ১৫৮১ (তিনকড়ি ), ১৬৩, ১৬৫১ ১৬৬ ( সরযূবালা! ), ১৬৭-১৬৯ শ্রীকষ্ণ ( বিগ্রহ ১৪৪৭, ৪৫৮-৪৫৯ শ্রীচৈতন্ক-_-৬৩-৬৪ ৬৭৩ বাংল! এতিহ্থাসিক নাটক সমালোচন৷ প্রীহুর্গা (নাটক )--৪২, ৩৬৬ শ্রীমতী এমিলি ইডেন-_৬০৬ শ্রীরজপত্বন-_৬০৪-৬০ ৫, ৬০৯ শ্রীরাম দাঁস--১৪৯ শ্রীরামপুর-_-৩৩০ শ্রীহট্ট--শীলহট্র দেখুন । ্ সওকতজজ-_২০২-২০৩১ ২০৬৯ ২৩৩, ২৩৭-২৩৯১ ২৪১-২৪২১ ২৪৫, ২৭৫) ২৮০৮) ২৯৩ ২৭৫) ৩১৬, ৩১৮ ৩২২ সথরাম বাপু ১১৫ সত্যবর্তী--২২৩-২২৫ সদাশিব রাও ভাউ--১০৯-১১০১ ১১২-১১৩) ১২৮-১৩০১ ১৩৬-১৪০) ৩২৭ সস্তোষ সিংহ-_-১৬৬ সপ্রগ্রাম-_-৫৩০ সফদরজঙগ- ২৬১ ২৯১ ৯৯১ ১১৫ সম্ভাচাদ--৪১ ১১ সমর _-৩৪৯, ৩৫৬-৩৫৭১ ৩:৯১ ৩% ১৩৮৫১ ৩৮৮১ ৩৯৯১ ৪০৩) ৪১০-৪১১ ৪১৯-৪২০১ ৪২৩১ ৪২৭, ৪৫৪, ৫৫০ স্ররজমল জাঠ--২৫, ১০৩, ১০৬১ ১২৯১ ১৩৬-১৩৮৪ ১৪১ সরোজ রায়চৌধুরী-__-৫৯৮ সরফরাজ খা--৬৪১ ১৭৩-১৭৫১ ১৭৭-১৮৫১ ২৪৭১ ২৬৬১ ২৭৭১ ২৯০১ ২৯৪১ ৩১৬১ ৩২৮৪ ৩৩০১ ৪৩২১ ৫২৪% ৫৮০-৫৮১ | সরম! (নাটক )-_-৫৯৮, ৬০০ সরবুলন্দ খা--৭৮, ৮৪১ ৮৭১ ১৪৭-১৪৮ মলিঘান-_-৩৬ (জ্ঞানকালী চট্টোপাধ্যায় ) ঝলিমুলা--১৮৮ সবাক্ী পিন্ধিরা--১০৭ সাইকস-_২০৪+ ৫১৯ নির্দেশিকা ৬৭৭ সাঁজাহান-_-৭৯ সাতারা”-৭২,১ ৭৪১ ৭৬ সাদিক আলি খা_-৩৪০ সাদৎথান-__-€৩-৫৬, ৫৯ সাছুল্লা খ!--৯+ ১১ সামুগড়_-১৮, ২১, ৪৯ সামসেরউদ্দিন-_৩৮২, ৪০১১ ৪০৬, ৪০৯, ৪২৩, ৪৩৮ সামসের বাহাছুর--৭৯১ ১১৩) ১৩৭ সালেহ বেগ--৪৭, ৬৩ সাহজাহানাবাদ--৩৬০ ৪২৬১ ৪৩০১ ৪৮০ সাহিবা,মহল-__১১৯ সাহক্চজ1--৬০৬, ৬১২১ সার ( সিনফ্রে )--১৯৭১ ২০১, ২০৪-২০৫ ২১৬, ২৩৬, ২৪১৯ ২৫৩-২৫৪৪ ২৫৬, ২৭৯, ২৮১১ ২৯৫১ ৩০২, ৩০৫১ ৩০৭-৩০৮১ ৩২২ পসিতাব রায় ৩৪৮, ৩৫৭-৩৫৮ সিরাজদ্দৌলা-_৭০, ১২৭১ ১৪০) ১৭৩-১৭৪১ ১৮২১ ১৮৬-১৮৭১ ১৯১-২২৫৪ ২২৮-২৩০ ২৩২-২৬৮, ২৬৯ ( নির্মলেন্দু লাহিড়ী ), ২৭৪, ২৭৬-২৯৬) ২৯৯ ৩০০১ ৩০৪১ ৩০৬৯ ৩০৮১ ৩১০-৩১৪১ ৩২৮-৩৩০১ ৩৩৮, ৩৪০৯ ৩৪২১ ৩৪৬, ৩৬১০ ৩৬২১ ৩৬৯৪ ৩৭১১ ৩৭৪১ ৩৭৮১ ৩৯০১ ৩৯৫-৩৯৬১ ৪০৮-৪০৯১ ৪৩২-৪৩৩, ৪৩৪ (অমরেন্দ্র নাথ দত্ত), ৪৩৭+-৪৪৯১ ৪৪৪-৪৪৫ 8৪৭-৪৪৯, ৪৫৬, ৪৫৮-৪৫৯, ৪৬২১ ৪৬৪১ ৪৭২) ৪৭৬১ ৪৭৮-৪৭৯১ ৪৮২১ ৪৮৭১ ৪৯০১ ৫২৪ ৫২৬, ৫২৯, €৩১-৫৩২১ ৫৩৪১ ৫৩৬১ ৫৪৮-৫৪৯১ ৫৫৩-৫৫৭, €৬০১ ৫৮২১ ৫৯০-৫৯১ রি সিরাজদদোল্পা (নাটক )---২০২১ ২১৪১ ২৩০-২৩১% ২৩৩-২৩৪১ ২৬২-২৬৩১ ২৬৭১ ১৭৫১ ২৮১১ ৯৮৩) ৩৬৩ ৩৬৬১ ৩৭১, ৩৯৩ ৪০৬১ ৪৩১১ ৪৩৪-৪ ৩৫১ ৪৪১, ৪৬০১ ৫৫৩ সিয়ার উল মুতাক্ষরীণ-_ ১৮৪, ১৯৫-১৯৬১ ১৯৯১ ২৩৬১ ২৫৭১ ২৯১ ২৯৫ ৩০৮১ ৩৪৮১ ৩৬২১ ৩৯৪, ৪৬৩, ৪১৩১ ৪৪৯১ ৪৬৫১৯ ৪৮৭১ ৫০৯ সীতারাম রায়-+৯০১ ১৪৯-১৬৫) ১৬৬, ( কমল মিত্র ), ১৬৭-১৭০১ ৩২৮ ৩২৯) ৫৭৭ ৬৭৮ বাংল! এতিহাসিক নাটক সমালোচন! স্থকুমার রায়__৪৪৬ স্থুজাঁউদ্দিন খ।--১৭৫-১৭৮১ ১৮১-১৮৩১ ২৬৮) স্থজা-উদ-দ্দৌল্লা__৯৯, ১০৩১ ১০৭৯১ ১১৫-১১৮১ ১২৭১ ১২৯১ ১৩৬-১৩৭, ১৩৯১ ৩০৯১ ৩২৩, ৩৫৭-৩৫৮১ ৩৬৫১ ৩৬৯১ ৪১১-৪১২১ ৪১৪১ ৪২১-৪২৯১ ৪৫৭, ৪৮৭১ ৪৯৭, ৫৯২-৫৯৩ সৃভাষচন্জ্র বন্থ--২৬৪১ ৪৭৯ স্বরাট-_-২৬১ ৬৭ স্বরেন্্রনাথ ঘোষ (দানী বাবু )--৩৪, ১৯১১ ১৯৩, ২৩৩ ২৩৪১ ২৬৩, ২৬৫, ৪৩১৪ স্রেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্য'য়--৫৯৮, ৬০০ স্থবেন্্রনাথ মজুমদার ( দেবশর্মণঃ )--১৬২-১৬৩ স্থরেন্্রনাথ সেন-_-৬০৮ স্বলতান তাহুমস--৪৩-৪৪১ ৪৭ স্থলতান মিরুজা--১৪০ স্বলতান মহম্মদ-_-১২, স্থরাবদী-_-৫৫৯ সহ[গপুর-__-২৭৯ সভা খাঁ_-১১১ ২৬৬১ ৩১৬ সুর্যকুণ্ড--১৫০ শুর্য মঙগল-__-৩২৪ সেকেন্1--৫€৭ সেক্সপীয়র-_১৬৯, ২০৯-২১০, ২৬৩১ ৩৮২১ ৪২৪১ ৪৫২ সেলিন৷ বেগম--২৮৭-২৯০ সৈদাবাদ-_-৪৭৫ সৈফুদ্দিন--৩৭, ৩৯-৪০ সৈফুদ্দৌল্লা-_-৫৫৬, ৫৫৯ টনয়দ আবদুল্লা খ।-১*, ২৩ সৈয়দ আবুল লত্ভিফ-_২৬৫ - সৈয়দ আহমদ খ।--১৮৪১ ১৭৬-১৭৭১ ১৯৫১ ২৯৪ 88৫ নির্দেশিকা ৬৭৯ পৈয়দ গোলাম হোসেন-_-১৯৫-১৯৬১ ৭৬৫ সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়-_-৪, ১৬-১৭১ ২১১ ২৯১ ৭৪১ ৮৩১ ৯৯ সৈয়দ মহম্মদ খা-৪৭৩৬ সৈয়দ হুসেন আলি খা--১* স্গাফটন-_১৯৭১ ২৫১১ ৩১৯১ ৪৯৩ স্বরূপটাদ্‌-_-৩৫৪, ৩৬৫ (হুটবিহারী মিত্র ), ৩৮৩১ ৪০১১ ৫€৫০-৫৫১ স্পেনসার সাহেব--৫৩৮ ৫৪১ স্যার ফ্রান্সিস রাসেল--১৮৭ হ্ হজরত বেগম _নলীবন উন্নিস। দেখুন । হরিদাস মিত্র--৩৩৪ হরিপদ চট্টোপাধ্যায়--৫৯৮ হরিন্ন্দরী-_-৩৪ হরিহরনগর-_-১৪৯-১৫ ০ হরিহরপুর--১৬০ হলওয়েল সাহেব__-২৩৮-২৩৯১ ২৮৭-২৮৮১ ৩৪৩১ ৩৬৫১ ৩৬৯-৩৭০০৬ ৩৭৫, হলদ্িঘাট_-৪৯, ৪০৭ হাজি আহম্মদ খা__-১৭৬-১৮০, ১৮২১ ১৮৬১ ১৮৮১ ১৯৫৮ ১৯৮১ ২০৬১ ২৬৯, ৩২৮ হাজ্জ মুতস্তাফা_২৯১ হাফিজ রহমত খা (ভূগ্ডি)--১৩৯, ৩৫৯ পহালস্ক্সোহেব--২৮৯ হায়দর আলি-_-৩৩৭১ ৬০০-৬০৩৯ ৩৬০৬৯ ৬০৯ হায়দর আলি (নাটক )--৫৯৮, ৬০০ হায়দার জঙ---১৭৯ হায়দ্রাবাদ--২৯১ ৬৭১ ৮৩১ ২৪৪. হায়দার বাহাছুর--৬০১ ৬৮০ বাংলা এতিহাসিক নাটক সমালোচনা হায়দার সাহেব ব1হায়দর (নাটক )--৫৯৮ হায়বতুল্ল] _ ৩৬৫, ৪০১ ঠিজশশী--১৫৩) ৫৬২-৫৬৩ হিন্দুস্থান_-২০, ২৫১ ৩৯, ৭৪ ৭৭১ ১১২১ ১২২-১২৩, ১২৭১ ১৬৩ হিমাচল প্রদেশ__-৫৯২ হিরাঝিল--৩৫৪১ ৪৬3, ৫৫৩ হীরেন্দ্রনারায়ণ মুখোপাধ্যায়_-২০২, ২৮২-২৮৩, ২৮৫১ ২৯১১ ২৯৭-২৯৮, হুগলী--১৭১১ ৩০২৯ ৩০৭১ ৩২৫, ৪৯০৯ ৫০২১ ৫৩১ ভসেন কুলী খা-হোসেন কুলি থা দেখুন। হুসেন খা-২০১ ১৩৯ হেইজ-_৫৮৯ হেমেল্সনাথ দাসগুপ্ত--২৩৩ ৩৬৪ হে সাহেব--৩৫৭, ৩৬৩৫১ ৩৯৩-৩৯৪১ ৩৯৭১ ৪০০৯ ৪১৯ ৪৫১-৪৫২১ ৪৬০ ৪৬৩, ৪৬৬-৪৬৭) ৫৫১ হোসেন কুলি খা-১৮৩, ১৯৮, ২০০৪ ২৩২ ২৩৯১ ২৬০-২৬১১ ৩০৬, ৩২২১ ৩৯০